

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যাকাণ্ডের মূল অভিযুক্ত ফয়সাল করিম মাসুদের সর্বশেষ অবস্থান সম্পর্কে পুলিশের কাছে এখনো সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য নেই বলে জানিয়েছেন অতিরিক্ত আইজিপি খন্দকার রফিকুল ইসলাম।
রোববার সন্ধ্যায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, “মূল অভিযুক্তের অবস্থান শনাক্তে আমাদের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলো একযোগে কাজ করছে। তবে সে দেশের বাইরে পালিয়ে গেছে—এমন কোনো নির্ভরযোগ্য তথ্যও এখনো পাওয়া যায়নি। অনেক সময় অপরাধীরা ইচ্ছাকৃতভাবে নিজেদের অবস্থান নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়িয়ে থাকে।”
হত্যাকাণ্ডটিকে রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড হিসেবে দেখা হচ্ছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে অতিরিক্ত আইজিপি বলেন, এখন পর্যন্ত কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তবে প্রকৃত তথ্য উদঘাটনে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে ডিএমপির গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) প্রধান শফিকুল ইসলাম বলেন, প্রাথমিকভাবে হত্যাকাণ্ডটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তিনি বলেন, “ঘটনার পেছনে ব্যক্তিগত কোনো কারণ আছে বলে প্রাথমিকভাবে মনে হয়নি। ঘটনার শুরু থেকেই আমরা মাঠে আছি। সব সংস্থা সমন্বিতভাবে কাজ করছে এবং সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে সম্ভাব্য সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।”
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, দ্রুতই হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন এবং অভিযুক্তদের আইনের আওতায় আনার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
মন্তব্য করুন


প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস মৎস্যসম্পদ সুরক্ষায় দেশবাসীকে
পরিবেশের প্রতি সদয় হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, পরিবেশের প্রতি সদয় না হলে বাংলাদেশের
সমৃদ্ধ মৎস্য সম্পদ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হবে না। প্রকৃতির প্রতি নির্দয় আচরণ অব্যাহত
থাকলে একদিন মাছও আমাদের কপাল থেকে হারিয়ে যেতে পারে।
আজ সোমবার (১৮ আগস্ট) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে
চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ ২০২৫-এর উদ্বোধন উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে
একথা বলেন প্রধান উপদেষ্টা।
এবারের মৎস্য সপ্তাহের মূল প্রতিপাদ্য হচ্ছে - " অভয়াশ্রম গড়ে তুলি, দেশি মাছে দেশ ভরি"। মৎস্য সপ্তাহ চলবে এক সপ্তাহব্যাপী। প্রদর্শনী, কর্মশালা ও আলোচনা সভার মাধ্যমে চাষাবাদে আধুনিক প্রযুক্তি, মাছের রক্ষণাবেক্ষণ এবং বাজারজাতকরণ সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করা হবে।
অনুষ্ঠানে উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যবর্গ,
সরকারের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাগণ, মৎস্যচাষী, উদ্যোক্তা ও গবেষকগণ উপস্থিত ছিলেন।
উদ্বোধনী ভাষণে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. ইউনূস বলেন, “মাছ আমাদের জন্য প্রকৃতির
উপহার। এটি কোনো কারখানায় উৎপাদিত নয়, বরং আল্লাহর দান। অথচ আমরা এত নির্দয় হয়ে পড়েছি
যে, একদিন মাছও হয়তো আমাদের কপাল থেকে হারিয়ে যাবে। প্রকৃতিকে আঘাত করলে আগামী প্রজন্মও
খাদ্য নিরাপত্তা ও জীবিকার দিক থেকে বঞ্চিত হবে। আমরা নদী শাসনের কথা বলি, কিন্তু নদী
পালনের কথা বলি না। আমরা তাকে শাসন করতে চাই এবং শাসনের নামে তার প্রতি যত নির্দয় হওয়া
যায়, তা করছি। বর্জ্য তো নদীতে দিচ্ছি। নদী-নালা ও জলাশয়ে বর্জ্য ফেলছি, বিষাক্ত রাসায়নিক
ঢুকিয়ে দিচ্ছি। পানিই যদি না থাকে, মাছ কোথা থেকে আসবে?
বাংলাদেশের ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্য ও জলসম্পদ
মৎস্য উৎপাদনের বিপুল সুযোগ তৈরি করেছে উল্লেখ করে অধ্যাপক ড. ইউনূস বলেন, বর্তমানে
দেশে প্রায় ১২ লাখ নারীসহ লাখ লাখ মানুষ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে এ খাতের সঙ্গে যুক্ত।
কিন্তু প্রকৃত মৎস্যজীবীরা অনেক সময় প্রতিকূলতার মুখোমুখি হন। তিনি বলেন, “আমরা শুধু
মাছের দাম বা মাছটা টাটকা কি-না সেটা দেখি, কিন্তু যারা প্রতিদিন শ্রম দিয়ে মাছ আমাদের
কাছে পৌঁছে দেন, তাদের কথা ভুলে যাই। আজকের দিনটা অন্তত তাদের কথা মনে করার দিন। বঙ্গোপসাগর
আমাদের জন্য অপেক্ষা করছে তার উপহার নিয়ে। এটি শুধু বেশি মাছ ধরার বিষয় নয়, বরং একটি
নতুন শিল্প গড়ে তোলার সুযোগ। এজন্য আমাদের গবেষণা, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও বিশ্ববিদ্যালয়
পর্যায়ে পাঠ্যক্রমে বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।
অবৈধ জাল ব্যবহার ও নির্বিচার মৎস্য
আহরণকে তিনি “প্রকৃতির প্রতি নির্মমতা”
আখ্যা দেন। অধ্যাপক ড. ইউনূস এর বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন,
এটি ঠেকানো শুধু সরকারের কাজ নয়, বরং নাগরিক দায়িত্বও বটে। আগামী প্রজন্ম যেন এই সম্পদ
থেকে বঞ্চিত না হয়, সেজন্য আমাদের সবাইকে দায়িত্ব নিতে হবে, তিনি যোগ করেন।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, আমাদের প্রতিদিন
সকালে প্রতিজ্ঞা করতে হবে—আমি
আজ প্রকৃতির প্রতি সদয় হব। প্রকৃতির প্রতি সদয় না হলে আমাদের ভবিষ্যৎ টেকসই হবে না।
অনুষ্ঠানে মৎস্য খাতে বিশেষ অবদানের
জন্য নয়টি ক্ষেত্রে ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে জাতীয় মৎস্য পদক ২০২৫ প্রদান করা হয়।
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা
আখতার এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ে রুটিন দায়িত্বে নিয়োজিত সচিব মো. তোফাজ্জেল
হোসেন অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন।
মন্তব্য করুন


জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) ‘বি’ ইউনিট ভর্তি পরীক্ষায় মোবাইল ব্যবহার করে চ্যাটজিপিটি থেকে উত্তর নেওয়ার সময় এক পরীক্ষার্থীকে হাতেনাতে আটক করা হয়েছে।
সোমবার (২২ ডিসেম্বর) বেলা ১১টায় দ্বিতীয় শিফটের পরীক্ষা চলাকালীন বিশ্ববিদ্যালয়ের জহির রায়হান অডিটোরিয়ামের দুই নম্বর কক্ষে ওই শিক্ষার্থীকে আটক করা হয়। পরে তাকে প্রক্টর অফিসে হস্তান্তর করা হয়।
নকলের অভিযোগে আটক পরীক্ষার্থীর নাম সাদিয়া আমির মাহি। তিনি কক্সবাজার চকরিয়ার আমির হোসেন জুয়েলের মেয়ে।
হলের দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষক জানান, প্রথমে সন্দেহজনক আচরণের কারণে তাকে পিছনের সিট থেকে সামনের সিটে স্থানান্তর করা হয়। তবে সেখানে বসেও তিনি মোবাইলের মাধ্যমে চ্যাটজিপিটি ব্যবহার করে পরীক্ষা চালানোর চেষ্টা করেন। পরে শিক্ষকরা তাকে হাতেনাতে ধরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডির কাছে হস্তান্তর করেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক রাশেদুল আলম বলেন, “আমরা সংশ্লিষ্ট অনুষদের ইউনিট প্রধানকে জানিয়েছি যাতে এই পরীক্ষার্থীর পরীক্ষা বাতিল করা হয় এবং ভবিষ্যতে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে আর কোনো পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ না থাকে।”
উল্লেখ্য, রবিবার (২১ ডিসেম্বর) আরও এক পরীক্ষার্থীকে মোবাইলসহ নকলের সময় হাতেনাতে আটক করা হয়েছিল।
মন্তব্য করুন


আলোচিত নারী উদ্যোক্তা রোবাইয়াত ফাতিমা তনির বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন তার সাবেক স্বামী সদরুল ইসলাম সোয়েব। সোয়েব দাবি করেছেন, তাদের একমাত্র মেয়ে মানতাহা ইসলাম সানভীকে জোরপূর্বক আটকে রাখা হচ্ছে এবং বিদেশে পাঠানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।
এই অভিযোগের ভিত্তিতে সোয়েব ২৪ নভেম্বর কিশোরগঞ্জের ১ নং নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি এজাহার দাখিল করেন। আদালত অভিযোগটি গ্রহণ করেছে এবং আগামী ২২ ডিসেম্বর শুনানির দিন নির্ধারণ করা হয়েছে।
সোয়েব মঙ্গলবার (২৫ নভেম্বর) কিশোরগঞ্জ শহরের আখড়াবাজারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান। তিনি জানান, সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল ‘Sanvee's by Tony’ ফেসবুক পেজের অ্যাডমিন এবং উদ্যোক্তা রোবাইয়াত ফাতিমা তনি।
সোয়েবের মতে, তাদের বিয়ে হয়েছিল ২০১৩ সালের ২৮ জুন, এবং পরবর্তীতে এক মেয়ে জন্ম নেয়। দাম্পত্য কলহের কারণে ২০১৮ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি তারা আলাদা হন। আদালতের শর্ত অনুযায়ী শিশু মায়ের কাছে বড় হচ্ছিল, কিন্তু বাবার সঙ্গে নিয়মিত দেখা করার সুযোগ দেওয়া হতো না বলে সোয়েব অভিযোগ করেন।
তিনি আরও জানান, তনি তার মেয়েকে ঢাকায় আটকে রেখেছেন এবং দেখা করতে চাইলে বিভিন্নভাবে বাধা দেওয়া হয়। আলাদা হওয়ার পর তনি দ্বিতীয়বার বিয়ে করেন শাহাদাৎ হোসাইনের সঙ্গে এবং তার মৃত্যুর পর ইংল্যান্ডপ্রবাসী সিদ্দিককে বিয়ে করেন। সোয়েব দাবি করেন, বর্তমানে তনি মেয়েকে নিয়ে ইংল্যান্ড যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
সংবাদ সম্মেলনে সোয়েব বলেন, “আমার মেয়ে মানতাহাকে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে আটকে রাখা হয়েছে। তাকে বিদেশে পাঠানোর চেষ্টা চলছে। শিশুটিকে উদ্ধার করে আমার সঙ্গে দেখা করার সুযোগ নিশ্চিত করতে আইনের সাহায্য চাই।” তিনি আরও অভিযোগ করেন, তনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মেয়েকে ব্যবহার করে ব্যবসায়িকভাবে ভাইরাল হওয়ার চেষ্টা করছেন, যা শিশুর মানসিক চাপ সৃষ্টি করছে।
মন্তব্য করুন


মিয়ানমারের
সন্ত্রাসী সংগঠনের সদস্যদের ছোড়া গুলিতে আহত হয়েছে টেকনাফের তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী
হুজাইফা আফনান। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিবিড় পর্যবেক্ষণ
কেন্দ্রে রাখা হয়েছে। অপারেশন করেও তার মাথার ভেতরে থাকা গুলি বের করা সম্ভব হয়নি।
হুজাইফা গুলিবিদ্ধ
হওয়ার এক দিন পর সোমবার (১২ জানুয়ারি) সকালে একই এলাকায় মাইন বিস্ফোরণে হানিফ নামে
এক যুবকের পা বিছিন্ন হয়ে যায়।
ভুক্তভোগীদের
পরিবার ও স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, মিয়ানমারের সশস্ত্র সন্ত্রাসী সংগঠন আরাকান আর্মির
(এএ) গুলি ও মাইনে গুরুতর আহত হয়েছেন হুজাইফা ও হানিফ।
চট্টগ্রাম মেডিকেলের
আইসিইউর সামনে বিষন্ন মনে দাঁড়িয়েছিলেন গুলিবিদ্ধ শিশু হোজাইফা আফনানের চাচা শওকত আলী।
হুজাইফার শারীরিক
অবস্থা জানতে চাইলে শওকত জানান, তার (হুজাইফা আফনান) অবস্থা ভালো না। মাথায় এখনো গুলি
রয়ে গেছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, ‘মাথার ভেতরে স্পর্শকাতর জায়গায় আছে গুলিটি। এখনো বের
করার মতো পরিস্থিতি হয়নি। গত রোববার রাতে মাথায় অপারেশন হয়েছে। তার মাথার খুলি আলাদা
করে ফ্রিজে রাখা হয়েছে।’
গত সোমবার
(১২ জানুয়ারি) সন্ধ্যার দিকে তিনি এসব তথ্য জানান।
শওকত আলী স্থানীয়
একটি দাখিল মাদ্রাসার শিক্ষক। ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘রোববার সকালে আমাদের
বাড়িতে পিঠা বানানো হচ্ছিল। সাড়ে ৮টার দিকে নাস্তা করে হুজাইফাকে পানি আনতে বলি৷ পরে
আমি ৯টার দিকে মাদ্রাসায় চলে যাই। আমাকে ফোন করে জানানো হয়, হুজাইফা গুলিবিদ্ধ হয়েছে।
তিনি বলেন,
এরপর বাসায় গিয়ে তাকে নিয়ে কক্সবাজার হাসপাতালে যাই। সেখান থেকে চট্টগ্রাম মেডিকেলে
রেফার করা হয়। বিকেল ৪টার দিকে আইসিইউতে ভর্তি করানো হয়। এরপর তার অবস্থার উন্নতি হয়নি।
রাতে অপারেশন করা হয়। তার মাথার খুলি আলাদা করে ব্রেইনে জমাট বাঁধা রক্ত অপসারণ করা
হয়েছে এবং খুলিটি ফ্রিজে রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
দেশের অভ্যন্তরে
প্রবেশ করে সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা গুলি করেছে বলে দাবি করে শওকত বলেন, টেকনাফের হোয়াইক্যাং
তেচ্ছাব্রিজ এলাকায় সিমান্ত থেকে তিন কিলোমিটার দূরে। ওই জায়গায় গুলিবিদ্ধ হয় হুজাইফা।
সীমান্তের ওপার থেকে গুলি করা হলে লোকালয়ে আসার কথা না। মূলত দেশের অভ্যন্তরে হউসের
দ্বীপ এলাকা থেকে সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা গুলি করেছে। তারা ওই দ্বীপ ছেড়ে
যাওয়ার সময় স্থলমাইন পুঁতে দিয়ে যায়। স্থানীয় বাসিন্দাদের ধারণা, ওই মাইন বিস্ফোরণে
আজকে (সোমবার) সকালে আরেকজনের পা বিছিন্ন হয়।
চট্টগ্রাম মেডিকেল
কলেজ হাসপাতালের অ্যানেসথেসিয়া ও আইসিইউ বিভাগের প্রধান অধ্যাপক হারুন অর রশিদ বলেন,
ভোর ৪টা পর্যন্ত অস্ত্রোপচার করা হয়েছে। তবে গুলিটি বের করা সম্ভব হয়নি। সেটি মস্তিষ্কে,
বের করায় ঝুঁকি আছে। তবে মস্তিষ্কের চাপ কমানো হয়েছে।
সীমান্তের একাধিক
সূত্র জানায়, রোহিঙ্গা বিদ্রোহীগোষ্ঠীর হামলা ঠেকাতে নাফ নদীর মধ্যভাগে জেগে ওঠা কয়েকটি
দ্বীপের চারপাশ এবং সীমান্তের নো ম্যান্স ল্যান্ডে নিষিদ্ধ স্থলমাইন পুঁতে রেখেছে মিয়ানমারের
সশস্ত্র গোষ্ঠী আরাকান আর্মি (এএ)। এর আগেও স্থলমাইন বিস্ফোরণে বাংলাদেশি কয়েকজন জেলে
আহত হয়েছেন। দ্বীপগুলোতে মূলত মাছ চাষ হয়, স্থানীয় বাসিন্দারা সেখানে মাছ চাষ করেন,
মানুষের কোনো বসতি নেই।
জানতে চাইলে
হোয়াইক্যাং ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান শাহ জালাল বলেন, মিয়ানমারের ভেতরে
আরকান আর্মির সঙ্গে প্রতিপক্ষের সংঘর্ষ ও গোলাগুলির ঘটনা ঘটছে। সেখান থেকে একটি পক্ষে
নাফ নদী পার হয়ে দেশের অভ্যন্তরে চলে আসায় আরকান আর্মিও হউসের দ্বীপে চলে আসে। সেখান
থেকেও গোলাগুলি হয়। পাশাপাশি জায়গায় আজকে মাইন বিস্ফোরণে হানিফ নামের একজনের পা বিছিন্ন
হয়ে গেছে। তিনিও একই এলাকার বাসিন্দা।
মন্তব্য করুন


সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ জয়ী বাংলাদেশ নারী ফুটবল দলকে সংবর্ধনা প্রদান করেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
আজ শনিবার (২ নভেম্বর) সকাল ১১ টায় ঢাকায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় তিনি এ সংবর্ধনা প্রদান করেন।
এ সময় নারী ফুটবল দলের সদস্যরা তাঁদের স্বপ্ন ও খেলোয়াড় জীবনের প্রতিদিনের সংগ্রামের কথা প্রধান উপদেষ্টার সামনে তুলে ধরেন।
প্রধান উপদেষ্টা বিজয়ী খেলোয়াড়দের বিভিন্ন দাবি ও কথাগুলো মনোযোগ দিয়ে শোনেন এবং অগ্রাধিকারভিত্তিতে সমাধানের প্রতিশ্রুতি দেন।
গত ৩০ অক্টোবর কাঠমান্ডুতে সপ্তম সাফ নারী চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে নেপালকে ২-১ গোলে পরাজিত করে শিরোপ জিতে নেয় বাংলাদেশ দল।
নারী ফুটবলারদের উদ্দেশে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, এই সাফল্যের জন্য আমি পুরো জাতির পক্ষ থেকে তোমাদেরকে অভিনন্দন জানাই। জাতি তোমাদের প্রতি কৃতজ্ঞ। আমাদের দেশের মানুষ সাফল্য চায়, আর তোমরা সেই সাফল্য এনে দিয়েছ।
বাংলাদেশ নারী ফুটবল দলের অধিনায়ক সাবিনা খাতুন সংবর্ধনায় আমন্ত্রণ জানানোর জন্য প্রধান উপদেষ্টাকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, আমরা সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যোগ দিতে পেরে সম্মানিত বোধ করছি।
তিনি বলেন, অনেক বাধা পেরিয়ে আমরা এই পর্যায়ে পৌঁছেছি। শুধু নারী ফুটবল দলই নয়, বাংলাদেশের নারীদের সামগ্রিকভাবে নানা সংগ্রামের মধ্য দিয়ে যেতে হয়।
২০০৯ সালে ফুটবল ক্যারিয়ার শুরু করা সাবিনা তাঁর আগের প্রজন্মের অবদানের কথা স্মরণ করে বলেন, আগের প্রজন্ম
ফুটবলকে তাঁদের ভালবাসা হিসেবে বেছে নেওয়ার সাহস দেখিয়েছিলেন।
সাবিনা আরো বলেন, আমাদের অনেকে সাধারণ পরিবার থেকে এসেছে এবং তার পরিবারকে আর্থিকভাবে
সাহায্য করতে হয়।
তিনি বলেন, আমাদের বেতন খুব বেশি নয়। এই বেতন দিয়ে পরিবারকে তেমন কোন সাহায্য করতে পারি না।
এই তারকা স্ট্রাইকার তাঁর কয়েকজন সহযোদ্ধার সংগ্রামের গল্প, যেমন মারিয়া মান্দারের কথা বলতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।
ময়মনসিংহের বিখ্যাত কলসিন্দুর গ্রামের মারিয়া, যেখান থেকে সাফ বিজয়ী দলের ছয়জন খেলোয়াড় এসেছেন, ছোটবেলায় তাঁর বাবাকে হারান এবং মা তাকে বড় করেন।
উইঙ্গার কৃষ্ণা রানী সরকার ঢাকায় তাঁদের আবাসন সমস্যার কথা উল্লেখ করেন, আর মিডফিল্ডার মানিকা চাকমা খাগড়াছড়ি জেলার দূরবর্তী লক্ষ্মীছড়ি উপজেলার ফুটবলার হিসেবে উঠে আসার সংগ্রামের কথা তুলে ধরেন।
মিডফিল্ডার স্বপ্না রানী তাঁর নিজ জেলা দিনাজপুরের রানীশংকৈল উপজেলায় তার গ্রামের দূর্বল অবকাঠামোর কথা বলেন।
উইঙ্গার কৃষ্ণা প্রধান উপদেষ্টার কাছে অনুরোধ করেন যেন তাঁদের জন্য এশিয়ার বাইরে একটি প্রীতি ম্যাচের আয়োজন করা হয়, বিশেষ করে ইউরোপীয় চ্যাম্পিয়ন্স লিগ বিজয়ী বার্সেলোনার সঙ্গে।
প্রধান উপদেষ্টা প্রত্যেক খেলোয়াড়কে তাদের ব্যক্তিগত আশা-আকাঙ্ক্ষা, সংগ্রাম ও তাদের বিভিন্ন দাবি আলাদাভাবে কাগজে লিখে তাঁর কার্যালয়ে জমা দেওয়ার জন্য বলেন।
অধ্যাপক ইউনুস বলেন, ‘তোমরা যা কিছু চাও তা লিখতে দ্বিধা করো না আমরা তোমাদের দাবিগুলো পূরণ করার চেষ্টা করব। যদি কিছু এখনই করা সম্ভব হয়, আমরা তা করব’।
কোচ পিটার বাটলার এবং ম্যানেজার মাহমুদা আক্তারও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন, উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূইয়া, সুপ্রদীপ চাকমা, অধ্যাপক ডা. বিধান রঞ্জন রায় পোদ্দার এবং নূরজাহান বেগম।
মন্তব্য করুন


বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম বড় তারকা ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোকে এবার দেখা যেতে পারে হলিউডের জনপ্রিয় অ্যাকশন ফ্র্যাঞ্চাইজির শেষ পর্বে—এমন সম্ভাবনা ঘিরে শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা।আন্তর্জাতিক বিনোদনভিত্তিক গণমাধ্যম দ্য হলিউড রিপোর্টার-এর বরাতে জানা যায়, ‘ফাস্ট অ্যান্ড ফিউরিয়াস’ সিরিজে ডোমিনিক টোরেটো চরিত্রে পরিচিত অভিনেতা ভিন ডিজেল সম্প্রতি নিজের ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে রোনালদোর সঙ্গে একটি ছবি শেয়ার করেন। আর এই পোস্ট ঘিরেই নতুন করে জল্পনার সূত্রপাত।প্রথমে দেওয়া ক্যাপশনে ভিন ডিজেল উল্লেখ করেন, এক সময় রোনালদোর জন্য একটি চরিত্র লেখার পরিকল্পনা ছিল। ২০০৯ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘ফাস্ট অ্যান্ড ফিউরিয়াস’-এর সিক্যুয়েল ‘লস বানডোলেরস’-এ তার অভিনয়ের কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত তা বাস্তবায়ন হয়নি।তবে বিষয়টি নতুন মাত্রা পায়, যখন ভক্তরা লক্ষ্য করেন—ভিন ডিজেল পরবর্তীতে ওই পোস্টের ক্যাপশন পরিবর্তন করেছেন। সংশোধিত ক্যাপশনে অভিনেতা লেখেন, অনেকেই জানতে চেয়েছেন রোনালদো কি ‘ফাস্ট’ ইউনিভার্সের অংশ হতে চলেছেন? জবাবে তিনি শুধু বলেন, রোনালদো একজন বাস্তব মানুষ এবং তার জন্য একটি চরিত্র তৈরি করা হয়েছিল।এই সামান্য পরিবর্তনই ভক্তদের মধ্যে উত্তেজনা বাড়িয়ে দেয়। কমেন্ট সেকশনে শুরু হয় ব্যাপক আলোচনা। অনেকেই ধারণা করছেন, অবশেষে কি হলিউডের এই আইকনিক অ্যাকশন সিরিজে অভিষেক হতে যাচ্ছে ফুটবল সুপারস্টার রোনালদোর?বিশেষ করে ‘ফাস্ট অ্যান্ড ফিউরিয়াস ১১’ নিয়ে এই জল্পনা আরও জোরালো হয়েছে। কারণ শোনা যাচ্ছে, এই সিনেমাটিই হতে পারে দীর্ঘদিন ধরে চলা ফ্র্যাঞ্চাইজিটির শেষ অধ্যায়। যদিও এখন পর্যন্ত রোনালদোর অংশগ্রহণ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি। ফলে বিষয়টি আপাতত গুঞ্জনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ।ভক্তদের কেউ কেউ কল্পনা করছেন, রোনালদো কোন ধরনের চরিত্রে দেখা যেতে পারেন। বেশিরভাগ প্রতিক্রিয়াই ইতিবাচক, এবং তাকে বড় পর্দার এই জনপ্রিয় অ্যাকশন সিরিজে দেখার আগ্রহ স্পষ্ট।এদিকে জানা গেছে, ‘ফাস্ট অ্যান্ড ফিউরিয়াস ১১’-এ ভিন ডিজেলের পাশাপাশি ফিরতে পারেন ডোয়াইন জনসন (হবস), জেসন মোমোয়া (ডান্তে রেয়েস) এবং জেসন স্ট্যাথাম (ডেকার্ড শ)। এমনকি প্রয়াত অভিনেতা পল ওয়াকারকে ব্রায়ান ও’কনার চরিত্রে কোনোভাবে গল্পে যুক্ত করার পরিকল্পনাও রয়েছে—যদিও সেটি কীভাবে বাস্তবায়ন হবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
মন্তব্য করুন


মাদারীপুরে
প্রেমিকাকে ভিডিও কলে রেখে গলায় দড়ি পেঁচিয়ে অনিক আশ্চর্য (৩৫) নামে এক চিকিৎসক
আত্মহত্যা করেছেন।
সোমবার
(৯ ডিসেম্বর) রাত সাড়ে ১২টার দিকে মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলার টেকেরহাট বন্দরের শিমুলতলা
এলাকার নূর জাহান কমিউনিটি সেন্টারের তৃতীয়তলার ভাড়া বাসায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত
অনিক পাশের এক নম্বর ব্রিজ এলাকার সিটি হসপিটাল অ্যান্ড ডিজিটাল ডায়াগনস্টিক সেন্টারের
জরুরি বিভাগের (ডিএমএফ) চিকিৎসক ছিলেন। তিনি রাজৈর উপজেলার বাজিতপুর গ্রামের পল্লী
চিকিৎসক অঞ্জন আশ্চর্যের ছেলে।
জানা
গেছে, ৮ বছর ধরে ওই হাসাপাতালে কর্মরত ছিলেন অনিক আশ্চর্য। ২৪ ঘণ্টা চিকিৎসা দেয়ার
সুবিধার্থে টেকেরহাট নূর জাহান কমিউনিটি সেন্টারের ৩য় তলার ফ্লাটবাসায় ভাড়া থাকতেন।
প্রতিদিনের সোমবারও মতো রোগীদের সেবা প্রদান করে অনিক বাসায় আসেন। এ সময় প্রেমিকার
সাথে ঝগড়া করে তাকে মেসেঞ্জারে ভিডিও কলে রেখে ফ্যানের সঙ্গে গলায় রশি দিয়ে আত্মহত্যা
করেন বলে অভিযোগ অনিকের পরিবারের। পাশের রুমে থাকা নৃপন নামে অন্য এক ব্যক্তি আত্মহত্যার
বিষয়টি বুঝতে পেরে থানা পুলিশকে খবর দেন। পরে রাজৈর থানা পুলিশ রুমের দরজা ভেঙে মরদেহটি
উদ্ধার করেন।
মাদারীপুরের
রাজৈর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ আমিনুল ইসলাম জানান, নিহতের মরদেহ ময়না
তদন্তের জন্য মাদারীপুর ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ বিষয়ে পরিবার
থেকে লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
মন্তব্য করুন


তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) সাম্প্রতিক অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির পেছনে সিন্ডিকেট ও বাজার কারসাজি দায়ী বলে মন্তব্য করেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান।
মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) সচিবালয়ে সরকারি ক্রয় ও অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির সভা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) এলপিজির দাম সামান্য সমন্বয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। তবে সেই সিদ্ধান্ত কার্যকর হওয়ার আগেই কিছু অসাধু ব্যবসায়ী বিষয়টি কাজে লাগিয়ে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে বাজারে দাম বাড়িয়ে দেন।
উপদেষ্টা জানান, এলপিজির দামে এ ধরনের অস্বাভাবিক বৃদ্ধির পেছনে কোনো বাস্তব কারণ নেই। এটি সম্পূর্ণভাবে পরিকল্পিত কারসাজির ফল। ভোক্তাদের স্বার্থ রক্ষায় সরকার এ বিষয়ে কঠোর অবস্থান নিয়েছে।
তিনি আরও বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে মন্ত্রিপরিষদ সচিবকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে—দেশের প্রতিটি জেলায় এলপিজির বাজার তদারকিতে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার জন্য। জেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী যৌথভাবে এসব অভিযান পরিচালনা করবে।
বাসাবাড়িতে তিতাস গ্যাস সরবরাহ নিয়ে প্রশ্নের জবাবে ফাওজুল কবির খান বলেন, বর্তমানে গ্যাস সরবরাহে কোনো ঘাটতি নেই। শীত মৌসুমে চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় সাময়িক চাপ তৈরি হয়েছে।
এদিকে, গত কয়েক দিন ধরে এলপিজির বাজারে চরম অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। এতে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন সাধারণ ভোক্তারা।
এরই মধ্যে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) চলতি জানুয়ারি মাসের জন্য ভোক্তা পর্যায়ে ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ৫৩ টাকা বাড়িয়ে এক হাজার ৩০৬ টাকা নির্ধারণ করেছে। নতুন এই দাম গত ৪ জানুয়ারি (রবিবার) সন্ধ্যা থেকেই কার্যকর হয়েছে।
মন্তব্য করুন


ইনকিলাব
মঞ্চের মুখপাত্র ওসমান হাদির ওপর হামলার ঘটনায় সীমান্ত পারাপার চক্রের দুজনকে গ্রেপ্তার
করা হয়েছে। তাদের ঢাকায় আনা হচ্ছে। হাদিকে গুলির ঘটনায় এ নিয়ে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা
হলো।
আজ
রোববার (১৪ ডিসেম্বর) বিকেলে রাজধানীর মিন্টো রোডে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে অতিরিক্ত
কমিশনার এন এস নজরুল ইসলাম সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান। ওসমান হাদির ওপর হামলার ঘটনায়
সন্দেহভাজনদের পাসপোর্ট ব্লক করে দেওয়া হয়েছে বলেও জানিয়েছেন তিনি। তিনি বলেন, রাজধানীর
পল্টনের বিজয়নগর এলাকায় হেলমেট পরিহিত অবস্থায় সন্দেহভাজনরা খুব কাছ থেকে ওসমান হাদিকে
লক্ষ্য করে গুলি চালায়। ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটন এবং অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে রাজধানীসহ
দেশের বিভিন্ন স্থানে একযোগে অভিযান চলছে। অভিযুক্তরা যাতে সীমান্ত অতিক্রম করতে না
পারে, সে জন্য তাদের পাসপোর্ট ব্লক করা হয়েছে। সীমান্ত এলাকাগুলোতে অতিরিক্ত সতর্কতা
জারি করা হয়েছে।
অতিরিক্ত
কমিশনার বলেন, এ ঘটনায় জড়িতদের ধরতে সরকারের পক্ষ থেকে ৫০ লাখ টাকা পুরস্কার ঘোষণা
করা হয়েছে। এরই মধ্যে শেরপুরের নালিতাবাড়ী এলাকায় অভিযান চালিয়ে সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে
লোক পারাপারের সঙ্গে জড়িত সন্দেহে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঘটনার সময় ব্যবহৃত মোটরসাইকেল
উদ্ধার করা হয়েছে এবং মোটরসাইকেলের মালিককে র্যাব আটক করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর
করেছে। তিনি আরও জানান, অভিযুক্তদের কেউ বিদেশে পালিয়ে গেছে কি না—এমন
কোনো তথ্য এখনো ইমিগ্রেশন ডাটাবেজে পাওয়া যায়নি। ফয়সাল করিম মাসুদের সর্বশেষ বিদেশ
যাত্রার তথ্য অনুযায়ী, তিনি জুলাই মাসে থাইল্যান্ড থেকে দেশে প্রবেশ করেন। এরপর তার
দেশত্যাগের কোনো রেকর্ড নেই।
হাদির
ওপর হামলার পেছনের কারণ সম্পর্কে এ কর্মকর্তারা বলেন, ইনকিলাব মঞ্চের একজন শীর্ষ সংগঠক
হিসেবে হাদি ছিলেন একটি পক্ষের প্রতিপক্ষ।
রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের পক্ষ থেকেই তাকে টার্গেট করে পরিকল্পিত হত্যাচেষ্টা চালানো
হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। ঘটনার তিন দিনেও মামলা না হওয়ার বিষয় জানতে
চাইলে নজরুল ইসলাম বলেন, এ ঘটনায় এখনো মামলা না হলেও আমরা জিডি করেছি। এখন বাদীপক্ষের
সঙ্গে যোগাযোগ করেছি। যদিও তারা রোগী নিয়ে ব্যস্ত, আমরা চেষ্টা করছি মামলার ড্রাফট
নিয়ে বাদীর স্বাক্ষর আনার। এটা সম্ভব না হলে প্রয়োজনে পুলিশ বাদী হয়ে মামলা দায়ের করবে।
নির্বাচনকালীন
সহিংসতা ও নাশকতা ঠেকাতে ‘অপারেশন ডেভিল হান্ট–টু’ শুরু করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন নজরুল
ইসলাম। তিনি বলেন, এই অভিযান শুধু ঢাকায় নয়,
সারাদেশে জোরদার করা হচ্ছে। যারা দুষ্কৃতকারী, অস্ত্রধারী কিংবা নির্বাচনকে ঘিরে সহিংসতা
সৃষ্টির চেষ্টা করতে পারে—তাদের আইনের আওতায় আনাই এই অভিযানের
মূল লক্ষ্য। জুলাই যোদ্ধাদের নিরাপত্তা প্রসঙ্গে অতিরিক্ত কমিশনার নজরুল বলেন, হাদি
একজন নন, দেশে হাজারো, লাখো জুলাইযোদ্ধা রয়েছেন। প্রত্যেকের জন্য আলাদা ব্যক্তিগত নিরাপত্তা
নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। তবে রাষ্ট্র ও রাজধানীর সার্বিক নিরাপত্তা জোরদার করার পাশাপাশি
যেসব সম্মুখসারির জুলাইযোদ্ধা উচ্চ ঝুঁকিতে
রয়েছেন, তাদের বিষয়ে আলাদা করে থ্রেট অ্যানালাইসিস করা হচ্ছে। প্রয়োজন অনুযায়ী হাই-প্রোফাইল
ও ঝুঁকিপূর্ণ জুলাই যোদ্ধার জন্য বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ
সময় নাগরিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে পুলিশ জানায়, কোনো এলাকায় সন্ত্রাসী, অস্ত্রধারী
বা অপরাধীর তথ্য পেলে তা দ্রুত পুলিশ বা ৯৯৯-এ জানানোর জন্য। তথ্যদাতার পরিচয় সম্পূর্ণ
গোপন রাখা হবে।
মন্তব্য করুন


দেশের
২৬তম প্রধান বিচারপতি হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন আপিল বিভাগের বিচারপতি জুবায়ের রহমান
চৌধুরী। দেশের বিচারাঙ্গণের শীর্ষ পদে তিনি বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদের স্থলাভিষিক্ত
হবেন।
আজ
বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। এর আগে মঙ্গলবার (২৩ ডিসেম্বর)
এই নিয়োগ চূড়ান্ত করেন রাষ্ট্রপতি।
চব্বিশের
অভ্যুত্থানের ধাক্কায় রাষ্ট্রের সব অঙ্গে পরিবর্তনের মধ্যে প্রধান বিচারপতির দায়িত্ব
নিয়েছিলেন বিচারপতি রেফাত আহমেদ। ৬৭ বছর পূর্ণ হওয়ায় আগামী ২৭ ডিসেম্বর তিনি অবসরে
যাচ্ছেন। বিচারক জীবনের ইতি টেনে বর্তমানে তিনি ওমরাহর জন্য অবস্থান করছেন সৌদি আরবে।
তার অনুপস্থিতিতে ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন বিচারপতি
জুবায়ের। তাকেই নতুন প্রধান বিচারপতি করে বুধবার গেজেট জারি করেছে সরকার। বঙ্গভবনে
রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের কাছ থেকে তিনি শপথ নেবেন। সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে
জ্যেষ্ঠতার ক্রমে বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী ছিলেন তিন নম্বরে। বিচারপতি মো. আশফাকুল
ইসলামকে ডিঙিয়ে তাকে সর্বোচ্চ পদ দেওয়া হল।
১৯৬১
সালের ১৮ মে জন্মগ্রহণ করা জুবায়ের রহমান চৌধুরীর বাবা প্রয়াত এ এফ এম আবদুর রহমান
চৌধুরীও সুপ্রিম কোর্টের বিচারক ছিলেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এলএলবি ও এলএলএম করার
পর যুক্তরাজ্যে আন্তর্জাতিক আইনের ওপর আরেকটি মাস্টার্স করেন জুবায়ের রহমান চৌধুরী।
১৯৮৫ সালে তিনি জজ কোর্টে এবং ১৯৮৭ সালে সুপ্রিম কোর্টের হাই কোর্ট বিভাগে আইনজীবী
হিসেবে তালিকাভুক্ত হন।
২০০৩
সালের ২৭ অগাস্ট তিনি অতিরিক্ত বিচারক হিসেবে হাই কোর্টে নিয়োগ পান। দুই বছর পর হাই
কোর্ট বিভাগে তার নিয়োগ স্থায়ী হয়। কিন্তু আওয়ামী লীগের আমলে তাকে আর আপিল বিভাগে নেওয়া
হয়নি। ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ২০২৪ সালের ৫ অগাস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটে। আন্দোলনকারীদের
দাবির মুখে ১০ অগাস্ট পদত্যাগ করেন তখনকার প্রধান বিচারপতি ওবায়দুল হাসান।
ওইদিনই
হাই কোর্ট বিভাগের জ্যেষ্ঠ বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদকে পরবর্তী প্রধান বিচারপতি হিসেবে
নিয়োগ দেওয়া হয়। দুই দিন পর বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীসহ চারজনকে হাই কোর্ট বিভাগ
থেকে আপিল বিভাগে নিয়োগ দেওয়া হয়। ১৩ অগাস্ট তারা শপথ নেন। বয়সের নিয়ম অনুযায়ী, বিচারপতি
জুবায়ের রহমান চৌধুরী ২০২৮ সালের ১৮ মে পর্যন্ত দায়িত্ব পালনের সুযোগ পাবেন।
তার
সঙ্গে আপিল বিভাগে এখন বিচারক হিসেবে আছেন বিচারপতি মো. আশফাকুল ইসলাম, বিচারপতি মো.
রেজাউল হক, বিচারপতি এস এম এমদাদুল হক, বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামান এবং বিচারপতি
ফারাহ মাহবুব।
মন্তব্য করুন