

লাইসেন্স
জালিয়াতি করে প্রায় ১৭ বছর ধরে শত শত ফ্লাইট পরিচালনার অভিযোগে এয়ার কানাডার এক
সাবেক পাইলটকে গ্রেপ্তার করেছে দেশটির পিল অঞ্চলের পুলিশ। চার মাসের দীর্ঘ তদন্ত শেষে
মঙ্গলবার (৯ জুন) ৫৯ বছর বয়সী সাবেক ক্যাপ্টেন জিওফ্রে ওয়ালের বিরুদ্ধে জালিয়াতিসহ
বেশ কয়েকটি অভিযোগ আনা হয়।
পুলিশ
জানিয়েছে, ২০০৯ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে ভুয়া লাইসেন্স ব্যবহার করে ৯ শতাধিক অভ্যন্তরীণ
ও আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালনা করেছেন এই পাইলট।
তদন্তে
জানা গেছে, জিওফ্রে ওয়ালের একটি বৈধ বাণিজ্যিক পাইলট লাইসেন্স থাকলেও, যাত্রীবাহী
উড়োজাহাজের ক্যাপ্টেন বা প্রধান চালক হওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় উচ্চস্তরের 'এয়ারলাইন
ট্রান্সপোর্ট পাইলট লাইসেন্স' তাঁর ছিল না। গত বছর অবসরে যাওয়ার আগপর্যন্ত তিনি এই
ভুয়া সনদ দিয়ে এয়ার কানাডা এবং কানাডার বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষকে প্রতারিত
করেছেন। এই জালিয়াতির ঘটনায় তাঁর বিরুদ্ধে একটি জালিয়াতি, দুটি জাল নথি তৈরি ও ব্যবহার,
তিনটি ভুয়া ট্রেডমার্ক রাখা এবং জননিরাপত্তা বিঘ্নিত করার অভিযোগ আনা হয়েছে।
এ
বিষয়ে পিল রিজিওনাল পুলিশের প্রধান নিশান দুরাইয়াপ্পা এক বিবৃতিতে উদ্বেগ প্রকাশ
করে বলেন, ঘটনাটি জনমানুষের আস্থা ও নিরাপত্তার মূলে বড় ধরনের আঘাত হেনেছে। অভিযুক্ত
ব্যক্তি ৯০০টিরও বেশি ফ্লাইটে লাখ লাখ যাত্রীর জীবন ঝুঁকির মুখে ফেলেছেন। অন্যদিকে,
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক অলাভজনক সংস্থা ফ্লাইট সেফটি ফাউন্ডেশনের প্রধান ও পেশাদার পাইলট
হাসান শাহিদি এই ঘটনাকে 'ব্যতিক্রমী ও অত্যন্ত বিরল' বলে আখ্যায়িত করেছেন।
তবে
এয়ার কানাডা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তারা বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে নিলেও যাত্রীদের
নিরাপত্তা কখনোই বিঘ্নিত হয়নি। সংস্থাটির দাবি, লাইসেন্স জালিয়াতি করলেও জিওফ্রে
ওয়াল তাঁর সব প্রশিক্ষণ সফলভাবে সম্পন্ন করেছিলেন এবং বড় উড়োজাহাজ চালানোর ক্ষেত্রে
উচ্চস্তরের দক্ষতা প্রদর্শন করেছিলেন। প্রতি ছয় মাস পরপর বাধ্যতামূলক সিমুলেটর প্রশিক্ষণ
এবং বছরে একবার ফ্লাইট পরীক্ষায় তিনি সফলভাবেই উত্তীর্ণ হন। বিষয়টি জানার পরপরই তাঁকে
দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয় এবং ‘ট্রান্সপোর্ট কানাডা'কে অবহিত করা হয়। এয়ার
কানাডা আরও জানিয়েছে, এই ঘটনার পর তাদের সব পাইলটের লাইসেন্স পরীক্ষা করা হয়েছে এবং
অন্য কারও ক্ষেত্রে এমন কোনো জালিয়াতির প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
মন্তব্য করুন


রাজশাহীর সারদায় বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমিতে প্রশিক্ষণ চলাকালে অসুস্থ হয়ে এক উপপরিদর্শকের (এসআই) মৃত্যু হয়েছে। জীবন রহমান (৪৫) নামের এই এসআই ২০০৬ সালে বাংলাদেশ পুলিশে যোগদান করেন।
সোমবার (০৮ জুন) বিকেলে প্রশিক্ষণের অংশ হিসেবে দৌড়ানোর সময় তিনি অসুস্থ হয়ে মারা যান।
পুলিশ একাডেমি সূত্রে জানা যায়, সোমবার বিকেলে প্রশিক্ষণরত এসআইদের এক কিলোমিটার দৌড়ের কর্মসূচি ছিল। বিকেল ৪টা ৪০ মিনিটের দিকে দৌড়ানোর সময় হঠাৎ অসুস্থ হয়ে মাঠে বসে পড়েন জীবন রহমান। পরে সহকর্মীরা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
রামেক হাসপাতালের জরুরি বিভাগের ইনচার্জ ও মুখপাত্র ডা. শংকর কুমার বিশ্বাস জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে ওই এসআই হৃদরোগে আক্রান্ত হয়েছিলেন। তবে ময়নাতদন্ত ছাড়া মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়। যেহেতু এ ঘটনায় কারও কোনো অভিযোগ ছিল না, তাই ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমির কোনো কর্মকর্তা আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দেননি। একাডেমির অধ্যক্ষ, উপাধ্যক্ষ এবং পুলিশ সুপার (প্রশাসন) এর সঙ্গে মোবাইলে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা ফোন ধরেননি।
রাজশাহী মহানগরীর রাজপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম আজাদ বলেন, “তিনি বিষয়টি শুনেছেন এবং এ সংক্রান্ত আইনি প্রক্রিয়া চারঘাট থানায় সম্পন্ন হবে।“
চারঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল মালেক বলেন, “ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।“
মন্তব্য করুন


মাদক
ব্যবসা ও সেবনের প্রতিবাদ করায় কুমিল্লা নগরীর বিষ্ণুপুর এলাকায় এক ভূমি অফিসের পিয়নকে
কুপিয়েছে দুর্বৃত্তরা। সোমবার (১১ মে) দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে এ ঘটনা ঘটে।
আহত
মো. আজহারুল ইসলাম বুড়িচং উপজেলার বাকশিমুল ইউনিয়ন ভূমি অফিসের অফিস সহায়ক (পিয়ন) হিসেবে
কর্মরত রয়েছেন।
স্বজনরা
জানান, সম্প্রতি ফেসবুকে মাদক সেবন ও মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে লেখালেখি করছিলেন আজহারুল
ইসলাম। এর জেরে সোমবার গভীর রাতে একদল দুর্বৃত্ত তার বাড়িতে প্রবেশ করে। এ সময় তারা
তাকে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে আহত করে ও ভবিষ্যতে এ ধরনের লেখালেখি করলে প্রাণে মেরে
ফেলার হুমকি দেয়।
পরে
আহত অবস্থায় আজহারুলকে উদ্ধার করে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ (কুমেক) হাসপাতালে ভর্তি করা
হয়। বর্তমানে সেখানে তার চিকিৎসা চলছে।
স্বজনরা
আরও জানান, এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
মন্তব্য করুন


গাজীপুরের
শ্রীপুর উপজেলার তেলিহাটি ইউনিয়নের মুলাইদে (দায়পাড়া) খেলনা পিস্তল দিয়ে আতঙ্ক ছড়ানো ও ভয়ভীতি প্রদর্শন
করে স্ত্রীর কাছ থেকে যৌতুক আদায়ের অভিযোগ উঠেছে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে।
সোমবার
(৩ আগস্ট) নারী ও শিশু নির্যাতন
দমন আইনে শ্রীপুর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন তার স্ত্রী।
পরে
পুলিশ অভিযান চালিয়ে আসামি ইমনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠিয়েছে। অভিযুক্ত ওই ব্যক্তির নাম
ইমন (২৩)।
জানা
গেছে, সম্প্রতি অভিযুক্ত ব্যক্তি তার টিকটক প্লাটফর্মে একটি ভিডিও প্রকাশ করেন। ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা হয়।
শ্রীপুর
থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শাহীনুর আলম এ প্রসঙ্গে বলেন,
“ইমন একটি পিস্তল প্রদর্শন করে ভিডিও তৈরি করে টিকটকের মাধ্যমে অনলাইনে প্রচার করে। বিষয়টি গাজীপুর জেলা পুলিশের নজরে আসে। পরে পুলিশ তার (ইমন) বসত বাড়িতে অভিযান চালিয়ে টিকটক অনলাইনে প্রদর্শনকৃত পিস্তল উদ্ধার করে। উদ্ধার ওই পিস্তলটি পরীক্ষা
করে দেখা যায় এটি আসল আগ্নেয়াস্ত্র নয়। এটি ‘পিস্তলসদৃশ লাইটার’।”
“যা
দিয়ে ওই ব্যক্তি তার
স্ত্রীকে ভয়ভীতি দেখিয়ে প্রায় সময়ই যৌতুক দাবি করে আসছিলো বলেও জানান ওই পুলিশ কর্মকর্তা।
ইমন পিস্তল সাদৃশ্য লাইটারটি অনলাইনে প্রদর্শন করে টিকটকে ভিডিও প্রচার করতো। এতে এলাকায় ও জনগনের মধ্যে
ভীতির সঞ্চার করে আসছিলো।
মন্তব্য করুন


রাজধানীর
মহাখালী এলাকায় পাঁচ বছর আগে স্বামীকে হত্যার পর ছয় টুকরা করেছিলেন স্ত্রী ফাতেমা বেগম
ওরফে শিল্পী। এ ঘটনার দায়ে শিল্পীকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত। বৃহস্পতিবার (২ জুলাই)
ঢাকার ষোড়শ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ নাজমুন নাহার নিপু এ রায় ঘোষণা করেন।
এ
বিষয়ে অতিরিক্ত পিপি খন্দকার শফি নেওয়াজ নাসির বলেন, হত্যার দায়ে তাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া
হয়েছে। এছাড়া মরদেহ গুমের দায়ে সাত বছরের কারাদণ্ড, ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে
তাকে তিন মাস বিনাশ্রম কারাভোগ করতে হবে।
রায়
ঘোষণার সময় আসামিকে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয় জানিয়ে বেঞ্চ সহকারী রাহিমুল
করিম আকন্দ বলেন, রায় শেষে সাজা পরোয়ানা দিয়ে তাকে আবার কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
মামলার
বিবরণ অনুযায়ী, ২০২১ সালের ৩০ মে রাত সাড়ে ১০টার দিকে মহাখালীর আমতলী এলাকায় একটি
ড্রাম থেকে এক ব্যক্তির মাথাবিহীন দেহ উদ্ধার করে বনানী থানা পুলিশ। একইদিন রাত ১১টার
পর মহাখালী বাস টার্মিনালের এনা কাউন্টারের কাছ থেকে একটি ব্যাগের মধ্যে উরু থেকে খণ্ডিত
দুইটি পা এবং কাঁধ থেকে খণ্ডিত দুটি হাতের অংশ উদ্ধার করে তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানা
পুলিশ। দুই দিনে লাশের ৬ টুকরা উদ্ধার করা হয়।
রহস্য
উদঘাটনে মাঠে নামে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) গুলশান বিভাগ। এরপর ১২ ঘণ্টার
মধ্যেই ফাতেমাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
জিজ্ঞাসাবাদে
ফাতেমা পুলিশকে জানায়, পারিবারিক কলহ, টাকা-পয়সা বণ্টন ও একাধিক বিয়েকে কেন্দ্র করে
স্বামী ময়না মিয়া ওরফে শাকিলের সঙ্গে তার মনোমালিন্য হয়। একপর্যায়ে পরিকল্পনা করে
তার অটোরিকশা চালক স্বামীকে ঘুমের ট্যাবলেট খাইয়ে নিস্তেজ করেন, এরপর গলাকেটে হত্যা
করে মরদেহ ৬ টুকরা করেন ফাতেমা।
একটি
লাল রঙের কাপড়ের ব্যাগে মাথা, শরীরের মূল অংশকে একটি নীল রঙের পানির ড্রামে এবং খণ্ডিত
দুই পা ও দুই হাতকে একটি বড় কাপড়ের ব্যাগে ঢুকিয়ে রাখেন ফাতেমা। এরপর ১৩০০ টাকায়
রিকশা ভাড়া করে প্রথমে আমতলী এলাকায় শরীরের মূল অংশ ফেলে দেন, পরবর্তীতে মহাখালী
এনা বাস কাউন্টারের সামনে খণ্ডিত দুই হাত, দুই পা ভর্তি ব্যাগ রেখে দিয়ে চলে আসেন
বাসায়। এরপর খণ্ডিত মাথা রাখা ব্যাগ নিয়ে গুলশান লেইকে ফেলে দিয়ে বাসায় আসেন তিনি।
গত
১ জুন এ ঘটনায় ময়না মিয়ার দ্বিতীয় স্ত্রী নাসরিন তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানায় মামলা দায়ের
করেন। গ্রেপ্তারের পর ফাতেমা হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দেন।
২০২২
সালের ২৪ অক্টোবর মামলাটি তদন্ত করে ফাতেমার বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র জমা দেন ক্যান্টনমেন্ট
জোনাল টিমের পরিদর্শক কাজী শরীফুল ইসলাম। পরে ২০২৩ সালের ১২ মার্চ আসামির বিরুদ্ধে
অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু করে আদালত।
জানা
যায়, মামলার বিচার চলাকালে ২৬ জন সাক্ষীর মধ্যে ১৭ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ করে আদালত। আত্মপক্ষ
শুনানিতে আসামি নিজেকে নির্দোষ দাবি করে ন্যায়বিচার চান। এরপর নিজের পক্ষে নিজেই সাফাই
সাক্ষ্য দেন তিনি। মামলার যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে আজ রায় ঘোষণা করলেন আদালত।
মন্তব্য করুন


আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক উপদেষ্টা ড.
আসিফ নজরুল জানিয়েছেন তিনি বিদেশে বাংলাদেশি শ্রমিকদের শোষণ, পাসপোর্ট ও এনআইডি প্রাপ্তি
এবং ব্যাংকে টাকা স্থানান্তর ও টাকা তোলার ক্ষেত্রে ভোগান্তি নিরসনে কাজ করছেন।
তিনি বলেন, 'বিদেশে শ্রমিক শোষণ বন্ধের
বিষয়ে আমরা কাজ করছি। কিছুটা অগ্রগতি হোক, তখন জানাবো।'
আজ শুক্রবার (২৯ নভেম্বর) উপদেষ্টা
তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক পোস্টে একথা বলেন, আমি সরকারী কাজে কাতারে ছিলাম তিনদিন।
আমার হোটেলে যেসব বাংলাদেশী ভাইরা কাজ করেন তাদের থেকে তাদের বঞ্চনার অনেক খবর শুনেছি।
দুতাবাসে আমন্ত্রিত অনেক শ্রমিক ও পেশাজীবী ভাই-বোনের সাথে কথা বলেছি। দূতাবাসের কর্মকর্তাদের
বক্তব্যও শুনেছি। সেখানকার প্রবাসী ভাই-বোনদের মূল অভিযোগ পাসপোর্ট-এনআইডি-পাওয়ার অব
এটর্নি সংক্রান্ত বিষয়ে এবং সেখানে কর্মসংস্থান ও পারিশ্রমিক নিয়ে। এর মধ্যে পাসপোর্টের
বিষয়ে আমি ডিজির সাথে কথা বলেছি। তিনি আশ্বস্ত করেছেন যে, ডিসেম্বরের মাঝামাঝি থেকে
পাসপোর্ট সরবরাহ শুরু হবে।
পাসপোর্ট আর এনআইডি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের
বিষয় উল্লেখ করে আসিফ নজরুল বলেন, তবে সেখানে আমি যোগাযোগ অব্যাহত রাখবো। কালকে আমি
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীকে পাসপোর্ট ফি কমানো বা কমহারে সবার জন্য একরকম করার কথা বলেছি।
এটা নিয়ে আমার যোগোযোগ অব্যাহত থাকবে।
তিনি আটো বলেন, এছাড়া পাসপোর্ট আর এনআইডি
সহজীকরণের বিষয়ে কি কি করা যায় তা আইন মন্ত্রনালয়ের থেকে খতিয়ে দেখবো।
আইন উপদেষ্টা আরও বলেন, 'আপনারা ভালো
থাকবেন। পবিত্র জুম্মার দিনে আমাদের শহীদ ভাই চট্টগ্রামের আইনজীবী সাইফুল ইসলামের মাগফেরাত
এবং আমাদের সকলের হেদায়েতের জন্য দোয়া করবেন।'
মন্তব্য করুন


আগামীতে আইনকানুন এবং সংস্কারের মাধ্যমে
নির্বাচনে শতভাগ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হবে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ
ইউনূস।
তিনি বলেছেন, নির্বাচনে কেউ জিতলে পরাজিত
বা অন্যরা আর সন্দেহ করবে না। ভাববে না যে, কলকাঠি নেড়ে কাউকে জিতিয়ে দেওয়া হয়েছে।
আজ শনিবার (ফেব্রুয়ারি ১৫) রাজধানীর
ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে ঐকমত্য কমিশনের বৈঠকে তিনি এসব কথা
বলেন।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, নতুন বাংলাদেশ
মানে নতুন নির্বাচন। এই নির্বাচনের মাধ্যমে যে সরকার গঠন হবে তার ব্যাপারে কেউ প্রশ্ন
তুলবে না। সেটার ব্যাপারে আইনকানুন সবার জানা থাকবে, এটা নড়চড় করার উপায় কারো থাকবে
না। আইনকানুন বানানোর পরে সেটা নড়চড় করার সুযোগ থাকবে না সেজন্যই এত বড় কমিশন করতে
হয়েছে। এই যে আইনকানুন, নীতিমালা বানিয়ে দেব। একবার বানিয়ে দিলে তারপর থেকে চলতে থাকবে।
একটা ট্র্যান্সপারেন্ট খেলা হবে। খেলায় জিতলে কেউ সন্দেহ করবে না যে কেউ জিতিয়ে দিয়েছে।
এতো ট্রান্সপারেন্ট যে, কেউ সন্দেহ করবে না।
প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস বলেন, এখন
যে খেলা চলছে, ঠিকমতো জিতলেও সন্দেহ করে। বলে কিছু একটা কলকাঠি নেড়ে করেছে। এই কলকাঠি
নাড়ার বিষয়টি আমাদের মনের ভেতর গেঁথে গেছে। কলকাঠি ছাড়া যে দেশ একটা নিয়মে চলতে পারে
সেটা আমরা ভুলে গেছি।
সংস্কারের ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি
বলেন, এটা সবার স্বপ্ন। এই স্বপ্ন আমরা এমন মজবুতভাবে বানাব যা সবাই মেনে চলবে। এই
মেনে চলার মাধ্যমে আমরা একটা সুন্দর সমাজ, সুন্দর রাষ্ট্র উপহার দিতে পারব। সেই উদ্দেশ্যেই
আজকের সভা।
প্রধান উপদেষ্টা আরও বলেন, প্রচণ্ড
সুযোগ এখন। সুযোগ এজন্যই যে, আমাদের মধ্যে ঐকমত্য সৃষ্টি হলে আমরা সেগুলো কাজে লাগাতে
পারি এমন পর্যায়ে আছি আমরা। একবার কাজে লাগালে সেটা বংশ, প্রজন্ম ও পরম্পরায় সেটা চলতে
থাকবে। একটা সুন্দর দেশ আমরা পাব। এই ভাবনা থেকেই আমরা এগুলো গ্রহণ করব।
অন্তর্বর্তী সরকারের নতুন অধ্যায় শুরু
হয়েছে মন্তব্য করে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের ছয় মাসে প্রথম ইনিংস
বা প্রথম অধ্যায় শেষ হয়েছে। আজ রাজনৈতিক সংলাপের মাধ্যমে দ্বিতীয় অধ্যায় শুরু হলো।
আলোচনাটা কত সুন্দর হবে, কত মসৃণ হবে সেটা আপনাদের ওপর নির্ভর করবে। আমাদের পক্ষ থেকে
আমরা সুপারিশগুলো উপস্থাপন করবো। কমিশনের সদস্যরা এখানে রয়েছেন এগুলো ব্যাখ্যা করার
জন্য, চাপিয়ে দেওয়ার জন্য না। চাপানোর ক্ষমতা আমাদের নাই। আমরা শুধু আপনাদের বোঝানোর
জন্য।
সংস্কার বাস্তবায়ন সবার দায়িত্ব উল্লেখ
করে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ইউনূস বলেন, আপনাদের সহযোগিতা চাই এটা বলব। কারণ, এটা
আপনাদের কাজ। এটা আমার কাজ না, একার কাজ না। যেহেতু আপনারা জনগণের প্রতিনিধিত্ব করেন
আপনাদের বলতে হবে সমাজের কল্যাণে কোন কোন জিনিস করতে হবে, কীভাবে করতে হবে। যেটা এক্ষুণি
করা যাবে বলবেন। যেটা এক্ষুণি করা দরকার, সামান্য রদবদল থাকলে সেটা করে দেন। আমরা শুধু
সাচিবিক কাজগুলো আপনাদের করে দিলাম। আমরা একটা লন্ডভন্ড অবস্থার মধ্য দিয়ে দায়িত্ব
নিয়েছি। চেষ্টা করেছি এটাকে কোনোরকমে সফল করতে। এই ৬ মাসের যে অভিজ্ঞতা সেটা আমাদের
সবাইকে প্রচণ্ড সাহস দেবে। এই ৬ মাসের অভিজ্ঞতা হলো, দলমত নির্বিশেষে সাধারণ মানুষ,
রাজনৈতিক ব্যক্তি ও রাজনৈতিক নেতৃত্বসহ সবাই সমর্থন দিয়েছে এই অন্তর্বর্তী সরকারকে।
কাজেই আমরা প্রথম পর্বের পর দ্বিতীয় পর্বে এলাম। ২য় পর্বে যেন আমরা আনন্দের সঙ্গে,
খুশি মনে সম্পন্ন করতে পারি।
মন্তব্য করুন


আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক উপদেষ্টা ড.
আসিফ নজরুল জানিয়েছেন, বিচার বিভাগ সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৪ আগস্ট) সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে
সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ মন্তব্য করেন তিনি।
সংবিধান সংশোধন করা হবে কিনা প্রশ্নে
তিনি বলেন, এ বিষয়ে অনেক দাবি আছে। কিন্তু আমরা এখনো এ বিষয়ে কোনো জবাব দিতে পারব না।
এটা আমার এখতিয়ারাধীন বিষয় না। আমরা উপদেষ্টা পরিষদে এ বিষয়ে আলোচনা করব।
মানুষের ভোটাধিকার ফিরিয়ে দিতে কোনো
চেষ্টা করবেন কিনা, জানতে চাইলি তিনি বলেন, অবশ্যই চেষ্টা করব। একটা পুরোজাতির ভোটাধিকারকে
এমনভাবে প্রহসন করা! এ রাষ্ট্রের মালিকানা জনগণের, ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার মাধ্যমে সেই
অধিকার ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে।
বিচার বিভাগ সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া
হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, প্রধান বিচারপতিসহ আপিল বিভাগে বিচারপতি নিয়োগ দেওয়ার ক্ষেত্রে
আইন মন্ত্রণালয়কে যে সহযোগিতা করতে হয়, সেটা আমরা সম্পন্ন করেছি। এরইমধ্যে প্রধান বিচারপতিসহ
আপিল বিভাগের বিচারপতিরা নিয়োগ পেয়েছেন।
আমরা এমন একজন প্রধান বিচারপতি পেয়েছি,
যিনি অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে লেখাপড়া করেছেন। এখান থেকে আপনারা বুঝে নেবেন, আমরা
কীসের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছি। যোগ্যতা ও সততার ওপর গুরুত্ব দিয়েছি। আগে যারা প্রধান বিচারপতি
ছিলেন, তাদের সিভি, আর বর্তমান প্রধান বিচারপতির সিভি তুলনা করলে বুঝতে পারবেন, আমরা
কীসের ওপর জোর দিচ্ছি,’ যোগ করেন আইন উপদেষ্টা।
সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনি হত্যার বিচার
না হলে জাতির কাছে আমরা দায়ী থাকব বলে মন্তব্য করেছেন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল।
সাগর-রুনি হত্যার বিচার গতি পাবে কিনা;
জানতে চাইলে, উপদেষ্টা বলেন, অবশ্যই, আপনারা রাজপথে থেকে আমাদের চাপে রাখবেন। এই বিচার
না হলে জাতির কাছে আমরা দায়ী থাকব। আমি বিশ্বাস করতে পারি না, এমন একটি নির্মম হত্যাকাণ্ড
নিয়ে কীভাবে প্রহসন করা হয়।
অর্থপাচারের দায়ে অভিযুক্তদের বিচারের
বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, যেকোনো অপরাধের বিচার করার ইচ্ছা ও উদ্দেশ্য আমাদের আছে।
আমাদের দেশের ব্যাংক ও সম্পদ লুটপাট করে নিয়ে যাবে, এটা তো আমার-আপনার টাকা। সাবেক
সরকারের মন্ত্রীদের টাকা না। জনগণের টাকা যারা নিয়ে গেছেন, তাদের অর্থ ফেরত আনার ব্যবস্থা
করা ও বিচারের সম্মুখীন করার জন্য যতটুকু করা দরকার, অবশ্যই আমরা করব।
মন্তব্য করুন


খাগড়াছড়ি জেলার লক্ষাধিক বাসিন্দা বন্যায় প্লাবিত হয়ে চরম বিপর্যয়ে পড়েছে ।
এরই মধ্যে চেঙ্গি, মাইনি ও কাসালং নদীর পানি বিপৎসীমার দুই থেকে ছয় ফিট অতিক্রম করায় আশপাশের এলাকা পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে।
শুক্রবার (২৩ আগস্ট) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর), এ বিপন্ন মানুষের সাহায্যার্থে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী।
আইএসপিআর আরো জানায়, দিনভর উদ্ধার কার্যক্রমের মাধ্যমে প্রায় দুই হাজার খাগড়াছড়িবাসীকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছে সেনাবাহিনী। আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে অবস্থানরত অসহায় মানুষদের রান্না করা খাবার দেওয়ার পাশাপাশি প্রত্যন্ত অঞ্চলে শুকনা খাবার, মোমবাতি, দিয়াশলাই, স্যালাইনসহ প্রয়োজনীয় সামগ্রী পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।
বন্যা
পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমের পাশাপাশি চিকিৎসা
সেবা প্রদান অব্যাহত রাখবে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী।
মন্তব্য করুন


রাজধানীর
চকবাজারে খাজা মার্কেটের আশিক টাওয়ার নামে একটি ভবনে আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছে। আগুন নিয়ন্ত্রণে
ফায়ার সার্ভিসের ৬ ইউনিট কাজ করছে।
শনিবার
(৪ জুলাই) দুপুর দেড়টার দিকে এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
ফায়ার
সার্ভিস জানায়, দুপুর ১টা ৩৪ মিনিটে আগুনের খবর আসে। ৫ তলা ভবনের তৃতীয় তলায় আগুন লাগে।
কয়েক মিনিট পর ফায়ার সার্ভিসের লালবাগ স্টেশনের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে
কাজ শুরু করে। পরে সিদ্দিক বাজার ফায়ার স্টেশনের আরও চারটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পাঠানো
হয়। এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর মেলেনি।
এছাড়া আগুন লাগার সঠিক কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ সম্পর্কে
কোনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
ফায়ার
সার্ভিসের মোবিলাইজিং অফিসার খালেদা ইয়াছমিন যুগান্তরকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি
বলেন, আগুন নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের ৬টি ইউনিট কাজ করছে।
মন্তব্য করুন


কৃষিতে উৎসাহ-উদ্দীপনা দেয়ার
জন্য ২০১৯ সালের নীতিমালা অনুযায়ী কৃষি ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ব্যাক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে
সিআইপি'র সমমর্যাদায় Agricultural Important
Person এআইপি প্রবর্তন করেন সরকার।
২০২১ সালের এআইপি খেতাবে
ভূষিত হয়েছেন কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার
আদমপুর গ্রামের রাষ্ট্রীয় পুরস্কার প্রাপ্ত
কৃষি পরিবেশ সমাজ উন্নয়ন সংগঠক, অধ্যাপক এম এ মতিন (মতিন সৈকত)।
২০২১ সালের পদকটি আগামী ৭
জুলাই ২০২৪ইং তারিখে ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আনুষ্ঠানিকভাবে মতিন সৈকত সহ অনান্য এআইপিদের
সন্মাননা সংবর্ধনা প্রদান করা হবে।
তিনি চার দশক ধরে কৃষি পরিবেশ
সমাজ উন্নয়নে বৈপ্লবিক অবদান রাখছেন। কৃষি উদ্ভাবন জাত/প্রযুক্তি বিভাগে মতিন সৈকত-কে
এআইপি সম্মাননা দেয়ার সরকারি সিদ্ধান্ত হয়।
এআইপিগণ সিআইপিদের মতো সুযোগ-সুবিধা পাবেন। এর মধ্যে রয়েছে-
মন্ত্রণালয় থেকে একটি প্রশংসাপত্র, বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রবেশের জন্য প্রবেশ পাশ, বিভিন্ন
জাতীয় অনুষ্ঠানে নাগরিক সংবর্ধনায় আমন্ত্রণ, বিমান, রেল, সড়ক ও জলপথে ভ্রমণকালীন সরকার
পরিচালিত গণপরিবহনে আসন সংরক্ষণ অগ্রাধিকার, ব্যবসা/দাফতরিক কাজে বিদেশে ভ্রমণের জন্য
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ভিসা প্রাপ্তির নিমিত্ত সংশ্লিষ্ট দূতাবাসকে উদ্দেশ্য করে
Letter of Introduction ইস্যু করবে, নিজের ও পরিবারের সদস্যদের চিকিৎসার জন্য সরকারি
হাসপাতালের কেবিন সুবিধা প্রাপ্তিতে অগ্রাধিকার এবং বিমানবন্দরে ভিআইপি লাউঞ্জ ব্যবহার
সুবিধা পাবেন।
মতিন সৈকত একজন বহুমুখী সৃজনশীল
উদ্ভাবক-উদ্যোক্তা। সৃজনশীল কাজের স্বীকৃতি
স্বরূপ তিনি ১৯৮৭ সালে মহামান্য রাষ্ট্রপতির
অভিনন্দন পত্র পেয়েছেন। পরিবেশ বান্ধব প্রযুক্তি উদ্ভাবন ব্যাবহার এবং সম্প্রসারণে
অসাধারণ অবদানের জন্য ২০১০ এবং ২০১৭ সালে মাননীয়
প্রধানমন্ত্রী মতিন সৈকত-কে দুইবার বঙ্গবন্ধু জাতীয় কৃষি পদক এবং পরিবেশ সংরক্ষণ ও দূষণ নিয়ন্ত্রণে ব্যাক্তিগত ক্যাটাগরিতে
২০২১ সালে জাতীয় পরিবেশ পদক প্রদান করেন।
পরিবেশ সংরক্ষণ ও দূষণ নিয়ন্ত্রণে
মতিন সৈকত ছয়বার সরকারিভাবে চট্টগ্রাম বিভাগে শীর্ষ স্থান অর্জন করেন। বিষমুক্ত ফসল,
নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনে মতিন সৈকত নিরন্তর সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছেন।
বেকারত্ব দূরীকরণ, কর্মসংস্থান
সৃষ্টিতে সমবায় ভিত্তিতে আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে মতিন সৈকত সামাজিক আন্দোলনের মাধ্যমে গড়ে তুলেন
আপুসি, আপুবি, বিসমিল্লাহ, আদমপুর আদর্শ মৎস্য চাষ প্রকল্প।
প্লাবন ভূমিতে মৎস্য চাষে
দাউদকান্দি মডেল এবং নিরাপদ খাদ্য উপজেলা দাউদকান্দি মডেলের অন্যতম অংশীজন তিনি। সারাদেশে
বোরোধান উৎপাদন করতে সেচের পানির জন্য কৃষককে যখন ১২০০ থেকে ২০০০ টাকা বিঘাপ্রতি সেচ
খরচ দিতে হয়। সেখানে মতিন সৈকত বিঘাপ্রতি এককালীন
মৌসুমব্যাপী মাত্র দুইশ টাকার বিনিময়ে ত্রিশ বছর যাবত বোরোধান লাগানো থেকে পাকা ধান
কাটা পর্যন্ত যার যতোবার সেচের পানির প্রয়োজন ততোবারই সেচের পানি সরবরাহ করে জাতীয়
দৃষ্টান্ত স্হাপন করেন।
বোরোধানের জমিতে ধান উৎপাদনের
পাশাপাশি মৎস্য চাষ করে বিঘাপ্রতি ১০/ ১৫ হাজার
টাকা মুনাফা পাচ্ছেন কৃষক। মতিন সৈকতের দীর্ঘ আন্দোলনের ফলে সরকার কালাডুমুর নদী পূনঃখনন
করে দিয়েছেন।
এছাড়া মতিন সৈকত খাল-নদী
পূনঃখনন জলাভূমি সংরক্ষণ, বন্যপ্রাণী, পাখি
প্রকৃতি, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে কাজ করছেন। কৃষি মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা
হয় -
তিনি নিজ এলাকা দাউদকান্দি কুমিল্লায় ২০০৬ সালে ১০,০০০ কৃষক নিয়ে আইপিএম-আইসিএম
ক্লাব গঠন করেন। তার এ উদ্যোগের ফলে ২০১৭ বিশ্ব খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও) দাউদকান্দি
উপজেলাকে বিষমুক্ত নিরাপদ খাদ্য উপজেলা হিসেবে ঘোষণা করে। তাঁর কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ
তিনি ২০১০ ও ২০১৭ সালে বঙ্গবন্ধু কৃষি পদক এবং ২০২১ সালে জাতীয় পরিবেশ পদক পেয়েছেন।
মন্তব্য করুন