

প্রাথমিক শিক্ষকদের মৌলিক প্রশিক্ষণ বা পরিমার্জিত ডিপিএড কোর্সের রেজিস্ট্রেশন বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমি (নেপ)। উক্ত বিজ্ঞপ্তিতে কোর্সে অংশ নিতে আগামী ৯ জানুয়ারি থেকে রেজিস্ট্রেশন করতে বলা হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তির তথ্য অনুসারে, প্রশিক্ষণ না নেওয়া শিক্ষকদের এ কোর্স করতে রেজিস্ট্রেশন শুরুর আগে ডেপুটেশন দেবেন স্ব স্ব উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তারা। ডেপুটেশন পাওয়া শিক্ষকরা অনলাইনে ৯-১৩ জানুয়ারি পর্যন্ত রেজিস্ট্রেশন করতে পারবেন।
মন্তব্য করুন


ফ্যাসিস্টরা
দেশ ছেড়ে পালালেও ফ্যাসিজমের কালো ছায়া এখনো কাটেনি বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে
ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, একদল অপকর্ম করে পালিয়েছে, আরেকদল সেই অপকর্মের
দায় কাঁধে তুলে নিয়েছে। কেউ চাঁদাবাজি করে জনগণের ক্ষোভের কারণ হয়েছে, আবার কেউ আরও
বেশি শক্তি নিয়ে একই কাজ করছে।
আজ শনিবার (৬ ডিসেম্বর) বিকেলে সিলেটের আলিয়া মাদরাসা মাঠে ইসলামী ও সমমনা আট দলের বিভাগীয় সর্বশেষ সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ডা.
শফিকুর রহমান বলেন, বাংলাদেশ ছোট্ট একটি দেশ। বিপুল সম্পদে পরিপূর্ণ ছিল। আফসোস, স্বাধীনতার
৫৪ বছরেও এ দেশের মানুষ সম্মানের সঙ্গে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারেনি, কারণ বর্গীরা
চলে যাওয়ার সময় দেশের ভেতরে চিলগুলো ছুঁ মেরে জনগণের সম্পদ নিয়ে চলে গেছে। দেশের সম্পদ
লুণ্ঠন করে বাইরে পাচার করেছে। দেশে–বিদেশে ‘বেগম পাড়া’
গড়ে তুলেছে। তিনি বলেন, কেউ কেউ পালাতে গিয়ে খালে–বিলে আশ্রয় নিয়েছে। আবার রসিক সিলেটবাসীর
কাছে কেউ কেউ কলাপাতায় ধরা পড়েছে। এভাবেই অপকর্মের দায় নিয়ে ফ্যাসিস্টরা বাংলাদেশ থেকে
পালিয়েছে। কিন্তু ফ্যাসিজমের কালো ছায়া বাংলাদেশ থেকে যায়নি। একদল দখলদার হয়ে জনগণের
ঘৃণা কুড়িয়েছে, আরেকদল বেপরোয়া দখলদার হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। একসময় বিরোধী রাজনৈতিক
নেতাদের, আলেম–ওলামাকে জেল, নির্যাতন, ফাঁসি ও দেশছাড়া করার যে প্রবণতা
ছিল, সেটি এখনো থামেনি।
জামায়াতের আমির সতর্ক করে বলেন, বাঁকা পথে প্রশাসনিক ক্যুর মাধ্যমে নির্বাচন ক্রেডিট হাইজ্যাক করার কালো সূর্য ডুবে গেছে। এই সূর্য আর বাংলাদেশে উঠবে না। এই কালো সূর্যের মুখ বাংলাদেশ আর দেখবে না। এখন নতুন সূর্যের উদয় হবে।
তিনি
বিএনপিকে ইঙ্গিত করে বলেন, জনগণ তাদেরকে আগামী নির্বাচনে লাল কার্ড দেখানোর জন্য প্রস্তুত
হয়ে গেছে। এই লাল কার্ড দেখা থেকে বাঁচতে গিয়ে যদি কেউ আগামী নির্বাচনকে ভণ্ডুল করার
চেষ্টা করে, আমরা মহান আল্লাহর উপর ভরসা করে বলছি, তাদের সকল ষড়যন্ত্র এ দেশের সংগ্রামী
জনগণ ভণ্ডুল করে দেবে। তিনি বলেন, তারা কোনো সংস্কারে রাজি না। তারা সনদ বাস্তবায়নে
রাজি না। তারা গণভোটেও প্রথমে রাজি ছিল না। তারপরও গণভোট একদিনেই হতে হবে, তা তারা
বাধ্য করেছে সরকারকে। এখন আবার কোথাও কোথাও আমরা ক্ষীণ সুর শুনতে পাচ্ছি। যারা এতদিন
নির্বাচনের জন্য নির্বাচন–নির্বাচন করে জনগণকে বেহুশ করে তুলেছিল,
এখন তারা ভিন্ন সুরে কেউ কেউ কথা বলতে শুরু করেছে। এ লক্ষণ ভালো নয়। তারা বুঝতে পেরেছেন।
জোটের
বাইরে থাকা ইসলামি দলকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, আমি বন্ধুদের অনুরোধ করব সকল জাল ছিন্ন
করে আপনারা আপনাদের আঙিনায় চলে আসুন। এই আঙিনা আপনাদের আঙিনা। এখন যেখানে ঘোরাফেরা
করছেন এটা আপনাদের আঙিনা না। তাদের সঙ্গে আপনাদের মানায় না। আপনারা বড় বেমানান হয়ে
গেছেন। আপনারা ঘরের ছেলে ঘরে ফিরে আসুন। আমরা আপনাদের বুকে জড়িয়ে কবুল করব, অভিনন্দন
জানাবো। খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা আব্দুল বাছিত আজাদ সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন ইসলামী
আন্দোলন বাংলাদেশের আমির মুফতি সৈয়দ ফয়জুল করিম পীর সাহেব চরমোনাই, বাংলাদেশ খেলাফত
মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক, খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা আব্দুল বাছিত আজাদ,
বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির আমির মাওলানা সারওয়ার কামাল আজিজী, বাংলাদেশ খেলাফত
আন্দোলনের আমির মাওলানা হাবীবুল্লাহ মিয়াজী, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি–জাগপার
কেন্দ্রীয় সহসভাপতি রাশেদ প্রধান ও বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির (বিডিপি) সভাপতি অ্যাডভোকেট
আনোয়ারুল হক চাঁন।
মন্তব্য করুন


তথ্য ও সম্প্রচার; ডাক ও টেলিযোগাযোগ এবং তথ্য প্রযুক্তি উপদেষ্টা মো. নাহিদ ইসলাম বলেছেন, সব পক্ষের সঙ্গে বসে পরামর্শ নিয়ে গণমাধ্যম সংস্কার কমিশন করতে চাই।
সোমবার (৭ অক্টোবর) জাতীয় প্রেসক্লাবে ‘সংবাদ মাধ্যমের সংস্কার: কেন? কীভাবে?’ শীর্ষক মুক্ত আলোচনায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তথ্য প্রযুক্তি উপদেষ্টা মো. নাহিদ ইসলাম এ কথা বলেন।
আলোচনায় তথ্য প্রযুক্তি উপদেষ্টা মো. নাহিদ ইসলামকে সংস্কার সংশ্লিষ্ট প্রশ্নে করে সাংবাদিকরা। তথ্য প্রযুক্তি উপদেষ্টা মো. নাহিদ ইসলাম বলেন, আমরা বিভিন্ন স্টেক হোল্ডারদের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক ও অনানুষ্ঠানিকভাবে বসছি। সম্পাদকদের সঙ্গেও বসা হয়েছে। আজকের আলোচনাও সেটার একটা অংশ। বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে বসা এখনও শেষ হয়নি। সব পক্ষের সঙ্গে বসে পরামর্শ নিয়ে আমরা সংস্কার কমিশন করতে চাই।
মুক্ত আলোচনায় তথ্য প্রযুক্তি উপদেষ্টা মো. নাহিদ ইসলাম বলেন, এটা খুবই যুক্তিযুক্ত যে সাংবাদিকতা যদি পেশা হয় তাহলে আসলে কতটুকু পেশাদারিত্বের সঙ্গে আমাদের দেশের সাংবাদিকরা কাজ করতে পারছে। সেই কাজ করতে যদি না পারে তাহলে তার পেছনে কারণগুলো কী এবং তার সমাধানগুলো কী। এখানে সেই কারণগুলো চিহ্নিত করার চেষ্টা করা হয়েছে।
তথ্য প্রযুক্তি উপদেষ্টা মো. নাহিদ ইসলাম বলেন, আমরা জানি, রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে অনেক আইন-কানুন, বাধা-নিষেধ থাকে। সাংবাদিকতাকে এক ধরণের বেড়াজালে আবদ্ধ করে রাখার চেষ্টা থাকে। দ্বিতীয়ত সাংবাদিকদের অর্থনৈতিক জায়গাটা তুলে ধরা হয়েছে। অর্থনৈতিকভাবে সাংবাদিকতা বা গণমাধ্যমে নানাভাবে বাধা দেওয়া হয়। সাংবাদিকতাকে যদি পেশাদারিত্বের কথা বলি সেই ধরণের পেশাদারিত্ব কালচার আমাদের দেশে অনুপস্থিত এবং মিডিয়া লিটারেসি আমাদের মধ্যে গড়ে উঠেনি।
তথ্য প্রযুক্তি উপদেষ্টা মো. নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, আমার অল্প সময়ের অভিজ্ঞতায় যেটুকু বুঝি, খুব জটিল একটি বিষয় গণমাধ্যমকে নিয়ে কাজ করাটা। এখানে নানামুখী স্টেক হোল্ডার ও পরস্পর বিরোধী পক্ষ রয়েছে। যাদের নিয়ে একইসঙ্গে মিলে আমরা যদি কাজ করতে চাই তাহলে কাজ করতে হবে এবং ঐক্যমত্যে আসতে হবে।
তথ্য প্রযুক্তি উপদেষ্টা মো. নাহিদ ইসলাম বলেন, যখন ওয়েজ বোর্ডের কথা আসে তখন সম্পাদক-মালিকরা কিন্তু এটি নিয়ে এক ধরনের বিরোধিতা করে। বিভিন্ন সময়ে শোনা যায় যে হাউজগুলোয় ঠিক মতো বেতন পরিশোধ করা হচ্ছে না। সে জায়গা থেকে যারা মাঠ পর্যায়ের সাংবাদিক আছে এই ধরনের ঘটনা আসলে খুবই কমন। সেক্ষেত্রে বেতনের বিষয়টা আসলে সুরাহা হওয়া উচিত। সাংবাদিকতা যদি পেশা হয় তাহলে পেশাদারিত্ব রক্ষা করতে হলে সেই মর্যাদাটা দিতে হবে। এখানে দাসসুলভ আচরণ করার কোনো সুযোগ নেই।
মন্তব্য করুন


ইনকিলাব
মঞ্চের মুখপাত্র ও ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী শরিফ ওসমান হাদির ওপর
হামলাকে জুলাই অভ্যুত্থান নস্যাৎ করার ষড়যন্ত্রের অংশ উল্লেখ করে রাজনৈতিক দলের নেতারা
বলেছেন, এই অভ্যুত্থানকে নস্যাৎ করার সকল প্রচেষ্টা রুখে দিতে রাজনৈতিক দলগুলো ঐক্যবদ্ধ
অবস্থানে রয়েছে।
আজ
শনিবার ( ১৩ ডিসেম্বর )রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ
ইউনূসের নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে এই প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী
দল বিএনপি, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)’র নেতৃবৃন্দ।
বৈঠকে
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ ও মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীর
বিক্রম, জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার ও সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল
অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম ও দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য
সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ, ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আবদুল্লাহ আল জাবের এবং আইন উপদেষ্টা
আসিফ নজরুল অংশগ্রহণ করেন। বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ওসমান হাদির ওপর হামলা পূর্ব-পরিকল্পিত
ও গভীর ষড়যন্ত্রের অংশ। এর পেছনে বিরাট শক্তি কাজ করছে।
তিনি
বলেন, ষড়যন্ত্রকারীদের উদ্দেশ্য হচ্ছে নির্বাচনটি না হতে দেওয়া। এই আক্রমণটি খুবই সিম্বলিক।
তারা তাদের শক্তি প্রদর্শন করতে চায়, নির্বাচনের সব আয়োজন ভেস্তে দিতে চায়। এগুলোকে
ঐক্যবদ্ধভাবে মোকাবিলা করতে হবে। তিনি বলেন, ‘এখন পর্যন্ত যে তথ্য পাওয়া গেছে, তাতে
মনে হচ্ছে ষড়যন্ত্রকারীরা তাদের নেটওয়ার্ক বিস্তৃত করেছে। তারা প্রশিক্ষিত শুটার নিয়ে
মাঠে নেমেছে।’
বিএনপি
নেতা সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, এই পরিস্থিতিতে আমাদের অবশ্যই ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। পরস্পরের
দোষারোপ থেকে বিরত থাকতে হবে। তিনি বলেন, ‘ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে আমাদের ঐক্যবদ্ধভাবে
আওয়াজ তুলতে হবে। কোনো ধরনের অপশক্তিকে আমরা বরদাস্ত করব না।’তিনি
আরও বলেন, আমাদের মধ্যে যতই রাজনৈতিক বক্তব্যের বিরোধিতা থাকুক না কেন, জাতির স্বার্থে
এবং জুলাইয়ের স্বার্থে আমাদের ঐক্যবদ্ধ থাকতেই হবে। এ সময়ে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার এবং
ষড়যন্ত্রকারীদের বিরুদ্ধে অভিযান জোরদার করার পরামর্শ দেন তিনি।
জামায়াত
নেতা গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘সাম্প্রতিক সময়ে আমাদের নানা বক্তব্য একে অন্যকে দোষারোপ
করার প্রবণতা বাড়িয়েছে, যার ফলে আমাদের বিরোধীরা সুযোগ পেয়েছে। আমাদের পূর্বের ন্যায়
ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।’তিনি বলেন, ‘ক্ষুদ্র দলীয় স্বার্থে
আমরা একে অন্যকে প্রতিপক্ষ বানিয়ে ফেলেছি। জাতিকে বিভক্ত করে এমন কথা আমরা কেন বলব?
সব দলকে তাদের কমিটমেন্ট ঠিক করতে হবে।’
এনসিপি
প্রধান নাহিদ ইসলাম বলেন, জুলাই অভ্যুত্থানের পর থেকেই কিছু লোক এই অভ্যুত্থানকে খাটো
করার জন্য নানা অপতৎপরতা চালিয়ে আসছে। তিনি বলেন, ‘সুসংগঠিতভাবে জুলাইয়ের বিরুদ্ধে
ক্যাম্পেইন চলছে। মিডিয়া ও প্রশাসনের নানা স্তরে এই কাজ হচ্ছে। নির্বাচনের পর যারা
ক্ষমতায় আসবে, তারাও এর ভুক্তভোগী হবে। কেউই একা সরকার চালাতে পারবে না। তিনি বলেন, ‘জুলাই অভ্যুত্থান নিয়ে মিডিয়া ও সামাজিক
যোগাযোগ মাধ্যমে এমন ন্যারেটিভ তৈরি করা হচ্ছে যাতে মনে হয় যারা অভ্যুত্থান করেছে তারা
অপরাধ করেছে। আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টিকে নরমালাইজ করতে নানা চেষ্টা চলছে। টিভি টকশোতে
তারা নিয়মিত অংশ নিচ্ছে। প্রশাসনের বিভিন্ন জায়গায় বৈঠক করছে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে
মিলিত হচ্ছে এবং আদালত প্রাঙ্গণে স্লোগান দিচ্ছে। আমাদের বিশেষ কোনো নিরাপত্তার প্রয়োজন
নেই। আমরা এটা নেব না। জুলাইকে সবাই মিলে ওউন করতে হবে। জুলাইকে কে কী বলবে—এই
টানাপোড়েনে আমরা জুলাইকে শেষ করে দিচ্ছি। ষড়যন্ত্রকারীরা আমাদের অনৈক্যকে আমাদের পরাজয়
হিসেবে দেখছে। তারা ভারতে বসে যা ইচ্ছা তা-ই করছে, আর আমরা কিছুই করতে পারছি না,’ বলেন
তিনি। নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, ‘বুদ্ধিজীবী বেশে, সাংস্কৃতিক কর্মী বেশে আওয়ামী লীগের
উদ্দেশ্য বাস্তবায়নকারীদের থামাতে হবে। এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে হবে।’
হাসনাত
আবদুল্লাহ বলেন, ‘আমরা নিজেরা ঐক্যবদ্ধ থাকতে না পারলে কোনো নিরাপত্তাই আমাদের কাজে
আসবে না। রাজনৈতিক স্বার্থে দলগুলো আওয়ামী লীগকে নানা রকম সুযোগ তৈরি করে দিচ্ছে।’
প্রধান
উপদেষ্টা বলেন, আমাদের চিন্তা করতে হবে—ভবিষ্যতের জন্য আমরা কী করতে পারি।
তিনি
বলেন, শুধু সরকার নয়, সবাইকে শক্ত থাকতে হবে। নিজেদের মধ্যে যেন দ্বন্দ্ব ছড়িয়ে না
পড়ে, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। রাজনৈতিক বক্তব্য থাকবে, কিন্তু কাউকে শত্রু ভাবা বা
আক্রমণ করার সংস্কৃতি থেকে সরে আসতে হবে। নির্বাচনের সময় উত্তেজনা সৃষ্টি হয়, তবে মাথায়
রাখতে হবে—এটি যেন একটি নির্দিষ্ট মাত্রার মধ্যে নিয়ন্ত্রণে থাকে,’
বলেন তিনি।
আসিফ
নজরুল বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে হানাহানি শুরু হওয়ার পর থেকেই আওয়ামী লীগ শক্তিশালী
হয়েছে। রাজনৈতিক দলগুলোকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আপনাদের শুধু দলীয়
স্বার্থ নয়, জাতীয় স্বার্থের বিষয়েও সজাগ থাকতে হবে।’
মন্তব্য করুন


প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস মৎস্যসম্পদ সুরক্ষায় দেশবাসীকে
পরিবেশের প্রতি সদয় হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, পরিবেশের প্রতি সদয় না হলে বাংলাদেশের
সমৃদ্ধ মৎস্য সম্পদ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হবে না। প্রকৃতির প্রতি নির্দয় আচরণ অব্যাহত
থাকলে একদিন মাছও আমাদের কপাল থেকে হারিয়ে যেতে পারে।
আজ সোমবার (১৮ আগস্ট) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে
চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ ২০২৫-এর উদ্বোধন উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে
একথা বলেন প্রধান উপদেষ্টা।
এবারের মৎস্য সপ্তাহের মূল প্রতিপাদ্য হচ্ছে - " অভয়াশ্রম গড়ে তুলি, দেশি মাছে দেশ ভরি"। মৎস্য সপ্তাহ চলবে এক সপ্তাহব্যাপী। প্রদর্শনী, কর্মশালা ও আলোচনা সভার মাধ্যমে চাষাবাদে আধুনিক প্রযুক্তি, মাছের রক্ষণাবেক্ষণ এবং বাজারজাতকরণ সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করা হবে।
অনুষ্ঠানে উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যবর্গ,
সরকারের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাগণ, মৎস্যচাষী, উদ্যোক্তা ও গবেষকগণ উপস্থিত ছিলেন।
উদ্বোধনী ভাষণে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. ইউনূস বলেন, “মাছ আমাদের জন্য প্রকৃতির
উপহার। এটি কোনো কারখানায় উৎপাদিত নয়, বরং আল্লাহর দান। অথচ আমরা এত নির্দয় হয়ে পড়েছি
যে, একদিন মাছও হয়তো আমাদের কপাল থেকে হারিয়ে যাবে। প্রকৃতিকে আঘাত করলে আগামী প্রজন্মও
খাদ্য নিরাপত্তা ও জীবিকার দিক থেকে বঞ্চিত হবে। আমরা নদী শাসনের কথা বলি, কিন্তু নদী
পালনের কথা বলি না। আমরা তাকে শাসন করতে চাই এবং শাসনের নামে তার প্রতি যত নির্দয় হওয়া
যায়, তা করছি। বর্জ্য তো নদীতে দিচ্ছি। নদী-নালা ও জলাশয়ে বর্জ্য ফেলছি, বিষাক্ত রাসায়নিক
ঢুকিয়ে দিচ্ছি। পানিই যদি না থাকে, মাছ কোথা থেকে আসবে?
বাংলাদেশের ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্য ও জলসম্পদ
মৎস্য উৎপাদনের বিপুল সুযোগ তৈরি করেছে উল্লেখ করে অধ্যাপক ড. ইউনূস বলেন, বর্তমানে
দেশে প্রায় ১২ লাখ নারীসহ লাখ লাখ মানুষ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে এ খাতের সঙ্গে যুক্ত।
কিন্তু প্রকৃত মৎস্যজীবীরা অনেক সময় প্রতিকূলতার মুখোমুখি হন। তিনি বলেন, “আমরা শুধু
মাছের দাম বা মাছটা টাটকা কি-না সেটা দেখি, কিন্তু যারা প্রতিদিন শ্রম দিয়ে মাছ আমাদের
কাছে পৌঁছে দেন, তাদের কথা ভুলে যাই। আজকের দিনটা অন্তত তাদের কথা মনে করার দিন। বঙ্গোপসাগর
আমাদের জন্য অপেক্ষা করছে তার উপহার নিয়ে। এটি শুধু বেশি মাছ ধরার বিষয় নয়, বরং একটি
নতুন শিল্প গড়ে তোলার সুযোগ। এজন্য আমাদের গবেষণা, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও বিশ্ববিদ্যালয়
পর্যায়ে পাঠ্যক্রমে বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।
অবৈধ জাল ব্যবহার ও নির্বিচার মৎস্য
আহরণকে তিনি “প্রকৃতির প্রতি নির্মমতা”
আখ্যা দেন। অধ্যাপক ড. ইউনূস এর বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন,
এটি ঠেকানো শুধু সরকারের কাজ নয়, বরং নাগরিক দায়িত্বও বটে। আগামী প্রজন্ম যেন এই সম্পদ
থেকে বঞ্চিত না হয়, সেজন্য আমাদের সবাইকে দায়িত্ব নিতে হবে, তিনি যোগ করেন।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, আমাদের প্রতিদিন
সকালে প্রতিজ্ঞা করতে হবে—আমি
আজ প্রকৃতির প্রতি সদয় হব। প্রকৃতির প্রতি সদয় না হলে আমাদের ভবিষ্যৎ টেকসই হবে না।
অনুষ্ঠানে মৎস্য খাতে বিশেষ অবদানের
জন্য নয়টি ক্ষেত্রে ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে জাতীয় মৎস্য পদক ২০২৫ প্রদান করা হয়।
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা
আখতার এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ে রুটিন দায়িত্বে নিয়োজিত সচিব মো. তোফাজ্জেল
হোসেন অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন।
মন্তব্য করুন


আসন্ন
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে ভোট দিতে বিশ্বের ১০৪টি দেশে ৭ লাখ ২৮ হাজার
২৩ জন প্রবাসী ভোটারের কাছে পোস্টাল ব্যালট পাঠানো হয়েছে।
প্রবাসী
ভোটার নিবন্ধন বিষয়ক ‘আউট অব কান্ট্রি ভোটিং সিস্টেম অ্যান্ড ইমপ্লিমেন্টেশন’
(ওসিভি-এসডিআই) প্রকল্পের টিম লিডার সালীম আহমাদ খান বাসসকে এ তথ্য জানান।
তিনি
বলেন, নিবন্ধিত বাকি প্রবাসীদের কাছেও দ্রুততম সময়ে পোস্টাল ব্যালট পৌঁছে দেওয়া হবে।
তবে ব্যালটের গোপনীয়তা রক্ষা করা সংশ্লিষ্ট ভোটারের দায়িত্ব। কেউ যদি গোপনীয়তা ভঙ্গ
করেন, তবে তার জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) ব্লক করা হতে পারে।
ইসি
কর্মকর্তারা জানান, সর্বোচ্চ ব্যালট পাঠানো হয়েছে সৌদি আরবে ২ লাখ ২৩ হাজার ৯৪৩ জন
প্রবাসীর কাছে। এ ছাড়া মালয়েশিয়ায় ৮৩ হাজার ৮২৭ জন এবং কাতারে ৭৪ হাজার প্রবাসীর কাছে
ব্যালট পৌঁছেছে।
নির্বাচন
কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, এবার পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোট দিতে ‘পোস্টাল ভোট বিডি’
অ্যাপে মোট ১৫ লাখ ৩৩ হাজার ৬৮৩ জন ভোটার নিবন্ধন করেছেন। এর মধ্যে দেশের ভেতরে (ইন-কান্ট্রি)
৭ লাখ ৬১ হাজার ১৪১ জন এবং প্রবাস থেকে ৭ লাখ ৭২ হাজার ৫৪২ জন নিবন্ধন করেছেন ।
ইসি
সূত্রে আরও জানা যায়, গতকাল বুধবার সন্ধ্যায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ৫০ হাজার ৭৯০ জন
প্রবাসীর কাছে ব্যালট পাঠানো হয়। এর মধ্যে সৌদি আরবে ১৭ হাজার, মালয়েশিয়ায় ১১ হাজার
৭৫০, ওমানে ১০ হাজার ২০০ জন প্রবাসী ব্যালট পেয়েছেন।
মন্তব্য করুন


নোবেলজয়ী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে প্রধান উপদেষ্টা করে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠনের রূপরেখা দিয়েছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়করা।
মঙ্গলবার (৬ আগস্ট) ভোররাতে সমন্বয়ক নাহিদ ইসলাম ফেসবুকে দেওয়া ভিডিওবার্তায় সরকার গঠনের রূপরেখার দেন।
সমন্বয়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, প্রিয় মুক্তিকামী ছাত্রজনতা, আমরা দেখতে পাচ্ছি, আমাদের এ অভ্যুত্থান ও বিপ্লবের পরই অরাজকতা, নাশকতা করছে ফ্যাসিস্ট এবং তাদের দোসররা। আমরা দেখতে পাচ্ছি বিভিন্ন জায়গায় গোলাগুলি চলছে, মন্দিরে হামলা হচ্ছে এবং নাশকতা ও লুটপাট চলছে।
সমন্বয়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, আমরা মনে করি, আমাদের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানকে নস্যাৎ করার জন্যই এ ধরনের ঘটনা ঘটানো হচ্ছে। আমরা মুক্তিকামী ছাত্র-জনতাকে সজাগ থাকার আহ্বান জানাচ্ছি।
সমন্বয়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, আমরা যে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের রূপরেখা দিতে ২৪ ঘণ্টা সময় নিয়েছিলাম, জরুরি পরিস্থিতি মোতাবেক তার একটি রূপরেখা এখনই ঘোষণা করছি।
সমন্বয়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, সর্বজন গ্রহণযোগ্য, আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন নোবেলজয়ী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে প্রধান উপদেষ্টা করে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন করা হবে।
ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে কথা হয়েছে জানিয়ে সমন্বয়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, তিনি ছাত্র-জনতার আহ্বানে বাংলাদেশকে রক্ষা করতে এ গুরু দায়িত্ব নিতে সম্মত হয়েছেন। আমরা সকালের মধ্যেই সরকার গঠনের প্রক্রিয়া দেখতে চাই।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, রাষ্ট্রপতির কাছে আহ্বান, দ্রুত সময়ের মধ্যে ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে প্রধান উপদেষ্টা করে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন করা হোক। এ অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অন্যদের নামও আমরা সকালের মধ্যে ঘোষণা করব।
আন্দোলনকারী ছাত্র-জনতার উদ্দেশে সমন্বয়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, রাষ্ট্রপতির কাছে আহ্বান, দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি (স্বাভাবিক অবস্থায়) ফিরিয়ে আনার জন্য দ্রুত সময়ের মধ্যে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সহায়তা করার জন্য মুক্তিকামী ছাত্র-জনতাও রাজপথে থাকবে বলে জানান তিনি। এ সমন্বয়ক বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন না হওয়া পর্যন্ত মুক্তিকামী ছাত্র-জনতাকে রাজপথে থেকে অভ্যুত্থানকে রক্ষা করতে হবে।
নাহিদ বলেন, ছাত্র-জনতার প্রস্তাব ছাড়া কোনো ধরনের সরকার মেনে নেওয়া হবে না। আমরা আগেও বলেছি, সেনা শাসিত সরকার অথবা সেনা সমর্থিত সরকার অথবা ফ্যাসিস্টদের দোসরদের কোনো বি-টিম সরকার, কোনো গণবিরোধী সরকার মেনে নেওয়া হবে না।
তিনি বলেন, সবাইকে সকাল থেকে রাজপথে থাকার আহ্বান জানাচ্ছি। সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় সম্পদ রক্ষা করতে হবে।
মন্তব্য করুন


শাহানাজ পারভিন চৌধুরী
পরিচালক, ডাউন সিনড্রোম সোসাইটি অব বাংলাদেশ
আজ ২১ মার্চ। বিশ্ব ডাউন সিনড্রোম দিবস।পৃথিবীর সবচেয়ে শ্রেষ্ঠ ও ভালোবাসার একটি শব্দ হচ্ছে মা। মায়ের কাছে একটি সন্তান যেমন তার জগৎ তেমনি সন্তানের কাছে তার মা-ই সব। আর এজন্য মা এবং সন্তানের মধ্যকার সম্পর্কটি সবচেয়ে মধুর ও মমতাময়। একটি সন্তান যখন ঠিক মতো খেতে পারে না কথা বলতে পারে না এমন কি নিজের কাজ নিজেও করতে পারে না তখন তাকে আগলে রাখেন মা। তার পরম মমতার চাদরের উষ্ণতায় তাকে বড় করে তোলে। সন্তানের সব আবদার মা হাসি মুখে মেনে নেয়। সেই ভালোবাসা মাখা মা ডাক মায়ের কাছে যেন মধুর থেকেও মধুর হয়ে যায়। এই ভাবেই মায়ের সাথে সন্তানের সম্পর্ক সুন্দর আর ভালোবাসা পূর্ণ হয়ে ওঠে। ডাউন সিনড্রোম শিশুরা সময়ের সাথে সাথে বয়সে বড় হলেও তাদের হৃদয় থাকে শিশুদের মতো কোমল। ডাউন সিনড্রোম বৈশিষ্ট্য সম্পন্ন শিশু ও ব্যক্তিরা মা-বাবা,আত্মীয়-স্বজন,প্রতিবেশী সকলের কাছ থেকে সব সময় শুধু একটা জিনিস ই চায় আর তা হলো - ভালোবাসা ।
প্রতি বছরের মতো ডাউন সিনড্রোম সোসাইটি অব বাংলাদেশ- দেশব্যাপী ডাউন সিনড্রোম কমিউনিটিকে সঙ্গে নিয়ে যথাযথ মর্যাদায় এ বিশেষ দিবসটি উদযাপন করছে। এ বছর জাতীয়ভাবে ১১তম ও আন্তর্জাতিকভাবে ১৯তম বারের মতো বিশ্ব ডাউন সিনড্রোম দিবসটি পালিত হচ্ছে। ২০১২ সাল থেকে জাতিসংঘ সারাবিশ্বে বিশ্ব ডাউন সিনড্রোম দিবসটি উদযাপন করে আসছে। এরই মাধ্যমে ডাউন সিনড্রোম বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন শিশু ও ব্যক্তিরা সমাজে তাদের অধিকার ফিরে পাওয়ার মাধ্যমে একীভূত সমাজ গঠনে কার্যকরী অবদান রাখবে বলে আশা রাখি।
ডাউন সিনড্রোম বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন শিশু ও ব্যক্তিদের নিয়ে কাজ করতে গিয়ে আমাকে প্রায়শই মায়েদের কাছ থেকে একটি প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হয়। তা হলো- ‘আপা, আমি আমার ডাউন সিনড্রোম বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন শিশুর যত্ন কিভাবে করবো? এরই পরিপ্রেক্ষিতে আমার আজকে এই প্রবন্ধটি লেখা। যাতে করে মায়েরা তাদের শিশুকে সঠিকভাবে পরিচর্যা করতে পারেন।
ডাউন সিনড্রোম বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন শিশুর যত্নে পিতামাতার ভূমিকা মুখ্য। কারণ শিশু স্বাভাবিকভাবেই পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের তুলনায় বাবা-মার সাথেই বেশি সময় অতিবাহিত করে থাকে।
আমি আমার সন্তান রাফানকে যেভাবে গড়ে তুলেছি তাই আজকে আমি আপনাদের কাছে তুলে ধরবো। নিম্নে ডাউন সিনড্রোম বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন শিশুকে বাবা-মা কিভাবে লালনপালন করবে তার একটি বয়সভিত্তিক সার্বিক চিত্র উপস্থাপন করা হলো। উপস্থাপনাটি কোন গবেষণা বা প্রমিত মানদন্ডের ভিত্তিতে প্রণীত হয়নি। তাই এটি স্থান, কাল, পাত্রভেদে পরিবর্তিত হতে পারে।
৬-১২ সপ্তাহ
কিছুর প্রয়োজন হলে কান্না করা, শিশুর মাথা স্থির রাখা ও কোন জিনিসের উপর দৃষ্টি নিবদ্ধ করা এই বয়সে শিশুর স্বাভাবিক বৈশিষ্ট্য। কিন্তু ডাউন সিনড্রোম বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন শিশুদের বিকাশ অন্যদের থেকে তুলনামূলক দেরিতে হওয়ায় মা-বাবাকে অল্প বয়স থেকেই ঘাড়, মেরুদণ্ড, শরীরের পেশীসমূহে দিনে দুইবার করে ম্যাসাজ করতে হবে। শিশুর সামনে ঝুনঝুনি বা হালকা রকমারি আলোর ব্যবস্থা করা যেতে পারে, যাতে করে তার দৃষ্টির স্থিরতা আসে।
৩ মাস
বিভিন্ন ধরণের কু-ধ্বনি উচ্চারণ করা, মাকে চিনতে পারা, তার গলার আওয়াজ শুনে খোঁজা ও কিছুক্ষণ মাথা সোজা রাখা এই বয়সে সাধারণ শিশুদের বৈশিষ্ট্য। সেক্ষেত্রে মা শিশুকে কোলে নিয়ে আধবোলে কথা বলা, তালি বা শব্দের মাধ্যমে দৃষ্টি আকর্ষণ করা ও নিয়মিত পেশীর ম্যাসাজ- এই বয়সে ডাউন সিনড্রোম বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন শিশুদের ক্ষেত্রে নিয়মিত করতে হবে।
৬ মাস
আধবুলি (বা…বা, দাদা….দা, মা…মা, মা…ম) করা, আশেপাশের শব্দে মাথা ঘোরানো, ঠেকা দিয়ে অল্প সময়ের জন্য বসা, চিত ও উপুড় হতে পারা এই সময়ের স্বাভাবিক বৈশিষ্ট্য। এই সময়ে বাবা-মা শিশুকে নরম বালিশে শোয়ানো ও নরম কিছু দিয়ে ঠেকা দেওয়ার মাধ্যমে বসানোর চেষ্টা করতে পারে।
৯ মাস
কিছু না ধরে বসা ও হামাগুড়ি দেওয়া এই বয়সে শিশুর মধ্যে না দেখলে বাবা-মা শিশুর চারপাশে বালিশ দিয়ে বসানোর চেষ্টা করবে এবং নিয়মিত পেশীর ম্যাসাজ করাবে।
১২ মাস
সব শেষ/আরো দাও বলতে পারে, দাঁড়ানোর চেষ্টা করা এবং আসবাবপত্র ধরে হাঁটা এই বয়স থেকেই একজন সাধারণ শিশু শুরু করে। কিন্তু এই বৈশিষ্ট্যগুলো একজন ডাউন সিনড্রোম বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন শিশুর মধ্যে না দেখা দিলে শিশুকে একটি ওয়াকার কিনে দিতে হবে এবং সাথে সাথে পেশীর ব্যায়ামগুলো চলমান রাখতে হবে।
১৮ মাস
কুকুরকে কুকুল, দুই শব্দে কথা বলা, গ্লাস ধরে পানি পান করা এবং হাঁটা এ বয়সের স্বাভাবিক বৈশিষ্ট্য। কিন্তু ডাউন সিনড্রোম বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন শিশুর বিকাশ ধীরে হয়। তাই বাবা-মা শিশু কিছু না ধরতে পারলে শিশুর আঙ্গুল ও কব্জির সংযোগস্থলে নিয়মিত দুইবেলা ম্যাসাজ করবে এবং ওয়াকারের মাধ্যমে হাঁটানোর চেষ্টা করাতে হবে। এই বয়সেও সে এক শব্দের কথা না বললে, মা শিশুকে নিয়ে আয়নার সামনে বসে ধীর লয়ে কথা বলানোর চেষ্টা করবে।
২ বছর
সীমিত বহুবচনের ব্যবহার, কি/কোথায় জাতীয় প্রশ্ন ও এ জাতীয় প্রশ্নের উত্তর দেওয়া, দৌঁড়াতে পারা, কিছু চাওয়া, পায়জামা ধরণের জামাকাপড় খুলে ফেলা এই বৈশিষ্ট্যগুলো দুই বছর বয়সে স্বাভাবিক। অন্যথায় বাবা-মা শিশুকে কোন কিছুতে দড়ি বেঁধে দিয়ে বা আসবাবপত্র ধরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করাতে হবে এবং ধীরেধীরে হাঁটানোর চেষ্টা করাতে হবে।
৩ বছর
প্রায় ৮০০০ শব্দ বলতে পারে, স্মৃতি হতে ৫ পর্যন্ত সংখ্যা, মৌলিক রংয়ের নাম, ক্রিয়ার অতীতকালের রূপ, তিন শব্দ বিশিষ্ট বাক্য যেমন, আমি ভাত খাই, বাবা কই যাও?, হাত তুলে কাঁধের উপর থেকে কিছু ছোঁড়া, কিছু সরিয়ে রাখা এই বয়সের স্বাভাবিক বৈশিষ্ট্য হলেও ডাউন সিনড্রোম বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন শিশুদের ক্ষেত্রে তিন বছর বয়সে এই বৈশিষ্ট্যগুলো নাও পরিলক্ষিত হতে পারে। সেক্ষেত্রে বাবা-মা পরিচিত জিনিসপত্রের নাম বলা, শিশু যে শব্দগুলো বলে তা পুনরাবৃত্তি করা, বিভিন্ন রংয়ের সাথে পরিচয় করানোর চেষ্টা করতে হবে।
৪ বছর
নিজের নাম ও বয়স বলা, বস্তুর ব্যবহার সম্পর্কে জানা, সাইকেলে প্যাডেলিং করা, বই বা ম্যাগাজিন দেখে ছবির নাম বলা এই বয়সে শিশুদের স্বাভাবিক বৈশিষ্ট্য। সেক্ষেত্রে বাবা-মা উক্ত ডাউন সিনড্রোম বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন শিশু যদি এগুলো না করতে পারে তাহলে তাকে নিয়মিত বিভিন্ন রঙিন বই বা ছবিযুক্ত ম্যাগাজিন নিয়ে নিয়ম করে সকাল ও সন্ধ্যা দুইবেলা পড়ার টেবিলে বসাতে হবে। এর মাধ্যমে শিশুর যেমন বসার অভ্যাস তৈরি হবে তেমনি সে পড়ালেখার প্রতিও আগ্রহী হবে। এছাড়া বাংলা ও ইংরেজি বর্ণমালা শিশুকে লিখানোর চেষ্টা করাতে হবে এবং ধীরে ধীরে তাকে প্রি-স্কুলিংয়ের জন্য প্রস্তুত করতে হবে।
৫ বছর
১৫০০-২০০০ শব্দ বলতে পারা, শব্দের অনিয়মিত বহুবচনের ব্যবহার, বিভিন্ন জটিল বাক্য যেমন, আমরা নানা বাড়িতে এত সুন্দর ঘুরেছি যে খুব মজা হয়েছিলো, জামাকাপড়ের বোতাম লাগানো, কয়েকটি রংয়ের নাম বলা, সিঁড়ি দিয়ে নামতে পারা, পা ফাঁকা করে লাফানো পাঁচ বছর বয়সী শিশুর স্বাভাবিক বিকাশের ধাপ।
মন্তব্য করুন


অর্ন্তবর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাজ্যে পাচারকৃত অর্থ ফিরিয়ে আনতে বিট্রিশ সরকারের সহযোগিতা চেয়েছেন।
বুধবার (২১ আগস্ট) রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় বাংলাদেশে নিযুক্ত বিট্রিশ হাইকমিশনার সারাহ কুক প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন।
এসময় ড. ইউনূস পাচার হওয়া অর্থ ফেরত আনার বিষয়ে ব্রিটিশ সরকারের সহযোগিতা চান।
বৈঠক শেষে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।
প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেন, আমরা বৈশ্বিক বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে জানি যে শেখ হাসিনা সরকারের সময় বাংলাদেশ থেকে প্রচুর টাকা পাচার হয়ে গেছে। যুক্তরাজ্যে বিপুল সংখ্যক মানুষ বড়িঘর করেছেন। পাচার হওয়া এই বিপুল পরিমাণ অর্থ কিভাবে ফেরত আনা যায় সে বিষয়ে ব্রিটিশ সরকারের সহযোগিতা চেয়েছেন ড. ইউনূস।’
তিনি বলেন, সরকার পাচার হওয়া অর্থ ফেরত এনে দেশ পুর্নগঠনের কাজে লাগাতে চায়।
বুধবার বিট্রিশ হাইকমিশনার সারাহ কুক ছাড়াও জাপানের রাষ্ট্রদূত ইওয়ামা কিমিনোরি প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন।
মন্তব্য করুন


রক্ষণাবেক্ষণ কাজের জন্য আগামী ১ অক্টোবর থেকে ১৪ অক্টোবর পর্যন্ত প্রতিদিন সাড়ে ৩ ঘণ্টা করে বন্ধ থাকবে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের রানওয়ে।
এসময় বন্ধ থাকবে ফ্লাইট ওঠানামা।
রোববার (২৯ সেপ্টেম্বর) এক বিজ্ঞপ্তিতে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ এ তথ্য জানিয়েছে।
এতে বলা হয়েছে, রানওয়েতে আইএলএস ক্যাটাগরি-২ সংক্রান্ত রক্ষণাবেক্ষণ কাজের জন্য আগামী ১ অক্টোবর থেকে ১৪ অক্টোবর পর্যন্ত ১৪ দিন রাত ১টা থেকে ভোর সাড়ে ৪টা পর্যন্ত রানওয়ে বন্ধ থাকবে। এই মেরামতকালীন সময়ে বিমানবন্দরের সব ফ্লাইটের অবতরণ ও উড্ডয়ন কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত থাকবে।
বিমানবন্দরের ফ্লাইট অপারেশনের নিয়মমাফিক কাজের মধ্যে একটি রানওয়ে রক্ষণাবেক্ষণ কাজের অংশ হিসেবে রানওয়ে সেন্টারলাইন লাইটস, টাচ ডাউন জোন লাইটস, ইন্টলেশন অব স্টপওয়ে লাইটিং সিস্টেম ফর রানওয়ে-১৪ এবং ৩২ এর কাজ করা হবে। এতে রানওয়ের কার্যক্রম ও ফ্লাইট অপারেশন সাময়িকভাবে স্থগিত থাকবে। সংশ্লিষ্ট সব এয়ারলাইনস ও সংস্থাকে জানাতে ইতোমধ্যে নোটাম জারি করা হয়েছে।
এই মেরামতকালীন সময়ে বিমানবন্দরের সব ফ্লাইটের অবতরণ ও উড্ডয়ন কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত থাকায় ফ্লাইট সূচিতে পরিবর্তন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ এ সংক্রান্ত সব এয়ারলাইনস ও স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।
যাত্রীদেরকে তাদের স্ব স্ব ফ্লাইট সম্পর্কে অগ্রিম জানাতে সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইনসকে ও যাত্রীদের তাদের ফ্লাইট সূচি পুনরায় নিশ্চিত হওয়ার জন্য বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ পরামর্শ দিচ্ছে। প্রয়োজনে বিমানবন্দর কল সেন্টার ১৩৬০০ তে কল করতে পারবেন যাত্রীরা।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, যাত্রীদের যাত্রা নির্বিঘ্ন ও স্বাচ্ছন্দ্যময় করতে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সর্বদা বদ্ধপরিকর।
মন্তব্য করুন


দেশের চলমান পরিস্থিতিতে জনসাধারণের জান-মাল ও
সরকারি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাসমূহের সার্বিক নিরাপত্তা এবং আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি
নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি বিচার বহির্ভূত কর্মকাণ্ড রোধ ও আইনের শাসন সমুন্নত রাখার
লক্ষ্যে দেশব্যাপী নিরপেক্ষতা ও পেশাদারিত্বের সাথে কাজ করছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী।
এরই ধারাবাহিকতায় আজ (২৯ অক্টোবর) আনুমানিক ৪ টার
সময় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৬ স্বতন্ত্র এডিএ ব্রিগেড ও পুলিশ যৌথ অভিযান পরিচালনা
করে ঝিলপাড় বস্তি, হাজী রোড, মিরপুর-২ এলাকা হতে অবৈধ অস্ত্রধারী, সন্ত্রাসী ও
চাঁদাবাজ মোঃ মাসুম বিল্লাহ (৩২), মোঃ শাকিল আহমেদ (৩০) এবং মোঃ মুস্তাফিজুর রহমান
সনেট (২৮) কে আটক করা হয়। এই অভিযানে সন্ত্রাসীদের কাছ থেকে দুই রাউন্ড ৯ মিঃ মিঃ
পিস্তলের এ্যামোনিশন এবং বিভিন্ন ধরনের দেশীয় অস্ত্র জব্দ করা হয়।
জনসাধারণের অভিযোগের ভিত্তিতে যৌথ অভিযান
পরিচালনা করে এই কুখ্যাত সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজদেরকে আটক করা হয়।
জানা যায়, এদের বিরুদ্ধে গত ৪-৫ আগষ্ট ২০২৪ তারিখে বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনে ছাত্রদের উপর আক্রমনের অভিযোগ রয়েছে। এছাড়াও, বর্ণিত সন্ত্রাসীরা আইন শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী। যৌথ অভিযানে এসব চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসী গ্রেফতার হওয়ায় স্থানীয় লোকজনের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে। পরবর্তীতে আইনি কার্যক্রম সম্পন্নের জন্য আটককৃত চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীদেরকে শাহ আলী থানায় হস্তান্তর করা হয়।
মন্তব্য করুন