

শ্রদ্ধা, ভালোবাসা
ও শোকের মধ্য দিয়ে আজ
বুধবার (১৬ জুলাই) শহীদ আবু সাঈদকে স্মরণ করেছে বেগম রোকেয়া
বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা। জুলাই আন্দোলনের প্রথম শহীদ আবু
সাঈদের প্রথম শাহাদাতবার্ষিকীতে বেরোবিতে শহীদ আবু সাঈদ তোরণ ও মিউজিয়াম এবং শহীদ
আবু সাঈদ স্মৃতিস্তম্ভ’র
ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়েছে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে
শহীদ আবু সাঈদের বাবা মকবুল হোসেন বেলা ১১টায় শহীদ আবু সাঈদ তোরণ, মিউজিয়াম স্মৃতিস্তম্ভের ভিত্তি স্থাপন করেন।
উদ্বোধন শেষে দোয়া মোনাজাত করা হয়।
পরে শহীদ আবু সাঈদের স্মৃতিচারণে আলোচনা সভা
অনুষ্ঠিত হয়। সভায় বক্তব্য রাখেন,
অন্তর্বর্তী
সরকারের আইন বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা প্রফেসর ড. আসিফ নজরুল এবং
পরিবেশ, বন
ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান, বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের
(ইউজিসি) চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. এসএমএ ফায়েজ, শিক্ষা
মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব সিদ্দিক জোবায়ের এবং বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের
সদস্য প্রফেসর ড. তানজীম উদ্দীন খান।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বেগম রোকেয়া
বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর ড. শওকাত আলী। বিভাগীয় কমিশনার শহিদুল ইসলাম ও
ডিআইজি আমিনুল ইসলামসহ বিভিন্ন দলের রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন ।
সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে অন্তর্বর্তী
সরকারের আইন বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা প্রফেসর ড. আসিফ নজরুল বলেন, দ্রুতই আবু সাঈদ হত্যার বিচার হবে। তাঁর বাবা
এ বিচার দেখে যেতে পারবেন। এ সরকারের আমলেই জুলাই হত্যার বিচার হবে।
পরিবেশ, বন
ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, রংপুর অঞ্চলের মানুষ আর বৈষম্যের শিকার থাকবে
না। ১২ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন এ বছরেই হবে। এছাড়া
কুড়িগ্রামে ইপিজেড হবে। রংপুর অঞ্চলে হবে চীনের অত্যাধুনিক হাসপাতাল।
আজকের এই দিনে পুলিশের গুলিতে নিহত হওয়া আবু
সাঈদকে স্মরণ করে কাঁদছেন তার প্রিয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কর্মচারীরা। তারা বলেছেন, আবু সাঈদ যেন এক আলোকবর্তিকা। বাংলাদেশের
মানুষের মুক্তির দিশারী।
শহীদ আবু সাঈদের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আজ শহীদ আবু সাঈদের কবর জিয়ারত করেছেন সর্বস্তরের মানুষ।
মন্তব্য করুন


আগামী
জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের প্রস্তুতি সম্পর্কে প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ
ইউনূসকে অবহিত করেছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন।
আজ
রোববার ( ০৭ ডিসেম্বর ) সন্ধ্যায় প্রধান নির্বাচন কমিশনার নাসির উদ্দিনের নেতৃত্বে
নির্বাচন কমিশনের (ইসি) কমিশনারগণ রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে
সাক্ষাৎ করে নির্বাচন আয়োজনের অগ্রগতি সম্পর্কে জানান।
বৈঠকে
নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমান মাছউদ, তাহমিদা আহমদ, মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার, ব্রিগেডিয়ার
জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ এবং নির্বাচন কমিশন সচিব আখতার আহমেদ উপস্থিত
ছিলেন।
জাতীয়
নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমান এবং প্রধান উপদেষ্টার মুখ্য সচিব এম সিরাজ উদ্দিন
মিয়াও বৈঠকে যোগ দেন। বৈঠকে সিইসি নাসির উদ্দিন জানান, নির্বাচন আয়োজনের ক্ষেত্রে সব
ধরনের প্রস্তুতি সঠিক ও সুন্দরভাবে এগোচ্ছে এবং ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে জাতীয় নির্বাচন
ও একই দিনে গণভোট আয়োজনের জন্য কমিশন সম্পূর্ণ প্রস্তুত। প্রস্তুতিকালে ইসিকে পূর্ণ
সহযোগিতা প্রদানের জন্য প্রধান উপদেষ্টাকে ধন্যবাদ জানান সিইসি ও অন্যান্য নির্বাচন
কমিশনাররা।
নির্বাচনের
প্রস্তুতিকালে সর্বাত্মক সহযোগিতা করায় তিনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সেনাবাহিনীর সদস্যদেরও
প্রধান উপদেষ্টার মাধ্যমে ধন্যবাদ জানান।
তিনি
বলেন, ইতোমধ্যে নাগরিকরা নির্বাচনী কর্মকাণ্ডে নিজেদের সম্পৃক্ত করেছেন, যা দেশে নির্বাচনী
আমেজ সৃষ্টি করেছে।
এ
সময় নির্বাচন কমিশনের প্রস্তুতিতে সন্তোষ প্রকাশ করে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘সুষ্ঠু
ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের স্বার্থে নির্বাচন কমিশনকে সব ধরনের সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে
সরকার।’
তিনি
বলেন, ‘জাতির জন্য প্রতীক্ষিত এই নির্বাচনে আপনারা (ইসি) চালকের আসনে আছেন। আমাদেরকে
কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাতেই হবে।’
প্রধান
উপদেষ্টা বলেন, জাতিকে একটি সুন্দর নির্বাচন দিতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে জাতিকে আমরা ইতিহাসের সেরা নির্বাচন উপহার দেওয়ার প্রত্যয়ে
এগিয়ে চলছি।
মন্তব্য করুন


বগুড়া-৬
(সদর) আসনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের
মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে।
আজ
শনিবার সকাল ১০টা ২০ মিনিটে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটার্নিং
কর্মকর্তা মো. তৌফিকুর রহমান মনোনয়ন পত্র বৈধ ঘোষণা করেন৷
জেলা
রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. তৌফিকুর রহমান বলেন, তারেক রহমানের মনোনয়নপত্র যাচাই বাছাই
করে কোনো ধরনের ত্রুটি পাওয়া যায়নি৷তাই তার মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে।
এই
আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আবিদুর রহমান সোহেলের মনোনয়নপত্রও ঘোষণা করা হয়।
মন্তব্য করুন


অন্তর্বর্তী সরকারের শিল্প, গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান জানিয়েছেন, বিদেশ থেকে চিনি আমদানি আপাতত বন্ধ রাখা হয়েছে। দেশের চিনিকলে উৎপাদিত চিনি আগে টিসিবির মাধ্যমে বিক্রি করা হবে।
শনিবার (৬ ডিসেম্বর) সকালে নাটোরের উত্তরা গণভবনের উন্নয়নমূলক সংস্কার কাজের অগ্রগতি পরিদর্শনে এসে তিনি এসব কথা বলেন।
উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান বলেন, “আমাদের দেশের চিনিকলগুলোতে যে চিনি জমা রয়েছে, তা আগে বিক্রি করা হচ্ছে। তাই আপাতত বিদেশ থেকে চিনি আমদানি বন্ধ। দেশীয় চিনিকলগুলো ব্রিটিশ আমলের, উৎপাদন সক্ষমতাও কম; তবে চিনির পাশাপাশি বিকল্প পণ্যের উৎপাদন নিয়েও ভাবছে সরকার।”
তিনি আরও বলেন, “চিনিতে দ্রুত লাভ আসে না, আর ভর্তুকি দিয়ে দীর্ঘদিন পরিচালনাও সম্ভব নয়। দেশি উদ্যোক্তাদের সম্পৃক্ত করতেই আমরা আলোচনা করছি। আমাদের সময়ে কিংবা আগামী সরকারের সময়ে এ বিষয়ে ভালো খবর আসবে।”
উত্তরা গণভবন নিয়ে তিনি বলেন, “দীর্ঘদিন অবহেলিত থাকার পর গণভবনকে প্রস্তুত করা হচ্ছে। এটি বিভিন্ন সরকারের সভার জন্য গুরুত্বপূর্ণ স্থান।”
পরিদর্শনে শিল্প মন্ত্রণালয়ের উপসচিব আকন্দ মোহাম্মদ ফয়সাল উদ্দীন, নাটোরের জেলা প্রশাসক আসমা শাহীন, পুলিশ সুপার মুহাম্মদ আব্দুল ওয়াহাবসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
মন্তব্য করুন


যেখানেই অন্যায়, সেখানেই প্রতিবাদ করুন।
আগামী দিনে কেউ যদি ক্ষমতার অপব্যবহার করে, অন্যায়, অনিয়ম, দুর্নীতি করে ও সুদ, ঘুষ
ও মাদকের সাথে জড়িত থাকে তাহলে তার গঠনমূলক প্রতিবাদ করুণ। সরাসরি না হলে সামাজিক যোগাযোগের
মাধ্যমে করুন। এটি না করলে আবারও দেশে একই সংস্কৃতি তৈরি হবে বলে জানান সমন্বয়ক সারজিস
আলম।
রবিবার (২০ অক্টোবর) সকালে পঞ্চগড় সরকারি
বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময়ের সময় এসব কথা বলেন তিনি।
সমন্বয়ক সারজিস আলম বলেন, ‘প্রতিবাদ
করতে গিয়ে যদি আপনারা কোনো সমস্যার সম্মুখীন হন পুরো বাংলাদেশে আপনাদের জন্য ফাইট করতে
যা যা করা দরকার আমরা তা করব। তবে গুজবে কান দেওয়া যাবে না। বিগত ১৬ বছরে দেশের পরিস্থিতি
নিয়ে, রাজনীতি ও প্রশাসন নিয়ে কথা বলতে অনেকবার ভাবতে হত। আন্দোলনে অংশ নেওয়া কারো
হাত নেই কারো পা নেই। কেউ আর কখনো পৃথিবীর আলো দেখবে না। কেউ কোনোদিন আর হাঁটতে পারবে
না। শহীদের সংখ্যা দুই হাজারেরও বেশি। আহতের সংখ্যা প্রায় ৪০ থেকে ৫০ হাজার। জনগণের
সরকার ক্ষমতা ধরে রাখার জন্য জনগণের ওপর অত্যাচার করতে পারে না। কিন্তু জনগণের চেয়ে
তাদের কাছে ক্ষমতার মূল্যটা অনেক বেশি ছিল।
এ ছাড়া ভালোভাবে পড়াশুনা করা ও প্রাপ্ত বয়স্ক হওয়ার আগে স্মার্ট ফোন ব্যবহারে সতর্ক
হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
এ সময় বক্তব্য প্রদান করেন, বিদ্যালয়ের
ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক খায়রুল আনাম মো. আফতাবুর রহমান হেলালী, সিনিয়র সহকারী শিক্ষক
শহীদুল ইসলাম, বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন পঞ্চগড়ের সমন্বয়ক ফজলে রাব্বী। পরে পঞ্চগড়
বিপি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সাথে মতবিনিয়ম করেন তিনি।
মন্তব্য করুন


বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে চলমান পারস্পরিক প্রত্যাবাসন ব্যবস্থার আওতায় ভারতে দীর্ঘ সময় আটকে থাকা ১২৮ জন বাংলাদেশি মৎস্যজীবী অবশেষে নিজ দেশে ফিরেছেন। বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) বঙ্গোপসাগরের আন্তর্জাতিক জলসীমায় আয়োজিত এক আনুষ্ঠানিক হস্তান্তর প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড তাদের গ্রহণ করে।
এই প্রত্যাবাসনের অংশ হিসেবে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশের মালিকানাধীন পাঁচটি মাছ ধরার ট্রলারও হস্তান্তর করে। মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি ও কূটনৈতিক সমঝোতার ভিত্তিতে সম্পন্ন এই উদ্যোগকে দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের একটি ইতিবাচক উদাহরণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
একই দিনে সৌহার্দ্যপূর্ণ ও আইনি প্রক্রিয়ার আওতায় বাংলাদেশে বিভিন্ন সময়ে অনুপ্রবেশের অভিযোগে আটক থাকা ২৩ জন ভারতীয় মৎস্যজীবীকেও নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয়। এ সময় ভারতের মালিকানাধীন দুইটি ফিশিং ট্রলার ভারতীয় কোস্ট গার্ডের কাছে হস্তান্তর করে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড।
বঙ্গোপসাগরের মধ্যবর্তী সীমান্ত এলাকায় দুই দেশের কোস্ট গার্ড কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে অত্যন্ত সুশৃঙ্খলভাবে এই বিনিময় কার্যক্রম সম্পন্ন হয়। দীর্ঘদিন পর নিজ পরিবারের কাছে ফেরার সুযোগ পাওয়ায় উভয় দেশের মৎস্যজীবীদের মধ্যে স্বস্তি ও আনন্দ লক্ষ্য করা গেছে।
এই বড় পরিসরের প্রত্যাবাসন কার্যক্রম বাস্তবায়নে বাংলাদেশের একাধিক মন্ত্রণালয় ও সংস্থা সমন্বিতভাবে কাজ করেছে। পররাষ্ট্র ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পাশাপাশি বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় এতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এছাড়া নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি), বাংলাদেশ পুলিশ এবং স্থানীয় প্রশাসন আইনগত ও প্রশাসনিক বিষয়গুলো নিষ্পত্তিতে সহায়তা করে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, মূলত সাগরে মাছ ধরার সময় বৈরী আবহাওয়া ও দিকভ্রান্তির কারণে অনিচ্ছাকৃতভাবে আন্তর্জাতিক সীমা অতিক্রম করায় এসব মৎস্যজীবী আটক হন। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা এড়াতে মৎস্যজীবীদের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেছে কর্তৃপক্ষ।
ফেরত আসা বাংলাদেশি মৎস্যজীবীদের প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে স্থানীয় প্রশাসনের মাধ্যমে তাদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে বলে জানানো হয়েছে। উভয় দেশের কোস্ট গার্ডের মতে, এ ধরনের সহযোগিতামূলক উদ্যোগ সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার ও পারস্পরিক আস্থা বৃদ্ধিতে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।
মন্তব্য করুন


বাংলাদেশ
বিমানবাহিনীর প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন আজ মঙ্গলবার ( ১৭ ফেব্রুয়ারি
) ঢাকায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে
সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন।
প্রধান
উপদেষ্টার প্রেস উইং এ তথ্য জানিয়েছে।
মন্তব্য করুন


স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা
লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী জানিয়েছেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর
হারানো অস্ত্রের সন্ধান দিতে পারলে পুরস্কার দেওয়া হবে।
এ সময় তিনি জানান,
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর আনুমানিক ৭০০ অস্ত্র উদ্ধার এখনো বাকি রয়েছে।
আজ রোববার (১০
আগস্ট) দুপুরে বাংলাদেশ সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আইনশৃঙ্খলা
সংক্রান্ত কোর কমিটির সভা শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে তিনি এ কথা জানান।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা
জাহাঙ্গীর আলম বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হারানো
অস্ত্রগুলো উদ্ধার করতে আমরা একটি বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছি৷ যারা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হারানো
অস্ত্রের সন্ধান দিতে পারবে, তাদের পুরস্কৃত করা হবে। দ্রুত এ সংক্রান্ত একটি কমিটি
গঠন করা হবে, যা পরবর্তীতে মিডিয়ায় জানিয়ে দেওয়া হবে।
গাজীপুরে সাংবাদিক
তুহিন হত্যাকাণ্ড সম্পর্কে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, ঘটনাটি খুবই দুঃখজনক৷ এ ধরনের
ঘটনা ঘটুক সমাজে কেউ চিন্তাও করতে পারে না৷ জাতি হিসেবে আমরা খুব অসহিষ্ণু হয়ে গেছি৷
আগে সমাজে কোনো খারাপ কাজ ঘটলে লোকজন ঝাঁপিয়ে পড়ত সেটা প্রতিহত করার জন্য৷ কিন্তু আজকাল
সেটা খুব কমে গেছে৷ এখন সবাই ভিডিও করে৷ অপরাধ প্রতিহত করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব৷ সবসময়
সব জায়গায় তো আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত থাকেন না৷ সে সময় উপস্থিত জনতারই
প্রাথমিকভাবে অপরাধ প্রতিরোধ বা প্রতিহত করা উচিত। উপদেষ্টা এ সময় গাজীপুরের ঘটনায়
জড়িতদের বেশিরভাগকে আইনের আওতায় নিয়ে আসা হয়েছে বলে জানান।
নিউমার্কেট থেকে
১১০০ দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এসব অস্ত্র যারা তৈরি করেন, তাদের আরও
সতর্ক হতে হবে। তারা জানে- কারা এসব ব্যবহার করছে। যারা এগুলো করছে তাদের আইনের আওতায়
আনা হয়েছে।
উপদেষ্টা আরও
বলেন, সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের দায়িত্ব শুধু আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নয়। এর
সঙ্গে যুক্ত রয়েছে নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী রাজনৈতিক দলগুলো, নির্বাচন কমিশন, প্রশাসন,
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং সর্বোপরি জনগণ। আশা করি, আমরা একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ
নির্বাচন উপহার দিতে পারব। উপদেষ্টা এ সময় আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রিসাইডিং অফিসারের
নিরাপত্তার জন্য অস্ত্রসহ একজন বাড়তি আনসার সদস্য (গানম্যান) নিয়োজিত থাকার সিদ্ধান্তের
কথা জানান।
ব্রিফিংকালে উপস্থিত ছিলেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মো. খোদা বখস চৌধুরী, বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদ, পিএসসি প্রমুখ।
মন্তব্য করুন


পৃথিবীকে জলবায়ু বিপর্যয় থেকে রক্ষা করার জন্য ‘শূন্য বর্জ্য ও শূন্য কার্বন’-এর ওপর ভিত্তি করে একটি নতুন জীবনধারা গড়ে তোলার পরামর্শ দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
আজ
বুধবার (১৩
নভেম্বর) আজারবাইজানের রাজধানী বাকুতে কপ২৯-এর ওয়ার্ল্ড লিডারস ক্লাইমেট অ্যাকশন সামিটের উদ্বোধনী অধিবেশনে তিনি আহ্বান করেন।
একটি নতুন পৃথিবী গড়ার লক্ষে তিনটি শূন্যভিত্তিক তার দীর্ঘ দিনের স্বপ্নের কথাও উপস্থাপন করেন প্রধান উপদেষ্টা।
প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস
বলেন, বেঁচে থাকার জন্য, আমাদের আরেকটি সংস্কৃতি গঠন করতে হবে। একটি ভিন্ন জীবনধারার ওপর ভিত্তি করে আরেকটি পাল্টা সংস্কৃতি গড়তে হবে। এটি হবে শূন্য বর্জ্যের ওপর ভিত্তি করে। এ সংস্কৃতি নিত্য পণ্যের ব্যবহারকে সীমিত করবে, কোন বর্জ্য অবশিষ্ট রাখবে না। এ জীবনযাত্রাও হবে শূন্য কার্বনের ওপর ভিত্তি করে যেখানে কোনো জীবাশ্ম জ্বালানি থাকবে না, শুধুমাত্র পুনঃনবায়নযোগ্য শক্তি থাকবে। এতে এমন একটি অর্থনীতি হবে যা প্রাথমিকভাবে সামাজিক ব্যবসার মতো ব্যক্তিগত পর্যায়ে শূন্য মুনাফার ওপর ভিত্তি করে তৈরি হবে। সামাজিক ব্যবসার একটি বিশাল অংশ পরিবেশ ও মানবজাতির সুরক্ষায় মনোযোগ দেবে। সাশ্রয়ী স্বাস্থ্যসেবা ও শিক্ষার মাধ্যমে মানুষের জীবন কেবল সুরক্ষিতই হবে না, গুণগতভাবে উন্নত হবে। এটি যুবকদের জন্য উদ্যোক্তা হওয়ার পথ সহজতর করবে। উদ্যোক্তা হওয়ার নতুন শিক্ষার মাধ্যমে তরুণরা প্রস্তুত হবে। চাকরিপ্রার্থী তৈরির শিক্ষা উদ্যোক্তা-কেন্দ্রিক শিক্ষা দ্বারা প্রতিস্থাপিত হবে।
পরিবেশের সুরক্ষার জন্য একটি নতুন জীবনধারার প্রয়োজন উল্লেখ করে ড. ইউনূস বলেন, নতুন জীবনধারা চাপিয়ে দেয়া হবে না, এটি হবে পছন্দ বেছে নেওয়া। তরুণরা সে জীবনধারাকে পছন্দ হিসেবে বেছে নেবে। প্রতিটি যুবক তিন শূন্য ভিত্তিক ব্যক্তি হিসেবে বেড়ে উঠবে। এগুলো হচ্ছে- শূন্য নেট কার্বন নির্গমন, শুধুমাত্র সামাজিক ব্যবসা গড়ে তোলার মাধ্যমে শূন্য সম্পদ কেন্দ্রীকরণ ও নিজেদের উদ্যোক্তা হিসেবে পরিণত করার মাধ্যমে শূন্য বেকারত্ব। প্রত্যেক মানুষ তিন শূন্য ভিত্তিক ব্যক্তি হিসেবে বেড়ে উঠবে এবং সারাজীবন তিন শূন্য ভিত্তিক ব্যক্তি হিসেবে থাকবে। এটি নতুন সভ্যতা গড়ে তুলবে। এটা করা যেতে পারে আমাদের যা করতে হবে তা হল এ গ্রহের নিরাপত্তার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ একটি নতুন জীবনধারা গ্রহণ করা যেখানে সবাই বসবাস করে। আজকের তরুণ প্রজন্ম বাকিটা করবে। তারা তাদের আমাদের গ্রহকে ভালোবাসে। আমি আশা করি আপনারা এ স্বপ্ন দেখায় আমার সাথে যোগ দেবেন। আমরা যদি একসাথে স্বপ্ন দেখি তবে তা সম্ভব হবে। জলবায়ু সংকট তীব্রতর হচ্ছে এবং সে কারণে মানব সভ্যতা মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। মানুষ আত্ম-বিধ্বংসী মূল্যবোধের প্রচার চালিয়ে যাচ্ছে। আত্ম-রক্ষাত্মক ও আত্ম-শক্তিবর্ধক একটি নতুন সভ্যতার ভিত্তি স্থাপনের জন্য আমাদের বুদ্ধিবৃত্তিক, আর্থিক ও যুব শক্তিকে কাজে লাগাতে হবে। আমরা, এই গ্রহের মানব বাসিন্দারা এই গ্রহের ধ্বংসের কারণ। মানুষ ইচ্ছাকৃতভাবে এটি করছে এবং তারা এমন একটি জীবনধারা বেছে নিয়েছে যা পরিবেশের বিরুদ্ধে কাজ করে। তারা এটিকে একটি অর্থনৈতিক কাঠামো দিয়ে ন্যায্যতা দেয়, যা এ গ্রহ ব্যবস্থার মতো প্রাকৃতিক হিসেবে বিবেচিত হয়। এ অর্থনৈতিক কাঠামো সীমাহীন খরচের ওপর ভিত্তি করে চলছে। আপনি যত বেশি ব্যবহার করবেন তত বেশি প্রবৃদ্ধি পাবেন। যত বেশি প্রবৃদ্ধি অর্জন করবেন, তত বেশি অর্থ উপার্জন করবেন। সর্বাধিক মুনাফা অর্জনকে সিস্টেমের সবকিছুকে আমাদের ইচ্ছা অনুযায়ী ভূমিকা পালনের শক্তি হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
মন্তব্য করুন


অর্থ উপদেষ্টা সালেহ উদ্দিন আহমেদ জানিয়েছেন, বিদ্যুৎ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে কিছুটা সময় লাগবে। সরকার এ সমস্যা সমাধানের
চেষ্টা করছে।
মঙ্গলবার (১০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ক্রয় সংক্রান্ত উপদেষ্টা কমিটির বৈঠক শেষে সচিবালয়ে গণমাধ্যমকে এসব কথা বলেন সালেহউদ্দিন আহমেদ।
অর্থ উপদেষ্টা বলেন, বিদ্যুৎ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে কিছুটা সময় নিবে। সরকার চেষ্টা করছে বিদ্যুতের ঘাটতি মেটাতে। এ জন্য অগ্রাধিকার ভিত্তিতে জ্বালানি, কয়লা আমদানি করা হচ্ছে। চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে শহীদদের স্মরণ সভার জন্য প্রায় পাঁচ কোটি টাকা খরচ হবে। ক্রয় সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদের সভায় এ বিষয়ে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে । ১৪ সেপ্টেম্বর চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে এ অনুষ্ঠানে সব শহীদ পরিবারসহ সংশ্লিষ্ট সবাই ও বিদেশি অতিথিরাও আসবেন।
তথ্য উপদেষ্টা বিষয়টি ঠিক করবেন বলে জানান অর্থ উপদেষ্টা।
মন্তব্য করুন


বাংলাদেশ
ও যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হতে যাচ্ছে আগামী ৯ ফেব্রুয়ারি।
ট্রাম্প প্রশাসনের আরোপিত ‘পাল্টা শুল্ক’ হ্রাস এবং দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য সুবিধা
বৃদ্ধির লক্ষ্যে এদিন চূড়ান্ত চুক্তি হতে যাচ্ছে দুই দেশের মধ্যে। সম্ভাব্য চুক্তিতে
মার্কিন তুলায় তৈরি পোশাকে শুল্কমুক্ত সুবিধা পাওয়ার পাশাপাশি বোয়িং বিমান কেনা ও জ্বালানি
খাতে আমদানির মতো বড় বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত থাকছে।
আজ
রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের এসব কথা জানান
বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমান।
তিনি
বলেন, এ ব্যাপারে চুক্তির খসড়া এবং ৯ ফেব্রুয়ারি তা স্বাক্ষর করার জন্য অনুমোদন চেয়ে
আমরা সামারি পাঠিয়েছি। এটি অনুমোদিত হয়ে এলে আমরা চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে পারবো।
প্রসঙ্গত,
বাংলাদেশের পণ্যের ওপর প্রথমে ৩৭ শতাংশ এবং পরে ৩৫ শতাংশ ‘পাল্টা শুল্ক’
ঘোষণা করে আলোচনার সুযোগ রেখেছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ওয়াশিংটনে
তৃতীয় দফার আলোচনা শেষে গত ৩১ জুলাই পাল্টা শুল্ক ২০ শতাংশে নামিয়ে আনা হয়। তবে এ জন্য
দেশটির সঙ্গে বাণিজ্য ঘাটতি কমিয়ে আনার প্রতিশ্রুতিসহ বাংলাদেশকে বেশ কিছু ছাড় দিতে
হয়।
শুল্ক
কত শতাংশ হতে পারে— এমন প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্য সচিব বলেন,
বাংলাদেশের রেসিপ্রোকাল শুল্কহার ২০ শতাংশ আছে। অন্যান্য দেশেও একই আছে, আবার অনেক
দেশে বেশি আছে। তবে, আমরা আশা করছি হয়তো কিছু কমতেও পারে; সে ধরনের একটি ধারণা আছে।
তবে, নিশ্চিত করে বলতে পারব না; এখনো তা নিশ্চিত হয়নি। আমরা খসড়া করেছি, তবে শুল্ক
কত হবে সেটি নির্ধারণ করতে ৯ তারিখ পর্যন্ত সময় নেওয়া হবে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে
জানা গেছে, সুবিধা পেতে বাংলাদেশকেও বেশ কিছু ছাড় দিতে হচ্ছে। গত আগস্টে যুক্তরাষ্ট্র
বাংলাদেশের ওপর পাল্টা শুল্কের হার কমিয়ে ২০ শতাংশ কার্যকর করলেও দেশটির সঙ্গে কোনো
চুক্তি হয়নি। পরে এই শুল্কহার আরও কমানোর পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি করা তুলায়
উৎপাদিত পোশাক রপ্তানিতে শুল্কমুক্ত সুবিধা আদায়ে আলোচনা অব্যাহত রাখে ঢাকা, যা চূড়ান্ত
হয়ে চুক্তিতে পরিণত হতে যাচ্ছে।
সম্প্রতি
ভারত ইইউ-এর সঙ্গে একটি এফটিএ (মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি) স্বাক্ষর করেছে—
এটি নিয়ে সরকার কি উদ্বিগ্ন? এমন প্রশ্নের জবাবে সচিব বলেন, এখানে উদ্বেগের কিছু নেই।
আমরা তৈরি পোশাক খাতে গত ৪৫ বছর ধরে সক্ষমতা অর্জন করেছি এবং আমরা বিশ্বে দ্বিতীয় বৃহত্তম
রপ্তানিকারক দেশ। আমাদের এই খাতে দ্বিতীয় বৃহত্তম অবকাঠামো আছে। এই সক্ষমতা অন্য কেউ
রাতারাতি অর্জন করে ফেলবে বলে আমাদের মনে হয় না। তিনি বলেন, আপনারা জানেন ভারত বেসিক
টেক্সটাইলে বেশ শক্তিশালী এবং বিশ্ববাজারে তাদের ভালো অবস্থান আছে। আমরা কাঁচামালও
তাদের কাছ থেকে সংগ্রহ করি। কাজেই এই দুই দেশ এখনো পরিপূরক (কমপ্লিমেন্টারি) অবস্থায়
আছে। তাদের উপকরণ উৎপাদন এবং নিজস্ব তুলাও আছে। ফলে ভারত আমাদের প্রতিযোগী নয়, বরং
পরিপূরক।
এলডিসি
থেকে উত্তরণের পর অনেক সুযোগ-সুবিধা হারানোর পাশাপাশি নতুন শুল্ক যুক্ত হবে—সেক্ষেত্রে
এফটিএ নিয়ে সরকার নতুন কিছু ভাবছে কি না? এমন প্রশ্নের জবাবে সচিব বলেন, হ্যাঁ, আমরা
অনেকগুলো দেশের সাথে এফটিএ করছি। আমরা জাপানের সাথে এফটিএ-র নেগোসিয়েশন শেষ করেছি।
আগামী ৬ ফেব্রুয়ারি জাপানের সাথে এফটিএ স্বাক্ষরিত হবে।
তিনি
বলেন, গত বৃহস্পতিবার দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে দ্বিতীয় দফা আলোচনা সম্পন্ন হয়েছে এবং আশা
করছি এই বছরের মধ্যেই তাদের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষরিত হবে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের কাছে
আমরা এফটিএ-র প্রস্তাব পাঠিয়েছি এবং অন্যান্য যেসব বাজারে আমরা শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার
পাই, সবগুলোর কাছেই প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। সেখানে আলোচনা শিগগিরই শুরু হবে। রমজানের
প্রস্তুতির ব্যাপারে তিনি বলেন, রমজানের বাজার পরিস্থিতি, নিত্যপণ্যের মূল্য এবং রমজানভিত্তিক
নির্দিষ্ট পণ্যগুলোর সরবরাহ নিয়ে আলোচনা করেছি। এ বছরের অবস্থা ভালো।
যুক্তরাষ্ট্র
থেকে বোয়িং কেনা নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্য সচিব বলেন, বিমান ক্রয়ের বিষয়টি আলোচনায়
আছে। বিমানের সক্ষমতা বাড়ানোর জন্য আমেরিকার সাথে এই চুক্তির আগেও পরিকল্পনা ছিল। শুধু
বোয়িং নয়, অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের সাথেও আলোচনা ছিল। সেটি এখন একটি কাঠামোগত রূপ পেয়েছে।
আমেরিকান রেসিপ্রোকাল ট্যারিফ প্রসঙ্গে যতদূর জানি, তাদের সাথে নেগোসিয়েশন চলছে। বোয়িং
কতগুলো এবং কোন বছর সরবরাহ করতে পারবে, দাম কী হবে এবং বিমানের ভেতরের কনফিগারেশন কেমন
হবে— এসব নিয়ে আলোচনা চলছে।
এখানে
যুদ্ধবিমানও আছে কি না— এমন প্রশ্নের জবাবে সচিব বলেন, যুদ্ধবিমান
এই চুক্তির আওতায় কখনোই আসবে না। মিলিটারি ইস্যু কখনো ট্রেড ইস্যুতে থাকে না।
গত
ছয় মাসে রপ্তানি ৩.৭ শতাংশ নেতিবাচক— যা বাংলাদেশের ইতিহাসে বিরল। এ নিয়ে
পরিকল্পনা জানতে চাইলে সচিব বলেন, আমরা পর্যালোচনা করেছি। বিশ্ববাণিজ্যে ৩.৭ শতাংশ
ঘাটতি হয়েছে। আমরা তো পৃথিবীর বাইরে নই, সেই হিসেবে আমাদের ওপর প্রভাব পড়েছে। তবে,
আমাদের নেতিবাচক প্রবৃদ্ধি ৩ শতাংশ নয়, বরং ১.৬ শতাংশের মতো। অর্থাৎ গ্লোবাল অ্যাভারেজের
চেয়ে আমরা ভালো অবস্থায় আছি।
যুক্তরাষ্ট্রের
তুলা দিয়ে উৎপাদিত পোশাকে শুল্কমুক্ত সুবিধা চুক্তিতে থাকবে কি না—
জানতে চাইলে তিনি বলেন, দ্বিপাক্ষিক চুক্তিতে এক দেশের উপকরণ ব্যবহার করলে কিউমুলেশন
বেনিফিট পাওয়ার আশা থাকে। এটি একটি প্রগতিশীল প্রক্রিয়া এবং এ ধরনের সুবিধার জন্যই
দ্বিপাক্ষিক চুক্তি করা হয়।
বাণিজ্য
মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, গত কয়েক বছর ধরেই যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি করা তুলায়
উৎপাদিত পোশাকে শুল্কমুক্ত সুবিধা চেয়ে আসছে বাংলাদেশ। বাণিজ্য ঘাটতি কমিয়ে আনতে ইতিমধ্যে
বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্র থেকে তুলা আমদানি বাড়িয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের তুলায় তৈরি পোশাকে
শুল্কমুক্ত সুবিধা পাওয়া গেলে তা উভয় পক্ষের জন্যই লাভজনক হবে। বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের
তুলা রপ্তানি বাড়বে এবং যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানিও বৃদ্ধি পাবে।
বাংলাদেশ
টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্র
থেকে ৩৪৬ মিলিয়ন ডলারের তুলা আমদানি করেছে, যা আগের অর্থবছরে ছিল ২৭৮ মিলিয়ন ডলার।
রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় একক রপ্তানি বাজার এখনো
যুক্তরাষ্ট্র।
উল্লেখ্য,
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য ঘাটতি প্রায় ৬০০ কোটি ডলার থেকে কমাতে আগামী এক থেকে
দেড় বছরের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ১৫০ কোটি ডলারের আমদানি বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছে
বাংলাদেশ। আগামী কয়েক বছরে বোয়িংয়ের কাছ থেকে ২৫টি উড়োজাহাজ কিনবে সরকার, যাতে খরচ
হতে পারে প্রায় ৫০ হাজার কোটি টাকা। এছাড়া কিছুটা বাড়তি দামে প্রতিবছর সাত লাখ টন করে
গম আমদানি করা হবে। যুক্তরাষ্ট্র থেকে সামরিক পণ্য, বেসামরিক উড়োজাহাজ যন্ত্রাংশ, জ্বালানি
তেল, ভোজ্যতেল ও তুলার আমদানি বাড়ানো এবং এলএনজি আমদানিতে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি করা হবে।
মন্তব্য করুন