

প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ
ইউনূস বিনিয়োগ, মৎস্য, রোহিঙ্গাদের জন্য মানবিক সহায়তা এবং যুব উন্নয়ন - বিশেষ করে
শিক্ষা ও খেলাধুলা ক্ষেত্রে সহযোগিতা আরও জোরদার করতে জাপানের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
আজ বৃহস্পতিবার (৩ জুলাই) ঢাকায় রাষ্ট্রীয়
অতিথি ভবন যমুনায় জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সির (জাইকা) নির্বাহী সিনিয়র
ভাইস প্রেসিডেন্ট মিয়াজাকি কাতসুরার সঙ্গে এক বৈঠকে এ কথা বলেন তিনি ।
প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. ইউনূস বলেন,
জাপান সব সময়ই একটি বিশ্বস্ত বন্ধু। আমি সম্প্রতি আপনার দেশ সফর করেছি এবং আমি ও আমার
প্রতিনিধিদলের প্রতি যেভাবে আন্তরিকতা ও আতিথেয়তা দেখানো হয়েছে, তা আমাকে গভীরভাবে
স্পর্শ করেছে।
মিয়াজাকি জানান, এশিয়ায় বাংলাদেশ জাপানের
অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার এবং তিনি বাংলাদেশের উন্নয়ন যাত্রায় জাপানের অব্যাহত সহযোগিতার
প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন।
তিনি বলেন, জুলাই আন্দোলনে যারা মৃত্যুবরণ
করেছেন ও আহত হয়েছেন, আমরা তাদের জন্য গভীরভাবে শোকাহত।
বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টা মাতারবাড়ি প্রকল্পের
গুরুত্ব তুলে ধরেন এবং এটিকে ‘বাংলাদেশের ভবিষ্যতের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল’
হিসেবে অভিহিত করেন।
বাংলাদেশের সামুদ্রিক সম্ভাবনার গুরুত্ব
তুলে ধরে তিনি বলেন, আমি জাপানে জাইকার প্রেসিডেন্টের সঙ্গে কথা বলেছি এবং তাঁকে জানিয়েছি
আমরা একটি সমুদ্রভিত্তিক অর্থনীতিতে পরিণত হতে চাই।’
প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ইউনূস বাংলাদেশের
তরুণদের জন্য জাপানে পড়াশোনার বৃত্তি বাড়ানো এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ সম্প্রসারণের
অনুরোধ জানান।
তিনি বলেন, অনেক তরুণ জাপানে কাজ করতে
যেতে চায়। সমস্যা হচ্ছে ভাষা। আমরা প্রস্তাব দিয়েছি যে, জাপানি শিক্ষকরা এখানে এসে
বা দূরশিক্ষণের মাধ্যমে ভাষা ও কর্মস্থলের আচরণ শেখাতে পারেন।
প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস রোহিঙ্গা
শরণার্থীদের পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, এটি একটি দুঃখজনক অবস্থা। হাজার
হাজার তরুণ ক্যাম্পে বেড়ে উঠছে কোনো আশা ছাড়াই। তারা হতাশ ও ক্ষুব্ধ হয়ে উঠছে।’
মিয়াজাকি জানান, ২০২৬ সালে বাংলাদেশের
স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে জাইকা বাংলাদেশের
বিচারব্যবস্থা, জনপ্রশাসন, স্থানীয় সরকার ও স্বাস্থ্য খাতে সংস্কারে সহায়তা দিচ্ছে।
তিনি আরও জানান, আইসিটি মানবসম্পদ বিষয়ক
প্রশিক্ষণ চালু করতে জাইকা বাংলাদেশকে কেন্দ্র করে একটি প্রকল্প গ্রহণ করেছে—যা উভয়
দেশের স্থানীয় সরকার, কোম্পানি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগিতায় পরিচালিত হবে।
যুব উন্নয়ন প্রসঙ্গে প্রধান উপদেষ্টা
বাংলাদেশের নারীদের খেলাধুলায় সাফল্যের কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, আমাদের মেয়েরা
সবখানে জয়লাভ করছে। গতকাল তারা আরেকটি ম্যাচ জিতে চূড়ান্ত পর্বে উঠেছে। আমরা হোস্টেল
সুবিধা বাড়াচ্ছি, তবে তাদের স্বাস্থ্য ও প্রশিক্ষণে সহায়তা দরকার।’
এর জবাবে মিয়াজাকি ইতিবাচক সাড়া দিয়ে
জানান, জাপান ইতোমধ্যে অনেক দেশে শিক্ষাক্ষেত্রে স্বেচ্ছাসেবক পাঠাচ্ছে এবং নারীদের
খেলাধুলায় আরও সহযোগিতার কথা বিবেচনা করবে।
বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস অর্থনৈতিক
সংস্কার, রেলপথ নির্মাণ এবং মানবসম্পদ উন্নয়নের জন্য ১ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি
মূল্যের ঋণ ও অনুদান চুক্তি স্বাক্ষরের জন্য জাপানকে ধন্যবাদ জানান এবং আরও বেশিসংখ্যক
উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে বৈদেশিক উন্নয়ন সহায়তার (ওডিএ) সীমা ৩০০ বিলিয়ন ইয়েন থেকে
৪৫০ বিলিয়ন ইয়েনে বাড়ানোর অনুরোধ জানান।
প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. ইউনূস বলেন,
‘বাংলাদেশ সব সময় জাপানের বন্ধুত্ব ও অবদানের কথা মনে রাখবে।’
মন্তব্য করুন


মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের
গত বছরের ঢাকা সফর সদ্য রাজনৈতিক অস্থিরতা থেকে উত্তরণের সময়ে বাংলাদেশকে এক বড় ধরনের
মানসিক প্রেরণা যুগিয়েছিল বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ
ইউনূস।
মালয়েশিয়া সফরকালে গতকাল বুধবার দেশটির
সরকারি বার্তা সংস্থা বারনামাকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি এ মন্তব্য করেন। অধ্যাপক
ড. ইউনূস বারনামাকে বলেন, আনোয়ার ইব্রাহিমের এই সফর বাংলাদেশের কঠিন সময়ে জাতির মধ্যে
আশার সঞ্চার করেছিল।
বারনামা আজ সাক্ষাৎকারটি প্রকাশ করে।
বারনামার প্রধান সম্পাদক আরুল রাজু দুরার রাজের নেতৃত্বে সংস্থাটির একদল সাংবাদিক এই
সাক্ষাৎকার গ্রহণ করে।
২০২৪ সালের ৮ আগস্ট থেকে অন্তর্বর্তী
সরকার প্রধান হিসেবে দায়িত্বে থাকা অধ্যাপক ড. ইউনূস সাক্ষাৎকারে ছাত্র জনতার নেতৃত্বে
কীভাবে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান সংঘটিত হয় এবং স্বৈরশাসক শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হন তা
স্মরণ করেন। এ সময়ে বাংলাদেশ যে অনিশ্চয়তার মুখোমুখি হয়েছিল, তা তুলে ধরেন তিনি।
এই পরিস্থিতিকে ‘ম্যাগনিচিউড ৯ ভূমিকম্পে
আঘাত হানা’ অবস্থার সঙ্গে তুলনা করে প্রধান উপদেষ্টা
বলেন, সবকিছু ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল, ভীষণ বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি, কিছুই চলছিল না- শুধু ক্ষোভ
ফুঁসে উঠছিল।
প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস বলেন, আমাদের
এমন এক কঠিন সময়ে দেশ চালানোর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। এটা ছিল অত্যন্ত কঠিন কাজ। শুধু
বিশৃঙ্খলা দূর করাই নয়, সবকিছু নতুন করে গড়ে তুলতে হয়েছে। আমরা তখন পথ খুঁজছিলাম, কীভাবে
এগোবো— এমন সময়ে সুখবর এল, মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী
আমাদের দেশে সফরে আসছেন।
বারনামাকে দেওয়া ওই সাক্ষাৎকারে নোবেল
বিজয়ী ইউনূস আনোয়ার ইব্রাহিমের সেই সফর নিয়ে স্মৃতিচারণ করেন।
আনোয়ার ইব্রাহিম ২০২৪ সালের অক্টোবর
মাসে বাংলাদেশ সফর করেন। অধ্যাপক ইউনূসের নেতৃত্বাধীন সরকার দেশ পুনর্গঠনের দায়িত্ব
নেওয়ার মাত্র দুই মাসের মাথায় তিনিই প্রথম গুরুত্বপূর্ণ বিদেশি নেতা হিসেবে বাংলাদেশ
সফর করেন।
‘তিনি আমাদের আশা দিয়েছিলেন। তাঁর সফর
জনগণের মধ্যে বিপুল উচ্ছ্বাস সৃষ্টি করেছিল। মালয়েশিয়া বাংলাদেশের মানুষের কাছে খুব
পরিচিত একটি দেশ, কারণ এখানে বহু বাংলাদেশি বসবাস করেন এবং তাদের পরিবারও এখানে রয়েছে।
এটি কোনো অজানা-অচেনা দেশ নয়। তাই মালয়েশিয়ার
প্রধানমন্ত্রী এসে বললেন, ‘হ্যাঁ, আমরা তোমাদের পাশে আছি’— এটি বাংলাদেশের মানুষের জন্য অনেক
অর্থবহ ছিল। তাঁর উপস্থিতি খুবই উৎসাহব্যঞ্জক ও অনুপ্রেরণাদায়ক ছিল,’ বলেন প্রধান উপদেষ্টা
ড. ইউনূস।
৮৫ বছর বয়সী ইউনূস একজন অর্থনীতিবিদ
ও সামাজিক উদ্যোক্তা। তিনি ১৯৮৩ সালে বাংলাদেশে দরিদ্র বিশেষত নারীদের জন্য জামানতবিহীন
ক্ষুদ্রঋণ প্রদানের লক্ষ্যে গ্রামীণ ব্যাংক প্রতিষ্ঠা করেন।
মালয়েশিয়া বাংলাদেশের বাইরে প্রথম দেশ
হিসেবে আমানাহ ইখতিয়ার মালয়েশিয়া প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে গ্রামীণ ব্যাংক মডেল গ্রহণ করে।
ইউনূস ১১ থেকে ১৩ আগস্ট মালয়েশিয়ায়
তিন দিনের সরকারি সফরে আসেন। এ সময় তিনি মালয়েশিয়া-বাংলাদেশ সম্পর্কের অগ্রগতি বিশেষ
করে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, শ্রম, শিক্ষা, পর্যটন ও প্রতিরক্ষা খাত, এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক
পারস্পরিক স্বার্থের বিষয়ে পর্যালোচনা করতে আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে বৈঠক করেন।
তিনি দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক
জোরদারের লক্ষ্যে দেশটির বিভিন্ন খাতের নেতৃবৃন্দ এবং বড় বড় ব্যবসায়ীদের সঙ্গে সাক্ষাৎ
করেন।
প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস বলেন, আমি
বলতে পারি, আমাদের সফরটি দারুণ ও অত্যন্ত সফল হয়েছে। আমরা এই সফর নিয়ে খুবই সন্তুষ্ট।
সবাই তাঁদের সময় নিয়ে খুব উদার ছিলেন। আমরা যেসব কর্মকর্তা, নেতা ও ব্যক্তির সঙ্গে
দেখা করতে চেয়েছিলাম, সবাই এগিয়ে এসেছেন।
অধ্যাপক ড. ইউনূস আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে
বলেন, এই সফর দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও জোরদার করবে এবং পারস্পরিক উপকারী
ক্ষেত্রগুলোতে সহযোগিতা সম্প্রসারিত করবে, যা ১৯৭২ সালে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনের
পর থেকে বিদ্যমান দৃঢ় বন্ধনের ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে।
দক্ষিণ এশিয়ায় মালয়েশিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম
বাণিজ্য অংশীদার ও রপ্তানি গন্তব্য বাংলাদেশ। এর প্রধান রপ্তানি পণ্য হলো পেট্রোলিয়ামজাত
দ্রব্য, পাম তেল ও রাসায়নিক দ্রব্য, আর আমদানি পণ্য হলো টেক্সটাইল, জুতা, পেট্রোলিয়ামজাত
দ্রব্য ও প্রস্তুত পণ্য।
মন্তব্য করুন


বন্যায় চারদিক যখন ডুবন্ত তখন এক অসহায় অন্তঃসত্ত্বাকে সেনাবাহিনী উদ্ধার করেছে। গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় ওই নারী কাতরাচ্ছিলেন। খবর পেয়ে তাকে উদ্ধার করে কুমিল্লা সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) ভর্তি করা হয়েছে।
বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে একটি পোস্ট থেকে এ তথ্য জানা যায়।
শুক্রবার (২৩ আগস্ট) ফেনী জেলার ফুলগাজী থেকে তাকে উদ্ধার করে অ্যাভিয়েশন হেলিকপ্টার।
পোস্টে বলা হয়েছে, বর্তমান বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় সেনাবাহিনী সিলেট, চট্টগ্রাম এবং কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্টের অধীন ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় উদ্ধার অভিযান পরিচালনা, জরুরি চিকিৎসা সেবা প্রদান এবং ত্রাণ বিতরণে সক্রিয়ভাবে অংশ নিচ্ছে।
ওই নারীকে সেনাবাহিনীর অ্যাভিয়েশন হেলিকপ্টারে করে কুমিল্লা সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
পোস্টটিতে
সবশেষে বলা হয় যে, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী জনগণের পাশে দৃঢ়ভাবে আছে এবং তাদের সহায়তা
এবং উপস্থিতি অব্যাহত রেখেছে।
মন্তব্য করুন


বাংলাদেশের
বৃহত্তম রপ্তানি বাজার ইউরোপীয় ইউনিয়নে (ইইউ) শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার অব্যাহত রাখতে
দ্রুত মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) আলোচনা শুরু করার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা
অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস।
তিনি
বলেছেন, আগামী বছরগুলোতে বর্তমান শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার শেষ হয়ে গেলে বাংলাদেশের
সবচেয়ে বড় রপ্তানি বাজারে বিদ্যমান বাণিজ্য সুবিধা সুরক্ষিত রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ
হয়ে উঠবে।
আজ
রবিবার (১ ফেব্রুয়ারি) রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় ইউরোপীয় চেম্বার অব কমার্স ইন
বাংলাদেশ (ইউরোচ্যাম) চেয়ারপার্সন নুরিয়া লোপেজের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে তিনি এ আহ্বান
জানান। বৈঠকে বাংলাদেশে নিযুক্ত ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলারও উপস্থিত
ছিলেন।
বৈঠকে
বাংলাদেশে ইউরোপীয় বিনিয়োগ বাড়ানো, দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য সম্পর্ক আরো সহজ ও কার্যকর
করা এবং ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ গড়ে তুলতে প্রয়োজনীয় সংস্কার নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা
হয়। পাশাপাশি আসন্ন জাতীয় নির্বাচন এবং নির্বাচন পর্যবেক্ষণে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক
মোতায়েনের বিষয়টিও উঠে আসে।
অধ্যাপক
ইউনূস বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার সম্প্রতি জাপানের সঙ্গে একটি অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব
চুক্তি (ইপিএ) সম্পন্ন করেছে। এর ফলে বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম অর্থনীতির দেশটিতে ৭ হাজার
৩০০টিরও বেশি বাংলাদেশি পণ্যের শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার নিশ্চিত হয়েছে।
তিনি
জানান, বাংলাদেশ অদূর ভবিষ্যতে ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ অন্যান্য দেশের সঙ্গে একই ধরনের
আলোচনা শুরু করার প্রস্তুতি নিচ্ছে, যাতে ইইউ বাজারে বিশেষ করে তৈরি পোশাকসহ বাংলাদেশের
পণ্যের শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার দীর্ঘমেয়াদে বজায় থাকে।
প্রধান
উপদেষ্টা বলেন, জাপানের সঙ্গে ইপিএ আমাদের জন্য নতুন দরজা খুলে দিয়েছে। এটি আমাদের
রপ্তানি খাতে নতুন আশার সঞ্চার করেছে। বাজার সম্প্রসারণের লক্ষ্যে আমরা অবশ্যই ইইউর
সঙ্গে একটি এফটিএ স্বাক্ষরের প্রত্যাশা করছি।
ইউরোচ্যামের
চেয়ারপার্সন নুরিয়া লোপেজ বলেন, স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) মর্যাদা থেকে উত্তরণের
পর বাংলাদেশ ইইউতে তার বিদ্যমান বাণিজ্য সুবিধা হারাতে পারে। এ কারণে জরুরি ভিত্তিতে
এফটিএ আলোচনা শুরু করা প্রয়োজন।
তিনি
বলেন, একটি এফটিএ বাংলাদেশে আরও ইউরোপীয় বিনিয়োগ আকর্ষণ করবে, কর্মসংস্থান সৃষ্টি
করবে এবং উন্নত পশ্চিমা বাজারে রপ্তানি বৃদ্ধিতে সহায়তা করবে। তিনি উদাহরণ হিসেবে
ভারতের সঙ্গে ইইউর এফটিএ আলোচনা এবং ভিয়েতনামের স্বাক্ষরিত চুক্তির কথা উল্লেখ করেন।
লোপেজ
উল্লেখ করেন, ভারত ইইউর সঙ্গে একটি মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষর করছে, অন্যদিকে ভিয়েতনাম
এরইমধ্যে এমন একটি চুক্তি করেছে, যার ফলে উভয় মধ্যম আয়ের দেশই ইউরোপীয় বাজারে অগ্রাধিকারমূলক
প্রবেশাধিকার পাবে।
তিনি
বলেন, আমরা একটি মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির পক্ষে কথা বলছি। আমি বাংলাদেশে বেসরকারি কোম্পানিগুলোকে
বিনিয়োগ করতে উৎসাহিত করার জন্য ইউরোপ যাব।
ইইউ
রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার বলেন, এলডিসি উত্তরণের পর বাংলাদেশের সঙ্গে ইইউর বাণিজ্যিক
সম্পর্ক নতুনভাবে বিকশিত হবে, তবে তা ২০২৯ সালের আগে কার্যকর হবে না।
তিনি
প্রায় ২০ কোটি মানুষের একটি গুরুত্বপূর্ণ বাজার হিসেবে বাংলাদেশের কথা উল্লেখ করে
বলেন, দেশটিতে ইউরোপীয় বিনিয়োগ ও প্রযুক্তি আনতে ইইউ দৃঢ় আগ্রহী। তিনি ২০২৬ সালে
একটি ইইউ-বাংলাদেশ বিজনেস ফোরাম আয়োজনের প্রস্তুতির কথাও জানান।
মিলার
বলেন, আমরা প্রাথমিক রাজনৈতিক সংকেত খুঁজছি, যাতে ইউরোপীয় কোম্পানিগুলো বাংলাদেশে
আসতে উৎসাহিত হয় এবং সমান সুযোগ পায়।
প্রধান
উপদেষ্টা ইউরোপীয় কোম্পানিগুলোর জন্য বাংলাদেশে কারখানা স্থানান্তরের সুযোগের কথাও
তুলে ধরেন। তিনি বলেন, প্রতিযোগিতামূলক ব্যয়ে দেশের বিশাল দক্ষ শ্রমশক্তি কাজে লাগিয়ে
বাংলাদেশ বৈশ্বিক উৎপাদন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠতে পারে।
তিনি
বলেন, আমরা একটি মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল গড়ে তুলছি। আমাদের লক্ষ্য বাংলাদেশকে বিশ্বব্যাপী
ব্যবসার জন্য একটি উৎপাদন হাবে পরিণত করা। আমরা বাংলাদেশে আরও ইউরোপীয় বিনিয়োগ চাই।
আসন্ন
সাধারণ নির্বাচন ও গণভোট পর্যবেক্ষণে ইইউর বড় পরিসরের পর্যবেক্ষক দল পাঠানোর সিদ্ধান্তে
সন্তোষ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ইইউ নির্বাচন পর্যবেক্ষকদের উপস্থিতি আমাদের গণতন্ত্র
পুনরুজ্জীবনের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ আস্থার প্রতিফলন।
তিনি
নির্বাচনী প্রচারণার সামগ্রিক পরিবেশকে অত্যন্ত ইতিবাচক বলেও মন্তব্য করেন।
বৈঠকে
টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) সমন্বয়কারী ও সরকারের সিনিয়র সচিব লামিয়া মোর্শেদও
উপস্থিত ছিলেন।
মন্তব্য করুন


অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা
ড. মুহাম্মদ ইউনূস আসন্ন রমজানে দ্রব্যমূল্য ও পণ্য সরবরাহ শৃঙ্খল স্বাভাবিক রাখার
জন্য মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের কাজ করার নির্দেশ দিয়েছেন।
আজ সোমবার (৩০ ডিসেম্বর) প্রধান উপদেষ্টার
কার্যালয় থেকে এক ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে চারটি বিভাগের ৩১টি জেলার কর্মকর্তাদের
সঙ্গে আলোচনায় যুক্ত হয়ে এই নির্দেশ দেন তিনি।
ভিডিও কনফারেন্সে তিনি কর্মকর্তাদের
নিজ নিজ এলাকায় আইনশৃঙ্খলা স্বাভাবিক রাখা, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখা, কৃষি
পণ্য সংরক্ষণ, সার সরবরাহ এবং শিল্প এলাকায় শান্তিশৃঙ্খলা নিশ্চিত করার জন্য নিবিড়ভাবে
কাজ করার নির্দেশ দেন। ঢাকা, চট্টগ্রাম, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের কর্মকর্তারা এই ভিডিও
কনফারেন্সে যোগ দেন। কনফারেন্সে ১৯ জন বিভাগীয় কমিশনার, পুলিশ কমিশনার, রেঞ্জ পুলিশ
প্রধান, জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার পর্যায়ের কর্মকর্তা বক্তব্য রাখেন।
কনফারেন্সের সমাপনী বক্তব্যে প্রধান
উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, কর্মকর্তাদের বক্তব্য ও মতামত আগামীদিনে
সরকারকে সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহায়তা করবে। এটা আমার জন্য প্রথম সুযোগ ছিল আপনাদের সঙ্গে
কথা বলার। অনেক কিছু শিখলাম, অনেক বিষয়ে নিজেকে অবহিত করলাম। এটা আমাদের কাজে সহায়ক
হবে।’
ড. ইউনুস বলেন, সামনেই রমজান আসছে,
রমজানকে কেন্দ্র করে দ্রব্যমূল্যের দিকে আপনারা বিশেষভাবে নজর রাখবেন। শুধু দ্রব্যমূল্য
নয়, জিনিসপত্র আনা-নেওয়া আরও কীভাবে সহজ করা যায় সে বিষয়েও কাজ করবেন।
তিনি আরও বলেন, সংস্কারের লক্ষ্যে সরকার
যে ১৫টি কমিশন গঠন করেছে, তার মধ্যে বেশ কয়েকটি কমিশন খুব শিগগিরই তাদের প্রতিবেদন
দেবে। এসব প্রতিবেদনের পর রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা শুরু হবে, নাগরিকদের সঙ্গেও
আলোচনা হবে। এর মধ্যে দিয়ে দেশে নির্বাচনের একটি আবহও তৈরি হবে।
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন মন্ত্রী পরিষদ
সচিব শেখ আব্দুর রশিদ।
মন্তব্য করুন


বিদেশে কর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রে দালাল ও প্রতারণামুক্ত ব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি বলেছেন, দালালচক্র, নথি জালিয়াতি ও কাঠামোগত দুর্বলতার কারণে বাংলাদেশের বৈদেশিক কর্মসংস্থানে গভীর সংকট তৈরি হয়েছে।
আজ বুধবার (১৭ ডিসেম্বর) আন্তর্জাতিক অভিবাসী দিবস ও জাতীয় প্রবাসী দিবস–২০২৫ উপলক্ষে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, বিদেশগমন এখন বিপজ্জনকভাবে দালাল ও প্রতারণার সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছে। এ অবস্থা থেকে মুক্ত না হলে অর্থবহ অগ্রগতি সম্ভব নয়। সরকারের নানা উদ্যোগ থাকা সত্ত্বেও দালালনিয়ন্ত্রিত ব্যবস্থার মূল কাঠামোর ভেতরে প্রবেশ করা এখনো সম্ভব হয়নি বলে মন্তব্য করেন তিনি।
গ্রামীণ ব্যাংকের অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে অধ্যাপক ইউনূস বলেন, গ্রামাঞ্চলের নারীরা সন্তানদের বিদেশে পাঠাতে ঋণের জন্য আবেদন জানালে দালালচক্রের বাস্তব চিত্র সামনে আসে। বিশ্বের প্রায় সব দেশেই বাংলাদেশ থেকে অভিবাসন কার্যত দালালনিয়ন্ত্রিত।
রেমিট্যান্স আয়ের মাধ্যমে দেশকে এগিয়ে নিতে হলে যে কোনো মূল্যে এই বাস্তবতা বদলাতে হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল। স্বাগত বক্তব্য দেন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব ড. নেয়ামত উল্লাহ ভূঁইয়া।
অনুষ্ঠানে তিন ক্যাটাগরিতে ৮৬ জন প্রবাসী বাংলাদেশিকে বাণিজ্যিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি (সিআইপি) সম্মাননা দেওয়া হয়। পাশাপাশি প্রবাসী কর্মীদের জন্য বীমা সুবিধা, চিকিৎসা সহায়তা, আর্থিক অনুদান ও বৃত্তির চেক বিতরণ করা হয়।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, নথি জালিয়াতির কারণে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং এর ফলে বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশিদের ভিসা প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হয়েছে।
বিশ্বজুড়ে বিপুল শ্রমিক চাহিদা থাকা সত্ত্বেও বাংলাদেশ বড় সুযোগ হারাচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, জাপান একাই কয়েক লাখ শ্রমিক নিতে আগ্রহী, তবে ভাষা ও কারিগরি দক্ষতা অপরিহার্য।
বাংলাদেশকে ‘যুবাদের সোনার খনি’ আখ্যা দিয়ে অধ্যাপক ইউনূস বলেন, দেশের প্রায় ৯ কোটি মানুষ ২৭ বছরের নিচে। এই মানবসম্পদ কাজে লাগাতে হলে সুশাসন ও শৃঙ্খলাভিত্তিক, দালালমুক্ত ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।
মন্তব্য করুন


অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা
অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস রাখাইনে বাস্তুচ্যুত মানুষের জন্য জাতিসংঘের দ্বারা গ্র্যান্টেড
নিরাপদ অঞ্চল তৈরি এবং তাদের সহায়তা করার উপায় খুঁজে বের করার আহ্বান জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, এটি রাখাইনের বিদ্যমান সঙ্কট
সমাধানে এটি একটি ভালো সূচনা হতে পারে এবং বাংলাদেশে হাজার হাজার নতুন শরণার্থীর প্রবেশ
ঠেকাতে পারবে।
আজ সোমবার (১৪ অক্টোবর) মিয়ানমারের
মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে জাতিসংঘের বিশেষ র্যাপোর্টার থমাস অ্যান্ড্রুজ প্রধান উপদেষ্টার
সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে এলে তিনি এ আহ্বান জানান। রাজধানীর তেজগাঁও প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে
সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।
বিশেষ র্যাপোর্টার থমাস অ্যান্ড্রুজ
রোহিঙ্গা সংকটের বিষয়ে গত মাসে নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে প্রধান
উপদেষ্টার সঙ্গে সাইটলাইনে বৈঠক করেন এবং এ সময় তিনি জাতিসংঘে রোহিঙ্গা সঙ্কট সমাধানে
প্রধান উপদেষ্টার উপস্থাপিত তিন দফা প্রস্তাবের প্রশংসা করেন।
তিনি বলেন, রাখাইন রাজ্যে সহিংসতা বড়
ধরনের সংকট তৈরি করেছে এবং এই পরিস্থিতিতে রোহিঙ্গাসহ বাস্তুচ্যুত ও অনাহারী মানুষের
জন্য জরুরিভিত্তিতে মানবিক সহায়তার প্রয়োজন।
বিশেষ র্যাপোর্টার জানান, মিয়ানমারের
অন্তত ৩.১ মিলিয়ন মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে, যার মধ্যে রাখাইন রাজ্যের রয়েছে কয়েক লাখ।
বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলো এখানে দীর্ঘদিন ধরে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াই করে আসছে।
তিনি উল্লেখ করেন সাম্প্রতিক সময়ে প্রায়
৩০ হাজার রোহিঙ্গা রাখাইন থেকে বাড়িঘর ছেড়ে বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছে। তবে কক্সবাজারের
আশ্রয় শিবিরগুলোতে ইতোমধ্যে ১০ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী বসবাস করছে।
অধ্যাপক ইউনূস রাখাইনে সহিংসতা বন্ধ
ও বাস্তুচ্যুত মানুষের সজন্য আসিয়ানসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে আলোচনা করার পরামর্শ
দেন। তিনি হাজার হাজার রোহিঙ্গা শরণার্থীকে তৃতীয় কোনো দেশে পুনর্বাসন ত্বরান্বিত করতে
বিশেষ র্যাপোর্টারের সহায়তা চান।
২০১৭ সালে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে সংঘটিত
নৃশংসতার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের তদন্ত এবং বাংলাদেশে শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বাধীন
সংঘটিত গণঅভ্যুত্থানের বিষয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়।
মন্তব্য করুন


জার্মানির বিদায়ী রাষ্ট্রদূত আচিম ট্রস্টার
আজ বুধবার (২৫ জুন) ঢাকায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ
ইউনূসের সঙ্গে বিদায়ী সাক্ষাৎ করেছেন। এই সাক্ষাৎ বাংলাদেশে তাঁর চার বছরের কূটনৈতিক
কর্মজীবনের শেষ কার্যক্রম।
সাক্ষাৎকালে প্রধান উপদেষ্টা রাষ্ট্রদূত
ট্রস্টারকে তাঁর দায়িত্ব সফলভাবে শেষ করার জন্য আন্তরিক অভিনন্দন জানান এবং বাংলাদেশ-জার্মানি
সম্পর্ক জোরদারে তাঁর অবদানের প্রশংসা করেন।
প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ
ইউনূস বলেন, জার্মানি আমাদের উন্নয়ন যাত্রার নির্ভরযোগ্য অংশীদার।
রাষ্ট্রদূত ট্রস্টার বাংলাদেশে তাঁর
সময়কাল সম্পর্কে আবেগভরা প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে বলেন, “আমার কর্মজীবনে অনেক আকর্ষণীয়
পোস্টিং ছিল, তবে বাংলাদেশ সত্যিই অনন্য। বাংলাদেশের মানুষের আতিথেয়তা ছিল অভূতপূর্ব,
আমি গভীর কৃতজ্ঞতা ও শ্রদ্ধা নিয়ে বিদায় নিচ্ছি।”
তিনি আরও বলেন, “বিনিয়োগ সম্মেলন ছিল
একটি ভালো উদ্যোগ। আমি বাংলাদেশের জন্য শুভকামনা জানাই এবং আশা করি, অন্তর্বর্তীকালীন
সরকারের সংস্কার প্রক্রিয়া সফল হবে। পাশাপাশি একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত
হবে বলেও আমি আশাবাদী।”
প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস
বাংলাদেশের বিভিন্ন ক্ষেত্রে জার্মানির গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, ইউরোপে বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ
বাণিজ্যিক অংশীদার হিসেবে জার্মানির ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং দেশটি যে অব্যাহত
উন্নয়ন সহযোগিতা দিয়ে যাচ্ছে, তা প্রশংসনীয়।
তিনি বিশেষভাবে রোহিঙ্গাদের জন্য জার্মানির
মানবিক সহায়তার কথাও উল্লেখ করেন।
অধ্যাপক ড. ইউনূস বলেন, “সংকটময় মুহূর্তে
বিশেষ করে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের সহায়তায় আপনার দেশের অব্যাহত সহযোগিতার জন্য আমরা কৃতজ্ঞ।”
প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস
আরও বলেন, আপনার বিদায়ের পরও আমরা আপনার মতামত শুনতে চাই ু তা ইতিবাচক হোক অথবা সমালোচনামূলক। কারণ আপনার অভিজ্ঞতা ও দৃষ্টিভঙ্গি আমাদের কাছে
গুরুত্বপূর্ণ। আমরা আপনাকে বাংলাদেশের একজন সত্যিকারের বন্ধু হিসেবে বিবেচনা করি।
সাক্ষাৎকালে উপস্থিত ছিলেন, এসডিজি
বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক ও সিনিয়র সচিব লামিয়া মোরশেদ এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পশ্চিম
ইউরোপ ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন অনুবিভাগের মহাপরিচালক মো. মোশাররফ হোসেন।
মন্তব্য করুন


দেশের
স্বাস্থ্যখাতে দীর্ঘ দিন থেকে যেসব সমস্যা রয়েছে তা নিরসনে স্বাস্থ্য বিষয়ক সংস্কার
কমিশনের সুপারিশগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে উল্লেখ করে যেসব সুপারিশ এখনই বাস্তবায়নযোগ্য
তা দ্রুত বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ
ইউনূস।
আজ
সোমবার (৫ মে) স্বাস্থ্য বিষয়ক সংস্কার কমিশন রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টার
নিকট তাদের প্রতিবেদন পেশ করার পর তিনি এই নির্দেশ প্রদান করেন।
স্বাস্থ্যবিষয়ক
সংস্কার কমিশনের এই প্রতিবেদনকে যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে অভিহিত করে প্রধান উপদেষ্টা
বলেন, ‘স্বাস্থ্য খাতের সমস্যাগুলো বহুদিনের সমস্যা, এর মাধ্যমে আমরা যদি এসব সমস্যার
সমাধান করতে পারি তা হবে যুগান্তকারী ঘটনা।’
তিনি
বলেন, সংস্কার কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে যেসব সুপারিশ আশু বাস্তবায়নযোগ্য
তা নিয়ে সংশ্লিষ্টদের এখনি মনোযোগী হতে হবে।
ড.
মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, একটি বড় সমস্যা হচ্ছে ডাক্তারের সংকট, আবার কোনো কোনো ক্ষেত্রে
ডাক্তার থাকলেও যেখানে দরকার সেখানে ডাক্তার নেই। এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান করতে হবে।
চিকিৎসা
ব্যবস্থা বিকেন্দ্রীকরণের উপর জোর দিয়ে ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, এটা ছাড়া সমস্যা নিরসন
সম্ভব নয়। চিকিৎসকদের যেখানে পোস্টিং সেখানে থাকাটা নিশ্চিত করতে হবে।
কমিশন
প্রধান জাতীয় অধ্যাপক ডা. এ কে আজাদ খানের নেতৃত্বে এই কমিশনের সদস্যরা তাদের প্রতিবেদন
প্রধান উপদেষ্টার নিকট হস্তান্তর করেন।
এসময়
আরও উপস্থিত ছিলেন, বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের জনস্বাস্থ্য ও স্বাস্থ্য ইনফরমেটিকস
বিভাগের অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ জাকির হোসেন, অধ্যাপক লিয়াকত আলী, ডা. সায়েবা আক্তার,
সাবেক সচিব এম এম রেজা, ডা. আজহারুল ইসলাম, ডা. সৈয়দ মো. আকরাম হোসেন, ডা. সৈয়দ আতিকুল
হক, ডা. আহমেদ এহসানুর রাহমান এবং শিক্ষার্থী প্রতিনিধি উমায়ের আফিফ।
স্বাস্থ্য
বিষয়ক সংস্কার কমিশনের অন্য দুই সদস্য হলেন ডা: নায়লা জামান খান, ডা: মোজাহেরুল হক।
মন্তব্য করুন


বাংলাদেশে ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক স্থান
ছাড়াও সুফি মাজারে যেকোনো বিদ্বেষপূর্ণ বক্তব্য এবং হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে অন্তর্বর্তী
সরকার। সেই সঙ্গে হামলায় জড়িতদের অতি দ্রুত আইনের আওতায় আনার পাশাপাশি তাদের বিরুদ্ধে
কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার কথাও জানিয়েছে সরকার।
শনিবার (১৪ সেপ্টেম্বর) প্রধান উপদেষ্টা
ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কার্যালয় থেকে পাঠানো
বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
এতে বলা হয়, গত কয়েকদিনে কিছু দুর্বৃত্তের
দেশের সুফি মাজারগুলোতে হামলা চালানোর বিষয়টি অন্তর্বর্তী সরকারের নজরে এসেছে। অন্তর্বর্তী
সরকার ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক স্থাপনা এবং সুফি মাজার সম্পর্কিত যেকোনো বিদ্বেষমূলক বক্তব্য
এবং হামলার তীব্র নিন্দা জানায়। এসব হামলার সঙ্গে জড়িতদের অতি দ্রুত আইনের আওতায়
আনা হবে। সেই সঙ্গে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে। ধর্মীয় উপাসনালয়
ও সাংস্কৃতিক স্থাপনা রক্ষায় পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নিতে ইতোমধ্যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে
নির্দেশ দেয়া হয়েছে। বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের
দেশ। ধর্মীয় বা সাংস্কৃতিক সহিষ্ণুতা ও সম্প্রীতিকে বিঘ্নিত করার যেকোনো প্রচেষ্টা
সরকার দৃঢ়ভাবে মোকাবিলা করবে।
মন্তব্য করুন


শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তি ও চাকরিপ্রাপ্তির
ক্ষেত্রে কোটা প্রয়োগের বিষয়ে তিনটি সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।
আজ বৃহস্পতিবার (৩০ জানুয়ারি) অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে এ বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস।
বৈঠকে ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষে সরকারি ও বেসরকারি মেডিকেল কলেজ, ডেন্টাল কলেজ ও ইউনিটে মুক্তিযোদ্ধা, শহীদ মুক্তিযোদ্ধা ও বীরাঙ্গনার সন্তানদের জন্য সংরক্ষিত ৫ শতাংশ আসনে শিক্ষার্থী ভর্তির বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।
সভার সিদ্ধান্তে বলা হয়, উপদেষ্টা পরিষদ-বৈঠকের আলোচনা অনুযায়ী, স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগ, আইন ও বিচার বিভাগ, শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় প্রয়োজনীয় কার্যক্রম নেবে।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়কে সরকারি চাকরিতে নিয়োগের ক্ষেত্রে বর্তমান প্রেক্ষাপটে কোটা পদ্ধতির প্রয়োগ বিষয়ে মতামত বা সুপারিশসহ সারসংক্ষেপ উপদেষ্টা পরিষদ-বৈঠকে উপস্থাপন করতে হবে।
মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তির ক্ষেত্রে বর্তমান প্রেক্ষাপটে কোটা পদ্ধতির প্রয়োগ বিষয়ে মতামত বা সুপারিশসহ সারসংক্ষেপ উপদেষ্টা পরিষদ-বৈঠকে উপস্থাপন করবে।
মন্তব্য করুন