

২০২৫-২৬
অর্থবছরের জন্য ৭ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকার জাতীয় বাজেট উপস্থাপন করেছেন অর্থ উপদেষ্টা
ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ।
বাংলাদেশের
ইতিহাসে ৫৪তম এবং অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের এই
প্রথম বাজেটটি দেশের মোট জাতীয় উৎপাদন (জিডিপি)’র ১২.৭ শতাংশের সমতুল্য।
অর্থ
উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ আজ বিকাল ৩টা থেকে বাজেট বক্তৃতা উপস্থাপন শুরু করেছেন।
বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি) ও বাংলাদেশ বেতারে পূর্বে ধারণকৃত সম্প্রচারের মাধ্যমে
এটি প্রচারিত হয়।
মোট
বাজেটের মধ্যে পরিচালন ব্যয় ও অন্যান্য খাতে ৫,৬০,০০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে
এবং বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) বাবদ ২,৩০,০০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে।
মন্তব্য করুন


তথ্য
ও সম্প্রচার উপদেষ্টা মো. মাহফুজ আলম বলেছেন, নতুন কুঁড়ি প্রতিযোগিতায় বিজয়ী শিশুশিল্পীরা পরিশ্রমের মাধ্যমে বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে খ্যাতি অর্জন করবে।
আজ
শনিবার ঢাকার রামপুরায় বাংলাদেশ টেলিভিশনের (বিটিভি) অডিটোরিয়ামে ‘নতুন কুঁড়ি ২০২৫’ প্রতিযোগিতায় বিজয়ী শিশু-কিশোরদের পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি একথা বলেন।
নতুন
কুঁড়ি প্রতিযোগিতায় বিজয়ী শিশু-কিশোরদের অভিনন্দন জানিয়ে উপদেষ্টা বলেন, দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম হিসেবে নতুন কুঁড়ির শিশুশিল্পীদের সংস্কৃতিচর্চা চালিয়ে যেতে হবে। একইসঙ্গে অন্যান্য বিষয়েও শিশুশিল্পীদের প্রতিভা বিকশিত করতে হবে। শিশু-কিশোরদের প্রতিভা বিকাশে অভিভাবক ও শিক্ষকগণের ভূমিকা
তুলে ধরে তিনি বলেন, নতুন কুঁড়ি প্রতিযোগিতায় শিশুশিল্পীরা যে সাফল্য দেখিয়েছে,
তার মূলে রয়েছে অভিভাবক ও শিক্ষকগণের অবদান।
তিনি প্রতিযোগিতায় বিজয়ী শিশুশিল্পীদের অভিভাবক ও শিক্ষকগণকে অভিনন্দন
জানান।
শিশু-কিশোরদের উদ্দেশে উপদেষ্টা বলেন, ‘তোমরা অনেকেই জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সাক্ষী হয়েছ। গণঅভ্যুত্থানে শহীদ অনেকেই হয়তো তোমাদের পরিচিত। গণঅভ্যুত্থানে শহীদ ও আহতরা যে
বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেছিলেন, সেই স্বপ্নের পথে হাঁটার জন্য আমরা এই আয়োজনটা (নতুন
কুঁড়ি) করেছি।
২০
বছর পর নতুন কুঁড়ি
প্রতিযোগিতা শুরুর প্রেক্ষাপট তুলে ধরে তিনি বলেন, গত জুলাই মাসে
এই প্রতিযোগিতা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়। দীর্ঘ প্রক্রিয়া শেষে বিজয়ী শিশুশিল্পীদের পুরস্কার প্রদানের মাধ্যমে এই প্রতিযোগিতা আনুষ্ঠানিকভাবে
শেষ হলো। নতুন কুঁড়ি প্রতিযোগিতা সফলভাবে আয়োজনের জন্য তিনি বিটিভির মহাপরিচালক-সহ সংশ্লিষ্ট সকলকে
ধন্যবাদ জানান।
মাহফুজ
আলম বলেন, নতুন কুঁড়ি প্রতিযোগিতার মাধ্যমে একটা আশার সঞ্চার হয়েছে যে, বাংলাদেশের সংস্কৃতি টিকে থাকবে এবং সারা দুনিয়ায় মাথা উঁচু করে দাঁড়াবে। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, আগামী সরকারও নতুন কুঁড়ি প্রতিযোগিতার ধারাবাহিকতা বজায় রাখবে।
অনুষ্ঠানে
বিশেষ অতিথির বক্তৃতায় তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের
সচিব মাহবুবা ফারজানা বলেন, নতুন কুঁড়ি প্রতিযোগিতায় বিজয়ী শিশুশিল্পীরা শিল্প-সাহিত্য অঙ্গনে নেতৃত্ব দেবে। এই শিশুশিল্পীরা বাংলাদেশের
শিল্প-সাহিত্যকে অনেক দূর এগিয়ে নিয়ে যাবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।
অনুষ্ঠানে
সভাপতির বক্তৃতায় বিটিভির মহাপরিচালক মো. মাহবুবুল আলম বলেন, তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টার
প্রত্যক্ষ নির্দেশনা ও আন্তরিক পদক্ষেপের
কারণে মাত্র দেড় মাসের মধ্যে নতুন কুঁড়ি প্রতিযোগিতা সম্পন্ন হয়েছে।
প্রতিযোগিতায়
বিজয়ী শিশুশিল্পীদের নিয়ে বিটিভির পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, নতুন কুঁড়ি প্রতিযোগিতার সকল শাখার সেরা দশ জন সরাসরি
বিটিভির শিল্পী তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হবে। এছাড়া বিটিভি আয়োজিত শিশুপ্রহর অনুষ্ঠানে শুধু নতুন কুঁড়ির সেরা দশের শিল্পীরা অংশগ্রহণ করবে। অনুষ্ঠানটি প্রতি শুক্রবার প্রচারিত হবে।
বাংলাদেশ
টেলিভিশন আয়োজিত পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে নতুন কুঁড়ি ২০২৫ প্রতিযোগিতায় ক ও খ
বিভাগের প্রতি বিষয়ে ১ম, ২য় ও ৩য়
স্থান অর্জনকারী মোট ৭৩ জন শিশুশিল্পী
পুরস্কৃত হয়। পুরস্কারপ্রাপ্ত শিশুশিল্পীরা হলো :
ক
বিভাগ : অভিনয়ে ১ম আরহাম হাসান
আরিয়ান; ২য় রুফাইদা আফরা;
৩য় মুগ্ধতা মল্লিক। আধুনিক গানে ১ম প্রিয়সী চক্রবর্তী;
২য় স্মিতা বাড়ই; ৩য় শেখ রোদসী
রায়ান। আবৃত্তিতে ১ম আরিশা দানীন
মাহা; ২য় মোঃ ইছা
আল মাহিম; ৩য় নাভীদ হাসান।
উচ্চাঙ্গ নৃত্যে ১ম মোছাঃ আদৃতা
তাসনিম লাবণ্য; ২য় শৌনক কুন্ডু;
৩য় আর্যশ্রী বিশ্বাস পৃথা। কৌতুকে ১ম সাবিক সাদত;
২য় জেরাল্ড বিশ্বাস; ৩য় মাহিরা। গল্প
বলায় ১ম রোহিনী হাসান
হৃদ্ধি; ২য় আয়েশা সিদ্দিকা;
৩য় নুসরাত তাসনিম। দেশাত্মবোধক গানে ১ম অংকিতা সরকার;
২য় মো. ইহানুর রহমান; ৩য় তোজো মণ্ডল।
নজরুল সংগীতে ১ম অরিত্রা বসাক;
২য় শ্রেয়া রায়; ৩য় অংকিতা সরকার।
রবীন্দ্রসংগীতে ১ম প্রিয়সী চক্রবর্তী;
২য় আরিশা দানীন মাহা; ৩য় শুভশ্রী সরকার।
লোকসংগীতে ১ম চিশতি রহমতুল্লাহ
সাফীন মন্ডল; ২য় আইয়ান রেজা;
৩য় মো. ইহানুর রহমান। সাধারণ নৃত্যে ১ম ঐশ্বর্য্য জিতা
স্পর্শ; ২য় নাজিফা হোসেন
(স্বাধিকা); ৩য় দীপশিখা দে।
হামদ-নাতে ১ম সুরাইয়া আক্তার;
২য় তাসবিহা আয়ান তানহা; ৩য় শুহাদা।
খ
বিভাগ : অভিনয়ে ১ম হুমায়রা আসিফা;
২য় মাহিমা জামান কথা; ৩য় মুরাদুস সালিহীন।
আধুনিক গানে ১ম রোদসী নূর
সিদ্দিকী; ২য় তুষ্মি দাস;
৩য় শ্রীতমা রায়। আবৃত্তিতে ১ম সাবিলা সুলতান
বাণী; ২য় আফিয়া সাইয়ারা
ত্বাহা; ৩য় নাহিনা বিনতে
জামান। উচ্চাঙ্গ নৃত্যে ১ম মৃনময়া পাল
ও তুলি মল্লিক (যৌথভাবে); ২য় তনুশ্রী মন্ডল;
৩য় কায়নাত বিনতে মোর্শেদ রাই। কৌতুকে ১ম দিশান রায়
দুর্জয়; ২য় এহসানুল হক;
৩য় তাসফিয়া মুনতাহা। গল্প বলায় ১ম ফাইরুজ বারী
মালিহা; ২য় সমহৃদ্ধি সূচনা
স্বর্গ; ৩য় মাহিমা জামান
কথা। দেশাত্মবোধক গানে ১ম শ্রেয়া সাহা;
২য় শ্রদ্ধা কর্মকার; ৩য় অন্বেষা বর্মন।
নজরুলসংগীতে
১ম আজমাইন আরহাম; ২য় শুভমিতা তালুকদার;
৩য় অন্বেষা বর্মন। রবীন্দ্রসংগীতে ১ম শুভমিতা তালুকদার;
২য় শ্রীতমা রায়; ৩য় অন্বেষা বর্মন।
লোকসংগীতে ১ম কুমারী রিয়া
ব্যাধ; ২য় মোঃ বাইজিদ
আহমেদ; ৩য় তানিশা ইসলাম
হিয়া। সাধারণ নৃত্যে ১ম রাওজা করিম
রোজা; ২য় রাধিকা তাছাল্লুম
রিয়ন্তি; ৩য় ইউশা শাহিরা
আনুভা। হামদ-নাতে ১ম আহনাফ আদিল;
২য় তাসনিম জাহান; ৩য় রোদসী নূর
সিদ্দিকী।
অনুষ্ঠানে
১ম স্থান অর্জনকারীকে ২ লক্ষ টাকা,
২য় স্থান অর্জনকারীকে ১ লক্ষ টাকা
এবং ৩য় স্থান অর্জনকারীকে
৫০ হাজার টাকার চেক-সহ ট্রফি ও
সনদ প্রদান করা হয়। উল্লেখ্য, নতুন কুঁড়ি প্রতিযোগিতার ক বিভাগের চ্যাম্পিয়ন
প্রিয়সী চক্রবর্তী এবং ‘খ’ বিভাগের চ্যাম্পিয়ন
শুভমিতা তালুকদার গত ১৩ নভেম্বর
প্রধান উপদেষ্টার কাছ থেকে ৩ লক্ষ টাকার
চেক ও ট্রফি গ্রহণ
করে।
মন্তব্য করুন


পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় এবং পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেছেন, বনভূমিতে গারোদের অধিকার সংরক্ষণে কাজ করছে সরকার।
আজ শুক্রবার (৮ নভেম্বর) বনানী বিদ্যানিকেতন স্কুল অ্যান্ড কলেজে গারো সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী ফসল কাটার উৎসব ‘ওয়ানগালা’ উদযাপন উপলক্ষ্যে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, বনবাসীদের সাথে বন বিভাগের দ্বন্দ্ব নিরসনে কাজ করা হবে। এলক্ষ্যে সামাজিক বনায়ন বিধিমালার প্রয়োজনীয় সংশোধনের কাজ চলছে। গারোদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় আদিবাসী পরিষদ কাজ শুরু করেছে। মধুপুর বনের বিরোধপূর্ণ সীমানা চিহ্নিত করতে জেলা প্রশাসনকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। স্থানীয় উন্নয়ন কার্যক্রমে বনবাসীদের বাইরে রেখে কিছু করা হবে না। বালু দস্যু ও পাথর খেকোদের বিরুদ্ধে ভূমি ও পানি মন্ত্রণালয় একসাথে কাজ করবে। ওয়ানগালা গারো সম্প্রদায়ের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের বিশেষ প্রতীক। এটি আমাদের সমাজে সম্প্রীতির শক্তি বাড়ায়। ওয়ানগালা প্রকৃতি ও মানবসমাজের সম্পর্কের প্রতি আমাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। ফসল কাটার এই সময় প্রকৃতির প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশের মুহূর্ত। আমাদের সকলের উচিত পরিবেশ সুরক্ষায় গারোদের মতো প্রাকৃতিক সম্পদের যত্ন নেয়া।
ঢাকা ওয়ানগালা ২০২৪ উদযাপন অনুষ্ঠানে নকমা সীমান্ত চিসিম এর সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, এনবিআর সদস্য ফজলুল হক, সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য) নাফরিজা শায়মা, লেখক ও গবেষক পাভেল পার্থ, কবি ও গবেষক পরাগ রিচিল, প্রেসিডেন্সি ইউনিভার্সিটি রেজিস্ট্রার মো. শাকির হোসেন, কারিতাস ডেভেলপমেন্ট ইনস্টিটিউট এর পরিচালক থিওফিল নকরেক, উন্নয়ন গবেষক ড. বাপন মানখিন, বনানী বিদ্যানিকেতন স্কুল ও কলেজ অধ্যক্ষ ড. মশিউর রহমান, দ্য ক্রিশ্চিয়ান কো-অপারেটিভ ক্রেডিট ইউনিয়ন সভাপতি হেমন্টো করায়া প্রমুখ।
পরে উপদেষ্টা ওয়ানগালা উপলক্ষে প্রকাশিত বিশেষ ম্যাগাজিনের মোড়ক উন্মোচন করেন।
মন্তব্য করুন


জুলাই
বিপ্লবী ও আধিপত্যবাদবিরোধী ‘ইনকিলাব মঞ্চ’র মুখপাত্র শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যায়
মূল অভিযুক্ত ফয়সাল করিম মাসুদের অবস্থান সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট তথ্য নেই বলে জানিয়েছেন
পুলিশের অতিরিক্ত আইজি খন্দকার রফিকুল ইসলাম। তবে হত্যাকারী দেশের বাইরে চলে গেছে এমন
নির্ভরযোগ্য তথ্যও পাওয়া যায়নি বলে জানান তিনি।
রোববার
(২১ ডিসেম্বর ) সন্ধ্যায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন
অতিরিক্ত আইজিপি। খন্দকার রফিকুল ইসলাম বলেন, ফয়সালের শেষ অবস্থানের বিষয়ে আমাদের কাছে
সুনির্দিষ্ট তথ্য নেই।
এটা
পেতে আমাদের বাহিনী এবং গোয়েন্দা সংস্থা কাজ করছে। তবে সে যে দেশের বাইরে চলে গেছে
এমন নির্ভরযোগ্য তথ্যও পাইনি। অনেক সময় অপরাধীরা তাদের অবস্থান নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়িয়ে
থাকে। এ হত্যাকাণ্ডকে রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড বলা হচ্ছে, কোনো রাজনৈতিক দলের সম্পৃক্ততা
পেয়েছেন কি না?’ এমন প্রশ্নের উত্তরে অতিরিক্ত আইজিপি বলেন, আমরা এখনো স্পেসিফিক কোনো
রাজনৈতিক দলের সম্পৃক্ততা পাইনি।
তবে
আমরা সঠিক তথ্য পেতে চেষ্টা করছি।সংবাদ সম্মেলনে ডিএমপির গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) প্রধান
শফিকুল ইসলাম বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা হচ্ছে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে এ হত্যাকাণ্ড হয়ে
থাকতে পারে। এখানে ব্যক্তিগত কোনো উদ্দেশ্য থাকতে পারে বলে মনে হয়নি। ঘটনার শুরু থেকে
আমরা মাঠে ছিলাম। সব এজেন্সি সমন্বিতভাবে কাজ করেছি। এটা আমরা সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়ে
সম্ভাব্য সব দিকগুলো দেখছি।
মন্তব্য করুন


ঈদের ছুটিতে বাড়িতে যাওয়ার আগে নিজ বাসার নিরাপত্তা নিশ্চিত করে
যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার শেখ মো.
সাজ্জাত আলী।
আজ শনিবার (৮ মার্চ) দুপুরে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ
সম্মেলনে তিনি এ আহ্বান জানান।
পুলিশের জনবলের স্বল্পতা থাকার তথ্য জানিয়ে ডিএমপি কমিশনার বলেন, এক
সপ্তাহ পর ঢাকাবাসীর অনেকে নিকটাত্মীয়র সঙ্গে ঈদ করতে গ্রামে যাবেন। আপনারা যখন
বাড়ি যাবেন, তখন নিজ দায়িত্বে ফ্ল্যাট ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা নিশ্চিত
করে যাবেন। আজ শনিবার ৭ রমজান। তারাবিহ সাতটি হয়ে গেছে। ঢাকাবাসী তারাবিহর নামাজ
পড়তে যান। দেড় থেকে দুই ঘণ্টা তারাবিহতে সময় লাগে। সে সময়টায় রাস্তাঘাটে জনশূন্যতা
দেখা যায়। এ সময় বাড়ি, ফ্ল্যাট ও দোকান সযত্নে রেখে আসবেন। নগরীর যে ক্রাইম, সেটি
হচ্ছে স্ট্রিট ক্রাইম। মুঠোফোন টান দেওয়ার মতো সহজ কোনো ক্রাইম করা যায় কি না,
জানি না। পকেট থেকে মানিব্যাগ টান দেওয়া কিন্তু ঝুঁকি। এমনও মুঠোফোন আছে, যার দাম
লাখ টাকা। আমরা খবর পাচ্ছি, মুঠোফোনগুলো বর্ডারে নিয়ে বিক্রি করে দিচ্ছে।
তিনি বলেন, ‘উঠতি বয়সের ছেলেরা, আমরা যাদের কিশোর গ্যাং বলি, তারা
বাসের যাত্রী, প্রাইভেট কারের যাত্রী, মোটরবাইকের চালকদের মুঠোফোন কেড়ে নেয়। এ
ধরনের অপরাধকে বলা হয় স্ট্রিট ক্রাইম। ঢাকা শহর পৃথিবীর অন্যতম ঘনবসতিপূর্ণ শহর।
এই শহরে নানা সমস্যা আছে। ইদানীং ঢাকা মহানগরীতে বড় ধরনের অপরাধ খুন, ডাকাতির মতো
অপরাধের সংখ্যা খুবই কম। বিগত বছরের পরিসংখ্যান দেখলে অথবা অন্য দেশের বড় বড় শহরের
অপরাধের চিত্রের সঙ্গে তুলনামূলক চিত্র বিশ্লেষণ করলে দেখা যাবে, ঢাকা শহরের
অপরাধের চিত্র কম।
মন্তব্য করুন


চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের
মধ্যে নির্বিঘ্ন নিরবিচ্ছিন্ন যোগাযোগ ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের
নির্বাহী কমিটি (একনেক) আজ (৭ অক্টোবর) কালুরঘাটে কর্ণফুলী নদীর উপর বিদ্যমান পুরাতন
সেতুর পাশে ১১,৫৬০.৭৭ কোটি টাকার নতুন রেল-কাম-সড়ক সেতু প্রকল্প অনুমোদন করেছে।
প্রধান উপদেষ্টা
অধ্যাপক ডক্টর মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে রাজধানীতে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত
চলতি অর্থবছরের (অর্থবছর ২৫) তৃতীয় ও অন্তর্বর্তী সরকারের দ্বিতীয় একনেক বৈঠকে এ অনুমোদন
দেওয়া হয়।
বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের
ব্রিফিংকালে পরিকল্পনা ও শিক্ষা উপদেষ্টা ড. ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ জানান, দিনের বৈঠকে
মোট আনুমানিক ২৪ হাজার ৪১২ কোটি ৯৪ লাখ টাকা ব্যয়ে মোট চারটি প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া
হয়েছে। মোট প্রকল্প ব্যয়ের মধ্যে বাংলাদেশ সরকারের অংশ থেকে ৭,৭৪৬.৬৬ কোটি টাকা, প্রকল্প
সহায়তা থেকে ১৬,০১২.৩৩ কোটি টাকা ও সংশ্লিষ্ট সংস্থার নিজস্ব তহবিল থেকে ৬৫৩.৯৫ কোটি
টাকা আসবে।
অনুমোদিত চারটি
প্রকল্পের মধ্যে দু’টি নতুন ও দু’টি সংশোধিত প্রকল্প। এছাড়া বৈঠকে ব্যয় না বাড়িয়ে সাতটি
প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানোর অনুমোদন দেওয়া হয়।
রেলপথ মন্ত্রণালয়
২০৩০ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে রেল-কাম-সড়ক সেতু প্রকল্প বাস্তবায়ন করবে ।
মোট ১১,৫৬০.৭৭
কোটি টাকার প্রকল্প ব্যয়ের মধ্যে ৪,৪৩৫.৬২ কোটি টাকা আসবে বাংলাদেশ সরকারের কাছ থেকে
এবং বাকি ৭,১২৫.১৫ কোটি টাকা আসবে অর্থনৈতিক উন্নয়ন সহযোগিতা তহবিল (ইডিসিএফ) এবং ইকোনমিক
ডেভেলপমেন্ট প্রমোশন ফ্যাসিলিটিজ (ইডিপিএফ), কোরিয়া থেকে। পরিকল্পনা উপদেষ্টা জানান,
কালুরঘাটে বিদ্যমান সেতুটি পুরনো ও জরাজীর্ণ হওয়ায় এ ব্যাপারে নতুন প্রকল্পের কথা বিবেচনা
করা হয়েছে।তিনি বলেন, সরকার কক্সবাজারকে আরও উন্নত পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে রূপান্তর
করতে চায়। এছাড়াও মাতারবাড়ী কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সংলগ্ন অর্থনৈতিক অঞ্চলের
জন্যও উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা প্রয়োজন। এ জন্য সরকার মনে করেছে, এ ক্ষেত্রে একটি নতুন
প্রকল্প গ্রহণ করা উচিত।
পরিকল্পনা কমিশনের
একজন কর্মকর্তা বলেন, প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য হলো চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের মধ্যে নির্বিঘ্ন
ও নিরবচ্ছিন্ন রেল যোগাযোগ নিশ্চিত করা এবং ট্রান্স এশিয়ান রেলওয়ের সঙ্গে সংযোগের সুযোগ
তৈরি করা। রেলপথ মন্ত্রনালয়ের কর্মকর্তারা জানান, বর্তমানে পুরানো ও জরাজীর্ণ কালুরঘাট
সেতু দিয়ে ঘণ্টায় ১০ কিলোমিটারের বেশি গতিতে ট্রেন চলাচল করতে পারে না। এছাড়া মাতারবাড়ী
গভীর সমুদ্র বন্দর চালু হলে, এ অঞ্চলে ব্যবসা-বাণিজ্য যেমন চাঙ্গা হবে, তেমনি এ রুটের
গুরুত্বও বাড়বে। ইতোমধ্যেই দোহাজারী-কক্সবাজার রেললাইন চালুর মাধ্যমে ঢাকা ও কক্সবাজারের
মধ্যে সরাসরি রেল যোগাযোগ স্থাপিত হয়েছে। ফলে পর্যটন নগরীর সঙ্গে নির্বিঘ্নে যোগাযোগ
নিশ্চিত করতে বিদ্যমান পুরাতন সেতুর পাশে কালুরঘাটে কর্ণফুলী নদীর ওপর নতুন রেল-কাম-সড়ক
সেতু নির্মাণ অপরিহার্য হয়ে পড়েছে। এমন একটি পরিস্থিতিতে প্রকল্পটি তৈরি করা হয়েছে
এবং এইভাবে কোরিয়ান সরকারের অর্থায়নে অনুমোদিত হয়েছে।
বর্তমানে দেশের
আমদানি ও রপ্তানি কার্যক্রমের ৭০ শতাংশ হয়ে থাকে চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে। প্রস্তাবিত
প্রকল্পটি চট্টগ্রাম বন্দরের সাথে নির্বিঘ্ন
রেল যোগাযোগ এবং পণ্য পরিবহন নিশ্চিত করতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
নতুন সেতুটি নির্মিত হলে, এই অঞ্চলের বিভিন্ন রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল ও বিশেষ অর্থনৈতিক
অঞ্চলে অবস্থিত কল-কারখানার পাশাপাশি শিল্প প্রতিষ্ঠান তাদের পণ্য পরিবহন করতে সক্ষম
হবে। মূল প্রকল্পের কার্যক্রমের মধ্যে রয়েছে ৭০০ মিটার রেল-কাম-রোড ব্রিজ নির্মাণ,
৬.২০ কিলোমিটার ভায়াডাক্ট নির্মাণ, ২.৪০ কিলোমিটার সড়ক ভায়াডাক্ট, ৪.৫৪ কিলোমিটার বাঁধ,
১১.৪৪ কিলোমিটার রেলপথ নির্মাণ এবং আনুষঙ্গিক কাজ।
অতিরিক্ত ৬,৫৭৩.৯৬
কোটি টাকা ব্যয়ে দ্বিতীয় সংশোধিত মাতারবাড়ী বন্দর উন্নয়নের অনুমোদন প্রসঙ্গে উপদেষ্টা
বলেন, এটি একটি বড় প্রকল্প। প্রকল্পটির ভূ-রাজনৈতিক দিকও রয়েছে। তিনি বলেন, এই বন্দরের
অর্থায়ন নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে চীন ও ভারতের মধ্যে বিরোধ রয়েছে। পরিকল্পনা উপদেষ্টা বলেন,
মাতারবাড়ী বন্দরে প্রয়োজনীয় কাজ এখনো শুরু হয়নি এবং বন্দরের উন্নয়নে রাস্তা নির্মাণ
করা হবে।
সভায় অনুমোদিত
অন্য দুটি প্রকল্প হল- সাজেক রোড কানেক্টিভিটি, প্রকল্প-২: এলেঙ্গা-হাটিকামরুল-রংপুর
মহাসড়ক চার লেনে উন্নীতকরণ, ৩৭৬.৯৯ কোটি টাকা অতিরিক্ত ব্যয়ে দ্বিতীয় সংশোধিত ও ৫,৯০১.২২২
টাকা দিয়ে রেসিলিয়েন্ট আরবান অ্যান্ড টেরিটোরিয়াল ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট (আরইইউটিডিপি)।
মন্তব্য করুন


নেকবর হোসেন, কুমিল্লা প্রতিনিধি :
অন্তর্বর্তী সরকারের খাদ্য উপদেষ্টা আলী ইমাম মজুমদার বলেছেন, দেশে বর্তমানে সাড়ে ১৪ লাখ টন চাল মজুত রয়েছে, যা গত বছরের একই সময়ের মজুতের চেয়ে ৩ লাখ টন বেশি।
আজ সোমবার কুমিল্লা সার্কিট হাউজ সম্মেলন কক্ষে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও খাদ্য অফিসারদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব এ তথ্য জানান।
তিনি জানায়, গত বছর এই সময় মজুতের পরিমাণ ছিল সাড়ে ১১ লাখ টন। সরকার ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি সময়ও যেন চাহিদার তুলনায় মজুত বেশি থাকে, তা নিশ্চিত করার জন্য কাজ করছে।
খাদ্যদ্রব্যের দাম প্রসঙ্গে উপদেষ্টা বলেন, চাল-গম, ভুট্টার দাম নিম্নমুখী আছে। তবে এ বিষয়ে অভিযোগ আছে, কৃষক লাভবান হচ্ছে না। এ তিনটি খাদ্যদ্রব্যের দাম বাড়েনি বরং কমেছে। যেন না কমে সে বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
এসময় কুমিল্লা জেলা প্রশাসক মু. রেজা হাসান, জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রণসহ সংশ্লিষ্ট দফতরের জেলা-উপজেলার কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন
মন্তব্য করুন


সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের নবনিযুক্ত চার বিচারপতি আজ শপথগ্রহণ করেছেন।
শপথগ্রহণ করা আপিল বিভাগের চার বিচারপতি হলেন, বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী, বিচারপতি সৈয়দ মোহাম্মদ জিয়াউল করিম, বিচারপতি মো. রেজাউল হক ও বিচারপতি এস এম এমদাদুল হক।
মঙ্গলবার (১৩ আগস্ট) সুপ্রিম কোর্টের জাজেজ লাউঞ্জে প্রধান বিচারপতি সৈয়দ ইশতিয়াক আহমেদ আপিল বিভাগের চার নবনিযুক্ত বিচারককে শপথবাক্য পাঠ করান।
এর আগে সকাল সাড়ে ১০টায় কোরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে শপথ অনুষ্ঠান শুরু হয়। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল আজিজ আহমদ ভূঞা।
শপথ অনুষ্ঠানে সুপ্রিম কোর্টের আপিল ও হাইকোর্ট উভয় বিভাগের বিচারপতিরা উপস্থিত ছিলেন। এ সময় সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি এবং অন্যান্যরাও উপস্থিত ছিলেন।
চার বিচারপতি নিয়োগ কার্যকরের মধ্য দিয়ে আপিল বিভাগে বিচারপতির সংখ্যা দাঁড়ালো ৬ জনে।
সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে কর্মরত চার বিচারপতিকে আপিল বিভাগের বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। সোমবার (১২ আগস্ট) রাতে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করে আইন মন্ত্রণালয়।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, রাষ্ট্রপতি সংবিধানের ৯৫ (১) অনুচ্ছেদের ক্ষমতাবলে সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে কর্মরত চারজন বিচারককে তাদের শপথগ্রহণের তারিখ থেকে আপিল বিভাগের বিচারক হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন। শপথগ্রহণের দিন থেকে এই নিয়োগ কার্যকর হবে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়।
শিক্ষার্থীদের দাবির মুখে গত শনিবার (১০আগস্ট) দেশের ২৪তম প্রধান বিচারপতি ওবায়দুল হাসান এবং আপিল বিভাগের পাঁচ বিচারপতি পদত্যাগ করেন। পদত্যাগের আগে আপিল বিভাগে বিচারপতির সংখ্যা ছিল ৭। শনিবার রাতে দেশের ২৫তম প্রধান বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ পান হাইকোর্ট বিভাগের জ্যেষ্ঠ বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদ। পরদিন রোববার (১২ আগস্ট) প্রধান বিচারপতি হিসেবে শপথ নেন তিনি।
বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী ২০০৩ সালের ২৭ আগস্ট হাইকোর্ট বিভাগের অতিরিক্ত বিচারক হিসেবে নিয়োগ পান। দুই বছর পর ২০০৫ সালের ২৭ আগস্ট হাইকোর্ট বিভাগের স্থায়ী বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ পান তিনি।
বিচারপতি সৈয়দ মোহাম্মদ জিয়াউল করিম, বিচারপতি মো. রেজাউল হক ও বিচারপতি এস এম এমদাদুল হক ২০০৪ সালের ২৩ আগস্ট হাইকোর্ট বিভাগের অতিরিক্ত বিচারক হিসেবে নিয়োগ পান। দুই বছর পর ২০০৬ সালের ২৩ আগস্ট এই তিন বিচারপতি হাইকোর্ট বিভাগের স্থায়ী বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ পান।
মন্তব্য করুন


আসন্ন
জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে কোনো ধরনের শঙ্কা নেই জানিয়ে নির্বাচন কমিশনার (ইসি) ব্রিগেডিয়ার
জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ বলেছেন, নির্বাচন কমিশন (ইসি) স্বচ্ছতা, নিরপেক্ষতা
ও দৃঢ়তার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করবে এবং মাঠপর্যায়ে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব
ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, মাঠপর্যায়ে এর বাস্তবায়ন দৃশ্যমান হবে। আচরণবিধি
প্রতিপালনে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীদের ক্ষেত্রে কমিশন কঠোর অবস্থানে থাকবে।
আজ
মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) দুপুরে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন
ও গণভোট উপলক্ষে ‘বৃহত্তর চট্টগ্রামের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সেল’-এর
সঙ্গে মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি। এরআগে ‘ভিজিলেন্স ও অবজারভেশন
টিম’ -এর সঙ্গেও মতবিনিময় সভা করেন নির্বাচন কমিশনার।
নির্বাচন
কমিশনার সানাউল্লাহ বলেন, বৃহত্তর চট্টগ্রামের নিরাপত্তা ব্যবস্থা পুনরায় পর্যালোচনা
করা হয়েছে। রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সীমান্তবর্তী এলাকা হওয়ায় যেসব নিরাপত্তা-সংবেদনশীল
বিষয় রয়েছে, সেগুলো চিহ্নিত করে সম্ভাব্য ঝুঁকি ও করণীয় নির্ধারণ করা হয়েছে। নির্বাচনকে
কেন্দ্র করে যাতে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি না হয়, সে লক্ষ্যে সমন্বিতভাবে কাজ করা
হচ্ছে।
রাজনৈতিক
দল ও প্রার্থীদের আচরণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রাথমিকভাবে আচরণবিধি প্রতিপালনে তাদের
মধ্যে সচেতনতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। আন্তঃদলীয় সংঘাতের মাত্রা তুলনামূলকভাবে কম, যা একটি
ইতিবাচক লক্ষণ। নির্বাচন যতই ঘনিয়ে আসুক, কোনো দল যেন সহিংসতায় জড়িয়ে না পড়ে- এভাবে
একটি উৎসবমুখর নির্বাচন আয়োজন করাই সবার প্রত্যাশা।
তিনি
বলেন, আজ আমরা যে সমন্বিত বাহিনীর প্রস্তুতি দেখেছি, তাতে আমরা অত্যন্ত আশাবাদী। বৃহত্তর
চট্টগ্রামে একটি সুষ্ঠু, সুন্দর ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলে আশা করছি।
গণমাধ্যমকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, সঠিক তথ্য সঠিক সময়ে তুলে ধরা গণমাধ্যমের বড় দায়িত্ব।
অপতথ্য ও গুজব রোধে সাংবাদিকরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন। অপতথ্য ছড়ানো যেমন
অপরাধ, তেমনি অপতথ্য শেয়ার করাও অপরাধ- এ বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।
নির্বাচন
নিয়ে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কারও যদি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকে,
তাহলে নির্বাচনী ইনকোয়ারি কমিটি ও নির্বাচন কমিশনের কমপ্লেইন ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম
রয়েছে। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অবৈধ
অস্ত্রধারীদের বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার বলেন, গত ১৩ ডিসেম্বর থেকে ‘অপারেশন ডেভিল হান্ট
ফেজ-২’ নামে অভিযান চলছে। এ অভিযানে এখন পর্যন্ত ২০০টিরও বেশি
অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। ভোটারদের কেন্দ্রমুখী হওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, ভোটাররা
ভোট দিতে ভোটকেন্দ্রের দিকে তাকিয়ে আছেন। অতীতে যে নেতিবাচক অভিজ্ঞতা ছিল, সামনে তার
পুনরাবৃত্তি হবে না- ইনশাআল্লাহ।
এরআগে
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মতবিনিময় সভায় ইসি আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ বলেন, আপনারা যে অপারেশনগুলো
করছেন, অপারেশনের পরে তা মিডিয়ায় দিয়ে দিবেন। কোনো গোষ্ঠী বা দল যদি অপকর্ম করে পার
পেয়ে যেতে চায় তাহলে তারা যেন উৎসাহিত বোধ না করে। কারণ তারা জানবে অপকর্ম করলে ধরা
পড়তে হবে এবং অপকর্ম লোকালি থাকবে না জাতীয় বিষয় হয়ে যাবে। লোকাল ক্ষতির পাশাপাশি জাতীয়
ক্ষতি হবে। আমরা চাই রাজনৈতিক দলগুলো আইন মেনে উৎসবমুখর পরিবেশে নির্বাচন করুক।
নির্বাচনকে
ঘিরে কোনো স্বার্থান্বেষী মহল যাতে সংখ্যালঘুদের ব্যবহার করতে না পারে, সেদিকে লক্ষ্য
রাখার পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, এ এলাকায় (চট্টগ্রাম) সংখ্যালঘুদের আবাস আছে। নির্বাচনকে
ঘিরে কোনো স্বার্থান্বেষী মহল সংখ্যালঘুদের মধ্যে বিভিন্ন ঘটনা ঘটানোর প্রয়াস চালাতে
পারে। অতীতেও এমন ঘটনা ঘটেছে। সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে।
মতবিনিয়ম
সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন, চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দীন, চট্টগ্রাম রেঞ্জের
ডিআইজি আহসান হাবিব পলাশ, জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম মিঞা, চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার
নাজির আহমদ খাঁন প্রমুখ।
মন্তব্য করুন


প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ
ইউনূস বলেছেন, বাংলাদেশ রাজনৈতিক ইতিহাসে এক নতুন পরিবর্তনের জন্য প্রস্তুত। সরকারের
প্রত্যক্ষ মদদে এক বছর আগে ঘটে যাওয়া হত্যাযজ্ঞ এবং ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর,
বর্তমানে দেশ যথেষ্ট স্থিতিশীল এবং নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত।
তিনি জানান, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির
প্রথমার্ধে নির্বাচন ঘোষণা করা হয়েছে এবং এই নির্বাচনের মাধ্যমে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার
একটি নির্বাচিত সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করবে।
প্রধান উপদেষ্টা আজ সোমবার (২৫ আগস্ট)
কক্সবাজারে রোহিঙ্গা অংশীজন সংলাপের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন। তিনি বলেন, আমরা
এখন আমাদের রাজনৈতিক ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে আছি। এক বছর আগে আমরা এক ভয়াবহ
হত্যাযজ্ঞের মধ্য দিয়ে গিয়েছিলাম। এরপর ছাত্র নেতৃত্বাধীন গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে ফ্যাসিবাদী
শাসন থেকে দেশকে মুক্ত করা সম্ভব হয়েছে।
রোহিঙ্গা সংকটকে বিশ্ব সম্প্রদায়ের
কাছে আরও জোরালোভাবে তুলে ধরতে, গতকাল থেকে কক্সবাজারে তিন দিনের আন্তর্জাতিক সংলাপ
“স্টেকহোল্ডার্স’ ডায়ালগ: টেকঅ্যাওয়ে টু দ্য হাই-লেভেল কনফারেন্স অন দ্য রোহিঙ্গা সিচুয়েশন”
শুরু হয়েছে। প্রধান উপদেষ্টা স্থানীয় হোটেল বে ওয়াচে আজ সংলাপের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন
করেন।
উদ্বোধনী বক্তব্যে অধ্যাপক ড. ইউনূস
রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধানের জন্য সাত দফা প্রস্তাব উপস্থাপন করেন এবং আন্তর্জাতিক
সম্প্রদায়কে কার্যকর ভূমিকা নেওয়ার আহ্বান জানান।
তিনি বলেন,রোহিঙ্গাদের ওপর চলমান নিপীড়ন
ও বাস্তুচ্যুতি থামাতে এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।
অধ্যাপক ড. ইউনূস উত্থাপিত সাত দফা
প্রস্তাবের মধ্যে রয়েছে- রোহিঙ্গাদের দ্রুত, নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবর্তনের
জন্য বাস্তবসম্মত রোডম্যাপ প্রণয়ন, দাতাদের অব্যাহত সমর্থন, মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ ও আরাকান
আর্মির কাছে রোহিঙ্গাদের নিরাপত্তা ও জীবিকা নিশ্চিত করার আহ্বান, রোহিঙ্গাদের সঙ্গে
গঠনমূলক সংলাপ ও অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠা, আসিয়ানসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সক্রিয় ভূমিকা,
গণহত্যার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান এবং আন্তর্জাতিক আদালতে জবাবদিহিতা ত্বরান্বিত করা।
মন্তব্য করুন


আগামী সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে সব ধরনের সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জাতীয়সাইবার সুরক্ষা এজেন্সিকে নির্দেশ দিয়েছেন জাতীয় সাইবার সুরক্ষা কাউন্সিলের চেয়ারম্যান মাননীয় প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস।
আজ রোববার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জাতীয় সাইবার সুরক্ষা কাউন্সিলের সভায় তিনি এ নির্দেশনা দেন।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “আগামী নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আমাদের তথ্য প্রযুক্তগত সক্ষমতা বাড়াতে হবে এবং সব ধরনের সাইবার অপরাধকে কঠোরভাবে মোকাবিলা করতে হবে।”
তিনি বলেন, সরকার সব ধরনের নাগরিক সেবাকে অনলাইন প্ল্যাটফর্মে নিয়ে আসার চেষ্টা করছে। ইতোমধ্যে অনেক সেবা দেশে ও বিদেশে অনলাইনে দেওয়া হচ্ছে। এসব সেবাকে সুরক্ষিত ও নির্বিঘ্ন রাখতে হলে সাইবার নিরাপত্তা জোরদার করা জরুরি।
নাগরিক সেবার খাতগুলোকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করার জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেন প্রধানউপদেষ্টা।
তিনি বলেন, “সাইবার সুরক্ষা এজেন্সিসহ যেসব প্রতিষ্ঠান সাইবার নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করবে, তাদের নিয়মিত সফটওয়্যার ও হার্ডওয়্যার হালনাগাদ করতে হবে। পাশাপাশি এসব ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত জনবলকেও আরও দক্ষ করে তুলতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, প্রতিষ্ঠান এবং সংশ্লিষ্ট জনবলকে একটি রেটিং পদ্ধতির আওতায় আনতে হবে, যাতে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সাইবার সুরক্ষাসহ প্রকৃত মূল্যায়ন সহজ হয়।
ফিনান্সিয়াল সেক্টরে কোনো অপরাধ করে যেন কেউপার পেয়ে না যায়—সে বিষয়েও জাতীয় সাইবার সুরক্ষা এজেন্সিকে বিচার বিভাগের পাশাপাশি কার্যকর ভূমিকা রাখার নির্দেশ দেন প্রধান উপদেষ্টা।
বৈঠকে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব বলেন, ইতোমধ্যে ৩৫টি প্রতিষ্ঠানকে ক্রিটিক্যাল ইনফরমেশন ইনফ্রাস্ট্রাকচার হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। আরও কিছু প্রতিষ্ঠান এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার পরামর্শ দেন তিনি।
এছাড়া আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে গুজব, মিসইনফরমেশন, ডিসইনফরমেশনসহ অন্যান্য সাইবার অপরাধ প্রতিরোধে জাতীয় সাইবার সুরক্ষা এজেন্সি এবং বিটিআরসি’র মধ্যকার সমন্বয় সাধনের বিষয়ে জোর গুরুত্ব আরোপ করেন।
সভায় বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ. মনসুর বলেন, ব্যাংকিং সেক্টরের সাইবার নিরাপত্তা আরও দৃঢ় করতে ইতোমধ্যে নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে এবং আরও কিছু কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
এছাড়া তিনি সেক্টরাল সার্ট (CERT) গঠনের উদ্দোগের প্রশংসা করেন।
জাতীয় সাইবার সুরক্ষা কাউন্সিলের সদস্য সচিব ও জাতীয় সাইবার সুরক্ষা এজেন্সির মহাপরিচালক ড. মো. তৈয়বুর রহমান পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে এজেন্সির কার্যক্রম ও ভবিষ্যত কর্মপরিকল্পনাসহ সাইবার পরিমন্ডলে সংঘটিত অপরাধের অভিযোগ গ্রহন ও পরবর্তী প্রক্রিয়াকরণের জন্য প্রণীত “Cyber Incident Reporting and Response System” এর বিস্তারিত উপস্থাপনা করেন।
সভায় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন আইনউপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি সচিব শীষ হায়দার চৌধুরী, পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বাহারুল আলম এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান।
২১ মে সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ ২০২৫ প্রনয়নের পর এই সংশোধিত অধ্যাদেশের অধীনে বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ও নাগরিকদের সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গত ২৬ আগস্ট জাতীয় সাইবার সুরক্ষা কাউন্সিল গঠিত হয়।
২৫ সদস্যের এই কাউন্সিলের নেতৃত্বে রয়েছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা।
মন্তব্য করুন