

সাংবাদিকদের
অধিকার প্রশ্নে সরকারের দায়িত্ব নিয়ে সমালোচনা করতে গিয়ে গণমাধ্যমের মালিকরা দায়িত্ব
এড়িয়ে যাচ্ছেন বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম। তিনি বলেন,
দায়িত্ব পালনে সরকারের ব্যর্থতা আছে, পাশাপাশি অন্য যাদের দায়িত্ব আছে কি দায়িত্ব পালন
করছে, এটাও বড় ব্যর্থতা। তাদের ব্যর্থতাও তুলে ধরা হবে। জুলাই-আগস্টে ছয়জন সাংবাদিক
নিহত হয়েছেন, তারা যেমন গুলিতে নিহত হয়েছেন।
আবার
বিরূপ পরিস্থিতিতে কাজ করার সময় এসব সাংবাদিকের কোনো প্রটেকটিভ ইক্যুইপমেন্ট দেওয়া
হয়নি।
আজ
রোববার (২৫ জানুয়ারি) রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি মিলনায়তনে জার্নালিস্ট সাপোর্ট
ডেস্ক হ্যান্ডওভার অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
শফিকুল
আলম বলেন, যেসব সাংবাদিকরা সামনে থেকে সংবাদ সংগ্রহ করলেন, গুলির মধ্যে কাজ করলেন তাদের
একটি হেলমেট নেই, তাদের একটি প্রটেক্টিভ ভেস্ট ছিল না, টিয়ার গ্যাস থেকে রক্ষা পেতে
কোনো ব্যবস্থা ছিল না। আশ্চর্যের বিষয় হলো সংবাদপত্রের মালিকদের যে সংগঠন নোয়াব একজন
সাংবাদিকের নিরাপত্তা সামগ্রী দেন না।
কয়েকদিন
আগে অনেক বড় অনুষ্ঠান করেছেন। সেখানে তারা অনেক কথা বলেছেন। কিন্তু তারা কোনো সাংবাদিকের
নিরাপত্তা সামগ্রী নিয়ে কথা বলেননি। ছয়জন সাংবাদিক নিহত হয়েছেন তারা এটা কোনো বিবৃতি
দেননি। তারা তাদের কর্মী নিয়ে কোনো দায়িত্ব পালন করেননি।
ঐক্য
প্রশ্নে তিনি বলেন, কয়েকদিন পর আমি সাংবাদিকতায় ফিরতে চাই। আমিও মনে করি সব সাংবাদিকরা
ঐক্যবদ্ধ থাকুক। কিন্তু সেটা হতে হবে সবার জন্য। কয়েকজন লোকের জন্য সিলেক্টিভ ঐক্য
নয়।
সবার
জন্য ঐক্য থাকতে হবে। সাংবাদিক যখন যুদ্ধক্ষেত্রে যায় সবার কাছে থেকে সাপোর্ট চায়,
তার জন্য বিশেষ কোনো পরিস্থিতি থাকে না। তারা তাদের পাঠকের জন্য খবর সংগ্রহ করবে, খবর
সার্ভ করবে। সব এক রকম হতে পারে না। একজন সম্পাদককে অফিস থেকে টেনে হিছড়ে বের করে আনা
হবে তথ্য ঐক্যের কথা বলা হবে না, একটা বিবৃতি দেবো না, এটা হতে পারে না। ঐক্য তখনও
থাকতে হবে।
ফেডারেল
সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি ওবায়দুর রহমান শাহীন বলেন, জুলাই-আগস্ট আন্দোলনের সময় অন্য
কেউ যখন মাঠে দাঁড়াতে পারছিল না তখন সাংবাদিকরা মাঠে থেকেছে। অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের
পর সেই সাংবাদিকদের মূল্যায়ন করা হয়নি, জায়গামতো পদায়ন করা হয়নি। এর মাধ্যমে সাংবাদিকদের
সঠিক ব্যবহার করা হয়নি।
সরকারি একটি গণমাধ্যমে ফ্যাসিস্ট বসানো হয়েছে, এখনো বহাল। বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে ডিআরইউ নেতাদের সাক্ষাতের খবর রাষ্ট্রায়ত্ত গণমাধ্যমটিতে প্রকাশের অনুরোধ করা হলে ডিআরইউ নেতার সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করেন। সরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রধান এখনো এমন সাহস কোথায় থেকে পায়, তার জবাব চান ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের এ শীর্ষনেতা।
সিনিয়র
সাংবাদিক সোহরাব হাসান বলেন, এখন সাংবাদিক আক্রান্ত। সাংবাদিক আক্রান্ত হলে আর সাংবাদিকতা
থাকে না। এখন তাই হয়েছে। জুলাই অভ্যুত্থানের পর দুই শতাধিক সাংবাদিকের বিরুদ্ধে হত্যা
মামলা দেওয়া হয়েছে। অনেককে জেলে পাঠানো হয়েছে। কোনো সাংবাদিককে হত্যা মামলার আসামী
করে জেলে থাকবে এটা কোনোভাবে ভালো দেখায় না। কেউ সাংবাদিকতার নামে দালালি করলে তার
বিরুদ্ধে দালাল হিসেবে বিচার করা হোক, হত্যা মামলা নয়।
তিনি
সাংবাদিকদের ঐক্যের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে বলেন, জুলাই পরবর্তী ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে
সাংবাদিকদের ইউনিটি ধরে রাখতে পারলেও প্রেসক্লাব ধরে রাখলে পারলো না। কাউকে বাদ দিল,
কারো সদস্য পদ স্থগিত করলো। প্রেসক্লাবের নির্বাচনটাও শেষ পর্যন্ত স্থগিত করা হয়েছে।
তিনি
বলেন, সরকার সফলতার সঙ্গে এবং দ্রুত অনেক তদন্ত সম্পন্ন করেছে, কিন্তু সাগর-রুনির তদন্ত
করতে পারলো না। শুরুতে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, শেষ পর্যন্ত তা রক্ষা করতে পারেনি। আগের
সরকারের সময়ে বারবার তদন্ত প্রতিবেদন দেওয়া তারিখ পরিবর্তন করা হয়েছে। কী এমন হলো কেউ
প্রতিবেদন দিতে পারছে না। তদন্ত প্রতিবেদন না দিতে না পারলে দেশবাসীর কাছে ক্ষমা চেয়ে
সরে যাওয়া হোক।
জুলাই
আন্দোলন পরবর্তী কোন কোন গণমাধ্যমের অফিস দখল করা হয়েছে, মহল বিশেষের চাপে সাংবাদিকদের
চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। কেন চাকরিচ্যুত করা হয়েছে সে কথাটিও বলা হয়নি। এগুলো সাংবাদিকের
নিরাপত্তা ঝুঁকিতে ফেলে বলে মন্তব্য করেন সোহরাব হাসান।
ডিআরইউ
সভাপতি আবু সালেহ আকন বলেন, সাংবাদিকরা ঘরে, বাইরে এবং অফিসে নির্যাতন ও নিগ্রহের শিকার
হচ্ছে। বেতনের নিরাপত্তা না থাকার কারণে পকেটে টাকা থাকে না। এজন্য পরিবারে নির্যাতনের
শিকার হন। খবর সংগ্রহ করতে বাইরে গিয়ে গন্তব্যে পৌছতে না পেরে নিগ্রহের শিকার হন। আর
পকেটে টাকা না থাকার কারণে ভালো রিপোর্টটি না দিতে পেরে নিগ্রহের শিকার হন। শুধু আইনি
নিরাপত্তা নয়, সাংবাদিকের বেতন-ভাতার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। যাতে ব্যক্তি, পরিবার,
সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়।
রাজনৈতিক
পালা বদলে সাংবাদিক হত্যা মামলায় দুই শতাধিক সাংবাদিকের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা নিয়ে
দেওয়া বক্তব্যের প্রসঙ্গে টেনে ডিআরইউ সভাপতি বলেন, এখন উষ্ণ পরিবেশে উষ্ণ দাবি তোলা
হচ্ছে। অতীতে ভিন্ন মত হওয়ার কারণে যখন ৭ নম্বর ক্রমিকের নয়া দিগন্ত পত্রিকা ৫৭ নম্বরে
নামিয়ে দেওয়া হয় তখন কোনো কথা উঠে না, এখন কথা উঠছে। আগেও এ ধরনের কথা উঠা দরকার ছিল।
ঢাকা
সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইইজে) সভাপতি শহিদুল ইসলাম বলেন, অতীতে যাদের নেতৃত্বে সাংবাদিকদের
নিয়ে কাজ করা হয়েছে, সাগর-রুনি হত্যা মামলাসহ বিভিন্ন দাবি দাওয়া দিয়ে কর্মসূচি শুরু
হয়েছে তখন মনে করেছে সাংবাদিকদের স্বার্থ ও নিরাপত্তায় দাবি জানাতে থাকলে সরকার বিরক্ত
হবে। তাই কারা আন্দোলন-কর্মসূচি থেকে পিছিয়ে আসে। এজন্য সাগর-রুনির হত্যার বিচার করা
যায়নি। সাংবাদিকের অধিকার ও কল্যাণমূলক কর্মকাণ্ড তুলে ধরেন ডিআরইউ সাধারণ সম্পাদক
মাইনুল হাসান সোহেল।
অনুষ্ঠানে
আরও বক্তব্য রাখেন ক্র্যাব সাধারণ সম্পাদক এমএম বাদশাহ, ডিআরইউ এর সাবেক নারী বিষয়ক
সম্পাদক নাদিয়া শারমিনসহ ইউনিসেফের নেতারা বক্তব্য রাখেন।
অনুষ্ঠানে
ইউনিসেফের পক্ষ থেকে ডিআরইউকে জার্নালিস্ট হেল্প ডেস্ক হস্তান্তর করা হয়। পেশাগত দায়িত্ব
সম্পর্কিত যে কোনো আইনি সহায়তা দেবে এ হেল্প ডেস্ক। আইনি কোনো সহায়তা চেয়ে ডেস্কে ফোন
করার সঙ্গে এ হেল্প ডেস্ক যেখানে যে ধরনের সহায়তা প্রয়োজন সহায়তা দেবে।
মন্তব্য করুন


ঢাকা
আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা আজ শুরু হয়েছে। ত্রিশতম এই মেলার উদ্বোধন করেছেন বাণিজ্য
উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন। নারায়ণগঞ্জ জেলার রূপগঞ্জে পূর্বাচলের স্থায়ী ভেন্যু বাংলাদেশ-চায়না
ফ্রেন্ডশিপ এক্সিবিশন সেন্টারে এ মেলার উদ্বোধন করেন তিনি। এ সময়ে বাণিজ্য উপদেষ্টা
বলেন, ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার ৩০তম সংস্করণ দেশের ব্যবসা-বাণিজ্যের ইতিহাসে
একটি মাইলফলক। এই বাণিজ্য মেলা নিছক পণ্যের প্রদর্শনী নয়, এটি বাংলাদেশের নতুন নতুন
উদ্যোগ, উদ্ভাবন ও বাণিজ্যিক উন্নয়নের প্রদর্শনী।
শেখ
বশিরউদ্দীন আরও বলেন, বাংলাদেশ আজ বিশ্ব বাণিজ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। রপ্তানি
পণ্যের উন্নয়ন, বহুমুখীকরণ, নতুন আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশ ও বাজার সংযোগ, অর্থনৈতিক
কূটনীতি জোরদার, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণ এবং দেশের ইতিবাচক ভাবমূর্তি উন্নয়নে
ও বৈদেশিক বিনিয়োগ আকর্ষণের মাধ্যমে টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জন আন্তর্জাতিক বাণিজ্য
মেলা আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য।
বাণিজ্য
উপদেষ্টা বলেন, মেলা আয়োজনের মাধ্যমে দেশের ব্র্যান্ড ইমেজ শক্তিশালী এবং বহিঃবিশ্বেও
দেশ সম্পর্কে একটি ইতিবাচক ধারণা তৈরি হয়। এছাড়াও ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা দীর্ঘদিন
ধরে এমন একটি প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করছে যা পণ্যের উৎপাদককে ভোক্তার সঙ্গে, উদ্যোক্তাকে
বিনিয়োগকারীর সঙ্গে এবং বাংলাদেশকে বিশ্ববাজারের সঙ্গে সংযুক্ত করে চলেছে। তিনি আরও
বলেন, এই মেলা বাণিজ্য, শিল্প ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে আমাদের অগ্রগতিকে প্রতিফলিত করে
এবং ঐতিহ্যবাহী হস্তশিল্প থেকে আধুনিক প্রযুক্তি-চালিত পণ্য উৎপাদন ও বহুমুখকীকরণে
আমাদের সক্ষমতা প্রদর্শন করে থাকে।
শেখ
বশিরউদ্দীন বলেন, এলডিসি গ্রাজুয়েশন পরবর্তী সময়ে দেশের রপ্তানি বাণিজ্যের অগ্রগতি
বজায় রাখার লক্ষ্যে পণ্য উন্নয়ন, বৈচিত্রায়ন ও নতুন নতুন বাজার অন্বেষণের উপযুক্ত কৌশল
হিসেবে গত ১ থেকে ৩ ডিসেম্বর পর্যন্ত এই ভেন্যুতেই একই আয়োজক সংস্থার উদ্যোগে ১ম বারের
মত ‘গ্লোবাল সোর্সিং এক্সপো ২০২৫ ঢাকা’— শিরোনামে একটি আন্তর্জাতিক সোর্সিং
ফেয়ার এর আয়োজন করা হয়েছে। তিনি বলেন, এর মাধ্যমে
দেশি-বিদেশি পর্যটক, দর্শনার্থী ও আমদানিকারকদের নিকট দেশের উৎপাদন ও রপ্তানি সক্ষমতার
বিশেষ পরিচিতির পথ সুগম হয়েছে। বছরে এক বা একাধিকবার এ ধরণের আয়োজন অব্যাহত থাকবে বলে
উল্লেখ করেন বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন।
উপদেষ্টা
বলেন,বাণিজ্য মেলায় উদ্যোক্তাগণের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। উদ্যোক্তারা তাদের
পণ্য ও সেবার গুণগত মান, উদ্ভাবন ও প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা প্রদর্শনের মাধ্যমে দেশের
ভাবমূর্তি তুলে ধরেন। ক্রেতাদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ, বাজার চাহিদা বিশ্লেষণ, দরকষাকষি
ও অর্ডার গ্রহণের মাধ্যমে তারা বাস্তব বাণিজ্যিক সাফল্য অর্জন করেন।
উদ্যোক্তাগণ
এই মেলায় অংশগ্রহণের মাধ্যমে নতুন বাজার সম্পর্কে ধারণা লাভ, আন্তর্জাতিক মান ও প্রযুক্তির
সঙ্গে পরিচিতি এবং পণ্য উন্নয়নের সুযোগ পাবেন বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন,
উদ্যোক্তাদের সক্রিয় অংশগ্রহণ বাণিজ্য মেলাকে সফল করে তুলবে এবং দেশের রপ্তানি প্রবৃদ্ধিতে
গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।
বাণিজ্য
উপদেষ্টা বলেন, দেশের রপ্তানি পণ্য বহুমুখীকরণের পদক্ষেপ হিসেবে সরকার নানামুখী কর্মসূচি
বাস্তবায়ন করে চলেছে। এরমধ্যে রপ্তানিতে অবদান ও সম্ভাবনার বিষয় বিবেচনাক্রমে বিভিন্ন
পণ্য খাতকে যথাক্রমে ‘সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার খাত’ ও ‘বিশেষ অগ্রাধিকার খাত’
হিসেবে ঘোষণা করা হয়। এছাড়া রপ্তানি প্রসার ও প্রণোদনামূলক কর্মকাণ্ডকে বেগবান করতে
প্রতি বছর একটি পণ্যকে ‘বর্ষপণ্য’ বা ‘প্রডাক্ট অব দ্য ইয়ার’
হিসেবে ঘোষণা করা হয়। এ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ঘোষিত পণ্যের উৎপাদন ও বিপণনে উৎসাহিতকরণে
প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়। তিনি বলেন, ‘এবার ‘পেপার এন্ড প্যাকেজিং প্রোডাক্টস’কে
২০২৬ সালের ‘প্রডাক্ট অব দ্য ইয়ার’ হিসেবে ঘোষণা করছি।’
অনুষ্ঠানে
স্বাগত বক্তব্য রাখেন রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হাসান আরিফ
এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুবুর রহমান ও
এফবিসিসিআই’র প্রশাসক মো. আব্দুর রহিম খান।
উল্লেখ্য,
ইতোপূর্বে ১ জানুয়ারি আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা উদ্বোধনের তারিখ ঠিক করা হয়েছিল। কিন্তু,
সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে তিন দিনের জাতীয়
শোক ঘোষণা করে সরকার। এতে ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার উদ্বোধনের তারিখ পরিবর্তন
করে ১ জানুয়ারি থেকে ৩ জানুয়ারি করা হয়। এবারের মেলায় পলিথিন ব্যাগ ও সিঙ্গেল ইউজ প্লাস্টিক
ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়েছে। বিকল্প হিসেবে হ্রাসকৃত মূল্যে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের
মাধ্যমে পরিবেশবান্ধব শপিং ব্যাগ সরবরাহ করা হবে। মেলার লে-আউট প্ল্যান অনুযায়ী, বিভিন্ন
ক্যাটাগরির ৩২৪টি প্যাভিলিয়ন/স্টল/রেস্টুরেন্ট ও দেশীয় উৎপাদক-রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানসহ
সাধারণ ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান ও বিদেশি প্রতিষ্ঠানগুলোকে স্টল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।মেলায়
প্রবেশের জন্য টিকিটের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৫০ টাকা এবং শিশুদের জন্য ২৫ টাকা।
তবে মুক্তিযোদ্ধা, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি ও জুলাই আন্দোলনে আহতরা পরিচয়পত্র প্রদর্শন সাপেক্ষে
বিনামূল্যে মেলায় প্রবেশ করতে পারবেন।
দেশীয়
পণ্যের প্রচার, প্রসার ও বিপণনের পাশাপাশি শিল্পোৎপাদন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্য
নিয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর যৌথ উদ্যোগে ১৯৯৫ সাল থেকে ৩০ বছর
ধরে নিয়মিতভাবে ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার আয়োজন করা হচ্ছে।
মন্তব্য করুন


জাতীয়
সংসদের দক্ষিণ প্লাজা সংলগ্ন মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে আগামীকাল বুধবার বাদ জোহর সাবেক
প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। দাফন করা হবে চন্দ্রিমা উদ্যানে শহীদ
রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কবরের পাশে।
দুপুরে
উপদেষ্টা পরিষদের সভা শেষে এক ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানিয়েছেন আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল।
তিনি জানান, বৈঠকে বিশেষ আমন্ত্রণে অংশ নিয়েছিলেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম
আলমগীর। তিনি খালেদা জিয়ার পরিবার ও দলের পক্ষ থেকে জানাজা ও দাফনের বিষয়ে উপদেষ্টা
পরিষদকে অবহিত করেছেন।
মঙ্গলবার
উপদেষ্টা পরিষদের বিশেষ বৈঠক শুরু হয় এক মিনিটি নীরবতা পালনের মধ্য দিয়ে। আসিফ নজরুল
বলেন, গোটা জাতির মতো সরকারে যারা আছেন তারাও শোকাহত। উপদেষ্টা পরিষদের সভায় খালেদা
জিয়ার মৃত্যুতে বুধবার থেকে তিনদিনের রাষ্ট্রীয় শোক প্রস্তাব গৃহীত হয়েছে। আগামীকাল
সাধারণ ছুটি।
সরকার
জানাজা ও দাফন ঘিরে সব ধরনের সহযোহিতা দেবে। সভায় প্রধান উপদেষ্টা বেগম জিয়ার স্মৃতিচারণ
করেন। সবশেষ সেনাসদরে খালেদা জিয়ার সঙ্গে প্রধান উপদেষ্টার আলাপ হয়েছিল। তিনি সভায়
সেদিনের স্মৃতিচারণ করেন।
আইন
উপদেষ্টা বলেন, দেশের ইতিহাসে বেগম জিয়ার অবদান অবিনশ্বর হয়ে থাকবে। এমন একজন নেত্রীর
চলে যাওয়াটা একটি বিশেষ মুহূর্ত। সবাই শোকাহত। সবার উচিত জানাজা ও দাফনে যথাযথ সম্মান
প্রদর্শন ও শৃঙ্খলা বজায় রাখা।
উপদেষ্টা
পরিষদের সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বিশ্বে বাংলাদেশের যত দূতাবাস ও হাইকমিশন আছে সেগুলোতে
খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে শোক বই খোলা হবে।
এদিকে
দুপুরে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন,
সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে গোটা জাতি আজ গভীর
শোক ও বেদনায় আচ্ছন্ন। তাঁর ইন্তেকালে আমরা এক মহান অভিভাবককে হারিয়েছি। দেশের গণতান্ত্রিক
রাজনীতিতে তাঁর অবদান ইতিহাসে অম্লান হয়ে থাকবে।
মন্তব্য করুন


কৃষি
ও স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী (অব.)
বলেছেন, মিনি
কোল্ড স্টোরেজ কৃষকের ক্ষতি কমাবে। শীত মৌসুমে দেশে প্রচুর সবজি উৎপাদিত হয়, যা সংরক্ষণের
ব্যবস্থা না থাকায় পঁচে যাওয়ায় কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। মিনি কোল্ড স্টোরেজে সবজি
সংরক্ষণ করা যাবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
আজ
বুধবার (২৭ আগস্ট) মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলার ধল্লা ইউনিয়নের
মেদুলিয়া এলাকায় ফার্মারস মিনি কোল্ড স্টোরেজ উদ্বোধন উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে
প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপদেষ্টা এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে
কৃষি সচিব ড. মোহাম্মদ এমদাদ উল্লাহ মিয়ান,
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. ছাইফুল আলমসহ সরকারি বিভন্ন
দপ্তরের ঊর্ধতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
কৃষি
ও স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন,
মধ্যস্বত্বভোগীরা কৃষি সিন্ডিকেট করে বড় বড় বিল্ডিংয়ের মালিক হচ্ছেন। কৃষকরা
কুঁড়ে ঘরেই থাকতে হচ্ছে। ফার্মারস মিনি কোল্ড স্টোরেজ কেবল ফসল সংরক্ষণ নয়, বরং কৃষি
অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা আনার এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ। ভবিষ্যতে এ প্রকল্পকে আরো
সম্প্রসারণের মাধ্যমে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের কৃষকদের হাতে প্রযুক্তি পৌঁছে
দেওয়া হবে। মানিকগঞ্জে
গাজর, শীতকালীন
সবজি বেশি উৎপাদন হয়। এই ব্যবস্থায় কৃষক,
ভোক্তারা সরাসরি উপকৃত হবেন। এ মিনি কোল্ড স্টোরেজ পরে আরো বাড়ানো হবে।
প্রয়োজনে কৃষকরা নিজেরাও বাড়িতে তৈরি করে নিতে পারবেন অল্প খরচে। নকল ও ভেজাল
বীজের ব্যাপারে উপদেষ্টা বলেন,
‘নির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এর
আগে উপদেষ্টা কৃষকদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেন। এসময় খাল বেদখল, বিদ্যুৎ
সংযোগসহ বিভিন্ন অভিযোগ শোনেন এবং এ ব্যাপারে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে সংশ্লিষ্ট
দপ্তরকে নির্দেশ প্রদান করেন।
কৃষি
জমি যাতে অন্য খাতে ব্যবহার না হয়,
সেজন্য আগামী ৫ থেকে ৬ মাসের মধ্যেই কৃষি জমি সুরক্ষা আইন পাশ করা হবে জানিয়ে
উপদেষ্টা বলেন, ‘শিল্প
কারখানা ও অন্যান্য অবকাঠামোর জন্য আলাদা জমি থাকবে। সড়ক অধিগ্রহণের সময় সড়ক বিভাগ
জমির মালিককে তিনগুণ ক্ষতিপূরণ দিলেও এলজিইডি কোনো অর্থ দেয় না। নতুন আইন প্রণয়ন
হলে এলজিইডির প্রকল্পেও ক্ষতিগ্রস্ত জমির মালিকরা তিনগুণ ক্ষতিপূরণ পাবেন।
মন্তব্য করুন


সারাদেশের বিভিন্ন জেলায় বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীরা
শান্তিপূর্ণভাবে তাদের দ্বিতীয় বৃহত্তম ধর্মীয় উৎসব 'শুভ প্রবারণা পূর্ণিমা'
উদযাপন করছে।
গতকাল (১৭ অক্টোবর ২০২৪) পার্বত্য চট্টগ্রামের
বান্দরবান জেলার সার্বজনীন বৌদ্ধ বিহার, মংসুইপ্রুপাড়া বৌদ্ধ বিহার, সেন বৌদ্ধ
বিহার, আমতলী বৌদ্ধ বিহার; খাগড়াছড়ি জেলার শালবন বৌদ্ধ বিহার, বোয়ালখালী ও
দীঘিনালা উপজেলায় এবং রাঙ্গামাটি জেলার শৌধর্ম বৌদ্ধ বিহার, রেস বাজার ও
রাঙ্গামাটি সদরে উৎসাহ উদ্দীপনার সাথে উৎসবটি পালিত হয়। এছাড়া চট্টগ্রাম ও
কক্সবাজার জেলার ১১ টি উপজেলায় বৌদ্ধ ও রাখাইন সম্প্রদায়ের জনগণ ২৯১ টি বৌদ্ধ
বিহারে শান্তিপূর্ণভাবে প্রবারণা উৎসব পালন করে। পাশাপাশি রামু উপজেলার বাকখালী
নদীর তীরে 'কল্প জাহাজ ভাসা উৎসব' সুষ্ঠুভাবে অনুষ্ঠিত হয়। এছাড়াও বরিশাল জেলার
১৪ টি বিহারে শান্তিপূর্ণভাবে প্রবারণা উৎসব পালিত হয়।
আজ (১৮ অক্টোবর ২০২৪) কক্সবাজার সদর উপজেলায় আরেকটি 'কল্প জাহাজ ভাসা উৎসব' আয়োজন করা হয়েছে এবং চট্টগ্রাম ইপিজেড-এর সিমেন্সের মাঠে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীরা একটি সমাবেশের আয়োজন করেছে। উক্ত সমাবেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত কল্পে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। 'শুভ প্রবারণা পূর্ণিমা' উৎসব শান্তিপূর্ণভাবে উদযাপনে সহযোগিতার জন্য সেনাবাহিনীর প্রতি বাংলাদেশ বুদ্ধিস্ট ফেডারেশনের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান, প্রফেসর ড. সুকোমল বড়ুয়া বিশেষ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
মন্তব্য করুন


১২
ফেব্রুয়ারি নির্বাচনে ধানের শীষের পক্ষে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার জন্য বগুড়ায় দলের নেতাদের
নির্দেশ দিয়েছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
আজ
শনিবার (৩১ জানুয়ারি) সকালে বগুড়ার একটি হোটেলে অনুষ্ঠিত বিএনপির তৃণমূল পর্যায়ের
নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এ নির্দেশনা দেন।
বগুড়া-৬
আসনে নির্বাচন উপলক্ষে এ মতিনিবময় সভায় বগুড়া জেলা বিএনপি’র
সিনিয়র নেতারা ছাড়াও দলটির সদর উপজেলা ও শহর কমিটির পাশাপাশি অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলোর
শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
বগুড়া
জেলা বিএনপি রেজাউল করিম বাদশার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় তারেক রহমান দলীয় নেতাদের
নির্বাচনের বিষয়ে সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়ে বলেন, এবারের নির্বাচন সহজ হবে না।
ধানের
শীষের ভোট চাইতে ভোটারদের বাড়ি বাড়ি যেতে হবে।
বর্তমানে
দলে নিজের অবস্থান অর্থাৎ দলের প্রধানের দায়িত্ব পালনের কথা স্মরণ করিয়ে তিনি বলেন,
আমার পক্ষে আগের মত আপনাদের সময় দেওয়া সম্ভব হবে না এবং বগুড়ায় অবস্থান করাও সম্ভব
হবে না। এক্ষেত্রে আপনাদের প্রত্যেককে ধানের শীষের কান্ডারীর ভূমিকা পালন করতে হবে।
বগুড়াবাসীর
প্রতি নিজের ভালোবাসার কথা ব্যক্ত করতে গিয়ে তারেক রহমান বলেন, দল যখন ক্ষমতায় ছিল
তখন বগুড়ার জনগণের উন্নয়নে আমরা কাজ করেছি।
আবার
যখন বিরোধী দলে ছিল তখন শীতবস্ত্র বিতরণ এবং বন্যার্তদের সহায়তাসহ নানা ধরনের কাজ করা
হয়েছে।
আগামীতে
সরকার গঠন করলে বগুড়ার উন্নয়নের নিশ্চয়তা দিয়ে তিনি বলেন, বগুড়ার কোথায় কি করতে হবে
সেটি তিনি জানেন।
১২
ফেব্রুয়ারি ভোটের দিন কেন্দ্রে কেন্দ্রে গিয়ে ভোট প্রদানের পাশাপাশি ফলাফল সংগ্রহ পর্যন্ত
দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দিয়ে দলের স্থানীয় নেতাদের তিনি বলেন, আপনাদের সতর্ক ও সজাগ
থাকতে হবে।
দলীয়
সূত্রগুলো জানায়, বগুড়া-৬ আসনে প্রার্থী তারেক রহমানের পক্ষে নির্বাচনী প্রচারণার কৌশল
নির্ধারণের জন্যই এ সভা আহ্বান করা হয়। সভা শেষে দুপুর ১২টার পর তিনি সিরাজগঞ্জের উদ্দেশ্যে
রওনা হন।
মন্তব্য করুন


সোমবার (৪ ডিসেম্বর) নির্বাচন কমিশনের উপসচিব মিজানুর রহমান স্বাক্ষরিত চিঠিতে আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে প্রথম পর্যায়ে ৪৭ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) বদলির অনুমোদন দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
এদিকে বিকেলে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা সময় সংবাদকে জানান, চল্লিশের বেশি পঞ্চাশের কম সংখ্যক ইউএনওকে আজ বদলি করা হতে পারে।যারা এক বছরের বেশি ইউএনও হিসেবে কর্মস্থলে ছিলেন তাদেরই বদল করা হবে বলে জানান ওই কর্মকর্তা।
এর আগে সব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ও সব ইউএনওকে বদলির জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়কে নির্দেশনা দিয়েছিল নির্বাচন কমিশন।সে নির্দেশনার আলোকেই ৪৭ ইউএনওর বদলির জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নির্বাচন কমিশনের কাছে সুপারিশ করে। এরপর নির্বাচন কমিশন বদলির অনুমোদন দেয়।
জেলা প্রশাসকদের (ডিসি) বিষয়ে কোনো নির্দেশনা পেয়েছেন কিনা- এমন প্রশ্নে তিনি বলেন,এ ব্যাপারে আমরা এখন পর্যন্ত কোনো নির্দেশনা পাইনি। নির্বাচন কমিশন আমাদের যা করতে বলবেন, আমরা তা-ই করব বলে জানিয়েছেন তিনি। ২০০ জনের মতো ইউএনও বদলি হতে পারেন। ৫ ডিসেম্বরের মধ্যে বদলির বিষয়ে প্রস্তাবনা তৈরি করা হবে।
গত ৩০ নভেম্বর নির্বাচন কমিশন সচিবালয় থেকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে একটি চিঠি পাঠায়। এতে বলা হয়, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে অনুষ্ঠানের জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে পর্যায়ক্রমে বদলি করার জন্য নির্বাচন কমিশন সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এ লক্ষ্যে প্রথম পর্যায়ে যে সব ইউএনওর বর্তমান কর্মস্থল এক বছরের বেশি চাকরিস্থল সম্পন্ন হয়েছে তাদের অন্য জেলায় বদলির প্রস্তাব আগামী মঙ্গলবারের (৫ নভেম্বরের) মধ্যে নির্বাচন কমিশনে পাঠাতে হবে।
গত ১৫ নভেম্বর নির্বাচন কমিশন ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, নির্বাচনে মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার শেষ তারিখ ছিল ৩০ নভেম্বর। ১ ডিসেম্বর থেকে বাছাই শুরু হয়েছে, বাছাই চলবে ৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত। রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল ও শুনানি ৬-১৫ ডিসেম্বর এবং ১৭ ডিসেম্বরের মধ্যে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করা যাবে। প্রতীক বরাদ্দ দেয়া হবে ১৮ ডিসেম্বর। এবং আগামী ৭ জানুয়ারি দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।
মন্তব্য করুন


ফ্যাসিস্ট
লীগের বিচার হবেই বলে অঙ্গীকার করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের তথ্য উপদেষ্টা মাহফুজ আলম।
আজ
বৃহস্পতিবার (৮ মে) সন্ধ্যা পৌনে ৭ টার দিকে এক ফেসবুক পোস্টে তিনি এ অঙ্গীকার করেন।
তথ্য
উপদেষ্টা মাহফুজ আলম বলেন, দল হিসাবে লীগের বিচারের প্রভিশন যুক্ত করা হবে। ফ্যাসিস্ট
লীগের বিচার হবেই।
এর
আগে দুপুরে পতিত সরকারের সাবেক রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদের দেশত্যাগ প্রসঙ্গে একটি পোস্ট
করেন।
‘কৈফিয়ত কিংবা বাস্তবতা’ শিরোনামে নিজের ফেসবুকে
তিনি লেখেন- ‘ক্ষমতার ভরকেন্দ্র অনেকগুলো। ফলে কাজের দায় সরকারের, কিন্তু কাজ করে ক্ষমতার
অন্যান্য ভরকেন্দ্র। জোড়াতালি দিয়ে গণতান্ত্রিক রূপান্তর সম্ভব না, সম্ভব নয় নূতন রাজনৈতিক
বন্দোবস্ত।
রাজনৈতিক
দলগুলো ডিসেম্বরের পর সহযোগী ভূমিকায় নেই৷ কিন্তু, ঠিকই প্রশাসন, বিচারবিভাগ, পুলিশে
তারা স্টেইক নিয়ে বসে আছেন। এস্টাবলিশমেন্ট দ্বিদলীয় বৃত্তে ফিরতে এবং ছাত্রদের মাইনাস
করতে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ।
প্রায়
তিন ডজন নিয়োগপ্রাপ্তদের মধ্যে ছাত্র মাত্র দু'জন। ছাত্র প্রতিনিধিদেরকেও এস্টাবলিশমেন্ট
রাষ্ট্রপতি অপসারণের ঘটনার পর থেকে কোণঠাসা করে রেখেছে। আমরা দু'জন সর্বোচ্চ ব্যালেন্সিং
অ্যাক্ট করতে পারছি, কিন্তু প্রভাবক হিসাবে কাজ করতে হলে সরকারে সুষম ছাত্র প্রতিনিধিত্ব
লাগবে।
মন্তব্য করুন


পেশাদারত্ব ও ধৈর্যের পরিচয় দেওয়ায়
বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামানের সাধুবাদ পেয়েছেন ক্যাপ্টেন
আশিক।
রোববার (১৮ আগস্ট) সেনাপ্রধানের কার্যালয়ে
এক সাক্ষাতে এই সাধুবাদ জানান সেনাপ্রধান।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, প্রতিকূল
পরিস্থিতিতেও পেশাদারত্ব বজায় রাখায় ক্যাপ্টেন আশিককে সাধুবাদ জানান সেনাপ্রধান ওয়াকার-উজ-জামান।
ভবিষ্যতে আরও ভালো কাজের জন্য অনুপ্রাণিত করেন তিনি।
এসময় আরও দুই সেনা কর্মকর্তা উপস্থিত
ছিলেন। সেনাপ্রধানের সঙ্গে এক ফটোসেশনে অংশ নিতেও দেখা গেছে আশিককে।
উল্লেখ্য, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সম্প্রতি
একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে শাহবাগ থানায় এক নারীকে দীর্ঘ সময় ধরে উচ্চবাচ্য করতে
দেখা যায়। এরকম পরিস্থিতিতে ক্যাপ্টেন আশিক অত্যন্ত বিচক্ষণতা ও ধৈর্যের সঙ্গে পরিস্থিতির
সামাল দেন এবং সেটির সমাধান করেন। ক্যাপ্টেন আশিকের এই ধৈর্য ও পেশাদারত্ব দেখে নেটিজেনরা
প্রশংসা করছেন।
মন্তব্য করুন


শিক্ষার্থীদের সৎ ও ভাল মানুষ হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির দক্ষিণাঞ্চলের সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ। তিনি বলেছেন, দুর্নীতি এবং অপরাধের বিরুদ্ধে সচেতনতা এখন থেকেই তৈরি করতে হবে।
আজ মঙ্গলবার কুমিল্লার দেবিদ্বার সরকারি রেয়াজউদ্দিন পাইলট মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের ২০২৫ সালের এসএসসি পরীক্ষার্থীদের বিদায়ী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এসব কথা বলেন তিনি।
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন,গত ১৬ বছরে আমাদের দেশে এমন কোনো সেক্টর নেই যেখানে দুর্নীতি ঘটেনি। অফিস-আদালতে ঘুষ আর দুর্নীতি একটি প্রথা হয়ে দাঁড়িয়েছিল। মন্ত্রী ও এমপিরা দুর্নীতির মাধ্যমে হাজার হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচার করেছে। যারা এসব করছে, তারা একসময় তোমাদের মতোই ছিল। কিন্তু তারা সঠিক শিক্ষা পাননি। কোনো শিক্ষক তার ছাত্রদের অন্যায় শিক্ষা দেয় না। তোমরা যারা এখানে আছো, তোমাদের নিজেদের আগে দুর্নীতিমুক্ত এবং সৎ মানুষ হতে হবে। যোগ্যতা থাকুক বা না থাকুক, তবে আগে তোমাদের ভালো মানুষ হতে হবে। আমাদের দেশে যারা দুর্নীতিবাজ, তারা বেশিরভাগই শিক্ষিত এবং ভালো ফল অর্জনকারী। তারা ভালো বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়াশোনা করেছে। কিন্তু তারা সঠিক শিক্ষা না পাওয়ায় দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়ছে। একজন রিক্সাওয়ালা পদ্মাসেতুতে দুর্নীতি করতে পারে না, কারণ তার কাছে সেই সুযোগ নেই। সুযোগ না থাকার কারণে দুর্নীতি না করা এবং সুযোগ পেয়েও দুর্নীতি না করা এক নয়। যারা সুযোগ পেয়েও দুর্নীতি থেকে দূরে থাকে, তারা আসল সমাজ সেবক। দুর্নীতি ও অপরাধ না করার চর্চাগুলো এখন থেকেই তোমাদের শুরু করতে হবে।
মন্তব্য করুন


আজ বুধবার (১০ ডিসেম্বর) বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর আরভিএন্ডএফ কোরের বাৎসরিক অধিনায়ক সম্মেলন-২০২৫ সাভারে অবস্থিত রিমাউন্ট ভেটেরিনারি এন্ড ফার্ম (আরভিএন্ডএফ) ডিপোতে অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সম্মানিত সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, এসবিপি, ওএসপি, এসজিপি, পিএসসি। সেনাবাহিনী প্রধান আরভিএন্ডএফ ডিপোতে পৌঁছালে তাঁকে অভ্যর্থনা জানান আরভিএন্ডএফ কোরের নবনিযুক্ত কর্নেল কমান্ড্যান্ট জেনারেল অফিসার কমান্ডিং (জিওসি) ৯ পদাতিক ডিভিশন ও এরিয়া কমান্ডার সাভার এরিয়া এবং ঊর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তাগণ।
সেনাবাহিনী প্রধান বাৎসরিক অধিনায়ক সম্মেলনে উপস্থিত আরভিএন্ডএফ কোরের অধিনায়ক ও অন্যান্য কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে বক্তব্য রাখেন। সেনাবাহিনীর পুষ্টি ও খাদ্য নিরাপত্তা রক্ষায় এ কোরের প্রযুক্তিগত উন্নয়ন, গবেষণা, পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধি ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনাসহ বিভিন্ন বিষয়ে মতবিনিময় করেন। বক্তব্যের শুরুতেই তিনি স্মরণ করেন মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে অত্মোৎসর্গকারী সকল বীর মুক্তিযোদ্ধাদের। সেনাবাহিনী প্রধান আরভিএন্ডএফ কোরের গৌরবোজ্জ্বল ঐতিহ্য এবং দেশের সেবায় এই কোরের অবদানের কথা উল্লেখ করেন। এছাড়াও, তিনি একবিংশ শতাব্দীর চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় সদা প্রস্তুত থাকতে এই কোরের সকল সদস্যের প্রতি আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে জিওসি আর্মি ট্রেনিং এন্ড ডকট্রিন কমান্ড; আরভিএন্ডএফসি কোরের নবনিযুক্ত কর্নেল কমান্ড্যান্ট ও জিওসি ৯ পদাতিক ডিভিশন; সেনাসদর ও সাভার এরিয়ার ঊর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তাবৃন্দ; জুনিয়র কমিশন্ড অফিসার: অন্যান্য পদবির সেনাসদস্য এবং গণমাধ্যম ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, গত ০৯ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখ বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর রিমাউন্ট ভেটেরিনারি এন্ড ফার্ম কোরের ৩য় 'কর্নেল কমান্ড্যান্ট' হিসেবে অভিষিক্ত হন জেনারেল অফিসার কমান্ডিং (জিওসি) ৯ পদাতিক ডিভিশন ও এরিয়া কমান্ডার সাভার এরিয়া মেজর জেনারেল এস এম আসাদুল হক, এনডিসি, পিএসসি। সাভারে অবস্থিত রিমাউন্ট ভেটেরিনারি এন্ড ফার্ম ডিপোর প্যারেড গ্রাউন্ডে সামরিক রীতি ও ঐতিহ্য মেনে এ অভিষেক অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়। অভিষেক অনুষ্ঠানে আরভিএন্ডএফ কোরের জ্যেষ্ঠতম অধিনায়ক এবং মাস্টার ওয়ারেন্ট অফিসার কর্তৃক নবনিযুক্ত কর্নেল কমান্ড্যান্টকে গৌরবমন্ডিত 'কর্নেল কমান্ড্যান্ট র্যাংক-ব্যাজ' পরিয়ে দেন।
মন্তব্য করুন