

লাইসেন্স
জালিয়াতি করে প্রায় ১৭ বছর ধরে শত শত ফ্লাইট পরিচালনার অভিযোগে এয়ার কানাডার এক
সাবেক পাইলটকে গ্রেপ্তার করেছে দেশটির পিল অঞ্চলের পুলিশ। চার মাসের দীর্ঘ তদন্ত শেষে
মঙ্গলবার (৯ জুন) ৫৯ বছর বয়সী সাবেক ক্যাপ্টেন জিওফ্রে ওয়ালের বিরুদ্ধে জালিয়াতিসহ
বেশ কয়েকটি অভিযোগ আনা হয়।
পুলিশ
জানিয়েছে, ২০০৯ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে ভুয়া লাইসেন্স ব্যবহার করে ৯ শতাধিক অভ্যন্তরীণ
ও আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালনা করেছেন এই পাইলট।
তদন্তে
জানা গেছে, জিওফ্রে ওয়ালের একটি বৈধ বাণিজ্যিক পাইলট লাইসেন্স থাকলেও, যাত্রীবাহী
উড়োজাহাজের ক্যাপ্টেন বা প্রধান চালক হওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় উচ্চস্তরের 'এয়ারলাইন
ট্রান্সপোর্ট পাইলট লাইসেন্স' তাঁর ছিল না। গত বছর অবসরে যাওয়ার আগপর্যন্ত তিনি এই
ভুয়া সনদ দিয়ে এয়ার কানাডা এবং কানাডার বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষকে প্রতারিত
করেছেন। এই জালিয়াতির ঘটনায় তাঁর বিরুদ্ধে একটি জালিয়াতি, দুটি জাল নথি তৈরি ও ব্যবহার,
তিনটি ভুয়া ট্রেডমার্ক রাখা এবং জননিরাপত্তা বিঘ্নিত করার অভিযোগ আনা হয়েছে।
এ
বিষয়ে পিল রিজিওনাল পুলিশের প্রধান নিশান দুরাইয়াপ্পা এক বিবৃতিতে উদ্বেগ প্রকাশ
করে বলেন, ঘটনাটি জনমানুষের আস্থা ও নিরাপত্তার মূলে বড় ধরনের আঘাত হেনেছে। অভিযুক্ত
ব্যক্তি ৯০০টিরও বেশি ফ্লাইটে লাখ লাখ যাত্রীর জীবন ঝুঁকির মুখে ফেলেছেন। অন্যদিকে,
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক অলাভজনক সংস্থা ফ্লাইট সেফটি ফাউন্ডেশনের প্রধান ও পেশাদার পাইলট
হাসান শাহিদি এই ঘটনাকে 'ব্যতিক্রমী ও অত্যন্ত বিরল' বলে আখ্যায়িত করেছেন।
তবে
এয়ার কানাডা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তারা বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে নিলেও যাত্রীদের
নিরাপত্তা কখনোই বিঘ্নিত হয়নি। সংস্থাটির দাবি, লাইসেন্স জালিয়াতি করলেও জিওফ্রে
ওয়াল তাঁর সব প্রশিক্ষণ সফলভাবে সম্পন্ন করেছিলেন এবং বড় উড়োজাহাজ চালানোর ক্ষেত্রে
উচ্চস্তরের দক্ষতা প্রদর্শন করেছিলেন। প্রতি ছয় মাস পরপর বাধ্যতামূলক সিমুলেটর প্রশিক্ষণ
এবং বছরে একবার ফ্লাইট পরীক্ষায় তিনি সফলভাবেই উত্তীর্ণ হন। বিষয়টি জানার পরপরই তাঁকে
দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয় এবং ‘ট্রান্সপোর্ট কানাডা'কে অবহিত করা হয়। এয়ার
কানাডা আরও জানিয়েছে, এই ঘটনার পর তাদের সব পাইলটের লাইসেন্স পরীক্ষা করা হয়েছে এবং
অন্য কারও ক্ষেত্রে এমন কোনো জালিয়াতির প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
মন্তব্য করুন


নেকবর হোসেন , কুমিল্লা প্রতিনিধি :
ঈদযাত্রায় যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগে কুমিল্লার মুরাদনগরের কোম্পানীগঞ্জ বাস টার্মিনালে ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান পরিচালনা করেছে। এ সময় দুই পরিবহন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে ১৫ দিনের কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়।
সোমবার (১ জুন) দিনব্যাপী পরিচালিত এ অভিযানের নেতৃত্ব দেন মুরাদনগর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সাকিব হাছান খাঁন। অভিযানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরাও সহযোগিতা করেন।
জানা যায়, ঈদ উপলক্ষে মানুষের চাপ বাড়ার সুযোগে কয়েকটি পরিবহন যাত্রীদের কাছ থেকে সরকার নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করছে, এমন অভিযোগের ভিত্তিতে কোম্পানীগঞ্জ বাস টার্মিনালে অভিযান চালানো হয়। অভিযানকালে যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলে এবং ভাড়ার রসিদ যাচাই করে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়।
ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা গেছে, নির্ধারিত ৪০০ টাকার পরিবর্তে যাত্রীদের কাছ থেকে ৭০০ টাকা পর্যন্ত ভাড়া আদায় করা হচ্ছিল। এ ঘটনায় হানিফ পরিবহনের ম্যানেজারকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা ও ১৫ দিনের কারাদণ্ড এবং প্রান্তিক পরিবহনের সুপারভাইজারকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা ও ১৫ দিনের কারাদণ্ড দেয়া হয়।
এ সময় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে অতিরিক্ত আদায় করা ভাড়ার অর্থ সংশ্লিষ্ট যাত্রীদের ফেরত দেয়া হয়। প্রশাসনের এমন পদক্ষেপে যাত্রীরা সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং ঈদযাত্রায় ভাড়া নৈরাজ্য রোধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনার দাবি জানান।
অভিযান শেষে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সাকিব হাছান খাঁন বলেন, ‘ঈদকে কেন্দ্র করে কোনো পরিবহন যাত্রীদের জিম্মি করে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করতে পারবে না। সরকার নির্ধারিত ভাড়ার বাইরে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। যাত্রীদের স্বার্থরক্ষায় এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং ভবিষ্যতে কেউ অনিয়ম করলে আরও কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
মন্তব্য করুন


প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, মাইক্রোক্রেডিটই
ব্যাংকিংয়ের ভবিষ্যৎ।
তিনি মাইক্রোক্রেডিট’র জন্য আলাদা আইন করার
আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, এনজিও ভাবনা থেকে বেরিয়ে এসে মাইক্রোক্রেডিটকে ব্যাংকিংয়ের ধারণা
গ্রহণ করতে হবে। আর এ ধারণা গ্রহণ করেই ঋণগ্রহিতাকে সেবা দিতে হবে।
তিনি আরো বলেন, ‘মাইক্রোক্রেডিট এখনো এনজিও। এই এনজিও থেকে উত্তরণ
ঘটাতে হবে। এনজিও পর্যায়ে থেকে গেলে ব্যাংকিং মেজাজ আসবে না। মেজাজে আসতে হলে এটাকে
ব্যাংক হতে হবে। মাইক্রোক্রেডিট’র জন্য আলাদা আইন করতে
হবে।’
আজ শনিবার (১৭ মে) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি
অথরিটির (এমআরএ) নতুন ভবন উদ্বোধনকালে এ কথা বলেন।
গ্রামীণ ব্যাংকের শুরুর সময়কার স্মৃতিচারণ করে প্রফেসর ইউনূস
বলেন, আমরা যখন গ্রামীণ ব্যাংক করলাম তখন আপত্তি উঠলো এটাকে ব্যাংক বলা যাবে কি না।
আমরা বললাম, আমাদেরটাই প্রকৃত ব্যাংক, তোমাদেরটা লোক দেখানো। ব্যাংক যে শব্দ থেকে উৎপন্ন
হয়েছে সেটা হলো ট্রাস্ট, তোমরা যেটা করছো সেটা ডিসট্রাস্ট। আমাদের ব্যাংকিং মানুষের
বিশ্বাসের ভিত্তিতে হয়েছে। জামানতবিহীন ব্যাংক, বিশ্বাসের ভিত্তিতে আমরা টাকা দেই।
আজ এমন সময় আমরা আলাপ করছি যখন জামানতওয়ালা ব্যাংক, যারা নিজেদের প্রকৃত ব্যাংক বলে
দাবি করত তাদের অনেকে আজ হাওয়া। টাকা নিয়ে লোপাট। ব্যাংক শেষ। আর মাইক্রোক্রেডিটের
পরিসংখ্যান দেখেন। কেউ পয়সা নিয়ে পালায় নাই। এই হলো পরিহাস।’
মাইক্রোক্রেডিটই ব্যাংকিংয়ের ভবিষ্যৎ উল্লেখ করে প্রধান উপদেষ্টা
ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, ‘এটাই প্রকৃত ব্যাংকিং, আগামী দিনের ব্যাংকিং যেটাতে মানুষ
নিজের পরিচয়ে কাজ করবে, নিজের বিশ্বাসের ওপরে ব্যাংকিং চলবে, টাকার উপরে না।’
মাইক্রোক্রেডিটের জন্য নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের প্রয়োজনীয়তার বিষয়ে
প্রধান উপদেষ্টা নিজের অভিজ্ঞতার কথা জানান। তিনি বলেন, ‘গ্রামীণ ব্যাংকের সাফল্যের
পর প্রত্যেক এনজিও চেষ্টা করলো একইরকম কিছু করতে। ক্রমে ক্রমে প্রসার হতে আরম্ভ করল।
নানারকমের নতুন নতুন জিনিস, নানা আইডিয়া নিজেদের সুবিধার জন্য ঢোকাতে আরম্ভ করল। এটা
ভবিষ্যতের জন্য খারাপ হবে মনে করে একটি রেগুলেটরি অথরিটির প্রয়োজন হলো। বাংলাদেশ ব্যাংকের
সঙ্গে যোগাযোগ করলাম, তারা বলল ‘আমাদের কাজ না’। অর্থ মন্ত্রণালয় শুরুতে
গুরত্ব দিল না, পরে বলল ‘আচ্ছা কী করতে হবে জানাও’। তখন আমরা বললাম, ‘রেগুলেটরি অথরিটি
হওয়া দরকার, কারণ যে হারে বাড়ছে বড় রকমের সমস্যা হতে পারে।
‘তৎকালীন গভর্নর ফখরুদ্দীন সাহেব আমাদের সমর্থন করলেন। কিন্তু
বাংলাদেশ ব্যাংকের অধীনে এটা হতে পারবে না। তারা ব্যাখ্যা চাইল। আমি বললাম, এটা বহু
দেশে বলেছি, এখনো বলি, গ্রামীণ ব্যাংকও ব্যাংক, অন্যান্য ব্যাংকও ব্যাংক। কিন্তু তফাত
অনেক। উদাহরণ দেই, আমেরিকান ফুটবলও ফুটবল। ইউরোপিয়ান ফুটবলও ফুটবল। কিন্তু খেলা ভিন্ন।
আপনি যদি ইউরোপিয়ান ফুটবলের রেফারিকে দিয়ে আমেরিকান ফুটবল খেলা চালাতে চান ইট উইল বি
অ্য ডিজাস্টার। কেন্দ্রীয় ব্যাংককে দিয়ে ক্ষুদ্রঋণ নিয়ন্ত্রণ করবেন, সে তো ক্ষুদ্রঋণ
জানেই না। সে তো ইউরোপীয় ফুটবলের রেফারি,’ প্রধান উপদেষ্টা বলেন।
তিনি আরোও বলেন, ‘অবশেষে ফখরুদ্দীন সাহেব রাজি হলেন। গভর্নরকে
দিয়ে এটা পরিচালনা করানোর ব্যাপারেও তাঁকে রাজি করাতে হলো। বাংলাদেশ ব্যাংকের ভেতরে
এর অফিস করার আলোচনা ছিল। আমরা বললাম, আলাদা জায়গায় অফিস হতে হবে... আজকে নতুন ভবন
হলো। বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তা এটিকে বোঝার চেষ্টা করেছেন, নিয়মকানুন করেছেন। তারা
যদি অন্যান্য ব্যাংকের রেগুলেটরি নিয়মের ওপর এটা স্থাপন করত তাহলে মাইক্রোক্রেডিট সেদিনই
শেষ হয়ে যেত, আর খুঁজে পাওয়া যেত না। আমি বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তাদের অভিনন্দন
জানাচ্ছি।’
প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস জানান, নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ
কে হবে এ নিয়ে শুধু বাংলাদেশ না, যে দেশেই মাইক্রোক্রেডিট হয়েছে সে দেশই সমস্যায় পড়েছে।
তিনি বলেন, ‘আমি তাদেরকে বারে বারে বলে এসেছি তোমাদের এত কিছু
চিন্তা করতে হবে না। কারণ বাংলাদেশ এর সমাধান দিয়ে দিয়েছে। মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি
অথরিটি শুধু যে বাংলাদেশের জন্য কাজ করেছে তা না এটা আন্তর্জাতিকভাবে অনেক দেশের জন্যে
সহায়ক হয়েছে।’
অর্থ উপদেষ্টা সালেহ উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘রেগুলেটরের ওপর কড়া
না হয়ে ইউজার ফ্রেন্ডলি রেগুলেশন যেন হয় সেভাবে আইন করা, যেন কোনোকিছু চাপিয়ে না দেয়া
হয়। এমআরএ’কে এখন রেগুলশনের পাশাপাশি প্রমোশনাল অ্যাক্টিভিটিও দেখতে হবে।
সেভিংসের রিটার্ন, সার্ভিস চার্জ যেন সহজ হয় সেদিকে নজর দিন। উপকারভোগীদের জন্য যেন
সহজ হয়।’
বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর তাঁর বক্তব্যে বলেন,
‘মাইক্রোক্রেডিট আজ অনেক দূর এগিয়েছে। বর্তমানে ব্যাংকিং খাতের ১০ শতাংশ সমপরিমাণ সম্পদ
আছে মাইক্রোক্রেডিট সেক্টরে। সবচেয়ে বড় কথা, ব্যাংকিং খাতে যে জায়গাগুলোতে দুর্বলতা
আছে, মাইক্রোক্রেডিট সে জায়গায় শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে। সদস্যদের সঞ্চয় বেড়ে ৬৮ হাজার
কোটি টাকার ওপর, পুঞ্জীভূত উদ্বৃত্ত বেড়ে ৬১ হাজার কোটি টাকার উপরে হয়েছে। এটা বড় অর্জন।
তারা নিজেদের সঞ্চয় ও উদ্বৃত্ত দিয়ে নিজেদের গড়ে তুলছে। বিদেশি সহায়তা, অনুদান নাই
বললেই চলে। দাতা তহবিল তিন হাজার কোটি টাকার মতো। এটা খুবই নগণ্য।’
‘বাংলাদেশে গ্রামীণ অর্থনীতি বাড়ছে। এজেন্ট ব্যাংকিং ছড়িয়ে পড়ছে।
মাইক্রোক্রেডিটের শাখা আছে ২৬ হাজারের মতো। এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের শাখা ২০ হাজার ছাড়িয়েছে।
এখানে একটা সুস্থ প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে। গ্রামীণ অর্থনীতিতে ফরমাল সেক্টরের পদচারণা
বাড়ছে, বাড়বে। মাইক্রোফাইন্যান্স ইন্সটিটিউটটে এ চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে টিকে থাকতে
হবে। মাইক্রোক্রেডিট আরও ফাংশনাল করতে রেগুলেটরি অথরিটি ও বাংলাদেশ ব্যাংক একসঙ্গে
কাজ করবে,’ বলেন তিনি।
মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি নিয়ে নতুন আইনের খসড়া করা হয়েছে। সরকারের
কাছে শিগগিরই নিয়ে আসা হবে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর।
উক্ত অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, প্রধান উপদেষ্টার
বিশেষ সহকারী ড. এম আনিসুজ্জামান চৌধুরী।
মন্তব্য করুন


গাজীপুরের
কাপাসিয়ায় স্ত্রী, তিন মেয়ে ও শ্যালককে গলা কেটে হত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত ফুরকান মিয়ার
ঘনিষ্ঠ দুই ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে। গোয়েন্দা সূত্র জানায়, শনিবার (৯ মে) কাপাসিয়ার
আমরাইদ এলাকা থেকে তাদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়। তদন্তের স্বার্থে তাদের নাম-পরিচয়
প্রকাশ করা হয়নি।
এর
আগে শুক্রবার (৮ মে) দিবাগত রাতে কাপাসিয়া সদর ইউনিয়নের রাউতকোনা গ্রামে প্রবাসী মনির
হোসেনের বাড়িতে এ নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই পলাতক রয়েছেন
অভিযুক্ত ফুরকান মিয়া।
নিহতরা
হলেন, ফুরকান মিয়ার স্ত্রী শারমিন (৩০), মেয়ে মীম (১৫), মারিয়া (৮), ফারিয়া (২) এবং
শ্যালক রসুল মিয়া (২২)।
ফুরকান
গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার মেরী গোপীনাথপুর গ্রামের আতিয়ার রহমান মোল্লার ছেলে। তিনি পেশায়
প্রাইভেটকার চালক ছিলেন এবং প্রায় এক বছর আগে রাউতকোনা গ্রামের প্রবাসী মনির হোসেনের
বাড়ির নিচতলা ভাড়া নেন।
স্থানীয়রা
জানান, তিন শিশুর গলাকাটা মরদেহ ঘরের মেঝেতে পাশাপাশি পড়ে ছিল। রসুল মিয়ার মরদেহ পাওয়া
যায় বিছানার ওপর। অন্যদিকে শারমিনের মরদেহ জানালার গ্রিলে হাত-মুখ বাঁধা অবস্থায় ঝুলতে
দেখা যায়।
পুলিশ
জানিয়েছে, পারিবারিক কলহের জেরে এই হত্যাকাণ্ড ঘটতে পারে। ঘটনাস্থল থেকে দেশীয় মদের
খালি বোতল ও কোকাকোলার বোতল উদ্ধার করা হয়েছে। থানার পুলিশ, ডিবি, সিআইডি, পিবিআইসহ
একাধিক গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা ঘটনাস্থল ঘিরে রেখেছে। ক্রাইম সিন ইউনিট আলামত সংগ্রহ
করছে।
পুলিশের
একটি সূত্র জানায়, শনিবার সকাল সাড়ে ৬টার দিকে নিহতদের স্বজন রাশিদাকে ফোন করে ফুরকান
মিয়া জানান, তিনি পাঁচজনকে হত্যা করে পালিয়ে যাচ্ছেন।
ঘটনার
পর পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গেছেন কাপাসিয়ার সংসদ সদস্য
সালাহউদ্দিন আইউবীসহ জেলা প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
মন্তব্য করুন


রমজান মাসের পুরোটা জুড়েই রয়েছে রহমত, মাগফিরাত ও নাজাত।
নবী রাসুলুল্লাহ (সা.) বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে বলেছেন, রমজান মাসের প্রথম ১০ দিন হলো রহমত; তার দ্বিতীয় ১০ দিন মাগফিরাত; এর শেষ ১০ দিন হলো নাজাত।
আজ রোববার (৩১ মার্চ) শেষ হচ্ছে মাগফিরাতের দ্বিতীয় দশক। সেই সাথে আগামীকাল থেকে শুরু হচ্ছে রমজান মাসের শেষ দশক ‘নাজাত’।
এই নাজাতের দশকে এমন একটি রাতের কথা বলা হয়েছে, যেই রাতের ইবাদত হাজার মাসের ইবাদতের চেয়েও উত্তম। কারণ, এ রাতেই প্রথম পবিত্র মক্কার হেরা পর্বতের গুহায় মহান আল্লাহ মুহাম্মাদ (সা.)-এর কাছে পবিত্র কোরআন নাজিল করেন। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘আমি একে নাজিল করেছি কদরের রাতে। তুমি কি জানো, কদরের রাত কী? কদরের রাত হাজার মাসের চেয়েও উত্তম।’ (সুরা কদর: ১-৩)
তাই আজ রাত থেকে শুরু হচ্ছে শেষ দশকের বেজোড় রাত।
মূলত, ২১, ২৩, ২৫, ২৭, ২৯ এই পাঁচ দিন যদি পূর্ণ বিশ্বাস নিয়ে কোন বান্দা মহান আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য ইবাদত করেন, তাহলে সেই বান্দার ইবাদত হাজার মাসের ইবাদতের চেয়েও উত্তম হিসেবে মালিক আল্লাহ গ্রহণ করবেন।
‘শবে কদর’ কথাটি ফারসি। শব মানে রাত বা রজনী আর কদর মানে সম্মান, মর্যাদা, গুণাগুণ, সম্ভাবনা, ভাগ্য ইত্যাদি। শবে কদর অর্থ হলো মর্যাদার রাত বা ভাগ্যরজনী। শবে কদরের আরবি হলো লাইলাতুল কদর তথা সম্মানিত রাত। তবে মর্যাদার রাতটি পাওয়া এতো সহজ নয়। কঠিন কিন্তু ঈমানদারগণ যদি নেক দিলে ইবাদাত করে, মহান আল্লাহ অবশ্যই পুরস্কার দিবেন।
এ রাতটি রমাযানের শেষ দশকে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘‘রমজানের শেষ দশদিনে তোমরা কদরের রাত তালাশ কর।’’ (বুখারী : ২০২০; মুসলিম : ১১৬৯)
মহিমান্বিত এ রাতকে আল্লাহ তাআলা রমজানের শেষ দশকের বেজোড় রাতে সুপ্ত রেখেছেন। তিনি এটাকে সুনির্দিষ্ট করে বলেননি।
তিনি বলেছেন, তোমরা রমজানের শেষ দশকের বেজোড় রাতে শবে কদর অনুসন্ধান করো।
মন্তব্য করুন


৩ সেপ্টেম্বর ছিল অস্ত্র-গোলাবারুদ জমা দেওয়ার শেষ দিন।
ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর সারাদেশে বিক্ষুব্ধ জনতা বিভিন্ন থানায় অগ্নিসংযোগ ও হামলা করে। তখন থানা ও ফাঁড়িতে হামলার পর অস্ত্র-গোলাবারুদ লুট করে নেয় দুর্বৃত্তরা।
গত ৪ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হওয়া অস্ত্র উদ্ধারের অভিযানে এখন পর্যন্ত বিভিন্ন ধরনের ১৮৫টি অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। এ ছাড়া অভিযানে ৮৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) পুলিশ সদরদপ্তর থেকে পাঠানো এক বার্তায় এসব তথ্য নিশ্চিত করে জানানো হয়েছে যে, ৪ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হওয়া অস্ত্র উদ্ধার অভিযানে ১৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মোট অস্ত্র উদ্ধার হয়েছে ১৮৫টি। এ সময় ৮৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
উদ্ধার হওয়া অস্ত্রের মধ্যে রয়েছে ১১টি রিভলভার, ৫৬টি পিস্তল, ১১টি রাইফেল, ২৫ টি শটগান, ৫টি পাইপগান, ২০টি শুটারগান, ১৩টি এলজি, ২৫টি বন্দুক, একটি একে-৪৭, দুটি গ্যাসগান, একটি চাইনিজ রাইফেল, তিনটি এয়ারগান, চারটি এসবিবিএ, চারটি এসএমজি, দুটি টিয়ার গ্যাস লঞ্চার ও দুটি ত্রি-কোয়াটার।
প্রসঙ্গত, গত ৩ সেপ্টেম্বর পুলিশ সদর দপ্তর থেকে পাঠানো খুদে বার্তায় জানানো হয়, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন ঘিরে দেশের বিভিন্ন থানা থেকে লুট হওয়া পুলিশের দুই হাজার ৬৬টি অস্ত্র উদ্ধার হয়নি। এ ছাড়াও তিন লাখ ২০ হাজার ৬৬০টি গুলি, আট হাজার ৯০৫টি টিয়ারগ্যাস সেল, দুই হাজার ৫৭৬টি সাউন্ড গ্রেনেড, ৭৫১টি টিয়ারগ্যাস গ্রেনেড উদ্ধার হয়নি বলেও জানানো হয়।
মন্তব্য করুন


সোমবার ইসির মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে কমিশনের সচিব মো. জাহাংগীর আলম সাংবাদিকদের জানান, ভোট শেষে যেসব এলাকা থেকে ভোট গণনার তথ্য পেতে সমস্যা হবে সেগুলোতে ভেরিফাইড হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহ করে বেসরকারি ফলাফল ঘোষণার পরিকল্পনা করছে নির্বাচন কমিশন। একই সঙ্গে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) তৈরি অ্যাপের মাধ্যমে আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের কেন্দ্রভিত্তিক ভোট পড়ার হার দুই ঘণ্টা পরপর নির্বাচনি অ্যাপে জানাবে নির্বাচন কমিশন।
৭ জানুয়ারির ভোটের দিনের আবহাওয়ার পূর্বাভাস তুলে ধরে তিনি জানান, সেসময় মাঝারি শৈত্য প্রবাহের সম্ভাবনা রয়েছে৷ ফলে চরাঞ্চল থেকে কুয়াশার কারণে ফলাফলের লিখিত তথ্যের কাগজ আসতে দেরি হতে পারে। এজন্য ফল সংগ্রহে বিকল্প ব্যবস্থার কথা ভাবা হচ্ছে জানিয়ে ইসি সচিব বলেন, তবে ভেরিফাইড হোয়াটসঅ্যাপে যেন তথ্য নিয়ে বেসরকারি ফলাফল ঘোষণা করা যায় সে চিন্তাভাবনা চলছে।
সংবাদ সম্মেলনে দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ইসির তৈরি স্মার্ট ইলেকশন ম্যানেজমেন্ট বিডি অ্যাপের মাধ্যমে ভোটের বিভিন্ন তথ্য পাওয়া যাবে বলে জানান সচিব।অ্যাপটির হালনাগাদ করার তথ্য তুলে ধরে তিনি বলেন, ভোটকন্দ্রের তথ্য এখনই জানা যাচ্ছে, কার ভোটকেন্দ্র কোনটি এবং লোকেশন কোথায়।
নির্বাচনের দিন দেশের মোবাইল ফোন নেটওয়ার্কের গতিও কমবে না বলে জানান তিনি বলেন, আমাদের যতগুলো মোবাইল নেটওয়ার্কিং সিস্টেম আছে সবগুলোই ফুল স্পিডে চালু থাকবে।
তবে অ্যাপটিতে কেন্দ্রভিত্তিক ফলাফল পাওয়া গেলেও পার্বত্য অঞ্চলগুলোর মত ২০ শতাংশ এলাকা নেটওয়ার্কের বাইরে থাকায় কেন্দ্রীভূত ফলাফল পাওয়া যাবে না বলে জানান তিনি।তিনি বলেন, কোনো কারণে ফলাফল পাঠাতে না পারলে ভোটের পারসেন্টেজে গরমিল হয়ে যেতে পারে। তবে সম্ভব হলে আমরা জানাব। আমরা সেখানে বিজিবি, পুলিশের ওয়ারলেস নেটওয়ার্ক ব্যবহার করব।
এক প্রশ্নের জবাবে নির্বাচন কমিশন সচিব জানান, নির্বাচনি অ্যাপে প্রায় ৩৯০টি মনোনয়নপত্র জমা পড়েছিল; বাছাইয়ে টিকেছে ২৬টি।
এ অ্যাপ ব্যবহার করে ভোটার নম্বর, ভোটকেন্দ্রের নাম, প্রার্থী, দল ও আসনভিত্তিক তথ্য যেমন পাওয়া যাবে, তেমনি আইনবিধি, ভোট পড়ার হার, ফলসহ নানা ধরনের তথ্যও জেনে নিতে পারবেন নাগরিকরা।
এতে একজন ভোটার সহজেই ভোট দিতে কেন্দ্রে যাওয়ার আগেই প্রয়োজনীয় তথ্য জেনে নিতে পারবেন। আগের বছরগুলোর মতো কোথায় কোন কেন্দ্রে ভোট দিতে যাবেন তা নিয়ে যেমন জটিলতায় পড়তে হবে না, তেমনি ভোটকেন্দ্রে গিয়ে নম্বর খোঁজার বিড়ম্বনার মধ্যেও পড়বেন না।
মন্তব্য করুন


বিশ্ব
ইজতেমা-২০২৪ এর প্রথম পর্বের আখেরি মোনাজাত চলাকালীন ময়দান ও আশপাশের সড়ক ও এলাকার
পরিবেশ ছিল শান্ত। সড়কগুলোতে যে যার মত বসে মোনাজাতে অংশ নেয় ।
দুই
হাত তুলে অনেকেই কেঁদেছেন, কেউ কেউ আল্লাহ আল্লাহ ধ্বনিও উচ্চারণ করেছেন। সবাই নিজেদের
সব গুনাহর জন্য সৃষ্টিকর্তার কাছে ক্ষমা চেয়েছেন। আর আমিন আমিন ধ্বনিতে শেষ হয় তবলিগ
জামাতের আন্তর্জাতিক সম্মেলন বিশ্ব ইজতেমার ১ম পর্বের আখেরি মোনাজাত। তারপর থেকে শুরু
হলো মুসল্লিদের বাড়ি ফেরার ঢল।
রোববার
(৪ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ৯টার পর মোনাজাত শেষে ময়দানের আশপাশের সড়কগুলোতে বেড়ে যায়
মুসুল্লিদের ভিড়।
টঙ্গী
সড়কের আব্দুল্লাহপুর, স্টেশন রোড, আব্দুল্লাহপুর স্লুইসগেট ও কামারপাড়াসহ ময়দানের চারপাশে
সড়কে মুসুল্লিদের ঢল নেমেছে।
সড়কে
যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকায় পায়ে হেঁটে পথ চলাচল করছেন মুসল্লিরা। কারও পিঠে ব্যাগ, কারও
মাথায় বিছানাপত্র। যে যার মাল-সামান নিয়ে হাঁটতে শুরু করেছে।
ট্রাফিক
পুলিশ সদস্যরা মুসল্লিদের স্বাভাবিক চলাচল নিশ্চিত করতেও কাজ করছেন।
এদিকে,
বিশ্ব ইজতেমা ও আখেরি মোনাজাত ঘিরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা
রয়েছে। র্যাব, পুলিশ, আনসার ব্যাটালিয়ন, আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন), গোয়েন্দা
পুলিশসহ (ডিবি) বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা নিয়োজিত রয়েছেন।
নিরাপত্তার
স্বার্থে ময়দান ও আশপাশের নজরদারি রাখতে মোড়ে মোড়ে সিসিটিভি ক্যামেরা বসানো হয়। এছাড়াও
র্যাবের হেলিকপ্টার দিয়ে টহল দেওয়া হয় ইজতেমার ময়দানসহ আশপাশের এলাকায়।
মোনাজাত
শেষে মুসল্লিদের নিরাপদ চলাচলের জন্য ময়দানের আশপাশের সড়কগুলোতে গাড়ি চলাচল বন্ধ রাখা
হয়েছে।
মন্তব্য করুন


যা কিছুই ঘটুক না কেন, গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার কাজে অন্তর্বর্তী সরকারকে সমর্থন দেওয়ার প্রতিশ্রুতির কথা জানিয়েছেন বাংলাদেশের সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান।
সোমবার (২৩ সেপ্টেম্বর) ঢাকায় সেনাপ্রধান তার কার্যালয়ে বসে রয়টার্সকে দেওয়া এক বিরল সাক্ষাৎকারে এ কথা জানান।
তিনি জানিয়েছেন, আগামী ১৮ মাসের মধ্যে যেন নির্বাচন হতে পারে, সে জন্য তিনি যেকোনো পরিস্থিতিতে অন্তর্বর্তী সরকারকে সমর্থন দেবেন।
আগস্টের শুরুতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে পদত্যাগ করেন। পরে নোবেল বিজয়ী মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়।
সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান রয়টার্সকে বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের ওপর তার পূর্ণ সমর্থন আছে। সামরিক বাহিনীকে রাজনৈতিক প্রভাব মুক্ত করার একটি পথের রূপরেখা দেওয়া হয়েছে।
সাক্ষাৎকারে ওয়াকার-উজ-জামান বলেন, আমি তাকে (মুহাম্মদ ইউনূস) সমর্থন করব। পরিস্থিতি যা-ই হোক না কেন। যেন তিনি তার কাজ সম্পন্ন করতে পারেন।
মুহাম্মদ ইউনূস দেশের বিচার বিভাগ, পুলিশ, আর্থিক প্রতিষ্ঠানে প্রয়োজনীয় সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। পাশাপাশি তিনি সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচনের পথ প্রশস্ত করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। এক থেকে দেড় বছরের মধ্যে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় উত্তরণ হওয়া উচিত। তবে ধৈর্যের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন তিনি।
সেনাপ্রধান বলেন, যদি আপনি আমাকে জিজ্ঞেস করেন, আমি বলব, এ সময়ের মধ্যে আমাদের একটি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় যাওয়া উচিত।
বাংলাদেশের প্রধান দুই রাজনৈতিক দল হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ এবং প্রতিপক্ষ বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল এর আগে আগস্টে অন্তর্বর্তী সরকারের ক্ষমতা নেওয়ার তিন মাসের মধ্যে নির্বাচন আয়োজনের আহ্বান জানায়।
অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সেনাপ্রধানের প্রতি সপ্তাহেই বৈঠক হচ্ছে। তাদের মধ্যে বেশ ভালো সম্পর্ক রয়েছে। অশান্ত পরিস্থিতির পর দেশকে স্থিতিশীল করতে সরকারের প্রচেষ্টায় সামরিক বাহিনীর সমর্থনের কথা উল্লেখ করেন সেনাপ্রধান।
তিনি বলেন, আমি নিশ্চিত, যদি আমরা একসঙ্গে কাজ করি, তবে ব্যর্থ হওয়ার কোনো কারণ নেই।
মন্তব্য করুন


মধ্যপ্রাচ্যের
মুসলিম অধ্যুষিত রাষ্ট্র সৌদি আরবে পবিত্র হজ পালনে গিয়ে মক্কায় আরও তিন বাংলাদেশি
হজযাত্রীর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে এখন পর্যন্ত ৩০ জন বাংলাদেশি হজযাত্রীর মৃত্যু হলো।
তাদের মধ্যে ২১ জন পুরুষ ও ৯ জন নারী।
মঙ্গলবার
(২৬ মে) হজ বুলেটিন থেকে জানা যায় নিহতরা হলেন- শিবগঞ্জ চাঁপাইনবাবগঞ্জের মো. আফরান
আলী, অপরজন কাজীপুর সিরাজগঞ্জের মো. আবদুর রহমান, আরেকজন রায়পুরা নরসিংদীর মো. হারুন-উর
রশীদ। নিহত তিনজনই মক্কায় স্বাভাবিকভাবে মৃত্যুবরণ করেন।
চলতি
বছর ৭৯,১৬৪ জন বাংলাদেশি হজযাত্রী হজ পালন করছেন। এর মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় চার
হাজার ৪৬৪ জন এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ৭৩ হাজার ৯২৬ জন। এদিকে মঙ্গলবার (২৬ মে) আরাফাত
ময়দানে পবিত্র হজ অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
মন্তব্য করুন


২০২৪ সালে একক পরীক্ষায় বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী ভর্তি করার কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে পারেনি বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)। এর ফলে এবারও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে আগের নিয়মেই ভর্তি পরীক্ষা হতে যাচ্ছে। এরই মধ্যে কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদন গ্রহণ শেষ হয়েছে। কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে কবে পরীক্ষা সব তথ্য একসঙ্গে এখানে -
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
আগামী ২৩ ফেব্রুয়ারি কলা, আইন ও সামাজিকবিজ্ঞান ইউনিটের মধ্য দিয়ে ভর্তি পরীক্ষা শুরু হবে। ২৪ ফেব্রুয়ারি ব্যবসায় শিক্ষা ইউনিট, ১ মার্চ বিজ্ঞান ইউনিট এবং ৯ মার্চ অনুষ্ঠিত হবে চারুকলা ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা (সাধারণ জ্ঞান ও অঙ্কন)। আর সব ইউনিটের পরীক্ষা বেলা ১১টা থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হবে।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা আগামী ৫ মার্চ অনুষ্ঠিত হবে সি ইউনিটের (বিজ্ঞান) পরীক্ষা দিয়ে শুরু হবে আর এরপর ৬ মার্চ এ ইউনিট (মানবিক) এবং ৭ মার্চ বি ইউনিটের (বাণিজ্য) ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। এমসিকিউ পদ্ধতির এক ঘণ্টার এই পরীক্ষায় মোট নম্বর ১০০। পাস নম্বর ৪০।
আগামী ২৫ মার্চের মধ্যে ভর্তি পরীক্ষার ফল প্রকাশ হওয়ার কথা। আর ক্লাস শুরু হবে ১ জুলাই। কোটা বাদে ৫৯টি বিভাগ ও দুটি ইনস্টিটিউটে ভর্তি হওয়ার সুযোগ পাবেন ৩ হাজার ৯০৪ শিক্ষার্থী।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়
আগামী ২২, ২৫, ২৭, ২৮ ও ২৯ ফেব্রুয়ারি (সম্ভাব্য) জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত হবে বিভিন্ন ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা। চূড়ান্ত তারিখ ও সময়সূচি পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানানো হবে। ১৪ জানুয়ারি অনলাইনে আবেদন গ্রহণ শুরু হয়েছে। চলবে ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত। প্রবেশপত্র ডাউনলোড শুরু হবে ১৭ ফেব্রুয়ারি।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা শুরু হবে আগামী ২ মার্চ এ ইউনিটের পরীক্ষার মধ্য দিয়ে। এরপর ৭ মার্চ সি ইউনিট, ৮ মার্চ বি ইউনিট ও ১৬ মার্চ ডি ইউনিটের পরীক্ষা হবে। এ ছাড়া বি-১ ও ডি-১ উপ-ইউনিটের পরীক্ষা যথাক্রমে ৩ ও ৪ মার্চ অনুষ্ঠিত হবে।
বুয়েটে দুই ধাপে পরীক্ষা
বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বুয়েট) ভর্তি পরীক্ষা হবে দুই ধাপে (প্রাক-নির্বাচনী ও মূল ভর্তি পরীক্ষা)। প্রাক-নির্বাচনী পরীক্ষা অনুযায়ী মেধার ভিত্তিতে নির্বাচিত শিক্ষার্থীরা মূল ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবেন। ভর্তি বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, অনলাইনে আবেদনপত্র পূরণ ও জমা শুরু হয়েছে ২৫ জানুয়ারি। ৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত আবেদন গ্রহণ চলবে।
তবে প্রাক-নির্বাচনী পরীক্ষায় অংশগ্রহণের যোগ্য কারা, জানা যাবে ১৩ ফেব্রুয়ারির মধ্যে। আর প্রাক-নির্বাচনী পরীক্ষা হবে আগামী ২৪ ফেব্রুয়ারি। দুই পালায় (শিফট)।
মূল ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য যোগ্য প্রার্থীদের তালিকা প্রকাশের সম্ভাব্য সময় ২৯ ফেব্রুয়ারি। ৯ মার্চ মূল ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। ভর্তির জন্য নির্বাচিত ও অপেক্ষমাণ প্রার্থীদের নামের তালিকা প্রকাশের সম্ভাব্য সময় আগামী ৩১ মার্চ। এই বিশ্ববিদ্যালয়ে মোট আসনসংখ্যা ১ হাজার ৩০৯।
২৪ বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা তিন দিনে
দেশের ২৪টি সাধারণ এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি (জিএসটি) বিশ্ববিদ্যালয় গুচ্ছভুক্ত হয়ে একযোগে ভর্তি পরীক্ষা নেবে। গত ২৬ জানুয়ারি এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, কিছু বিষয় সমন্বয় করার জন্য আবেদনের তারিখ ও পরীক্ষার সময়সূচি পরিবর্তন হবে। পরিবর্তিত তারিখ শিগগিরই জানিয়ে দেওয়া হবে।
প্রকৌশল গুচ্ছে এবার তিন বিশ্ববিদ্যালয়
এবারও চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (চুয়েট); খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (কুয়েট) এবং রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (রুয়েট) একটি গুচ্ছভুক্ত হয়ে স্নাতক প্রথম বর্ষের ভর্তির জন্য সমন্বিতভাবে পরীক্ষা নিচ্ছে। এই তিন বিশ্ববিদ্যালয়ে মোট আসন ৩ হাজার ২৩১টি।
অনলাইনে ২৪ জানুয়ারি আবেদন গ্রহণ শুরু হয়েছে। শেষ হবে ৭ ফেব্রুয়ারি। ভর্তি পরীক্ষার কেন্দ্রসহ যোগ্য অংশগ্রহণকারীদের নামের তালিকা প্রকাশ করা হবে ১৮ ফেব্রুয়ারি। প্রবেশপত্র ডাউনলোড করা যাবে ১৯ ফেব্রুয়ারি। আগামী ৩ মার্চ এই তিন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। এরপর মেধাতালিকা প্রকাশ করা হবে ১৮ মার্চ।
কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়
কৃষি ও কৃষির প্রাধান্য থাকা আটটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় এবার গুচ্ছভুক্ত হয়ে ভর্তি পরীক্ষা নেবে। এবার নতুন প্রতিষ্ঠিত কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় এই গুচ্ছে যুক্ত হচ্ছে। এ ছাড়া আগের মতো বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এবং চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি ও অ্যানিমেল সায়েন্সেস বিশ্ববিদ্যালয়, সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় এবং খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় আছে এই গুচ্ছে। তবে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষার তারিখ এখনো ঠিক হয়নি।
মেডিকেল কলেজ
আগামী ৯ ফেব্রুয়ারি মেডিকেল কলেজগুলোয় এমবিবিএসে ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে । এবছর সরকারি মেডিকেল কলেজে ৫ হাজার ৩৮০ শিক্ষার্থী ভর্তি হতে পারবেন। এ ছাড়া বেসরকারি মেডিকেলের জন্য আসন রয়েছে ৬ হাজার ৩৪৮টি।
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের কলেজ
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন কলেজগুলোর মধ্যে ৮৮২টি কলেজে স্নাতক (সম্মান) পর্যায়ে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হয়। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় জারি করা ভর্তি বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ২২ জানুয়ারি অনলাইনে ভর্তির প্রাথমিক আবেদন গ্রহণ শুরু হয়েছে। এটি চলবে ১১ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত।
মন্তব্য করুন