

মৎস্য
ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার বলেছেন, সরকারের সর্বাত্মক প্রচেষ্টায় স্বাধীনভাবে
ভোট দিচ্ছেন ভোটাররা।
তিনি
বলেন, সরকার শুরু থেকেই তিনটি ম্যান্ডেট সামনে রেখেছিল- বিচার, সংস্কার এবং নির্বাচন।
এর মধ্যে সর্বশেষ ম্যান্ডেট ছিল নির্বাচন আয়োজন।
আজ
বৃহস্পতিবার ( ১২ ফেব্রুয়ারি ) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট ২০২৬ উপলক্ষ্যে
রাজধানীর মোহাম্মদপুরে অবস্থিত আনন্দ স্কুল (সরকারি জামিলা আইনুল আনন্দ স্কুল অ্যান্ড
কলেজ) ভোটকেন্দ্রে ভোট প্রদান ও কেন্দ্র পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে
তিনি এসব কথা বলেন।
উপদেষ্টা
বলেন, ভোটাররা তাদের পছন্দের প্রার্থীকে নির্বাচিত করছেন, এখানে কারও ব্যক্তিগত পছন্দ
চাপিয়ে দেয়ার সুযোগ নেই।
তিনি
বলেন, মানুষের মধ্যে ভোট নিয়ে আগ্রহ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। নির্বাচনী বুথগুলো অত্যন্ত
সুশৃঙ্খল এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছেন।
মন্তব্য করুন


বিএনপির
সদ্যনিযুক্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, ‘আমাদের সমস্যা ছিল, আমাদের সমস্যা আছে।
অবশ্যই আমরা ৫ আগস্টের আগে ফিরে যেতে চাই না।’
তিনি
বলেছেন, ‘আমি আমার অবস্থান থেকে যদি চিন্তা করি আমার এক পাশে ১৯৮১ সালের একটি জানাজা;
একই সঙ্গে আমার এক পাশে ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বরের একটি জানাজা; আর আমার আরেক পাশে ২০২৪
সালের ৫ আগস্টের একটি ঘটনা। বিএনপি সরকার গঠন করলে জাতিকে সঠিকপথে পরিচালিত করবে।
আজ
শনিবার ( ১০ জানুয়ারি ) বেলা ১১টায় ঢাকার বনানীতে শেরাটন হোটেলের গ্র্যান্ড বলরুমে
বিএনপি আয়োজিত গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক আলোচনাসভায় তিনি এসব কথা বলেন।
বিএনপির
চেয়ারম্যান বলেন, ‘আমার মনে হয় এটি শুধু আমার একার জন্য নয়, যারা আমার দলের নেতাকর্মী,
সদস্য এবং সামগ্রিকভাবে পুরা দেশের মানুষের সামনে এই দুটি উদাহরণ বোধহয় সবচাইতে বাদ
বিবেচনা করার জন্য সবচাইতে ভালো উদাহরণ যে আসলে ৫ আগস্টের আগে ফিরে যাওয়ার কোনোই কারণ
নেই আমাদের।’
তিনি
বলেন, ‘হিংসা-প্রতিশোধ-প্রতিহিংসা একটি মানুষ, একটি দল বা যেভাবে আমরা বিবেচনা করি-তার
পরিণতি কী হতে পারে আমরা দেখেছি ৫ আগস্ট। এবং আমি সে জন্যই সবাইকে অনুরোধ করব দলমত
নির্বিশেষে আমাদের মধ্যে মতপার্থক্য থাকবে; কিন্তু আমরা যদি চেষ্টা করি, তাহলে সে মতপার্থক্যটাকে
মতপার্থক্যের মধ্যে রেখে আলোচনার মাধ্যমে সেটির অনেক সমস্যার সমাধান হয়তো আমরা বের
করে আনতে সক্ষম হব।
তিনি
আরো বলেন, ‘কিন্তু কোনোভাবেই সেটি যাতে মতবিভেদের পর্যায়ে চলে না যায়। মতবিভেদ হলে,
বিভেদ হলে, জাতিকে বিভক্ত করে ফেললে কী হতে পারে আমরা দেখেছি। আজকে সে জন্যই অনেকের
মুখে অনেক হতাশার কথা আমরা শুনি; কিন্তু তার পরও আশার কথা হচ্ছে যে—তাদের
কাছে ভবিষ্যতের চিন্তাও আছে ভবিষ্যতের পরিকল্পনাও আছে।
মন্তব্য করুন


বিএনপিই
দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনে কাজ করেছে বলে মন্তব্য দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
আজ
রোববার দুপুরে চট্টগ্রামের পলোগ্রাউন্ড মাঠে আয়োজিত সমাবেশে তিনি এ কথা বলেন। বক্তব্যের
শুরুতেই চট্টগ্রামের আঞ্চলিক ভাষায় তিনি বলেন, ‘অনেরা ক্যান আছেন (আপনারা কেমন আছেন)?’
তারেক
রহমান বলেন, বিএনপি একমাত্র রাজনৈতিক দল যারা সরকারের সময়ে দেশের সাধারণ মানুষের ভাগ্য
পরিবর্তনের জন্য কাজ করেছে। আমরা দেশের মানুষের শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তার জন্য
সবসময় অঙ্গীকারবদ্ধ ছিলাম।
গত
১৬ বছর ধরে দেশের মানুষের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অধিকার, বাকস্বাধীনতা ও ব্যক্তি স্বাধীনতা
হরণ করা হয়েছে। তাই ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার আন্দোলন এসেছে পরিবর্তনের জন্য। বাংলাদেশের
মানুষ চায় নিরাপদ পরিবেশ, নিরাপদ চাকরি, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং সন্তানদের জন্য উন্নত শিক্ষা
ও চিকিৎসা সুবিধা।
তিনি
বলেন, আমাদের এই পরিকল্পনা তরুণ প্রজন্মকে সামনে রেখে তৈরি করা হয়েছে।
বর্তমানে
জনসংখ্যার অর্ধেক তরুণ, যারা কর্মসংস্থান ও নিরাপদ জীবন চায়। বিএনপি হিসেবে আমরা চেষ্টা
করি দেশের মানুষের জীবনমান উন্নত করতে এবং নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে। বিএনপি সরকারের
সময়ে আমরা লক্ষ লক্ষ মানুষকে কর্মসংস্থানের সুযোগ দিয়েছি। চট্টগ্রামের ইপিজেডগুলো সেই
কর্মসংস্থানের উদাহরণ।
নতুন
পরিকল্পনার মাধ্যমে আরও বেশি ইপিজেড তৈরি করা হবে, যাতে যুব সমাজের জন্য কর্মসংস্থান
বৃদ্ধি পায় এবং ব্যবসা-বাণিজ্য আরও সুষ্ঠুভাবে চলতে পারে।
সারাদেশের
মানুষ যাতে নিরাপদে চলাফেরা করতে পারে তা নিশ্চিত করা হবে উল্লেখ করে বিএনপির চেয়ারম্যান
বলেন, বিগত বিএনপি সরকারের সময় আমরা আইনশৃঙ্খলা ও দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণে সফলভাবে কাজ
করেছি এবং ভবিষ্যতেও একইভাবে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করব। দুর্নীতির বিরুদ্ধে কোন ছাড়
দেওয়া হবে না। এটি দেশের মানুষের অধিকার সুরক্ষায় অপরিহার্য। সমস্ত পরিকল্পনা বাস্তবায়ন
করতে হলে আমাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।
এটাই
দেশের পরিবর্তনের জন্য সত্যিকারের পথ।
তিনি
আরও বলেন, বাংলাদেশে জলাবদ্ধতা ও বন্যার সমস্যা দূর করতে আমরা খাল খনন কর্মসূচি শুরু
করব। এটি দেশের নিরাপত্তা, জীবনমান এবং কৃষি-অর্থনীতি উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা
রাখবে। পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়নে নাগরিকদের অংশগ্রহণ অপরিহার্য। আমাদের
পরিকল্পনাগুলো
বাস্তবায়নের জন্য দেশের মানুষকে একত্রিত হতে হবে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনে জনগণের
ভোট ও সমর্থন দিয়ে বিএনপিকে সরকার গঠনে সক্ষম করতে হবে। তাহলে আমরা দেশের মানুষের ভাগ্য
পরিবর্তনের এই পদক্ষেপগুলো সফলভাবে বাস্তবায়ন করতে পারব।
বক্তব্যের
শেষে চট্টগ্রামের সকল আসনের প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেন তারেক রহমান। সভায় সভাপতিত্ব
করেন মহানগর বিএনপির আহবায়ক মোহাম্মদ এরশাদ উল্লাহ।
এর
আগে কঠোর নিরাপত্তায় বেলা সোয়া ১২টায় তারেক রহমান মঞ্চে ওঠেন। এসময় করতালিতে সমাবেশস্থল
মুখরিত হয়ে উঠে। বিএনপির চেয়ারম্যান হাত নেড়ে নেতা-কর্মী-সমর্থকদের শুভেচ্ছা জানান।
সমাবেশে
উপস্থিত ছিলেন আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহউদ্দিন আহমদ, মীর মোহাম্মদ নাছির উদ্দীন,
চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন, মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, উদয় কুমার বড়ুয়া, সাঈদ আল
নোমান, মোহাম্মদ নাজিমুর রহমান, সরোয়ার জামাল নিজাম, আবু সুফিয়ান, মোহাম্মদ শাহাজাহান
চৌধুরী, সুকোমল বড়ুয়া, আসলাম চৌধুরী, গোলাম আকবর খন্দকার, গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী,
মোহাম্মদ এরশাদ উল্লাহ, এস এম ফজলুল হক, হারুনুর রশিদ, এম নাজিম উদ্দীন, আবুল হাশেম
বক্কর, আব্দুল ওয়াদুদ ভুইঁয়া, লুৎফুর রহমান কাজল, ম্যামাসিং, জেরি প্রু চৌধুরী, বেগম
নুরে আরা সাফা, ইদ্রিস মিয়া, আলমগীর মোহাম্মদ মাহফুজউল্লাহ, মোস্তফা কামাল, দীপেন দেওয়ান
তালুকদার, মোহাম্মদ জসীমউদ্দিন, মোহাম্মদ এনামুল হক, নাজমুল মোস্তফা আমিন, মিশকাতুল
ইসলাম চৌধুরী পাপ্পা, মোহাম্মদ নুরুল আমিন।
মন্তব্য করুন


বিএনপির ভারপ্রাপ্ত
চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও তার মেয়ে জাইমা রহমান ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন।
দলটির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তথ্য অনুযায়ী,
নির্বাচন কমিশনের প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ভোটার হিসেবে তারেক রহমানের নাম অন্তর্ভুক্ত
হয়েছে।
এর আগে, ভোটার
তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হওয়ার বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের আবেদন
অনুমোদন করেছে নির্বাচন কমিশন ।
আজ রোববার নির্বাচন
কমিশনের জনসংযোগ শাখার পরিচালক রুহুল আমিন মল্লিক এই তথ্য নিশ্চিত করে জানান, নির্বাচন
কমিশন কর্তৃক তারেক রহমানের ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হওয়ার বিষয়টি অনুমোদিত হয়েছে।
গত ২৭ ডিসেম্বর
আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশনের কার্যালয়ে যান তিনি। সেখানে ভোটার হিসেবে নিবন্ধন ও জাতীয়
পরিচয়পত্র পাওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেন তিনি।
২৭ ডিসেম্বরই
ভোটার হচ্ছেন তারেক রহমান- বিএনপির পক্ষ থেকে এ তথ্য জানানো হয়েছিল আগেই। সেজন্য সব
প্রস্তুতিও সেরে রাখে নির্বাচন কমিশন কর্তৃপক্ষ।
বিএনপি মিডিয়া
সেল শনিবার দুপুরে দেওয়া এক পোস্টে জানায়, শনিবার, আঙুলের ছাপ, চোখের মণির (আইরিশ)
প্রতিচ্ছবি ও বায়োমেট্রিক তথ্য দেওয়ার পর তারেক রহমানের এনআইডি পেতে সর্বোচ্চ ২৪ ঘণ্টা
লাগবে বলে জানিয়েছেন জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের মহাপরিচালক এস এম হুমায়ুন কবীর।
মন্তব্য করুন


আজ রবিবার (২৫ জানুয়ারি) সকাল ৯টা ৩০ মিনিটে সম্মানিত আমীরে জামায়াত ডা. শফিকুর রহমানের সঙ্গে তাঁর বসুন্ধরাস্থ কার্যালয়ে ঢাকায় নিযুক্ত মান্যবর ব্রিটিশ হাইকমিশনার মিস সারাহ কুক এক সৌজন্য সাক্ষাতে মিলিত হন।
এ সময় তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন ব্রিটিশ হাইকমিশনের ডেপুটি হাইকমিশনার মি. জেমস গোল্ডম্যান, হেড অব পলিটিক্যাল মি. টিমোথি ডাকেট এবং সেকেন্ড সেক্রেটারি (পলিটিক্যাল) মিস কেট ওয়ার্ড।
সৌজন্য সাক্ষাৎটি অত্যন্ত আন্তরিক ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠকে বাংলাদেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্যভাবে অনুষ্ঠানের বিভিন্ন দিক এবং উভয় দেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে খোলামেলা আলোচনা হয়। উভয় পক্ষ আশা প্রকাশ করেন যে, এ নির্বাচনের মাধ্যমে বাংলাদেশের গণতন্ত্র ও গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানসমূহ আরও শক্তিশালী হবে।
এছাড়াও উভয় দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক, ব্যবসা-বাণিজ্যসহ পারস্পরিক সহযোগিতা ভবিষ্যতে আরও গতিশীল হবে বলে উভয় পক্ষ আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
এ সময় সম্মানিত আমীরে জামায়াত ডা. শফিকুর রহমানের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান এডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য জনাব মোবারক হোসাইন এবং আমীরে জামায়াতের পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মাহমুদুল হাসান।
মন্তব্য করুন


বিএনপি
চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার সুস্থতা কামনা করেছেন জনপ্রিয় ইসলামী বক্তা মিজানুর রহমান
আজহারি। আজ শনিবার (২৯ নভেম্বর ) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকের এক পোস্টে তিনি আরোগ্য
কামনা করেন।
ফেসবুক
পোস্টে তিনি লেখেন, ‘নানা বিভক্তি ও বিভাজনের এ দেশে সর্বজন শ্রদ্ধেয় মানুষের সংখ্যা
একেবারেই নগণ্য। কিন্তু বেগম খালেদা জিয়া এ ক্ষেত্রে অনন্য।
দেশপ্রেম
ও অতুলনীয় ব্যক্তিত্বের কারণে তিনি প্রায় সবার কাছে বিশেষ সম্মানের ও শ্রদ্ধার আসন
অলংকৃত করেছেন। বর্তমানে তিনি অসুস্থ হয়ে সংকটাপন্ন অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন
আছেন। এই মুহূর্তে গোটা জাতি তাকে আন্তরিক দোয়ায় স্মরণ করছে। দলমত নির্বিশেষে অগণন
মানুষের এমন দোয়া ও ভালোবাসা পাওয়া সত্যিই পরম সৌভাগ্যের।
তিনি
বলেন, ‘আমি দেশের তরে সীমাহীন ত্যাগ স্বীকার করা ধর্মীয় মূল্যবোধে শ্রদ্ধাশীল এ মহিয়সী
নারীর রোগমুক্তি ও সম্পূর্ণ সুস্থতা কামনা করছি। আল্লাহ তাআলা তাকে দ্রুত আরোগ্য দান
করুন।’
মন্তব্য করুন


অন্তর্বর্তী সরকারের উদ্যোগে পুলিশ
এবং নির্বাচন কমিশনসহ প্রধান প্রধান প্রতিষ্ঠানগুলোর সংস্কারে জাতিসংঘ বাংলাদেশকে সহায়তা
করবে বলে জানিয়েছেন জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়কারী গোয়েন লুইস।
রবিবার (২২ সেপ্টেম্বর) প্রধান উপদেষ্টা
ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে তার তেজগাঁওয়ের কার্যালয়ে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে এ কথা বলেন
তিনি।
প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং জানায়,
ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে বাংলাদেশে জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়কারীর সৌজন্য সাক্ষাতে
তারা বিভিন্ন ক্ষেত্রে সংস্কার, দুর্নীতি, বন্যা, রোহিঙ্গা সংকট এবং জুলাই-আগস্ট গণহত্যা
বিষয়ে জাতিসংঘের নেতৃত্বে তদন্ত বিষয়ে আলাপ করেন।
গোয়েন লুইস অন্তর্বর্তী সরকারের নেওয়া
সংস্কার উদ্যোগে সহায়তায় আগ্রহের কথা জানান এবং বিপ্লব পরবর্তী প্রশাসনের প্রধান হিসেবে
অসাধারণ ভূমিকা নেওয়ায় ড. ইউনূসকে ধন্যবাদ জানান।
জুলাই-আগস্ট বিপ্লবের কথা উল্লেখ করে
প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস বলেন, এটা ছিল গোটা জাতির জন্য এক অনন্য আন্দোলন। তার সরকারের
প্রধান কাজ প্রত্যেকের জন্য একটা ভালো উদাহরণ স্থাপন করা। এটা দেশের অর্থনীতি এবং প্রায়
সকল প্রতিষ্ঠান সংস্কারের জন্য বিরাট সুযোগ।
গোয়েন লুইস পুলিশ প্রশাসনসহ নিরাপত্তা
বাহিনীর সংস্কার বিষয়ে জানতে চাইলে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, তার সরকার পুলিশের সংস্কারের
সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছে।
ড. ইউনূস বলেন, সরকার সারা দেশে সমন্বিত
তথ্যপ্রযুক্তি পদ্ধতি স্থাপনে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এটি দেশে হয়রানি এবং দুর্নীতি হ্রাস
করবে। নির্বাচন পদ্ধতি সংস্কারে সরকার একটি কমিশন গঠন করেছে। সুতরাং আগামীতে অবাধ ও
সুষ্ঠু নির্বাচন হবে।
জুলাই-আগস্টে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের তদন্ত
বিষয়ে জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়কারী গোয়েন লুইস বলেন, জুলাই ও আগস্টে সংঘটিত হত্যাকাণ্ড
এবং ধ্বংসযজ্ঞ নিয়ে জাতিসংঘের নেতৃত্বাধীন তদন্ত টিম ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছে।
তিনি বলেন, জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থা,
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, আইএলও আহত এবং মানসিক ট্রমাতে থাকা ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তা
করছে।
বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তা বিষয়ে
গোয়েন লুইস বলেন, বাংলাদেশের পূর্ব এবং দক্ষিণ অঞ্চলে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের বন্যা
পরবর্তী পুর্নবাসনে সহায়তা হিসেবে ৪ মিলিয়ন ডলার সরবরাহ করেছে।
তিনি বলেন, বন্যায় বাংলাদেশে প্রায়
১৮ মিলিয়ন মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় বিভিন্ন সংস্থা
ও দাতব্য প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমন্বয় করেছে জাতিসংঘ।
দক্ষিণ এশিয়ায় আগাম বন্যা সতর্কতার
জন্য একটি প্রতিষ্ঠান স্থাপনে জাতিসংঘের সহায়তা চান ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
প্রধান উপদেষ্টা এবং জাতিসংঘের আবাসিক
সমন্বয়ক পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম ইস্যুতে আলাপ করেন।
তিন পার্বত্য জেলায় জাতিসংঘের সংস্থাগুলো
যে সাহায্য কাজ করেছে, তার চিত্র তুলে ধরেন গোয়েন লুইস।
রোহিঙ্গা ইস্যুতে আলাপকালে ড. মুহাম্মদ
ইউনূস রোহিঙ্গা শিশুদের জন্য অধিকতর সুন্দর ভবিষ্যৎ বিনির্মাণে জাতিসংঘের সহায়তা চান।
মন্তব্য করুন


‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান: নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণ’এই প্রতিপাদ্য অমর একুশে বইমেলা-২০২৫ উদ্বোধন করলেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
আজ শনিবার (১ ফেব্রুয়ারি) বিকেল ৪টায় বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে আয়োজিত অনুষ্ঠান থেকে বইমেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ঘোষণা করেন প্রধান উপদেষ্টা।
এর আগে জাতীয় সংগীতের মধ্য দিয়ে অমর একুশে গ্রন্থমেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শুরু হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলা একাডেমির সভাপতি আবুল কাসেম ফজলুল হক।
স্বাগত বক্তব্য রাখেন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক অধ্যাপক মোহাম্মদ আজম। এছাড়াও বক্তব্য দেন সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরওয়ার ফারুকী।
এ সময় আরও
অনেকে উপস্থিত ছিলেন।
মন্তব্য করুন


অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) মানব জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে; প্রতিটি ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়ে তিনি বিশ্ব মানবতার জন্য অনিন্দ্য সুন্দর অনুসরণীয় শিক্ষা ও আদর্শ রেখে গেছেন; যা প্রতিটি যুগ ও শতাব্দীর মানুষের জন্য মুক্তির দিশারি হিসেবে পথ দেখাবে।
সোমবার (১৬ সেপ্টেম্বর) ‘পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.)’ উপলক্ষে রোববার (১৫ সেপ্টেম্বর) দেওয়া এক বাণীতে প্রধান উপদেষ্টা এ কথা বলেন।
প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, বিশ্বের সর্বশ্রেষ্ঠ মহামানব, বিশ্বমানবতার মুক্তির দিশারি, মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) এর জন্ম ও ওফাতের পবিত্র স্মৃতিবিজড়িত ১২ রবিউল আউয়াল ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) বিশ্ববাসী বিশেষত মুসলমানদের জন্য অত্যন্ত পবিত্র ও মহিমান্বিত দিন। এ উপলক্ষে আমি বাংলাদেশসহ বিশ্বের সকল মুসলিম উম্মাহকে আন্তরিক মোবারকবাদ জানাচ্ছি। মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিন হজরত মুহাম্মদ (সা.) কে বিশ্বজগতের হেদায়েত ও নাজাতের জন্য ‘রাহমাতুল্লিল আলামিন’ তথা সারা জাহানের রহমত হিসেবে প্রেরণ করেছেন। নবী করিম (সা.) সম্পর্কে পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ বলেছেন, ‘হে নবী, আমি আপনাকে সমগ্র বিশ্বজগতের জন্য কেবল রহমতরূপে প্রেরণ করেছি’ (সূরা আল-আম্বিয়া, আয়াত: ১০৭)। মুহাম্মদ (সা.) এসেছিলেন তওহিদের মহান বাণী নিয়ে। সব ধরনের কুসংস্কার, অন্যায়, অবিচার, পাপাচার ও দাসত্বের শৃঙ্খল ভেঙে মানবসত্তার চিরমুক্তি, শান্তি, প্রগতি ও সামগ্রিক কল্যাণের বার্তা নিয়ে এসেছিলেন তিনি। বিশ্ববাসীকে তিনি মুক্তি ও শান্তির পথে আসার আহ্বান জানিয়ে অন্ধকার যুগের অবসান ঘটিয়েছিলেন এবং সত্যের আলো জ্বালিয়েছেন। আজকের দ্বন্দ্ব-সংঘাতময় বিশ্বে মহানবীর (সা.) অনুপম জীবনাদর্শ, তার সর্বজনীন শিক্ষা ও সুন্নাহর অনুসরণ এবং ইবাদতের মাধ্যমেই বিশ্বের শান্তি, ন্যায় এবং কল্যাণ নিশ্চিত হতে পারে বলে আমি মনে করি। আমার দৃঢ় বিশ্বাস, ধর্মীয় ও পার্থিব জীবনে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) এর সুমহান আদর্শ ও সুন্নাহ বিশ্ববাসীর জন্য সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ, উৎকৃষ্টতম অনুসরণীয় ও অনুকরণীয় এবং এর মধ্যেই মুসলমানদের অফুরন্ত কল্যাণ, সফলতা ও শান্তি নিহিত রয়েছে।
ড. মুহাম্মদ ইউনূস ‘পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.)’ উপলক্ষে দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহ তথা বিশ্ববাসীর শান্তি, মঙ্গল ও সমৃদ্ধি কামনা করে বলেন, মহান আল্লাহ আমাদের সবাইকে মহানবী (সা.) এর সুমহান আদর্শ ও সুন্নাহ যথাযথভাবে অনুসরণের মাধ্যমে দেশ, জাতি ও মানবতার কল্যাণে কাজ করার তৌফিক দান করুন। আমিন।
মন্তব্য করুন


বাংলাদেশ
জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, ‘এমন কোনো প্রতিশ্রুতি দিতে
চাই না, যা মানুষের সাধ্যের বাইরে। বিএনপি সব সময় বিশ্বাস করে জনগণই সকল ক্ষমতার উৎস’
তারেক
রহমান বলেন, এই ১২ তারিখের নির্বাচন হতে হবে দেশ পুনর্গঠনের নির্বাচন, মানুষের ভাগ্য
পরিবর্তনের নির্বাচন।
আজ
রোববার ঢাকায় নির্বাচনী প্রচারণার প্রথম দিনে বিকেল সাড়ে ৫টায় ঢাকা-১৫ আসনে মিরপুর
১০ গোলচত্বর সংলগ্ন সেনপাড়া-পর্বতা এলাকায় আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে এক পথসভায় বিএনপি
চেয়ারম্যান এসব কথা বলেন। এই আসনে বিএনপির প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর
আমির ডা. শফিকুর রহমান।
বিএনপির
ঘোষিত নির্বাচনী পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে বিএনপির চেয়ারম্যান বলেন, আমরা আমাদের ম্যানিফেস্টোতে
উল্লেখ করেছি— আমরা এই দেশের নারী বা মা-বোনদের জন্য কী করতে চাই, ছাত্র
সমাজের জন্য কী করতে চাই, লক্ষ-কোটি বেকার মানুষের কর্মসংস্থান কীভাবে করব এবং কীভাবে
স্বাস্থ্যসেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেব।
নারী
ক্ষমতায়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দেশের জনসংখ্যার অর্ধেক নারী। দেশনেত্রী খালেদা জিয়া
যতবার দেশ পরিচালনার সুযোগ পেয়েছেন, তিনি চেষ্টা করেছেন দেশের নারীদের শিক্ষা ব্যবস্থা
ফ্রি করে দিতে। যার ফলে আজ বাংলাদেশের মেয়েরা ক্লাস ওয়ান থেকে ক্লাস টুয়েলভ পর্যন্ত
বিনামূল্যে পড়াশোনার সুযোগ পাচ্ছে। ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা জানিয়ে তারেক রহমান বলেন,
বিএনপি সরকার গঠন করলে আমরা নারীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করে গড়ে তুলতে চাই। এজন্য
প্রতিটি ঘরে গৃহিণীদের কাছে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দেওয়া হবে, যার মাধ্যমে সরকারের পক্ষ
থেকে সহযোগিতা করা হবে।
কর্মসংস্থান
প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাংলাদেশের প্রতিটি এলাকায় অন্তত একটি করে ভোকেশনাল ইনস্টিটিউট
গড়ে তোলা হবে, যেখানে ভাষা শিক্ষা ও বিভিন্ন কারিগরি প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তরুণরা নিজেরা
ব্যবসা করতে পারবে অথবা বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ পাবে। বিদেশগামী শ্রমিকদের প্রসঙ্গে
তিনি বলেন, আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি— যারা চাকরি নিয়ে বিদেশে যাবে, তাদের
যেন জমি বিক্রি করতে না হয়। এজন্য স্বল্প সুদে ব্যাংক ঋণের ব্যবস্থা করা হবে।
কৃষকের
বিষয়ে তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশের কৃষক ভালো থাকলে বাংলাদেশও ভালো থাকবে। এজন্য কৃষকদের
জন্য কৃষি কার্ড চালু করা হবে এবং ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ সুদসহ মওকুফ করা হবে।
স্বাস্থ্যসেবা ও অবকাঠামো উন্নয়ন প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, গ্রামে গ্রামে স্বাস্থ্যসেবা
পৌঁছে দিতে হেলথ কেয়ার কর্মী নিয়োগ করা হবে। ঢাকা-১৫ এলাকার মানুষের চিকিৎসা সুবিধার
জন্য এখানে হাসপাতাল স্থাপন করা হবে এবং দীর্ঘদিন ঝুলে থাকা ১০০ ফিট রাস্তার কাজ দ্রুত
শুরু করা হবে।
দেশ
পুনর্গঠনের আহ্বান জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, কথা একটাই, কাজ একটাই—
দেশকে পুনর্গঠন করতে হবে। আমাদের সকলের প্রথম এবং শেষ ঠিকানা এই বাংলাদেশ। তিনি আরো
বলেন, যারা জুলাই আন্দোলনে আহত হয়েছেন এবং যারা শহীদ হয়েছেন, তাদের আত্মত্যাগের প্রতি
সম্মান জানিয়ে আমাদের সামনে এগিয়ে যেতে হবে এবং প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে।
এরপর
ঢাকা-১৪ আসনে মিরপুর মডেল থানার বিপরীতে ন্যাশনাল বাংলা উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে, ঢাকা-১৩
আসনে শ্যামলী ক্লাব মাঠে এবং ঢাকা-১১ আসনে বাড্ডার সাতারকুলে নির্বাচনী জনসভায় বক্তব্য
রাখবেন তারেক রহমান। এর আগে নিজ সংসদীয় আসন ঢাকা-১৭ এলাকার ইসিবি চত্বর থেকে পথসভা
শুরু করেন তারেক রহমান। এরপর তিনি পল্লবীতে ঢাকা-১৬ আসনের বিএনপি প্রার্থী আমিনুল হকের
সমর্থনে আয়োজিত পথসভায় বক্তব্য রাখেন।
সভায়
প্রার্থী ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য তাবিথ আউয়াল, ছাত্রদলের
সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব প্রমুখ।
মন্তব্য করুন


প্রচণ্ড গরমে দেশব্যাপী জারি রয়েছে তিন দিনের জন্য সতর্কতামূলক হিট
অ্যালার্ট। দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছে যশোরে ৪২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। যা
মৌসুমের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা। অন্যদিকে রাজধানী ঢাকার সর্বোচ্চ তাপমাত্রাও এদিন ছিল
৪০.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
দাবদাহে দেশের বিভিন্ন
স্থানে হাসপাতালে বাড়ছে রোগীর সংখ্যা। তীব্র দাবদাহের কারণে হিটস্ট্রোক বা
সানস্ট্রোকে সারা দেশে ৫ জনের মৃত্যু হয়েছে।
এই যখন অবস্থা, তখন গরমের দেশ সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে এদিন
সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছে ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। মধ্যপ্রাচ্যের অন্য দেশগুলোর
কোনোটিরই সর্বোচ্চ তাপমাত্রা বাংলাদেশের চেয়ে বেশি ছিল না।
এছাড়া ফিলিস্তিনের জেরুজালেমে ২১ ডিগ্রি, বাহরাইনের রাজধানী মানামার
তাপমাত্রা ৩০ ডিগ্রি, ইরানের তেহরানে ২৬ ডিগ্রি, সিরিয়ার আলেপ্পোতে ২৫ ডিগ্রি,
তুরস্কের আঙ্কারায় ১১ ডিগ্রি, ইরাকের বসরাতে ৪০ ডিগ্রি, সিরিয়ার রাজধানী দামেস্কে
২৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সৌদির জেদ্দাতে ৩৩ ডিগ্রি, কুয়েতের রাজধানী কুয়েত সিটিতে ৩৬
ডিগ্রি, ওমানের মাস্কাটে ২৮ ডিগ্রি, ইয়েমেনের রাজধানী সানাতে ২৫ ডিগ্রি এবং
ইসরায়েলের তেলআবিবে ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে।
আবহাওয়াভিত্তিক অ্যাপ ‘অ্যাকুওয়েদার’-এর তথ্য অনুযায়ী, সংযুক্ত আরব
আমিরাতের আবুধাবিতে তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছে ২৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। জর্ডানের রাজধানী
আম্মানের তাপমাত্রা ২৭ ডিগ্রি, ইরাকের বাগদাদের তাপমাত্রা ৩৭ ডিগ্রি, লেবাননের
রাজধানী বৈরুতের তাপমাত্রা ২২ ডিগ্রি, কাতারের দোহারে তাপমাত্রা ২৯ ডিগ্রি,
তুরস্কের ইস্তাম্বুলের তাপমাত্রা ছিল ১৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
আবহাওয়াবিদরা বলছেন, বাংলাদেশের ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া তীব্র তাপপ্রবাহ
অন্য সময়ের রেকর্ড ভাঙতে যাচ্ছে। এপ্রিলের পাশাপাশি এবার মে মাসও উষ্ণতম মাস হতে
যাচ্ছে। মে মাসে তাপমাত্রা ৪৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস পার করবে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে
দেশের আবহাওয়া বিভাগ।
একনজরে দেখে নিন হিটস্ট্রোকের লক্ষণগুলো
প্রচণ্ড মাথাব্যথা : হিটস্ট্রোকের ঝুঁকিতে থাকলে প্রচণ্ড মাথাব্যথা শুরু হতে পারে। এ
ছাড়া গরমে মানুষের মাইগ্রেন ট্রিগার করতে পারে। এটি হিটস্ট্রোকের অন্যতম একটি
লক্ষণ হতে পারে।
বেশি তৃষ্ণা অনুভব ও অতিরিক্ত ঘামানো : হিটস্ট্রোকের আগে অনেক বেশি তৃষ্ণা অনুভব হবে, সেইসঙ্গে
ডিহাইড্রেটেড এবং আড়ষ্টতা অনুভব হতে পারে। শরীর নিজেকে ঠান্ডা করার জন্য অতিরিক্ত
ঘাম তৈরি করতে পারে।
হৃৎস্পন্দন বৃদ্ধি পাওয়া : হিটস্ট্রোকের আগে হৃৎস্পন্দন স্বাভাবিকের চেয়ে বৃদ্ধি পেতে পারে।
শ্বাসকষ্ট : হিটস্ট্রোকের অন্যতম লক্ষণ হলো শ্বাসকষ্ট এবং দ্রুত ও ভারী
শ্বাস-প্রশ্বাসও।
দুর্বলতা ও অজ্ঞান হয়ে যাওয়া : তীব্র গরমের কারণে শরীর স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি কাজ করে। এতে শরীরে
ক্লান্তি ও দুর্বলতা তৈরি হয়। ব্যক্তি অজ্ঞানও হয়ে যেতে পারে। এগুলো হিটস্ট্রোকের
লক্ষণ।
পেশিতে ব্যথা : হিটস্ট্রোকের আগ মুহূর্তে পেশিতে ব্যথা অনুভব হতে পারে। যদিও
সাধারণ ব্যথা ভেবে অনেকে এটাকে তেমন গুরুত্ব দেয় না।
কথা জড়িয়ে যাওয়া : হিটস্ট্রোকের আগে যেসব লক্ষণ দেখা যায়, তারমধ্যে একটি হলো কথা
জড়িয়ে যাওয়া। ব্যক্তি অসংলগ্ন কথা বলতে শুরু করতে পারে।
বমি বমি ভাব : মাথাব্যথা, দ্রুত হৃৎস্পন্দন ও হাইপারভেন্টিলেশন থেকে অক্সিজেনের
অভাব ইত্যাদির কারণে হিটস্ট্রোকের আগে বমি বমি ভাব হতে পারে।
বিরক্তি-বিভ্রান্তি : মাত্রাতিরিক্ত গরমের কারণে হিটস্ট্রোকের আগে মানুষ বিরক্ত বোধ
করতে পারে, রাগান্বিত হতে পারে, অযৌক্তিক কথা বলতে পারে এবং এমনকি প্রলাপ বকতে
করতে পারে।
ঘাম না হওয়া : হিটস্ট্রোকের আরেকটি লক্ষণ হলো প্রচণ্ড গরমেও ঘাম না হওয়া।
সাধারণত এর মানে হচ্ছে, শরীরে ঘাম হওয়ার মতো পানি আর নেই বা শরীরের প্রাকৃতিক শীতল
প্রক্রিয়াটি কাজ করছে না।
চিকিৎসকদের মতে, হিটস্ট্রোক এড়াতে শরীর হাইড্রেট রাখার কোনো বিকল্প
নেই। তাপমাত্রা বেশি হলে ঢিলেঢালা এবং হালকা রঙের পোশাক পরে ঘরের বাইরে যেতে হবে।
সূর্যের আলো থেকে চোখকে রক্ষা করতে সানগ্লাস ব্যবহার করা। প্রচুর পরিমাণে বিশুদ্ধ
পানি পান করতে হবে। তবে কৃত্রিম চিনিযুক্ত পানীয় থেকে দূরে থাকতে হবে।
মন্তব্য করুন