

২০২৬
সালের প্রথম সূর্যগ্রহণ হবে মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি)। মহাজাগতিক এ দৃশ্য দেখার অপেক্ষায়
রয়েছে গোটা বিশ্বের মানুষ। বলয়াকার এ সূর্যগ্রহণ অনেকের কাছে ‘রিং অব ফায়ার’
বা আগুনের বলয় নামে পরিচিত।
জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের
ভাষায়, বলয়াকার সূর্যগ্রহণ ঘটে যখন চাঁদ সূর্য ও পৃথিবীর মাঝখানে অবস্থান নেয়, কিন্তু
সে সময় চাঁদ পৃথিবী থেকে তুলনামূলক দূরে থাকে। ফলে চাঁদ পুরো সূর্যকে ঢাকতে পারে না।
সূর্যের চারপাশে উজ্জ্বল আগুনের বলয়ের মতো একটি অংশ দৃশ্যমান থাকে। এই মনোমুগ্ধকর দৃশ্যকেই
বলা হয় ‘রিং অব ফায়ার’।
নাসার দেয়া তথ্যানুযায়ী, পৃথিবী, সূর্য এবং চন্দ্র
মহাকাশে নিজ কক্ষপথে অবিরত পরিভ্রমণকালে সূর্য, চন্দ্র এবং পৃথিবী এক সরলরেখায় অবস্থান
করলে, অর্থাৎ চন্দ্র পৃথিবী এবং সূর্যের মধ্যে অবস্থানকালে কিছু সময়ের জন্য চন্দ্রের
ছায়া পৃথিবীতে পড়লে সূর্যগ্রহণ ঘটে। সাধারণত চন্দ্র, পৃথিবী এবং সূর্যের অবস্থানের
তারতম্যের কারণে বিভিন্ন প্রকার সূর্যগ্রহণ পরিলক্ষিত হয় (পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ, আংশিকগ্রাস
সূর্যগ্রহণ, বলয়াকারগ্রাস সূর্যগ্রহণ)।
ফোর্বসের
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বছরের প্রথম সূর্যগ্রহণ শুরু হবে ১৭ ফেব্রুয়ারি সকাল ৭ টা ১
মিনিটে (ইউটিসি)। স্পেস ডটকমের তথ্য বলছে, সর্বোচ্চ ২ মিনিট ২০ সেকেন্ড পর্যন্ত বলয়াকার
সূর্যগ্রহণ স্থায়ী হতে পারে। এ সময় চাঁদ সূর্যের কেন্দ্রের প্রায় ৯৬ শতাংশ ঢেকে ফেলবে।
বাংলাদেশ ও ভারতের আকাশ থেকে এই সূর্যগ্রহণ দেখা যাবে না। কারণ গ্রহণের সময় সূর্য এ
দুই দেশের দিগন্তের নিচে অবস্থান করবে।
এছাড়া
ঘটনাটি মূলত দক্ষিণ গোলার্ধে সংঘটিত হওয়ায় দক্ষিণ এশিয়ার এই অঞ্চল থেকে তা দৃশ্যমান
হবে না। সর্বোচ্চ গ্রহণ দেখা যাবে অ্যান্টার্কটিকায়, বিশেষ করে কনকর্ডিয়া ও মিরনি গবেষণা
কেন্দ্র থেকে। দক্ষিণ আফ্রিকা অঞ্চলের দক্ষিণ আফ্রিকা, তানজানিয়া, জাম্বিয়া ও জিম্বাবুয়ে
আংশিকভাবে গ্রহণটি দেখতে পাবে।
আবহাওয়াবিদ
জে অ্যান্ডারসন তার ওয়েবসাইট ইকলিপস ফুল.কম-এ লিখেছেন, ‘সম্ভবত খুব অল্পসংখ্যক মানুষই
বলয়াকার অঞ্চলের ভেতর থেকে এই গ্রহণটি দেখতে পারবেন। কারণ স্থানটি অত্যন্ত দুর্গম এবং
বলয় ছায়ার ভেতরে মাত্র দুটি বসতিপূর্ণ স্থান রয়েছে, যেগুলো পর্যটকদের গ্রহণের জন্য
উপযুক্ত নয়।’ এছাড়া দক্ষিণ আমেরিকার আর্জেন্টিনা ও চিলির কিছু অংশ থেকেও
গ্রহণটি দেখা যাবে।
মন্তব্য করুন


যারা
জুলাই অভ্যুত্থানের পক্ষে এবং ফ্যাসিবাদের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছেন, তারা ইতোমধ্যে
'হ্যাঁ' ভোটের পক্ষে প্রচারণা শুরু করে দিয়েছেন বলে মন্তব্য করেছেন অন্তর্বর্তীকালীন
সরকারের গৃহায়ন ও গণপূর্ত, শিল্প এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের
উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান।
শনিবার
(১৭ জানুয়ারি) সকাল সাড়ে ১০টায় কক্সবাজার পাবলিক লাইব্রেরি ও ইনস্টিটিউটের শহীদ সুভাষ
হলে আয়োজিত 'গণভোট ২০২৬ সংক্রান্ত জনসচেতনতামূলক সভায়' প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি
এ কথা বলেন।
জুলাই
সনদের গুরুত্ব তুলে ধরে উপদেষ্টা বলেন, "আমরা এমন বাংলাদেশ চাই যেখানে জুলাই সনদের
মাধ্যমে আগামী ১০০ বছরের বাংলাদেশের ভাগ্য নির্ধারিত হয়ে যাবে। জনতার কাফেলা 'হ্যাঁ'
ভোটের পক্ষে, জুলাই সনদের পক্ষে, নতুন বাংলাদেশের পক্ষে। প্রায় ১৪০০ ছাত্র-জনতা যে
লক্ষ্যে জীবন দিয়েছেন, হাজার হাজার আহত হয়েছেন তাদের স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্য জুলাই
সনদ স্বাক্ষরিত হয়েছে গণ-অভ্যুত্থানের পক্ষের সকল রাজনৈতিক দলের উদ্যোগে। সেই সনদের
পক্ষেই এই গণভোট বাংলাদেশকে বদলে দেওয়ার জন্য।"
অতীতের
ধর্মীয় বৈষম্য ও দমন-পীড়নের কথা উল্লেখ করে আদিলুর রহমান খান বলেন, 'আগে একসময় সংখ্যাগরিষ্ঠ
মুসলমানরাই তাদের ধর্মীয় উৎসব পালনে বাধাগ্রস্ত হয়েছে।' তিনি আরও বলেন, 'শাপলা চত্বরে
সমাবেশের ওপর হামলা, ম্যাসাকার হয়েছে। সেই দিনগুলো আর চাই না। অন্তবর্তী সরকার চায়
সমস্ত ধর্মের মানুষ, সমস্ত নৃগোষ্ঠীর মানুষ যেন তাদের ধর্মীয়-সাংস্কৃতিক সমস্ত কিছু
চর্চা করতে পারেন।'
সভায়
উপদেষ্টা আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি সকালে সপরিবারে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে উৎসবমুখর পরিবেশে 'হ্যাঁ'
ভোটে সিল দেওয়ার এবং নিজেদের পছন্দের রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের সংসদে পাঠানোর জন্য নির্বাচিত
করার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে
গণভোটের গুরুত্ব নিয়ে একটি জনসচেতনতামূলক তথ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। জেলা প্রশাসক
মো. আব্দুল মান্নানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন
স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব মোহাম্মদ রেজাউল মাকছুদ জাহেদী। এছাড়া বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি
প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা সভায় অংশ নেন।
সভা
শেষে জেলা প্রশাসক কার্যালয় চত্বরে বেলুন উড়িয়ে জনসচেতনতামূলক 'ভোটের গাড়ি' কার্যক্রমের
আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন উপদেষ্টা।
মন্তব্য করুন


১২ বছর বয়সী নুরে জারিন নুদার। বর্তমান সময়েরর ছেলে-মেয়েদের থেকে একটু আলাদা। যে বয়সে মেয়েরা মুঠোফোন নিয়ে ব্যস্ত। ওই বয়সে ক্ষুদে এ শিক্ষার্থী হাতে কোরআন লিখে পার করছে ব্যস্ত সময়। তার গল্প শুনলে অনেকেরই চোখ কপালে উঠবে। এই মাদরাসা শিক্ষার্থীর কোনো ক্লাসে পড়তে হয়নি প্রাইভেট। মাত্র ১০ মাসে নির্ভুল ভাবে সে পুরো আল-কোরআন হাতে লিখেছেন। তার দৃষ্টিনন্দন হাতের লেখা দেখলে যে কারো চোখ আটকাবে। মনে হবে এটি কম্পিউটারে ছাপা লেখা। চোখ জুড়ানো হাতের লেখায় পবিত্র কোরআন লিখে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে সে।
বর্তমানে নুদার বসুরহাট দারুল ইহসান গার্লস মাদরাসার ৬ষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী। ২০২২ সালের সেপ্টম্বর মাসের ঘটনা। তখন ১০ বছর বয়সী নুদার বাড়ির পাশের ইকরা আরাবিয়া মাদরাসার চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রী। একদিন হঠাৎ মেয়ের সুন্দর আরবি হাতের লেখা চোখে পড়ে বাবার। এরপর তিনি মেয়েকে উদ্বুদ্ধ করেন পবিত্র কোরআন হাতে লিখতে। যে কথা, সেই কাজ। মেয়েকে প্রথমে এক রিম খোলা সাদা কাগজ এনে দেন তিনি। সেই থেকে শুরু। এরপর আস্তে আস্তে ১০ মাসে ২০২৩ সালের জুলাই মাসে নুদার কোরআন লিখে শেষ করেন। এরপর তার বাবা হাতে লিখা কোরআন শরীফ নিয়ে নুদারের মাদরাসার আরবী শিক্ষক মুফতি মুহা.আবদুল্লাহ আল নোমান শরনাপন্ন হন। সেই থেকে নুদারের লেখা শেষে তিনি বানান সংশোধন করে পুনঃনিরীক্ষণ করে দিতেন। তার উৎসাহে ও সহযোগিতায় নুদারের লেখা আরও গতি পায়। পরবর্তীতে পান্ডুলিপি থেকে ১০ পারা করে তিন ভাগে পুর্ণাঙ্গ কোরআন বাঁধাই করা হয়। কোরআন লিখতে ব্যবহার করা হয়েছে ৬১১টি এ ফোর সাইজের সাদা কাগজ ও ৫৫টি বলপেন কলম। মেয়ের এমন সাফল্যে উচ্ছ্বসিত মা-বাবা,দাদা-দাদী সহ এলাকাবাসী। মা-বাবার আশা মেয়ে উচ্চ শিক্ষা অর্জন করে দেশবাসীর কল্যাণে দ্বীনি শিক্ষা প্রসারে কাজ করবে। নুরে জারিন নুদার নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জের বসুরহাট পৌরসভার ৯নম্বর ওয়ার্ডের মওদুদ স্কুল এলাকার ছেলামত মঞ্জিলের মো.নুরুল হুদা মামুনের মেয়ে।
নুরে জারিন নুদার বলেন, বাবা-মায়ের উৎসাহে আমি চতুর্থ শ্রেণিতে থাকা অবস্থায় পবিত্র কোরআন মাজিদ লেখা শুরু করি। এরপর পঞ্চম শ্রেণিতে উঠলে আমার লেখা শেষ হয়। আমার এ লেখা দেখে মা-বাবা আমাকে মাদরাসায় পড়া লেখার পাশাপাশি এখন হিফজ বিভাগে ভর্তি করে দেয়। আমি দেশ বাসীর কাছে দোয়া চাই।
নুদারের বাবা মো.নুরুল হুদা, আমি প্রথমে আমার মেয়ের সুন্দর আরবি হাতের লেখা দেখে খুব আনন্দিত হই। আমারও তার শিক্ষকদের উৎসাহে ২০২২ সালের সেপ্টেম্বর মাস থেকে সে কোরআন নিজ হাতে লেখা শুরু করে। যখন এক পারা লেখা সম্পন্ন হতো তখন ইকরা আরাবিয়া মাদরাসার শিক্ষক মুফতি মুহা.আবদুল্লাহ আল নোমান আরবি বানান গুলো যাচাই বাচাই করে পুনঃনিরীক্ষণ করে দিতে। এভাবে ২০২৩ সালের জুলাই মাসে পুরো কোরআন লিখে শেষ হয়। পরে পুনরায় আবার বানান পুনঃনিরীক্ষণ করে ১০ পারা করে তিন ভাগে বাধাই করা হয়। মেয়ের এমন কাজে আমি গর্বিত। এমন কাজে অন্য ছেলে মেয়েরা উদ্ধুদ্ধ হবে বলেও আমি আশা করি।
মা বিবি ফাতেমা বলেন, আমার মেয়ে নিজ হাতে কোরআন লিখেছে, আমরা তাকে উৎসাহ দিয়েছি। লেখার সময় অনেক সময় মনমানসিকতা অন্য রকম হয়ে যেত, তো লিখবো, লিখেনা। আবার মনমানসিকতা ঠিক করে আগ্রহ দিয়ে লিখতে বসত। বিশেষ করে ভালো কাজে শয়তানের প্ররোচনা থাকে। খাতা-কলমে দাগ টানা সহ বিভিন্ন ভাবে তাকে আমি সহযোগিতা করেছি। চার বছর বয়স থেকে সে নিয়মিত নামাজ পড়ে।
ইকরা আরাবিয়া মাদরাসার নাজেমে তালিমাত, মুফতি মুহা.আবদুল্লাহ আল নোমান বলেন, কোরআন লেখার যে প্রাচীন নিয়ম রয়েছে। সে অক্ষরে অত্যন্ত সুনিপুন ভাবে নুদার ১০ মাসের প্রচেষ্ঠায় কোরআন হাতে লিখে সম্পন্ন করেন। ওই সময় আমি তার লেখার তত্বাবধান করি। বোঝার উপায় নেই, এটি হাতে লিখা না, না কম্পিউটারে লিখা। তার লেখা কোরআন পুরোটাই আমি পুনঃনিরীক্ষণ করি।
ইকরা আরাবিয়া মাদরাসা মোহতামিম মাওলানা মোতালেব হোসেন পারভেজ বলেন,নুরানী বোর্ডের সমাপনী পরীক্ষায় নুদার পুরো বাংলাদেশে দশম স্থান অর্জন করে। সে একজন মেধাবী ছাত্রী। তার স্বহস্তে কোরআন লেখার এ কৃতিত্বকে আমরা স্বগত জানাই।
বসুরহাট পৌরসভা ৯নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর এবিএম ছিদ্দিক বলেন, পবিত্র কোরআন হাতে লেখার উদ্যোগ নিয়ে সম্পন্ন করার কাজটি অবশ্যই প্রশংসার দাবিদার। এতো সুন্দর ভাবে কোরআন লিখলেন সেটি আসলেই অবাক হওয়ার মতো ঘটনা। আমি তার উত্তরোত্তর সফলতা কামনা করছি।
মন্তব্য করুন


সাভার
মডেল থানার অদূরে, সাভার প্রেসক্লাবের পাশেই অবস্থিত একটি পরিত্যক্ত পৌর কমিউনিটি সেন্টারে
গত সাত মাসে সংঘটিত হয়েছে একের পর এক ভয়াবহ হত্যাকাণ্ড।
দীর্ঘদিন
অজ্ঞাত থাকা এসব ঘটনার রহস্যের পর্দা নেমে আসে গত রোববার (১৮ জানুয়ারি) জোড়া মরদেহ
উদ্ধারের পর। তদন্তে উঠে আসে চাঞ্চল্যকর তথ্য-খুনি কোনো পেশাদার অপরাধী নয়, বরং থানার
আশপাশে ভবঘুরের ছদ্মবেশে ঘোরাফেরা করা এক পরিচিত মুখ।
রোববার
দুপুরে পরিত্যক্ত কমিউনিটি সেন্টারের দ্বিতীয় তলা থেকে আগুনে পোড়া দুটি মরদেহ উদ্ধার
করে পুলিশ। এ ঘটনার পর তদন্ত জোরদার করা হয়। আগের হত্যাকাণ্ডের সময় সংগৃহীত সিসিটিভি
ফুটেজ এবং সাংবাদিকের ধারণ করা ভিডিও বিশ্লেষণ করে তদন্তকারীরা গুরুত্বপূর্ণ সূত্র
পান। ফুটেজে দেখা যায়, এক ব্যক্তি কাঁধে করে মরদেহ বহন করছে-যাকে স্থানীয়রা দীর্ঘদিন
ধরে ভবঘুরে হিসেবেই চিনত।
পরবর্তীতে
অভিযান চালিয়ে পুলিশ আটক করে মশিউর রহমান খান সম্রাটকে। জিজ্ঞাসাবাদে বেরিয়ে আসে তার
ভয়ংকর অপরাধের ধারাবাহিকতা।
দৈনিক
মানবজমিন-এর প্রতিনিধি সোহেল রানা গত শুক্রবার ওই পরিত্যক্ত ভবনে একটি ভিডিও ধারণ করেন।
সেখানে এক নারী নিজেকে ‘সোনিয়া’ বলে পরিচয় দেন এবং তার সঙ্গে সম্রাটকেও
দেখা যায়। মাত্র দুদিন পরই ওই নারীর আগুনে পোড়া মরদেহ উদ্ধার হয়। সিসিটিভি ফুটেজ ও
ভিডিওর দৃশ্য মিলিয়ে পুলিশ নিশ্চিত হয়-সম্রাটই এসব হত্যাকাণ্ডের মূল হোতা।
সাভার
মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরমান আলি জানান, সম্রাট একজন মানসিক বিকৃত
বা সাইকোপ্যাথিক সিরিয়াল কিলার। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সে স্বীকার করেছে, গত সাত মাসে
একই স্থানে ছয়জনকে হত্যা করেছে। তার টার্গেট ছিল মূলত ভবঘুরে ও অসহায় মানুষজন। প্রতিটি
হত্যাকাণ্ডই ছিল একই ধরনের নৃশংস ও পরিকল্পিত।
ওসি
আরও বলেন, “সে ছদ্মবেশে সাভার ব্যাংক কলোনি ও লালটেক এলাকায় ঘোরাফেরা করত এবং দীর্ঘদিন
পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিতে সক্ষম হয়েছিল।”
থানা
থেকে মাত্র শত গজ দূরে, সেনাক্যাম্প ও সরকারি কলেজের কাছাকাছি এলাকায় এমন সিরিয়াল হত্যাকাণ্ডের
ঘটনায় পুরো সাভারজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা হতবাক হয়ে জানান, “যাকে
প্রতিদিন চুপচাপ বসে থাকতে দেখতাম, কখনো বিড়বিড় করতে দেখতাম-সে যে এমন ভয়ংকর খুনি,
তা কল্পনাও করা যায় না।”
ঢাকা
জেলার পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান জানান, নিহতরা সবাই ভবঘুরে শ্রেণির মানুষ। কেন সম্রাট
এ ধরনের নৃশংস হত্যাকাণ্ডে জড়িয়েছিল, তার প্রকৃত উদ্দেশ্য ও মানসিক অবস্থার পেছনের
কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তিনি বলেন, “১৬৪ ধারায় জবানবন্দি গ্রহণের জন্য সোমবার তাকে
আদালতে তোলা হবে। তদন্ত শেষে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হবে।”এই
ঘটনায় এলাকায় চরম নিরাপত্তা উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা
রোধে ওই এলাকা বিশেষ নজরদারির আওতায় আনা হচ্ছে।
মন্তব্য করুন


বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি)পরিচালনা পর্ষদ নির্বাচনে বড় চমক হয়ে এসেছেন কুমিল্লার জনপ্রিয় গায়ক আসিফ আকবর। চট্টগ্রাম জেলা ক্রীড়া সংস্থা থেকে প্রার্থী ছিলেন দুইজন-আসিফ আকবর এবং মীর হেলাল উদ্দিন। আজ বুধবার ছিল প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন, দুপুর ১২টার আগে মনোনয়ন প্রত্যাহার করেন মীর হেলাল। ফলে একক প্রার্থী হয়ে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় পরিচালক হচ্ছেন আসিফ আকবর।
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) পরিচালনা পর্ষদ নির্বাচন ৬ অক্টোবর। তার আগে আজ বুধবার (০১ অক্টোবর) ছিল প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন। এই সময়ের মধ্যে তামিম ইকবালসহ ১৬ পরিচালক প্রার্থী নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ান।
এদিকে, প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিনে বড় চমক ছিলেন তামিম ইকবাল। শুধু তামিমই নয়, আরও একাধিক প্রার্থী সরে দাঁড়িয়েছেন বিসিবি নির্বাচন থেকে। ক্যাটাগরি-২ থেকে তামিম ইকবাল ছাড়াও মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেছেন সাইদ ইবরাহিম, ইসরাফিল খসরু, রফিকুল ইসলাম বাবু, বোরহানুল পাপ্পু, মাসুদুজ্জামান, আসিফ রব্বানি, মির্জা ইয়াসির আব্বাস ও সাব্বির আহমেদ রুবেল। ক্যাটাগরি-১ থেকে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেছেন মির হেলাল। আর ক্যাটাগরি-৩ থেকে সিরাজ উদ্দিন আলমগীর মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেছেন।
প্রত্যাহার লিস্ট : তামিম ইকবাল (ওল্ডডিওএইচএস); রফিকুল ইসলাম বাবু (ইন্দিরা ক্রীড়াচক্র); মাসুদুজ্জামান (মোহামেডান); সাঈদ ইব্রাহীম আহমেদ (ফেয়ার ফাইটার্স); মির হেলাল (চট্টগাম জেলা); সৈয়দ বুরহান হোসেন পাপ্পু (তেজগাঁও ক্রিকেট একাডেমি); ইসরাফিল খশরু (এক্সিউম ক্রিকেটার্স); সাব্বির আহমেদ রুবেল (প্রগতি সেবা সংঘ); তৌহিদ তারেক (পাবনা); অসিফ রাব্বানী (শাইনপুকুর); সিরাজ উদ্দিন মোহাম্মদ আলমগীর (ক্যাটাগরি-৩); ইয়াসির আব্বাস (আজাদ স্পোর্টিং); ফাহিম সিনহা (সুর্যতরিণ); সাইফুল ইসলাম সপু (গুপিবাগ ফ্রেন্ডস); ওমর শরীফ মোহাম্মদ ইমরান (বাংলাদেশ বয়েজ)
মন্তব্য করুন


মেহেরপুর
সদর উপজেলায় বোমা বিস্ফোরণ ঘটিয়ে একটি টেলিকম ও মোবাইল ব্যাংকিং দোকানে ডাকাতির ঘটনা
ঘটেছে। এ সময় ধারালো অস্ত্রের আঘাতে দোকান মালিক গুরুতর আহত হয়েছেন। ডাকাতরা নগদ টাকা
ও মোবাইল ব্যাংকিং লেনদেনে ব্যবহৃত একাধিক মোবাইল ফোন লুট করে পালিয়ে যায়।
শুক্রবার
(২ জানুয়ারি) রাত আনুমানিক ৯টা ২০ মিনিটে সদর উপজেলার ১ নম্বর কুতুবপুর ইউনিয়নের তেরঘরিয়া
গ্রামের টাওয়ারপাড়া এলাকায় অবস্থিত এন এস টেলিকমে এ ঘটনা ঘটে।
আহত
ব্যবসায়ীর নাহিদ হোসেন (৩৪) তেরঘরিয়া উত্তরপাড়া এলাকার বেগা মোল্লার ছেলে। ঘটনার পর
তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয়
ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, একটি মোটরসাইকেলে করে তিনজন মুখোশধারী ডাকাত দোকানে প্রবেশ
করে। তারা দেশীয় অস্ত্রের মুখে নাহিদকে জিম্মি করে ক্যাশ বাক্সে থাকা প্রায় তিন লাখ
টাকা ছিনিয়ে নেয়। পাশাপাশি বিকাশ, নগদ, রকেট ও উপায় এই চারটি মোবাইল ব্যাংকিং সেবার
লেনদেনে ব্যবহৃত চারটি মোবাইল ফোনও নিয়ে যায়। একপর্যায়ে ডাকাতরা নাহিদকে রামদা দিয়ে
কুপিয়ে আহত করে। পালিয়ে যাওয়ার সময় দোকানের সামনে একটি ককটেল বোমার বিস্ফোরণ ঘটায় তারা।
বিকট শব্দে পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
আহত
নাহিদ হোসেন বলেন, 'তিনজন মুখোশধারী ব্যক্তি অস্ত্র দেখিয়ে আমাকে জিম্মি করে টাকা ও
মোবাইল ব্যাংকিংয়ের ফোনগুলো নিয়ে যায়। ফোনগুলোতে প্রায় সাত লাখ টাকার লেনদেন ছিল। যাওয়ার
সময় বোমা ফাটিয়ে পালিয়ে যায়, এতে আমি ও আশপাশের লোকজন আতঙ্কিত হয়ে পড়ি।' এদিকে পুলিশ
সূত্রে জানা গেছে, রাত আনুমানিক ৯টা ২০ মিনিটে তেরঘরিয়া টাওয়ারের পাশে বিকাশের দোকান
বন্ধ করার মুহূর্তে অজ্ঞাত তিন ব্যক্তি রামদা ও বাঁশের লাঠি নিয়ে নাহিদ হোসেনকে ভয়ভীতি
দেখিয়ে তার সঙ্গে থাকা ব্যাগ থেকে আনুমানিক দুই লাখ টাকা ছিনিয়ে নেয়। বাধা দিলে তাকে
বাঁশের লাঠি দিয়ে আঘাত করে এবং ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।
মেহেরপুর
সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হুমায়ুন কবির বলেন, 'এ ঘটনায় এখনো লিখিত অভিযোগ
পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে মামলা নিয়ে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান চালানো হবে।
বোমা বিস্ফোরণের বিষয়টিও গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। ঘটনার পর এলাকায় অতিরিক্ত
পুলিশ টহল জোরদার করা হয়েছে।'
মন্তব্য করুন


সরকারি
চাকরিজীবীদের জন্য ফেব্রুয়ারি মাসের শুরুতেই লম্বা ছুটি কাটানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে।
ইসলামী ফাউন্ডেশনের তথ্য অনুযায়ী, আগামী ৩ ফেব্রুয়ারি (মঙ্গলবার) দিবাগত রাতে পবিত্র
শবেবরাত পালিত হবে। সে উপলক্ষে আগামী ৪ ফেব্রুয়ারি (বুধবার) নির্বাহী আদেশে সরকারি
ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। এর পরের দিন ৫ ফেব্রুয়ারি (বৃহস্পতিবার)।
এ
অবস্থায় কেবল এক দিনের ছুটি নিলেই টানা চার দিনের ছুটি কাটানো যাবে। কেননা এর পরের
দুদিন যথাক্রমে ৬ ফেব্রুয়ারি (শুক্রবার) ও ৭ ফেব্রুয়ারি (শনিবার) সাপ্তাহিক ছুটি। সুতরাং
মাত্র এক দিনের ছুটি নিলেই সরকারি চাকরিজীবীরা টানা চার দিনের ছুটি কাটাতে পারবেন।
এদিকে,
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ক্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
সে
উপলক্ষে ১১ ও ১২ ফেব্রুয়ারি সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে সরকার। এর পরের দুদিন ১৩ ও ১৪
ফেব্রুয়ারি যথাক্রমে শুক্র ও শনিবার সাপ্তাহিক ছুটি। অর্থাৎ এখানে মিলছে টানা চার দিনের
ছুটি।
প্রধান
উপদেষ্টার প্রেসসচিব শফিকুল আলম বলেছেন, ‘ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে আগামী
১১ ফেব্রুয়ারি সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।
আর
১০ ফেব্রুয়ারি শিল্পাঞ্চলের শ্রমিকদের জন্য সাধারণ ছুটি থাকবে। ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের
দিন সাধারণ ছুটি থাকবে, যা আগেই ঘোষণা করা হয়।’
অন্যদিকে,
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত ২০২৬ সালের সরকারি ছুটির তালিকা অনুযায়ী, চলতি বছরে
মোট ১৪ দিন সাধারণ ছুটি ও ১৪ দিন নির্বাহী আদেশে ছুটি থাকবে। এর মধ্যে ৯ দিন শুক্র
ও শনিবারে পড়েছে। এ ছাড়া ২০২৬ সালে ধর্মভিত্তিক ঐচ্ছিক ছুটি নির্ধারিত হয়েছে।
সে
অনুযায়ী মুসলিম ধর্মাবলম্বীদের জন্য ৫ দিন; হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের জন্য ৯ দিন; খ্রিস্টান
ধর্মাবলম্বীদের জন্য ৮ দিন; বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের জন্য ৭ দিন এবং ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর
সরকারি কর্মচারীদের জন্য ২ দিন।
মন্তব্য করুন


স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেছেন, দুর্গাপূজার বিজয়া দশমী রোববার ১৩ অক্টোবর পর্যন্ত সারাদেশে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকবে।
আজ (১০ অক্টোবর) দুপুরে রাজধানীর ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির পূজামণ্ডপ পরিদর্শনকালে মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটি আয়োজিত সংক্ষিপ্ত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, বাংলাদেশের সাড়ে ১৭ কোটি মানুষ ৩৬৫ দিনই নিরাপদে থাকবে। বাংলাদেশের সকল নাগরিকের ৩৬৫ দিনের নিরাপত্তা দেয়ার দায়িত্ব আমাদের এবং আমরা নিরলসভাবে সে প্রচেষ্টায় নিয়োজিত আছি। আমাদের অন্তর্বর্তী সরকার এবার পূজার জন্য সবচেয়ে বেশি ৪ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছে। এর আগে প্রতি বছর দুর্গাপূজায় ২ থেকে ৩ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া হতো। চলমান দুর্গাপূজায় সারাদেশে কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। এ বিষয়ে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সন্তোষ শর্মাসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ আমার সঙ্গে একমত পোষণ করেছেন।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম আরো বলেন, এবার দুর্গাপূজা নির্বিঘ্নে ও শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে পুলিশ, র্যাব ও আনসারের পর্যাপ্ত সদস্যদের পাশাপাশি সীমান্তে বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। এছাড়া প্রয়োজনীয় সংখ্যক সশস্ত্র বাহিনীকে ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা দিয়ে মোতায়েন করা হয়েছে।
অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন, বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ’র সাধারণ সম্পাদক সন্তোষ শর্মা ও মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটির সভাপতি জয়ন্ত কুমার দেব। এসময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মো. মাইনুল হাসান, বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ’র সভাপতি বাসুদেব ধর ও মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটির সাধারণ সম্পাদক ড. তাপস চন্দ্র পাল প্রমুখ।
উপদেষ্টা পরে রাজধানীর ফার্মগেটে সনাতন সমাজ কল্যাণ সংঘ আয়োজিত খামারবাড়ি কৃষিবিদ পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেন।
মন্তব্য করুন


শনিবার (১৩ এপ্রিল) পহেলা বৈশাখকে কেন্দ্র করে রমনায় নিরাপত্তার সার্বিক প্রস্তুতি নিয়ে ব্রিফিংকালে বর্ষবরণ ঘিরে হামলার শঙ্কা নেই জানিয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার হাবিবুর রহমান বলেছেন, পহেলা বৈশাখকে কেন্দ্র করে আয়োজিত উৎসবে নিরাপত্তার জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
ডিএমপি কমিশনার বলেন,পহেলা বৈশাখের উৎসব বাঙালি সংস্কৃতির বহিঃপ্রকাশ কিন্তু সেই আয়োজনে অতীতে হামলা হয়েছে। তাই নিরাপত্তার জন্য আমরা শতভাগ প্রস্তুত রয়েছি। তবে সন্ধ্যার আগে সব অনুষ্ঠান সম্পন্ন করতে হবে।
তিনি আরো বলেন, মানুষে পহেলা বৈশাখ পালনের জন্য উন্মুখ হয়ে আছে। রাজধানীতে বিভিন্ন সংগঠন বিভিন্ন আয়োজনের প্রস্তুতি নিয়েছে। যেসব জায়গায় অনুষ্ঠান হবে, ডিএমপির পক্ষ থেকে সেসব জায়গা পর্যবেক্ষণে রাখা হবে। ডিবি, এসবিসহ গোয়েন্দা তৎপরতা জোরদার করা হয়েছে।
হাবিবুর রহমান বলেন, ঢাকার বিভিন্ন স্পট ওয়াচ টাওয়ার, ড্রোন ক্যামেরা, সিসি ক্যামেরা দ্বারা পর্যবেক্ষণ রাখবে ডিএমপি।
যানবাহন চলাচলের জন্য কিছু জায়গায় ডাইভার্শন দেওয়া থাকবে উল্লেখ করেও তিনি বলেন, যানবাহন নিয়ন্ত্রণ করা হবে আজ সন্ধ্যা থেকেই। আগামীকাল রোববারও (১৪ এপ্রিল) যানবাহন চলাচলে নিয়ন্ত্রণ করা হবে।
মন্তব্য করুন


তিন দিনের সফরে ভারতের কলকাতায় পৌঁছেছেন বিশ্ব ফুটবলের সুপারস্টার লিওনেল মেসি। প্রথম দিনেই সল্টলেক স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হওয়া ফুটবল ইভেন্টে চরম অব্যবস্থা তৈরি হয়। গ্যালারিতে উপস্থিত দর্শকরা তাদের প্রিয় খেলোয়াড় মেসিকে স্পষ্টভাবে দেখতে না পেরে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন এবং স্টেডিয়ামে ভাঙচুর চালান।
ঘটনার পর কলকাতা পুলিশ অনুষ্ঠান আয়োজক শতদ্রু দত্তকে আটক করে। কলকাতা পুলিশের অ্যাডিশনাল ডিরেক্টর জেনারেল জায়েদ শামিম জানান, “এফআইআর দায়ের করা হচ্ছে। ঘটনার তদন্ত চলছে, এবং যারা এ বিশৃঙ্খলার সঙ্গে যুক্ত তারা আইনের আওতায় আনা হবে। ভক্তদের ক্ষুব্ধ হওয়ার যৌক্তিকতা রয়েছে, তবে তা নিয়ন্ত্রণে রাখা জরুরি।”
পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি মেসির কাছে সরাসরি ক্ষমা চেয়ে বলেন, “সল্টলেক স্টেডিয়ামে যে অব্যবস্থাপনা ঘটেছে, তা অত্যন্ত দুঃখজনক। আমি নিজেও ভক্তদের সঙ্গে প্রিয় খেলোয়াড় মেসিকে দেখার জন্য স্টেডিয়ামে যাচ্ছিলাম।”
মুখ্যমন্ত্রী আরও জানান, অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি অসীম কুমার রায়ের নেতৃত্বে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিতে মুখ্য সচিব এবং স্বরাষ্ট্র ও পার্বত্য বিষয়ক দফরের অতিরিক্ত মুখ্য সচিব থাকবেন। কমিটি ঘটনার বিস্তারিত তদন্ত করবে, দায় নির্ধারণ করবে এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনা প্রতিরোধের সুপারিশ দেবে।
মমতা ব্যানার্জি শেষ করেন, “সব ক্রীড়াপ্রেমী ও মেসির ভক্তদের কাছে আমি আন্তরিকভাবে ক্ষমা প্রার্থনা করছি।”
মন্তব্য করুন


স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম
চৌধুরী র্যাবকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার না করার নির্দেশ দিয়েছেন ।
মঙ্গলবার (১০ সেপ্টেম্বর) বিকেলে রাজধানীর উত্তরায় র্যাব সদর
দপ্তরে র্যাবের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এ নির্দেশ দিয়ে
বলেন, র্যাবকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা যাবে না। র্যাব গঠনের সময় বলা
হয়েছিল, বাহিনীটিকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হবে না। কিন্তু পরবর্তীকালে তা
মানা হয়নি।
তিনি আরো বলেন, র্যাব গঠনের শুরুর দিকে এটি একটি সুশৃঙ্খল ও
সুসংগঠিত বাহিনী হিসেবে মানুষের সম্মান, আস্থা ও বিশ্বাস অর্জন করে। পুলিশ ও
সশস্ত্র বাহিনীর সেরা অফিসারদের এখানে পদায়ন করা হতো। যখনই রাজনৈতিক বিবেচনায় এ
বাহিনীতে নিয়োগ ও পদায়ন শুরু হয়, তখন থেকে এতে পচন ধরতে শুরু করে। সাধারণ মানুষের
মনে বদ্ধমূল ধারণা এই যে, যখন থেকে র্যাবকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা শুরু
হয়, তখন থেকেই র্যাব গুম, খুনসহ বিভিন্ন বেআইনি ও অপকর্মের সঙ্গে জড়িত হতে শুরু
করে।
জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, ভালোবাসা, ব্যবহার ও পারফরম্যান্সের
মাধ্যমে র্যাবের হারানো গৌরব ও সম্মান পুনরুদ্ধার সম্ভব উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্র
উপদেষ্টা বলেন, সেজন্য আইনের মধ্যে থেকে র্যাবকে কাজ করে যেতে হবে। ঊর্ধ্বতন
কর্তৃপক্ষের বেআইনি আদেশ মানা যাবে না। অননুমোদিত ও বেআইনিভাবে কাউকে আটক রাখা
যাবে না। ক্রসফায়ার, গুম, খুন থেকে র্যাবকে দূরে থাকতে হবে।
সভায় র্যাবের মহাপরিচালক এ কে এম শহিদুর রহমানসহ বাহিনীর বিভিন্ন
পর্যায়ের কর্মকর্তারা অংশ নেন।
পরে অনুষ্ঠানে র্যাবের বিভিন্ন কর্মকাণ্ড সম্পর্কে উপদেষ্টাকে
অবহিত করা হয়।
মতবিনিময় সভা শেষে উপদেষ্টা র্যাবের পরিদর্শন বইয়ে স্বাক্ষর করেন
এবং কর্মকর্তাদের সঙ্গে ফটোসেশনে অংশ নেন।
মন্তব্য করুন