

কুমিল্লায়
অপহরণ করে চাঁদা আদায়ের চক্রকে গ্রেফতার করেছে কোতয়ালী মডেল থানার পুলিশ।
গতকাল (২৮
মার্চ) বিকেলে সুমন (৩৪) নামক ব্যক্তি কোতোয়ালি থানায় উপস্থিত হয়ে
জানান, তার
ভাই আলাউদ্দিন রং মিস্ত্রির কাজ করে। কাতার যাওয়ার জন্য (২৮
মার্চ) সকাল ১১ টায় তার নিজ বাসা থেকে রেইসকোর্সে
এলাকায় প্রবাসী জনশক্তি অফিসে ফিঙ্গার প্রিন্ট দেওয়ার জন্য বাহির হলে
কে বা কারা তাকে অপহরণ পূর্বক আটকে রেখে আটক ব্যক্তির নম্বর থেকে ফোন দিয়ে বিভিন্ন
প্রকার হুমকি ধমকী দিয়ে ১,০০,০০০ (এক
লক্ষ) টাকা চাঁদা দাবী করে এবং চাঁদা না দিলে ভিকটিমের নামে
মিথ্যা মামলা দিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে ধরাইয়া দিবে বলে হুমকী দিচ্ছে।
সংবাদ
পেয়ে সম্মানিত পুলিশ সুপার,
কুমিল্লার নির্দেশনায় কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশ উক্ত ব্যক্তিকে উদ্ধারে কাজ
শুরু করে।
কোতয়ালী
মডেল থানার এস.আই জীবন রায় চৌধুরী তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় আটক রাখার স্থান
সনাক্ত করে অভিযান পরিচালনা
করে ভিকটিম আলাউদ্দিনকে রাতে উত্তর রেইসকোর্স,
ধানমন্ডি রোড(বীর মুক্তিযোদ্ধা রফিকুল ইসলাম মজুমদার এর মাজেদা কুটির নামীয়
৬ষ্ঠ তলা বিশিষ্ট বিল্ডিং এর ৪র্থ তলায় ২ নং আসামীর ভাড়া বাসা থেকে ঘটনায় জড়িত
চক্রের দুই নারী এবং একজন পুরুষ সদস্যকে গ্রেফতার করেন।
গ্রেফতারকৃত
আসামীরা হলো-
১।
পারভীন আক্তার @ হুমায়রা(২৮), পিতা-মৃত
শানু মিয়া, মাতা-মৃত
হাসেনা বেগম, সাং-চারিপাড়া(উত্তর পাড়া, হারুন মেম্বারের বাড়ী), থানা-ব্রাহ্মনপাড়া,
জেলা-কুমিল্লা, এ/পিসাং-নানুয়া
দিঘীর দক্ষিন পাড়(মনির হোসেন এর ৬ তলা ভবনের ৩য় তলার ভাড়াটিয়া), থানা-কোতয়ালী
মডেল, জেলা-কুমিল্লা।
২।
শাহেনা বেগম(৩৮), স্বামী-কবির
আহমদ, সাং-ধান্যদৌল(কাজী
বাড়ী), ৫নং
ওয়ার্ড, থানা-ব্রাহ্মনপাড়া, জেলা-কুমিল্লা, এ/পি সাং-উত্তর
রেইসকোর্স, ধানমন্ডি
রোড(বীর মুক্তিযোদ্ধা রফিকুল ইসলাম মজুমদার এর মাজেদা কুটির নামীয় ৬ষ্ঠ তলা
বিশিষ্ট বিল্ডিং এর ৪র্থ তলার ভাড়াটিয়া),
থানা-কোতয়ালী মডেল,
জেলা-কুমিল্লা।
৩।
মোঃ মশিউর রহমান টিপু(৪৫),
পিতা-মৃত আব্দুর রশিদ,
মাতা-ফাতেমা বেগম,
সাং-কাপ্তান বাজার(বেপারী পুকুর পাড়,
বড় বাড়ী), থানা-কোতয়ালী
মডেল, জেলা-কুমিল্লা।
পুলিশ
জানান, উক্ত চক্রটি দীর্ঘদিন যাবৎ বিভিন্ন ব্যক্তিকে টার্গেট করে
প্রলোভনের মাধ্যমে নিজেদের নির্ধারিত স্থানে নিয়ে ভয় ভীতি দেখিয়ে চাদা আদায় করে
আসছিলো।
উক্ত
ঘটনায় কুমিল্লা এর কোতয়ালী মডেল থানায় প্রতারণামূলক চাদাবাজির মামলা দায়ের
করা হয়েছে।
মন্তব্য করুন


মজিবুর
রহমান পাবেল,
প্রতিবেদক:
কুমিল্লার দেবীদ্বারে ভ্যানচালক শফিউল্লাহকে নৃশংসভাবে চোখ উপড়িয়ে হত্যার প্রধান আসামী মোঃ রাছেল হোসেন (৩৫)কে গ্রেফতার করেছে র্যাব-১১, সিপিসি- ২ ।
র্যাব জানায়, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ও তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় ১৭ মে শনিবার রাতে পটুয়াখালী জেলার বাউফলের নগরের হাট এলাকা থেকে অভিযান পরিচালনা করে উক্ত হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত প্রধান আসামী মোঃ রাছেল হোসেনকে গ্রেফতার করা হয়। সে , দেবীদ্বার উপজেলার আন্দিরপাড় গ্রামের পিতা-মোঃ কিরনের পুত্র।
র্যাব-১১, সিপিসি-২, কুমিল্লার কোম্পানী কমান্ডার মাহমুদুল হাসান জানান, গ্রেফতারকৃত আসামী উক্ত হত্যাকান্ডের সাথে তার সম্পৃক্ততার বিষয়ে তথ্য প্রদান করে। গ্রেফতারকৃতের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য কুমিল্লা জেলার দেবীদ্বার থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ০৬ মে ২০২৫ ইং তারিখ দুপুরে পাওনা টাকা নিয়ে বিরোধের কারনে কুমিল্লা জেলার দেবীদ্বার থানাধীন ত্রিবিদ্যা গ্রামে মোঃ ছফিউল্লাহ (৪৩) নামে এক ভ্যান চালককে শাবল দিয়ে ভিকটিমের মাথা ও বুকে গুরুতর আঘাত করে হত্যা ড্রিল মেশিন দিয়ে নির্মমভাবে ভিকটিমের চোখ উপড়ে ফেলে।
মন্তব্য করুন


নেকবর হোসেন, কুমিল্লা প্রতিনিধি:
কুমিল্লা নগরীর শাসনগাছা এলাকায় ট্রেনে কাটা পড়ে এক অজ্ঞাতপরিচয় পথচারীর মৃত্যু হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১১ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে সাতটার দিকে কুমিল্লা রেলস্টেশনের উত্তর পাশে শাসনগাছা রেলগেইট এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, কক্সবাজার থেকে ঢাকাগামী পর্যটন এক্সপ্রেস ট্রেনটি কুমিল্লা স্টেশন অতিক্রম করে শাসনগাছা এলাকায় প্রবেশ করলে এ দুর্ঘটনা ঘটে। ওই সময় এক ব্যক্তি অসতর্কভাবে রেললাইন পার হওয়ার চেষ্টা করেন। ট্রেনের ধাক্কায় তিনি ছিটকে পড়ে ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান।
নিহতের বয়স আনুমানিক ৩৫ বছর বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে নিহত ব্যক্তির নাম-পরিচয় জানা সম্ভব হয়নি।
স্থানীয়রা জানান, দুর্ঘটনার পর ঘটনাস্থলে প্রচুর ভিড় জমে যায়। অনেকে মরদেহটি দেখে হতভম্ব হয়ে পড়েন।
খবর পেয়ে কুমিল্লা রেলওয়ে ফাঁড়ি পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, অসতর্কতার কারণেই এ দুর্ঘটনা ঘটে।
এ বিষয়ে কুমিল্লা জিআরপি ফাঁড়ির ইনচার্জকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি রিসিভ না করায় তার বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি। ফলে তদন্ত ও পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া সম্পর্কে কিছু জানা যায়নি।
মন্তব্য করুন


নেকবর হোসেন,
কুমিল্লা প্রতিনিধি:
কুমিল্লায় পুলিশ
নারী কল্যাণ সমিতির
উদ্যোগে ফল উৎসব
অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আজ শনিবার (২১
জুন) সকালে কুমিল্লা
পুলিশ লাইন্সের শহীদ
আর আই এ
বি এম আব্দুল
হালিম মিলনায়তনে ফল
উৎসবের উদ্বোধন করেন
জেলা পুলিশ সুপার
মো. নাজির আহমেদ
খান।
এ সময়
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার
রাশেদুল ইসলাম চৌধুরী
(অর্থ ও প্রশাসন),
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার
(ডিএসবি) শামীম ইসলাম,
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার
(সদর সার্কেল) সাইফুল
মালিকসহ পুলিশের বিভিন্ন
পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত
ছিলেন।
এছাড়াও সকল
প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক
মিডিয়ার সাংবাদিকরা উপস্থিত
ছিলেন।
পরে বিভিন্ন
ফলের স্টল পরিদর্শন
করেন পুলিশ সুপার
নাজির আহমেদ খান।
পরিদর্শন শেষে
তিনি জানান, দেশীয়
ফল সম্পর্কে জ্ঞান
অর্জন করে, গুণগত
মান সম্পর্কে জেনে
ফল খেতে সকলে
আগ্রহী হয় সেজন্য
প্রতিবছর এই ফল
উৎসব আয়োজন করা
হয়।
এছাড়াও তিনি
আরো বলেন, আমাদের
উদ্দেশ্য শুধু আনন্দই
নয়, বরং পুলিশ
পরিবারের মধ্যে সৌহার্দ্য,
ভ্রাতৃত্ব ও স্বাস্থ্যসচেতনতা
বাড়ানো।
মন্তব্য করুন


নেকবর হোসেন, কুমিল্লা প্রতিনিধি :
অন্তর্বর্তী সরকারের খাদ্য উপদেষ্টা আলী ইমাম মজুমদার বলেছেন, দেশে বর্তমানে সাড়ে ১৪ লাখ টন চাল মজুত রয়েছে, যা গত বছরের একই সময়ের মজুতের চেয়ে ৩ লাখ টন বেশি।
আজ সোমবার কুমিল্লা সার্কিট হাউজ সম্মেলন কক্ষে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও খাদ্য অফিসারদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব এ তথ্য জানান।
তিনি জানায়, গত বছর এই সময় মজুতের পরিমাণ ছিল সাড়ে ১১ লাখ টন। সরকার ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি সময়ও যেন চাহিদার তুলনায় মজুত বেশি থাকে, তা নিশ্চিত করার জন্য কাজ করছে।
খাদ্যদ্রব্যের দাম প্রসঙ্গে উপদেষ্টা বলেন, চাল-গম, ভুট্টার দাম নিম্নমুখী আছে। তবে এ বিষয়ে অভিযোগ আছে, কৃষক লাভবান হচ্ছে না। এ তিনটি খাদ্যদ্রব্যের দাম বাড়েনি বরং কমেছে। যেন না কমে সে বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
এসময় কুমিল্লা জেলা প্রশাসক মু. রেজা হাসান, জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রণসহ সংশ্লিষ্ট দফতরের জেলা-উপজেলার কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন
মন্তব্য করুন


কুমিল্লা মডার্ন হাই স্কুল অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের
নবগঠিত পূর্ণাঙ্গ আহ্বায়ক কমিটির পক্ষ থেকে বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা
নুসরাত জাহান এর সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ, পরিচিতি এবং আনুষ্ঠানিক নামের তালিকা প্রদান
সম্পন্ন হয়েছে।
আহ্বায়ক ফয়সাল আহমেদ এবং সদস্য সচিব প্রকৌশলী এ বি এম আমিরুল ইসলাম এর নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত এই সাক্ষাতে ফুলেল শুভেচ্ছা বিনিময়ের মাধ্যমে এক সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশ সৃষ্টি হয়।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা নুসরাত জাহান কমিটি গঠিত
হওয়ায় ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন এবং বিদ্যালয়ের উন্নয়ন, শৃঙ্খলা ও শিক্ষা পরিবেশ সমৃদ্ধ
করতে অ্যালামনাইদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার প্রতি আলোকপাত করেন। পাশাপাশি তিনি দ্রুত
সদস্য সংখ্যা বৃদ্ধি করে গণতান্ত্রিক নির্বাচন আয়োজনের গুরুত্বও তুলে ধরেন।
সাক্ষাৎকালে বিদ্যালয়ের বর্তমান চ্যালেঞ্জ, সমস্যা ও সম্ভাব্য সমাধান নিয়ে আলোচনা হয়। অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন ভবিষ্যতে বিদ্যালয়ের উন্নয়নে প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের সাথে নিয়ে সর্বাত্মক সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আশ্বাস প্রদান করেন।
মন্তব্য করুন


কুমিল্লায় ১,১৬০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ একজন মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করেছে র্যাব-১১, সিপিসি-২।
সোমবার (১৩ মে) রাতে র্যাব-১১, সিপিসি-২ একটি বিশেষ আভিযানিক দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কুমিল্লা জেলার কোতয়ালী মডেল থানাধীন অরন্যপুর এলাকায় মাদক বিরোধী অভিযান পরিচালনা করে আসামী তানভীর ইসলাম আনিস নামক একজন মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করে। এ সময় আসামীর কাছ থেকে ১,১৬০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়।
গ্রেফতারকৃত আসামী তানভীর ইসলাম আনিস (২৫) কুমিল্লা জেলার কোতয়ালী মডেল থানার বিবির বাজার গ্রামের মৃত নাবালক মিয়া এর ছেলে।
র্যাব জানান, সে দীর্ঘদিন ধরে কুমিল্লার সীমান্তবর্তী এলাকা হতে মাদক দ্রব্য ইয়াবা সংগ্রহ করে কুমিল্লা জেলায় মাদক ব্যবসায়ী ও মাদক সেবীদের নিকট পাইকারি ও খুচরা মূল্যে বিক্রয় করে আসছে। র্যাব-১১ এর মাদক বিরোধী ধারাবাহিক অভিযানের অংশ হিসেবে উক্ত অভিযান পরিচালনা করা হয়। মাদকের মতো সামাজিক ব্যাধির বিরুদ্ধে র্যাব-১১ এর অভিযান অব্যাহত থাকবে। গ্রেফতারকৃত আসামীর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন।
মন্তব্য করুন


কুমিল্লা চৌদ্দগ্রামে সিএনজি চালক রাসেলকে শ্বাসরোধ করে হত্যার দায়ে দুই যুবককে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন কুমিল্লার আদালত।
২১ এপ্রিল রবিবার দুপুর সাড়ে ১২টায় কুমিল্লার বিজ্ঞ অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ ৪র্থ আদালতের বিচারক মোঃ জাহাঙ্গীর হোসেন এ রায় দেন।
মৃত্যু দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি হলেন- কুমিল্লা চৌদ্দগ্রাম শুভপুর গ্রামের মৃত সোলেমান মিয়ার ছেলে গিয়াসউদ্দিন প্রঃ ইয়াজ উদ্দিন প্রঃ সালাউদ্দিন (২৩) ও একই জেলার নাঙ্গলকোট উপজেলার গান্দাচী গ্রামের আনা মিয়ার ছেলে অলি উল্লাহ প্রঃ অলি (৩০)।
মামলার বিবরণে জানাযায়- ২০১৯ সালের ১৮ জুন আসামীরা পরষ্পর যোগসাজশে হত্যাকাণ্ডের শিকার সিএনজি চালক রাসেল এর সিএনজি গাড়ীটি রিজার্ভ ভাড়া করে মুন্সিরহাট টু বাঙ্গড্ডা বাজারের উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। কিন্তু রাসেল রাতে বাড়ীতে ফিরে না আসায় তাঁর স্বজনরা বিভিন্ন স্থানে খোজাখুজি করার একপর্যায়ে আসামি একরামুল হক পাগলা মোবাইল করে বলে যে, সিএনজিসহ রাসেলকে অজ্ঞাত স্থানে আটক আছে। তাঁকে ছাড়াইতে হলে এক লক্ষ টাকা লাগবে। আরও বলেন এবিষয়ে কাউকে কিছু বলা যাবেনা। তখন বাদী নিরুপায় হতে অনেক কষ্টে ৫০ হাজার টাকা সংগ্রহ করে একরামুল হক পাগলার বিকাশ নম্বরে পাঠায়। কিন্তু কুমিল্লা রাজাপাড়া মোড়ে রাসেলকে ইয়াবা ট্যাবলেট খাওয়ার কথা বলে বিমানবন্দর এলাকায় জঙ্গলের ভেতরে নিয়ে আসামি অলি উল্লাহ প্রঃ অলি প্যান্টের বেল্ট খুলে গলায় পেচিয়ে মাটিতে পেলে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে এবং কাঁদা মাটি দিয়ে ঢেকে লাশ গুম করে রাখে। পরে তাদের দেখানো মতে পুলিশ রাসেল এর মরদেহ উদ্ধার করে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে। এ ব্যাপারে ভিকটিম রাসেল এর বাবা কুমিল্লা চৌদ্দগ্রাম উপজেলার শুভপুর গ্রামের মৃত লাল মিয়ার ছেলে জয়নাল আবেদীন (৫৫) বাদী হয়ে একই গ্রামের একরামুল হক পাগলার ছেলে মোঃ শাহীন (২৩), মৃত সোলেমান মিয়ার ছেলে গিয়াসউদ্দিন (২১) ও টুংকু মিয়া (১৯) ও একরামুল হক পাগলা (৪৫) সহ অজ্ঞাতনামা ৩/৪জনকে আসামি করে চৌদ্দগ্রাম থানায় একটি মামলা দায়ের করিলে তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মোঃ হারুনুর রশিদ তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে আসামি টুংকু মিয়া, গিয়াসউদ্দিন, মোঃ শাহীন ও একরামুলকে আটক করে বিজ্ঞ আদালতে হাজির করিলে তারা স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেন। তৎপর তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মোঃ হারুনুর রশিদ, এসআই সুজন কুমার মজুমদার ও এসআই মিন্টু দত্ত দুটি চার্জশীট দাখিল করেন। পরবর্তীতে ২০১৭ সালের ২৫ জুন চৌদ্দগ্রাম উপজেলার শুভপুর গ্রামের মৃত সোলেমান মিয়ার ছেলে গিয়াসউদ্দিন ও মহিউদ্দিন @ টুংকু ও মৃত ওসমান আলীর ছেলে একরামুল হক পাগলা ও নাঙ্গলকোট উপজেলার গান্দাচী গ্রামের আনা মিয়ার ছেলে অলি উল্লাহ প্রঃ অলি'র বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হওয়ায় দণ্ডবিধির ১৪৩, ৩৬৪, ৩৮৫, ৩৮৬, ৩৭৯, ৫০৬, ৩০২, ২০১, ৪১১, ১০৯ ও ৩৪ ধারা বিধানমতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন এবং চৌদ্দগ্রাম উপজেলার শুভপুর গ্রামের একরামুল হক পাগলার ছেলে মোঃ শাহীন মিয়া (১৭) ও ভিকটিম রাসেলের বড়ভাইয়ের দ্বিতীয় স্ত্রী আসমা আক্তার সাথী'র বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট ধারায় সম্পূরক দোষীপত্র দাখিল করেন। তৎপর মামলাটি বিচারে আসিলে ২০১৯ সালের ১২ জুন আসামি গিয়াসউদ্দিন, মহিউদ্দিন @ টুংকু, একরামুল হক পাগলা ও অলি উল্লাহ প্রঃ অলি'র বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট ধারায় অভিযোগ গঠনক্রমে রাষ্ট্রপক্ষে ১৩জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে উভয়পক্ষের যুক্তিতর্ক শুনানি অন্তে আসামীদের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি পর্যালোচনাক্রমে আসামী দ্বয়ের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় আসামি গিয়াসউদ্দিন ও পলাতক আসামী অলি উল্লাহ প্রঃ অলিকে মৃত্যুদণ্ড এবং একই সাথে প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করেন আদালত। আসামি মহিউদ্দিন প্রঃ টুংকু'র বিরুদ্ধে রাষ্টপক্ষে আনীত অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তাঁকে বেকসুর খালাস প্রদান করেন এবং আসামি একরামুল হক পাগলা মামলা চলাকালীন সময়ে মৃত্যু বরণ করিয়াছেন।
রায় ঘোষণাকালে দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি মোঃ গিয়াসউদ্দিন আদালত কাঠগড়ায় উপস্থিত ছিলেন এবং অপর আসামি অলি উল্লাহ প্রঃ অলি আদালত কাঠগড়ায় অনুপস্থিত ছিলেন।
এ রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে রাষ্ট্রপক্ষে নিযুক্তীয় বিজ্ঞ কৌশলী অতিঃ পিপি এডভোকেট মোঃ মুজিবুর রহমান বাহার বলেন- আশা করছি উচ্চ আদালত এ রায় বহাল রেখে দ্রুত ফাঁসি কার্যকর করবেন।
অপরদিকে, আসামি পক্ষে নিযুক্তীয় বিজ্ঞ কৌশলী বলেন- এ রায়ে আসামিপক্ষ অসন্তুষ্ট ও ক্ষুব্ধ। রায়ের কপি হাতে পেলে শীঘ্রই উচ্চ আদালতে আপীল করবো।
মন্তব্য করুন


মজিবুর রহমান পাবেল,কুমিল্লা:
১৯৭১ সালের ১৮ অক্টোবর কুমিল্লা জেলার ব্রাহ্মণপাড়া থানায় দেউশ মন্দভাগ বাজারে মুক্তিযোদ্ধারা পাকিস্তানী বাহিনীর বিরুদ্ধে একটি যুদ্ধে ব্যাপক সাফল্য অর্জন করে।
১৯৭১ সালের ১৪ অক্টোবর সালদা নদীতে প্রথম আক্রমণের পর ৪ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের ‘সি’ কোম্পানি কমান্ডার সুবেদার ওহাবের ৭ নং প্লাটুনকে দেউশ-মন্দভাগ এলাকায় প্রতিরক্ষা অবস্থান নিতে নির্দেশ দেন। এলাকাটি দক্ষিণ-পশ্চিমে চান্দলা খাল ও দক্ষিণ-পূর্বে সালদা নদী ঘিরে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ছিল। সুবেদার ওহাবের নেতৃত্বে প্রায় ৬০ জন মুক্তিযোদ্ধা, ২টি এমজি, ৭-৮টি এলএমজি এবং ৬০ মি.মি. মর্টারসহ দৃঢ় প্রতিরক্ষা অবস্থান গ্রহণ করেন।
শত্রুপক্ষ ৩৩ বালুচ রেজিমেন্টের একটি কোম্পানি ১৭ অক্টোবর রাতে সালদা নদী পথে অগ্রসর হয়। ১৮ অক্টোবর ভোরে চান্দলা খালে মাছ ধরায় নিয়োজিত আবু মিঞা প্রথমে শত্রুর নৌবহরের শব্দ শুনে মুক্তিযোদ্ধাদের সতর্ক করেন। কিছুক্ষণের মধ্যেই শত্রুর প্রথম নৌকাটি প্রতিরক্ষা অঞ্চলে প্রবেশ করলে নায়েক আতাউর রহমান গুলি চালিয়ে আক্রমণ শুরু করেন। মুহূর্তেই মুক্তিবাহিনীর সব পোস্ট সক্রিয় হয় এবং সুবেদার ওহাব নিজে এমজি পজিশনে থেকে ফায়ার নিয়ন্ত্রণ করেন। ভয়াবহ গুলিবর্ষণে পাকিস্তানি সেনাদের ৭-৮টি নৌকা ধ্বংস হয়, বহু সেনা নিহত ও আহত হয়। ভোরের আলো ফোটার পর সুবেদার ওহাব ও তাঁর সহযোদ্ধারা লে. সীমাসহ প্রায় ১৫-২০টি মৃতদেহ উদ্ধার করেন। নিহত এক হাবিলদারের পকেট থেকে উদ্ধারকৃত চিঠিতে লেখা ছিল- “এখানে মুক্তিবাহিনী নামক বাহিনী আচমকা এসে আক্রমণ করে পালিয়ে যায়, এদের দেখা যায় না।”
এই চিঠি মুক্তিবাহিনীর গেরিলা কৌশলের সার্থকতা প্রকাশ করে।
আহতদের মধ্যে হাবিলদার আকরাম নামের এক সৈনিক জানায়, তাদের নৌকায় মেজর আফ্রিদি ছিলেন যিনি গুলিবিদ্ধ হয়ে নিখোঁজ হন। সুবেদার ওহাব আহত আকরামকে হত্যা না করে চিকিৎসার জন্য ক্যাম্পে পাঠান—যা মুক্তিবাহিনীর মানবিক আচরণের উদাহরণ।
অতঃপর সকাল ৯টার দিকে পাকিস্তানি বাহিনী পশ্চিম ও দক্ষিণ দিক থেকে প্রতিআক্রমণ শুরু করে। সুবেদার ওহাবের এমজি ও এলএমজি পোস্ট থেকে গুলি ও মর্টার বর্ষণে শত্রু ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়ে পিছু হটে যায়। এরপর শুরু হয় আধাঘণ্টারও বেশি সময় ধরে আর্টিলারি গোলাবর্ষণ, যা অধিকাংশই খাল ও বিলের পানিতে গিয়ে পড়ে। মুক্তিযোদ্ধাদের কেউ হতাহত না হলেও তাদের দৃঢ় অবস্থান শত্রুকে হতাশ করে।
দুপুরে শত্রু ৪টি হেলিকপ্টার নিয়ে আকাশ থেকে গুলি বর্ষণ করে। এই হামলায় কয়েকজন বেসামরিক নাগরিক হতাহত হলেও মুক্তিযোদ্ধারা অক্ষত থাকে। যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকলেও সুবেদার ওহাব পরে হেডকোয়ার্টারের সঙ্গে যোগাযোগ পুনঃস্থাপন করে যুদ্ধের পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন পাঠান।
এই অভিযানে পাকিস্তানি বাহিনীর প্রায় ৫০-৫২ জন নিহত ও ৫০-৫৫ জন আহত হয়, যার মধ্যে ২ জন অফিসারও ছিলেন। এটি ছিল মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে একক অভিযানে শত্রুপক্ষের সর্বাধিক হতাহতের অন্যতম নজির। পাকিস্তানি সেনারা পরবর্তীতে সুবেদার ওহাবকে জীবিত বা মৃত অবস্থায় ধরিয়ে দিলে ৫০,০০০ টাকা পুরস্কার ঘোষণা করে।
দেউশ-মন্দভাগ অভিযান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে এক উজ্জ্বল অধ্যায়—যেখানে সুবেদার ওহাবের নেতৃত্ব, মুক্তিযোদ্ধাদের কৌশল, সাহস ও আত্মত্যাগ প্রমাণ করেছিল যে আধুনিক অস্ত্র নয়, স্বাধীনতার অদম্য আকাঙ্ক্ষাই বিজয়ের মূল শক্তি।
মন্তব্য করুন


নেকবর হোসেন ,কুমিল্লা প্রতিনিধি;
কুমিল্লা জেলার সীমান্ত এলাকা হতে দেড় কোটি টাকা মূল্যের অবৈধ বিভিন্ন প্রকার ভারতীয় শাড়ী জব্দ করেছে বিজিবি। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কুমিল্লা ব্যাটালিয়ন (১০ বিজিবি) অধিনায়ক কর্নেল মীর আলী এজাজ।
৩০ নভেম্বর ভোর সাড়ে পাঁচটায় কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলা ক্যান্টনমেন্ট বাজার এলাকা থেকে অবৈধ ভারতীয় শাড়ি জব্দ করে বিজিবি।
বিজিবি সূত্রে জানা যায়, কুমিল্লা ব্যাটালিয়ন (১০ বিজিবি) নিজস্ব দায়িত্বপূর্ণ সীমান্ত এলাকায় চোরাচালান প্রতিরোধসহ আন্তঃসীমান্ত অপরাধ দমনে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করে।
রোববার ভোর সাড়ে পাঁচটায় কুমিল্লা ব্যাটালিয়ন (১০ বিজিবি) এর বিশেষ টহলদল কর্তৃক মাদক ও চোরাচালান বিরোধী অভিযান পরিচালনা করে। উক্ত অভিযানে সীমান্তের ৮ কিলোমিটারের মধ্যে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলা ময়নামতি ক্যান্টনমেন্ট বাজার থেকে বিজিবি টহল দল মালিক বিহীন অবস্থায় কার্ভাট ভ্যানসহ অবৈধ ভারতীয় শাড়ী আটক করে। যার সর্বমোট মূল্য ১ কোটি ৩৮ লাখ ৪১ হাজার টাকা।
কুমিল্লা ব্যাটালিয়ন (১০ বিজিবি) অধিনায়ক কর্নেল মীর আলী এজাজ বলেন,জব্দকৃত মালামাল বিধি মোতাবেক কাস্টমসে জমা করা হবে। অবৈধ মালামাল বন্ধে আমাদের অভিযান চলমান থাকবে।
মন্তব্য করুন


ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের আন্তর্জাতিক
ভলান্টিয়ার দিবস উপলক্ষে ‘বেস্ট ভলান্টিয়ার’
এওয়ার্ড অর্জন করেছেন কুমিল্লা জেলার মো: নাঈমুল হাসান মজুমদার নাঈম।
কুমিল্লা জেলা থেকে তিনিই প্রথম এই
এওয়ার্ড অর্জন করলেন এবং চট্টগ্রাম বিভাগের মধ্যে প্রথম হিসেবে সুপারিশপ্রাপ্ত হন।
গত বৃহস্পতিবার (৫ ডিসেম্বর) নারায়ণগঞ্জের
পূর্বাচলে ফায়ার সার্ভিস মাল্টিপারপাস ট্রেনিং গ্রাউন্ডে আয়োজিত অনুষ্ঠানে অগ্নিনির্বাপণ
ও অপারেশনাল কার্যক্রমে ২২জনকে স্বীকৃতি সনদ ক্রেস্ট তুলে দেন ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল
ডিফেন্সের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মুহাম্মদ জাহেদ কামাল।
ইন্টারন্যাশনাল ভলান্টিয়ার ডে-২০২৪
এর শুভ উদ্বোধন করেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাননীয় উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল
মোঃ জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী (অব.)।
অনুষ্ঠানে ভলান্টিয়ারদের অংশগ্রহণে
সাজ-সরঞ্জামের বাস্তব ব্যবহার ভিত্তিক অগ্নিনির্বাপণ ও উদ্ধার বিষয়ে প্রশিক্ষণ মহড়া
অনুষ্ঠিত হয়। দিবসটি উপলক্ষে এবারের অনুষ্ঠানে ২ শতাধিক ভলান্টিয়ারের পাশাপাশি ফায়ার
সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স-এর পরিচালকগণ, উপপরিচালকগণ, ট্রেনিং কমপ্লেক্সের অধ্যক্ষসহ
বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীগণ উপস্থিত ছিলেন।
মন্তব্য করুন