

ঢাকা থেকে বরিশালের মুলাদীগামী যাত্রীবাহী লঞ্চ এমভি মহারাজ-৭ নোঙর করে রাখা একটি মালবাহী জাহাজের সঙ্গে সংঘর্ষে দুর্ঘটনায় পড়ে অন্তত ১০ জন যাত্রী আহত হয়েছেন। রোববার (২৮ ডিসেম্বর) সকাল ৯টার দিকে শরীয়তপুরের গোসাইরহাট উপজেলার কোদালপুর ইউনিয়ন এলাকায় পদ্মা নদীতে এ ঘটনা ঘটে। জানা গেছে, ঘন কুয়াশার কারণে নদীর তীরঘেঁষা অবস্থায় থাকা মালবাহী জাহাজটি সময়মতো নজরে না আসায় লঞ্চটির সঙ্গে ধাক্কা লাগে। এতে লঞ্চের বাম পাশের দোতলা অংশের একটি বড় অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। যাত্রীদের মধ্যে জিহাদ হোসেন নামের এক শিশুসহ কয়েকজন আহত হন। লঞ্চে থাকা এক যাত্রী আবু বকর ছিদ্দিক জানান, দুর্ঘটনার পর দোতলার যাত্রীরা আতঙ্কিত হয়ে নিচতলায় নেমে নিরাপদ স্থানে অবস্থান নেন। কিছু সময় পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে লঞ্চটি আবার মুলাদীর উদ্দেশে যাত্রা শুরু করে।
মন্তব্য করুন


সাজেকে বন বিভাগের কার্যালয়ে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় সোমবার (১৫ ডিসেম্বর) সাজেক থানায় একটি মামলা হয়েছে। মামলায় ১৯ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।বন বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, রোববার দুপুরে মাচালং একুইজ্জাছড়ি এলাকায় আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে বনভূমিতে গড়ে ওঠা অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে গেলে ইউপিডিএফ নেতা সচিব চাকমার নেতৃত্বে ইউপিডিএফ ও একটি ফেডারেশনের নারী কর্মীরা বন বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ওপর হামলা চালায়।অভিযোগ অনুযায়ী, পরে তারা মাচালং বাজারে অবস্থিত বন বিভাগের কার্যালয়ে ঢুকে ভাঙচুর ও লুটপাট চালায়। এ সময় গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র নষ্ট করা হয় এবং একটি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করা হয়। হামলার সময় বন কর্মকর্তা আশরাফুল আলমকে অপহরণের চেষ্টা হলে সেনাবাহিনী তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়।ঘটনার পর হামলাকারীরা গাছ কেটে সাজেক সড়ক অবরোধ করলে পর্যটকসহ বহু মানুষ দীর্ঘ সময় আটকা পড়েন। পরে সেনাবাহিনী সড়ক থেকে গাছ সরিয়ে যান চলাচল স্বাভাবিক করে।
এ ঘটনায় বন কর্মকর্তা মো. আখতারুজ্জামান বাদী হয়ে মামলা করেন। সাজেক থানার ওসি তোফাজ্জল হোসেন জানান, মামলাটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মন্তব্য করুন


ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডের পর নিরাপত্তা পরিস্থিতি বিবেচনায় ঝুঁকিতে থাকা ২০ গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিকে গানম্যান প্রদান করা হয়েছে। তালিকায় এনসিপির শীর্ষ নেতাসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের ব্যক্তিত্ব ও বিশিষ্ট ব্যক্তিরা রয়েছেন।
সোমবার দুপুরে সচিবালয়ে আইন-শৃঙ্খলা সংক্রান্ত কমিটির বৈঠক শেষে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী এ তথ্য জানান।
তিনি জানান, ডিজিএফআই, এনএসআই ও অন্যান্য গোয়েন্দা সংস্থার তথ্যের ভিত্তিতে যারা নিরাপত্তা ঝুঁকিতে রয়েছেন তাদের একটি তালিকা তৈরি করা হয়েছে। এর মধ্যে অনেককে গানম্যান দেওয়া হয়েছে, তবে অনেকে গানম্যান নিতে স্বেচ্ছায় রাজি হননি।
সূত্রে জানা গেছে, তালিকাভুক্ত ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন—
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, সদস্য সচিব আখতার হোসেন, দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সমন্বয়ক হাসনাত আব্দুল্লাহ, উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সমন্বয়ক সারজিস আলম, মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী এবং সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব তাসনিম জারা।
গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর ও সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান।
এছাড়া নিরাপত্তা চাওয়া হয়েছে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন মঞ্জু, ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ, লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টির (এলডিপি) সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমদ, গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মহাসচিব ইউনুস আহম্মেদ শেখের জন্যও।
জানা গেছে, জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমানের জন্য সার্বক্ষণিক গানম্যান এবং বাসভবনের নিরাপত্তার জন্য সশস্ত্র পুলিশ সদস্য প্রেরণের জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আবেদন করা হয়েছে।
মন্তব্য করুন


রাজধানীর
মিরপুর এলাকায় সরকারি হাসপাতালে নতুন চাকরি পাওয়া এক নারীর স্বামীকে অস্বীকৃতি জানানোর
ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। দীর্ঘ প্রস্তুতির পর সুমি আক্তার নামের
এই তরুণী নার্স পদে নিয়োগ পান।
তবে
চাকরি পাওয়ার পর থেকেই তার স্বামী আশরাফুলের সঙ্গে বৈবাহিক সম্পর্কে তীব্র টানাপোড়েন
দেখা দেয় এবং শেষ পর্যন্ত তিনি স্বামীকে স্বীকৃতি দিতে অস্বীকৃতি জানান। বিষয়টি স্থানীয়
মহলে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দেয়। একটি সরকারি হাসপাতালের নার্স হিসেবে নিয়োগ
পাওয়ার পর থেকেই সুমি ও আশরাফুলের মধ্যে দূরত্ব বাড়তে থাকে। ভিডিওতে প্রকাশিত কথোপকথনে
দেখা যায়, স্বামী আশরাফুল অভিযোগ করছেন—“আমার চোর বানাইছে আমার ওয়াইফ সুমি…
রিলেশন করে আমারে চোর বানাইছে।”
তিনি
দাবি করেন, সুমি একজন অচেনা পুরুষের সঙ্গে নিয়মিত মোবাইলে যোগাযোগ করেন এবং একটি সন্দেহজনক
মোবাইল নম্বর নিয়ে তাদের মধ্যে তীব্র বিরোধ সৃষ্টি হয়।
ঘটনাস্থলে
উপস্থিত এক নারী নিজেকে সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে সুমির মোবাইল নম্বর যাচাইয়ের কথা বলেন—
“আমি সাংবাদিক, নাম্বারটা উঠাও।”এতে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
অভিযুক্ত ব্যক্তিকে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন—“উনি আমারে ডিস্টার্ব করে, আমি কি করব?”
আশরাফুল
দাবি করেন, সুমি আগে তার বৈধ স্ত্রী ছিলেন। কিন্তু চাকরি পাওয়ার পর তিনি স্বামী হিসেবে
তাকে অস্বীকার করছেন। কথোপকথনের এক পর্যায়ে “তালাক আছে”
শব্দও শোনা যায়, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে। পাশে থাকা কয়েকজন পরিস্থিতি ঠান্ডা
করার চেষ্টা করে বলেন—“কেউ যাবে না, আইডেন্টিফাই আছে, সমস্যা
নাই।”তবে ততক্ষণে ঘটনাটি ভিডিওসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল
হয়ে যায়।
স্থানীয়দের
মতে, চাকরি পাওয়ার পর সুমি আক্তার নিজের ক্যারিয়ার ও সিদ্ধান্তে স্বাধীনতা চান। অন্যদিকে
স্বামী আশরাফুলের দাবি—সুমি নতুন সম্পর্কে জড়িয়েছেন এবং তাকে
অপমান করছেন। পরিবারের পক্ষ থেকে আলোচনায় বসার চেষ্টা হলেও এখনো কোনো সমাধান হয়নি।
স্থানীয়রা বলছেন, বিষয়টি আইনগত পর্যায়ে গড়াতে পারে।
মন্তব্য করুন


নেকবর হোসেন , কুমিল্লা প্রতিনিধি :
নির্বাচনী দায়িত্ব সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের লক্ষ্যে পুলিশের দক্ষতা ও সক্ষমতা বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (২৫ অক্টোবর) এ কর্মশালার চতুর্থ পর্যায় অনুষ্ঠিত হয়।অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স, ঢাকার অতিরিক্ত আইজিপি (এইচআরএম)আবু নাছের মোহাম্মদ খালেদ, বিপিএম। সভাপতিত্ব করেন ইন-সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারের কমান্ড্যান্ট (পুলিশ সুপার) মোঃ ফারুক হোসেন।প্রধান অতিথি তাঁর বক্তব্যে বলেন, “নির্বাচন একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ আয়োজন। এ ক্ষেত্রে পুলিশের ভূমিকা হলো নিরপেক্ষতা, শৃঙ্খলা ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা। ভোটার, প্রার্থী ও নির্বাচন-সংশ্লিষ্ট সকলের নিরাপত্তা নিশ্চিতে পুলিশের প্রতিটি সদস্যকে সর্বোচ্চ সতর্কতা ও পেশাদারিত্বের সাথে দায়িত্ব পালন করতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, “আজকের এই প্রশিক্ষণের মূল লক্ষ্য হলো নির্বাচনী দায়িত্ব পালনে পুলিশের পেশাদারিত্ব, দক্ষতা ও দায়িত্ববোধকে আরও সুদৃঢ় করা। আমাদের লক্ষ্য—‘নির্বাচন হবে শান্তিপূর্ণ, অবাধ, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য।’”
অনুষ্ঠানে কুমিল্লা জেলার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ, প্রশিক্ষকবৃন্দ ও প্রশিক্ষণার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
কর্মশালার মাধ্যমে অংশগ্রহণকারীরা মাঠপর্যায়ে আরও দক্ষ, আত্মবিশ্বাসী ও দায়িত্বশীল হয়ে উঠবেন বলে আশা প্রকাশ করেন আয়োজকরা
মন্তব্য করুন


ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলায় সার সংকটকে কেন্দ্র করে কৃষকদের ক্ষোভের মুখে মারধরের শিকার হয়েছেন উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা আকতার হোসেন। এতে তার একটি দাঁত ভেঙে যায় বলে জানা গেছে। ঘটনাটি ঘটে মঙ্গলবার (২ ডিসেম্বর) বিকেলে উমরাডাঙ্গী বাজার এলাকায়।
স্থানীয়দের বর্ণনা অনুযায়ী, উমরাডাঙ্গী বাজারে মল্লিক ট্রেডার্সের পক্ষ থেকে প্রতিনিধি মোজাম্মেল হোসেন কৃষকদের মাঝে সার বিতরণ করছিলেন। এ সময় অভিযোগ ওঠে—তিনটি ভ্যানে করে পাঁচ ব্যক্তি এসে একজন কৃষকের নামে ৩৩ বস্তা সার নেওয়ার চেষ্টা করেন। এতে লাইনে অপেক্ষমাণ কৃষকদের মধ্যে ক্ষোভ প্রকাশ পায় এবং মুহূর্তেই পরিস্থিতি উত্তেজিত হয়ে ওঠে। বিশৃঙ্খলা বাড়তে থাকলে দায়িত্বে থাকা উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা আকতার হোসেন এলাকা ছাড়ার চেষ্টা করেন।ঘটনা জানাজানি হলে গণঅধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় নেতা মামুনুর রশিদ মামুন সেখানে উপস্থিত হয়ে কৃষকদের শান্ত করতে উদ্যোগ নেন এবং দ্রুত উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাকে ঘটনাস্থলে আসার জন্য অনুরোধ জানান। পরে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সহিদুল ইসলাম, আকতার হোসেনসহ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে উত্তেজিত কৃষকরা আকতার হোসেনের ওপর চড়াও হয়ে তাকে মারধর করেন। গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে রাণীশংকৈল হাসপাতালে ভর্তি করেন। পরে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।মল্লিক ট্রেডার্সের মালিক বা প্রতিনিধিদের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সহিদুল ইসলাম জানান, “আকতার হোসেনের অবস্থা ভালো নয়। মাথায় আঘাত পেয়েছেন, দাঁতও ভেঙে গেছে। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে দিনাজপুরে নেওয়া হয়েছে। সুস্থ হওয়ার পর তার বক্তব্য অনুযায়ী প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”
মন্তব্য করুন


মজিবুর রহমান পাবেল, প্রতিবেদক:
বিএনপি চেয়ারপার্সন ও দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সুস্থতা কামনায় দোয়ার মধ্য দিয়ে কুমিল্লায় শুরু হয় রাষ্ট্র মেরামতের ৩১ দফা এবং কুমিল্লা নিয়ে হাজী আমিন উর রশিদ ইয়াছিনের স্বপ্ন–ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা সম্বলিত লিফলেট বিতরণ কার্যক্রম।
আজ শনিবার (৬ নভেম্বর) বিকালে নগরীর নূরপুর জামে মসজিদে আছরের নামাজ শেষে দোয়া অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়। পরে নূরপুর, হাউজিং ও কাটাবিল এলাকা ঘিরে এই কর্মসূচি ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা সৃষ্টি করে।
দোয়া শেষে চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা, সাবেক সংসদ সদস্য এবং কুমিল্লা-৬ আসনের জননেতা হাজী আমিন উর রশিদ ইয়াছিন লিফলেট বিতরণ শুরু করেন। তার নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত এই গণমুখী কর্মসূচিকে ঘিরে এলাকাজুড়ে ব্যাপক সাড়া পড়ে যায় এবং সড়কে সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। নারী-পুরুষ, তরুণ-প্রবীণসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ লিফলেট গ্রহণ করতে এগিয়ে আসেন।
চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা, সাবেক সংসদ সদস্য এবং কুমিল্লা-৬ আসনের জননেতা হাজী আমিন উর রশিদ ইয়াছিন বলেন,“মনোনয়ন নিয়ে সামান্য ভুল বোঝাবুঝি হয়েছিল। আমি বিষয়টি দলের চেয়ারম্যান জনাব তারেক রহমানকে পরিষ্কারভাবে জানিয়েছি। কারণ আমি আমার জীবনের বাকি সময়টা এই অঞ্চলের নেতাকর্মীদের সঙ্গেই থাকতে চাই।
অতীতের কঠিন সময়ে তারা যেমন আমার পাশে ছিলেন, আমিও তেমনি তাদের পাশে ছিলাম—এ সম্পর্ক আস্থার, ত্যাগের এবং আন্দোলনের। মামলা-হামলা, জুলুম-নির্যাতন—সব প্রতিকূল সময় আমরা একসঙ্গেই অতিক্রম করেছি।
তিনি আরও বলেন,“দলীয় মনোনয়ন বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন নেত্বত্বে থাকা দায়িত্বশীলরা। ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বিষয়টি দেখছেন বলেও আমাকে জানিয়েছেন। বিএনপি একটি গণতান্ত্রিক দল—এখানে জনগণের ইচ্ছাই সর্বোচ্চ গুরুত্ব পায়। জনগণ যা চাইবে, বিএনপিও সেই পথেই চলবে।”
দিনব্যাপী লিফলেট বিতরণ কর্মসূচিতে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী অংশ নেন। এর মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, সদর দক্ষিণ উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ এস এ বারী সেলিম,কুমিল্লা মহানগর বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক শহীদুল্লাহ রতন, আতাউর রহমান ছুটি, মাহাবুবুর রহমান দুলাল, মহানগর বিএনপির সাবেক সদস্য মুজিবুর রহমান কামাল, সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শফিউল আলম রায়হান, কুমিল্লা মহানগর যুবদলের সদস্য সচিব রোমান হাসান, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক সৈয়দ মেরাজ, কুমিল্লা মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক আমিরুল পাসা সিদ্দিকী রাকিব, জেলা যুবদলের সদস্য সচিব ফরিদ উদ্দিন শিবলু, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক খলিলুর রহমান বিপ্লব, আসিফ মাহমুদ জহির, সালমান সাঈদ, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব আনোয়ার হোসেন, মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব এ কে এম শাহেদ পান্না, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মহরম, কুমিল্লা মহানগর কৃষকদলের আহ্বায়ক কাজী শাহিনুর, সদস্য সচিব ইকরাম হোসেন তাজ, মহানগর যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সাজ্জাদ হোসেন, কুমিল্লা মহানগর ছাত্রদলের সভাপতি নাহিদ রানা,
জেলা ছাত্রদলের সভাপতি কাজী জোবায়ের আলম জিলানী, সাধারণ সম্পাদক ইমদাদুল হক ধীমান, সাংগঠনিক সম্পাদক শাহাদাৎ হোসেন রবিন, মহানগর ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক ইসমাইল হোসেন, আদর্শ সদর উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেম চেয়ারম্যান, মহানগর যুবদল নেতা মনছুর নিজামী, মশিউর রহমান সজিবসহ বিএনপি, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, ছাত্রদল এবং কৃষকদলের অসংখ্য নেতৃবৃন্দ।
এছাড়াও বিভিন্ন ওয়ার্ড বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা গণবিতরণ কার্যক্রমে যুক্ত হন।
নূরপুর, হাউজিং এবং কাটাবিল এলাকায় লিফলেট বিতরণের স্থানীয় দোকানদার, পথচারী, রিকশাচালক, শিক্ষার্থীসহ সবাই লিফলেট হাতে নিয়ে আলোচনায় অংশ নেন।
মন্তব্য করুন


মাদারীপুরের শিবচরে নিজ ক্লিনিকের নার্সকে ধর্ষণের অভিযোগে করা মামলায় শিবচর ইউনাইটেড হাসপাতালের মালিক আপেল মাহমুদকে (৪২) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
গতকাল বৃহস্পতিবার (১৩ মার্চ) রাতে শিবচরের বাহাদুরপুর এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার আপেল মাহমুদ শরীয়তপুর জেলার জাজিরা উপজেলার পশ্চিম সেনেরচর এলাকার মৃত চান মিয়া শিকদারের ছেলে। তার বিরুদ্ধে এর আগে শিশু ধর্ষণচেষ্টা ও চাঁদাবাজির মামলাও রয়েছে।
পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, শিবচর ইউনাইটেড হাসপাতালে কর্মরত একজন নার্সকে বিভিন্ন সময় হাসপাতালের মালিক আপেল মাহমুদ কুপ্রস্তাব দিতেন। গত বছরের ২০ ডিসেম্বর ওই নার্স হাসপাতালে কাজ শেষ করে বাড়ি ফিরছিলেন। তার কুপ্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় সেদিন বাড়ি ফেরার পথে তার গতিরোধ করে আপেল মাহমুদ জোরপূর্বক একটি মাইক্রোবাসে তাকে তুলে প্রাণে মেরে ফেলার ভয় দেখিয়ে কক্সবাজার নিয়ে যান।
সেখানে একটি আবাসিক হোটেলে তাকে তিন দিন আটকে রেখে ধর্ষণ করেন।
পরে ২৫ ডিসেম্বর তাকে শিবচর এনে একটি নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর করিয়ে ভুয়া বিয়ের নথি তৈরি করে ওই নার্সকে ছেড়ে দেন আপেল মাহমুদ। এ ঘটনার পর গত ৩০ ডিসেম্বর নার্সের পরিবার শিবচর থানায় মামলা দায়ের করতে গেলে মামলা না নেওয়ায় মাদারীপুর আদালতের দ্বারস্থ হন ভুক্তভোগী পরিবার।
আদালতের নির্দেশে চলতি বছরের ৭ জানুয়ারি শিবচর থানায় আপেল মাহমুদের বিরুদ্ধে একটি ধর্ষণ মামলা দায়ের করা হয়। এ ঘটনার পর আপেল মাহমুদ পলাতক ছিলেন।
গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে শিবচর থানার এসআই রেনুকা আক্তারের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল শিবচরের পাঁচ্চর ইউনিয়নের বাহাদুরপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে ক্লিনিক মালিক আপেল মাহমুদকে গ্রেপ্তার করে।
এ বিষয়
শিবচর থানার ওসি মো. রতন শেখ (পিপিএম) বলেন, ধর্ষণ মামলার আসামি আপেল মাহমুদের নামে এর আগেও শিশু ধর্ষণচেষ্টা ও চাঁদাবাজির মামলায় রয়েছে। তার প্রতিষ্ঠানে কর্মরত এক নার্সকে ধর্ষণের মামলায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
মন্তব্য করুন


বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) প্রথম ম্যাচে রংপুর রাইডার্স দাপুটে জয় দেখিয়ে শুরু করলো। লিটন দাস ও ডেভিড মালানের প্রাণবন্ত ব্যাটিংয়ে চট্টগ্রাম রয়্যালসকে ৭ উইকেট ব্যবধানে হারিয়ে নুরুল হাসান সোহানের দল শুরুতেই শক্তিশালী প্রভাব দেখাল।চট্টগ্রাম রয়্যালস প্রথমে ব্যাট করে মাত্র ১০২ রান সংগ্রহ করতে পারে। সহজ লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে রংপুর মাত্র ৩০ বল হাতে রেখে জয় নিশ্চিত করে।রংপুরের ওপেনার লিটন দাস ও ডেভিড মালান শুরু থেকেই আত্মবিশ্বাসী ব্যাটিং দেখান। তারা ধীরে ধীরে চট্টগ্রামের বোলারদের ওপর চড়াও হন এবং নিয়মিত বাউন্ডারি হাঁকাতে থাকেন। লিটন দাস ৩১ বলে ৪৭ রান করে আউট হন, তাওহীদ হৃদয় মাত্র ১ রান করে ফিরে যান। মালান ৪৮ বলে ৫১ রান করে ফিফটি তুললেও অপরাজিত থাকতে পারেননি। শেষ দিকে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ (১*) ও খুশদিল শাহ (৬*) সহজেই দলের জয় নিশ্চিত করেন।টস জিতে রংপুর অধিনায়ক নুরুল হাসান সোহান চট্টগ্রাম রয়্যালসকে ব্যাট করতে পাঠান। ইনিংসের প্রথম বলেই নাহিদ রানার আউট হন ইংলিশ ব্যাটার অ্যাডাম রশিংটনের হাতে। দ্বিতীয় উইকেটে মোহাম্মদ নাঈম শেখ ও মির্জা বেগ কিছুটা প্রতিরোধ গড়লেও বড় ইনিংস খেলতে পারেননি। বেগ ২৪ বলে ২০ রান ও নাঈম ২০ বলে ৩৯ রান করেন। এরপর ফাহিম আশরাফ ও মুস্তাফিজুর রহমানের ধারাবাহিক আঘাতের মুখে চট্টগ্রামের ব্যাটিং দ্রুত ভেঙে যায়। শেষ আটজন ব্যাটারের মধ্যে কেবল আবু হায়দার রনি দুই অঙ্কের রান তুলতে সক্ষম হন—তিনি করেন ২১ বলে ১৩ রান।রংপুরের বোলারদের মধ্যে ফাহিম আশরাফ সর্বাধিক কার্যকর ছিলেন, একাই পাঁচটি উইকেট শিকার করেন। মুস্তাফিজুর রহমান দুটি উইকেট নেন, এবং বাকি তিনটি উইকেট তিনজন বোলার ভাগাভাগি করে নেন।
মন্তব্য করুন


বিএনপি চেয়ারপার্সন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী
বেগম খালেদা জিয়াকে নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি
করা হয়েছে।
বুধবার (১১ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত
১টার পরে গুলশানের বাসা ফিরোজা থেকে হাসপাতালের উদ্দেশে রওনা দিয়ে ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া।
বেগম খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত চিকিৎসক
ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেনকে উদ্ধৃত করে বিএনপির মিডিয়া
সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান এ তথ্য জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, মেডিকেল বোর্ডের পরামর্শ
অনুযায়ী বিএনপি চেয়ারপার্সনের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হবে।
মন্তব্য করুন


প্রধান
উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেছেন, বাংলাদেশের নাগরিকরা অত্যন্ত সুস্পষ্ট
এবং দ্বিধাহীনভাবে জুলাই জাতীয় সনদের সংবিধান সংস্কারের প্রস্তাব সমূহের অনুকূলে তাদের
রায় দিয়েছেন। এই রায় থেকে এটা স্পষ্ট যে, বাংলাদেশের নাগরিকদের বৃহদাংশ আর পুরনো
ব্যবস্থায় ফিরে যেতে বা স্থিতাবস্থা বহাল রাখতে চান না। তারা চান পরিবর্তন, রাষ্ট্রব্যবস্থায়
সংস্কার।
আজ
শনিবার ( ১৪ ফেব্রুয়ারি ) সকালে ফরেন সার্ভিস একাডেমির মিলনায়তনে এক বিফ্রিংয়ে তিনি
এসব কথা বলেন।
গণভোটের
আগে জাতির উদ্দেশ্যে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের দেওয়ার ভাষণের উদ্ধৃতি তুলে
ধরে আলী রীয়াজ বলেন, ‘একটি জাতীয় রূপান্তর কখনোই একক সিদ্ধান্ত বা একক শাসনের মাধ্যমে
টেকসই হবে না। জনগণ রাষ্ট্রের প্রকৃত শক্তি। পরিবর্তনের চূড়ান্ত বৈধতা আসে জনগণের
সম্মতি থেকেই। তাই দেশের ভবিষ্যৎ দিক-নির্দেশনা নির্ধারণে জনগণকে সরাসরি সিদ্ধান্ত
গ্রহণের সুযোগ দেওয়ায় হলো গণতান্ত্রিক পথের মূল ভিত্তি।
এই
লক্ষ্যেই আমরা গণভোটের আয়োজন করেছি যাতে দেশের ভবিষ্যৎ সংস্কারের দিশা নির্ধারণে জনগণ
সরাসরি নিজেদের মত প্রকাশ করতে পারে। জনগণ আমার আহবানে সাড়া দিয়েছেন। সংস্কারের পক্ষে
জনরায় এসেছে।’
আলী
রীয়াজ বলেন, ‘গণভোটে দেওয়া জনগণের রায়কে কেবল সংখ্যার বিবেচনায় দেখলেই হবে না।
জনগণের
এই রায় হচ্ছে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণ অভ্যুত্থানে যারা প্রাণ দিয়েছেন, যারা
আহত হয়েছেন, যারা অকুতোভয়ে লড়াই করেছেন, তারা আমাদের ওপর যে দায়িত্ব অর্পণ করেছেন
তার স্বীকৃতি। তাদের দেওয়া দায়িত্ব পালনের জন্য জনগণের অঙ্গীকার।’
প্রায়
১৬ বছর ধরে যে বীরের রক্তস্রোত, মাতার অশ্রুধারা, নির্যাতিতের হাহাকার; তার যেন আর
পুনরাবৃত্তি না ঘটে সেই বিষয়ে প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো গঠনের জনমত আকাঙ্ক্ষার প্রকাশ
এই গণভোট। সার্বভৌম জনগণের যে অভিপ্রায়ের প্রকাশ ঘটেছিল ২০২৪ সালে; গণভোটের মধ্যে দিয়ে
এই রায় পুনর্বার প্রকাশিত হলো। আমাদের এই বিষয়গুলো বিস্মৃতত হবার সুযোগ নেই।
আলী
রীয়াজ বলেন, ‘গণভোটের মধ্যে দিয়ে সংস্কারের ব্যাপারে যে সুস্পষ্ট গণরায় প্রকাশিত
হয়েছে, তা বাস্তবায়নের দায়িত্ব রাজনৈতিক দলসমূহের। আর রাষ্ট্র সংস্কারের ব্যাপারে
সকল রাজনৈতিক দল অঙ্গীকারবদ্ধ। ক্ষমতাসীন দল এবং জাতীয় সংসদ ও সংবিধান সংস্কার পরিষদের
প্রতিনিধিত্বকারী দলসমূহ এবং সংসদের বাইরেও যেসব রাজনৈতিক দল আছে তাদের সকলের প্রতি
আহ্বান হচ্ছে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে ঐক্যবদ্ধভাবে এই গণরায় বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে
হবে।’
মন্তব্য করুন