

চট্টগ্রাম নগর পুলিশের তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী শহিদুল ইসলাম ওরফে বুইস্যাকে অস্ত্র ও গুলিসহ গ্রেপ্তার করেছে র্যাব। শনিবার (২১ ডিসেম্বর) রাতে নগরের দুই নম্বর গেট এলাকা থেকে র্যাব-৭–এর একটি বিশেষ দল তাকে আটক করে।
গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে র্যাব-৭ চট্টগ্রামের সহকারী পরিচালক (গণমাধ্যম) এ আর এম মোজাফফর হোসাইন জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাকে অস্ত্র ও গুলিসহ গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ বিষয়ে বিস্তারিত জানাতে আজ রোববার সকাল সাড়ে ১১টায় সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে বলেও জানান তিনি।
র্যাব ও পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, চুরি ও ছিনতাইয়ের মাধ্যমে অপরাধ জগতে প্রবেশ করেন শহিদুল। ভিড়ের মধ্যে ইচ্ছাকৃতভাবে ধাক্কা লাগিয়ে মানুষের কাছ থেকে মূল্যবান সামগ্রী ছিনিয়ে নেওয়াই ছিল তার প্রাথমিক কৌশল। পরবর্তী সময়ে মাদক কারবারে জড়িয়ে পড়েন তিনি এবং প্রভাব বিস্তারের লক্ষ্যে গড়ে তোলেন একটি সশস্ত্র বাহিনী।
চান্দগাঁও ও পাঁচলাইশ এলাকায় কিশোর গ্যাংয়ের মূল হোতা হিসেবে পরিচিত শহিদুলের বিরুদ্ধে ছিনতাই, চাঁদাবাজি, অস্ত্র ও মাদকসহ কমপক্ষে ২০টি মামলা রয়েছে। চাঁদাবাজিকে কেন্দ্র করে প্রকাশ্যে গুলি চালানোর একাধিক অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তথ্যে উঠে এসেছে, তার একটি নিজস্ব *‘টর্চার সেল’*ও ছিল।
চাঁদা না দিলে গুলি
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দাবি, চাঁদার টাকা না পেলে শহিদুল ও তার সহযোগীরা প্রকাশ্যে অস্ত্র ব্যবহার করত। গত ৪ অক্টোবর পাঁচলাইশের বাদুড়তলা এলাকায় একটি গ্যারেজের সামনে তার সহযোগী মুন্নার গুলি চালানোর একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ওই ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক আতঙ্ক সৃষ্টি হয়।
এর আগেও গত বছরের ১০ নভেম্বর চান্দগাঁও থানার কাছাকাছি একটি মোটর গ্যারেজে চাঁদা না পেয়ে শহিদুল নিজেই গুলি চালান বলে অভিযোগ রয়েছে। ওই সময় গ্যারেজ মালিকের কাছে প্রথমে ২০ লাখ টাকা এবং পরে ১৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়েছিল বলে জানান ভুক্তভোগীরা। একই বছরের ১৯ অক্টোবর এক ব্যক্তিকে ছুরিকাঘাতের ঘটনাতেও শহিদুল ও তার সহযোগীদের নাম উঠে আসে।
৩০ সদস্যের বাহিনী, রয়েছে বিদেশি অস্ত্র
পুলিশ ও র্যাব জানায়, শহিদুল প্রায় ৩০ সদস্যের একটি সংঘবদ্ধ বাহিনী গড়ে তুলেছিলেন, যারা মাদক ব্যবসা, ছিনতাই ও চাঁদাবাজিতে সক্রিয় ছিল। তার একাধিক সহযোগী বিভিন্ন মামলার আসামি।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিশ্চিত করতে পারেনি শহিদুলের কাছে মোট কত অস্ত্র রয়েছে। তবে গত অক্টোবর মাসে তার সহযোগীদের কাছ থেকে দেশি-বিদেশি অস্ত্র, ম্যাগাজিন ও বিপুল পরিমাণ গুলি উদ্ধারের তথ্য রয়েছে। বিভিন্ন সময়ে প্রকাশ্যে গুলি চালানোর ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়, যেখানে তার বাহিনীর হাতে অস্ত্র দেখা যায়।
‘টর্চার সেলে’ পাওয়া যায় লুট হওয়া গুলি
চান্দগাঁও ও বহদ্দারহাট এলাকার একটি ভবনকে শহিদুল তার নির্যাতন কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করতেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। সেখানে অভিযান চালিয়ে আগেও তার বেশ কয়েকজন সহযোগীকে গ্রেপ্তার করা হয়। অভিযানে উদ্ধার হওয়া কিছু গুলি ও খোসা থানার কাছ থেকে লুট হওয়া বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে।
সেসময় পুলিশ জানায়, যারা চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানাত, তাদের ওই নির্যাতন কেন্দ্রে নিয়ে শারীরিকভাবে নিপীড়ন করা হতো। সেখানে বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র ও নজরদারির সরঞ্জাম পাওয়া যায়।
মেশিনে গণনা হতো চাঁদার টাকা
আরও জানা গেছে, শহিদুলের বাহিনী চাঁদাবাজি ও মাদক বিক্রির টাকা দ্রুত হিসাব করতে ব্যাংকে ব্যবহৃত টাকা গণনার যন্ত্র ব্যবহার করত। এক অভিযানে ওই যন্ত্রসহ নগদ অর্থ ও মাদক উদ্ধার করে পুলিশ।
শহিদুল ভোলা জেলার দৌলতখান উপজেলার বাসিন্দা। পড়াশোনা তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত। বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার ছবি ও ভিডিও থাকলেও কোনো আনুষ্ঠানিক পদে ছিলেন না বলে জানিয়েছে পুলিশ।
ঘটনাটি নিয়ে চট্টগ্রামে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বলছে, তার সহযোগীদের ধরতে অভিযান অব্যাহত থাকবে।
মন্তব্য করুন


গুলশানের
বাসায় পৌঁছেছেন তারেক রহমানের স্ত্রী জুবাইদা রহমান ও মেয়ে জাইমা রহমান।
বৃহস্পতিবার
(২৫ ডিসেম্বর) দুপুরে বিমানবন্দর থেকে গুলশান অ্যাভিনিউর ১৯৬ নম্বর বাসার পৌঁছান তারা।
এর
আগে, বৃহস্পতিবার বেলা ১১টা ৪০ মিনিটে সপরিবারে দেশে পৌঁছান তারেক রহমান। এ সময় তার
সঙ্গে ছিলেন স্ত্রী জুবাইদা রহমান ও মেয়ে জাইমা রহমান। তবে বিমানবন্দরের আনুষ্ঠানিকতা
শেষে জুবাইদা রহমান ও জাইমা রহমান গুলশানের
বাসার উদ্দেশে রওনা দেন। আর তারেক রহমান ৩০০ ফিটের সংবর্ধনাস্থলের উদ্দেশে রওনা দেন।
প্রসঙ্গত,
তারেক রহমানের জন্য গুলশান অ্যাভিনিউর ১৯৬ নম্বর বাসাটি প্রস্তুত করা হয়েছে। এখন এই
বাসাতেই থাকবেন তিনি। এই বাসার পাশেই ভাড়া বাসা ফিরোজায় থাকেন বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা
জিয়া।
মন্তব্য করুন


বিএনপি
চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে বিদেশে নিয়ে চিকিৎসা করানোর সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া
হয়েছে বলে জানিয়েছেন দলটির ভাইস চেয়ারম্যান আহমেদ আযম খান।
আজ
শনিবার (২৯ নভেম্বর) দুপুরে সাংবাদিকদের এই তথ্য জানিয়েছেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান
আহমেদ আযম খান।
আযম
খান, বেগম খালেদা জিয়া এভারকেয়ার হাসপাতালের সিসিইউতে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছেন।
দেশের বাইরের বিভিন্ন হাসপাতালে কথা বলা আছে। এয়ার অ্যাম্বুলেন্সও প্রস্তুত রয়েছে।
বিদেশে যাওয়ার মতো অবস্থায় এলে তাকে নিয়ে যাওয়া হবে।
২৩
নভেম্বর ফুসফুসে সংক্রমণ ও হৃদযন্ত্রের জটিলতা দেখা দেওয়ায় খালেদা জিয়াকে হাসপাতালে
ভর্তি করা হয়। প্রায় ৮০ বছর বয়সী এই নেত্রী বহুদিন ধরেই জটিল রোগে ভুগছেন। বর্তমানে
দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে মেডিকেল বোর্ডের অধীনে সিসিইউতে তার চিকিৎসা চলছে।
তার শারীরিক খবর জানতে প্রতিদিন হাসপাতলে যাচ্ছেন বিএনপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা।
আজ
সকালে খালেদা জিয়াকে দেখতে যান ডাকসুর সাবেক এজিএস ও বিএনপি নেতা নাজিমুদ্দিন আলম।
বাইরে এসে তিনি সকলের কাছে দোয়া চান। যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন জানান, অবস্থা
অপরিবর্তিত রয়েছে এবং বিদেশে নেওয়ার প্রয়োজন হলে মেডিকেল বোর্ডই সিদ্ধান্ত নেবে।
এদিকে
খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার অবনতির খবরে রাষ্ট্রপতি মোঃ সাহাবুদ্দিন গভীর উদ্বেগ
প্রকাশ করেছেন এবং দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন। এর আগে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ
ইউনূসও একই উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি নিয়মিতভাবে চিকিৎসার অগ্রগতি সম্পর্কে খোঁজ নিচ্ছেন
এবং প্রয়োজনীয় সব সহায়তার নির্দেশ দিয়েছেন। শুক্রবার রাতে প্রধান উপদেষ্টার নির্দেশে
আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল ও বিশেষ সহকারী মনির হায়দার হাসপাতালে গিয়ে খালেদা জিয়ার অবস্থার
খোঁজ নেন।
শনিবার
(২৯ নভেম্বর) বেলা ১১টার দিকে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে
এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম লেখেন, বেগম খালেদা জিয়া বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক সংগ্রামের
এক অনন্য অনুপ্রেরণা। দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় স্বার্থ রক্ষার আন্দোলনে
তিনি কয়েক দশক ধরে অবিচল ভূমিকা পালন করেছেন। ফ্যাসিবাদী রাষ্ট্রচক্রের লাগাতার নির্যাতন,
মিথ্যা মামলার পরিক্রমা এবং রাজনৈতিক প্রতিহিংসার ভয়াবহতার মাঝেও তার অটল মনোবল ও
আপোষহীন অবস্থান বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ইতিহাসে এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।
তিনি
লেখেন, ১৯৯০-এর গণ-অভ্যুত্থান, স্বৈরতন্ত্র বিরোধী সংগ্রাম এবং পরবর্তী সময়ে গণতন্ত্র
পুনরুদ্ধারের প্রত্যেকটি পর্বে বেগম খালেদা জিয়ার দৃঢ়তা, দেশপ্রেম ও নেতৃত্ব জাতীয়
জীবনে গভীর প্রভাব ফেলেছে। তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের বহু প্রজন্ম তাকে সাহস, সহনশীলতা
ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের প্রতীক হিসেবে দেখেছে। বেগম খালেদা জিয়ার বর্তমান শারীরিক
অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে নাহিদ ইসলাম তার পরিবারের প্রতি আন্তরিক সহমর্মিতা
জানান।
নাহিদ
আরও লেখেন, মহান আল্লাহ তায়ালার কাছে তার পূর্ণ আরোগ্য ও সুস্থতা কামনা করি। এই গণতান্ত্রিক
উত্তরণের সংকটময় সময়, যখন দেশ পুনরায় গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থার দিকে অগ্রসর
হচ্ছে, সে প্রেক্ষাপটে বেগম খালেদা জিয়ার শারীরিক উপস্থিতি ও রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা জাতির
জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অভিযাত্রায় তার দীর্ঘ অবদান স্মরণ
করে আমরা তার সুস্থতা, দীর্ঘায়ু ও মঙ্গল কামনা করি।
মন্তব্য করুন


রাজধানীর
গুলশানের কালাচাঁদপুর এলাকার একটি বাসা থেকে এক নারীর গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
নিহত নারীর নাম সাদিয়া আক্তার মিমি (২৭)।
পুলিশের
ভাষ্য, গত শুক্রবার দুপুর থেকে গতকাল শনিবার রাত নয়টার মধ্যে যেকোনো সময় এই হত্যাকাণ্ড
ঘটতে পারে। শনিবার ( ১৮ জানুয়ারি ) দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে গুলশানের কালাচাঁদপুর
পশ্চিম পাড়া পাকা মসজিদের পাশের একটি ভাড়া বাসা থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
গুলশান
থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. মারুফ আহমেদ বলেন, শনিবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে
খবর পেয়ে ওই বাসায় গিয়ে নারীর মরদেহ পাওয়া যায়। তাঁর গলা কাটা ছিল এবং শরীরের বিভিন্ন
স্থানে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন দেখা গেছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে আজ রোববার বিকেলে
মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজের মর্গে পাঠানো হয়েছে বলে জানান এই পুলিশ
কর্মকর্তা।
পুলিশ
জানায়, ওই বাসায় দুই নারী ভাড়া থাকতেন। সাদিয়া একটি পারলারের ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
ঘটনার সময় অপর ভাড়াটে নুসরাত বাসায় ছিলেন না। হত্যাকাণ্ডের কারণ ও জড়িত ব্যক্তিদের
বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কিছু জানা যায়নি। বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে।
পরিবারের
বরাত দিয়ে পুলিশ জানিয়েছে, সাদিয়ার বাড়ি টাঙ্গাইলের ধনবাড়ী উপজেলায়। তিনি শহিদ আলী
ও জাহানারা বেগমের মেয়ে।
মন্তব্য করুন


যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সি অঙ্গরাজ্যের হামোন্টন মিউনিসিপ্যাল এয়ারপোর্টের আকাশসীমায় দুটি হেলিকপ্টারের সংঘর্ষে একজন পাইলট নিহত হয়েছেন এবং অপর একজন গুরুতর আহত হয়েছেন।স্থানীয় সময় রোববার (২৮ ডিসেম্বর) সকাল ১১টা ২৫ মিনিটের দিকে এই দুর্ঘটনা ঘটে। ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফএএ) জানিয়েছে, সংঘর্ষে জড়িত হেলিকপ্টার দুটি ছিল এন্সট্রম এফ-২৮এ এবং এন্সট্রম ২৮০সি মডেলের। প্রতিটি হেলিকপ্টারে একজন করে পাইলট ছিলেন।সংঘর্ষের পর একটি হেলিকপ্টার নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ঘূর্ণায়মান অবস্থায় নিচে পড়ে যায়, আর অন্যটি কাছাকাছি এলাকায় বিধ্বস্ত হয়। ঘটনাস্থলেই এক পাইলটের মৃত্যু হয়। অপর পাইলটকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।হামোন্টন পুলিশের প্রধান কেভিন ফ্রিল জানান, দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও জরুরি উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজ শুরু করে। বিধ্বস্ত একটি হেলিকপ্টারে আগুন ধরে গেলে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা তা দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনেন।প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আকাশে দুটি উড়োজাহাজের সংঘর্ষের পর একটি হেলিকপ্টার হঠাৎ দিক হারিয়ে মাটির দিকে নেমে আসে। দুর্ঘটনার পর নিরাপত্তার স্বার্থে হামোন্টন মিউনিসিপ্যাল এয়ারপোর্ট এলাকা সাময়িকভাবে সাধারণ মানুষের জন্য বন্ধ করে দেওয়া হয়।আটলান্টিক কাউন্টির অন্তর্গত হামোন্টন শহরটি কৃষিভিত্তিক ঐতিহ্যের জন্য পরিচিত এবং এটি ফিলাডেলফিয়া শহর থেকে প্রায় ৩৫ মাইল দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত।এই দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে ইতোমধ্যে তদন্ত শুরু হয়েছে। এফএএ এবং ন্যাশনাল ট্রান্সপোর্টেশন সেফটি বোর্ড (এনটিএসবি) যৌথভাবে বিষয়টি তদন্ত করছে। প্রাথমিকভাবে যান্ত্রিক ত্রুটি, পাইলটদের মধ্যে যোগাযোগের সমস্যা কিংবা এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলের নির্দেশনা যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়েছিল কি না—এসব বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে।তদন্ত কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আবহাওয়া পরিষ্কার থাকা সত্ত্বেও কীভাবে এই মুখোমুখি সংঘর্ষ ঘটল, তা এখনো স্পষ্ট নয়। তদন্তের প্রাথমিক প্রতিবেদন পেতে কিছুটা সময় লাগতে পারে বলেও জানানো হয়েছে। নিহত ও আহত পাইলটদের পরিচয় এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি।এর আগে যুক্তরাষ্ট্রে আকাশপথে সংঘর্ষজনিত দুর্ঘটনার নজির রয়েছে। চলতি বছরের জানুয়ারিতে ওয়াশিংটন ডিসিতে একটি সামরিক হেলিকপ্টারের সঙ্গে যাত্রীবাহী বিমানের সংঘর্ষে বহু প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছিল। সাম্প্রতিক এই দুর্ঘটনা নতুন করে আকাশযান নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
মন্তব্য করুন


বাংলাদেশ
জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, হ্যাক হওয়া পোস্টের কারণে যদি কোনো
মা-বোন কষ্ট পেয়ে থাকেন, তবে তার জন্য ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি।
তিনি
জানান, তার ভেরিফায়েড এক্স (সাবেক টুইটার) হ্যান্ডেল হ্যাক করে সেখান থেকে মায়েদের
নিয়ে অশালীন ও আপত্তিকর মন্তব্য ছড়ানো হয়।
আজ
রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) শেরপুরের শহীদ দারোগ আলী পৌর পার্ক মাঠে অনুষ্ঠিত এক নির্বাচনী
জনসভায় এসব কথা বলেন তিনি।
ডা.
শফিকুর রহমান বলেন, হ্যাকিংয়ের ঘটনার পর একটি পক্ষ উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বিষয়টি নিয়ে
হৈচৈ শুরু করে মিছিল করেছে। যারা প্রকৃত অর্থে মায়েদের সম্মান করে না, তারাই এই পরিস্থিতিকে
ভিন্নখাতে নেওয়ার চেষ্টা করেছে।
নারীদের
প্রতি অবমাননাকারীদের কঠোর ভাষায় নিন্দা জানিয়ে তিনি বলেন, যারা নারীদের অপমান করে,
তারা মানুষ হিসেবে আচরণ করছে না। ‘মা’ সম্বোধন করে তিনি বলেন, যারা নারীদের
অসম্মান করছে, তারাও কোনো না কোনো মায়ের সন্তান। তাদের প্রতি অনুরোধ—নিজেদের
মা, স্ত্রী ও বোনদের সম্মান করতে শিখুন।
মন্তব্য করুন


ফরিদপুর
জিলা স্কুলের ১৮৫তম বর্ষপূর্তি অনুষ্ঠানের সমাপনী দিনে বহিরাগতদের হামলায় জেমসের (নগর
বাউল) সংগীতানুষ্ঠান পণ্ড হয়েছে। এ ঘটনায় অন্তত ২৫ জন আহত হয়েছেন। শুক্রবার (২৬ ডিসেম্বর)
রাত সাড়ে ৯টার দিকে স্কুল প্রাঙ্গণে জেমসের সংগীত পরিবেশনের কথা ছিল।
প্রত্যক্ষদর্শী
ও আয়োজক সূত্রে জানা যায়, অনুষ্ঠান শুরুর ঠিক আগমুহূর্তে বহিরাগত কয়েকজনকে অনুষ্ঠানস্থলে
প্রবেশে বাধা দেওয়া হলে তারা ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে মঞ্চ দখলের চেষ্টা করে। এ সময় স্কুলের
শিক্ষার্থীরা প্রতিরোধ গড়ে তুললে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পরে বিক্ষুব্ধরা ঘটনাস্থল
ত্যাগ করতে বাধ্য হয়।
পরিস্থিতির
অবনতি হলে রাত ১০টার দিকে আয়োজক কমিটির আহ্বায়ক ডা. মুস্তাফিজুর রহমান শামীম মঞ্চ থেকে
ঘোষণা দেন, উদ্ভূত পরিস্থিতির কারণে জেলা প্রশাসকের নির্দেশে জেমসের অনুষ্ঠান বাতিল
করা হয়েছে।
বর্ষপূর্তি
অনুষ্ঠানের প্রচার ও মিডিয়া উপকমিটির আহ্বায়ক রাজীবুল হাসান খান গণমাধ্যমকে বলেন, জেমসের
অনুষ্ঠান সফল করতে সব ধরনের প্রস্তুতি ছিল। কিন্তু হঠাৎ হামলার ঘটনা ঘটে। ইটের আঘাতে
আমাদের স্কুলের অন্তত ১৫ থেকে ২০ জন শিক্ষার্থী আহত হয়েছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় জেলা
প্রশাসনের নির্দেশে অনুষ্ঠানটি বাতিল করতে বাধ্য হয়েছি।
উল্লেখ্য,
বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় জাতীয় ও উদযাপন পতাকা উত্তোলন, সমবেত কণ্ঠে জাতীয় সংগীত পরিবেশন,
শপথবাক্য পাঠ এবং ব্যানার-ফেস্টুন ও ঘোড়াগাড়িসহ বর্ণাঢ্য আনন্দ শোভাযাত্রার মধ্য দিয়ে
দুই দিনব্যাপী ১৮৫ বর্ষপূর্তি অনুষ্ঠানমালা শুরু হয়। শুক্রবার রাতে র্যাফেল ড্র, সাংস্কৃতিক
অনুষ্ঠান ও ব্যান্ড তারকা জেমসের পরিবেশনার মধ্য দিয়ে এ আয়োজনের সমাপ্তি হওয়ার কথা
ছিল।
মন্তব্য করুন


মন্ত্রীর নির্দেশনা এবং গ্রাহকদের অসন্তোষ মধ্যে মোবাইল অপারেটরগুলো ইন্টারনেটের খরচ কমিয়েছে।
কোনো অপারেটর তিন দিনের দামে সাত দিনের প্যাকেজ ডিজাইন করেছে, আবার কোনোটি সরাসরি দামও কমিয়ে ফেলেছে।
গত ১৫ অক্টোবর থেকে মোবাইল ইন্টারনেটের নতুন প্যাকেজ কার্যকর হওয়ায় তিন দিনের প্যাকেজ তুলে দেওয়া হয়। অপারেটররা বলে আসছিল, তিন দিনের প্যাকেজ তুলে দিলে দাম বেড়ে যাবে। কারণ, তিন দিনের প্যাকেজটির চাহিদাই সব থেকে বেশি।
তিন দিনের প্যাকেজ তুলে দিয়ে নতুন নির্দেশনা কার্যকর হওয়ার পর দাম বেড়ে যাওয়ায় গ্রাহক এবং অপারেটরদের মধ্যেও অস্বস্তি ছিল। পরে মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার ১০ নভেম্বরের মধ্যে দাম কমানোর নির্দেশনা দিয়েছিলেন।
ইন্টারনেট প্যাকেজের খরচ কমানোর নির্দেশনায় প্রথমেই সাড়া দেয় রাষ্ট্রায়ত্ত অপারেটর টেলিটক। এরপর অন্যান্য অপারেটরও প্যাকেজ রিডিজাইন করছে বলে জানিয়েছে অপারেটরগুলো।মোবাইল অপারেটরদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব মোবাইল টেলিকম অপারেটরস অব বাংলাদেশের (এমটব) ইন্টারনেটের দাম কমানোর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
এক বিবৃতিতে এমটব জানায়, গত ১৫ অক্টোবর নিয়ন্ত্রক সংস্থার নির্দেশাবলী অনুযায়ী নানাবিধ প্রতিকূলতা সত্ত্বেও অপারেটররা তাদের ইন্টারনেট প্রোডাক্ট পোর্টফোলিও আপডেট করে। দুর্ভাগ্যবশত এর মাত্র ১৫ দিন পরে আবারও প্রোডাক্ট পোর্টফলিও পরিবর্তন করতে নতুন নির্দেশনাবলী দেওয়া হয়েছে। নিয়ন্ত্রক সংস্থার প্রতি শ্রদ্ধা রেখে আমরা ইতোমধ্যেই এই জটিল পোর্টফোলিও পরিবর্তন করেছি।
নিয়ন্ত্রক সংস্থার সঙ্গে কার্যকর সমন্বয়ের মাধ্যমে কোটি কোটি বাংলাদেশির জীবনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে মনে করে এমটব।
মন্তব্য করুন


মঙ্গলবার (৭ নভেম্বর) বিকেলে এক সংবাদ সম্মেলনে কমিশন সচিব জাহাংগীর আলম জানিয়েছেন,ভোটে অনিয়মের ছবি প্রকাশ হওয়ায় সদ্য সমাপ্ত লক্ষ্মীপুর-৩ ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ সংসদীয় আসনে উপ-নির্বাচনের ফলাফলের গেজেট প্রকাশ স্থগিত করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
গত রোববার (৫ নভেম্বর) লক্ষ্মীপুর-৩ ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ সংসদীয় আসনে উপনির্বাচনের ভোটগ্রহণ হয়। ভোটে অনিয়ম ও কারচুপির অভিযোগ ওঠে। ভোটার তালিকা ত্রুটিপূর্ণ বলেও অভিযোগ করেন প্রার্থীরা।
আসনটিতে উপনির্বাচনে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী শাহজাহান আলম নৌকা প্রতীক নিয়ে ৬৬ হাজার ৩১৪ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী জিয়াউল হক মৃধা কলার ছড়ি প্রতীকে পান ৩৭ হাজার ৫৫৭ ভোট।
অন্যদিকে, লক্ষ্মীপুর-৩ (সদর) আসনের উপনির্বাচনেও অনিয়ম ও কারচুপির অভিযোগ এনে ভোট বর্জন করেন জাতীয় পার্টি ও জাকের পার্টির প্রার্থী। ভোটের দিন দুপুরে দুই প্রার্থী ভোট বর্জনের ঘোষণা দেন।
উপনির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ করেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল-আশুগঞ্জ) আসনের পরাজিত স্বতন্ত্র প্রার্থী জিয়াউল হক। ভোটের পরদিন গতকাল সোমবার দুপুরে সরাইল উপজেলার কালীকচ্ছ বাজারে দলীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে তিনি বর্তমান নির্বাচন কমিশন দিয়ে আগামী দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে পরিচালনা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন।
এছাড়া আসনটিতে ভোটগ্রহণ চলাকালে একটি কেন্দ্রে ‘জাল ভোটের ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর রিটার্নিং কর্মকর্তার নির্দেশে এক সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। সেখানকার একটি ভোটকেন্দ্রে একজনকে একাধিক ব্যালট পেপারে নৌকা প্রতীকে সিল মারতে দেখা যায়। গতকাল সোমবার সেই ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর সুষ্ঠু ভোট নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।
ভাইরাল হওয়া ৫৭ সেকেন্ডের ওই ভিডিওতে দেখা যায়, ভোটকক্ষে বসে এক ব্যক্তি ব্যালট পেপারে বিরামহীনভাবে নৌকা প্রতীকে সিল মারছেন। তার গলায় নৌকা প্রতীকের কার্ড ঝুলছে। এসময় ৪৩টি ব্যালটে নৌকা প্রতীকে তাকে সিল মারতে দেখা যায় তাকে।
এরপরে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, একাধিক সিল মারা ওই ব্যক্তির নাম আজাদ হোসেন। তিনি সদর উপজেলা দিঘলী ইউনিয়নের দক্ষিণ খাগুড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে নৌকার এজেন্ট হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন। তবে ওই আসনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী গোলাম ফারুক পিংকু প্রকাশ্যে নৌকায় সিল মারা আজাদকে ছাত্রশিবিরের কর্মী বলে দাবি করেন।
গত ৩০ সেপ্টেম্বর একই দিনে মারা যান ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুস সাত্তার ভুঁইয়া ও লক্ষ্মীপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য একেএম শাহজাহান কামাল। তাদের মৃত্যুতে গত ৪ অক্টোবর আসন দুটি শূন্য ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন।
আসনটিতে নৌকা প্রতীক নিয়ে পিংকু ১ লাখ ২০ হাজার ৫৯৯ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জাতীয় পার্টির (জাপা) প্রার্থী মোহাম্মদ রাকিব হোসেন লাঙল প্রতীকে পান ৩ হাজার ৮৪৬ ভোট।
মন্তব্য করুন


সারাদেশে ট্রেনের টিকিট কালোবাজারি চক্র উত্তম ও সেলিম সিন্ডিকেটের মূলহোতাসহ ১৪ জন সক্রিয় সদস্যকে গ্রেফতার করেছে র্যাব ।
কয়েকটি চক্র রেলস্টেশনে কর্মরত অসাধু কর্মচারী, সহজ ডটকমের অসাধু কর্মকর্তা, সার্ভার রুম ও আইটি সদস্যদের সহযোগিতায় ট্রেনের টিকিট কালোবাজারি করতো । এছাড়া সংরক্ষণ করা জনসাধারণের এনআইডির তথ্য ব্যবহার করে এমনকি সার্ভার ডাউন করে অনলাইনে টিকিট সংগ্রহ করতো এসব চক্র।
বৃহস্পতিবার (২৫ জানুয়ারি) রাতে রাজধানীর কমলাপুর ও বিমানবন্দর এলাকা থেকে তাদের গ্রেফতার করে র্যাব -৩।
গ্রেফতাররা হলেন- ট্রেনের টিকেট কালোবাজারির সেলিম সিন্ডিকেটের মূলহোতা মো. সেলিম (৫০), তার প্রধান সহযোগী মো. আনোয়ার হোসেন ওরফে কাশেম (৬২), অবনী সরকার সুমন (৩৫), মো. হারুন মিয়া (৬০), মো. মান্নান (৫০), মো. আনোয়ার হোসেন ওরফে ডাবলু (৫০), মো. ফারুক (৬২), মো. শহীদুল ইসলাম বাবু (২২), মো. জুয়েল (২৩) ও মো. আব্দুর রহিম (৩২)।তাদের তথ্যের ভিত্তিতে বিমানবন্দর রেলস্টেশন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে উত্তম সিন্ডিকেটের মূলহোতা উত্তম চন্দ্র দাস (৩০), তার প্রধান সহযোগী মো. মোর্শিদ মিয়া ওরফে জাকির (৪৫), আব্দুল আলী (২২) ও মো. জোবায়েরকে (২৫) গ্রেফতার করা হয়।
এসময় তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয় এক হাজার ২৪৪টি আসনের টিকিট, ১৪টি মোবাইল ফোন এবং টিকিট বিক্রির নগদ ২০ হাজার টাকা।
শুক্রবার (২৬ জানুয়ারি) দুপুরে কারওয়ান বাজার র্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান র্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন।তিনি বলেন, অনলাইনে বা রেল স্টেশনের টিকিট কাউন্টারে টিকিট পাওয়া না গেলেও কালোবাজারে বেশি দামে টিকিট বিক্রি হতে দেখা যায়। টিকিট কালোবাজারিরা বিভিন্ন কৌশলে ট্রেনের টিকিট অগ্রিম সংগ্রহ করে অবৈধভাবে নিজেদের কাছে মজুত করে রেখে সাধারণ যাত্রীদের কাছ দেড় থেকে দুই গুণ বেশি দামে টিকিট বিক্রি করছে।
সাম্প্রতিক সময়ে ঢাকা-কক্সবাজার রুটে সরাসরি ট্রেন চলাচল শুরু হয় এবং এই রুটে কক্সবাজার এক্সপ্রেস ও পর্যটক এক্সপ্রেস নামের দুটি ট্রেন যাত্রা শুরু করে। দীর্ঘ এই ভ্রমণে নিরাপদ ও আরামদায়ক যাত্রার জন্য এ রুটে ট্রেনের টিকিটের ব্যাপক চাহিদা দেখা দেয়। টিকেটের চাহিদা বেশি থাকায় টিকিট কালোবাজারিদের দৌরাত্ম্যও বেড়ে যায়; অনলাইনে বা কাউন্টারে টিকিট বিক্রি শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই শেষ হয়ে যায় এই রুটের ট্রেনের টিকিট। কিন্তু কালোবাজারিদের কাছে ২-৩ গুণ দামে টিকিট বিক্রি হতে দেখা যায়।চাহিদা অনুযায়ী টিকিট না পাওয়ার এবং টিকিট কালোবাজারিরা বেশি দামে টিকিট বিক্রির বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় ব্যাপক সমালোচিত হয়। ট্রেনের টিকিট কালোবাজারি প্রতিরোধ ও কালোবাজারিদের আইনের আওতায় নিয়ে আসতে গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করে ১৪ জনকে গ্রেফতার করে র্যাব ।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতাররা ট্রেনের টিকিট কালোবাজারির সঙ্গে তাদের সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে কিছু তথ্য প্রদান করেছে ।
স্টেশনে কুলি, টোকাই, রিকশাওয়ালা ও দিনমজুরদের লাইনে দাঁড় করিয়ে টিকিট সংগ্রহ:
কমান্ডার খন্দকার আল মঈন বলেন, কমলাপুর রেলস্টেশনে সেলিম সিন্ডিকেটের মূলহোতা সেলিম এবং বিমানবন্দর রেলস্টেশনে উত্তম সিন্ডিকেটের মূলহোতা উত্তমের নেতৃত্বে এ চক্রটি সংঘবদ্ধভাবে দীর্ঘদিন ধরে মহানগর প্রভাতী, তূর্ণা নিশিথা, চট্টলা এক্সপ্রেস, উপবন এক্সপ্রেস, মহানগর এক্সপ্রেস, পারাবত এক্সপ্রেস, উপকূল এক্সপ্রেস, জয়ন্তিকা এক্সপ্রেস, কালনী এক্সপ্রেসসহ বিভিন্ন ট্রেনের টিকিট কালোবাজারি করে আসছিল। গ্রেফতার সেলিম এবং উত্তমের নেতৃত্বে তার সহযোগীরা প্রথমত ট্রেনের কাউন্টারে বিভিন্ন ভ্রাম্যমাণ যাত্রী, রেলস্টেশনের কুলি, স্টেশনের আশেপাশের এলাকার টোকাই, রিকশাওয়ালা ও দিনমজুরদের টাকার প্রলোভন দেখিয়ে লাইনে দাঁড় করিয়ে টিকিট সংগ্রহ করত।
যাত্রীদের এনআইডি সংগ্রহ করে পরবর্তীতে সেগুলো ব্যবহার করে কাটা হতো টিকিট:
এক্ষেত্রে তাদের প্রত্যেককে চারটি করে টিকিট সংগ্রহ করার বিনিময়ে ১০০ টাকা করে দেওয়া হতো। এছাড়াও কাউন্টারে থাকা কিছু অসাধু টিকিট বুকিং কর্মচারীদের দিয়ে বিভিন্ন সাধারণ যাত্রীদের টিকিট কাটার সময় এনআইডি সংগ্রহ করে রাখে এবং পরবর্তীতে সেগুলো ব্যবহার করে সংরক্ষণকৃত প্রতিটি এনআইডি দিয়ে চারটি করে ট্রেনের টিকিট সংগ্রহ করে থাকে।
প্রতিদিন ৫০০ টিকিট সংগ্রহ করতো তারা:
এভাবে তারা প্রতিদিন প্রায় পাঁচ শতাধিক টিকিট সংগ্রহ করতো। অনেক ক্ষেত্রে টিকিট কাউন্টারে নিজেরা লাইনে দাড়িয়ে এবং কৌশলে লাইনে অপেক্ষমান টিকিটপ্রত্যাশী সাধারণ যাত্রীদের এনআইডি ব্যবহার করে চারটি টিকিট কিনে তিনটি টিকিট নিজেরা তার কাছ থেকে টাকা দিয়ে টিকিটগুলো কিনে নিতো।
সার্ভার ডাউন করে তারা অনলাইনে টিকিট সংগ্রহ:
র্যাবের মুখপাত্র বলেন, ঈদ, পুজা, সাপ্তাহিক ছুটিসহ বিশেষ ছুটির দিনকে উপলক্ষ করে গ্রেফতাররা রেলস্টেশনে কর্মরত কিছু অসাধু কর্মচারী এবং অনলাইনে টিকিট ক্রয়ের জন্য ব্যবহৃত ভেন্ডর প্রতিষ্ঠান সহজ ডটকমের কিছু অসাধু কর্মকর্তা ও সার্ভার রুম ও আইটি সদস্যদের সহযোগিতায় তাদের কাছে সংরক্ষিত জনসাধারণের এনআইডির তথ্য ব্যবহার করে এমনকি সার্ভার ডাউন করে তারা অনলাইনে টিকিট সংগ্রহ করতো।
শিক্ষার্থীদের দিয়ে অনলাইনে টিকিট কাটানো হতো:
কমান্ডার মঈন বলেন, পাশাপাশি গ্রেফতাররা বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের দিয়ে অনলাইনে টিকিট কেটে সেগুলো তাদের কাছ থেকে সংগ্রহ করতো। গ্রেফতাররা স্টেশনে থাকা তাদের সিন্ডিকেটের সদস্যদের দিয়ে কাউন্টার থেকে স্ট্যান্ডিং টিকেট সংগ্রহ করতো। এসব টিকিটের মূল্য কাউন্টারের বুকিং কর্মচারীদের সঙ্গে তারা ভাগ করে নিতো। ফলে রেলওয়ে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এভাবে গ্রেফতাররা অবৈধভাবে বিভিন্ন পন্থায় বিপুল সংখ্যক ট্রেনের টিকিট সংগ্রহ করতো।
গ্রেফতারকৃত সেলিম ও উত্তমের নেতৃত্বে তার সহযোগীরা উপযুক্ত সময় বুঝে সংগ্রহকৃত টিকিট নিয়ে রেলস্টেশনের ভেতরে অবস্থান করে। রেলস্টেশনে এসে টিকিট না পাওয়া সাধারণ যাত্রীদের কাছে গ্রেফতাররা টিকিট বিক্রির জন্য ঘুরাঘুরি করে এবং বেশি দামে টিকিট বিক্রি করে। এছাড়াও ট্রেন ছাড়ার সময় যত সন্নিকটে আসতে থাকে তাদের মজুত করা কালোবাজারি টিকিটের দাম তত বাড়তে থাকে এবং সুযোগ বুঝে অনেক ক্ষেত্রে টিকিটের দাম দিগুণেরও বেশি বাড়িয়ে দেয়।
ঈদের সময় ৪ গুণ দামে টিকিট বিক্রি:
র্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক বলেন, ঈদের ছুটিসহ বিভিন্ন ছুটিকে কেন্দ্র করে গ্রেফতাররা প্রতিটি টিকেট ৩-৪ গুণ বেশি মূল্যে বিক্রি করে। প্রতিটি টিকিট তারা দেড় গুণ থেকে দুই গুণে বিক্রি করে এই লভ্যাংশের ৫০ শতাংশ পায় গ্রেফতাররা নিতো এবং বাকি ৫০ শতাংশ কাউন্টারে থাকা বুকিং কর্মচারী ও তাদের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, সহজ ডটকমের কর্মচারী-কর্মকর্তা ও আইটি বিশেষজ্ঞদের দেওয়া হতো।
৩৫ বছর ধরে টিকিট কালোবাজারি করেছে সেলিম:
কমান্ডার মঈন জানান, গ্রেফতার সেলিম দীর্ঘ প্রায় ৩৫ বছর ধরে টিকিট কালোবাজারির সঙ্গে জড়িত। তিনি কমলাপুর রেলস্টেশনে ট্রেনের টিকিট কালোবাজারি সেলিম সিন্ডিকেটের মূলহোতা। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় টিকিট কালোবাজারির দায়ে সাতটি মামলা রয়েছে এবং এসব মামলায় বিভিন্ন মেয়াদে কারাভোগও করেছেন তিনি। সে জামিনে মুক্তি পেয়ে পুনরায় আবার টিকিট কালোবাজারির কার্যক্রমে লিপ্ত হয়।
১৫ বছর ধরে টিকিট কালোবাজারিতে জড়িত কাশেম:
তিনি বলেন, গ্রেফতার আনোয়ার হোসেন ওরফে কাশেম প্রায় ১৫ বছর ধরে ট্রেনের টিকিট কালোবাজারির সঙ্গে জড়িত। তিনি গ্রেফতার সেলিমের অন্যতম প্রধান সহযোগী। মূলত তার দায়িত্ব ছিল কাউন্টার থেকে ট্রেনের টিকিট সংগ্রহ করা। এর আগে তিনি মাদক মামলাসহ একাধিক মামলায় বিভিন্ন মেয়াদে কারাভোগ করেছেন।
এছাড়াও গ্রেফতার অবনী সরকার ও হারুন মিয়ার দায়িত্ব ছিল চট্টগ্রাম এলাকার কাস্টমার সংগ্রহ করা। একইভাবে মান্নান এবং আনোয়ার ওরুফে ডাবলুর দায়িত্ব ছিল সিলেট এলাকার কাস্টমার সংগ্রহ করা। ফারুক এবং শহীদুল ইসলাম বাবুর দায়িত্ব ছিল ভৈরব ও কিশোরগঞ্জের কাস্টমার দেখাশোনা করা। জুয়েল এবং আব্দুর রহিমের দায়িত্ব ছিল ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও আখাউড়ার যাত্রী সংগ্রহ করা। এছাড়াও গ্রেফতারদের সবার বিরুদ্ধে টিকিট কালোবাজারির মামলা রয়েছে।
১৫ বছর ধরে টিকিট কালোবাজারি করেছে উত্তম:
কমান্ডার খন্দকার আল মঈন বলেন, গ্রেফতার উত্তম প্রায় ১৫ বছর ধরে ট্রেনের টিকেট কালোবাজারির সঙ্গে জড়িত। তিনি বিমানবন্দর রেলস্টেশনের টিকিট কালোবাজারি চক্র উত্তম সিন্ডিকেটের মূলহোতা। তার সহযোগী গ্রেফতার আলী ও ফারুকসহ রাজধানীর আশকোনা এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় অবস্থান করে এসব কার্যক্রম পরিচালনা করত। তিনি শারীরিক প্রতিবন্ধী এবং এই সহানুভূতিকে কাজে লাগিয়ে রেলস্টেশন এলাকায় সবসময় অবস্থান করে টিকিট কালোবাজারি চক্র গড়ে তোলে।
উত্তমের বিরুদ্ধে টিকিট কালোবাজারির দায়ে চারটি মামলা রয়েছে। এসব মামলায় তিনি বিভিন্ন মেয়াদে কারাভোগ করেছেন।পরে জামিনে মুক্তি পেয়ে আবারও টিকিট কালোবাজারির কাজে লিপ্ত হন।
মন্তব্য করুন


আসন্ন
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সারাদেশে মোট ৩০৫ জন প্রার্থী তাদের প্রার্থিতা প্রত্যাহার
করেছেন। ফলে এখন মোট ১ হাজার ৯৬৭ জন প্রার্থী নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।
মঙ্গলবার
দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিবালয়ের পরিচালক (জনসংযোগ) ও তথ্য
প্রদানকারী কর্মকর্তা মো. রুহুল আমিন মল্লিক বাসসকে এ তথ্য জানান।
তিনি
জানান, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় ও স্বতন্ত্র মিলিয়ে ২৯৮টি আসনে (পাবনা-১
ও পাবনা-২ আসন বাদে) মোট ১ হাজার ৯৬৭ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
ইসির
কর্মকর্তারা জানান, ৩০০ আসনে মোট ২ হাজার ৫৮৫টি মনোনয়নপত্র জমা পড়ে। এর মধ্যে ১ হাজার
৮৫৮ জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয় এবং ৭২৬ জনের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়। পরে
৬৩৯ জন প্রার্থী আপিল করেন। আপিলের মাধ্যমে ৪৩১ জন প্রার্থী তাদের প্রার্থিতা ফিরে
পান।
ইসির
তফসিল অনুযায়ী প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময় ছিল ২০ জানুয়ারি বিকেল ৫টা পর্যন্ত।
আজ
বুধবার ( ২১ জানুয়ারি ) প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের মধ্যে নির্বাচনি প্রতীক বরাদ্দ
দেওয়া হবে। আগামীকাল ২২ জানুয়ারি থেকে শুরু হবে নির্বাচনী প্রচারণা, যা ভোট গ্রহণের
৪৮ ঘণ্টা আগে পর্যন্ত চালানো যাবে।
আগামী
১২ ফেব্রুয়ারি, বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে
ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। ব্যালট পেপারের মাধ্যমে স্বচ্ছ ব্যালট বাক্সে ত্রয়োদশ জাতীয়
সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের ভোট গ্রহণ সম্পন্ন হবে।
এর
আগে গত ১১ ডিসেম্বর জাতির উদ্দেশে ভাষণের মাধ্যমে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল
ঘোষণা করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন।
তফসিল অনুযায়ী রিটার্নিং কর্মকর্তা বা সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিন ছিল ২৯ ডিসেম্বর।
মন্তব্য করুন