

দেশের
১৮ জেলার ওপর দিয়ে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি
কিংবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। একই সঙ্গে সমুদ্রবন্দর
ও উপকূলীয় এলাকায় বিরাজমান মৌসুমি নিম্নচাপের প্রভাবে আগামী ৭২ ঘণ্টায় ভারী থেকে অতি
ভারী বৃষ্টিপাতেরও আশঙ্কা করা হয়েছে।
রোববার
(৫ জুলাই) দুপুরে অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোর জন্য জারি করা এক বিশেষ পূর্বাভাসে এ তথ্য
জানানো হয়।
পূর্বাভাসে
বলা হয়েছে, আজ দুপুর ৩টা থেকে রাত ১টা পর্যন্ত রাজশাহী, বগুড়া, পাবনা, ঢাকা, টাঙ্গাইল,
ময়মনসিংহ, ফরিদপুর, মাদারীপুর, যশোর, কুষ্টিয়া, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী,
কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার এবং সিলেট অঞ্চলের ওপর দিয়ে পশ্চিম অথবা উত্তর-পশ্চিম
দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে দমকা বা ঝড়ো হাওয়াসহ অস্থায়ীভাবে বৃষ্টি
অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে।
অন্যদিকে
পৃথক এক বিশেষ আবহাওয়া বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন
উত্তর উড়িষ্যা-পশ্চিমবঙ্গ উপকূলে অবস্থানরত সুস্পষ্ট লঘুচাপটি ঘনীভূত হয়ে মৌসুমি নিম্নচাপে
পরিণত হয়েছে। এর প্রভাবে দেশের ছয় বিভাগে আগামী ৭২ ঘণ্টায় কোথাও কোথাও ভারী থেকে অতি
ভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে।
আবহাওয়া
অধিদপ্তর জানিয়েছে, ভারী বৃষ্টির কারণে ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরীর কিছু এলাকায় অস্থায়ী
জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হতে পারে। পাশাপাশি চট্টগ্রাম বিভাগের পাহাড়ি এলাকায় ভূমিধসের ঝুঁকিও
রয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে
আরও বলা হয়, নিম্নচাপটি বর্তমানে পশ্চিম-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে আগামী ২৪ ঘণ্টার
মধ্যে উত্তর উড়িষ্যা উপকূল অতিক্রম করতে পারে। দুপুর ১২টায় এর কেন্দ্র চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর
থেকে ৫১০ কিলোমিটার পশ্চিম-দক্ষিণপশ্চিমে, কক্সবাজার থেকে ৫২০ কিলোমিটার পশ্চিমে, মোংলা
থেকে ২৮৫ কিলোমিটার পশ্চিম-দক্ষিণপশ্চিমে এবং পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে ৩৪০ কিলোমিটার
পশ্চিম-দক্ষিণপশ্চিমে অবস্থান করছিল।
নিম্নচাপ
কেন্দ্রের ৪৪ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ৪০ কিলোমিটার, যা দমকা
বা ঝড়ো হাওয়ার আকারে ৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। এ কারণে ওই এলাকায় সাগর উত্তাল
রয়েছে।
পরিস্থিতি
বিবেচনায় চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কসংকেত
দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত সব মাছ ধরার নৌকা ও
ট্রলারকে নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে এবং পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সেখানেই অবস্থান
করতে নির্দেশ দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
মন্তব্য করুন