

নেকবর হোসেন,কুমিল্লা প্রতিনিধি;
শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে কুমিল্লা জেলায় কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)। পূজা উৎসবকে ঘিরে উদ্ভূত যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি মোকাবেলায় সর্বোচ্চ প্রস্তুতির কথা জানিয়েছেন কুমিল্লা র্যাব-১১, সিপিসি-২ এর কোম্পানি কমান্ডার মেজর সাদমান ইবনে আলম।
শুক্রবার (১৯ সেপ্টেম্বর) রাতে কুমিল্লা নগরীর বিভিন্ন পূজা মণ্ডপ পরিদর্শন শেষে তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। এ সময় তিনি উপস্থিত ছিলেন শ্রী শ্রী রাজরাজেশ্বরী কালী বাড়ি মন্দির প্রাঙ্গণে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে।
মেজর সাদমান বলেন, “পূজা মণ্ডপে র্যাবের নিয়মিত টহল, সাদা পোশাকে গোয়েন্দা নজরদারি, সিসিটিভি ক্যামেরা পর্যবেক্ষণ এবং জরুরি প্রয়োজনে মোবাইল টহল পরিচালনার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। কুমিল্লা শহরসহ জেলার গুরুত্বপূর্ণ স্থানে বিশেষ টহলের ব্যবস্থা থাকবে।”
মেজর সাদমান আরও জানান, ধর্মীয় সম্প্রীতি রক্ষায় র্যাব সবসময় অঙ্গীকারবদ্ধ। পূজার সময় আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি যাতে স্বাভাবিক থাকে সেজন্য র্যাবের পাশাপাশি অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, “বাংলাদেশ একটি ধর্মনিরপেক্ষ দেশ। এখানে সব ধর্মের মানুষ যেন নির্বিঘ্নে ধর্মীয় উৎসব পালন করতে পারে, সেটাই আমাদের মূল লক্ষ্য।”
এবারের দুর্গাপূজায় কুমিল্লা জেলার ৮১২টিরও বেশি পূজা মণ্ডপ বসছে। প্রতিটি মণ্ডপে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে র্যাবের সদস্যরা নিয়মিত টহল ও পর্যবেক্ষণে থাকবেন। পাশাপাশি, গুরুত্বপূর্ণ মণ্ডপে থাকবে কন্ট্রোল রুম, মেটাল ডিটেক্টর এবং হ্যান্ডহেল্ড স্ক্যানার।
সাংবাদিকদের মাধ্যমে মেজর সাদমান কুমিল্লার সাধারণ জনগণকে আহ্বান জানান, পূজার সময়ে সন্দেহজনক কিছু দেখলে বা কেউ বিশৃঙ্খলা তৈরির চেষ্টা করলে সাথে সাথে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে জানাতে। “নিরাপত্তা শুধু বাহিনীর একার পক্ষে সম্ভব নয়। এজন্য জনগণের সচেতনতা ও সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলেন তিনি জানান ।
মন্তব্য করুন


কুমিল্লার
সদর উপজেলার মির্জানগর গ্রামের মোতালেব মিয়া নামে এক প্রবাসীর বাড়ি থেকে ২০০ কেজি
গাঁজা জব্দ করেছে পুলিশ। এ সময় মোতালেব মিয়ার স্ত্রী তাসলিমা বেগম (৩৭) এবং মেয়ে
ইসরাত জাহানকে (১৯) আটক করা হয়েছে। তাসলিমা ও ইসরাত সম্পর্কে মা ও মেয়ে।
আটকের
বিষয়ে কোতয়ালি থানা পুলিশ জানায়, বুধবার ভোর রাতে মির্জানগরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে
অভিযান পরিচালনা করা হয় মালয়েশিয়া প্রবাসী মোতালেব মিয়ার বাড়িতে। এ সময় তার বাড়ি
থেকে পাঁচ মন গাঁজা জব্দ করে পুলিশ। আটক করা হয় ইসরাত জাহান ও তাসলিমা বেগমকে। এই
সময় ওমর ফারুক, হান্নান ও আমজাদ নামে তিন মাদক ব্যবসায়ী পালিয়ে যায়।
তারা
সবাই মিলে মাদক পাচার ও ব্যবসার সাথে জড়িত বলে জানিয়েছে কোতয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত
কর্মকর্তা মাহিনুল ইসলাম।
গ্রেফতারকৃত
ইসরাত জাহান কোতোয়ালি থানাধীন মির্জানগর গ্রামের মোতালেব মিয়ার মেয়ে ও তাসলিমা আক্তার
মোতালেব মিয়ার স্ত্রী।
কোতয়ালি
থানা ওসি মাহিনুল ইসলাম জানান, তাসলিমা বেগমের বিরুদ্ধে আগেরও একটি মাদকের মামলা রয়েছে।
এবার মা-মেয়ে দুজনই আটক হলেন। অভিযানে মোতালেবের ঘরে লুকানো অবস্থায় ১০ টি বড় ধরনের
বস্তায় ভর্তি ৫ মন গাঁজা উদ্ধার করে পুলিশ। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে ওমর ফারুক,
হান্নান ও আমজাদ পালিয়ে যায়। তারা তিনজন ওই এলাকার চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী। মাদকের
এই সিন্ডিকেট টি ওই বাড়িতে রেখে দীর্ঘদিন ধরে গাঁজার ব্যবসা পরিচালনা করে আসছিলো।
এই ঘটনায় কোতয়ালি মডেল থানায় মাদক আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। আটককৃত মা-মেয়েকে
আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
মন্তব্য করুন


নেকবর হোসেন, কুমিল্লা প্রতিনিধি:
কুমিল্লা সদর দক্ষিণে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্য প্রস্তুত ও নকল প্যাকেটে রসমালাই বিক্রির অভিযোগে হাফছা সুইটস অ্যান্ড বেকারিকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার উপজেলার দিদার মার্কেট (কাশিনাথপুর) এলাকায় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর এ অভিযান চালায়।
অভিযানে কারখানাটির উৎপাদন পরিবেশ নোংরা ও অস্বাস্থ্যকর পাওয়া যায়। এছাড়া অনুমোদনহীন রং ব্যবহার এবং নিজেদের প্রতিষ্ঠানের নামের পরিবর্তে ‘কুমিল্লা মাতৃভান্ডার’ নামে নকল বক্স/প্যাকেটে রসমালাই বিক্রি করার প্রমাণ মেলে। ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন-২০০৯ লঙ্ঘনের বিভিন্ন ধারায় প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে জরিমানা আদায় করা হয়।
অভিযানে নেতৃত্ব দেন ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তর কুমিল্লার সহকারী পরিচালক মো. কাউছার মিয়া। এ সময় উপস্থিত ছিলেন অফিস সহকারী ফরিদা ইয়াসমিন, নমুনা সংগ্রহকারী মো. সাকিবসহ অন্যরা।
অভিযানে কুমিল্লা জেলা আনসার ব্যাটালিয়নের একটি টিম সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করে।
ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তর কুমিল্লার সহকারী পরিচালক কাউছার মিয়া জানায়, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন লঙ্ঘনে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে জরিমানা আদায় করা হয় এবং ভবিষ্যতের জন্য সতর্ক করা হয়। জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
মন্তব্য করুন


কুমিল্লায় তদারকি অভিযানে দুই প্রতিষ্ঠানকে ৮০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, কুমিল্লা জেলা কার্যালয়।
শনিবার (১৮ মে) সকাল সাড়ে ১০টা থেকে আড়াইটা পর্যন্ত কুমিল্লার আদর্শ সদর উপজেলার ধনপুর ও কাশিনাথপুর এলাকায় একটি শিশু খাদ্য প্রস্তুতকারক ও একটি খাদ্য পণ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানে এ অভিযান চলে।
উক্ত অভিযানে দেখা যায়, ধনপুর এলাকার মেসার্স টি জে ফুড প্রোডাক্টস নামের একটি প্রতিষ্ঠান শিশু খাদ্য জিওজিও ও ছুটি নামের দুটি ব্রান্ডের চিপস প্রস্তুত ও মোড়কজাত করছে। কিন্তু চিপসের প্যাকেটের গায়ে উৎপাদন ও মেয়াদ উত্তীর্ণের তারিখ উল্লেখ করছে না। স্বাস্থ্যবিধি না মেনে ফ্লোরে বসেই উৎপাদন ও মোড়কীকরণ করা হচ্ছে। ভোক্তা অধিকার বিরোধী এমন কর্মকাণ্ডের অভিযোগে প্রতিষ্ঠানটি ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
অন্যদিকে কাশিনাথপুর এলাকায় মেসার্স হাফসা সুইটস এন্ড বেকারিতে দেখা যায়, রং মিশ্রিত করমচাকে চেরি ফল বলে কেকে ব্যবহার করা হচ্ছে, বার্থডে কেকে ব্যবহৃত বিভিন্ন উপকরণের মেয়াদ নেই, অনুমোদনহীন বিদেশী উপকরণ ব্যবহার করা হচ্ছে। বিএসটিআই এর অনুমোদন না থাকলেও প্যাকেটে বিএসটিআই এর লোগো ব্যবহার করা হচ্ছে। ভোক্তা অধিকার বিরোধী এমন কর্মকাণ্ডের অভিযোগে প্রতিষ্ঠানটিকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয় এবং অনুমোদনহীন পণ্য জব্দ করে ধ্বংস করা হয়।
অভিযান পরিচালনা করেন জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, কুমিল্লার সহকারী পরিচালক মো: আছাদুল ইসলাম।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন, সদর উপজেলার স্যানিটারি ইন্সপেক্টর একে আজাদ ও জেলা পুলিশের একটি টিম।
মন্তব্য করুন


নেকবর হোসেন , কুমিল্লা প্রতিনিধি;
কুমিল্লার চান্দিনায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে বিশেষ অভিযানে ২০ কেজি গাঁজাসহ এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে ইলিয়টগঞ্জ হাইওয়ে থানা পুলিশ।
শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে গোপন তথ্যের ভিত্তিতে মাধাইয়া বাজার ফুটওভার ব্রিজের পশ্চিম পাশে একটি প্রাইভেটকারে তল্লাশি চালানো হয়। খালেক মিষ্টান্ন ভাণ্ডারের সামনে সন্দেহজনক গাড়িটি থামিয়ে তল্লাশি করলে বিপুল পরিমাণ গাঁজা উদ্ধার করা হয়।
আটক রাসেল মিয়া (২৯) বরগুনা সদর উপজেলার সাহেরো হাওলা গ্রামের বাসিন্দা বলে জানিয়েছে পুলিশ।
ইলিয়টগঞ্জ হাইওয়ে থানার ওসি মো. রুহুল আমিনের নেতৃত্বে পরিচালিত এ অভিযানে এসআই (নিঃ) মো. মনিরুল ইসলাম চৌধুরী জব্দ তালিকা প্রস্তুত করেন। উদ্ধারকৃত মাদক ও ব্যবহৃত গাড়ি থানায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
পুলিশ জানায়, আটক ব্যক্তির বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং তাকে আদালতের মাধ্যমে কুমিল্লা জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।
মন্তব্য করুন


নেকবর হোসেন , কুমিল্লা প্রতিনিধি;
কুমিল্লায় অভিনব কায়দায় পেটের ভেতর ইয়াবা পাচারকালে ময়নামতি হাইওয়ে পুলিশের হাতে একজন আটক হয়েছেন।
শনিবার ভোর ৪টা ১০ মিনিটের দিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের আলেখারচর চক্ষু হাসপাতাল সংলগ্ন ঢাকামুখী লেনে অভিযান চালিয়ে তাঁকে আটক করা হয়।
আটককৃত আব্দুল হাকিম (৪০) কক্সবাজার জেলার টেকনাফ থানার ২৪ নম্বর ক্যাম্পের (রুম-৩৫৫) মৃত আলী আকবরের ছেলে।
হাইওয়ে পুলিশ জানায়, ১০ এপ্রিল দিবাগত রাতে ময়নামতি হাইওয়ে থানার রাত্রিকালীন টহল দল ডিউটি করার সময় আলেখারচর এলাকায় এক ব্যক্তিকে সন্দেহজনকভাবে ঘোরাফেরা করতে দেখে।
জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে আব্দুল হাকিম স্বীকার করেন, তাঁর দেহের অভ্যন্তরে ইয়াবা লুকানো আছে। পরে তাকে নিকটস্থ একটি টয়লেটে নিয়ে যাওয়া হলে তিনি নিজ হাতে পলিথিন ও কসটেপ দিয়ে মোড়ানো ২৪টি প্যাকেট বের করে দেন। প্রতিটি প্যাকেটে ৫০টি করে মোট ১২০০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট পাওয়া যায়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আব্দুল হাকিম জানান, তিনি টেকনাফ থেকে ইয়াবা ক্রয় করে মলদ্বার দিয়ে পেটে ঢুকিয়ে নিয়ে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছিলেন। বিভিন্ন বাসে করে এসে আলেখারচরে নেমে ঢাকার অন্য বাসের জন্য অপেক্ষা করছিলেন। এ ঘটনায় তাঁর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
মন্তব্য করুন


নেকবর হোসেন, কুমিল্লা প্রতিনিধি:
কুমিল্লায় ভাড়া বাসা থেকে মা এবং মেয়ের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। সোমবার (৮ সেপ্টেম্বর) ভোরে কুমিল্লা নগরীর কালিয়াজুড়ি এলাকা থেকে মরদেহগুলো উদ্ধার করা হয়। পুলিশ ধারণা করছে, শ্বাসরোধ করে তাদের হত্যা করা হয়েছে।
নিহতরা হলেন, কুমিল্লা নগরীর সুজানগর এলাকার মৃত নুরুল ইসলামের স্ত্রী তাহমিনা বেগম (৪৫) এবং তার মেয়ে সুমাইয়া আক্তার (২৩)।
কুমিল্লার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) সাইফুল মালিক বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
স্থানীয়দের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, নিহতরা নগরীর সুজানগর এলাকার হলেও গত ৫-৬ বছর ধরে কালিয়াজুড়ি এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করে আসছেন। নিহত তাহমিনার দুই ছেলে এক মেয়ে। তাদের মধ্যে বড় ছেলে কুমিল্লা ইপিজেডে চাকরি করেন, ছোট ছেলে আইন বিষয়ে পড়াশোনা করছেন। তাহমিনার মেয়ে সুমাইয়া আক্তার কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করতেন।
সোমবার গভীর রাতে ছেলেদের মাধ্যমে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। ভাড়া ওই বাসায় গিয়ে দেখে দুই কক্ষের বিছানার ওপর দুজনের মরদেহ পড়ে আছে। পরে পুলিশ সেগুলোর সুরতহাল তৈরি করে মরদেহগুলো উদ্ধার করে নিয়ে আসে।
কুমিল্লার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাইফুল মালিক বলেন, ঘটনার খবর পাই আমরা রাত আড়াইটার দিকে। পরে সেখানে যাই। খাটের নীচে বালিশ পাওয়া গেছে। ধারণা করা হচ্ছে শ্বাসরোধ করে তাদের হত্যা করা হয়েছে। তবে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে মৃত্যুর রহস্য পুরোপুরি জানা যাবে। এ ঘটনায় পুলিশি তদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়া চলছে।
মন্তব্য করুন


কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) নৃবিজ্ঞান বিভাগের এক শিক্ষার্থীকে চলন্ত বাসে ‘শ্লীলতাহানি ও ধর্ষণচেষ্টার’ অভিযোগে দুইজনকে গ্রেপ্তাতার করা হয়েছে।
গ্রেফতারকৃতদের অজামিনযোগ্য দুই বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।
শুক্রবার (২২ আগস্ট) সকালে ৯ টার দিকে সেন্টমার্টিন পরিবহণ নামের ঢাকা মেট্রো-ব ১৫৭১৬৬ নম্বর প্লেটের একটি বাসে এই ঘটনা ঘটে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, আজ (২২ আগস্ট) সকাল ৯ টার দিকে ঢাকার উদ্দেশ্যে কোটবাড়ি বিশ্বরোড থেকে সেন্টমার্টিন বাসে উঠেন ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী। বাসটি পদুয়ার বাজার বিশ্বরোড থেকে ইউ টার্ন নেওয়ার কথা বলা থাকলেও তাকে (ভুক্তভোগী) নিয়ে বাসটি চৌদ্দগ্রামের দিকে চলে যায়। এরপর সুয়াগাজী নামক স্থানে গিয়ে ইউ টার্ন নিয়ে পুনরায় পদুয়ার বাজার আসে। তখন বাসে ছিল চালক, হেল্পারসহ আরও তিনজন। বাসে একা পেয়ে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর গলায় ছুরি ধরে গহনা, টাকাপয়সা নিয়ে নেয় ও ধর্ষণের চেষ্টা করে। তখন ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর হাতে কামড় দেন অভিযুক্তরা। এরপর শিক্ষার্থীকে হাতপা বেঁধে ফেলে দেওয়ার চেষ্টা করা হলে সেই শিক্ষার্থীর (ভুক্তভোগী) অনুরোধে ফেলে না দিয়ে শাকিল আবাসিক হোটেল নামক হোটেলে নিয়ে আসে। পদুয়ার বাজারের স্থানীয় এক ব্যক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের খবর দিলে শিক্ষার্থীরা গিয়ে ভুক্তভোগীর হাত-পা বাঁধা অবস্থায় উদ্ধার করে এবং বাসে থাকা দুজনকে আটক করে। এসময় জড়িত অন্য তিনজন পালিয়ে যান।
ঘটনার পর শিক্ষার্থীরা ৯৯৯ ফোন দিলে পুলিশ আসে। শিক্ষার্থীরা বাস মালিক এবং অভিযুক্ত বাকী দুইজনকে ক্যাম্পাসে নিয়ে আসার জন্য দাবি জানায়। পুলিশ শিক্ষার্থীদের দাবি মানতে অস্বীকৃতি জানালে দুপুর বারোটার দিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করে শিক্ষার্থীরা। এতে ঢাকা-চট্রগ্রাম মহাসড়কে দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে শিক্ষার্থীদের দাবি না মানায় ঘটনাস্থলে সেনাবাহিনী এসে পরিস্থিতি ঠান্ডা করার চেষ্টা চালিয়ে ব্যর্থ হয়।
পরে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের আশ্বাসে শিক্ষার্থীরা আলোচনায় আসলে ভ্রাম্যমাণ আদালতে অভিযুক্তদের দুইবছর কারাদণ্ড দেয়। বাকিদের ধরতে অভিযান পরিচালনা করছে পুলিশ। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বাদী হয়ে শ্লীলতাহানি ও ধর্ষণ চেষ্টার মামলা করবে বলে নিশ্চিত করেছেন। ঘটনার পর শিক্ষার্থীরা সেন্টমার্টিন পরিবহনের দুটি বাস জব্দ করে ক্যাম্পাসে নিয়ে এসেছে।
গ্রেপ্তারকৃত দুইজন হলেন–মোঃ হোসেন আলী (২৫) এবং মোঃ আলী হোসেন (২৩)। গ্রেফতারকৃতদের ভাষ্যমতে পলাতক তিনজন হলেন–পিচ্চি রাসেল (৩২), নূর আলম এবং সৌরভ এবং সেন্টমার্টিন পরিবহনের মালিক হলেন মো: চাঁন মিয়া।
এবিষয়ে কুমিল্লা সদর দক্ষিণের উপজেলা নির্বাহী অফিসার রুবাইয়া খানম বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের এসেই আমি প্রস্তাব দিয়েছিলাম মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে সাজা দেওয়া বিষয়ে। শিক্ষার্থীরা শুরুতে আমার কথায় কর্ণপাত করেনি। অবশেষে শিক্ষার্থীরা বিষয়টি মেনে নিয়েছে।’
কুমিল্লা জেলার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ নাজির আহমেদ খাঁন বলেন, গ্রেফতার হওয়া দুইজনকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে সাজা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, বাকী অভিযুক্ত অন্য তিনজনকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেফতার করার চেষ্টা চলছে। আশাকরি পুলিশ প্রশাসনের কোনো গাফিলতি থাকবে না।
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মোঃ আবদুল হাকিম বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের থেকে খবর পেয়ে আমি ঘটনাস্থলে দ্রুতই চলে আসি। এসে দেখি পরিস্থিতি উত্তপ্ত। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, সেনাবাহিনী এসেও হিমশিম খাচ্ছে। অবশেষে একটা সুরাহা হয়েছে। অভিযুক্তদের দুইবছর কারাদণ্ড দিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। আমি ধর্ষণের পক্ষে নই, আমি চাই এর অভিযুক্তরা শাস্তি পাক।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোঃ হায়দার আলী বলেন, আমাদের একজন নারী শিক্ষার্থীদের হাত-পা বেধে ধর্ষণের চেষ্টা করা হয়েছে এবং বাস থেকে ফেলে দিয়ে মধ্যযুগীয় নির্যাতন করেছে। এটা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। দুইজন ধরা পরেছে, তারা পুলিশের কাছে আছে এবং পুলিশ প্রশাসন কথা দিয়েছে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বাকি তিনজনে গ্রেপ্তারর করবে।এখানে এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট আছেন, তিনি অপরাধীদের ২ বছরের অজামিনযোগ্য জেল দিয়েছেন এবং পুলিশ ঘোষণা দিয়েছেন তারা ১ মাসের মধ্যে চার্জশিট দিবেন যাতে ন্যায় বিচার নিশ্চিত হয়।
মন্তব্য করুন


নেকবর হোসেন, কুমিল্লা প্রতিনিধি:
ঢাকা-চট্টগ্রাম
মহাসড়কের কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার বানিয়াপাড়া এলাকায় ৩০ লাখ টাকার কাপড়সহ একটি
কাভার্ডভ্যান ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। ঘটনায় জড়িত সন্দেহে একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
পুলিশ
সূত্রে জানা গেছে, গত শুক্রবার (২৬ জুলাই) দিবাগত রাত ১টার দিকে ‘নিরাপদ ট্রান্সপোর্ট’
কোম্পানির মালবাহী কাভার্ডভ্যানটি দাউদকান্দির বানিয়াপাড়ায় পৌঁছালে ছিনতাইকারীদের কবলে
পড়ে। ছিনতাইকারীরা গাড়িচালককে জিম্মি করে গাড়ি ও মালামাল নিয়ে পালিয়ে যায়। এ ঘটনায়
দাউদকান্দি মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী
ব্যবসায়ীদের অধিকাংশই কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলার বাসিন্দা। জানা গেছে, ওই দিন তারা
নরসিংদীর বাবুরহাট বাজার থেকে প্রায় ৩০ লাখ টাকার কাপড় ক্রয় করেন এবং তা ‘নিরাপদ ট্রান্সপোর্ট’-এর
কাভার্ডভ্যানে করে চান্দিনায় পাঠানো হচ্ছিল।
চান্দিনার
ব্যবসায়ী তাপস মজুমদার জানান, আমরা ১৮ জন একসঙ্গে কাপড় কিনে কাভার্ডভ্যানে পাঠিয়েছিলাম।
বানিয়াপাড়ায় পৌঁছালে একটি পিকআপ এসে কাভার্ডভ্যানের গতি রোধ করে এবং ছিনতাইকারীরা চালককে
সরিয়ে দিয়ে গাড়ি নিয়ে পালিয়ে যায়।
অপর
ব্যবসায়ী রাজীব নন্দী বলেন, আমি প্রায় সাড়ে তিন লাখ টাকার কাপড় কিনেছিলাম। হঠাৎ রাতে
খবর পাই গাড়ি ছিনতাই হয়েছে। এতে আমরা সবাই দারুণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি।
নিরাপদ
ট্রান্সপোর্টের চান্দিনা ব্রাঞ্চ ম্যানেজার সনত কুমার নন্দী জানান, ছিনতাইকারীরা চালককে
মারধর করে গাড়ির নিয়ন্ত্রণ নেয় এবং তার মোবাইল থেকে বিকাশ অ্যাকাউন্টের পিন নম্বর জেনে
৫ হাজার টাকা তুলে নেয়। পরে চালক ভোরে তাদের বিষয়টি জানান। ঘটনার পরপরই দাউদকান্দি
থানায় মামলা দায়ের করা হয়।
দাউদকান্দি
মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. জুনায়েদ চৌধুরী জানান, ঘটনার পর থেকে পুলিশ মালামাল
ও কাভার্ডভ্যান উদ্ধারে অভিযান শুরু করেছে। এরইমধ্যে সন্দেহভাজন হিসেবে রিপন মিয়া
(২৮) নামের একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
গ্রেপ্তারকৃত
রিপন ভোলা জেলার শশীভূষণ উপজেলার হাজিরগঞ্জ গ্রামের আবুল কালামের ছেলে। মামলার তদন্ত
কর্মকর্তা এসআই রবিউল ইসলাম জানান, রিপনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য কুমিল্লা বিচারিক আদালতে
৫ দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়েছে।
এ
ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে দ্রুত মালামাল উদ্ধার এবং ছিনতাইকারীদের
গ্রেপ্তারের জোর দাবি জানিয়েছেন।
মন্তব্য করুন


কুমিল্লায়
১৪৬ বোতল ফেন্সিডিলসহ দুইজন মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করেছে র্যাব-১১, সিপিসি-২।
আজ বৃহস্পতিবার (১৯
ডিসেম্বর) ভোরে র্যাব-১১, সিপিসি-২ এর একটি বিশেষ আভিযানিক দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে
কুমিল্লা জেলার কোতয়ালী মডেল থানাধীন আমতলী এলাকায় মাদক বিরোধী অভিযান পরিচালনা করে।
উক্ত অভিযানে আসামী ১। মোঃ আলমগীর ও ২। মোঃ
ছাব্বির হোসেন টুটুল নামের দুই জন মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করে। এ সময় আসামীদ্বয়ের
হেফাজত হতে ১৪৬ বোতল ফেন্সিডিল ও মাদক পরিবহণ কাজে ব্যবহৃত একটি ট্রাক উদ্ধার করা হয়।
গ্রেফতারকৃত আসামী
১। মোঃ আলমগীর (৫১) চট্টগ্রাম জেলার বন্দর থানার পূর্ব নিমতলা (দিয়ারবাড়ী) গ্রামের
মৃত হাজী মোঃ ইউনুস এর ছেলে এবং ২। মোঃ ছাব্বির হোসেন টুটুল (৩৫) একই থানার পূর্ব নিকতলা
(খয়রাতি মাঝির লেন) গ্রামের মোঃ হারুন অর রশিদ এর ছেলে।
র্যাব
জানান, তারা দীর্ঘদিন ধরে জব্দকৃত ট্রাক ব্যবহার করে কুমিল্লার সীমান্তবর্তী এলাকা
হতে মাদকদ্রব্য ফেন্সিডিল সংগ্রহ করে কুমিল্লাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে মাদক ব্যবসায়ী
ও মাদক সেবীদের নিকট পাইকারি ও খুচরা মূল্যে বিক্রয় করে আসছে। র্যাব-১১ এর মাদক বিরোধী
ধারাবাহিক অভিযানের অংশ হিসেবে উক্ত অভিযান পরিচালনা করা হয়। মাদকের মতো সামাজিক ব্যাধির
বিরুদ্ধে র্যাব-১১ এর অভিযান অব্যাহত থাকবে। গ্রেফতারকৃত আসামীদ্বয়ের বিরুদ্ধে আইনানুগ
ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন।
মন্তব্য করুন


নেকবর হোসেন , কুমিল্লা প্রতিনিধি;
পরিচ্ছন্ন ও আধুনিক নগরী গড়ে তোলার লক্ষ্যে জেলায় আজ পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুরু হয়েছে। কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের (কুসিক) প্রশাসক ইউসুফ মোল্লা টিপু আজ সকালে নগরীর ১০ নম্বর ওয়ার্ডে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন ও পরিদর্শন করেন।
কুসিক প্রশাসক ইউসুফ মোল্লা টিপু বলেন, কুমিল্লা নগরীকে বসবাসযোগ্য, পরিচ্ছন্ন ও আধুনিক নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে মশা নিধন ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। নগর উন্নয়ন ও পরিবেশগত মানোন্নয়নে সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, দ্রুত বর্ধনশীল এ নগরীতে প্রায় ১৫ লাখ মানুষের বসবাস। কিন্তু সীমিত অবকাঠামো, ফুটপাত দখল এবং অপরিকল্পিত ব্যবস্থাপনার কারণে যানজট, জলাবদ্ধতা ও নাগরিক ভোগান্তি বাড়ছে। এসব সমস্যা মোকাবেলায় নিয়মিত মশক নিধন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
নগর প্রশাসক বলেন, একটি স্বাস্থ্যকর ও বাসযোগ্য নগরী গড়ে তুলতে সিটি কর্পোরেশনের পাশাপাশি নাগরিকদের সক্রিয় অংশগ্রহণ অত্যন্ত জরুরি। সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে কুমিল্লাকে একটি সত্যিকারের পরিচ্ছন্ন ও সবুজ নগরীতে রূপান্তর করা সম্ভব বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
এসময় কুসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মামুনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।
মন্তব্য করুন