

চাঁদপুরের শাহরাস্তিতে দুই ছাত্রীকে যৌন হয়রানি এবং ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে এক মাদ্রাসা শিক্ষককে আটক করেছে স্থানীয় থানা পুলিশ। অভিযুক্ত শিক্ষককে রবিবার (৭ ডিসেম্বর) দুপুরে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।শনিবার রাতে এক ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী শাহরাস্তি মডেল থানায় মামলা দায়ের করলে পুলিশ এই পদক্ষেপ নেয়।ভুক্তভোগী পরিবার এবং শাহরাস্তি মডেল থানা সূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার (৪ ডিসেম্বর) সকালে উপজেলার একটি মাদ্রাসার সপ্তম শ্রেণির দুই ছাত্রীকে টার্গেট করেন মাদ্রাসার ইংরেজি শিক্ষক আব্দুল মালেক। তিনি ছাত্রীদের কুপ্রস্তাব দেন এবং স্পর্শকাতর স্থানে হাত দেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এক ছাত্রী চিৎকার করার চেষ্টা করলে শিক্ষক আব্দুল মালেক তাকে শ্রেণিকক্ষের বেঞ্চে শুইয়ে ধর্ষণের চেষ্টা করেন।শিক্ষার্থীটি দ্রুত মাদ্রাসার অধ্যক্ষের কাছে গিয়ে বিষয়টি জানালেও, অধ্যক্ষ তাকে উল্টো ধমক দেন এবং কোনো ব্যবস্থা নেননি বলে অভিযোগ। এতে কোনো প্রতিকার না পেয়ে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীটি শাহরাস্তি মডেল থানায় মামলা দায়ের করে। মামলার ভিত্তিতে পুলিশ শনিবার রাতে অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত শিক্ষককে গ্রেফতার করে।এই ঘটনার বিষয়ে মাদ্রাসার অভিভাবক সদস্য ইব্রাহিম খলিল মঞ্জু জানান, ভুক্তভোগী ছাত্রী ও তার পরিবারের কাছ থেকে তিনি বিষয়টি জেনেছেন। তিনি মনে করেন, অধ্যক্ষ একরামুল হক মজুমদার যদি শুরুতেই বিষয়টি সমাধানের উদ্যোগ নিতেন, তবে পরিস্থিতি এতটা গড়াত না। অধ্যক্ষের গাফিলতি ছিল বলে তিনি মন্তব্য করেন।
এ বিষয়ে মাদ্রাসার অধ্যক্ষ একরামুল হক মজুমদারের কাছে সাংবাদিকরা জানতে চাইলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানান এবং 'কোর্ট থেকে জানার' পরামর্শ দেন।শাহরাস্তি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল বাসার নিশ্চিত করেছেন যে, ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেছে। অভিযুক্ত শিক্ষককে গ্রেফতার করে রবিবার সকালে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
মন্তব্য করুন


ঈদযাত্রা স্বস্তি ও আরামদায়ক করতে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটে প্রথমবারের মতো ঈদ স্পেশাল ট্রেন চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। ২টি বিশেষ ট্রেনই আসা-যাওয়ার পথে দক্ষিণ চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের ৭টি স্টেশনে থামবে।
ঈদুল ফিতরের আগে ও পরে ৫ দিন এই রুটে অন্তত ২টি স্পেশাল ট্রেন চলবে। এই প্রথম এই অঞ্চলের মানুষ ট্রেনে চড়ে ঈদে বাড়ি যাওয়ার সুযোগ পাবেন। সড়ক পথের উপর বাড়ি ফেরা মানুষের চাপ কিছুটা কমবে। স্বস্তিতে বাড়ি ফেরার আশা এ অঞ্চলের মানুষের।
তারা জানিয়েূছেন, দক্ষিণ চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের মানুষজনের পরিবার-পরিজন নিয়ে ঈদে বাড়ি যেতে কি পরিমাণ দুর্ভোগ পোহাতে হয় সেটা বুঝানো মুশকিল। এবার সে ঝামেলা ও দুর্ভোগ অনেকটাই কমবে। ট্রেনে করে স্বাচ্ছন্দ্যে বাড়ি যাওয়া যাবে।
যে সকল স্টেশনে ট্রেন থামবে:
চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটের ট্রেনটি চট্টগ্রাম রেলওয়ে স্টেশন থেকে সকাল ৭টায় কক্সবাজারের উদ্দোশ্যে রওনা হয়ে পৌঁছাবে সকাল ১০টা ২০ মিনিটে। আবার কক্সবাজার থেকে সন্ধ্যা সাতটায় ছেড়ে চট্টগ্রাম পৌঁছাবে রাত ১০টা ৫ মিনিটে।
পথে ট্রেনটি ষোলোশহর, জানালীহাট, পটিয়া, দোহাজারী, সাতকানিয়া, চকরিয়া, ডুলাহাজারা ও রামু স্টেশনে থামবে।
কক্সবাজার রুটে বাণিজ্যিক ট্রেন চলাচল শুরু হয়েছে গত ১ ডিসেম্বর থেকে। বিপুল যাত্রী চাহিদা থাকলেও গত ৩ মাস ধরে এই রুটে চলাচল করছে মাত্র দুটি ট্রেন। তাও চলছে কেবল ঢাকা-চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটে।
ঢাকা-চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটে চলাচল করা কক্সবাজার এক্সপ্রেস ও পর্যটক এক্সপ্রেস বিরতিহীন হওয়ায় দক্ষিণ চট্টগ্রামের লোকজন দোহাজারী-কক্সবাজার রেললাইনের সুফল পাচ্ছেন না। এনিয়ে ক্ষোভ রয়েছে স্থানীয়দের মধ্যে। চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটে নতুন ট্রেন চালুর বিষয়ে দীর্ঘদিন ধরে দাবি জানিয়ে আসছেন তারা।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, দোহাজারী-কক্সবাজার রেললাইন এটি আমাদের কাছে স্বপ্নের মতো ছিল। সে স্বপ্ন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাস্তবতায় রূপ দিয়েছেন। কিন্তু এখনো ট্রেনে চড়ে কক্সবাজার যাওয়ার স্বপ্ন অধরাই থেকে গেছে। চট্টগ্রাম অল্পকিছু যাত্রী পরিবহনের সুযোগ রয়েছে। সেখানের টিকিট পাওয়াও দুর্লভ।
বিপুল চাহিদা থাকা সত্ত্বেও কক্সবাজার এক্সপ্রেস ও পর্যটক এক্সপ্রেসে চড়ে প্রতিদিন চট্টগ্রাম থেকে সরাসরি কক্সবাজার যাওয়ার সুযোগ পান মাত্র ১১৫ জন করে যাত্রী। ঈদ যাত্রায় সেটি আরও কয়েকগুণ বেড়ে যাবে।
ঈদে বিপুল এ যাত্রী চাহিদার কথা মাথায় রেখেই এবারের ঈদযাত্রায় চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটে বিশেষ ট্রেন চালাবে রেলওয়ে। এতে ঈদযাত্রায় দক্ষিণ চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের মানুষের দুর্ভোগ লাঘব হবে।
রেলওয়ের বিভাগীয় বাণিজ্যিক কর্মকর্তা তারেক মুহাম্মদ ইমরান বাংলানিউজকে বলেন, এবার প্রথমবারের মতো চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটে ঈদযাত্রায় বিশেষ ট্রেন পরিচালনা করা হবে। ট্রেনটি চট্টগ্রাম রেলওয়ে স্টেশন থেকে সকাল সাতটায় কক্সবাজারের উদ্দোশ্যে রওনা হয়ে পৌঁছাবে সকাল ১০টা ২০ মিনিটে। আবার কক্সবাজার থেকে সন্ধ্যা সাতটায় ছেড়ে চট্টগ্রাম পৌঁছাবে রাত ১০টা ৫ মিনিটে। ট্রেনটি থামবে ৭ টি স্টেশনে ।
ট্রেনে ঈদযাত্রা শুরু হবে আগামী ৩ এপ্রিল। অগ্রিম টিকিট মিলবে ২৪ মার্চ থেকে। গতবারের মতো এবারও ঈদযাত্রার কোনো টিকেট কাউন্টারে বিক্রি করা হবে না। অনলাইনেই টিকিট মিলবে শতভাগ ।
মন্তব্য করুন


বিতর্কিত মন্তব্যের কারণে আলোচনায় থাকা ‘মুফতি’ কাভি এবার আরও চমকপ্রদ দাবি করেছেন। তিনি বলেছেন, বলিউড অভিনেত্রী কারিনা কাপুর একসময় তার স্ত্রী ছিলেন এবং তাদের মধ্যে নিকাহ সম্পন্ন হয়েছিল।
সম্প্রতি একটি পডকাস্টে অংশ নিয়ে কাভি ভারতীয় চলচ্চিত্রাঙ্গনের সঙ্গে নিজের সম্পর্ক নিয়ে নানা দাবি করেন। সেখানে তিনি বলেন, ১৯৯৬ সালে কারিনা কাপুরের সঙ্গে তার প্রথম যোগাযোগ হয় এবং ১৯৯৯ সাল পর্যন্ত তাদের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। সে সময় করিনার বয়স ২১ থেকে ২৩ বছরের মধ্যে ছিল বলে দাবি করেন তিনি।
কাভির বক্তব্য অনুযায়ী, শরিয়ত অনুযায়ী মুসলমানদের হিন্দু নারীদের বিয়ে করার সুযোগ রয়েছে এবং সেই অনুযায়ী তিনি কারিনা কাপুরকে নিকাহ করেছিলেন। তিনি বলেন, “কারিনা কাপুর আমার স্ত্রী ছিলেন। তিনি পাকিস্তানের ভাবি ছিলেন।”
তিনি আরও দাবি করেন, ‘সেঠ শাহিদ’ নামটি কারিনাকে প্রভাবিত করেছিল এবং সে সময় তিনি বড় তারকা না হওয়ায় তাদের নিকাহ সম্ভব হয়েছিল।
মুফতি কাভির আরও বক্তব্য, কারিনা কাপুর ও সাইফ আলী খানের বিয়ের সময় ভারতের কিছু আলেম ওই বিয়েকে হারাম ঘোষণা করেছিলেন। তবে তিনি নিজে সেটিকে হালাল বলে ফতোয়া দেন। এর পেছনে কারণ হিসেবে তিনি দাবি করেন—কারিনা তার নিকাহে ছিলেন বলেই তিনি প্রকাশ্যে ওই বিয়ের পক্ষে অবস্থান নেন।
পডকাস্টে কাভি আরও বলেন, এখনো যদি অভিনেত্রী ঐশ্বরিয়া রাইয়ের পক্ষ থেকে নিকাহের প্রস্তাব আসে, তবে তিনি প্রস্তুত।
তবে কারিনা কাপুরকে স্ত্রী দাবি করলেও, তাদের মধ্যে কখন ও কীভাবে তালাক হয়েছে—সে বিষয়ে কোনো স্পষ্ট তথ্য দেননি কাভি।
মন্তব্য করুন


সবকিছু
ঠিক থাকলে ঈদের পর যমুনায় উঠবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তবে তার আগেই ঈদুল ফিতরের
শুভেচ্ছা বিনিময়ের রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানটি সেখানে করবেন সরকারপ্রধান। গণপূর্ত অধিদফতর
জানিয়েছে, বড় ধরনের কোনো সংস্কার নয়, চলছে রুটিন কাজ।
আগস্টের
অভ্যুত্থানের সময় গণমানুষ গণভবনের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছিল। এরপর জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি
জাদুঘর হিসেবে গড়ে তোলা হয় ভবনটি। ফলে গণভবনে প্রধানমন্ত্রীর থাকার সুযোগ আর নেই। এর
আগে দীর্ঘ সময় প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন হিসেবে গণভবন ব্যবহার হতো।
অন্তর্বর্তী
সরকারের সময় নতুন প্রধানমন্ত্রীর জন্য জাতীয় সংসদ ভবন ও আগারগাঁও এলাকায় বাসভবন দেখা
হয়েছিল। তবে সময়ের সীমাবদ্ধতার কারণে তা আর সম্ভব হয়নি। তাই রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনাকেই
সরকার প্রধানের বাসভবন হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে।
বর্তমানে
প্রধানমন্ত্রী গুলশান থেকে দীর্ঘ পথ ও যানজট পেরিয়ে সচিবালয় ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে
নিয়মিত অফিস করছেন। যমুনা থেকে কার্যালয় ও সচিবালয় দুইটিরই দূরত্ব কাছাকাছি। ৩০ হেয়ার
রোডে অবস্থিত যমুনার আয়তন প্রায় ৮ একর। এর মধ্যে ভেতরের অংশ ৫.২ একর, আর বাইরের অংশ
২.৮ একর। অফিসসহ ভবনের মোট আয়তন ৩৫ হাজার স্কয়ার ফিট।
গণপূর্ত
অধিদফতর জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের চাহিদা অনুযায়ী কাজ করা হচ্ছে। গণপূর্ত
অধিদফতরের প্রধান প্রকৌশলী খালেকুজ্জামান চৌধুরী বলেন, ভেতরের কাজগুলো পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা
থেকে শুরু করে সবই নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ। এর সঙ্গে কিছু ছোটোখাটো সংস্কারও করতে হচ্ছে।
হাইজিনিক ওয়াশ এবং রং মেইন কাজ। এছাড়া সিলিংয়ের কিছু পুরনো অংশে সমস্যা থাকলে তা ঠিক
করা হচ্ছে।
তবে
বড় ধরনের সংস্কার বা পরিবর্তন করার প্রয়োজন হচ্ছে না বলেও জানান তিনি। খালেকুজ্জামান
চৌধুরী বলেন, আমরা কোনো ব্যাপক নির্দেশনা পাইনি। মূলত রুটিন কাজগুলোই আমরা করছি। এটি
শেষ করতে বেশি সময় লাগবে না। দুই সপ্তাহের মধ্যে আমরা সব কাজ শেষ করে ফেলব।
এদিকে,
সরকার প্রধান যমুনায় এরই মধ্যে দুই দফায় দুটি ইফতার অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছেন। এতে দেশি
ও বিদেশি কয়েকশ অতিথি অংশগ্রহণ করেছেন।
মন্তব্য করুন


ব্রাহ্মণবাড়িয়ার
বাঞ্ছারামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফেরদৌস আরা মারা গেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া
ইন্না ইলাইহি রজিউন)।
আজ বুধবার ঢাকার
একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন তিনি। মৃত্যুকালে তিনি
এক কন্যাসন্তান রেখে গেছেন।
বাঞ্ছারামপুর
থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইয়াছিন জানান, ইউএনও ফেরদৌস আরা আজ বুধবার সকাল
৭টার দিকে ঢাকায় মারা গেছেন। তিনি মাইগ্রেনের সমস্যায় ভুগছিলেন।
কুমিল্লার দাউদকান্দিতে
ফেরদৌস আরার স্বামীর বাড়ি হলেও তার বাবার বাড়ি ঢাকার যাত্রাবাড়িতে।
নবীনগরের ইউএনও
মাহমুদুল হাসান জানান, গত রবিবারও তারা একইসঙ্গে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে আইন-শৃঙ্খলা
বিষযক এক সভায় যোগ দিয়েছিলেন। এরপরই তিনি সোমবার অসুস্থ হলে চিকিৎসার জন্য ঢাকায় গিয়েছিলেন।
প্রসঙ্গত, ৩৬তম
বিসিএসের এ কর্মকর্তা গত বছরের ৯ জানুয়ারি বাঞ্ছারামপুরে যোগদান করেছিলেন।
মন্তব্য করুন


বাংলাদেশ
জামায়াতে ইসলামীর আমিরের সঙ্গে বৈঠক করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক
নাহিদ ইসলাম। আজ রবিবার সকালে জামায়াতের আমিরের ব্যক্তিগত কার্যালয়ে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত
হয়।
বৈঠকে
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেন তারা।
বৈঠকের
পর নাহিদ ইসলামের ফেসবুক পেজে এডমিন পোস্টে জানানো হয়,
আজ
রবিবার ( ১১ জানুয়ারি ) বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের সঙ্গে এক
বিশেষ সাক্ষাতে জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম।
এসময়
তারা আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতির সামগ্রিক চালচিত্র
নিয়ে আলোচনা করেন।
এর
আগে গতকাল শনিবার ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রধান নির্বাচন পর্যবেক্ষক আইভার্স ইজাবসের সঙ্গে
বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘১২ জানুয়ারির মধ্যেই ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ
নির্বাচনকে সামনে রেখে জোটের চূড়ান্ত আসন বণ্টনের ঘোষণা আসবে।’
মন্তব্য করুন


দীর্ঘ
প্রায় দেড় যুগের নির্বাসিত জীবন শেষে বাংলাদেশে ফিরে আসা তারেক রহমান এখন দেশের শাসনভার
গ্রহণের চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছেন বলে অভিহিত করেছে ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
আজ
মঙ্গলবার (১০ জানুয়ারি) ‘তারেক রহমান: ফ্রম এক্সাইল টু এজ অব পাওয়ার’—
শীর্ষক এক প্রতিবেদনে বাংলাদেশের আসন্ন সাধারণ নির্বাচনে বড় জয়ের মধ্যদিয়ে তারেক রহমানের
প্রধানমন্ত্রী হওয়ার সম্ভাবনার কথা বলা হয়েছে।
এতে
বলা হয়, ২০০৮ সালে চিকিৎসার উদ্দেশ্যে লন্ডনে যাওয়ার পর টানা ১৭ বছর বিদেশে অবস্থান
করেন তারেক রহমান। গত ডিসেম্বরের শেষ দিকে তিনি দেশে ফেরেন। এরপর তিনি দেশের মাটিতে
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) নেতৃত্বে সক্রিয় হন এবং আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয়
নির্বাচনে পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে সবচেয়ে এগিয়ে থাকা প্রার্থী হিসেবে উঠে
আসেন।
১৯৬৫
সালের ২০ নভেম্বর ঢাকায় জন্ম তারেক রহমানের। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্তর্জাতিক
সম্পর্ক বিষয়ে পড়াশোনা শুরু করলেও তা শেষ করেননি। পরে তিনি বস্ত্র ও কৃষিভিত্তিক ব্যবসায়
যুক্ত হন।
রয়টার্স
বলছে, ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পতনের পর দেশে যে রাজনৈতিক শূন্যতা
তৈরি হয়েছে, এর প্রেক্ষাপটেই তারেক রহমানের নব উত্থান ঘটেছে। এই পরিবর্তনকে বাংলাদেশের
রাজনৈতিক ধারায় এক অভাবনীয় ও গুরুত্বপূর্ণ বাঁক হিসেবে দেখছেন অনেকে।
ভোটের
প্রচারে তারেক রহমান একটি আধুনিক, গণতান্ত্রিক ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্র গঠনের অঙ্গীকার
করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, ক্ষমতায় গেলে এমন সাংবিধানিক সংস্কার আনা হবে, যাতে কোনো ব্যক্তি
দুই মেয়াদের বেশি প্রধানমন্ত্রী থাকতে না পারেন। তার মতে, এতে করে স্বৈরতান্ত্রিক প্রবণতা
রোধ করা সম্ভব হবে।
অর্থনৈতিক
পরিকল্পনার ক্ষেত্রেও তারেক রহমান বেশ কিছু অগ্রাধিকার তুলে ধরেছেন। তিনি দরিদ্র পরিবারের
জন্য আর্থিক সহায়তা বাড়ানোর কথা বলেছেন, পাশাপাশি দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের
প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। শুধু তৈরি পোশাক শিল্পের ওপর নির্ভর না থেকে খেলনা, চামড়াজাত
পণ্যসহ নতুন শিল্প খাত গড়ে তুলে অর্থনীতিকে বহুমুখী করার পরিকল্পনার কথাও উল্লেখ করেছেন
তিনি।
দ্বিপাক্ষিক
পররাষ্ট্রনীতি ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কের প্রশ্নে রয়টার্সকে তারেক রহমান জানান, তিনি
‘সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব’ নীতিতে বিশ্বাসী। কোনো একক দেশের ওপর
অতিরিক্ত নির্ভরশীল না হয়ে ভারসাম্যপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতি অনুসরণের ইঙ্গিত দিয়েছেন বিএনপির
চেয়ারম্যান।
বিশেষজ্ঞদের
মতে, তারেক রহমানের এই প্রত্যাবর্তন কেবল একটি রাজনৈতিক দলের সম্ভাব্য ক্ষমতায় আসা
নয়, বরং বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক মেরুকরণে একটি বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত বহন করে।
একদিকে তিনি তার বাবা জিয়াউর রহমান ও মা খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক উত্তরাধিকার বহন করছেন,
অন্যদিকে নিজেকে একজন নীতিনির্ধারক ও ভবিষ্যতমুখী নেতা হিসেবে তরুণ ভোটারদের কাছে তুলে
ধরার চেষ্টা করছেন।
মাঠপর্যায়ে
বিএনপির সাংগঠনিক শক্তি এবং ভোটারদের মধ্যে পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা তাকে এই নির্বাচনের
প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী বা ‘ফ্রন্টরানার’ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে বলে রয়টার্সের
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এখন
দেখার বিষয়, আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই তারেক রহমানের দীর্ঘ ‘নির্বাসন থেকে ক্ষমতার পথে’
যাত্রা চূড়ান্ত পরিণতি পায় কি না।
মূলত,
শেখ হাসিনার শাসনামলে তারেক রহমান একাধিক দুর্নীতি মামলার প্রধান লক্ষ্যবস্তু হন এবং
অনুপস্থিতিতেই কয়েকটি মামলায় দণ্ডিত হন। ২০০৪ সালে শেখ হাসিনাকে লক্ষ্য করে গ্রেনেড
হামলার ঘটনায় ২০১৮ সালে তারেক রহমানকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। তিনি সব অভিযোগ
বরাবরই রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছেন এবং হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর
সব মামলায় তিনি খালাস পান।
লন্ডনে
বসে তিনি দেখেছেন, কিভাবে একের পর এক নির্বাচনে তার দল কোণঠাসা হয়েছে, শীর্ষ নেতারা
কারাগারে গেছেন, কর্মীরা নিখোঁজ হয়েছেন, দলীয় কার্যালয় বন্ধ হয়ে গেছে।
দেশে
ফিরে তিনি সংযত ও পরিমিত ভাষায় কথা বলছেন, উসকানিমূলক বক্তব্য এড়িয়ে যাচ্ছেন এবং সংযম
ও সমঝোতার আহ্বান জানাচ্ছেন। তিনি ‘রাষ্ট্রের ওপর জনগণের মালিকানা’
ফিরিয়ে আনা এবং প্রতিষ্ঠান পুনর্গঠনের কথা বলছেন— যা নতুন সূচনার আশায় থাকা বিএনপি সমর্থকদেরও
করেছে উজ্জীবিত।
মন্তব্য করুন


ব্যক্তিখাতে কর বাড়ানো হবে না বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।
আজ শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি ) দুপুরে সিলেট সার্কিট হাউসে প্রশাসনের বিভিন্ন কর্মকর্তার সঙ্গে মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
অর্থমন্ত্রীর সাম্প্রতিক বক্তব্য প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, অর্থমন্ত্রীর বক্তব্য গণমাধ্যমে ভুলভাবে উপস্থাপিত হয়েছে। তিনি বলেন, বাংলাদেশে ট্যাক্স-জিডিপি অনুপাত (রেশিও) অনেক কম, যেখানে প্রতিবেশী দেশগুলোতে তা তুলনামূলক বেশি। দেশের ট্যাক্স-জিডিপি অনুপাত কম হওয়ায় রাজস্ব আদায়ের বড় অংশই সরকারের নিয়মিত ব্যয় মেটাতে চলে যায়, ফলে উন্নয়ন খাতে পর্যাপ্ত ব্যয় করা কঠিন হয়ে পড়ে। তাই অর্থমন্ত্রী ট্যাক্স-জিডিপি অনুপাত বাড়ানোর কথা বলেছেন, ব্যক্তিখাতে কর বাড়ানোর নয়।
মতবিনিময় সভায় প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী এবং পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি অংশ নেন।
সভা শেষে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, রমজানে বাজার পরিস্থিতি বর্তমানে স্থিতিশীল রয়েছে। রমজানের শুরুতে দু-একদিন লেবুসহ কয়েকটি পণ্যের দাম অযৌক্তিকভাবে বেড়ে গিয়েছিল, তবে এখন তা স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে এসেছে।
বাণিজ্য, বস্ত্র ও পাট এবং শিল্প মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী হিসেবে তিনি আরও জানান, স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণ- পরবর্তী চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় আগাম প্রস্তুতির অংশ হিসেবে ইউরোপীয় ইউনিয়নের কাছে মুক্তবাণিজ্য (ফ্রি ট্রেড) চুক্তির বিষয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে। পর্যায়ক্রমে অস্ট্রেলিয়া, কানাডা ও যুক্তরাজ্যের সঙ্গেও মুক্তবাণিজ্য চুক্তির উদ্যোগ নেওয়া হবে।
তিনি বলেন, আসন্ন ঈদের আগেই শিল্প-কারখানার শ্রমিকদের বকেয়া মজুরি ও বেতন পরিশোধ নিশ্চিত করা হবে। মতবিনিময় সভা শেষে বাণিজ্য, শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং পানিসম্পদ মন্ত্রীগণ নদীভাঙনকবলিত সুরমা ও চেঙ্গেরখাল নদী এলাকা পরিদর্শন করেন।
মন্তব্য করুন


জুলাই
গণঅভ্যুত্থানে শহীদ পরিবার এবং আহত ছাত্র জনতার কল্যাণ ও পুনর্বাসন অধ্যাদেশ, ২০২৫
এর খসড়া চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদ।
আজ
বৃহস্পতিবার (২২ মে) প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত প্রধান উপদেষ্টা ড. মোহাম্মদ
ইউনূস এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উপদেষ্টা পরিষদের ২৯ তম বৈঠকে এই অনুমোদন দেয়া হয়।
বিকেলে
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের জনসংযোগ কর্মকর্তা সুমন মেহেদী বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
মুক্তিযুদ্ধ
বিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে উত্থাপিত জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ পরিবার এবং আহত ছাত্র জনতার
কল্যাণ ও পুনর্বাসন অধ্যাদেশ, ২০২৫ এর খসড়া লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগের ভেটিং
সাপেক্ষে চূড়ান্ত অনুমোদন করা হয়েছে যা মন্ত্রী পরিষদ বিভাগের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো
হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে
আরো জানানো হয়, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ পরিবার এবং আহত ছাত্র জনতার কল্যাণ ও পুনর্বাসন
অধ্যাদেশ ছাড়াও আরো কয়েকটি বিষয়ে অনুমোদন দিয়েছে উপদেষ্টা পরিষদ।
এর
মধ্যে রয়েছে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের অধীন দ্য প্রটেকশন এন্ড কনজারভেশন অব
ফিশ (আমেনমেন্ট) ২০২৫ এর খসড়া নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদন। লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগের
ভেটিং সাপেক্ষে এটির অনুমোদন দেয়া হয়।
বাংলাদেশ
ও নেদারল্যান্ড সরকারের মধ্যে নৌ প্রতিরক্ষা সামগ্রী সংক্রান্ত সহযোগিতা বিষয়ক সমঝোতা
স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরের প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়।
মন্ত্রিপরিষদ
বিভাগ থেকে উত্থাপিত সংস্কার কমিশনের সুপারিশের মধ্যে আশু বাস্তবায়নযোগ্য সুপারিশ সমূহের
বিষয়ে দিকনির্দেশনা প্রদান বিষয়ে বলা হয়েছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ কর্তৃক উত্থাপিত সংস্কার
কমিশনের সুপারিশ সমূহ বাস্তবায়নযোগ্য কিনা, বাস্তবায়নযোগ্য হলে সম্ভাব্য সময় এবং বাস্তবায়নের
প্রভাব সংশ্লেষের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় বিভাগ দফা ওয়ারী সুচিন্তিত মতামত মন্ত্রী
পরিষদ বিভাগের মাধ্যমে উপদেষ্টা পরিষদ বৈঠকে উপস্থাপন করবে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ এ বিষয়ে
সার্বিক সমন্বয়ের দায়িত্ব পালন করবে।
মন্তব্য করুন


মানুষ
প্রায়ই ধরে নেয় যে বিড়াল আর কুকুর শত্রু। অবশ্য, কিছু কুকুর আর কিছু বিড়াল একসঙ্গে
না চললেও, অনেকেই আবার দারুণ বন্ধু হতে পারে। এমনকি কিছু কুকুর নিজের জীবন ঝুঁকিতে
ফেলে ফেলাইন বন্ধুকে বাঁচাতেও প্রস্তুত থাকে।
কয়েক বছর আগে ইউক্রেনের দোনেৎস্ক সিটির কাছে একটি প্রতিরক্ষা শিল্প ভবনে বিস্ফোরণ ঘটে। আগুন ও ধোঁয়া আশেপাশে ছড়িয়ে পড়ে, অনেক মানুষ বিপদের মধ্যে পড়ে। লোকজন জ্বলন্ত ভবন থেকে দৌড়ে বেরিয়ে আসার সময় তাদের প্রিয়জনদের সঙ্গে নিতে নিশ্চিত হয়েছিল। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত, বিশৃঙ্খলার মধ্যে কিছু পোষ্য পিছনে রয়ে গিয়েছিল।
বিস্ফোরণের
ধোঁয়া মাইলের পর মাইল ছড়িয়ে পড়ে, আশেপাশের বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়। অনেক মানুষকে
বাড়ি ছেড়ে পালাতে হয়, যার মধ্যে একজন মানুষ ও তার কুকুরও ছিল—তাদের
বাড়িতেও আগুন লেগেছিল। বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর কুকুরটির দড়ি খুলে দেওয়া হয়, কিন্তু
মানুষটি চিন্তিত ছিল না, কারণ কুকুরটি পালিয়ে যাওয়ার মত নয়।
কুকুরটি
কিছুক্ষণ সামনের উঠানে দাঁড়িয়ে রইল, কিন্তু তারপরই বুঝতে পারল কিছু একটা ভুল হচ্ছে।
মালিকের বিস্ময়ের মধ্যেই কুকুরটি বাড়ির দিকে দৌড়াতে শুরু করল, যদিও আগুন ক্রমেই
বাড়ছিল।
কুকুরটি
দৌড়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তার মালিক আতঙ্কে তাকে ডাকতে লাগল। কিন্তু সাধারণত বাধ্য
কুকুরটি এবার কোনোভাবেই কথা শুনল না। সে জানত, আরও জরুরি কিছু করার আছে। কেউ কিছু বুঝে
ওঠার আগেই সে ফিরে গেল জ্বলন্ত বাড়ির ভেতরে। তখনই মালিক বুঝলেন—ঘরের
ভেতরে আরেকটি লোমশ বন্ধু রয়ে গেছে, যে হয়তো বের হতে পারেনি।
কুকুরটি
আগুন থেকে তার সেরা বন্ধুকে উদ্ধার করে । কুকুরটি যখন আগুনের মধ্যে ঢুকল, মালিক ও প্রতিবেশীরা
শ্বাস আটকে তাকিয়ে রইল। পরিস্থিতি কুকুরটির পক্ষে ছিল না, কিন্তু কেউই খারাপ কিছু
ভাবতে চাইছিল না।
কিন্তু
কয়েকটি দীর্ঘ, ভয়ঙ্কর মুহূর্তের পর কুকুরটি বেরিয়ে এলো—তার
দাঁতের মাঝে আলতো করে ধরা একটি ছোট্ট বিড়ালছানা। সে জ্বলন্ত বাড়ি থেকে বিড়ালছানাটিকে
তুলে এনে নিরাপদে নিয়ে আসে। কুকুর আর বিড়ালছানার সম্পর্ক ঠিক কী ছিল তা স্পষ্ট নয়,
তবে তারা একই বাড়ি থেকে এসেছে বলে ধরে নেওয়া যায় যে তারা পরিবার।
সেই
ক্ষুদে বিড়ালছানাটি সত্যিই ভাগ্যবান, কারণ তার দেখভালের জন্য এমন সাহসী কুকুর ছিল।
যদি কুকুরটি নিজের জীবনকে ঝুঁকিতে না ফেলত, তাহলে বাড়িটি পুরোপুরি পুড়ে যাওয়ার আগেই
বিড়ালছানাটি হয়তো বেরোতে পারত না। নিজের ছোট্ট বন্ধুকে বাঁচাতে সে প্রাণপণ চেষ্টা
করেছে। সত্যিকারের বীর সে!
মন্তব্য করুন


প্রতিভার
কোনো বয়স নেই—এ কথার বাস্তব প্রমাণ দিচ্ছেন বিহারের ১৪ বছর বয়সী কিশোর
ক্রিকেটার বৈভব সূর্যবংশী। ব্যাট হাতে মাঠে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের পাশাপাশি এবার
দেশের সর্বোচ্চ শিশু সম্মানেও ভূষিত হলেন তিনি।
আজ
শুক্রবার রাজধানী নয়াদিল্লিতে ভারতের শিশুদের সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মান ‘প্রধানমন্ত্রী
জাতীয় বাল পুরস্কার’ গ্রহণ করেন বৈভব। রাষ্ট্রপতি ভবনে
আয়োজিত অনুষ্ঠানে তার হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে পুরস্কার তুলে দেন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু।
পুরস্কার
গ্রহণের পর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে সাক্ষাৎ করার কথা রয়েছে বৈভবের। দেশের
ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করতেই এই বিশেষ সাক্ষাৎ আয়োজন করা হয়েছে।
তবে
এই সম্মান গ্রহণ করতে গিয়ে একটি ত্যাগও স্বীকার করতে হচ্ছে কিশোর এই ক্রিকেটারকে। পুরস্কার
অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার কারণে তিনি চলমান বিজয় হাজারে ট্রফির বাকি ম্যাচগুলোতে খেলতে
পারছেন না।
সম্প্রতি
দুর্দান্ত পারফরম্যান্সেই আলোচনায় উঠে আসেন বৈভব সূর্যবংশী। অরুণাচল প্রদেশের বিপক্ষে
বিহারের প্রথম ম্যাচে মাত্র ৮৪ বলে ১৯০ রানের ঝোড়ো ইনিংস খেলেন তিনি। এই অসাধারণ ব্যাটিংয়ে
ঘরোয়া ক্রিকেটে নতুন রেকর্ড গড়ে ক্রিকেটপ্রেমীদের নজর কাড়েন বৈভব।
উল্লেখ্য,
প্রধানমন্ত্রী জাতীয় বাল পুরস্কার ভারতের ৫ থেকে ১৮ বছর বয়সী শিশুদের জন্য সর্বোচ্চ
বেসামরিক সম্মান। সাহসিকতা, ক্রীড়া, শিল্প ও সংস্কৃতি, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, সমাজসেবা,
উদ্ভাবন ও পরিবেশ রক্ষায় বিশেষ কৃতিত্বের জন্য প্রতিবছর এই পুরস্কার দেওয়া হয়।
মন্তব্য করুন