

গাজীপুরে
মাদরাসাছাত্র আব্দুর রাহিমকে (১৩) হত্যার পর গভীর শালবনে গর্ত করে মরদেহ মাটিচাপা দিয়ে
গুম করা হয়। হত্যার রহস্য উদঘাটন করে এ ঘটনায় নিহতের বড় ভাইসহ দুই জনকে গ্রেপ্তার করেছে
পুলিশ।
বুধবার
(৪ ফেব্রুয়ারি) গাজীপুর জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয়ের সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত সাংবাদিক
সম্মেলনে এসব তথ্য জানান জেলা পুলিশ সুপার মো. শরিফ উদ্দীন।
তিনি
জানান, জেলার জয়দেবপুর থানার ডগরি নয়াপাড়া এলাকার নুরুল ইসলামের ছেলে আব্দুর রাহিম
স্থানীয় নয়াপাড়া এবাদিয়া দাখিল মাদরাসার ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র ছিল। গত ১ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায়
সে নিখোঁজ হয়। সম্ভাব্য সব স্থানে খোঁজাখুঁজির পর তার বাবা ৩ ফেব্রুয়ারি জয়দেবপুর থানায়
সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। পরে ২৬ ফেব্রুয়ারি জয়দেবপুর থানাধীন বিকেবাড়ি পদ্মপাড়া
এলাকায় বাঁশরী রিসোর্টের দক্ষিণ পাশে সরকারি শালবনের গভীরে গর্তের ভেতর মাটি চাপা দেওয়া
অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
পরে
মরদেহটি শহীদ তাজউদ্দিন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে নেওয়া হলে পোশাক দেখে রাহিমের
বাবা তার ছেলেকে শনাক্ত করেন। এ ঘটনায় ২৭ ফেব্রুয়ারি জয়দেবপুর থানায় হত্যা মামলা দায়ের
হয়।
মামলার
তদন্ত প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, রাহিম তার বাবার কাছে মোবাইল ফোন কিনে দেওয়ার জন্য
জোরাজুরি করছিল। এ বিষয় নিয়ে বড় ভাই আলামিন হোসেন ক্ষুব্ধ হয়ে বন্ধু আশিক আহমেদকে সঙ্গে
নিয়ে পরিকল্পনা করেন। সে অনুযায়ী ১ ফেব্রুয়ারি বিকেলে তারা রাহিমকে শালবনের ভেতরে নিয়ে
যান। সেখানে তাকে মাফলার দিয়ে গাছের সঙ্গে বেঁধে মুখে স্কচটেপ লাগানো হয়। একপর্যায়ে
রাহিম বিষয়টি বাবাকে জানিয়ে দেবে বললে আলামিন তাকে গলাটিপে হত্যা করেন। পরে ঘটনাস্থলের
পাশেই গর্ত করে মাটি চাপা দেওয়া হয় এবং আলামত নষ্ট করতে তার জ্যাকেট আগুনে পুড়িয়ে ফেলা
হয়।
পরবর্তী
সময়ে গতকাল (৩ মার্চ) ভোরে জয়দেবপুর থানার মির্জাপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে আলামিন হোসেন
(২৩) ও আশিক আহমেদকে (২০) গ্রেপ্তার করা হয়। আসামিরা আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি
দিয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
উল্লেখ্য,
২৬ ফেব্রুয়ারি সদর উপজেলার বিকে বাড়ি এলাকার বাঁশরী রিসোর্টের দক্ষিণ পাশে শালবানের
ভেতর বেশ কয়েকজন কিশোর টিকটক ভিডিও করতে যায়। শুটিং করার সময় বনের ভেতরে তীব্র দুর্গন্ধ
তাদের নাকে আসে। পরে তারা সামনে এগিয়ে মাটিতে চাপা দেওয়া ও কিছু অংশ বের হওয়া অবস্থায়
মরদেহটি দেখতে পায়। তারা জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ কল করে পুলিশে খবর দেয়। খবর
পেয়ে জয়দেবপুর থানা পুলিশ নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে।
মন্তব্য করুন


আজ
বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ ) বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে নবনির্বাচিত স্পিকার হাফিজ উদ্দিন
আহমদ রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনকে ভাষণ দেওয়ার জন্য আমন্ত্রণ জানান।
এ
সময় বিরোধী দলের সদস্যরা প্রতিবাদ জানিয়ে প্ল্যাকার্ড হাতে দাঁড়িয়ে যান এবং স্লোগান
দিতে থাকেন।
প্ল্যাকার্ডগুলোতে
বাংলা ও ইংরেজিতে বিভিন্ন স্লোগান লেখা ছিল, যার মধ্যে জুলাই আন্দোলনের প্রসঙ্গও উল্লেখ
করা হয়।
সংসদ
কক্ষে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যে স্পিকার সংসদ সদস্যদের শৃঙ্খলা বজায় রাখার আহ্বান
জানান। এ সময় রাষ্ট্রপতি সংসদ কক্ষে প্রবেশ করেন এবং স্পিকারের অনুরোধে ভাষণ শুরু করেন।
তবে
রাষ্ট্রপতির ভাষণ চলাকালেই বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা নিজেদের আসন ছেড়ে উঠে দাঁড়ান এবং
প্রতিবাদ জানিয়ে সংসদ কক্ষ ত্যাগ করেন। রাষ্ট্রপতি তখন তার বক্তব্য অব্যাহত রাখছিলেন।
মন্তব্য করুন


ঢাকা
সেনানিবাসে বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রীর দরবার অনুষ্ঠিত
হয়েছে। রোববার (১২ এপ্রিল) সকালে ঢাকা সেনানিবাসস্থ সেনাপ্রাঙ্গন মিলনায়তনে প্রধানমন্ত্রী
তারেক রহমানের দরবার অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানস্থলে
পৌঁছালে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার
জেনারেল (অব.) ড. এ কে এম শামছুল ইসলাম, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর
প্রধানগণ এবং সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার।বাংলাদেশ ভ্রমণ গাইড
দরবারে
প্রধানমন্ত্রী সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের পেশাদারিত্ব, শৃঙ্খলা, দেশের সার্বিক নিরাপত্তা
রক্ষা এবং আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে তাদের গুরুত্বপূর্ণ অবদানের প্রশংসা করেন। বিশেষত,
২০২৪ সালের আগস্ট-পরবর্তী সময় থেকে দেশের সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ
এবং ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠু ও সুনিপুণভাবে সম্পন্ন করার জন্য তিনি সশস্ত্র
বাহিনীর ভূয়সী প্রশংসা করেন।
প্রধানমন্ত্রী
সশস্ত্র বাহিনীর ভবিষ্যৎ সক্ষমতা বৃদ্ধি, আধুনিকায়ন এবং জাতীয় উন্নয়নে আরো কার্যকর
ভূমিকা পালনের লক্ষ্যে বর্তমান সরকার কর্তৃক সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস প্রদান করেন।
এছাড়া
সশস্ত্র বাহিনীর সকল সদস্যদের দল-মতের ঊর্ধ্বে থেকে দেশকে ধারণ করা, দেশের সার্বভৌমত্ব
ও সংবিধানের মর্যাদা সমুন্নত রাখা, জনগণের আস্থা অটুট রাখা এবং সর্বোপরি কর্মে, সততায়,
শপথে ও ত্যাগের মাধ্যমে দেশকে ভালোবাসার জন্য প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হওয়ার নির্দেশনা প্রদান
করেন প্রধানমন্ত্রী।
দরবারে
ঢাকায় অবস্থানরত সামরিক ও অসামরিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ ও বিভিন্ন পর্যায়ের সদস্যরা
উপস্থিত ছিলেন এবং দেশের অন্যান্য স্থানে অবস্থানরত সদস্যগণ ভিডিও টেলিকনফারেন্সের
মাধ্যমে অংশগ্রহণ করেন।
মন্তব্য করুন


কুমিল্লায় বিএসটিআই, কুমিল্লা ও উপজেলা প্রশাসন, সদর দক্ষিণ, কুমিল্লার যৌথ উদ্যোগে অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার পরিচালিত অভিযানে ভ্রাম্যমাণ আদালতে 'মুড়ি' পণ্যের গুণগত মান সনদ গ্রহণ ব্যতীত প্রস্তুত, বিক্রয়-বিতরণ করায় "বিএসটিআই আইন-২০১৮" অনুযায়ী কুমিল্লা জেলার সদর দক্ষিণ এর বেলতলীর কৃষ্ণপুরে মেসার্স খোরশেদ চিড়া ও মুড়ি মিল প্রতিষ্ঠানটিকে ২৫,০০০ (পঁচিশ হাজার টাকা) এবং কুমিল্লা জেলার সদর দক্ষিণ এর গোপিনাথপুরের মেসার্স মমতা মুড়ি মিল প্রতিষ্ঠানটিকে "বিএসটিআই আইন-২০১৮" এবং "ওজন ও পরিমাপ মানদন্ড আইন-২০১৮" অনুযায়ী ৪০,০০০ (চল্লিশ হাজার টাকা) অর্থদণ্ড করা হয়।
উক্ত ভ্রাম্যমাণ আদালত সদর দক্ষিণ উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও বিজ্ঞ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জনাব সৈয়দ রেফাঈ আবিফ এর নেতৃত্বে পরিচালিত হয়।
প্রসিকিউটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন বিএসটিআই, কুমিল্লা অফিসের কর্মকর্তা জনাব ইকবাল আহম্মদ, ফিল্ড অফিসার (সিএম) এবং প্রকৌ: আরিফ উদ্দিন প্রিয়, পরিদর্শক (মেট্রোলজি)।
জনস্বার্থে এই ধরনের অভিযান চলমান থাকবে।
মন্তব্য করুন


সাভারে পৃথক একটি বিশেষ অভিযান চালিয়ে হানিট্র্যাপের মাধ্যমে অপহরণে জড়িত একটি চক্রের চার সদস্যকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। অভিযানের সময় অপহৃত একজন ব্যক্তিকেও নিরাপদ অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।ঢাকা জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ওসি সাইদুল ইসলামের নেতৃত্বে সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) ভোররাতে সাভার মডেল থানার গেন্ডা এলাকা থেকে অভিযুক্তদের আটক করা হয়।গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিরা হলেন—মোসা. জোসনারা বেগম (৩৯), মো. টুটুল (৩৫), মো. সুমন (৩৫) ও মো. রফিক মিয়া (৪৫)।অভিযানকালে তাদের হেফাজত থেকে অপহৃত ব্যক্তি মো. মাসুম বেপারী (৩৭) কে উদ্ধার করা হয়। একই সঙ্গে একটি গামছা, একটি মাস্কিং টেপ, ভিকটিমের কাছ থেকে নেওয়া নগদ চার হাজার টাকা এবং তিনটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে।এ বিষয়ে ওসি সাইদুল ইসলাম জানান, উদ্ধার হওয়া ভিকটিম নিজেই বাদী হয়ে সাভার মডেল থানায় মামলা দায়ের করেছেন। মামলাটি থানার মামলা নম্বর ৭৩, তারিখ ২৯/১২/২০২৫। দণ্ডবিধি ১৮৬০ অনুযায়ী ৩৪২, ৩৬৫, ৩২৩, ৩৮৫ ও ৩৮৬ ধারায় মামলাটি রুজু করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃতদের সোমবার দুপুরে আদালতে পাঠানো হয়েছে।তিনি আরও জানান, এই চক্রটি নারী সদস্যকে ব্যবহার করে হানিট্র্যাপের মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে ফাঁদে ফেলে অপহরণ করত এবং পরে মুক্তিপণ ও চাঁদা আদায়ের মাধ্যমে অর্থ আদায় করত। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন থানায় একাধিক অভিযোগ রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
মন্তব্য করুন


বৃহস্পতিবার (৫ সেপ্টেম্বর) সংবাদমাধ্যমে পাঠানো বার্তায় দেশবাসীকে সালাম জানিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, আমাদের তরুণ বিপ্লবীরা দেশের মানুষের মনে নতুন বাংলাদেশ গড়ার যে স্বপ্ন জাগিয়ে দিয়েছে তা পূরণে আমি প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। শহীদদের আত্মত্যাগে উদ্বুদ্ধ হয়ে এক নতুন যুগের সূচনা করতে চাই।
ড.
মুহাম্মদ ইউনূস আরো বলেছেন, আজ আমরা বাংলাদেশের দ্বিতীয় স্বাধীনতা অর্জনের প্রথম মাস
উদযাপন করছি। ইতিহাসের অন্যতম গৌরবময় বিপ্লবের জন্য শত শত ছাত্র এবং সর্বস্তরের মানুষ
সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করেছেন। আমাদের বাংলাদেশকে এর পূর্ণ গৌরবে প্রতিষ্ঠিত করার
দায়িত্ব আমাদের।
তিনি বলেন, আমি সেই সাহসী তরুণ, শ্রমিক, দিনমজুর, পেশাজীবীদের স্মরণ করছি যারা মৃত্যুকে আলিঙ্গন করেছিল। স্মরণ করছি আন্দোলন চলাকালে নিহত সাংবাদিকদের। আজ আমি এই বিপ্লবে শাহাদাত বরণকারী সবার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানাই। আমি অভিবাদন জানাই হাজার হাজার মানুষকেও যারা আহত হয়েছেন, প্রাণঘাতী আঘাতের শিকার হয়ে চিরজীবনের জন্য পঙ্গু হয়েছেন, কিংবা চক্ষু হারিয়েছেন।
গত মাসে আমাকে যখন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের নেতৃত্ব দেওয়ার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল, তখন আবু সাঈদ, মুগ্ধ এবং সমস্ত জানা এবং অজানা শহীদদের নিঃস্বার্থ আত্মত্যাগে উদ্বুদ্ধ হয়ে আমার সকল সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও এই দায়িত্ব গ্রহণ করেছি।’
ড. ইউনূস বলেন, ‘আমার প্রিয় তরুণেরা, তোমরা তোমাদের স্বপ্ন বাস্তবায়নের শপথ নিয়েছিলে। শহর ও গ্রামীণ জনপদের দেয়ালে আঁকা তোমাদের স্বপ্নগুলো এখনো নানা রঙের সাজ নিয়ে আমাদের সামনে দাঁড়িয়ে আছে।’
তিনি আরো বলেন, বিপ্লবের সময়, তোমরা পড়াশুনা ছেড়ে দিয়ে বন্ধুদের নিয়ে উদ্বিগ্ন ঘুমহীন রাত কাটিয়েছো এবং দিনে নিষ্ঠুর শাসনকে প্রতিহত করার জন্য পরস্পরের থেকে চির বিদায় নিয়ে রাস্তায় নেমেছো। বিপ্লব শেষ হওয়ার পর তোমরা দেশের ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায় ও তাদের উপাসনালয় পাহারা দিয়েছো এবং সারাদেশে ট্রাফিক পরিচালনা করার দায়িত্ব নিয়েছো। আমি জানি তোমাদের পড়াশোনার অনেক ক্ষতি হয়েছে। তাই এখন সময় পড়াশোনায় ফেরার। স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় খোলা হয়েছে। আমি তোমাদেরকে ক্লাস ও ক্যাম্পাসে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি। কেননা বিপ্লবের সুফল ঘরে তুলতে আমাদের একটি সুশিক্ষিত ও দক্ষ প্রজন্মের দরকার।
তিনি বলেন, মাত্র একমাস হলো অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নিয়েছে। তা সত্ত্বেও আমরা বিপ্লবের প্রকৃত লক্ষ্য অর্জনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সংস্কারের কাজ শুরু করেছি। আমাদের প্রথম কাজ জুলাই ও আগস্টের হত্যাকাণ্ডের বিচার ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা। গণহত্যার বিষয়ে জাতিসংঘের নেতৃত্বে স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্ত পরিচালনা করার জন্য আমরা জাতিসংঘের মানবাধিকার দপ্তরকে আমন্ত্রণ জানিয়েছি। তারা এদেশে এসেছেন এবং তাদের কাজ শুরু করে দিয়েছেন।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, আমাদের প্রধান দায়িত্বগুলির মধ্যে একটি হল বিপ্লবের সময় গুরুতর আঘাতপ্রাপ্ত হাজার হাজার মানুষের বিনামূল্যে চিকিৎসা নিশ্চিত করা। হাসিনার দুর্বৃত্তরা তাদের চোখ লক্ষ্য করে রাবার বুলেট ছোড়ায় অসংখ্য তরুণ শিক্ষার্থী দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছে। আমরা আপ্রাণ চেষ্টা করবো তাদের চোখের আলো ফিরিয়ে দিতে। আমরা শহীদ ও আহতদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা তৈরির জন্য ক্রমাগত কাজ করে যাচ্ছি। মূল তালিকা হয়ে গেছে। এখন শুধু দূর-দূরান্তে যাদের লাশ নিয়ে যাওয়া হয়েছে তাদের তথ্য সংগ্রহ করে তথ্যগুলিতে পূর্ণাঙ্গতা দেওয়া হচ্ছে। আহত শত শত মানুষ যাদের দীর্ঘমেয়াদী চিকিৎসা প্রয়োজন, তাদের ব্যয়বহুল চিকিৎসা এবং শহীদদের পরিবারের দেখাশোনার জন্য একটি ফাউন্ডেশন এখন তৈরির শেষ পর্যায়ে আছে। যাদের শাহাদাতের মাধ্যমে নতুন বাংলাদেশের জন্ম হয়েছে আমরা তাদের কখনোই ভুলবো না।
ড.
মুহাম্মদ ইউনূস সবশেষে বলেন, আমরা সবাই প্রতিজ্ঞা নিলাম শহিদদের রক্ত এবং আহত ভাইবোনদের
আত্মত্যাগকে জাতি হিসাবে আমরা কিছুতেই ব্যর্থ হতে দেবো না। যে সুযোগ তারা আমাদের জন্য
তৈরি করে দিয়েছেন সে সুযোগকে আমরা কখনো হাতছাড়া হতে দেবো না। আজ তাদের স্মৃতিময় দিনে
আবারও প্রতিজ্ঞা করলাম তাদের স্বপ্নের নতুন বাংলাদেশ আমরা গড়বোই। মহান আল্লাহ আমাদের
সকলের সহায় হোন।
মন্তব্য করুন


স্বাস্থ্য অধিদপ্তর আজ বৃহস্পতিবার অধিদপ্তরের হাসপাতাল ও ক্লিনিক শাখার পরিচালক ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়গনস্টিক সেন্টারের লাইসেন্স প্রবেশপথে টানানো, তথ্য কর্মকর্তা নিয়োগসহ ১০ দফা নতুন নির্দেশনা দিয়েছে ।
নির্দেশনায় বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট সকলের অবগতি ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য জানানো যাচ্ছে যে, বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোর পরিচালনার ক্ষেত্রে বর্ণিত শর্তাবলি আবশ্যিকভাবে প্রতিপালন করার জন্য নির্দেশ দেওয়া হলো। আর এ ১০ নির্দেশনা হলো :
১. বেসরকারি ক্লিনিক হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিকের লাইসেন্সের কপি প্রতিষ্ঠানের মূল প্রবেশ পথের সামনে দৃশ্যমান স্থানে অবশ্যই স্থায়ীভাবে প্রদর্শন করতে হবে।
২. সব বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানের যাবতীয় তথ্যাদি সংরক্ষণ ও সরবরাহের জন্য একজন নির্ধারিত দায়িত্বপ্রাপ্ত তথ্য কর্মকর্তা-কর্মচারী থাকতে হবে। একইসঙ্গে তার ছবি ও মোবাইল নম্বর দৃশ্যমান স্থানে প্রদর্শন করতে হবে।
৩. যেসব প্রতিষ্ঠানের নাম ডায়াগনস্টিক ও হাসপাতাল হিসেবে আছে, কিন্তু শুধু ডায়াগনস্টিক অথবা হাসপাতালের লাইসেন্স রয়েছে, তারা লাইসেন্স পাওয়া ছাড়া কোনাভাবেই নামে উল্লিখিত সেবা প্রদান করতে পারবে না।
৪. ডায়াগনষ্টিক সেন্টার, প্যাথলজিক্যাল ল্যাবরেটরির ক্ষেত্রে যে ক্যাটারগরিতে লাইসেন্সপ্রাপ্ত, শুধু সে ক্যাটাগরিতে নির্ধারিত পরীক্ষা-নিরীক্ষা ছাড়া কোনোভাবেই অন্যান্য পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা যাবে না। ক্যাটাগরি অনুযায়ী প্যাথলজি বা মাইক্রোবায়োলজি, বায়োকেমিস্ট্রি ও রেডিওলজি বিশেষজ্ঞ নিয়োগ করতে হবে।
৫. বেসরকারি ক্লিনিক, হাসপাতালের ক্ষেত্রে লাইসেন্সের প্রকারভেদ ও শয্যা সংখ্যা অনুযায়ী সব শর্তাবলি বাধ্যতামূলকভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে।
৬. হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নিয়োজিত সব চিকিৎসকের পেশাগত ডিগ্রির সনদ, বিএমডিসির হালনাগাদ নিবন্ধন ও নিয়োগপত্রের কপি অবশ্যই সংরক্ষণ করতে হবে।
৭. হাসপাতাল, ক্লিনিকের ক্ষেত্রে যে কোনো ধরনের অপারেশন বা প্রসিডিউরের জন্য অবশ্যই রেজিস্ট্রার্ড চিকিৎসককে সার্জনের সহকারী হিসেবে রাখতে হবে।
৮. কোনো অবস্থাতেই লাইসেন্সপ্রাপ্ত বা নিবন্ধিত হাসপাতাল ও ক্লিনিক ব্যতীত চেম্বারে অথবা ডায়াগনস্টিক সেন্টারে অ্যানেস্থেসিয়া দেওয়া যাবে না। বিএমডিসি স্বীকৃত বিশেষজ্ঞ ছাড়া যে কোনো ধরনের অপারেশন/সার্জারি/ ইন্টারভেনশনাল প্রসেডিউর করা যাবে না।
৯. সব বেসরকারি নিবন্ধিত লাইসেন্সপ্রাপ্ত হাসপাতাল, ক্লিনিকে লেবার রুম প্রটোকল অবশ্যই মেনে চলতে হবে।
১০. নিবন্ধিত বা লাইসেন্সপ্রাপ্ত হাসপাতাল, ক্লিনিকে অপারেশন থিয়েটারে অবশ্যই ‘Operation Theatre Etiquette’ মেনে চলতে হবে।
মন্তব্য করুন


৮০২ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগে ইসির চিঠি
দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচন উপলক্ষে বৃহস্পতিবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়কে পাঠানো নির্বাচন কমিশনের উপ-সচিব মো. আতিয়ার রহমানের স্বাক্ষরিত একটি চিঠিতে সারাদেশে ২৮ নভেম্বর (মঙ্গলবার) থেকে ৮০২ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগের জন্য বলা হয়েছে।
চিঠিতে জানানো হয়, আগামী ৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে মোবাইল কোর্ট আইন, ২০০৯ এর আওতায় আচরণবিধি প্রতিপালনার্থে প্রত্যেক নির্বাচনী এলাকায় প্রয়োজনীয় এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগের জন্য নির্বাচন কমিশন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে আর এ লক্ষ্যে ৩০০ নির্বাচনী এলাকায় ২৮ নভেম্বর থেকে ২০২৪ সালের ৪ জানুয়ারি পর্যন্ত এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ করা প্রয়োজন।
চিঠিতে আরও বলা হয়, স্থানীয় বাস্তবতা ও প্রয়োজনীয়তার নিরিখে বিভাগীয় কমিশনারের পরামর্শক্রমে জেলা ম্যাজিস্ট্রেটরা উল্লিখিত সংখ্যার কম-বেশি করতে পারবেন। এছাড়া প্রত্যেক জেলায়, জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের অধীন ১/২ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট অতিরিক্ত হিসেবে নিয়োজিত রাখতে হবে। যাতে জরুরি প্রয়োজনে যে কোনো স্থানে দায়িত্ব পালন করতে পারেন।
চিঠিতে ইসি আরো জানিয়েছে, ভোট গ্রহণের কয়েকদিন আগে থেকে শুরু করে ভোটগ্রহণের ২ দিন পর পর্যন্ত অথবা কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুসারে মোবাইল স্ট্রাইকিং ফোর্সের সঙ্গে বিশেষ করে বিজিবি বা অনুরূপ বাহিনীর প্রতি টিম বা প্লাটুনের সঙ্গে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োজিত করা হবে। ওই সময় আচরণবিধি প্রতিপালন সংক্রান্ত এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট সংখ্যা হ্রাস করার প্রয়োজন হবে।
চিঠিতে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আচরণবিধি প্রতিপালনে উপরের বর্ণনা মোতাবেক এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার জন্য অনুরোধ জানিয়েছে ইসি।
মোবাইল স্ট্রাইকিং ফোর্সের সঙ্গে এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ ছাড়াও ভোটগ্রহণের কয়েকদিন আগে থেকে ভোটগ্রহণের পর পর্যন্ত কিছু সংখ্যক এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটকে নির্বাচনী এলাকায় সার্বিক আইনশৃঙ্খলা রক্ষার কাজেও নিয়োজিত করার প্রয়োজন হবে।
এছাড়া নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগের ধরনের বিষয়ে চিঠিতে ইসি জানায়, প্রতি উপজেলায় ১ জন, তবে ১৫টি ইউনিয়নের অধিক (পৌরসভাসহ) ইউনিয়ন বিশিষ্ট উপজেলায় ২ জন, জেলা সদরের এ ক্যাটাগরির পৌরসভায় ১ জন, তবে ৯ ওয়ার্ডের অধিক হলে ২ জন। আর ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনে ১১, ঢাকা দক্ষিণ সিটিতে ১৫, চট্টগ্রাম সিটিতে ১০, খুলনা সিটিতে ৬, গাজীপুর সিটিতে ৪ এবং অন্যান্য সিটি কর্পোরেশনে ৩ জন করে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ করতে হবে।
মন্তব্য করুন


ঋণখেলাপির
তালিকায় কুমিল্লা-৪ আসনের বিএনপির প্রার্থী মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর নাম স্থগিত করে
জারি করা রুল দুই সপ্তাহের মধ্যে হাইকোর্টকে নিষ্পত্তির নির্দেশ দিয়েছেন চেম্বার আদালত।
একইসঙ্গে
ঋণখেলাপির তালিকা থেকে কুমিল্লা-৪ আসনের বিএনপির প্রার্থী মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর নাম
বাদ দিয়ে হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত করে চেম্বার আদালতের আদেশও বহাল রাখা হয়েছে।
বুধবার
(১৪ জানুয়ারি) আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতি ফারাহ মাহবুবের আদালত এ আদেশ দেন।
প্রিমিয়ার
ব্যাংকের আইনজীবী ব্যারিস্টার বিভূতি তরফদার বলেন, মঞ্জুরুল আহসান মুন্সী ঋণ পুনঃতফসিল
করেছেন। এ কারণে তিনি আর ঋণখেলাপি হিসেবে চিহ্নিত হবেন না।
মুন্সীর
আইনজীবী অ্যাডভোকেট সাইফুল্লাহ মামুন বলেন, আমরা স্টে ভ্যাকেটের জন্য চেম্বার আদালতে
আবেদন দিয়েছিলাম। চেম্বার বিচারপতি আবেদনটি প্রধান বিচারপতির বেঞ্চে পাঠাননি। আমরা
বলেছি ঋণ পরিশোধ করে দেওয়া হয়েছে।
ব্যাংকের
আইনজীবীও ছিল। কোর্ট বললেন, ‘আমি এটাকে আপিল বেঞ্চে দিচ্ছি না। আপনারা হাইকোর্টে যান।’
আইনজীবী
আরো বলেন, আমাদের নমিনেশন চ্যালেঞ্জ করেনি।
নির্বাচন
করতে আজ পর্যন্ত বাধা নেই। তবে হাসনাত আপিল করেছে। আমরাও আপিল করেছি। সেখানে কি হবে
সেটা পরবর্তী বিষয়।
এর
আগে গত ৮ জানুয়ারি ঋণখেলাপির তালিকা থেকে কুমিল্লা-৪ আসনের বিএনপির প্রার্থী মঞ্জুরুল
আহসান মুন্সীর নাম বাদ দিয়ে হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত করেন চেম্বার আদালত।
পরে
এই আদেশ প্রত্যাহার চেয়ে আবেদন করে মঞ্জুরুল আহসান মুন্সি।
আদালতে
প্রিমিয়ার ব্যাংকের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার বিভূতি তরফদার। অপরপক্ষে ছিলেন আইনজীবী
সাইফুল্লাহ মামুন।
এর
আগে, ঋণখেলাপির তালিকায় কুমিল্লা-৪ আসনের বিএনপির প্রার্থী মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর
নাম স্থগিত করেন হাইকোর্ট। বিচারপতি এ কে এম রবিউল হাসানের হাইকোর্ট বেঞ্চ এই আদেশ
দেন। পরে এই আদেশ স্থগিত চেয়ে চেম্বার আদালতে আবেদন করে প্রিমিয়ার ব্যাংক কর্তৃপক্ষ।
মন্তব্য করুন


জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে কয়েক শহিদ পরিবার আজ রোববার (৯ ফেব্রুয়ারি) রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন।
বৈঠকে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের বিচার, জুলাই গণ-অভ্যুত্থান অধিদপ্তর গঠন, আহত ও শহিদ পরিবারের রাষ্ট্রীয় সম্মাননা ও স্বীকৃতি, আর্থিক সহযোগিতা ও পুনর্বাসনসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।
প্রধান উপদেষ্টা আজকের বৈঠকে শহিদ পরিবারের প্রত্যাশার কথা শুনেছেন এবং সরকারের চলমান কার্যক্রম তুলে ধরার পাশাপাশি সরকারের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরেন।
এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা নাহিদ ইসলাম, জুলাই অভ্যুত্থানের অন্যতম সংগঠক সারজিস আলম।
মন্তব্য করুন


প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ
এম এম নাসির উদ্দিন বলেছেন, সবাই আমরা এক হয়ে ইনশাআল্লাহ, জাতিকে একটি সুষ্ঠু, সুন্দর
নির্বাচন উপহার দিতে পারব, এ বিশ্বাস আমার আছে। আমি আপনাদের সহযোগিতা চাই।
আজ বৃহস্পতিবার (২১ আগস্ট) নির্বাচন
কমিশনের (ইসি) অফিসিয়াল ইউটিউব চ্যানেলে এক ভিডিওবার্তায় এ কথা বলেন তিনি।
নিজস্ব ইউটিউব চ্যানেলে তথ্য দেওয়া
হবে উল্লেখ সিইসি বলেন, দেশবাসীর সম্মুখে খুব নির্ভরযোগ্যভাবে সহজভাবে সুন্দরভাবে বিস্তারিতভাবে
উপস্থাপনের জন্য আমাদের এই ইউটিউব চ্যানেলে মূলত থাকবে নির্বাচন কমিশন এবং নির্বাচন
সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য। এতে থাকবে ভোটার রেজিস্ট্রেশনের পদ্ধতি সম্পর্কিত বিষয়।
নির্বাচন সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সময়সূচি, প্রার্থীদের
করণীয় সংক্রান্ত এবং এদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা সম্পর্কিত বক্তব্য। ভোটার হিসেবে
আপনার যে নাগরিক দায়িত্ব ও কর্তব্য রয়েছে এবং অধিকার রয়েছে সে সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ
বিষয় এ ইউটিউব চ্যানেলের মাধ্যমে আমরা পরিবেশন করার জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আমাদের
মূল ফোকাস থাকবে নারী, যুব সম্প্রদায়, প্রতিবন্ধী, এবং সমাজের পিছে পড়া জনগণকে আমাদের
এই মূলধারার সঙ্গে সম্পৃক্ত করা। যেন তাদের আমরা আমাদের এই নির্বাচন সংক্রান্ত বিষয়ে
সম্পৃক্ত করতে পারি এবং তারা যেন সচেতনভাবে দেশের গণতন্ত্রায়নে অংশ নিতে পারে, সে সুযোগ
আমরা সৃষ্টি করতে চাই।
সিইসি বলেন, সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য,
গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের জন্য নির্বাচন ব্যবস্থার প্রতি আস্থা এবং নির্বাচন ব্যবস্থার
স্বচ্ছতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমরা আমাদের প্রত্যাবলী বিস্তারিতভাবে, সুন্দরভাবে,
গ্রহণযোগ্যভাবে জনগণের সামনে উপস্থাপন করতে চাই, উন্মোচিত করতে চাই, যেন মানুষের আস্থা
এবং আমাদের যে স্বচ্ছতা, তা আরও সুদৃঢ় হয়। ইদানীং একটি বড় চ্যালেঞ্জ দেখা দিয়েছে।
সেই চ্যালেঞ্জ হলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই)
অপব্যবহার সংক্রান্ত চ্যালেঞ্জ। মিথ্যা ভিডিও, বানোয়াট তথ্য নিয়ে ভিডিও, অপতথ্য
নিয়ে ভিডিও এগুলো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। আমার আবেদন থাকবে,
যেকোনো তথ্য বিশ্বাস করার আগে আপনারা দয়া করে যাচাই করে নেবেন। যদি শেয়ার করেন, আগে
যাচাই করে নেবেন। আগে যাচাই করে তারপর আপনারা বিশ্বাস স্থাপন করবেন।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির
উদ্দিন বলেন, আমি আশা করব আপনারা আমাদের এই ভিডিওটা নিয়মিত দেখবেন। সাবস্ক্রাইব করুন।
নিয়মিত একটু দেখবেন এবং নিজের সঠিক তথ্য সম্পর্কে অবহিত হবেন এবং অন্যদের সঙ্গে এটি
শেয়ার করবেন। আসুন আমরা সবাই মিলে এই অপতথ্য মোকাবিলা একসঙ্গে শুরু করি। এই অপতথ্যের
বিরুদ্ধে একটা লড়াই শুরু করি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপতথ্য ছড়ানোর যে প্রয়াস, এর
বিরুদ্ধে আমরা ইলেকশন কমিশনের পক্ষ থেকে আপনাদের আহ্বান জানাই, মিলে মিশে এর মোকাবিলা
করি এবং সঠিক তথ্য জাতির সামনে উপস্থাপনে আমরা সবাই মিলে সহযোগিতা, সহায়তা করি এবং
সঠিক তথ্য এবং প্রতিটি কণ্ঠস্বর, প্রতিটি ভোট যে গুরুত্বপূর্ণ, বিষয়টা আমরা প্রতিষ্ঠিত
করতে চাই।
মন্তব্য করুন