

জামাল
উদ্দিন (৪৯) নামে এক অসুস্থ ব্যক্তিকে রাতের আঁধারে রাস্তার পাশে ফেলে গেছেন স্ত্রী
ও সন্তানেরা। যে স্ত্রী-সন্তানের সুখের জন্য পরিবার ছেড়ে দীর্ঘ ১২ বছর মাথার ঘাম পায়ে
ফেলে প্রবাসে কাটিয়েছেন, সেই স্ত্রী-সন্তানেরাই গত শনিবার (১ আগস্ট) রাতে তাকে রাস্তার
পাশে ফেলে যান বলে অভিযোগ উঠেছে।
শনিবার
দিবাগত রাতে টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলার কালমেঘা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। তবে রোববার দিনের
বেলায় ফেলে যাওয়ার বিষয়টি সবার নজরে আসে। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি
করেছে।
জানা
যায়, ওই ব্যক্তির নাম জামাল উদ্দিন (৪৯)। তিনি কালমেঘা গ্রামের ফজর আলীর ছেলে।
স্থানীয়
সূত্রে জানা যায়, ২৫ বছর আগে তিনি নিজ গ্রাম ছেড়ে গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার বাশবাড়ি
দক্ষিণ পাড়া, ইয়ার উদ্দিন মোড় এলাকায় শ্বশুরবাড়িতে বসবাস শুরু করেন। পরবর্তীতে জীবিকার
তাগিদে সৌদি আরবে পাড়ি জমান এবং সেখানে প্রায় ১২ বছর কর্মরত ছিলেন।
স্থানীয়দের
দাবি, প্রবাসজীবনে উপার্জিত টাকা তিনি স্ত্রীর কাছে পাঠিয়েছেন। কয়েক বছর আগে কিডনি
জটিলতাসহ নানা শারীরিক সমস্যায় আক্রান্ত হয়ে প্রায় আট মাস আগে দেশে ফেরেন তিনি। দেশে
ফেরার পর তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসা ও দেখভাল নিয়ে পরিবারে অবহেলার অভিযোগ
ওঠে।
স্থানীয়দের
অভিযোগ, শনিবার গভীর রাতে জামাল উদ্দিনকে তার পৈতৃক ভিটার পাশের সড়কে ফেলে রেখে যান
তার স্ত্রী রিনা আক্তার ও সন্তানেরা। পরে রাতে বৃষ্টি শুরু হলে তিনি মানবেতর অবস্থায়
পড়েন। পরবর্তীতে কালমেঘা গ্রামের উত্তর-পূর্ব পাড়ায় তার ভাতিজি ইসমতারার বাড়িতে আশ্রয়
দেওয়া হয়।
এ
বিষয়ে স্থানীয় ইউপি সদস্য মোশাররফ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, বিষয়টি
জানার পর স্থানীয়রা এগিয়ে এসে জামাল উদ্দিনকে নিরাপদ স্থানে আশ্রয়ের ব্যবস্থা করেন।
জামাল
উদ্দিনের বড় ভাই সোহরাব আলী সোমবার বিকেলে বলেন, আমার ভাইকে আমি অনেক আগেই সাবধান
করেছিলাম শ্বশুরবাড়িতে না যেতে। কিন্তু সে এলাকার কারও কথা শোনেনি। আজ শুনতে পেলাম,
তার স্ত্রী-সন্তানেরা অসুস্থ অবস্থায় তাকে রাস্তায় ফেলে চলে গেছে। এর চাইতে পৃথিবীতে
আর কষ্টের জীবন কী হতে পারে? ছোট ভাই জামাল খুবই অসুস্থ, কোনো কথা বলতে পারে
না।
স্থানীয়রা
অসুস্থ জামাল উদ্দিনের চিকিৎসা ও মানবিক সহায়তার পাশাপাশি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের দাবি
জানিয়েছেন।
এদিকে
অভিযুক্ত স্ত্রী রিনা আক্তার জানান, আমার স্বামীকে আমি কয়েক মাস আগে ডিভোর্স দিয়েছি।
তার সঙ্গে এখন আর আমার কোনো সম্পর্ক নেই। রাতের বেলায় তিনি কীভাবে ওই এলাকায় পৌঁছালেন,
এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, এ ব্যাপারে আমি কিছুই জানি না।
ঘটনার
বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা(ইউএনও) আশরাফুল আলম জানান, ইতোমধ্যে উপজেলা
সমাজসেবা কর্মকর্তাকে বিষয়টি জানানো হয়েছে।
মন্তব্য করুন


অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা
অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস এর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান।
আন্ত:বাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর)
এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, আজ রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় সাক্ষাৎকালে, সেনাপ্রধান
দেশের সামগ্রিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং সেনাবাহিনীর চলমান কার্যক্রম সম্পর্কে প্রধান
উপদেষ্টাকে অবহিত করেন। পাশাপাশি, দেশের উন্নয়ন ও স্থিতিশীলতার জন্য সেনাবাহিনী গৃহীত
বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েও আলোচনা করেন।
আলোচনাকালে, সেনাপ্রধান তাঁর সাম্প্রতিক
সেন্ট্রাল আফ্রিকান রিপাবলিক সফরের বিষয়ে প্রধান উপদেষ্টাকে অবহিত করেন। এই সফরটি দুই
দেশের মধ্যকার সম্পর্কোন্নয়ন ও সামরিক সহযোগিতা বৃদ্ধিতে সহায়ক ভূমিকা রাখবে বলে সেনাপ্রধান
আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
এছাড়াও, সদ্য সমাপ্ত বিবিধ বঞ্চিত সেনা
কর্মকর্তাদের সুবিচার নিশ্চিতকরণ সংক্রান্ত উচ্চপদস্থ পর্ষদের মূল্যায়ন ও সুপারিশ এবং
বিবিধ কারণে চাকরিচ্যুত জেসিও ও অন্যান্য পদবীর সেনা সদস্যদের চলমান উচ্চপদস্থ পর্ষদ-এর
অগ্রগতির বিষয়ে সেনাপ্রধান প্রধান উপদেষ্টাকে অবহিত করেন।
এ ছাড়া জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে আহত
ছাত্র-জনতার চিকিৎসায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনী গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপ সম্পর্কেও তাঁকে অবহিত
করা হয়।
প্রধান উপদেষ্টা সেনাবাহিনীর ভূমিকা
ও অবদানের প্রশংসা করেন এবং ভবিষ্যৎ কার্যক্রমে সেনাবাহিনীকে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা
প্রদান করেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, দেশের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে
সেনাবাহিনী তাদের পেশাদারিত্ব ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন অব্যাহত রাখবে।
মন্তব্য করুন


কুষ্টিয়ার
কুমারখালী উপজেলায় অভিযান চালিয়ে একটি বাল্যবিয়ের আসর পণ্ড করেছেন উপজেলা নির্বাহী
কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারজানা আখতার। মঙ্গলবার (২ জুন) দিবাগত রাত ১টার দিকে উপজেলার শিলাইদহ
ইউনিয়নের খোর্দবন গ্রামে পুলিশ নিয়ে এ অভিযান পরিচালনা করেন তিনি।
পরিবারের
সদস্যদের তথ্য অনুযায়ী, কনে কুমারখালী ফাজিল মাদরাসার দশম শ্রেণির ছাত্রী এবং বর একই
প্রতিষ্ঠান থেকে এবার এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন। প্রায় দেড় বছর আগে তাদের মধ্যে
সম্পর্ক গড়ে ওঠে। তারা বিয়ে না দিলে আত্মহত্যার হুমকি দেন বলে অভিভাবকরা জানান। এতে
বাধ্য হয়ে অভিভাবকরা বিয়ের আয়োজন করেন।
অভিযানের
সময় কনেকে সাজানো চলছিল এবং পাশের ঘরে কাজীর অপেক্ষায় বরযাত্রীরা ছিলেন। ইউএনওর উপস্থিতিতে
বিয়ে বন্ধ হয় এবং প্রাপ্তবয়স্ক না হওয়া পর্যন্ত বিয়ে দেবেন না মর্মে অভিভাবকদের
কাছ থেকে মৌখিক স্বীকারোক্তি নেওয়া হয়।
কনের
বাবা বলেন, ছেলে ও মেয়ে একই প্রতিষ্ঠানে পড়ার সুবাদে সম্পর্ক গড়ে ওঠে। প্রশাসনের
হস্তক্ষেপে বিয়ে বন্ধ হয়েছে। মেয়ের ১৮ বছর বয়স না হওয়া পর্যন্ত আর বিয়ে দেব না।
কুমারখালী
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ফারজানা আখতার জানান, গোপন সংবাদের
ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে বাল্যবিয়ের আসর পণ্ড করে উভয় পক্ষের অভিভাবকদের কাছ থেকে
স্বীকারোক্তি নেওয়া হয়েছে। ছেলে ও মেয়েকে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। বাল্যবিয়ের
বিষয়ে সরকারের জিরো টলারেন্স নীতির আলোকে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
মন্তব্য করুন


নেত্রকোনার
পূর্বধলা উপজেলায় নদী থেকে ইট বাঁধা অবস্থায় এক নবজাতক কন্যাশিশুর মরদেহ উদ্ধার করেছে
পুলিশ। সোমবার (২৯ জুন) সকালে হোগলা ইউনিয়নের কালিহরকান্দা গ্রামের কালিহর নদীতে মরদেহটি
ভাসতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেয়।
পরে
স্থানীয় লোকজনের সহযোগিতায় নদী থেকে কালো শার্টে মোড়ানো নবজাতকের মরদেহ উদ্ধার করা
হয়।
পুলিশ
ও স্থানীয়রা জানায়, সকালে স্থানীয়রা সেতুর নিচে ভাসমান অবস্থায় নবজাতকের মরদেহ দেখতে
পেয়ে পুলিশকে খবর দেন। পরে পূর্বধলা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করে।
মরদেহটি একটি কালো রঙের শার্টে মোড়ানো ছিল এবং ইট দিয়ে বাঁধা অবস্থায় পাওয়া যায় বলে
জানায় পুলিশ।
খবর
ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। পরে মরদেহটি উদ্ধার করে থানায় নেওয়া হয়।
পূর্বধলা
থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, নবজাতকের মরদেহ নদীতে
কে বা কারা ফেলে গেছে তা এখনো জানা যায়নি। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ নেত্রকোনা আধুনিক
সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
এ
বিষয় তদন্ত চলমান।
মন্তব্য করুন


পহেলা বৈশাখকে কেন্দ্র করে মঙ্গল শোভাযাত্রা থেকে শুরু করে পান্তা-ইলিশ শোভা পায় বাঙালির পাতে।
ঐতিহ্যবাহী এই উৎসবকে কেন্দ্র করে মাছের বাজারে রুপালি ইলিশের কদর থাকে বরাবরই তুঙ্গে।
এবারও পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে যথারীতি বাজারে ইলিশের চাহিদা রয়েছে। তবে সে তুলনায় সরবরাহ কম হওয়ায় বেশি দামেই ইলিশ মাছ কিনতে হচ্ছে ক্রেতাদের।
মাছ ব্যবসায়ীরা দাবি করছেন, অন্যান্য সময়ের চাইতে এখন ইলিশ ধরা পড়ছে কম। এজন্য বাজারে সরবরাহ কম, ফলে দাম বেশি। সাধারণত সরবরাহ বেশি হলেই দাম কম হয়। কিন্তু এবার পাইকারি বাজারেও ভিন্ন চিত্র।
বড় আকারের ইলিশের দেখা খুব একটা মিলছে না। বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, এক কেজির নিচে, ৭০০ থেকে ৮০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ পাওয়া যাচ্ছে, সঙ্গে পাওয়া যাচ্ছে জাটকা। ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তারা প্রতিকেজি জাটকা বিক্রি করছেন সাড়ে ৬ শ' থেকে ৭ শ' টাকায়। ৭০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ দাম ১২০০ টাকা, ৮০০ গ্রাম ইলিশের দাম ১৩৫০ থেকে দেড় হাজার টাকার মতো। ১ হাজার টাকায় পাওয়া যাচ্ছে ৫৫০ গ্রাম ওজনের ইলিশ।
এবার ঈদের ছুটির সঙ্গে এবার পহেলা বৈশাখের ছুটি একসঙ্গে হওয়ায় অনেক মানুষ শহরে নেই ফলে অন্যান্যবারের পহেলা বৈশাখের মতো ইলিশ বেচাবিক্রির ধুম সেভাবে চোখে পড়ছে না।
বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, কাঁচাবাজারগুলোতে ক্রেতা কম থাকায় বেশিরভাগ দোকানি অলস সময় পার করছেন। ঈদে শাকসবজির দাম বাড়েনি। অন্যদিকে ব্রয়লার মুরগির দাম কেজিপ্রতি ১০ টাকা বেড়েছে। সোনালি বা লেয়ার মুরগির দামও বেড়েছে ২০-৩০ টাকা। এছাড়া বেশিরভাগ দোকানে গরুর মাংসের দাম ৮০০ টাকা, আর খাসির মাংসের দাম ১২০০ থেকে ১৩০০ টাকা। সার্বিকভাবে বাজার স্বাভাবিকই আছে। তবে ঈদের ছুটির কারণে চাহিদা কম, ফলে সরবরাহও কম। একই প্রভাব পড়েছে ইলিশের বাজারে, যার ফলে বড় আকারের ইলিশেরও দেখা মিলছে না।
মন্তব্য করুন


স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
সালাহউদ্দীন আহমদ বলেছেন, পুলিশ কোনো রাজনৈতিক দল, ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর লাঠিয়াল বাহিনী
নয়। পুলিশ হবে জনগণের বন্ধু, সেবক এবং আইনের নিরপেক্ষ প্রয়োগকারী।
তিনি
বলেন, দেশের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা, জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং মানবাধিকার
সমুন্নত রাখার ক্ষেত্রে পুলিশ সদস্যদের পেশাদারিত্ব, সততা ও জবাবদিহিতার সঙ্গে দায়িত্ব
পালন করতে হবে।
রোববার
(২ আগস্ট) সকালে বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমি সারদায় ২৭তম বিসিএস পুলিশ ব্যাচের (১ম পর্যায়)
সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
বলেন, বর্তমান বিশ্বে অপরাধের ধরন দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। সাইবার অপরাধ, ডিজিটাল প্রতারণা,
অনলাইন জালিয়াতি ও প্রযুক্তিনির্ভর অপরাধ মোকাবিলায় পুলিশ সদস্যদের আধুনিক প্রযুক্তিগত
দক্ষতা অর্জন করতে হবে। জনগণের আস্থা ও বিশ্বাস অর্জনের মাধ্যমে পুলিশকে একটি মানবিক
ও জনমুখী বাহিনী হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।
তিনি
বলেন, একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে পুলিশ বাহিনীর প্রধান শক্তি হলো জনগণের আস্থা। তাই
কোনো প্রকার রাজনৈতিক প্রভাব, পক্ষপাতিত্ব বা গোষ্ঠীগত স্বার্থের ঊর্ধ্বে থেকে সংবিধান
ও আইনের প্রতি আনুগত্য বজায় রেখে দায়িত্ব পালন করতে হবে।
প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত
নবীন পুলিশ কর্মকর্তাদের উদ্দেশে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দেশপ্রেম, সততা, পেশাদারিত্ব ও
মানবিক মূল্যবোধকে ধারণ করে জনগণের প্রত্যাশা পূরণে কাজ করার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে
প্রশিক্ষণ সফলভাবে সম্পন্নকারী কর্মকর্তাদের অভিনন্দন জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, অর্জিত
জ্ঞান ও দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে দেশের জনগণের কল্যাণে নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব
পালন করতে হবে। এ সময় বিভিন্ন বিষয়ে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনের জন্য তিনজন শিক্ষানবিশ সহকারী
পুলিশ সুপারদের মধ্যে পুরস্কার তুলে দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
অনুষ্ঠানে
উপস্থিত ছিলেন ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু, আইজিপি আলী হোসেন ফকির, রাজশাহী-৬ (চারঘাট-বাঘা) আসনের
এমপি আবু সাইদ চাদঁ, বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমি সারদার প্রিন্সিপাল এডিশনাল আইজিপি জিএম
আজিজুর রহমানসহ পুলিশ বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, প্রশিক্ষক ও নবীন পুলিশ কর্মকর্তারা
উপস্থিত ছিলেন।
মন্তব্য করুন


কুমিল্লার
বুড়িচং উপজেলার পীরযাত্রাপুর ইউনিয়নের গোপিনাথপুর গ্রামের একটি পাঞ্জেগানা মসজিদে এশার
আজান দেওয়ার সময় হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মো. আমিনুল ইসলামের (৪৮) মৃত্যু হয়েছে।
শনিবার
(১১ জুলাই) রাত আনুমানিক ৮টা ১৫ মিনিটে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। নামাজের জন্য মুসল্লিদের
আহ্বান জানাতে গিয়ে তার শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগের ঘটনায় এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
স্থানীয়
সূত্রে জানা যায়, মো. আমিনুল ইসলাম উপজেলার পীরযাত্রাপুর ইউনিয়নের গোপিনাথপুর কাজীবাড়ি
এলাকার প্রয়াত শামসুল আলমের ছেলে। তিনি দীর্ঘ তিন বছরেরও বেশি সময় ধরে স্থানীয় মাস্টারবাড়ি
পাঞ্জেগানা মসজিদে ইমাম ও খতিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন।
এছাড়া
তিনি প্রায় এক দশক ধরে কণ্ঠনগর দক্ষিণপাড়া দারুল সুন্নাহ তাহফিজুল কুরআন মাদ্রাসার
প্রধান শিক্ষক হিসেবে নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন। ধর্মীয় শিক্ষা বিস্তার এবং
সমাজে নৈতিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠায় তার অবদান স্থানীয়দের কাছে প্রশংসিত ছিল।
প্রত্যক্ষদর্শীরা
জানান, প্রতিদিনের মতো শনিবার রাতেও তিনি এশার নামাজের আজান দিতে দাঁড়ান। আজান দেওয়ার
একপর্যায়ে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে স্থানীয়রা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে চিকিৎসার ব্যবস্থা
করার চেষ্টা করলে ঘটনাস্থলেই তিনি মারা যান বলে জানা যায়।
তার
আকস্মিক মৃত্যুতে স্থানীয় মুসল্লি, শিক্ষার্থী, সহকর্মী ও এলাকাবাসীর মধ্যে গভীর শোকের
সৃষ্টি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও অনেকেই তার আত্মার মাগফিরাত কামনা করে শোক প্রকাশ
করছেন। পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।
মন্তব্য করুন


সারাদেশে ট্রেনের টিকিট কালোবাজারি চক্র উত্তম ও সেলিম সিন্ডিকেটের মূলহোতাসহ ১৪ জন সক্রিয় সদস্যকে গ্রেফতার করেছে র্যাব ।
কয়েকটি চক্র রেলস্টেশনে কর্মরত অসাধু কর্মচারী, সহজ ডটকমের অসাধু কর্মকর্তা, সার্ভার রুম ও আইটি সদস্যদের সহযোগিতায় ট্রেনের টিকিট কালোবাজারি করতো । এছাড়া সংরক্ষণ করা জনসাধারণের এনআইডির তথ্য ব্যবহার করে এমনকি সার্ভার ডাউন করে অনলাইনে টিকিট সংগ্রহ করতো এসব চক্র।
বৃহস্পতিবার (২৫ জানুয়ারি) রাতে রাজধানীর কমলাপুর ও বিমানবন্দর এলাকা থেকে তাদের গ্রেফতার করে র্যাব -৩।
গ্রেফতাররা হলেন- ট্রেনের টিকেট কালোবাজারির সেলিম সিন্ডিকেটের মূলহোতা মো. সেলিম (৫০), তার প্রধান সহযোগী মো. আনোয়ার হোসেন ওরফে কাশেম (৬২), অবনী সরকার সুমন (৩৫), মো. হারুন মিয়া (৬০), মো. মান্নান (৫০), মো. আনোয়ার হোসেন ওরফে ডাবলু (৫০), মো. ফারুক (৬২), মো. শহীদুল ইসলাম বাবু (২২), মো. জুয়েল (২৩) ও মো. আব্দুর রহিম (৩২)।তাদের তথ্যের ভিত্তিতে বিমানবন্দর রেলস্টেশন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে উত্তম সিন্ডিকেটের মূলহোতা উত্তম চন্দ্র দাস (৩০), তার প্রধান সহযোগী মো. মোর্শিদ মিয়া ওরফে জাকির (৪৫), আব্দুল আলী (২২) ও মো. জোবায়েরকে (২৫) গ্রেফতার করা হয়।
এসময় তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয় এক হাজার ২৪৪টি আসনের টিকিট, ১৪টি মোবাইল ফোন এবং টিকিট বিক্রির নগদ ২০ হাজার টাকা।
শুক্রবার (২৬ জানুয়ারি) দুপুরে কারওয়ান বাজার র্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান র্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন।তিনি বলেন, অনলাইনে বা রেল স্টেশনের টিকিট কাউন্টারে টিকিট পাওয়া না গেলেও কালোবাজারে বেশি দামে টিকিট বিক্রি হতে দেখা যায়। টিকিট কালোবাজারিরা বিভিন্ন কৌশলে ট্রেনের টিকিট অগ্রিম সংগ্রহ করে অবৈধভাবে নিজেদের কাছে মজুত করে রেখে সাধারণ যাত্রীদের কাছ দেড় থেকে দুই গুণ বেশি দামে টিকিট বিক্রি করছে।
সাম্প্রতিক সময়ে ঢাকা-কক্সবাজার রুটে সরাসরি ট্রেন চলাচল শুরু হয় এবং এই রুটে কক্সবাজার এক্সপ্রেস ও পর্যটক এক্সপ্রেস নামের দুটি ট্রেন যাত্রা শুরু করে। দীর্ঘ এই ভ্রমণে নিরাপদ ও আরামদায়ক যাত্রার জন্য এ রুটে ট্রেনের টিকিটের ব্যাপক চাহিদা দেখা দেয়। টিকেটের চাহিদা বেশি থাকায় টিকিট কালোবাজারিদের দৌরাত্ম্যও বেড়ে যায়; অনলাইনে বা কাউন্টারে টিকিট বিক্রি শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই শেষ হয়ে যায় এই রুটের ট্রেনের টিকিট। কিন্তু কালোবাজারিদের কাছে ২-৩ গুণ দামে টিকিট বিক্রি হতে দেখা যায়।চাহিদা অনুযায়ী টিকিট না পাওয়ার এবং টিকিট কালোবাজারিরা বেশি দামে টিকিট বিক্রির বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় ব্যাপক সমালোচিত হয়। ট্রেনের টিকিট কালোবাজারি প্রতিরোধ ও কালোবাজারিদের আইনের আওতায় নিয়ে আসতে গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করে ১৪ জনকে গ্রেফতার করে র্যাব ।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতাররা ট্রেনের টিকিট কালোবাজারির সঙ্গে তাদের সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে কিছু তথ্য প্রদান করেছে ।
স্টেশনে কুলি, টোকাই, রিকশাওয়ালা ও দিনমজুরদের লাইনে দাঁড় করিয়ে টিকিট সংগ্রহ:
কমান্ডার খন্দকার আল মঈন বলেন, কমলাপুর রেলস্টেশনে সেলিম সিন্ডিকেটের মূলহোতা সেলিম এবং বিমানবন্দর রেলস্টেশনে উত্তম সিন্ডিকেটের মূলহোতা উত্তমের নেতৃত্বে এ চক্রটি সংঘবদ্ধভাবে দীর্ঘদিন ধরে মহানগর প্রভাতী, তূর্ণা নিশিথা, চট্টলা এক্সপ্রেস, উপবন এক্সপ্রেস, মহানগর এক্সপ্রেস, পারাবত এক্সপ্রেস, উপকূল এক্সপ্রেস, জয়ন্তিকা এক্সপ্রেস, কালনী এক্সপ্রেসসহ বিভিন্ন ট্রেনের টিকিট কালোবাজারি করে আসছিল। গ্রেফতার সেলিম এবং উত্তমের নেতৃত্বে তার সহযোগীরা প্রথমত ট্রেনের কাউন্টারে বিভিন্ন ভ্রাম্যমাণ যাত্রী, রেলস্টেশনের কুলি, স্টেশনের আশেপাশের এলাকার টোকাই, রিকশাওয়ালা ও দিনমজুরদের টাকার প্রলোভন দেখিয়ে লাইনে দাঁড় করিয়ে টিকিট সংগ্রহ করত।
যাত্রীদের এনআইডি সংগ্রহ করে পরবর্তীতে সেগুলো ব্যবহার করে কাটা হতো টিকিট:
এক্ষেত্রে তাদের প্রত্যেককে চারটি করে টিকিট সংগ্রহ করার বিনিময়ে ১০০ টাকা করে দেওয়া হতো। এছাড়াও কাউন্টারে থাকা কিছু অসাধু টিকিট বুকিং কর্মচারীদের দিয়ে বিভিন্ন সাধারণ যাত্রীদের টিকিট কাটার সময় এনআইডি সংগ্রহ করে রাখে এবং পরবর্তীতে সেগুলো ব্যবহার করে সংরক্ষণকৃত প্রতিটি এনআইডি দিয়ে চারটি করে ট্রেনের টিকিট সংগ্রহ করে থাকে।
প্রতিদিন ৫০০ টিকিট সংগ্রহ করতো তারা:
এভাবে তারা প্রতিদিন প্রায় পাঁচ শতাধিক টিকিট সংগ্রহ করতো। অনেক ক্ষেত্রে টিকিট কাউন্টারে নিজেরা লাইনে দাড়িয়ে এবং কৌশলে লাইনে অপেক্ষমান টিকিটপ্রত্যাশী সাধারণ যাত্রীদের এনআইডি ব্যবহার করে চারটি টিকিট কিনে তিনটি টিকিট নিজেরা তার কাছ থেকে টাকা দিয়ে টিকিটগুলো কিনে নিতো।
সার্ভার ডাউন করে তারা অনলাইনে টিকিট সংগ্রহ:
র্যাবের মুখপাত্র বলেন, ঈদ, পুজা, সাপ্তাহিক ছুটিসহ বিশেষ ছুটির দিনকে উপলক্ষ করে গ্রেফতাররা রেলস্টেশনে কর্মরত কিছু অসাধু কর্মচারী এবং অনলাইনে টিকিট ক্রয়ের জন্য ব্যবহৃত ভেন্ডর প্রতিষ্ঠান সহজ ডটকমের কিছু অসাধু কর্মকর্তা ও সার্ভার রুম ও আইটি সদস্যদের সহযোগিতায় তাদের কাছে সংরক্ষিত জনসাধারণের এনআইডির তথ্য ব্যবহার করে এমনকি সার্ভার ডাউন করে তারা অনলাইনে টিকিট সংগ্রহ করতো।
শিক্ষার্থীদের দিয়ে অনলাইনে টিকিট কাটানো হতো:
কমান্ডার মঈন বলেন, পাশাপাশি গ্রেফতাররা বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের দিয়ে অনলাইনে টিকিট কেটে সেগুলো তাদের কাছ থেকে সংগ্রহ করতো। গ্রেফতাররা স্টেশনে থাকা তাদের সিন্ডিকেটের সদস্যদের দিয়ে কাউন্টার থেকে স্ট্যান্ডিং টিকেট সংগ্রহ করতো। এসব টিকিটের মূল্য কাউন্টারের বুকিং কর্মচারীদের সঙ্গে তারা ভাগ করে নিতো। ফলে রেলওয়ে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এভাবে গ্রেফতাররা অবৈধভাবে বিভিন্ন পন্থায় বিপুল সংখ্যক ট্রেনের টিকিট সংগ্রহ করতো।
গ্রেফতারকৃত সেলিম ও উত্তমের নেতৃত্বে তার সহযোগীরা উপযুক্ত সময় বুঝে সংগ্রহকৃত টিকিট নিয়ে রেলস্টেশনের ভেতরে অবস্থান করে। রেলস্টেশনে এসে টিকিট না পাওয়া সাধারণ যাত্রীদের কাছে গ্রেফতাররা টিকিট বিক্রির জন্য ঘুরাঘুরি করে এবং বেশি দামে টিকিট বিক্রি করে। এছাড়াও ট্রেন ছাড়ার সময় যত সন্নিকটে আসতে থাকে তাদের মজুত করা কালোবাজারি টিকিটের দাম তত বাড়তে থাকে এবং সুযোগ বুঝে অনেক ক্ষেত্রে টিকিটের দাম দিগুণেরও বেশি বাড়িয়ে দেয়।
ঈদের সময় ৪ গুণ দামে টিকিট বিক্রি:
র্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক বলেন, ঈদের ছুটিসহ বিভিন্ন ছুটিকে কেন্দ্র করে গ্রেফতাররা প্রতিটি টিকেট ৩-৪ গুণ বেশি মূল্যে বিক্রি করে। প্রতিটি টিকিট তারা দেড় গুণ থেকে দুই গুণে বিক্রি করে এই লভ্যাংশের ৫০ শতাংশ পায় গ্রেফতাররা নিতো এবং বাকি ৫০ শতাংশ কাউন্টারে থাকা বুকিং কর্মচারী ও তাদের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, সহজ ডটকমের কর্মচারী-কর্মকর্তা ও আইটি বিশেষজ্ঞদের দেওয়া হতো।
৩৫ বছর ধরে টিকিট কালোবাজারি করেছে সেলিম:
কমান্ডার মঈন জানান, গ্রেফতার সেলিম দীর্ঘ প্রায় ৩৫ বছর ধরে টিকিট কালোবাজারির সঙ্গে জড়িত। তিনি কমলাপুর রেলস্টেশনে ট্রেনের টিকিট কালোবাজারি সেলিম সিন্ডিকেটের মূলহোতা। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় টিকিট কালোবাজারির দায়ে সাতটি মামলা রয়েছে এবং এসব মামলায় বিভিন্ন মেয়াদে কারাভোগও করেছেন তিনি। সে জামিনে মুক্তি পেয়ে পুনরায় আবার টিকিট কালোবাজারির কার্যক্রমে লিপ্ত হয়।
১৫ বছর ধরে টিকিট কালোবাজারিতে জড়িত কাশেম:
তিনি বলেন, গ্রেফতার আনোয়ার হোসেন ওরফে কাশেম প্রায় ১৫ বছর ধরে ট্রেনের টিকিট কালোবাজারির সঙ্গে জড়িত। তিনি গ্রেফতার সেলিমের অন্যতম প্রধান সহযোগী। মূলত তার দায়িত্ব ছিল কাউন্টার থেকে ট্রেনের টিকিট সংগ্রহ করা। এর আগে তিনি মাদক মামলাসহ একাধিক মামলায় বিভিন্ন মেয়াদে কারাভোগ করেছেন।
এছাড়াও গ্রেফতার অবনী সরকার ও হারুন মিয়ার দায়িত্ব ছিল চট্টগ্রাম এলাকার কাস্টমার সংগ্রহ করা। একইভাবে মান্নান এবং আনোয়ার ওরুফে ডাবলুর দায়িত্ব ছিল সিলেট এলাকার কাস্টমার সংগ্রহ করা। ফারুক এবং শহীদুল ইসলাম বাবুর দায়িত্ব ছিল ভৈরব ও কিশোরগঞ্জের কাস্টমার দেখাশোনা করা। জুয়েল এবং আব্দুর রহিমের দায়িত্ব ছিল ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও আখাউড়ার যাত্রী সংগ্রহ করা। এছাড়াও গ্রেফতারদের সবার বিরুদ্ধে টিকিট কালোবাজারির মামলা রয়েছে।
১৫ বছর ধরে টিকিট কালোবাজারি করেছে উত্তম:
কমান্ডার খন্দকার আল মঈন বলেন, গ্রেফতার উত্তম প্রায় ১৫ বছর ধরে ট্রেনের টিকেট কালোবাজারির সঙ্গে জড়িত। তিনি বিমানবন্দর রেলস্টেশনের টিকিট কালোবাজারি চক্র উত্তম সিন্ডিকেটের মূলহোতা। তার সহযোগী গ্রেফতার আলী ও ফারুকসহ রাজধানীর আশকোনা এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় অবস্থান করে এসব কার্যক্রম পরিচালনা করত। তিনি শারীরিক প্রতিবন্ধী এবং এই সহানুভূতিকে কাজে লাগিয়ে রেলস্টেশন এলাকায় সবসময় অবস্থান করে টিকিট কালোবাজারি চক্র গড়ে তোলে।
উত্তমের বিরুদ্ধে টিকিট কালোবাজারির দায়ে চারটি মামলা রয়েছে। এসব মামলায় তিনি বিভিন্ন মেয়াদে কারাভোগ করেছেন।পরে জামিনে মুক্তি পেয়ে আবারও টিকিট কালোবাজারির কাজে লিপ্ত হন।
মন্তব্য করুন


বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের (ডিজিএফআই) নতুন মহাপরিচালক হলেন মেজর জেনারেল মো. ফয়জুর রহমান।
সোমবার
(১২ আগস্ট) আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্ততে
এ তথ্যসহ আরো জানানো হয়েছে যে, মেজর জেনারেল মো. ফয়জুর রহমানকে ডিজিএফআইয়ের মহাপরিচালক,
মেজর জেনারেল মো. নাসিম পারভেজকে কমান্ড্যান্ট এমআইএসটি এবং মেজর জেনারেল আবদুল মোতালেব
সাজ্জাদ মাহমুদকে আনসার ও ভিডিপির মহাপরিচালক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
মন্তব্য করুন


চাঁদপুরের
হাইমচর উপজেলায় ঈদের আনন্দ বিষাদে রূপ নিয়েছে। নানার বাড়িতে বেড়াতে এসে পুকুরের পানিতে
ডুবে আয়েশা আক্তার নামের ছয় বছর বয়সী এক শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে।
শনিবার
(৩০ মে) সকালে উপজেলার আলগী দুর্গাপুর উত্তর ইউনিয়নের উত্তর আলগী গ্রামে এই দুর্ঘটনা
ঘটে। নিহত আয়েশা চাঁদপুর শহরের বাসিন্দা শফিক মাঝির ছোট মেয়ে। সে শহরের একটি মাদ্রাসার
শিশু শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।
পারিবারিক
ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শফিক মাঝি তার পরিবার নিয়ে চাঁদপুর শহরে বসবাস করেন। আসন্ন
ঈদুল আজহা উপলক্ষে সম্প্রতি তার স্ত্রী-সন্তানেরা হাইমচরের দক্ষিণ আলগী গ্রামে নানার
বাড়িতে বেড়াতে আসে। সকালে পরিবারের সবার অলক্ষ্যে শিশু আয়েশা দক্ষিণ আলগী হাইমচর সরকারি
বালক উচ্চ বিদ্যালয় সংলগ্ন ওজি বাড়ির পুকুরে পড়ে যায়।
পরবর্তীতে
তাকে পুকুরে ভাসতে দেখে স্থানীয় ও পরিবারের লোকজন উদ্ধার করে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে দ্রুত
হাইমচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। তবে হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই শিশুটির
মৃত্যু হয়।
হাইমচর
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. সওগাদ জানান, "শিশুটিকে সকাল
সাড়ে ৯টায় হাসপাতালে আনা হয়েছিল। তবে আমরা বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখেছি, হাসপাতালে
নিয়ে আসার পূর্বেই পানিতে ডুবে তার মৃত্যু হয়েছে।"
পরিবার
সূত্রে জানা গেছে, নিহত আয়েশা তিন ভাই ও এক বোনের মধ্যে সবার ছোট ছিল। আদরের ছোট সন্তানকে
হারিয়ে পরিবারটিতে এখন চলছে শোকের মাতম। স্বজনদের কান্না ও আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে
এলাকার বাতাস।
এদিকে
গ্রামীণ জনপদে অসচেতনতার কারণে বারবার এমন দুর্ঘটনা ঘটায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।
সাঁতার না জানা শিশুদের প্রতি বর্ষা ও ঈদের মৌসুমে আরও বাড়তি নজরদারির দাবি জানিয়েছেন
তারা।
মন্তব্য করুন


গোপালগঞ্জের
কাশিয়ানীতে ১৩ বছরের এক মাদরাসাছাত্রীকে একা পেয়ে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে এক রংমিস্ত্রিকে
আটক করেছে পুলিশ।
শুক্রবার
(১২ জুন) সন্ধ্যায় উপজেলার ফুকরা ইউনিয়নের সাফলীডাঙ্গা পূর্বপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
আটক
রবিউল শেখ (৩৫) একই গ্রামের বাসিন্দা। তিনি পেশায় একজন রংমিস্ত্রি এবং তিন সন্তানের
বাবা।
কাশিয়ানী
থানার রামদিয়া তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ মোল্লা আফজাল হোসেন জানান, শুক্রবার সন্ধ্যায়
ওই ছাত্রী তার দাদার বাড়ি থেকে নিজ বাড়িতে যাচ্ছিল। পথে সানোয়ার শিকদারের বাড়ির কাছে
পৌঁছালে রবিউল তাকে জড়িয়ে ধরে ধর্ষণের চেষ্টা করে। এ সময় সানোয়ার শিকদারের স্ত্রী
সাহেরা বেগম ঘটনাটি দেখে ফেললে রবিউল দ্রুত দৌঁড়ে পালিয়ে যায়।
পরে
ভুক্তভোগী ছাত্রীর মা রহিমা বেগম বাদী হয়ে রামদিয়া পুলিশ ফাঁড়িতে একটি লিখিত অভিযোগ
দায়ের করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ রবিউলকে নিজ এলাকা থেকে আটক করে।
এ
ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এলাকাবাসী দোষী রবিউলের দৃষ্টান্তমূলক
শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
এ
বিষয়ে কাশিয়ানী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ মাহফুজুর রহমান জানান, এ
ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে আসামিকে আদালতের মাধ্যমে
জেলহাজতে পাঠানো হবে।
মন্তব্য করুন