

বিশ্বের
অন্যতম বিরল ও দামি কফি ‘ব্ল্যাক আইভরি’ কিভাবে সাধারণ কফির তুলনায় কম তেতো
এবং মোলায়েম স্বাদের হয়, তার বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা সামনে এসেছে। জাপানের ইনস্টিটিউট অব
সায়েন্স, টোকিওর গবেষকরা জানাচ্ছেন, এই কফির স্বাদের পেছনে রয়েছে এশীয় হাতির পাচনতন্ত্রে
থাকা বিশেষ ধরনের ব্যাকটেরিয়া।
থাইল্যান্ডের
একটি হাতি অভয়ারণ্যে তৈরি হয় এই কফি। সেখানে হাতিদের আরাবিকা কফি চেরি খাওয়ানো হয়,
যার পর হাতির মল থেকে কফির বীজ সংগ্রহ করে পরিষ্কার ও ভাজা হয়। গবেষণায় দেখা গেছে,
কফি চেরি খাওয়া হাতিদের অন্ত্রে পেকটিন ভাঙতে সক্ষম ব্যাকটেরিয়ার পরিমাণ বেড়ে যায়।
পেকটিন হলো কফির বীজে থাকা একটি প্রাকৃতিক উপাদান, যা ভাজার সময় ভেঙে গেলে কফি তেতো
হয়। কিন্তু হাতির অন্ত্রের ব্যাকটেরিয়া পেকটিন কমিয়ে দেয়ার ফলে কম তেতো স্বাদ তৈরি
হয় এবং কফি হয়ে ওঠে মোলায়েম ও মৃদু।
গবেষণার
সহলেখক সহযোগী অধ্যাপক তাকুজি ইয়ামাদা বলেন, হাতির অন্ত্রের জীবাণুসমষ্টি কফির স্বাদের
গুণগত মানে কীভাবে প্রভাব ফেলে, তা বোঝার জন্য আমাদের এই গবেষণাটি একটি সম্ভাব্য দিক
নির্দেশ করেছে। ভবিষ্যতে কফি বীজের আগে ও পরে রাসায়নিক বিশ্লেষণ করলে বিষয়টি আরও স্পষ্ট
হবে।
এছাড়া,
গবেষণায় দেখা গেছে, কফি চেরি খাওয়া হাতিদের অন্ত্রে জীবাণুর বৈচিত্র্য বেশি থাকে, যা
পেকটিন ভাঙার প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করে।
গবেষকরা
বলছেন, এই ফলাফল প্রাণীর পাচন প্রক্রিয়া ও অন্ত্রের ব্যাকটেরিয়া খাবারের স্বাদ বদলে
দিতে পারেএটি কেবল কফি নয়, ভবিষ্যতে নতুন ধরনের কফি বা অন্যান্য গাঁজন করা খাবার তৈরির
ক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিতে পারে।
মন্তব্য করুন


১২ বছর বয়সী নুরে জারিন নুদার। বর্তমান সময়েরর ছেলে-মেয়েদের থেকে একটু আলাদা। যে বয়সে মেয়েরা মুঠোফোন নিয়ে ব্যস্ত। ওই বয়সে ক্ষুদে এ শিক্ষার্থী হাতে কোরআন লিখে পার করছে ব্যস্ত সময়। তার গল্প শুনলে অনেকেরই চোখ কপালে উঠবে। এই মাদরাসা শিক্ষার্থীর কোনো ক্লাসে পড়তে হয়নি প্রাইভেট। মাত্র ১০ মাসে নির্ভুল ভাবে সে পুরো আল-কোরআন হাতে লিখেছেন। তার দৃষ্টিনন্দন হাতের লেখা দেখলে যে কারো চোখ আটকাবে। মনে হবে এটি কম্পিউটারে ছাপা লেখা। চোখ জুড়ানো হাতের লেখায় পবিত্র কোরআন লিখে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে সে।
বর্তমানে নুদার বসুরহাট দারুল ইহসান গার্লস মাদরাসার ৬ষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী। ২০২২ সালের সেপ্টম্বর মাসের ঘটনা। তখন ১০ বছর বয়সী নুদার বাড়ির পাশের ইকরা আরাবিয়া মাদরাসার চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রী। একদিন হঠাৎ মেয়ের সুন্দর আরবি হাতের লেখা চোখে পড়ে বাবার। এরপর তিনি মেয়েকে উদ্বুদ্ধ করেন পবিত্র কোরআন হাতে লিখতে। যে কথা, সেই কাজ। মেয়েকে প্রথমে এক রিম খোলা সাদা কাগজ এনে দেন তিনি। সেই থেকে শুরু। এরপর আস্তে আস্তে ১০ মাসে ২০২৩ সালের জুলাই মাসে নুদার কোরআন লিখে শেষ করেন। এরপর তার বাবা হাতে লিখা কোরআন শরীফ নিয়ে নুদারের মাদরাসার আরবী শিক্ষক মুফতি মুহা.আবদুল্লাহ আল নোমান শরনাপন্ন হন। সেই থেকে নুদারের লেখা শেষে তিনি বানান সংশোধন করে পুনঃনিরীক্ষণ করে দিতেন। তার উৎসাহে ও সহযোগিতায় নুদারের লেখা আরও গতি পায়। পরবর্তীতে পান্ডুলিপি থেকে ১০ পারা করে তিন ভাগে পুর্ণাঙ্গ কোরআন বাঁধাই করা হয়। কোরআন লিখতে ব্যবহার করা হয়েছে ৬১১টি এ ফোর সাইজের সাদা কাগজ ও ৫৫টি বলপেন কলম। মেয়ের এমন সাফল্যে উচ্ছ্বসিত মা-বাবা,দাদা-দাদী সহ এলাকাবাসী। মা-বাবার আশা মেয়ে উচ্চ শিক্ষা অর্জন করে দেশবাসীর কল্যাণে দ্বীনি শিক্ষা প্রসারে কাজ করবে। নুরে জারিন নুদার নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জের বসুরহাট পৌরসভার ৯নম্বর ওয়ার্ডের মওদুদ স্কুল এলাকার ছেলামত মঞ্জিলের মো.নুরুল হুদা মামুনের মেয়ে।
নুরে জারিন নুদার বলেন, বাবা-মায়ের উৎসাহে আমি চতুর্থ শ্রেণিতে থাকা অবস্থায় পবিত্র কোরআন মাজিদ লেখা শুরু করি। এরপর পঞ্চম শ্রেণিতে উঠলে আমার লেখা শেষ হয়। আমার এ লেখা দেখে মা-বাবা আমাকে মাদরাসায় পড়া লেখার পাশাপাশি এখন হিফজ বিভাগে ভর্তি করে দেয়। আমি দেশ বাসীর কাছে দোয়া চাই।
নুদারের বাবা মো.নুরুল হুদা, আমি প্রথমে আমার মেয়ের সুন্দর আরবি হাতের লেখা দেখে খুব আনন্দিত হই। আমারও তার শিক্ষকদের উৎসাহে ২০২২ সালের সেপ্টেম্বর মাস থেকে সে কোরআন নিজ হাতে লেখা শুরু করে। যখন এক পারা লেখা সম্পন্ন হতো তখন ইকরা আরাবিয়া মাদরাসার শিক্ষক মুফতি মুহা.আবদুল্লাহ আল নোমান আরবি বানান গুলো যাচাই বাচাই করে পুনঃনিরীক্ষণ করে দিতে। এভাবে ২০২৩ সালের জুলাই মাসে পুরো কোরআন লিখে শেষ হয়। পরে পুনরায় আবার বানান পুনঃনিরীক্ষণ করে ১০ পারা করে তিন ভাগে বাধাই করা হয়। মেয়ের এমন কাজে আমি গর্বিত। এমন কাজে অন্য ছেলে মেয়েরা উদ্ধুদ্ধ হবে বলেও আমি আশা করি।
মা বিবি ফাতেমা বলেন, আমার মেয়ে নিজ হাতে কোরআন লিখেছে, আমরা তাকে উৎসাহ দিয়েছি। লেখার সময় অনেক সময় মনমানসিকতা অন্য রকম হয়ে যেত, তো লিখবো, লিখেনা। আবার মনমানসিকতা ঠিক করে আগ্রহ দিয়ে লিখতে বসত। বিশেষ করে ভালো কাজে শয়তানের প্ররোচনা থাকে। খাতা-কলমে দাগ টানা সহ বিভিন্ন ভাবে তাকে আমি সহযোগিতা করেছি। চার বছর বয়স থেকে সে নিয়মিত নামাজ পড়ে।
ইকরা আরাবিয়া মাদরাসার নাজেমে তালিমাত, মুফতি মুহা.আবদুল্লাহ আল নোমান বলেন, কোরআন লেখার যে প্রাচীন নিয়ম রয়েছে। সে অক্ষরে অত্যন্ত সুনিপুন ভাবে নুদার ১০ মাসের প্রচেষ্ঠায় কোরআন হাতে লিখে সম্পন্ন করেন। ওই সময় আমি তার লেখার তত্বাবধান করি। বোঝার উপায় নেই, এটি হাতে লিখা না, না কম্পিউটারে লিখা। তার লেখা কোরআন পুরোটাই আমি পুনঃনিরীক্ষণ করি।
ইকরা আরাবিয়া মাদরাসা মোহতামিম মাওলানা মোতালেব হোসেন পারভেজ বলেন,নুরানী বোর্ডের সমাপনী পরীক্ষায় নুদার পুরো বাংলাদেশে দশম স্থান অর্জন করে। সে একজন মেধাবী ছাত্রী। তার স্বহস্তে কোরআন লেখার এ কৃতিত্বকে আমরা স্বগত জানাই।
বসুরহাট পৌরসভা ৯নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর এবিএম ছিদ্দিক বলেন, পবিত্র কোরআন হাতে লেখার উদ্যোগ নিয়ে সম্পন্ন করার কাজটি অবশ্যই প্রশংসার দাবিদার। এতো সুন্দর ভাবে কোরআন লিখলেন সেটি আসলেই অবাক হওয়ার মতো ঘটনা। আমি তার উত্তরোত্তর সফলতা কামনা করছি।
মন্তব্য করুন


সিরাজগঞ্জের
শাহজাদপুর উপজেলায় বিদেশফেরত এক যুবকের ক্ষত-বিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
আজ
বুধবার (২৯ অক্টোবর) সকালে,
উপজেলার গোপালপুর গ্রামে নিজবাড়ির পাশের রাস্তার ওপর থেকে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
নিহত
সিরাজুল মন্ডল (২৫) ওই গ্রামের শাহাদৎ
মন্ডলের ছেলে। নিহতের ভাই আজিজুল মন্ডল জানান, সিরাজুল দীর্ঘদিন প্রবাসে থেকে সম্প্রতি বাড়িতে ফিরেছিলেন।
শাহজাদপুর
থানার ওসি আলী আসলাম জানান, নিহতের মরদেহ উদ্ধারের পর থানা হেফাজতে
রাখা হয়েছে।
শরীরের
বিভিন্ন স্থানে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। তবে হত্যাকাণ্ডের কারণ এখন পর্যন্ত জানা যায়নি। এ ঘটনায় মামলার
প্রস্তুতি চলছে।
মন্তব্য করুন


দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে প্রচণ্ড শীতের কারণে দুর্বল হয়ে পড়া বিশাল আকৃতির এক শকুন স্থানীয়দের নজরে আসে বৃহস্পতিবার (৪ ডিসেম্বর) দুপুরে। বাঁশঝাড়ের নিচে পড়ে থাকা অবস্থায় প্রথম পাখিটিকে দেখতে পান এলাকাবাসী। খবর ছড়িয়ে পড়তেই কৌতূহলী শিশু-কিশোরসহ বহু মানুষ শকুনটি এক নজর দেখার জন্য ভিড় জমায় এবং অনেকে মোবাইলে ছবি তুলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করেন। স্থানীয় জাহাঙ্গীর রহমান জানান, তিনি প্রথম শকুনটিকে দেখতে পান এবং উড়তে না পারায় কাছে গিয়ে সহজেই ধরে নিরাপদ স্থানে নিয়ে যান। পরে খবর পেয়ে স্থানীয় প্রশাসন ও প্রাণিসম্পদ বিভাগের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পাখিটিকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেন এবং উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরে নিয়ে যান। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোছা. দিলারা আকতার জানান, বিপন্ন প্রজাতির এই শকুনটিকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়ার পর সুস্থতা নিশ্চিত করে বন বিভাগের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। স্থানীয়দের ধারণা, শীতের তীব্রতায় ভারতের হিমালয় অঞ্চল থেকে খাদ্যের সন্ধানে উড়ে এসে পাখিটি ফুলবাড়ীতে আশ্রয় নিয়েছিল।
মন্তব্য করুন


সরকারি চাকরিতে ৩য় ও ৪র্থ শ্রেণির পদে এ পর্যন্ত মুক্তিযোদ্ধা কোটায় নিয়োগপ্রাপ্ত জনবলের পূর্ণাঙ্গ তথ্য চেয়েছে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়।
গতকাল বৃহস্পতিবার
(১৫ আগস্ট) মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলোর সচিব/সিনিয়র সচিবদের কাছে এ তথ্য চেয়ে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে চিঠি পাঠানো হয়েছে।
চিঠিতে মন্ত্রণালয়গুলোকে মুক্তিযোদ্ধা কোটায় নিয়োগ করা জনবলের তথ্য পাঠাতে একটি ছক করে দেওয়া হয়েছে। ছক অনুযায়ী প্রার্থীর নাম, নিয়োগপ্রাপ্ত পদ ও শ্রেণি; বাবার নাম ও পূর্ণাঙ্গ ঠিকানা, যার মুক্তিযোদ্ধা সনদ/গেজেটের পরিপ্রেক্ষিতে নিয়োগপ্রাপ্ত হয়েছেন (পিতা/মাতা/পিতামহ/মতামহ) তার নাম ও ঠিকানা; মুক্তিযোদ্ধার নাম, পিতা/মাতা/পিতামহ/মাতামহের মুক্তিযোদ্ধা সনদ ও গেজেট নম্বর এবং নিয়োগপ্রাপ্ত হওয়ার তারিখ জানাতে হবে।
অভিযোগ রয়েছে, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় অনেক ভুয়া মুক্তিযোদ্ধাকে সনদ দেওয়া হয়েছে। সেই সনদ দিয়ে অনেকে চাকরি নিয়েছেন। অন্তর্বর্তী সরকার এ বিষয়টি খতিয়ে দেখার পদক্ষেপ নিয়েছে।
মন্তব্য করুন


মাথায়
টুপি, গলায় মেডেল পরে আনুষ্ঠানিকভাবে জাপানের একটি রেলস্টেশনের স্টেশনমাস্টারের দায়িত্ব
গ্রহণ করেছে ইয়োনতামা। প্রতিটি রেলস্টেশনেই একজন স্টেশনমাস্টার থাকেন, যিনি ওই স্টেশনের
তত্ত্বাবধান করেন। ইয়োনতামার স্টেশনমাস্টার হওয়ার খবর তবে কেন বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে,
এটাই ভাবছেন তো! এর কারণ আছে এবং কারণটি হলো, ইয়োনতামা কোনো মানুষ নয়, একটি বিড়াল।
গত
বুধবার বিড়ালটিকে জাপানের পশ্চিমাঞ্চলের কিশি স্টেশনের স্টেশনমাস্টার করা হয়। ইয়োনতামার
নিয়োগ অনুষ্ঠানে বহু ভক্ত, আলোকচিত্রী ও স্থানীয় কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। ওয়াকায়ামা
ইলেকট্রিক রেলওয়ের প্রেসিডেন্ট মিতসুনোবু কোজিমা অনুষ্ঠানে ইয়োনতামার গলায় মেডেল পরিয়ে
দেন।
ইয়োনতামার
এই দায়িত্ব মজার এবং আনুষ্ঠানিক হলেও জাপানে গ্রামীণ একটি রেলস্টেশনকে বাঁচিয়ে রাখতে
গুরুত্বপূর্ণও বটে।
ইয়োনতামা
কিশিগাওয়া লাইনের তৃতীয় বিড়াল স্টেশনমাস্টার। এটির আগে ছিল নিতামা। নিতামা প্রায় ১০
বছর দায়িত্ব পালন করেছে। গত বছরের নভেম্বরে নিতামা মারা গেলে ইয়োনতামাকে স্টেশনমাস্টার
হিসেবে মনোনীত করা হয়।
বুধবারের
ওই অনুষ্ঠানে রোকুতামা নামে একটি বিড়ালকেও সবার সামনে আনা হয়। সেটিকে শিক্ষানবিশ না
বলে স্টেশনমাস্টার পদপ্রার্থী বলে উল্লেখ করা হয়। এ কথায় উপস্থিত লোকজন হাততালি দিয়ে
ওঠেন।
মন্তব্য করুন


তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা মো. নাহিদ ইসলাম বলেছেন, ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা আসলেও সেই স্বাধীনতা ছিল অরক্ষিত। ২০২৪ সালের বিজয় আমাদের স্বাধীনতাকে পূর্ণতা দিয়েছে।
আজ সোমবার (১৬ ডিসেম্বর) সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে তিনি সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন।
দেশবাসীকে মহান বিজয় দিবসের রক্তিম শুভেচ্ছা জানিয়ে তিনি বলেন, ২০২৪ এর বিজয়ের মধ্য দিয়ে আওয়ামী ফ্যাসিবাদমুক্ত দেশে জনগণ প্রকৃত বিজয়ের স্বাদ অনুভব করছে।
মহান স্বাধীনতা সংগ্রাম ও জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সকল শহীদকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করে উপদেষ্টা নাহিদ ইসলাম ফ্যাসিজম ও আধিপত্যবাদমুক্ত নতুন বাংলাদেশ গড়ার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
মন্তব্য করুন


চলতি বছর এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় পাস করা শিক্ষার্থীদের একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি
কার্যক্রম আগামী ১৫ জুলাই থেকে শুরু হবে এবং চলবে ২৫ জুলাই পর্যন্ত।
একাদশে ক্লাস শুরু হবে ৩০ জুলাই থেকে।
অনলাইনে এবারও শিক্ষার্থীদের ফলের ভিত্তিতে ভর্তির আবেদন করতে হবে । আগামী ২৬
মে থেকে ১১ জুন পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা অনলাইনে এ আবেদন করতে পারবেন।
আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটি ভর্তির আবেদন, ফল প্রকাশ, ভর্তি ও
ক্লাস শুরু বিষয়ে এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে।
১৫০ টাকা আবেদন ফি জমা দিয়ে সর্বনিম্ন পাঁচটি এবং সর্বোচ্চ দশটি কলেজে পছন্দক্রমের
ভিত্তিতে আবেদন করা যাবে।
একজন শিক্ষার্থী যতগুলো কলেজে আবেদন করবে, তার মধ্য থেকে তার মেধা, কোটা
(প্রযোজ্য ক্ষেত্রে) ও পছন্দক্রমের ভিত্তিতে একটি কলেজে তার অবস্থান নির্ধারণ করা হবে।
শিক্ষার্থীদের এসএসসি বা সমমানের পরীক্ষার ফলের ভিত্তিতে ভর্তি করা হবে।
১২-১৩ জুন প্রথম পর্যায়ের আবেদন যাচাই, বাছাই ও নিষ্পত্তি করা হবে। এই সময়েই
পুনঃনীরিক্ষণে ফল পরিবর্তিত শিক্ষার্থীদের আবেদন গ্রহণ করা হবে।
এরপর ২৩ জুন রাত ৮টায় প্রথম পর্যায়ের নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের ফল প্রকাশ করা
হবে।
মন্তব্য করুন


শেখ হাসিনা সরকারের পতনের এক মাস পূর্তি উপলক্ষে শহীদদের স্মরণে আগামীকাল বৃহস্পতিবার (৫ সেপ্টেম্বর) শহীদি মার্চ করবে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন।
বুধবার (৪ সেপ্টেম্বর) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক সারজিস আলম।
সমন্বয়ক সারজিস আলম জানান, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে শহীদ ও আহতদের স্মরণে এই ‘শহীদী মার্চ’ করা হবে। মার্চ-টি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের সামনে থেকে বিকাল ৩টায় শুরু হবে। সংবাদ সম্মেলন থেকে গেল জুলাই ও আগস্ট মাসে ছাত্র-জনতার আন্দোলনে শহীদদের পরিবারের সদস্যদের অংশ নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়।
মন্তব্য করুন


মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার নয়ানগর গ্রামে দুই সহোদরের পারিবারিক বিরোধ মেটাতে গিয়ে দা-এর আঘাতে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। শনিবার সকালে ঘটে যাওয়া এই ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।নিহত যুবকের পরিচয় জান্নাত হোসেন (২৭)। তিনি গজারিয়া ইউনিয়নের নয়ানগর গ্রামের বাসিন্দা এবং আব্দুল হকের সন্তান।স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, নয়ানগর গ্রামের শাহিন রাঢ়ির দুই ছেলে তারেক ও রিয়াদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই নানা বিষয় নিয়ে বিরোধ চলছিল। শনিবার সকাল আনুমানিক দশটার দিকে তাদের মধ্যে আবারও তর্ক-বিতর্ক শুরু হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রতিবেশী জান্নাত হোসেন সেখানে যান। সে সময় দুই ভাইয়ের হাতেই ধারালো বগি দা ছিল।একপর্যায়ে রিয়াদ তার ভাই তারেককে লক্ষ্য করে দা দিয়ে আঘাত করতে গেলে তা জান্নাত হোসেনের শরীরে লাগে। গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে হামদর্দ জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। তবে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তাকে মৃত ঘোষণা করেন।হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. মারিয়া মোস্তারি জানান, সকাল প্রায় এগারোটার দিকে আহত যুবককে হাসপাতালে আনা হয়। প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই তার মৃত্যু হয়েছে। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ মৃত্যুর কারণ হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।নিহতের ভাগ্নি সুমাইয়া আক্তার অভিযোগ করে বলেন, অভিযুক্ত দুই ভাই মাদকাসক্ত ছিলেন এবং মাদক কেনার অর্থ জোগাড় করতে বিভিন্ন অপরাধে জড়িত ছিলেন। তার দাবি, ঘটনাটি দুর্ঘটনা নয় বরং পরিকল্পিত হত্যা। তিনি বলেন, সকালে পরিস্থিতি স্বাভাবিক ছিল এবং ইচ্ছাকৃতভাবে তার মামাকে ঘটনাস্থলে ডেকে নেওয়া হয়। সেখানে পৌঁছানোর পর রিয়াদ উদ্দেশ্যমূলকভাবে দা দিয়ে আঘাত করে তাকে হত্যা করে। এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন তিনি।গজারিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাসান আলী জানান, ঘটনার বিষয়ে তারা অবগত হয়েছেন এবং খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই পুলিশ ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। তদন্ত শেষে বিস্তারিত তথ্য জানানো হবে।
মন্তব্য করুন


দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়া কয়লা খনির প্রাচীর ভূমিকম্পে নয়, বরং বাড়তি কয়লার চাপে ভেঙে পড়েছে। ধারণ ক্ষমতার দ্বিগুণ কয়লার মজুত বেড়ে যাওয়ায় আজ বুধবার (২৬ নভেম্বর) বাড়তি কয়লার চাপে ভেঙে গিয়েছে কয়লা খনির সীমানা প্রাচীরের প্রায় ১৬০ ফুট অংশ।
বড়পুকুরিয়া কোল মাইনিং কোম্পানি লিমিটেডের (বিসিএমসিএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আবু তালেব ফরাজী জানান, খনির ইয়ার্ডে কয়লা রাখার সর্বোচ্চ ধারণ ক্ষমতা ২ লাখ ২০ হাজার টন; কিন্তু বর্তমানে কোল ইয়ার্ডে কয়লার পরিমাণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৫ লাখ মেট্রিক টন।
তিনি জানান, সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী খনির উৎপাদিত কয়লার একমাত্র ক্রেতা পার্শ্ববর্তী বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র। বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রটির তিনটি ইউনিটের মধ্যে ২টি ইউনিট বন্ধ থাকায় পর্যাপ্ত কয়লা ব্যবহৃত হচ্ছে না। প্রতিদিন খনিতে কয়লা উত্তোলন হচ্ছে গড়ে ৩ হাজার মেট্রিক টন। ফলে দিনে দিনে বাড়ছে কয়লার মজুত। ইয়ার্ডে জায়গা না থাকায় কয়লার স্তূপ বেড়ে গেছে। এ কারণেই বাড়তি কয়লার চাপেই ভেঙে গেছে খনির সীমানা প্রাচীর। প্রাচীরের ১৬টি পিলারসহ প্রায় ১৬০ ফুট প্রাচীর ভেঙে পড়েছে বলে জানান তিনি।
দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়া কয়লা খনির উৎপাদিত কয়লার ওপর ভিত্তি করে খনির পাশেই ২০০৬ সালে গড়ে উঠে কয়লাভিত্তিক বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র। প্রথম অবস্থায় ১২৫ মেগাওয়াট করে মোট ২৫০ মেগাওয়াট উৎপাদন ক্ষমতাসম্পন্ন দুটি ইউনিট স্থাপন করা হয়। এরপর ২০১৭ সালে ২৭৫ মেগাওয়াট উৎপাদন ক্ষমতাসম্পন্ন আরেকটি ইউনিট চালু করে এ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের মোট উৎপাদন ক্ষমতা বেড়ে দাঁড়ায় ৫২৫ মেগাওয়াট; কিন্তু যান্ত্রিক ত্রুটিসহ নানান জটিলতায় কখনই এই বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি একসাথে ৫২৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে পারেনি।
বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রধান প্রকৌশলী আবু বক্কর সিদ্দিক জানান, ১২৫ মেগাওয়াট উৎপাদন ক্ষমতাসম্পন্ন ২নং ইউনিটটি যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে ২০২০ সালের নভেম্বর মাস থেকে বন্ধ রয়েছে। এরই মধ্যে ২৭৫ মেগাওয়াট উৎপাদন ক্ষমতাসম্পন্ন ৩নং ইউনিটটির গভর্নর ভাল্ব স্টিম সেন্সর-এর ৪টি টারবাইন নষ্ট হয়ে যাওয়ায় গত ১৬ অক্টোবর রাত ৮টা ৩৫ মিনিট থেকে বন্ধ হয়ে যায়। পরবর্তীতে ১২৫ মেগাওয়াট উৎপাদন ক্ষমতাসম্পন্ন ১নং ইউনিটটি গত ১৯ অক্টোবর দিবাগত রাতে বয়লার পাইপ ফেটে বন্ধ হয়ে যায়। বয়লার পাইপ মেরামত করে এক সপ্তাহ পর গত ২৬ অক্টোবর রাত ৭টা ১৯ মিনিটে আবার চালু করা হয় ১নং ইউনিটটির বিদ্যুৎ উৎপাদন; কিন্তু এর একদিন পর বিয়ারিংয়ের টেম্পারেচার সেন্সর নষ্ট হয়ে যাওয়ায় এবং কিছু বাল্ব অকেজো হয়ে পড়ায় গত ২৭ অক্টোবর রাত ৯টা ১৪ মিনিটে বন্ধ হয়ে যায় সর্বশেষ চালু থাকা ১নং ইউনিটটি। ফলে ২৭ অক্টোবর রাত থেকে পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায় ৫২৫ মেগাওয়াট উৎপাদন ক্ষমতাসম্পন্ন বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের উৎপাদন।
এদিকে বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রটি বন্ধ থাকায় উৎপাদিত কয়লা নিয়ে বিপাকে পড়েছে বড়পুকুরিয়া কয়লা খনি কর্তৃপক্ষ। কয়লা রাখার স্থান সংকুলান না হওয়ায় অব্যাহত উৎপাদন নিয়ে শংকায় পড়েছেন তারা।
খনির কর্মকর্তারা জানান, সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বড়পুকুরিয়া কয়লা খনির উৎপাদিত কয়লার একমাত্র ক্রেতা বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র। কিন্তু একের পর এক বন্ধ থাকায় খনির উৎপাদিত কয়লা ব্যবহার করতে পারছে না বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র। এতে মজুত অস্বাভাবিক বেড়ে কয়লা রাখার জায়গা নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছে খনি কর্তৃপক্ষ।
মন্তব্য করুন