

পৃথক দুইটি অভিযানে কুমিল্লা জেলার সদর দক্ষিণ মডেল থানাধীন উত্তর রামপুর ও কোতয়ালী মডেল থানাধীন পশ্চিম মাঝিগাছা এলাকা হতে ৯৮ বোতল ফেন্সিডিল ও ৩২ কেজি গাঁজা’সহ চারজন মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করেছে র্যাব-১১, সিপিসি-২।
নিয়মিত টহলের অংশ হিসাবে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র্যাব-১১, সিপিসি-২ এর একটি আভিযানিক দল গত ১৯ নভেম্বর রবিবার দুপুরে কুমিল্লা জেলার সদর দক্ষিণ মডেল থানাধীন উত্তর রামপুর এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে। উক্ত অভিযানে ৯৮ বোতল ফেন্সিডিল’সহ দুইজন মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃত মাদক ব্যবসায়ীদ্বয় হলো: নোয়াখালী জেলার সেনবাগ থানার বাতানিয়া গ্রামের মৃত মোঃ আনোয়ার হোসেন এর ছেলে আলী হোসেন রতন (২২) এবং সুনামগঞ্জ জেলার দোয়ার থানার দোয়ারগাঁও গ্রামের ইফসুফ আলী এর ছেলে আকির মিয়া রাকিব (২৫)।
পৃথক অন্য একটি অভিযানে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র্যাব-১১, সিপিসি-২ এর একটি আভিযানিক দল গত ১৯ নভেম্বর রবিবার রাতে কুমিল্লা জেলার কোতয়ালী মডেল থানাধীন পশ্চিম মাঝিগাছা এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে। উক্ত অভিযানে ৩২ কেজি গাঁজা’সহ দুইজন মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃত মাদক ব্যবসায়ীদ্বয় হলো: কুমিল্লা জেলার সদর দক্ষিণ মডেল থানার উত্তর রামপুর গ্রামের মোঃ আনোয়ার হোসেন এর ছেলে মোঃ সোহেল রানা (৩৯) এবং একই জেলার কোতয়ালী মডেল থানার আড়াইউড়া গ্রামের শামসুল হক এর ছেলে মোঃ সোহাগ (২৬)।
র্যাব জানায়, প্রাথমিক অনুসন্ধান ও গ্রেফতারকৃত মাদক ব্যবসায়ীদেরকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে, তারা দীর্ঘদিন যাবৎ নোয়াখালী, সুনামগঞ্জ, কুমিল্লা’সহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ফেন্সিডিল, গাঁজা’সহ বিভিন্ন ধরনের অবৈধ মাদকদ্রব্য ক্রয়-বিক্রয় ও সরবরাহ করে আসছিল বলে স্বীকার করে। উক্ত বিষয়ে গ্রেফতারকৃত আসামীদের বিরুদ্ধে কুমিল্লা জেলার সদর দক্ষিণ ও কোতয়ালী মডেল থানায় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
মন্তব্য করুন


শরীয়তপুরের
নড়িয়া উপজেলার ঘরিষার ইউনিয়নে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের প্রায় অর্ধশত নেতাকর্মী
বিএনপিতে যোগদান করেছেন।
শনিবার
(২৭ ডিসেম্বর) রাতে নড়িয়া উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আলহাজ মতিউর রহমান সাগরকে
ফুল দিয়ে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সদ্য পদত্যাগী সহ-সভাপতি আফজাল ফকির, স্বাস্থ্যবিষয়ক
সম্পাদক শাজাহান মল্লিক এবং স্বেচ্ছাসেবক লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক চান মিয়া কোতোয়ালের
নেতৃত্বে তারা বিএনপিতে যোগ দেন। এ সময় বিএনপি নেতা মতিউর রহমান সাগর নতুন যোগদানকারীদের
ফুল দিয়ে বরণ করে নেন।
এর
আগে ২২ ডিসেম্বর পনু সিকদার ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক নাজমুল রাড়ীর নেতৃত্বে আরও অর্ধশত
আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী বিএনপিতে যোগ দেন।
ঘরিষার
ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি দেলোয়ার হোসেন মাঝির সভাপতিত্বে এবং ছাত্রদলের সভাপতি
ইমরান সরদারের সঞ্চালনায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন নড়িয়া উপজেলা বিএনপির
সাংগঠনিক সম্পাদক আলহাজ্ব মতিউর রহমান সাগর।
এ
সময় বিএনপিতে নতুন যোগদানকারীরা, আফজাল ফকির, শাজাহান মল্লিক ও চান মিয়া কোতোয়াল বলেন,
শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের
নেতৃত্বে একটি সুখী-সমৃদ্ধ আগামীর বাংলাদেশ বিনির্মাণের লক্ষ্যে তারা বিএনপিতে যোগদান
করেছেন।
তারা
আরও বলেন, এই এলাকায় সাগর ভাইয়ের নেতৃত্বে জননেতা আলহাজ্ সফিকুর রহমান কিরণকে ধানের
শীষ প্রতীকে বিজয়ী করা হবে এবং ঘরিষা তথা নড়িয়াকে বিএনপির শক্তিশালী ঘাঁটিতে পরিণত
করা হবে, ইনশাআল্লাহ।
নড়িয়া
উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আলহাজ মতিউর রহমান সাগর বলেন, বিএনপি শান্তিপূর্ণ
ও সুস্থধারার রাজনীতিতে বিশ্বাস করে।
শহীদ
প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের
নেতৃত্বে একটি সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনে বিএনপি কাজ করে যাচ্ছে। নড়িয়া-সখিপুরের শান্তির
প্রতীক আলহাজ সফিকুর রহমান কিরণকে বিজয়ী করতে তারা বদ্ধপরিকর। এ কারণে নতুন যোগদানকারীদের
বিএনপির পতাকাতলে স্বাগত জানানো হয়েছে।
মন্তব্য করুন


বিভিন্ন
ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ এ বছর একুশে পদকের জন্য নয়জন বিশিষ্ট
ব্যক্তি এবং একটি সংগীত দলের নাম ঘোষণা করেছে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়। এ তালিকায়
প্রথমবারের মতো কোনো রক ব্যান্ড স্থান পেল।
এ
বছর একুশে পদক পাচ্ছেন—ফরিদা আক্তার ববিতা (চলচ্চিত্র), অধ্যাপক
মো. আব্দুস সাত্তার (চারুকলা), মেরিনা তাবাসসুম (স্থাপত্য), আইয়ুব বাচ্চু (সংগীত),
অর্থি আহমেদ (নৃত্য), ইসলাম উদ্দিন পালাকার (নাট্যকলা), শফিক রেহমান (সাংবাদিকতা),
অধ্যাপক ড. মাহবুবুল আলম মজুমদার (শিক্ষা) এবং তেজস হালদার যস (ভাস্কর্য)। এছাড়া এ
বছর একুশে পদক পাচ্ছে জনপ্রিয় রক ব্যান্ড ওয়ারফেইজ।
আজ
বৃহস্পতিবার ( ০৫ ফেব্রুয়ারি ) বিকেলে ঢাকার ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে এক ব্রিফিংয়ে প্রধান
উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম এ তথ্য জানান।
একুশে
পদক দেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় সম্মান। ভাষা আন্দোলনের স্মরণে বিভিন্ন ক্ষেত্রে
বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে প্রতি বছর এই পদক প্রদান করা হয়।
মন্তব্য করুন


এশিয়ান
নেটওয়ার্ক ফর ফ্রি ইলেকশনসের (আনফ্রেল) একটি নির্বাচনী পর্যবেক্ষক দল প্রধান উপদেষ্টা
প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছে।
আজ
বুধবার ( ১১ ফেব্রুয়ারি ) রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। সাত সদস্যের
সদস্যের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্বে ছিলেন রোহানা হেট্টিয়ারাচ্ছি ।
এ
সময় প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের এসডিজি বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক লামিয়া মোরশেদ এবং পররাষ্ট্র
মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
মন্তব্য করুন


মন্তব্য করুন


বিএনপি চেয়ারপার্সন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী
বেগম খালেদা জিয়াকে নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি
করা হয়েছে।
বুধবার (১১ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত
১টার পরে গুলশানের বাসা ফিরোজা থেকে হাসপাতালের উদ্দেশে রওনা দিয়ে ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া।
বেগম খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত চিকিৎসক
ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেনকে উদ্ধৃত করে বিএনপির মিডিয়া
সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান এ তথ্য জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, মেডিকেল বোর্ডের পরামর্শ
অনুযায়ী বিএনপি চেয়ারপার্সনের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হবে।
মন্তব্য করুন


অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস 'ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনা সরকার সবকিছু ধ্বংস করে গেছে' - উল্লেখ করে বলেছেন, নির্বাচনের আগে আমাদের অর্থনীতি, শাসনব্যবস্থা, আমলাতন্ত্র ও বিচারব্যবস্থায় সর্বাত্মক সংস্কার করতে হবে।
একটি গণমাধ্যমকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস।
সোমবার (২ ডিসেম্বর) প্রকাশিত হয় সাক্ষাৎকারটি।
বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার নির্বাচনী ব্যবস্থা, সংবিধান এবং বিচার ব্যবস্থার ক্ষেত্রে সংস্কারের জন্য বেশ কয়েকটি কমিশন গঠন করেছে। জানুয়ারির মধ্যে ওই কমিশনগুলোর সুপারিশ হাতে পাওয়ার পর পূর্ণাঙ্গ সংস্কার বাস্তবায়ন করার কথা জানান অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। উপদেষ্টা বলেন, 'এই সংস্কার বাস্তবায়নে সময় লাগবে, কেননা ‘নতুন বাংলাদেশ’গড়তে আমরা একদম শূন্য থেকে শুরু করেছি। '
নির্বাচন ঠিক কখন হবে সে বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস। প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস বলেছেন, ‘নির্বাচনের সময় নির্ভর করছে সংস্কার প্রক্রিয়ার ওপর। এর ফলাফলই সময় নির্ধারণ করে দেবে। ’
সাধারণ নির্বাচনে ড. ইউনূস প্রার্থী হবেন কি না জানতে চাইলে তিনি বিষয়টি নাকচ করে দিয়ে বলেন, ‘না, আমি রাজনীতিবিদ নই। আমি সব সময়ই রাজনীতি থেকে দূরে থেকেছি।’ রাষ্ট্রের যেসব ব্যক্তি নীতি-নৈতিকতা সমুন্নত রাখেন, নিয়মকানুন মেনে চলেন এবং নিজেকে দুর্নীতিমুক্ত রাখেন তাদের নির্বাচনে দাঁড়ানো উচিত বলে মনে করেন ড. ইউনূস।
প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস বলেন, ‘হাসিনার ১৫ বছরের শাসনামলে দেশের শাসনকাঠামো পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে, আর গণতন্ত্র, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও জনগণের আস্থা পুনরুদ্ধার করে তা পুনর্গঠনের সুবিশাল কর্মযজ্ঞ আমাদের ঘাড়ে এসে পড়েছে।'
প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস বলেন, ‘হাসিনার শাসনামলে গণতন্ত্রের রীতিনীতি একদম ধ্বংস হয়ে গেছে। টানা তিন মেয়াদে ভোটারবিহীন ভুয়া নির্বাচন মঞ্চস্থ করেছেন হাসিনা। আর তাতে তিনি নিজেকে এবং তার দলকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিজয়ী ঘোষণা করেছেন। একজন ফ্যাসিবাদী শাসক হিসেবে এসব করেছেন হাসিনা।'
প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস বলেন, 'এ বছরের আগস্টে ছাত্র নেতৃত্বাধীন সরকারি চাকরিতে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে কয়েকশ শিক্ষার্থী নিহত হন। এরপরই শিক্ষার্থীদের এই আন্দোলন হাসিনার পতনের আন্দোলনে রূপ নেয়। শেষ পর্যন্ত ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে হাসিনার ১৫ বছরের শাসনের অবসান ঘটে। তিনি হেলিকপ্টারে চড়ে ভারতে পালিয়ে যান। অক্টোবরে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল শেখ হাসিনা এবং তার বেশ কয়েকজন সহযোগীর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছে। ’
বিচারিক কার্যক্রম শেষে রায় হলে হাসিনার প্রত্যাবর্তনের বিষয়ে ভারতকে অবহিত করা হবে বলে জানান ড. ইউনূস। তিনি বলেন, ‘বিচার শেষে তার বিরুদ্ধে চূড়ান্ত রায় এলে আমরা ভারতের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে হাসিনাকে হস্তান্তরের অনুরোধ জানাব। এক্ষেত্রে উভয় দেশের স্বাক্ষরিত একটি আন্তর্জাতিক আইনের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ভারত এ আইন মানে কাজ করতে বাধ্য হবে।’
কূটনীতিক ফ্রন্টে বাংলাদেশের ভারতের সঙ্গে শক্তিশালী ও সহযোগিতাপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তোলা উচিত। এক্ষেত্রে ড. ইউনূস দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা সার্ককে পুনরুজ্জীবিত করার প্রস্তাব করেছেন। ভারত ও পাকিস্তানের বৈরী সম্পর্কের ফলে সার্ক কার্যত নিষ্ক্রিয় রয়েছে। সার্কের লক্ষ্যগুলোর মধ্যে রয়েছে- ইউরোপীয়ান ইউনিয়নের সদস্য দেশগুলোর মতো নিজেদের মধ্যে চলাফেরার স্বাধীনতা, আন্তঃসীমান্ত বাণিজ্য উৎসাহিত করা। সার্কের সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে ভারতকে পাকিস্তানের সঙ্গে উত্তেজনা নিরসনের আহ্বান জানান ড. ইউনূস।
এদিকে হাসিনার পতনের পর বাংলাদেশে সংখ্যালঘু হিন্দুদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে ভারত। তাদের দাবি বাংলাদেশে হিন্দুদের ঘরবাড়ি, ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান ও মন্দিরে ‘হামলা’ করা হয়েছে। এ বিষয়ে ঢাকাকে অবশ্যই হিন্দু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে বলে জোর দিয়েছে দিল্লি। তবে ভারত সরকারের এসব ঢালাও বক্তব্য নাকচ করে দেন ড. ইউনূস।
প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস বলেন, ‘সংখ্যালঘু ইস্যুতে যা বলা হচ্ছে তার বেশির ভাগই প্রোপাগান্ডা। ’ এগুলো সঠিক তথ্যের ওপর ভিত্তি করে বলা হচ্ছে না বলে পাল্টা অভিযোগ করেন ড. ইউনূস। তিনি ভারতীয় সাংবাদিকদের বাংলাদেশে এসে তদন্তসাপেক্ষে সঠিক তথ্য তুলে ধরার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, আমরা এসব অপ-তথ্যের বিরুদ্ধে ভারত সরকারকে ব্যাখ্যা দেওয়ার জন্য কাজ করছি।
অন্য আঞ্চলিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে ইউনূস চীনকে 'আমাদের বন্ধু' বলে অভিহিত করেন।
তিনি বলেন, সড়ক ও বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ থেকে শুরু করে সমুদ্রবন্দর পর্যন্ত তারা আমাদের বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করছে। তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশ বেইজিংয়ের সঙ্গে সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে।
দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় দেশগুলোর সংস্থা- আসিয়ানে বাংলাদেশের যোগ দেওয়ার বিষয়ে জোর দেন ড. ইউনূস। বাংলাদেশ আসিয়ানে যোগ দেয়াকে একটি প্রতিশ্রুতিশীল সুযোগ হিসেবে গ্রহণ করতে চায়। কারণ বাংলাদেশ বিশেষ করে ২০২৬ সালে জাতিসংঘের স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে বেরিয়ে আসার চেষ্টা করছে, এরপর বাংলাদেশ আর অগ্রাধিকারভিত্তিক শুল্ক সুবিধা পাবে না।
মালয়েশিয়া আগামী জানুয়ারি থেকে আসিয়ানের সভাপতি হতে যাচ্ছে। এ পরিপ্রেক্ষিতে ড. ইউনূস বলেন, তিনি মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে বাংলাদেশের সদস্যপদ নিয়ে আলোচনা করেছেন। তিনি বাংলাদেশকে আসিয়ানে স্বাগত জানাতে তার সদিচ্ছার কথা ব্যক্ত করেছেন। তবে এক্ষেত্রে বেশ কিছু ধাপ রয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস বলেন, বাংলাদেশের আসিয়ানে যোগ দেওয়ার ক্ষেত্রে প্রথম ধাপটি হবে আসিয়ানের সংজ্ঞা সংশোধনে একটি সর্বসম্মত রেজোল্যুশন নিশ্চিত করা। এর আগে আমরা আসিয়ানের একটি সেক্টরাল ডায়ালগ পার্টনার হিসেবে স্বীকৃতি অর্জনের আশা করছি। আসিয়ানের সদস্য দেশগুলো বাংলাদেশের এই প্রচেষ্টাকে সমর্থন করবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন ড. ইউনূস।
মিয়ানমারের সামরিক জান্তার দমন-পীড়ন থেকে বাঁচতে পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া বিপুল সংখ্যক রাষ্ট্রবিহীন ও নাগরিকত্বের প্রাধিকার-বঞ্চিত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী প্রসঙ্গে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা বলেন, 'এই দায় (রোহিঙ্গা) বাংলাদেশ কতদিন বহন করবে? রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে আমাদের একটি সুস্পষ্ট গন্তব্য ও একটি অভিন্ন লক্ষ্য ঠিক করা দরকার। '
বাংলাদেশ মিয়ানমারে জাতিসংঘ-শাসিত একটি নিরাপদ অঞ্চল প্রতিষ্ঠার পক্ষে প্রচার চালাচ্ছে।
প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস বলেন, এতে করে এই বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গা তাদের দেশেই আশ্রয়-শিবিরে থাকতে পারবে। সেখানকার পরিস্থিতি স্থিতিশীল হলে তাদের অন্য কোনো দেশে স্থানান্তর করার প্রয়োজন হবে না, তারা তাদের নিজেদের বাড়িঘরে ফিরে যেতে পারবে বলে উল্লেখ করেন মুহাম্মদ ইউনূস।
মন্তব্য করুন


বঙ্গবন্ধু
শেখ মুজিবুর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকীর দিনে বেশ কিছু
অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেছে ধানমন্ডি
৩২ নম্বরে। সেখানে শোক জানাতে যাওয়া
ব্যক্তিদের ফোন চেক ও
তাদের মারধর করার মতো অভিযোগও
রয়েছে। এছাড়াও এক ব্যক্তিকে প্রায়
নগ্ন করে নাচতে বাধ্য
করার একটি ভিডিও ভাইরাল
হয়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে।
এসব
অপ্রীতিকর ঘটনায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কেউ জড়িত কি
না সে বিষয়ে তদন্ত
করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন এর
সমন্বয়ক সারজিস আলম।
শুক্রবার
(১৬ আগস্ট) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অমর
একুশে হলে ১৫ আগস্টের
বিভিন্ন ঘটনা ও সমসাময়িক
ইস্যুতে গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা জানান।
সারজিস
বলেন, ১৫ আগস্ট রাজধানীর
ধানমন্ডি ৩২ সহ বিভিন্ন
জায়গায় কিছু অপ্রীতিকর ঘটনা
ঘটেছে, যা আমাদের গণ
অভ্যুত্থানের স্পিরিটের সাথে যায় না।
তাই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের
বাসভবনে শোক প্রকাশে ঘটে
যাওয়া বিতর্কিত কাজ নিয়ে তদন্ত
করা হচ্ছে। ১৫ আগস্ট ধানমন্ডিতে
মানবাধিকার লঙ্ঘন হয়েছে। কেউ যদি ১৫
আগস্ট ধানমন্ডিতে ফুল দিতে চায়
তাতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন বাধা দিতে পারে
না। বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকীর গাড়িতে হামলার অধিকার কারও নেই। তাই
এসবের সঙ্গে সমন্বয়ক বা অন্য কেউ
জড়িত থাকলে বহিষ্কার এবং ব্যবস্থা নেওয়া
হবে।
বৈষম্যবিরোধী
ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক সারজিস বলেন, ২০১৩ সালে আওয়ামী
লীগ পুলিশের মাধ্যমে হেজাফতে ইসলামের সমাবেশের সময় কান ধরে
ওঠবস করানোর সংস্কৃতি শুরু করেছিল। তবে
গতকাল ১৫ আগস্ট কান
ধরে ওঠবস করানো ও
মোবাইল চেক করাসহ ঘটে
যাওয়া কিছু কাজ বৈষম্যবিরোধী
ছাত্র আন্দোলনের উদ্দেশ্যের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়। আমরা ১৫
আগস্ট রাষ্ট্রীয় আয়োজনে শোক দিবস পালনের
পক্ষে না। তবে কেউ
ব্যক্তিগতভাবে শোক প্রকাশ করতে
চাইলে তাকে সম্মান জানাতে
হবে।
মন্তব্য করুন


জাতীয়
পর্যায়ে গৌরবোজ্জ্বল ও কৃতিত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ সাবেক প্রধানমন্ত্রী প্রয়াত
বেগম খালেদা জিয়াসহ ১৫ জন বিশিষ্ট ব্যক্তি এবং ৫টি প্রতিষ্ঠানকে এ বছরের স্বাধীনতা
পুরস্কার দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।
বৃহস্পতিবার
(৫ মার্চ) অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভা বৈঠকে পুরস্কারপ্রাপ্তদের তালিকা চূড়ান্ত করা হয়। সচিবালয়ে
অনুষ্ঠিত বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ
সচিব নাসিমুল গনি সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।
মন্ত্রিপরিষদ
সচিব জানান, স্বাধীনতা, গণতন্ত্র ও নারী শিক্ষাসহ দেশ গঠনে সার্বিক অবদানের জন্য সাবেক
প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে মরণোত্তর স্বাধীনতা পুরস্কার দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া
হয়েছে।
এ
ছাড়া মুক্তিযুদ্ধে অবদানের জন্য ফৌজদারহাট ক্যাডেট কলেজ এবং মেজর মোহাম্মদ আবদুল জলিলকে
(মরণোত্তর) পুরস্কার দেওয়া হচ্ছে।
পুরস্কারপ্রাপ্ত
অন্যদের মধ্যে রয়েছেন- বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে অধ্যাপক ড. জহুরুল করিম, চিকিৎসাবিদ্যায়
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, সাহিত্যে ড. আশরাফ সিদ্দিকী (মরণোত্তর), সংস্কৃতিতে এ
কে এম হানিফ (হানিফ সংকেত) ও বশির আহমেদ (মরণোত্তর), ক্রীড়ায় জোবেরা রহমান (লিনু),
পল্লী উন্নয়নে পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ)।
এ
ছাড়া সমাজসেবা ও জনসেবায় ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী (মরণোত্তর), এসওএস চিলড্রেন্স ভিলেজ
ইন্টারন্যাশনাল ইন বাংলাদেশ, সাইদুল হক, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র এবং মাহেরীন চৌধুরীকে
(মরণোত্তর) পুরস্কারের জন্য মনোনীত করা হয়েছে।
জনপ্রশাসনে
পিএইচডি কাজী ফজলুর রহমান (মরণোত্তর), গবেষণা ও প্রশিক্ষণে মোহাম্মদ আবদুল বাকী, অধ্যাপক
ড. এম এ রহিম ও অধ্যাপক ড. সুকোমল বড়ুয়া এবং পরিবেশ সংরক্ষণে আবদুল মুকিত মজুমদার
(মুকিত মজুমদার বাবু) স্বাধীনতা পুরস্কার পাচ্ছেন।
স্বাধীনতা
পুরস্কার দেশের সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা। জাতীয় জীবনে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ
প্রতিবছর সরকার এই পুরস্কার প্রদান করে থাকে।
মন্তব্য করুন


তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী, গণতান্ত্রিক আন্দোলনের প্রতীক এবং বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস।
এক শোকবার্তায় প্রধান উপদেষ্টা বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার ইন্তেকালে জাতি তার এক মহান অভিভাবককে হারাল। তাঁর মৃত্যুতে আমি গভীরভাবে শোকাহত ও মর্মাহত।
প্রফেসর ইউনূস বলেন, বেগম খালেদা জিয়া শুধুমাত্র একটি রাজনৈতিক দলের নেত্রীই ছিলেন না; তিনি ছিলেন বাংলাদেশের ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। তাঁর অবদান, তাঁর দীর্ঘ সংগ্রাম এবং তাঁর প্রতি জনগণের আবেগ বিবেচনায় নিয়ে সরকার চলতি মাসে তাঁকে রাষ্ট্রের অতিগুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি হিসেবে ঘোষণা করে।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, বাংলাদেশে গণতন্ত্র, বহুদলীয় রাজনৈতিক সংস্কৃতি এবং জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে তাঁর ভূমিকা স্মরণীয় হয়ে থাকবে। তাঁর আপোষহীন নেতৃত্বের ফলে গণতন্ত্রহীন অবস্থা থেকে জাতি বারবার মুক্ত হয়েছে, মুক্তির অনুপ্রেরণা পেয়েছে। দেশ ও জাতির প্রতি তাঁর অবদান জাতি শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে।
রাজনৈতিক মতপার্থক্য সত্ত্বেও জাতির কল্যাণে তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক যাত্রা, গণমুখী নেতৃত্ব এবং দৃঢ় মনোবল সব সময় পথ দেখিয়েছে। তাঁর মৃত্যুতে দেশ একজন অভিজ্ঞ ও পরীক্ষিত রাজনীতিককে হারাল।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী এবং বিএনপি’র চেয়ারপারসন, যিনি স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে গণতন্ত্র ফিরে পাওয়ার লড়াইয়ে নেতৃত্ব দেন।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, তাঁর স্বামী সাবেক রাষ্ট্রপতি ও সেনাপ্রধান, বীর মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমানের মৃত্যুর পর ১৯৮২ সালে গৃহবধূ থেকে রাজনীতির মাঠে আসা বেগম খালেদা জিয়ার বলিষ্ঠ নেতৃত্ব স্বৈরশাসক এরশাদের দীর্ঘ ৯ বছরের দুঃশাসনের পতন ঘটাতে প্রধান ভূমিকা রাখে।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার বহু কর্ম ও সিদ্ধান্ত দেশকে অনেক দূর এগিয়ে নিয়েছে। তিনি মেয়েদের জন্য অবৈতনিক শিক্ষা ও উপবৃত্তি চালু করেন, যা বাংলাদেশের নারী শিক্ষার অগ্রগতির ক্ষেত্রে একটি মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হয়।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, রাজনৈতিক জীবনে বেগম খালেদা জিয়া ভীষণভাবে সফল ছিলেন। তিনি কখনো কোনো নির্বাচনে পরাজিত হননি। ১৯৯১ থেকে ২০০১ সালের সাধারণ নির্বাচনগুলোতে তিনি পাঁচটি পৃথক সংসদীয় আসন থেকে নির্বাচিত হয়েছিলেন। ২০০৮ সালে তিনি যে তিনটি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন, সেখানেই তিনি জয়লাভ করেছিলেন।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ১৯৯১ সালে প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হওয়ার পর অর্থনৈতিক উদারীকরণের মাধ্যমে তিনি দেশের অর্থনীতির একটি মজবুত ভিত্তি স্থাপন করেন।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, শেখ হাসিনার ফ্যাসিবাদী শাসনামলে বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন সংগ্রাম ও প্রতিরোধের এক অনন্য প্রতীক। তাঁর আপোষহীন ভূমিকা দীর্ঘ লড়াই-সংগ্রামে জাতিকে দারুণভাবে অনুপ্রাণিত করেছে।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, রাজনৈতিক সাফল্যের কারণেই বেগম খালেদা জিয়া চরম রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়েছিলেন। মিথ্যা ও বানোয়াট মামলায় তাঁকে ১৭ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয় এবং দীর্ঘদিন কারাবাস করতে হয়েছিল।
বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে প্রধান উপদেষ্টা তাঁর শোকসন্তপ্ত পরিবার ও দলের নেতাকর্মীদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন।
জাতির এই অপূরণীয় ক্ষতির দিনে তিনি দেশবাসীকে শান্ত থাকার ও ধৈর্য ধারণের আহ্বান জানিয়েছেন এবং যার যার অবস্থান থেকে বেগম খালেদা জিয়ার জন্য দোয়া ও প্রার্থনা করার অনুরোধ করেছেন।
মন্তব্য করুন


নেকবর হোসেন, কুমিল্লা প্রতিনিধি :
কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের অধীনস্থ সকল অফিস প্রাঙ্গণকে শতভাগ তামাকমুক্ত করতে দ্রুত উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন প্রশাসক মোঃ শাহ আলম। তিনি বলেন, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করতে তামাকমুক্ত পরিবেশ গড়ে তোলার বিকল্প নেই। এ বিষয়ে আয়োজক সংস্থাগুলোর সহযোগিতা নিয়ে শিগগিরই বাস্তবায়ন কার্যক্রম শুরু করা হবে।
আজ বুধবার (১০ ডিসেম্বর) সকালে কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের অতীন্দ্রমোহন রায় সম্মেলন কক্ষে উবিনীগ (উন্নয়ন বিকল্পের নীতি নির্ধারণী গবেষণা) ও তাবিনাজ (তামাক বিরোধী নারী জোট) এর যৌথ আয়োজনে তামাকমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিতকরণের দাবিতে মতবিনিময় সভা প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথাগুলো বলেন।
সভায় তামাকের ভয়াবহ স্বাস্থ্যঝুঁকি, অর্থনৈতিক ক্ষতি ও পরিবেশগত বিপর্যয় বিষয়ে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন গবেষক হাসানুল হাসিব আল গালিব। তিনি পরোক্ষ ধূমপানের কারণে অধূমপায়ীদের ঝুঁকির বিষয়টি বিশেষভাবে তুলে ধরেন।
বক্তারা বলেন, সিটি কর্পোরেশনের বিভিন্ন অফিসে প্রতিদিন বিপুল সংখ্যক মানুষের সমাগম হয়। এই স্থানে ধূমপান হলে অধূমপায়ীরাও পরোক্ষ ধূমপানে আক্রান্ত হন। তাই সবার নিরাপত্তায় অফিস প্রাঙ্গণকে তামাকমুক্ত ঘোষণা করা জরুরি।
সভায় জানানো হয়, ইতোমধ্যে নারায়ণগঞ্জ ও গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনসহ বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানের অফিসসমূহ তামাকমুক্ত পরিবেশ ঘোষণা করেছে। কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনও দ্রুত এ উদ্যোগ বাস্তবায়ন করলে নাগরিক স্বাস্থ্য সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মত প্রকাশ করেন বক্তারা।
অনুষ্ঠানে আয়োজকদের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন এডমিন অফিসার সাইফুল ইসলাম, হিউম্যান ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশনের নির্বাহী পরিচালক পারভীন হাসান এবং প্রোগ্রাম অফিসার গোলাম মোস্তফা রনি। সভায় সিটি কর্পোরেশনের সব বিভাগের কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।
মন্তব্য করুন