

বগুড়ার ধুনট উপজেলায় মব তৈরি করে তিন পুলিশ সদস্যকে লাঞ্ছিত করার অভিযোগে দুই ব্যবসায়ীকে আটক করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। সোমবার গভীর রাতে অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়। মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) বিষয়টি নিশ্চিত করেন জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আতোয়ার রহমান।
আটক ব্যক্তিরা হলেন মাটিকোড়া গ্রামের বাসিন্দা মুরগি ব্যবসায়ী মাসুদ রানা (২৫) ও শাহিনুর জামান গোলাপ (৪৫)।
পুলিশের ভাষ্যমতে, সোমবার ধুনট থানাধীন হুকুম আলী বাসস্ট্যান্ড এলাকায় ট্রাফিক চেকপোস্ট বসিয়ে দায়িত্ব পালন করছিলেন টিএসআই আবুল কালাম আজাদ। এ সময় দুটি মোটরসাইকেল থামিয়ে কাগজপত্র পরীক্ষা করা হয়। একটি মোটরসাইকেলের কাগজ ঠিক না থাকায় মোটরযান আইনে মামলা দেওয়া হয়। অন্য মোটরসাইকেলের কাগজপত্র বৈধ থাকায় কনস্টেবল আব্দুল খালেক টিএসআইকে অবহিত করে সেটি ছেড়ে দেন।
এ সময় ঘটনাস্থলে থাকা মাসুদ রানা ও শাহিনুর জামান গোলাপ অভিযোগ করেন, কনস্টেবল ঘুষের বিনিময়ে মোটরসাইকেলটি ছেড়ে দিয়েছেন। অভিযোগকে কেন্দ্র করে তাঁরা আশপাশের লোকজনকে জড়ো করে উত্তেজনা সৃষ্টি করেন। একপর্যায়ে পুলিশের কাজে বাধা দেওয়া হয় এবং হামলার মাধ্যমে তিন পুলিশ সদস্যকে হেনস্তা করা হয়।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ধুনট থানা থেকে অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহত পুলিশ সদস্যদের উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। আহত কনস্টেবল আব্দুল খালেক ও আব্দুল হামিদকে স্থানীয় হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।
এ ঘটনায় ধুনট থানার এসআই মোস্তাফিজার রহমান বাদী হয়ে গ্রেপ্তার দুইজনসহ অজ্ঞাত আরও ১৫ থেকে ২০ জনের বিরুদ্ধে সোমবার রাতে মামলা দায়ের করেন।
মন্তব্য করুন


২০২৫ সালের মধ্যে নির্বাচন করা সম্ভব
হবে বলে মন্তব্য করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক উপদেষ্টা ড. আসিফ
নজরুল।
নির্বাচন অনুষ্ঠানের সময় নিয়ে সেনাপ্রধান
জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান আভাস দেওয়ার পর এই প্রথম কোনো উপদেষ্টা বিষয়টি নিয়ে সরাসরি
মন্তব্য করলেন।
বৃহস্পতিবার (১৭ অক্টোবর) রাতে একটি
বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলের অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে এ মন্তব্য করেন আইন, বিচার ও সংসদ
বিষয়ক উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল।
আলোচনা অনুষ্ঠানে ড. আসিফ নজরুল ডিজিটাল
নিরাপত্তা আইন বাতিল হবে বলে জানান। এছাড়া আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে কোনো সাংবাদিকের
বিচার হবে এমন কথা আগে বলেননি বলে তিনি উল্লেখ করেন।
দ্রবমূল্যের ঊর্ধগতির জন্য জনগণের কাছে
ক্ষমা চেয়ে তিনি বলেন, তরকারির এত দাম যে, বিক্রি কমে গেছে। বন্যার কারণে ডিমের সাপ্লাই
কমে গেছে। গত সরকারের আমলে সব নিয়ন্ত্রণ হতো সিন্ডিকেটের মাধ্যমে।
মন্তব্য করুন


শুক্রবার সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ৭২ ঘণ্টার পূর্বাভাসে আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, শুক্রবার রংপুর, খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের দুই এক জায়গায় অস্থায়ী দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে।
এ ছাড়া দেশের অন্যত্র অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে। এ সময়ে সারা দেশে দিন এবং রাতের তাপমাত্রা ১ থেকে ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস বৃদ্ধি পেতে পারে।
তাছাড়া আগামী শনিবার সারা দেশে দিন এবং রাতের তাপমাত্রা ১ থেকে ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস বৃদ্ধি পেতে পারে।
সেই সঙ্গে আরো বলা হয়েছে, রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের দুই এক জায়গায় অস্থায়ী দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। এ সময়ে দেশের অন্যত্র আংশিক মেঘলা আকাশসহ আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে।
এতে আরো বলা হয়, রবিবার ঢাকা, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের দু’এক জায়গায় অস্থায়ী দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। এ ছাড়া দেশের অন্যত্র আংশিক মেঘলা আকাশসহ আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে।
এ দিন সারা দেশে দিনের তাপমাত্রা ১ থেকে ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস বৃদ্ধি পেতে পারে এবং রাতের তাপমাত্রা সামান্য বৃদ্ধি পেতে পারে।
পূর্বাভাসে আবহাওয়ার সিনপটিক অবস্থা সম্পর্কে বলা হয়েছে, পশ্চিমা লঘুচাপের বর্ধিতাংশ পশ্চিমবঙ্গ ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে এবং মৌসুমের স্বাভাবিক লঘুচাপ দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করছে।
মন্তব্য করুন


অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা হিসেবে
শপথ নিয়েছেন আরও চারজন। তাঁরা হলেন ড. ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ, আলী ইমাম মজুমদার, ড. মুহাম্মদ
ফাওজুল কবির খান ও লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী।
আজ শুক্রবার (১৬ আগস্ট) বিকেল ৪টার
দিকে বঙ্গভবনে তাঁদের শপথবাক্য পাঠ করান রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন।
শপথ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, অন্তর্বর্তী
সরকারের প্রধান উপদেষ্টা শান্তিতে নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূস। এ সময় আরও
উপস্থিত ছিলেন, কয়েকজন উপদেষ্টা, প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী, তিন বাহিনীর প্রধান,
বেসামরিক ও সামরিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। সব মিলিয়ে এখন পর্যন্ত অন্তর্বর্তী সরকারের
আকার প্রধান উপদেষ্টাসহ ২১ জনে দাঁড়িয়েছে।
মন্তব্য করুন


নেকবর হোসেন , কুমিল্লা প্রতিনিধি;
“গণমাধ্যমের অপসাংবাদিকতা প্রতিরোধ এবং বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশন” শীর্ষক সেমিনার ও কর্মশালা কুমিল্লায় অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বুধবার (০৪ মার্চ) কুমিল্লা সার্কিট হাউজের কনফারেন্স রুমে বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিল এ আয়োজন করে। এতে কুমিল্লা জেলার প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা অংশগ্রহণ করেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিল এর চেয়ারম্যান বিচারপতি এ কে এম আব্দুল হাকিম। তিনি কর্মশালার উদ্বোধন করেন।
কুমিল্লা জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মু. রেজা হাসান এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন কুমিল্লার পুলিশ সুপার আনিসুজ্জামান এবং অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোঃ সাইফুল ইসলাম। স্বাগত বক্তব্য দেন কুমিল্লার সিনিয়র জেলা তথ্য কর্মকর্তা মোঃ নূরুল ইসলাম।
প্রথম সেশনে আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিলের সচিব (উপসচিব) মোঃ আব্দুস সবুর। তার আলোচনার বিষয় ছিল—“বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রচারে প্রেস কাউন্সিল প্রণীত আচরণবিধি প্রতিপালনের গুরুত্ব।”
তিনি বলেন, সংবাদ পরিবেশনে নিরপেক্ষতা, তথ্য যাচাই ও নৈতিক মানদণ্ড অনুসরণ নিশ্চিত করতে হলে প্রেস কাউন্সিলের আচরণবিধি যথাযথভাবে মেনে চলতে হবে। এতে যেমন সাংবাদিকদের পেশাগত মর্যাদা অক্ষুণ্ণ থাকবে, তেমনি পাঠক-দর্শকের আস্থাও বৃদ্ধি পাবে।
দ্বিতীয় সেশনে প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন বিচারপতি এ কে এম আব্দুল হাকিম। তার আলোচনার বিষয় ছিল—“গণমাধ্যমকর্মীদের আইনগত অধিকার ও দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা চর্চায় গণমাধ্যমকর্মীদের করণীয়।”
তিনি বলেন, সাংবাদিকদের যেমন তথ্য সংগ্রহ ও প্রকাশের অধিকার রয়েছে, তেমনি দায়িত্বও রয়েছে সত্য, নির্ভুল ও ভারসাম্যপূর্ণ সংবাদ পরিবেশনের। দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা গণতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি উল্লেখ করে তিনি অপপ্রচার, বিভ্রান্তিকর তথ্য ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত সংবাদ পরিবেশন থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান।
প্রধান অতিথির বক্তব্যের পর সাংবাদিকদের অংশগ্রহণে প্রশ্নোত্তর পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। এতে অংশগ্রহণকারীরা গণমাধ্যম সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন আইন, নীতিমালা ও বাস্তব সমস্যাবলি নিয়ে মতামত ও প্রশ্ন তুলে ধরেন। প্রধান অতিথি ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এসব প্রশ্নের উত্তর দেন।
মন্তব্য করুন


ভারতের
তামিলনাড়ুর শিবগঙ্গা বিভাগের কুম্মানগুদিতে দুটি সরকারি বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে ১১
জন নিহত হয়েছেন। এছাড়া আহত হয়েছেন আরও ৬০ জন।
আজ
রোববার (৩০ নভেম্বর) সন্ধ্যায় এ ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছে পুলিশ। খবর এনডিটিভির।
তামিলনাড়ুর
পুলিশ প্রধান বলেছেন, দুটি সরকারি বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে এক শিশুসহ ১১ জন নিহত হয়েছেন।
দুর্ঘটনার পর বাস দুটির সামনে দুমড়ে মুচড়ে যায়। আশপাশের মানুষ তাৎক্ষণিকভাবে সেখানে
ছুটে যান। পরে পুলিশও সেখানে উপস্থিত হয়। সাধারণ মানুষ এবং পুলিশ বাসের ভেতর থেকে অনেক
মানুষকে উদ্ধার করে।
এনডিটিভির
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, একটি বাস তিরুপ্পুর থেকে কারাইকুদিতে যাচ্ছিল। অপরটি কারাইকুদি
থেকে দিনদিগুলে যাচ্ছিল। ছবিতে দেখা গেছে একটি বাসের চালকের আসনের পাশের অংশ পুরোপুরি
নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে। দুর্ঘটনাস্থলের ভিডিও ছিল বেশ ভয়াবহ। এতে দেখা গেছে, নিহতদের সাড়িবদ্ধ
করে শুইয়ে রাখা হয়েছে। আহতদের শরীর থেকে রক্ত ঝরছে। অনেকে বাসের ভেতরে আটকে আছেন।
গত
সপ্তাহেও তামিলনাড়ুতে দুই বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে ছয়জন মারা যায়। ওই ঘটনার রেশ কাটতে
না কাটতেই আরও ১১ জনের মৃত্যু হলো।
মন্তব্য করুন


মজিবুর রহমান পাবেল,কুমিল্লা:
১৯৭১ সালের ১৮ অক্টোবর কুমিল্লা জেলার ব্রাহ্মণপাড়া থানায় দেউশ মন্দভাগ বাজারে মুক্তিযোদ্ধারা পাকিস্তানী বাহিনীর বিরুদ্ধে একটি যুদ্ধে ব্যাপক সাফল্য অর্জন করে।
১৯৭১ সালের ১৪ অক্টোবর সালদা নদীতে প্রথম আক্রমণের পর ৪ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের ‘সি’ কোম্পানি কমান্ডার সুবেদার ওহাবের ৭ নং প্লাটুনকে দেউশ-মন্দভাগ এলাকায় প্রতিরক্ষা অবস্থান নিতে নির্দেশ দেন। এলাকাটি দক্ষিণ-পশ্চিমে চান্দলা খাল ও দক্ষিণ-পূর্বে সালদা নদী ঘিরে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ছিল। সুবেদার ওহাবের নেতৃত্বে প্রায় ৬০ জন মুক্তিযোদ্ধা, ২টি এমজি, ৭-৮টি এলএমজি এবং ৬০ মি.মি. মর্টারসহ দৃঢ় প্রতিরক্ষা অবস্থান গ্রহণ করেন।
শত্রুপক্ষ ৩৩ বালুচ রেজিমেন্টের একটি কোম্পানি ১৭ অক্টোবর রাতে সালদা নদী পথে অগ্রসর হয়। ১৮ অক্টোবর ভোরে চান্দলা খালে মাছ ধরায় নিয়োজিত আবু মিঞা প্রথমে শত্রুর নৌবহরের শব্দ শুনে মুক্তিযোদ্ধাদের সতর্ক করেন। কিছুক্ষণের মধ্যেই শত্রুর প্রথম নৌকাটি প্রতিরক্ষা অঞ্চলে প্রবেশ করলে নায়েক আতাউর রহমান গুলি চালিয়ে আক্রমণ শুরু করেন। মুহূর্তেই মুক্তিবাহিনীর সব পোস্ট সক্রিয় হয় এবং সুবেদার ওহাব নিজে এমজি পজিশনে থেকে ফায়ার নিয়ন্ত্রণ করেন। ভয়াবহ গুলিবর্ষণে পাকিস্তানি সেনাদের ৭-৮টি নৌকা ধ্বংস হয়, বহু সেনা নিহত ও আহত হয়। ভোরের আলো ফোটার পর সুবেদার ওহাব ও তাঁর সহযোদ্ধারা লে. সীমাসহ প্রায় ১৫-২০টি মৃতদেহ উদ্ধার করেন। নিহত এক হাবিলদারের পকেট থেকে উদ্ধারকৃত চিঠিতে লেখা ছিল- “এখানে মুক্তিবাহিনী নামক বাহিনী আচমকা এসে আক্রমণ করে পালিয়ে যায়, এদের দেখা যায় না।”
এই চিঠি মুক্তিবাহিনীর গেরিলা কৌশলের সার্থকতা প্রকাশ করে।
আহতদের মধ্যে হাবিলদার আকরাম নামের এক সৈনিক জানায়, তাদের নৌকায় মেজর আফ্রিদি ছিলেন যিনি গুলিবিদ্ধ হয়ে নিখোঁজ হন। সুবেদার ওহাব আহত আকরামকে হত্যা না করে চিকিৎসার জন্য ক্যাম্পে পাঠান—যা মুক্তিবাহিনীর মানবিক আচরণের উদাহরণ।
অতঃপর সকাল ৯টার দিকে পাকিস্তানি বাহিনী পশ্চিম ও দক্ষিণ দিক থেকে প্রতিআক্রমণ শুরু করে। সুবেদার ওহাবের এমজি ও এলএমজি পোস্ট থেকে গুলি ও মর্টার বর্ষণে শত্রু ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়ে পিছু হটে যায়। এরপর শুরু হয় আধাঘণ্টারও বেশি সময় ধরে আর্টিলারি গোলাবর্ষণ, যা অধিকাংশই খাল ও বিলের পানিতে গিয়ে পড়ে। মুক্তিযোদ্ধাদের কেউ হতাহত না হলেও তাদের দৃঢ় অবস্থান শত্রুকে হতাশ করে।
দুপুরে শত্রু ৪টি হেলিকপ্টার নিয়ে আকাশ থেকে গুলি বর্ষণ করে। এই হামলায় কয়েকজন বেসামরিক নাগরিক হতাহত হলেও মুক্তিযোদ্ধারা অক্ষত থাকে। যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকলেও সুবেদার ওহাব পরে হেডকোয়ার্টারের সঙ্গে যোগাযোগ পুনঃস্থাপন করে যুদ্ধের পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন পাঠান।
এই অভিযানে পাকিস্তানি বাহিনীর প্রায় ৫০-৫২ জন নিহত ও ৫০-৫৫ জন আহত হয়, যার মধ্যে ২ জন অফিসারও ছিলেন। এটি ছিল মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে একক অভিযানে শত্রুপক্ষের সর্বাধিক হতাহতের অন্যতম নজির। পাকিস্তানি সেনারা পরবর্তীতে সুবেদার ওহাবকে জীবিত বা মৃত অবস্থায় ধরিয়ে দিলে ৫০,০০০ টাকা পুরস্কার ঘোষণা করে।
দেউশ-মন্দভাগ অভিযান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে এক উজ্জ্বল অধ্যায়—যেখানে সুবেদার ওহাবের নেতৃত্ব, মুক্তিযোদ্ধাদের কৌশল, সাহস ও আত্মত্যাগ প্রমাণ করেছিল যে আধুনিক অস্ত্র নয়, স্বাধীনতার অদম্য আকাঙ্ক্ষাই বিজয়ের মূল শক্তি।
মন্তব্য করুন


গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার বড় ডুমরাশুর এলাকায় সাভানা ইকোপার্ক অ্যান্ড রিসোর্টের প্রধান ফটকের সামনে বুধবার (১০ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় ছাত্রদল নেতা মিকাইল হোসেন হামলার শিকার হন। রাতেই তাকে গোপালগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
মিকাইলের বর্ণনা অনুযায়ী, বিকেলে তিনি সাতপাড় এলাকায় বিএনপির প্রার্থী কে এম বাবরের নির্বাচনী জনসভায় অংশ নেন। সেখান থেকে বিকেল ৫টার দিকে কয়েকজনসহ সাভানা পার্কে ঘুরতে যান। পার্কের ভেতরে মোটরসাইকেল নেওয়া নিয়ে এক স্টাফের সঙ্গে বাকবিতণ্ডা হয়। পরে পার্কের ম্যানেজার ঘটনাটি সমাধানের চেষ্টা করেন।
তার দাবি, সন্ধ্যা ৭টার দিকে পার্ক থেকে বের হওয়ার সময় হঠাৎ কয়েকজন অজ্ঞাত ব্যক্তি তাকে ঘিরে ফেলে এবং লাঠি ও ঘুষি–থাপ্পড় মেরে গুরুতর আহত করে। খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে তাকে হাসপাতালে নিয়ে যায়।
বৌলতলী পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের পরিদর্শক আফজাল হোসেন জানান, প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে—পার্কের এক স্টাফের সঙ্গে কথা-কাটাকাটির সময় মিকাইলের সঙ্গে থাকা একজন যুবক ওই স্টাফকে থাপ্পড় মারেন। এরপর মিকাইল পার্ক ছাড়ার সময় স্থানীয় কয়েকজন ও পার্কের স্টাফরা তার ওপর হামলা চালায়। তবে এখনো থানায় কোনো অভিযোগ দায়ের হয়নি।
মন্তব্য করুন


বন্যার্তদের সেবায় নিঃস্বার্থ পেশাগত দায়িত্ব এবং অনন্য মানবিকতার দৃষ্টান্ত উপস্থাপন করায় রোববার (৮ সেপ্টেম্বর ২০২৪), সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, লেফটেন্যান্ট মো: বায়েজিদ বোস্তামী ও ল্যান্স কর্পোরাল (গানার) কাজী সুজনের সাথে সেনাসদরে সাক্ষাৎ পূর্বক ভূয়সী প্রশংসা করেন। এ সময় সেনাবাহিনী প্রধান তাদের সাধুবাদ জানান এবং ভবিষ্যতের জন্য অনুপ্রাণিত করেন।
উল্লেখ্য, কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলায় বন্যার্তদের উদ্ধারে সেনাবাহিনীর নবীন অফিসার লেফটেন্যান্ট মোঃ বায়েজিদ বোস্তামী এক উদাহরণস্বরূপ অবদান রেখেছেন। গত ২২ আগস্ট ২০২৪ তারিখে কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলায় বন্যার্তদের উদ্ধারকার্যে নিয়োজিত হয়ে নিজ হাতে তিনি প্রায় ৩৫০ জন এর অধিক বন্যার্তদের উদ্ধার করেন। এদের মধ্যে ছিলেন শিশু, অসুস্থ ব্যক্তি, অন্তঃসত্ত্বা মহিলা,বয়োজ্যেষ্ঠ ব্যক্তি সহ অনেকেই।
এছাড়া ল্যান্স কর্পোরাল (গানার) কাজী সুজন ফটিকছড়ি উপজেলার পাইন্দং ইউনিয়নের ভুজপুর এলাকায় বন্যার্তদের উদ্ধারে এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। গত ২৩ আগস্ট ২০২৪ তারিখে ফটিকছড়ি উপজেলায় বন্যার্তদের উদ্ধারকার্যে নিয়োজিত হয়ে নিজ হাটুকে সিঁড়ি বানিয়ে অসুস্থ,গর্ভবতী মহিলাদের ট্রাকে উঠতে সহায়তা এবং বন্যা কবলিত এলাকায় অসহায় বন্যার্তদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন, চীফ অব জেনারেল স্টাফ, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী; জিওসি ২৪ পদাতিক ডিভিশন ও এরিয়া কমান্ডার চট্টগ্রাম এরিয়া, জিওসি ৩৩ পদাতিক ডিভিশন ও এরিয়া কমান্ডার কুমিল্লা এরিয়া এবং উক্ত সেনা সদস্যদের অধিনায়কগণ।
তরুণ সেনা সদস্যগণের মতোই দেশের জন্য নিবেদিত প্রাণ সেনাবাহিনীর প্রত্যেক সদস্য কাজ করে যাচ্ছে দেশবাসীর সেবায়। তারুণ্যের এই সহমর্মিতা ও মানবতাবোধ হোক ভবিষ্যৎ প্রজন্মের প্রেরণার উৎস।
মন্তব্য করুন


রাজশাহীতে
ট্রায়াল দেওয়ার নামে গ্যারেজ থেকে গাড়ি নিয়ে যুবদলের এক নেতা লাপাত্তা হয়ে গেছেন বলে
অভিযোগ উঠেছে। এ অভিযোগ তুলে রোববার দুপুর ১২টায় গ্যারেজ মালিক নূর আহমেদ রাজশাহী নগরের
একটি রেস্তোরাঁয় সংবাদ সম্মেলন করেছেন। এরপর বিকেলে যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটি এক সংবাদ
বিজ্ঞপ্তিতে এই নেতাকে বহিষ্কারের কথা জানিয়েছে।
অভিযুক্ত
নেতার নাম এসএম সফিক মাহমুদ তন্ময়। তিনি রাজশাহী মহানগর যুবদলের আহবায়ক কমিটির সদস্য
ছিলেন। এছাড়া দপ্তর সম্পাদকের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতাও ছিলেন। যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটির
সহদপ্তর সম্পাদক মিনহাজুল ইসলাম ভুইয়া স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দলীয় শৃঙ্খলা
পরিপন্থী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার সুস্পষ্ট অভিযোগে তন্ময়কে প্রাথমিক সদস্য পদসহ সকল
পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। যুবদলের সভাপতি আবদুল মোনায়েম মুন্না ও সাধারণ সম্পাদক
মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম নয়ন এ সিদ্ধান্ত কার্যকর করেছেন। এতে আরও বলা হয়, বহিষ্কৃত নেতার
কোন অপকর্মের দায়-দায়িত্ব দল নেবে না। তার সঙ্গে সাংগঠনিক সম্পর্ক না রাখার জন্য যুবদলের
সকল পর্যায়ের নেতাকর্মীকে নির্দেশনাও দেওয়া হয় এতে।
এর
আগে সংবাদ সম্মেলনে গ্যারেজ মালিক নূর আহমেদের ভাই মোহাম্মদ আলী অভিযোগ করেন, নগরের
বন্ধগেট এলাকায় তার ভাই নূর আহমদের একটি গাড়ির গ্যারেজ রয়েছে। সেখানে তিনি গাড়ি মেরামতের
কাজ করেন। পাশাপাশি পুরনো গাড়ি কেনাবেচার ব্যবসা করেন। গত ১৮ নভেম্বর বিকেলে গ্যারেজে
গাড়ি কেনার জন্য যান যুবদল নেতা তন্ময়। এ সময় তিনি গ্যারেজে থাকা একটি জিপ (ঢাকা মেট্রো
গ-০২-০৮৭০) পছন্দ করেন। ছয় লাখ টাকা দাম হয়। এরপর তন্ময় গাড়িটি ট্রায়াল দেওয়ার কথা
বলে নিয়ে যান। তারপর আর তিনি ফেরেননি। কয়েকদিন পর ফোন ধরলেও গাড়ি দিতে চাননি। মোহাম্মদ
আলী অভিযোগ করেন, তন্ময় বলেছিলেন যে তিনি যুবদল নেতা। তার কিছু করা যাবে না।
গ্যারেজ
মালিক নূর আহমেদ বলেন, ‘আমি গত ১৪ ডিসেম্বর মহানগরীর রাজপাড়া থানায় মামলা করতে যাই।
কিন্তু ওসি মামলা নেননি। আসামি প্রভাবশালী হবার কারণে আমাকে তিনি আদালতে মামলা করার
পরামর্শ দেন। পরে গত ২২ ডিসেম্বর আদালতে মামলা করি। বিষয়টি মহানগর বিএনপি এবং যুবদলের
শীর্ষ নেতাদের অবহিত করা হয়েছে। কিন্তু তারা কোনো ব্যবস্থা নেননি।’
নূর
আহমেদ দাবি করেন, শহরের লক্ষ্মীপুর এলাকার বাসিন্দা মো. মিজানুর রহমানের কাছ থেকে তিনি
গাড়িটি কিনে বিক্রির জন্য গ্যারেজে রেখেছিলেন। এ সংক্রান্ত চুক্তিনামা এবং বিআরটিএ’র
সমস্ত কাগজপত্রসহ প্রয়োজনীয় প্রমাণাদিও তার কাছে আছে। সেই গাড়ি তন্ময় নিয়ে গেছেন। অভিযোগের
বিষয়ে জানতে চাইলে সদ্য বহিষ্কৃত যুবদল নেতা তন্ময় বলেন, ‘গাড়িটা আমার কেনা। গ্যারেজ
থেকে ট্রায়াল দেওয়ার নামে গাড়ি আনার অভিযোগ একেবারেই সত্য নয়।’
গাড়ি কেনার এফিডেফিট আছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এটা এখনও করা হয়নি।’
দল
থেকে বহিষ্কারের বিষয়টি জেনেছেন জানিয়ে তন্ময় বলেন, ‘দল তো আমাকে শোকজও করেনি। হঠাৎ
এটা দেখছি। সমস্যা নাই। আমি সঠিক আছি। সবকিছুই প্রমাণ হয়ে যাবে।’
রাজশাহী
মহানগর যুবদলের ভারপ্রাপ্ত আহবায়ক শরিফুল ইসলাম জনি বলেন, ‘যারা অপকর্মের সঙ্গে যুক্ত
হবে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তন্ময়ের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ
সেটি জেনেছি। ইতোমধ্যে যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটি তাকে বহিষ্কার করেছে।’
মন্তব্য করুন


ফেনী জেলার পরশুরামে বন্যাকবলিত এলাকা পরিদর্শন করেছেন সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান।
শুক্রবার (২৩ আগস্ট) পরিদর্শনকালে কুমিল্লা সেনানিবাসে বন্যা পরিস্থিতি মোকাবেলায় সেনাবাহিনীর বিবিধ কার্যক্রম সম্পর্কে অবহিত হন সেনাপ্রধান। এরপর তিনি হেলিকপ্টার যোগে ফেনী জেলার পরশুরাম এবং সংলগ্ন এলাকায় বন্যা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন।
এ সময় তিনি উদ্ধারকার্যে নিয়োজিত সেনা সদস্যদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করেন। পরিদর্শনে সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ইঞ্জিনিয়ার-ইন-চিফ, জেনারেল অফিসার কমান্ডিং ৩৩ পদাতিক ডিভিশন ও এরিয়া কমান্ডার কুমিল্লা এরিয়াসহ সেনাসদরের ঊর্ধ্বতন সেনা কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, বন্যা পরিস্থিতি মোকাবেলায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ১৭, ২৪ ও ৩৩ পদাতিক ডিভিশনের সেনাসদস্যগণ যথাক্রমে সিলেট, চট্টগ্রাম ও কুমিল্লা এলাকায় বন্যা দুর্গতদের উদ্ধারে মোতায়েন রয়েছে। মোতায়েনরত সেনাসদস্যগণ নিরলসভাবে পানিবন্দী মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনা করছে। সেই সাথে বন্যার্তদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ ও চিকিৎসা সেবা প্রদান কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
সেনাবাহিনী প্রধান বন্যা পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত সেনাবাহিনীকে এই মানবিক কার্যক্রম অব্যাহত রাখার নির্দেশনা প্রদান করেছেন।
মন্তব্য করুন