

জামায়াতে
ইসলামী দেশ পরিচালনার দায়িত্ব পেলে তাদের সরকার জনগণের কাছে দায়বদ্ধ থাকবে বলে জানিয়েছেন
দলটির আমির ডা. শফিকুর রহমান। নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি ও সরকারি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের
নিয়মিত জনগণের মুখোমুখি করা হবে বলেও জানান তিনি।
আজ
বৃহস্পতিবার ( ০৫ ফেব্রুয়ারি ) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে এসব তথ্য
জানান জামায়াত আমির।
ফেবসুক
পোস্টে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমাদের সরকার হবে জনগণের নিকট দায়বদ্ধ।
যুগ
যুগ ধরে এ দেশে জবাবদিহিতা ছাড়াই দেশ শাসন করা হয়েছে। দেশের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত
হয়েছে পর্দার আড়াল থেকে। ক্ষমতাসীনদের দুর্নীতির পাহাড়কে গোপন করা হয়েছে চুপিসারে।’
তিনি
আরো বলেন, ‘আল্লাহর ইচ্ছায় ও জনগণের ভালোবাসায় আমরা যদি সেবা করার সুযোগ পাই, আমাদের
মন্ত্রী, সংসদ সদস্য এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা তাদের সম্পদের হিসাব জনসম্মুখে প্রকাশ
করতে বাধ্য থাকবেন।
তাদের
নিয়মিত জনগণের মুখোমুখি হতে হবে এবং প্রতিটি সিদ্ধান্তের জন্য জবাবদিহি করতে হবে।’
জামায়াত
আমির তার পোস্টে বলেন, ‘আমাদের সরকার চলবে স্বচ্ছতা এবং ডিজিটাল রেকর্ড ব্যবস্থার মাধ্যমে,
যেখানে প্রতিটি স্তরে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হবে। সরকারি কাজ, ব্যয় এবং সেবা প্রদানের
প্রতিটি ধাপ নাগরিকরা সরাসরি (রিয়েল-টাইম) পর্যবেক্ষণ করতে পারবেন। জনগণের থেকে লুকিয়ে
রাখার এই সংস্কৃতির চিরস্থায়ী অবসান ঘটবে, ইনশাআল্লাহ।
মন্তব্য করুন


ইনকিলাব
মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান বিন
হাদির মরদেহ নিয়ে আজ শুক্রবার বাংলাদেশ
বিমানের একটি বাণিজ্যিক ফ্লাইট
স্থানীয় সময় বিকেল ৩টা
৫০ মিনিটে ছাড়বে। ঢাকায় নামবে সম্ভাব্য সময় সন্ধ্যা ৬টা
৫ মিনিটে।
গত বৃহস্পতিবার
রাতে ন্যাশনাল হেলথ অ্যালায়েন্সের সদস্য
সচিব ও ঢাকা মেডিক্যাল
কলেজ ও হাসপাতালের নিউরোসার্জারী
বিভাগের রেসিডেন্ট ডা. মো. আব্দুল
আহাদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
উল্লেখ্য,গত বৃহস্পতিবার
রাতে শরিফ ওসমান বিন
হাদি সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।
মন্তব্য করুন


পার্বত্য অঞ্চলকে পাশ কাটিয়ে বাংলাদেশের
উন্নয়ন সম্ভব নয় বলে জানিয়েছেন, প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
‘পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি দিবস’ উপলক্ষ্যে দেয়া এক বাণীতে তিনি বলেন,
দেশের মোট আয়তনের এক দশমাংশ এলাকায় পার্বত্য অঞ্চলের জনগোষ্ঠীর বসবাস। তাই পার্বত্য
অঞ্চলকে পাশ কাটিয়ে বাংলাদেশের উন্নয়ন সম্ভব নয়।
প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ
ইউনূস বলেন, পার্বত্য জেলাসমূহের নৈসর্গিক সৌন্দর্য সংরক্ষণ ও পর্যটন শিল্পের প্রসারে
স্থানীয় জনসাধারণকে সম্পৃক্ত করে নানামুখী সংস্কারের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এতে বেকারত্ব
হ্রাস পাবে, অর্থনৈতিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে এবং জীবনযাত্রার উন্নতি ও সামাজিক বৈষম্য
দূর হবে। পার্বত্য চট্টগ্রামের সকল অধিবাসীর জীবনে শান্তি, সম্প্রীতি, উন্নয়ন ও অগ্রগতির
অভিযাত্রা অব্যাহত রাখতে সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টা আবশ্যক। প্রতি বছরের মতো এবারও
‘পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি দিবস-২০২৪’
পালিত হচ্ছে জেনে আমি আনন্দিত। এ উপলক্ষ্যে আমি দেশের পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলের সকল
জনগোষ্ঠীকে আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানাই। ১৯৯৭ সালের এই দিনে বাংলাদেশ সরকার
এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি এর মধ্যে চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয়েছিল। এটি একটি
রাজনৈতিক চুক্তি ছিল যা শান্তি চুক্তি নামেও পরিচিত। ছাত্র-শ্রমিক-জনতার গণঅভ্যুত্থানের
মাধ্যমে গঠিত অন্তর্বর্তীকালীন সরকার সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বন্ধন অটুট রেখে ঐক্যবদ্ধভাবে
বৈষম্যমুক্ত নতুন বাংলাদেশ গড়ে তুলতে অঙ্গীকারবদ্ধ।
প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ
ইউনূস 'পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি দিবস-২০২৪’-এর
সার্বিক সাফল্য কামনা করেন।
মন্তব্য করুন


বাংলাদেশ ও ভারত বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা জোরদারে ১০টি সমঝোতা স্মারক ও নথি
সই করেছে ।
শনিবার (২২ জুন) দুপুরে নয়াদিল্লির হায়দ্রাবাদ হাউসে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র
মোদীর সঙ্গে একান্ত ও দ্বিপাক্ষিক বৈঠক শেষে তাদের উপস্থিতিতে এসব সমঝোতা স্মারক সই
হয়।
এর মধ্যে পাঁচটি নতুন সমঝোতা স্মারক সই, তিন সমঝোতা স্মারক নবায়ন এবং ভবিষ্যৎ কাজের ক্ষেত্র হিসেবে যৌথ কার্যক্রমের দুটি নথিতে সই করে উভয় দেশ।
‘ডিজিটাল অংশীদারত্ব’ এবং ‘টেকসই ভবিষ্যতের জন্য সবুজ অংশীদারত্ব’ বিষয়ক দুটি সমন্বিত রূপকল্পকে সামনে রেখে কাজ করবে ভারত এবং বাংলাদেশ। এ লক্ষ্যে দুই যৌথ কার্যক্রমের নথি সই করে বাংলাদেশ।
এ দুটি হলো—বাংলাদেশ-ভারত ডিজিটাল অংশীদারত্বের বিষয়ে অভিন্ন লক্ষ্যমাত্রা এবং
টেকসই ভবিষ্যতের জন্য বাংলাদেশ-ভারত সবুজ অংশীদারত্বের বিষয়ে অভিন্ন লক্ষ্যমাত্রা বিষয়ক
নথি সই।
নতুন পাঁচটি সমঝোতা স্মারক হলো—বঙ্গোপসাগর ও ভারত মহাসাগরের সুনীল অর্থনীতি ও
সমুদ্র সহযোগিতার বিষয়ে দুদেশের মধ্যে সমঝোতা স্মারক; ভারত মহাসাগরের ওশানোগ্রাফির
ওপর যৌথ গবেষণা ও দক্ষতা উন্নয়ন বিষয়ে বাংলাদেশের বিওআরআই ও ভারতের সিএসআইআরের মধ্যে
সমঝোতা স্মারক; বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে রেল যোগাযোগের ওপর সমঝোতা স্মারক; যৌথ ছোট
স্যাটেলাইট প্রকল্পে সহযোগিতার জন্য বাংলাদেশ সরকারের ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি
মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে ভারতের ন্যাশনাল স্পেস প্রোমোশন অ্যান্ড অথোরাইজেশন সেন্টারের মধ্যে
সমঝোতা স্মারক এবং ডিফেন্স স্টাফ কলেজের মধ্যে একাডেমিক সহযোগিতা বিষয়ে সমঝোতা স্মারক।
নবায়নকৃত তিন সমঝোতা স্মারক হলো—মৎস্যসম্পদ সহযোগিতা বিষয়ক সমঝোতা স্মারক; দুর্যোগ
ব্যবস্থাপনা বিষয়ক সমঝোতা স্মারক এবং স্বাস্থ্য ও ওষুধ খাতে সহযোগিতা বিষয়ক সমঝোতা
স্মারক।
এর আগে সকাল ৯টায় রাষ্ট্রপতি ভবনে যান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সেখানে তাকে স্বাগত জানান ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সুসজ্জিত অশ্বারোহী দল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মোটর বহরকে পাহারা দিয়ে রাষ্ট্রপতি ভবনের গেট থেকে ফোরকোর্টে নিয়ে যায়।
এরপর এখানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে লাল গালিচা সংবর্ধনা ও গার্ড অব অনার
দেওয়া হয়। এ সময় বাংলাদেশ ও ভারতের জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশন করা হয়। সশস্ত্র সালাম গ্রহণের
পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গার্ড অব অনার পরিদর্শন করেন।
পরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী লাইন অব
প্রেজেন্টেশনে দুদেশের মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও বিশিষ্ট ব্যক্তিদের
পরিচয় করিয়ে দেন।
রাষ্ট্রপতি ভবনের এ কর্মসূচি শেষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারতের জাতির পিতা
মহাত্মা গান্ধীর প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে রাজঘাট যান। সেখানে তিনি মহাত্মা গান্ধীর সমাধিসৌধে
পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন।
পরে শেখ হাসিনা হায়দ্রাবাদ হাউসে যান। সেখানে তিনি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র
মোদীর সঙ্গে একান্ত ও দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেন।
মন্তব্য করুন


শ্রীলংকায়
ঘূর্ণিঝড় ও বন্যা কবলিত জনগণের জন্য বাংলাদেশ জরুরী ত্রাণ সহায়তা পাঠিয়েছে।
বন্ধুপ্রতীম
দেশ শ্রীলঙ্কায় সম্প্রতি ঘূর্ণিঝড় ডিটওয়া'র প্রভাবে সৃষ্ট আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসের
মতো মানবিক বিপর্যয়ে বাংলাদেশ অত্যন্ত মর্মাহত। এ পরিস্থিতিতে শ্রীলংকা সরকার জরুরী
অবস্থ জারী করার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মহলের কাছে সহায়তার আবেদন জানিয়েছে।
শ্রীলংকার
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কলম্বোস্থ বাংলাদেশ হাইকমিশনকে জরুরী ভিত্তিতে খাদ্য, ঔষধ সামগ্রী
ও অন্যান্য ত্রাণসামগ্রী প্রেরণের জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ জানায়।
আন্ত:বাহিনী
জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) আজ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, প্রধান উপদেষ্টার নির্দেশে
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ের মাধ্যমে সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের সার্বিক তত্ত্বাবধানে
বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর একটি সি ১৩০জে পরিবহন বিমান ক্ষতিগ্রস্থদের মানবিক সহায়তা প্রদানের
লক্ষ্যে আজ বুধবার বাংলাদেশ বিনান বাহিনীর ১৫ জন ক্রুর একটি দল, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের
একজন ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন প্রতিনিধি প্রয়োজনীয় ত্রাণ সামগ্রী নিয়ে কলম্বো
উদ্দেশ্যে যাত্রা করে।
বিমান
বাহিনীর এয়ার কমডোর মোহাম্মদ সহিদুল ইসলাম মিশন কমান্ডারের দায়িত্ব পালন করেন। আজ প্রেরণকৃত
সর্বমোট প্রায় ১০ টন ত্রাণ সহায়তার মধ্যে রয়েছে তাঁবু, শুকনো খাবার, মশারী, টর্চ লাইট,
গাম বুট, ভেস্ট, হ্যান্ড স্লোভস, রেসকিউ হেলমেট এবং বিপুল পরিমান ঔষধ।
উল্লেখ্য,
মানবিক সহায়তা প্রদান শেষে সি ১৩০জে পরিবহন বিমানটি একই দিন বাংলাদেশে প্রত্যাবর্তন
করবে।
বাংলাদেশ
সশস্ত্র বাহিনী বিশ্বাস করে যে, বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক প্রেরিত এই মানবিক সহায়তা শ্রীলংকায়
সৃষ্ট আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসে ক্ষতিগ্রস্ত জনগণের দুর্ভোগ কমিয়ে আনতে সহায়ক ভূমিকা
পালন করবে।
আগামী
দিনগুলোতে সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী বৈশ্বিক যে কোন প্রয়োজনে বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনী
আত্মনিয়োগের জন্য সদা অঙ্গীকারবদ্ধ।
উল্লেখ্য,
শ্রীলংকায় সম্প্রতি ঘূর্ণিঝড় ডিটওয়া'র প্রভাবে সৃষ্ট আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসের ফলে
এখন পর্যন্ত ৩৩৪ জন নিহত এবং কমপক্ষে ২ শতাধিক জন নিখোঁজ রয়েছে। শ্রীলংকার দুর্যোগ
ব্যবস্থাপনা কেন্দ্রের তথ্য মোতাবেক উক্ত বন্যায় ২০ হাজারের বেশি বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্থ
হয়েছে এবং ১ লাখ ২৩ হাজার মানুষকে সরকার পরিচালিত অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রে সরিয়ে নেয়া
হয়েছে।
মন্তব্য করুন


প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, মাইক্রোক্রেডিটই
ব্যাংকিংয়ের ভবিষ্যৎ।
তিনি মাইক্রোক্রেডিট’র জন্য আলাদা আইন করার
আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, এনজিও ভাবনা থেকে বেরিয়ে এসে মাইক্রোক্রেডিটকে ব্যাংকিংয়ের ধারণা
গ্রহণ করতে হবে। আর এ ধারণা গ্রহণ করেই ঋণগ্রহিতাকে সেবা দিতে হবে।
তিনি আরো বলেন, ‘মাইক্রোক্রেডিট এখনো এনজিও। এই এনজিও থেকে উত্তরণ
ঘটাতে হবে। এনজিও পর্যায়ে থেকে গেলে ব্যাংকিং মেজাজ আসবে না। মেজাজে আসতে হলে এটাকে
ব্যাংক হতে হবে। মাইক্রোক্রেডিট’র জন্য আলাদা আইন করতে
হবে।’
আজ শনিবার (১৭ মে) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি
অথরিটির (এমআরএ) নতুন ভবন উদ্বোধনকালে এ কথা বলেন।
গ্রামীণ ব্যাংকের শুরুর সময়কার স্মৃতিচারণ করে প্রফেসর ইউনূস
বলেন, আমরা যখন গ্রামীণ ব্যাংক করলাম তখন আপত্তি উঠলো এটাকে ব্যাংক বলা যাবে কি না।
আমরা বললাম, আমাদেরটাই প্রকৃত ব্যাংক, তোমাদেরটা লোক দেখানো। ব্যাংক যে শব্দ থেকে উৎপন্ন
হয়েছে সেটা হলো ট্রাস্ট, তোমরা যেটা করছো সেটা ডিসট্রাস্ট। আমাদের ব্যাংকিং মানুষের
বিশ্বাসের ভিত্তিতে হয়েছে। জামানতবিহীন ব্যাংক, বিশ্বাসের ভিত্তিতে আমরা টাকা দেই।
আজ এমন সময় আমরা আলাপ করছি যখন জামানতওয়ালা ব্যাংক, যারা নিজেদের প্রকৃত ব্যাংক বলে
দাবি করত তাদের অনেকে আজ হাওয়া। টাকা নিয়ে লোপাট। ব্যাংক শেষ। আর মাইক্রোক্রেডিটের
পরিসংখ্যান দেখেন। কেউ পয়সা নিয়ে পালায় নাই। এই হলো পরিহাস।’
মাইক্রোক্রেডিটই ব্যাংকিংয়ের ভবিষ্যৎ উল্লেখ করে প্রধান উপদেষ্টা
ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, ‘এটাই প্রকৃত ব্যাংকিং, আগামী দিনের ব্যাংকিং যেটাতে মানুষ
নিজের পরিচয়ে কাজ করবে, নিজের বিশ্বাসের ওপরে ব্যাংকিং চলবে, টাকার উপরে না।’
মাইক্রোক্রেডিটের জন্য নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের প্রয়োজনীয়তার বিষয়ে
প্রধান উপদেষ্টা নিজের অভিজ্ঞতার কথা জানান। তিনি বলেন, ‘গ্রামীণ ব্যাংকের সাফল্যের
পর প্রত্যেক এনজিও চেষ্টা করলো একইরকম কিছু করতে। ক্রমে ক্রমে প্রসার হতে আরম্ভ করল।
নানারকমের নতুন নতুন জিনিস, নানা আইডিয়া নিজেদের সুবিধার জন্য ঢোকাতে আরম্ভ করল। এটা
ভবিষ্যতের জন্য খারাপ হবে মনে করে একটি রেগুলেটরি অথরিটির প্রয়োজন হলো। বাংলাদেশ ব্যাংকের
সঙ্গে যোগাযোগ করলাম, তারা বলল ‘আমাদের কাজ না’। অর্থ মন্ত্রণালয় শুরুতে
গুরত্ব দিল না, পরে বলল ‘আচ্ছা কী করতে হবে জানাও’। তখন আমরা বললাম, ‘রেগুলেটরি অথরিটি
হওয়া দরকার, কারণ যে হারে বাড়ছে বড় রকমের সমস্যা হতে পারে।
‘তৎকালীন গভর্নর ফখরুদ্দীন সাহেব আমাদের সমর্থন করলেন। কিন্তু
বাংলাদেশ ব্যাংকের অধীনে এটা হতে পারবে না। তারা ব্যাখ্যা চাইল। আমি বললাম, এটা বহু
দেশে বলেছি, এখনো বলি, গ্রামীণ ব্যাংকও ব্যাংক, অন্যান্য ব্যাংকও ব্যাংক। কিন্তু তফাত
অনেক। উদাহরণ দেই, আমেরিকান ফুটবলও ফুটবল। ইউরোপিয়ান ফুটবলও ফুটবল। কিন্তু খেলা ভিন্ন।
আপনি যদি ইউরোপিয়ান ফুটবলের রেফারিকে দিয়ে আমেরিকান ফুটবল খেলা চালাতে চান ইট উইল বি
অ্য ডিজাস্টার। কেন্দ্রীয় ব্যাংককে দিয়ে ক্ষুদ্রঋণ নিয়ন্ত্রণ করবেন, সে তো ক্ষুদ্রঋণ
জানেই না। সে তো ইউরোপীয় ফুটবলের রেফারি,’ প্রধান উপদেষ্টা বলেন।
তিনি আরোও বলেন, ‘অবশেষে ফখরুদ্দীন সাহেব রাজি হলেন। গভর্নরকে
দিয়ে এটা পরিচালনা করানোর ব্যাপারেও তাঁকে রাজি করাতে হলো। বাংলাদেশ ব্যাংকের ভেতরে
এর অফিস করার আলোচনা ছিল। আমরা বললাম, আলাদা জায়গায় অফিস হতে হবে... আজকে নতুন ভবন
হলো। বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তা এটিকে বোঝার চেষ্টা করেছেন, নিয়মকানুন করেছেন। তারা
যদি অন্যান্য ব্যাংকের রেগুলেটরি নিয়মের ওপর এটা স্থাপন করত তাহলে মাইক্রোক্রেডিট সেদিনই
শেষ হয়ে যেত, আর খুঁজে পাওয়া যেত না। আমি বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তাদের অভিনন্দন
জানাচ্ছি।’
প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস জানান, নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ
কে হবে এ নিয়ে শুধু বাংলাদেশ না, যে দেশেই মাইক্রোক্রেডিট হয়েছে সে দেশই সমস্যায় পড়েছে।
তিনি বলেন, ‘আমি তাদেরকে বারে বারে বলে এসেছি তোমাদের এত কিছু
চিন্তা করতে হবে না। কারণ বাংলাদেশ এর সমাধান দিয়ে দিয়েছে। মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি
অথরিটি শুধু যে বাংলাদেশের জন্য কাজ করেছে তা না এটা আন্তর্জাতিকভাবে অনেক দেশের জন্যে
সহায়ক হয়েছে।’
অর্থ উপদেষ্টা সালেহ উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘রেগুলেটরের ওপর কড়া
না হয়ে ইউজার ফ্রেন্ডলি রেগুলেশন যেন হয় সেভাবে আইন করা, যেন কোনোকিছু চাপিয়ে না দেয়া
হয়। এমআরএ’কে এখন রেগুলশনের পাশাপাশি প্রমোশনাল অ্যাক্টিভিটিও দেখতে হবে।
সেভিংসের রিটার্ন, সার্ভিস চার্জ যেন সহজ হয় সেদিকে নজর দিন। উপকারভোগীদের জন্য যেন
সহজ হয়।’
বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর তাঁর বক্তব্যে বলেন,
‘মাইক্রোক্রেডিট আজ অনেক দূর এগিয়েছে। বর্তমানে ব্যাংকিং খাতের ১০ শতাংশ সমপরিমাণ সম্পদ
আছে মাইক্রোক্রেডিট সেক্টরে। সবচেয়ে বড় কথা, ব্যাংকিং খাতে যে জায়গাগুলোতে দুর্বলতা
আছে, মাইক্রোক্রেডিট সে জায়গায় শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে। সদস্যদের সঞ্চয় বেড়ে ৬৮ হাজার
কোটি টাকার ওপর, পুঞ্জীভূত উদ্বৃত্ত বেড়ে ৬১ হাজার কোটি টাকার উপরে হয়েছে। এটা বড় অর্জন।
তারা নিজেদের সঞ্চয় ও উদ্বৃত্ত দিয়ে নিজেদের গড়ে তুলছে। বিদেশি সহায়তা, অনুদান নাই
বললেই চলে। দাতা তহবিল তিন হাজার কোটি টাকার মতো। এটা খুবই নগণ্য।’
‘বাংলাদেশে গ্রামীণ অর্থনীতি বাড়ছে। এজেন্ট ব্যাংকিং ছড়িয়ে পড়ছে।
মাইক্রোক্রেডিটের শাখা আছে ২৬ হাজারের মতো। এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের শাখা ২০ হাজার ছাড়িয়েছে।
এখানে একটা সুস্থ প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে। গ্রামীণ অর্থনীতিতে ফরমাল সেক্টরের পদচারণা
বাড়ছে, বাড়বে। মাইক্রোফাইন্যান্স ইন্সটিটিউটটে এ চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে টিকে থাকতে
হবে। মাইক্রোক্রেডিট আরও ফাংশনাল করতে রেগুলেটরি অথরিটি ও বাংলাদেশ ব্যাংক একসঙ্গে
কাজ করবে,’ বলেন তিনি।
মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি নিয়ে নতুন আইনের খসড়া করা হয়েছে। সরকারের
কাছে শিগগিরই নিয়ে আসা হবে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর।
উক্ত অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, প্রধান উপদেষ্টার
বিশেষ সহকারী ড. এম আনিসুজ্জামান চৌধুরী।
মন্তব্য করুন


কেউ যাতে ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত না হয় তা নিশ্চিত করতে হবে বলে জানান প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদ।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ল' অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের (রুলা) সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় প্রধান বিচারপতি এ কথা বলেন।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুষদের ঐতিহ্য তুলে ধরে প্রধান বিচারপতি বলেন, জাতিকে নেতৃত্ব দিতে, জনসাধারণের সেবা করতে এবং বাংলাদেশে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় অবদান রেখে চলেছে রাবি আইন অনুষদের প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা। প্রধান বিচারপতি বলেন, আমরা স্মরণ করি ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের শহিদদের, যাদের অসীম সাহসিকতায় একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপিত হয়েছিল। ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র নেতৃত্বাধীন বিপ্লবের শহিদদের শ্রদ্ধা জানাই। যাদের অসীম আত্মত্যাগ এক নতুন বাংলাদেশের সূচনা করেছে। তাদের আর্তনাদ ছিল 'আমরা ন্যায়বিচার চাই'। এখন একটি ন্যায্য সমাজের অন্বেষণ প্রতিধ্বনিত হয়। আইনজীবীরা সংবিধানের প্রথম সারির রক্ষক। আইনজীবীরা কণ্ঠহীনদের প্রতিনিধিত্ব করেন। ন্যায় ও সত্য প্রতিষ্ঠায় অসীম ভূমিকা রাখেন আইনজীবীরা। তিনি বলেন, আইনজীবীরা বিচার বিভাগ ও জনগণের মধ্যে সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করেন। বিচার বিভাগ সংস্কারের জন্য একটি ব্যাপক রোডম্যাপ ঘোষণা করেছি। এই উদ্যোগটি আমাদের বিচার বিভাগকে শক্তিশালী করতে এবং সততা ও দক্ষতার সাথে জনগণের সেবা করার ক্ষমতাকে শক্তিশালী করার ভিত্তি। বিচার বিভাগীয় সংস্কারের জন্য মূল লক্ষ্য প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার এবং বিচার বিভাগের স্বাধীনতাকে শক্তিশালী করা। বিচার বিভাগের জন্য একটি পৃথক সচিবালয় তৈরির প্রক্রিয়া ঘোষণা করেছি। যা বিচার বিভাগের প্রশাসনিক স্বায়ত্তশাসন নিশ্চিত করার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। পাশাপাশি সুপ্রিম কোর্টের বিচারকদের নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা এবং যোগ্যতা প্রাতিষ্ঠানিকীকরণের জন্য একটি বিচার বিভাগীয় নিয়োগ কাউন্সিল গঠনে সরকারের কাছে প্রস্তাব করেছি।
মন্তব্য করুন


রাজধানীর যাত্রাবাড়ী এলাকা থেকে ছিনতাইকারী চক্রের ৪ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে র্যাব-১০।
রোববার (২ জুন) রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে যাত্রাবাড়ী এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়।
সোমবার (৩ জুন) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেন, র্যাব-১০ এর সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) ও সহকারী পুলিশ সুপার এম জে সোহেল।
গ্রেফতারকৃতরা হলো: সাকিব ওরফে এল এস এরো (২৩), মো. আরমান (২০), শফিকুল ইসলাম সিয়াম (২৪) ও দেলোয়ার হোসেন (২৪)। অভিযানকালে তাদের কাছ থেকে ছিনতাই কাজে ব্যবহৃত ২টি চাকু উদ্ধার করা হয়।
র্যাব-১০ এর সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) ও সহকারী পুলিশ সুপার এম জে সোহেল জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, গ্রেফতারকৃতরা বেশ কিছুদিন ধরে যাত্রাবাড়ীসহ রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় পথচারীদের ধারালো চাকুর ভয় দেখিয়ে টাকা-পয়সা ও মোবাইল ফোনসহ বিভিন্ন মূল্যবান সম্পদ ছিনতাই করে আসছিলেন।
তাদের নামে সংশ্লিষ্ট থানায় নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়। সেই সঙ্গে তাদের থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে বলেও জানান র্যাব-১০ এর সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) ও সহকারী পুলিশ সুপার এম জে সোহেল।
মন্তব্য করুন


ঢাকা-৬ সংসদীয়
আসনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন ইঞ্জিনিয়ার
ইশরাক হোসেন। তিনি গত রোববার (২৮ ডিসেম্বর) দুপুরে ঢাকার সেগুনবাগিচায় অবস্থিত ঢাকা
বিভাগীয় কমিশনার শফর উদ্দিন আহমদ চৌধুরীর কার্যালয়ে মনোনয়নপত্র জমা দেন তিনি।
ঢাকা-৬ আসনে
মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন।
তিনি জানান,
সব আনুষ্ঠানিকতা যথাযথভাবে সম্পন্ন হয়েছে এবং রিটার্নিং কর্মকর্তা কাগজপত্র যাচাই
করে নিজেই তার মনোনয়নপত্র গ্রহণ করেছেন।
মনোনয়নপত্র
জমা দেয়ার পর প্রতিক্রিয়ায় ইশরাক হোসেন বলেন, এখন পর্যন্ত নির্বাচনী পরিবেশ অত্যন্ত
ভালো রয়েছে। এর আগেও নির্বাচনে অংশগ্রহণের অভিজ্ঞতা থাকায় তিনি পরিস্থিতি সম্পর্কে
আত্মবিশ্বাসী। তিনি আশা প্রকাশ করেন, আসন্ন নির্বাচন শান্তিপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত
হবে এবং সব রাজনৈতিক দল গণতান্ত্রিক উপায়ে নির্বাচনে অংশ নেবে।
তিনি বলেন,
প্রত্যেক নাগরিক যেন নির্ভয়ে, নির্বিঘ্নে ও বিনা বাধায় ভোটকেন্দ্রে গিয়ে নিজের পছন্দের
প্রার্থীকে ভোট দিতে পারেন সে লক্ষ্যেই আমরা কাজ করে যাব, ইনশাআল্লাহ।
নির্বাচনের
চ্যালেঞ্জ প্রসঙ্গে ইশরাক হোসেন বলেন, নির্বাচনের তারিখ নির্ধারিত হওয়া, দলের ভারপ্রাপ্ত
চেয়ারম্যানের দেশে ফেরা এবং দলীয় কর্মকাণ্ড চাঙা হলেও কিছু চ্যালেঞ্জ এখনো রয়েছে।
তবে ঢাকা-৬ আসন নিয়ে তিনি অত্যন্ত আশাবাদী বলে জানান। তিনি বলেন, এই আসনের সব থানা
ও ওয়ার্ডের সিনিয়র নেতৃবৃন্দ তার সঙ্গে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করছেন।
ঢাকা-৬ আসনের
ঐতিহাসিক গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি স্মরণ করেন, ১৯৯১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তার
বাবা মরহুম সাদেক হোসেন খোকা তৎকালীন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনাকে ৩০০ ভোটের
ব্যবধানে পরাজিত করেছিলেন।
নির্বাচন বানচালের
আশঙ্কা প্রসঙ্গে ইশরাক হোসেন বলেন, শেষ দিন পর্যন্ত এ ধরনের আশঙ্কা থেকেই যায়। তবে
তিনি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে যেভাবে জনগণ ঐক্যবদ্ধ হয়েছিল,
সেই ঐক্যের সামনে সব ষড়যন্ত্র ব্যর্থ হবে।
তরুণ ভোটারদের
উদ্দেশ্যে বিশেষ আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, গত তিনটি নির্বাচনে তরুণরা প্রকৃত অর্থে
ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পায়নি। এ কারণে বিএনপি তরুণদের প্রস্তুত করতে বিভিন্ন কর্মশালা
ও প্রশিক্ষণ কর্মসূচি পরিচালনা করছে। ছাত্রদল ও যুবদলসহ অঙ্গসংগঠনগুলো এ কাজে সক্রিয়ভাবে
যুক্ত রয়েছে।
ইশরাক হোসেন
বলেন, তরুণদের প্রতি আমার আহ্বান আপনারা অবশ্যই ভোটকেন্দ্রে যাবেন। কোনোভাবেই আপনার
মূল্যবান ভোটটি মিস করবেন না। যাকে ভোট দেবেন, সেটি নিয়ে আমাদের কোনো আপত্তি নেই।
আমরা চাই জনগণের আশা আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটুক।
তিনি আরও বলেন,
ভবিষ্যৎ নির্বাচনগুলোতে আইনের মাধ্যমে এবং ব্যালটের মাধ্যমে জবাবদিহিতা নিশ্চিত হওয়া
জরুরি। আমি যদি কোনো অন্যায় করি, আমাকেও যেন জবাবদিহিতার আওতায় আনা হয়। সে জন্য
তরুণ প্রজন্মের সক্রিয় অংশগ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
মন্তব্য করুন


ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২৩৭ আসনে সম্ভাব্য প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করেছে জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। নির্বাচনে ঠাকুরগাঁও-১ আসন থেকে লড়বেন বিএনপি মহাসচিব।
আজ সোমবার (০৩ নভেম্বর) সন্ধ্যায় গুলশানে চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে দলের মহাসচিব “মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর” এই তালিকা ঘোষণা করেন।
প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত করতে দুপুর সাড়ে ১২টায় গুলশানে চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে জাতীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে লন্ডন থেকে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে সভায় সভাপতিত্ব করেন। টানা সাড়ে তিন ঘণ্টা বৈঠকের পর সংবাদ সম্মেলনে আসেন বিএনপি মহাসচিব। ঘোষিত তালিকায় দিনাজপুর-৩, বগুড়া-৭ ও ফেনী-১ আসনে প্রার্থী হয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বগুড়া-৬ আসনে।
স্থায়ী কমিটির সদস্যদের মধ্যে আছেন- কুমিল্লা-১ আসনে খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ঢাকা-৮ আসনে মির্জা আব্বাস, ঢাকা-৩ আসনে গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, নরসিংদী-২ আসনে আবদুল মঈন খান, চট্টগ্রাম-১০ আসনে আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, কক্সবাজার-১ আসনে সালাহ উদ্দিন আহমদ, সিরাজগঞ্জ-২ আসনে ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, ভোলা-৩ আসনে হাফিজ উদ্দিন আহমেদ ও দিনাজপুর-৬ আসনে এজেডএম জাহিদ হোসেন।
ভাইস চেয়ারম্যানদের মধ্যে পটুয়াখালী-১ আসনে আলতাফ হোসেন চৌধুরী, নোয়াখালী-৩ আসনে বরকত উল্লাহ বুলু, নোয়াখালী-৪ আসনে মোহাম্মদ শাহজাহান, ফেনী-৩ আসনে আবদুল আউয়াল মিন্টু, মাগুরা-২ আসনে নিতাই রায় চৌধুরী, কুমিল্লা-৩ আসনে কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ, টাঙ্গাইল-৮ আসনে আহমেদ আজম খান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্যদের মধ্যে কুমিল্লা-৬ আসনে মনিরুর হক চৌধুরী, ঢাকা-২ আসনে আমান উল্লাহ আমান, নোয়াখালী-১ আসনে মাহবুব উদ্দিন খোকন, নোয়াখালী-৪ আসনে জয়নুল আবদিন ফারুক, বরিশাল-১ আসনে জহির উদ্দিন স্বপন, বরিশাল-৫ আসনে মজিবুর রহমান সারোয়ার, নেত্রকোনা-৪ আসনে লুৎফুজ্জামান বাবর, কুড়িগ্রাম-৩ আসনে তাজভীর উল ইসলাম, পাবনা-৪ আসনে হাবিবুর রহমান হাবিব, ব্রাহ্মণবাড়ীয়া-৪ আসনে মুশফিকুর রহমান, মানিকগঞ্জ-৩ আসনে আফরোজা খান রিতা, মানিকগঞ্জ-২ আসনে মঈনুল ইসলাম খান, সিলেট-১ আসনে খন্দকার আবদুল মুক্তাদির, সিলেট-২ আসনে তাহমিনা রশদীর লুনা, লক্ষ্মীপুর-২ আসনে আবুল খায়ের ভুঁইয়া, সিলেট-৬ আসনে এনামুল হক চৌধুরী, টাঙ্গাইল-২ আসনে আবদুস সালাম পিন্টু, ফেনী-২ আসনে জয়নাল আবেদীন ভিপি জয়নাল, কিশোরগঞ্জ-৪ আসনে ফজলুর রহমান, মৌলভীবাজার-৩ আসনে নাসের রহমান রয়েছেন।
মন্তব্য করুন


বিএনপির
ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান দেশে ফিরলে তাকে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা দেওয়া হবে বলে
জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী।
সোমবার
(২২ ডিসেম্বর) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে কোর কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে
তিনি এ কথা জানান।
এ
সময় স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, দেশের সার্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি বিবেচনায় রেখে সব
প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে এবং নিরাপত্তা ইস্যুতে কোনো শঙ্কার কারণ নেই।
তিনি
আরও বলেন, তারেক রহমানের নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় রেখে আসন্ন বড়দিন উপলক্ষে আতশবাজি
পোড়ানো বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
পাশাপাশি
বড়দিনে সড়ক অবরোধ করে কোনো ধরনের অনুষ্ঠান আয়োজন করা যাবে না বলেও জানান স্বরাষ্ট্র
উপদেষ্টা।
মন্তব্য করুন