

ঢাকার
সাভারে ভবঘুরে পরিচয়ে একের পর এক নৃশংস হত্যাকাণ্ডে গ্রেপ্তার হওয়া সিরিয়াল কিলারের
পরিচয় নিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য জানিয়েছে পুলিশ। গ্রেপ্তারের পর নিজেকে ‘মশিউর রহমান খান
সম্রাট’ বলে পরিচয় দিলেও তার প্রকৃত নাম সবুজ শেখ বলে নিশ্চিত
করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার
(২০ জানুয়ারি) ঢাকা জেলা পুলিশের সাভার সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান
এ তথ্য জানান।
পুলিশ
জানায়, সবুজ শেখের বাবার নাম পান্না শেখ। তিন ভাই ও চার বোনের মধ্যে দ্বিতীয়। তার বড়
বোনের নাম শারমিন। তার জন্মস্থান ও পৈতৃক বাড়ি মুন্সিগঞ্জ জেলার লৌহজং থানার হলুদিয়া
ইউনিয়নের মোসামান্দা গ্রামে। পরিবারের একাংশ বরিশাল এলাকায় বসবাস করে।
পুলিশের
প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, নাম ও পরিচয় গোপন রেখে বিভিন্ন এলাকায় ভবঘুরে নারীদের সঙ্গে
শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনের ফাঁদ পাতত সবুজ।
পরে
তাদের পরিত্যক্ত ও নির্জন ভবনে নিয়ে যেত। ওই নারীরা অন্য কারো সঙ্গে কিংবা অন্য কেউ
তাদের সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কে জড়ালে ক্ষিপ্ত হয়ে সে তাদের হত্যা করত। এসব হত্যাকাণ্ডের
বিষয়ে আদালতে দেওয়া তার স্বীকারোক্তি যাচাই–বাছাই করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
অতিরিক্ত
পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান বলেন, আদালতে দেওয়া সবুজের তথ্যগুলোর সত্যতা খতিয়ে দেখা
হচ্ছে।
তিনি
আরও জানান, সর্বশেষ ঘটনার তিন থেকে চার দিন আগে তানিয়া ওরফে সোনিয়া নামে এক ভবঘুরে
তরুণীকে সাভার পৌর কমিউনিটি সেন্টারের পরিত্যক্ত ভবনে নিয়ে আসে সবুজ। সেখানে ওই তরুণীর
সঙ্গে আরেক ভবঘুরে যুবকের অনৈতিক সম্পর্কের ঘটনা ঘটলে প্রথমে যুবককে ভবনের দোতলায় নিয়ে
হত্যা করে। পরে তরুণীকে নিচতলায় হত্যা করে দুজনের মরদেহ কাঁধে করে দোতলার টয়লেটে নিয়ে
গিয়ে একসঙ্গে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয়।
রোববার
(১৮ জানুয়ারি) বিকেলে সাভার থানার সামনে থেকে সবুজ শেখকে আটক করে পুলিশ। পরে সাভার
পৌর কমিউনিটি সেন্টারের পরিত্যক্ত ভবনের ভেতর থেকে এক কিশোরীসহ দুজনের পোড়া মরদেহ উদ্ধারের
ঘটনায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
সোমবার
পুলিশ ১০ দিনের রিমান্ড চেয়ে তাকে আদালতে হাজির করলে জিজ্ঞাসাবাদে সে ছয়টি হত্যাকাণ্ডে
জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে। ঢাকার চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তাজুল ইসলামের আদালতে
১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি শেষে সবুজ শেখ ওরফে সম্রাটকে সোমবার রাতেই কারাগারে
পাঠানো হয়।
প্রাথমিক
তদন্তের তথ্য অনুযায়ী, সম্রাট ওরফে সবুজ প্রথম খুন করেন ২০২৫ সালের ৪ জুলাই। ওই দিন
রাতে সাভার মডেল মসজিদের সামনে আসমা বেগম নামে এক বৃদ্ধাকে শ্বাস রোধ করে হত্যা করে।
পরবর্তীতে ওই বছর ২৯ আগস্ট সাভার পৌর কমিউনিটি সেন্টারের পরিত্যক্ত ভবনের ভেতরে এক
যুবককে হত্যার পর মরদেহ পুড়িয়ে দেন। এর প্রায় এক মাস পর ১১ অক্টোবর আরও এক নারীর
মরদেহ উদ্ধার হয় কমিউনিটি সেন্টারের ভেতর থেকে। তাকেও সবুজ হত্যা করে বলে স্বীকার
করে।
সাভার
থানার পরিদর্শক (অপারেশন) হেলাল উদ্দিন বলেন, ‘সম্রাট পাগল নন। অতিরিক্ত নেশা করার
কারণে কিছুটা মানসিক বিকারগ্রস্ত। মানুষ খুন করা তার নেশায় পরিণত হয়েছিল। তার ভাষায়,
হত্যাকে তিনি “থার্টি ফোর” বা “সানডে মানডে ক্লোজ”
বলে উল্লেখ করতেন।’
হেলাল
উদ্দিন আরও বলেন, ‘সাভারে আসার পর ভবঘুরে ওই সিরিয়াল কিলার বেশির ভাগ রাত কাটিয়েছেন
সাভার বাসস্ট্যান্ড এলাকার মডেল মসজিদে।
২০২৫
সালের ৪ জুলাই আসমা বেগম নামের এক বৃদ্ধকে হত্যার পর পৌর কমিউনিটি সেন্টারের পরিত্যক্ত
ভবনে চলে আসেন এবং ওই সেন্টারের নিচতলায় আস্তানা গাড়ে। এর পর থেকেই কমিউনিটি সেন্টারের
ভেতর থেকে একের পর এক লাশ উদ্ধার হতে থাকে। গত পাঁচ মাসে ওই ভবন থেকে পাঁচটি লাশ উদ্ধার
করা হয়। এ কারণে পুলিশের পক্ষ থেকে ওই সেন্টারে নিয়মিতভাবে নজরদারি চালানো হতো। সম্রাটও
সন্দেহের বাইরে ছিলেন না। কিন্তু কোনো ক্লু বা প্রমাণের অভাবে তাকে আইনের আওতায় আনা
যাচ্ছিল না।’
হেলাল
উদ্দিন জানান, নজরদারির অংশ হিসেবে গত শুক্রবার রাতে কমিউনিটি সেন্টার পরিদর্শনে গিয়ে
এক কিশোরীকে সম্রাটের (ছদ্মনাম) বিছানায় শুয়ে থাকতে দেখা গেছে। এ সময় সম্রাট পাশেই
দাঁড়িয়ে ছিলেন। জানতে চাইলে ওই কিশোরী সম্রাটকে তার ভাই বলে সম্বোধন করেন এবং তিন
দিন আগে কমিউনিটি সেন্টারে এসেছেন বলে জানিয়েছিলেন।
পরের
রাতেই (শনিবার রাত) ওই কিশোরীরসহ দুজনকে হত্যার পর তাদের মরদেহ পুড়িয়ে দেন সম্রাট।
পরদিন রোববার দুপুরের পর তাদের লাশ উদ্ধার করা হয়। পরে সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে
খুনের সঙ্গে সম্রাটের জড়িত থাকার বিষয়টি নিশ্চিত হয়ে রোববার সন্ধ্যায় তাকে গ্রেপ্তার
করা হয়।
গতকাল
সোমবার আদালতে দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে তিনি ছয় খুনের সঙ্গে জড়িত থাকার
কথা স্বীকার করেছেন।
হেলাল
উদ্দিন বলেন, ভবঘুরে ওই সিরিয়াল কিলার দিনের বেলায় থানার আশপাশে ঘোরাফেরা করলেও গভীর
রাতে তার দেখা মিলত ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক বা পদচারী-সেতুতে। যেসব ভবঘুরে বা পাগল নারী-পুরুষ
রাতে পদচারী-সেতুতে ঘুমাতেন, তাদের কাউকে কাউকে ফুসলিয়ে তিনি পৌর কমিউনিটি সেন্টারে
নিয়ে আসতেন। যারা তার কথায় কমিউনিটি সেন্টারে আসতেন, তারাই খুনের শিকার হতেন।
জানতে
চাইলে সাভার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরমান আলী বলেন, খুনি ধরা পড়েছেন এবং
খুনের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকারও করেছেন। এখন ভিকটিম, অর্থাৎ যারা খুন হয়েছেন,
তাদের পরিচয় শনাক্তের কাজ চলছে।
আরমান
আলী আরও বলেন, ‘শুধু এই ছয় খুনই নয়, সম্রাট আরও কোনো অপরাধের সঙ্গে জড়িত থাকতে পারেন।
তদন্ত চলছে। আশা করি, সব তথ্য বের হয়ে আসবে।’
গত
বছর ১৯ ডিসেম্বর ওই কমিউনিটি সেন্টারের ভেতরেই আরও এক যুবককে হত্যা করেন সবুজ।
এর
আগে সাভারে ছয় খুনের ঘটনায় আটক হওয়ার পর পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে এই সিরিয়াল কিলার
খুনের দায় স্বীকার করে জানিয়েছেন ‘কোনো পাগল বা ভবঘুরেকে অনৈতিক যৌনাচারে লিপ্ত হতে
দেখলেই তাদের “থার্টি ফোর” বা “সানডে মানডে ক্লোজ”
করে দিতাম।’
মন্তব্য করুন


সাতক্ষীরায় সেনাবাহিনীর এক অভিযানে বিপুল মাদক, নগদ টাকা ও দেশীয় অস্ত্রসহ মাদক ব্যবসায়ী ইয়াসিন আরাফাতসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অভিযানটি বুধবার (১৪ জানুয়ারি) ভোর সাড়ে ৪টার দিকে সদর উপজেলার পলাশপোল এলাকায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত হয়।
গ্রেপ্তাররা হলেন—মো. ইয়াসিন আরাফাত (২৫), মো. রাকিব হোসেন (২০) ও মো. মুরাদ হোসেন (২০)। ইয়াসিন আরাফাত পলাশপোল গ্রামের মো. আমিনুল সরদারের ছেলে। রাকিব হোসেন ও মুরাদ হোসেন কামালনগর গ্রামের বাসিন্দা।
অভিযানে তাদের কাছ থেকে ৪২০ পিস ইয়াবা, মাদক বিক্রির নগদ ৪ লাখ ১৫ হাজার ২৩০ টাকা, ৬টি দেশীয় অস্ত্র, ১৫টি লাঠি ও একটি মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়েছে। সেনাবাহিনীর সূত্র জানায়, ইয়াসিন আরাফাত সাতক্ষীরার একজন শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচিত এবং তার বিরুদ্ধে মাদক চোরাচালান ও চাঁদাবাজিসহ একাধিক অভিযোগ রয়েছে।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, গ্রেপ্তাররা এসব অস্ত্র ও লাঠি ব্যবহার করে এলাকায় বড় ধরনের নাশকতার পরিকল্পনা করছিল। তাদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের পর সাতক্ষীরা সদর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
সেনাবাহিনী জানিয়েছে, এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ ও মাদকদমন অভিযানের কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
মন্তব্য করুন


এক ব্যক্তির নামে ১০টির বেশি মোবাইল সিম থাকলে সেগুলো আজ বৃহস্পতিবারের (৩০ অক্টোবর) মধ্যে সংশ্লিষ্ট অপারেটরের মাধ্যমে ‘ডি-রেজিস্টার’ করার নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)।
সম্প্রতি বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) এক জরুরি বার্তায় এ তথ্য জানানো হয়।
২০২৫ সালের মার্চ পর্যন্ত দেশে সক্রিয় মোবাইল সিমের সংখ্যা ১৮ কোটি ৬২ লাখ। অথচ প্রকৃত মোবাইল গ্রাহক মাত্র ৬ কোটি ৭৫ লাখ। এর মধ্যে ৮০ শতাংশের বেশি গ্রাহকের নামে ৫টির কম সিম রয়েছে। ৬ থেকে ১০টি সিম আছে প্রায় ১৬ শতাংশ গ্রাহকের নামে, আর ১১টির বেশি সিম ব্যবহার করেন মাত্র ৩ শতাংশ।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গ্রাহকরা নিজেদের এনআইডিতে পছন্দমতো ১০টি সিম রেখে অতিরিক্ত সিমগুলো নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সংশ্লিষ্ট মোবাইল অপারেটরের কাস্টমার কেয়ারের মাধ্যমে ডি-রেজিস্টার (নিবন্ধন বাতিল) বা মালিকানা পরিবর্তন করতে পারবেন। সময়সীমা শেষ হলে কমিশন দৈবচয়নের মাধ্যমে অতিরিক্ত সিম স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল করবে।
নিজের এনআইডির বিপরীতে কতগুলো সিম নিবন্ধিত আছে তা যাচাই করার জন্য ব্যবহারকারীরা *১৬০০১#, এনআইডির শেষ ৪ ডিজিট পাঠিয়ে তথ্য জানতে পারবেন।
যদি গ্রাহক নিজে অতিরিক্ত সিম ডি-রেজিস্টার করতে ব্যর্থ হন, তাহলে কমিশন দৈবচয়নের ভিত্তিতে অতিরিক্ত সিমগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল করবে বলে সতর্ক করেছে বিটিআরসি।
মন্তব্য করুন


রাজধানীর যাত্রাবাড়ী এলাকায় গরমে অসুস্থ
হয়ে পড়েছিল একজন রিকশাচালক, ট্রাফিক পুলিশের দ্রুত পদক্ষেপে রক্ষা পেল রিকশাচালকের
প্রাণ। প্রচণ্ড গরমে রিকশা চালানো অবস্থায় হঠাৎ শ্বাস-প্রশ্বাস বন্ধ হয়ে সড়কে পড়ে
যান ওই ব্যক্তি। এমন ঘটনা দেখে ট্রাফিক পুলিশরা দ্রুত গিয়ে তাকে সুস্থ করে তোলেন।
সোমবার (২৯ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ৯টার
দিকে যাত্রাবাড়ী ট্রাফিক পুলিশ বক্সের সামনে ঘটে এমন ঘটনা। জানা যায়, সেখানে দায়িত্বরত
ছিলেন ট্রাফিক ইন্সপেক্টর পবিত্র বিশ্বাস। তিনি তাৎক্ষণিকভাবে যাত্রাবাড়ী মোড়ে দায়িত্বরত
অন্যান্য ট্রাফিক পুলিশ সদস্যদের সহযোগিতায় রিকশাচালকের মাথায়, চোখে ও মুখে পানি ছিটিয়ে
দেন। এরপর পুলিশ বক্স থেকে নিয়মিতভাবে সাধারণ জনগণের জন্য বিলি করা পানি ও স্যালাইন
অসুস্থ রিকশাচালককে খাওয়ালে তিনি ক্রমাগত সুস্থ হয়ে সাধারণ অবস্থায় ফিরে আসেন।
সুস্থ হওয়ার পর রিকশাচালক জানান, তিনি
রিকশা চালাচ্ছিলেন। প্রচণ্ড গরমের কারণে হঠাৎ তার শ্বাস-প্রশ্বাস বন্ধ হয়ে যায়। তখন
তিনি চলন্ত রিকশা থেকে রাস্তায় পড়ে যান। পুলিশের দ্রুত সহযোগিতার জন্য তিনি তার প্রাণ
ফিরে পেয়েছেন। তা না হলে হয়তো হিট স্ট্রোকে তার মৃত্যুও হতে পারতো।
এ সময় তিনি ট্রাফিক পুলিশের প্রতি কৃতজ্ঞতা
প্রকাশ করেন।
মন্তব্য করুন


নতুন নির্বাচন কমিশন গঠিত হলো।
আজ বৃহস্পতিবার (২১ নভেম্বর) এ সংক্রান্ত
পৃথক প্রজ্ঞাপন জারি করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার হিসেবে নিয়োগ
পেয়েছেন অবসরপ্রাপ্ত সচিব এ এম এম নাসির উদ্দীন। এ পদে বিএনপি যে দুজনের নাম প্রস্তাব
করেছিল, সেই তালিকায় তার নাম ছিল।
নির্বাচন কমিশনার পদে যে চারজন নিয়োগ
পেয়েছেন তারা হলেন- অবসরপ্রাপ্ত অতিরিক্ত সচিব মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার, অবসরপ্রাপ্ত
জেলা ও দায়রা জজ আবদুর রহমানেল মাসুদ, অবসরপ্রাপ্ত যুগ্মসচিব তহমিদা আহমদ এবং ব্রিগেডিয়ার
জেনারেল (অবসরপ্রাপ্ত) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ।
পৃথক প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, সংবিধানের
১১৮(১) অনুচ্ছেদে প্রদত্ত ক্ষমতাবলে রাষ্ট্রপতি সদয় হয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এবং
অন্যান্য কমিশনার পদে নিয়োগ দিয়েছেন। এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে। এ আদেশ অবিলম্বে
কার্যকর হবে বলেও প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়।
এ এম এম নাসির উদ্দীন জ্বালানি ও খনিজ
সম্পদ মন্ত্রণালয় এবং স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব ছিলেন। তিনি ২০০৯ সালের জানুয়ারিতে
অবসরে যান। বিসিএস ১৯৭৯ ব্যাচের প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তা ছিলেন তিনি।
মন্তব্য করুন


পবিত্র ঈদ-উল-ফিতর উপলক্ষে রেলের অগ্রিম ফিরতি টিকিট বিক্রি বুধবার ৪ এপ্রিল শুরু হবে।
টিকিট বিক্রি চলবে ১০ এপ্রিল পর্যন্ত।
৪ এপ্রিল,বুধবার সকাল ৮টা থেকে রেলওয়ের ওয়েবসাইট ও মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে টিকিট বিক্রি করা হবে। সম্প্রতি প্রকাশিত বাংলাদেশ রেলওয়ের ঈদুল ফিতর উপলক্ষে নেওয়া কার্যবিবরণী থেকে এসব তথ্য জানা যায়।
আগের ঈদগুলোতে ৫ দিনের টিকিট বিক্রি করলেও এবারই প্রথম ৭ দিনের টিকিট বিক্রি করবে রেলওয়ে। ঈদ উপলক্ষে ঘরমুখো মানুষের এই ট্রেন যাত্রার টিকিট ভোগান্তিবিহীন কিনতে শতভাগ টিকিট অনলাইনে বিক্রি করা হবে।
আন্তঃনগর ট্রেনের ১৩ এপ্রিলের টিকিট বিক্রি করা হবে ৩ এপ্রিল; ১৪ এপ্রিলের টিকিট বিক্রি করা হবে ৪ এপ্রিল; ১৫ এপ্রিলের টিকিট বিক্রি করা হবে ৫ এপ্রিল; ১৬ এপ্রিলের টিকিট বিক্রি করা হবে ৬ এপ্রিল; ১৭ এপ্রিলের টিকিট বিক্রি করা হবে ৭ এপ্রিল; ১৮ এপ্রিলের টিকিট বিক্রি করা হবে ৮ এপ্রিল এবং ১৯ এপ্রিলের টিকিট বিক্রি করা হবে ৯ এপ্রিল। এছাড়া যাত্রী সাধারণের অনুরোধে ২৫ শতাংশ টিকিট যাত্রা শুরুর আগে প্রারম্ভিক স্টেশন থেকে পাওয়া যাবে।
মন্তব্য করুন


বড়দিন উপলক্ষে খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেছেন প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস।
আজ রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন তিনি।
ধর্ম উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন, বাংলাদেশের ক্যাথলিক খ্রিস্টানদের প্রধান ধর্মগুরু আর্চবিশপ বিজয় এন ডি’ক্রুজ, ন্যাশনাল ক্রিশ্চিয়ান ফেলোশিপ অব বাংলাদেশের সভাপতি বিশপ ফিলিপ পি অধিকারী, খ্রিস্টান ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের ট্রাস্টি ড. বেনেডিক্ট আলো ডি রোজারিও, জাতীয় চার্চ পরিষদ বাংলাদেশ-এর সভাপতি খ্রিস্টোফার অধিকারীসহ দেশের খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিবর্গ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
এ সময় খ্রিস্টান ধর্মের নেতারা তাঁদের শুভেচ্ছা বক্তব্যে বিশ্বজুড়ে প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূসের সুনাম এবং দেশের অর্থনীতি ও সার্বিক পরিস্থিতির উন্নয়নে তাঁর ভূমিকার কথা উল্লেখ করেন। প্রধান উপদেষ্টার নেতৃত্বে আগামী নির্বাচনও সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে আয়োজিত হবে বলে তাঁরা আশা প্রকাশ করেন।
আর্চবিশপ বিজয় এন ডি’ক্রুজ তাঁর শুভেচ্ছা বক্তব্যে যিশু খ্রিস্টকে সার্বজনীন উল্লেখ করে বলেন, যিশু খ্রিস্টের ক্ষমা ও মানবসেবার মহান আদর্শকে সামনে রেখে বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি মানুষের সঙ্গে বাংলাদেশের মানুষও এ বছর উৎসাহ-উদ্দীপনার সঙ্গে বড়দিন উদযাপন করছে।
প্রধান উপদেষ্টাকে বড়দিনের শুভেচ্ছা জানিয়ে আর্চবিশপ বিজয় এন ডি’ক্রুজ বলেন, ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পরে বাংলাদেশকে নতুন করে গড়ে তুলতে জনগণ আপনার ওপর আস্থা রেখেছিল। আপনি অত্যন্ত নিষ্ঠার সঙ্গে সে দায়িত্ব পালন করে চলেছেন। আমরা প্রার্থনা করি, একটি সুন্দর ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে আপনার প্রচেষ্টা সফল হবে।’
প্রধান উপদেষ্টা উপস্থিত নেতৃবৃন্দসহ সবাইকে বড়দিন ও আসন্ন নববর্ষের শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, ‘আপনারাই সমাজের প্রতিবিম্ব। আপনাদের দেখলে বুঝতে পারি, সবকিছু ঠিক আছে কি না।’
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, আমরা একটি সুস্থ সমাজ গড়ে তুলতে চাই। সে জন্যই গণঅভ্যুত্থানের চেতনাকে সমুন্নত রাখতে জুলাই সনদ প্রস্তুত করা হয়েছে। এই সনদের ওপর গণভোটের মাধ্যমে দেশ আরেক ধাপ এগিয়ে যাবে।
তিনি বলেন, এবারের নির্বাচনে সংসদ নির্বাচনের সঙ্গে গণভোটও অনুষ্ঠিত হবে। গণভোটে জনগণ যে রায় দেবে, পরবর্তীতে সংসদ সেভাবেই সংস্কার কার্যক্রম গ্রহণ করবে।
প্রধান উপদেষ্টা এ সময় আসন্ন নির্বাচন ও গণভোটের বিষয়ে জনগণকে সচেতন করে তুলতে ধর্মীয় নেতৃবৃন্দকে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।
বড়দিন উপলক্ষে খ্রিস্টান ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টকে আড়াই কোটি টাকা অনুদান দেওয়ার জন্য অনুষ্ঠানে অন্তর্বর্তী সরকারকে বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানান ট্রাস্টের নেতৃবৃন্দ। দেশব্যাপী ৮০০টি চার্চের মধ্যে তিন ধাপে এ অনুদান বিতরণ করা হচ্ছে বলে জানান তাঁরা।
পরে বড়দিন উপলক্ষে খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিদের সঙ্গে নিয়ে কেক কাটেন প্রধান উপদেষ্টা।
মন্তব্য করুন


আজ
বৃহস্পতিবার ( ২৫ ডিসেম্বর ), খ্রিষ্ট ধর্মাবলম্বীদের সর্ববৃহৎ ধর্মীয় উৎসব শুভ বড়দিন।
ধর্মীয়
বিশ্বাস অনুযায়ী, এ দিনেই ফিলিস্তিনের বেথলেহেমে জন্মগ্রহণ করেন খ্রিষ্ট ধর্মের প্রবর্তক
যিশুখ্রিষ্ট। তাঁর জন্মদিন উপলক্ষ্যে বিশ্বজুড়ে খ্রিষ্টান সম্প্রদায় প্রার্থনা, ধর্মীয়
আচার ও আনন্দঘন আয়োজনের মধ্য দিয়ে দিনটি উদযাপন করছে। বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও
আজ বড়দিন উদযাপন করা হচ্ছে যথাযোগ্য মর্যাদা ও উৎসবমুখর পরিবেশে। এ উপলক্ষ্যে দেশে
সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। খ্রিষ্টান ধর্মানুসারীরা গির্জায় বিশেষ প্রার্থনার পাশাপাশি
পরিবার ও প্রিয়জনদের সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি করছেন।
বড়দিন
উপলক্ষ্যে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের গির্জাগুলো সাজানো হয়েছে নতুন রূপে।
আলোকসজ্জা, ফুল, ব্যানার ও ধর্মীয় প্রতীকে গির্জাগুলো উৎসবের আবহে সজ্জিত করা হয়েছে।
গত সন্ধ্যা থেকেই অনেক গির্জা ও স্থাপনায় আলোর ঝলকানি বড়দিনের আনন্দকে আরও প্রাণবন্ত
করে তুলেছে। খ্রিষ্টান পরিবারগুলোতেও বড়দিনকে ঘিরে রয়েছে বিশেষ প্রস্তুতি। ঘরে ঘরে
তৈরি হচ্ছে কেক ও ঐতিহ্যবাহী খাবার। পরিবারের সদস্যদের একত্রে সময় কাটানো, খাওয়াদাওয়া
ও আনন্দ উপভোগ বড়দিনের অন্যতম অনুষঙ্গ। অনেক এলাকায় ধর্মীয় সংগীত ও প্রার্থনাসভা আয়োজন
করা হয়েছে, যেখানে অংশ নিচ্ছেন খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের মানুষ। অনেকেই আত্মীয়স্বজনের
সঙ্গে সময় কাটাতে রাজধানী ও বড় শহর ছেড়ে গ্রামের বাড়িতে যাচ্ছেন। পরিবারকেন্দ্রিক এই
আনন্দই বড়দিনের উৎসবকে আরও তাৎপর্যপূর্ণ করে তোলে।
রাজধানীর
বিভিন্ন স্থানে বড়দিনের আমেজ চোখে পড়ছে। ক্রিসমাস ট্রি, শান্তা ক্লজ ও আলোকসজ্জায় সেজেছে
বিভিন্ন ভবন ও স্থাপনা। বড়দিনের আগের রাতে অনেক গির্জায় বিশেষ প্রার্থনার আয়োজন করা
হয়। আজ সকালেও বিভিন্ন গির্জায় বড়দিনের প্রার্থনা অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যেখানে শান্তি, সৌহার্দ্য
ও মানবকল্যাণ কামনা করা হয়।
খ্রিষ্টানদের
বিশ্বাস অনুযায়ী, যিশুখ্রিষ্ট মানবজাতিকে সত্য ও ন্যায়ের পথে পরিচালিত করতে পৃথিবীতে
আগমন করেছিলেন। তাঁর শিক্ষা মানবপ্রেম, ক্ষমা, সহনশীলতা ও শান্তির বার্তা বহন করে।
বড়দিনে সেই শিক্ষার আলোকে সমাজে মানবিকতা ও ন্যায়বোধ প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার ব্যক্ত করা
হয়।
ঢাকার
গির্জাগুলোতে বড়দিনের প্রস্তুতি চোখে পড়ার মতো। তেজগাঁওয়ের পবিত্র জপমালা রানীর গির্জা
ও মোহাম্মদপুরের সেন্ট ক্রিস্টিনা চার্চে করা হয়েছে বিশেষ সাজসজ্জা।
পবিত্র
জপমালা রানীর গির্জায় আজ সকাল সাতটা ও নয়টায় এবং সেন্ট ক্রিস্টিনা চার্চে সকাল আটটায়
বড়দিনের প্রার্থনা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এসব প্রার্থনায় অংশ নেন হাজারো মানুষ। গির্জায় আগত
যিশুভক্তরা জানান, তারা প্রার্থনা ও ধর্মীয় সংগীতের মধ্য দিয়ে শান্তি, ভালোবাসা ও মানবতার
আহ্বান জানাচ্ছেন। অনেকে নীরবে মোমবাতি জ্বালিয়ে যিশুখ্রিষ্টের আদর্শ স্মরণ করছেন।
সেন্ট ক্রিস্টিনা চার্চের পাল পুরোহিত ফাদার কাজল পিউরিফিকেশন বলেন, এবারের বড়দিনে বিশ্ব ও দেশের শান্তির জন্য প্রার্থনা করা হচ্ছে, যা সব ধর্মের মানুষের কল্যাণ কামনায় নিবেদিত। পবিত্র জপমালা রানীর গির্জার পুরোহিত ফাদার জয়ন্ত এস গোমেস বলেন, যিশুখ্রিষ্ট প্রান্তিক মানুষের মর্যাদা ও ন্যায় প্রতিষ্ঠায় কাজ করে গেছেন। বর্তমান প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের শান্তি, স্থিতিশীলতা ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠাই এবারের প্রার্থনার মূল বিষয়।
বড়দিন
উপলক্ষ্যে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস পৃথক
বাণী দিয়েছেন। রাষ্ট্রপতি তাঁর বাণীতে বলেন, বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ,
যেখানে সকল ধর্মের মানুষ স্বাধীনভাবে নিজ নিজ ধর্ম পালন করে। তিনি এই সৌহার্দ্য আরও
দৃঢ় করে দেশ গঠনে সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।
প্রধান
উপদেষ্টা তাঁর বাণীতে যিশুখ্রিষ্টকে মানবজাতির মুক্তির দূত ও আলোর দিশারি হিসেবে অবহিত
করে বলেন, যিশু শান্তি, সত্য ও ন্যায়ের বাণী প্রচার করে গেছেন। তিনি খ্রিষ্টধর্মাবলম্বীদের
দেশপ্রেম ও মানবতার আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে বাংলাদেশের স্বপ্ন বাস্তবায়নে ভূমিকা রাখার
আহ্বান জানান।
শুভ
বড়দিন শুধু একটি ধর্মীয় উৎসব নয়, এটি মানবতা, ভালোবাসা ও সম্প্রীতির প্রতীক, যা সমাজে
শান্তি ও সহমর্মিতা প্রতিষ্ঠায় মানুষকে অনুপ্রাণিত করে।
মন্তব্য করুন


বিএনপির ভারপ্রাপ্ত
চেয়ারম্যান তারেক রহমান আগামী ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফিরছেন। তার আগমন ঘিরে ইতোমধ্যে প্রয়োজনীয়
সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে বিএনপি। রাজনৈতিক অঙ্গনে তারেক রহমানের দেশে ফেরা নিয়ে
আলোচনা চললেও, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে তারেক রহমানের
আদরের পোষা বিড়াল ‘জেবু’।
নেটিজেনদের
মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে—তারেক রহমানের সঙ্গে কি জেবুও দেশে ফিরছে? ঘনিষ্ঠ একটি সূত্রে জানা
গেছে, সাইবেরিয়ান ব্রিডের সাত বছর বয়সী এই বিড়ালটির জন্য পাসপোর্টসহ প্রয়োজনীয় সব আনুষ্ঠানিক
অনুমোদন ইতোমধ্যেই সম্পন্ন করা হয়েছে। ফলে নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে, তারেক রহমান পরিবারসহ
তার আদরের পোষা বিড়াল জেবুকেও সঙ্গে নিয়েই দেশে ফিরছেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে
তারেক রহমানের ব্যস্ত সময়ের ফাঁকে পোষা বিড়াল জেবুর সঙ্গে খুনসুটি করার বিভিন্ন ছবি
ও মুহূর্ত আগেও বহুবার ভাইরাল হয়েছে। প্রাণীর প্রতি তার ভালোবাসা নেটিজেনদের মাঝে নানা
সময় প্রশংসাও কুড়িয়েছে।
সম্প্রতি বিবিসি
বাংলাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তারেক রহমান তার পোষা প্রাণী এবং প্রাণীপ্রেমের বিষয়ে
তিনি বলেন, বিড়ালটি মূলত তার মেয়ের, তবে এখন পরিবারের সবারই আদরের হয়ে উঠেছে। সেই
সাক্ষাৎকারে তিনি বিড়ালের নাম ‘জেবু’ বলেও উল্লেখ করেন।
মানবিক ও ধর্মীয়
দৃষ্টিকোণ থেকে প্রাণীর প্রতি মমতার বিষয়েও তিনি মত প্রকাশ করেন। তারেক রহমান বলেন,
আল্লাহ মানুষকে সৃষ্টির সেরা জীব হিসেবে সৃষ্টি করেছেন— তাই তার প্রতিটি সৃষ্টির প্রতি
সম্মান ও যত্ন নেয়া মানুষের দায়িত্ব। প্রকৃতির ভারসাম্য নষ্ট হলে মানুষের জীবন বিপন্ন
হতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
মন্তব্য করুন


প্রেমের
টানে সুদূর চীন থেকে মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলায় ছুটে এসেছেন চীনা নাগরিক ইয়ং
ডিলি (২৮)। রোববার (১ মার্চ) বেলা ১১টার দিকে তিনি উপজেলার বাসাইল ইউনিয়নের রসুলপুর
গ্রামে সাহারা আক্তারের (২০) বাড়িতে আসেন। দিনভর দুই পরিবারের আলোচনা ও প্রস্তুতির
পর সন্ধ্যার পরে মুসলিম রীতি অনুযায়ী তাদের বিয়ে সম্পন্ন হয়।
স্থানীয়
সূত্রে জানা যায়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘উইচ্যাট’ এর মাধ্যমে প্রায় এক বছর আগে ইয়ং ডিলি
ও সাহারার পরিচয় হয়। শুরুতে বন্ধুত্ব, পরে তা প্রেমে রূপ নেয়। দীর্ঘদিন অনলাইনে যোগাযোগের
পর এক মাসের ভিসা নিয়ে বাংলাদেশে আসেন ইয়ং ডিলি।
রোববার
সকালে রসুলপুর গ্রামে পৌঁছালে এলাকায় কৌতূহলের সৃষ্টি হয়। বিদেশি নাগরিককে একনজর দেখতে
আশপাশের মানুষ সাহারাদের বাড়িতে ভিড় করেন। পরে দুই পরিবারের সম্মতিতে সন্ধ্যায় কাজীর
মাধ্যমে মুসলিম রীতিতে বিয়ে সম্পন্ন হয়।
সাহারার
পরিবার জানায়, শুরুতে বিষয়টি নিয়ে তারা উদ্বিগ্ন ছিলেন। তবে দীর্ঘদিনের যোগাযোগ, ভিডিও
কল এবং পারস্পরিক বোঝাপড়ার ভিত্তিতে তারা আশ্বস্ত হন। পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য, ইয়ং
ডিলি ইসলাম ধর্ম ও বাংলাদেশের সংস্কৃতি সম্পর্কে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।
স্থানীয়
এক ইউপি সদস্য বলেন, বিদেশি নাগরিক বিয়ে করতে আসায় এলাকায় ব্যাপক সাড়া পড়েছে। তবে বিয়ের
ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছে।
জানা
গেছে, ইয়ং ডিলি বর্তমানে এক মাসের ভিসায় বাংলাদেশে অবস্থান করছেন। বিয়ের পর কিছুদিন
তিনি স্ত্রীকে নিয়ে শ্বশুরবাড়িতে থাকবেন। পরবর্তী সময়ে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সম্পন্ন
করে দম্পতি ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নির্ধারণ করবেন।
মন্তব্য করুন


কলা
সকলেরই প্রিয় ফল। স্ট্যামিনা বাড়াতে কলা খেয়ে থাকেন অনেকেই। এটি সব মৌসুমেই পাওয়া যায়।
কিন্তু কখনও কি ভেবেছেন, কলা কেন সোজা না হয়ে বাঁকা হয়? পৃথিবীতে প্রায় সব প্রজাতির
কলাই বাঁকা। কিন্তু কেন এমন? এর ব্যাখ্যায় বিভিন্ন মজার মজার তত্ত্ব থাকলেও রয়েছে বৈজ্ঞানিক
কারণ। চলুন জেনে নিই কলা সোজা হয় না কেন।
কলা
গাছে যখন মোচা ধরে অর্থাৎ ফুল আসে তখন মোচার পাপড়ির নীচে সারি সারি ছোট কলা গজাতে
থাকে। প্রতিটি পাতার নীচে একগুচ্ছ করে কলা থাকে। প্রথমে কলা মাটির দিকে চলে যায়। কয়েকদিন
পরে কলাগুলো বড় হওয়ার সময় ধীরে-ধীরে বাঁকতে থাকে। এই কারণকে বিজ্ঞানের ভাষায় ঋণাত্মক
জিওট্রপিজম বলা হয়।
কোনও
ফল যখন সূর্যের দিকে বেড়ে ওঠে তখন তাকে ঋণাত্মক জিওট্রপিজম বলা হয়। গাছের ফলের বৃদ্ধি
ফটোট্রপিজম, গ্র্যাভিটিজম ও অক্সিনের ওপর নির্ভর করে। সে হিসেবে অন্যান্য ফলের মতো
কলার পাতা ও ফল মহাকর্ষ বলের জন্য নিচের দিকে ঝুলে থাকে। কিন্তু কলা বড় হওয়ার সঙ্গে
সঙ্গে সূর্যের আলোর দিকে বাড়তে শুরু করে। এই দুই বলের দ্বন্দ্বে কলা ক্রমেই বিশেষ
বাঁকা আকার ধারণ করে।
কলাগাছ
ট্রপিকাল রেইনফরেস্ট গাছ হওয়ায়, এটিকে অনেক গাছের মাঝখানে ও নীচে থাকতে হয়। সেজন্য
সূর্যের আলো কলা গাছে পৌঁছতে পারে না। তাই কলা জন্মানোর জন্য গাছগুলো সেই পরিবেশে মানিয়ে
নেয়।
তবে,
বর্তমানে অনেক খোলা জায়গায় কলা গাছ হয়। আর তাই কলা গাছ রোদ পায়। যেহেতু কলা গাছ রোদ
কম পায় তাই সূর্যের আলো পাওয়ার জন্য কলার কুড়ি থেকে ফল মধ্যাকর্ষের দিকে বৃদ্ধি পায়।
প্রথমে মাটির দিকে, তারপর আকাশের দিকে বাড়তে থাকায় কলার আকার বাঁকা হয়ে যায়।
পৃথিবীতে
এক হাজারেরও বেশি প্রজাতির কলা রয়েছে। রং, আকৃতি বিশেষে অনেক ধরনের কলা পাওয়া যায়।
তবে সেই সব কলার মধ্যে বেশিরভাগ কলাই বাঁকা। তবে সোজা কলা পাওয়া যায় না এ ধারণা একেবারেই
ভুল। এমন অনেক প্রজাতির কলা আছে, যেগুলি সূর্যের দিকে বাড়ে না। অর্থাৎ ওদের বৃদ্ধির
ক্ষেত্রে ঋণাত্মক জিওট্রপিজমের কোনও ভূমিকা নেই।
মন্তব্য করুন