

১৬
বছর বয়সে ঢাকা থেকে পাকিস্তানে পাচার হয়ে যান বরগুনার মেয়ে আছিয়া। এরপর কেটে গেছে
তিন দশকেরও বেশি সময়। পরিবারের কেউ জানতেন না তিনি কোথায় আছেন, বেঁচে আছেন কি না।
সম্প্রতি
সামাজিক মাধ্যমের কল্যাণে পাকিস্তানে থাকা সেই আছিয়ার সন্ধান পেয়েছে পরিবার। এখন সাত
সন্তানের জননী আছিয়া ফিরতে চান ৯০ বছর বয়সি বাবার কাছে। দেশে ফিরতে বাংলাদেশ সরকার
ও পাকিস্তান সরকারের সহযোগিতা চান আছিয়া এবং তার পরিবার।
পারিবারিক
সূত্রে জানা গেছে, নব্বই দশকের শুরুতে অভাবের কারণে জীবিকার সন্ধানে ঢাকায় যায় আছিয়ার
পরিবার। বাসাভাড়া নিয়ে থাকতেন মিরপুরের বড়বাগ এলাকায়। আর দিনমজুরি করতেন আছিয়ার বাবা
তমিজ উদ্দিন। ১৯৯৪ সালের দিকে এক বিকালে বরগুনা যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হন ১৬
বছরের আছিয়া, এরপর আর ফেরেননি। অনেক খোঁজ করেও মেয়ের সন্ধান পায়নি পরিবার। একসময় মেয়েকে
হারানোর বেদনা নিয়েই গ্রামে ফিরে আসেন তারা। এরপর কেটে গেছে বছরের পর বছর। এর মধ্যে
পাঁচ বোনের বিয়ে হয়েছে, ভাইও সংসার শুরু করেছেন। আর তিন বছর আগে মেয়ের অপেক্ষা করতে
করতেই মারা গেছেন আছিয়ার মা রাহেলা।
কিছুদিন
আগে নিজের পরিচয় ও বাংলাদেশে থাকা বাবার ঠিকানা জানিয়ে ফেসবুকে একটি পোস্ট দেন আছিয়ার
মেয়ে। এর পরে সামাজিক মাধ্যমের কল্যাণে বাংলাদেশ থেকে তার এলাকার একজন
ঠিকানা যাচাই করে চিনতে পারেন তাকে। ঠিকানা মিলে যাওয়ার পরে তমিজ উদ্দিন, তার ছেলে
মোস্তফা ও মেয়েদের ছবি পাঠানো হয় আছিয়ার কাছে। ছবিগুলো দেখেই হারিয়ে যাওয়া পরিবারের
সদস্যদের চিনতে পারেন তিনি।
সরেজমিন
বরগুনা সদর উপজেলার এম বালিয়াতলী ইউনিয়নের চারাভাঙ্গা গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, জীর্ণ
ঘরেই বসে আছেন ৯০ বছর বয়সি তমিজ উদ্দিন হাওলাদার। বয়সের ভারে নুয়ে পড়েছে শরীর, ঝাপসা
হয়ে এসেছে দৃষ্টি, সে দৃষ্টি অপেক্ষার। কখন মোবাইল নিয়ে আসবেন প্রতিবেশী রিয়াজ।
মোবাইলের
পর্দায় মেয়ে আছিয়ার মুখ ভেসে উঠলেই বদলে যায় তার মুখের অভিব্যক্তি। কখনো হাসেন, কখনো
চোখের পানি মুছেন। কণ্ঠ শুনতে পান বাবা, কথাও হয় প্রতিদিন। তবু ৩২ বছরের অপেক্ষার অবসান
যেন হচ্ছে না তার। কারণ, মেয়েকে দেখা যায় কিন্তু ছোঁয়া যায় না।
মরার
আগে আমার আছিয়ারে একবার দেখতে চাই। এমন আকুতি করে আছিয়ার বাবা তমিজ উদ্দিন বলেন,
আমার ৯০ বছর বয়সে মাইয়ারে না পাইয়া শোকে কাতর হইয়া ছিলাম। আল্লাহ এখন আমার মায়ের
খোঁজ দিছে। আমি চাই মরার আগে ওরে একটু ছুইয়া দেখতে। আমার মেয়েরে আপনারা আইন্না দেন।
আছিয়ার
সঙ্গে পরিবারের যোগাযোগ স্থাপনে ভূমিকা রাখা রিয়াজ উদ্দিন বলেন, ফেসবুকে আমাদের গ্রামের
এক নারীর হারিয়ে যাওয়ার বিজ্ঞপ্তি দেখতে পাই। পরে মুরব্বিদের সঙ্গে কথা বলে তাদের বাড়িতে
গিয়ে বিষয়টি নিশ্চিত হই। এরপর আছিয়ার ফুফুর সঙ্গে যোগাযোগ করি। আমার ফোনের মাধ্যমেই
এখন দুই পরিবারের যোগাযোগ চলছে। বাংলাদেশ সরকারের কাছে অনুরোধ, তাকে দেশে ফিরিয়ে আনতে
সহযোগিতা করা হোক।
আছিয়ার
ভাই মোস্তফা বলেন, আমার বোন হারিয়ে গেছে প্রায়
৩২ বছর আগে৷ এতদিন তার বেঁচে থাকার আশাই ছেড়ে দিয়েছিলাম। কিন্তু হঠাৎ তার সন্ধান পেয়েছি।
সে বেঁচে আছে। আমরা চাই সে যেন দেশে আসতে পারে। সরকার যেন আমাদের সহযোগিতা করে।
পাকিস্তানে
পাচার হয়ে যাওয়ার ঘটনার বর্ণনা দিয়ে মোবাইলে আছিয়া বলেন, ১৯৯৪ সালে বরগুনা যাওয়ার
উদ্দেশে বাসা থেকে বের হয়ে সদরঘাট এলাকায় যাই। সেখানে এক নারীর সঙ্গে দেখা হয়। ওই নারী
আমাকে বাড়ি পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে। পরে আমাকে অজ্ঞান করে প্রথমে ভারতে নিয়ে যাওয়া হয়।
সেখানে একটি বদ্ধ ঘরে ১০-১২ দিন রাখা হয়। আমার সঙ্গে আরও কয়েকজন ছিল। এরপর আমাকে পাকিস্তানের
মোজাফফরনগরে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে ৪০ হাজার রুপিতে আমাকে আমার স্বামীর কাছে বিক্রি
করা হয়।
আছিয়া
জানান, তার স্বামী স্কুলশিক্ষক ছিলেন এবং ভালো মানুষ ছিলেন। তাদের ছয় মেয়ে ও এক ছেলে
রয়েছে। স্বামী মারা যাওয়ার পর স্বজনদের কথা আরও বেশি মনে পড়তে থাকে তার। পরে তার বড়
মেয়ে সামাজিক গমাধ্যমে মায়ের নাম-ঠিকানা দিয়ে পোস্ট করলে বাংলাদেশে থাকা পরিবারের সন্ধান
পান তিনি।
আছিয়া
বলেন, আমি অনেক চেষ্টা করেও বাড়ির কোনো খোঁজ নিতে পারিনি। এখন পরিবারের সন্ধান পেয়েছি।
আমি পাসপোর্টের জন্য আবেদন করেছি। দেশে ফিরতে প্রায় চার লাখ পাকিস্তানি রুপি লাগবে
বলে জানতে পেরেছি কিন্তু এতো টাকা আমার কাছে নেই। আমি আমার বাবাকে দেখতে দেশে ফিরতে
চাই। এজন্য বাংলাদেশ ও পাকিস্তান সরকারের সহযোগিতা চাই।
এ
বিষয়ে বরগুনার জেলা প্রশাসক তাছলিমা আক্তার বলেন, আছিয়ার যদি বাংলাদেশের বাসিন্দা হিসেবে
কোনো প্রমাণপত্র থাকে তবে পাকিস্তানে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করতে
পারেন। অন্যথায় যেহেতু ৩২ বছর পূর্বের ঘটনা আর যদি নাগরিকত্ব সার্টিফিকেট বা অন্যান্য
প্রমাণপত্র না থাকে তার পরিবারের সদস্যরা জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে
আবেদন করলে আমাদের বিদ্যমান নীতিমালা অনুযায়ী আছিয়াকে দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে প্রয়োজনীয়
ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
মন্তব্য করুন


প্রধানমন্ত্রী
তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন পক্ষাঘাতগ্রস্তদের পুনর্বাসন কেন্দ্রের
(সিআরপি) কর্তৃপক্ষ।
রোববার
দুপুরে ( ২৪ মে ) বাংলাদেশ সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে
এই সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।
প্রধানমন্ত্রীর
ডেপুটি প্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনি এ তথ্য জানিয়েছেন।
তিনি
জানান, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতে পক্ষাঘাতগ্রস্তদের পুনর্বাসন কার্যক্রম নিয়ে
আলোচনা হয়। সিআরপি কর্মকর্তারা তাদের চলমান কার্যক্রম, চিকিৎসা ও পুনর্বাসন সেবার
বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।
এ
সময় উপস্থিত ছিলেন সিআরপির প্রতিষ্ঠাতা ট্রাস্টি ড. ভ্যালেরি এ. টেইলর, ট্রাস্টি বোর্ডের
নির্বাহী পরিচালক ড. মোহাম্মদ সোহরাব হোসেন, ট্রাস্টি চেয়ারম্যান মুহাম্মদ সাইদুর
রহমান, ট্রাস্টি মুশতাক আহমেদসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
মন্তব্য করুন


কর্মবিরতির পরে
রাজধানীর সড়কে ট্রাফিকের কাজে ফিরেছে পুলিশ।
বিগত দিনে সারাদেশে বিভিন্ন থানায় হামলা হয়। সেই সাথে পুলিশ সদস্যদের মারধর ও হত্যার ঘটনা ঘটে। একপর্যায়ে রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশের পুলিশ শূন্য ট্রাফিক সিগন্যাল ও সড়কে যান চলাচলের শৃঙ্খলার দায়িত্ব কাঁধে তুলে নেয় ছাত্র-জনতা।
সড়কে ট্রাফিক পুলিশ ফিরলেও কিছু কিছু পয়েন্টগুলোতে এখনো দায়িত্ব পালন করছে শিক্ষার্থীরা।
সোমবার (১২ আগস্ট) দেখা যায় রাজধানীর আগারগাঁও, খামারবাড়ি, ফার্মগেট, কাওরানবাজার, শাহবাগসহ গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে ট্রাফিকের দায়িত্ব পালন করছে পুলিশ। অনেক জায়গায় পুলিশের সাথে আছে শিক্ষার্থীরা। আবার কিছু পয়েন্টে এখনোও ট্রাফিকের দায়িত্ব পালন করছে শুধু শিক্ষার্থীরা।
এদিকে ঢাকাসহ সারাদেশের থানাগুলো চালুর চেষ্টা করছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও পুলিশ সদর দপ্তর। ১৫ আগস্টের (বৃহস্পতিবার) মধ্যে কাজে যোগ দিতে বলা হয়েছে। অন্যথায় তাদের পলাতক দেখানো হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেন।
মন্তব্য করুন


মেয়ের
কলেজে হোস্টেলের সিট বরাদ্দ দেওয়া হবে। এ জন্য বাবা আরিফুর রহমান চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া
থেকে রওনা দিয়েছিলেন মেয়ের কলেজের উদ্দেশে। কক্সবাজারের চকরিয়ায় নানাবাড়ি থেকে মেয়ে
সুমাইয়াও রওনা দিয়েছিলেন কলেজের পথে। রাঙ্গুনিয়া থেকে বাসে উঠে মেয়ে কত দূর এসেছে,
তা জানতে মুঠোফোনে কল করেন বাবা। ফোন ধরেন অচেনা এক তরুণ। বলেন, মুঠোফোনের মালিক বেঁচে
নেই।
চট্টগ্রামের
লোহাগাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বারান্দায় দাঁড়িয়ে এ কথা বলতে বলতে কান্নায়
ভেঙে পড়েন আরিফুর রহমান। বলেন, ‘আমার মাথায় তখন আকাশ ভেঙে পড়ল। কী শুনলাম আমি। বাড়ি
থেকে বের হওয়ার সময়ও তো সুমাইয়ার সঙ্গে ফোনে কথা হয়েছিল। তারপর শুনলাম এই খবর। আমি
অসুস্থ মানুষ। এই শোক কীভাবে বইব? মেয়ে স্বপ্ন দেখত, পড়াশোনা শেষ করে চাকরি নিয়ে পরিবারের
পাশে দাঁড়াবে, কিন্তু মেয়েটিই এখন নেই। এটা কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছি না।’
গতকাল
মঙ্গলবার সকাল সাড়ে আটটার দিকে চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলায় দুই বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে
নিহত হন আরিফুর রহমানের কলেজপড়ুয়া মেয়ে সুমাইয়া জান্নাত (২০)। উপজেলার চুনতি বাজার
এলাকায় চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে এ ঘটনা ঘটে।
মেয়ের
মৃত্যু কোনোভাবেই মানতে পারছেন না মা ইয়াছমিন আক্তার। থামছে না তাঁর আহাজারি। গতকাল
দুপুরে চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে
মেয়ের
মৃত্যু কোনোভাবেই মানতে পারছেন না মা ইয়াছমিন আক্তার। থামছে না তাঁর আহাজারি। গতকাল
দুপুরে চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেপ্রথম আলো
চট্টগ্রাম
সরকারি মহিলা কলেজের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের স্নাতক প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী সুমাইয়ার
বাড়ি বাঁশখালী উপজেলার পুঁইছড়ি ইউনিয়নের আরব শাহ ঘোনাপাড়া জমিদারবাড়ি এলাকায়। বাবা
আরিফুর রহমান পেশায় মসজিদের ইমাম। মা ও ভাইবোনদের নিয়ে সুমাইয়ারা থাকতেন কক্সবাজারের
চকরিয়া উপজেলার মালুমঘাট এলাকায় নানার বাড়িতে। আর বাবা কাজের সূত্রে চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায়।
তিন বোন ও এক ভাইয়ের মধ্যে সুমাইয়া সবার বড়।
গতকাল
মঙ্গলবার সকাল সাড়ে আটটার দিকে চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলায় দুই বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে
নিহত হন আরিফুর রহমানের কলেজপড়ুয়া মেয়ে সুমাইয়া জান্নাত (২০)। উপজেলার চুনতি বাজার
এলাকায় চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে এ ঘটনা ঘটে।
ঘটনার
প্রত্যক্ষদর্শী ব্যক্তিদের বরাত দিয়ে হাইওয়ে পুলিশ জানায়, লোহাগাড়ার চুনতি বাজার এলাকায়
কক্সবাজারগামী ইম্পিরিয়াল পরিবহনের একটি বাসের সঙ্গে এবং চট্টগ্রামগামী পূরবী পরিবহনের
অন্য একটি বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে উভয় বাসের সামনের অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং
কয়েকজন যাত্রী আহত হন। এর মধ্যে গুরুতর আহত হন সুমাইয়া জান্নাত। লোহাগাড়া ফায়ার সার্ভিসের
কর্মীরা তাঁকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক
মৃত ঘোষণা করেন।
গতকাল
দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে লোহাগাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে দেখা যায়, মেয়ের
লাশের সামনে আহাজারি করছেন মা ইয়াছমিন আক্তার। পাশেই দাঁড়িয়েছিলেন বাবা আরিফুর রহমান।
কান্না করতে করতে ইয়াছমিন আক্তার বলছিলেন, ‘কলেজের হোস্টেলে আজ (গতকাল) সিট বরাদ্দ
দেওয়ার কথা ছিল। নোটিশ দিয়ে জানানো হয়েছিল, অভিভাবক নিয়ে যেতে হবে। এ জন্য সুমাইয়ার
বাবা রাঙ্গুনিয়া থেকে কলেজে আসছিলেন। তিনি অপেক্ষা করবেন বলে মেয়েটি সকাল সাতটায় ভাত
খেয়ে তাড়াহুড়া করে বাড়ি থেকে বের গেল। যাওয়ার সময় বলেছিলাম, এত তাড়া কিসের? পাঁচ মিনিট
পর বের হও, কিন্তু মেয়ে কথা শোনেনি।’ ইয়াছমিন আক্তারের আক্ষেপ, ‘পাঁচ মিনিট
পর বের হলে হয়তো আমার মেয়েটা বেঁচে যেত।
দোহাজারী
হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সালাহ উদ্দিন চৌধুরী প্রথম আলোকে বলেন, খবর পেয়ে
পুলিশ ঘটনাস্থলে যায় এবং দুর্ঘটনাকবলিত বাস দুটি জব্দ করে। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে কলেজছাত্রীর
লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। ঘটনার পরপরই দুই বাসের চালক পালিয়ে গেছেন।
এ ঘটনায় আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
মন্তব্য করুন


ভেনেজুয়েলায়
আঘাত হানা পরপর দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্পে মানবিক বিপর্যয় চরমে পৌঁছেছে। জাতিসংঘের
ত্রাণ প্রধান টম ফ্লেচারের তথ্যমতে, প্রলয়ংকরী এই ভূমিকম্পে এখন পর্যন্ত ৫০ হাজারের
বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। মৃতের সংখ্যাও উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে; দেশটির অন্তর্বর্তীকালীন
প্রেসিডেন্ট দেলসি রদ্রিগেজ নিশ্চিত করেছেন যে, ভূমিকম্পে এ পর্যন্ত ৯২০ জনের মৃত্যু
হয়েছে।
ভূমিকম্পে
সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে রাজধানী কারাকাসের উত্তরাঞ্চল। ধ্বংসস্তূপের নিচে
এখনো বহু মানুষ আটকা পড়ে আছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। দেশটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে,
অন্তত ২০০ জনের বেশি জীবিত আটকা পড়ার খবর পাওয়া গেছে। ভারী যন্ত্রপাতির তীব্র সংকট
থাকায় ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে জীবিতদের উদ্ধারের কাজ অত্যন্ত ধীরগতিতে চলছে, যা স্বজনদের
মাঝে চরম হতাশা ও ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে।
পরিস্থিতি
সামাল দিতে জাতিসংঘের মানবিক সহায়তা সংস্থা মাঠে নেমেছে। স্প্যানিশ, সালভাদরীয়, সুইস,
কলম্বীয় এবং মেক্সিকানসহ মোট ১৭টি দেশের বিশেষায়িত উদ্ধারকারী দল বর্তমানে ঘটনাস্থলে
কাজ করছে। ত্রাণ তৎপরতা সমন্বয় করতে মার্কিন সামরিক বাহিনীর একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা
ইতিমধ্যে কারাকাসে পৌঁছেছেন।
মার্কিন
ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানিয়েছে, গত বুধবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যায়
মাত্র কয়েক সেকেন্ডের ব্যবধানে দেশটিতে ৭.২ এবং ৭.৫ মাত্রার দুটি ভূমিকম্প আঘাত হানে।
প্রথমটির কেন্দ্রস্থল ছিল ভূ-পৃষ্ঠের ২০.৩ কিলোমিটার এবং দ্বিতীয়টির কেন্দ্র ছিল ১০
কিলোমিটার গভীরে। ভূতাত্ত্বিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, ভেনেজুয়েলার উত্তর উপকূল ক্যারিবিয়ান
ও দক্ষিণ আমেরিকান টেকটোনিক প্লেটের সীমানায় অবস্থিত হওয়ায় এটি ভূমিকম্পপ্রবণ। এর
আগে ১৯০০ সালে দেশটিতে ৭.৭ মাত্রার একটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছিল।
মন্তব্য করুন


বিচার বিভাগের মর্যাদা, ন্যায়বিচারের প্রতি অঙ্গীকার এবং আইনজীবীদের সঙ্গে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করার প্রত্যয়ে কুমিল্লায় নবাগত বিজ্ঞ সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ মোঃ হেমায়েত উদ্দিন-কে ফুলেল শুভেচ্ছা ও সংবর্ধনার মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে বরণ করে নিয়েছে কুমিল্লা জেলা আইনজীবী সমিতি।
মঙ্গলবার (৭ জুলাই ২০২৬) বিকেলে কুমিল্লা আইনজীবী সমিতি ভবনের দ্বিতীয় তলার ৭ নম্বর হলরুমে জেলা আইনজীবী সমিতির আয়োজনে এ সংবর্ধনা অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। শুরু থেকেই অনুষ্ঠানস্থলে ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ। নবীন-প্রবীণ আইনজীবীদের প্রাণবন্ত উপস্থিতি, শুভেচ্ছা বিনিময় এবং আন্তরিক অভ্যর্থনায় মুখর হয়ে ওঠে পুরো মিলনায়তন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কুমিল্লা জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট মোঃ সহিদ উল্লাহ। সঞ্চালনায় ছিলেন সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মোঃ মাহাবুবুল হক খন্দকার, যিনি সুচারুভাবে পুরো অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন।
অনুষ্ঠানের শুরুতেই নবাগত সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ মোঃ হেমায়েত উদ্দিনকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানিয়ে বরণ করে নেন জেলা আইনজীবী সমিতির নেতৃবৃন্দ। এ সময় উপস্থিত আইনজীবীরা করতালির মাধ্যমে তাঁকে স্বাগত জানান এবং তাঁর নেতৃত্বে কুমিল্লার বিচার বিভাগ আরও গতিশীল, স্বচ্ছ ও জনবান্ধব হবে বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কামরুল হাসান বলেন, বিচারক ও আইনজীবীরা একই লক্ষ্য নিয়ে কাজ করেন—ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা। সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নে পারস্পরিক সম্মান, আন্তরিকতা ও পেশাগত সৌহার্দ্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি নবাগত জেলা জজের সফল দায়িত্বপালন কামনা করেন।
ওই অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন- সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মোঃ মাহাবুবুল হক খন্দকার।
এছাড়াও বক্তব্য রাখেন- জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ ইসমাইলসহ সমিতির অন্যান্য নেতৃবৃন্দ। বক্তারা তাঁদের বক্তব্যে নবাগত জেলা জজের প্রতি আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, কুমিল্লার বিচারাঙ্গন দীর্ঘদিন ধরে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। নবাগত সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজের অভিজ্ঞতা, প্রজ্ঞা ও কর্মদক্ষতা বিচার বিভাগের কার্যক্রমে নতুন মাত্রা যোগ করবে বলে বক্তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন। একই সঙ্গে বিচারক ও আইনজীবীদের পারস্পরিক সহযোগিতা ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার অন্যতম ভিত্তি বলেও উল্লেখ করেন। তারা আরও বলেন, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা, বিচারপ্রার্থীদের ভোগান্তি কমানো এবং বিচার ব্যবস্থাকে আরও গতিশীল করতে বিচারক ও আইনজীবীদের সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।
সংবর্ধনার জবাবে নবাগত সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ মোঃ হেমায়েত উদ্দিন জেলা আইনজীবী সমিতির প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, বিচার বিভাগের প্রতি জনগণের আস্থা অটুট রাখতে সততা, নিষ্ঠা ও নিরপেক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনই তাঁর প্রধান অঙ্গীকার। আইনজীবীদের সহযোগিতা ও সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্কের মাধ্যমে কুমিল্লার বিচার ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর ও জনবান্ধব করে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে জেলা আইনজীবী সমিতির নবীন ও প্রবীণ আইনজীবীরা ছাড়াও বিভিন্ন আদালতের বিচারক, সমিতির নেতৃবৃন্দ এবং বিচারাঙ্গনের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। পুরো আয়োজনজুড়ে ছিল সৌহার্দ্য, আন্তরিকতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের অনন্য এক পরিবেশ, যা কুমিল্লার বিচারাঙ্গনে নতুন কর্মউদ্দীপনা ও আশার বার্তা ছড়িয়ে দেয়।
অনুষ্ঠান শেষে অতিথিদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ, ফুলেল শুভেচ্ছা বিনিময় এবং স্মৃতিচারণমূলক আলোকচিত্র ধারণের মধ্য দিয়ে সংবর্ধনা অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়। উপস্থিত আইনজীবীদের প্রত্যাশা, নবাগত সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজের বিচক্ষণ নেতৃত্বে কুমিল্লার বিচার ব্যবস্থা আরও গতিশীল, স্বচ্ছ, মানবিক এবং ন্যায়ভিত্তিক হয়ে উঠবে।
মন্তব্য করুন


তীব্র তাপপ্রবাহে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিতে রাত ৮টার পর শপিংমল ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার আহ্বান জানিয়েছে বিদ্যুৎ বিভাগ। এ ছাড়াও এসির তাপমাত্রা ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ওপরে রাখাসহ গ্রাহকদের বিদ্যুৎ ব্যবহারে সাশ্রয়ী হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
গতকাল সোমবার (২৯ এপ্রিল) রাতে বিদ্যুৎ বিভাগের ওয়েবসাইটে দেওয়া এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বিগত ১৫ বছরে বিদ্যুৎ খাতে অভূতপূর্ব সাফল্য অর্জন সত্ত্বেও চলমান দাবদাহে বিদ্যুতের চাহিদা অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। তা সত্ত্বেও গ্রাহকদের নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সুবিধা প্রদানে বিদ্যুৎ বিভাগ আন্তরিকভাবে কাজ করছে এবং একইসঙ্গে গ্রাহকদের আরো পরিমিত ও সাশ্রয়ী বিদ্যুৎ ব্যবহারে আহ্বান জানাচ্ছে।
তাপমাত্রা বৃদ্ধির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে বিদ্যুতের চাহিদা। বাড়তি উৎপাদনের পরও লোডশেডিং এড়াতে পারছে না বিদ্যুৎ বিভাগ। শহরে স্বস্তি থাকলেও, গ্রামে ভোগান্তিতে গ্রাহকরা।
বিদ্যুৎ বিভাগের বিজ্ঞপ্তিতে আরো বলা হয়েছে, নিম্নহারে বিদ্যুৎ বিল পেতে দোকান, শপিংমল, পেট্রল পাম্প ও সিএনজি স্টেশনে অতিরিক্ত বাতি ব্যবহারে বিরত থাকতে বলা হয়েছে।
এসির তাপমাত্রা ২৫ ডিগ্রি বা এর ওপরে রাখতে আহ্বান জানানো হয়েছে। পাশাপাশি দুর্ঘটনা এড়াতে হুকিং বা অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ থেকে বিরত থাকতেও আহ্বান জানিয়েছে বিদ্যুৎ বিভাগ। বেআইনিভাবে ইজিবাইক ও মোটরচালিত রিকশার ব্যাটারি চার্জিং থেকেও বিরত থাকতে গ্রাহকদের আহ্বান জানানো হয়।
মন্তব্য করুন


আসছে বড়দিন ও থার্টিফার্স্ট নাইটে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য মাঠ পর্যায়ের পুলিশকে নির্দেশনা দিয়েছেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন।
গতকাল পুলিশ সদর দপ্তরের হল অব প্রাইডে শুভ বড়দিন এবং থার্টিফার্স্ট নাইট উপলক্ষে নিরাপত্তা ও আইন-শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা সংক্রান্ত সভায় সভাপতির বক্তব্য তিনি এমন নির্দেশনা দেন।
আইজিপি থার্টিফার্স্টে সন্ধ্যা ৬টার পর ঢাকা মহানগরীসহ সারা দেশে উন্মুক্ত স্থানে কোনো ধরনের অনুষ্ঠান আয়োজন না করার জন্য সবার প্রতি আহ্বান জানান।
পুলিশ প্রধান সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিভ্রান্তিকর পোস্ট, মন্তব্য বা ছবি আপলোড করে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টের সুযোগ গ্রহণকারীদের বিরুদ্ধে সাইবার মনিটরিং ও প্যাট্রলিং বাড়ানো ও তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন। এছাড়া তিনি কক্সবাজারসহ দেশের গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন এলাকায় সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ট্যুরিস্ট পুলিশকে বিশেষ নির্দেশনা দেন।
পটকা, আতশবাজিসহ, ফানুস ওড়ানো থেকে বিরত থাকার জন্য সবার প্রতি অনুরোধ জানানো হয়।
খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীদের বড়দিনের শুভেচ্ছা জানিয়ে আইজিপি বলেন, বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় অতীতের ন্যায় এবারও বড়দিন আনন্দ ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপিত হবে।
সভায় র্যাব মহাপরিচালক এম খুরশীদ হোসেন, সব মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার, রেঞ্জ ডিআইজি ও জেলার পুলিশ সুপাররা ভার্চ্যুয়ালি যুক্ত ছিলেন।
সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত আইজিপি কামরুল আহসান, স্পেশাল ব্রাঞ্চের অতিরিক্ত আইজিপি মনিরুল ইসলাম, এটিইউর অতিরিক্ত আইজিপি এস এম রুহুল আমিন, অতিরিক্ত আইজিপি (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) আতিকুল ইসলাম, পিবিআইর অতিরিক্ত আইজিপি বনজ কুমার মজুমদার, ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমান, বাংলাদেশ খ্রিস্টান অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট নির্মল রোজারিও, যুগ্ম মহাসচিব জেমস সুব্রত হাজরা ও আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক থিওফিল রোজারিও এবং খ্রিস্টান অ্যাসোসিয়েশন বাংলাদেশের সাধারণ সম্পাদক উইলিয়াম প্রলয় সমদ্দারসহ সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তারা।
মন্তব্য করুন


মেঘনা
নদীতে জেলেদের জালে ধরা পড়া একটি রাজা ইলিশ নিলামে ১০ হাজার ৫৫০ টাকায় বিক্রি হয়েছে,
যার ওজন দুই কেজি ৩০০ গ্রাম।
লক্ষ্মীপুরের
কমলনগর উপজেলার কালকিনি ইউনিয়নের মতিরহাট ঘাটে সোমবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে মাছটি নিলামে
তোলা হয়। নিলামে সর্বোচ্চ দরদাতা হিসেবে মাছ ব্যবসায়ী মো. রিয়াজ ১০ হাজার ৫৫০ টাকায়
ইলিশটি কিনে নেন।
ঘাটের
সারু মিয়ার মৎস্য আড়তের আড়তদার মো. খোকন জানান, স্থানীয় জেলে মনু মাঝিসহ কয়েকজন জেলে
মেঘনা নদীতে মাছ ধরতে গিয়ে অন্যান্য ইলিশের সঙ্গে বড় আকৃতির এই রাজা ইলিশটি পান। পরে
মাছটি তার আড়তে নিয়ে আসা হলে উপস্থিত ব্যবসায়ীদের অংশগ্রহণে নিলাম অনুষ্ঠিত হয়। এতে
সর্বোচ্চ দর দিয়ে মাছটি কিনে নেন রিয়াজ বেপারি।
মাছের
ক্রেতা মো. রিয়াজ বেপারি বলেন, ‘বড় আকৃতির ইলিশের চাহিদা বেশি থাকায় নিলামে অংশ নিয়ে
মাছটি কিনেছি। এটি বিক্রির জন্য চাঁদপুরে পাঠানো হবে। সেখানে বড় ইলিশের ভালো বাজার
রয়েছে। আশা করছি, প্রতি কেজি প্রায় ছয় হাজার টাকা দরে মাছটি বিক্রি করা সম্ভব হবে।’
কমলনগর
উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা তূর্য শাহা বলেন, ‘বর্তমানে মেঘনা নদীতে ইলিশের পরিমাণ
তুলনামূলক কম। যে মাছ পাওয়া যাচ্ছে, তার বেশির ভাগই ৩০০ থেকে ৫০০ গ্রাম ওজনের। তাই
বড় আকৃতির ইলিশের চাহিদা ও দাম দুটোই বেশি। তবে আগামী মাসে নদীতে ইলিশের উৎপাদন আরও
বৃদ্ধি পাবে বলে আমরা আশাবাদী।’
মন্তব্য করুন


বিগত
ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের দুর্নীতিবাজদের জমানো অপ্রদর্শিত অর্থ ব্যাংকিং ব্যবস্থায়
ফেরাতে, মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ এবং কালো টাকার উৎস বন্ধ করতে ৫০০ ও ১০০০ টাকার নোট
সাময়িকভাবে বাতিলের প্রস্তাব দিয়েছেন বিএনপির সংসদ সদস্য এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন।
আজ
রোববার (২৮ জুন) জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায়
অংশ নিয়ে এ প্রস্তাব দেন তিনি।
মাহবুব
উদ্দিন বলেন, অনেক মানুষ এখন ব্যাংকে টাকা না রেখে নগদ অর্থ বাসায় সংরক্ষণ করছেন। আবার
যাঁরা অতীতে টাকা বিদেশে পাচার করতে চেয়েছিলেন কিংবা স্বৈরাচারী শাসনের সঙ্গে যুক্ত
ছিলেন, তাঁরাও বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ রেখে গেছেন। ফলে বিপুল অঙ্কের টাকা ব্যাংকের বাইরে
রয়ে গেছে।
তাই
৫০০ ও ১০০০ টাকার নোট বাতিলের প্রস্তাব দিয়ে মাহবুব উদ্দিন খোকন বলেন, সরকার যদি এই
নোটগুলো বাতিল করে দুই মাসের মধ্যে ব্যাংকে জমা দেওয়ার সুযোগ দেয়, তাহলে যাঁদের ট্যাক্স
ফাইলে ওই অর্থের হিসাব নেই, তাঁরা ২৫ শতাংশ কর দিয়ে তা বৈধ করতে পারবেন। এতে বাজেট–ঘাটতি
কমবে, ব্যাংকিং খাতে তারল্য বাড়বে, ব্যাংক শক্তিশালী হবে এবং সেই অর্থ বিনিয়োগ ও উৎপাদনমুখী
খাতে ব্যবহার করা সম্ভব হবে।
মাহবুব
উদ্দিন খোকন বলেন, বাংলাদেশে বর্তমানে প্রয়োজনের তুলনায় অনেক বেশি ব্যাংক রয়েছে। ‘এমপি
হলেই একটা ব্যাংক লাগবে, নেতা হলেই একটা লিজিং কোম্পানি লাগবে—এ
সংস্কৃতি বন্ধ করতে হবে। এত ব্যাংকের প্রয়োজন নেই। জনগণের টাকা দিয়ে দুর্বল ব্যাংক
টিকিয়ে রাখা হচ্ছে,’ বলেন তিনি। তাই ব্যাংকের সংখ্যা কমিয়ে ব্যাংকিং খাতকে আরও কার্যকর
করার আহ্বান জানান এই সংসদ সদস্য।
টাকা
পাচারকে দেশের অন্যতম বড় সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করে এই আইনজীবী বলেন, স্বাধীনতার পর
থেকে বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ ফিরিয়ে আনার কথা বারবার বলা হলেও বাস্তবে একটি টাকাও ফেরানো
যায়নি। কারণ, আন্তর্জাতিক আর্থিক ব্যবস্থায় প্রবেশ করার পর সেই অর্থ ফিরিয়ে আনা অত্যন্ত
কঠিন।
মাহবুব
উদ্দিন বলেন, ‘টাকারও একটি স্বভাব আছে। মানুষ যেখানে নিরাপত্তা অনুভব করে, সেখানেই
টাকা রাখে। আমাদের এমন একটি আর্থিক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে, যাতে দেশের মানুষ বিদেশে
টাকা না পাঠিয়ে দেশেই বিনিয়োগ করতে আগ্রহী হয়। শুধু আইন করলেই হবে না, পুরো সিস্টেম
পরিবর্তন করতে হবে। সিঙ্গাপুর, দুবাই, কানাডা ও থাইল্যান্ডে মানুষ আস্থার সঙ্গে অর্থ
রাখে। কারণ, সেখানে সেই পরিবেশ তৈরি করা হয়েছে।’
নতুন
বিএনপি সরকারের প্রথম বাজেট বাস্তবায়নের অন্যতম চ্যালেঞ্জ হিসেবে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি
ও বেকারত্বের বিষয়টি তুলে ধরে তিনি বলেন, কোটি কোটি যুবককে বেকার রেখে আইনশৃঙ্খলার
উন্নতি আশা করা যায় না। কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং যুবকদের জন্য কাজের সুযোগ বাড়াতে হবে।
মাহবুব
উদ্দিন খোকন বলেন, এবারের বাজেট ঘাটতির হলেও এটি অস্বাভাবিক নয়। বিশ্বের অনেক দেশেই
ঘাটতির বাজেট হয়, বাংলাদেশেও অতীতে প্রায় সব বাজেটই ঘাটতির ছিল। বক্তব্যে তিনি আরও
বলেন, প্রধানমন্ত্রী ও অর্থমন্ত্রীর নেতৃত্বে মাত্র তিন মাসের মধ্যে একটি বিধ্বস্ত
অর্থনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যে এই বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে। লুটপাটের অর্থনীতি থেকে দেশকে
উদ্ধারের প্রচেষ্টার মধ্যেই বাজেটটি এসেছে। এ কারণেই বাজেট নিয়ে বড় ধরনের সমালোচনা
দেখা যাচ্ছে না।
মন্তব্য করুন


রোববার (১৪ জুলাই) জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষ থেকে প্রত্যয় স্কিম নিয়ে দেওয়া এক
নির্দেশনায় জানানো হয়েছে , সরকারি কর্মচারীদের মতো পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়সহ সব স্ব-শাসিত,
স্বায়ত্তশাসিত, রাষ্ট্রায়ত্ত ও তার অঙ্গসংগঠনের কর্মচারীরা নতুন কর্মচারী হিসেবে ১
জুলাই ২০২৫ সাল বা তার পরবর্তীসময়ে চাকরিতে যোগদান করবেন ,তারা বাধ্যতামূলকভাবে সর্বজনীন
পেনশন স্কিমের আওতায় আসবেন।
সরকার এ মর্মে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে যে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়সহ সব স্ব-শাসিত,
স্বায়ত্তশাসিত, রাষ্ট্রায়ত্ত ও তার অঙ্গসংগঠনের প্রতিষ্ঠানগুলোর কর্মচারীরাও সরকারি
কর্মচারীদের মতো যারা নতুন কর্মচারী হিসেবে ১ জুলাই ২০২৫ সাল বা তৎপরবর্তী সময়ে চাকরিতে
যোগদান করবেন তারা বাধ্যতামূলকভাবে সর্বজনীন পেনশন স্কিমের আওতায় আসবেন।
জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দেশের সর্বস্তরের জনগণকে একটি টেকসই পেনশন
ব্যবস্থায় আনার লক্ষ্যে সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থাপনা আইন, ২০২৩ এর আওতায় গত ১৭ আগস্ট
২০২৩ সালে প্রধানমন্ত্রী সর্বজনীন পেনশন স্কিমের উদ্বোধন করেন।
মন্তব্য করুন