

অক্টোবর মাসের তুলনায় নভেম্বর মাসের জন্য ১২ কেজি সিলিন্ডার গ্যাসের দাম মাত্র এক টাকা কমিয়ে ১৪৫৫ (এক হাজার চারশত পঞ্চান্ন) টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
টানা ৪ দফা দাম বাড়ার পর ভোক্তা পর্যায়ে অবশেষে কমলো তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) দাম।
মঙ্গলবার (৫ নভেম্বর) বিকেলে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) কার্যালয়ে সংস্থাটির চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ এলপিজির এই নতুন দাম ঘোষণা করেছেন এক সংবাদ সম্মেলনে।
নতুন ঘোষণা অনুযায়ী, প্রতি ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ১ হাজার ৪৫৬ টাকা থেকে ১ টাকা কমিয়ে ১ হাজার ৪৫৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
এর আগে, সেপ্টেম্বর মাসের তুলনায় অক্টোবর মাসের জন্য ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম ৩৫ টাকা বাড়িয়ে ১ হাজার ৪৫৬ টাকা নির্ধারণ করেছিল বিইআরসি।
তারও আগে রবিবার (২ সেপ্টেম্বর) ভোক্তা পর্যায়ে সেপ্টেম্বর মাসের জন্য ১২ কেজির সিলিন্ডারের দাম আগস্ট মাসের তুলনায় ৪৪ টাকা বাড়িয়ে নির্ধারণ করা হয়েছিল ১ হাজার ৪২১ টাকা। আর গত আগস্ট ও জুলাইয়ে এলপিজির প্রতিটি ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম বেড়েছিল যথাক্রমে ১১ টাকা ও ৩ টাকা। সেসময় ১২ কেজির সিলিন্ডারের দাম নির্ধারিত হয়েছিল যথাক্রমে ১ হাজার ৩৭৭ টাকা ও ১ হাজার ৩৬৬ টাকা।
মন্তব্য করুন


আগামী
১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে আজ রোববার থেকে
সেনাবাহিনীসহ বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী আনুষ্ঠানিকভাবে মাঠে নামছে।
ভোটের
আগে চারদিন, ভোটের দিন এবং ভোটের পর দুইদিনসহ মোট সাতদিন তারা দায়িত্ব পালন করবে। এ
হিসেবে আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মাঠে থাকবে।
নির্বাচন
কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ বাসস’কে জানান, রোববার থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মাঠে থাকবে। সেনাবাহিনী আগে থেকেই মাঠে আছে, তবে আজ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে
মোতায়েন কার্যক্রম শুরু হচ্ছে। ভোটের চারদিন আগে, ভোটের দিন ও পরবর্তী দুইদিন মিলিয়ে
মোট সাতদিন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দায়িত্ব পালন করবে বলে জানান তিনি।
ভোটের
পরিবেশ সম্পর্কে নির্বাচন কমিশনার বলেন, ‘আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। আমরা
মনেকরি নির্বাচনের পরিবেশ সম্পূর্ণ ভালো আছে।’
নির্বাচনের
প্রস্তুতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘সার্বিক প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। ব্যালট বাক্স জেলায়
জেলায় পাঠানো হচ্ছে। রিটার্নিং কর্মকর্তারা সেগুলো গ্রহণ করছেন। সংশ্লিষ্ট সবাই এখন
ভোটের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন।’
এ
বিষয়ে নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী
বাহিনী ৮ থেকে ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মাঠে থাকবে। এর মধ্যে সেনাবাহিনী সাতদিন দায়িত্ব
পালন করবে এবং আনসার বাহিনী থাকবে আটদিন। পুলিশ ও সেনাবাহিনী অলরেডি মাঠে রয়েছে।
ইসি
সচিব জানান, ১ হাজার ৫০ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ৮ থেকে ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মোতায়েন
(ডেপ্লয়েড) থাকবেন। মূলত মোবাইল কোর্ট পরিচালনার জন্য তাদের দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি
এ সময় জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটদেরও মাঠে রাখা হবে। এছাড়া ইলেক্টোরাল এনকোয়ারি অ্যান্ড
এডজুডিকেশন কমিটি ইতোমধ্যে মাঠে কাজ করছে।
ইসি
সচিব আরও জানান, নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী রাজনৈতিক দলগুলোর প্রচার-প্রচারণা ভোট গ্রহণের
৪৮ ঘণ্টা আগে, অর্থাৎ ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টায় বন্ধ হবে।
এর
আগে গত ২২ জানুয়ারি স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর
আলম চৌধুরী জানান, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রেকর্ড সংখ্যক প্রায় ৯ লাখ আইনশৃঙ্খলা
বাহিনীর সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন।
তিনি
বলেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দুষ্কৃতকারীদের ব্যালট ছিনতাইয়ের কোনো সুযোগ নেই। অতীতের
নির্বাচনে প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে একজন করে অস্ত্রধারী পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করলেও
এবার প্রথমবারের মতো প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে কমপক্ষে পাঁচজন অস্ত্রধারী আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর
সদস্য মোতায়েন থাকবে। এর মধ্যে দুইজন অস্ত্রধারী পুলিশ ও তিনজন অস্ত্রধারী আনসার সদস্য
থাকবেন। গুরুত্বপূর্ণ ভোটকেন্দ্রগুলোতে তিনজন অস্ত্রধারী পুলিশসহ মোট ছয়জন অস্ত্রধারী
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন।
এছাড়া,
প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে অস্ত্রবিহীন (লাঠিসহ) ১০ জন আনসার সদস্য মোতায়েন থাকবে, যাদের
মধ্যে ছয়জন পুরুষ ও চারজন নারী।
স্বরাষ্ট্র
উপদেষ্টা বলেন, ‘এবারের জাতীয় নির্বাচন হবে বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে অবাধ, স্বচ্ছ,
নিরপেক্ষ, শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর নির্বাচন, যা একটি রোল মডেল হিসেবে বিবেচিত হবে।’
এজন্য
নির্বাচনে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের শতভাগ সততা, নিরপেক্ষতা
ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান তিনি।
স্বরাষ্ট্র
উপদেষ্টা আরও জানান, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি বিএনসিসি, গার্লস গাইড ও স্কাউট সদস্যরাও
নির্বাচনে সহযোগী হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।
স্বরাষ্ট্র
উপদেষ্টা বলেন, নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে দেশজুড়ে দুই ধাপে
বাহিনী মোতায়েন করা হবে। প্রথম ধাপে যারা বর্তমানে মোতায়েন আছেন, তারা দায়িত্বে থাকবেন।
দ্বিতীয় ধাপে ভোটকেন্দ্রিক মোতায়েন কার্যক্রম পরিচালিত হবে, যেখানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর
সদস্যরা ৮ থেকে ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সাতদিন দায়িত্ব পালন করবেন।
মন্তব্য করুন


যুবসমাজের
প্রত্যাশা ও আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে সামঞ্জস্যপূর্ণ করার আহ্বান
জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। একই সঙ্গে আঞ্চলিক পর্যায়ে উচ্চশিক্ষায়
সহযোগিতা বাড়াতে সার্ককে পুনরুজ্জীবিত করার ওপর জোর দেন তিনি।
মঙ্গলবার ( ১৩ জানুয়ারি ) সকালে রাজধানীর একটি হোটেলে তিন দিনব্যাপী ‘দক্ষিণ এশিয়ার উচ্চশিক্ষার বর্তমান অবস্থা
ও ভবিষ্যৎ পথনির্দেশনা’ শীর্ষক আঞ্চলিক সম্মেলন (সার্চে-২০২৬)-এর
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন অধ্যাপক ইউনূস।
তিনি
বলেন, ঢাকায় উচ্চপর্যায়ের শিক্ষাবিদদের একত্র হওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে
২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর গত কয়েক মাসে ঢাকায় যা ঘটেছে, তা পর্যালোচনার একটি
সুযোগ এই সম্মেলন তৈরি করেছে। এসব ঘটনা পর্যালোচনা করলে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষা ও সামগ্রিকভাবে
শিক্ষার প্রকৃত উদ্দেশ্য আরও স্পষ্ট হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
বাংলাদেশ
বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) অধীনে বাংলাদেশ সরকার ও বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে
বাস্তবায়িত হায়ার এডুকেশন অ্যাকসেলারেশন অ্যান্ড ট্রান্সফরমেশন (হিট) প্রকল্পের আওতায়
এই সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে। এতে যুক্তরাজ্য, মালদ্বীপ, মালয়েশিয়া, নেপাল, পাকিস্তান
ও শ্রীলঙ্কাসহ বিভিন্ন দেশের ৩০ জন আন্তর্জাতিক প্রতিনিধি এবং বিশ্বব্যাংকের প্রতিনিধিরা
অংশ নিচ্ছেন।
২০২৪
সালের গণঅভ্যুত্থানে শিক্ষার্থীদের ভূমিকার কথা তুলে ধরে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, এই
তরুণদের নিজেদের চিন্তা ও মনন আছে। তারা ফ্যাসিবাদী শাসনের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে জীবন দিয়ে
প্রতিবাদ করেছে। তিনি বলেন, কয়েক মাস আগেই এই শহরে তরুণরা কেন অস্ত্রের মুখে দাঁড়িয়ে
নিজেদের জীবন উৎসর্গ করেছিল— তাদের প্রত্যাশা ও আকাঙ্ক্ষা কী ছিল
তা বোঝার চেষ্টা না করলে একটি বড় সুযোগ নষ্ট হবে।
শিক্ষার্থীদের
প্রেরণার উদাহরণ হিসেবে তিনি শহীদ স্কুলছাত্র শাহরিয়ার খান আনাসের মায়ের কাছে লেখা
চিঠির কথা উল্লেখ করেন, যেখানে বন্ধুদের সঙ্গে রাজপথে নামাকে নিজের দায়িত্ব হিসেবে
উল্লেখ করেছিল সে।
অধ্যাপক
ইউনূস বলেন, এসব ঘটনা হঠাৎ কোনো বিস্ফোরণ নয়। শ্রীলঙ্কা ও নেপালেও এমন ঘটনা ঘটেছে,
তবে ঢাকায় তা ঘটেছে আরও ব্যাপকভাবে। তিনি সম্মেলন আয়োজনের জন্য বিশ্বব্যাংককে ধন্যবাদ
জানিয়ে বলেন, আঞ্চলিক সহযোগিতার এমন আয়োজন সার্কের দায়িত্বের মধ্যেই পড়ে। কিন্তু দুঃখজনকভাবে
সার্ককে আজ প্রায় ভুলে যাওয়া হয়েছে।
তিনি
বলেন, সার্কের মূল ধারণাই ছিল পারস্পরিক বিনিময় ও একে অন্যের কাছ থেকে শেখা। প্রধান
উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই তিনি সার্ক পুনরুজ্জীবনের আহ্বান জানিয়ে আসছেন
এবং এ দাবি তিনি বারবার জানিয়ে যাবেন।
আগামী
১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচন ও গণভোটের প্রসঙ্গ টেনে অধ্যাপক ইউনূস বলেন, গণঅভ্যুত্থান
দেশের পুরোনো কাঠামোকে ভেঙে দিয়েছে। তরুণরা নিজেদের জুলাই সনদ তৈরি করেছে এবং তারা
মনে করে, দেশের সমস্যার মূল নিহিত রয়েছে সংবিধানে। সে কারণেই ভবিষ্যৎ সংবিধান নির্ধারণে
গণভোটের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
মন্তব্য করুন


ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী বলেন, থার্টি ফাস্ট ও ইংরেজি নববর্ষ উদযাপন উপলক্ষে এবং রাজধানীর সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতে এলাকায় অতিরিক্ত ৩ হাজার পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (৩১ ডিসেম্বর) সকালে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী এ কথা বলেন।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী বলেন, ঢাকা শহরের নিরাপত্তা নিশ্চিতে নিয়মিত পুলিশ মোতায়েন থাকে। প্রত্যেক ফাঁড়ি থেকে রাতের বেলা কমপক্ষে দুটি পেট্রোল টিম থাকে, থানা থেকে ৪-৫টি টিম থাকে। এটা আমাদের রেগুলার ডিপ্লয়মেন্ট। আজকে শুধু থার্টি ফার্স্ট নাইট উপলক্ষে এর বাইরে ৩ হাজার অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। আমরা মনে করছি এটা যথেষ্ট।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী বলেন, কিছু পয়েন্টকে টার্গেট করেছি৷ বিশেষ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, গুলশান, ৩০০ ফিট, উত্তরা দিয়াবাড়ী এলাকায় বেশি পুলিশ মোতায়েন থাকবে। আমাদের পুলিশ ফোর্সের পাশাপাশি পরিবেশ অধিদপ্তরের ম্যাজিস্ট্রেটরা থাকবেন। ওনারা যেকোনো জায়গায় ভ্রাম্যমাণ আদালত চালালে আমাদের ফোর্স তাদের সহযোগিতা করবে।
পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে আতশবাজি ফুটিয়ে ইংরেজি নববর্ষকে বরণ করা হয়, বাংলাদেশে পরিবেশের এত সমস্যা কেন? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, প্রথমত পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে থার্টি ফার্স্ট উদযাপিত হয়৷ বেশিরভাগ দেশে এটি নববর্ষ, আমাদের দেশে নয়।
দ্বিতীয়ত, অন্যান্য দেশে একটি নির্দিষ্ট স্থানে ইংরেজি নববর্ষ উদযাপনের আয়োজন করা হয়, পুরো শহরজুড়ে আতশবাজি ফোটানো হয় না। আমরাও এ বছর ঢাকা মহানগরীর একটি নির্দিষ্ট স্থানে থার্টি ফার্স্ট ও ইংরেজী নববর্ষ উদযাপনের অনুষ্ঠান আয়োজন করার চিন্তা করেছিলাম। কিন্তু এই বছর আমরা সেটি পারিনি। আশা করি আগামী বছর আমরা সেটি আয়োজন করবো।
পুলিশের মনোবল ফিরে এসেছে কি-না এমন প্রশ্নের জবাবে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী বলেন, পুলিশের মনোবলের যে ঘাটতি ছিল, এটি আমরা কাটিয়ে উঠেছি। আমাদের এখনো কোনো সমস্যা নেই।
থার্টি ফার্স্ট নাইট উপলক্ষে কোনো থ্রেট নেই বলেও জানান ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী ।
এর আগে ব্রিফিংয়ে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী বলেন, থার্টি ফার্স্ট নাইটে যাতে আতশবাজি, পটকা, ক্লাস্টার বোমা, রকেট বোমা না ফোটানো হয় সেজন্য গত ১ সপ্তাহ ডিএমপি রাজধানীতে অভিযান পরিচালনা করে ১৭২ কেজি আতশবাজি, পটকা, ক্লাস্টার বোমা, রকেট বোমা জব্দ করেছি। এ বিষয়ে ৫টি মামলা হয়েছে এবং ৫ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
এ সময় ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী নগরবাসীর উদ্দেশে বলেন, শুধু পুলিশ বা পরিবেশ অধিদপ্তর দিয়ে শব্দ দূষণ বন্ধ করা সম্ভব নয়। এজন্য প্রতিটি নাগরিকের দায়িত্ব রয়েছে৷ আমরা সকলের সহযোগিতা চাই।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব তপন কুমার বিশ্বাস।
মন্তব্য করুন


নেকবর হোসেন, কুমিল্লা প্রতিনিধি :
কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের অধীনস্থ সকল অফিস প্রাঙ্গণকে শতভাগ তামাকমুক্ত করতে দ্রুত উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন প্রশাসক মোঃ শাহ আলম। তিনি বলেন, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করতে তামাকমুক্ত পরিবেশ গড়ে তোলার বিকল্প নেই। এ বিষয়ে আয়োজক সংস্থাগুলোর সহযোগিতা নিয়ে শিগগিরই বাস্তবায়ন কার্যক্রম শুরু করা হবে।
আজ বুধবার (১০ ডিসেম্বর) সকালে কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের অতীন্দ্রমোহন রায় সম্মেলন কক্ষে উবিনীগ (উন্নয়ন বিকল্পের নীতি নির্ধারণী গবেষণা) ও তাবিনাজ (তামাক বিরোধী নারী জোট) এর যৌথ আয়োজনে তামাকমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিতকরণের দাবিতে মতবিনিময় সভা প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথাগুলো বলেন।
সভায় তামাকের ভয়াবহ স্বাস্থ্যঝুঁকি, অর্থনৈতিক ক্ষতি ও পরিবেশগত বিপর্যয় বিষয়ে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন গবেষক হাসানুল হাসিব আল গালিব। তিনি পরোক্ষ ধূমপানের কারণে অধূমপায়ীদের ঝুঁকির বিষয়টি বিশেষভাবে তুলে ধরেন।
বক্তারা বলেন, সিটি কর্পোরেশনের বিভিন্ন অফিসে প্রতিদিন বিপুল সংখ্যক মানুষের সমাগম হয়। এই স্থানে ধূমপান হলে অধূমপায়ীরাও পরোক্ষ ধূমপানে আক্রান্ত হন। তাই সবার নিরাপত্তায় অফিস প্রাঙ্গণকে তামাকমুক্ত ঘোষণা করা জরুরি।
সভায় জানানো হয়, ইতোমধ্যে নারায়ণগঞ্জ ও গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনসহ বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানের অফিসসমূহ তামাকমুক্ত পরিবেশ ঘোষণা করেছে। কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনও দ্রুত এ উদ্যোগ বাস্তবায়ন করলে নাগরিক স্বাস্থ্য সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মত প্রকাশ করেন বক্তারা।
অনুষ্ঠানে আয়োজকদের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন এডমিন অফিসার সাইফুল ইসলাম, হিউম্যান ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশনের নির্বাহী পরিচালক পারভীন হাসান এবং প্রোগ্রাম অফিসার গোলাম মোস্তফা রনি। সভায় সিটি কর্পোরেশনের সব বিভাগের কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।
মন্তব্য করুন


মন্তব্য করুন


বাংলাদেশ
ও যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হতে যাচ্ছে আগামী ৯ ফেব্রুয়ারি।
ট্রাম্প প্রশাসনের আরোপিত ‘পাল্টা শুল্ক’ হ্রাস এবং দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য সুবিধা
বৃদ্ধির লক্ষ্যে এদিন চূড়ান্ত চুক্তি হতে যাচ্ছে দুই দেশের মধ্যে। সম্ভাব্য চুক্তিতে
মার্কিন তুলায় তৈরি পোশাকে শুল্কমুক্ত সুবিধা পাওয়ার পাশাপাশি বোয়িং বিমান কেনা ও জ্বালানি
খাতে আমদানির মতো বড় বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত থাকছে।
আজ
রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের এসব কথা জানান
বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমান।
তিনি
বলেন, এ ব্যাপারে চুক্তির খসড়া এবং ৯ ফেব্রুয়ারি তা স্বাক্ষর করার জন্য অনুমোদন চেয়ে
আমরা সামারি পাঠিয়েছি। এটি অনুমোদিত হয়ে এলে আমরা চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে পারবো।
প্রসঙ্গত,
বাংলাদেশের পণ্যের ওপর প্রথমে ৩৭ শতাংশ এবং পরে ৩৫ শতাংশ ‘পাল্টা শুল্ক’
ঘোষণা করে আলোচনার সুযোগ রেখেছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ওয়াশিংটনে
তৃতীয় দফার আলোচনা শেষে গত ৩১ জুলাই পাল্টা শুল্ক ২০ শতাংশে নামিয়ে আনা হয়। তবে এ জন্য
দেশটির সঙ্গে বাণিজ্য ঘাটতি কমিয়ে আনার প্রতিশ্রুতিসহ বাংলাদেশকে বেশ কিছু ছাড় দিতে
হয়।
শুল্ক
কত শতাংশ হতে পারে— এমন প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্য সচিব বলেন,
বাংলাদেশের রেসিপ্রোকাল শুল্কহার ২০ শতাংশ আছে। অন্যান্য দেশেও একই আছে, আবার অনেক
দেশে বেশি আছে। তবে, আমরা আশা করছি হয়তো কিছু কমতেও পারে; সে ধরনের একটি ধারণা আছে।
তবে, নিশ্চিত করে বলতে পারব না; এখনো তা নিশ্চিত হয়নি। আমরা খসড়া করেছি, তবে শুল্ক
কত হবে সেটি নির্ধারণ করতে ৯ তারিখ পর্যন্ত সময় নেওয়া হবে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে
জানা গেছে, সুবিধা পেতে বাংলাদেশকেও বেশ কিছু ছাড় দিতে হচ্ছে। গত আগস্টে যুক্তরাষ্ট্র
বাংলাদেশের ওপর পাল্টা শুল্কের হার কমিয়ে ২০ শতাংশ কার্যকর করলেও দেশটির সঙ্গে কোনো
চুক্তি হয়নি। পরে এই শুল্কহার আরও কমানোর পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি করা তুলায়
উৎপাদিত পোশাক রপ্তানিতে শুল্কমুক্ত সুবিধা আদায়ে আলোচনা অব্যাহত রাখে ঢাকা, যা চূড়ান্ত
হয়ে চুক্তিতে পরিণত হতে যাচ্ছে।
সম্প্রতি
ভারত ইইউ-এর সঙ্গে একটি এফটিএ (মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি) স্বাক্ষর করেছে—
এটি নিয়ে সরকার কি উদ্বিগ্ন? এমন প্রশ্নের জবাবে সচিব বলেন, এখানে উদ্বেগের কিছু নেই।
আমরা তৈরি পোশাক খাতে গত ৪৫ বছর ধরে সক্ষমতা অর্জন করেছি এবং আমরা বিশ্বে দ্বিতীয় বৃহত্তম
রপ্তানিকারক দেশ। আমাদের এই খাতে দ্বিতীয় বৃহত্তম অবকাঠামো আছে। এই সক্ষমতা অন্য কেউ
রাতারাতি অর্জন করে ফেলবে বলে আমাদের মনে হয় না। তিনি বলেন, আপনারা জানেন ভারত বেসিক
টেক্সটাইলে বেশ শক্তিশালী এবং বিশ্ববাজারে তাদের ভালো অবস্থান আছে। আমরা কাঁচামালও
তাদের কাছ থেকে সংগ্রহ করি। কাজেই এই দুই দেশ এখনো পরিপূরক (কমপ্লিমেন্টারি) অবস্থায়
আছে। তাদের উপকরণ উৎপাদন এবং নিজস্ব তুলাও আছে। ফলে ভারত আমাদের প্রতিযোগী নয়, বরং
পরিপূরক।
এলডিসি
থেকে উত্তরণের পর অনেক সুযোগ-সুবিধা হারানোর পাশাপাশি নতুন শুল্ক যুক্ত হবে—সেক্ষেত্রে
এফটিএ নিয়ে সরকার নতুন কিছু ভাবছে কি না? এমন প্রশ্নের জবাবে সচিব বলেন, হ্যাঁ, আমরা
অনেকগুলো দেশের সাথে এফটিএ করছি। আমরা জাপানের সাথে এফটিএ-র নেগোসিয়েশন শেষ করেছি।
আগামী ৬ ফেব্রুয়ারি জাপানের সাথে এফটিএ স্বাক্ষরিত হবে।
তিনি
বলেন, গত বৃহস্পতিবার দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে দ্বিতীয় দফা আলোচনা সম্পন্ন হয়েছে এবং আশা
করছি এই বছরের মধ্যেই তাদের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষরিত হবে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের কাছে
আমরা এফটিএ-র প্রস্তাব পাঠিয়েছি এবং অন্যান্য যেসব বাজারে আমরা শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার
পাই, সবগুলোর কাছেই প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। সেখানে আলোচনা শিগগিরই শুরু হবে। রমজানের
প্রস্তুতির ব্যাপারে তিনি বলেন, রমজানের বাজার পরিস্থিতি, নিত্যপণ্যের মূল্য এবং রমজানভিত্তিক
নির্দিষ্ট পণ্যগুলোর সরবরাহ নিয়ে আলোচনা করেছি। এ বছরের অবস্থা ভালো।
যুক্তরাষ্ট্র
থেকে বোয়িং কেনা নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্য সচিব বলেন, বিমান ক্রয়ের বিষয়টি আলোচনায়
আছে। বিমানের সক্ষমতা বাড়ানোর জন্য আমেরিকার সাথে এই চুক্তির আগেও পরিকল্পনা ছিল। শুধু
বোয়িং নয়, অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের সাথেও আলোচনা ছিল। সেটি এখন একটি কাঠামোগত রূপ পেয়েছে।
আমেরিকান রেসিপ্রোকাল ট্যারিফ প্রসঙ্গে যতদূর জানি, তাদের সাথে নেগোসিয়েশন চলছে। বোয়িং
কতগুলো এবং কোন বছর সরবরাহ করতে পারবে, দাম কী হবে এবং বিমানের ভেতরের কনফিগারেশন কেমন
হবে— এসব নিয়ে আলোচনা চলছে।
এখানে
যুদ্ধবিমানও আছে কি না— এমন প্রশ্নের জবাবে সচিব বলেন, যুদ্ধবিমান
এই চুক্তির আওতায় কখনোই আসবে না। মিলিটারি ইস্যু কখনো ট্রেড ইস্যুতে থাকে না।
গত
ছয় মাসে রপ্তানি ৩.৭ শতাংশ নেতিবাচক— যা বাংলাদেশের ইতিহাসে বিরল। এ নিয়ে
পরিকল্পনা জানতে চাইলে সচিব বলেন, আমরা পর্যালোচনা করেছি। বিশ্ববাণিজ্যে ৩.৭ শতাংশ
ঘাটতি হয়েছে। আমরা তো পৃথিবীর বাইরে নই, সেই হিসেবে আমাদের ওপর প্রভাব পড়েছে। তবে,
আমাদের নেতিবাচক প্রবৃদ্ধি ৩ শতাংশ নয়, বরং ১.৬ শতাংশের মতো। অর্থাৎ গ্লোবাল অ্যাভারেজের
চেয়ে আমরা ভালো অবস্থায় আছি।
যুক্তরাষ্ট্রের
তুলা দিয়ে উৎপাদিত পোশাকে শুল্কমুক্ত সুবিধা চুক্তিতে থাকবে কি না—
জানতে চাইলে তিনি বলেন, দ্বিপাক্ষিক চুক্তিতে এক দেশের উপকরণ ব্যবহার করলে কিউমুলেশন
বেনিফিট পাওয়ার আশা থাকে। এটি একটি প্রগতিশীল প্রক্রিয়া এবং এ ধরনের সুবিধার জন্যই
দ্বিপাক্ষিক চুক্তি করা হয়।
বাণিজ্য
মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, গত কয়েক বছর ধরেই যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি করা তুলায়
উৎপাদিত পোশাকে শুল্কমুক্ত সুবিধা চেয়ে আসছে বাংলাদেশ। বাণিজ্য ঘাটতি কমিয়ে আনতে ইতিমধ্যে
বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্র থেকে তুলা আমদানি বাড়িয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের তুলায় তৈরি পোশাকে
শুল্কমুক্ত সুবিধা পাওয়া গেলে তা উভয় পক্ষের জন্যই লাভজনক হবে। বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের
তুলা রপ্তানি বাড়বে এবং যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানিও বৃদ্ধি পাবে।
বাংলাদেশ
টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্র
থেকে ৩৪৬ মিলিয়ন ডলারের তুলা আমদানি করেছে, যা আগের অর্থবছরে ছিল ২৭৮ মিলিয়ন ডলার।
রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় একক রপ্তানি বাজার এখনো
যুক্তরাষ্ট্র।
উল্লেখ্য,
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য ঘাটতি প্রায় ৬০০ কোটি ডলার থেকে কমাতে আগামী এক থেকে
দেড় বছরের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ১৫০ কোটি ডলারের আমদানি বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছে
বাংলাদেশ। আগামী কয়েক বছরে বোয়িংয়ের কাছ থেকে ২৫টি উড়োজাহাজ কিনবে সরকার, যাতে খরচ
হতে পারে প্রায় ৫০ হাজার কোটি টাকা। এছাড়া কিছুটা বাড়তি দামে প্রতিবছর সাত লাখ টন করে
গম আমদানি করা হবে। যুক্তরাষ্ট্র থেকে সামরিক পণ্য, বেসামরিক উড়োজাহাজ যন্ত্রাংশ, জ্বালানি
তেল, ভোজ্যতেল ও তুলার আমদানি বাড়ানো এবং এলএনজি আমদানিতে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি করা হবে।
মন্তব্য করুন


রাজধানীর
বসুন্ধরার এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী
খালেদা জিয়ার চিকিৎসায় চীনের পর এবার আসছে যুক্তরাজ্যের বিশেষজ্ঞ দল। বুধবার তারা ঢাকায়
আসবেন।
আজ
মঙ্গলবার ( ২ ডিসেম্বর ) দুপুরে হাসপাতালের সামনে এক ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান খালেদা
জিয়ার ব্যক্তিগত চিকিৎসক অধ্যাপক ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন।
খালেদা
জিয়ার চিকিৎসায় সহায়তা দিতে চীনের পাঁচ সদস্যের একটি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দল সোমবার (১
ডিসেম্বর) ঢাকায় আসেন। তারা ওইদিনই এভারকেয়ার হাসপাতালে খালেদা জিয়ার মেডিকেল বোর্ডের
সঙ্গে বৈঠক করেন। তবে দলের দায়িত্বশীল কোনো নেতা এ ব্যাপারে কোনো মন্তব্য করতে চাননি।
যুক্তরাষ্ট্র,
চীন, কাতার, সৌদি আরব, পাকিস্তান ও ভারত ইতোমধ্যে চিকিৎসা সহায়তার হাত বাড়িয়েছে জানিয়ে
অধ্যাপক ডা. জাহিদ বলেন, খালেদা জিয়ার জন্য দেশের বাইরে নেওয়ার জন্য যে কথাটি আমি
পূর্বেও বলেছি, মেডিকেল বোর্ডের সদস্যরা ওনাকে দেখেছেন। আজও ইউকে থেকে ওনাকে দেখার
জন্য বিশেষজ্ঞ আসবেন এবং ওনারা দেখবেন। দেখার পর ওনাকে যদি ট্রান্সফারেবল হয়, আমাদের
যদি ট্রান্সফার করার প্রয়োজন পড়ে-মেডিকেল বোর্ড যদি মনে করে, তখনই সেই যথাযথ সময়ে
ওনাকে চিকিৎসার জন্য দেশের বাইরে নিয়ে যাওয়া হবে। আমাদের সকল প্রস্তুতি আছে; কিন্তু
সর্বোচ্চটা মনে রাখতে হবে- রোগীর বর্তমান অবস্থা এবং সর্বোপরি মেডিকেল বোর্ডের পরামর্শের
বাইরে কোনো কিছু করার সুযোগ এই মুহূর্তে আমাদের নেই।
মন্তব্য করুন


বাংলাদেশে
প্রয়োজনীয় সংস্কারের পর নির্বাচনের আয়োজন করা হবে বলে কূটনীতিকদের জানিয়েছেন অন্তর্বর্তী
সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। এজন্য বন্ধু রাষ্ট্র ও সংস্থাগুলোর পূর্ণ
সমর্থন চেয়েছেন।
রোববার
(১৮ আগস্ট) দুপুরে হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে বাংলাদেশে নিযুক্ত বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত,
হাইকমিশনারসহ জাতিসংঘ এবং বিভিন্ন সংস্থার প্রধানদের ব্রিফ করেন ড. ইউনূস। পরে প্রধান
উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম সাংবাদিকদের এ কথা জানান।
তিনি
বলেন, বাংলাদেশে যে দূতাবাসগুলো আছে তার রাষ্ট্রদূত ও জাতিসংঘের যেসব সংস্থার প্রধান
এখানে আছেন তাদের সঙ্গে প্রথমবারের মতো প্রধান উপদেষ্টা বৈঠক করেছেন। বৈঠকে তিনি সবাইকে
ধন্যবাদ জানিয়েছেন। তিনি সবার পূর্ণ সমর্থন চেয়েছেন।
প্রেস
সচিব আরও বলেন, প্রধান উপদেষ্টা বলেছেন- এটা দ্বিতীয় রেভ্যুলেশন ছিল। এখানে এত মানুষের
সম্পৃক্ততা ছিল যে তিনি বলেছেন ১৯৭১ সালে যদি প্রথম রেভ্যুলেশন হয় এটা দ্বিতীয় রেভ্যুলেশন।
তার বার্তা ছিল দ্রুত অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন আয়োজন করা। উনি নির্বাচনটি
তখনই করবেন যখন প্রয়োজনীয় সংস্কার করা যায়। বিচার বিভাগ, সিভিল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন,
সিকিউরিটি ফোর্স, মিডিয়া- সব কিছুতে সংস্কার চিহ্নিত করে বাস্তবায়ন করে যত দ্রুত নির্বাচন
দেওয়া যায় সেটি তার লক্ষ্য। তিনি বলেছেন এখন প্রধান কাজ আইনশৃঙ্খলা রক্ষা। সেটি অনেকটা
স্বাভাবিক হয়েছে।
মন্তব্য করুন


পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী
মোহাম্মদ ইসহাক দার ঢাকায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ
ইউনূসের সঙ্গে বৈঠক করেছেন।
আজ রোববার (২৪ আগস্ট) বৈঠকে দুই নেতা
দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক জোরদার, বাণিজ্য সম্প্রসারণ, শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক আদান-প্রদান
বৃদ্ধি, তরুণ প্রজন্মের পারস্পরিক যোগাযোগ এবং সার্কের মাধ্যমে আঞ্চলিক সহযোগিতা পুনরুজ্জীবনের
ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
উপপ্রধানমন্ত্রী দার পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী
মোহাম্মদ শেহবাজ শরিফের শুভেচ্ছা পৌঁছে দিয়ে বলেন, আমাদের প্রধানমন্ত্রী আপনাকে আন্তরিক
শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।
প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূসও উষ্ণ শুভেচ্ছা
জানিয়ে শরিফের সঙ্গে অতীতে সাক্ষাতের কথা স্মরণ করেন। তিনি বলেন, ‘প্রতি বার আমাদের
সাক্ষাতে সার্ক নিয়ে আলোচনা হয়েছে। আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি অভিন্ন, সার্ক আমাদের উভয়ের
কাছেই অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত।
ইসহাক দার দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা বৃদ্ধির
সুযোগ তুলে ধরে বলেন, আমাদের দুই অর্থনীতি পরিপূরক। বহু ক্ষেত্রে আমরা একসঙ্গে কাজ
করতে পারি। তিনি দারিদ্র্য বিমোচন ও কমিউনিটি ভিত্তিক জনগোষ্ঠীর ক্ষমতায়নে অধ্যাপক
ইউনূসের ভূমিকার উচ্চ প্রশংসা করে বলেন, ‘বাংলাদেশ সৌভাগ্যবান যে, আপনার মতো একজন সরকারপ্রধান
রয়েছে— আপনি এমন একজন নেতা যিনি বিশ্বকে অনুপ্রাণিত
করেন।
সফরকালে পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী
বাংলাদেশের বাণিজ্য ও জ্বালানি উপদেষ্টাসহ কয়েকজন উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠক করেন এবং বিভিন্ন
রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।
প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস
দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য সম্প্রসারণ ও আঞ্চলিক সহযোগিতার নতুন দিগন্ত উন্মোচনের আহ্বান
জানিয়ে বলেন, আমি সার্ককে উৎসাহিত করি এবং পাকিস্তানসহ সার্কভুক্ত দেশগুলোর সঙ্গে আমাদের
সম্পর্ককে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকারের একটি হিসেবে দেখি।
তিনি সাংস্কৃতিক বিনিময়ের গুরুত্ব তুলে
ধরে বলেন, যখন পাকিস্তানি শিল্পীরা বাংলাদেশে গান পরিবেশনা করেন, সবাই তাদের প্রশংসা
করে। এই চেতনার ওপরই আমাদের সম্পর্ক গড়ে তুলতে হবে।
১৩ বছর পর বাংলাদেশ সফরে আসা পাকিস্তানের
কোন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হলেন ইসহাক দার। তিনি জানান, দুই দেশের মধ্যে নৌ ও বিমান যোগাযোগ
উন্নত করার প্রচেষ্টা চলছে।
ইসহাক দার বলেন, অক্টোবরের মধ্যে ফ্লাই
জিন্নাহ ঢাকা-করাচি সরাসরি ফ্লাইট চালু করবে বলে আশা করা হচ্ছে। এছাড়া পিআইএও বেসরকারিকরণের
পর ঢাকা রুটে সরাসরি ফ্লাইট চালু করবে।
বৈঠকে উভয় নেতা আশাবাদ ব্যক্ত করেন
যে, বাণিজ্য বৃদ্ধি, সাংস্কৃতিক বিনিময় ও আঞ্চলিক সহযোগিতা দক্ষিণ এশিয়াকে আরও স্থিতিশীল
ও সমৃদ্ধ করবে।
বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টার আন্তর্জাতিক
বিষয়ক বিশেষ দূত লুৎফে সিদ্দিকী উপস্থিত ছিলেন।
(সূত্র- বাসস)
মন্তব্য করুন


প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ
ইউনূস বলেছেন, বাংলাদেশ রাজনৈতিক ইতিহাসে এক নতুন পরিবর্তনের জন্য প্রস্তুত। সরকারের
প্রত্যক্ষ মদদে এক বছর আগে ঘটে যাওয়া হত্যাযজ্ঞ এবং ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর,
বর্তমানে দেশ যথেষ্ট স্থিতিশীল এবং নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত।
তিনি জানান, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির
প্রথমার্ধে নির্বাচন ঘোষণা করা হয়েছে এবং এই নির্বাচনের মাধ্যমে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার
একটি নির্বাচিত সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করবে।
প্রধান উপদেষ্টা আজ সোমবার (২৫ আগস্ট)
কক্সবাজারে রোহিঙ্গা অংশীজন সংলাপের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন। তিনি বলেন, আমরা
এখন আমাদের রাজনৈতিক ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে আছি। এক বছর আগে আমরা এক ভয়াবহ
হত্যাযজ্ঞের মধ্য দিয়ে গিয়েছিলাম। এরপর ছাত্র নেতৃত্বাধীন গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে ফ্যাসিবাদী
শাসন থেকে দেশকে মুক্ত করা সম্ভব হয়েছে।
রোহিঙ্গা সংকটকে বিশ্ব সম্প্রদায়ের
কাছে আরও জোরালোভাবে তুলে ধরতে, গতকাল থেকে কক্সবাজারে তিন দিনের আন্তর্জাতিক সংলাপ
“স্টেকহোল্ডার্স’ ডায়ালগ: টেকঅ্যাওয়ে টু দ্য হাই-লেভেল কনফারেন্স অন দ্য রোহিঙ্গা সিচুয়েশন”
শুরু হয়েছে। প্রধান উপদেষ্টা স্থানীয় হোটেল বে ওয়াচে আজ সংলাপের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন
করেন।
উদ্বোধনী বক্তব্যে অধ্যাপক ড. ইউনূস
রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধানের জন্য সাত দফা প্রস্তাব উপস্থাপন করেন এবং আন্তর্জাতিক
সম্প্রদায়কে কার্যকর ভূমিকা নেওয়ার আহ্বান জানান।
তিনি বলেন,রোহিঙ্গাদের ওপর চলমান নিপীড়ন
ও বাস্তুচ্যুতি থামাতে এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।
অধ্যাপক ড. ইউনূস উত্থাপিত সাত দফা
প্রস্তাবের মধ্যে রয়েছে- রোহিঙ্গাদের দ্রুত, নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবর্তনের
জন্য বাস্তবসম্মত রোডম্যাপ প্রণয়ন, দাতাদের অব্যাহত সমর্থন, মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ ও আরাকান
আর্মির কাছে রোহিঙ্গাদের নিরাপত্তা ও জীবিকা নিশ্চিত করার আহ্বান, রোহিঙ্গাদের সঙ্গে
গঠনমূলক সংলাপ ও অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠা, আসিয়ানসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সক্রিয় ভূমিকা,
গণহত্যার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান এবং আন্তর্জাতিক আদালতে জবাবদিহিতা ত্বরান্বিত করা।
মন্তব্য করুন