

নিকটজন হারানোর
শূন্যতা পেরিয়ে পুরো বাংলাদেশই পরিবার হয়ে উঠেছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত
চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
আজ বৃহস্পতিবার
সকাল ১০টায় নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এই মন্তব্য করেন।
পোস্টে তারেক
রহমান লিখেছেন, ‘গভীর শোক ও কৃতজ্ঞতায় ভাস্বর হয়ে আমি আমার প্রিয় মা, জীবনের প্রথম
শিক্ষক, তিনবারের প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে আমার বাবা, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের
পাশে চিরনিদ্রায় শায়িত করেছি। তার অনুপস্থিতির শূন্যতা ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। তবু,
এই কঠিন মুহূর্তে দেশের মানুষের অভূতপূর্ব উপস্থিতি আমাকে একাকিত্বে ভুগতে দেয়নি।’
অগণিত নেতাকর্মী,
শুভাকাঙ্ক্ষী, পরিবার ও দেশবাসীর ভালোবাসা ও শ্রদ্ধায় আবেগাপ্লুত হয়ে তিনি লেখেন,
‘লাখ লাখ মানুষ একসঙ্গে এসে যেভাবে সম্মান জানিয়েছে, ভালোবাসা দিয়েছে এবং এই কঠিন সময়ে
পাশে দাঁড়িয়েছে, তা আমাকে আবারও মনে করিয়ে দিয়েছে- তিনি শুধু আমার মা ছিলেন না অনেক
দিক থেকে তিনি ছিলেন সমগ্র জাতির মা।’
কূটনীতিকদের
উদ্দেশে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান লেখেন, ‘দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশের শীর্ষ
প্রতিনিধি, বৈশ্বিক কূটনীতিক এবং উন্নয়ন সহোযোগীরা সশরীরে উপস্থিত থেকে শ্রদ্ধা জানান।
আমি গভীরভাবে কৃতজ্ঞ। যেসব দেশ সমবেদনা প্রকাশ করেছে তাদের প্রতিও আমি ধন্যবাদ জানাই।
আপনাদের এই সহমর্মিতা আমাদের হৃদয় গভীরভাবে ছুঁয়ে গেছে।’
শোকের এই মুহূর্তে
বাবা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং ভাই আরাফাত রহমান কোকোকে স্মরণ করে তারেক রহমান
বলেন, ‘আজ এত মানুষের ভালোবাসায় সিক্ত হয়ে মনে হচ্ছে, নিকটজন হারানোর শূন্যতা পেরিয়ে
পুরো বাংলাদেশই আমার পরিবার হয়ে উঠেছে।’
সারাজীবন মানুষের
সেবা করে আসা খালেদা জিয়ার সেই দায়িত্ব ও উত্তরাধিকার গভীরভাবে অনুভব করছেন জানিয়ে
তিনি বলেন, ‘একাগ্রতা ও দায়বদ্ধতার সঙ্গে আমি প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি: যেখানে আমার মায়ের
পথচলা থেমেছে, সেখানে আমি চেষ্টা করব সেই পথযাত্রাকে এগিয়ে নিতে। সেই মানুষদের জন্য,
যাদের ভালোবাসা ও বিশ্বাস তাকে শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত শক্তি দিয়েছে, প্রেরণা যুগিয়েছে।’
মন্তব্য করুন


আন্তর্জাতিক
শ্রমবাজারে বাংলাদেশের সুনাম অক্ষুণ্ন রাখতে বিভিন্ন দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ সনদের
জালিয়াতি ও ভুয়া সনদের ব্যবহার রোধে ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা
প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস।
আজ
রবিবার (০৮ ফেব্রুয়ারি) তেজগাঁওয়ে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত জাতীয় দক্ষতা
উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (এনএসডিএ) গভর্নিং বডির সভায় প্রধান উপদেষ্টা এই নির্দেশনা দেন।
২০১৮
সালে প্রতিষ্ঠিত জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের এটি ছিল গভর্নিং বডির দ্বিতীয় সভা।
এর আগে ২০২২ সালে গভর্নিং বডির প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে
সভাপতির বক্তব্যে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘জাতীয় ও আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের চাহিদার
ভিত্তিতে দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলার ক্ষেত্রে এনএসডিএ খুবই ভালো ফ্রেমওয়ার্ক। আন্তর্জাতিক
বাজারে বাংলাদেশের শ্রমশক্তির চাহিদা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে এটি আরো গুরুত্বপূর্ণ হয়ে
উঠবে।’
প্রধান
উপদেষ্টা বলেন, ‘বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের শ্রমশক্তির চাহিদা অনেক। কিন্ত দক্ষতা প্রশিক্ষণের
সনদ জালিয়াতি ও প্রতারণার জন্য আমাদের কর্মীদের সুনাম ক্ষুণ্ন হচ্ছে। ’
চাকরিদাতারা যদি আস্থা হারিয়ে ফেলে তাহলে দক্ষতা উন্নয়নের উদ্যোগগুলো বিফল হবে উল্লেখ
করে তিনি বলেন, ‘এসব জালিয়াতি বন্ধ করতে হবে।’ দেশের ব্র্যান্ড ইমেজ তৈরির ওপর জোর
দিয়ে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘চাকরিদাতারা যেন বলেন যে বাংলাদেশ থেকে যেসব কর্মী এসেছে,
নিশ্চয়ই তারা ভালো করবে।’
প্রধান
উপদেষ্টা আশা প্রকাশ করে বলেন, জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ সব প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানে
একটি অভিন্ন মানের সনদ ব্যবস্থা চালুর যে উদ্যোগ নিয়েছে তা এ ধরনের জালিয়াতি রোধে গুরুত্বপূর্ণ
ভূমিকা রাখবে। প্রধান উপদেষ্টা আরো বলেন, ‘আমাদের তরুণ প্রজন্ম অনেক সৃজনশীল এবং সম্ভাবনাময়।
আমাদের দায়িত্ব হলো তাদের জন্য সম্ভাবনার দরজাগুলো উন্মুক্ত করে দেওয়া।’
প্রধান উপদেষ্টা এ ক্ষেত্রে বেসরকারি উদ্যোক্তারা যেন আরো স্বচ্ছ ও কার্যকরভাবে কাজ
করতে পারে সে লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ ও সমন্বয়ের ওপর জোর দেন।
সভায়
বিগত সভার সিদ্ধান্তগুলোর বাস্তবায়ন অগ্রগতি পর্যালোচনার পাশাপাশি একটি সমন্বিত দক্ষতা
ইকোসিস্টেম প্রতিষ্ঠার বিষয়ে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। এই ইকোসিস্টেমের আওতায় বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের
আয়োজিত প্রশিক্ষণ কার্যক্রমগুলোর অভিন্ন কারিকুলাম ও মানদণ্ড নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
এই ব্যবস্থা সম্পূর্ণ রূপে চালু হলে আন্তর্জাতিক বাজারে সনদের মান ও বিশ্বাসযোগ্যতা
বৃদ্ধির পাশাপাশি একদিকে যেমন সরকারি অর্থের অপচয় কমবে, সেই সঙ্গে শিল্প খাতে শ্রমিকের
চাহিদা নিরূপণ ও শ্রমশক্তির উন্নয়নে কেন্দ্রীয়ভাবে একটি শক্তিশালী পরিকল্পনা প্রণয়ন
ও বাস্তবায়ন সহজ হবে বলে সভায় জানানো হয়।
এ
ছাড়া গভর্নিং বডির এই সভায় এলডিসি থেকে উত্তরণ-পরবর্তী বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জসমূহ মোকাবেলায়
এনএসডিএর দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্যসমূহ অনুমোদন করা হয়। দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনাগুলোর মধ্যে
উল্লেখযোগ্য হলো, উদীয়মান সেক্টরগুলোতে ‘স্কিলস গ্যাপ অ্যানালাইসিস’
করা, সব উন্নয়ন প্রকল্পকে এনএসডিএ কারিকুলাম ও কম্পিটেন্সি স্ট্যান্ডার্ডের আওতায় আনা,
বাংলাদেশ জাতীয় যোগ্যতা কাঠামোকে (বিএনকিউএফ) আন্তর্জাতিক মানের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ
করা এবং অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতের বিপুল জনবলকে ‘পুর্ব অভিজ্ঞতার স্বীকৃতি’র
মাধ্যমে জাতীয় দক্ষতা সনদের আওতায় আনা।
অন্যান্য
বিষয়ের মধ্যে সভায় প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অধীন ইনস্টিটিউট
অব মেরিন টেকনোলজিগুলোতে (আইএমটি) প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের সিডিসি দেয়ার বিষয়ে
আলোচনা করা হয়।
সভায়
নৌপরিবহন এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল(অব) এম সাখাওয়াত হোসেন,
শিল্প, গৃহায়ণ ও স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন
কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুণ, প্রধান উপদেষ্টার মুখ্য
সচিব, এনএসডিএর নির্বাহী চেয়ারম্যানসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সচিব ও অন্যান্য ঊর্ধ্বতন
কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
মন্তব্য করুন


স্বরাষ্ট্র
উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেছেন, আসন্ন ত্রয়োদশ
জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এক লাখ সেনা সদস্যসহ মোট ৮ লাখ ৯৭ হাজার ১১৭ জন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর
সদস্য মোতায়েন করা হবে।
স্বরাষ্ট্র
উপদেষ্টা আজ বিকেলে সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত উপদেষ্টা
পরিষদ কমিটির ২০তম সভা শেষে আয়োজিত এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন।
তিনি
বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট-২০২৬ উপলক্ষ্যে সশস্ত্র বাহিনী বিভাগসহ
বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী থেকে সদস্য মোতায়েন করা হবে। এরমধ্যে বাংলাদেশ
সেনাবাহিনীর সদস্য থাকবে ১ লাখ, বাংলাদেশ নৌ-বাহিনী ৫ হাজার, বাংলাদেশ বিমান বাহিনী
৩ হাজার ৭৩০ (স্থলভাগ-১ হাজার ২৫০), বাংলাদেশ পুলিশ ১ লাখ ৪৯ হাজার ৪৪৩, বাংলাদেশ আনসার
ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর ৫ লাখ ৭৬ হাজার ৩১৪, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ৩৭
হাজার ৪৫৩, বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড ৩ হাজার ৫৮৫, র্যাব ৭ হাজার ৭০০, এবং সাপোর্ট সার্ভিস
হিসেবে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তর ১৩ হাজার ৩৯০ জনসহ সর্বমোট ৮ লাখ ৯৭
হাজার ১১৭ জন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হবে।
উপদেষ্টা
বলেন, নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে দেশজুড়ে দুই পর্বে আইনশৃঙ্খলা
রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েন করা হবে। প্রথম পর্বে চলমান যারা মোতায়েন রয়েছেন, তারা বলবৎ
থাকবেন। দ্বিতীয় পর্বে ভোটকেন্দ্রিক মোতায়েন, যেখানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর
সদস্যরা ৮ থেকে ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মোট ৭ দিন দায়িত্ব পালন করবেন।
তিনি
বলেন, পুলিশ, আনসার ভিডিপির পাশাপাশি সশস্ত্র বাহিনী, বিজিবি, কোস্টগার্ড এবং র্যাবের
সমন্বয়ে আইনশৃঙ্খলা সমন্বয় সেল গঠন করা হবে। এ সমন্বয় সেলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর
একজন করে প্রতিনিধি থাকবেন।
তিনি
আরো বলেন, বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার একটি অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ, শান্তিপূর্ণ, গ্রহণযোগ্য
এবং উৎসবমুখর পরিবেশে নির্বাচন অনুষ্ঠানে বদ্ধপরিকর। সেজন্য জাতীয় নির্বাচনে জনআকাঙ্ক্ষা
বাস্তবায়ন ও নিশ্চিতকরণে আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা
গ্রহণ আমাদের নিকট সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। আর এ লক্ষ্যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সমন্বিতভাবে
কাজ করে যাচ্ছে।
মন্তব্য করুন


বিএনপির
চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, ‘এখন আবার অন্য একটি গোষ্ঠী কিছু কিছু ষড়যন্ত্র করছে।
যাতে নির্বাচন বাধাগ্রস্ত হয়। এ ব্যাপারে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে।’তিনি
বলেন, ‘গত ১৫-১৬ বছর আপনারা ভোট দিতে পারেননি।
আপনাদের
ভোটের অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছে, কথা বলার স্বাধীনতা কেড়ে নেওয়া হয়েছে। যারা কাজটি করেছে
তারা দেশ থেকে চলে গেছে।’
আজ
সোমবার (২৬ জানুয়ারি) বিকেলে নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ার দ্বীপ সরকারি কলেজ মাঠে
স্থানীয় বিএনপির আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে
তিনি এসব কথা বলেন।
তারেক
রহমান নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বলেন, ‘শুধু ভোট দিলেই চলবে না, ওখানে থাকতে হবে। আপনার
ভোটের হিসাব কড়ায়-গন্ডায় বুঝে নিয়ে আসতে হবে। দেশটা আমাদের সবার, সব ধর্মের লোককে একসঙ্গে
থেকে আমাদের দেশটা গড়তে হবে। এই দেশই আমাদের প্রথম এবং শেষ ঠিকানা।’তিনি
আরো বলেন, ‘সমস্যার সমাধান করতে হলে ধানের শীষকে জেতাতে হবে।
এর
আগে এই এলাকার মানুষ অনেককে দেখেছে, তারা কিন্তু সমস্যার সমাধান করেনি। নদীভাঙন রোধ,
বেড়িবাঁধ, ব্লক বাঁধ এগুলো আমরা (ইনশাআল্লাহ) করব। তবে আপনাদেরও একটা দায়িত্ব আছে।
আপনাদের দায়িত্ব ধানের শীষকে জয়যুক্ত করা।’
এ
সময় তারেক রহমান ঘোষণা দেন বিএনপি সরকার গঠন করলে ধীরে ধীরে হাতিয়ার মানুষের সব সমস্যার
সমাধান করা হবে।
জনসভায়
কেন্দ্রীয় বিএনপির বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও নোয়াখালী-৬ হাতিয়ার ধানের শীষের প্রার্থী
মাহবুবের রহমান, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মাহবুব আলমগীর আলোসহ উপজেলা বিএনপির নেতাকর্মীরা
উপস্থিত ছিলেন।
মন্তব্য করুন


প্রধানমন্ত্রী
তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশ কোস্টগার্ডের মহাপরিচালক রিয়ার
অ্যাডমিরাল মো. জিয়াউল হক।
আজ
মঙ্গলবার (৩ মার্চ) বাংলাদেশ সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে
এই সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠকের
শুরুতে উভয়ে পারস্পরিক শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন প্রধানমন্ত্রীর
অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন।
রুমন
বলেন, সাক্ষাৎকালে প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশ কোস্টগার্ডের দেশপ্রেম ও পেশাদারিত্বের ভূয়সী
প্রশংসা করেন। তিনি বাহিনীর সদস্যদের নিরলস প্রচেষ্টার স্বীকৃতি দিয়ে বলেন, সমুদ্র
উপকূল ও নদী তীরবর্তী এলাকায় শান্তি ও নিরাপত্তা বজায় রাখতে কোস্টগার্ড গুরুত্বপূর্ণ
ভূমিকা পালন করছে। বিশেষ করে জনগণের স্বার্থে দুর্যোগ মোকাবিলায় তাদের জনসেবামূলক
কাজগুলো অব্যাহত রাখার জন্য তিনি বিশেষ নির্দেশনা প্রদান করেন।
প্রধানমন্ত্রীর
অতিরিক্ত প্রেস সচিব বলেন, বৈঠকে মহাপরিচালক প্রধানমন্ত্রীকে কোস্টগার্ডের চলমান বিভিন্ন
উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড সম্পর্কে অবহিত করেন। প্রধানমন্ত্রী এই উন্নয়নের গতিপ্রকৃতি দেখে
সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং আশ্বস্ত করেন যে, বাহিনীর এই আধুনিকায়ন ও উন্নয়নের ধারাবাহিকতা
ভবিষ্যতেও বজায় থাকবে।
রুমন
বলেন, পরিশেষে প্রধানমন্ত্রী দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় কোস্টগার্ডকে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি
বজায় রাখার আহ্বান জানান। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, পেশাদারিত্বের মাধ্যমে এই বাহিনী
দেশের সমুদ্রসীমার অতন্দ্র প্রহরী হিসেবে নিজেদের অবস্থান আরও সুসংহত করবে।
মন্তব্য করুন


রাষ্ট্র সংস্কার কার্যক্রম এগিয়ে নিতে গঠিত ছয় সংস্কার কমিশনের প্রধানদের সঙ্গে আজ সোমবার ঢাকায় তেজগাঁওস্থ কার্যালয়ে ছয় সংস্কার কমিশন প্রধানের সঙ্গে বৈঠক করেছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। বৈঠকে সংস্কার কমিশনের কার্যক্রম নিয়ে আলোচনা হয়।
বৈঠকে কমিশন প্রধানরা সংস্কার কমিশনের কাজের অগ্রগতি সম্পর্কে প্রধান উপদেষ্টাকে অবহিত করেন। তারা জানান সংস্কার কমিশনের কাজ পুরোদমে শুরু হয়েছে।
বৈঠকে নির্বাচন সংস্কার কমিশন প্রধান ড. বদিউল আলম মজুমদার, জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশন প্রধান আব্দুল মুয়ীদ চৌধুরী, পুলিশ সংস্কার কমিশনের প্রধান সফর রাজ হোসেন, বিচার বিভাগ সংস্কার কমিশন প্রধান চিারপতি শাহ আবু নাঈম মমিনুর রহমান, দূর্নীতি দমন সংস্কার কমিশন প্রধান ইফতেখারুজ্জামান এবং সংবিধান সংস্কার কমিশন প্রধান অধ্যাপক আলী রীয়াজ অংশগ্রহণ করেন।
ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর গত ৮ আগস্ট অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব নেন শান্তিতে নোবেল বিজয়ী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। এরপর গত ১১ সেপ্টেম্বর জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে রাষ্ট্র সংস্কারের লক্ষ্যে ছয়টি সংস্কার কমিশন গঠনের ঘোষণা দেন তিনি।
অধ্যাপক ইউনূস তার ভাষণে বলেন, তারা সংস্কার চান। সংস্কারের মাধ্যমে জাতি হিসেবে নতুনভাবে যাত্রা শুরু করতে চান। আর সংস্কারের প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসেবে প্রাথমিকভাবে ছয়টি কমিশন গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
পরবর্তীতে ছয় জন বিশিষ্ট নাগরিককে কমিশনের প্রধান করে ছয় কমিশন গঠন করা হয়। গত মাস থেকে কমিশনগুলো আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের কার্যক্রম শুরু করে।
মন্তব্য করুন


শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষ্যে হিন্দু সম্প্রদায়ের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় ও পূজা পরিদর্শন করতে আজ শনিবার (১২ অক্টোবর) বিকেলে ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরে যাবেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং জানিয়েছে, আজ বিকেল ৩টায় প্রধান উপদেষ্টা ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরে দুর্গাপূজা পরিদর্শন করতে যাবেন। তখন তিনি সেখানে হিন্দু সম্প্রদায়ের সঙ্গে বিনিময় সভায় অংশ নেবেন।
বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মনীন্দ্র কুমার নাথ গণমাধ্যমকে জানান, প্রধান উপদেষ্টা আজ শনিবার বিকেল ৩টায় ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরে যাবেন।
এদিকে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার আগমনকে কেন্দ্র করে ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির এলাকায় নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা গ্রহণ করা হয়েছে। এ লক্ষ্যে এসএসএফসহ
বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সেখানে কাজ করছে। সাধারণ মানুষের প্রবেশে কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে।
মন্তব্য করুন


দুর্নীতি থেকে নিজেদের দূরে রাখতে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সদস্যদের প্রতি কঠোর নির্দেশনা দিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো: জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী (অব.)। সীমান্তে পিঠ প্রদর্শন করবেন না বলেও তিনি উল্লেখ করেছেন।
শনিবার (৭ সেপ্টেম্বর) সকালে রাজধানীর পিলখানায় বিজিবি সদর দপ্তরের সীমান্ত সম্মেলন কেন্দ্রে বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে বক্তব্য দেন উপদেষ্টা। সেখানে এসব নির্দেশনা দেন। পরে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে তার বক্তব্য তুলে ধরা হয়।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো: জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী (অব.) বলেন, দুর্নীতিকে কোনো অবস্থাতেই সহ্য করা হবে না। যারা ঘুষ ও দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত,তাদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। প্রয়োজনে তাদের চাকরিচ্যুত করা হবে। বিজিবিকে আইন অনুযায়ী কাজ করতে হবে। সীমান্ত সুরক্ষা ও চোরাচালান প্রতিরোধ বিজিবির মূল দায়িত্ব। এ সময় তিনি বিজিবিকে পেশাদারিত্বের সঙ্গে নিজেদের দায়িত্ব পালন করার আহ্বান জানান।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা আরও বলেন, ফেলানীর মতো হত্যাকাণ্ড আর দেখতে চাই না। সীমান্তে পিঠ প্রদর্শন করবেন না। নিজেদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালন করুন।
উক্ত অনুষ্ঠানে বিজিবি মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকীসহ সদর দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও টেলি কনফারেন্সের (ভিটিসি) মাধ্যমে বিজিবির সব রিজিয়ন কমান্ডার, সেক্টর কমান্ডার, ব্যাটালিয়ন কমান্ডারসহ অন্যান্য কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।
মন্তব্য করুন


মন্ত্রীর নির্দেশনা এবং গ্রাহকদের অসন্তোষ মধ্যে মোবাইল অপারেটরগুলো ইন্টারনেটের খরচ কমিয়েছে।
কোনো অপারেটর তিন দিনের দামে সাত দিনের প্যাকেজ ডিজাইন করেছে, আবার কোনোটি সরাসরি দামও কমিয়ে ফেলেছে।
গত ১৫ অক্টোবর থেকে মোবাইল ইন্টারনেটের নতুন প্যাকেজ কার্যকর হওয়ায় তিন দিনের প্যাকেজ তুলে দেওয়া হয়। অপারেটররা বলে আসছিল, তিন দিনের প্যাকেজ তুলে দিলে দাম বেড়ে যাবে। কারণ, তিন দিনের প্যাকেজটির চাহিদাই সব থেকে বেশি।
তিন দিনের প্যাকেজ তুলে দিয়ে নতুন নির্দেশনা কার্যকর হওয়ার পর দাম বেড়ে যাওয়ায় গ্রাহক এবং অপারেটরদের মধ্যেও অস্বস্তি ছিল। পরে মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার ১০ নভেম্বরের মধ্যে দাম কমানোর নির্দেশনা দিয়েছিলেন।
ইন্টারনেট প্যাকেজের খরচ কমানোর নির্দেশনায় প্রথমেই সাড়া দেয় রাষ্ট্রায়ত্ত অপারেটর টেলিটক। এরপর অন্যান্য অপারেটরও প্যাকেজ রিডিজাইন করছে বলে জানিয়েছে অপারেটরগুলো।মোবাইল অপারেটরদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব মোবাইল টেলিকম অপারেটরস অব বাংলাদেশের (এমটব) ইন্টারনেটের দাম কমানোর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
এক বিবৃতিতে এমটব জানায়, গত ১৫ অক্টোবর নিয়ন্ত্রক সংস্থার নির্দেশাবলী অনুযায়ী নানাবিধ প্রতিকূলতা সত্ত্বেও অপারেটররা তাদের ইন্টারনেট প্রোডাক্ট পোর্টফোলিও আপডেট করে। দুর্ভাগ্যবশত এর মাত্র ১৫ দিন পরে আবারও প্রোডাক্ট পোর্টফলিও পরিবর্তন করতে নতুন নির্দেশনাবলী দেওয়া হয়েছে। নিয়ন্ত্রক সংস্থার প্রতি শ্রদ্ধা রেখে আমরা ইতোমধ্যেই এই জটিল পোর্টফোলিও পরিবর্তন করেছি।
নিয়ন্ত্রক সংস্থার সঙ্গে কার্যকর সমন্বয়ের মাধ্যমে কোটি কোটি বাংলাদেশির জীবনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে মনে করে এমটব।
মন্তব্য করুন


ত্রয়োদশ
জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রংপুর-৩ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র তুলেছেন তৃতীয়
লিঙ্গের নেত্রী আনোয়ারা ইসলাম রানী। তিনি বাংলাদেশের রাজনীতিতে প্রথম ট্রান্সজেন্ডার
প্রার্থী হিসেবে পরিচিত। বুধবার (১৭ ডিসেম্বর) বিকেলে রংপুর জেলা নির্বাচন অফিস থেকে
তিনি এই ফরম সংগ্রহ করেন।
আনোয়ারা
ইসলাম রানী বলেন, ‘জনগণের ভালোবাসা এবং উৎসাহে উদ্বুদ্ধ হয়ে রংপুর-৩ আসনে স্বতন্ত্র
প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন সংগ্রহ করেছি। কোনো ক্ষমতার জোরে বা দলীয় ছায়ায় নয়, শুধু মানুষের
বিশ্বাস এবং ন্যায়ের শক্তিকে সঙ্গী করে রাজনীতিতে এসেছি। আমি সুবিধাভোগী হতে আসিনি,
এসেছি মানুষের কথা বলার জন্য, অবহেলিতদের কণ্ঠস্বর হওয়ার জন্য।’
তিনি
আরও বলেন, ‘আমার কোনো পিছুটান নেই। তাই পুরো সময়, শক্তি এবং দায়বদ্ধতা উৎসর্গ করব রংপুর-৩
আসনের মানুষের অধিকার এবং মর্যাদা প্রতিষ্ঠায়। এটি আমার ব্যক্তিগত সংগ্রাম নয়, একটি
মানবিক ন্যায়ের আন্দোলন।’
তরুণ
প্রজন্মকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, ‘কর্মহীন বেকার যুবক-যুবতীদের জন্য সম্মানজনক কর্মসংস্থানের
সুযোগ সৃষ্টি করব, যাতে তারা নিজ দেশেই স্বাবলম্বী হয়ে উঠতে পারে। এই নির্বাচন আপনাদের।
আপনাদের একটি ভোট হতে পারে ভয়ের রাজনীতির অবসান এবং সাহসী, মানবিক পরিবর্তনের সূচনা।’
রংপুর
সদর উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা শোয়েব সিদ্দিকী জানান, বুধবার দুপুর পর্যন্ত জেলার ৬টি
আসনে কোনো প্রার্থী মনোনয়ন সংগ্রহ বা জমা দেননি। তবে বিকেলে রংপুর-৩ আসনে আনোয়ারা রানী
স্বতন্ত্র হিসেবে ফরম তুলেছেন। মনোনয়ন জমার শেষ তারিখ ২৯ ডিসেম্বর, এর মধ্যে অন্য প্রার্থীরা
আসবেন বলে আশা করা হচ্ছে। জেলা নির্বাচন অফিসের তথ্য অনুসারে, রংপুরে মোট ভোটকেন্দ্র
৮৭৩টি এবং ৬ আসনে ভোটার সংখ্যা ২৫ লাখ ৯৯ হাজার ২০২ জন। রংপুর-৩ আসনে ভোটার প্রায় ৪
লাখ ৫০ হাজার, যার মধ্যে নারী ভোটারের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য।
জানা
গেছে, আনোয়ারা ইসলাম রানী (৩২) রংপুরের স্থানীয় বাসিন্দা এবং তৃতীয় লিঙ্গ সম্প্রদায়ের
একজন সক্রিয় নেত্রী। স্কুল ড্রপআউট হলেও তিনি সমাজসেবা এবং অধিকার আন্দোলনে সক্রিয়।
গত দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে (২০২৪) তিনি রংপুর-৩ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে
‘ঈগল’ প্রতীকে লড়ে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদেরের বিরুদ্ধে
২৩ হাজার ৩৩৯ ভোট পেয়েছিলেন। সেই নির্বাচনে তিনি বাংলাদেশের প্রথম ট্রান্সজেন্ডার প্রার্থী
হিসেবে আলোচিত হয়েছিলেন এবং সমাজের প্রান্তিক গোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্বের প্রতীক হয়ে উঠেছিলেন।
জুলাই বিপ্লবের সময় তিনি বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে সক্রিয় ছিলেন এবং নিজের সম্প্রদায়ের
অধিকারের জন্য লড়াই করে আসছেন।
রংপুর-৩
আসনে অন্যান্য প্রার্থীদের মধ্যে বিএনপির শামসুজ্জামান সামু, জামায়াতে ইসলামীর মাহবুবুর
রহমান বেলাল, ইসলামী আন্দোলনের আমিরুজ্জামান পিয়াল প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এদিকে এই
আসনে জাতীয় পার্টির জিএম কাদেরের নাম শোনা যাচ্ছে।
মন্তব্য করুন


প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, বাংলাদেশে
আশ্রয় নেয়া দশ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা শরণার্থীর নিজ দেশ মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে প্রত্যাবাসনই
রোহিঙ্গা সংকটের একমাত্র বাস্তব ও টেকসই সমাধান।
তিনি রোহিঙ্গাদের নিরাপদ প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে
জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা ইউএনএইচসিআরকে সক্রিয় ভূমিকা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান।
গতকাল বুধবার ( ২৮ জানুয়ারি ) রাতে ঢাকায় রাষ্ট্রীয়
অতিথি ভবন যমুনায় ইউএনএইচসিআরের নবনিযুক্ত কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টেটিভ ইভো ফ্রেইজেন তাঁর
সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে প্রধান উপদেষ্টা এসব কথা বলেন।
সাক্ষাতে ইউএনএইচসিআরের প্রতিনিধি কক্সবাজারের রোহিঙ্গা
শিবিরগুলোতে সহায়তা কার্যক্রমে ‘নাটকীয়ভাবে অর্থায়ন কমে যাওয়ার’ বিষয়টি তুলে ধরেন।
পাশাপাশি শিবিরগুলোতে স্বনির্ভরতা ও জীবিকাভিত্তিক সুযোগ বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার ওপরও
জোর দেন তিনি।
অধ্যাপক ইউনূস বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার গত এক বছরে
একাধিক উচ্চপর্যায়ের কর্মসূচি আয়োজন করলেও রোহিঙ্গা সংকট এখনও প্রত্যাশিত আন্তর্জাতিক
মনোযোগ পাচ্ছে না।
তিনি বলেন, গতবছর রমজান মাসে জাতিসংঘ মহাসচিবের শরণার্থী
শিবির পরিদর্শন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বিষয়টি তুলে ধরতে সহায়ক হলেও আরও মনোযোগ প্রয়োজন।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে রোহিঙ্গাদের শিবিরে
অবস্থান কোনো সমাধান হতে পারে না। এতে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সঙ্গে ইতোমধ্যে নানা ধরনের
উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। তাই প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে নতুন করে আন্তর্জাতিক উদ্যোগ জোরদার
করা জরুরি।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘সমস্যার শুরু মিয়ানমারে, সমাধানও
সেখান থেকেই আসতে হবে। শিবিরে প্রযুক্তি-সুবিধা পাওয়া এক হতাশ ও ক্ষুব্ধ তরুণ প্রজন্ম
বড় হয়ে উঠছে—এটি কারও জন্যই ভালো খবর নয়। আমাদের দায়িত্ব হলো তাদের শান্তি ও মর্যাদার
সঙ্গে নিজ দেশে ফেরত পাঠানো।’
বৈঠকে ভাসানচরের রোহিঙ্গা পরিস্থিতি, আসন্ন জাতীয় নির্বাচন
ও গণভোট এবং দেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণ নিয়েও আলোচনা হয়। অধ্যাপক ইউনূস জানান, ভাসানচর
থেকে অনেক শরণার্থী আশ্রয়কেন্দ্র ছেড়ে মূল ভূখণ্ডে ছড়িয়ে পড়ছেন, যা দেশের জন্য নতুন
চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে।
ইভো ফ্রেইজেন বলেন, সদ্য নিয়োগপ্রাপ্ত ইউএনএইচসিআর
প্রধান বারহাম সালিহ শিগগিরই বাংলাদেশ সফরের আগ্রহ প্রকাশ করেছেন এবং তার রোহিঙ্গা
শিবির পরিদর্শনের সম্ভাবনা রয়েছে। তিনি জানান, তাঁর পূর্বসূরি ফিলিপ্পো গ্র্যান্ডি
২০১৭ সাল থেকে একাধিকবার শিবির পরিদর্শন করেছেন।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, বাংলাদেশ অবাধ, সুষ্ঠু ও উৎসবমুখর
নির্বাচন আয়োজনের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত।
তিনি বলেন, ‘নির্বাচন আয়োজনের ক্ষেত্রে আমরা একটি নতুন
মানদণ্ড স্থাপন করতে চাই। বিশ্বাসযোগ্য ও সুশৃঙ্খল নির্বাচন নিশ্চিত করাই আমাদের সব
প্রচেষ্টার লক্ষ্য। প্রথমবার ভোট দেওয়া ও নতুন ভোটারদের জন্য আমরা নির্বাচন প্রক্রিয়াকে
আনন্দময় ও অন্তর্ভুক্তিমূলক করতে চাই।’
বৈঠকে এসডিজি সমন্বয়ক ও সিনিয়র সচিব লামিয়া মোরশেদ
উপস্থিত ছিলেন।
মন্তব্য করুন