

নেকবর হোসেন, কুমিল্লা প্রতিনিধি:
কুমিল্লা–০৬ (সদর, সদর দক্ষিণ, সিটি কর্পোরেশন ও সেনানিবাস) আসনে বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা হাজী আমিন উর রশিদ ইয়াছিনকে দলীয় মনোনয়ন দেওয়ার দাবিতে টানা নয়দিন ধরে ধারাবাহিক কর্মসূচি পালন করছেন স্থানীয় নেতাকর্মীরা। এই আন্দোলনের অংশ হিসেবে মঙ্গলবার (১১ নভেম্বর) সন্ধ্যায় নগরীতে বিশাল মশাল মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। এতে কয়েক হাজার নেতাকর্মী অংশ নেন বলে আয়োজকরা দাবি করেন।
সন্ধ্যায় টাউন হল মাঠ থেকে মশাল মিছিলটি শুরু হয়। এরপর মিছিলটি নগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে পূবালী চত্বরে এসে সমাবেশ করে। পুরো সমাবেশ ও মিছিলজুড়ে নেতাকর্মীরা শ্লোগান দিতে থাকেন— “কুমিল্লা–৬ জনতার দাবি, ইয়াছিন ভাইয়ের মনোনয়ন এবার চাই”, “ত্যাগীর মর্যাদা দিতে হবে, ইয়াছিন ভাইকে মনোনয়ন দিতে হবে”,
"১৭ বছর যাকে পাই নেতা মোদের ইয়াছিন ভাই", "জেল জুলুম জামিনে যাকে পাই নেতা মোদের ইয়াছিন ভাই", "এই কুমিল্লার মাটি ইয়াছিন ভাইয়ের ঘাটি","এক দুই তিন চার মনির চৌধুরী, কুমিল্লা ছাড়", "উড়ে এসে নমিনেশন, মানি না মানবো না"।
মিছিলের একাধিক অংশে দেখা যায়, নেতাকর্মীরা হাতে মশাল, ব্যানার ও ফেস্টুন নিয়ে দলের স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় নেতাদের উদ্দেশে ইয়াছিনকে মনোনয়ন দেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছেন।
সমর্থকরা জানান, গত ৩ নভেম্বর রাতে মহাসড়ক অবরোধের মধ্য দিয়ে এই আন্দোলনের সূচনা হয়। পরদিন ৪ নভেম্বর নগরীর কান্দিরপাড়সহ বিভিন্ন এলাকায় মশাল মিছিল বের করা হয়। ৫ নভেম্বর নারী সমর্থকদের উদ্যোগে নারীদের সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
৬ নভেম্বর নফল রোজা রেখে সমর্থকেরা সন্ধ্যায় গণ–ইফতারের আয়োজন করেন। ৭ নভেম্বর জুমার নামাজের পর নগরীর বিভিন্ন মসজিদে বিশেষ দোয়া ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। ৮ নভেম্বর কান্দিরপাড় পূর্বালী চত্বরে অবস্থান কর্মসূচির মাধ্যমে মনোনয়ন দাবিতে চাপ বাড়ানো হয়।
৯ নভেম্বর কারা–নির্যাতিত বিএনপি নেতাকর্মীদের পরিবারের পক্ষ থেকে সংবাদ সম্মেলন করে হাজী ইয়াছিনের পক্ষে মানবিক ও রাজনৈতিক যুক্তি তুলে ধরা হয়। আর ১০ নভেম্বর স্থানীয় তরুণদের উদ্যোগে ‘তারুণ্যের সমাবেশ’ অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে বক্তারা ইয়াছিনকে “সৎ, ত্যাগী ও এলাকার উন্নয়ন–বান্ধব নেতা” হিসেবে তুলে ধরে মনোনয়ন দেওয়ার দাবি জানান।
টানা কর্মসূচির নবম দিনে অনুষ্ঠিত হলো মঙ্গলবারের মশাল মিছিল। নেতাকর্মীদের দাবি, কুমিল্লা–৬ আসনে ত্যাগী, গ্রহণযোগ্য এবং শ্রমীচেতন রাজনীতিক হিসেবে হাজী ইয়াছিনই হচ্ছেন এলাকার মানুষের পছন্দের প্রার্থী।
নেতাকর্মীরা আরও জানান, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।
মন্তব্য করুন


মন্তব্য করুন


নেকবর হোসেন, কুমিল্লা প্রতিনিধি:
বিভাগের দাবিতে বিক্ষোভে অংশ নিয়ে ঢাকা থেকে ফেরার পথে ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণের জন্য নোয়াখালীর একটি যাত্রীবাহী বাস আটকে দিয়েছে কুমিল্লার বিক্ষুদ্ধ জনতা। কুমিল্লাকে নিয়ে কুরুচিপূর্ণ স্লোগান দেওয়ায় বাসটি আটকে দেওয়া হয়।
শনিবার (১১ অক্টোবর) সন্ধ্যায় কুমিল্লার পদুয়ার বাজার বিশ্বরোড এলাকায় লাল সবুজ নামের বাসটি আটকে দেওয়া হয়। পরে পুলিশ প্রশাসনের হস্তক্ষেপে সরি বলায় বাসটি ছেড়ে দেন বিক্ষুব্ধরা। কুমিল্লা জেলা পুলিশের দক্ষিণ সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মুস্তাইন বিল্লাহ ফেরদৌস বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশ জানায়, ঢাকায় বিভাগের আন্দোলন শেষে বাসে করে নোয়াখালীর দিকে ফেরেন আন্দোলনে অংশ নেওয়া নোয়াখালীর মানুষ। শনিবার সন্ধ্যায় নোয়াখালী ফেরার পথে কুমিল্লা অংশে এলে কুমিল্লাকে নিয়ে কুরুচিপূর্ণ স্লোগান দিতে থাকেন বাসের জানালা খুলে। তাতে ক্ষুব্ধ হন কুমিল্লার বিভাগ আন্দোলনের অংশীজনরা।
সন্ধ্যা ৭টার দিকে নোয়াখালীগামী লাল সবুজ পরিবহন নামের একটি যাত্রীবাহী বাস কুমিল্লা পদুয়ার বাজার বিশ্বরোড এলাকায় এলে ফুটওভার ব্রিজের নীচে আটক করেন কুমিল্লার বিক্ষুদ্ধ জনতা।
খবর পেয়ে সদর দক্ষিণ মডেল থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সেলিম ঘটনাস্থলে যান তার ফোর্স নিয়ে। পরে স্থানীয় গণ্যমান্যদের মাধ্যমে কুরুচিপূর্ণ স্লোগান দেওয়া নোয়াখালীর মানুষেরা সরি বলায় বাসটিকে ছেড়ে দেন আটককারীরা।
সহকারী পুলিশ সুপার মুস্তাইন বিল্লাহ ফেরদৌস বলেন, বাসে থাকা লোকজন জানালা দিয়ে মাথা বের করে কুরুচিপূর্ণ স্লোগান দেওয়ায় বিক্ষুদ্ধরা বাসটিকে আটক করেন। পরে সরি বলায় বাসটি ছেড়ে দেন বিক্ষুব্ধরা। ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। পরিস্থিতি এখন স্বাভাবিক।
মন্তব্য করুন


কুমিল্লায়
৪০ কেজি গাঁজা’সহ একজন মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করেছে র্যাব-১১, সিপিসি-২।
গত
১০ মার্চ র্যাব-১১, সিপিসি-২ এর একটি বিশেষ আভিযানিক দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে
কুমিল্লা জেলার সদর দক্ষিন মডেল থানাধীন মঠ পুষ্কুরুনী সাকিনস্থ কোটবাড়ী বিশ্বরোড
এলাকায় মাদক বিরোধী অভিযান পরিচালনা করে। উক্ত অভিযানে মোঃ ফজল মিয়া (৫৫) নামক একজন
মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করে। এ সময় আসামীর কাছ থেকে ৪০ কেজি গাঁজা ও মাদক পরিবহণ
কাজে ব্যবহৃত ১ টি ব্যাটারী চালিত অটোমিশুক উদ্ধার করা হয়।
গ্রেফতারকৃত
আসামী মোঃ ফজল মিয়া (৫৫) কিশোরগঞ্জ জেলার বাজিতপুর থানার কলাহাটি দুলালপুর গ্রামের
মৃত আক্কাস মিয়া এর ছেলে। আসামী বর্তমানে কুমিল্লা জেলার কোতয়ালী মডেল থানাধীন
বামৈল, শিবের বাজার এলাকায় বসবাস করে।
র্যাব
জানান, সে দীর্ঘদিন ধরে কুমিল্লার সীমান্তবর্তী এলাকা হতে মাদকদ্রব্য গাঁজা সংগ্রহ
করে কুমিল্লা সহ দেশের বিভিন্ন স্থানে মাদক ব্যবসায়ী ও মাদক সেবীদের নিকট পাইকারি
ও খুচরা মূল্যে বিক্রয় করে আসছে। র্যাব-১১ এর মাদক বিরোধী ধারাবাহিক অভিযানের অংশ
হিসেবে উক্ত অভিযান পরিচালনা করা হয়। মাদকের মতো সামাজিক ব্যাধির বিরুদ্ধে র্যাব-১১
এর অভিযান অব্যাহত থাকবে। গ্রেফতারকৃত আসামীর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ
প্রক্রিয়াধীন।
মন্তব্য করুন


কুমিল্লায় ৪০ কেজি গাঁজা’সহ দুইজন মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার
করেছে র্যাব-১১ সিপিসি-২।
৭ নভেম্বর রাতে র্যাব-১১,
সিপিসি-২ এর একটি বিশেষ আভিযানিক দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কুমিল্লা জেলার কোতয়ালী
মডেল থানাধীন তৈলকুপি এলাকায় মাদক বিরোধী অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে অভিনব কৌশলে
পিকআপ ভ্যানের বডির ভিতরে গোপন প্রকোষ্ঠ বানিয়ে মাদকদ্রব্য গাঁজা পরিবহণের সময় আসামী
১। মোহসীন এবং ২। হৃদয় জীবন নামের দুইজন মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করে। এ সময় আসামীদ্বয়ের
কাছ থেকে ৪০ কেজি গাঁজা ও মাদক পরিবহণ কাজে ব্যবহৃত একটি পিকআপ উদ্ধার করা হয়।
গ্রেফতারকৃত আসামীরা
হলো: ১। মোহসীন (৫৮) মুন্সীগঞ্জ জেলার টংগীবাড়ি থানার ধীরপুর গ্রামের আবুল কাশেম এর
ছেলে এবং ২। হৃদয় জীবন (১৯) কুমিল্লা জেলার বুড়িচং থানার মিরপুর গ্রামের জাকির হোসেন
এর ছেলে।
র্যাব জানান, তারা
দীর্ঘদিন ধরে কুমিল্লার সীমান্তবর্তী এলাকা হতে মাদক দ্রব্য গাঁজা সংগ্রহ করে কুমিল্লা
সহ অন্যান্য জেলায় মাদক ব্যবসায়ী ও মাদক সেবীদের নিকট পাইকারি ও খুচরা মূল্যে বিক্রয়
করে আসছে। এছাড়াও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ এড়াতে তারা বিভিন্ন সময় বিভিন্ন অভিনব কৌশল
অবলম্বন করে মাদকদ্রব্য পরিবহণ করতো। র্যাব-১১ এর মাদক বিরোধী ধারাবাহিক অভিযানের
অংশ হিসেবে উক্ত অভিযান পরিচালনা করা হয়। মাদকের মতো সামাজিক ব্যাধির বিরুদ্ধে র্যাব-১১
এর অভিযান অব্যাহত থাকবে। গ্রেফতারকৃত আসামীদ্বয়ের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ
প্রক্রিয়াধীন।
মন্তব্য করুন


কুমিল্লা
সদর উপজেলার বিষ্ণপুর সীমান্তে হুন্ডির মাধ্যমে ভারতে পাচারকালে নগদ ২৮ লক্ষ টাকা সহ
একজন পাচারকারীকে আটক করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।
বিজিবি’র কুমিল্লা ব্যাটালিয়ন (১০
বিজিবি) এর অধীন বিবিরবাজার বিওপি’র
আওতাধীন কটকবাজার পোস্টের একটি বিশেষ টহল দল গতকাল শুক্রবার (১৩ জুন ২০২৫) সন্ধ্যা
৬টা নাগাদ সীমান্ত এলাকার বিষ্ণপুর নামক স্থানে এ অভিযান পরিচালনা করে।
আটককৃত
ব্যক্তির হলেন- কুমিল্লা ব্রাহ্মণপাড়া থানাধীন তেতাভূমি গ্রামের বাবুল মিয়ার ছেলে ফোরকান উদ্দিন (৩৫)
বিজিবি
সূত্রে জানা যায়, সীমান্ত শূন্য রেখা থেকে প্রায় ১০০ গজ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে সন্দেহজনকভাবে
ঘোরাফেরা করার সময় ফোরকানকে আটক করা হয়। পরে তার দেহ ও সঙ্গে থাকা ব্যাগ তল্লাশি করে
উদ্ধার করা হয় ২৮ লক্ষ নগদ টাকা এবং দুটি মোবাইল ফোন।
বিজিবি
জানায়, আটক ব্যক্তি এ অর্থ হুন্ডির মাধ্যমে ভারতে পাচারের চেষ্টা করছিল। জব্দকৃত অর্থ
ও মালামালের মোট মূল্য ২৮ লক্ষ ৩০ হাজার টাকা।
আটক
ফোরকান উদ্দিনকে নগদ টাকা ও জব্দকৃত আলামতসহ কুমিল্লা কোতয়ালী থানায় হস্তান্তর করা
হয়েছে।
বিজিবি
কুমিল্লা ব্যাটালিয়ন (১০ বিজিবি) এর পক্ষ থেকে জানানো হয়, সীমান্ত এলাকায় দেশের সার্বভৌমত্ব
রক্ষা ও আন্তঃসীমান্ত অপরাধ দমনে বিজিবি নিরবচ্ছিন্নভাবে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে।
চোরাচালান ও হুন্ডি প্রতিরোধে বিজিবির অভিযান চলমান থাকবে।
মন্তব্য করুন


কুমিল্লায়
২৮ কেজি গাঁজাসহ দুইজন মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করেছে র্যাব-১১, সিপিসি-২ ।
আজ রবিবার (২০ অক্টোবর)
সকালে র্যাব-১১, সিপিসি-২ এর একটি বিশেষ আভিযানিক দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কুমিল্লা
জেলার বুড়িচং থানাধীন ময়নামতি এলাকায় মাদক বিরোধী অভিযান পরিচালনা করে আসামী ১। স্বপন
বিশ্বাস এবং ২। বেল্লাল হোসেন নামের দুইজন মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করে। এ সময় আসামীদ্বয়ের
কাছ থেকে ২৮ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়।
গ্রেফতারকৃত আসামী
১। স্বপন বিশ্বাস (৩৩) বি.বাড়িয়া জেলার সদর থানার ভাদুগর গ্রামের কালিপদ বিশ্বাস এর
ছেলে এবং ২। বেল্লাল হোসেন (৪৫) একই জেলার কসবা থানার আকাপপুর গ্রামের আঃ রাজ্জাক এর
ছেলে।
র্যাব জানান, গ্রেফতারকৃত আসামীদ্বয়কে জিজ্ঞাসাবাদে আরো জানায় যে, তারা দীর্ঘদিন ধরে কুমিল্লার সীমান্তবর্তী এলাকা হতে মাদকদ্রব্য গাঁজা সংগ্রহ করে কুমিল্লাসহ বিভিন্ন স্থানে মাদক ব্যবসায়ী ও মাদক সেবীদের নিকট পাইকারি ও খুচরা মূল্যে বিক্রয় করে আসছে। র্যাব-১১ এর মাদক বিরোধী ধারাবাহিক অভিযানের অংশ হিসেবে উক্ত অভিযান পরিচালনা করা হয়। মাদকের মতো সামাজিক ব্যাধির বিরুদ্ধে র্যাব-১১ এর অভিযান অব্যাহত থাকবে। গ্রেফতারকৃত আসামীদ্বয়ের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন।
মন্তব্য করুন


কুমিল্লা সেনানিবাসে অবস্থিত ময়নামতি গলফ এন্ড কান্ট্রি ক্লাবে ' প্রথম রানার কাপ গলফ টুর্নামেন্ট - ২০২৪ অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (
২ নভেম্বর) সকালে অনুষ্ঠিত উক্ত টুর্নামেন্টে বিভিন্ন সেনানিবাস থেকে শতাধিক গলফার অংশগ্রহণ করেন। ময়নামতি গলফ কান্ট্রি ক্লাবের মাঠে রঙিন বেলুন ও পায়রা উড়িয়ে টুর্নামেন্টের উদ্বোধন করেন, ময়নামতি গলফ এন্ড কান্ট্রি ক্লাবের সভাপতি এবং ৩৩ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি মেজর জেনারেল আবুল হাসনাত মোহাম্মদ তারিক।
এ সময় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, রানার গ্রুপের চেয়ারম্যান হাফিজুর রহমান খান। টুর্নামেন্ট শেষে বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করেন, জিওসি মেজর জেনারেল আবুল হাসনাত মোহাম্মদ তারিক।
মন্তব্য করুন


কুমিল্লায়
১৯.৫ কেজি গাঁজাসহ একজন মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার র্যাব-১১, সিপিসি-২।
আজ রবিবার (১ ডিসেম্বর)
বিকালে র্যাব-১১, সিপিসি-২ এর একটি বিশেষ আভিযানিক দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কুমিল্লা
জেলার চৌদ্দগ্রাম থানাধীন রাঙ্গামাটিয়া এলাকায় মাদক বিরোধী অভিযান পরিচালনা করে। উক্ত
অভিযানে আসামী মোঃ ইয়াছিন নামের একজন মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করে। এ সময় আসামীর কাছ
থেকে ১৯.৫ কেজি গাঁজা ও মাদক পরিবহণ কাজে ব্যবহৃত একটি প্রাইভেটকার উদ্ধার করা হয়।
গ্রেফতারকৃত আসামী
মোঃ ইয়াছিন (৪০) মুন্সিগঞ্জ জেলার গজারিয়া থানার উত্তর সাহাপুর গ্রামের মৃত ইন্নত আলী
এর ছেলে।
র্যাব জানান, সে
দীর্ঘদিন ধরে জব্দকৃত প্রাইভেটকার ব্যবহার করে কুমিল্লার সীমান্তবর্তী এলাকা হতে মাদকদ্রব্য
গাঁজা সংগ্রহ করে কুমিল্লাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে মাদক ব্যবসায়ী ও মাদক সেবীদের নিকট
পাইকারি ও খুচরা মূল্যে বিক্রয় করে আসছে। র্যাব-১১ এর মাদক বিরোধী ধারাবাহিক অভিযানের
অংশ হিসেবে উক্ত অভিযান পরিচালনা করা হয়। মাদকের মতো সামাজিক ব্যাধির বিরুদ্ধে র্যাব-১১
এর অভিযান অব্যাহত থাকবে। গ্রেফতারকৃত আসামীর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন।
মন্তব্য করুন


মজিবুর
রহমান পাবেল,
প্রতিবেদক:
কুমিল্লার দেবীদ্বারে ভ্যানচালক শফিউল্লাহকে নৃশংসভাবে চোখ উপড়িয়ে হত্যার প্রধান আসামী মোঃ রাছেল হোসেন (৩৫)কে গ্রেফতার করেছে র্যাব-১১, সিপিসি- ২ ।
র্যাব জানায়, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ও তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় ১৭ মে শনিবার রাতে পটুয়াখালী জেলার বাউফলের নগরের হাট এলাকা থেকে অভিযান পরিচালনা করে উক্ত হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত প্রধান আসামী মোঃ রাছেল হোসেনকে গ্রেফতার করা হয়। সে , দেবীদ্বার উপজেলার আন্দিরপাড় গ্রামের পিতা-মোঃ কিরনের পুত্র।
র্যাব-১১, সিপিসি-২, কুমিল্লার কোম্পানী কমান্ডার মাহমুদুল হাসান জানান, গ্রেফতারকৃত আসামী উক্ত হত্যাকান্ডের সাথে তার সম্পৃক্ততার বিষয়ে তথ্য প্রদান করে। গ্রেফতারকৃতের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য কুমিল্লা জেলার দেবীদ্বার থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ০৬ মে ২০২৫ ইং তারিখ দুপুরে পাওনা টাকা নিয়ে বিরোধের কারনে কুমিল্লা জেলার দেবীদ্বার থানাধীন ত্রিবিদ্যা গ্রামে মোঃ ছফিউল্লাহ (৪৩) নামে এক ভ্যান চালককে শাবল দিয়ে ভিকটিমের মাথা ও বুকে গুরুতর আঘাত করে হত্যা ড্রিল মেশিন দিয়ে নির্মমভাবে ভিকটিমের চোখ উপড়ে ফেলে।
মন্তব্য করুন


তাপস চন্দ্র সরকার, কুমিল্লা:
কুমিল্লা চান্দিনা উপজেলাধীন ডুমুরিয়া গ্রামের সন্তান অমিত কুমার সরকার। পেশায় একজন ব্যবসায়ী। দুই ভাইয়ের মধ্যে বড় অমিত। ছোটভাই আশিক সরকার গেলো তিন বছর আগে না ফেরার দেশে চলে গেছেন। বাবা দিলীপ সরকার একজন প্রবাসী এবং মা রাধা রাণী সরকার গৃহিণী। তাদের বেঁচে থাকার একমাত্র অবলম্বন অমিত। তাকে আঁকড়ে ধরে ছোট ছেলের শোক প্রতিনিয়ত ভুলার চেষ্টা বাবা-মার।
এদিকে, একমাত্র ছেলে অমিতকে ধুমধাম করে বিয়ে করানোর স্বপ্ন নিয়ে দীর্ঘ ৩০ বছরের প্রবাসী জীবনের ইতি টেনে দেশে ফেরেন বাবা দিলীপ। অবশেষে বিয়ে ঠিক হয় নারায়ণগঞ্জ রূপগঞ্জের ভিংরাব গ্রামে।
পঞ্জিকার তিথি অনুযায়ী ১৫ শ্রাবণ (৩১ জুলাই ২০২৫) বৃহস্পতিবার অমিতের বিয়ের দিন পাকা হয় গত তিন মাস আগে। সেই অনুযায়ী বুধবার গ্রামের বাড়িতে চলে অমিতের গাঁয়ে হলুদ। পরদিন বৃহস্পতিবার সকালে বিয়ে বাড়িতে বাদ্যযন্ত্রের সাথে সানাইয়ের সুর। আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধবসহ অতিথিদের উপস্থিতিতে যেন ভরপুর ছোট্ট বাড়ি।
বিকেলে মঙ্গল ঘট স্থাপন করে সন্ধ্যায় ধুতি ও পাঞ্জাবির সাথে মাথায় মুকুট পড়ে চন্দনের ফোঁটায় বর সেঁজে মায়ের কোল ছেড়ে রওয়ানা হন অমিত। বরযাত্রী নিয়ে রূপগঞ্জের উদ্দেশে ছুটে অমিতের গাড়িবহর। নতুন বউ নিয়ে ছেলে বাড়ি ফিরবে এ স্বপ্ন নিয়ে বসে প্রহর গুণছেন মা রাধা রাণী।
রাত তখন ১০টা। বরযাত্রীর গাড়িবহর ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার গৌরীপুর পৌঁছার পর বুকের প্রচণ্ড ব্যথা অনুভব হয় অমিতের। দ্রুত গৌরীপুরের একটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় তাকে। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে রাজধানীর ল্যাবএইড হাসপাতালে নেয়া হয়। পরে রাত ২টার দিকে কনে বাড়ি পৌঁছার আগেই পরপারে পাড়ি জমান অমিত।
অপরদিকে, কনে বাড়িতে চলছিল বিয়ের ব্যাপক আয়োজন। বরযাত্রী আসছে সেই অপেক্ষার প্রহর গুণছে কনেসহ সবাই। রাত গভীর হওয়ার সাথে বিয়ের লগ্ন পেরিয়ে যাওয়ার দুশ্চিন্তায় কপালে ভাঁজ পড়তে শুরু হয় সবার। মোবাইলফোনে কল আসতে থাকে কনের অভিভাবকদের কাছে।
ওপাশ থেকে কান্নার ভারী কণ্ঠ। নেই অমিত। নিস্তব্ধ গুটা পরিবার। গুটগুটে অন্ধকারে যেন মিশে গেছে শোকের কালো ছায়া। নিমিষেই গড়িয়ে পড়ে কনের দু’চোখ বেয়ে শত ফোটা আর্তনাদ।
সব কিছু ঠিক থাকলে শুক্রবার (১ আগস্ট) ভোরে সুসজ্জিত প্রাইভেটকারযোগে নতুন বউ নিয়ে বাড়ি ফিরতো অমিত। মা-বাবার দেখা হতো আদুরি বউয়ের মুখ। কিন্তু নিয়তির নির্মমতায় শুক্রবার ভোরে সুসজ্জিত প্রাইভেটকারের জায়গায় অ্যাম্বুলেন্সযোগে নিথর দেহে একাই বাড়ি ফেরেন অমিত! তখনও মুছেনি কপালে থাকা চন্দনের ফোঁটা। বরবেশে ছেলের সাদা কাপড়ে মোড়ানো দেহ দেখে বাকরূদ্ধ বাবা-মা। শোকে বিহ্বল গোটা পরিবার।
দুপুরে অমিতকে শেষবারের মতো বিদায় দিতে করানো হয় গোসল। আবারো সাজানো হয় নতুন সাজে। ধর্মীয় রীতি অনুস্মরণ করে পারিবারিক সমাধিস্থলে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয় তাকে।
তিন বছরের মধ্যে দুই ছেলেকেই হারিয়ে বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন মা রাধা রাণী। আর্তনাদের চিৎকারে বলছেন, ‘বাবা তোরা আমাকে কোথায় রেখে গেলি। আমরা এখন কারে নিয়ে বাঁচবো। কী অপরাধ ছিল আমাদের, কেন বুকের ধনকে কেড়ে নিল!
এদিকে, অমিতের মৃত্যুর খবর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে আবেগতায়িত হয়ে পড়েন স্বজনসহ শুভাকাঙ্ক্ষীরা। একই বাড়ির গুরুপদ সরকার কান্নাজড়িত কন্ঠে বলেন, ‘বরযাত্রীর গাড়ি বহরে আমিও ছিলাম। বরের গাড়ি অতিক্রম করে আমরা সামনে চলে যাই। কিছুক্ষণ পর বরের প্রাইভেটকারচালক আমাদের গাড়ি চালককে কল করে বলেন গাড়ি ঘুরিয়ে গৌরীপুর আসতে। বর অসুস্থ। রাজধানীর ল্যাবএইডে নেয়ার পর আর বিয়ে বাড়িতে যাওয়া হয়নি...!
মন্তব্য করুন