

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বগুড়া-৬ (বগুড়া পৌরসভার
২১টি ওয়ার্ড ও সদর উপজেলা নিয়ে গঠিত) আসনে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পক্ষে
ধানের শীষ প্রতীকের আনুষ্ঠানিক নির্বাচনি প্রচারণা শুরু হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) সকালে তারেক রহমানের নির্বাচনি
প্রধান সমন্বয়ক এবং বগুড়া জেলা বিএনপির সভাপতি রেজাউল করিম সদর উপজেলার ভবানীগঞ্জ বাজারে
একটি উঠান বৈঠক শেষে গণসংযোগের মাধ্যমে ভোটারদের মধ্যে ধানের শীষ প্রতীকের লিফলেট বিতরণ
ও ভোট প্রার্থনার মধ্য দিয়ে এ কার্যক্রম শুরু করেন।
এ সময় তিনি বলেন, বগুড়ার মাটি ও মানুষের সন্তান তারেক
রহমান এই প্রথম বগুড়া-৬ আসন থেকে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এটি বগুড়াবাসীর
জন্য একটি আনন্দের ও আশাব্যঞ্জক খবর। ভোটারদের কাছ থেকে স্বতঃস্ফূর্ত সাড়া পাওয়া যাচ্ছে।
ভোটাররা বলছেন, তারেক আমাদের সন্তান, আমরা শুধু তাকে ভোটই দেব না, তার জন্য ভোটও সংগ্রহ
করব।
তিনি জানান, চলতি মাসের শেষের দিকে তারেক রহমান নিজেই
বগুড়ায় গিয়ে প্রচারণায় অংশ নেবেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন বগুড়া জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ
সম্পাদক আলী আজগর তালুকদার, সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি মাফতুন আহমেদ খানসহ দলীয় নেতা-কর্মীরা।
জানা গেছে, এই আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ৫৪ হাজার
৪৩ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ২২ হাজার ৭৯৬ জন, নারী ভোটার ২ লাখ ৩১ হাজার ২৩৭
জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের (হিজড়া) ভোটার রয়েছেন ১০ জন।
মন্তব্য করুন


অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস 'সেনাসদর নির্বাচনী পর্ষদ-২০২৫' এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেছেন।
আজ রোববার
(২০ জুলাই)) সেনা সদর দপ্তরে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এর উদ্বোধন করেন
তিনি।
প্রথম পর্বের এই পদোন্নতি পর্ষদে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কর্নেল ও লেফটেন্যান্ট কর্নেল পদবির যোগ্য কর্মকর্তাগণ পরবর্তী পদোন্নতির জন্য বিবেচিত হবেন।
পদোন্নতি পর্ষদের বক্তব্যে প্রধান উপদেষ্টা শুরুতেই স্মরণ করেন মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী সকল শহীদ, যুদ্ধাহত ও বীর মুক্তিযোদ্ধা, বিশেষ করে সশস্ত্র বাহিনী তথা সেনাবাহিনীর শহীদসহ সকল বীর সেনানীদের, যাঁদের আত্মত্যাগ জাতি চিরদিন কৃতজ্ঞচিত্তে স্মরণ করবে। এছাড়াও, তিনি শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন পার্বত্য চট্টগ্রামে দায়িত্ব পালনকালে সকল আহত ও শহীদ সেনা সদস্যদের। একই সাথে তিনি শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যূত্থানে শহীদ ও আহত সকল ছাত্র জনতাকে।
প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস পদোন্নতির জন্য অফিসারদের পেশাগত দক্ষতা, নেতৃত্বের গুণাবলী, শৃঙ্খলার মান, সততা, বিশ্বস্ততা ও আনুগত্য এবং সর্বোপরি নিযুক্তিগত উপযুক্ততার ওপর গুরুত্বারোপ করতে নির্বাচনী পর্ষদের সদস্যদের নির্দেশনা প্রদান করেন। এছাড়া সৎ, নীতিবান, পেশাদার এবং নেতৃত্বের গুণাবলী সম্পন্ন অফিসারগণই উচ্চতর পদোন্নতির দাবিদার বলে তিনি মন্তব্য করেন।
রাজনৈতিক মতাদর্শের ঊর্ধ্বে থেকে যে সকল অফিসার সামরিক জীবনের বিভিন্ন স্তরে যোগ্য নেতৃত্ব প্রদানে সফল হয়েছেন সে সকল অফিসারকে পদোন্নতির জন্য নির্বাচন করার নির্দেশনা প্রদান করেন প্রধান উপদেষ্টা।
ড.
ইউনূস বলেন, দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনী দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ শান্তি-শৃঙ্খলা, স্থিতিশীলতা ও দুর্যোগ মোকাবেলায় বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে। বর্তমানে সেনা সদস্যগণ বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তা করার জন্য তাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব বেশ কিছু সময় ধরে পালন করে আসছেন। দেশের প্রয়োজনে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর এই ত্যাগের জন্য তিনি সেনাপ্রধান থেকে শুরু করে সেনাবাহিনীর সকল সদস্যকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান।
অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছালে প্রধান উপদেষ্টাকে স্বাগত জানান সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, এসবিপি, ওএসপি, এসজিপি, পিএসসি, প্রধান উপদেষ্টার প্রতিরক্ষা ও জাতীয় সংহতি উন্নয়ন বিষয়ক বিশেষ সহকারি এবং চীফ অব জেনারেল স্টাফ।
নির্বাচনী পর্ষদ উদ্বোধন করায় সেনা প্রধান অধ্যাপক
ড. ইউনূসের প্রতি কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানান।
এসময়
সেনাসদর নির্বাচনী পর্ষদের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সামরিক ও বেসামরিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠান শেষে প্রধান উপদেষ্টা সেনাবাহিনীর উপস্থিত কর্মকর্তাগণের সাথে ফটোসেশনে অংশগ্রহণ এবং পরিদর্শন বইয়ে মন্তব্য লিপিবদ্ধ করেন।
মন্তব্য করুন


শনিবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ফায়ার সেফটি অ্যান্ড সিকিউরিটি এক্সপোর উদ্বোধন অনুষ্ঠানে ভবন অবকাঠামোতে শৃঙ্খলা আনতে নতুন করে নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষ করার কথা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ইসাব সভাপতি নিয়াজ আলি চিশতি, বিজিএমইএ সভাপতি ফারুক হাসান, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের মহাপরিচালক বিগ্রেডিয়ার জেনারেল মো. মাইন উদ্দিন প্রমুখ।
নির্মাণে ত্রুটি ও বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিটের কারণে ভবনে আগুন লাগে জানিয়ে সালমান এফ রহমান বলেন, আগুন লাগার মূল কারণ বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট। যে ইলেকট্রিক ক্যাবল ব্যবহার করা হয় তার মান ভালো না, এই ক্যাবলের মান যেন ভালো হয় সেই ব্যবস্থা নিচ্ছি। এছাড়া অনেকগুলো ভবনের অবকাঠামো ভালো না। রানা প্লাজায় যে ঘটনা ঘটেছিলো, ভবনটা ধসে পড়ে। তার অবকাঠামোর পরিকল্পনা পাস করা হয় নাই। সেখানেও আমরা ব্যবস্থা করছি।
বিএসটিআইকে আরো শক্তিশালী করার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা বলেন, একটা প্রতিরোধমূলক অবকাঠামো করা প্রয়োজন। ঘটনা ঘটার আগে যেন আমরা তা প্রতিরোধ করতে পারি।
তিনি আরও বলেন, অগ্নি নির্বাপণের যন্ত্রপাতি আগে আমদানি করতে হতো। তবে ইসাব (ইলেকট্রনিক্স সেফটি অ্যান্ড সিকিউরিটি অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ) জানিয়েছে এখন ফায়ার বল ও ক্যাবল দেশে তৈরি করছে। কিছুটা আমরা এক্সপোর্টও করছি। দেশে এই ধরনের পণ্যের চাহিদা বেড়েছে। নতুন আইন করছি সেটা হলো বাংলাদেশ বিল্ডিং কোড। আইন অনুযায়ী রেগুলেটরি অথরেটি তৈরি হবে, সেটা এখনো হয় নাই। তবে তা তাড়াতাড়ি করার চেষ্টা করবো। এটা হয়ে গেলে প্রতিরোধমূলক কাজগুলো ওই রেগুলেটরি অথরিটির মাধ্যমে করবো।
ফায়ার সেফটি অ্যান্ড সিকিউরিটি এক্সপোর আয়োজন করছে ইসাব। প্রদর্শনীতে বিশ্বের ৩০টি দেশের শতাধিক বিশ্বখ্যাত প্রতিষ্ঠান অংশগ্রহণ করবে, যারা তাদের ফায়ার সেফটি অ্যান্ড সিকিউরিটির অত্যাধুনিক পণ্যগুলো প্রদর্শন করছে।
ইসাব সভাপতি নিয়াজ আলি চিশতি বলেন, দেশের অর্থনীতি যত বড় হচ্ছে অগ্নি ঝুঁকিসহ নিরাপত্তার বিষয়টি ততই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। আর্থসামাজিক উন্নয়ন ও টেকসই অবকাঠামো নির্মাণে অগ্নি নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এফবিসিসিআই সভাপতি মাহবুবুল আলম অগ্নি ঝুঁকি কমাতে নিম্নমানের পণ্য ব্যবহার না করার আহ্বান জানান।
বিজিএমইএ এ সভাপতি ফারুক হাসান বলেন, অগ্নি নিরাপত্তার সরঞ্জামগুলো দেশেই উৎপাদন করা সম্ভব। এ জন্য এ খাতে উদ্যোক্তার নীতি সহায়তা দেওয়া যেতে পারে।
মন্তব্য করুন


কুপিয়ে হত্যা করা আইনজীবী সাইফুল ইসলাম
আলিফের পরিবারের জন্য ধর্ম উপদেষ্টার তত্ত্বাবধানে কোটি টাকার ফান্ড গড়ে তোলা হচ্ছে।
এ ফান্ড সংগ্রহের দায়িত্বে আছে মানবিক সংগঠন আলহাজ শামসুল হক ফাউন্ডেশন।
আজ শুক্রবার (২৯ নভেম্বর) সকালে চট্টগ্রামের
লোহাগাড়ার পানত্রিশা গ্রামে শহীদ আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফের কবর জিয়ারত ও মোনাজাত
শেষে ধর্ম উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান। ধর্ম উপদেষ্টা
এ ফাউন্ডেশনের উপদেষ্টা।
ধর্ম উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন
বলেন, প্রতিশ্রুতিশীল তরুণ আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফ আইনের শাসন, মানবাধিকার ও ন্যায়বিচার
প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে দেশ ও জাতিকে অনেক কিছু দিতে পারতেন। কিন্তু তাঁকেই নির্মমভাবে
হত্যা করা হয়েছে। এই জঘন্য হত্যাকাণ্ডের সাথে যারা জড়িত তাদের কাউকে ছাড় দেওয়া হবে
না।
এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা
ও ধিক্কার জানিয়ে তিনি বলেন, অপরাধীদের প্রচলিত আইনে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান করতে
সরকার দৃঢ় প্রতিজ্ঞ।
ধর্ম উপদেষ্টা শহিদ আইনজীবী সাইফুল
ইসলামের পরিবারের সদস্যদের সাথে সাক্ষাত করেন ও খোঁজখবর নেন এবং তাদের প্রতি গভীর সমবেদনা
জানান। তিনি এ হত্যাকাণ্ডের ন্যায়বিচারে ক্ষেত্রে সরকারের দৃঢ় মনোভাব ব্যক্ত করেন।
এছাড়া উপদেষ্টা এই পরিবারকে সরকারের পক্ষ হতে সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
ধর্ম উপদেষ্টা হত্যাকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত
পরিবারের সদস্যদের ভরণপোষণ, চিকিৎসা ও পড়ালেখার জন্য শহিদ সাইফুলের বাবার হাতে আলহাজ
শামসুল হক ফাউন্ডেশনের পক্ষ হতে এক কোটি টাকা সহায়তা প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবে নগদ এক
লাখ টাকা, আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে ৫ লাখ টাকার চেক ও আল মানাহিল ফাউন্ডেশনের
পক্ষ থেকে আরো এক লাখ টাকা তুলে দেন।
এ সময় লোহাগাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা
মোহাম্মদ ইনামুল হাসানসহ ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়
কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
মন্তব্য করুন


দেশবাসীর
প্রিয় নেত্রীকে শেষবারের মতো একনজর দেখা আর জানাজায় অংশ নেওয়ার ব্যাকুলতা নিয়ে ঢাকার
পথে সর্বস্তরের লাখো মানুষ। বাস, ট্রেন কিংবা লঞ্চ, যে যেভাবে পারছেন, গতকাল মঙ্গলবার
রাত থেকেই রাজধানীর পথ ধরেছেন।
আজ
বুধবার সকাল হতে না হতেই সেই জনস্রোত মিশতে শুরু করেছে মানিক মিয়া এভিনিউতে।
সাবেক
প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুসংবাদ ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই
দেশের নানা প্রান্ত থেকে ঢাকামুখী এই যাত্রা শুরু হয়। মঙ্গলবার দুপুরের পর থেকে এই
স্রোত আরও জোরালো হয়। রাতে ভোলা, বরিশাল ও চাঁদপুরসহ দক্ষিণাঞ্চলের নেতাকর্মীরা নদীপথে
সদরঘাটে এসে পৌঁছান। একই সঙ্গে উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গসহ দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা
ট্রেন ও বাসগুলোতেও ছিল তুলনামূলক ভিড়। সবার গন্তব্য একটাই, জাতীয় সংসদ ভবন এলাকা।
তীব্র
শীত উপেক্ষা করে গতকাল মঙ্গলবার গভীর রাত থেকেই মানিক মিয়া এভিনিউ ও এর আশপাশের এলাকায়
জড়ো হতে থাকেন নেতাকর্মীরা। সকাল থেকেই লোকে লোকারণ্য হয়ে ওঠে সংসদ ভবন চত্বর ও এর
আশপাশের সড়ক। অনেকে ফুটপাতেই রাত কাটিয়েছেন প্রিয় নেত্রীর জানাজায় সামনের কাতারে থাকার
আশায়।
জাতীয়
বার্তা সংস্থা বাসসের কথা হয় বাষট্টি বছর বয়সী কৃষক সাত্তার মিয়ার সাথে। লাঠিতে ভর
দিয়ে তিনি সুদূর বগুড়া থেকে গতকাল মঙ্গলবার রাতেই ঢাকায় পৌঁছান। থাকবার জায়গা না থাকায়
তীব্র শীত উপেক্ষা করে নির্ঘুম রাত কাটিয়েছেন সংসদ ভবনের সামনের রাস্তায়। ভেজা চোখে
তিনি বলছিলেন, ‘ম্যাডাম হামাগের মা। ওনারে শেষবারের মতো দেখমু না, তা কি হয়? শরীর চলে
না, তাও মনের জোরে আসছি। ওনার জানাজায় শরিক হতে পারলেই শান্তি।’
সরেজমিনে
দেখা গেছে, সমবেত মানুষের চোখেমুখে গভীর শোকের ছায়া। দলীয় কার্যালয় ছাড়াও সড়কগুলোতে
উড়ছে কালো পতাকা। ঢাকার আশপাশের জেলাগুলো থেকে আজ ভোর থেকেই মিছিল নিয়ে আসছেন নেতাকর্মীরা।
তাছাড়া দল-মত নির্বিশেষে সর্বস্তরের মানুষ শেষবারের মত শ্রদ্ধা জানাতে মানিক মিয়ার
পথ ধরেছেন।
আজ
দুপুর ২টায় জাতীয় সংসদ ভবন মাঠ ও মানিক মিয়া এভিনিউতে খালেদা জিয়ার নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত
হবে। জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের খতিব এই জানাজায় ইমামতি করবেন। এরপর পূর্ণ রাষ্ট্রীয়
মর্যাদায় শেরেবাংলা নগরে স্বামী সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কবরের পাশে তাঁকে
সমাহিত করা হবে।
গতকাল
মঙ্গলবার ভোরে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৮০ বছর বয়সে ইন্তেকাল
করেন (ইন্নানিল্লাহে........রাজিউন) দেশের তিনবারের এই প্রধানমন্ত্রী। জীবনের শেষ মুহূর্তে
পাশে ছিলেন তাঁর বড় ছেলে ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ পরিবারের সদস্যরা।
মন্তব্য করুন


আসন্ন
ঈদ উপলক্ষে ট্রেনের অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু হয়েছে। আগামী ১১ এপ্রিল ঈদের দিন ধরে
হিসেব করে যাত্রা বিবেচনায় টিকিট বিক্রি শুরুর দিন নির্ধারণ করা হয়েছে।
রোববার
( ২৪ মার্চ) শুরু হওয়া অগ্রিম টিকিট বিক্রি চলবে ৩০ মার্চ পর্যন্ত।
বাংলাদেশ
রেলওয়ে জানিয়েছে, ৩ এপ্রিলের ভ্রমণের টিকিট পাওয়া যাবে ২৪ মার্চ, ৪ এপ্রিলের ভ্রমণের
টিকিট পাওয়া যাবে ২৫ মার্চ, ৫ এপ্রিলের ভ্রমণের টিকিট পাওয়া যাবে ২৬ মার্চ, ৬ এপ্রিলের
ভ্রমণের টিকিট পাওয়া যাবে ২৭ মার্চ। এছাড়া ৭ এপ্রিলের ভ্রমণের টিকিট পাওয়া যাবে ২৮
মার্চ, ৮ এপ্রিলের ভ্রমণের টিকিট পাওয়া যাবে ২৯ মার্চ, ৯ এপ্রিলের ভ্রমণের টিকিট পাওয়া
যাবে ৩০ মার্চ। সার্ভারের ওপর চাপ কমাতে রেলের পূর্বাঞ্চল ও পশ্চিমাঞ্চলের টিকিট আলাদা
সময়ে বিক্রি করা হবে। সকাল ৮টা থেকে অনলাইনে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলে আর দুপুর ২টায় পশ্চিমাঞ্চলে
টিকিট বিক্রি শুরু হবে।
এবারও
ঈদযাত্রার কোনো টিকিট কাউন্টারে বিক্রি করা হবে না। অনলাইন প্ল্যাটফর্ম থেকেই শতভাগ
টিকিট বিক্রি হবে। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশ রেলওয়ের ওয়েবসাইট, রেল সেবা অ্যাপ ও সহজ ডটকমের
প্ল্যাটফর্ম থেকে টিকিট সংগ্রহ করা যাবে।
এ
বিষয়ে কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন ম্যানেজার মাসুদ সারোয়ার বলেন, শতভাগ অনলাইনে টিকিট বিক্রি
হবে। কালোবাজারি রোধে সহজ.কম যেন টিকিট ব্লক করতে না পারে সে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
মন্তব্য করুন


মন্তব্য করুন


আসন্ন
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে ভোট দিতে বিশ্বের ১০৪টি দেশে ৭ লাখ ২৮ হাজার
২৩ জন প্রবাসী ভোটারের কাছে পোস্টাল ব্যালট পাঠানো হয়েছে।
প্রবাসী
ভোটার নিবন্ধন বিষয়ক ‘আউট অব কান্ট্রি ভোটিং সিস্টেম অ্যান্ড ইমপ্লিমেন্টেশন’
(ওসিভি-এসডিআই) প্রকল্পের টিম লিডার সালীম আহমাদ খান বাসসকে এ তথ্য জানান।
তিনি
বলেন, নিবন্ধিত বাকি প্রবাসীদের কাছেও দ্রুততম সময়ে পোস্টাল ব্যালট পৌঁছে দেওয়া হবে।
তবে ব্যালটের গোপনীয়তা রক্ষা করা সংশ্লিষ্ট ভোটারের দায়িত্ব। কেউ যদি গোপনীয়তা ভঙ্গ
করেন, তবে তার জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) ব্লক করা হতে পারে।
ইসি
কর্মকর্তারা জানান, সর্বোচ্চ ব্যালট পাঠানো হয়েছে সৌদি আরবে ২ লাখ ২৩ হাজার ৯৪৩ জন
প্রবাসীর কাছে। এ ছাড়া মালয়েশিয়ায় ৮৩ হাজার ৮২৭ জন এবং কাতারে ৭৪ হাজার প্রবাসীর কাছে
ব্যালট পৌঁছেছে।
নির্বাচন
কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, এবার পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোট দিতে ‘পোস্টাল ভোট বিডি’
অ্যাপে মোট ১৫ লাখ ৩৩ হাজার ৬৮৩ জন ভোটার নিবন্ধন করেছেন। এর মধ্যে দেশের ভেতরে (ইন-কান্ট্রি)
৭ লাখ ৬১ হাজার ১৪১ জন এবং প্রবাস থেকে ৭ লাখ ৭২ হাজার ৫৪২ জন নিবন্ধন করেছেন ।
ইসি
সূত্রে আরও জানা যায়, গতকাল বুধবার সন্ধ্যায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ৫০ হাজার ৭৯০ জন
প্রবাসীর কাছে ব্যালট পাঠানো হয়। এর মধ্যে সৌদি আরবে ১৭ হাজার, মালয়েশিয়ায় ১১ হাজার
৭৫০, ওমানে ১০ হাজার ২০০ জন প্রবাসী ব্যালট পেয়েছেন।
মন্তব্য করুন


এলিট ফোর্স র্যাবের অতিরিক্ত
মহাপরিচালক (এডিজি, অপারেশনস) হলেন কর্নেল আব্দুল্লাহ আল মোমেন।
র্যাবের একাধিক সূত্র এ
তথ্যটি নিশ্চিত করে বলেছে তিনি বর্তমান এডিজি মাহাবুব আলমের স্থলাভিষিক্ত হবেন।
কর্নেল মোমেন বর্তমানে প্রতিরক্ষা
গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরে কর্মরত আছেন। আর মাহাবুব আলম ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হিসেবে পদোন্নতি
পেয়ে নিজ বাহিনীতে ফেরত যাচ্ছেন। এরপর তিনি গাজীপুরে বাংলাদেশ মেশিন টুলস ফ্যাক্টরি
লি.-এ পরিচালক হিসেবে যোগ দিবেন।
এর আগেও র্যাবে বিভিন্ন
দায়িত্ব পালন করেন আব্দুল্লাহ আল মোমেন। সর্বশেষ তিনি র্যাব-১ এর অধিনায়ক ছিলেন। দীর্ঘদিন
এ দায়িত্ব সাফল্যের সঙ্গে পালন করেন তিনি। গত বছরের জুনে তিনি লে. কর্নেল থেকে পদোন্নতি
পেয়ে কর্নেল হন এবং নিজ বাহিনীতে ফিরে যান।
আব্দুল্লাহ আল মোমেন বিভিন্ন
সময়ে র্যাবে আরও কয়েকটি পদে দায়িত্ব পালন করেন। র্যাব-১২ অধিনায়ক, র্যাব-২ কোম্পানি
কমান্ডার এবং র্যাব সদরদপ্তরের গোয়েন্দা শাখায় উপপরিচালক হিসেবে কাজ করেন তিনি।
র্যাবে ভালো কাজের স্বীকৃতি
হিসেবে তিনি ‘বাংলাদেশ পুলিশ পদক (বিপিএম) এবং ‘রাষ্ট্রপতি পুলিশ পদক’ (পিপিএম) অর্জন
করেন।
আগামী বুধবার মোমেন তার দায়িত্ব
বুঝে নিতে পারেন।
র্যাব-১-এ দায়িত্ব পালনকালে
মোমেনের বেশ কটি অভিযান আলোচিত হয়। রাজধানীর উত্তরার ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের একটি
অংশ কেনাবেচায় জড়িত গোলাম ফারুক নামের এক প্রতারককে গ্রেফতার করেন তিনি। ট্রান্সজেন্ডার
নারী বিউটি ব্লগার সাদ মুআ-কে যৌন নির্যাতন ও হত্যাচেষ্টার ঘটনায় ফুয়াদ আমিন ইশতিয়াক
ওরফে সানিসহ তার দুই সহযোগীকে আটকও তার নেতৃত্বে হয়।
দেশের প্রথম ‘মাদক বিজ্ঞানী’ওনাইসী
সাঈদ ওরফে রেয়ার সাঈদকে গুলশান থেকে আটক; মানব পাচার, করোনা সার্টিফিকেট নিয়ে বিদেশগামীদের
সঙ্গে প্রতারণা, সিকিউরিটি কোম্পানি খুলে প্রতারণা, ট্রেনের টিকিট কালোবাজারি সহজের
সিস্টেম ইঞ্জিনিয়ার রেজাউল করিমকে আটকসহ বিভিন্ন অভিযানের নেতৃত্ব দেন র্যাব-১-এর
এই সাবেক অধিনায়ক।
এছাড়া অবৈধভাবে ভারতে কিডনি
কেনাবেচা চক্রের মূলহোতা শহিদুল ইসলাম মিঠুকে গ্রেফতার করেন মোমেন।
সেনাবাহিনীর এই কর্মকর্তা
কিছুদিন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশেও (বিজিবি) সুনামের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৮ সালে
৪৬ বিজিবির অধিনায়ক থাকাকালে তিনি একজন সহকর্মীর (সৈনিক) জীবন বাঁচাতে নিজেই চালকের
আসনে বসে অ্যাম্বুলেন্স চালিয়ে তাকে হাসপাতালে নিয়ে যান। অধিনায়ক হিসেবে সহকর্মীর প্রতি
এমন সহানুভূতিশীলতা অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করে এবং বেশ প্রশংসিত হন তিনি।
জানা গেছে, আব্দুল্লাহ আল
মোমেন ১৯৯৭ সালে ৩৬ বিএম লং কোর্সে সেনাবাহিনীর পদাতিক কোরে কমিশন লাভ করেন। কর্মজীবনে
তিনি সেনাবাহিনীর বিভিন্ন ইউনিট ও সংস্থার গুরুত্বপূর্ণ পদে সফলতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন
করেন। শান্তিরক্ষা মিশনে লাইবেরিয়া ও গণতান্ত্রিক কঙ্গোতে কাজ করেন এই সেনা কর্মকর্তা।
মন্তব্য করুন


মন্তব্য করুন


যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা পদ থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন আসিফ মাহমুদ। বৃহস্পতিবার বিদায়ী ক্যাবিনেট বৈঠকে অংশ নেওয়ার পর তিনি নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে একটি পোস্ট করেন।পোস্টে তিনি লিখেছেন, গত ষোলো মাস তাকে নানাভাবে শেখার সুযোগ করে দিয়েছে। নিজের সামর্থ্যের সর্বোচ্চটা দিয়ে দায়িত্ব পালনের চেষ্টা করেছেন তিনি। বাধা, হুমকি কিংবা চাপ—সবকিছু উপেক্ষা করে কাজে অবিচল থাকার কথাও উল্লেখ করেন।তিনি আরও জানান, আল্লাহর রহমত ও মানুষের সমর্থনে জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থানের মূল চেতনায় অটল থাকার চেষ্টা করেছেন। বিভিন্ন উদ্যোগ, কাজ এবং সিদ্ধান্তে প্রশংসা যেমন এসেছে, সমালোচনাও ছিল। তবে মানুষের চোখে যে চূড়ান্ত ফলাফল দেখা যায়, তার পেছনের পরিশ্রম ছিল অনেক বেশি কঠিন—এ কথাও তুলে ধরেন তিনি।
তার ভাষায়, গণ-অভ্যুত্থানের পর নীতিতে স্থির থাকার কারণে বহু প্রভাবশালী ব্যক্তি ও গোষ্ঠীর বিরূপতার মুখে পড়তে হয়েছে, ভবিষ্যতেও এর মুখোমুখি হতে হতে পারে। তবুও মানুষের ভালোবাসা, সমর্থন ও আস্থা তাকে শক্তি জোগায়, আর সেই কারণেই এসব ভয় তাকে আর দমাতে পারে না।
মন্তব্য করুন