

রাজধানীতে
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সম্মুখযোদ্ধা, ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও ঢাকা-৮ আসনের স্বতন্ত্র
প্রার্থী শরিফ ওসমান হাদিকে গুলি করে হত্যার পর এবার জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি)
খুলনা বিভাগীয় প্রধান এবং শ্রমিক শক্তির কেন্দ্রীয় সংগঠক মোতালেব শিকদারকে একই স্টাইলে
মাথায় গুলি করা হয়েছে। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।
সোমবার
(২২ ডিসেম্বর) দুপুর পৌনে ১২টার দিকে খুলনার সোনাডাঙ্গা এলাকায় প্রকাশ্যে এ ঘটনা ঘটে।
আহত
মোতালেব শিকদার সোনাডাঙ্গা শেখপাড়া পল্লী মঙ্গল স্কুল এলাকার মৃত মোসলেম শিকদারের
ছেলে।
স্থানীয়রা
জানান, গুরুতর আহত অবস্থায় মোতালেব শিকদারকে উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে
ভর্তি করা হয়েছে। চিকিৎসকরা তার অবস্থাকে আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন।
এদিকে
দুপুরে সামাজিকমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে এনসিপির যুগ্ম মুখ্য সংগঠক ডা. মাহমুদা মিতু
বলেন, এনসিপির খুলনা বিভাগীয় প্রধান ও শ্রমিক শক্তির কেন্দ্রীয় সংগঠক মোতালেব শিকদারকে
একটু আগে গুলি করা হয়েছে। আশঙ্কাজনক অবস্থায় খুলনা মেডিকেলে নেওয়া হয়েছে।
এনসিপির
খুলনা জেলা ও মহানগরের সংগঠক সাজিদুল ইসলাম বাপ্পি বলেন, সোনাডাঙ্গা এলাকায় মোতালেব
শিকদার গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে
নিয়ে গেছেন। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক।
এ
বিষয়ে সোনাডাঙ্গা মডেল থানার তদন্ত কর্মকর্তা (ওসি) অনিমেষ মণ্ডল গণমাধ্যমকে বলেন,
মোতালেব নামে এক ব্যক্তিকে দুর্বৃত্তরা গুলি করলে উপস্থিত জনতা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে
খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। পরে চিকিৎসকদের পরামর্শে তার মাথার সিটি স্ক্যানের
জন্য শেখপাড়া সিটি ইমেজিং সেন্টারে নেওয়া হয়। তিনি আরও বলেন, ঘটনার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থলে
গিয়ে তদন্ত শুরু করেছে। হামলার কারণ ও জড়িতদের শনাক্তে কাজ চলছে।
মন্তব্য করুন


প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, মাইক্রোক্রেডিটই
ব্যাংকিংয়ের ভবিষ্যৎ।
তিনি মাইক্রোক্রেডিট’র জন্য আলাদা আইন করার
আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, এনজিও ভাবনা থেকে বেরিয়ে এসে মাইক্রোক্রেডিটকে ব্যাংকিংয়ের ধারণা
গ্রহণ করতে হবে। আর এ ধারণা গ্রহণ করেই ঋণগ্রহিতাকে সেবা দিতে হবে।
তিনি আরো বলেন, ‘মাইক্রোক্রেডিট এখনো এনজিও। এই এনজিও থেকে উত্তরণ
ঘটাতে হবে। এনজিও পর্যায়ে থেকে গেলে ব্যাংকিং মেজাজ আসবে না। মেজাজে আসতে হলে এটাকে
ব্যাংক হতে হবে। মাইক্রোক্রেডিট’র জন্য আলাদা আইন করতে
হবে।’
আজ শনিবার (১৭ মে) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি
অথরিটির (এমআরএ) নতুন ভবন উদ্বোধনকালে এ কথা বলেন।
গ্রামীণ ব্যাংকের শুরুর সময়কার স্মৃতিচারণ করে প্রফেসর ইউনূস
বলেন, আমরা যখন গ্রামীণ ব্যাংক করলাম তখন আপত্তি উঠলো এটাকে ব্যাংক বলা যাবে কি না।
আমরা বললাম, আমাদেরটাই প্রকৃত ব্যাংক, তোমাদেরটা লোক দেখানো। ব্যাংক যে শব্দ থেকে উৎপন্ন
হয়েছে সেটা হলো ট্রাস্ট, তোমরা যেটা করছো সেটা ডিসট্রাস্ট। আমাদের ব্যাংকিং মানুষের
বিশ্বাসের ভিত্তিতে হয়েছে। জামানতবিহীন ব্যাংক, বিশ্বাসের ভিত্তিতে আমরা টাকা দেই।
আজ এমন সময় আমরা আলাপ করছি যখন জামানতওয়ালা ব্যাংক, যারা নিজেদের প্রকৃত ব্যাংক বলে
দাবি করত তাদের অনেকে আজ হাওয়া। টাকা নিয়ে লোপাট। ব্যাংক শেষ। আর মাইক্রোক্রেডিটের
পরিসংখ্যান দেখেন। কেউ পয়সা নিয়ে পালায় নাই। এই হলো পরিহাস।’
মাইক্রোক্রেডিটই ব্যাংকিংয়ের ভবিষ্যৎ উল্লেখ করে প্রধান উপদেষ্টা
ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, ‘এটাই প্রকৃত ব্যাংকিং, আগামী দিনের ব্যাংকিং যেটাতে মানুষ
নিজের পরিচয়ে কাজ করবে, নিজের বিশ্বাসের ওপরে ব্যাংকিং চলবে, টাকার উপরে না।’
মাইক্রোক্রেডিটের জন্য নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের প্রয়োজনীয়তার বিষয়ে
প্রধান উপদেষ্টা নিজের অভিজ্ঞতার কথা জানান। তিনি বলেন, ‘গ্রামীণ ব্যাংকের সাফল্যের
পর প্রত্যেক এনজিও চেষ্টা করলো একইরকম কিছু করতে। ক্রমে ক্রমে প্রসার হতে আরম্ভ করল।
নানারকমের নতুন নতুন জিনিস, নানা আইডিয়া নিজেদের সুবিধার জন্য ঢোকাতে আরম্ভ করল। এটা
ভবিষ্যতের জন্য খারাপ হবে মনে করে একটি রেগুলেটরি অথরিটির প্রয়োজন হলো। বাংলাদেশ ব্যাংকের
সঙ্গে যোগাযোগ করলাম, তারা বলল ‘আমাদের কাজ না’। অর্থ মন্ত্রণালয় শুরুতে
গুরত্ব দিল না, পরে বলল ‘আচ্ছা কী করতে হবে জানাও’। তখন আমরা বললাম, ‘রেগুলেটরি অথরিটি
হওয়া দরকার, কারণ যে হারে বাড়ছে বড় রকমের সমস্যা হতে পারে।
‘তৎকালীন গভর্নর ফখরুদ্দীন সাহেব আমাদের সমর্থন করলেন। কিন্তু
বাংলাদেশ ব্যাংকের অধীনে এটা হতে পারবে না। তারা ব্যাখ্যা চাইল। আমি বললাম, এটা বহু
দেশে বলেছি, এখনো বলি, গ্রামীণ ব্যাংকও ব্যাংক, অন্যান্য ব্যাংকও ব্যাংক। কিন্তু তফাত
অনেক। উদাহরণ দেই, আমেরিকান ফুটবলও ফুটবল। ইউরোপিয়ান ফুটবলও ফুটবল। কিন্তু খেলা ভিন্ন।
আপনি যদি ইউরোপিয়ান ফুটবলের রেফারিকে দিয়ে আমেরিকান ফুটবল খেলা চালাতে চান ইট উইল বি
অ্য ডিজাস্টার। কেন্দ্রীয় ব্যাংককে দিয়ে ক্ষুদ্রঋণ নিয়ন্ত্রণ করবেন, সে তো ক্ষুদ্রঋণ
জানেই না। সে তো ইউরোপীয় ফুটবলের রেফারি,’ প্রধান উপদেষ্টা বলেন।
তিনি আরোও বলেন, ‘অবশেষে ফখরুদ্দীন সাহেব রাজি হলেন। গভর্নরকে
দিয়ে এটা পরিচালনা করানোর ব্যাপারেও তাঁকে রাজি করাতে হলো। বাংলাদেশ ব্যাংকের ভেতরে
এর অফিস করার আলোচনা ছিল। আমরা বললাম, আলাদা জায়গায় অফিস হতে হবে... আজকে নতুন ভবন
হলো। বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তা এটিকে বোঝার চেষ্টা করেছেন, নিয়মকানুন করেছেন। তারা
যদি অন্যান্য ব্যাংকের রেগুলেটরি নিয়মের ওপর এটা স্থাপন করত তাহলে মাইক্রোক্রেডিট সেদিনই
শেষ হয়ে যেত, আর খুঁজে পাওয়া যেত না। আমি বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তাদের অভিনন্দন
জানাচ্ছি।’
প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস জানান, নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ
কে হবে এ নিয়ে শুধু বাংলাদেশ না, যে দেশেই মাইক্রোক্রেডিট হয়েছে সে দেশই সমস্যায় পড়েছে।
তিনি বলেন, ‘আমি তাদেরকে বারে বারে বলে এসেছি তোমাদের এত কিছু
চিন্তা করতে হবে না। কারণ বাংলাদেশ এর সমাধান দিয়ে দিয়েছে। মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি
অথরিটি শুধু যে বাংলাদেশের জন্য কাজ করেছে তা না এটা আন্তর্জাতিকভাবে অনেক দেশের জন্যে
সহায়ক হয়েছে।’
অর্থ উপদেষ্টা সালেহ উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘রেগুলেটরের ওপর কড়া
না হয়ে ইউজার ফ্রেন্ডলি রেগুলেশন যেন হয় সেভাবে আইন করা, যেন কোনোকিছু চাপিয়ে না দেয়া
হয়। এমআরএ’কে এখন রেগুলশনের পাশাপাশি প্রমোশনাল অ্যাক্টিভিটিও দেখতে হবে।
সেভিংসের রিটার্ন, সার্ভিস চার্জ যেন সহজ হয় সেদিকে নজর দিন। উপকারভোগীদের জন্য যেন
সহজ হয়।’
বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর তাঁর বক্তব্যে বলেন,
‘মাইক্রোক্রেডিট আজ অনেক দূর এগিয়েছে। বর্তমানে ব্যাংকিং খাতের ১০ শতাংশ সমপরিমাণ সম্পদ
আছে মাইক্রোক্রেডিট সেক্টরে। সবচেয়ে বড় কথা, ব্যাংকিং খাতে যে জায়গাগুলোতে দুর্বলতা
আছে, মাইক্রোক্রেডিট সে জায়গায় শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে। সদস্যদের সঞ্চয় বেড়ে ৬৮ হাজার
কোটি টাকার ওপর, পুঞ্জীভূত উদ্বৃত্ত বেড়ে ৬১ হাজার কোটি টাকার উপরে হয়েছে। এটা বড় অর্জন।
তারা নিজেদের সঞ্চয় ও উদ্বৃত্ত দিয়ে নিজেদের গড়ে তুলছে। বিদেশি সহায়তা, অনুদান নাই
বললেই চলে। দাতা তহবিল তিন হাজার কোটি টাকার মতো। এটা খুবই নগণ্য।’
‘বাংলাদেশে গ্রামীণ অর্থনীতি বাড়ছে। এজেন্ট ব্যাংকিং ছড়িয়ে পড়ছে।
মাইক্রোক্রেডিটের শাখা আছে ২৬ হাজারের মতো। এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের শাখা ২০ হাজার ছাড়িয়েছে।
এখানে একটা সুস্থ প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে। গ্রামীণ অর্থনীতিতে ফরমাল সেক্টরের পদচারণা
বাড়ছে, বাড়বে। মাইক্রোফাইন্যান্স ইন্সটিটিউটটে এ চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে টিকে থাকতে
হবে। মাইক্রোক্রেডিট আরও ফাংশনাল করতে রেগুলেটরি অথরিটি ও বাংলাদেশ ব্যাংক একসঙ্গে
কাজ করবে,’ বলেন তিনি।
মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি নিয়ে নতুন আইনের খসড়া করা হয়েছে। সরকারের
কাছে শিগগিরই নিয়ে আসা হবে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর।
উক্ত অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, প্রধান উপদেষ্টার
বিশেষ সহকারী ড. এম আনিসুজ্জামান চৌধুরী।
মন্তব্য করুন


গণতন্ত্রের
অগ্রযাত্রায় অসামান্য অবদানের জন্য ‘শ্রেষ্ঠ অদম্য নারী’
সম্মাননা পেলেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া। খালেদা জিয়ার পক্ষে পুরস্কার গ্রহণ
করেন তার নাতনি ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মেয়ে ব্যারিস্টার জাইমা রহমান।
আজ
রবিবার (৮ মার্চ) দুপুরে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষ্যে
‘অদম্য নারী পুরস্কার ২০২৬’ আয়োজন করা হয়।
আন্তর্জাতিক
নারী দিবসের এ অনুষ্ঠানে পুরস্কারপ্রাপ্তদের হাতে সম্মাননা তুলে দেন রাষ্ট্রপতি মো.
সাহাবুদ্দিন।
অন্যান্য
বছরের মতো এবারও পাঁচটি ক্যাটাগরিতে পাঁচজন নারীকে ‘শ্রেষ্ঠ অদম্য নারী’
হিসেবে পুরস্কৃত করা হলো। ১. গণতন্ত্রের অগ্রযাত্রায় ‘শ্রেষ্ঠ অদম্য নারী’
খালেদা জিয়া, ২. অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে সাফল্য অর্জনকারী নারী নুরুন নাহার আক্তার, ৩.
শিক্ষা ও চাকরি ক্ষেত্রে সাফল্য অর্জনকারী মোছা. ববিতা খাতুন, ৪. সফল জননী নুরবানু
কবীর, ৫. নির্যাতনের দুঃস্বপ্ন মুছে ফেলে জীবনসংগ্রামে জয়ী নারী মোছা. শমলা বেগম এবং
৬. সমাজ উন্নয়নে অসামান্য অবদান রাখা নারী মোছা. আফরোজা ইয়াসমিন।
এ
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান।
তিনি তার বক্তব্যে বলেন, ‘শত অত্যাচারে বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন অদম্য ও অবিচল।
মন্তব্য করুন


আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে মুন্সীগঞ্জ-১ (সিরাজদিখান–শ্রীনগর) আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া বিএনপির দুই নেতার আবেদন প্রাথমিকভাবে বাতিল করা হয়েছে।বাতিল হওয়া প্রার্থীরা হলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক ও ঢাকা কলেজ ছাত্র সংসদের সাবেক ভিপি মীর সরাফত আলী সপু এবং শ্রীনগর উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি মোমিন আলী।বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) সকাল আনুমানিক ১১টার দিকে জেলা রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেন জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং অফিসার সৈয়দা নুরমহল আশরাফী।জেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, যাচাইয়ের সময় প্রার্থীদের দাখিল করা মনোনয়নপত্রে সমর্থনকারী ভোটারদের স্বাক্ষরের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট তালিকার তথ্যের মিল পাওয়া যায়নি।এ বিষয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তা সৈয়দা নুরমহল আশরাফী জানান, নির্বাচন বিধিমালা অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রার্থীদের আপিল করার সুযোগ রয়েছে।
মন্তব্য করুন


প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন,
আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিনই গণভোটের আয়োজন করা হবে। অর্থাৎ জাতীয় নির্বাচনের
মতো গণভোটও ফেব্রুয়ারির প্রথমার্থে একইদিনে অনুষ্ঠিত হবে। এতে সংস্কারের লক্ষ্য কোনোভাবে
বাধাগ্রস্ত হবে না। নির্বাচন আরও উৎসবমুখর ও সাশ্রয়ী হবে। গণভোট অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে
উপযুক্ত সময়ে প্রয়োজনীয় আইন প্রণয়ন করা হবে।
আজ বৃহস্পতিবার (১৩ নভেম্বর) জাতির উদ্দেশে দেওয়া
ভাষণে তিনি এ কথা বলেন।
প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ইউনূস বলেন, রাষ্ট্রকাঠামো
সংস্কারের প্রস্তাব তৈরির লক্ষ্যে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন নিরলসভাবে গত প্রায় নয় মাস ধরে
কাজ করেছে। এ সময় কমিশন জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারী রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদের
সঙ্গে দীর্ঘ আলাপ-আলোচনা করেছে। অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে ধৈর্য্যসহকারে রাজনৈতিক
দলগুলো কমিশন কর্তৃক উত্থাপিত বিভিন্ন সংস্কার প্রস্তাব নিয়ে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেছে।
মতের পার্থক্য থাকলেও তা কমিয়ে আনার চেষ্টা করেছে। অনেক বিষয়েই ঐকমত্যে আসতে পেরেছে।
দেশবাসী সরাসরি সম্প্রচারের মাধ্যমে এই পুরো কার্যক্রম দেখতে পেরেছেন। এটি বাংলাদেশের
রাজনীতির ক্ষেত্রে তো বটেই, পৃথিবীর অনেক দেশের জন্য এক অভূতপূর্ব ঘটনা। এটি ভবিষ্যৎ
রাজনীতির জন্যও আশাব্যঞ্জক। তিনি ঐকমত্য কমিশনের সদস্যদের এবং রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দকে
গণতান্ত্রিক চর্চার এই আসাধারণ আয়োজনকে সফল করায় আন্তরিক ধন্যবাদ জানান।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ঐকমত্য কমিশনের প্রণীত জুলাই
সনদে সংবিধান বিষয়ক ৩০টি গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার প্রস্তাবে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ঐকমত্য
তৈরি হয়েছে। এটি একটি ঐতিহাসিক অর্জন। কিছু প্রস্তাবে সামান্য ভিন্নমত আছে। বাকি অল্প
কিছু প্রস্তাবে আপাতদৃষ্টে মনে হয় অনেক দূরত্ব আছে, যা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় অস্বাভাবিক
কিছু নয়। তবে খতিয়ে দেখলে দেখা যায়, এসব প্রস্তাবগুলোর ক্ষেত্রেও আসলে মতভিন্নতা খুব
গভীর নয়। কেউ সংস্কারটা সংবিধানে করতে চেয়েছেন, কেউ আইনের মাধ্যমে করতে চেয়েছেন। কিন্তু
সংস্কারের প্রয়োজনীতা, নীতি ও লক্ষ্য নিয়ে কারো মধ্যে মতভেদ নেই। কাজেই রাজনৈতিক দলগুলোর
প্রকাশ্য বক্তব্য যতখানি পরস্পরবিরোধী অবস্থানে আছে বলে মনে হয়, জুলাই সনদ সঠিকভাবে
বিশ্লেষণ করলে ততখানি মত পার্থক্য দেখা যায় না। এটি আমাদের অনন্য অর্জন। এতে জাতি এগিয়ে
যেতে সাহসী হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
প্রধান উপদেষ্টা আরও বলেন, এসব বিবেচনায় রেখে এবং
রাজনৈতিক দলগুলো কর্তৃক স্বাক্ষরিত জুলাই সনদকে মূল দলিল হিসেবে ধরে নিয়ে অন্তর্বর্তী
সরকার আজকের উপদেষ্টামণ্ডলীর সভায় জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ,
২০২৫ অনুমোদন করেছে। এটি বিরাট খবর। প্রয়োজনীয় স্বাক্ষর শেষে এটি ইতোমধ্যে গেজেট নোটিফিকেশন
করার পর্যায়ে পৌঁছে গেছে। জুলাই সনদ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে এই আদেশে আমরা গুরুত্বপূর্ণ
কিছু বিধান গ্রহণ করেছি। এর মধ্যে রয়েছে সনদের সংবিধান বিষয়ক সংস্কার প্রস্তাবনার ওপর
গণভোট অনুষ্ঠান এবং পরবর্তী সময়ে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের সিদ্ধান্ত। আমরা সকল
বিষয় বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিনই গণভোটের আয়োজন
করা হবে। অর্থাৎ জাতীয় নির্বাচনের মতো গণভোটও ফেব্রুয়ারির প্রথমার্থে একইদিনে অনুষ্ঠিত
হবে। এতে সংস্কারের লক্ষ্য কোনোভাবে বাধাগ্রস্ত হবে না। নির্বাচন আরও উৎসবমুখর ও সাশ্রয়ী
হবে। গণভোট অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে উপযুক্ত সময়ে প্রয়োজনীয় আইন প্রণয়ন করা হবে।’
জুলাই সনদের আলোকে গণভোটের ব্যালটে উপস্থাপনীয় প্রশ্নও
নির্ধারণ করা হয়েছে বলে প্রধান উপদেষ্টা উল্লেখ করেন।
প্রশ্নটি হবে এরকম:
‘আপনি কি জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন
আদেশ, ২০২৫ এবং জুলাই জাতীয় সনদে লিপিবদ্ধ সংবিধান সংস্কার সম্পর্কিত নিম্নলিখিত প্রস্তাবগুলোর
প্রতি আপনার সম্মতি জ্ঞাপন করছেন?’
ক) নির্বাচনকালীন সময়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকার, নির্বাচন
কমিশন এবং অন্যান্য সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান জুলাই সনদে বর্ণিত প্রক্রিয়ার আলোকে গঠন
করা হবে।
খ) আগামী সংসদ হবে দুই কক্ষ বিশিষ্ট। জাতীয় সংসদ
নির্বাচনে দলগুলোর প্রাপ্ত ভোটের অনুপাতে ১০০ জন সদস্য বিশিষ্ট একটি উচ্চকক্ষ গঠিত
হবে এবং সংবিধান সংশোধন করতে হলে উচ্চকক্ষের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের অনুমোদন দরকার হবে।
গ) সংসদে নারীর প্রতিনিধি বৃদ্ধি, বিরোধী দল থেকে
ডেপুটি স্পিকার ও সংসদীয় কমিটির সভাপতি নির্বাচন, প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ সীমিতকরণ, রাষ্ট্রপতির
ক্ষমতা বৃদ্ধি, মৌলিক অধিকার সম্প্রসারণ, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও স্থানীয় সরকার-সহ
বিভিন্ন বিষয়ে যে ৩০টি প্রস্তাবে জুলাই জাতীয় সনদে রাজনৈতিক দলগুলোর ঐকমত্য হয়েছে সেগুলো
বাস্তবায়নে আগামী নির্বাচনে বিজয়ী দলগুলো বাধ্য থাকবে।
ঘ) জুলাই সনদে বর্ণিত অন্যান্য সংস্কার রাজনৈতিক
দলগুলোর প্রতিশ্রুতি অনুসারে বাস্তবায়ন করা হবে।
প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ইউনূস বলেন, গণভোটের দিন
এই চারটি বিষয়ের ওপর একটিমাত্র প্রশ্নে আপনি ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ ভোট দিয়ে আপনার মতামত
জানাবেন।
তিনি বলেন, গণভোটে সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোট ‘হ্যাঁ’ সূচক
হলে আগামী সংসদ নির্বাচনে নির্বাচিত প্রতিনিধি নিয়ে একটি সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠিত
হবে। এই প্রতিনিধিগণ একইসাথে জাতীয় সংসদের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। পরিষদ
তার প্রথম অধিবেশন শুরুর তারিখ হতে ১৮০ কার্যদিবসের মধ্যে সংবিধান সংস্কার করবে।
সংবিধান সংস্কার সম্পন্ন হবার পর ৩০ কার্যদিবসের
মধ্যে সংসদ নির্বাচনে প্রাপ্ত ভোটের সংখ্যানুপাতে উচ্চকক্ষ গঠন করা হবে। এর মেয়াদ হবে
নিম্নকক্ষের শেষ কার্যদিবস পর্যন্ত।
প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়নের অঙ্গীকারনামা অনুসারে সংবিধানে জুলাই জাতীয় সনদ অন্তর্ভুক্ত করার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এটিও আজকে অনুমোদিত আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে।
মন্তব্য করুন


সশস্ত্র বাহিনীতে কর্মরত সেনাবাহিনীর ক্যাপ্টেন ও
তদুর্ধ্ব সমপদমর্যাদার কমিশন্ড কর্মকর্তাদের (কোস্টগার্ড ও বিজিবিতে প্রেষণে নিয়োজিত
সমপদমর্যাদার কর্মকর্তাগণসহ) বিশেষ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের ক্ষমতা আরও সাড়ে চার মাস
বাড়ানো হয়েছে।
আজ মঙ্গলবার (১১ নভেম্বর) এ সংক্রান্ত এক প্রজ্ঞাপন
জারি করেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।
১২ নভেম্বর থেকে আগামী বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত
তারা সারা দেশে বিশেষ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারবেন।
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, কর্মকর্তারা ‘ফৌজদারি কার্যবিধির, ১৮৯৮’-এর ৬৪, ৬৫, ৮৩, ৮৪, ৮৬, ৯৫(২), ১০০, ১০৫, ১০৭, ১০৯, ১১০, ১২৬, ১২৭, ১২৮, ১৩০, ১৩৩ ও ১৪২ ধারার অপরাধগুলো বিবেচনায় নিতে পারবেন।
মন্তব্য করুন


ঢাকা-৮
আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র গুলিবিদ্ধ শরিফ ওসমান
হাদির এখন জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে। পরিবারের পক্ষ থেকে সিঙ্গাপুরেই অপারেশন
করবার অনুমতি দেয়া হয়েছে। আজ (বুধবার, ১৭ ডিসেম্বর) ওসমান হাদির ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজের
এক পোস্টে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
পোস্টে লেখা হয়, আপনারা দোয়া করুন আল্লাহ যেন তাকে হায়াতে তাইয়্যেবাহ নসিব করেন।
মন্তব্য করুন


নেকবর হোসেন, কুমিল্লা প্রতিনিধি:
বিএনপির কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ বুলু বলেছেন, পিআর খায় না পিআর গায়ে মাখে এ পদ্ধতি জনগণ আর মানে না, জনগণ চায় সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ ভোটের মাধ্যমে জনগণ তাদের পছন্দের প্রার্থীকে নির্বাচিত করবে। পি আর দিয়ে নির্বাচন সম্ভব নয়। নির্দিষ্ট তারিখের মধ্যে নির্বাচন দিতে হবে। বিগত ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার আমলে এদেশে লুটপাটের মহারাজ্য সৃষ্টি হয়েছে হাজার হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচার করেছে নির্বাচিত সরকার ছাড়া এসব টাকা ফিরিয়ে আনা সম্ভব নয়, তাই অচিরেই পি আর পদ্ধতি বাদ দিয়ে গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে নির্বাচন দেন।
তিনি আরও বলেন, যারা একাত্তর এর মুক্তিযোদ্ধাকে স্বীকার করে না, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়া উর রহমানের স্বাধীনতা ঘোষণাকে স্বীকার করে না।,শহীদ প্রেসিডেন্টকে জিয়াউর রহমানকে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে স্বীকার করে না,তারা ৩০ লক্ষ শহীদের রক্তদেয়াকে স্বীকার করেনা, তাদের বাংলাদেশে ভোট চাওয়ার অধিকার নেই,তাদের রাজনীতি করার অধিকার নাই। তিনি বলেন কোন হাইব্রীড যেন বিএনপির নেতা না হতে পারে সেজন্য তৃণমূলের নেতাকর্মীদের প্রতি আহবান জানান।
ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা বিএনপির দ্বিবার্ষিক সম্মেলনে গতকাল রোববার ২৪ আগস্ট বিকেলে ভগবান সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
এ সময় উদ্বোধক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় বিএনপি’র কর্মসংস্থান বিষয়ক সম্পাদক কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক সাবেক সংসদ জাকারিয়া তাহের সুমন।
প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির কুমিল্লা বিভাগের সহ সাংগঠনিক সম্পাদক মো: মোস্তাক মিয়া।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা মহানগর বিএনপির সভাপতি উদবাতুল বারী আবু, কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির সদস্য সচিব আশিকুর রহমান মাহমুদ ওয়াসিম, কেন্দ্রীয় বিএনপি’র সদস্য এডভোকেট সাবেরা আলাউদ্দিন হেনা, বুড়িছং উপজেলা বিএনপির সভাপতি এটিএম মিজানুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক কবির হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক হুমায়ুন কবির বাবুল।
সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাজী জসিম উদ্দিন জসিম এবং অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব হাজী আমির হোসেন।আরও যুগ্ম আহবায়ক নজরুল ইসলাম, এডভোকেট মনিরুল হক সরকার, কেন্দ্রীয় বিএনপি, জেলা বিএনপি, উপজেলা বিএনপির হাজার হাজার নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন। প্রধান অতিথির বক্তব্যের শেষে ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি নির্বাচিত হন হাজী জসিম উদ্দিন জসিম, সাধারণ সম্পাদক হাজী আমির হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক আনিসুল হক ভূঁইয়া রিপন ও শাহ জাহান সাজু।
মন্তব্য করুন


নির্বাচন
কমিশন (ইসি) সচিব আখতার আহমেদ বলেছেন, ভোটের মাঠে তিন স্তরে বিভিন্ন বাহিনীর সদস্যরা
মোতায়েন থাকবে। সেনাবাহিনী মোতায়েন থাকবে ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতাসহ।
আজ
বৃহস্পতিবার (২৭ নভেম্বর) নির্বাচন ভবনে বিভিন্ন বাহিনীর সঙ্গে আইন শৃঙ্খলাবিষয়ক বৈঠক
শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব তথ্য জানান।
ইসি
সচিব বলেন, এখন থেকে প্রয়োজনে বিচ্ছিন্নভাবে সংশ্লিষ্ট বাহিনীর সঙ্গে বসা হবে। আইনশৃঙ্খলা
রক্ষার মূল দায়িত্বে থাকবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। অন্যান্য বারের মতো তারাই নীতিমালা
ও দিকনির্দেশনা (কীভাবে কাজ করবেন, কী করবেন না) প্রদান করবে। সামগ্রিক পর্যবেক্ষণ
ও সমন্বয় করবে নির্বাচন কমিশন। এজন্য একটি পর্যবেক্ষণ সেল গঠন করা হবে। তিনি বলেন,
অপতথ্য মোকাবিলায় ইউএনডিপির প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারের পাশাপাশি তথ্য মন্ত্রণালয়, সিআইডি
এবং অন্যান্য তথ্যযাচাই সক্ষম সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করা হবে। যোগাযোগ কৌশলে দ্বিমুখী
প্রবাহ নিশ্চিত করা হবে। ওপর থেকে নিচে এবং নিচ থেকে ওপরে। অর্থাৎ তৃণমূল থেকেও তথ্য
উপরে যাবে এবং প্রয়োজনীয় সমন্বয় করা হবে; শুধু নির্দেশনা ওপর থেকে নিচে নয়।
আখতার
আহমেদ জানান, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মোতায়েন পরিকল্পনাকে তিন ভাগে বিভক্ত করা হয়েছে—
স্থায়ী মোতায়েন, কেন্দ্রভিত্তিক নিরাপত্তাকর্মী এবং বিভিন্ন স্থানে স্থায়ী বা অস্থায়ী
চেকপোস্ট (মোবাইল চেকপোস্টসহ)। মোবাইল ইউনিটগুলো ঘুরে ঘুরে নজরদারি করবে। একটি ইউনিট
কতটি কেন্দ্র দেখবে, তা সংশ্লিষ্ট বাহিনী ভৌগোলিক অবস্থান, সড়কসংযোগ ইত্যাদি বিবেচনায়
নির্ধারণ করবে। কেন্দ্রীয় রিজার্ভ ফোর্স প্রধান রিজার্ভ শক্তি হিসেবে প্রস্তুত থাকবে।
এছাড়া স্ট্রাইকিং ফোর্স দ্রুত চলাচল ও প্রতিরোধমূলক উপস্থিতি নিশ্চিত করতে প্রস্তুত
থাকবে। এনটিএমসি এবং পূজার সময় ব্যবহৃত সাইবার নিরাপত্তা ব্যবস্থাও কাজে লাগানো হবে।
ইসি
সচিব বলেন, সবসময় একটি বিকল্প পরিকল্পনা (‘এ’ কার্যকর না হলে) প্রস্তুত রাখতে হবে,
যাতে একই সঙ্গে দুই-তিনটি স্থানে সমস্যা হলে তা মোকাবিলা করা যায়। পার্বত্য চট্টগ্রামের
মতো সীমিত নেটওয়ার্কের স্থানে ইন্টারনেট সুবিধা সেবাদাতাদের মাধ্যমে নিশ্চিত করতে হবে।
বডি-ওয়ার্ন ক্যামেরার সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। হারানো বা অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে
গোয়েন্দা তৎপরতা বাড়াতে হবে। সন্ত্রাসীদের নজরদারি করে প্রয়োজনে আইনের আওতায় আনতে হবে।
বৈধ অস্ত্র ব্যবহারের ক্ষেত্রেও পরিস্থিতি অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
তিনি
আরও বলেন, মাঠ পর্যায়ে নির্বাচনী অনুসন্ধান কমিটি, বিচারিক ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট
থাকবে। সেনাবাহিনীর বিচারিক ক্ষমতা ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে এবং তারা তা
প্রয়োগ করবে। বিদেশ থেকে আসা পোস্টাল ভোটের জন্য এয়ারপোর্ট ও তেজগাঁও ডাক বাছাই কেন্দ্রে
দ্বিগুণ নিরাপত্তা দিতে হবে। বাছাই থেকে রিটার্নিং অফিসারের কাছে পৌঁছানো, সংরক্ষণ
ও গণনা—সব পর্যায়ে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।
ইসি
সচিব বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কোনো সদস্য স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের কাছ থেকে যেন কোনো
আপ্যায়ন গ্রহণ না করেন, সে বিষয়ে স্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় পর্যায়ে যানবাহনের
সংকট মোকাবিলায় দপ্তরের যানবাহন অধিগ্রহণ বা ভাড়ায় সংগ্রহের বিষয়ে বাহিনী বাস্তবসম্মত
সমাধান দেবে।
মন্তব্য করুন


ঢাকার ভোটার হচ্ছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত
চেয়ারম্যান তারেক রহমানের স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান। এরই মধ্যে ভোটার তালিকায় তার নাম
অন্তর্ভুক্তির জন্য তথ্য সংগ্রহ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
ইসি সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, ভোটার
তালিকা হালনাগাদকালে বাড়ি বাড়ি গিয়ে তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রমে ডা. জুবাইদা রহমানের তথ্য
সংগ্রহ করা হয়। গত ৬ মে লন্ডনে চিকিৎসা শেষে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার দেশে
ফিরলে তার সঙ্গে পুত্রবধূ জুবাইদাও আসেন। পরে ঢাকায় ভোটার হিসেবে নিবন্ধনের জন্য ঈদুল
আজহার আগে তার ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ ও নিবন্ধন কার্যক্রম সম্পন্ন করেন ইসির কর্মকর্তারা।
৫ জুন জুবাইদা লন্ডন ফিরে যান।
আজ সোমবার (২৩ জুন) ইসি সচিবালয়ের জ্যেষ্ঠ
সচিব আখতার আহমেদ বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, এবারের ভোটার তালিকা হালনাগাদ কার্যক্রমে
জুবাইদার তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে।
ওয়ান-ইলেভেনে গঠিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের
আমলে ২০০৮ সালে প্রথমবারের মতো ছবিসহ ভোটার তালিকা তৈরির কাজ শুরু হয়। সে সময় তারেক
রহমান ও জুবাইদা রহমান লন্ডনে ছিলেন। ২০০৮ সালের ১১ সেপ্টেম্বর লন্ডনের উদ্দেশে বাংলাদেশ
ছেড়েছিলেন এই দম্পতি। এরপর তারা দেশে আসেননি।
ইসি কর্মকর্তারা বলছেন, তথ্য সংগ্রহ
ও নিবন্ধন কার্যক্রম হলেও চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত হবে পুরো হালনাগাদ
কার্যক্রম শেষ হওয়ার পর। আইন অনুযায়ী হালনাগাদ কার্যক্রম শেষে আগামী বছরের ২ জানুয়ারি
খসড়া ভোটার তালিকা এবং ২ মার্চ চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করতে হবে। তবে ফেব্রুয়ারিতে
নির্বাচন হলে ভোটার তালিকা আইন সংশোধন করে এর আগেই তালিকা চূড়ান্ত করার চিন্তা আছে
ইসির।
মন্তব্য করুন


বাংলাদেশ
জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. মোহাম্মদ শফিকুর রহমান পবিত্র রমজান মাসের পবিত্রতা বজায়
রাখার জন্য দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
আজ
মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি )এক বিবৃতিতে তিনি এ আহ্বান জানিয়েছেন।
ডা.
শফিকুর রহমান বিবৃতিতে বলেন, ‘মাহে রমাদান রহমত, মাগফিরাত ও নাজাতের সওগাত নিয়ে আমাদের
মাঝে সমাগত। এ মাসের শেষ ১০ দিনের মধ্যে রয়েছে পবিত্র লাইলাতুল ক্বদর নামে একটি বরকতময়
মহিমান্বিত রাত, যা হাজার মাসের চেয়েও উত্তম। রমাদান মাস তাক্বওয়া, সহনশীলতা চর্চা
ও পরস্পরের প্রতি সহানুভূতি প্রদর্শনের মাস।’
তিনি আরো বলেন, ‘গত ১২ ফেব্রুয়ারি দেশে ফ্যাসিবাদমুক্ত
পরিবেশে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। দীর্ঘ সাড়ে ১৫ বছরের জগদ্দল পাথরের
ন্যায় চেপে বসা জুলুম-নির্যাতনের অবসান ঘটিয়ে জাতি গণতন্ত্রের পথে যাত্রা শুরু করেছে।
এমতাবস্থায় দেশের নাগরিকগণ মৌলিক মানবাধিকারসহ সকল ন্যায়সঙ্গত অধিকার পুনরুদ্ধারের
প্রত্যাশা করছে।’
তিনি বলেন, ‘অপরদিকে পতিত স্বৈরাচারের দোসররা এখনো
দেশকে অস্থিতিশীল করার অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। দেশবাসীকে ঐক্যবদ্ধভাবে এসব চক্রান্ত
ও ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করতে হবে। শান্তি, স্বস্তি ও মানবিক মূল্যবোধসম্পন্ন বাংলাদেশ
প্রতিষ্ঠিত না হওয়া পর্যন্ত আমাদের ন্যায়সংগত আন্দোলন-সংগ্রাম অব্যাহত রাখতে হবে।’
ডা.
শফিকুর রহমান বলেন, ‘পবিত্র রমাদান উপলক্ষে দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, দ্রব্যমূল্যের
ঊর্ধ্বগতি এবং সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়নের বিষয়ে নতুন সরকারকে বিশেষ নজর দিতে
হবে।’
তিনি বলেন, ‘ফ্যাসিবাদের দোসর অসাধু ব্যবসায়ীরা এখনো
সমাজের বিভিন্ন স্তরে সক্রিয় রয়েছে। তারা যেন নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য ও ইফতার সামগ্রীর
মূল্য বৃদ্ধি করতে না পারে, সে লক্ষ্যে বর্তমান সরকারকে কঠোর ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ
করতে হবে। অসাধু ব্যবসায়ীদের সব ধরনের সিন্ডিকেট ভেঙে দিয়ে সুষ্ঠু, স্বচ্ছ ও পরিকল্পিত
বাজারব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। দরিদ্র ও নিম্নআয়ের মানুষ যেন স্বস্তির সঙ্গে মাহে রমাদানের
সিয়াম পালন করতে পারে, সে বিষয়েও প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিতে হবে।
প্রয়োজনে
ভর্তুকির মাধ্যমে চাল, ডাল, তেল, মাছ, গোশত, শাকসবজি, চিনি, খেজুর, ছোলা, মুড়িসহ নিত্যপ্রয়োজনীয়
সকল পণ্যের মূল্য সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রাখতে হবে।’
দিনের
বেলায় হোটেল-রেস্তোরাঁ বন্ধ এবং সকল প্রকার অশ্লীলতা ও বেহায়াপনা বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা
গ্রহণের জন্য তিনি সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।
একই
সঙ্গে পবিত্র মহাগ্রন্থ আল-কুরআনের শিক্ষার আলোকে সমাজ পুনর্গঠনের লক্ষ্যে পবিত্র রমজানকে
আত্মশুদ্ধি ও প্রশিক্ষণের মাস হিসেবে গ্রহণ করার জন্য দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানান
তিনি।
মন্তব্য করুন