

মিয়ানমারের
রাখাইন রাজ্যের ম্রাউক-উ অঞ্চলে সেনা বিমান হামলায় কমপক্ষে ৩১ জন নিহত এবং ৬৮ জন আহত
হয়েছেন। স্থানীয় সহায়তা কর্মী ওয়াই হুন অং , গতকাল বুধবার (১০ ডিসেম্বর) এই তথ্য নিশ্চিত
করেছেন। হামলাটি ঘটেছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার দিবসের দিনে।
হামলায় আহত
ও নিহতদের মধ্যে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন সাধারণ মানুষ ও কর্মীরা রয়েছেন। হাসপাতালে কমপক্ষে
২০টি মৃতদেহও দেখা গেছে। এই বিমান হামলা সামরিক শাসনের অধীনে ২৮ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিতব্য
নির্বাচনের আগে সংঘটিত হলো।
মিয়ানমারে সামরিক
অভিযান ও বিমান হামলার ঘটনা ক্রমেই বৃদ্ধি পাচ্ছে। গত অক্টোবরেও সাগাইং অঞ্চলে ধর্মীয়
উৎসবে বিমান হামলায় কমপক্ষে ২৪ জন নিহত এবং ৪৫ জন আহত হন।
জাতিসংঘ এই
ধরনের অবিচ্ছিন্ন হামলাকে অগ্রহণযোগ্য বলে মন্তব্য করেছে এবং সকল পক্ষকে আন্তর্জাতিক
মানবাধিকার আইন মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে।
জাতিসংঘের তথ্য
অনুযায়ী, ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে সামরিক অভ্যুত্থানের পর সাগাইং অঞ্চল সবচেয়ে বেশি
বিমান হামলার শিকার হয়েছে। চলতি বছরে শুধু ২৮ মার্চ এই অঞ্চলে ১০৮টির বেশি বিমান হামলায়
অন্তত ৮৯ জন নিহত হয়েছেন।
মন্তব্য করুন


তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা মো. মাহফুজ আলম বলেছেন, স্বল্পদৈর্ঘ্য ও পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র নির্মাণে সরকারি অনুদান প্রদান নীতিমালায় প্রয়োজনীয় সংশোধন আনা হবে। এর ফলে সরকারি অনুদানে নির্মিতব্য চলচ্চিত্রের মানোন্নয়ন হবে।
আজ বুধবার (১২ নভেম্বর) ঢাকার তথ্য ভবনে স্বল্পদৈর্ঘ্য ও পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র নির্মাণে সরকারি অনুদান প্রদান নীতিমালা, ২০২৫-এর সংশোধন-বিষয়ক এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
গত অর্থবছরে অনুদানের চলচ্চিত্র বাছাই প্রসঙ্গে তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা বলেন, বিদ্যমান নীতিমালার আলোকে সর্বোচ্চ স্বচ্ছতার সঙ্গে সরকারি অনুদানের জন্য চলচ্চিত্র বাছাই করা হয়েছে। যেসব চলচ্চিত্র অনুদানের জন্য নির্বাচিত হয়েছে, সেসব চলচ্চিত্র নির্মাণে গুণগত মান বজায় রাখার জন্য তিনি চলচ্চিত্র-সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানান।
তথ্য উপদেষ্টামাহফুজ আলম বলেন, অনুদানে নির্মিতব্য চলচ্চিত্রের মানোন্নয়নে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় বেশ কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। এর অংশ হিসেবে মন্ত্রণালয় চলচ্চিত্র নির্মাণে সরকারি অনুদান প্রদান নীতিমালা সংশোধনের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।
বিদ্যমান নীতিমালায় যেসব ক্ষেত্রে সংশোধন প্রয়োজন, তা লিখিতভাবে জমাদানের জন্য তিনি চলচ্চিত্র-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গের প্রতি আহ্বান জানান।
উক্ত মতবিনিময় সভায় তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুবা ফারজানা, অতিরিক্ত সচিব নূর মো. মাহবুবুল হক, বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন কর্পোরেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাসুমা রহমান তানি, বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সার্টিফিকেশন বোর্ডের ভাইস-চেয়ারম্যান এস. এম. আব্দুর রহমানসহ চলচ্চিত্র পরিচালক, চলচ্চিত্রনির্মাতা, অভিনেতা ও চলচ্চিত্র-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
মন্তব্য করুন


মেট্রোরেল নির্বাচনের দিনেও যথা নিয়মে চলবে বলে জানিয়েছেন মেট্রোরেল পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেডের (ডিএমটিসিএল)।
শনিবার(৬ জানুয়ারি) সকালে ডিএমটিসিএল জেনারেল ম্যানেজার (অপারেশন) মোহাম্মদ ইফতিখার হোসেন গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
মোহাম্মদ ইফতিখার হোসেন বলেন, আমরা এই বিষয়ে কোনো ঘোষণা দিইনি। যেহেতু দিইনি, সেহেতু মেট্রোরেল চলবে। যদি না চলতো, তহালে আমরা নোটিশ দিতাম, ঘোষণা দিতাম। শুক্রবার মেট্রোরেলের সাপ্তাহিক বন্ধের দিন ছাড়া প্রতিদিন নিময় অনুযায়ী মেট্রোরেল সাভাবিক ভাবে চলাচল করবে।
মন্তব্য করুন


ইউরোপীয় ইউনিয়নের মান্যবর রাষ্ট্রদূত Mr. Michael Miller এর নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল আজ বুধবার (১৭ সেপ্টেম্বর) সেনাসদরে সেনাপ্রধান এর সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন।
সাক্ষাৎকালে, পারস্পরিক শুভেচ্ছা বিনিময়ের
পাশাপাশি, তাঁরা বাংলাদেশ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে সামরিক সহযোগিতা জোরদার করা
এবং ইউরোপীয় সহায়তায় বাংলাদেশে সামরিক শিল্পের সম্ভাবনা নিয়ে মতবিনিময় করেন।
মান্যবর রাষ্ট্রদূত বর্তমান প্রেক্ষাপটে দেশের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় সেনাবাহিনীর
অবদানের ভূয়সী প্রশংসা করেন।
মন্তব্য করুন


পলিসি সামিট ২০২৬’-এ যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ভারত, পাকিস্তানসহ বিশ্বের প্রায় ত্রিশটি দেশের প্রতিনিধি অংশগ্রহণ করেছেন। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে আয়োজিত এই আন্তর্জাতিক সম্মেলনটি মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) সকালে ঢাকার একটি অভিজাত হোটেলে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়।
আয়োজক সূত্র জানায়, সকাল থেকেই বিভিন্ন দেশের কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক প্রতিনিধিরা সামিটে যোগ দিতে শুরু করেন। ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি চীন, জাপান, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, জার্মানি, ফ্রান্স, দক্ষিণ কোরিয়া, ভারত, পাকিস্তান, ইরান, মালয়েশিয়া, তুরস্ক, মালদ্বীপ, ব্রুনাই ও শ্রীলঙ্কাসহ প্রায় ৩০টি দেশের প্রতিনিধিদের উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে।
সম্মেলনের সূচনা পর্বে মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, বাংলাদেশের সামনে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন এখন শুধু টিকে থাকা নয়, বরং একটি স্থিতিশীল ও কার্যকর রাষ্ট্রব্যবস্থা নিশ্চিত করা। আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে তিনি একটি নতুন, সম্ভাবনাময় ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক কাঠামোর রূপরেখা তুলে ধরেন।
ডা. শফিকুর রহমান তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতার ইতিহাস মূলত একটি দীর্ঘমেয়াদি ও এখনও অসম্পূর্ণ সংগ্রামের ধারাবাহিকতা। রাজনৈতিক স্বাধীনতা, অর্থনৈতিক মুক্তি এবং মানবিক মর্যাদা প্রতিষ্ঠার আকাঙ্ক্ষাই ছিল ১৯৪৭ সালের উপনিবেশ-উত্তর সময় এবং ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের মূল প্রেরণা। তবে স্বাধীনতার অর্ধশতাব্দীরও বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও সেই লক্ষ্যসমূহ পুরোপুরি অর্জিত হয়নি বলে তিনি মন্তব্য করেন।
তিনি আরও বলেন, গত প্রায় ১৭ বছরে দুর্বল শাসনব্যবস্থা ও কর্তৃত্ববাদী প্রবণতার ফলে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, জবাবদিহিতা কমেছে এবং সাধারণ মানুষের মতপ্রকাশের সুযোগ সংকুচিত হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় ২০২৪ সালের জুলাই মাসে জনগণ, বিশেষ করে তরুণ সমাজ, নিজেদের অধিকার ও ভবিষ্যৎ পুনরুদ্ধারের দাবিতে আবারও সক্রিয় ভূমিকা গ্রহণ করেছে।
মন্তব্য করুন


চট্টগ্রামের
দুটি সংসদীয় আসনে প্রাথমিকভাবে ঘোষিত প্রার্থী পরিবর্তন করে চূড়ান্ত মনোনয়ন দিয়েছে
বিএনপি। দলটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, চট্টগ্রাম-৪ (সীতাকুণ্ড ও চট্টগ্রাম নগরের আংশিক)
আসনে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য মোহাম্মদ আসলাম চৌধুরী এবং চট্টগ্রাম-১০
(পাহাড়তলী–হালিশহর) আসনে প্রয়াত নেতা আব্দুল্লাহ আল নোমানের ছেলে
সাঈদ আল নোমান চূড়ান্ত মনোনয়ন পেয়েছেন। অন্যদিকে চট্টগ্রাম-১১ (বন্দর–পতেঙ্গা)
আসনে নির্বাচন করবেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
শনিবার
(২৭ ডিসেম্বর) বিকেলে বিষয়টি নিশ্চিত করেন কেন্দ্রীয় বিএনপির চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাংগঠনিক
সম্পাদক মাহবুবের রহমান শামীম। এর আগে শনিবার সকালে সীতাকুণ্ড উপজেলার ভাটিয়ারী ইউনিয়নের
জলিল গেট এলাকায় নিজ বাড়িতে স্থানীয় বিএনপি নেতা-কর্মীদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় দলীয়
মনোনয়নপত্র তুলে ধরেন মোহাম্মদ আসলাম চৌধুরী।
দলীয়
সূত্র জানায়, চট্টগ্রাম-১০ আসনে পূর্বঘোষিত প্রার্থী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর পরিবর্তে
সাঈদ আল নোমানকে মনোনয়ন দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ফলে আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী চট্টগ্রাম-১১
(বন্দর–পতেঙ্গা) আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।
এ
বিষয়ে মাহবুবের রহমান শামীম বাংলানিউজকে জানান, চট্টগ্রামে দুটি আসনে প্রার্থী পরিবর্তন
করা হয়েছে।
চট্টগ্রাম-৪
আসনে মোহাম্মদ আসলাম চৌধুরী এবং চট্টগ্রাম-১০ আসনে সাঈদ আল নোমানকে চূড়ান্ত মনোনয়ন
দেওয়া হয়েছে। চট্টগ্রাম-১১ আসনে আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীই নির্বাচন করবেন।
উল্লেখ্য,
গত ৩ নভেম্বর বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ২৩৭টি সংসদীয় আসনে দলের প্রার্থী
তালিকা ঘোষণা করেন। সে সময় চট্টগ্রাম-৪ আসনে কাজী মোহাম্মদ সালাউদ্দিন এবং চট্টগ্রাম-১০
আসনে আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর নাম ঘোষণা করা হয়েছিল।
মন্তব্য করুন


জুলাই-আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী
অপরাধের দায়ে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আন্তর্জাতিক
অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১।
আজ সোমবার বিচারপতি মো. গোলাম মর্তুজা মজুমদারের
নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ ঐতিহাসিক এই রায় ঘোষণা করেন।
রায় প্রদানকারী এই ট্রাইব্যুনালে অপর দুই সদস্য বিচারক হলেন মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও
মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।
বহুল আলোচিত এই মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে পাঁচটি
অভিযোগ এনে শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামালের সর্বোচ্চ শাস্তি চেয়েছিলেন প্রসিকিউশন।
অন্যদিকে, আসামিদের নির্দোষ দাবি করে খালাস চায় তাদের পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী। এছাড়া রাজসাক্ষী
সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনের খালাস চান তার আইনজীবী।
এই মামলায় প্রসিকিউশন পক্ষে চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ
তাজুল ইসলাম, প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম ও গাজী এস. এইচ. তামিম শুনানি করেন। এছাড়া শুনানিতে
প্রসিকিউটর বি. এম. সুলতান মাহমুদ, শাইখ মাহদি, আবদুস সাত্তার পালোয়ানসহ অন্য প্রসিকিউটরা
উপস্থিত ছিলেন। অন্যদিকে, পলাতক শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামালের পক্ষে শুনানি
করেন রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মো. আমির হোসেন। আর রাজসাক্ষী হওয়া সাবেক আইজিপি চৌধুরী
আবদুল্লাহ আল-মামুনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী যায়েদ বিন আমজাদ।
এই মামলায় সাক্ষ্য দিয়েছেন গণ-অভ্যুত্থানের প্রথম
শহীদ আবু সাঈদের পিতাসহ স্বজনহারা পরিবারের অনেকে। এছাড়া স্টার উইটনেস হিসেবে সাক্ষ্য
দেন জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক ও জুলাই আন্দোলনে নেতৃত্বদানকারী নাহিদ ইসলাম এবং
দৈনিক আমার দেশ পত্রিকার সম্পাদক ড. মাহমুদুর রহমান। সর্বোমোট ৫৪ জন সাক্ষী এই মামলায়
সাক্ষ্য দিয়েছেন।
মানবতাবিরোধী অপরাধের এই মামলায় শেখ হাসিনা, আসাদুজ্জামান
খান কামাল ও আবদুল্লাহ আল-মামুনের বিরুদ্ধে গত ১০ জুলাই অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর
আদেশ দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১।
একপর্যায়ে দোষ স্বীকার করে ঘটনার সত্যতা উদ্ঘাটনে
(অ্যাপ্রুভার) রাজসাক্ষী হন সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন।
২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান
দমনে আওয়ামী লীগ সরকার, তাদের দলীয় ক্যাডার ও সরকারের অনুগত প্রশাসনসহ আইন-শৃঙ্খলা
রক্ষাকারী বাহিনীর একটি অংশ গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটিত করে বলে আন্তর্জাতিক
অপরাধ ট্রাইব্যুনালে একের পর এক অভিযোগ জমা
পড়ে।
মন্তব্য করুন


প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, মানুষের জীবিকার সঙ্গে সম্পর্কিত হওয়ায় ঋণ প্রাপ্তি একটি মৌলিক অধিকার। জীবিকার অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে হলে ঋণ পাওয়ার অধিকার নিশ্চিত করতে হবে।
মঙ্গলবার (১২ নভেম্বর) আজারবাইজানের রাজধানী বাকুতে অনুষ্ঠিত কপ-২৯ জলবায়ু সম্মেলনের একটি সাইডলাইন ইভেন্টে বক্তব্য দেওয়ার সময় এ কথা বলেন তিনি।
জলবায়ু সম্মেলনস্থলে বাংলাদেশে প্যাভিলিয়নে বাংলাদেশ ও নেদারল্যান্ডস যৌথভাবে "একটি বৈশ্বিক সংলাপ: ক্ষুদ্র কৃষকদের জন্য অর্থায়ন সুবিধা" শীর্ষক এই ইভেন্টের আয়োজন করে।
অতিরিক্ত পররাষ্ট্র সচিব রিয়াজ হামিদুল্লাহ অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন এবং এতে উপস্থিত ছিলেন নেদারল্যান্ডসের জলবায়ু দূত বোরবোন-পারমার ডাচ প্রিন্স জেইম বার্নার্ডো।
ডাচ প্রিন্স উল্লেখ করেন কীভাবে ঋণ, বীমা, বিনিয়োগ, গবেষণা এবং অর্থায়ন কৃষি উৎপাদন বাড়াতে সহায়ক ভূমিকা রাখছে এবং জানান সারা বিশ্বের লাখ লাখ কৃষকের এখন এই সহায়তা প্রয়োজন।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন, ইন্টারন্যাশনাল রাইস রিসার্চ ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক ইভোন পিন্টো। তিনি বলেন, কৃষকদের জন্য ঋণ সহজলভ্য হওয়ার পর থেকে বিশ্বব্যাপী ধান উৎপাদন বেড়েছে।
ডাচ উদ্যোক্তা উন্নয়ন ব্যাংক এফএমও-এর পরিচালক জোরিম শ্রাভেন ঋণ প্রাপ্তির অধিকারের বিষয়ে নৈতিক সমর্থন দেওয়ায় অধ্যাপক ইউনূসের প্রশংসা করেন এবং জানান, এটি মানুষের তথ্য জানার অধিকার সম্পর্কিত।
ইন্টার প্রেস সার্ভিসের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট এবং আইপিএস নোরামের নির্বাহী পরিচালক ফারহানা হক রহমান বলেন, বর্তমানে ৫৫ কোটি ক্ষুদ্র কৃষক পরিবার বিশ্বব্যাপী দুই বিলিয়ন মানুষের খাদ্যের যোগান দেয়।
প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, যদি একজন কৃষককে ঋণের সুবিধা দেওয়া হয় তবে সে উদ্যোক্তা হয়ে উঠতে পারে। প্রত্যেক ব্যবসায় টাকা এবং বিনিয়োগের প্রয়োজন উল্লেখ করে তিনি বলেন, একজন কৃষক শুধুমাত্র ফসল উৎপাদন করেন না, তিনি তা বাজারে বিক্রি করেন। যদি একজন কৃষককে ঋণের সুযোগ দেওয়া হয়, তবে তিনি অন্য কৃষকদের কাছ থেকে ফসল কিনে বিক্রি করতে পারবেন এবং এভাবে তার জীবনমানের উন্নতি হবে। কৃষকদের জন্য ঋণ সহজলভ্য করতে দেশ দেশে গ্রামীণ ব্যাংক মডেল অনুসরণ করে ব্যাংকিং ব্যবস্থা পুনর্গঠন করা উচিত। প্রত্যেক দেশে সামাজিক ব্যবসা ব্যাংকিং আইন থাকা উচিত। বর্তমানে বিশ্বব্যাপী অন্তত ১১০টি বিশ্ববিদ্যালয়ে সামাজিক ব্যবসাকে কোর্স হিসেবে পড়ানো হচ্ছে।
মন্তব্য করুন


জাতীয় নির্বাচন ইভিএম এ নয়, ব্যালটে
হবে বলে জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দীন। এছাড়া কমিশন
যেকোনো সময় নির্বাচন আয়োজনে প্রস্তুত আছে বলেও জানিয়েছেন সিইসি।
আজ মঙ্গলবার (১৭ ডিসেম্বর) দুপুরে রাজধানীর
আগারগাঁও নির্বাচন ভবনে গণমাধ্যমের সাঙ্গে আলাপকালে তিনি এ সব কথা বলেন।
নির্বাচন আয়োজনে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের
প্রধান উপদেষ্টার বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে সিইসি এসব কথা বলেন।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির
উদ্দীন বলেন, জাতীয় নির্বাচনের জন্য আমরা প্রথম দিন থেকেই প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছি।
প্রধান উপদেষ্টা জাতীয় নির্বাচনের যে সময়সীমার ইঙ্গিত দিয়েছেন, সেই অনুযায়ী নির্বাচন
পরিচালনার জন্য আমাদের সব ধরনের প্রস্তুতি রয়েছে। কমিশন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকেই প্রাধান্য
দিচ্ছে। স্থানীয় সরকার নির্বাচনের বিষয়ে প্রধান উপদেষ্টার কাছ থেকে এখনো কোনো নির্দেশনা
আসেনি।
ভোটার তালিকা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বর্তমানে
বিদ্যমান ভোটার তালিকায় অনেক অসংগতি রয়েছে। দুই মাসের মধ্যে সংশোধিত চূড়ান্ত ভোটার
তালিকা তৈরি করা হবে। নতুন তালিকা তৈরির জন্য বাড়ি বাড়ি গিয়ে তথ্য সংগ্রহ করা হবে।
মৃত ভোটারদের তালিকা থেকে বাদ দেওয়া, অনুপস্থিত বা বিদেশে থাকা ভোটারদের তথ্য যাচাই
এবং ডুপ্লিকেট ভোটার শনাক্ত করে তালিকা সংশোধনের কাজ করা হবে।
রোডম্যাপ প্রসঙ্গে সিইসি বলেন, প্রধান
উপদেষ্টার নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ করা হবে। যদিও আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো রোডম্যাপ ঘোষণা
করা হবে না, তবে নির্বাচন কমিশনের কাজের জন্য একটি অভ্যন্তরীণ পরিকল্পনা থাকবেই।
মন্তব্য করুন


বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও কর্মচারীদের বাড়ি ভাড়া বাড়ানোর প্রস্তাব অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। সরকারের আর্থিক সক্ষমতা অনুসারে ৫ থেকে ২০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ি ভাড়া নির্ধারণের প্রস্তাব দিয়ে এ চিঠি দেওয়া হয়েছে।
আজ বুধবার (১৫ অক্টোবর) শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
মন্তব্য করুন


রাজধানীর পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে প্লট বরাদ্দে ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে দায়ের করা বহুল আলোচিত দুর্নীতি মামলার রায় ঘোষণা করা হয়েছে। এতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তার বোন শেখ রেহানা এবং ভাগনি যুক্তরাজ্যের এমপি টিউলিপ রিজওয়ানা সিদ্দিকসহ মোট ১৭ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় শেখ হাসিনাকে ৫ বছর, শেখ রেহানাকে ৭ বছর এবং টিউলিপ সিদ্দিককে ২ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
আজ সোমবার (১ ডিসেম্বর) সকাল সাড়ে ১১টায় ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৪-এর বিচারক রবিউল আলম এ রায় ঘোষণা করেন। রায় শোনার আগেই আদালত এলাকা ঘিরে বাড়ানো হয় নিরাপত্তা। আদালতের গেট, বারান্দা ও প্রবেশপথজুড়ে পুলিশ, ডিবি ও বিজিবির অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করা হয়। সন্দেহজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করতেও দেখা যায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের।
দুদকের পক্ষ থেকে মামলার সমন্বয়কারী পাবলিক প্রসিকিউটর মঈনুল হাসান রায়ের আগে সাংবাদিকদের বলেন, “সাক্ষ্য-প্রমাণে আমরা আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রতিষ্ঠা করতে পেরেছি। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আদালতের, তবে রাষ্ট্রপক্ষ সর্বোচ্চ শাস্তির প্রত্যাশা করেছে।”
মামলার অভিযোগপত্র অনুযায়ী, পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পের একটি ১০ কাঠার প্লট অনিয়ম ও ক্ষমতার অপব্যবহার করে বরাদ্দ নেওয়ার অভিযোগে চলতি বছরের ১৩ জানুয়ারি মামলাটি দায়ের করেন দুদকের উপপরিচালক সালাহউদ্দিন। তখন শেখ হাসিনা, শেখ রেহানা ও টিউলিপ সিদ্দিকসহ মোট ১৫ জনকে আসামি করা হলেও পরে তদন্তের মাধ্যমে আরও দু’জনকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। ফলে আসামির সংখ্যা দাঁড়ায় ১৭ জনে।
অন্য আসামিদের মধ্যে রয়েছেন—গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম সরকার, সিনিয়র সহকারী সচিব পুরবী গোলদার, অতিরিক্ত সচিব অলিউল্লাহ, সচিব কাজী ওয়াছি উদ্দিন, রাজউকের সাবেক চেয়ারম্যানের পিএ আনিছুর রহমান মিঞা, রাজউকের সাবেক সদস্য মোহাম্মদ খুরশীদ আলম, তন্ময় দাস, মোহাম্মদ নাসির উদ্দীন, মেজর (অব.) সামসুদ্দীন আহমদ চৌধুরী, সাবেক পরিচালক নুরুল ইসলাম, সহকারী পরিচালক মাজহারুল ইসলাম, উপপরিচালক নায়েব আলী শরীফ এবং তদন্তের পর যুক্ত হওয়া দু’জন—সাবেক প্রধানমন্ত্রীর একান্ত সচিব-১ মোহাম্মদ সালাহ উদ্দিন ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমেদ।
গত ৩১ জুলাই আদালত আসামিদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর নির্দেশ দেন। মামলার বিচারিক কার্যক্রমে মোট ৩২ জন সাক্ষী আদালতে জবানবন্দি দেন। দীর্ঘ শুনানি ও সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে অবশেষে আজ এই বহুল আলোচিত মামলার রায় ঘোষণা করা হলো।
মন্তব্য করুন