

ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে চা বিক্রির পাশাপাশি লেখাপড়া করে এবার উচ্চ মাধ্যমিকে জিপিএ-৫ পেয়েছে স্মৃতি পারভীন নামে এক ছাত্রী। প্রতিদিন ভোর ৫টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত চায়ের দোকানে চা বিক্রি করে রাতে পড়ালেখা করে জিপিএ-৫ পাওয়া স্মৃতির স্বপ্ন ভবিষ্যতে নার্স হয়ে অসহায় রোগীদের সেবা করা। কিন্তু ১৮ বছর বয়সী ছোট স্মৃতির নার্স হওয়ার ছোট স্বপ্ন বাস্তব রূপ পাওয়ার ক্ষেত্রে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে পারিবারিক অস্বচ্ছলতার কারণে,স্মৃতি পারভীন উপজেলার ময়না গ্রামের হারুন শেখের মেয়ে। তিন ভাইবোনের মধ্যে স্মৃতি দ্বিতীয়। উচ্চ শিক্ষা গ্রহণের উপজেলার একমাত্র নারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কাজী সিরাজুল ইসলাম মহিলা কলেজের কারিগরি শাখা থেকে সে এবার উচ্চ মাধ্যমিকে অংশ নিয়ে জিপিএ-৫ পেয়েছে। এর আগে সে উপজেলার ময়না ইউনিয়নে অবস্থিত ময়না এ সি বোস ইনস্টিটিউশন থেকে মাধ্যমিকে অংশ নিয়ে কৃতকার্য হয়।স্মৃতি পারভীন জানায়, প্রতিদিন ভোর ৫টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ময়না বাজারে অবস্থিত চায়ের দোকানে চা বিক্রি করে। এরপর রাত ১০টা পর্যন্ত বড় বোন মনিকা পারভীন চা বিক্রি করে। এভাবে পালাক্রমে দুই বোন চায়ের দোকান চালায়। প্রতি কাপ চা ৫টাকা। এতে যা লাভ থাকে তাতেই সংসার চলে।
স্মৃতি আরও জানায়, তাদের বাবা তেমন কিছু করে না বললেই চলে। ওই চায়ের দোকানই তাদের উপার্জনের প্রধান অবলম্বন। ছোট ভাই এবং নিজের পড়ালেখার খরচ, সংসারের খরচ, ওষুধের খরচ চায়ের দোকান থেকেই চালানো হয়। স্মৃতির ইচ্ছে একজন নার্স হওয়ার। তবে সংসার খরচ চালানোর পর তেমন একটা টাকা অবশিষ্ট থাকে না। এজন্য নার্স হওয়ার স্বপ্ন পূরণ হবে কি না তা ভবিষ্যতের আর বড় বোনের ওপর ছেড়ে দিয়েই দীর্ঘশ্বাস ফেলে চায়ের পেয়ালায় হাত লাগায় মেধাবী স্মৃতি।
মন্তব্য করুন


কৌশলের
নামে গুপ্ত বা সুপ্ত বেশ কখনো বিএনপি ধরেনি বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক
রহমান।
শনিবার
(১৭ জানুয়ারি) রাজধানীর চীন মৈত্রী আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে গুম-খুনের শিকার পরিবারের
সদস্যদের নিয়ে ‘আমরা বিএনপি পরিবার’ ও ‘মায়ের ডাক’-এর
উদ্যোগে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন।
তারেক
রহমান বলেন, “ষড়যন্ত্র করে কেউ বিএনপিকে দমন করে রাখতে পারবে না। সম্প্রতি নির্বাচন
কমিশনের বিতর্কিত ভূমিকা দেখেছি, কিন্তু রাজনেতিক দল হিসেবে আমরা ধৈর্যের পরিচয় দিতে
চাইব।
ফ্যাসিবাদী
আমলে বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে দেওয়া সব মামলাকে রাজনৈতিক এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত
উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, “যারাই বিগত সময় নানাভাবে নির্যাতন নিপীড়নের শিকার হয়েছেন,
তাদের সান্ত্বনা দেওয়ার ভাষা নেই। আর গুম-খুন ও নানা নির্যাতনের পরও বিএনপির নেতাকর্মীরা
রাজপথ ছেড়ে যায়নি।”
তিনি
বলেন, “আমাদের হাজার হাজার নেতাকর্মীকে অত্যাচার করা হয়েছে। হাজারো নেতাকর্মীকে হতে
হয়েছে গুমের শিকার।
তাদের
কিছু পরিবার এখানে আছে। ফ্যাসিবাদী আন্দোলনের সময় বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে দেড়
লক্ষের বেশি মিথ্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। যার বোঝা ৬০ লক্ষ নেতাকর্মীকে বহন করতে
হয়েছে। লক্ষ লক্ষ নেতাকর্মীকে বছরের পর বছর ঘরবাড়ি ছেড়ে থাকতে হয়েছে।
তাদের
বিরুদ্ধে মামলাগুলো ছিল রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।”
যে
দলের নেতাকর্মীরা আন্দোলনে অকুতোভয় ভূমিকা রাখতে পারে, সেই দলের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র
বা অপপ্রচার চালিয়ে কেউ কখনো দমন করতে পারবে না জানিয়ে বিএনপির চেয়ারম্যান বলেন, “কৌশলের
নামে গুপ্ত বা সুপ্ত বেশ কখনো বিএনপি ধরেনি।”
মন্তব্য করুন


ব্রাহ্মণবাড়িয়ার
সদর উপজেলার টিএ রোড বাজার এলাকায় প্যাটিসে তেলাপোকা পাওয়ার অভিযোগে মেসার্স শাহী বেকারিকে
১ লাখ টাকা জরিমানা করেছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর।
আজ
রবিবার (৩০ নভেম্বর) দুপুর ১২টায় জেলা প্রশাসকের সার্বিক তত্ত্বাবধানে ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের
নির্দেশনায় এ অভিযান পরিচালিত হয়।
জানা
যায়, ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের সিরাজুল উলুম তালিমুল কুরআন মাদ্রাসার ছাত্রদের জন্য শাহী
বেকারি থেকে প্যাটিস কেনার পর তাতে তেলাপোকা পাওয়া যায়। বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে
ছড়িয়ে পড়লে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা
কার্যালয়ে অভিযোগ দায়ের করে। অভিযোগের ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠানটিতে অভিযান চালানো হয়।
অভিযানে
অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়। কর্মকর্তারা দেখতে পান, বেকারিটিতে অস্বাস্থ্যকর ও অরক্ষিত
পরিবেশে খাদ্য প্রস্তুত করা হচ্ছে এবং রান্নাঘরে যত্রতত্র তেলাপোকা ঘোরাফেরা করছে।
এ
অবস্থায় প্রতিষ্ঠানটির স্বত্বাধিকারী মোছলেহ উদ্দিনের বিরুদ্ধে অভিযোগের ভিত্তিতে ৪০
হাজার টাকা এবং অস্বাস্থ্যকর প্রক্রিয়ায় খাদ্য প্রস্তুতের দায়ে অতিরিক্ত ৬০ হাজার টাকা,
মোট ১ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। জরিমানার অর্থ আদায় করা হয়। এ সময় কর্তৃপক্ষ বেকারিকে
নিরাপদ খাদ্য প্রস্তুতের নিয়ম মেনে উৎপাদন চালানোর নির্দেশ দেয় এবং ভবিষ্যতে একই ধরনের
অনিয়ম করলে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার সতর্কবার্তা প্রদান করে।
জনস্বার্থে
ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের এমন তদারকি ও নজরদারি কার্যক্রম চলমান থাকবে বলে
জানানো হয়।
মন্তব্য করুন


গাজীপুরের
টঙ্গী তুরাগ তীরে আয়োজিত বিশ্ব ইজতেমার ময়দানে দেশের সর্ববৃহৎ জুমার নামাজ অনুষ্ঠিত
হয়। লাখো মুসল্লি এ জুমার নামাজে অংশ নেন।
শুক্রবার
(৯ ফেব্রুয়ারি) বিশ্ব ইজতেমার ২য় পর্বে জুমার নামাজে ইমামতি করেন মাওলানা সাদ'র বড়
ছেলে মাওলানা ইউসুফ বিন সাদ।
বৃহস্পতিবার
(৮ ফেব্রুয়ারি) বাদ জোহর আম বয়ানের মধ্য দিয়ে শুরু হয় বিশ্ব ইজতেমার ২য় পর্বের
আনুষ্ঠানিকতা।
আজ
লাখো মুসল্লির সঙ্গে শরিক হয়ে দেশের সর্ববৃহৎ জুমার নামাজ আদায় করতে সকাল থেকেই চারদিক
থেকে মুসল্লিরা ইজতেমার ময়দানে আসতে শুরু করেন। ময়দানে, সড়ক-মহাসড়ক, খালি জায়গাসহ
বিভিন্ন স্থানে পলিথিন, খবরের কাগজ ও চট বিছিয়ে জুমার নামাজ আদায় করেন মুসল্লিরা।
যানজট
নিয়ন্ত্রণে ও মুসল্লিদের নিরাপত্তায় রয়েছেন আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কয়েক
হাজার সদস্য।
আজ
বয়ান করেন যারা:
শুক্রবার
(৯ ফেব্রুয়ারি) ফজরের পরে বয়ান করেন মাওলানা ইলিয়াস বিন সাদ। তার বয়ান বাংলায়
তর্জমা করেন মাওলানা মনির বিন ইউসুফ। জুমার আগে জুমার ফাজায়েল বয়ান করেন মাওলানা
মনির বিন ইউসুফ।
জুমার
পরে বয়ান করবেন- শেখ মোফলে (আরবি) এবং বাংলা তর্জমা করবেন মাওলানা শেখ আব্দুল্লাহ
মনসুর। আসরের পরে বয়ান করবেন মাওলানা মোশাররফ। মাগরিবের পরে বয়ান করবেন মাওলানা ইউসুফ
বিন সাদ। পরে তা বাংলায় তর্জমা করবেন মাওলানা জিয়া বিন কাশেম।
মুসল্লির
মৃত্যু-
বিশ্ব
ইজতেমার দ্বিতীয় পর্বের আয়োজকরা জানান, শুক্রবার (৯ ফেব্রুয়ারি) সকাল পর্যন্ত বিশ্ব
ইজতেমার দ্বিতীয় পর্বে ৪ জন মুসল্লির মৃত্যু হয়েছে।
তারা
হলেন, শেরপুর সদর থানার রামকৃষ্ণপুর এলাকার আবুল কালাম (৬৫), নেত্রকোনার কেন্দুয়া
থানার কুতুবপুর এলাকার হেলিম মিয়া (৬৫), দিনাজপুরের
নবাবগঞ্জ থানার শিবনগর এলাকার জহির উদ্দিন (৭০) ও জামালপুরের ইসলামপুর থানার গোয়ালের
চর এলাকার নবীর উদ্দিন (৬৫)।
রোববার
(১১ ফেব্রুয়ারি) আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে শেষ হবে এবারের বিশ্ব ইজতেমা।
মন্তব্য করুন


কোনো
পরিস্থিতিতেই জনগণকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি থেকে সরে আসা হবে না বলে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত
করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
ইরান
যুদ্ধের জেরে অঙ্গীকার বাস্তবায়নে কোনো ক্ষেত্রে কেবল কিছুটা সময় প্রয়োজন হতে পারে
উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেশের মানুষের প্রত্যাশা বর্তমান সরকারের কাছে অনেক,
সেটি আমরা বুঝতে পারি। আমরা যে প্রতিশ্রুতিগুলো দিয়েছিলাম, তা থেকে বিন্দুমাত্র অবস্থান
পরিবর্তন করব না। তবে, বৈশ্বিক পরিস্থিতির কারণে ক্ষেত্রবিশেষে কিছু প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে
হয়তো সময় বেশি লাগতে পারে। তাই সবাইকে ধৈর্যের সঙ্গে পরিস্থিতি মোকাবিলার অনুরোধ করছি।’
আজ
মহাখালীর কড়াইলে বনানী টিঅ্যান্ডটি খেলার মাঠে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে নতুন
সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কার্যক্রম উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এসব কথা
বলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
অনুষ্ঠানে
প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। এতে
সভাপতিত্ব করেন মহিলা ও শিশু এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন।
অনুষ্ঠানের
শুরুতে পবিত্র কোরআন, বেদ, ত্রিপিটক, বাইবেল পাঠের পর বিএনপি দলীয় সংগীত পরিবেশ করা
হয়। অনুষ্ঠানে ফ্যামিলি কার্ডের ওপর একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। প্রধান অতিথির
আগে সমাজকল্যাণ মন্ত্রী আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন বক্তব্য রাখেন। এরপর পরিবেশন করা
হয় জাতীয় সংগীত।
এ
অনুষ্ঠানে ১৭ জন নারীর হাতে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
কার্ড তুলে দেওয়ার পরপরই সরকারপ্রধান ল্যাপটপে একটি বাটন প্রেস করেন, সঙ্গে সঙ্গে উপকারভোগীদের
কাছে নগদ অর্থ চলে যায়। এ সময় করতালিতে মুখরিত হয়ে ওঠে অনুষ্ঠানস্থল।
প্রধানমন্ত্রীর
কথায়, তারা একটি দায়িত্বশীল সরকারের ভূমিকা পালন করতে চান। যে সরকার জনগণ ও দেশের জন্য
কাজ করবে। বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার জনগণের কাছে জবাবদিহি থাকতে চায়।
তিনি
বলেন, ‘তারই একটি অংশ হিসেবে আমাদের দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল নির্বাচনের পূর্বে
আমরা বাংলাদেশের মানুষের কাছে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম। বাংলাদেশের নারী সমাজের কাছে
প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম যে, বিএনপি সরকার গঠন করতে সক্ষম হলে আমরা এই ফ্যামিলি কার্ডের
কাজ শুরু করব।
তিনি
আরো বলেন, আপনারা নিশ্চয় খেয়াল করেছেন, আমরা আল্লাহর রহমতে বাংলাদেশের মানুষের সমর্থন
নিয়ে বিগত নির্বাচনে সরকার গঠন করার এক মাসেরও কম সময়ের মধ্যে আমাদের এই প্রতিশ্রুতি
জনগণের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতির কাজ শুরু করেছি।
নির্বাচনের
সময়ে ব্যবহৃত স্লোগান ‘করব কাজ গড়ব দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’
বলে নিজের বক্তব্যের সমাপ্তি টানেন তারেক রহমান।
সমাজকল্যাণ
মন্ত্রী অধ্যাপক আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেনের সভাপতিত্বে প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমিন,
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শফিকুল ইসলাম মিল্টন, সমাজকল্যাণ সচিব মোহাম্মদ
আবু ইউসুফ বক্তব্য রাখেন।
অনুষ্ঠানে
মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, এমপি, কূটনীতিকসহ সরকারের বিভিন্ন দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা
উপস্থিত ছিলেন।
মন্তব্য করুন


আগামী
১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও জুলাই জাতীয় সনদ (ন্যাশনাল
চার্টার) বিষয়ে গণভোট পর্যবেক্ষণে এখন পর্যন্ত ৩৩০ জন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক আসার
বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছে।
আজ
শনিবার ( ৩১ জানুয়ারি ) প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং জানিয়েছে, ইসলামী সহযোগিতা সংস্থা
(ওআইসি)-সহ ছয়টি আন্তর্জাতিক সংস্থা অন্তত ৬৩ জন পর্যবেক্ষক পাঠাতে সম্মত হয়েছে। এর
পাশাপাশি ইউরোপীয় ইউনিয়ন, ১৬টি দেশ এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার সঙ্গে যুক্ত ৩২
জন ব্যক্তি পর্যবেক্ষক হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেবেন।
এ
নিয়ে আসন্ন নির্বাচনে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকের সংখ্যা দাঁড়াল ৩৩০ জন, যা ২০২৪ সালের
৭ জানুয়ারির বিতর্কিত নির্বাচনের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। ওই নির্বাচনে আন্তর্জাতিক
পর্যবেক্ষকের সংখ্যা ছিল তুলনামূলকভাবে অনেক কম।
এর
আগে ১২তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ১৫৮ জন, ১১তম জাতীয় নির্বাচনে ১২৫ জন এবং ১০ম নির্বাচনে
মাত্র চারজন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক ছিলেন।
ওআইসি’র
দুই সদস্যের পর্যবেক্ষক দলটির নেতৃত্ব দেবেন সংস্থাটির নির্বাচন পর্যবেক্ষণ ইউনিটের
প্রধান শাকির মাহমুদ বান্দার। এছাড়া এশিয়ান নেটওয়ার্ক ফর ফ্রি ইলেকশনস (আনফ্রেল) থেকে
২৮ জন, কমনওয়েলথ সেক্রেটারিয়েট থেকে ২৫ জন, যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ইন্টারন্যাশনাল রিপাবলিকান
ইনস্টিটিউট (আইআরআই) থেকে সাতজন এবং ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক ইনস্টিটিউট (এনডিআই) থেকে
একজন পর্যবেক্ষক আসবেন।
পররাষ্ট্র
মন্ত্রণালয় ও নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ভয়েস ফর জাস্টিস, ডেমোক্রেসি ইন্টারন্যাশনাল,
এসএনএএস আফ্রিকা, সার্ক মানবাধিকার ফাউন্ডেশন এবং পোলিশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল
অ্যাফেয়ার্স-এর মতো সংস্থার প্রতিনিধিত্বকারী ৩২ জন ব্যক্তি পর্যবেক্ষক হিসেবেও নির্বাচনী
কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করবেন।
আন্তর্জাতিক
পর্যবেক্ষকদের সফর সমন্বয়ের দায়িত্বে থাকা সিনিয়র সচিব ও এসডিজি সমন্বয়ক লামিয়া মোরশেদ
বলেন, আমরা আশা করছি আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকের সংখ্যা আরো বাড়বে। আমন্ত্রণ জানানো কয়েকটি
দেশ এখনো তাদের প্রতিনিধিদের নাম নিশ্চিত করেনি।
যেসব
দেশ এখনো প্রতিনিধি চূড়ান্ত করেনি— তাদের মধ্যে রয়েছে ভারত, নেপাল, অস্ট্রেলিয়া,
ব্রাজিল, কানাডা, মিসর, ফ্রান্স, কুয়েত, মরক্কো, নাইজেরিয়া ও রোমানিয়া। এছাড়া দক্ষিণ
এশিয়ার নির্বাচন ব্যবস্থাপনা সংস্থাগুলোর ফোরাম ফেমবোসা শিগগিরই তাদের পর্যবেক্ষকদের
নাম ঘোষণা করতে পারে।
এবারের
নির্বাচনে ৫০টির বেশি রাজনৈতিক দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থী মিলিয়ে প্রায় ২ হাজার প্রার্থী
৩০০টি সংসদীয় আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি একই দিনে
অনুষ্ঠিত হবে জুলাই জাতীয় সনদ নিয়ে গণভোট।
মন্তব্য করুন


রাজধানীর
মতিঝিলসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষের কাটা হাত, পা, মাথাসহ বিভিন্ন অংশ উদ্ধার করেছে
পুলিশ। ইতোমধ্যে এ ঘটনার রহস্যও উদ্ঘাটন করে ফেলেছে পুলিশ। ঢাকার ভিন্ন ভিন্ন স্থানে
পাওয়া যাওয়া মানবদেহের খণ্ড-বিখণ্ড অংশগুলো একই ব্যক্তির এবং এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত ঘাতককে
গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)।
তদন্তে
জানা গেছে, নরসিংদীর শিবপুর উপজেলার বাসিন্দা ওবায়দুল্লাহকে নির্মমভাবে হত্যার পর তার
দেহ সাত টুকরো করে রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে ফেলে দেন তারই রুমমেট শাহীন। মূলত, অনৈতিক
প্রস্তাব ও ঝগড়া-বিবাদের জেরে এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
রোববার
(১ মার্চ) মিন্টো রোডে অবস্থিত ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত
‘রাজধানীতে খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধারের ঘটনার রহস্য উদঘাটন: ঘাতক গ্রেফতার’
সংক্রান্ত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব জানান মতিঝিল বিভাগের ডিসি হারুন-অর-রশীদ।
হারুন-অর-রশীদ
বলেন, নিহত ওবায়দুল্লাহর দেহের একটি অংশ এখনো পাওয়া যায়নি। আমিনবাজারের ব্রিজ থেকে
সেই অংশটি ফেলে দেওয়া হয়েছিল। সেটি উদ্ধারে আমাদের অভিযান অব্যাহত আছে। ওবায়দুল্লাহ
একটি হোমিওপ্যাথি প্রতিষ্ঠানে মার্কেটিং বিভাগে চাকরি করতেন এবং শাহীন হোটেল হিরাঝিলে
চাকরি করতেন। তিনি বলেন, জিজ্ঞাসাবাদে আমরা জানতে পারি, শাহীন ২৭ ফেব্রুয়ারি রাত ৮টার
দিকে ওবায়দুল্লাহকে হত্যা করে। পরে রাত ৯টার পর বিভিন্ন জায়গায় লাশের খণ্ডিত দেহাবশেষ
ফেলে দেওয়া হয়। ওবায়দুল্লাহ রাতে তাকে সিগারেট নিয়ে আসতে বলেন। কিন্তু শাহীন জানায়,
তার কাছে পর্যাপ্ত টাকা নেই, আনতে পারবে না। তারা জসীম উদ্দীন রোডে বাসা ভাড়া নিয়ে
থাকতেন। শাহীন রাতে বাসায় ফিরলে আবার তাকে সিগারেট আনার জন্য পাঠানো হয়। সিগারেট নিয়ে
আসার পর আবার তাকে নানরুটি ও কাবাব আনতে পাঠানো হয়। কাবাব ও নানরুটি নিয়ে এলেও দেখা
যায়, ওবায়দুল্লাহ একাই তা খান।
রাতে
ঘুমানোর সময় ওবায়দুল্লাহ জোরে জোরে কথা বলছিলেন। যেহেতু শাহীন ক্লান্ত ছিলেন, তাই তিনি
বিরক্ত হচ্ছিলেন। একপর্যায়ে ঘুমানোর চেষ্টা করার সময় ফোনে ধীরে কথা বলার জন্য অনুরোধ
করলে তাদের মধ্যে ঝগড়া শুরু হয়। একপর্যায়ে ওবায়দুল্লাহ শাহীনকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ
করেন। ওই রাতে একপর্যায়ে ওবায়দুল্লাহ গোসলখানায় কাপড় ধোয়া শুরু করলে শাহীন তার ঘাড়
ও গলায় চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে। পরবর্তীতে নিজে বাঁচার জন্য মরদেহটি বিভিন্ন
অংশে খণ্ড করে বিভিন্ন স্থানে ফেলে দেয়। হারুন-অর-রশীদ বলেন, নয়াপল্টনে আনন্দ কমিউনিটি
সেন্টারের বিপরীতে দুটি হাত, বায়তুল মোকাররমের একটি গেটের পাশে একটি পা এবং কমলাপুর
রেল স্টেশন সংলগ্ন এলাকায় মাথাটি ফেলা হয়। মতিঝিলে কমলাপুর এলাকায় ময়লা বোঝাই কনটেইনারে
ড্রামভর্তি দেহাংশ ফেলা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে সে জানায়, বাকি অংশগুলো আমিনবাজার সালিপুর
ব্রিজ থেকে ফেলে দিয়েছে। সেখানে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। একটি অংশ এরইমধ্যে পাওয়া গেছে,
আরেকটি অংশের সন্ধানে অভিযান চলছে।
শাহীন
হত্যা করেছে—এটি কীভাবে নিশ্চিত হলেন, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন,
শাহীন সাইকেলে করে খণ্ডিত অংশ ফেলার সিসিটিভি ফুটেজ পাওয়া গেছে। এছাড়া সে নিজেও ঘটনার
সম্পৃক্ততা স্বীকার করেছে। তার কাছ থেকে চাপাতি উদ্ধার করা হয়েছে। শুধু ঝগড়া-বিবাদের
কারণেই হত্যা করা হয়েছে কি না—জানতে চাইলে তিনি আরও বলেন, শাহীন জানিয়েছে,
মাঝে মাঝে ওবায়দুল্লাহ তাকে অনৈতিক প্রস্তাব দিত। এই বিষয়টি সে নিতে পারতো না। অনেক
সময় রাতে শাহীনের রুমে ওবায়দুল্লাহ চলে যেত। তখন শাহীন তাকে রুম থেকে বের করে দিয়ে
দরজা আটকে দিত।
হত্যাকাণ্ডের
পর শাহীনের আচরণ সম্পর্কে জানতে চাইলে ডিসি বলেন, হত্যার পরও শাহীন স্বাভাবিকভাবে চাকরি
করত এবং সবার সঙ্গে স্বাভাবিক আচরণ করত। তাকে হিরাঝিল হোটেল থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
তার বিরুদ্ধে তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
উল্লেখ্য,
শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর বিভিন্ন স্থান থেকে মানুষের কাটা হাত-পা ও মাথা উদ্ধার
করা হয়। শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) রাত ২টার দিকে কাকরাইলের স্কাউট ভবনের সামনে কালো
পলিথিনে মোড়ানো মানুষের একটি পা পাওয়া যায়। এরপর শনিবার সকাল পৌনে ১০টার দিকে জাতীয়
স্টেডিয়ামের ১ ও ৪ নম্বর গেটের মাঝামাঝি মার্কেটের সামনের সড়কে কালো পলিথিনে মোড়ানো
আরও দুটি হাত পাওয়া যায়। দুপুরে কমলাপুর রেল স্টেশন এলাকায় আরেকটি পা পাওয়া যায়।
নিহত
ওবায়দুল্লাহ নরসিংদীর শিবপুরের তাতার গ্রামের আব্দুল হামিদ মিয়ার ছেলে। তার মায়ের নাম
রানী বেগম। তিনি মতিঝিলের কবি জসীম উদ্দীন রোডের একটি ফ্ল্যাটে হিরাঝিল হোটেলের কর্মচারী
শাহীন আলমের সঙ্গে থাকতেন বলে জানানো হয়েছিল।
মন্তব্য করুন


ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও একজনের মৃত্যু হয়েছে। তারা দুজন বরিশাল ও ময়মনসিংহ বিভাগের। এ সময় দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন আরও ৬৬৪ জন।
আজ মঙ্গলবার (২৩ সেপ্টেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম থেকে পাঠানো প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
এই রোগটিতে আক্রান্ত হয়ে চলতি বছরে এখন পর্যন্ত ১৮২ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ৯৩ জন পুরুষ ও ৮৯ জন নারী। এছাড়া, এ বছর এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে ৪৩ হাজার ১৭৩ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
মন্তব্য করুন


চাঁদপুরের মতলব পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের চরমুকন্দি এলাকায় একটি উন্মত্ত কুকুরের কামড়ে শিশুসহ অন্তত ১৮ জন আহত হয়েছেন। আহতদের বেশিরভাগই শিশু হওয়ায় এলাকাজুড়ে আতঙ্ক ও উৎকণ্ঠা ছড়িয়ে পড়েছে।
হাসপাতাল ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) বিকেল থেকে সন্ধ্যার মধ্যে চরমুকন্দি এলাকার বিভিন্ন স্থানে ওই কুকুরটি শিশু, কিশোর ও প্রাপ্তবয়স্কদের ওপর হামলা চালায়। এতে অন্তত ১৮ জন আহত হন। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় আহতদের মতলব দক্ষিণ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। বর্তমানে সবাই চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
আহতদের মধ্যে রয়েছেন—রাফি (৭), ফরহাদ (৮), আশরাফুল (৬), শান্ত (৬), হোসাইন (৬), নাফিজা আক্তার (১২), অর্পণ (৬), জাহিদ (২৬), নবীর (২২), হোসাইন (৩), আমির হামজা (৭), জিহানা (৮), জারা (৩) ও শাফায়াত (৫)। এছাড়াও আরও কয়েকজন চিকিৎসা নিয়েছেন বলে জানা গেছে।
স্থানীয় বাসিন্দা মিজান পাটোয়ারী ও শামীম দেওয়ানসহ একাধিক ব্যক্তি জানান, দীর্ঘদিন ধরেই এলাকায় বেওয়ারিশ কুকুরের সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে। পৌরসভার পক্ষ থেকে নিয়মিত নিয়ন্ত্রণ বা নিধন কার্যক্রম না থাকায় কুকুরের উপদ্রব ক্রমেই ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে। তারা দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য পৌর কর্তৃপক্ষের কাছে জোর দাবি জানান।
এ বিষয়ে মতলব পৌরসভার সচিব সাইফুর রহমান বলেন, ঘটনাটি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসনের নজরে এসেছে। তিনি বলেন, বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক এবং দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
মতলব দক্ষিণ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা গোলাম রায়হান জানান, উপজেলা পর্যায়ে পর্যাপ্ত ভ্যাকসিন না থাকলেও আহতদের জরুরি চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে।
মন্তব্য করুন


বর্তমান সময়ে চলমান উত্তপ্ত
রাজনৈতিক পরিস্থিতি কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সারা দেশে ২৩৩ প্লাটুন বর্ডার গার্ড
বাংলাদেশ (বিজিবি) মোতায়েন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার(২৩নভেম্বর) সকালে বিজিবির জনসংযোগ
কর্মকর্তা মো.শরিফুল ইসলাম গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানিয়েছেন, আইনশৃঙ্খলা
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঢাকা এবংআশপাশের জেলায় ২৮ প্লাটুনসহ সারা দেশে ২৩৩ প্লাটুন
বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে।
অন্যদিকে, আজও বিএনপি-জামায়াত
ও সমমনা দলগুলোর ডাকা ষষ্ঠ দফার অবরোধ চলছে। এই অবরোধ চলবে শুক্রবার ভোর ৬টা পর্যন্ত।
অবরোধ চলাকালীন সময়ে রাজধানীসহ দেশের কয়েকটি জায়গায় বাসে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে।
মন্তব্য করুন


প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, বাংলাদেশে
আশ্রয় নেয়া দশ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা শরণার্থীর নিজ দেশ মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে প্রত্যাবাসনই
রোহিঙ্গা সংকটের একমাত্র বাস্তব ও টেকসই সমাধান।
তিনি রোহিঙ্গাদের নিরাপদ প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে
জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা ইউএনএইচসিআরকে সক্রিয় ভূমিকা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান।
গতকাল বুধবার ( ২৮ জানুয়ারি ) রাতে ঢাকায় রাষ্ট্রীয়
অতিথি ভবন যমুনায় ইউএনএইচসিআরের নবনিযুক্ত কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টেটিভ ইভো ফ্রেইজেন তাঁর
সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে প্রধান উপদেষ্টা এসব কথা বলেন।
সাক্ষাতে ইউএনএইচসিআরের প্রতিনিধি কক্সবাজারের রোহিঙ্গা
শিবিরগুলোতে সহায়তা কার্যক্রমে ‘নাটকীয়ভাবে অর্থায়ন কমে যাওয়ার’ বিষয়টি তুলে ধরেন।
পাশাপাশি শিবিরগুলোতে স্বনির্ভরতা ও জীবিকাভিত্তিক সুযোগ বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার ওপরও
জোর দেন তিনি।
অধ্যাপক ইউনূস বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার গত এক বছরে
একাধিক উচ্চপর্যায়ের কর্মসূচি আয়োজন করলেও রোহিঙ্গা সংকট এখনও প্রত্যাশিত আন্তর্জাতিক
মনোযোগ পাচ্ছে না।
তিনি বলেন, গতবছর রমজান মাসে জাতিসংঘ মহাসচিবের শরণার্থী
শিবির পরিদর্শন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বিষয়টি তুলে ধরতে সহায়ক হলেও আরও মনোযোগ প্রয়োজন।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে রোহিঙ্গাদের শিবিরে
অবস্থান কোনো সমাধান হতে পারে না। এতে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সঙ্গে ইতোমধ্যে নানা ধরনের
উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। তাই প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে নতুন করে আন্তর্জাতিক উদ্যোগ জোরদার
করা জরুরি।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘সমস্যার শুরু মিয়ানমারে, সমাধানও
সেখান থেকেই আসতে হবে। শিবিরে প্রযুক্তি-সুবিধা পাওয়া এক হতাশ ও ক্ষুব্ধ তরুণ প্রজন্ম
বড় হয়ে উঠছে—এটি কারও জন্যই ভালো খবর নয়। আমাদের দায়িত্ব হলো তাদের শান্তি ও মর্যাদার
সঙ্গে নিজ দেশে ফেরত পাঠানো।’
বৈঠকে ভাসানচরের রোহিঙ্গা পরিস্থিতি, আসন্ন জাতীয় নির্বাচন
ও গণভোট এবং দেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণ নিয়েও আলোচনা হয়। অধ্যাপক ইউনূস জানান, ভাসানচর
থেকে অনেক শরণার্থী আশ্রয়কেন্দ্র ছেড়ে মূল ভূখণ্ডে ছড়িয়ে পড়ছেন, যা দেশের জন্য নতুন
চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে।
ইভো ফ্রেইজেন বলেন, সদ্য নিয়োগপ্রাপ্ত ইউএনএইচসিআর
প্রধান বারহাম সালিহ শিগগিরই বাংলাদেশ সফরের আগ্রহ প্রকাশ করেছেন এবং তার রোহিঙ্গা
শিবির পরিদর্শনের সম্ভাবনা রয়েছে। তিনি জানান, তাঁর পূর্বসূরি ফিলিপ্পো গ্র্যান্ডি
২০১৭ সাল থেকে একাধিকবার শিবির পরিদর্শন করেছেন।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, বাংলাদেশ অবাধ, সুষ্ঠু ও উৎসবমুখর
নির্বাচন আয়োজনের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত।
তিনি বলেন, ‘নির্বাচন আয়োজনের ক্ষেত্রে আমরা একটি নতুন
মানদণ্ড স্থাপন করতে চাই। বিশ্বাসযোগ্য ও সুশৃঙ্খল নির্বাচন নিশ্চিত করাই আমাদের সব
প্রচেষ্টার লক্ষ্য। প্রথমবার ভোট দেওয়া ও নতুন ভোটারদের জন্য আমরা নির্বাচন প্রক্রিয়াকে
আনন্দময় ও অন্তর্ভুক্তিমূলক করতে চাই।’
বৈঠকে এসডিজি সমন্বয়ক ও সিনিয়র সচিব লামিয়া মোরশেদ
উপস্থিত ছিলেন।
মন্তব্য করুন