

প্রকৃতির
অমোঘ নিয়মে আজ রবিবার (২১ ডিসেম্বর) উত্তর গোলার্ধের দেশগুলোতে নেমে আসছে বছরের দীর্ঘতম
রাত। একই সাথে আজকের দিনের দৈর্ঘ্য হবে বছরের সবচেয়ে কম। অন্যদিকে পৃথিবীর দক্ষিণ গোলার্ধে
দেখা যাবে ঠিক বিপরীত চিত্র; সেখানে আজ বছরের দীর্ঘতম দিন এবং ক্ষুদ্রতম রাত। বিজ্ঞানের
ভাষায় এই দিনটিকে বলা হয় ‘শীতকালীন অয়নান্ত’ বা ‘উইন্টার সলসটিস’।
জ্যোতির্বিজ্ঞানের
তথ্যমতে, আজ সূর্য মকরক্রান্তি রেখার ওপর অবস্থান করছে। পৃথিবী তার কক্ষপথে ২৩.৫ ডিগ্রি
কোণে হেলে থাকার কারণে এই বিশেষ দিনে উত্তর গোলার্ধ সূর্য থেকে সবচেয়ে বেশি দূরত্বে
অবস্থান করে। ফলে উত্তর গোলার্ধে সূর্যালোক পৌঁছায় বেশ বাঁকাভাবে এবং খুব অল্প সময়ের
জন্য। এই কারণেই উত্তর গোলার্ধের দেশগুলোতে তাপমাত্রা কমে গিয়ে শীতের প্রকোপ বাড়তে
শুরু করে।
২১
ডিসেম্বর উত্তর গোলার্ধে সূর্য দিগন্তের খুব নিচু দিয়ে উদিত হয় এবং দ্রুত অস্ত যায়।
দিনের আলো কম থাকায় মনে হয় যেন সন্ধ্যা খুব তাড়াতাড়ি নেমে এসেছে। তবে এই দীর্ঘতম রাতের
পর থেকেই পৃথিবীর উত্তর গোলার্ধ ধীরে ধীরে সূর্যের দিকে ঝুঁকতে শুরু করবে। ফলে আগামীকাল
থেকেই দিন আবার বড় হতে থাকবে এবং রাতের দৈর্ঘ্য কমতে শুরু করবে।
পৃথিবীর
ঘূর্ণন ও ঋতু পরিবর্তনের এই চক্র আবহাওয়া ও জীববৈচিত্র্যের ওপর যেমন প্রভাব ফেলে,
তেমনি প্রাচীনকাল থেকেই বিভিন্ন সভ্যতায় দিনটি বিশেষ গুরুত্ব পেয়ে আসছে। ইউরোপ থেকে
শুরু করে এশিয়া ও আমেরিকা—সবখানেই ‘উইন্টার সলসটিস’
কেন্দ্র করে রয়েছে নানা উৎসব ও ধর্মীয় আচার। কৃষিভিত্তিক প্রাচীন সমাজগুলো এই
দিনের মাধ্যমেই শীতের কঠিন দিনগুলোর সমাপ্তি এবং নতুন ফসলি ঋতুর আগমনের সংকেত পেত।
উল্লেখ্য, প্রতি বছর ২১ জুন উত্তর গোলার্ধে দীর্ঘতম দিন পালন করা হয়, যাকে বলা হয়
‘সামার সলসটিস’। ঠিক ছয় মাস পরেই আসে আজকের এই দীর্ঘতম রাত। প্রকৃতির
এই সুন্দর ভারসাম্য আমাদের পৃথিবীর ঋতুচক্র ও জীবনের গতিময়তাকে নিয়ন্ত্রণ করে।
মন্তব্য করুন


ব্রাহ্মণবাড়িয়ার
কসবা উপজেলায় ছেলের অটোরিকশা থেকে পড়ে ট্রাক চাপায় মাসুমা বেগম (৪০) নামে এক নারী নিহত
হয়েছে। মাসুমা বেগম উপজেলার বায়েক ইউনিয়নের হরিপুর গ্রামের কবির হোসেনের স্ত্রী।
শুক্রবার
(২৬ ডিসেম্বর) রাত ৮টার দিকে উপজেলার কসবা পশ্চিম ইউনিয়নের আকছিনা গ্রামের কসবা-নয়নপুর
সড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতের
পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বুধবার রাতে ওষুধ কিনতে ছেলের চালানো অটোরিকশায় করে
কসবা বাজারে যাচ্ছিলেন মাসুমা বেগম। পথে আকছিনা এলাকায় পৌঁছালে পেছন থেকে আসা একটি
দ্রুতগতির ট্রাক অটোরিকশাটিকে ধাক্কা দেয়। এতে তিনি অটোরিকশা থেকে ছিটকে ট্রাকের নিচে
চাপা পড়েন।
পরে
স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে কসবা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক
তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
কসবা
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক অনিক ইসলাম বলেন, ‘নিহতের মাথায় গুরুতর
আঘাত লেগেছিল। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়েছে বলে ধারণা করা
হচ্ছে।’
কসবা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নাজনীন সুলতানা বলেন, ‘দুর্ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে। নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ না থাকায় আইনানুগ প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
মন্তব্য করুন


রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালের করোনারি কেয়ার ইউনিটে (সিসিইউ) চিকিৎসা নিচ্ছেন বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া। টানা ৫ দিন তিনি সিসিইউতেই আছেন। তবে আজ সোমবার (১ ডিসেম্বর) দুপুরে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়েছে।
চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, গত রোববার রাত থেকে ৮-১০লিটার অক্সিজেন দেওয়া হয়েছে খালেদা জিয়াকে। অবস্থার অবনতি হওয়ায় ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিট (আইসিইউ) প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এরই মধ্যে আইসিইউর কিছু সাপোর্ট সিসিইউতেই সরবরাহ করা হয়েছে। বিএনপি চেয়ারপারসনের চিকিৎসায় গঠিত মেডিকেল বোর্ডের ১ জন সদস্য সোমবার দুপুরে এসব তথ্য জানান। তিনি বলেন, ম্যাডামের অবস্থার হালকা অবনতি হয়েছে। আইসিইউতে নেওয়া হয়নি। তবে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, এই আইসিইউ সাধারণ আইসিইউর মতো নয়। এখানে সব ধরনের সাপোর্ট রয়েছে। তবে মেডিকেল বোর্ড এখনো সিদ্ধান্ত নেয়নি। ম্যাডামকে আরও নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। সবাই দোয়া করবেন।
গত (২৭ নভেম্বর ) বৃহস্পতিবার দুপুরে ইনফেকশনের (সংক্রমণ) শঙ্কায় খালেদা জিয়াকে সিসিইউতে নেওয়া হয়৷ উন্নত চিকিৎসায় সিঙ্গাপুর নেওয়ার চেষ্টা চলছে। কন্ডিশন ট্রাভেল করার মতো হলে সিদ্ধান্ত হবে। সোমবারও কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়েছে। এ ছাড়া প্রতিনিয়ত ফলোআপ করা হচ্ছে। মেডিকেল বোর্ডে নতুন করে লন্ডন ক্লিনিকের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকও যুক্ত হয়েছেন। যেখানে তিনি গত জানুয়ারিতে চিকিৎসা নিয়েছেন। দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সমন্বয়ে গঠিত মেডিকেল বোর্ড প্রতিদিন আলোচনা করে নতুন করণীয় ঠিক করছে। লন্ডন থেকে ভার্চুয়ালি ডা. জুবাইদা রহমান, যুক্তরাষ্ট্র থেকে জনস হপকিনস হসপিটালের কয়েকজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক বোর্ডের বৈঠকে অংশ নেন।
মন্তব্য করুন


দেড়
যুগ পর বাবা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কবর জিয়ারত শেষে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান
তারেক রহমান মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে সাভারে অবস্থিত জাতীয় স্মৃতিসৌধের
উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন।
শুক্রবার
(২৬ ডিসেম্বর) বিকেল ৫টার পর চন্দ্রিমা উদ্যান থেকে তিনি স্মৃতিসৌধের পথে যাত্রা করেন।
বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও দলের স্থায়ী কমিটির সদস্যরা তার সঙ্গে
রয়েছেন।
নেতাকর্মীদের
ভিড় ঠেলে তাকে বহনকারী লাল-সবুজের বাসটি চন্দ্রিমা উদ্যান থেকে সাভারের পথে এগিয়ে যাচ্ছে।
দীর্ঘ
নির্বাসন শেষে দেশে ফিরে ধারাবাহিক কর্মসূচির অংশ হিসেবে বাবা শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর
রহমানের কবর জিয়ারতের পর তারেক রহমান জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের প্রতি
সম্মান জানাতে জাতীয় স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদনের সিদ্ধান্ত নেন।
দীর্ঘ
১৭ বছর নির্বাসিত জীবন কাটিয়ে বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) লন্ডন থেকে দেশে ফেরেন তারেক
রহমান। দেশে ফিরে প্রথমে তিনি রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন তার মা সাবেক
প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে দেখতে যান।
মন্তব্য করুন


বিএনপির
চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, ‘এখন আবার অন্য একটি গোষ্ঠী কিছু কিছু ষড়যন্ত্র করছে।
যাতে নির্বাচন বাধাগ্রস্ত হয়। এ ব্যাপারে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে।’তিনি
বলেন, ‘গত ১৫-১৬ বছর আপনারা ভোট দিতে পারেননি।
আপনাদের
ভোটের অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছে, কথা বলার স্বাধীনতা কেড়ে নেওয়া হয়েছে। যারা কাজটি করেছে
তারা দেশ থেকে চলে গেছে।’
আজ
সোমবার (২৬ জানুয়ারি) বিকেলে নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ার দ্বীপ সরকারি কলেজ মাঠে
স্থানীয় বিএনপির আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে
তিনি এসব কথা বলেন।
তারেক
রহমান নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বলেন, ‘শুধু ভোট দিলেই চলবে না, ওখানে থাকতে হবে। আপনার
ভোটের হিসাব কড়ায়-গন্ডায় বুঝে নিয়ে আসতে হবে। দেশটা আমাদের সবার, সব ধর্মের লোককে একসঙ্গে
থেকে আমাদের দেশটা গড়তে হবে। এই দেশই আমাদের প্রথম এবং শেষ ঠিকানা।’তিনি
আরো বলেন, ‘সমস্যার সমাধান করতে হলে ধানের শীষকে জেতাতে হবে।
এর
আগে এই এলাকার মানুষ অনেককে দেখেছে, তারা কিন্তু সমস্যার সমাধান করেনি। নদীভাঙন রোধ,
বেড়িবাঁধ, ব্লক বাঁধ এগুলো আমরা (ইনশাআল্লাহ) করব। তবে আপনাদেরও একটা দায়িত্ব আছে।
আপনাদের দায়িত্ব ধানের শীষকে জয়যুক্ত করা।’
এ
সময় তারেক রহমান ঘোষণা দেন বিএনপি সরকার গঠন করলে ধীরে ধীরে হাতিয়ার মানুষের সব সমস্যার
সমাধান করা হবে।
জনসভায়
কেন্দ্রীয় বিএনপির বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও নোয়াখালী-৬ হাতিয়ার ধানের শীষের প্রার্থী
মাহবুবের রহমান, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মাহবুব আলমগীর আলোসহ উপজেলা বিএনপির নেতাকর্মীরা
উপস্থিত ছিলেন।
মন্তব্য করুন


বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক
রহমানের সঙ্গে দেশে ফিরেছে তার পোষা বিড়াল জেবু।
আজ বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) বেলা
১১টা ৪০ মিনিটের দিকে তারেক রহমান বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে ঢাকার হযরত
শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেন। এ সময় তার সঙ্গে বিড়াল জেবুও ঢাকায় আসে।
শাহজালাল বিমানবন্দর সূত্র জানায়, তারেক
রহমানের সঙ্গে একই ফ্লাইটে জেবু ঢাকা ফেরে। জেবুকে একটি বিশেষ খাঁচায় করে আনা হয়। পরে
যথাযথভাবে জেবুকে বিমান থেকে নামিয়ে তারেক রহমানের পরিবারের সদস্যদের কাছে দেওয়া হয়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তারেক রহমানের
ব্যস্ততার ফাঁকে বিড়ালের সঙ্গে খুনসুটি করার ছবি আগেও ভাইরাল হয়েছে বহুবার। প্রাণীর
প্রতি তার ভালোবাসা বিভিন্ন সময় প্রশংসা কুড়িয়েছে।
মন্তব্য করুন


ইন্দোনেশিয়ার মান্যবর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপমন্ত্রী Armanatha Christiawan Nasir আজ সেনা সদরে সেনাপ্রধানের সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন।
সাক্ষাৎকালে পারস্পরিক কুশল বিনিময়ের পাশাপাশি তাঁরা বর্তমান প্রেক্ষাপটে দুই দেশের মধ্যে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা জোরদার এবং সামরিক ও নিরাপত্তা খাতে পারস্পরিক সম্পৃক্ততা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
উপমন্ত্রী জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার প্রশংসা করেন।
মন্তব্য করুন


সশস্ত্র বাহিনীতে কর্মরত সেনাবাহিনীর ক্যাপ্টেন ও
তদুর্ধ্ব সমপদমর্যাদার কমিশন্ড কর্মকর্তাদের (কোস্টগার্ড ও বিজিবিতে প্রেষণে নিয়োজিত
সমপদমর্যাদার কর্মকর্তাগণসহ) বিশেষ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের ক্ষমতা আরও সাড়ে চার মাস
বাড়ানো হয়েছে।
আজ মঙ্গলবার (১১ নভেম্বর) এ সংক্রান্ত এক প্রজ্ঞাপন
জারি করেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।
১২ নভেম্বর থেকে আগামী বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত
তারা সারা দেশে বিশেষ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারবেন।
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, কর্মকর্তারা ‘ফৌজদারি কার্যবিধির, ১৮৯৮’-এর ৬৪, ৬৫, ৮৩, ৮৪, ৮৬, ৯৫(২), ১০০, ১০৫, ১০৭, ১০৯, ১১০, ১২৬, ১২৭, ১২৮, ১৩০, ১৩৩ ও ১৪২ ধারার অপরাধগুলো বিবেচনায় নিতে পারবেন।
মন্তব্য করুন


২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ-এর মহাসমাবেশকে কেন্দ্র করে সংঘটিত হত্যাযজ্ঞ এবং ২০২১ সালের মার্চ মাসে বিক্ষোভ কর্মসূচি দমনে পরিচালিত হত্যাকাণ্ডে
শাহাদাতবরণকারী শহিদ পরিবারের সদস্যদের মাঝে চেক বিতরণ অনুষ্ঠান ২০২৫ গতকাল শুক্রবার ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়েছে।
স্থানীয় সরকার বিভাগ কর্তৃক আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে প্রধান
অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ডা. আ ফ ম খালিদ হোসেন।
২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ-এর মহাসমাবেশকে কেন্দ্র করে সংঘটিত হত্যাযজ্ঞে শহিদ ৫৮ টি পরিবার এবং ২০২১ সালের মার্চ মাসে বিক্ষোভ কর্মসূচি দমনে পরিচালিত হত্যাকাণ্ডে শহিদ ১৯টি পরিবারের সদস্যদের মাঝে পরিবার প্রতি ১০ লক্ষ টাকা করে, মোট ৭ কোটি ৭০ লক্ষ টাকার চেক প্রদান করা হয়।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের
উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেন, "শহীদদের রক্ত কখনো বৃথা যায় না। ঐতিহাসিক শাপলা চত্বর এবং মোদি বিরোধী আন্দোলনে শহীদদের আজকের এই স্বীকৃতি তারই প্রমাণ।"
শহীদ পরিবারদেরকে স্বীকৃতি দিতে পেরে সরকার গর্বিত উল্লেখ করে উপদেষ্টা বলেন, ইতিহাস থেকে যেন কেউ ঐতিহাসিক শাপলা চত্বরের শহীদদের নাম মুছতে না পারে, এজন্য শাপলা চত্বরেই খোদাই করে লেখা হবে শহীদদের নাম।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ধর্ম বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. আ ফ ম খালিদ হোসেন বলেন, "শাপলা চত্বর এবং মোদি বিরোধী আন্দোলনে শহিদদের আর্থিক সহায়তা প্রদান স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদের এক ঐতিহাসিক উদ্যোগ।"
এই উদ্যোগের মাধ্যমে দুই গুরুত্বপূর্ণ ঘটনার স্বীকৃতি দেওয়ার প্রক্রিয়ার সূচনা হয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
২০১৩ সালের শাপলা চত্বরের হত্যাযজ্ঞ এবং ২০২১ সালের মোদি বিরোধী বিক্ষোভ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডে
শাহাদতবরণকারী শহিদ পরিবারের সদস্যদের আর্থিক সহায়তা প্রদান করায় স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় এবং উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদকে আন্তরিক সাধুবাদ জানিয়ে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির মাওলানা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী বলেন, "স্থানীয় সরকার উপদেষ্টার এই মহতী উদ্যোগে সারা বাংলার আলেম সমাজ সম্মানিত হয়েছে। "
স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব মো. রেজাউল মাকছুদ জাহেদীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তৃতা করেন জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশের সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার, এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান ভূঁইয়া মঞ্জু, খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মাওলানা মামুনুল হক, গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর, হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা সাজিদুর রহমান এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মোঃ শাহজাহান মিয়া।
মন্তব্য করুন


ঢাকা
সেনানিবাসের কেন্দ্রীয় মসজিদে তিন বাহিনী প্রধানের উপস্থিতিতে সুদানে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা
মিশনে নিহত বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ছয় সেনা সদস্যের জানাজা সম্পন্ন হয়েছে। তাদের দাফনের
জন্য নেয়া হবে গ্রামের বাড়িতে।
আরবিবার
(২১ ডিসেম্বর) আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদফতরের (আইএসপিআর) পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে
এ তথ্য জানানো হয়।
নিহত
সেনাসদস্যরা হলেন, কর্পোরাল মোঃ মাসুদ রানা: এএসসি (নাটোর), সৈনিক শামীম রেজা: বীর
(রাজবাড়ি), সৈনিক মোঃ মমিনুল ইসলাম: বীর (কুড়িগ্রাম), সৈনিক শান্ত মন্ডল: বীর (কুড়িগ্রাম),
মেস ওয়েটার মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম (কিশোরগঞ্জ) এবং লন্ড্রি কর্মচারী মোঃ সবুজ মিয়া
(গাইবান্ধা)।
আইএসপিআর
জানায়, জানাজার আগে নিহত সেনাসদস্যদের জীবন বৃত্তান্ত পড়ে শোনানো হয়। জানাজার পর
তাদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে দোয়া করা হয়। এরপর প্রথমে রাষ্ট্রপতি ও প্রধান উপদেষ্টার
পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা জানানো হয়। পরে তিন বাহিনীর প্রধান নিহত ৬ সেনার প্রতি শ্রদ্ধা জানান।
এর আগে, গতকাল শনিবার বেলা ১১টা ৫ মিনিটে নিহত ৬ সেনার মরদেহ ঢাকায় পৌঁছে। বাংলাদেশ
সেনাবাহিনীর চিফ অব জেনারেল স্টাফ লেফটেন্যান্ট জেনারেল মিজানুর রহমান শামীম বিমানবন্দরে
শান্তিরক্ষীদের মরদেহ গ্রহণ করেন। এ সময় সবাই দাঁড়িয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করেন
ও সম্মান জানিয়ে স্যালুট দেন।
গত
১৩ ডিসেম্বর সুদানের আবেই এলাকায় জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনের একটি ঘাঁটিতে ড্রোন হামলা
চালায় বিচ্ছিন্নতাবাদী সশস্ত্র গোষ্ঠী। শাহাদাৎ বরণ করেন ৬ শান্তিরক্ষী। আহত ৯ জনের
সবাই শঙ্কামুক্ত। এদের মধ্যে কেনিয়ার হাসপাতালে ৮ জন চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
মন্তব্য করুন


ফ্যাসিস্টরা
দেশ ছেড়ে পালালেও ফ্যাসিজমের কালো ছায়া এখনো কাটেনি বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে
ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, একদল অপকর্ম করে পালিয়েছে, আরেকদল সেই অপকর্মের
দায় কাঁধে তুলে নিয়েছে। কেউ চাঁদাবাজি করে জনগণের ক্ষোভের কারণ হয়েছে, আবার কেউ আরও
বেশি শক্তি নিয়ে একই কাজ করছে।
আজ শনিবার (৬ ডিসেম্বর) বিকেলে সিলেটের আলিয়া মাদরাসা মাঠে ইসলামী ও সমমনা আট দলের বিভাগীয় সর্বশেষ সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ডা.
শফিকুর রহমান বলেন, বাংলাদেশ ছোট্ট একটি দেশ। বিপুল সম্পদে পরিপূর্ণ ছিল। আফসোস, স্বাধীনতার
৫৪ বছরেও এ দেশের মানুষ সম্মানের সঙ্গে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারেনি, কারণ বর্গীরা
চলে যাওয়ার সময় দেশের ভেতরে চিলগুলো ছুঁ মেরে জনগণের সম্পদ নিয়ে চলে গেছে। দেশের সম্পদ
লুণ্ঠন করে বাইরে পাচার করেছে। দেশে–বিদেশে ‘বেগম পাড়া’
গড়ে তুলেছে। তিনি বলেন, কেউ কেউ পালাতে গিয়ে খালে–বিলে আশ্রয় নিয়েছে। আবার রসিক সিলেটবাসীর
কাছে কেউ কেউ কলাপাতায় ধরা পড়েছে। এভাবেই অপকর্মের দায় নিয়ে ফ্যাসিস্টরা বাংলাদেশ থেকে
পালিয়েছে। কিন্তু ফ্যাসিজমের কালো ছায়া বাংলাদেশ থেকে যায়নি। একদল দখলদার হয়ে জনগণের
ঘৃণা কুড়িয়েছে, আরেকদল বেপরোয়া দখলদার হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। একসময় বিরোধী রাজনৈতিক
নেতাদের, আলেম–ওলামাকে জেল, নির্যাতন, ফাঁসি ও দেশছাড়া করার যে প্রবণতা
ছিল, সেটি এখনো থামেনি।
জামায়াতের আমির সতর্ক করে বলেন, বাঁকা পথে প্রশাসনিক ক্যুর মাধ্যমে নির্বাচন ক্রেডিট হাইজ্যাক করার কালো সূর্য ডুবে গেছে। এই সূর্য আর বাংলাদেশে উঠবে না। এই কালো সূর্যের মুখ বাংলাদেশ আর দেখবে না। এখন নতুন সূর্যের উদয় হবে।
তিনি
বিএনপিকে ইঙ্গিত করে বলেন, জনগণ তাদেরকে আগামী নির্বাচনে লাল কার্ড দেখানোর জন্য প্রস্তুত
হয়ে গেছে। এই লাল কার্ড দেখা থেকে বাঁচতে গিয়ে যদি কেউ আগামী নির্বাচনকে ভণ্ডুল করার
চেষ্টা করে, আমরা মহান আল্লাহর উপর ভরসা করে বলছি, তাদের সকল ষড়যন্ত্র এ দেশের সংগ্রামী
জনগণ ভণ্ডুল করে দেবে। তিনি বলেন, তারা কোনো সংস্কারে রাজি না। তারা সনদ বাস্তবায়নে
রাজি না। তারা গণভোটেও প্রথমে রাজি ছিল না। তারপরও গণভোট একদিনেই হতে হবে, তা তারা
বাধ্য করেছে সরকারকে। এখন আবার কোথাও কোথাও আমরা ক্ষীণ সুর শুনতে পাচ্ছি। যারা এতদিন
নির্বাচনের জন্য নির্বাচন–নির্বাচন করে জনগণকে বেহুশ করে তুলেছিল,
এখন তারা ভিন্ন সুরে কেউ কেউ কথা বলতে শুরু করেছে। এ লক্ষণ ভালো নয়। তারা বুঝতে পেরেছেন।
জোটের
বাইরে থাকা ইসলামি দলকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, আমি বন্ধুদের অনুরোধ করব সকল জাল ছিন্ন
করে আপনারা আপনাদের আঙিনায় চলে আসুন। এই আঙিনা আপনাদের আঙিনা। এখন যেখানে ঘোরাফেরা
করছেন এটা আপনাদের আঙিনা না। তাদের সঙ্গে আপনাদের মানায় না। আপনারা বড় বেমানান হয়ে
গেছেন। আপনারা ঘরের ছেলে ঘরে ফিরে আসুন। আমরা আপনাদের বুকে জড়িয়ে কবুল করব, অভিনন্দন
জানাবো। খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা আব্দুল বাছিত আজাদ সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন ইসলামী
আন্দোলন বাংলাদেশের আমির মুফতি সৈয়দ ফয়জুল করিম পীর সাহেব চরমোনাই, বাংলাদেশ খেলাফত
মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক, খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা আব্দুল বাছিত আজাদ,
বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির আমির মাওলানা সারওয়ার কামাল আজিজী, বাংলাদেশ খেলাফত
আন্দোলনের আমির মাওলানা হাবীবুল্লাহ মিয়াজী, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি–জাগপার
কেন্দ্রীয় সহসভাপতি রাশেদ প্রধান ও বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির (বিডিপি) সভাপতি অ্যাডভোকেট
আনোয়ারুল হক চাঁন।
মন্তব্য করুন