

কুমিল্লার দাউদকান্দিতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনে নিহত দুই কিশোরের লাশ উত্তোলন করেছে পুলিশ।
মামলার তদন্ত কাজের স্বার্থে আদালতের নির্দেশে গতকাল শনিবার (২৬ অক্টোবর) তাদের লাশ কবর থেকে তোলা করা হয়েছে।
তারা হলেন, দাউদকান্দির সুকিপুর গ্রামের মৃত আব্দুল হামিদের ছেলে মো. রিফাত (১৬)। রিফাত উপজেলার সুন্দলপুর হাই স্কুলের দশম শ্রেণির ছাত্র ছিলেন। অপরজন দিনমজুর মো.বাবু মিয়া (২৩)। বাবু মিয়া উপজেলার তুজারভাঙ্গা গ্রামের অটোরিকশা চালক আব্দুল মান্নানের ছেলে।
গত ৪ আগস্ট দাউদকান্দিতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় রিফাত বুকে গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হন। ওইদিন রাতেই মারা যান রিফাত। পরদিন রিফাতের মরদেহ ময়নাতদন্ত ছাড়াই দাফন করে তার পরিবার।
এ ঘটনার ১৪ দিন পর ১৮ আগস্ট রিফাত হোসেনের মামা পরিচয়ে আব্দুর রাজ্জাক ফকির বাদী হয়ে দাউদকান্দি মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। এরপর গত ১ সেপ্টেম্বর রিফাত হত্যার ঘটনায় কুমিল্লার আদালতে আরেকটি হত্যা মামলা করেন তার মা নিপা বেগম। মামলাটির তদন্ত করছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।
দুই মামলাতেই সাবেক সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার আব্দুস সবুর, উপজেলা চেয়ারম্যান মেজর (অব.) মোহাম্মদ আলী সুমন, পৌর মেয়র নাইম ইউসুফ সেইন-সহ ইউপি চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগের চার শতাধিক নেতাকর্মীকে আসামি করা হয়েছে।
অপরদিকে, গত ৫ আগস্ট বিকেলে দাউদকান্দি মডেল থানার সামনে দিনমজুর মো. বাবু মিয়া (২৩) গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান। ময়নাতদন্ত ছাড়াই তাকে দাফন করা হয়। নিহত দিনমজুর বাবুর প্রতিবেশী লিটন আহম্মেদ পাভেল বাদী হয়ে ৪৮ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত ১৫০ জনকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন।
ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন না থাকায় আদালতের নির্দেশে তাদের দুজনের লাশ উত্তোলন করা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।
তাদের লাশ উত্তোলনের সময় উপস্থিত ছিলেন, দাউদকান্দি উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) রেদওয়ান ইসলাম ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা দাউদকান্দি মডেল থানার উপপরিদর্শক হারুনুর রশিদ।
দাউদকান্দি উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) রেদওয়ান ইসলাম জানান, আদালতের নির্দেশে আইনি কার্যক্রম পরিচালনার জন্য লাশ উত্তোলন করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের পর আবার লাশ স্বজনদের নিকট হস্তান্তর করা হবে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনের আলোকে পরবর্তী কার্যক্রম পরিচালিত হবে।
মন্তব্য করুন


কুমিল্লা ব্যাটালিয়ন (১০ বিজিবি) কর্তৃক
মাদক ও চোরাচালান বিরোধী অভিযানের সময় ৪০,০০০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট জব্দ করে।
আজ বুধবার (২৭ নভেম্বর) সন্ধ্যায় কুমিল্লা
ব্যাটালিয়ন (১০ বিজিবি) এর অধীনস্থ বৌয়ারা বাজার বিওপি এর বিশেষ টহলদল মাদক ও চোরাচালান
বিরোধী অভিযান পরিচালনা করে। উক্ত অভিযানে বিজিবি টহলদল কর্তৃক সীমান্ত পিলার ২০৮৫/২-এস
হতে ২০০ গজ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে সূর্যনগর নামক স্থান হতে ৪০,০০০ (চল্লিশ হাজার) পিস
ইয়াবা ট্যাবলেট জব্দ করে। জব্দকৃত মাদকদ্রব্যের সর্বমোট মূল্য ১,২০,০০,০০০/- (এক কোটি
বিশ লক্ষ) টাকা।
মন্তব্য করুন


কুমিল্লায় ৬৪ কেজি গাঁজা ও ৯৬ বোতল ফেন্সিডিলসহ
তিনজন মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করেছে র্যাব-১১, সিপিসি-২।
গতকাল (২৯ জুন) দুপুরে র্যাব-১১, সিপিসি-২ একটি বিশেষ আভিযানিক দল
গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কুমিল্লা জেলার চৌদ্দগ্রাম থানাধীন বসন্তপুর এলাকায় মাদক
বিরোধী অভিযান পরিচালনা করে তাদেরকে গ্রেফতার করে। এ সময় আসামীদের কাছ থেকে ৬৪
কেজি গাঁজা, ৯৬ বোতল ফেন্সিডিল ও মাদক পরিবহণ কাজে ব্যবহৃত দুইটি প্রাইভেটকার
উদ্ধার করা হয়।
গ্রেফতারকৃত আসামীরা হলো- ১। মোঃ আবু জোবায়ের হোসেন (৩৮) কুমিল্লা
জেলার চৌদ্দগ্রাম থানার বসন্তপুর গ্রামের হাফেজ নুর আহম্মদ এর ছেলে, ২। মোঃ ইসমাইল
হোসেন (২৫) একই গ্রামের শরীফ মোঃ ইউসুফ এর ছেলে এবং ৩। কবির হোসেন (৪২) কুমিল্লা
জেলার সদর দক্ষিণ মডেল থানার কুড়িয়াপাড়া গ্রামের মৃত চেরু মিয়া এর ছেলে।
র্যাব জানান, তারা দীর্ঘদিন ধরে জব্দকৃত প্রাইভেটকার দুইটি ব্যবহার
করে কুমিল্লার সীমান্তবর্তী এলাকা হতে মাদক দ্রব্য গাঁজা ও ফেন্সিডিল সংগ্রহ করে
কুমিল্লা জেলায় মাদক ব্যবসায়ী ও মাদক সেবীদের নিকট পাইকারি ও খুচরা মূল্যে বিক্রয়
করে আসছে। র্যাব-১১ এর মাদক বিরোধী ধারাবাহিক অভিযানের অংশ হিসেবে উক্ত অভিযান
পরিচালনা করা হয়। মাদকের মতো সামাজিক ব্যাধির বিরুদ্ধে র্যাব-১১ এর অভিযান
অব্যাহত থাকবে। গ্রেফতারকৃত আসামীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ
প্রক্রিয়াধীন।
মন্তব্য করুন


সময়ের পরিক্রমায় কুমিল্লার বন্যার পরিস্থিতির কোন কোন দিকে কিছুটা উন্নতি হলেও কোন কোন দিক এখন পর্যন্ত রয়ে গিয়েছে আগের মতই ।
তবে আশাজাগানিয়া বিষয়টি হলো মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত প্রচেষ্টা এবং মানুষের স্বতঃস্ফূর্তভাবে সাহায্যের হাত এগিয়ে দেওয়া বর্তমান পরিস্থিতিতে আগের চেয়ে অনেকটা আশার আলো নিয়ে এসেছে।
সাধারণ
মানুষ থেকে শুরু করে দেশের সর্বস্তরের মানুষের পাশাপাশি অন্যান্যদের মতো সহায়তার হাত
নিয়ে এগিয়ে এসেছে র্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটলিয়ন।
কুমিল্লায়
বন্যা দুর্গত অঞ্চলে মানুষের খাদ্য সহায়তা
দিতে এগিয়ে এসেছে র্যাব ১১, সিপিসি ২ কুমিল্লা।
সোমবার
দুপুর থেকে কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার বাকশিমুল ইউনিয়নের ফকির বাজার উচ্চ বিদ্যালয়
আশ্রয় কেন্দ্র, কালিকাপুর ডিগ্রি কলেজ আশ্রয় কেন্দ্র ও বকশিমুল বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়
আশ্রয় কেন্দ্র, আগ্গাপুর মোর্শেদা বেগম বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় আশ্রয় কেন্দ্র, ছয় গ্রাম
উচ্চ বিদ্যালয়, ছয়গ্রাম মাদ্রাসা ও পাঁচোড়া বিদ্যানিকেতনে ১৫ শত মানুষের মাঝে খাদ্য
সহায়তা দিয়েছে র্যাব ১১ সিপিসি-২ কুমিল্লা।
উল্লেখিত
আশ্রয় কেন্দ্র গুলোতে বুড়িচং উপজেলার পিতাম্বর,বাকশিমুল, কালিকাপুর, দক্ষিণ কালিকাপুর,বলরামপুর,মাধবপুর,মাশড়া,খোদাইতলি,জগৎপুর,যদুপুর,হরিপুরসহ
বিভিন্ন এলাকার লোকজন আশ্রয় নিয়েছেন।
র্যাব ১১ সিপিসি ২ কুমিল্লার কোম্পানি অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কমান্ডার মাহমুদুল হাসানের নেতৃত্বে এসকল ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করা হয়।
মন্তব্য করুন


মজিবুর রহমান পাবেল:
কুমিল্লায় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি ঠেকাতে এবার বাজার মনিটরিংয়ে নেমেছে সাধারণ শিক্ষার্থীরা। কুমিল্লা নগরীর বাজার মনিটরিং কাজ শুরু করেছেন। এক্ষেত্রে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম ও দ্রব্যমূল্যের তালিকা পর্যবেক্ষণ করে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলছেন তারা। দাম বেশি নিলে করা হচ্ছে সতর্কও।
সরেজমিনে দেখা যায়, শুক্রবার (১১ অক্টোবর) বিকালে নগরীর টমছমব্রীজ বাজার মনিটরিংয়ে যান বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের শিক্ষার্থীরা। এসময় কাঁচামাল, মাছ, মাংস, পেঁয়াজ-রসুন, মসলাসহ অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্য যাচাই করেন। তাদের এ কাজে সহায়তা করেন সাধারণ শিক্ষার্থীরাও।
অতিরিক্ত মূল্যে জিনিসপত্র বিক্রি না করার আহ্বান জানান শিক্ষার্থীরা। কোনো পণ্যের দাম অযথা বাড়ানো হয়, তবে ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন তারা।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের শিক্ষার্থী বাবুল আহমেদ বলেন, আমাদের বাজার মনিটরিং এ প্রশাসনকে গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করতে হবে এবং নতুন বাংলাদেশের নির্মাণে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। আমরা কাঁচাবাজার, মাছ বাজার, আড়ৎ, পাইকারি এবং খুচরা ব্যবসায়ীদের বিভিন্ন পণ্যের মূল্য পর্যবেক্ষণ করছি। সাধারণ মানুষের সবচেয়ে বড় ভোগান্তির জায়গা হলো নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম। এ কারণেই আমরা কুমিল্লার বিভিন্ন বাজারে মনিটরিং চালাচ্ছি।
মন্তব্য করুন


বর্ণাঢ্য আয়োজনে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষে প্রথম বর্ষে ভর্তিকৃত শিক্ষার্থীদের কেন্দ্রীয় নবীন বরণ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আজ বুধবার সকাল ১০ টায় র্যালি, কেক কাটা ও জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে দিনব্যাপী এই অনুষ্ঠান মালার শুরু হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোঃ হায়দার আলী। সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইসমাইল। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মাসুদা কামাল, ট্রেজারার অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সোলায়মান এবং প্রক্টর অধ্যাপক ড. মোঃ আব্দুল হাকিম। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন আয়োজক কমিটির আহ্বায়ক মোঃ আবদুল্লাহ আল মাহবুব।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোঃ হায়দার আলী আগত অতিথি, শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অভিনন্দন ও নবীন শিক্ষার্থীদের ফুলেল শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, আজকের এই দিনে আমি ঘোষণা দিচ্ছি, ২০২৫ সালের শুরুতেই দ্বিতীয় সমাবর্তন করবো। উচ্চ শিক্ষা ও গবেষণায় জোরদার করার লক্ষ্যে আমরা ইতিমধ্যেই ঘোষণা দিয়েছি এমফিল ও পিএইচডি ডিগ্রি চালু করার। আমাদের ২৩ শতাংশ শিক্ষর্থীদের জন্য আবাসনের ব্যবস্থা রয়েছে। আমরা চেষ্টা করবো আগামী এক বছরের মধ্যেই নতুন ক্যাম্পাসের চারটি হল খুলে দেওয়ার জন্য, যেন আবাসন ব্যবস্থা কিছুটা হলেও লাঘব হয়।
সম্মানিত অতিথি অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইসমাইল বলেন, একজন শিক্ষার্থীর জন্য তার বাবা-মায়ের যে অবদান সেটি কখনো ভুলার নয়। বিশ্ববিদ্যালয় একটা রঙিন জায়গা। একরাশ রঙিন স্বপ্ন নিয়ে তোমরা এখানে পা রেখেছো। এই রঙিন স্বপ্ন পূরণে তোমরা চলার পথে অনেক ভালো কিছু দেখবে, পাশাপাশি অনেক খারাপ কিছুও দেখবে। বিশ্ববিদ্যালয়ে যেহেতু ভর্তি হয়েছো, তোমাদের এখনই লক্ষ্য ঠিক করতে হবে। তাহলেই তোমার চলার পথ মসৃন হবে। আমরা চাই, তোমরা নবীন শিক্ষার্থীরা লক্ষ্য ঠিক করে পরিশ্রম ও অধ্যবসায়ের মাধ্যমে সফলতার সর্বোচ্চ শিখরে পৌঁছে যাও।
সবশেষে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হয়।
মন্তব্য করুন


চলমান অপারেশন অপারেশন ডেভিল হান্টে কুমিল্লার বিভিন্ন উপজেলায় অভিযান চালিয়ে গত গেল ২৪ ঘন্টায় আরো ৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ নিয়ে গেল ৬দিনে জেলায় মোট ৪৫ জনকে গ্রেপ্তার করেছে যৌথ বাহিনী।
গ্রেপ্তারকৃরা আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মী বলে জানা গেছে। কুমিল্লার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আরাফাতুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
পুলিশ জানায়, জেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে চলমান অপারেশন ডেভিল হান্টে ৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এদের বিরুদ্ধে মামলা, লিফলেট বিতরন ও নাশকতার অভিযোগ রয়েছে।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন, বুড়িচং পরিহলপাড়ার আওয়ামীলীগ কর্মী মোঃ মহিউদ্দিন (৪৭), চান্দিনা নাওতলা গ্রামের বাসিন্দা শ্রমিকলীগ নেতা মজনু মিয়া (৩৬), হোমনা উপজেলা যুবলীগের সদস্য মোঃ আরিফুল ইসলাম জনি (৪২) ও তিতাস উপজেলার ভিটিকান্দি ইউপির ২নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক নাসির উদ্দিন (৪০)।
মন্তব্য করুন


নেকবর হোসেন , কুমিল্লা প্রতিনিধি;
কুমিল্লার সদর দক্ষিণ উপজেলার বড় ধর্মপুর এলাকার লালমাই পাহাড়ে অনেক বছর ধরে একটি গুঞ্জন প্রচলিত–এখানে তেল-গ্যাসের সন্ধান মিলেছিল, বিদেশি কোম্পানি এসে খননও করেছিল; কিন্তু একটি অদৃশ্য হেলিকপ্টার এসে কূপ সিলগালা করে দেয়। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসায় এলাকাজুড়ে আবারও কৌতূহল সৃষ্টি হয়েছে।
বাংলাদেশে এখনও বড় আকারের খনিজ তেলের মজুত আবিষ্কৃত হয়নি। দেশের প্রধান জ্বালানি নির্ভরতা প্রাকৃতিক গ্যাসের ওপর। সিলেটের হরিপুর ও মৌলভীবাজারের বরমচাল ছাড়া উল্লেখযোগ্য তেল উৎপাদনের ইতিহাসও সীমিত। ফলে দেশের অধিকাংশ জ্বালানি তেল এখনও বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ২০১৭-১৮ সালের দিকে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানি (বাপেক্স) লালমাই এলাকায় অনুসন্ধান কার্যক্রম চালায়। সেখানে ‘লালমাই-১’ ও ‘লালমাই-২’ নামে দুটি কূপ খনন করা হয়। অনুসন্ধানের শুরুতে কিছু পরিমাণ তেলের অস্তিত্ব পাওয়া গেলেও পরীক্ষামূলক উত্তোলনে উৎপাদন খুবই কম ছিল। লালমাই-১ কূপ থেকে দৈনিক মাত্র ২০ থেকে ২৫ ব্যারেল তেল উত্তোলন সম্ভব হচ্ছিল। লালমাই-২ কূপে চাপ কম থাকায় সেটিও বাণিজ্যিক উৎপাদনের উপযোগী হয়নি।
কথিত আছে–প্রতিদিন অন্তত কয়েকশ ব্যারেল তেল উত্তোলন সম্ভব হলে একটি তেলকূপকে বাণিজ্যিকভাবে লাভজনক ধরা হয়। সেই তুলনায় লালমাইয়ের উৎপাদন ছিল খুবই সীমিত। এ ছাড়া তেলের সঙ্গে অতিরিক্ত পানি উঠে আসা, চাপ কমে যাওয়া এবং উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় প্রকল্পটি চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়নি। পরে নিরাপত্তা ও পরিবেশগত ঝুঁকি এড়াতে নিয়ম অনুযায়ী কূপগুলো স্থায়ীভাবে বন্ধ বা ‘প্লাগ অ্যান্ড অ্যাবানডন’ করা হয়।
মো. সিরাজ নামে স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, এখানে তেল-গ্যাস পাওয়া গিয়েছিল। আমরা নিজের চোখে দেখেছি। ২০০২ সালে কোরিয়ান কোম্পানি খনন করতে আসে। পরে তারা চলে যায়। হাজার-হাজার মিটার খনন করা হয়েছিল। এক সময় হেলিকপ্টার এসে এটি সিলগালা করে দেয়।
বড় ধর্মপুর এলাকার বাসিন্দা মো. শহীদ বলেন, এ জায়গাটা আমাদের বাড়ির পাশে। ছোটবেলা থেকে শুনে আসছি এটা সিসা ঢালাই দিয়ে বন্ধ করে রাখা হয়েছে। কিন্তু কেন বন্ধ করা হলো, কে করল আজও জানি না। সরকার চাইলে আবার অনুসন্ধান করতে পারে।
জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের মতে, পরিত্যক্ত তেল বা গ্যাসকূপ খোলা অবস্থায় রেখে দিলে গ্যাস লিক, অগ্নিকাণ্ড কিংবা ভূগর্ভস্থ পানি দূষণের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। তাই আন্তর্জাতিক নিয়ম অনুসরণ করে অলাভজনক কূপগুলো সিলগালা করা হয়।
পেট্রোবংলার উপব্যবস্থাপক সৈকত মাহমুদ বলেন, লালমাই এলাকায় অনুসন্ধান চালানো হলেও সেখানে বাণিজ্যিকভাবে লাভজনক তেলের মজুত পাওয়া যায়নি। ফলে কূপগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়।
মন্তব্য করুন


নেকবর হোসেন , কুমিল্লা প্রতিনিধি :
কুমিল্লা ব্যাটালিয়ন (১০ বিজিবি) সীমান্ত এলাকায় মাদক ও চোরাচালানবিরোধী অভিযানে ৩১ হাজার ৫০০ পিস টাপেন্টাডল ট্যাবলেট এবং বিপুল পরিমাণ ভারতীয় পুরাতন মোবাইল জব্দ করেছে।
বিজিবি সূত্রে জানা যায়, সোমবার (১ জুন) ভোর আনুমানিক ২টার দিকে কুমিল্লার বিবিরবাজার বিওপির গোলাবাড়ী পোস্টের একটি টহলদল দায়িত্বপূর্ণ সীমান্ত এলাকায় মাদক ও চোরাচালানবিরোধী অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় সীমান্ত থেকে প্রায় ১০০ গজ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে গোলাবাড়ী এলাকায় মালিকবিহীন অবস্থায় এসব মাদক ও চোরাচালানি পণ্য উদ্ধার করা হয়।
জব্দকৃত মালামালের মধ্যে রয়েছে ৩১ হাজার ৫০০ পিস টাপেন্টাডল ট্যাবলেট এবং বিপুল পরিমাণ ভারতীয় পুরাতন মোবাইল ফোন। উদ্ধারকৃত এসব পণ্যের আনুমানিক বাজারমূল্য ১ কোটি ১৩ লাখ ৮০ হাজার ৫০০ টাকা।
বিজিবি জানিয়েছে, সীমান্ত এলাকায় চোরাচালান ও আন্তঃসীমান্ত অপরাধ দমনে তাদের নিয়মিত অভিযান অব্যাহত রয়েছে। জব্দকৃত মালামাল বিধি মোতাবেক কাস্টমস কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দেওয়া অথবা প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষে ধ্বংস করা হবে।
সীমান্ত এলাকায় মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধে বিজিবির এমন অভিযান ভবিষ্যতেও চলমান থাকবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
মন্তব্য করুন


কুমিল্লায় ১৪,০০০ পিস ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেটসহ একজন মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করেছে র্যাব-১১, সিপিসি-২।
গতকাল (১২ মে) রাতে র্যাব-১১, সিপিসি-২ একটি বিশেষ আভিযানিক দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কুমিল্লা জেলার কোতয়ালী মডেল থানাধীন ভাটপাড়া এলাকায় মাদক বিরোধী অভিযান পরিচালনা করে আসামী সাগর (২০) নামক একজন মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করে। এ সময় আসামীর কাছ থেকে ১৪,০০০ পিস ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়।
গ্রেফতারকৃত আসামী সাগর কুমিল্লা জেলার কোতয়ালী মডেল থানার বরজলা গ্রামের মোঃ সিদ্দিক এর ছেলে।
র্যাব জানান, সে দীর্ঘদিন ধরে কুমিল্লার সীমান্তবর্তী এলাকা হতে মাদক দ্রব্য ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট সংগ্রহ করে কুমিল্লা জেলায় মাদক ব্যবসায়ী ও মাদক সেবীদের নিকট পাইকারি ও খুচরা মূল্যে বিক্রয় করে আসছে। র্যাব-১১ এর মাদক বিরোধী ধারাবাহিক অভিযানের অংশ হিসেবে উক্ত অভিযান পরিচালনা করা হয়। মাদকের মতো সামাজিক ব্যাধির বিরুদ্ধে র্যাব-১১ এর অভিযান অব্যাহত থাকবে। গ্রেফতারকৃত আসামীর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
মন্তব্য করুন


মজিবুর রহমান পাবেল,কুমিল্লা:
কুমিল্লায় ৫ লক্ষ টাকা যৌতুক না পেয়ে
দুই সন্তানের জননী নূরজাহান বেগম (৩০) নামের এক গৃহবধূর স্পর্শকাতর অঙ্গসহ শরীরের বিভিন্ন
জায়গায় গরম খুন্তির ছ্যাঁকা দিয়ে পুড়িয়ে দিয়েছে স্বামী ও শ্বশুরবাড়ীর লোকজন।
বুধবার (১৯ জুন) ভোরে জেলার আদর্শ সদর
উপজেলার শীমপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। বর্তমানে নূরজাহান কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের
বার্ণ ইউনিটে ভর্তি রয়েছেন।
ঘটনার পর বুধবার বিকেলে স্বামী খোরশেদ
আলম (৪৫) ও তার পরিবারের ৫ সদস্যের বিরুদ্ধে কোতয়ালী থানায় অভিযোগ দায়ের করেন ভুক্তভোগীর
বাবা জয়নাল আবেদীন।
মামলা দায়েরের পর পুলিশ প্রধান আসামি
ভুক্তভোগী গৃহবধূর ভাশুর ও তার স্ত্রী এবং আরেক জা–কে আটক করে আদালতে পাঠিয়েছে।
অভিযোগপত্র থেকে জানা যায়, যৌতুকের
টাকা না পেয়ে ভোর রাতে ঘুমন্ত অবস্থায় স্বামী ও শ্বশুরবাড়ীর লোকজন মিলে মারধর করে দড়ি
দিয়ে বেঁধে রাখেন নূরজাহানকে। একপর্যায়ে গরম খুন্তি দিয়ে গোপনাঙ্গ ও শরীরের বিভিন্ন
অঙ্গ পুড়িয়ে দেয় তারা। সকালে গুরুতর অবস্থায় স্থানীয়রা কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে
নিয়ে যায়।
নূরজাহানের বাবা জয়নাল আবেদীন বলেন,
শ্বশুরবাড়ীর লোকজন যৌতুকের জন্য দীর্ঘদিন ধরে আমার মেয়েকে হুমকি-ধমকি দিয়ে আসছিল। আমি
এর আগে কয়েকবার তাদের সাথে বসে বিষয়টি সমাধান করি।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই আনোয়ার
হোসেন বলেন, তিন আসামিকে একদিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। অপর আসামিদের ধরতে
অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। ভুক্তভোগী নারীর ৯ বছর বয়সী এক শিশুকন্যা ও ১২ বছরের একটি
ছেলে রয়েছে।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল)
মো: কামরান হোসেন বলেন, হাসপাতালে গিয়ে শারীরিক নির্যাতনের শিকার গৃহবধূর বক্তব্য রেকর্ড
করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় তার স্বামীসহ ৬ জনের নামে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। ৩ জনকে পুলিশ
আটক করেছে। বাকিদেরও আটকের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
মন্তব্য করুন