

নারীর
ক্ষমতায়ন, অর্থনৈতিক মুক্তি ও সামাজিক ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে যুগান্তকারী পদক্ষেপ
নিয়েছে সরকার। সরকার নারী প্রধান পরিবারের আর্থিক ও সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে দেশব্যাপী
'ফ্যামিলি কার্ড' চালু করলো।
আজ
মঙ্গলবার (১০ মার্চ) বেলা ১১টা ১৮ মিনিটে রাজধানীর টিঅ্যান্ডটি খেলার মাঠে (কড়াইল বস্তি
সংলগ্ন) প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ল্যাপটপে বাটন প্রেস করে এ 'ফ্যামিলি কার্ড' উদ্বোধন
করেন।
প্রধানমন্ত্রীর
'ফ্যামিলি কার্ড উদ্বোধনের সঙ্গে সঙ্গে সারা দেশে ব্যাংক হিসাব বা মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল
সার্ভিসে ভাতা পোঁছে গেছে কার্ড প্রাপ্ত নারীর হাতে। পরে অনুষ্ঠান মঞ্চে ১৭ জন নারীর
হাতে ফ্যামিলি কার্ড তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় তাঁর পাশে ছিলেন সহধর্মিণী জুবাইদা
রহমান এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রী এ জেড এম জাহিদ হোসেন।
সাততলা
বস্তিতে বাস করা ফ্যামিলি কার্ড প্রাপ্ত রিনা বেগম খুশিতে আবেগ আপ্লূত হয়ে বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীকে
ধন্যবাদ। জীবনে স্বপ্নেও ভাবিনি এই কার্ড হাতে পাবো। এই টাকা দিয়ে আমার পরিবারের অনেক
সাহায্য হবে।’
ত্রয়োদশ
জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রাক্কালে প্রতিটি পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার অঙ্গীকার
করা হয়েছিল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারে। দেশের সর্বস্তরে আলোচিত
হয়েছিল নারীর ক্ষমতায়নের নতুন দিগন্ত উন্মোচনকারী এই নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি। সেই অঙ্গীকার
বাস্তবায়নের লক্ষ্যেই সরকার গঠনের মাত্র ২১ দিনের মাথায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
এই ফ্যামিলি কার্ড প্রদান করেন। ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলার ১৪ টি স্থানে এই পাইলট
প্রকল্প চালু হয়েছে। প্রথম ধাপে ৩৭ হাজার ৫৬৭ জন নারী ফ্যামিলি কার্ড পেয়েছেন।
এর
আগে সকাল ১০টা ৪০ মিনিটে বনানী টিএন্ডটি মাঠে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী। তাঁর আগমনকে কেন্দ্র
করে কড়াইল ও এর আশপাশের এলাকায় ভোর থেকেই উৎসবের আমেজ লক্ষ্য করা গেছে। বিশেষ করে ফ্যামিলি
কার্ড সুবিধাভোগী নারীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা যায়। সকাল হওয়ার আগেই শত
শত নারী কড়াইল বস্তি সংলগ্ন উদ্বোধনী এলাকায় জড়ো হতে শুরু করেন। দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে
তারা অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করেন এই ফ্যামিলি কার্ড হাতে পাওয়ার জন্য।
রাজধানীর
বনানীর কড়াইল বস্তিসংলগ্ন টিঅ্যান্ডটি খেলার মাঠে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে আজ ফ্যামিলি
কার্ড কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ফ্যামিলি কার্ড
উদ্বোধনের শুভ সূচনার আগে কোরআন থেকে তেলোয়াত করেন মাওলানা ইউসুফ আল মাদানী। এর পরে
বিএনপি দলীয় সংগীত পরিবেশন করা হয়। এ সময় ব্যাক-গ্রাউন্ডে বেজে ওঠে 'প্রথম বাংলাদেশ
আমার শেষ বাংলাদেশ..জীবন বাংলাদেশ আমার মরণ বাংলাদেশ', বাংলাদেশ, বাংলাদেশ, বাংলাদেশ।
' পরে ‘সবার আগে স্বাবলম্বী পরিবার, সবার আগে বাংলাদেশ’
এই স্লোগানকে সামনে রেখে 'ফ্যামিলি কার্ড' নিয়ে তৈরি করা প্রামাণ্য চিত্র প্রদর্শন
করা হয়। এতে দেখা যায় হতদরিদ্র পরিবারে এক নারীর অভাব আর সংগ্রামের নিদারুণ কষ্টের
মাঝে স্বস্তির বার্তা নিয়ে হাজির হয় বিএনপি সরকারের দেয়া 'ফ্যামিলি কার্ড'।
আজ
মঙ্গলবার থেকে যেসব এলাকায় পরীক্ষামূলকভাবে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হবে সেগুলো হচ্ছে—রাজধানীর
কড়াইল বস্তি, সাততলা বস্তি, ভাসানটেক বস্তি, মিরপুর সার্কেল বা শাহ আলীর ওয়ার্ড-৮,
আলিমিয়ার টেক বস্তি (ওয়ার্ড-১৪) এবং বাগানবাড়ি বস্তি এলাকা।
এছাড়া
রাজবাড়ীর পাংশা, চট্টগ্রামের পটিয়া, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর, বান্দরবানের লামা,
খুলনার খালিশপুর, ভোলার চরফ্যাশন, সুনামগঞ্জের দিরাই, কিশোরগঞ্জের ভৈরব, বগুড়া সদর,
নাটোরের লালপুর, ঠাকুরগাঁও সদর এবং দিনাজপুরের নবাবগঞ্জেও এই পাইলট কর্মসূচি চালু হচ্ছে।
'ফ্যামিলি
কার্ড' প্রদানের ক্ষেত্রে সুবিধাভোগী বাছাই প্রক্রিয়া যেভাবে হয়েছে তা হলো- প্রাপ্ত
তথ্য হতে ডাবল ডিপিং (একই ব্যক্তির একাধিক ভাতা গ্রহণ), সরকারি চাকরি, পেনশন ইত্যাদি
কারণে চূড়ান্তভাবে ৩৭ হাজার ৫৬৭ টি নারী প্রধান পরিবারকে ভাতা প্রদানের জন্য চূড়ান্ত
করা হয়।
সমগ্র
প্রক্রিয়াটি সফটওয়্যারের মাধ্যমে প্রক্সি মিনস টেস্ট বা দারিদ্র্য সূচক মানের ভিত্তিতে
সম্পন্ন করায় উপকারভোগী নির্বাচনে কোনোরূপ দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি বা ম্যানুয়াল হস্তক্ষেপের
অবকাশ ছিল না।
এই
ফ্যামিলি কার্ডের জন্য নির্বাচিত নারীরা মাসে আড়াই হাজার টাকা করে পাবেন। এ সময় তিনি
অন্য কোনো ভাতা বা সুবিধা পাবেন না। তবে পরিবারের অন্য কেউ কোনো সুবিধা পেয়ে থাকলে
তা বহাল থাকবে।
মন্তব্য করুন


জুলাইকে
নিরাপদ রাখা আমাদের পবিত্র দায়িত্ব বলেছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক উপদেষ্টা ড. আসিফ
নজরুল। জুলাই যোদ্ধাদের দায়মুক্তি অধ্যাদেশের খসড়া তৈরি করেছে আইন মন্ত্রণালয়। শিগগিরই
এটি অনুমোদনের জন্য উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে উপস্থাপন করা হবে।
আজ
বৃহস্পতিবার ( ০৮ জানুয়ারি ) বিকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকের ভেরিফায়েড পেজ
থেকে দেয়া এক পোস্টে এমনটা জানিয়েছেন তিনি।
‘জুলাই যোদ্ধাদের দায়মুক্তি’
শীর্ষক ওই পোস্টে আইন উপদেষ্টা লিখেছেন, ‘জুলাই যোদ্ধারা জীবন-বাজি রেখে দেশকে ফ্যাসিস্ট
শাসন থেকে মুক্ত করেছিল। অবশ্যই তাদের দায়মুক্তির অধিকার রয়েছে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানকালে
ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার খুনিদের বিরুদ্ধে তারা যে প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম করেছিল সেজন্য
তাদের দায়মুক্তি দিয়ে আইন প্রণয়নের প্রয়োজনও রয়েছে।’পোস্টে তিনি আরও লিখেছেন, ‘এ ধরনের
আইন প্রণয়ন সম্পূর্ণ বৈধ। আরব বসন্ত বা সমসাময়িককালে বিপ্লব (বা গণঅভ্যুত্থানে) জনধিকৃত
সরকারগুলোর পতনের পর বিভিন্ন দেশে এ ধরনের দায়মুক্তির আইন হয়েছে। বাংলাদেশের সংবিধানের
৪৬ অনুচ্ছেদে দায়মুক্তির আইনের বৈধতা রয়েছে এবং ১৯৭৩ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের পর মুক্তিযোদ্ধাদের
জন্য দায়মুক্তি আইন হয়েছিল।’
আইন
উপদেষ্টা আরও লিখেছেন, ‘এসব নজীর ও আইনের আলোকে আইন মন্ত্রণালয় দায়মুক্তি অধ্যাদেশের
একটি খসড়া তৈরি করেছে। ইনশাআল্লাহ্ আগামী উপদেষ্টামণ্ডলীর বৈঠকে তা অনুমোদনের জন্য
উপস্থাপন করা হবে। জুলাইকে নিরাপদ রাখা আমাদের পবিত্র দায়িত্ব।’
মন্তব্য করুন


বাংলাদেশ
জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক
শরিফ ওসমান হাদির কবর জিয়ারত করেছেন।
আজ
শনিবার ( ২৭ ডিসেম্বর ) সকাল ১১টার পরে তারেক রহমান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে কবি কাজী নজরুল
ইসলামের সমাধির পাশে ওসমান হাদির কবরে পৌঁছান।
তারেক
রহমান এ সময় ওসমান হাদির কবরে ফুল দেন এবং ফাতিহা পাঠ ও হাদিসহ জুলাইয়ের সকল শহীদের
জন্যে দুহাত তুলে আল্লাহ’র দরবারে দোয়া ও মোনাজাত করেন। পাশাপাশি
তিনি জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের কবরেও ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান।
হাদির
কবর জিয়ারতের সময় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন
দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীসহ সিনিয়র
নেতাকর্মীরা।
এছাড়াও,
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. নিয়াজ আমহেদ খান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাদা
দলের আহ্বায়ক অধ্যাপক মোর্শেদ হাসান খান, উন্মুক্ত
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ওবায়দুল ইসলাম এবং জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য
অধ্যাপক ড. লুৎফর রহমানসহ আরো অনেকে এ সময় উপস্থিত ছিলেন। এর আগে সকাল ১০টা ৪০ মিনিটে গুলশানের বাসা থেকে রওনা হন তারেক রহমান। বিএনপির
ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক পোস্টে জানানো হয়, তিনি ওসমান হাদির কবর জিয়ারতের উদ্দেশ্যে
যাত্রা করেন।
আজ
আগের দুই দিনের মতো লালসবুজ রঙে সাজানো বাস ব্যবহার না করে সাদা রঙের একটি গাড়িতে ঢাকা
বিশ্ববিদ্যালয়ে যান তারেক রহমান। গাড়িটি ফুল দিয়ে সাজানো ছিল। এ সময় রাস্তার দুপাশে
বিএনপির নেতা-কর্মীদের অবস্থান করতে দেখা যায়। পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর
সদস্যদের উপস্থিতিও ছিল চোখে পড়ার মতো।
তারেক
রহমানের আগমনকে ঘিরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। টিএসসি থেকে
হাদির কবর পর্যন্ত দুই স্তরের ব্যারিকেড বসানো হয়। শাহবাগের দিকেও পুলিশের ব্যারিকেড
ও নজরদারি ছিল। এর আগে তারেক রহমানের আগমন উপলক্ষে টিএসসি এলাকায় অবস্থান নেন ঢাকা
বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। সংগঠনের সভাপতি গণেশ চন্দ্র রায় সাহস ও সাধারণ
সম্পাদক নাহিদুজ্জামান শিপনের নেতৃত্বে তারা রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে অবস্থান করেন।
কবর
জিয়ারত শেষে ভোটার হওয়ার জন্য নির্বাচন ভবনে যাচ্ছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান।
সেখান থেকে ধানমন্ডিতে মাহবুব ভবনে যাবেন তিনি। ধানমন্ডির মাহবুব ভবনে কিছু সময় থাকার
পর বিএনপি চেয়ারপার্সন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী তার মা খালেদা জিয়াকে দেখতে এভারকেয়ারে
যাবেন তারেক রহমান।
বিএনপির
মিডিয়া সেলের এক ফেসবুক পোস্টে জানানো হয়, জুলাই গণুঅভ্যুত্থানের কোনো আহত ব্যক্তি
বর্তমানে পঙ্গু হাসপাতালে ভর্তি না থাকায় সেখানে যাওয়ার কর্মসূচি বাতিল করা হয়েছে।
উল্লেখ্য,
দীর্ঘ ১৭ বছর পর গত বৃহস্পতিবার লন্ডন থেকে দেশে ফেরেন তারেক রহমান। তাঁর প্রত্যাবর্তন
ঘিরে ঢাকায় বিএনপির নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের ব্যাপক উপস্থিতি
দেখা যায়। পূর্বাচলের ৩০০ ফিট এলাকায় আয়োজিত সংবর্ধনা সমাবেশে সারা দেশ থেকে দলীয় নেতা-কর্মীরা
অংশ নেন।
মন্তব্য করুন


দেশের
গণতান্ত্রিক রাজনীতির শীর্ষ নেত্রী, তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপার্সন
বেগম খালেদা জিয়ার নামাজে জানাজায় অংশ নিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা
অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস।
জাতীয়
মসজিদ বায়তুল মোকাররমের খতিব মাওলানা আব্দুল মালেকের ইমামতিত্বে বুধবার বেলা ৩টায় রাজধানীর
মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে খালেদা জিয়ার নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।
জানাজায়
উপস্থিত ছিলেন বেগম খালেদা জিয়ার বড়ো ছেলে ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ
পরিবারের অন্য সদস্যরা, অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাবৃন্দ, সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও
বিমানবাহিনীর প্রধানগণ, বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক ও বিদেশি অতিথি, রাজনীতিবিদ, বিভিন্ন
রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মী এবং সমাজের নানা শ্রেণি-পেশার লাখো মানুষ।
নামাজে
জানাজাকে ঘিরে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ ও আশপাশের সব এলাকায় বিপুল জনসমাগম ঘটে। নীরবতা
ও শ্রদ্ধার মধ্য দিয়ে সর্বস্তরের মানুষ দেশের এই শীর্ষ রাজনৈতিক নেত্রীকে শেষ বিদায়
জানাতে উপস্থিত হন।
এর
আগে বেগম খালেদা জিয়ার মরদেহ বিশেষ অ্যাম্বুলেন্সে করে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতাল
থেকে গুলশানে তাঁর বড়ো ছেলে তারেক রহমানের বাসভবনে নেয়া হয়। সেখানে পরিবারের সদস্য,
স্বজন ও দলীয় নেতা-কর্মীরা শেষ বারের মতো তাঁকে শ্রদ্ধা জানান। এরপর বেগম জিয়ার মরদেহ
মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে আনা হয়।
নামাজে
জানাজা শেষে বেগম খালেদা জিয়াকে তাঁর স্বামী শহীদ রাষ্ট্রপতি ও বীর মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর
রহমানের পাশে শেরেবাংলা নগরের জিয়া উদ্যানে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন করা হবে।
জানাজা
ও দাফন অনুষ্ঠান শান্তিপূর্ণ ও নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট
প্রশাসনের পক্ষ থেকে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়। এ সময় আশপাশের এলাকায় যান চলাচল
নিয়ন্ত্রণ এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়।
বেগম
খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে বাংলাদেশ এক দীর্ঘদিনের প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেত্রীকে হারাল,
যিনি গণতান্ত্রিক আন্দোলন, রাষ্ট্র পরিচালনা ও বিরোধী রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা
রেখে গেছেন।
মন্তব্য করুন


জুলাই
গণ-অভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে জেলা প্রশাসনের উদ্দেশ্যে এক ভিডিও বার্তায় প্রধান উপদেষ্টা
অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, আজ আমরা পুরো জাতি একসঙ্গে স্মরণ করছি এমন একটি
দিন, যা এদেশের ইতিহাসে গভীর ছাপ রেখে গেছে। ৫ আগস্ট শুধু একটি বিশেষ দিবস নয়, এটি
একটি প্রতিজ্ঞা, গণজাগরণের উপাখ্যান এবং ফ্যাসিবাদী শাসন থেকে জাতির পুনর্জন্মের দিন।২০২৪
সালের উত্তাল জুলাই ছিল বাংলাদেশের ইতিহাসে এক সংকটময় অধ্যায়, ষোল বছরের পুঞ্জিভূত
ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ। বুকে গুলি চালিয়ে শেষ পর্যন্ত ক্ষমতা আঁকড়ে রাখতে চেয়েছিল ফ্যাসিবাদি
সরকার। তারা নির্বিচারে গুলি করেছে, গ্রেপ্তার করেছে, ইন্টারনেট বন্ধ করে হত্যাকাণ্ডের
তথ্য লুকাতে চেয়েছে, রাতের অন্ধকারে এলাকায় এলাকায় অভিযান চালিয়ে ছাত্রদের আটক করেছে।
তিনি
দেশবাসীকে কোন ধরনের নিপীড়নের কাছে মাথা না নোয়াতে এবং গণতান্ত্রিক, বৈষম্যহীন ও জনকল্যাণকর
রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানান।
জুলাই
গণ-অভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে আজ মঙ্গলবার (৫ আগস্ট) দেশজুড়ে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে এক
অনুষ্ঠানে ভিডিও বার্তায় এসব কথা বলেন তিনি।
প্রধান
উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, জুলাই-আগস্টে গুলিবিদ্ধ আহতদের তারা হাসপাতালে চিকিৎসা
নিতে দেয়নি। হাসপাতালগুলোকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল যেন আহতদের ভর্তি না করা হয়। এ কারণে
বহু মানুষ চিকিৎসা না পেয়ে চিরতরে দৃষ্টি হারিয়েছে, পঙ্গু হয়েছে। ২০২৪ সালের উত্তাল
জুলাই ছিল বাংলাদেশের ইতিহাসে এক সংকটময় অধ্যায়, ষোল বছরের পুঞ্জিভূত ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ।
দেশের বিপুল সংখ্যক তরুণ ১৬ বছর ধরে ক্রমাগত হতাশায় নিমজ্জিত হয়েছে। ভালো ফলাফল করেও
চাকরির জন্য ক্ষমতাসীনদের দুয়ারে দুয়ারে ঘুরেছে। চাকরিকে ঘিরে তৈরি হয়েছিল দুর্নীতি-স্বজনপ্রীতি,
তদবির বাণিজ্য। যে তরুণ ঘুষ দিতে পারেনি, এলাকার মাফিয়াদের সঙ্গে সখ্য গড়ে তুলতে পারেনি
তার চাকরি হয়নি। সরকারি চাকরিতে বৈষম্যমূলক
কোটা পদ্ধতি, যেটা মূলত ছিল দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতির আরেকটা হাতিয়ার, এর বিরুদ্ধে তরুণ
সমাজ দীর্ঘদিন ধরে প্রতিবাদ-বিক্ষোভ করলেও ফ্যাসিবাদী শাসকের টনক নড়েনি। দীর্ঘ এই সময়
প্রতিটি সেক্টরে মাফিয়াতন্ত্র কায়েম করে একটি সুবিধাভোগী শ্রেণি তৈরি করা হয়েছিল, যারা
আর্থিক ও অন্যান্য সুবিধার বিনিময়ে স্বৈরাচারের পক্ষে কথা বলবে, কাজ করবে। স্বৈরাচারের
পক্ষের সঙ্গী হলেই তার চাকরি হবে, কাজ মিলবে। সরকারি প্রতিষ্ঠান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান,
অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠান এমনকি বিচার ব্যবস্থা, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী, গণমাধ্যম ও সাংস্কৃতিক
মণ্ডলেও এই ধরনের সুবিধাভোগী শ্রেণি তৈরি হয়েছিল। এদেশের গরীব-মেহনতি মানুষের পয়সা
লুট করে পতিত ফ্যাসিবাদ ও তাদের সহযোগীরা একেকজন টাকার পাহাড় গড়ে তোলে। সীমাহীন দুর্নীতির
কবলে পড়ে অর্থনীতি ভেঙে পড়ে।
বিগত
১৬ বছরের নিপীড়নের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, এই দেড় যুগে প্রতিটি নায্য
দাবি, প্রতিবাদ, বিক্ষোভ চলাকালে পুলিশের পাশাপাশি দলীয় সন্ত্রাসীরা অস্ত্র হাতে আন্দোলনকারীদের
পিটিয়েছে। গত ১৬ বছরে যারাই সরকারের সমালোচনা করেছে, নাগরিকদের অধিকারের পক্ষে কথা
বলেছে তাদেরকে গ্রেপ্তার অথবা গুম করা হয়েছে। লাখ লাখ বিরোধী দলীয় রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের
নির্বিচারে আটক-গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ভয়াবহ এই পরিস্থিতিতে চব্বিশের জুলাইয়ে দেশের
ছাত্রসমাজ, তরুণ প্রজন্ম, সাধারণ মানুষ—সবাই একত্রিত হয়েছে এক নতুন দিনের প্রত্যাশায়।
সমস্বরে তারা বলে ওঠে, এবার ফ্যাসিবাদকে যেতে হবে। তবু দেশের মানুষের বুকে গুলি চালিয়ে
শেষ পর্যন্ত ক্ষমতা আঁকড়ে ধরে রাখতে চেয়েছিল ফ্যাসিবাদী সরকার।
জুলাই
গণ-অভ্যুত্থান দিবসে জাতির সূর্য সন্তান জুলাই শহীদদের গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করে অধ্যাপক ড. ইউনূস বলেন, তাঁদের আত্মার মাগফেরাত
কামনা করছি। জুলাইয়ে যারা আহত হয়েছেন, চিরতরে পঙ্গু হয়েছেন, দৃষ্টি হারিয়েছেন জাতির
পক্ষ থেকে আমি তাঁদের প্রতি শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। এ জাতি আপনাদের কাছে চিরকৃতজ্ঞ
থাকবে। গত বছর ডিসেম্বর মাসে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ পরিবার ও আহতদের কল্যাণ এবং
যাবতীয় বিষয়াদির প্রশাসনিক দায়িত্ব মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ওপর ন্যস্ত করা
হয়েছিল। এখন পর্যন্ত ৮৩৬টি শহীদ পরিবারের মধ্যে ৭৭৫টি শহীদ পরিবারকে মোট ৯৮ কোটি ৪০
লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র ও মাসিক ভাতা বাবদ ব্যাংক চেক দেওয়া হয়েছে। অবশিষ্ট যাঁরা আছেন,
তাঁদেরও কয়েকটি বিষয় নিষ্পত্তি সাপেক্ষে সঞ্চয়পত্র দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।
এর
পাশাপাশি আহত ১৩ হাজার ৮০০ জন জুলাই যোদ্ধাকে তিনটি ক্যাটাগরিতে নগদ টাকা ও চেক বাবদ
মোট ১৫৩ কোটি ৪ লাখ ২৫ হাজার টাকা প্রদান করা হয়েছে।
প্রধান
উপদেষ্টা আরও জানান, এর মধ্যে ৭৮ জন অতি গুরুতর আহত জুলাইযোদ্ধাকে সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড,
তুরস্ক এবং রাশিয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়েছে এবং চিকিৎসা ব্যয় বাবদ এ পর্যন্ত
৯৭ কোটি ৫০ লাখ টাকা খরচ হয়েছে।
জুলাইযোদ্ধাদের
চিকিৎসার বিষয়ে সরকারের সিদ্ধান্তের কথা উল্লেখ করে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, জেলা ও উপজেলা
পর্যায়ের সকল সরকারি হাসপাতাল বা ক্লিনিক বা স্বাস্থ্য কেন্দ্র, মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল
এবং সরকার কর্তৃক নির্ধারিত বিশেষায়িত হাসপাতালগুলোতে সকল শ্রেণির আহত জুলাই যোদ্ধাদের
অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। সরকারের পক্ষ
থেকে জুলাই শহীদ ও আহতদের জন্য আরও নানা উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। তবে জুলাইয়ের মহানায়কদের
আত্মত্যাগ তখনই সার্থক হবে যখন এই দেশকে আমরা একটি সত্যিকারের জনকল্যাণকর দেশ হিসেবে
গড়ে তুলতে পারব। আজ আমি গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধের
সকল বীর মুক্তিযোদ্ধাদের, যাদের আত্মত্যাগে আমরা পেয়েছি স্বাধীন, সার্বভৌম বাংলাদেশ।
১৯৭১ সালে সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে এদেশের জনগণ
সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিল। লাখো প্রাণের বিনিময়ে একটি স্বাধীন রাষ্ট্র
প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। কিন্তু স্বাধীনতার অর্ধশতাব্দী পরেও এদেশের মানুষ সুবিচার ও গণতন্ত্র
থেকে বঞ্চিত রয়েছে।
বৈষম্যহীন
ও জনকল্যাণকর রাষ্ট্র গঠনের আহ্বান জানিয়ে অধ্যাপক ড. ইউনূস বলেন, আজ আমরা কেবল অতীত
স্মরণ করতে আসিনি,আমরা একটি শপথ গ্রহণ করতে এসেছি। শপথ এই যে—আমরা কোনো ধরনের নিপীড়নের
কাছে মাথা নোয়াব না, আমরা প্রতিষ্ঠা করব একটি জবাবদিহিমূলক, মানবিক, গণতান্ত্রিক এবং
বৈষম্যহীন রাষ্ট্র। এমন রাষ্ট্র, যা সবসময় জনকল্যাণে কাজ করবে। জুলাই শহীদদের আত্মত্যাগ
আমরা বৃথা যেতে দেব না। তাঁদের আত্মত্যাগই হবে আমাদের পথচলার প্রেরণা। তাঁদের স্বপ্নই
হবে আমাদের আগামী বাংলাদেশের নির্মাণরেখা, আজকের দিনে এটাই হোক আমাদের শপথ।
মন্তব্য করুন


২৬ আগস্ট ২০২৪ দেশ জুড়ে পালিত হচ্ছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান উৎসব শ্রীকৃষ্ণের জন্মাষ্টমী।
এ দিনটিকে কেন্দ্র করে আয়োজিত বিবিধ অনুষ্ঠান ও উপাসনালয় সমূহের বিশেষ নিরাপত্তায় অন্যান্য আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি নিয়োজিত রয়েছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী।
সেনাবাহিনীর এ তৎপরতাকে সাধুবাদ জানিয়েছেন সনাতন ধর্মাবলম্বী জনগণ।
উল্লেখ্য যে, দেশব্যাপী সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তায় কাজ করছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। সংঘর্ষ ও অন্যায়কে পরাভূত করে শান্তি প্রতিষ্ঠা করাই শ্রীকৃষ্ণের শিক্ষা। এই শিক্ষাকে বুকে ধারণ করে জাতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে সকল সম্প্রদায়ের মানুষ একসাথে সোনার বাংলা গড়ে তুলবে এই সকলের প্রত্যাশা।
জনগণের এই প্রত্যাশা পূরণে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী পাশে আছে এবং থাকবে।
মন্তব্য করুন


বাংলাদেশে নিযুক্ত জার্মানির রাষ্ট্রদূত ড. রুডিগার লৎস এর সাথে জাতীয় নাগরিক পার্টি - এনসিপি’র সৌজন্য সাক্ষাৎ হয়েছে। রাজধানীর প্রগতি সরণীতে অবস্থিত জার্মান দূতাবাসে রাষ্ট্রদূতের আমন্ত্রণে এনসিপি’র এক প্রতিনিধি দল আতিথেয়তা গ্রহণ করে।
এনসিপি’র পক্ষ থেকে যুগ্ম আহবায়ক ও পররাষ্ট্র সেল প্রধান সুলতান মোহাম্মদ জাকারিয়া জার্মান রাষ্ট্রদূতকে বাংলাদেশে স্বাগত জানান। আরও উপস্থিত ছিলেন যুগ্ম আহবায়ক নুসরাত তাবাসসুম, যুগ্ম সদস্য সচিব আলাউদ্দীন মোহাম্মদ, তাহসিন রিয়াজ ও সাইফ মোস্তাফিজ, এবং যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক নাভিদ নওরোজ শাহ্।
রাষ্ট্রদূত জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপট, সংস্কার কার্যক্রমের অগ্রগতি, আগামী নির্বাচন এবং নতুন বাংলাদেশ নিয়ে এনসিপি’র পরিকল্পনা সম্পর্কে জানতে চান। এনসিপি নেতৃবৃন্দ তাদের নতুন বাংলাদেশের ২৪ দফা ইশতেহার নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। দুই পক্ষই জার্মানি-বাংলাদেশ এর দীর্ঘদিনের ব্যবসায়িক ও রাজনৈতিক সম্পর্ক আরও উন্নত করার ব্যাপারে একমত হন। এছাড়াও জার্মানিতে পড়াশুনা করতে ইচ্ছুক বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের ভিসা আবেদন প্রক্রিয়া সহজ করার ব্যাপারে এনসিপি নেতৃবৃন্দ অনুরোধ করেন।
মন্তব্য করুন


মন্তব্য করুন


ত্রয়োদশ
জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোট দিতে এ পর্যন্ত ৯২ হাজার
৯১৮ জন প্রবাসী নিবন্ধন করেছেন।
নির্বাচন
কমিশনের (ইসি) ওয়েবসাইটে প্রকাশিত আপডেট তথ্য অনুযায়ী, ‘পোস্টাল ভোট বিডি’
অ্যাপের মাধ্যমে আজ (রোববার) বেলা সোয়া ১২টা পর্যন্ত মোট ৯২ হাজার ৯১৮ জন প্রবাসী ভোটার
নিবন্ধন করেছেন। তাদের মধ্যে ৭৮ হাজার ১৪ জন পুরুষ ভোটার এবং ১৪ হাজার ৯০৪ জন নারী
ভোটার।
দেশভিত্তিক
নিবন্ধনের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে ১৭ হাজার ৬৩৭ জন, দক্ষিণ কোরিয়ায় ৯ হাজার ৩১৯ জন, কানাডায়
৮ হাজার ৩৬৪ জন, অস্ট্রেলিয়ায় ৭ হাজার ২৭৩ জন, সিঙ্গাপুরে ৬ হাজার ৯৩৯ জন, জাপানে ৬
হাজার ৭৪৩ জন, যুক্তরাজ্যে ৫ হাজার ৭৫৪ জন, দক্ষিণ আফ্রিকায় ৪ হাজার ৬৯৬ জন এবং ইতালিতে
৪ হাজার ২৩ জন রয়েছেন।
এদিকে
‘পোস্টাল ভোট বিডি’ মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে সৌদি আরব,
সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, ওমান, বাহরাইন, কুয়েত ও মালয়েশিয়ায় প্রবাসী বাংলাদেশি ভোটারদের
নিবন্ধন কার্যক্রম আগামীকাল (সোমবার) থেকে পুনরায় শুরু হবে।
আজ
রোববার ইসি সচিবলায়ের পরিচালক (জনসংযোগ) ও তথ্য প্রদানকারী কর্মকর্তা মো. রুহুল আমিন
মল্লিক বাসসকে এ তথ্য জানিয়েছেন।
তিনি
আরও বলেন, নিবন্ধন পুনরায় শুরু করতে ইসির কার্যক্রম ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। আশা করছি সোমবার
থেকে সৌদি আরবসহ ৭টি দেশে ভোটারদের নিবন্ধন পুনরায় শুরু হবে।
রুহুল
আমিন জানান, প্রবাসে ডাকযোগে পোস্টাল ব্যালট পেতে অবশ্যই সঠিক ঠিকানা দিতে হবে। প্রয়োজনে
বন্ধু/আত্মীয়ের ঠিকানা অথবা নিকটস্থ সুপরিচিত কোন প্রতিষ্ঠান/ভবনের ঠিকানা ব্যবহার
করার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ জানান তিনি।
এর
আগে বৃহস্পতিবার ইসি সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ এবং ওসিভি ও এসডিআই প্রকল্পের
টিম লিডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) সালীম আহমাদ খান সাংবাদিকদের জানান, সৌদি আরবসহ
৭টি দেশের প্রবাসী ভোটাররা সঠিকভাবে ঠিকানা ইনপুট দিতে পারছেন না। ব্যালট পেপার পৌঁছাতে
হলে ঠিকানা অবশ্যই ইংরেজিতে এবং পূর্ণ পোস্ট কোডসহ দেওয়া আবশ্যক। অনেকেই ম্যান্ডেটরি
ফিল্ডে ভুল বা অসম্পূর্ণ তথ্য দিচ্ছেন। তাই নিবন্ধন প্রক্রিয়া অস্থায়ীভাবে বন্ধ রাখা
হয়েছে।
পোস্টাল
ভোট বিডি’ অ্যাপের মাধ্যমে এবার প্রবাসী ভোটারদের নিবন্ধন প্রক্রিয়া
বিশ্বের সকল দেশের জন্য উন্মুক্ত করে দিয়েছে ইসি।
এ
বিষয়ে বুধবার রাতে দেওয়া কমিশনের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাংলাদেশ সময় ২৭ নভেম্বর
রাত ১২:০১ মিনিট থেকে আগামী ১৮ ডিসেম্বর রাত ১১:৫৯ মিনিট পর্যন্ত ‘পোস্টাল ভোট বিডি’
অ্যাপের মাধ্যমে প্রবাসী ভোটারদের নিবন্ধন প্রক্রিয়া বিশ্বের সকল দেশের জন্য উন্মুক্ত
থাকবে
এ
বিষয়ে ইসি সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ বলেন, গত ১৮ নভেম্বর অ্যাপ উদ্বোধনের
পর প্রবাসীদের ৮টি অঞ্চলে ভাগ করে প্রত্যেক অঞ্চলকে পাঁচদিনের নির্দিষ্ট সময় বেঁধে
দিয়ে নিবন্ধনের ব্যবস্থা ছিল। তবে প্রবাসীদের সুবিধার কথা বিবেচনা করে এই সীমাবদ্ধতা
তুলে নেওয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেন, আগামী ১৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত বিশ্বের যেকোন প্রান্ত
থেকে যেকোনো সময় প্রবাসীরা নিবন্ধন করতে পারবেন।
আখতার
আহমেদ বলেন, বিদেশে বসবাসরত বাংলাদেশিদের ভোটদানের ব্যবস্থা দেশের ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ
পদক্ষেপ। এছাড়া নির্বাচন প্রক্রিয়ায় অংশ নেওয়া সরকারি কর্মকর্তা, আইনি হেফাজতে থাকা
ভোটার এবং নিজ ভোটার এলাকার বাইরে অবস্থানরত সরকারি চাকরিজীবীদের জন্যও ইন-কান্ট্রি
পোস্টাল ভোটিং (আইসিপিভি) প্রক্রিয়া চালু করা হয়েছে। এতে প্রায় ১০ লাখ ভোটার সুবিধা
পাবেন ।
গত
১৮ নভেম্বর প্রধান নির্বাচন কমিশনার ‘পোস্টাল ভোট বিডি’
অ্যাপ উদ্বোধন করেন এবং ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য ১৪৮টি নির্দিষ্ট দেশে ভোটার
নিবন্ধনের সময়সূচি ঘোষণা করেন।
পোস্টাল
ব্যালটের মাধ্যমে ভোটদানের জন্য প্রবাসী ভোটারকে অবশ্যই সেই দেশের মোবাইল নম্বর ব্যবহার
করতে হবে, যেখান থেকে ভোট দেবেন। নিবন্ধনের
জন্য প্রথমে গুগল প্লে স্টোর বা অ্যাপ স্টোর থেকে ‘পোস্টাল ভোট বিডি’
অ্যাপ ডাউনলোড ও ইনস্টল করতে হবে। ব্যবহারকারী
বাংলা বা ইংরেজি ভাষা নির্বাচন করে অ্যাপে নিবন্ধনের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও নির্দেশাবলি
দেখতে পারবেন। বিদেশে ব্যালট প্রাপ্তি নিশ্চিত করার জন্য সঠিক ঠিকানা প্রদান অপরিহার্য।
মন্তব্য করুন


জাতীয়
বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে আগামী ১৯ ও ২০ নভেম্বর এর (রবিবার ও সোমবার) সব পরীক্ষা স্থগিত
করা হয়েছে।
১৮
নভেম্বর (শনিবার) দুপুরে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো
হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, অনিবার্য কারণে ওই দুদিনের সব
পরীক্ষা স্থগিত করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। স্থগিত এসব পরীক্ষার সংশোধিত তারিখ
সংশ্লিষ্ট সবাইকে পরে জানানো হবে। এ ছাড়া পূর্ব ঘোষিত অন্যান্য পরীক্ষার তারিখ ও সময়সূচি
অপরিবর্তিত থাকবে।
মন্তব্য করুন


জাতিসংঘ
সাধারণ পরিষদের সভাপতির পদে বাংলাদেশের প্রার্থীর যোগ্যতার বিষয়টিকে নিজ দপ্তরে তুলে
ধরার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুক। ঢাকার প্রার্থিতাকে
যুক্তরাজ্য যথাযথভাবে বিবেচনা করবে বলেও আজ মঙ্গলবার (৩ মার্চ) আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।
পররাষ্ট্র
মন্ত্রণালয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে সারাহ কুক
এ প্রতিশ্রুতি দেন। মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বৈঠকে
পররাষ্ট্রমন্ত্রী নতুন সরকারের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্র, কমনওয়েলথ
অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অফিসের পার্লামেন্টারি আন্ডার-সেক্রেটারি অব স্টেট ফর ইন্দো-প্যাসিফিক
সীমা মালহোত্রাকে পাঠানোর জন্য যুক্তরাজ্যকে ধন্যবাদ জানান।
এ
সময় উভয় পক্ষ দুই দেশের গভীর ঐতিহাসিক সম্পর্ক, দৃঢ় জনসম্পর্ক এবং যুক্তরাজ্যে বসবাসরত
বাংলাদেশি প্রবাসী সম্প্রদায়কে নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন। এই প্রবাসীরা দুই দেশের মধ্যে
গুরুত্বপূর্ণ সেতুবন্ধ হিসেবে কাজ করে যাচ্ছে।
দুই
নেতা শিক্ষা, অভিবাসন, নিরাপত্তা সহযোগিতা, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন এবং সামগ্রিক দ্বিপক্ষীয়
সম্পর্ক জোরদার করার ক্ষেত্রে নতুন সহযোগিতার ক্ষেত্র অনুসন্ধান নিয়ে আলোচনা করেন।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী
রোহিঙ্গাদের দ্রুত মিয়ানমারে প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ ও অন্যান্য
আন্তর্জাতিক ফোরামে যুক্তরাজ্যের নেতৃত্ব অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান।
তিনি
২০২৬-২০২৭ মেয়াদের জন্য জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতির পদে বাংলাদেশের
প্রার্থিতার প্রতি লন্ডনের সমর্থনও কামনা করেন।
ব্রিটিশ
হাইকমিশনার আশ্বাস দেন যে, তিনি বাংলাদেশের প্রার্থীর যোগ্যতার বিষয়টিকে যুক্তরাজ্যের
সদর দপ্তরে তুলে ধরবেন এবং প্রার্থিতাকে যথাযথ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে।
বৈঠক
শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে সারাহ কুক বলেন, ‘আমি মাননীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রীর সঙ্গে
অত্যন্ত ভালো একটি বৈঠক করেছি। তাকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে নতুন দায়িত্ব গ্রহণের জন্য
অভিনন্দন জানিয়েছি।
তিনি
আরো বলেন, ‘আমরা অত্যন্ত ফলপ্রসূ আলোচনা করেছি এবং যুক্তরাজ্য-বাংলাদেশ অংশীদারিত্বের
গভীরতা ও দৃঢ়তা পুনর্ব্যক্ত করেছি।’
তিনি
জানান, বিভিন্ন অগ্রাধিকারমূলক বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
সারাহ
কুক বলেন, ‘আমাদের অভিন্ন অগ্রাধিকারের সমর্থনে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, অভিবাসন, নিরাপত্তা,
জলবায়ু পরিবর্তন ও রোহিঙ্গা ইস্যুসহ নানা ক্ষেত্রে সহযোগিতা জোরদারের বিষয়ে আলোচনা
করেছি।’
দীর্ঘস্থায়ী
সম্পর্কের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে সারাহ কুক আরো বলেন, ‘আপনারা জানেন, বাংলাদেশের সঙ্গে
যুক্তরাজ্যের দীর্ঘদিনের অংশীদারিত্ব রয়েছে এবং দেশটির এই নতুন অধ্যায়ে আমরা ঘনিষ্ঠভাবে
একসঙ্গে কাজ চালিয়ে যেতে আগ্রহী।’
এর
আগে দিনের শুরুতে হাইকমিশনার পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলামের সঙ্গেও সাক্ষাৎ
করেন এবং দক্ষতা উন্নয়ন, অভিবাসন, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ খাতে সহযোগিতা
বৃদ্ধির বিষয়ে আলোচনা করেন।
উভয়
পক্ষ বাংলাদেশ-যুক্তরাজ্য সম্পর্কের ভবিষ্যৎ অগ্রযাত্রা নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেন এবং
দ্বিপক্ষীয়, আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা অব্যাহত
রাখার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন।
মন্তব্য করুন