

নারায়ণগঞ্জের
সিদ্ধিরগঞ্জ উপজেলার একটি তালাবদ্ধ ঘর থেকে বর্ষা আক্তার (২০) নামের এক গার্মেন্টসকর্মীর
গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। গতকাল বুধবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে পূর্ব নিমাইকাশারী
এলাকার একটি বাসা থেকে অর্ধগলিত মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
বর্ষা
আক্তার নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলার বাজুরবাগ এলাকার বাসিন্দা ও আদমজী ইপিজেডের একটি
পোশাক কারখানায় কর্মরত ছিলেন। তিনি স্বামী মামুনের সঙ্গে ওই বাসায় ভাড়া থাকতেন। মামুনের
বাড়ি ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ এলাকায়।
পুলিশ
ও নিহত ব্যক্তির স্বজনেরা বলেন, দুই থেকে তিন দিন আগে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে বর্ষার
শেষবার কথা হয়। এর পর থেকে তাঁর মুঠোফোন নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়। অন্যদিকে কয়েক দিন
ধরে ঘরটির বাইরে তালা ঝুলতে দেখেন স্থানীয় বাসিন্দারা। গতকাল সন্ধ্যায় ঘর থেকে দুর্গন্ধ
বের হলে তাঁরা বিষয়টি বর্ষার পরিবার ও পুলিশকে জানায়।
খবর
পেয়ে সিদ্ধিরগঞ্জ থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ঘরটি বাইরে থেকে তালাবদ্ধ অবস্থায় দেখতে
পায়। পরে তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে বর্ষার মুখ ও পা বাঁধা অবস্থায় অর্ধগলিত গলাকাটা
মরদেহ উদ্ধার করে।
বর্ষার
মা সুলতানা বেগম বলেন, প্রায় দেড় মাস আগে মামুনের প্রথম স্ত্রীকে কেন্দ্র করে বর্ষার
সঙ্গে বিরোধ হয়। এর পর থেকে বাসাটিতে মামুনের আসা-যাওয়া কমে যায়।
সিদ্ধিরগঞ্জ
থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ এমদাদুল হক বলেন, বর্ষার স্বামীর কোনো খোঁজ
পাওয়া যাচ্ছে না। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য নারায়ণগঞ্জ জেনারেল (ভিক্টোরিয়া) হাসপাতালের
মর্গে পাঠানো হয়েছে। হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন ও জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারে পুলিশ কাজ
করছে।
মন্তব্য করুন


চলতি
বিশ্বকাপে শেষ ষোলোর লড়াইয়ে হেরে বিদায় নিয়েছে ব্রাজিল। যা নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা চলছে।
এর মাঝেই ৩০ সেকেন্ডে ১৯৫ বার চুম্বন করে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে ব্রাজিলের নাম লিখিয়েছেন
রেনাতো বায়মা গাইয়া এবং তার প্রেমিকা নাইরা রবার্টা রিবেইরো ডি মারিন্স।
তাদের
এই কীর্তির ভিডিও এখন রীতিমতো আগুন ছড়িয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। ৩২ বছর বয়সী রেনাতো পেশায়
একজন ডাক্তার। তবে গিনেস রেকর্ডের জগতে তিনি নতুন নন। এর আগেও দ্রুততম সময়ে বই উল্টানো
বা পা ঘোরানোর মতো একাধিক রেকর্ড তার ঝুলিতে রয়েছে।
রেনাতো
জানিয়েছেন, তিনি এডিএইচডি (ADHD)-তে আক্রান্ত। নিজের এই সীমাবদ্ধতাকে জয় করে তিনি বিশ্বকে
দেখাতে চান যে, অদম্য ইচ্ছা থাকলে যে কোনো লক্ষ্য অর্জন সম্ভব। তিনি একজন অস্থিমজ্জা
দাতাও। নিজের রেকর্ডগুলোর মাধ্যমে অন্যদের অনুপ্রাণিত করতে চান তিনি।
ভাইরাল
হওয়া ভিডিওটিতে দেখা যাচ্ছে, রেনাতো অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে তার প্রেমিকার গালে চুমু
খেয়ে চলেছেন। পুরো সময়টিতে নাইরা হাসিমুখে সঙ্গ দিয়েছেন। ৩০ সেকেন্ডের মাথায় তাদের
চুম্বনের সংখ্যা দাঁড়ায় ১৯৫-এ। এই অনন্য রেকর্ড গড়ার পর তারা এখন নতুন লক্ষ্য স্থির
করেছেন।
তাদের
পরবর্তী টার্গেট হলো এক মিনিটে সর্বোচ্চ চুম্বনের বিশ্বরেকর্ড ভাঙা, যা বর্তমানে এক
জাপানি দম্পতির দখলে (৬০ সেকেন্ডে ২৭৭টি চুম্বন)।
সোশ্যাল
মিডিয়ায় এই ভিডিও ছড়িয়ে পড়তেই মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। নেটিজেনদের একাংশ দম্পতির
উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করেছেন, কেউ কেউ আবার মশকরা করতেও ছাড়েননি।
একজন
ব্যবহারকারী মজার ছলে লিখেছেন, এই চ্যালেঞ্জের জন্য মানুষের ঠোঁট নয়, পাখির ঠোঁট দরকার
ছিল! আবার কেউ কেউ মন্তব্য করেছেন, এত দ্রুত হাসাটাও তো একটা বিশ্ব রেকর্ড হওয়া উচিত।
অনেকের
মতে, এটি চুম্বনের চেয়েও বেশি কিছু দ্রুত ফিসফিসের মতো মনে হয়েছে। তবে ট্রোল বা প্রশংসা
যাই হোক না কেন, এই ব্রাজিলিয়ান দম্পতি যে এখন গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের অন্যতম চর্চিত
মুখ, তা বলাই বাহুল্য। তাদের এই অদ্ভূত অথচ রোমান্টিক কাণ্ড ভাইরাল হওয়ার দৌড়ে সবার
চেয়ে এগিয়ে রয়েছে।
মন্তব্য করুন


বিজিবি'র কঠোর নজরদারির কারণে দেশের সীমান্তে একজনকেও অবৈধভাবে পুশ-ইন হতে দেওয়া হয়নি বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
মন্ত্রী আজ সকালে ঢাকায় ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তন প্রাঙ্গণে 'মাদকের অপব্যবহার ও অবৈধ পাচারবিরোধী আন্তর্জাতিক দিবস ২০২৬' উপলক্ষ্যে মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর আয়োজিত আলোচনাসভা ও পুরস্কার বিতরণ শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে এ কথা জানান।
মন্ত্রী বলেন, কোনো যাচাই-বাছাই ছাড়া বর্ডারে কাউকে এনে পুশ-ইন করিয়ে দেওয়া কোনো যথাযথ বা আন্তর্জাতিক প্রক্রিয়া নয়। তিনি বলেন, যদি ভারতের কাছে এমন কোনো বাংলাদেশী নাগরিকের তালিকা থাকে যারা সে দেশে অবৈধভাবে অবস্থান করছে, তবে তারা কূটনৈতিক বা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে তা সরবরাহ করতে পারে। বাংলাদেশ সরকার নিয়মতান্ত্রিকভাবে তাদের জাতীয়তা যাচাই (ন্যাশনালিটি ভেরিফিকেশন) করবে এবং সত্যতা সাপেক্ষে আইনি প্রক্রিয়ায় তাদের ফেরত নিয়ে আসবে। তিনি আরো বলেন, ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভায় ১০ হাজার মানুষকে পুশব্যাকের যে দাবি করা হয়েছে, তার কোনো সত্যতা বা দালিলিক পরিসংখ্যান বাংলাদেশ সরকারের কাছে নেই।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) দেশের প্রতিটি সীমান্তে অত্যন্ত প্রশংসনীয় ভূমিকা পালন করছে এবং সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থায় রয়েছে। ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) পক্ষ থেকে যেকোনো ধরনের অনুপ্রবেশ বা পুশ-ইনের চেষ্টা বিজিবি সফলভাবে প্রতিহত করছে। পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের সাম্প্রতিক নির্বাচনের পর রাজনৈতিক এজেন্ডার অংশ হিসেবে সীমান্তে এ ধরনের তৎপরতা প্রদর্শনের চেষ্টা করা হয়ে থাকতে পারে বলে মন্ত্রী মন্তব্য করেন।
শহীদ ওসমান হাদী হত্যাকাণ্ডের সর্বশেষ আপডেট জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত প্রধান অভিযুক্তদের মধ্যে তিনজনকে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বনগাঁ থেকে দেশটির আইনশৃঙ্খলা বাহিনী গ্রেফতার করেছে। ভারতীয় আইন অনুযায়ী সেখানে মামলা দায়েরের পর আসামীদের বিচারিক প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। তিনি বলেন, বাংলাদেশ সরকার এই চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের অসম্পন্ন তদন্ত কাজ সুচারুভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে দুই দেশের মধ্যকার অপরাধী প্রত্যর্পণ (এক্সট্রাডিশন) চুক্তি মোতাবেক প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, আইনি পরোয়ানা (ওয়ারেন্ট) সহকারে আসামীদের ফেরত পাওয়ার আবেদন ইতোমধ্যে পাঠিয়েছে। বাংলাদেশ পক্ষ আসামীদের দ্রুত হস্তান্তরের বিষয়ে আশাবাদী।
সাবেক পুলিশ প্রধান বেনজীর আহমেদের অবস্থান ও তাকে দেশে ফিরিয়ে আনার অগ্রগতির বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) ফেডারেল পুলিশ বেনজীর আহমেদকে গ্রেফতারের পর আবুধাবি থেকে বাংলাদেশ সরকারকে ইমেইলের মাধ্যমে অবহিত করা হয়। ওই বার্তায় পরবর্তী ৩০ দিনের মধ্যে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পাঠানোর অনুরোধ করা হয়। তিনি বলেন, বাংলাদেশ সরকার অত্যন্ত দ্রুততার সাথে মাত্র ৩ দিনের মধ্যে সমস্ত আইনি ও প্রাতিষ্ঠানিক নথিপত্র প্রস্তুত করে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে ইউএই সরকারের নিকট প্রেরণ করেছে। কয়েকদিন পূর্বে আবুধাবিতে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস এই নথিপত্র ইউএই কর্তৃপক্ষের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে। বর্তমানে বেনজীর আহমেদ সে দেশের ফেডারেল পুলিশের হেফাজতে রয়েছেন উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, সংযুক্ত আরব আমিরাত সরকারের পক্ষ থেকে চূড়ান্ত প্রত্যুত্তরের জন্য বাংলাদেশ অপেক্ষা করছে এবং আশা করা হচ্ছে খুব শীঘ্রই পরবর্তী সিদ্ধান্ত জানা যাবে।
প্রেস ব্রিফিংয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী, আইজিপি মোঃ আলী হোসেন ফকিরসহ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
মন্তব্য করুন


সুইয়ের মাধ্যমে মাদক গ্রহণকারী ব্যক্তি এবং তাঁদের যৌনসঙ্গীদের জন্য সমন্বিত এইচআইভি প্রতিরোধ ও চিকিৎসা কার্যক্রম জোরদারে কুমিল্লায় জেলা পর্যায়ের মতবিনিময় ও পরামর্শ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার দুপুরে কুমিল্লা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে এ সভার আয়োজন করে পিএসটিসি, কুমিল্লা এতে সহযোগিতা করে সেভ দ্য চিলড্রেন ও জাতীয় এইডস/এসটিডি প্রোগ্রাম।
সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন কুমিল্লার সিভিল সার্জন ডা. আলী নুর মোহাম্মদ বশীর আহমেদ। উপস্থিত ছিলেন ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. রেজা মো. সারোয়ার আকবর, সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপপরিচালক নুরুল ইসলাম পাটোয়ারী, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের ইন্সপেক্টর নজরুল ইসলাম, বিপিএমপিএ সভাপতি ডা. আবু তাহের মুহিত, আনসার ভিডিপি কুমিল্লা রেঞ্জের মেডিকেল অফিসার ডা. রবিউল হোসেন পাটোয়ারী (রবি), মেডিকেল অফিসার সিভিল সার্জন কার্যালয়,ডা. কাউসার আল আমিন, ডা. শফিকুল ইসলাম , সাংবাদিক, বিভিন্ন এনজিও প্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
সভায় বক্তারা বলেন, সুইয়ের মাধ্যমে মাদক গ্রহণকারীরা এইচআইভি সংক্রমণের উচ্চ ঝুঁকিতে থাকেন। তাই তাঁদের জন্য নিরাপদ স্বাস্থ্যসেবা, ব্যবহৃত সুঁই-সিরিঞ্জের নিরাপদ অপসারণ, কাউন্সেলিং, চিকিৎসা ও সামাজিক পুনর্বাসন নিশ্চিত করা জরুরি। একই সঙ্গে তাঁদের যৌনসঙ্গীদের সুরক্ষায় সচেতনতা ও প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম আরও সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
বক্তারা আরও বলেন, মাদকাসক্তি শুধু ব্যক্তিগত নয়, পারিবারিক ও সামাজিক সংকটও সৃষ্টি করে। কুমিল্লায় মাদকের বিস্তার উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে উল্লেখ করে তাঁরা দ্রুত একটি সরকারি মাদকাসক্ত নিরাময় কেন্দ্র স্থাপনের দাবি জানান। পাশাপাশি বেসরকারি মাদক নিরাময় কেন্দ্রগুলোতে সার্বক্ষণিক চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।
‘বাংলাদেশে মূল জনগোষ্ঠীর জন্য অগ্রাধিকারভিত্তিক এইচআইভি প্রতিরোধ সেবার ধারাবাহিকতা ও সম্প্রসারণ’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন পিএসটিসির সিনিয়র মেডিকেল অফিসার ডা.মোঃ মাসুদ রানা । সার্বিক সহযোগিতায় ছিলেন সেন্টার ম্যানেজার মানস কান্তি দাস (অপু)।
সভা শেষে সিভিল সার্জন ডা: আলী নুর মো. বশির আহমেদ আয়োজকদের ধন্যবাদ জানান এবং জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
মন্তব্য করুন


কুষ্টিয়ার
কুমারখালীতে পঞ্চম শ্রেণির এক ছাত্রীকে (১০) মক্তব থেকে ডেকে নিয়ে হাত-পা বেঁধে ধর্ষণের
ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। গতকাল রোববার রাত ১০টার দিকে ভুক্তভোগীর বাবা বাদী নারী ও
শিশু নির্যাতন দমন আইনে এ মামলা করেন। মামলায় এক কিশোরকে (১৬) আসামি করা হয়। সে চলতি
বছর একটি মাদ্রাসা থেকে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে। এর আগে, রোববার সকাল সাড়ে ৬টার
দিকে ধর্ষণের ঘটনা ঘটে।
পুলিশ,
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী ছাত্রী বাড়ির পাশে একটি মক্তব পড়তে গিয়েছিল।
সেখানে অভিযুক্ত কিশোরের ছোট বোনও পড়ে। রোববার সকালে ভারী বৃষ্টির কারণে পড়া শেষ হলেও
তারা মসজিদেই অবস্থান করছিল। একপর্যায়ে অভিযুক্ত কিশোর ছাতা নিয়ে তার ছোট বোনকে বাড়িতে
নিয়ে আসে। এরপর সে বাড়িতে পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে ভুক্তভোগী ছাত্রীকে নিয়ে রওনা হয়। তবে
তাকে বাড়িতে না নিয়ে মক্তবের পাশের একটি জরাজীর্ণ টিনশেডের ঘরে নিয়ে ধর্ষণ করে। এ সময়
এক পথচারী ভুক্তভোগীর চিৎকার শুনে ঘরে গেলে অভিযুক্ত কিশোর পালিয়ে যায়।
স্থানীয়
মাতব্বর প্রথমে বিষয়টি বিয়ের মাধ্যমে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেন। পরে ভুক্তভোগীর
বাবা জানতে পেরে বিকেলে থানায় যান এবং লিখিত অভিযোগ করেন। এরপর পুলিশ ভুক্তভোগীকে হেফাজতে
নিয়ে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য পাঠায় এবং রাত ১০টার দিকে
মামলাটি নথিভুক্ত হয়।
এদিকে
ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত কিশোর পলাতক থাকায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তার মা অসুস্থ
থাকায় কথা বলতে রাজি হননি।
কুমারখালী
থানার ওসি জামাল উদ্দিন বলেন, ধর্ষণের ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। আসামিকে গ্রেপ্তার
অভিযান চলছে।
মন্তব্য করুন


বিপ্লবোত্তর নতুন বাংলাদেশে সবাইকে
ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ
ইউনূস বলেছেন, এই নতুন দেশে আমাদের দায়িত্ব সব মানুষকে একটি বৃহত্তর পরিবারের বন্ধনে
আবদ্ধ করা। গত ০৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার বিপ্লবের
মধ্য দিয়ে আমরা এক নতুন বাংলাদেশের সূচনা করেছি। এই নতুন দেশে আমাদের দায়িত্ব সব
মানুষকে একটি বৃহত্তর পরিবারের বন্ধনে আবদ্ধ করা।
আজ বৃহস্পতিবার (২১ নভেম্বর) সশস্ত্র
বাহিনী দিবস উপলক্ষে ঢাকা সেনানিবাসে খেতাবপ্রাপ্ত বীর মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের উত্তরাধিকারীদের
সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে এ আহ্বান জানান তিনি।
প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ
ইউনূস বলেন, গত ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার বিপ্লবের মধ্য দিয়ে আমরা এক নতুন বাংলাদেশের সূচনা
করেছি। এই নতুন দেশে আমাদের দায়িত্ব সব মানুষকে একটি বৃহত্তর পরিবারের বন্ধনে আবদ্ধ
করা। পরিবারে মতভেদ থাকবে, বাকবিতণ্ডা হবে,কিন্তু আমরা কেউ কারও শত্রু হবো না। কাউকে তার মতের জন্য শত্রু মনে করব না। কাউকে ধর্মের
কারণে শত্রু মনে করব না। আমরা সবাই সমান। কেউ কারো ওপরে না এবং কেউ কারো নিচে না এই
ধারণা আমরা জাতীয় জীবনে প্রতিষ্ঠিত করতে চাই। বৈষম্যহীন, শোষণহীন, কল্যাণময় এবং মুক্ত
বাতাসের রাষ্ট্রের যে স্বপ্ন নিয়ে মুক্তিযোদ্ধারা দেশ স্বাধীন করেছিলেন, আমি তাদের
সেই স্বপ্ন পূরণে অঙ্গীকারবদ্ধ। আমরা এখন থেকেই বাংলাদেশকে এমনভাবে গড়তে চাই যেন এই
দেশে জনগণই সত্যিকার অর্থে সব ক্ষমতার উৎস হয়। বাংলাদেশ বিশ্ব দরবারে একটি মানবিকও
কল্যাণকর রাষ্ট্র হিসেবে সমাদৃত হয়। আমরা সব রাষ্ট্রের সঙ্গে বন্ধুত্ব বজায় রাখব।
আমাদের পররাষ্ট্রনীতির ভিত্তি হবে পারস্পরিক সম্মান, আস্থা, বিশ্বাসও সহযোগিতা। জলবায়ু
সংকট মোকাবিলায় এবং বৈশ্বিক শান্তি ও অর্থনীতি সুসংহত করণে আমাদের একত্রে কাজ করতে
হবে। তাই, বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে আমাদের এগিয়ে যেতে হবে।
তরুণদের সৃজনশীলতার বিকাশের ওপর গুরুত্বারোপ
করে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, আমাদের তরুণ সমাজ সম্পদের সীমাবদ্ধতা থাকা সত্ত্বেও যেন
মেধার ভিত্তিতে নিজ নিজ সৃজনশীলতার বিকাশ ঘটিয়ে দেশ গঠনে অবদান রাখতে পারে আমাদের
সেই পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।
এর আগে ঢাকা সেনানিবাসের শিখা অনির্বাণে
শ্রদ্ধা নিবেদন করেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। পরে এ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের
আগে ঢাকা সেনানিবাসে সশস্ত্র বাহিনী বিভাগে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে অধ্যাপক ইউনূসের
সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন তিন বাহিনী প্রধান।
মন্তব্য করুন


আগামীকাল শনিবার (২৭ এপ্রিল) রাজধানীর
কয়েকটি এলাকায় ১২ ঘণ্টা গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকবে। আজ শুক্রবার (২৬ এপ্রিল) তিতাস গ্যাস
ট্রান্সমিসন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কম্পানি লিমিটেডের পক্ষ থেকে বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে
এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গ্যাস পাইপলাইনের
মেরামত কাজের জন্য আগামীকাল শনিবার সকাল ৯টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত শনির আখড়া, বড়ইতলা,
ছাপড়া মসজিদ, দনিয়া, জুরাইন, ধোলাইরপাড় ও কদমতলী এলাকার সব শ্রেণির গ্রাহকের গ্যাস
সরবরাহ বন্ধ থাকবে। এ সময়ে আশপাশের এলাকায় গ্যাসের স্বল্পচাপ বিরাজ করতে পারে।
তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ গ্রাহকদের সাময়িক
অসুবিধার জন্য আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করেছে।
মন্তব্য করুন


সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে সিএমএইচগুলোতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে আহত ছাত্রদের চিকিৎসার অগ্রগতি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী।
শনিবার (৩১ আগস্ট) রাত ৯টা ৫৬ মিনিটে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ফেরিফায়েড ফেসবুক পেইজে দেওয়া এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, গত ১৮ আগস্ট ২০২৪ তারিখ হতে সারা দেশব্যাপী বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে আহত ছাত্রদের দ্রুত সুস্থ করে তোলার লক্ষ্যে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী নিরলসভাবে ও আন্তরিকতার সাথে সিএমএইচ সমূহে জরুরি ও উন্নত চিকিৎসা সেবা প্রদান করছে। সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ঢাকা সিএমএইচসহ দেশের অন্যান্য ১০টি সিএমএইচে সর্বমোট ৮২৯ জন আহত ছাত্র চিকিৎসা সেবা গ্রহণের জন্য আগমন করেন। তন্মধ্যে ২১৯ জন আহত ছাত্র সিএমএইচসমূহে চিকিৎসাধীন আছেন এবং অবশিষ্ট ছাত্রগণ চিকিৎসা শেষে বাড়ি ফিরে গেছেন।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে আহত ছাত্রদের অতিদ্রুত সুস্থতা কামনা করছে। পাশাপাশি দেশব্যাপী আহত চিকিৎসাধীন ছাত্রদের প্রয়োজনীয় জরুরি চিকিৎসা সেবা প্রাপ্তিতে সর্বোচ্চ সহযোগিতা প্রদানে সদা তৎপর আছে।
মন্তব্য করুন


জামালপুর
শহরের আমলাপাড়ায় এলাকায় বিচারক দম্পতির বাসায় জানালার গ্রিল কেটে স্বর্ণালঙ্কার ও
নগদ টাকা চুরির ঘটনায় জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক দুই নেতাসহ পাঁচজনকে গ্রেফতার
করেছে পুলিশ।
শুক্রবার
(৪ জুলাই) আসামিদের আদালতে পাঠানো হলে বিচারক কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। বৃহস্পতিবার
(৩ জুলাই) রাতে পৃথক জায়গা থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়।
মামলা
সূত্রে জানা যায়, বিচারক আহমাদুল কবির সাকিল এবং বিচারক নুসরাত জেরিন জেনী জামালপুর
শহরের আমলাপাড়া এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করছেন। তারা দুজন জামালপুর জেলা ও দায়রা জজ
আদালতের মেলান্দহ ও দেওয়ানগঞ্জ সিভিল জজ আদালতের বিচারক হিসেবে কর্মরত আছেন।
৩০
জুন বিকালে আহমাদুল কবির ব্যক্তিগত কাজে বাইরে যান। রাতে বাসায় ফিরে মূল দরজা খুলতে
না পেরে প্রতিবেশীদের সহায়তায় দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন তিনি। পরে দেখতে পান দুর্বৃত্তরা
জানালার গ্রিল কেটে ঘরে ঢুকে আলমারির ড্রয়ার ভেঙে নগদ টাকা, স্বর্ণালঙ্কার ও হীরার
আংটিসহ ২০ লাখ টাকার মালামাল চুরি করে নিয়ে গেছে। ঘটনার পরদিন জামালপুর জেলা ও দায়রা
জজ আদালতের ভারপ্রাপ্ত প্রশাসনিক কর্মকর্তা একেএম ছরওয়ার জাহান সিদ্দিকী বাদী হয়ে জামালপুর
থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।
এরপর
বৃহস্পতিবার রাতে একই ভবনের অন্য বাসার গৃহকর্মী নিলুফাকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তার
দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বিচারকের বাসার গৃহকর্মী হাওয়া বেগমকে গ্রেফতার করা হয়। পরে
তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে রাতে আরও তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতাররা
হলেন- মেলান্দহ উপজেলার চর পলিশা গ্রামের নিলুফা, সদর উপজেলার তিতপল্লা সরদারপাড়া গ্রামের
হাওয়া বেগম, শহরের আমলাপাড়া এলাকার চাঁন মিয়া ওরফে কালাচাঁন, গোলাপবাগ এলাকার সুমন
মিয়া ও কলেজ রোড এলাকার নাজমুল ইবনে হোসেন ওরফে বিপ্লব।
এর
মধ্যে সুমন মিয়া জামালপুর জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক ত্রাণ ও পুনর্বাসন বিষয়ক সম্পাদক
এবং নাজমুল ইবনে হোসেন ওরফে বিপ্লব সাবেক সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক।
এ
বিষয়ে জামালপুর জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব মঞ্জুরুল করিম সুমন বলেন, গ্রেফতাররা
বর্তমানে স্বেচ্ছাসেবক দলের কেউ নন। তবে তাদের মধ্যে দুজন গত কমিটিতে ছিলেন।
জামালপুর
থানার পরিদর্শক (তদন্ত) নূর মোহাম্মদ জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতার ব্যক্তিরা
চুরির ঘটনায় নিজেদের জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। চুরির মূল পরিকল্পনা, চোরাই মালামাল
উদ্ধার এবং চক্রের পলাতক সদস্যদের শনাক্ত করতে চারজনের ৭ দিনের রিমান্ডের আবেদন জানিয়ে
আদালতে পাঠানো হয়েছে।
মন্তব্য করুন


ফেসবুকে পরিচয়, প্রেম। অতঃপর বছর দুই বছর আগে বিয়ের পিঁড়িতে বসেন ১১ বছরের অনামিকা আক্তার জুঁই ও ২০ বছরের যুবক শাকিল ওরফে শাকিব মিয়া। একসময় কোলজুড়ে আসে এক ছেলে সন্তান। সেই শিশুকে কেড়ে নিয়ে মাকে বের করে দেওয়ার অভিযোগ স্বামী-শাশুড়ির বিরুদ্ধে। ১৩ বছরের জুঁই ৭ মাসের ছেলেকে ফিরে পেতে দ্বারস্থ হয়েছেন আদালতের।
মঙ্গলবার
(২৮ জুলাই) ঢাকার চিফ লিগ্যাল এইডের বিচারক মো. সায়েম খান বাচ্চাটিকে তার শিশু মায়ের
কাছে থাকার আদেশ দেন। আড়াই মাস পর ছেলেকে কোলে ফিরে পেয়েছেন জুঁই।
আড়াই
মাস আগে শিশুটিকে রেখে মা জুঁইকে বাসা থেকে বের দেওয়া হয়েছে এমন অভিযোগ এনে গত ১ জুলাই
লিগ্যাল এইডে এমন অভিযোগ দেওয়া হয় শাকিল এবং তার মা আছমার বিরুদ্ধে। বাচ্চাকে উদ্ধারের
প্রার্থনা জানান জুঁই। তাদের ১৬ জুলাই লিগ্যাল এইডে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।
তবে ওইদিন তারা হাজির হননি। এজন্য বিচারক সায়েম খান শিশুটিকে উদ্ধার করতে চকবাজার থানা
পুলিশকে নির্দেশ দেন। নির্দেশমতে গতকাল সোমবার শিশুটিকে উদ্ধার করে পুলিশ। মঙ্গলবার
শাকিল ও তার মা আছমা লিগ্যাল এইডে হাজির হন। শিশুটিকেও নিয়ে আসা হয়। আসেন জুঁইও। পরে
শুনানি শুরু হয়।
প্রথমে
বিচারক সায়েম খান শিশুটির বাবাকে ডেকে নিয়ে পাশে বসান। এরপর জুঁইকেও ডেকে নিয়ে সামনে
বসানো হয়। এসময় জুঁইয়ের কোলে ছিল তার ৭ মাসের বাচ্চাটিও। সেখানে দুপক্ষের আইনজীবীরাও
উপস্থিত ছিলেন। এসময় বিচারক জুঁইয়ের কাছে জানতে চান, ‘তোমার বাবু?’ জুঁই বলেন, ‘হ্যা।
আমার ছেলে।’ ছেলেকে পেয়ে খুশি কি না জানতে চান বিচারক। জুঁই বলেন,
‘অনেক খুশি।’
এরপর
বিচারক সবার উদ্দেশ্যে বলেন, ‘জুঁই প্রথম যেদিন এখানে আসে, বিশ্বাস করিনি ওর বাচ্চা
আছে। বিশ্বাস করার মতোও না বিষয়টা। সে নিজেও একটা বাচ্চা।’
এরপর বিচারক শাকিলের কাছে তার বয়স জানতে চান। শাকিল বলেন, ‘২২ বছর বয়স।’এটুকু
মেয়েটাকে কীভাবে নিয়ে গেলে বিচারক জানতে চাইলে শাকিল দাবি করেন, ‘যখন নিয়ে গেছি প্রাপ্তবয়স্ক।
ওর একটা মামাতো বোন আছে। ওর চেয়ে এক বছরের ছোট। তার থেকে ওকে তিন গুন বড় দেখায়।’
জোর
করে আটকে রাখা হয়েছে কি না বিচারক জানতে চান। শাকিল বলেন, ‘না আটকে রাখিনি।’
এসময় জুঁইয়ের আইনজীবী মৃনাল কান্তি মিত্র বিচারককে বলেন, ‘পারিবারিক কোর্টে গার্ডিয়ানশিপের
মামলাও করে দিয়েছে।’ পরে বিচারক শিশুটি তার মায়ের কাছে
থাকবে মর্মে জানান।
এ
পর্যায়ে শাকিলের আইনজীবী খন্দকার মো. শাহজাহান ইসলাম বিচারককে বলেন, ‘বাচ্চাকে আটকে
রাখা হয়েছে এমন অভিযোগ যদি মনে করি তাহলে বিষয়টা একপক্ষে চলে যায়। আমরা বিশ্বাস করি
বা না করি, ঘটনা কিন্তু ঘটে গেছে। মা তার বাচ্চাকে ফেলে রেখে চলে গেছে। এজন্য তাকে
আর তার মায়ের কাছে দেওয়া যায় না। এজন্য গার্ডিয়ানশিপের মামলা করি। এখন বাচ্চাটা মায়ের
কাছে গেলে বিষয়টা সাংঘর্ষিক হয়ে যায় না?’
তখন
বিচারক বলেন, ‘যেহেতু বাচ্চাটাকে নিয়ে আসা হয়েছে, মায়ের কাছে থাকুক। মানবিক দিক তো
দেখতে হবে।’
বাচ্চাকে
মায়ের কাছে রাখার আদেশ দিয়ে আগামী মঙ্গলবার শুনানির পরবর্তী দিন রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছেন
লিগ্যাল এইড অফিসে কর্মরত (জেল অর্ডার) মো. লুৎফর রহমান। শুনানি শেষে জুঁই বিচারকের
কাছে জানতে চান, বাচ্চা তার কাছে থাকবে কি না। বিচারক বলেন, ‘হ্যা, তোমার কাছে থাকবে।
জুয়েল খান ও লিমা আক্তারের একমাত্র কন্যা জুঁই। জুয়েল খান অটোরিক্সা চালিয়ে জীবিকা
নির্বাহ করেন। আর লিমা আক্তার দুই বছর আগে জীবিকার তাগিদে সৌদি আরব যান। মেয়েকে নিয়ে
জুয়েল খান হাজারীবাগ এলাকায় বসবাস করতেন। এদিকে সৌদি আরবে থাকাবস্থায় লিমা মেয়ের বিয়ের
কথা শুনতে পান। ১৪ দিন আগে দেশে ফিরেছেন। আজ তিনিও লিগ্যাল এইড অফিসে উপস্থিত হন। তার
স্বামী জুয়েল খানও ছিলেন।
লিমা
অভিযোগ করে বলেন, ‘আমার মেয়ে পড়াশোনা করতো। এই ছেলে ফুঁসলায়ে আমার মেয়েকে নিয়ে অনেক
দিন রাখে। এরপর নিয়ে আসি। আবার আমার মেয়েকে নিয়ে গেছে। আমি তো শুরু থেকেই এই ছেলের
কাছে মেয়ে দেবো না। আমার যদি ছেলের ফ্যামিলি দেখে পছন্দ হয় নাই। আমি মেয়ে দেব কেন?
আমার মেয়ের তো বিয়ের বয়স হয়নি। ওর কেবল ১৩ বছর বয়স।’
জুয়েল
খান বলেন, ‘তাকে (শাকিলকে) বলি আমার মেয়ে মেট্রিক পরীক্ষা দিবে তারপর বিয়ের কথা বলবো।
ও আমার মেয়েকে ভাগায় নিয়ে যায়। এক সপ্তাহ রাখে। মান-সম্মানের দিকে তাকায়ে কিছু বলিনি।
পরে আবার ভাগায়ে নিয়ে আমার মেয়েকে বিয়ে করছে। কোন জায়গায় গিয়ে বিয়ে করছে তাও আমি জানি
না। আমাকে অনেক হুমকি-ধমকি দিছে।’
শাকিল
বলেন, ‘ফেসবুকে ওর সঙ্গে আমার পরিচয়। পরিচয়ের মাসখানেক পর আমাকে বলে, তাকে নিয়ে আসতে।
না নিয়ে আসলে মরে যাওয়ার হুমকি দেয়। কিছু চিন্তা না করে নিয়ে গেছি। বিয়ে করছি। আমার
মা ওরে মাইন্যা নিছে। আমার মা ওরে নামাজ-কালাম পড়তে কয়। আমার মাকে আজে-বাজে কথা বলতো।
মায়ের সাথে বনতো না। ওর জন্য আমি আমার কাছেও অনেক অত্যাচার করছি।’
তিনি
বলেন, ‘পরে ও চলে যায়। ওর বাপে ওকে বরিশালে নিয়ে আটকে রাখে। বাচ্চা হওয়ার পরে আবার
আমার বাসা সোয়ারীঘাটে নিয়ে আসি। আনার পর ওর বাবা যখন আমাদের বাসায় আসতো, তখন ঝগড়া বাঁধতো।
একা থাকলে ঝগড়া হতো না। আমাকে ঘরজামাই থাকতে বলে। আমি থাকি না। ওর বাপে স্ট্রোক করছে
এ কথা বলে তিন মাস আগে এক ঘণ্টার কথা বলে বাসা থেকে বের হয়। বাচ্চা রেখে যাই। এরপর
আর কোনো খোঁজ-খবর নেয় নাই তিন মাসের মধ্যে। এখন তারা দরদ দেখাইতেছে।’
জুঁইয়ের
চরিত্র নিয়েও প্রশ্ন তোলেন শাকিল। জুঁইয়ের আইনজীবী মৃনাল কান্তি মিত্র বলেন, ‘শুটিং
স্পট দেখানোর কথা বলে মেয়েটাকে নিয়ে সেখান থেকে ফুঁসলিয়ে নিয়ে আটকে রাখে। শারীরিকভাবে
নির্যাতন করে। ব্ল্যাংক স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নিয়ে বলে বিয়ে হয়ে গেছে। স্বামীর অধিকার
দেখিয়ে তাকে বারবার নির্যাতন করে। গত ১ জানুয়ারি বাচ্চা ডেলিভালি হয়। বাচ্চাকে রেখে
গত মে মাসে ভিকটিমকে বিদায় করে দেয়। বাচ্চাটাকে মায়ের কাছ থেকে নিয়ে নিতে গার্ডিয়ানশিপের
মামলা করে। তারা নিরুপায় হয়ে লিগ্যাল এইডে আসে। বাচ্চা উদ্ধারে সার্চ ওয়ারেন্ট দেওয়া
হয়। আজ বাচ্চাকে এখানে নিয়ে আসা হয়। বাচ্চাটা মায়ের কাছে থাকবে এমন আদেশ এসেছে।’
মন্তব্য করুন


হামে
আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করা ৩৫২ শিশুর প্রত্যেক পরিবারকে ২ কোটি টাকা করে ক্ষতিপূরণ
দেয়ার নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট দায়ের করা হয়েছে।
রোববার
(১০ মে) সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার হুমায়ন কবীর পল্লব জনস্বার্থে এ রিট দায়ের
করেন। রিটে স্বাস্থ্য সচিবসহ সংশ্লিষ্টদের বিবাদী করা হয়েছে।
উল্লেখ্য,
দুই মাসের কম সময়ে হাম ও উপসর্গে দেশে মৃত্যু ছাড়িয়েছে ৩৫০। একই সময়ে আক্রান্ত ছাড়িয়েছে
৪৭ হাজার। তবে এর মধ্যে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ২৯ হাজারের বেশি শিশু। গত ১৫ মার্চ থেকে
স্বাস্থ্য অধিদফতরের হাম সংক্রান্ত নিয়মিত প্রতিবেদন থেকে জানা যায় এ তথ্য।
স্বাস্থ্য
অধিদফতর জানিয়েছে, এরমধ্যেই চলমান টিকাদান কর্মসূচির আওতায় এখন পর্যন্ত সারা দেশে ১
কোটি ৭২ লাখ ৬৮ হাজার ৯০৮ শিশু হাম-রুবেলার টিকা পেয়েছে। যা লক্ষ্যমাত্রার ৯৬ শতাংশ।
সারা দেশের প্রায় ১ কোটি ৮০ লাখ শিশুকে এই কার্যক্রমের আওতায় টিকা দেয়ার লক্ষ্যমাত্রা
নির্ধারণ করেছিল সরকার।
মন্তব্য করুন