১৯৭১ সালে পাকিস্তানি মিলিটারির গুলি, ৫৫ বছর পর শরীর থেকে অপসারণ

১৯৭১ সালে পাকিস্তানি মিলিটারির গুলি, ৫৫ বছর পর শরীর থেকে অপসারণ
ছবি

একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের সময় নেত্রকোণার দুর্গাপুর উপজেলার মন্নাস আলী ছিলেন ২০ বছরের তরুণ। সেসময় পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী তাকে লক্ষ্য করে গুলি করলে সেটি তার পেটে লাগে। প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়; কিন্তু তিনি প্রাণে বেঁচে যান।

সেই সময় থেকে গুলিটি তার পেটেই ছিল। সারাজীবন এজন্য তাকে অনেক ভোগান্তি ও কষ্ট পোহাতে হয়েছে। কিন্তু টাকার অভাব আর ভয়ের কারণে গুলিটি আর বের করা হয়নি।

এখন যন্ত্রণা অসহ্য পর্যায়ে এসে ঠেকেছে। ৫৫ বছর পর শনিবার দুপুরে দুর্গাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসকরা অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে মন্নাস আলীর গুলিটি বের করেছেন।

মন্নাস আলীকে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে, তিনি সুস্থ আছেন বলে জানিয়েছেন অস্ত্রোপচারে নেতৃত্ব দেওয়া দুর্গাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) তানজিরুল ইসলাম রায়হান। মন্নাস আলীর বাড়ি উপজেলার গাঁওকান্দিয়া ইউনিয়নের হরিয়াউন্দ গ্রামে।

স্বজনরা বলেন, ১৯৭১ সালে দুর্গাপুরে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী একটি ক্যাম্প স্থাপন করে। সে সময় গাঁওকান্দিয়া ইউনিয়নের এক বীর মুক্তিযোদ্ধা তিন পাকিস্তানি সেনাকে হত্যা করে মাটিচাপা দেন।

এর প্রতিশোধ নিতে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী আশপাশের গ্রামগুলোতে ব্যাপকভাবে হামলা চালায়। হামলার সময় তারা অর্ধশতাধিক মানুষকেও আটক করে। পরে তাদেরকে একটি ঘরের ভেতরে আটকে রেখে বাইরে থেকে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয় এবং নির্বিচারে গুলি করা হয়।

এতে অধিকাংশই নিহত হন। মাত্র কয়েকজন দৌড়ে পালিয়ে প্রাণ রক্ষা করতে পারেন। মন্নাস আলীও তাদের মধ্যে একজন ছিলেন। পালিয়ে যাওয়ার সময় পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর ছোড়া একটি গুলি তার পেটে বিদ্ধ হয়।

মন্নাস আলীর ছেলে আবুল হোসেন বলেন, “বাবা বেশিরভাগ সময়ই অসুস্থ থাকতেন। টাকার অভাবে আমরা চিকিৎসা করাতে পারিনি। বাবাও গুলি বের করা নিয়ে ভয় পেতেন। সবার সহযোগিতায় বাবার শরীর থেকে গুলিটি বের করা হয়েছে। আমরা সবার কাছে দোয়া চাই।”

মন্নাস আলীর পুত্রবধূ হামিদা খাতুন বলেন, “আমার শ্বশুর সব সময় বলতেন, তার শরীরে গুলি রয়েছে। আজ গুলি বের করার পর আমরা নিজের চোখে সেটি দেখলাম। বাবা বলতেন, মৃত্যুর পর যেন গুলি বের না করে তাকে দাফন করা হয়। আল্লাহ আমাদের দিকে মুখ তুলে তাকিয়েছেন, আজ গুলিটি বের হয়েছে।

দুর্গাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আরএমও তানজিরুল ইসলাম রায়হান বলেন, “টাকার অভাবে তিনি এতদিন চিকিৎসা নিতে পারেননি। আমরা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে অস্ত্রোপচারটি করেছি।”উদ্ধার হওয়া গুলির বিষয়ে থানা পুলিশকে জানানো হয়েছে বলে জানান চিকিৎসক।

global fast coder

ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন  

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

আনসারের পৃথক তিনটি আইন রূপান্তর করে একটি সমন্বিত আইন প্রণয়ন করা হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

১

বিএনপি কোনো অপরাধীকে প্রশ্রয় দেয় না, এটি আবারও প্রমাণিত: রাশেদ খাঁন

২

ঘরছাড়া ভারসাম্যহীন স্ত্রীকে খুঁজে পেয়েই বুকে জড়িয়ে ধরলেন স্বামী

৩

রাড্ডা সেন্টারে হামলা: এমপি পদ থেকে বিএনপির মিষ্টির পদত্যাগ

৪

আপনারা ডিসেম্বর, ডিসেম্বর করছেন কেন? ডিসেম্বর তো আমাদের বিজয়ের মাস: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

৫

উল্টো পথে এসে সার্জেন্টের সঙ্গে দুর্ব্যবহার, ৭ দিনের কারাদণ্ড লেডি বাইকারের

৬

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সরকারের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

৭

মুসলিম বন্ধুর জানাজায় দূরে দাঁড়িয়ে অঝোরে কাঁদলেন বৌদ্ধ বন্ধু

৮

গরিব ছেলে পছন্দ করতাম, পরে বুঝেছি এরা আরও বেশি দুষ্টু: প্রভা

৯

চৌদ্দগ্রামের সেই দুই কিশোরী কক্সবাজার থেকে উদ্ধার, যা জানা গেল

১০