

নতুন বছর ২০২৫ উপলক্ষে দেশবাসী এবং প্রবাসী বাঙালিসহ বিশ্ববাসীকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন।
বুধবার (০১ জানুয়ারি) খ্রিষ্টীয় নববর্ষ উপলক্ষে দেওয়া আজ এক বাণীতে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন বলেন, ‘সময়ের চিরায়ত আবর্তনে খ্রিষ্টীয় নববর্ষ আমাদের মধ্যে সমাগত।
আমাদের ব্যবহারিক জীবনে খ্রিষ্টীয় বর্ষপঞ্জিকা বহুল ব্যবহৃত। খ্রিষ্টাব্দ তাই জাতীয় জীবনে এবং প্রাত্যহিক জীবনযাত্রায় অবিচ্ছেদ্য অনুষঙ্গ।’
রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন বলেন, ‘জুলাই-আগস্টের ছাত্র-শ্রমিক-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বর্তমান প্রেক্ষাপটে নতুন বছর আমাদের মধ্যে বয়ে এনেছে এক নতুন সুযোগ ও সম্ভাবনা। বিরাজমান বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দা পরিস্থিতিতে আমি আশা করি, সচ্ছল সমাজ ও রাষ্ট্র দুস্থ, অসহায় ও পশ্চাৎপদ মানুষের সহায়তায় এগিয়ে আসবে। নববর্ষ উদযাপন একজনের আনন্দ যেন অন্যদের বিষাদের কারণ না হয় আমরা সেদিকেও খেয়াল রাখবো। ’
রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন আশা প্রকাশ করেন, নতুন বছরে আমরা দুর্নীতি ও বৈষম্যহীন এক সমাজ, সাম্য ও ন্যায়ভিত্তিক মানবিক রাষ্ট্র, গণতান্ত্রিক ও কল্যাণমুখী এক ‘নতুন বাংলাদেশ’ বিনির্মাণে সঠিক পথের দিশা পাবো।
রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন বলেন, জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানের আত্মত্যাগ, আকাঙ্ক্ষা ও চেতনার পথ ধরে বাংলাদেশ অমিত সম্ভাবনার দিকে এগিয়ে যাক নতুন বছরে- এ প্রত্যাশা করি।
রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন বলেন, ২০২৫ সবার জীবনে বয়ে আনুক নতুন স্পন্দন, নতুন আশা, নতুন সম্ভাবনা ও সাফল্য।
মন্তব্য করুন


চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণ উপজেলা সদরে বেশি দামে পেঁয়াজ বিক্রি করায় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর ৪ দোকানদারকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে।
সোমবার (১১ ডিসেম্বর) দুপুরে এ জরিমানা করেন, জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের চাঁদপুর জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক নুর হোসেন।
জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের চাঁদপুর জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক নুর হোসেন বলেন, চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণ উপজেলা সদরে বাজার তদারকি অভিযান পরিচালনা করে অতিরিক্ত দামে পেঁয়াজ বিক্রি ও মূল্য তালিকা প্রদর্শন না করায় জরিমানা করা হয়। এ সময় মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ, অতিরিক্ত দামে জুতা বিক্রির অপরাধে ৪ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
মন্তব্য করুন


অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) মানব জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে; প্রতিটি ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়ে তিনি বিশ্ব মানবতার জন্য অনিন্দ্য সুন্দর অনুসরণীয় শিক্ষা ও আদর্শ রেখে গেছেন; যা প্রতিটি যুগ ও শতাব্দীর মানুষের জন্য মুক্তির দিশারি হিসেবে পথ দেখাবে।
সোমবার (১৬ সেপ্টেম্বর) ‘পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.)’ উপলক্ষে রোববার (১৫ সেপ্টেম্বর) দেওয়া এক বাণীতে প্রধান উপদেষ্টা এ কথা বলেন।
প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, বিশ্বের সর্বশ্রেষ্ঠ মহামানব, বিশ্বমানবতার মুক্তির দিশারি, মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) এর জন্ম ও ওফাতের পবিত্র স্মৃতিবিজড়িত ১২ রবিউল আউয়াল ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) বিশ্ববাসী বিশেষত মুসলমানদের জন্য অত্যন্ত পবিত্র ও মহিমান্বিত দিন। এ উপলক্ষে আমি বাংলাদেশসহ বিশ্বের সকল মুসলিম উম্মাহকে আন্তরিক মোবারকবাদ জানাচ্ছি। মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিন হজরত মুহাম্মদ (সা.) কে বিশ্বজগতের হেদায়েত ও নাজাতের জন্য ‘রাহমাতুল্লিল আলামিন’ তথা সারা জাহানের রহমত হিসেবে প্রেরণ করেছেন। নবী করিম (সা.) সম্পর্কে পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ বলেছেন, ‘হে নবী, আমি আপনাকে সমগ্র বিশ্বজগতের জন্য কেবল রহমতরূপে প্রেরণ করেছি’ (সূরা আল-আম্বিয়া, আয়াত: ১০৭)। মুহাম্মদ (সা.) এসেছিলেন তওহিদের মহান বাণী নিয়ে। সব ধরনের কুসংস্কার, অন্যায়, অবিচার, পাপাচার ও দাসত্বের শৃঙ্খল ভেঙে মানবসত্তার চিরমুক্তি, শান্তি, প্রগতি ও সামগ্রিক কল্যাণের বার্তা নিয়ে এসেছিলেন তিনি। বিশ্ববাসীকে তিনি মুক্তি ও শান্তির পথে আসার আহ্বান জানিয়ে অন্ধকার যুগের অবসান ঘটিয়েছিলেন এবং সত্যের আলো জ্বালিয়েছেন। আজকের দ্বন্দ্ব-সংঘাতময় বিশ্বে মহানবীর (সা.) অনুপম জীবনাদর্শ, তার সর্বজনীন শিক্ষা ও সুন্নাহর অনুসরণ এবং ইবাদতের মাধ্যমেই বিশ্বের শান্তি, ন্যায় এবং কল্যাণ নিশ্চিত হতে পারে বলে আমি মনে করি। আমার দৃঢ় বিশ্বাস, ধর্মীয় ও পার্থিব জীবনে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) এর সুমহান আদর্শ ও সুন্নাহ বিশ্ববাসীর জন্য সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ, উৎকৃষ্টতম অনুসরণীয় ও অনুকরণীয় এবং এর মধ্যেই মুসলমানদের অফুরন্ত কল্যাণ, সফলতা ও শান্তি নিহিত রয়েছে।
ড. মুহাম্মদ ইউনূস ‘পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.)’ উপলক্ষে দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহ তথা বিশ্ববাসীর শান্তি, মঙ্গল ও সমৃদ্ধি কামনা করে বলেন, মহান আল্লাহ আমাদের সবাইকে মহানবী (সা.) এর সুমহান আদর্শ ও সুন্নাহ যথাযথভাবে অনুসরণের মাধ্যমে দেশ, জাতি ও মানবতার কল্যাণে কাজ করার তৌফিক দান করুন। আমিন।
মন্তব্য করুন


বুধবার (২৬ জুন) দুপুর সাড়ে ১২টায় পাবনা সদর উপজেলায় ট্রাক ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে ভাই-বোন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনাটি ঘটে উপজেলার ঢাকা-পাবনা মহাসড়কের ধোপাঘাটা এলাকায়।
এ ঘটনায় একই পরিবারের আরও ৫ জন আহত হয়েছে। তাদেরকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
নিহতরা হলো: বেড়া পৌর এলাকার শালকিপাড়ার রাজকুমার হালদারের ছেলে প্রদীপ হালদার এবং নাটোরের দিনেশের স্ত্রী শম্পা রানী। তারা সম্পর্কে ভাই-বোন। পরিচয় পাওয়া যায়নি আহতদের।
আহত অনুরাধা ধর (১২) নামের এক শিশু জানায়, নিহত দুইজন তার মাসি ও মামা। পাবনার বেড়ায় তার নানাবাড়ি। তাদের বাড়ি টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার শিলিমপুর গ্রামে। তারা নানাবাড়িতে বেড়াতে এসে মামার জন্য পাত্রী দেখতে শহরে যাচ্ছিল।
পাবনা সদর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রওশন আলী গণমাধ্যমকে জানায়, অটোরিকশাটি বেড়া থেকে পাবনার দিকে যাচ্ছিলো। পথে ঢাকা-পাবনা মহাসড়কের ধোপাঘাটা এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি ট্রাকের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ৭ জন সিএনজি যাত্রী গুরুতর আহত হন। আহতদের উদ্ধার করে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের দুইজনকে মৃত ঘোষণা করেন।
আহতরা চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলেও জানায় তিনি।
মন্তব্য করুন


ভোলায় কোস্টগার্ডের অভিযানে একটি ডাকাতদলের সক্রিয় দুই সদস্যকে আটক করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (৮ অক্টোবর) ভোরে সদর উপজেলার ইলিশা ইউনিয়নের চর রাসেল এলাকা থেকে ১টি পিস্তল ও ৬টি দেশীয় অস্ত্রসহ তাদের আটক করা হয়।
আটককৃতরা হলো: ডাকাত সর্দার মো. মোফাজ্জল (৫৫) এবং তার সহযোগী আব্দুল বাতেন (৬৫)।
তারা লক্ষ্মীপুর জেলার সদর উপজেলাধীন মধুচৌধুরি হাট ও মধ্যের চর রমনীর বাসিন্দা।
কোস্টগার্ড এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, বেশ কিছুদিন ধরে ইলিশা এলাকায় মেঘনা নদী এবং তৎসংলগ্ন চরে কুখ্যাত রাসেল বাহিনীর সক্রিয় সদস্য মো. মোফাজ্জল এবং আব্দুল বাতেন স্থানীয় জনসাধারণ এবং জেলেদের জিম্মি করে চাঁদাবাজি, জমিদখল ও বিভিন্ন অপকর্ম করে আসছিলেন। খবর পেয়ে কোস্টগার্ড এসব এলাকায় গোয়েন্দা তৎপরতা বাড়ায়। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মঙ্গলবার ভোরে ইলিশার চর রাসেল এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে রাসেল বাহিনীর দুই সক্রিয় ডাকাতকে ১টি পিস্তল, ৬টি দেশীয় অস্ত্র ও ১টি মোবাইল ফোনসহ আটক করা হয়।
পরে জব্দ করা অস্ত্রগুলোসহ আটককৃতদের ভোলা সদর মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়।
মন্তব্য করুন


বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ) ১৭তম শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রার্থীদের জাতীয় মেধাতালিকা প্রকাশ করেছে ।
গত মঙ্গলবার (২৩ জানুয়ারি) ১৭তম শিক্ষক নিবন্ধনে উত্তীর্ণদের জাতীয় মেধাতালিকা নিয়ে টেলিটক বাংলাদেশ লিমিটেডের সঙ্গে সভায় বসে এনটিআরসিএ। সভায় জাতীয় মেধাতালিকার অগ্রগতি নিয়ে আলোচনা হয়।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় টেলিটকের ওয়েবসাইটে ফল প্রকাশ করা হয়।
জানা গেছে, শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষায় এক বিষয়ে একাধিক প্রার্থী সনদ অর্জন করেন। পরবর্তীতে প্রাপ্ত নম্বর অনুযায়ী প্রার্থীদের জাতীয় মেধাতালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এনটিআরসিএ এই মেধাতালিকা অনুযায়ী পরবর্তীতে নিয়োগের সুপারিশ করে ।
গত বছরের ৫ ও ৬ মে অনুষ্ঠিত এই নিবন্ধনের লিখিত পরীক্ষায় ২৬ হাজার ২৪২ প্রার্থী উত্তীর্ণ হন। লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রার্থীদের মধ্যে ২৫ হাজার ২৪০ প্রার্থী মৌখিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন।
গত ২৮ ডিসেম্বর ১৭তম শিক্ষক নিবন্ধনের চূড়ান্ত ফলপ্রকাশিত হয়।
মন্তব্য করুন


তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা মো. নাহিদ ইসলাম বলেছেন, ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা আসলেও সেই স্বাধীনতা ছিল অরক্ষিত। ২০২৪ সালের বিজয় আমাদের স্বাধীনতাকে পূর্ণতা দিয়েছে।
আজ সোমবার (১৬ ডিসেম্বর) সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে তিনি সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন।
দেশবাসীকে মহান বিজয় দিবসের রক্তিম শুভেচ্ছা জানিয়ে তিনি বলেন, ২০২৪ এর বিজয়ের মধ্য দিয়ে আওয়ামী ফ্যাসিবাদমুক্ত দেশে জনগণ প্রকৃত বিজয়ের স্বাদ অনুভব করছে।
মহান স্বাধীনতা সংগ্রাম ও জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সকল শহীদকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করে উপদেষ্টা নাহিদ ইসলাম ফ্যাসিজম ও আধিপত্যবাদমুক্ত নতুন বাংলাদেশ গড়ার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
মন্তব্য করুন


বিডিআর হত্যাকাণ্ডের ন্যায়বিচার নিশ্চিত
করতে আগামী ৫ কার্যদিবসের মধ্যে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে বলে জানিয়েছেন, স্বরাষ্ট্র
উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী।
আজ মঙ্গলবার সকালে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের
সম্মেলন কক্ষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে উপদেষ্টা এ কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. জাহাঙ্গীর
আলম চৌধুরী বলেন, বিডিআর হত্যাকাণ্ডে পুনঃতদন্ত এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে অন্তর্বর্তীকালীন
সরকার বদ্ধপরিকর। এ লক্ষ্যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠনের পর
থেকেই কাজ করে যাচ্ছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপদেষ্টা হিসেবে আমি
প্রথম থেকেই বিডিআর হত্যাকাণ্ডের পুনঃতদন্ত ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে সোচ্চার ছিলাম
এবং এখনো রয়েছি। এ বিষয়ে গত ২ সেপ্টেম্বর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে প্রথমবার এবং গত ৪
নভেম্বর বিজিবি সদরদপ্তর পরিদর্শনকালে দ্বিতীয় বার ঘোষণা দেই, যা গণমাধ্যমে প্রকাশিত
হয়েছে। শুধু স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপদেষ্টা হিসেবে নয়, একজন সাধারণ
নাগরিক ও সেনাবাহিনীর প্রাক্তন সদস্য হিসেবে আমি শুরু থেকেই বিডিআর হত্যাকাণ্ডের ন্যায়বিচার
দাবি করে আসছি। বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার বৈষম্যহীন সমাজ ও রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার
লক্ষ্যে জনগণের অধিকার, সুশাসন ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করতে বদ্ধপরিকর। বিডিআর হত্যাকাণ্ডে
ন্যায়বিচার নিশ্চিতে আগামী ৫ কার্যদিবসের মধ্যে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। অবসরপ্রাপ্ত
বিচারক, সিভিল সার্ভিস, সশস্ত্র বাহিনী ও পুলিশের অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের নিয়ে এই
কমিটি গঠন করা হবে। কমিটির সদস্য সংখ্যা এখনও নিশ্চিত করা হয়নি। তবে সদস্য ৫ জন, ৭
জন, ৯জনও হতে পারে। সশস্ত্র বাহিনীর সদস্য সংখ্যা একটু বেশি থাকবে।
বিডিআর হত্যাকাণ্ডের ঘটনা কী পুনঃতদন্তের
দিকে যাচ্ছে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সেই আদেশ দিতে পারে আদালত। আর আমরা হলো
একটা শুধু প্রেস ইনকোয়ারি করতে পারি।
কতদিনের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেবে এমন
প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, পাঁচ কার্যদিবসের সময় আমরা বলব। আগে কমিটি
গঠনের জন্য নামগুলো নিতে হবে। আপনারা জানেন এসব কমিটিতে সবাই আসতে চায় না। নাম সংগ্রহে
যদি সময় না লাগতো তাহলে অনেক তাড়াতাড়ি হয়ে যেত। নাম পাওয়ার পর তাদের সঙ্গে আলোচনা করে
তারপর আমরা সময়টা বলতে পারব।
কাজের পরিধি কী হবে জানতে চাইলে জাহাঙ্গীর
আলম বলেন, আমরা তাদের সঙ্গে আলোচনার পর বলতে পারব।
প্রেস ব্রিফিংয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়
সংক্রান্ত প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মো. খোদা বখস চৌধুরী এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের
জননিরাপত্তা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব ও সচিবের রুটিন দায়িত্বে নিয়োজিত ড. নাসিম আহমেদসহ
বিভিন্ন প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক ও অনলাইন মিডিয়ার সাংবাদিকগণ উপস্থিত ছিলেন।
মন্তব্য করুন


মহান বিজয় দিবসে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস এবং পূর্ব তিমুরের প্রেসিডেন্ট জোসে রামোস-হোর্তা সাভারের জাতীয় স্মৃতি সৌধে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন। এ সময় পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে ৫৪তম বিজয় দিবস উদযাপন করেন।
উভয় নেতা আজ সোমবার (১৬ ডিসেম্বর) সকাল ৭টা ৫ মিনিটে জাতীয় স্মৃতিসৌধের বেদীতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন।
পুষ্পস্তবক অর্পণের পর তাঁরা ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানাতে সেখানে কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন।
এ সময় সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনীর একটি চৌকস দল রাষ্ট্রীয় সালাম প্রর্দশন করে এবং বিউগলে করুণ সুর বেজে উঠে।
বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা এবং পূর্ব তিমুরের প্রেসিডেন্ট সেখানে রাখা দর্শনার্থী বইয়ে স্বাক্ষর করেন।
এ সময় উপদেষ্টা, তিন বাহিনীর প্রধানগণ, মুক্তিযোদ্ধা, কূটনীতিক, বিভিন্ন উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার প্রতিনিধি এবং বেসামরিক ও সামরিক কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
বিজয় দিবস উপলক্ষে সরকারের পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক, রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক সংগঠন এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।
মন্তব্য করুন


তিস্তাসহ
বিভিন্ন নদীর সমন্বিত ব্যবস্থাপনায় সহযোগিতা বাড়াতে বাংলাদেশ ও চীন একমত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার
দুপুরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে চীনের পানিসম্পদমন্ত্রী লি কুওইংয়ের বৈঠকে
এ ঐকমত্য হয় বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনি।
চীনের
রাজধানী বেইজিংয়ে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন ‘তিয়াওইউথাই’-এ এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
উপ-প্রেস
সচিব জাহিদুল ইসলাম রনি জানান, তিস্তা নদী সমন্বিত ব্যবস্থাপনা ও পুনরুদ্ধার প্রকল্পে
বাংলাদেশ আনুষ্ঠানিকভাবে চীনের কারিগরি ও অর্থনৈতিক সহায়তা কামনা করেছে।
প্রধানমন্ত্রী
তারেক রহমান বৈঠকে বাংলাদেশে বন্যার ঝুঁকি মোকাবিলা, পরিবেশ সুরক্ষা এবং পানি সম্পদের
যথাযথ ব্যবস্থাপনার লক্ষ্যে সরকারের চলমান নদী খনন কর্মসূচির কথা উল্লেখ করে পানিসম্পদ
ব্যবস্থাপনায় চীনের সহযোগিতা কামনা করেন।
প্রধানমন্ত্রীর
দপ্তর জানায়, বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশের তিস্তা ব্যবস্থাপনা প্রকল্পে
চীন সরকারের কারিগরি সহায়তা চান। চীনের পানিসম্পদমন্ত্রী লি কুওইং ইতিবাচক সাড়া দিয়ে
বাংলাদেশের পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনায় সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
তিস্তা
মহাপরিকল্পনা হল বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলে তিস্তা নদীকে ঘিরে একটি সমন্বিত উন্নয়ন পরিকল্পনা;
যার মূল লক্ষ্য—নদী ব্যবস্থাপনা, বন্যা নিয়ন্ত্রণ,
সেচ সুবিধা বৃদ্ধি এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সম্প্রসারণ।
এই
পরিকল্পনার আওতায় নদীর দুই তীর সংরক্ষণ, খনন ও প্রশস্তকরণ, জলাধার ও ব্যারেজ উন্নয়ন,
এবং আধুনিক সেচব্যবস্থা গড়ে তোলার কথা রয়েছে। তাতে শুষ্ক মৌসুমে পানির ঘাটতি কমানো
এবং বর্ষায় বন্যার ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে বলে সরকার আশা করছে।
প্রকল্পটি
বাস্তবায়িত হলে রংপুর অঞ্চলের কৃষি উৎপাদন বাড়বে, নতুন কর্মসংস্থান তৈরি হবে এবং নদীভাঙন
কমবে। একই সঙ্গে নদীকেন্দ্রিক শিল্প ও পর্যটনের সম্ভাবনাও বাড়বে।
তবে
এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে বড় চ্যালেঞ্জ হলো আন্তঃসীমান্ত পানি বণ্টন। উজানে ভারতের পানি
ব্যবস্থাপনার ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় বাংলাদেশে তিস্তার পানিপ্রবাহ মৌসুমভেদে ব্যাপকভাবে
ওঠানামা করে। ফলে প্রকল্পের সফলতা অনেকাংশে নির্ভর করছে দুই দেশের মধ্যে একটি কার্যকর
পানি বণ্টন চুক্তির ওপর।
২০১৬
সালে চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান পাওয়ার চায়না এবং বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড একটি
সমীক্ষা চালিয়ে এই মহাপরিকল্পনার নকশা চূড়ান্ত করে।
পরে
ভারতও ভূরাজনৈতিক প্রেক্ষাপট থেকে এই প্রকল্পে যুক্ত হতে এবং অর্থায়নে প্রবল আগ্রহ
প্রকাশ করে, যার ফলে বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে প্রকল্পটি ঝুলে যায়।
২০২৪
সালের অগাস্টে গণঅভ্যুত্থানে সরকার পরিবর্তনের পর মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী
সরকার পুনরায় চীনের অর্থায়নেই প্রকল্পটি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেয়। ২০২৯ সালের মধ্যে
প্রকল্পের প্রথম ধাপ বাস্তবায়নের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়।
পাঁচ
বছর মেয়াদি প্রথম ধাপের প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয় প্রায় ৯ হাজার কোটি টাকা (৭৫০ মিলিয়ন
ডলার)। এর মধ্যে প্রায় ৬ হাজার ৭০০ কোটি টাকা বা ৫৫০ মিলিয়ন ডলার চীনের কাছে ঋণ হিসেবে
চাওয়া হয়েছে এবং বাকি অর্থ রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে মেটানো হবে।
এ
প্রকল্পের বাস্তবায়ন হলে লালমনিরহাট, রংপুর, নীলফামারী, কুড়িগ্রাম ও গাইবান্ধা জেলার
প্রায় ২ কোটি মানুষের জীবনযাত্রায় ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে সরকার আশা করছে।
২০০৫
সালে সই হওয়া দুই দেশের সমঝোতা স্মারক এবং চীনা পানি বিশেষজ্ঞদের গত বছরের বাংলাদেশ
সফরের প্রসঙ্গ টেনে বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনায়
বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে বিদ্যমান দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা বাস্তবভিত্তিক ও গবেষণানির্ভর।
বাংলাদেশের
নদীভাঙন রোধ, সেচ ব্যবস্থাপনা এবং নৌ-নেভিগেশন উন্নয়নে চীন সরকারের সহযোগিতা চান প্রধানমন্ত্রী।
চীনের
পানিসম্পদ মন্ত্রী লি কুওইং বলেন, পানি ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশ চীনের অভিজ্ঞতা কাজে
লাগাতে পারে।
বাংলাদেশের
পানিসম্পদ বিশেষজ্ঞ এবং এ খাতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের চীনে প্রশিক্ষণ গ্রহণের আহ্বান
জানান চীনের এ মন্ত্রী।
বৈঠকে
উপস্থিত ছিলেন তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দীন স্বপন, পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী
এ্যানি, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র
বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, বৈদেশিক কর্মসংস্থান বিষয়ক প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহ্দী
আমিন, প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন।
মন্তব্য করুন


অন্তর্বর্তী সরকারের সংস্কার কর্মসূচির সহায়তায় সহজ শর্তে বাংলাদেশকে ৩ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার ঋণ দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে বিশ্বব্যাংক।
বুধবার নিউইয়র্কে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে বৈঠকে বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট অজয় বাঙ্গা এ কথা জানিয়েছেন।
বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট অজয় বাঙ্গা জানান, অর্থনৈতিক সংস্কার, ডিজিটালাইজেশন, তারল্য, জ্বালানি এবং বিদ্যুৎ ও পরিবহনে সংস্কারের জন্য ৩ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার (প্রায় ৪২ হাজার কোটি টাকা) সহায়তা দেওয়া হবে।
এর মধ্যে নতুনভাবে প্রায় ২৪ হাজার কোটি টাকা দেওয়া হচ্ছে। আর আগের ঋণ সহায়তা থেকে ১৮ হাজার কোটি টাকা দেওয়া হবে বাংলাদেশ পুনর্গঠনের সংস্কার খাতে। বৈঠকে ড. ইউনূস তার নেওয়ার সংস্কারমূলক কাজের জন্য বিশ্বব্যাংকের কাছে আরও সহায়তা চান।
মন্তব্য করুন