

হবিগঞ্জ ২৫০ শয্যা জেলা সদর হাসপাতাল থেকে দালাল চক্রের ৫ সদস্যকে গ্রেফতার করে পাঠানো হয়েছে কারাগারে।
সোমবার (২১ অক্টোবর) সেনাবাহিনী ও সদর মডেল থানা পুলিশ যৌথ অভিযান চালিয়ে আটক করে দালাল চক্রের ৫ সদস্যকে।
পরে তাদের গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে সোপর্দ করা হয়।
গ্রেফতারকৃতরা হলো: বানিয়াচং উপজেলার মাহমুদুল হাসান (৩০), সেলিম মিয়া (৪২), জাকারিয়া আহমেদ (৩০) ও নবীগঞ্জ উপজেলার শামীম মিয়া (২৭), হবিগঞ্জ সদর উপজেলার জসিম (৪৩)।
সোমবার সেনাবাহিনী ও পুলিশের আকস্মিক যৌথ অভিযান চলাকালে কয়েকজন দালালকে হাসপাতাল এলাকা থেকে পালিয়ে যেতে দেখা যায়। এ সময় ৫ জনকে আটক করা হয়।
রাতে সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আলমগীর কবীর জানান, বিকেলে ২০২২ সালের একটি প্রতারণা মামলায় ৫ জনকে গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে সোপর্দ করা হয়। সেখান থেকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে দালালদের উৎপাতে অতিষ্ঠ হয়ে উঠছিলেন রোগী ও তাদের স্বজনরা। প্রতিনিয়ত প্রতারিত হচ্ছিলেন বিভিন্ন গ্রাম থেকে আসা সহজ-সরল প্রকৃতির লোকজন। দালালদের খপ্পরে পড়ে অনেক রোগীর প্রাণহানির ঘটনাও ঘটে। শহরের বিভিন্ন বেসরকারি ক্লিনিকের পৃষ্ঠপোষকতায় সক্রিয় এ দালাল চক্র।
মন্তব্য করুন


অন্তর্বর্তী সরকারের সংস্কার কর্মসূচি বাস্তবায়নে সহায়তা প্রদানের লক্ষ্যে বিশ্বব্যাংক চলতি অর্থবছরে বাংলাদেশের জন্য ঋণ সহায়তা বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেছেন।
মঙ্গলবার (১৮ সেপ্টেম্বর) ঢাকায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন বিশ্বব্যাংকের কান্ট্রি ডিরেক্টর আবদৌলায়ে সেক। এসময় বিশ্বব্যাংকের আবাসিক প্রধান বলেন, চলতি অর্থবছরে তার সংস্থা বাংলাদেশের জন্য দুইশ’ কোটি মার্কিন ডলারের নতুন অর্থায়ন করতে পারবে। এই অর্থ অন্তর্বর্তী সরকারের সংস্কার কর্মসূচি বাস্তবায়ন, বন্যা মোকাবিলা, দূষণ নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে বায়ুর মান বৃদ্ধি এবং স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়নে সহায়তা করা হবে।
জরুরিভাবে আর্থিক সহায়তার প্রয়োজন রয়েছে এমন ক্ষেত্রে সহায়তা করা হবে উল্লেখ করে আবদৌলায়ে সেক বলেন, আমরা যত দ্রুত সম্ভব এবং যতটা সম্ভব আপনাদের সহায়তা করতে চাই।
বৈঠকে নতুন ঋণ সহায়তার প্রতিশ্রুতির পাশাপাশি প্রধান উপদেষ্টার অনুরোধের প্রেক্ষিতে সংস্থাটি সরকারের চলমান বিদ্যমান প্রকল্পে প্রায় একশ’ কোটি ডলারের অতিরিক্ত একশ’ কোটি ডলারের তহবিল পুনর্বিন্যাসের কথা উল্লেখ করা হয়।
বিশ্বব্যাংকের আবাসিক প্রধান জানান, অতিরিক্ত ঋণ প্রদানের মাধ্যমে বিশ্বব্যাংক এবারের অর্থবছরে বাংলাদেশকে সহজশর্তে ঋণ এবং মঞ্জুরি মিলিয়ে প্রায় তিনশ’কোটি মার্কিন ডলার প্রদান করবে, যার মাধ্যমে বিদ্যমান প্রকল্পসমূহের তহবিল পুনর্বিন্যাসও করা হবে।
সংস্কার কর্মসূচি বাস্তবায়ন বাংলাদেশের তরুণ সম্প্রদায় এবং দেশটির জন্য ‘মহৎ কাজ’হবে উল্লেখ করে বিশ্বব্যাংকের আবাসিক প্রধান বলেন, প্রতিবছর যে ২০ লাখ মানুষ শ্রমবাজারে প্রবেশ করছে, তারাও এর সুফল পাবে।
প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস বিশ্বব্যাংকের কান্ট্রি ডিরক্টেরকে উদ্দেশে করে বলেন, ১৫ বছরের অপশাসন থেকে ঘুরে দাঁড়াতে আমরা যে নতুন যাত্রার সূচনা করেছি তাকে এগিয়ে নিতে এবং সংস্কার কর্মসূচি বাস্তবায়নকে কেন্দ্র করে বিশ্বব্যাংকের ঋণ তহবিলসমূহের শর্তাবলী নমনীয় হতে হবে। আমাদের ধ্বংসাবশেষ থেকে নতুন কাঠামো তৈরি করতে হচ্ছে। আমাদের এখন বড় ধাক্কা দেওয়ার প্রয়োজন এবং ছাত্রদের যে স্বপ্ন রয়েছে তা পূরণে মনোযোগ দিতে হবে।
প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস বলেন,
আমি আপনাদের বলবো- আমাদের সাহায্য করুন। আমাদের টিমের অংশীদার হোন। গত ১৫ বছরে শেখ
হাসিনার শাসন আমলে দুর্নীতিবাজরা অর্থ আত্মসাৎ করে বিদেশে কয়েক বিলিয়ন ডলার পাচার করেছে। পাচার হওয়া এসব অর্থ ফিরিয়ে আনতে তিনি বিশ্বব্যাংককে কারিগরি সহায়তা প্রদানের আহ্বান জানান।
বিশ্বব্যাংকের আবাসিক প্রধান বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ ফিরিয়ে আনার ব্যাপারে সহায়তা করতে সম্মত হন। তিনি বলেন, আমরা আপনাদের সাহায্য করতে পেরে খুশি হবো। বিশ্বব্যাংক বাংলাদেশকে পরিসংখ্যানগত তথ্যের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা তৈরি, কর আহরণে অটোমেশন চালু এবং আর্থিক খাত সংস্কারে সহায়তা করতে চায়। বাংলাদেশ তার প্রতিষ্ঠানগুলো মেরামত এবং মোটা দাগের সংস্কার করার এই সুযোগ হাতছাড়া করতে চায় না। একবার এ সুযোগ হারালে কখনো তা আর ফিরে আসবে না।
আবদৌলায়ে সেক জুলাই-আগস্টে ছাত্র আন্দোলনের শহিদদের প্রতি সমবেদনা জানান। তিনি ঢাকার দেয়ালে তরুণদের আঁকা বর্ণিল গ্রাফিতি ও ম্যুরাল দেখে মুগ্ধ হয়েছেন উল্লেখ করে বলেছেন, ৩০ বছরের চাকরি জীবনে অন্য কোথাও এমন দেখিনি।
মন্তব্য করুন


শহীদ
প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান-এর ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে ৮ দিনব্যাপী বিস্তারিত কর্মসূচি
ঘোষণা করেছে বিএনপি। আগামী ২৫ মে থেকে ১ জুন পর্যন্ত এই কর্মসূচি চলবে। সোমবার রাজধানীর
নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ কর্মসূচি ঘোষণা করেন বিএনপির
সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।
এর
আগে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক যৌথসভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন রুহুল কবির রিজভী।
সভায় দলের যুগ্ম মহাসচিববৃন্দ, ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ বিএনপির আহ্বায়ক ও সদস্য
সচিব, এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি, আহ্বায়ক, সাধারণ সম্পাদক ও সদস্য
সচিবরা উপস্থিত ছিলেন।
ঘোষিত
কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে ৩০ মে ভোর ৬টায় বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দলীয় পতাকা অর্ধনমিতকরণ
ও কালো পতাকা উত্তোলন। এইদিন সকাল ১১টায় প্রধানমন্ত্রী
ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি’র জাতীয় নেতৃবৃন্দসহ সকল পর্যায়ের নেতাকর্মীরা
শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের মাজারে পুস্পার্ঘ অর্পণ ও মাজার জিয়ারত করবেন এবং
জিয়ারত শেষে জাতীয়তাবাদী ওলামা দলের উদ্যোগে মাজার প্রাঙ্গণে দোয়া মাহফিলে শরীক হবেন।
দিবসটি উপলক্ষে ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণের প্রতি থানায় দুঃস্থদের মাঝে কাপড়, চাল,
ডালসহ খাদ্য সামগ্রী বিতরণ।
৩১
মে বেলা ২টায় রাজধানীর রমনার ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন অব বাংলাদেশ (আইইবি) মিলনায়তনে
বিএনপির উদ্যোগে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়া ৩০ মে দিনব্যাপী ঢাকা মহানগর উত্তর
ও দক্ষিণের প্রতিটি থানায় দুঃস্থদের মাঝে কাপড়, চাল, ডালসহ খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করা
হবে।
কর্মসূচির
অংশ হিসেবে পোস্টার প্রকাশ, কালো ব্যাজ ধারণ, জাতীয় ও স্থানীয় সংবাদপত্রে ক্রোড়পত্র
প্রকাশ এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলোর উদ্যোগে আলোচনা সভার আয়োজন করা হবে। একইসঙ্গে
সারা দেশে জেলা ও মহানগর পর্যায়ে দলীয় ইউনিট কার্যালয়গুলোতে ৩০ মে ভোর ৬টায় পতাকা অর্ধনমিতকরণ
ও কালো পতাকা উত্তোলন করা হবে।
এছাড়া
নিজ নিজ এলাকার সুবিধা অনুযায়ী আলোচনা সভা, দোয়া মাহফিল এবং দুঃস্থদের মাঝে খাদ্য ও
বস্ত্র বিতরণ কর্মসূচিও পালন করা হবে বলে জানানো হয়েছে।
মন্তব্য করুন


স্বরাষ্ট্র
মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী তার মন্ত্রণালয়ের
কর্মকর্তাদের আইন মেনে পেশাদারিত্বের সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন।
আজ
সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক
মতবিনিময় সভায় তিনি এ আহ্বান জানান।
স্বরাষ্ট্র
উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, কাজ করতে গেলে
ভুল হতে পারে। কিন্তু ইচ্ছাকৃত ভুল করলে ব্যবস্থা নেয়া হবে। তিনি এ সময় সবাইকে মিলেমিশে
আন্তরিকতার সাথে কাজ করার আহ্বান জানান।
স্বরাষ্ট্র
উপদেষ্টা মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী আরও বলেন, যেসব কর্মকর্তা সত্যিকার অর্থেই বঞ্চিত
ও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, তাদের বিষয়ে বিবেচনা করা হবে। কিন্তু দুর্নীতির কারণে বঞ্চিত
হলে তা আমলে নেয়া হবে না।
মতবিনিময়
সভায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা ও সেবা বিভাগের সিনিয়র সচিব মো. মশিউর রহমান,
জননিরাপত্তা বিভাগের সচিব ড. মোহাম্মদ আব্দুল মোমেন, জননিরাপত্তা বিভাগের সদ্য বিদায়ী
সিনিয়র সচিব মো. মোকাব্বির হোসেন, বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক মো. ময়নুল ইসলামসহ
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বিভিন্ন দপ্তর-সংস্থার প্রধান ও মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন
পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
এর
আগে স্বরাষ্ট্র ও কৃষি মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পৌঁছলে মন্ত্রণালয়ের
ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপদেষ্টাকে স্বাগত জানান। এরপর উপদেষ্টাকে গার্ড অব অনার প্রদান
করা হয়।
মন্তব্য করুন


আজ মঙ্গলবার (১৯ নভেম্বর) সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, ওএসপি, এসজিপি, পিএসসি ৭ পদাতিক ডিভিশন ও বরিশাল এরিয়া পরিদর্শন করেন। পরিদর্শনকালে সেনাবাহিনী প্রধান ৭ পদাতিক ডিভিশন ও বরিশাল এরিয়ায় কর্মরত সকল পদবির সেনাসদস্যদের উদ্দেশ্যে 'দরবার' এবং সেনা কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে 'অফিসার্স অ্যাড্রেস' গ্রহণ করেন। এসময় তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নয়নে অর্পিত দায়িত্ব আন্তরিকতার সাথে পালন করায় অবস্থার উন্নতি হচ্ছে। তিনি সকল সেনাসদস্যকে দেশের সার্বিক অবস্থা বিবেচনায় ধৈর্য্য ও পেশাদারিত্বের সাথে অসামরিক প্রশাসন এবং দেশের জনসাধারণকে সর্বাত্মক সহযোগিতা অব্যাহত রাখার নির্দেশ প্রদান করেন। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন, জনগণের আস্থার প্রতীক হিসেবে রাষ্ট্র প্রদত্ত ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা বিচক্ষণতার সাথে প্রয়োগ করে দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রতিটি সেনা সদস্য অত্যন্ত নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করবেন। একই সাথে তিনি আধুনিক ও যুগোপযোগী প্রশিক্ষণের মাধ্যমে একবিংশ শতাব্দীর কঠিন চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় সকলকে প্রস্তুত থাকতে বলেন। এছাড়াও, নবনির্মিত সেনানিবাসের অবকাঠামোগত উন্নয়নের লক্ষ্যে সেনাপ্রধান ৭ পদাতিক ডিভিশনে চলমান বিভিন্ন প্রকল্প পরিদর্শন ও অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করেন ।
পরিদর্শনকালে সেনাসদর ও বরিশাল এরিয়ার ঊর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তাগণ ছাড়াও জুনিয়র কমিশন্ড অফিসার, অন্যান্য পদবির সৈনিকবৃন্দ, অসামরিক কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
মন্তব্য করুন


বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য ভিসা চালু করার বিষয়ে
অগ্রগতি অর্জিত হওয়ায় সংযুক্ত আরব আমিরাতকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের
প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি বিভিন্ন খাতে দেশটির বিনিয়োগ প্রস্তাবকে
স্বাগত জানান।
আজ বুধবার (৭ মে) ঢাকায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন
যমুনায় ইউএই’র টলারেন্স এ্যান্ড এক্সিসটেন্স বিষয়ক কেবিনেট মন্ত্রী শেখ নাহায়ান
বিন মুবারক আল নাহায়ানের নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল প্রধান উপদেষ্টার
সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এসময় অধ্যাপক ইউনূস ইউএই’কে ধন্যবাদ জানান।
শেখ নাহায়ানের নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধিদলটি আজ
দুপুর ২টা ৪৫ মিনিটে ঢাকায় স্বল্প সময়ের সফরে পৌঁছান। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে
প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ দূত লুৎফে সিদ্দিকী তাদেরকে অভ্যর্থনা জানান।
প্রতিনিধি দলে আরও ছিলেন সংযুক্ত আরব আমিরাতের
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ বিন আলি আল সায়েঘ, বিনিয়োগ মন্ত্রণালয়ের
আন্ডার সেক্রেটারি মোহাম্মদ আবদুর রহমান আল হাওয়ি।
আল নাহায়ান প্রধান উপদেষ্টাকে বলেন, বাংলাদেশের
প্রতি সংহতি প্রকাশ এবং আমাদের বন্ধুত্ব পুনর্ব্যক্ত করতে ‘আমি আমাদের প্রেসিডেন্টের
নির্দেশে এখানে এসেছি।
তিনি বলেন, আমাদের দুই দেশের সরকারের মধ্যে
সাম্প্রতিক সময়ের বাড়তি সংলাপকে আমরা প্রশংসা করি। আমরা বিনিয়োগ থেকে শুরু করে ভিসা
পর্যন্ত সব খাতে সহযোগিতার আশ্বাস দিচ্ছি এবং আমরা একসাথে কাজ করতে ইচ্ছুক।
এই সৌহার্দ্যমূলক উদ্যোগের প্রশংসা করে অধ্যাপক
ইউনূস বলেন, আমরা এ ধরনের সম্পৃক্ততা ও সহযোগিতাকে স্বাগত জানাই। আমরা বিভিন্ন খাতে
বিনিয়োগ প্রস্তাবকেও স্বাগত জানাই।
ভিসা নীতিতে শিথিলতার কথা উল্লেখ করে প্রধান
উপদেষ্টা বলেন, ভিসার দরজা খোলার জন্য ধন্যবাদ। এখনও কিছু পদক্ষেপ নেওয়া বাকি আছে,
আশা করি আমরা সম্পৃক্ত থাকবো এবং সমস্যাগুলো সমাধান করবো।
সম্প্রতি ইউএই প্রতিদিন ৩০ থেকে ৫০টি ভিজিট
ভিসা ইস্যু করছে।
ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদের জন্য ভিসাগুলোও সাম্প্রতিক
সময়ে দ্রুত অনুমোদিত হচ্ছে। সেইসাথে, মানবসম্পদ মন্ত্রণালয় দক্ষ কর্মীদের জন্য অনলাইন
ভিসা সিস্টেম পুনরায় চালু করেছে।
সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে বিপণন ব্যবস্থাপক,
হোটেল কর্মীসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রের ভিসাও এই
পদ্ধতিতে দেওয়া হয়।
এ ছাড়াও, নিরাপত্তা রক্ষীদের জন্য ৫০০ ভিসা
ইতোমধ্যে ইস্যু হয়েছে এবং আরও এক হাজার ভিসা অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।
ঢাকায় নিযুক্ত ইউএই রাষ্ট্রদূত আবদুল্লাহ আলি
আল হমোদি এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত তারেক আহমেদও বৈঠকে
উপস্থিত ছিলেন।
মন্তব্য করুন


ভৌগোলিক নির্দেশক (জিআই) পণ্য হিসেবে স্বীকৃতি পেলো ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মিষ্টান্ন ‘ছানামুখী’। ছানা থেকে তৈরি এই মিষ্টান্নের সুনাম রয়েছে দেশজুড়ে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া ছাড়া দেশের অন্য কোথাও তৈরি হয় না এই ছানামুখী। ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রশাসনের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ভৌগোলিক নির্দেশক (জিআই) হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ছানামুখী।
শিল্প মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন প্রতিষ্ঠান পেটেন্ট, ডিজাইন ও ট্রেডমার্কস অধিদপ্তর (ডিপিডিটি) বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
পণ্যের জিআই স্বীকৃতি দেয় ডিপিডিটি। কোনো একটি দেশের নির্দিষ্ট ভূখণ্ডের মাটি, পানি, আবহাওয়ার প্রেক্ষাপটে সেখানকার জনগোষ্ঠীর সংস্কৃতি যদি কোনো একটি পণ্য উৎপাদনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে, তাহলে সেটিকে সেই দেশের জিআই পণ্য হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়। কোনো একটি পণ্য চেনার জন্য জিআই স্বীকৃতি খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, জিআই পণ্য হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে ‘ছানামুখী’। সরকারিভাবে ছানামুখীকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ব্র্যান্ডিংয়ের আওতায় আনা হয়েছে। জেলার ব্র্যান্ডবুকেও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে এই মিষ্টান্ন।
মন্তব্য করুন


বাংলাদেশীদের
জন্য মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার দ্রুত উন্মুক্ত করতে আনোয়ার ইব্রাহিমের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
তিনি
আজ সোমবার স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ১১ টায় পুত্রজায়ায় মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে
এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে এ আহ্বানের কথা জানান।
প্রধানমন্ত্রী
বলেন, ‘আমি প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমকে আরও বেশি বাংলাদেশী কর্মী নিয়োগ এবং দ্রুত
শ্রমবাজার উন্মুক্ত করার বিষয়টি বিবেচনার কথা বলেছি। পাশাপাশি অনিয়মিত শ্রমিকদের বৈধকরণ
এবং আটক বাংলাদেশীদের সম্ভাব্য প্রত্যাবাসনের বিষয়টিও উত্থাপন করেছি।’
প্রধানমন্ত্রী
বলেন, 'আমরা একমত হয়েছি যে শ্রমিক নিয়োগ প্রক্রিয়া
হতে হবে স্বচ্ছ, ন্যায্য ও সাশ্রয়ী, যাতে মধ্যস্বত্বভোগীদের ভূমিকা কমে এবং শ্রমিকদের
ব্যয় হ্রাস পায়।'
দুই
দেশের উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকের পর মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম এবং প্রধানমন্ত্রী
তারেক রহমান যৌথ সংবাদ সম্মেলনে অংশ নেন। প্রথমে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে শুভেচ্ছা
জানিয়ে আনোয়ার ইব্রাহিম বক্তব্য রাখেন। পরে তারেক রহমান দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের বিষয়বস্তু
তুলে ধরে বক্তব্য রাখেন।
সংবাদ
সম্মেলনের শুরুতে আনোয়ার ইব্রাহিমকে ধন্যবাদ জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, ‘গত ফেব্রুয়ারিতে
আমি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করার পর প্রথম যে শুভেচ্ছা বার্তা
পেয়েছিলাম, তা ছিল প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের। তিনি আমাকে অভিনন্দন এবং মালয়েশিয়া
সফরের আমন্ত্রণ জানান।’
তিনি
বলেন, তাঁর (আনোয়ার ইব্রাহিম) আন্তরিক আমন্ত্রণ গ্রহণ করতে পেরে আমি সম্মানিত
বোধ করছি। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আমার প্রথম বিদেশ সফরে স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে মালয়েশিয়ায়
আসতে পেরে আমরা অত্যন্ত আনন্দিত।'
পিতা
প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ১৯৭৯ সালে মালয়েশিয়া সফরে কথা স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী
তারেক রহমান বলেন, ‘সেই সফর দুই দেশের রাজনৈতিক সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করেছিল। একইসঙ্গে
শ্রমবিষয়ক সহযোগিতার ভিত্তি স্থাপন করেছিল।’
তিনি
বলেন, 'আমি আমার মা সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ১৯৯৩ সালের মালয়েশিয়া সফরের
কথাও স্মরণ করছি। তাঁর সেই সফর আমাদের বন্ধুত্বকে আরও গভীর এবং দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতার
নতুন ক্ষেত্র উন্মোচন করেছিল।'
প্রধানমন্ত্রী
বলেন, ‘মালয়েশিয়া বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের বিশ্বস্ত ও ঘনিষ্ঠ অংশীদার। পারস্পরিক আস্থা,
অভিন্ন মূল্যবোধ এবং জনগণের মধ্যে দৃঢ় সম্পর্কের ভিত্তিতে আমাদের এই বন্ধুত্ব গড়ে উঠেছে।'
মালয়েশিয়ায়
তাঁকে উষ্ণ অভ্যর্থনা এবং আতিথেয়তা জানানোর জন্য প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম, মালয়েশিয়ার
সরকার ও জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
তিনি
বলেন, ‘আরও একবার মালয়েশিয়া সরকার এবং দেশটির জনগণকে তাদের বন্ধুত্ব ও আন্তরিক আতিথেয়তার
জন্য ধন্যবাদ জানাই। আমরা মধুর স্মৃতি নিয়ে দেশে ফিরছি।'
দ্বিপাক্ষিক
বৈঠকে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর
সঙ্গে আমার ব্যাপক ও ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। আমরা দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতার বিভিন্ন বিষয়
নিয়ে আলোচনা এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি সম্পর্কে মতবিনিময় করেছি।’
তিনি
বলেন, 'আজ আমরা বাংলাদেশ–-মালয়েশিয়া
সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছি। যৌথ কমিশন বৈঠক এবং দুই
দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় পরামর্শ প্রক্রিয়াসহ বিদ্যমান কাঠামোর
মাধ্যমে সম্পৃক্ততা বাড়ানোর বিষয়ে আমরা একমত হয়েছি। '
প্রধানমন্ত্রী
বলেন, ‘আমরা দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের প্রবৃদ্ধিকে স্বাগত জানিয়েছি এবং বাংলাদেশ-–মালয়েশিয়া
মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) নিয়ে আলোচনাকে এগিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।'
বৈঠকে
সংস্কৃতি বিষয়ক সমঝোতা স্মারকসহ সন্ত্রাসবাদ দমন
বিষয়ে গবেষণা ও সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহযোগিতা সংক্রান্ত একটি দলিল এবং বিনিয়োগ
সংক্রান্ত একটি দ্বিপাক্ষিক দলিল বিনিময় হওয়াকে স্বাগত জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন,
‘এসব উদ্যোগ আমাদের সহযোগিতাকে আরও সুদৃঢ় এবং সম্পর্কের ইতিবাচক গতিধারা বজায় রাখতে
সহায়তা করবে।’
তিনি
বলেন, ‘আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, আজকের আলোচনা বাংলাদেশ-–মালয়েশিয়া সম্পর্কের এক নতুন
অধ্যায়ের সূচনা করবে। আমরা যৌথ সমৃদ্ধি, আঞ্চলিক শান্তি এবং আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক আন্তর্জাতিক
ব্যবস্থা গড়ে তুলতে একসঙ্গে কাজ করার প্রত্যাশা করছি।'
উল্লেখ্য,
বৈঠকের পর দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে সংস্কৃতি বিষয়ক একটি সমঝোতা স্মারক
স্বাক্ষরিত হয়। এ ছাড়া সন্ত্রাসবাদ দমন বিষয়ে গবেষণা ও সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহযোগিতা সংক্রান্ত
একটি দলিল এবং বিনিয়োগ সংক্রান্ত একটি দ্বিপাক্ষিক দলিল বিনিময় করা হয়। দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী
দলিল দুটি বিনিময় করেন। এরপর দু’দেশের প্রধানমন্ত্রী এ যৌথ সংবাদ সম্মেলনে
অংশ নেন।
মালয়েশিয়ার
ব্যবসায়ীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয়
সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) জনগণের কাছ থেকে শক্তিশালী জনসমর্থন
পেয়েছে। জনগণের বিপুল সমর্থনের ভিত্তিতে আমরা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে রাজনৈতিক
স্থিতিশীলতা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেছি। আমাদের অগ্রাধিকার হলো কর্মসংস্থান সৃষ্টি, বিদেশি
বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করা। আমরা একটি বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ
গড়ে তুলছি এবং বিনিয়োগকারীদের জন্য নতুন সুযোগ সৃষ্টি করছি।'
তিনি
বলেন, 'আমি বিশ্বাস করি, বাংলাদেশে মালয়েশিয়ার
বিনিয়োগের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে এবং আমি মালয়েশিয়ার ব্যবসায়ীদের এসব সুযোগ কাজে লাগানোর
আন্তরিক আহ্বান জানাচ্ছি।'
দ্বিপক্ষীয়
বৈঠকের আলোচনায় ‘তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি), জ্বালানি, অবকাঠামো, জনশক্তি,
হালাল শিল্প, কৃষিভিত্তিক প্রক্রিয়াজাতকরণ, শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন, প্রতিরক্ষা, ডিজিটাল
অর্থনীতি, সেমিকন্ডাক্টর এবং অন্যান্য উচ্চমূল্য সংযোজন খাত অন্তর্ভুক্ত ছিলো বলে জানান
প্রধানমন্ত্রী।
তারেক
রহমান বলেন, ‘মালয়েশিয়ায় অবস্থানরত বাংলাদেশী শ্রমিক, শিক্ষার্থী, পেশাজীবী এবং উদ্যোক্তারা
দুই দেশের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করছেন। তাদের অবদান উভয় দেশের
অর্থনীতি ও সমাজের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।’
রোহিঙ্গা
সমস্যা প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর দুর্দশা
নিয়ে আমি গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছি এবং তাদের নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসনের
বিষয়ে মালয়েশিয়ার অব্যাহত সমর্থনের জন্য ধন্যবাদ জানাচ্ছি। '
বাংলাদেশ
আসিয়ানের সাথে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক চায় জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা আঞ্চলিক সহযোগিতার
বিষয়েও আলোচনা করেছি। বাংলাদেশ আসিয়ানের সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠ সম্পৃক্ততা চায় এবং আসিয়ানের
সেক্টরাল ডায়ালগ পার্টনার হওয়ার প্রত্যাশা করে। '
তিনি
বলেন, 'একই সঙ্গে আমরা আঞ্চলিক সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব (আরসিইপি)-এ যোগদানে
আগ্রহী। বাংলাদেশের আঞ্চলিক সংযুক্তি প্রচেষ্টায় মালয়েশিয়ার সমর্থনের জন্য আমি কৃতজ্ঞতা
প্রকাশ করছি।’'
বৈঠকে
মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতিসহ বিভিন্ন বৈশ্বিক বিষয় নিয়েও মতবিনিময় হয়েছে জানিয়ে তারেক রহমান
বলেন, ‘আমরা জাতিসংঘ এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থায় একসঙ্গে কাজ করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত
করেছি। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতিত্বের জন্য বাংলাদেশের প্রার্থিতাকে
সমর্থন করায় মালয়েশিয়াকে ধন্যবাদ জানাই। পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে আমাদের ঘনিষ্ঠ
সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলে আমরা আশাবাদী।'
মালয়েশিয়ার
প্রধানমন্ত্রীকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ আমি মাননীয়
প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম এবং তাঁর সহধর্মিণীকে সুবিধাজনক সময়ে বাংলাদেশ সফরের
আমন্ত্রণ জানাচ্ছি।বাংলাদেশের জনগণ তাদের স্বাগত জানাতে পারলে গর্ববোধ করবে।'
দুই
দেশের দ্বিপক্ষীয় এই বৈঠকে বাংলাদেশের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক
রহমান। মালয়েশিয়ার প্রতিনিধি দলের নেতৃত্বে দেন প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম। বৈঠকে
দুই দেশের দ্বি-পক্ষীয় বিভিন্ন বিষয় এবং সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার বিষয় নিয়ে আলোচনা
হয়।
বাংলাদেশ
প্রতিনিধি দলে অন্যান্যের মধ্যে পররাষ্ট্র মন্ত্রী খলিলুর রহমান, বৈদেশিক কর্মসংস্থান
মন্ত্রী আরিফুল হক, জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র
উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, অর্থ উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, শিক্ষা ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান
বিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন, পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম, প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব
আতিকুর রহমান রুমন রয়েছেন।
মন্তব্য করুন


ভুটানের রাজা জিগমে খেসার নামগিয়েল ওয়াংচুক পদ্মা সেতু পরিদর্শন করেছেন ।
বুধবার (২৭ মার্চ) সকালে তিনি পদ্মা সেতু পরিদর্শন করেন। তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সদস্য অধ্যাপক মোহাম্মদ এ আরাফাত তাকে পদ্মা সেতু ঘুরে দেখান।
পদ্মা সেতু দেখার পর রাজা নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে অবস্থিত বাংলাদেশ স্পেশাল ইকোনমিক জোন পরিদর্শনে গেছেন।
স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে ২৫ মার্চ চার দিনের সফরে বাংলাদেশে এসেছেন ভুটানের রাজা। সফর শেষে তিনি ২৮ মার্চ বুড়িমারী সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশ ছাড়বেন। তবে ভুটানের রাজার সফরসঙ্গীদের একাংশ ২৭ মার্চ বিশেষ ফ্লাইটে ঢাকা থেকে বিদায় নেবেন।
মন্তব্য করুন


সাউথ এশিয়ান অ্যাসোসিয়েশন ফর রিজিওনাল
কোঅপারেশন অনকোলজির (এসএফও) প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠক করেছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক
ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
আজ বৃহস্পতিবার (১২ ডিসেম্বর) ঢাকায়
প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনা থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বৈঠকে যুক্ত হন তিনি।
এ সময় তিনি সার্ক ফেডারেশন অব অনকোলজিস্টসের (এসএফও) প্রতিষ্ঠাতা অধ্যাপক ডা. এবিএমএফ
করিমের প্রতি শ্রদ্ধা জানান এবং তাঁর সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে যোগাযোগের অভিজ্ঞতার কথা
উল্লেখ করেন।
এ সময় নিজের ছোটভাই বিশিষ্ট লেখক, সাংবাদিক,
সমালোচক ও খ্যাতনামা টেলিভিশন ব্যক্তিত্ব মুহাম্মদ জাহাঙ্গীরকে স্মরণ করেন অধ্যাপক
ড. মুহাম্মদ ইউনূস। ভাইয়ের ক্যান্সার শনাক্ত ও চিকিৎসার সময় তাঁর পুরো পরিবারকে কী
ভোগান্তির মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছিল সেসব অভিজ্ঞতার কথা জানান তিনি। সেসময় ডা. করিম কীভাবে
তাঁর চিকিৎসায় সাহায্য করেছিলেন সে কথা উল্লেখ করেন প্রধান উপদেষ্টা।
তিনি বলেন, ক্যানসার চিকিৎসায় যে প্রযুক্তিগত
সহায়তা প্রয়োজন, তা এখনো আমরা পাচ্ছি না। সার্ক যে ক্যান্সার চিকিৎসাকে বিশেষভাবে গুরুত্ব
দিচ্ছে এটা অত্যন্ত জরুরি ও অনুপ্রেরণামূলক।
দক্ষিণ-এশিয়ার দেশগুলো সার্ককে সক্রিয়
করে তোলার মধ্য দিয়ে লাভবান হবে উল্লেখ করে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘সার্ক আমার কাছে
বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। আমি প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে শপথ গ্রহণের পরপরই সার্ককে সক্রিয়
করার বিষয়ে বলেছি। ভারত-পাকিস্তানের মধ্যকার কিছু ইস্যুর জন্য সার্ক সক্রিয় হচ্ছে না।’
তিনি বলেন, আমি মনে করি, দুটি দেশের
মধ্যেকার সমস্যা অন্য দেশগুলোকে প্রভাবিত করা উচিত না। প্রতি বছর দক্ষিণ এশিয়ার নেতারা
যদি সাক্ষাৎ করেন, একসঙ্গে দাঁড়িয়ে ছবি তোলেন তাহলে গোটা বিশ্বের কাছে বার্তা যায় যে
আমরা একসঙ্গে আছি। এটা দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোকে বিশ্বের কাছে ইতিবাচকভাবে উপস্থাপন
করবে এবং এগিয়ে যেতে সাহায্য করবে।’
অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস আজকের কনফারেন্সের
মাধ্যমে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোকে সার্ক সক্রিয় করতে আবারও আহ্বান জানান।
মন্তব্য করুন


অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা
অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বিশেষ সহকারী হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন সাবেক মন্ত্রিপরিষদ
সচিব আলী ইমাম মজুমদার।
সোমবার (১২ আগস্ট) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের
জারি করা প্রজ্ঞাপনে এ নিয়োগ দেওয়া হয়।
১৯৫০ সালে কুমিল্লার নানুয়া দিঘিরপাড়ে
জন্মগ্রহণ করেন আলী ইমাম মজুমদার। তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে গণিত বিভাগে ১৯৬৯
সালে স্নাতক ও ১৯৭৩ সালে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি সম্পন্ন করেন।
আলী ইমাম মজুমদার ১৯৭৭ সালে বাংলাদেশ
সিভিল সার্ভিসের প্রশাসন ক্যাডারের সদস্য হিসেবে চাকরিতে যোগদান করেন। চাকরিজীবনে তিনি
প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে সহকারী কমিশনার, উপজেলা নির্বাহী অফিসার, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটসহ
উপজেলা ও জেলায় বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করেন।
তিনি মন্ত্রিপরিষদ সচিব, প্রধানমন্ত্রী
কার্যালয়ের মুখ্য সচিব ও পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। বিমান
বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ও সোনালী ব্যাংক লিমিটেডের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্বও পালন
করেন।
২০১৬ সালে তিনি ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল
বাংলাদেশ (টিআইবি)-র ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য ও ২০২০ সাল থেকে মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব
পালন করছেন।
মন্তব্য করুন