

ইংরেজি
নববর্ষ উদযাপনে আতশবাজি ও পটকা ফোটানো এবং ফানুস উড়ানো বন্ধে মোবাইল কোর্ট পরিচালনার
সিদ্ধান্ত নিয়েছে পরিবেশ মন্ত্রণালয়।
আজ
সোমবার (৩০ ডিসেম্বর) মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়।
এতে
বলা হয়েছে, আতশবাজি ও পটকা ফোটানোর কারণে শব্দদূষণ ও বায়ুদূষণ হয়। অতিরিক্ত শব্দদূষণে
হৃদরোগ, স্ট্রোক ও মানসিক চাপের ঝুঁকি বাড়ে। এ ছাড়াও ফানুস উড়ানোর ফলে অগ্নিকাণ্ড ও
জীববৈচিত্র্যের ক্ষতি হয়। শব্দদূষণ (নিয়ন্ত্রণ) বিধিমালা, ২০০৬ অনুযায়ী এসব কার্যক্রম
দণ্ডনীয় অপরাধ। প্রথমবার আইন লঙ্ঘনে ১ মাসের জেল বা ৫ হাজার টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ড
হতে পারে। পুনরায় অপরাধ করলে ৬ মাসের জেল বা ১০ হাজার টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ড হতে
পারে। ইংরেজি নববর্ষে আতশবাজি, পটকা ফোটানো ও ফানুস উড়ানো থেকে বিরত থাকার অনুরোধ জানিয়ে
ঢাকার ক্লাবগুলোতে এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংস্থায় পত্র প্রেরণ করা হয়েছে। জনস্বার্থের
জন্য ক্ষতিকর এ কর্মকাণ্ড হতে বিরত থাকতে সকলের প্রতি অনুরোধ জানানো হলো।
মন্তব্য করুন


অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ও উপদেষ্টাদের দপ্তর বণ্টন ও তাদের
দায়িত্ব বণ্টন করে শুক্রবার (৯ আগস্ট) প্রজ্ঞাপন জারি করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।
অন্তর্বর্তী সরকার প্রধান উপদেষ্টাসহ মোট ১৭ সদস্যের সমন্বয়ে গঠিত
হয়েছে ।
বৃহস্পতিবার (৮ আগস্ট) রাতে শপথ নিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের
প্রধান ড. মুহাম্মদ ইউনূস এবং অন্য ১৩ জন উপদেষ্টা। তবে ঢাকার বাইরে থাকায় সেদিন
তিনজন উপদেষ্টা হিসেবে শপথ নিতে পারেননি।
এক নজরে কে কোন মন্ত্রণালয় এর দায়িত্বপ্রাপ্ত হলেন -
১. প্রধান উপদেষ্টা ড.
মুহাম্মদ ইউনূস
১. মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, ২. প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়, ৩. সশস্ত্র
বাহিনী বিভাগ, ৪. শিক্ষা মন্ত্রণালয়, ৫. সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়, ৬. খাদ্য
মন্ত্রণালয়, ৭. গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়, ৮. ভূমি মন্ত্রণালয়, ৯. বস্ত্র ও পাট
মন্ত্রণালয়, ১০. কৃষি মন্ত্রণালয়, ১১. বিজ্ঞান ও প্রযুুক্তি মন্ত্রণালয়, ১২. রেলপথ
মন্ত্রণালয়, ১৩. জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়, ১৪. বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ
মন্ত্রণালয়, ১৫. নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়, ১৬. পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়, ১৭. মহিলা ও
শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়, ১৮. দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়, ১৯. তথ্য ও
সম্প্রচার মন্ত্রণালয়, ২০. প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়, ২১.
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, ২২. শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়, ২৩. সংস্কৃতি বিষয়ক
মন্ত্রণালয়, ২৪. বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়, ২৫. মুক্তিযুদ্ধ
বিষয়ক মন্ত্রণালয়, ২৬. পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও ২৭. প্রাথমিক ও
গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়।
অন্য উপদেষ্টারা
২. ড. সালেহ উদ্দিন আহমেদ- অর্থ মন্ত্রণালয় ও পরিকল্পনা
মন্ত্রণালয়।
৩. ড. আসিফ নজরুল- আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়।
৪. আদিলুর রহমান খান- শিল্প মন্ত্রণালয়।
৫. এ এফ হাসান আরিফ- স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়
মন্ত্রণালয়।
৬. মো. তৌহিদ হোসেন- পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
৭. সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান- পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন
মন্ত্রণালয়।
৮. শারমিন এস মুরশিদ- সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়।
৯. ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেন- স্বরাষ্ট্র
মন্ত্রণালয়।
১০. আ ফ ম খালিদ হোসেন- ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়।
১১. ফরিদা আখতার- মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়।
১২. নুরজাহান বেগম- স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়।
১৩. মো. নাহিদ ইসলাম- ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি
মন্ত্রণালয়।
১৪. আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া- যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়।
তবে ঢাকার বাইরে থাকায় ফারুক-ই-আযম, সুপ্রদীপ চাকমা ও বিধান
রঞ্জন রায় উপদেষ্টা হিসেবে শপথ নিতে পারেননি।
মন্তব্য করুন


ত্রয়োদশ
জাতীয় সংসদের মন্ত্রিসভার শপথের জন্য ডাক পেয়েছেন বিএনপির চেয়ারপাসনের উপদেষ্টা হাজী
আমিন উর রশিদ ইয়াছিন।
আজ
মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) মন্ত্রিপরিষদ থেকে তাকে মন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার জন্য ফোন
করা হয়েছে। হাজী ইয়াছিনের একাধিক ঘনিষ্ঠ সূত্র কালের কণ্ঠকে এই তথ্যটি নিশ্চিত করেছেন।
এদিন
দুপুরের দিকে বিএনপির এই নেতাকে সংসদ সচিবালয় থেকে মন্ত্রী হিসেবে শপথ নিতে প্রস্তুত
থাকার জন্য ফোন করা হয়েছে।
তবে
তিনি টেকনোক্র্যাট কোটায় কোন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পাচ্ছেন তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
হাজী
ইয়াছিন অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন না পাওয়ায় তার অনুসারীরা
দীর্ঘ এক মাসেরও বেশি সময় ধরে রাজপথে লাগাতার আন্দোলন করেন। শেষ পর্যন্ত তিনি স্বতন্ত্র
প্রার্থী হিসেবে কুমিল্লা-৬ আসনে (সদর, কুমিল্লা সদর দক্ষিণ ও কুমিল্লা সিটি কপোরেশন)
নিজের মনোনয়ন জমা দেন। পরবর্তীকালে দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের অনুরোধে তিনি মনোনয়ন
প্রত্যাহার করেন এবং দলীয় প্রার্থী মনিরুল হক চৌধুরীকে বিজয়ী করতে তার পক্ষে নির্বাচনী
প্রচারণায় অংশ নেন।
১৯৯৬
সালের ষষ্ঠ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে হাজী আমিন উর রশিদ ইয়াছিন কুমিল্লা-৯ আসনে থেকে সংসদ
সদস্য নির্বাচিত হন। ২০০৯ সালে তিনি কুমিল্লা কোতয়ালী থানা বিএনপির সভাপতি নির্বাচিত
হন। ২০০১ সালে কেন্দ্রীয় বিএনপির সদস্য মনোনিত হন। ২০০৯ সালে কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা
বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও কেন্দ্রীয় কমিটির সহ কৃষি বিষয়ক সম্পাদক হন।
২০২২
সালের ৩০ মে হাজী ইয়াছিনকে কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহবায়ক ঘোষণা করা হয়। সর্বশেষ
২০২৫ সালের ১২ মার্চ বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের
সদস্য মনোনীত হন তিনি।
মন্তব্য করুন


যে কোনো মূল্যে সীমান্ত হত্যা বন্ধ
করব বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম।
আজ শুক্রবার (৪ জুলাই) দুপুরে ঠাকুরগাঁও
পুরাতন বাসস্ট্যান্ড গোলচত্বরে জুলাই পদযাত্রার শুরুতে তিনি এ কথা বলেন।
এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেন,
এটা হাসিনার বাংলাদেশ নয়, এটা ছাত্র-জনতার বাংলাদেশ। ঠাকুরগাঁও সীমান্তে বাংলাদেশিদের
নির্বিচারে গুলি করা হত্যা করা হচ্ছে৷ অবৈধভাবে একের পর এক পুশইন করা হচ্ছে। যে কোনো
মূল্যে সীমান্ত হত্যা বন্ধ করব। জুলাই-আগস্টে ঠাকুরগাঁওয়ে প্রতিরোধ গড়ে উঠেছিল৷ নতুন
দেশ গঠনে সারা দেশে কর্মসূচি চলছে। জুলাই ঘোষণাপত্র, সংস্কার, বিচার ও নতুন সংবিধানের
মাধ্যমে আমরা নির্বাচন চেয়েছি৷
এনসিপির জুলাই পদযাত্রায় উপস্থিত ছিলেন উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম, দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ, সিনিয়র যুগ্ম সদস্যসচিব ডা. তাসনীম যারা, মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীসহ কেন্দ্রীয় নেতারা৷
মন্তব্য করুন


শনিবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সকালে খালিশপুর ৫৮ বিজিবির সদর দপ্তরে আনুষ্ঠানিকভাবে ঝিনাইদহ ও চুয়াডাঙ্গা জেলার সীমান্ত থেকে জব্দ হওয়া ৩৫ কোটি টাকা মূল্যমানের মাদকদ্রব্য ধ্বংস করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সদস্যরা।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন, বিজিবির কুষ্টিয়া সেক্টর সদর দপ্তরের কমান্ডার কর্নেল মারুফুল আবেদীন, ঝিনাইদহ ও চুয়াডাঙ্গা জেলার চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তাসহ অন্যরা।
বিজিবি জানায়, ২০২৩ সালের ১৪ মার্চ থেকে ২০২৪ সালের ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত ঝিনাইদহ ও চুয়াডাঙ্গা সীমান্ত থেকে জব্দ হওয়া ১২ হাজার ৪৬৩ বোতল ভারতীয় ফেনসিডিল, ১৩ বোতল সিরাপ, ৪৯ হাজার ৮০ বোতল মদ, ৭৬ কেজি গাঁজা, ৮৭১টি ভারতীয় ইয়াবা ট্যাবলেট ধ্বংস করা হয়। এসব মাদকের বাজারমূল্যে প্রায় ৩৫ কোটি টাকা।
মন্তব্য করুন


শনিবার (১২ অক্টোবর) দুপুরে মাদারীপুর জেলার শিবচর পৌর এলাকার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের যাদুয়ারচর মোড়লকান্দি গ্রামে খলিল বেপারীর বাড়িতে বৌভাতের অনুষ্ঠানে রোস্ট আনতে দেরি করা নিয়ে সংঘর্ষে কমপক্ষে ১০ জন আহত হয়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শনিবার দুপুরে ওই এলাকার খলিল বেপারীর বিয়ের বৌভাত অনুষ্ঠানে দুপুরে খাবার খেতে আসেন স্থানীয় অতিথিরা। খাবার পরিবেশনকারী ইব্রাহিম মোড়লের কাছে রোস্ট চাইলে তা আনতে দেরি হয়। এসময় ফারুক মোড়ল নামের এক ব্যক্তির সঙ্গে বাকবিতণ্ডা শুর হয়। এক পার্যায়ে অতিথিদের সঙ্গে বিয়ে বাড়ির লোকজনের সংঘর্ষ বেঁধে যায়। এতে খোকন, ইসমাইল, বিল্লাল, নুরুন্নবী, হেমায়েত ঢালীসহ আহত হন কমপক্ষে ১০ জন। পরে আহতদের উদ্ধার করে শিবচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। এর মধ্যে উন্নত চিকিৎসার জন্য একজনকে ঢাকা মেডিকেলে পাঠানো হয়েছে।
ইব্রাহিম বেপারী নামের এক যুবক বলেন, দাওয়াত খেতে আসা এক লোক রোস্ট আনতে বলেন। পরে রোস্ট আনতে দেরি হলে সে নিজেই রোস্ট আনতে যান। তাকে একটু অপেক্ষা করতে বললে কথা কাটাকাটি শুরু হয়। পরে সংঘর্ষ লেগে যায়।
শিবচর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোকতার হোসেন জানায়, খবর পেয়ে শিবচর থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়ভাবে আলোচনা হচ্ছে। তবে অভিযোগ পেলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
মন্তব্য করুন


মন্তব্য করুন


গণভোটে 'হ্যাঁ'র প্রচারণায় প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীদের সামনে কোনো আইনগত বাধা নেই বলে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী (উপদেষ্টা পদমর্যাদা) অধ্যাপক আলী রীয়াজ। তিনি বলেন, এবারের গণভোট কোনো দলকে ক্ষমতায় বসানো কিংবা কোনো দলকে ক্ষমতায় যেতে বাধা দেয়ার এজেন্ডা নয়; এটি রক্তের অক্ষরে লেখা জুলাই জাতীয় সনদভিত্তিক রাষ্ট্র সংস্কারের এজেন্ডা, যা বাংলাদেশের সকল মানুষের। এই গণভোট হলো জনগণের সম্মতি নেওয়ার একটি প্রক্রিয়া: যার মাধ্যমে নির্ধারণ হবে আগামীর বাংলাদেশ কোন পথে চলবে।
গণভোটের প্রচার ও ভোটার উদ্বুদ্ধকরণের উদ্দেশ্যে বিভাগীয় কর্মকর্তা ও প্রতিনিধিদের মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
গতকাল শনিবার, ১৭ জানুয়ারি, সকালে রাজধানীর বিয়াম ফাউন্ডেশন মিলনায়তনে এ সভার আয়োজন করে ঢাকা বিভাগীয় প্রশাসন।
ঢাকা বিভাগের কমিশনার শরফ উদ্দিন আহমেদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী (ঐকমত্য) মনির হায়দার, বাংলাদেশ অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিস এসোসিয়েশনের সভাপতি ও পূর্ত সচিব মো: নজরুল ইসলাম ওঢাকা রেন্জের ডিআইজি রেজাউল করিম মল্লিক।
অনুষ্ঠানে প্রফেসর আলী রীয়াজ বলেন, সংবিধান বিশেষজ্ঞ, সাবেক বিচারপতি ও সংশ্লিষ্ট আইনজীবীদের সঙ্গে আলোচনায় ‘একবাক্যে’ মত পেয়েছি-গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে প্রচারে প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীদের ওপর আইনগত নিষেধাজ্ঞা নেই। যারা এ বিষয়ে বাধা আছে বলে প্রচার করছে, তারা বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে অথবা ভিন্ন উদ্দেশ্যে বিষয়টি উত্থাপন করছে।
তিনি আরও বলেন, ২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশে যে ব্যক্তিতান্ত্রিক স্বৈরতান্ত্রিক ব্যবস্থা ছিল, তার বিরুদ্ধে যারা সংগ্রাম করেছেন, প্রাণ দিয়েছেন, জেল–জুলুম–নিপীড়ন সহ্য করেছেন, গুমের শিকার হয়েছেন, খুন ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন-তারাই আমাদের দুইটি সুস্পষ্ট দায়িত্ব দিয়ে গেছেন। ব্যক্তিতান্ত্রিক স্বৈরতন্ত্র যেন আর ফিরে আসতে না পারে, সেই পথ রুদ্ধ করা। আরেকটি দায়িত্ব হচ্ছে ভবিষ্যতের বাংলাদেশের পথনকশা নির্মাণ। বাংলাদেশের এক তৃতীয়াংশ মানুষ ২৭ থেকে ৩৭ বছরের নিচে। আগামী অন্তত ৪০ বছর এই দেশ কেমনভাবে চলবে, আজ আমার ও আপনার দায়িত্ব হচ্ছে সে পথ নির্ধারণ করা এবং দুর্বার গতিতে সাফল্য ও সমৃদ্ধির এগিয়ে যাবার আয়োজন করা।
আলী রীয়াজ বলেন, প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীরা কেবল কর্মকর্তা-কর্মচারী নন; তারা একই সঙ্গে নাগরিকও। তাই, রাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ কাঠামো নির্ধারণে নাগরিক দায়িত্ব পালনের প্রশ্নে তাদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। সংবিধানের ২১ অনুচ্ছেদে প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিযুক্তদের জনগণের সেবায় সর্বদা সচেষ্ট থাকার কর্তব্য এবং নাগরিকদের আইন মানা, শৃঙ্খলা রক্ষা ও জাতীয় সম্পদ রক্ষার দায়িত্ব উল্লেখ রয়েছে। সেই দায়িত্বের আলোকে গণভোটে মানুষকে সচেতন করা ও ভোটদানে উদ্বুদ্ধ করার কাজটিও নাগরিক কর্তব্যের অংশ হিসেবে বিবেচিত হবে।
গণভোট নিয়ে বিভ্রান্তির বিষয়টি উল্লেখ করে বক্তারা বলেন, দীর্ঘ সময় ভোট নিয়ে অনাস্থার কারণে অনেকের কাছে গণভোট নতুন অভিজ্ঞতা। ফলে জনগণকে বোঝাতে হবে কীভাবে ব্যালটে ভোট দিতে হবে এবং ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ ভোটের অর্থ কী। তারা জানান, গণভোটের ব্যালটে ‘টিক চিহ্ন’কে প্রচারণার মূল প্রতীক হিসেবে ধরে জনগণকে ভোটকেন্দ্রে আনতে উদ্বুদ্ধ করতে হবে।
আলী রীয়াজ আরও বলেন, বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে তিনটি ম্যান্ডেট নিয়ে কাজ করছে-সংস্কার, বিচার ও নির্বাচন। নির্বাচন সরকার আয়োজন করে না; অনুকূল পরিবেশ তৈরি করে সরকার, আর নির্বাচন পরিচালনা করে নির্বাচন কমিশন। একইভাবে বিচারও আদালত পরিচালনা করবে, সরকার শুধু বিচার প্রক্রিয়া নির্বিঘ্ন রাখতে সহায়ক পরিবেশ নিশ্চিত করছে।
অতীতে এক ব্যক্তির ইচ্ছায় সংবিধান সংশোধন হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘পঞ্চদশ সংশোধনী করার জন্য জাতীয় সংসদের একটা কমিটি করা হয়েছিল। তাতে আওয়ামী লীগ ছাড়া আর কোনো দলের সদস্যরা ছিল না। সেই কমিটি ২৫ থেকে ২৬টি বৈঠক করে সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা থাকবে। তবে কিছু শর্ত আরোপ করা হবে। যেমন ৯০ দিনের বেশি এটা থাকতে পারবে না। বিদেশের সঙ্গে কোনো চুক্তি করতে পারবে না। একটা বৈঠকে সেটা পরিবর্তিত হয়েছে। সেই বৈঠকটা হয়েছিল প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে। প্রধানমন্ত্রীর একক সিদ্ধান্তে বাংলাদেশে পঞ্চদশ সংশোধনী তৈরি হয়েছে। তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল হয়েছে এক ব্যক্তির ইচ্ছায়। সংবিধান সংশোধনী ছেলে খেলায় পরিণত যাতে আর না থাকে সেটা বন্ধ করা দরকার।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মনির হায়দার বলেন, সংবিধান সংস্কার সম্পর্কিত ৪৮টি সুপারিশ গণভোটে আসছে চারটি ক্যাটাগরিতে। চার ক্যাটাগরিতে ৪৮টি সুপারিশ থাকলেও কার্যত প্রশ্নটি একটাই। সেটি হলো—আপনি কি জুলাই অভ্যুত্থানের পক্ষে, না বিপক্ষে?
তিনি বলেন, গণভোট ব্যর্থ হলে ফ্যাসিবাদ আবার ফিরে আসবে এবং সেটি কতটা বীভৎস আর নির্মম ও নৃশংস হতে পারে সেটা আমরা কল্পনাও করতে পারি না। তিনি বলেন, স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র অনুযায়ী আমাদের মুক্তিযুদ্ধের লক্ষ্য ছিল সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়বিচার ভিত্তিক একটি রাষ্ট্র তৈরী করা। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত গত ৫৪ বছরে সেই রাষ্ট্র আমরা পাইনি। বরং এই দীর্ঘ সময়ে ব্যাক্তি ও গোষ্ঠীবিশেষ আমাদের স্বাধীনতাকে অ্যাবিউজ করেছে নিজেদের হীন স্বার্থে। এবার জুলাই অভ্যুত্থান আমাদের সুযোগ করে দিয়েছে মুক্তিযুদ্ধের সেই লক্ষ্য অর্জনের। এখন গণভোটের মাধ্যমে এই সুযোগ আমাদের কাজে লাগাতে হবে।
সভায় ঢাকা বিভাগের জেলা সমূহের জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, জেলা পর্যায়ের বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।
মন্তব্য করুন


সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান
বলেছেন, অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানে সরকারকে সহযোগিতা করার জন্য সেনাবাহিনী
সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়েছে। দীর্ঘ সময় ধরে সেনারা মাঠে দায়িত্ব পালন করছেন। আগে এত
দীর্ঘ সময় মাঠে থাকতে হয়নি। তাই সবার সঙ্গে ভালো সম্পর্ক বজায় রাখতে হবে, দূরত্ব থাকলে
তা দূর করতে হবে।
আজ মঙ্গলবার (১৯ আগস্ট) সকালে ঢাকা
সেনানিবাসে ‘অফিসার্স অ্যাড্রেস’অনুষ্ঠানে
সেনা সদস্যদের উদ্দেশে দেওয়া বক্তব্যে এ কথা বলেন সেনাপ্রধান। এতে পদস্থ কর্মকর্তারা
সরাসরি উপস্থিত ছিলেন এবং দেশের অন্য সব সেনা স্থাপনার কর্মকর্তারা ভার্চুয়ালি যুক্ত
হন।
সেনা সদস্যদের উদ্দেশে জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান
বলেন, সেনাবাহিনী একটি পেশাদার সংগঠন। মাঠে দায়িত্ব পালনের সময় পেশাদারি দেখাতে হবে।
প্রতিশোধমূলক কোনো কাজে জড়ানো যাবে না।
সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগ
মাধ্যমে ভুয়া তথ্য ছড়ানো নিয়ে সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান বলেন, বিভ্রান্তিকর
বার্তা দেখে বিভ্রান্ত হওয়া যাবে না। সতর্ক থাকতে হবে, যাতে কেউ ভুয়া তথ্য ছড়িয়ে সেনাবাহিনীর
ভাবমূর্তি নষ্ট করতে না পারে।
তিনি আরো বলেন, দেশের মানুষ এখন সেনা
সদস্যদের দিকে তাকিয়ে রয়েছে। তোমরাই দেশের ভবিষ্যৎ। তাই দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হতে হবে
এবং বাহিনীর চেইন অব কমান্ড অক্ষুণ্ন রাখতে হবে।
মন্তব্য করুন


রাষ্ট্রপতির সাথে সিইসির সাক্ষাতের সময় পিছালো।
দ্বাদশ সংসদ নির্বাচন নিয়ে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের সঙ্গে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়ালের নেতৃত্বাধীন কমিশনের সাক্ষাতের সময়সূচি পিছিয়ে আগামী ৯ নভেম্বর নির্ধারণ করা হয়েছে।ওই দিন দুপুর ১২টায় বঙ্গবভনে বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হবে।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়ালের দপ্তর থেকে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।
মন্তব্য করুন


আসন্ন
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে ভোট দিতে ‘পোস্টাল ভোট বিডি’
অ্যাপে প্রবাসী নিবন্ধনকারীদের মধ্যে ৩ লাখ ২৬ হাজার ২০টি পোস্টাল ব্যালট ইতিমধ্যে
দেশে এসে পৌঁছেছে।
আজ
বুধবার ( ০৪ ফেব্রুয়ারি ) প্রবাসী ভোটার নিবন্ধন বিষয়ক ‘ওসিভি-এসডিআই’
প্রকল্পের টিম লিডার সালীম আহমাদ খান বাসস’কে এ তথ্য জানান।
তিনি
জানান, সকাল সাড়ে ৯টা পর্যন্ত মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে নিবন্ধনকারীদের মধ্যে ৭ লাখ ৬৬
হাজার ৮৬২টি ব্যালট প্রবাসীদের কাছে পৌঁছেছে।
এর
মধ্যে, ৫ লাখ ২৪ হাজার ৮৬৯ জন প্রবাসী ভোটার তাদের ব্যালট গ্রহণ করেছেন এবং ভোটদান
সম্পন্ন করেছেন ৪ লাখ ৭২ হাজার ৪১০ জন।
এ
ছাড়া, ৪ লাখ ৩১ হাজার ৭৪৮ জন প্রবাসী ভোটার তাদের ব্যালট সংশ্লিষ্ট দেশের পোস্ট অফিস
বা ডাক বাক্সে জমা দিয়েছেন।
ইতমধ্যে
প্রবাসীদের পাঠানো ব্যালটগুলোর মধ্যে ৪১ হাজার ১৭৮টি গ্রহণ করেছেন রিটার্নিং কর্মকর্তা।
বিদেশের
পাশাপাশি দেশের অভ্যন্তরে (আইসিপিভি) অবস্থানরত ভোটারদের কাছেও পোস্টাল ব্যালট পাঠানো
শুরু করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ইতোমধ্যে সারাদেশের ৬ লাখ ৬২ হাজার ১৯১ জন নিবন্ধিত
ভোটারের ঠিকানায় ব্যালট পাঠানো হয়েছে।
ইসির
তথ্য অনুযায়ী, আজ বুধবার সকাল সাড়ে ৯টা পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরে ১ লাখ ৭০ হাজার ৯৮৯
জন ভোটার তাদের ব্যালট গ্রহণ করেছেন। এর মধ্যে ১ লাখ ৩১ হাজার ৬৯১ জন ভোটার ভোটদান
সম্পন্ন করেছেন এবং ১ লাখ ৪ হাজার ১৬৫ জন তাদের ব্যালট পোস্ট অফিস বা ডাক বাক্সে জমা
দিয়েছেন।
সালীম
আহমাদ খান আরও জানান, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে
ভোট দিতে দেশে ও প্রবাসে মিলিয়ে মোট ১৫ লাখ ৩৩ হাজার ৬৮৪ জন ভোটার ‘পোস্টাল ভোট বিডি’
অ্যাপে নিবন্ধন করেছেন।
মন্তব্য করুন