

টঙ্গীর বিশ্ব ইজতেমা মাঠের দখলকে কেন্দ্র
করে যোবায়ের ও সাদপন্থিদের মধ্যে সংঘর্ষে তিনজন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন প্রায় অর্ধশতাধিক।
তাবলিগ জামাতের যোবায়েরপন্থিদের মিডিয়া
সমন্বয়ক হাবিবুল্লাহ রায়হান ও মাওলানা সাদপন্থিদের মিডিয়া সমন্বয়ক আবু সায়েম বিষয়টি
নিশ্চিত করেছেন।
মঙ্গলবার (১৭ ডিসেম্বর) দিবাগত রাত
৩টার দিকে এ সংঘর্ষ শুরু হয়। নিহতরা হলেন আমিনুল
ইসলাম বাচ্চু (৫৫), বেল্লাল হোসেন (৬০) ও তাইজুল ইসলাম(৭০)।
আহতরা হলেন- আ. রউফ (৫৫), মজিবুর রহমান
(৫৮), আ. হান্নান (৬০), জহুরুল ইসলাম (৩৮), আরিফ (৩৪), ফয়সাল (২৮), তরিকুল (৪২), সাহেদ
(৪৪), উকিল মিয়া (৫৮), পান্ত (৫৫) টঙ্গী, খোরশেদ আলম (৫০) বেলাল (৩৪), আনোয়ার (৫০),
আবু বক্কর (৫৯), আরিফুল ইসলাম (৫০), আনোয়ার (২৬), আনোয়ার (৭৬), ফোরকান আহমেদ (৩৫),
আ. রউফ (৫৫) মজিবুর রহমান (৫৮), আ. হান্নান (৬০), জহুরুল ইসলাম (৩৮), আরিফ (৩৪), ফয়সাল (২৮), তরিকুল (৪২), সাহেদ (৪৪)।
মন্তব্য করুন


বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর ১৮০ সদস্য সাহসিকতা এবং সেবামূলক কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ আট ক্যাটাগরিতে পদক পাচ্ছেন ।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর ৪৪তম জাতীয় সমাবেশ উপলক্ষে গাজীপুরের সফিপুরে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এ পদক তুলে দেওয়া হবে।
বুধবার (৮ ফেব্রুয়ারি) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের আনসার শাখা-২ থেকে ১৮০ জন সদস্যের পদকের প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। এ প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর এই সদস্যরা আট ক্যাটাগরিতে পদক পাবেন। বাংলাদেশ আনসার পদক ক্যাটাগরিতে ১০ জন, প্রেসিডেন্ট আনসার পদক ক্যাটাগরিতে ২০ জন, বাংলাদেশ গ্রাম প্রতিরক্ষা দল পদক ক্যাটাগরিতে ১০ জন, প্রেসিডেন্ট গ্রাম প্রতিরক্ষা দল পদক ক্যাটাগরিতে ২০ জন, বাংলাদেশ আনসার (সেবা) পদক ক্যাটাগরিতে ২০ জন, প্রেসিডেন্ট আনসার (সেবা) পদক ক্যাটাগরিতে ৪০জন, বাংলাদেশ গ্রাম প্রতিরক্ষা দল ( সেবা) পদক ক্যাটাগরিতে ২০ জন এবং প্রেসিডেন্ট গ্রাম প্রতিরক্ষা দল ( সেবা) পদক ক্যাটাগরিতে ৪০জন পদক পাবেন।
এর মধ্যে মরণোত্তর বাংলাদেশ গ্রাম প্রতিরক্ষা দল পদক পাচ্ছেন ভিডিপি সদস্য মৃত রূপচান। তার পক্ষ থেকে পদক গ্রহণ করবেন রূপচানের ছেলে মাহবুবুর রহমান। এ ছাড়া বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে ৪৫ জন নারী সদস্য আনসার পদক পাচ্ছেন।
বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর উপ-পরিচালক (জনসংযোগ) মো. জাহিদুল ইসলাম জানান, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর ৪৪তম জাতীয় সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। সমাবেশ উপলক্ষে বাংলাদেশ আনসার ও ভিডিপি একাডেমি গাজীপুরের সফিপুরে কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠিত হবে।
১৯৪৮ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি আনসার বাহিনী গঠন করা হয়। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার পাশাপাশি আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে বাহিনীটি। প্রায় ৪০ হাজার রাইফেল ও গোলাবারুদ নিয়ে মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেন এই বাহিনীর সদস্যরা। মুক্তিযুদ্ধে বাহিনীর ৬৭০ জন শহীদ হন। তাদের মধ্যে ৯ জন কর্মকর্তা ও ৪জন কর্মচারী এবং ৬৫৭ জন আনসার সদস্য রয়েছে।
মন্তব্য করুন


স্বাধীনতা
বিরোধীরা আবার মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে চায় বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের
(বিএনপি) মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
আজ মঙ্গলবার (১৬ ডিসেম্বর ) সকালে মহান বিজয় দিবসে
রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের সমাধিতে
শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে তিনি গণমাধ্যম কর্মীদের একথা বলেন।
এসময়
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, যারা স্বাধীনতার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছিল, তারা আজ
মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে চায়। বাংলাদেশের স্বাধীনতাকামী মানুষ সকল ষড়যন্ত্রকে নস্যাৎ করে
দিয়ে অবশ্যই বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বকে অটুট রাখবে। গণতন্ত্রকে প্রতিষ্ঠিত
করবে। ইনশাল্লাহ।
তিনি
বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতার ঘোষণার মধ্য দিয়ে যে যুদ্ধ শুরু
হয়েছিল, ডিসেম্বর মাসের ১৬ তারিখে সেই যুদ্ধে আমরা চূড়ান্ত বিজয় অর্জন করেছিলাম। এজন্য
এদিন আমাদের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আজ আমরা আমাদের দলের স্থায়ী কমিটির সদস্যবৃন্দসহ
আমাদের দলের প্রতিষ্ঠাতা, স্বাধীনতার ঘোষক জিয়াউর রহমানের মাজারে এসেছিলাম তাঁর প্রতি
শ্রদ্ধা জানাতে। আমরা এই মাজারে শপথ নিয়েছি- ‘এ দেশের স্বাধীনতাকে অক্ষুণ্ন রাখার জন্য
আমাদের যে সংগ্রাম, সেটি অব্যাহত থাকবে।’
খালেদা
জিয়ার সুস্থতা কামনা করে তিনি বলেন, আজকের এই দিনে আমাদের দলের চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা
জিয়া ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পক্ষ থেকে মহান মুক্তিযুদ্ধে যারা শহীদ
হয়েছেন, তাঁদের প্রতি শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। শ্রদ্ধা জানাচ্ছি স্বাধীনতার ঘোষক
জিয়াউর রহমানের প্রতি। আমরা এদিনে আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করছি এ দেশের প্রথম নারী
মুক্তিযোদ্ধা ও গণতন্ত্রের অতন্দ্র প্রহরী খালেদা জিয়ার রোগমুক্তির জন্য। আগামী ২৫
ডিসেম্বর তারেক রহমান দেশে আসবেন। তাঁর দেশে আসা যেন গণতন্ত্রের লড়াইকে আরও বেগবান
করে, সেজন্য আমরা কাজ করে যাচ্ছি। এসময় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন
খান, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, নজরুল ইসলাম খান, সালাহউদ্দিন আহমদ, আব্দুল
কাদের ভূইয়া জুয়েলসহ সিনিয়র নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
মন্তব্য করুন


মাসুদ রানা, কচুয়া প্রতিনিধি:
চাঁদপুরের কচুয়ায় অটোরিকশা চালক মো. সাব্বির হোসেন (১৮) হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন ও ঘটনা জড়িত ৭জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। উদ্ধার করা হয়েছে হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত ছুরি, লুন্ঠিত অটোরিকশা ও চালকের ব্যবহত মোবাইল ফোন।
বুধবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে চাঁদপুর পুলিশ সুপার কার্যালয়ে প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম।
গ্রেফতার আসামীরা হলেন-চাঁদপুর সদরের তরপুরচন্ডী এলাকার মো. জহির বাবলা (৪৫), মতলব দক্ষিন উপজেলার মো. আনিছুর রহমান (২৫), একই উপজেলার মো. রাজু বেপারী (২৫), মো. রাকিব (২৩) ও মো. আমির হোসেন হানজালা (২৫), নরসিংদী জেলার পলাশ থানার চরসিন্দুরের কবির হোসেন (৩৫) এবং দিনাজপুর জেলার কোতয়াালী থানার মতুল্লাপুর এলাকার হামিদুর রহমান (৪১)।
পুলিশ সুপার জানান, কচুয়া পালাখাল ইউনিয়নের ভুঁইয়ারা গ্রামের অটোরিকশা চালক মো. সাব্বির হোসেন গত ২৪ জানুয়ারি বিকেলে অটোরিকশা নিয়ে বাড়ী থেকে বের হন। এরপর রাতে বাড়ীতে ফিরেননি। পরদিন ২৫ জানুয়ারি তার মা জাহানারা বেগম থানায় নিখোঁজ ডায়েরি করেন। ওই দিন বিকেলে পুলিশ স্থানীয় সংবাদের ভিত্তিতে ওই ইউনিয়েনর সেঙ্গুয়া নামক স্থান থেকে হাত পা বাধা সাব্বিরের মরদেহ উদ্ধার করে। এই ঘটনায় চালকের মা জাহানারা বেগম ২৬ জানুয়ারি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
মামলাটি গ্রহনের পর কচুয়া থানা পুলিশ একটি চৌকস দল গঠন করে তদন্ত শুরু করে। তদন্তকারী কর্মকর্তা উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. দেলোয়ার হোসেন রাজিবসহ দলটি তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে প্রথমে আসামী হানজালাকে গ্রেফতার করেন। তার তথ্যের ভিত্তিতে ১২ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যা থেকে ১৩ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যা পর্যন্ত চাঁদপুর ও নারায়নগঞ্জে অভিযান চালিয়ে বাকী আসামীদের গ্রেফতার করেন।
পুলিশ সুপার আরও বলেন, অটোরিকশা চালক সাব্বির হত্যায় জড়িত ছিলেন ৯জন। এর মধ্যে ৭ জন গ্রেফতার হয়েছে। বাকীদের গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যাহত আছে। তারা অন্য কোন অপরাধে জড়িত আছে কিনা তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আসামীদেরকে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।
এ সময় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রাশেদুল হক চৌধুরী, সহকারী পুলিশ সুপার (কচুয়া সার্কেল) মো. রিজওয়ান সাঈদ জিকু, কচুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মিজানুর রহমান, জাতীয় ও স্থানীয় গণমাধ্যমের বিভিন্ন পর্যায়ের সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।
মন্তব্য করুন


বন্যার্তদের সেবায় নিঃস্বার্থ পেশাগত দায়িত্ব এবং অনন্য মানবিকতার দৃষ্টান্ত উপস্থাপন করায় রোববার (৮ সেপ্টেম্বর ২০২৪), সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, লেফটেন্যান্ট মো: বায়েজিদ বোস্তামী ও ল্যান্স কর্পোরাল (গানার) কাজী সুজনের সাথে সেনাসদরে সাক্ষাৎ পূর্বক ভূয়সী প্রশংসা করেন। এ সময় সেনাবাহিনী প্রধান তাদের সাধুবাদ জানান এবং ভবিষ্যতের জন্য অনুপ্রাণিত করেন।
উল্লেখ্য, কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলায় বন্যার্তদের উদ্ধারে সেনাবাহিনীর নবীন অফিসার লেফটেন্যান্ট মোঃ বায়েজিদ বোস্তামী এক উদাহরণস্বরূপ অবদান রেখেছেন। গত ২২ আগস্ট ২০২৪ তারিখে কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলায় বন্যার্তদের উদ্ধারকার্যে নিয়োজিত হয়ে নিজ হাতে তিনি প্রায় ৩৫০ জন এর অধিক বন্যার্তদের উদ্ধার করেন। এদের মধ্যে ছিলেন শিশু, অসুস্থ ব্যক্তি, অন্তঃসত্ত্বা মহিলা,বয়োজ্যেষ্ঠ ব্যক্তি সহ অনেকেই।
এছাড়া ল্যান্স কর্পোরাল (গানার) কাজী সুজন ফটিকছড়ি উপজেলার পাইন্দং ইউনিয়নের ভুজপুর এলাকায় বন্যার্তদের উদ্ধারে এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। গত ২৩ আগস্ট ২০২৪ তারিখে ফটিকছড়ি উপজেলায় বন্যার্তদের উদ্ধারকার্যে নিয়োজিত হয়ে নিজ হাটুকে সিঁড়ি বানিয়ে অসুস্থ,গর্ভবতী মহিলাদের ট্রাকে উঠতে সহায়তা এবং বন্যা কবলিত এলাকায় অসহায় বন্যার্তদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন, চীফ অব জেনারেল স্টাফ, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী; জিওসি ২৪ পদাতিক ডিভিশন ও এরিয়া কমান্ডার চট্টগ্রাম এরিয়া, জিওসি ৩৩ পদাতিক ডিভিশন ও এরিয়া কমান্ডার কুমিল্লা এরিয়া এবং উক্ত সেনা সদস্যদের অধিনায়কগণ।
তরুণ সেনা সদস্যগণের মতোই দেশের জন্য নিবেদিত প্রাণ সেনাবাহিনীর প্রত্যেক সদস্য কাজ করে যাচ্ছে দেশবাসীর সেবায়। তারুণ্যের এই সহমর্মিতা ও মানবতাবোধ হোক ভবিষ্যৎ প্রজন্মের প্রেরণার উৎস।
মন্তব্য করুন


দীর্ঘ
১৭ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে আজ বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) দেশে ফিরেছেন বিএনপির
ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। দীর্ঘ নির্বাসন শেষে মাতৃভূমিতে ফেরার এই ঐতিহাসিক
যাত্রায় তার সঙ্গে রয়েছেন স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান, কন্যা ব্যারিস্টার জাইমা রহমান
এবং পরিবারের পোষা বিড়াল জেবু।
তারেক
রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তনকে ঘিরে রাজধানীর পূর্বাচলের ৩০০ ফিট সড়ক যেন পরিণত হয়েছে
মিলনমেলায়। প্রিয় নেতাকে সংবর্ধনা দিতে এখানে নির্মাণ করা হয়েছে বিশাল মঞ্চ।
দলীয়
নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের ভালোবাসায় সংবর্ধিত হবেন তিনি—এমন
প্রত্যাশায় উৎসবমুখর হয়ে উঠেছে পুরো এলাকা।
৩০০
ফিট সড়ক ও এর আশপাশের এলাকায় দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে ইতিমধ্যেই জড়ো হয়েছেন বিপুলসংখ্যক
নেতাকর্মী ও সমর্থক। বহু বছর পর প্রিয় নেতাকে একনজর দেখতে গত কয়েক দিন ধরেই দেশের নানা
প্রান্ত থেকে ঢাকামুখী হচ্ছেন তারা। ভিড় ও দুর্ভোগ এড়াতে অনেকেই আগেভাগেই রাজধানীতে
এসে অবস্থান নিয়েছেন।
যাদের
ঢাকায় আত্মীয়-স্বজন বা থাকার ব্যবস্থা রয়েছে, তারা আগেই এসে পৌঁছান। তবে গত সোমবার
থেকেই দলবদ্ধভাবে নেতাকর্মীদের ঢাকায় আসা শুরু হয়। বুধবার রাতেও দেশের বিভিন্ন জেলা
থেকে ট্রেন, লঞ্চ ও বাসে করে নেতাকর্মীরা ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেন। ঢাকায় পৌঁছে অনেকেই
সংবর্ধনাস্থল পরিদর্শন করে ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করেন—কেউ
সেলফি তুলেছেন, কেউ লাইভে যুক্ত হয়েছেন।
সরেজমিনে
গিয়ে দেখা গেছে, ঢাকা ছাড়াও বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা থেকে নেতাকর্মীরা বাস, ট্রাক, মিনি
ট্রাক ও মাইক্রোবাসে করে দলে দলে ৩০০ ফিট এলাকায় এসে জড়ো হচ্ছেন। কুমিল্লা, সিলেট,
রাজশাহী, চট্টগ্রাম, দিনাজপুর, রংপুর ও বগুড়াসহ বিভিন্ন জেলা থেকে মানুষের ঢল নেমেছে।
মন্তব্য করুন


আগামীকাল শনিবার (৩০ নভেম্বর) কুমিল্লার মুরাদনগরে নিজ জন্মভূমিতে সংবর্ধিত হবেন স্থানীয় সরকার এবং যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। আয়োজক কমিটি জানিয়েছে, জুলাই বিপ্লবের অন্যতম এ নেতাকে বরণে সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে।
জানা যায়, শনিবার দুপুর ২টায় মুরাদনগর ডিআর সরকারি হাইস্কুল মাঠে গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেব বক্তব্য রাখবেন উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। এরপর যাবেন পৈত্রিক বাড়ি আকুবপুরে। অনুষ্ঠানে প্রতিটি ওয়ার্ড থেকে সর্বস্তরের মানুষ অংশগ্রহণ করবেন। উপদেষ্টার আগমন ঘিরে উপজেলা জুড়ে উৎসব আমেজ বিরাজ করছে। তরুণ এ উপদেষ্টার সংবর্ধনা অনুষ্ঠান বাস্তবায়নে উচ্ছ্বসিত ছাত্র সমন্বয়ক ও আয়োজকবৃন্দ।
এ বিষয়ে মুরাদনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবদুর রহমান জানান, মধ্যাহ্ন ভোজের আগে উপদেষ্টা উপজেলার কর্মকর্তাদের সাথে একটি মতবিনিময় করবেন। এরপর সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন। সেখানে শীত বস্ত্র বিতরণ কমসূচিও রয়েছে। মুরাদনগরবাসীর পক্ষ থেকে আয়োজিত সংবর্ধনার সব প্রস্তুতি ইতোমধ্যে সম্পন্ন।
মন্তব্য করুন


জুলাই
গণ-অভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারী যোদ্ধাদের আইনি সুরক্ষা দিতে উপদেষ্টা পরিষদে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের
দায়মুক্তি আইন অনুমোদন পেয়েছে।
বৃহস্পতিবার
(১৫ জানুয়ারি) রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে সমসাময়িক ইস্যুতে আয়োজিত ব্রিফিংয়ে
এ তথ্য জানিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের আইন বিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুল।
তিনি
বলেন, ‘জুলাই-আগস্টে রাজনৈতিক প্রতিরোধে ফৌজদারি মামলা থাকলে সরকার প্রত্যাহার করবে।
নতুন করে মামলা করা হবে না।
জুলাই
গণ-অভ্যুত্থানকারীদের বিরুদ্ধে কোথাও কোনো মামলা হয়েছে কি না, তা-ও খতিয়ে দেখা হচ্ছে
বলে জানিয়েছেন আইন উপদেষ্টা।
এর
আগে ৮ জানুয়ারি এক ফেসবুক পোস্টে আইন উপদেষ্টা জানিয়েছিলেন, ‘দায়মুক্তি অধ্যাদেশ’-এর
খসড়া চূড়ান্ত করা হয়েছে। জুলাই বিপ্লবের বীরদের ফ্যাসিস্ট সরকারের দোসরদের হাত থেকে
নিরাপদ রাখতে এবং তাদের প্রতিরোধমূলক কর্মকাণ্ডের স্বীকৃতি দিতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
মন্তব্য করুন


যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, জ্বালানি ও উন্নয়ন সহযোগিতা আরও গভীর করবেন বলে দৃঢ় প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক বিশেষ করে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, জ্বালানি ও উন্নয়ন সহযোগিতার ক্ষেত্রে আরও গভীর করতে দৃঢ়ভাবে অঙ্গীকারাবদ্ধ।
আজ সোমবার (১৫ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি (ইউএসটিআর) দপ্তরের সহকারী বাণিজ্য প্রতিনিধি ব্রেন্ডেন লিঞ্চের সঙ্গে বৈঠকে প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন ড. ইউনূস।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, আপনাদের সমর্থনের জন্য ধন্যবাদ, যা হয়েছে তাতে আমরা খুবই খুশি। এটি আমাদের অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি ৩১ জুলাই ঘোষিত ইউএসটিআরের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তের কথা উল্লেখ করেন, যেখানে বাংলাদেশের রপ্তানি পণ্যের ওপর পারস্পরিক শুল্কহার ৩৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২০ শতাংশ করা হয়েছে। ইউনূস এটিকে দুই দেশের বাণিজ্য সম্পর্কের একটি বড় মাইলফলক হিসেবে বর্ণনা করেন।
বৈঠকে দুপক্ষের মধ্যে বাণিজ্য ঘাটতি কমানোর কৌশল এবং তুলা ও সয়াবিনসহ যুক্তরাষ্ট্রের কৃষিজ পণ্য আমদানি বাড়াতে বাংলাদেশের আগ্রহ নিয়ে আলোচনা হয়। এ ছাড়া এলপিজি আমদানি, সিভিল এয়ারক্রাফট কেনা, মাদক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা এবং রোহিঙ্গা মানবিক সংকট নিয়েও কথা হয়।
প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস বলেন, বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি বাড়াতে প্রস্তুত। এতে আরও শুল্ক ছাড়ের পথ তৈরি হবে, যা দুই দেশের জন্য টেকসই ও লাভজনক বাণিজ্য অংশীদারত্বে সহায়তা করবে।
তিনি চলমান দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তির খসড়া দ্রুত সই হওয়ার বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেন। আমাদের স্বার্থ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ। তাই এ প্রক্রিয়া আরও সহজ ও আশাব্যঞ্জক, যোগ করেন তিনি।
এসময় প্রধান উপদেষ্টা যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবিত ১১ দফা শ্রম কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নের অগ্রগতি তুলে ধরেন এবং আন্তর্জাতিক শ্রমমান ও ন্যায্য বাণিজ্য অনুশীলন রক্ষার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন।
আগামী দিনে স্বাস্থ্য ও শিক্ষাসহ গুরুত্বপূর্ণ খাতে বিনিয়োগ ও স্বল্প সুদে ঋণপ্রবাহ বাড়ার আশা ব্যক্ত করে ড. ইউনূস বলেন, ‘বাংলাদেশের বাজারে যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগের দরজা যেন আরও প্রসারিত হয় তা নিশ্চিত করতে হবে।’
অন্তর্বর্তী সরকার বিদেশি প্রত্যক্ষ বিনিয়োগের পরিবেশ উন্নত করবে ইউএসটিআর টিমকে আশ্বস্ত করেন তিনি।
বাংলাদেশের গঠনমূলক ভূমিকার প্রশংসা করে ব্রেন্ডন লিঞ্চ বলেন, এ বছর ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠক থেকেই যে প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল, তা আলোচনাকে সহজ ও ফলপ্রসূ করেছে। তিনি বলেন, ‘আপনারা একটি শক্তিশালী ও কার্যকর আলোচক দল পাঠিয়েছিলেন।’
তিনি শুল্কচুক্তি ও ক্রয় প্রতিশ্রুতিগুলো সময়মতো বাস্তবায়নের গুরুত্বের ওপর জোর দেন।
বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন, জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান, ইউএসটিআর দক্ষিণ এশিয়া পরিচালক এমিলি অ্যাশবি, এসডিজিবিষয়ক সিনিয়র সচিব লামিয়া মুরশেদ, বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমান ও ঢাকায় নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স ট্রেসি অ্যান জ্যাকবসন।
মন্তব্য করুন


জাতীয়
পার্টিকে আওয়ামী লীগের সহযোগী দল আখ্যা দিয়ে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট
২০২৬-এ দলটির অংশগ্রহণের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন
রাজশাহী জেলার সাবেক সমন্বয়ক মো. নাহিদুল ইসলাম সাজু।
তিনি
বলেন, জাতীয় পার্টিকে নির্বাচনী প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে। রাজশাহীতে জাতীয় পার্টি
নির্বাচনে অংশগ্রহণ করলে এখানে কোনো নির্বাচন হতে দেওয়া হবে না।
বুধবার
(২১ জানুয়ারি) সকাল ১০টা ৫০ মিনিট থেকে দুপুর ১২টা ২০ মিনিট পর্যন্ত রাজশাহী জেলা প্রশাসকের
সম্মেলন কক্ষে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের মধ্যে প্রতীক বরাদ্দ অনুষ্ঠান চলাকালে এ
উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এ সময় রাজশাহী-০৩ (পবা-মোহনপুর) আসনে জাতীয় পার্টির
মনোনীত প্রার্থী মো. আফজাল হোসেনের প্রতীক বরাদ্দের প্রতিবাদ জানান নাহিদুল ইসলাম সাজু।
প্রতীক
বরাদ্দ অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, রাজশাহীতে যদি বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের কোনো সহযোগী বা
দোসরকে নির্বাচনী প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হয়, তাহলে জেলা প্রশাসক কার্যালয় ঘেরাও করা হবে
এবং রাজশাহীতে কোনো জাতীয় নির্বাচন হতে দেওয়া হবে না।
তার
এ বক্তব্যের পর পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা
আফিয়া আখতার তাকে লিখিত অভিযোগ দাখিল করার পরামর্শ দেন। তিনি জানান, অভিযোগ নির্বাচন
কমিশনে পাঠানো হবে এবং কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এরপর
নাহিদুল ইসলাম সাজু জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার মাধ্যমে নির্বাচন কমিশনার বরাবর একটি
স্মারকলিপি প্রদান করেন।
স্মারকলিপিতে
বলা হয়েছে, আসন্ন নির্বাচনে আওয়ামী লীগের সহযোগী জাতীয় পার্টিসহ তৎকালীন স্বৈরাচারী
শাসনব্যবস্থার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ব্যক্তি ও গোষ্ঠী মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন এবং
তাদের নির্বাচনী প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে, যা গভীর উদ্বেগজনক। এসব ব্যক্তি ও দল অতীতে
গণতন্ত্র ধ্বংস, ভোটাধিকার হরণ, মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং অবৈধ ক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে প্রত্যক্ষ
ও পরোক্ষভাবে ভূমিকা পালন করেছে।
এতে
আরও বলা হয়, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার এবং একটি সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত
করতে হলে স্বৈরাচার ও তার দোসরদের রাজনৈতিকভাবে প্রত্যাখ্যান করা জরুরি। সংবিধান, নির্বাচন
কমিশনের বিধিমালা এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের পরিপন্থি কর্মকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের
নির্বাচনে অংশগ্রহণ জনগণের সঙ্গে প্রতারণার শামিল। স্মারকলিপিতে উত্থাপিত দাবিসমূহ
হলো—
১.
আওয়ামী লীগের সহযোগী জাতীয় পার্টিসহ তৎকালীন স্বৈরাচারী শাসনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সকল
ব্যক্তি ও দলের মনোনয়নপত্র ও প্রতীক বরাদ্দ অবিলম্বে বাতিল করতে হবে।
২.
যেসব প্রার্থী অতীতে অবৈধ নির্বাচন, ভোট কারচুপি ও দমনপীড়নের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, তাদের
প্রার্থিতা যাচাই করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
৩.
নির্বাচনকে প্রভাবমুক্ত ও গ্রহণযোগ্য করতে নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষ ও সাহসী ভূমিকা
নিশ্চিত করতে হবে।
মন্তব্য করুন


বিএনপির
চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, তার দল আগামী নির্বাচনে জয়ী হয়ে সরকার গঠনে আত্মবিশ্বাসী।
একই সঙ্গে তিনি জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে জোট বা জাতীয় ঐক্য সরকার গঠনের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান
করেছেন।
বার্তা
সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘আমি কীভাবে আমার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে
নিয়ে সরকার গঠন করব, তাহলে বিরোধী দলে কে থাকবে?’ জামায়াতে ইসলামীর জোট সরকার গঠনের
প্রস্তাব প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি একথা বলেন। তিনি আরও বলেন, ‘তাদের আসন সংখ্যা কত
হবে আমি জানি না, তবে যদি তারা বিরোধী দলে থাকে, আমি আশা করি তারা একটি ভালো বিরোধী
দলের ভূমিকা পালন করবে।’তবে রয়টার্স স্মরণ করিয়ে দেয়, ২০০১
থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী একসঙ্গে বাংলাদেশ শাসন করেছিল।
সংবাদ
সংস্থাটি জানায়, ২০২৪ সালে কয়েক মাসের অস্থিরতায় দেশের বৃহৎ তৈরি পোশাক শিল্প মারাত্মকভাবে
ব্যাহত হওয়ার পর জামায়াত সম্প্রতি দেশকে স্থিতিশীল করতে জাতীয় ঐক্যের সরকার গঠনের লক্ষ্যে
অংশীদারিত্ব পুনর্নবায়নে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। পরিস্থিতি বর্ণনা করে রয়টার্স জানায়,
৬০ বছর বয়সী তারেক রহমান প্রায় দুই দশক লন্ডনে নির্বাসিত থাকার পর গত ডিসেম্বর দেশে
ফেরেন। ছাত্র-যুব নেতৃত্বাধীন এক গণঅভ্যুত্থানে দীর্ঘদিনের নেতা শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত
হওয়ার পর থেকে বাংলাদেশ একটি অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে পরিচালিত হচ্ছে। সংবাদ সংস্থাটি
আরও জানায়, বিএনপির সহযোগীরা বলছেন, ৩০০ আসনের মধ্যে দুই-তৃতীয়াংশের বেশি আসনে জয়ের
বিষয়ে দলটি আত্মবিশ্বাসী। বিএনপি ২৯২টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে এবং বাকি আসনে এর
মিত্ররা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে।
তবে
তারেক রহমান নির্দিষ্ট সংখ্যা বলতে রাজি হননি। তিনি বলেন, ‘আমরা আত্মবিশ্বাসী যে সরকার
গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় আসন আমরা পাব।’
বিভিন্ন
জনমত জরিপে বিএনপির বিজয়ের পূর্বাভাস দেওয়া হলেও জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোটের কাছ থেকে
কঠিন প্রতিদ্বন্দ্বিতার সম্ভাবনার কথাও বলা হয়েছে। ওই জোটে ছাত্র-যুব আন্দোলন থেকে
গড়ে ওঠা একটি ‘জেন জেড’ দলও রয়েছে।
বিশ্বের
সঙ্গে সুসম্পর্ক রয়টার্স মন্তব্য করে, গত বছর ঢাকার একটি আদালত দমন-পীড়নে ভূমিকার জন্য
শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ড দিলে ভারতের তাকে আশ্রয় দেওয়ার সিদ্ধান্তে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের
অবনতি ঘটে এবং এতে চীনের বিনিয়োগ ও রাজনৈতিক তৎপরতা বাড়ানোর সুযোগ সৃষ্টি হয়।
জয়ী
হলে ভারত থেকে সরে গিয়ে চীনের দিকে ঝুঁকবেন কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে তারেক রহমান
বলেন, প্রায় ১৭ কোটি ৫০ লাখ (১৭৫ মিলিয়ন) মানুষের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করতে
সক্ষম এমন অংশীদার বাংলাদেশের প্রয়োজন। তিনি বলেন, বিএনপি সরকার গঠন করলে তরুণদের জন্য
কর্মসংস্থান সৃষ্টি, দেশে ব্যবসা আনা এবং মানুষের জীবনমান উন্নত করার উদ্যোগ নিতে হবে।
তারেক
রহমান বলেন, ‘বাংলাদেশের স্বার্থ ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করে যে দেশ আমার জনগণ ও দেশের
জন্য উপযোগী প্রস্তাব দেবে, তাদের সঙ্গেই আমাদের বন্ধুত্ব থাকবে, কোনো নির্দিষ্ট দেশের
সঙ্গে নয়। নিরাপদ না হওয়া পর্যন্ত রোহিঙ্গারা থাকতে পারবে বিশ্বের অন্যতম ঘনবসতিপূর্ণ
এবং উচ্চ দারিদ্র্যহারসম্পন্ন দেশ বাংলাদেশে প্রায় ১২ লাখ (১.২ মিলিয়ন) রোহিঙ্গা মুসলিম
শরণার্থী আশ্রয় নিয়েছে।
এদের
অনেকেই প্রতিবেশী বৌদ্ধপ্রধান মিয়ানমারে একাধিক দমন অভিযানের মুখে পালিয়ে এসেছে, যেখানে
তাদের বহিরাগত হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
বাংলাদেশের
অন্তর্বর্তী সরকার গত বছর জানিয়েছিল, নানা চ্যালেঞ্জের কারণে শরণার্থীদের জন্য অতিরিক্ত
সম্পদ বরাদ্দ দেওয়ার সক্ষমতা তাদের নেই এবং তাদের নিজ দেশে প্রত্যাবাসনে আন্তর্জাতিক
সম্প্রদায়ের সহায়তা চেয়েছে।
বিএনপি
চেয়ারম্যান বলেন, তিনিও রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার পক্ষে, তবে তা অবশ্যই নিরাপদ
পরিস্থিতিতে হতে হবে।
তিনি
বলেন, ‘আমরা চেষ্টা করব যেন এই মানুষগুলো তাদের নিজ ভূমিতে ফিরে যেতে পারে। তবে সেখানে
পরিস্থিতি নিরাপদ হতে হবে। যত দিন নিরাপত্তা নিশ্চিত না হয়, তত দিন তারা এখানে থাকতে
স্বাগত।’
মন্তব্য করুন