

কুমিল্লায় ২০ কেজি গাঁজাসহ ২ জন মাদক
ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করেছে র্যাব-১১, সিপিসি-২।
২০ ফেব্রুয়ারী রাতে র্যাব-১১, সিপিসি-২
একটি বিশেষ আভিযানিক দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কুমিল্লা জেলার সদর দক্ষিণ থানাধীন রামপুর
এলাকায় মাদক বিরোধী অভিযান পরিচালনা করে আসামী মোঃ তুহিন (৩৫) এবং মোঃ জুয়েল নামক ২
জন মাদক ব্যবসায়ীদ্বয়কে গ্রেফতার করে। এ সময় আসামীদের কাছ থেকে ২০ কেজি গাঁজা এবং মাদক
পরিবহন কাজে ব্যবহৃত ১ টি ট্রাক উদ্ধার করা হয়।
গ্রেফতারকৃত ১নং আসামী মোঃ তুহিন (৩৫)
ভোলা জেলার বোরহানউদ্দিন থানার দৌলা গ্রামের আজাহার উদ্দিন এর ছেলে এবং ২নং আসামী মোঃ
জুয়েল (২৮) কুমিল্লা জেলার চৌদ্দগ্রাম থানার পাচরা গ্রামের আব্দুল করিমের ছেলে।
র্যাব জানান, তারা দীর্ঘদিন ধরে কুমিল্লার
সীমান্তবর্তী এলাকা হতে মাদক দ্রব্য গাঁজা সংগ্রহ করে কুমিল্লা জেলায় মাদক ব্যবসায়ী
ও মাদক সেবীদের নিকট পাইকারি ও খুচরা মূল্যে বিক্রয় করে আসছে। র্যাব-১১ এর মাদক বিরোধী
ধারাবাহিক অভিযানের অংশ হিসেবে উক্ত অভিযান পরিচালনা করা হয়। মাদকের মতো সামাজিক ব্যাধির
বিরুদ্ধে র্যাব-১১ এর অভিযান অব্যাহত থাকবে। গ্রেফতারকৃত আসামীর বিরুদ্ধে আইনানুগ
ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন।
মন্তব্য করুন


নিজস্ব প্রতিবেদক:
কুমিল্লাসহ সারা দেশে আলোচিত সিসিএন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী জান্নাতুন নাঈম ফারিহার রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় দায়ের করা আত্মহত্যার প্ররোচনার মামলায় প্রধান আসামি নিহতের স্বামী মেহেদী হাসান হৃদয়ের দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছে আদালত।
আজ ২০ মে বুধবার সোয়া ১১টার দিকে কুমিল্লার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট (১ নং আমলী আদালত) মমিনুল হকের আদালতে এ রিমান্ড শুনানি শুরু হয়। এ সময় মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা কোতয়ালী মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) অমর্ত্য মজুমদার আসামিকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পাঁচ দিনের রিমান্ডের আবেদন করেন। বিবাদী পক্ষের আইনজীবী মাসুদ সালাউদ্দিন ও মাহবুবুল হক খন্দকারসহ আরও কয়েকজন আইনজীবী রিমান্ড নামঞ্জুর করে জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদের আবেদন জানান। অপরদিকে, বাদী পক্ষের আইনজীবী তাফসীরুল আলমসহ ১০/১৫ জন আইনজীবী রিমান্ডের পক্ষে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন। দীর্ঘ শুনানি শেষে আদালত আসামির দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। আদালতে মামলার বাদী নিহত ফারিহার বাবা স্কুল শিক্ষক মো: হানিফ মজুমদার, তাঁর স্ত্রী, ছেলে ও আত্মীয়স্বজনরা উপস্থিত ছিলেন। এ সময় ফারিহার মায়ের আহাজারিতে আদালত প্রাঙ্গণ ভারী হয়ে ওঠে। তিনি তাঁর মেয়ে হত্যার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন এবং মেহেদী হাসান হৃদয়ের বাসায় থাকা ফারিহার ব্যবহা্য জিনিসপত্র উদ্ধারের জন্য মামলার তদন্ত কর্মকর্তার কাছে আর্তনাদ জানাতে থাকেন।
মামলার প্রধান আসামি মেহেদী হাসান হৃদয়ের সাথে আদালত প্রাঙ্গণে কথা হলে তিনি নিজেকে নির্দোষ দাবি করে বলেন, "আমি ঘটনার দিন বাড়িতে ছিলাম না। আমি মেঘনা উপজেলার ছোট সাতমোরা গ্রামে নানার বাড়িতে ছিলাম।"
অভিযুক্ত মেহেদী হাসান হৃদয়ের মামা মোটর পার্টস ব্যবসায়ী মো: আবদুর রহমান জানান, মেহেদী এবং তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে ফারিহার ওপর কোনো চাপ ছিল না। মেয়ের মা সবসময় মেহেদী বেকার থাকায় বিরক্ত হতেন এবং তাকে অপমান করে কথা বলতেন। মেহেদীর মুন্সেফবাড়ির বাসাতেই তাদের বিয়ের আয়োজন করা হয়েছিল। মেহেদী হাসান হৃদয়ের নানা মো: আফজল মিয়া বলেন, "মেহেদী ঘটনার দিন আমার গ্রামের বাড়ি মেঘনার ছোট সাতমারা গ্রামে ছিল। আমরা যদি এই ঘটনার সাথে জড়িত থাকি, তাহলে আল্লাহ যেন আমাদের বিচার করেন।"
এর আগে, গত ৫ মে মঙ্গলবার রাতে কুমিল্লা নগরীর দেশওয়ালীপট্টি এলাকার ‘কাশেম গার্ডেন’ নামে একটি বহুতল ভবনের স্বামী ও শ্বশুরের ফ্ল্যাট থেকে পুলিশ ফারিয়ার মরদেহ উদ্ধার করে। তিনি কুমিল্লার কোটবাড়ি এলাকায় অবস্থিত সিসিএন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) বিভাগের ১২তম ব্যাচের ৬ষ্ঠ সেমিস্টারের শিক্ষার্থী ছিলেন। তাঁর গ্রামের বাড়ি জেলার নাঙ্গলকোট উপজেলার দৌলখাড় ইউনিয়নের কান্দাল গ্রামে।
মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, ফারিয়া ও হৃদয়ের মধ্যে দীর্ঘদিনের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পরে উভয় পরিবারের সম্মতিতে গত বছরের ৮ সেপ্টেম্বর কুমিল্লার মেঘনা উপজেলার বাসিন্দা আবদুর রহিমের ছেলে হৃদয়ের সঙ্গে ১৫ লাখ টাকা দেনমোহরে ফারিয়ার বিয়ে সম্পন্ন হয়। বিয়ের পর থেকেই তাঁর স্বামী ও পরিবারের লোকজন ৫ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করে আসছিল। ফারিয়ার পরিবার সেই টাকা দিতে না পারায় তাদের মধ্যে পারিবারিক কলহ দেখা দেয় এবং এ নিয়ে একাধিকবার ফারিয়াকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করা হয়।
এদিকে, মামলার বাদী পক্ষের আইনজীবী তাফসীরুল আলম অভিযোগ করে বলেন, "আমরা যেভাবে এজাহার জমা দিয়েছিলাম, পুলিশ সেভাবে এজহার গ্রহণ করেনি। এতে করে মামলার ভিত দুর্বল করে দেওয়া হয়েছে। তারপরেও আমরা আশা করছি, নিরপেক্ষ তদন্ত হলে প্রকৃত সত্য বেরিয়ে আসবে।"
মন্তব্য করুন


কুমিল্লা সেনানিবাসে অবস্থিত ময়নামতি গলফ এন্ড কান্ট্রি ক্লাবে ' প্রথম রানার কাপ গলফ টুর্নামেন্ট - ২০২৪ অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (
২ নভেম্বর) সকালে অনুষ্ঠিত উক্ত টুর্নামেন্টে বিভিন্ন সেনানিবাস থেকে শতাধিক গলফার অংশগ্রহণ করেন। ময়নামতি গলফ কান্ট্রি ক্লাবের মাঠে রঙিন বেলুন ও পায়রা উড়িয়ে টুর্নামেন্টের উদ্বোধন করেন, ময়নামতি গলফ এন্ড কান্ট্রি ক্লাবের সভাপতি এবং ৩৩ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি মেজর জেনারেল আবুল হাসনাত মোহাম্মদ তারিক।
এ সময় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, রানার গ্রুপের চেয়ারম্যান হাফিজুর রহমান খান। টুর্নামেন্ট শেষে বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করেন, জিওসি মেজর জেনারেল আবুল হাসনাত মোহাম্মদ তারিক।
মন্তব্য করুন


কুমিল্লার জেলার মুরাদনগর উপজেলায় বাড়ির পাশে থাকা পুকুরের পানিতে ডুবে দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
মঙ্গলবার (৩০ এপ্রিল) সকালে উপজেলার বাঙ্গরা পশ্চিম ইউনিয়নের কালারাইয়া গ্রামের কাজী বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। দুই শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় পুরো এলাকাজুড়ে বইছে শোকের মাতম।
নিহত শিশু কাজী ইয়াছিন আরাফাত(৩) উপজেলার কালারাইয়া গ্রামের কাজী তানভীর মিয়ার ছেলে ও রোজা মনি(৩) একই এলাকার মিদন মিয়ার মেয়ে। তারা দুজন সম্পর্কে চাচা-ভাতিজি ছিল।
দুই শিশুর মৃত্যুর বিষয়টি ছেলের বাবা কাজী তানভীর নিশ্চিত করে জানান, প্রতিদিনের মত আজকে সকাল ৯টার দিকে আমার ভাইয়ের মেয়ে রোজা মনি ও আমার ছেলে ইয়াছিন দুজন মিলে বাড়ির পিছনে পুকুর পাড়ে খেলতে যায়। কিছুক্ষন পর তাদের দুইজনকে কোথাও দেখতে না পেয়ে দুই পরিবারের সদস্যরা চারদিকে খোঁজতে থাকি। খোঁজাখুঁজির একপর্যায় পুকুর পাড়ে তাদের ভাসতে দেখি। তাৎক্ষনিক তাদের উদ্ধার করে মুরাদনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের দুইজনকে মৃত ঘোষণা করে।
বিকালের দিকে তাদের পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।
মন্তব্য করুন


কুমিল্লার লাকসাম উপজেলার মজলিশপুর গ্রামের বাসিন্দা ,ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ম্যানেজমেন্ট বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক ড.মোশারফ হোসেন এর মেয়ে আদ্রিতা বিনতে মোশারফ (২১) ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন।
রাজধানীর শাহবাগ থানার ফুলার রোডে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) আবাসিক কোয়ার্টারে আদ্রিতা বিনতে মোশারফ (২১) নামে এক শিক্ষার্থী ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। তিনি ঢাবির মার্কেটিং বিভাগের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন।
রোববার (৩১ মার্চ) ভোরে দক্ষিণ ফুলার রোডের ১৯ নম্বর ভবনের তৃতীয় তলায় এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (ঢামেক) নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুস্তাজিরুর রহমান জানান, খবর পেয়ে ভোরে ফুলার রোডে আবাসিক কোয়ার্টারের ওই বাসায় গিয়ে দেখা যায়, বিছানায় শায়িত অবস্থায় রয়েছেন ওই শিক্ষার্থী। তখন তার পরিবারের কাছ থেকে জানা যায়, ফ্যানের সঙ্গে ওড়না পেঁচিয়ে ফাঁস দিয়েছিলেন তিনি। পরে তাকে ঢামেক হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
তিনি আরও জানান, কী কারণে ওই শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছেন সে বিষয়ে পরিবার তেমন কিছুই জানাতে পারেনি। ঘটনার বিস্তারিত জানার চেষ্টা চলছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঢামেক হাসপাতাল মর্গে রাখা হয়েছে।
মন্তব্য করুন


কুমিল্লার চান্দিনার অংশে মাধাইয়া মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতি কলেজের সামনে ১৭ আগস্ট শনিবার দুপুর ২টার দিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক এলাকায় একটি সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে।
এ দুর্ঘটনায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পাশে খাদে পড়ে মাইক্রোবাসের চালকসহ ৩ জন নিহত হয়েছে। আরও ১ জন মহিলা গুরুতর আহত হয়েছে। নিহতদের মধ্যে দুজন বীমা কোম্পানীর কর্মকর্তা।
নিহতরা
হলেন, চালক তারেক, ট্রাস্ট লাইফ ইন্সুরেন্স কোম্পানীর কর্মকর্তা সাখাওয়াত হোসেন ও মোজাম্মেল
হক।
দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন মাইক্রোবাসে থাকা আরও তিন যাত্রী।
বিষয়টি নিশ্চিত করে চান্দিনা ফায়ার স্টেশন মাস্টার অনয় কুমার ঘোষ জানান, ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা একটি মাইক্রোবাস মাধাইয়ার নাওতলা এলাকায় পৌঁছলে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মহাসড়কের পাশে থাকা একটি গাছের সাথে ধাক্কা খেলে এ দুর্ঘটনা ঘটে। এতে ঘটনাস্থলেই ৩ জন মারা যায়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা
জানান, মাইক্রোবাসটি চালকসহ ৪ জন যাত্রী নিয়ে চট্টগ্রামের উদ্দেশে যাচ্ছিল। মাধাইয়া
মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতি কলেজের সামনের সড়কে ঢাকা-চট্টগ্রাম লেন দ্রুত গতিতে আসা মাইক্রোবাসটি
নিয়ন্ত্রণ হারায়। এতে সড়কের পাশের একটি গাছের সাথে ধাক্কা লাগলে মাইক্রোবাসের সামনের
অংশসহ একপাশ দুমড়েমুচড়ে যায় এবং ঘটনাস্থলেই মাইক্রোবাসের চালকসহ ৩ জন নিহত হয়।
মাইক্রোবাসের
ভিতরে থাকা গুরুতর আহত এক নারীকে চান্দিনা ফায়ার সার্ভিসের লোকজন উদ্ধার করে চান্দিনা
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়।
মন্তব্য করুন


কুমিল্লায় বৃষ্টি ও বন্যার প্রভাবে দুইদিনে চারজনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে বুধবার (২১ আগস্ট) মারা যান তিনজন, সোমবার (১৯ আগস্ট) মারা গেছেন একজন।
এদের মধ্যে দুইজন বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে ও একজনের মাথায় গাছ পড়ে এবং একজন পানিতে তলিয়ে মারা যান।
জেলার নাঙ্গলকোটে বন্যার পানিতে তলিয়ে কেরামত আলী (৪৫) নামে এক ব্যক্তি মারা যান। বুধবার রাতে তার মৃত্যু হয়। তিনি পৌরসভার দাউদপুর এলাকার বাসিন্দা।
বুধবার মধ্যরাতে মাছ ধরতে গিয়ে স্থানীয় একটি ব্রিজের নিচে তলিয়ে যান কেরামত আলী। প্রবল স্রোতে অদৃশ্য হয়ে গেলে স্থানীয়রা তাকে খোঁজাখুঁজি শুরু করে। কিছু সময় পর ঘটনাস্থলের অদূরে তার মরদেহ ভেসে ওঠে। পরে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
নাঙ্গলকোট উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা দেব দাস দেব বলেন, কেরামত আলীকে রাত ১২টার দিকে হাসপাতালে আনা হয়। কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করলে পরিবারের সদস্যরা তার মরদেহ নিয়ে যান। তিনি মাছ ধরতে গিয়ে পিছলে পড়ে স্রোতের কারণে আর উঠতে পারেননি বলে জানতে পেরেছি।
বুধবার বিকেলে বৃষ্টির মধ্যে বৈদ্যুতিক পিলারে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে রাফি (১৫) নামে এক কিশোরের মৃত্যু হয়েছে। সে নগরীর ছোটরা এলাকার বাসিন্দা।
কুমিল্লা জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসক যোবায়ের হোসেন তার মৃত্যু বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
চৌদ্দগ্রামে বন্যার পানিতে মাছ ধরার সময় মাথায় গাছ পড়ে শাহাদাত হোসেন (৩৪) নামের এক প্রবাসীর মৃত্যু হয়েছে। বুধবার (২১ আগস্ট) সকালে চৌদ্দগ্রাম পৌরসভার সোনাকাটিয়া (আদর্শ গ্রাম) পূর্বপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। তিনি উপজেলার সোনাকাটিয়া গ্রামের কানু মিয়ার ছেলে।
এর আগে সোহরাব হোসেন সোহাগ নামে এক আইনজীবীর মৃত্যু হয়েছে। সোমবার বিকেলে কুমিল্লা নগরীর সালাউদ্দিন মোড়ে ওই আইনজীবী বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন। অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে রেখে বের হলে বৃষ্টির পানিতে পড়ে থাকা বৈদ্যুতিক তারে জড়িয়ে যান তিনি। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
মন্তব্য করুন


জাহাঙ্গীর আলম, কুড়িগ্রাম উত্তর প্রতিনিধি :
একশন এইড বাংলাদেশ এর সহযোগিতায় উদয়াঙ্কুর সেবা সংস্থা এর আয়োজনে ইমপাওয়ারিং গার্লস এন্ড কমব্যাটিং চাইল্ড ম্যারেজ প্রজেক্ট এর আওতায় (২৮ এপ্রিল) সকাল ১১ টায় মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের সভাকক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার রেহনুমা তারান্নুম। সভায় অত্র উপজেলার সকল প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের প্রতিষ্ঠান প্রধানগণ সহ প্রকল্পের সরাসরি অধিকারভোগীগণ উপস্থিত ছিলেন। সভায় অধিকারভোগীগণ বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে সংশ্লিষ্ট দায়িত্ববাহককে তাদের চাহিদা সমূহ তুলে ধরেন।
প্রকল্প সমন্বয়কারী রবিউল ইসলামের সঞ্চালনায় শুভেচ্ছা বক্তব্য প্রদান করেন আবদুল্লাহ আল মামুন, ম্যানেজার চাইল্ড স্পন্সরশীপ এন্ড চাইল্ড রাইটস প্রোগ্রাম, একশনএইড বাংলাদেশ বলেন অধিকারভোগীদের চাহিদা সমূহ দায়িত্ববাহকগণ গুরুত্বের সাথে নিয়ে সহযোগিতা করবেন বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। কিশোরী ক্লাবের সদস্য রেশমা খাতুন তার বক্তব্যে বাল্যবিবাহ বন্ধে শিক্ষক, ইমাম, কাজী, ঘটক ও প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করেন।
প্রান্তিক নারী নেত্রী হালালী খাতুন বলেন, আমরা দরিদ্র মায়েরা প্রশাসনের সহযোগিতা পেলে বাল্যবিবাহ থেকে আমাদের শিশুরা রক্ষা পেতে পারে।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির সেক্রেটারী মোর্শেদ আলম বলেন, বাল্যবিবাহ এর জন্য অভিভাবক ও এর সাথে যুক্ত ব্যক্তিদের শাস্তির আওতায় আনলে বাল্যবিবাহ কমে যাবে বলে আমার বিশ্বাস।
পানিমাছ কুটি মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মুক্তা শেখ বলেন, যে, বাল্যবিবাহ বন্ধ করতে সমাজের প্রত্যেক অংশীজনকে নিজ নিজ দায়িত্ব থেকে কাজ করে যেতে হবে।
সাইফুর রহমান সরকারি কলেজের প্রভাষক শংকর কুমার সেন বলেন, আমরা এটি বাল্যবিয়ে দিয়ে হাজারটি সমম্যার জন্ম দেই। তাই আসুন আমরাই পারি বাল্যবিবাহ রোধ করতে।
ফুলবাড়ী উপজেলার ইমাম সমিতির সভাপতি হাফেজ একরামুল হক বলেন, অভিভাবক ও শিক্ষকের বড় দায়িত্ব হলো ছেলেমেয়েদের সঠিক পথে পরিচালিত করা। এইটি হলে পরে বাল্যবিবাহ অনেকাংশে কমে যাবে।
ফুলবাড়ী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হারুন অর রশীদ বলেন, একজন মেধাবী মেয়ের কখনোই বাল্যবিবাহ হয় না। তাই আমাদের মেয়েশিশুদের লেখাপড়ায় মনোনিবেশ করতে হবে। যারা ভালো ফলাফল করছে না তারাই বাল্যবিবাহের শিকার হচ্ছে।
সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, ফুলবাড়ী থানার অফিসার ইনচার্জ শরিফুল ইসলাম, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মাহাতাব হোসেন, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার আকবর কবীর, ইউএসএস এর প্রধান কার্যালয়ের সমন্বয়কারী আব্দুর রউফ।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার রেহেনুমা তারান্নুম বলেন, বাল্যবিবাহ লিগ্যাল ভাবে হয় না। অধিকাংশ বাল্যবিবাহ ছেলেমেয়েদের প্রেম ঘটিত ফলাফল। আমরা সমাজে যারা পুরুষ আছি তারা যদি সিদ্ধান্ত নেই ১৮ বছরের কম কোন মেয়েকে আমরা বিয়ে কিংবা ছেলের বউ হিসেবে বেছে নিব না, তাহলেই অনেক বাল্যবিবাহ কমে যাবে। বাল্যবিবাহ রোধ করতে চাইলে যার যার অবস্থান থেকে এগিয়ে আসতে হবে। আমরা সবাই বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে একসাথে কাজ করবো এই প্রতিজ্ঞা দেওয়া হলো।
মন্তব্য করুন


কুমিল্লায় ১৪,০০০ পিস ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেটসহ একজন মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করেছে র্যাব-১১, সিপিসি-২।
গতকাল (১২ মে) রাতে র্যাব-১১, সিপিসি-২ একটি বিশেষ আভিযানিক দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কুমিল্লা জেলার কোতয়ালী মডেল থানাধীন ভাটপাড়া এলাকায় মাদক বিরোধী অভিযান পরিচালনা করে আসামী সাগর (২০) নামক একজন মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করে। এ সময় আসামীর কাছ থেকে ১৪,০০০ পিস ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়।
গ্রেফতারকৃত আসামী সাগর কুমিল্লা জেলার কোতয়ালী মডেল থানার বরজলা গ্রামের মোঃ সিদ্দিক এর ছেলে।
র্যাব জানান, সে দীর্ঘদিন ধরে কুমিল্লার সীমান্তবর্তী এলাকা হতে মাদক দ্রব্য ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট সংগ্রহ করে কুমিল্লা জেলায় মাদক ব্যবসায়ী ও মাদক সেবীদের নিকট পাইকারি ও খুচরা মূল্যে বিক্রয় করে আসছে। র্যাব-১১ এর মাদক বিরোধী ধারাবাহিক অভিযানের অংশ হিসেবে উক্ত অভিযান পরিচালনা করা হয়। মাদকের মতো সামাজিক ব্যাধির বিরুদ্ধে র্যাব-১১ এর অভিযান অব্যাহত থাকবে। গ্রেফতারকৃত আসামীর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
মন্তব্য করুন


কুমিল্লার দেবীদ্বারে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে
গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত ছাব্বির হত্যা মামলার ৪৯ তম এজহারভূক্ত আসামী এলাহাবাদ ইউনিয়ন
এর সাবেক চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী
লীগের সভাপতি সিরাজুল ইসলাম সরকার (৬০) গ্রেফতার থানা পুলিশ।
শুক্রবার দিবাগত রাত ২ টায় দেবীদ্বার থানা পুলিশ গোপন
সংবাদের ভিত্তিতে মোহাম্মদপুরস্ত তার নিজ বাড়ী থেকে তাকে গ্রেফতার হয়। মে উপজেলার
মোহাম্মদপুর গ্রামের মৃত আব্দুল মালেক সরকারের পুত্র।
দেবীদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকতা শামসুদ্দিন মোহাম্মদ
ইলিয়াছ জানান, গোপন
সংবাদের ভিত্তিতে আওয়ামী লীগ নেতা ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মো. সিরাজুল ইসলাম
সরকারকে তার নিজ গ্রাম মোহাম্মদপুর থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সে ছাব্বির হত্যা
মামলার ৪৯ নং এজহার নামীয় আসামী।
গত বছরের ৫ আগষ্ট স্বৈরাচার হাসিনা সরকারের পতনের পর উল্লসিত জনতা দেবীদ্বার থানা
ঘেরাউকালে সাব্বির মাথায় গুলিবিদ্ধ হন। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১ মাস ৮ দিন
চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফেরার পরদিন ১৪ আগস্ট সকাল ৯ টায় সাব্বির মারা যায়। নিহত আমিনুল
ইসলাম ছাব্বির (১৭) দেবীদ্বার পৌর এলাকার মৃত আলমগীর হোসেনের পুত্র। সে
পার্শ্ববর্তী মরিচাকান্দা জিয়া স্মৃতি আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির
শিক্ষার্থী ছিল। লেখা পড়ার পাশাপাশি ছাব্বির ভ্যান চালিয়ে সংসার চালাতেন।
মন্তব্য করুন


নেকবর হোসেন, কুমিল্লা প্রতিনিধি:
কুমিল্লায় গত মে মাসে এইচআইভি-এইডসে আক্রান্ত হয়ে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছরের প্রথম পাঁচ মাসে জেলায় মোট সাতজনের মৃত্যু হলো। একই সঙ্গে নতুন শনাক্ত রোগীদের মধ্যে পুরুষ-পুরুষ যৌনসম্পর্ক এবং পুরুষ যৌনকর্মীদের মাধ্যমে সংক্রমণের হার বৃদ্ধি পাওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্বাস্থ্যসংশ্লিষ্টরা।
কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের এইচআইভি-এইডস এইচটিসি/এআরটি সেন্টারের কাউন্সেলর কাম অ্যাডমিন মো. আরিফ হাসান জানান, বর্তমানে কুমিল্লা জেলায় ৩৮৫ জন এইচআইভি সংক্রমিত ব্যক্তি চিকিৎসা নিচ্ছেন।
গত ৮ মে ৩৫ বছর বয়সি একজন, ১৩ মে ৪৯ বছর বয়সি একজন এবং ২৫ মে ২১ বছর বয়সি এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। তারা তিনজনই কুমিল্লার বাসিন্দা। তাদের মধ্যে একজন ২০২১ সালে এইচআইভি আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত হয়েছিলেন, বাকি দুজনের ক্ষেত্রে রোগটি শেষ পর্যায়ে গিয়ে ধরা পড়ে। চলতি বছরে জানুয়ারিতে দুজন, মার্চে একজন, এপ্রিলে একজন এবং মে মাসে তিনজনসহ মোট সাতজনের মৃত্যু হয়েছে।
কুমেক হাসপাতালের এআরটি সেন্টারে চিকিৎসা নিতে আসা এক নারী জানান, তার স্বামী আগে থেকেই এইচআইভি আক্রান্ত ছিলেন, কিন্তু বিষয়টি পরিবারের কাছে গোপন রেখেছিলেন। স্বামীর মৃত্যুর পর পরীক্ষা করে তিনিও এইচআইভি পজিটিভ হিসেবে শনাক্ত হন। একটি শিশুসন্তান নিয়ে সামাজিক ও পারিবারিক বাধা সত্ত্বেও তিনি নিয়মিত চিকিৎসাসেবা নিচ্ছেন।
কুমেক এইচটিসি/এআরটি সেন্টারের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর ৬৭২ জনের নমুনা পরীক্ষা করে ৩৭ জন এইচআইভি পজিটিভ শনাক্ত হয়েছেন। তাদের মধ্যে চারজন একই সঙ্গে যক্ষ্মা (টিবি) রোগেও আক্রান্ত। নতুন শনাক্তদের মধ্যে ৫ জন পুরুষ যৌনকর্মী, ১৮ জন পুরুষ-পুরুষ যৌনসম্পর্কের মাধ্যমে, ৩ জন বৈবাহিক সম্পর্কের মাধ্যমে এবং ২ জন বিদেশে অবস্থানকালে আক্রান্ত হয়েছেন।
মো. আরিফ হাসান বলেন, ‘আগে অধিকাংশ সংক্রমণ রক্ত সঞ্চালন বা অন্যান্য কারণে হলেও বর্তমানে নতুন শনাক্তদের বেশিরভাগই যৌনবাহিত সংক্রমণের শিকার। ২০১৯ সাল থেকে পাওয়া তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, শনাক্ত রোগীদের মধ্যে ৯১ জন পুরুষ-পুরুষ যৌনসম্পর্কের মাধ্যমে, ৪০ জন পুরুষ যৌনকর্মী, ৪৯ জন প্রবাস থেকে ফেরার পর, ৪১ জন আক্রান্ত জীবনসঙ্গীর মাধ্যমে এবং ২১ জন নারী যৌনকর্মীর মাধ্যমে সংক্রমিত হয়েছেন।’
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ২০১৯ সাল থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৬ হাজার ৬৪৬টি এইচআইভি পরীক্ষা করা হয়েছে। এতে ২৭৮ জন আক্রান্ত শনাক্ত হয়েছেন, যাদের মধ্যে ৪০ জন টিবিতেও আক্রান্ত ছিলেন। এ সময়ের মধ্যে ৪৬ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং ১৩ জন চিকিৎসা বন্ধ করে দিয়েছেন। তবে বর্তমানে এআরটি সেন্টারের আওতায় মোট ৬১৫ জন রোগী চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করছেন।
সরকারি ব্যবস্থাপনায় এইচআইভি আক্রান্তদের বিনামূল্যে ওষুধ সরবরাহ করা হয় জানিয়ে মো. আরিফ হাসান বলেন, নিয়মিত চিকিৎসা গ্রহণ করলে তাঁরা দীর্ঘদিন সুস্থ ও স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারেন এবং সংক্রমণের ঝুঁকিও নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। তবে হতাশার বিষয় হলো, গত প্রায় দুই বছর ধরে এই সেবার সঙ্গে যুক্ত কাউন্সেলর ও মেডিকেল টেকনোলজিস্টদের বেতন-ভাতা বন্ধ রয়েছে। তা সত্ত্বেও তাঁরা রোগীদের সেবাদান অব্যাহত রেখেছেন।
মন্তব্য করুন