

এমদাদুল হক সোহাগ, কুমিল্লা:
শীত শেষ হলেও সমস্যা কাটেনি লাইন গ্যাসের, মাসিক টাকা নিয়েও গ্যাস দিতে পারছেনা বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড।
গেলো এক যুগ ধরে শীত উঁকি দিলেই থাকেনি বাখরাবাদের গ্যাস, শীতের তীব্রতার সাথে বেড়েছে গ্যাস সঙ্কটও। এবছর এখন পর্যন্ত স্বাভাবিক হয়নি গ্যাস সরবরাহ। বাখরাবাদের দায়সারা এমন আচরণে ভূগান্তিতে পরেছেন গ্রাহকেরা। অস্থির বাজারমূল্যের সময় গ্যাস সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ায় জনজীবনে নেমে এসেছে দুর্ভোগ। বিশেষ করে ছোট বাচ্চা, বয়োবৃদ্ধ আছে এমন পরিবার, কর্মজীবী নারী, শ্রমিক ও অফিসগামী মানুষেরা বেশী ভূগান্তি পোহাচ্ছেন। আর্থিক স্বচ্ছলতা না থাকায় সিলিন্ডার গ্যাস ব্যবহারেরও সুযোগ নেই প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষের। অথচ মাস শেষে বাখরাবাদ ঠিকই তাদের বিল আদায় করছেন।
কুমিল্লা নগরীর রেইসকোর্স, পশ্চিম বাগিচাগাঁও, ঝাউতলা, পুলিশ লাইন, শুভপুর, চকবাজার এলাকা সহ বিভিন্ন এলাকায় গ্যাস সরবরাহ বিঘ্নিত হচ্ছে। বাখরাবাদের এমন অবহেলায় ফুঁসে উঠেছে গ্রাহক জনসাধারণ। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও ক্ষোভ করছেন অনেকে। বাখরাবাদ সংশ্লিষ্ট অধিকাংশ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সীমাহীন দুর্নীতি স্বেচ্ছাচারিতা অতীতেও বিভিন্ন মিডিয়াতে সংবাদ প্রকাশ হয়েছে। তাদের অঢেল সম্পদের সুষ্ঠু তদন্ত করে ইনকাম ট্যাক্স ও দুদকের মাধ্যমে বিচারের আওতায় আনারও দাবি করছেন ভুক্তভোগীরা।
এনজিও কর্মী তাহরিমা ইসলাম জানান, তাঁর বাসা কুমিল্লা শহরতলীর ধর্মপুর। সেখানে প্রতিদিনই গ্যাসের সমস্যা হচ্ছে। এ সমস্যায় তাদের প্রত্যাহিক জীবন বিঘ্নিত হচ্ছে। মো: আফতাব আমিন জানান, তাঁর শ্বশুর বাড়ি কুমিল্লা নগরীর শুভপুর এলাকায় সেখানে সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত গ্যাস থাকেনা। তারা অনেক কষ্টে জীবন যাপন করছেন।
কুমিল্লা প্রেস ক্লাবের সদস্য সিনিয়র সাংবাদিক এম ফিরোজ মিয়া জানান, কুমিল্লা নগরীর পদুয়ার বাজার বিশ্বরোড এলাকার ২২ নং ওয়ার্ডের প্রায় পাঁচটি মহল্লায় গ্যাস থাকেনা। সদর দক্ষিণ উপজেলার প্রায় ১৭ থেকে ১৮টি গ্রামে গ্যাস থাকেনা। প্রতিদিনই তাদের ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। সমাজকর্মী রাইসুল ইসলামে সোহাগ জানান, কুমিল্লা নগরীর ১৭ নং ওয়ার্ডের পাথুরিয়াপাড়া এলাকায় সকালে গ্যাস থাকেনা। পুরো শীত মৌসুমে এমন সমস্যা পোহাতে হয়েছে তাদের। শীত চলে গেছে অথচ রয়ে গেছে বাখরাবাদের গ্যাস সমস্যা।
ব্যবসায়ী মামুন আহম্মেদ জানান, কুমিল্লা নগরীর স্টেশনরোড এলাকার নিলয় সোসাইটিতে তাঁর বাসা। সেখানেও গ্যাসের সমস্যা করছে। নবাব ফয়জুন্নেছা ফাউন্ডেশনের সাধারণ সম্পাদক সামাজিক ও সাংস্কৃতিক নেতা আজাদ সরকার লিটন জানান, কুমিল্লা নগরীর ১৬নং ওয়ার্ডের সংরাইশ পশ্চিমপাড়া চেয়ারম্যান বাড়ি এলাকায় গ্যাসের তীব্র সঙ্কট রয়েছে। শীত মৌসুমে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত গ্যাস থাকতো না। বর্তমানে সকাল হলেই গ্যাসের দেখা মেলেনা, দুপুর দুইটা তিনটার পর গ্যাস পাওয়া যায়। বিএনপি নেতা আতাউর রহমান ছুটি জানান, চকবাজারের আংশিক, সংরাইশ, জগন্নাথপুর এলাকায় গ্যাস সঙ্কট রয়েছে। রোটারেক্টর টিআই সাদেক জানান ৬নং ওয়ার্ড এলাকায় গ্যাসের সমস্যা রয়েছে। সোহেল মিয়া নামের একজন জানান নগরীর পশ্চিম বাগিচাগাঁও এলাকায় সকালে গ্যাস থাকেনা।
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা শম্পা জানান, সদর উপজেলার বাজগড্ডা, জগন্নাথপুর এলাকাতে সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত গ্যাস থাকেনা। কলেজ শিক্ষিকা ফাহমিদা আক্তার জিনিয়া জানান, সকাল সকাল ঘুম থেকে উঠে রান্না করে সেই রান্না টিফিনে করে কলেজে নিয়ে যান এবং পরিবারের সদস্যদের জন্য রেখে যান। রান্নার মাঝে-ই গ্যাস চলে যায়। আমার বাসায় সিলিন্ডার গ্যাস নেই। কয়েক বছর ধরে সমস্যা দিন দিন বেড়েই চলছে। এটা কেমন কথা, দিনের পর দিন বিল নিচ্ছে কিন্তু গ্রাহক সেবা দিচ্ছেনা। দেশে কি এসব দেখার লোক নেই? নাগরিক অধিকার বলে কি কিছু নেই? আমাদের প্রত্যাহিক জীবন যাত্রা ব্যহত হচ্ছে। পারিবারিক অশান্তি হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের পাঠদানওে প্রভাব পড়ছে। যারা সম্পদশালী বা দুর্নীতিবাজ তাদের বাসায় সিলিন্ডার রাখতে পারে কিন্তু আমরাতো চাইলেই পারিনা। আমার দাবি দ্রুত গ্যাসের ব্যবস্থা করা হউক, না হয় গ্যাস বিল অর্ধেক নিতে হবে।
বাখরাবাদ গ্যাসের ইঞ্জনিয়ারিং সার্ভিস বিভাগের (কুমিল্লা রিজিওন) উপ-মহাব্যবস্থাপক প্রকৌশলী ছগীর আহমেদ এর কাছে গ্যাস সরবরাহ কবে নাগাদ স্বাভাবিক হবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এলএনজি আমদানি কম হওয়াতে এমনটি হচ্ছে। এটি জাতীয় সমস্যা। জাতীয় গ্রীড থেকেই আমরা চাহিদামত গ্যাস পাচ্ছিনা। কুমিল্লা, চাঁদপুর, লাকসাম, গৌরীপুর সহ আমার রিজওিনে গ্যাসের চাহিদা দৈনিক ৩৫ মিলিয়ন ঘনফুট অথচ আমরা পাচ্ছি ২২ থেকে ২৩ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস। কিছু এলাকায় লাইন ক্যাপাসিটির কারনেও গ্যাস সমস্যা করে বলে জানান তিনি। তিনি বলেন এলএনজি আমদানি কম হলে গ্যাসের চাপও কমে যায়, যার ফলে দূরবর্তী এলাকাগুলোতে গ্যাসের সমস্যা বেশি হয়।
জানতে চাইলে বাখরাবাদের মহাব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মর্তুজা রহমান খান জানান, আমরা গ্যাস ট্রান্সমিশন কোম্পানী লিমিটেড (জিটিসিএল) থেকে যে পরিমান গ্যাস পাই সেটাই বিতরণ করছি। সমস্যাটা আমাদের না জাতীয় সমস্যা। এর বাইরে আর কিছু বলতে পারবোনা।
এ
বিষয়ে জানতে বাখরাবাদের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো: আব্দুল মান্নান পাটওয়ারীর মুঠোফোনে
একাধিকবার কল করলেও তিনি রিসিভ না করায় বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।
মন্তব্য করুন


কুমিল্লায় অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পৃথক মামলায় তিতাস গ্যাসের পিয়ন (অফিস সহায়ক) জহিরুল ইসলামের ৩ স্ত্রীকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ডের পাশাপাশি প্রায় এক কোটি টাকা অর্থদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
গতকাল রোববার (৭ জুলাই) বিকেলে কুমিল্লার বিশেষ জজ আদালতের বিচারক বেগম শামসুন্নাহার ৩টি মামলায় জহিরুলের ৩ স্ত্রীর বিরুদ্ধে এ রায় দেন।
অবৈধ সম্পত্তি অর্জনের অভিযোগে ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের ঢাকার অফিস সহায়ক জহিরুল ইসলামের ৩ স্ত্রীকে এই সাজা দেওয়া হয়। তবে ৩ স্ত্রীর সাজা হলেও স্বামী জহিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় সকল মামলা থেকে খালাস দেওয়া হয় তাকে।
অফিস সহায়ক জহিরুল ইসলামের বাড়ি কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার আনন্দপুর গ্রামে। স্ত্রীদের সঙ্গে প্রতিটি মামলাতেই দ্বিতীয় আসামি হিসেবে নাম ছিল জহিরুলের। রায় ঘোষণার সময় জহিরুল ও তার ৩ স্ত্রী আদালতে উপস্থিত ছিলেন। পরে দণ্ডপ্রাপ্ত ৩ জনকে কারাগারে পাঠানো হয়।
এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন দুদক কুমিল্লা সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক ফজলুল হক।
দুদক কুমিল্লা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২১ সালের ৯ ফ্রেব্রুয়ারি দায়েরকৃত পৃথক ৩টি মামলায় সেলিনা আক্তার, আকলিমা আক্তার ও আসমা আক্তারের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়। অভিযোগ তদন্তপূর্বক মামলার বাদী ছিলেন, দুদক কুমিল্লা সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক আক্তারুজ্জামান।
দুদক কুমিল্লা সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক ফজলুল হক জানান, স্থাবর, অস্থাবর অবৈধ সম্পত্তি অর্জনের দায়ে তিতাস গ্যাসের ঢাকা অফিসের অফিস সহায়ক জহিরুল ইসলামের প্রথম স্ত্রী সেলিনা আক্তারকে ৩ বছরের কারাদণ্ড এবং ১২ লাখ ১২ হাজার ৩০০ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। দ্বিতীয় স্ত্রী আকলিমা আক্তারকে ৪ বছরের কারাদণ্ড এবং ৩৪ লাখ ৩ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। এ ছাড়া তৃতীয় স্ত্রী আছমা আক্তারকে ৫ বছরের কারাদণ্ড এবং ৫১ লাখ ৯৯ হাজার ৮০০ টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করেন আদালত। অর্থদণ্ডের টাকা রাষ্ট্রের কোষাগারে বাজেয়াপ্ত করার আদেশ দিয়েছেন আদালত।
মন্তব্য করুন


আজ রবিবার (৬ জুলাই) সকালে র্যাব-১১, সিপিসি-২
এর একটি বিশেষ আভিযানিক দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কুমিল্লা জেলার সদর দক্ষিণ মডেল
থানাধীন জীবন্তপুর (মিস্ত্রী পুকুরপাড়) এলাকায় মাদক বিরোধী অভিযান পরিচালনা করে নাজমুল
হাসান (৩৮) নামক একজন মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করেছে।
এ সময় আসামীর হেফাজত হতে ১০ কেজি গাঁজা ও মাদক পরিবহণ কাজে ব্যবহৃত একটি ইজিবাইক উদ্ধার করা হয়।
গ্রেফতারকৃত আসামী নাজমুল হাসান (৩৮) কুমিল্লা
জেলার সদর দক্ষিণ মডেল থানার দিশাবন্দ পশ্চিমপাড়া গ্রামের খোরশেদ আলম এর ছেলে।
র্যাব জানান, সে দীর্ঘদিন ধরে জব্দকৃত ইজিবাইক
ব্যবহার করে কুমিল্লার সীমান্তবর্তী এলাকা হতে মাদকদ্রব্য গাঁজা সংগ্রহ করে
কুমিল্লার বিভিন্ন স্থানে মাদক ব্যবসায়ী ও মাদক সেবীদের নিকট পাইকারি ও খুচরা
মূল্যে বিক্রয় করে আসছে। র্যাব-১১ এর মাদক বিরোধী ধারাবাহিক অভিযানের অংশ হিসেবে
উক্ত অভিযান পরিচালনা করা হয়। মাদকের মতো সামাজিক ব্যাধির বিরুদ্ধে র্যাব-১১ এর
অভিযান অব্যাহত থাকবে। গ্রেফতারকৃত আসামীর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ
প্রক্রিয়াধীন।
মন্তব্য করুন


মজিবুর রহমান পাবেল, প্রতিবেদক:
কুমিল্লার সীমান্ত এলাকা থেকে অর্ধকোটি টাকার অবৈধ ভারতীয় শাড়ি উদ্ধার করল কুমিল্লা ব্যাটালিয়ন (১০ বিজিবি)। কুমিল্লা ব্যাটালিয়ন ১০ বিজিবির অধিনায়ক কর্নেল মীর আলী এজাজ অবৈধ ভারতীয় শাড়ি আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
বিজিবি সূত্রে জানা যায়, কুমিল্লা ব্যাটালিয়ন (১০ বিজিবি) নিজস্ব দায়িত্বপূর্ণ সীমান্ত এলাকায় চোরাচালান প্রতিরোধসহ আন্তঃসীমান্ত অপরাধ দমনে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করে। আজ ১২ জানুয়ারি ভোর ৫টায় কুমিল্লা জেলার সদর দক্ষিণ উপজেলার আওতাধীন শিবের বাজার বিওপির টহল দল দায়িত্বপূর্ণ সীমান্ত এলাকায় মাদক ও চোরাচালানবিরোধী অভিযান পরিচালনা করে।
অভিযানে বাংলাদেশ সীমান্তের ৫০০ গজ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে বদরপুর নামক স্থানে বিজিবি টহল দল মালিকবিহীন অবস্থায় ০১টি অটোরিকশসহ বিপুল পরিমাণ অবৈধ ভারতীয় শাড়ি জব্দ করে, যার সর্বমোট দাম ৪৮ লাখ ৬০ হাজার টাকা।
কুমিল্লা ব্যাটালিয়ন ১০ বিজিবির অধিনায়ক কর্নেল মীর আলী এজাজ বলেন, জব্দকৃত মালামাল বিধি মোতাবেক কাস্টমসে জমা করা হবে। চোরাচালান বন্ধে আমাদের অভিযান চলমান থাকবে ।
মন্তব্য করুন


গত ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৪ তারিখ হতে যৌথ বাহিনীর নেতৃত্বে ৪/৫ আগস্ট ২০২৪ তারিখে কুমিল্লা জেলায় নিরীহ ছাত্র জনতার উপর আক্রমনকারী সন্ত্রাসীসহ সকল অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী আটক এবং অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার অভিযান চলমান রয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় ১৪ অক্টোবর ২০২৪ তারিখ ভোরবেলায় সন্ত্রাসী কর্মকান্ডে অভিযুক্ত ব্যক্তির অবস্থান সম্পর্কে প্রাপ্ত গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বি-পাড়া উপজেলার সবুজ পাড়া নামক এলাকায় সেনাবাহিনীর নেতৃত্বে যৌথ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
উক্ত অভিযানে অবৈধ অস্ত্র ব্যবহারকারী মৃত আবুল হোসেন এর ছেলে কামরুল (২৩) নামক ব্যক্তিকে নিজ বাড়ি হতে আটক করা হয় এবং তার কাছ থেকে ১ টি পিস্তল (চাইনিজ), ১ টি ম্যাগাজিন ও ১ টি পিস্তলের এ্যামোঃ উদ্ধার করা হয়। পরবর্তীতে গ্রেফতারকৃত ব্যক্তি ও উদ্ধারকৃত অস্ত্রসহ বি-পাড়া থানায় হস্তান্তর করা হয়।
উল্লেখ্য, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার, মাদক ব্যবসায়ী ও সন্ত্রাসীদেরকে আটক
না করা পর্যন্ত যৌথ বাহিনীর এ অভিযান অব্যাহত
থাকবে।
মন্তব্য করুন


কুমিল্লার দাউদকান্দিতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনে নিহত দুই কিশোরের লাশ উত্তোলন করেছে পুলিশ।
মামলার তদন্ত কাজের স্বার্থে আদালতের নির্দেশে গতকাল শনিবার (২৬ অক্টোবর) তাদের লাশ কবর থেকে তোলা করা হয়েছে।
তারা হলেন, দাউদকান্দির সুকিপুর গ্রামের মৃত আব্দুল হামিদের ছেলে মো. রিফাত (১৬)। রিফাত উপজেলার সুন্দলপুর হাই স্কুলের দশম শ্রেণির ছাত্র ছিলেন। অপরজন দিনমজুর মো.বাবু মিয়া (২৩)। বাবু মিয়া উপজেলার তুজারভাঙ্গা গ্রামের অটোরিকশা চালক আব্দুল মান্নানের ছেলে।
গত ৪ আগস্ট দাউদকান্দিতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় রিফাত বুকে গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হন। ওইদিন রাতেই মারা যান রিফাত। পরদিন রিফাতের মরদেহ ময়নাতদন্ত ছাড়াই দাফন করে তার পরিবার।
এ ঘটনার ১৪ দিন পর ১৮ আগস্ট রিফাত হোসেনের মামা পরিচয়ে আব্দুর রাজ্জাক ফকির বাদী হয়ে দাউদকান্দি মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। এরপর গত ১ সেপ্টেম্বর রিফাত হত্যার ঘটনায় কুমিল্লার আদালতে আরেকটি হত্যা মামলা করেন তার মা নিপা বেগম। মামলাটির তদন্ত করছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।
দুই মামলাতেই সাবেক সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার আব্দুস সবুর, উপজেলা চেয়ারম্যান মেজর (অব.) মোহাম্মদ আলী সুমন, পৌর মেয়র নাইম ইউসুফ সেইন-সহ ইউপি চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগের চার শতাধিক নেতাকর্মীকে আসামি করা হয়েছে।
অপরদিকে, গত ৫ আগস্ট বিকেলে দাউদকান্দি মডেল থানার সামনে দিনমজুর মো. বাবু মিয়া (২৩) গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান। ময়নাতদন্ত ছাড়াই তাকে দাফন করা হয়। নিহত দিনমজুর বাবুর প্রতিবেশী লিটন আহম্মেদ পাভেল বাদী হয়ে ৪৮ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত ১৫০ জনকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন।
ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন না থাকায় আদালতের নির্দেশে তাদের দুজনের লাশ উত্তোলন করা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।
তাদের লাশ উত্তোলনের সময় উপস্থিত ছিলেন, দাউদকান্দি উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) রেদওয়ান ইসলাম ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা দাউদকান্দি মডেল থানার উপপরিদর্শক হারুনুর রশিদ।
দাউদকান্দি উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) রেদওয়ান ইসলাম জানান, আদালতের নির্দেশে আইনি কার্যক্রম পরিচালনার জন্য লাশ উত্তোলন করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের পর আবার লাশ স্বজনদের নিকট হস্তান্তর করা হবে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনের আলোকে পরবর্তী কার্যক্রম পরিচালিত হবে।
মন্তব্য করুন


নেকবর হোসেন , কুমিল্লা প্রতিনিধি;
কুমিলায় আলাউদ্দিন নামে এক ট্রাক চালককে হত্যা করে চল্লিশ লাখ টাকার চিনি ছিনতাই করে নিয়েছে সঙ্গবদ্ধ ছিনতাই কারীদের একটি দল। এ ঘটনায় জেলা পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামানের নির্দেশে জেলার ডিবির ওসি শামসুল আলম শাহ-র নেতৃত্বে ডিবি পুলিশের একটি দল ফেনী, নোয়াখালী ও চট্টগ্রামের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে ৫ ছিনতাই কারী কে গ্রেফতার করেছে।
সোমবার (০২ ফেব্রুয়ারি) রাতে জেলা ডিবি পুলিশের এক বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে। জেলা গোয়েন্দা শাখা ডিবির ওসি সামসুল আলম শাহ জানান, চট্টগ্রামের বন্দর এলাকা থেকে আকিজ কোম্পানির ৪০ লাখ টাকা মূল্যের ২৭ মেট্রিক টন চিনি (চট্ট- মেট্রো - শ-১১-০৬৫৫) ট্রাকে বোঝাই করে চালক আলাউদ্দিন (৩১) গত ১৫ জানুয়ারি গাজীপুরের উদ্দেশ্যে রওনা করেন। ১৭ জানুয়ারি খালি গাড়িসহ চালক আলাউদ্দিনের লাশ কুমিল্লার মনোহরঞ্জ থানার কুমিল্লা -নোয়াখালী আঞ্চলিক সড়কের বিপুলা সারের বড় কাছি এলাকা থেকে উদ্ধার করা হয়।হত্যাকাণ্ডের শিকার চালক আলাউদ্দিন ভোলা জেলার লালমোহন থানার রায়চাঁদ গ্রামের পলান মিয়ার ছেলে।
এ ঘটনায় গাড়ির মালিক নাজমুল হোসেন (২৯) বাদী হয়ে গত ১৯ জানুয়ারি মনোহরগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করেন।
কুমিল্লার পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামানের নির্দেশে থানা পুলিশের পাশাপাশি জেলা ডিবি পুলিশ ও মামলাটির তদন্ত কার্যক্রম শুরু করে। ডিবির ওসি শামসুল আলম শাহ-র পুলিশের একটি দল গত দুদিন ধরে ফেনী, নোয়াখালী ও চট্টগ্রামের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালায়। এসময় পুলিশ ছিনতাইকারি চক্রের পাঁচ সদস্যকে গ্রেফতার করে। পুলিশ ছিনতাইকারীদের লুন্ঠিত প্রতি বস্তায় ৫০ কেজি করে ৯৯ বস্তা চিনি উদ্ধার করে।
গ্রেফতারকৃত ছিনতাইকারী হচ্ছে - নোয়াখালীর সুধারাম থানার ধর্মপুর গ্রামের নূর হোসেন মুন্না (২৮), চট্টগ্রামের ভুজপুর থানার হারুয়ালছড়ি গ্রামের মিন্টু বড়ুয়া (৩৬),কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামের আল করা গ্রামের শাহাদাত হোসেন রকি (২৬), একই থানার বসন্তপুর গ্রামের মোহাম্মদ বাবলু (৩৯) ও ফেনীর সদর থানার ইজ্জতপুর গ্রামের আমিনুল ইসলাম (৫৫)। গ্রেফতারকৃতদেরকে সোমবার আদালতের মাধ্যমে জেলাজতে পাঠানো হয়েছে।
মন্তব্য করুন


কুমিল্লা নাঙ্গলকোটে আলাউদ্দিন (৫০) নামের সাবেক ইউপি সদস্যকে কুপিয়ে হত্যা করেছে সন্ত্রাসীরা।
আজ
রবিবার দুপুর ১টায় নাঙ্গলকোট উপজেলার বক্সগন্জ ইউনিয়নের শুভপুর এলাকায় এ হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটে।
নিহত আলাউদ্দিন (৫০) বক্সগন্জ ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান সুরুজ মিয়ার বড় সন্তান। নিহত আলাউদ্দিন বক্সগন্জ ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের সাবেক মেম্বার ছিলেন।
নিহতের ভাই নূর মোহাম্মদ জানান- আলাউদ্দিন নিজগ্রাম আলীয়ারা এলাকায় আপন জেঠাতো ভাই মৃত আবুল বাশারকে জানাযা দিয়ে অন্য এলাকায় যাওয়ার জন্য অজ্ঞাতনামা ব্যক্তির সিএনজিতে যাওয়ার পথিমধ্যে শুভপুর এলাকায় সিএনজি পৌঁছা মাত্রই বক্সগন্জ ইউনিয়ন যুবলীগ সভাপতি শেখ ফরিদের কর্মীরা আলীয়ারা গ্রামের সালেহ আহমেদ এর পুত্র নুরুউদ্দিন, দুলাল মিযার পুত্র রিয়াদ, জালাল আহমেদ এর পুত্র সজিব ও ইউনুসসহ অজ্ঞাত ১০/১২ জন আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীরা সাবেক ইউপি সদস্য আলাউদ্দিন (৫০) এর মাথায় ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে।
এদিকে নাঙ্গলকোট থানার অফিসার ইনচার্জ(ওসি) এ.কে.এম ফজলুল হক জানান- কাতার প্রবাসী সাবেক ইউপি সদস্য আলাউদ্দিনের সাথে অভিযুক্ত কিছু ব্যক্তির পূর্ব শত্রুতা ছিল। জমি সংক্রান্ত জেরে ইউপি সদস্যকে হত্যা করতে পারে বলে প্রাথমিক ধারণা করা যাচ্ছে। আসামীদের আইনের আওতায় আনতে গ্রেফতার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
লাশটি ময়না তদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।
মন্তব্য করুন


কুমিল্লার দেবীদ্বারে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে
গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত ছাব্বির হত্যা মামলার ৪৯ তম এজহারভূক্ত আসামী এলাহাবাদ ইউনিয়ন
এর সাবেক চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী
লীগের সভাপতি সিরাজুল ইসলাম সরকার (৬০) গ্রেফতার থানা পুলিশ।
শুক্রবার দিবাগত রাত ২ টায় দেবীদ্বার থানা পুলিশ গোপন
সংবাদের ভিত্তিতে মোহাম্মদপুরস্ত তার নিজ বাড়ী থেকে তাকে গ্রেফতার হয়। মে উপজেলার
মোহাম্মদপুর গ্রামের মৃত আব্দুল মালেক সরকারের পুত্র।
দেবীদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকতা শামসুদ্দিন মোহাম্মদ
ইলিয়াছ জানান, গোপন
সংবাদের ভিত্তিতে আওয়ামী লীগ নেতা ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মো. সিরাজুল ইসলাম
সরকারকে তার নিজ গ্রাম মোহাম্মদপুর থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সে ছাব্বির হত্যা
মামলার ৪৯ নং এজহার নামীয় আসামী।
গত বছরের ৫ আগষ্ট স্বৈরাচার হাসিনা সরকারের পতনের পর উল্লসিত জনতা দেবীদ্বার থানা
ঘেরাউকালে সাব্বির মাথায় গুলিবিদ্ধ হন। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১ মাস ৮ দিন
চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফেরার পরদিন ১৪ আগস্ট সকাল ৯ টায় সাব্বির মারা যায়। নিহত আমিনুল
ইসলাম ছাব্বির (১৭) দেবীদ্বার পৌর এলাকার মৃত আলমগীর হোসেনের পুত্র। সে
পার্শ্ববর্তী মরিচাকান্দা জিয়া স্মৃতি আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির
শিক্ষার্থী ছিল। লেখা পড়ার পাশাপাশি ছাব্বির ভ্যান চালিয়ে সংসার চালাতেন।
মন্তব্য করুন


কুমিল্লার কাবিলা বাজারে অভিযান চালিয়ে প্রায় তিন কোটি আট লাখ আট হাজার টাকার ভারতীয় অবৈধ আতশবাজি আটক করেছে কুমিল্লা ব্যাটালিয়ন (১০ বিজিবি)।
আজ
শুক্রবার (১৪ মার্চ) দুপুর আড়াইটায় এই তথ্য নিশ্চিত করেন কুমিল্লা ব্যাটালিয়ন (১০ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এ এম জাহিদ পারভেজ।
বিজিবি সূত্র জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ১৩ মার্চ রাত থেকে ১৪ মার্চ ভোর ৫টা পর্যন্ত কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কাবিলা বাজার এলাকায় বিশেষ অভিযান চালানো হয়। কুমিল্লা জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার (ভূমি) রতন কুমার দত্ত-এর উপস্থিতিতে বিজিবি ও র্যাব সদস্যদের সমন্বয়ে গঠিত বিশেষ টাস্কফোর্স এ অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে মালিকবিহীন অবস্থায় ১৪ লাখ ১৫ হাজার ৪০০টি ভারতীয় অবৈধ আতশবাজি এবং একটি ট্রাক জব্দ করা হয়, যার আনুমানিক মূল্য প্রায় তিন কোটি আট লাখ আট হাজার টাকা।
বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এ এম জাহিদ পারভেজ জানান, সীমান্ত এলাকায় চোরাচালান প্রতিরোধসহ আন্তঃসীমান্ত অপরাধ দমনে নিয়মিত অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে কুমিল্লা ব্যাটালিয়ন (১০ বিজিবি)। এরই অংশ হিসেবে মাদক ও চোরাচালান বিরোধী বিশেষ অভিযানে এসব অবৈধ মালামাল জব্দ করা হয়েছে। জব্দকৃত পণ্য বিধি মোতাবেক কাস্টমসে জমা দেওয়া হবে।
মন্তব্য করুন


মজিবুর
রহমান পাবেল,
প্রতিবেদক:
মন্তব্য করুন