

পিরোজপুরের
জিয়ানগর উপজেলায় গৃহবধূর পরকীয়া দেখে ফেলায় নমিতা রানী নামে এক বৃদ্ধাকে হত্যা মামলার
প্রধান আসামি কামাল পঞ্চায়েত (৫৫) নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে র্যাব-৮।
রোববার
(১৪ জুন) রাত ৮টার দিকে জেলার ভাণ্ডারিয়া পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ছোটকানুয়া এলাকার
জামাল কাজীর বাড়িতে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারকৃত
কামাল পঞ্চায়েত জিয়ানগর উপজেলার দক্ষিণ চণ্ডীপুর গ্রামের মৃত আবু পঞ্চায়েতের ছেলে।
র্যাব
সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারির মধ্যে থাকা কামাল পঞ্চায়েত
গ্রেফতার এড়াতে বিভিন্ন স্থানে আত্মগোপন করে আসছিলেন। গতকাল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে
র্যাব-৮ এর সদস্যরা ভাণ্ডারিয়া পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ছোটকানু এলাকায় অভিযান পরিচালনা
করেন এবং তার অবস্থান নিশ্চিত হওয়ার পর অভিযান চালিয়ে সেখানে আত্মগোপনে থাকা নমিতা
রানী হত্যা মামলার প্রধান আসামি কামাল পঞ্চায়েতকে গ্রেফতার করা হয়।
জিয়ানগর
থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মোহব্বত খান বলেন, ‘রাত ৯টার দিকে ভান্ডারিয়া
উপজেলা থেকে হত্যা মামলার প্রধান আসামি কামালকে র্যাব-৮ সদস্যরা গ্রেফতার করেছেন।
পরে আসামিকে আমাদের কাছে হস্তান্তর করেছে। বর্তমানে আসামি কামালকে হত্যার বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ
চলছে। পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।’
এর
আগে গত (২৮ মে) জিয়ানগর উপজেলার চন্ডিপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ কলারন গ্রামের রাধেশ্যাম
চন্দ্র পালের স্ত্রী নমিতা রানী পালকে পুত্রবধূ বন্যা রানী পাল ও তার পরকীয়া প্রেমিক
কামাল পঞ্চায়েত শ্বাসরোধে হত্যা করে। এ ঘটনায় পরদিন ২৯ মে নিহতের স্বামী রাধেশ্যাম
চন্দ্র জিয়ানগরের ইন্দুরকানী থানায় বাদী হয়ে অভিযুক্ত পাঁচজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের
করে। এসময় ওই গৃহবধূ বন্যা রানী (৩২) ও তার মামা তাপস দেবনাথকে (৪৪) গ্রেফতার করে।
পরিবার
ও স্থানীয়দের অভিযোগ, বন্যা রানী ও কামাল পঞ্চায়েতের দীর্ঘদিনের পরকীয়া সম্পর্ক থাকায়
শাশুড়ি প্রায় সময় বাধা দিত। ঘটনার দিন অন্তরঙ্গ তাদের দেখে ফেলায় অভিযুক্তরা পরিকল্পিত
ভাবে এ হত্যাকাণ্ড ঘটায়।
এ
ঘটনায় স্থানীয় লোকজন ক্ষোভে ফেটে পড়েন এবং হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জড়িত সকালকে দ্রুত গ্রেফতার
করে সর্বোচ্চ বিচার দাবি জানিয়েছেন।
মন্তব্য করুন


খুলনার
কয়রায় মহারাজপুরে আম খাওয়ার পর ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায়
একই পরিবারের আরও ৪ জন সদস্য অসুস্থ অবস্থায় কয়রা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ভর্তি
হয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
মৃত
নারীর নাম লতিকা সানা (৫৫)। এছাড়া অসুস্থরা হলেন, একই পরিবারের তুলসি সানা (৪২), ইন্দ্রজিৎ
সানা (১৪), বিবেকানন্দ সানা (৬০) ও প্রকাশ সানা (৫১)। তারা সবাই মঠবাড়ি গ্রামের বাসিন্দা।
এলাকাবাসী
ও পরিবারের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত ৯ জুন রাতে পরিবারের ৫ সদস্য হায়াতখালী বাজার
থেকে কেনা আম খেয়ে ঘুমিয়ে পড়েন। পরদিন ভোর থেকে পেটের সমস্যায় ভুগতে শুরু করেন তারা।
একপর্যায়ে অবস্থার অবনতি হলে ১০ জুন বিকেলে কয়রা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি
করা হয়।
মৃত
লতিকা সানার পরিবারের নিকট আত্মীয় নিতিশ সানা বলেন, রাতে আম খাওয়ার পর পরিবারের সদস্যরা
স্বাভাবিকভাবেই ঘুমিয়ে পড়েছিলেন। ভোর থেকে তাদের পেট খারাপ হয়। তবে হাসপাতালে নিয়ে
যাওয়ার আগেই ওই নারীর মৃত্যু হয়।
কয়রা
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. সুজিত কুমার বৈদ্য জানান,
ডায়রিয়ায় আক্রান্ত ৫ জনকে বুধবার বিকেলে হাসপাতালে আনা হলে একজনকে মৃত অবস্থায় পাওয়া
যায়। বাকি ৪ জনকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তাদের অবস্থা আশঙ্কামুক্ত।
তিনি
আরও বলেন, আমে মাত্রাতিরিক্ত রাসায়নিক পদার্থ ব্যবহার করা হতে পারে। অথবা বাড়িতে সংরক্ষণের
পর কোনোভাবে বিষাক্ত পদার্থের সংস্পর্শে আসতে পারে, যা খেয়ে তারা ডায়রিয়ায় আক্রান্ত
হয়েছেন।
মন্তব্য করুন


প্রধান নির্বাচন কমিশনার বলেন, জাতির প্রত্যাশা অনেক বেড়ে গেছে। তবে সবাই এক বিষয়ে একমত, সেটি হলো গ্রহনযোগ্য নির্বাচন।
আর ঐক্যমত কমিশন যদি সব দলের থেকে সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে আচরনবিধি পালনের বিষয়ে লিখিত নেয়, তাহলে ইসির কাজ সহজ হবে।
রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর এখন আলোচনায় নির্বাচন। আসন্ন নির্বাচনকে একটি চ্যলেঞ্জ হিসেবে দেখছে নির্বাচন কমিশন।
মানুষের মনে ভোট দেওয়ার আগ্রহ তৈরি হয়েছে উল্লেখ করে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন বলেছেন, সামনে আমাদের ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠার সুযোগ এসেছে, আমরা সেটি প্রতিষ্ঠা করবো।
এসময় নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ বলেছেন, দেশকে একটি স্বচ্ছ নির্বাচন উপহার দিতে চাই। এই নির্বাচনে কর্তৃপক্ষের কোনো প্রভাব দেখতে চাই না।
তিনি বলেন, আসন্ন নির্বাচনে হানাহানি দেখতে চাই না, রাতের সিলমারা দেখতে বা শুনতে চাই না। এছাড়াও কর্তৃপক্ষের প্রভাব দেখতেও চাই না। শুধুমাত্র একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন দেখতে চাই।
নির্বাচনে কোন অনিয়ম হলে দায় কমিশন এড়াতে পারে না উল্লেখ করে নির্বাচনার কমিশনার আনোয়ারুল ইসলাম সরকার বলেন,
জুলাই আগস্ট বীরদের রক্তের সাথে যেন বেইমানি না হয সেদিকে আমাদের খেয়াল রাখতে হবে। মনে রাখতে হবে, সেই প্রথম পরীক্ষায় হবে আগামী নির্বাচন।
রোববার (২ মার্চ) আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনের সামনে জাতীয় ভোটার দিবসের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি।
মন্তব্য করুন


স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়
এবং যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া বলেছেন, সরকারি কর্মকর্তাদের দুর্নীতির
বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করে কাজের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে
হবে।
বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে স্থানীয় সরকার
বিভাগের নভেম্বর মাসের সমন্বয় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্যে এ কথা বলেন তিনি।
স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব (রুটিন
দায়িত্ব) মো. নজরুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় স্থানীয় সরকার বিভাগের ঊর্ধ্বতন
কর্মকর্তাবৃন্দ ও বিভিন্ন দপ্তর ও সংস্থার প্রধানগণ উপস্থিত ছিলেন।
সভায় গত সমন্বয় সভার গৃহীত সিদ্ধান্তসমূহের
বাস্তবায়ন ও অগ্রগতি পর্যালোচনা, প্রকল্প মনিটরিং ও মূল্যায়ন কার্যক্রম, অভিযোগ নিষ্পত্তি,
ডি-নথির ব্যবহার বৃদ্ধি, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম, দপ্তর ও সংস্থা সম্পর্কিত বিষয়সহ
বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করা হয়।
আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেন, রাজনৈতিক
প্রভাব মুক্ত থেকে গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্খা বাস্তবায়নে নিরপেক্ষতার সঙ্গে কাজ করতে হবে।
আগের কার্যক্রমের ওপর ভিত্তি করে জেলা
পর্যায়ে পর্যালোচনার মাধ্যমে বঞ্চিত এলাকাগুলোকে অধিক গুরুত্ব দিয়ে বাজেট পুনর্বণ্টন
করার নির্দেশনা প্রদান করেন তিনি।
স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ
আরও বলেন, অতি শিগগিরই স্থানীয় সরকার বিভাগের আওতাধীন দপ্তর ও সংস্থাগুলোর গুরুত্বপূর্ণ
শূন্য পদে নিয়োগ কার্যক্রম শুরু হবে।
মন্তব্য করুন


অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১২ সেপ্টেম্বর) সকাল
সাড়ে ১১টা থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে এই বৈঠক চলে।
বৈঠকে অন্তর্বর্তী সরকারের গত এক মাসের
কর্মকাণ্ড পর্যালোচনা করা হয়। এ ছাড়াও আগামীতে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে করণীয় নিয়েও আলোচনা
করেন উপদেষ্টারা। বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়েছে
বলে জানা গেছে।
মন্তব্য করুন


ধর্ম-বর্ণ ও মতের পার্থক্য থাকলেও বাংলাদেশের সব মানুষ একই পরিবারের সদস্য বলে উল্লেখ করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
আজ বৃহস্পতিবার (৫ ডিসেম্বর) বিকেলে রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ও মুসলিমসহ বিভিন্ন ধর্মের নেতাদের সঙ্গে বৈঠকের সূচনা বক্তব্যে এ কথা বলেন তিনি।
অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের আগে বিমানবন্দরে দেওয়া নিজের একটি বক্তব্যের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে ড. ইউনূস বলেন, তখন বলেছিলাম আমরা একটা পরিবার। আমাদের নানামত, নানা ধর্ম থাকবে, নানা রীতিনীতি থাকবে কিন্তু আমরা সবাই একই পরিবারের সদস্য। এটাতে জোর দিয়েছিলাম। আমাদের শত পার্থক্য থাকা সত্ত্বেও আমরা পরস্পরের শত্রু নই। আমাদের জাতীয়তা, পরিচয়ের প্রশ্নে এক জায়গায় চলে আসি। আমরা বাংলাদেশি, এক পরিবারের সদস্য।
অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা বলেন, শপথ গ্রহণের পরে শুনতে আরম্ভ করলাম, সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতন হচ্ছে। তখন মনটা খারাপ হয়ে গেল। এর পরপরই ঢাকেশ্বরী মন্দিরে গেলাম। সেখানেও বললাম, আমরা একই পরিবারের সদস্য।
তিনি বলেন, সব দাবিদাওয়া বাদ দিলেও একটা দাবি পরিষ্কার আমাদের সকলের সমান অধিকার, বলার অধিকার, ধর্মের অধিকার, কাজকর্মের অধিকার। সেটা এসেছে সংবিধান থেকে। নাগরিক হিসেবে প্রাপ্য, রাষ্ট্রের দায়িত্ব সেটা নিশ্চিত করা।
অধ্যাপক ড. ইউনূস বলেন, শুনলাম এখনো সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা হচ্ছে।
তাই আমি সবাইকে নিয়ে বসলাম, এটা থেকে কীভাবে উদ্ধার করা যায়।
দুর্গাপূজার নিরাপত্তায় সরকারের উদ্যোগের কথা তুলে ধরে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, সেটা পুরো জাতীয় উৎসবে পরিণত হয়েছিল। তখন তৃপ্তি পেলাম, একটু তো কাজ করেছি।
ভুল তথ্যের বিষয়ে সবাইকে সজাগ ও সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, এখন আবার নতুন কথা, হামলা হচ্ছে, অত্যাচার শুরু হচ্ছে। বিদেশি গণমাধ্যম বলব না প্রচারমাধ্যমে প্রচারিত হচ্ছে, এটা হচ্ছে। আমি খোঁজ নিচ্ছি, কী হচ্ছে? সবদিকে দেখলাম এটা হচ্ছে না। এক খবরে বলা হচ্ছে, আরেক খবরে বলা হচ্ছে হচ্ছে না, তথ্যের মধ্যে ফারাক আছে। এটা ঠিক না। এটার অবসান হতে হবে।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, আমরা যে তথ্য পাচ্ছি তা ভুল হতে পারে। তথ্যের ওপর বসে থাকার কিছুই নাই, এটার অর্থ অন্ধের মতো বসে থাকা। ভেতরে গিয়ে দেখতে হবে। খোঁজ নিতে হবে তথ্যের গরমিল কেন? তাতে ওরা যা বলছে, তা কি মিথ্যা প্রচার? না আমরা যা বলছি তা মিথ্যা প্রচার। সত্যটা কোথায়।
তিনি বলেন, আমাদের লক্ষ্যের কোনো ফারাক নেই। সেখানে সঠিক তথ্য কীভাবে পাব, সেটা আমাদের জানার। প্রকৃত তথ্য, অনেক সময় সরকারি তথ্যের ওপর ভরসা করে লাভ নেই। কর্তা যা চায়, সেভাবে বলে। আসলটা মন খুলে বলতে চাই না। আমরা আসল খবরটা জানতে চাই। সেই প্রক্রিয়াটা প্রতিষ্ঠিত করতে চাই। এত বড় দেশে যেকোন ঘটনা ঘটতে পারে, কিন্তু প্রকৃত তথ্য জানতে চাই। তাৎক্ষণিক খবর পেলে যাতে সমাধান করা যায়। যেদিক থেকেই দোষী দোষীই। তাকে বিচারের আওতায় আনা সরকারের দায়িত্ব।
প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস বলেন, প্রথম কথাটা হলো না হওয়ার পরিবেশ সৃষ্টি করা। আর হয়ে গেলে তাৎক্ষণিক প্রতিকারের ব্যবস্থা করা। আমি যা বলছি, তা দেশের বেশির ভাগ মানুষ মনে করে। আমরা এক পরিবারের মানুষ হিসেবে সামগ্রিকভাবে দায়িত্ব পালন করতে পারি। সেখানে তথ্য ও প্রতিকার হলো বড় বিষয়।
তিনি বলেন, আমি পেলাম তথ্য কিন্তু প্রতিকার পেলাম না। সমস্যা হয়ে গেলে সমাধান করতে হবে। আজকের আলোচনা খোলাখুলি, আমরা সবাই আলোচনা করব। আমাদের লক্ষ্যে কোনো গোলমাল নেই। তথ্য প্রবাহ কীভাবে পাব, দোষীকে কীভাবে ধরব, যাতে সবাই সঠিক তথ্যটা পেয়ে যায়।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, এমন বাংলাদেশ আমরা গড়ে তুলতে চাই, যার নাম দিয়েছি নতুন বাংলাদেশ। এটা আমাদের করতে হবে। আপনাদের কথা বলে সন্তুষ্ট করে আজকের মতো বিদায় দিলাম তা নয়। এটা দ্রুত করতে হবে। ভবিষ্যতের দিকে তাকিয়ে দেখলে হবে না, আমাদের বর্তমানেই করতে যেতে হবে।
সংখ্যালঘু সমস্যার বিষয়ে অবাধ, সত্য তথ্য কীভাবে সংগ্রহ করা যায়, সে বিষয়ে ধর্মীয় নেতাদের পরামর্শ চান প্রধান উপদেষ্টা। তিনি বলেন, কীভাবে নিরাপদে সংগ্রহ করব, যে তথ্য দিচ্ছে সে যেন বিব্রত না করে তাও নিশ্চিত হতে হবে।
মন্তব্য করুন




টাঙ্গাইলের
কালিহাতী উপজেলার সল্লা এলাকায় সোমবার (৮ জুন) সকালে নীলসাগর এক্সপ্রেস ট্রেনে কাটা
পড়ে মুক্তা আক্তার (২৭) নামে এক গৃহবধূর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। তিনি কালিহাতী উপজেলার
সল্লা ইউনিয়নের মীরহামজানি গ্রামের সুজন মিয়ার স্ত্রী।
জানা
যায়, সোমবার সকালে সল্লা এলাকার একটি অরক্ষিত রেলক্রসিং পার হওয়ার সময় দ্রুতগতির নীলসাগর
এক্সপ্রেস ট্রেনের নিচে কাটা পড়ে ঘটনাস্থলেই মুক্তা আক্তারের মৃত্যু হয়।
স্থানীয়রা
জানান, ট্রেন আসার সময় ওই নারী অরক্ষিত রেলক্রসিং পার হচ্ছিলেন। এ সময় দ্রুতগতির ট্রেনের
ধাক্কায় ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়।
সল্লা
ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান শামীম প্রামাণিক বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, খবর পেয়ে তিনি
ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে পুলিশকে অবহিত করেন। পরে রেলওয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ
উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়।
মন্তব্য করুন


অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে শুভেচ্ছা জানিয়ে চিঠি দিয়েছেন জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস।
চিঠিতে অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে কাজ করাসহ বাংলাদেশের জনগণের স্বার্থে সমর্থন অব্যাহত রাখার ব্যাপারেও জাতিসংঘের অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন তিনি।
গত ৮ আগস্ট ড. ইউনূসকে প্রধান উপদেষ্টা করে গঠিত হয় অন্তর্বর্তী সরকার। ১৬ আগস্ট ড. ইউনূসকে চিঠি দিয়ে শুভেচ্ছা জানান জাতিসংঘ মহাসচিব।
চিঠিতে জাতিসংঘ মহাসচিব বলেন, বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের জন্য আপনাকে আমার পক্ষ থেকে জানাই শুভেচ্ছা। আমি বাংলাদেশে শান্তি ফিরিয়ে আনা ও জাতীয় সংসদ নির্বাচন আয়োজনের প্রচেষ্টাকে স্বাগত জানাই। এই ক্রান্তিকালে সহিংসতার অবসান ঘটাতে, জবাবদিহি নিশ্চিত করতে, আইনশৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে ও গণতান্ত্রিক নির্বাচনের পথে এগিয়ে যেতে আপনার নেতৃত্ব গুরুত্বপূর্ণ হবে। আমি আশা করি- আপনার সরকার একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক পন্থা অবলম্বন করবে, যার মধ্যে তরুণ ও নারীদের পাশাপাশি সংখ্যালঘু, ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর সম্প্রদায়ের কণ্ঠস্বর অন্তর্ভুক্ত করা হবে। আমি সব নাগরিক ও বিশেষ করে সংখ্যালঘুদের পূর্ণ সুরক্ষা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের ওপর আস্থা রাখছি। আমি আপনাকে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের কল্যাণ নিশ্চিত করার জোরালোভাবে অনুরোধ জানাচ্ছি, বিশেষ করে মিয়ানমারে অবনতিশীল পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে। বাংলাদেশ তার ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে। জাতিসংঘ একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও সমৃদ্ধ গণতন্ত্রের প্রতি বাংলাদেশের প্রচেষ্টাকে পূর্ণ সমর্থন করে। অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে কাজ করতে, বাংলাদেশের জনগণের স্বার্থে সমর্থনের হাত বাড়িয়ে দিতে জাতিসংঘ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
মন্তব্য করুন


আইনের শাসন নিশ্চিত করতে হলে নির্বাহী
বিভাগ থেকে বিচার বিভাগ আলাদা করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ
রেফাত আহমেদ।
আজ শনিবার (৩০ নভেম্বর) সকালে সুপ্রিম
কোর্ট বার আয়োজিত নবীন আইনজীবীদের কর্মশালায় এ কথা বলেন প্রধান বিচারপতি।
প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদ
বলেন, বিচারপতি অপসারণে সুপ্রিম জুডিসিয়াল কাউন্সিল গঠন হয়েছে; যা আগে পার্লামেন্টের
কাছে ছিল। বিচার বিভাগ আলাদা করার জন্য সরকারকে আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। প্রাতিষ্ঠানিক
স্বশাসন বিচার বিভাগের স্বাধীনতার অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ। নবীন আইনজীবীরা বিচারবিভাগের মর্যাদা
সমুন্নত রাখতে সচেষ্ট হতে হবে। সাম্প্রতিক আদালত অঙ্গনে ঘটে যাওয়া ঘটনায় আইনজীবীদের
আরও দায়বদ্ধ থেকে কাজ করতে হবে। সার্বিকভাবে বিচারবিভাগ বার ও বেঞ্চের সমন্বয়ে এগিয়ে
যাবে।
এ সময় চট্টগ্রামে আইনজীবী আলিফ হত্যার
ঘটনায় এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। পরে ৫ আগস্ট ঘিরে আন্দোলনে নিহত আহতদের নিয়ে বিশেষ
দোয়া হয়। উল্লেখ্য, আজকের কর্মশালায় চট্টগ্রামের আইনজীবী আলিফেরও থাকার কথা ছিলো।
এসময় আপিল বিভাগের জ্যেষ্ঠ বিচারপতি
জুবায়ের রহমান চৌধুরী, হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি ফারাহ মাহবুব। অ্যাটর্নি জেনারেল
মো. আসাদুজ্জামান , সুপ্রিম কোর্ট বারের সভাপতি মাহবুব উদ্দিন খোকন, জাতীয়তাবাদী আইনজীবী
ফোরামের সভাপতি অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন উপস্থিত ছিলেন। এ সময় সারা দেশ থেকে প্রায়
এক হাজার ৫০০ নবীন আইনজীবী যারা বারে নতুন সদস্য হয়েছেন তারা উপস্থিত ছিলেন।
মন্তব্য করুন


জন্মনিবন্ধনে মা হিসেবে যার নাম, সমাজে পরিচয়ও যার মেয়ে হিসেবে। কোলে-পিঠে করে বড় করেছেন, নাম লিখিয়েছেন নামি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে, দিয়েছেন নিজের পরিবারের পরিচয়। কিন্তু ১৫ বছর পর সেই নারীই জানালেন—‘সে আমার মেয়ে নয়’। এরপর শুরু হয় এক কিশোরীর পরিচয় বদলের প্রক্রিয়া। বদলে যায় জন্মনিবন্ধন, সংশোধন হয় শিক্ষাগত নথি, প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়ে তার অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ।
অনুসন্ধানে
জানা গেছে, রাজশাহীর আলোচিত এ ঘটনার পেছনে রয়েছে দত্তক গ্রহণ, পারিবারিক দ্বন্দ্ব,
উত্তরাধিকার সম্পত্তি এবং আইনি জটিলতার এক বিস্ময়কর গল্প, যার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে
ক্লাউডিয়া চৌধুরী পায়েল (১৮) নামের এক তরুণীর পরিচয়ের লড়াই।
২০০৮
সালে রাজশাহী সিটি করপোরেশনের ৮ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিল কার্যালয়ে একটি শিশুর জন্মনিবন্ধন
করা হয়। সেই নিবন্ধনে শিশুটির নাম লেখা হয় ক্লাউডিয়া চৌধুরী পায়েল। মা হিসেবে উল্লেখ
করা হয় রাজশাহীর প্রখ্যাত গাইনি বিশেষজ্ঞ ডা. শিপ্রা চৌধুরীর নাম এবং বাবা হিসেবে লেখা
হয় তার স্বামী ডা. ওবায়দুর রহমানের নাম।
এরপর
থেকে পায়েলের পরিচয় ছিল একেবারেই স্পষ্ট। তিনি ডা. শিপ্রা চৌধুরীর মেয়ে হিসেবেই পরিচিত
ছিলেন পরিবার, সমাজ এবং রাষ্ট্রের কাছে। রাজশাহীর স্বনামধন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা,
অভিজাত পরিবেশে বেড়ে ওঠা, চিকিৎসক মায়ের সঙ্গে দেশ-বিদেশ ভ্রমণ—
সব মিলিয়ে উচ্চবিত্ত পরিবারের সন্তানদের মতোই কেটেছে তার শৈশব ও কৈশোর।
কিন্তু
২০২২ সালের নভেম্বর মাসে এসে সেই পরিচয়ের ভিত্তিটাই যেন ভেঙে পড়ে। পারিবারিক বিভিন্ন
টানাপোড়েনের এক পর্যায়ে ডা. শিপ্রা চৌধুরীর আচরণে পরিবর্তন আসে বলে দাবি করেন পায়েল।
একসময় তাকে জানানো হয়, তিনি আসলে ডা. শিপ্রা চৌধুরীর গর্ভজাত সন্তান নন। বরং তিনি একজন
পালিত সন্তান। শুধু তাই নয়, তাকে আরও বলা হয়, তার প্রকৃত বাড়ি চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ
উপজেলায় এবং তার আসল বাবা একজন রাজমিস্ত্রি।
হঠাৎ
করেই এমন কথা শুনে নিজের অস্তিত্ব নিয়েই প্রশ্নের মুখে পড়েন পায়েল। তিনি জাগো নিউজকে
বলেন, ‘আমি ছোটবেলা থেকে উনাদের কাছেই বড় হয়েছি। পরিবারের সদস্য বলতে তারাই ছিল আমার
সবকিছু। বাবা আলাদা থাকতেন, ভাইও দেশের বাইরে ছিলেন। ফলে আমার জীবনের কেন্দ্রবিন্দু
ছিলেন মা। কিন্তু একসময় তার আচরণ বদলে যেতে থাকে। পরে তিনি আমাকে বলেন, আমি তার নিজের
মেয়ে নই, আমি পালিত সন্তান। কথাগুলো শুনে আমি সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছিলাম। কারণ এতদিন যে
পরিচয়ে বড় হয়েছি, সেটাই যদি সত্য না হয় তাহলে আমি আসলে কে?’
পায়েলের
দাবি, ‘মৌখিকভাবে সম্পর্ক অস্বীকার করার মধ্যেই বিষয়টি সীমাবদ্ধ থাকেনি। এরপর তার জন্মনিবন্ধনসহ
বিভিন্ন নথিপত্রে পরিবর্তন আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়। ২০২৩ সালে তার জন্মনিবন্ধনের তথ্য
সংশোধন করা হয়। পাশাপাশি একাডেমিক কাগজপত্রেও পরিবর্তন আনা হয়। এমনকি ২০১০ সালে নিজের
মেয়ে পরিচয়ে পায়েলের নামে যে জমি দান করা হয়েছিল, সেটি ফেরত চেয়েও মামলা করা হয়।
পায়েল
বলেন, ‘সবচেয়ে অবাক লাগে, যেসব নথি তারাই তৈরি করেছিলেন, সেগুলো কীভাবে পরিবর্তন করা
হলো আমি জানি না। আমার এনআইডি কার্ডে এক তথ্য, জন্মনিবন্ধনে আরেক তথ্য, শিক্ষাগত কাগজপত্রে
আবার ভিন্ন তথ্য। এসব কারণে বিভিন্ন জায়গায় সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। কলেজে ভর্তি হওয়ার
সময়ও জটিলতা তৈরি হয়েছিল। আমার পড়াশোনার এক বছর নষ্ট হয়ে গেছে। এখনো নানা জায়গায় পরিচয়
প্রমাণ করতে গিয়ে বিপাকে পড়ি।’
রাজশাহী
সিটি করপোরেশনের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সচিব আবুল কালাম আজাদ জানান, ২০২৩ সালের জানুয়ারির
দিকে ডা. শিপ্রা চৌধুরী তাদের অফিসে এসে দাবি করেন, ক্লাউডিয়া চৌধুরী পায়েল তার নিজের
সন্তান নন। তখন তারা জানতে চান, যদি সন্তান না হন তাহলে জন্মনিবন্ধনের সময় কেন মা হিসেবে
স্বাক্ষর করেছিলেন?
তিনি
বলেন, ‘আমরা তাকে বলেছিলাম, আপনি যদি এখন বলেন মেয়েটি আপনার সন্তান নয়, তাহলে আগে যে
তথ্য দিয়েছেন সেটি তো বিভ্রান্তিকর। বিষয়টি আমাদের কাছেও অস্বাভাবিক মনে হয়েছে।’
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ডা. শিপ্রা চৌধুরী সরাসরি কথা বলতে রাজি হননি।
তবে
তার পুত্রবধূ শাম্মী এ বিষয়ে কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘আবেগের বশে এবং কাউকে না জানিয়ে
শাশুড়ি পায়েলকে নিজের মেয়ে পরিচয়ে জন্মনিবন্ধন করিয়েছিলেন। পরে তিনি বুঝতে পারেন যে
এটি আইনি দৃষ্টিকোণ থেকে সঠিক হয়নি। দত্তক গ্রহণের কোনো আনুষ্ঠানিক কাগজপত্রও ছিল না।
জন্মনিবন্ধনে আমার শ্বশুরের নাম ব্যবহার করা হয়েছিল অথচ তিনি বিষয়টি জানতেন না। পরে
ভুল বুঝতে পেরে শাশুড়ি নথিপত্র সংশোধনের উদ্যোগ নেন।’
এদিকে
গোপন সূত্রে জানা যায়, ক্লাউডিয়া চৌধুরী পায়েল একটি ছেলেকে ভালোবাসেন। তবে সেই ছেলেকে
পছন্দ নয় ডা. শিপ্রা চৌধুরীর। এজন্যই তিনি পায়েলের আসল পরিচয় বলে দেন।
ঘটনার
আরেকটি নাটকীয় দিক সামনে আসে নতুন জন্মনিবন্ধনে যুক্ত হওয়া মা-বাবার বক্তব্যে। সংশোধিত
নিবন্ধনে পায়েলের বাবা-মা হিসেবে চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার বাবুল মিয়া ও টগরী
বেগমের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
তবে
টগরী বেগম দাবি করেন, পায়েল তাদের জৈবিক সন্তান নন।
তিনি
বলেন, ‘এটি সত্য নয়। এলাকার মানুষকে জিজ্ঞেস করলেই বিষয়টি জানতে পারবেন। আমাদের নাম
কীভাবে ব্যবহার করা হলো সেটিও প্রশ্নের বিষয়।’
অন্যদিকে
বাবুল মিয়ার বক্তব্য সম্পূর্ণ ভিন্ন। তিনি বলেন, ‘ছোটবেলায় ডা. শিপ্রা চৌধুরী আমার
মেয়েকে নিয়ে যান। তখন বলা হয়েছিল ভবিষ্যতে যেন আমার কোনো দাবি না থাকে। একটি কাগজে
স্বাক্ষরও নেওয়া হয়েছিল। বলা হয়েছিল মেয়েটি তাদের পরিচয়েই বড় হবে। এখন এত বছর পর কেন
তাকে অস্বীকার করা হচ্ছে, সেটি আমি বুঝতে পারছি না।’
স্থানীয়
বাসিন্দা আব্দুর রহমানও একই ধরনের তথ্য দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘আমরা জানি ছোটবেলায় ডা.
ম্যাডাম এসে বাচ্চাটি নিয়ে গিয়েছিলেন। তখন বাবুলের পরিবারকে বলা হয়েছিল, ভবিষ্যতে বাচ্চার
ওপর কোনো দাবি করা যাবে না। এমনকি দেখতে যেতেও নিরুৎসাহিত করা হয়েছিল। এখন হঠাৎ করে
পরিচয় অস্বীকার করার কারণ আমাদের কাছেও পরিষ্কার নয়।’
মোবারকপুর
ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাহমুদুল হক হায়দারী বলেন, আমাদের কাছ থেকে একটি প্রত্যয়নপত্র
নেওয়া হয়েছিল। সেটি পরে কী কাজে ব্যবহার করা হয়েছে আমরা নিশ্চিত নই। তবে শুনেছি ওই
নথির ভিত্তিতেই জন্মনিবন্ধনের তথ্য পরিবর্তন করা হয়েছে। আমার জানামতে শিশুটিকে অনেকটা
স্থায়ীভাবেই অন্য পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছিল।
আইনি
দৃষ্টিকোণ থেকে এ বিষয়টি ব্যাখ্যা করে রাজশাহীর সিনিয়র আইনজীবী অ্যাডভোকেট জমসেদ আলী
বলেন, ‘যদি প্রমাণিত হয় পায়েল ডা. শিপ্রা চৌধুরীর ঔরসজাত সন্তান নন, তাহলে তিনি উত্তরাধিকার
আইনে ওয়ারিশ হবেন না। তবে দীর্ঘদিন একটি পরিচয়ে বড় করার পর সেই পরিচয় অস্বীকার করে
তার ক্ষতি করা হলে ক্ষতিপূরণ দাবি করার সুযোগ থাকতে পারে। পরিস্থিতি বিবেচনায় মেয়েটি
আইনি প্রতিকার চাইতে পারেন।’
অনুসন্ধানে
একাধিক সূত্র জানিয়েছে, এই পরিচয় পরিবর্তনের পেছনে উত্তরাধিকার সম্পত্তি নিয়ে পারিবারিক
বিরোধ একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ হতে পারে। তবে সংশ্লিষ্ট কেউই প্রকাশ্যে এ বিষয়ে কথা
বলতে নারাজ।
মন্তব্য করুন