

কুমিল্লার
লাকসামে সম্পূর্ণ নির্ভুলভাবে এবং অবিকল ছাপা অক্ষরের মতো করে নিজ হাতে পবিত্র কুরআন মাজিদ লিখে অনন্য নজির স্থাপন করেছেন সুরাইয়া জান্নাত নামের এক শিক্ষার্থী। তিনি
লাকসাম উপজেলার কান্দিরপাড় ইউনিয়নের চাঁদগাঁও গ্রামের সৌদি প্রবাসী নুর হোসেন লিটন ও জান্নাতুল ফেরদৌস
দম্পতির মেয়ে এবং মুদাফরগঞ্জ এ.ইউ ফাজিল
ডিগ্রি মাদ্রাসার দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী। মাত্র আট মাসের চেষ্টায়
১১৪টি সূরা সংবলিত ৩০ পারার এই
কুরআন মাজিদ হাতে লিখে শেষ করেছেন তিনি।
সুরাইয়া
জানান, সমবয়সীরা যখন মোবাইল ফোন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে
অযথা সময় নষ্ট করে, তখন তিনি সেই সময়টি পবিত্র কুরআন লেখার কাজে ব্যয় করেছেন। মাদ্রাসার নিয়মিত ক্লাস ও পড়াশোনার ফাঁকে
ফাঁকে তিনি এই কাজ করতেন।
২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে
লেখা শুরু করে আগস্ট মাসের শেষের দিকে তিনি পুরো কুরআন মাজিদের অনুলিপি সম্পন্ন করেন। এই দীর্ঘ সময়ে
তিনি প্রায় ৫৫টি কলম ব্যবহার করেছেন এবং মোট ১ হাজার ১২৯
পৃষ্ঠায় পুরো কুরআন লিপিবদ্ধ করেছেন। সুরাইয়া জানান, পবিত্রতা বজায় রাখতে লেখার আগে তিনি সবসময় অজু করে নিতেন এবং নবীজির (সা.) ওপর দরূদ পাঠ করে লেখা শুরু করতেন।
কুরআন
লেখার পেছনে অনুপ্রেরণা সম্পর্কে এই শিক্ষার্থী বলেন,
মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি ও রাসুলের (সা.)
শাফায়াত লাভের পবিত্র উদ্দেশ্যেই তিনি এই কষ্টসাধ্য কাজটি
করেছেন। তার ছোট ভাই আবেদনগর দাখিল মাদ্রাসার দশম শ্রেণির ছাত্র নাহিদ হাসান তাকে এই কাজে সার্বক্ষণিক
উৎসাহ জুগিয়েছে। ভবিষ্যতে হাদিসের বিখ্যাত গ্রন্থ 'সহিহ বুখারি'ও নিজ হাতে
লেখার ইচ্ছে প্রকাশ করেছেন সুরাইয়া। পাশাপাশি তিনি গরিব-দুঃখী ও অসহায় মানুষের
কল্যাণেও কাজ করতে চান।
মেয়ের
এমন বিরল কীর্তিতে মা জান্নাতুল ফেরদৌস
উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে জানান, ছোটবেলা থেকেই সুরাইয়ার আরবি ভাষা ও লেখার প্রতি
বিশেষ ঝোঁক ছিল। মেয়ের এই মহৎ কাজে
খুশি হয়ে প্রবাসী বাবা নুর হোসেন লিটন তাকে এক লাখ টাকা
পুরস্কার দিয়েছেন।
এদিকে
লাকসাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নার্গিস সুলতানা সুরাইয়ার ভূয়সী প্রশংসা করে বলেন, বয়সের এই উত্তাল সময়ে
নিজ হাতে সম্পূর্ণ কুরআন সম্পন্ন করা একটি অসাধারণ দৃষ্টান্ত এবং তার হাতের লেখাও একেবারে ছাপা অক্ষরের মতো। ইতিমধ্যেই স্থানীয় সংসদ সদস্য মো. আবুল কালামের উপস্থিতিতে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সুরাইয়া জান্নাতকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে।
মন্তব্য করুন


ধর্ম-বর্ণ ও মতের পার্থক্য থাকলেও বাংলাদেশের সব মানুষ একই পরিবারের সদস্য বলে উল্লেখ করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
আজ বৃহস্পতিবার (৫ ডিসেম্বর) বিকেলে রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ও মুসলিমসহ বিভিন্ন ধর্মের নেতাদের সঙ্গে বৈঠকের সূচনা বক্তব্যে এ কথা বলেন তিনি।
অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের আগে বিমানবন্দরে দেওয়া নিজের একটি বক্তব্যের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে ড. ইউনূস বলেন, তখন বলেছিলাম আমরা একটা পরিবার। আমাদের নানামত, নানা ধর্ম থাকবে, নানা রীতিনীতি থাকবে কিন্তু আমরা সবাই একই পরিবারের সদস্য। এটাতে জোর দিয়েছিলাম। আমাদের শত পার্থক্য থাকা সত্ত্বেও আমরা পরস্পরের শত্রু নই। আমাদের জাতীয়তা, পরিচয়ের প্রশ্নে এক জায়গায় চলে আসি। আমরা বাংলাদেশি, এক পরিবারের সদস্য।
অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা বলেন, শপথ গ্রহণের পরে শুনতে আরম্ভ করলাম, সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতন হচ্ছে। তখন মনটা খারাপ হয়ে গেল। এর পরপরই ঢাকেশ্বরী মন্দিরে গেলাম। সেখানেও বললাম, আমরা একই পরিবারের সদস্য।
তিনি বলেন, সব দাবিদাওয়া বাদ দিলেও একটা দাবি পরিষ্কার আমাদের সকলের সমান অধিকার, বলার অধিকার, ধর্মের অধিকার, কাজকর্মের অধিকার। সেটা এসেছে সংবিধান থেকে। নাগরিক হিসেবে প্রাপ্য, রাষ্ট্রের দায়িত্ব সেটা নিশ্চিত করা।
অধ্যাপক ড. ইউনূস বলেন, শুনলাম এখনো সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা হচ্ছে।
তাই আমি সবাইকে নিয়ে বসলাম, এটা থেকে কীভাবে উদ্ধার করা যায়।
দুর্গাপূজার নিরাপত্তায় সরকারের উদ্যোগের কথা তুলে ধরে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, সেটা পুরো জাতীয় উৎসবে পরিণত হয়েছিল। তখন তৃপ্তি পেলাম, একটু তো কাজ করেছি।
ভুল তথ্যের বিষয়ে সবাইকে সজাগ ও সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, এখন আবার নতুন কথা, হামলা হচ্ছে, অত্যাচার শুরু হচ্ছে। বিদেশি গণমাধ্যম বলব না প্রচারমাধ্যমে প্রচারিত হচ্ছে, এটা হচ্ছে। আমি খোঁজ নিচ্ছি, কী হচ্ছে? সবদিকে দেখলাম এটা হচ্ছে না। এক খবরে বলা হচ্ছে, আরেক খবরে বলা হচ্ছে হচ্ছে না, তথ্যের মধ্যে ফারাক আছে। এটা ঠিক না। এটার অবসান হতে হবে।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, আমরা যে তথ্য পাচ্ছি তা ভুল হতে পারে। তথ্যের ওপর বসে থাকার কিছুই নাই, এটার অর্থ অন্ধের মতো বসে থাকা। ভেতরে গিয়ে দেখতে হবে। খোঁজ নিতে হবে তথ্যের গরমিল কেন? তাতে ওরা যা বলছে, তা কি মিথ্যা প্রচার? না আমরা যা বলছি তা মিথ্যা প্রচার। সত্যটা কোথায়।
তিনি বলেন, আমাদের লক্ষ্যের কোনো ফারাক নেই। সেখানে সঠিক তথ্য কীভাবে পাব, সেটা আমাদের জানার। প্রকৃত তথ্য, অনেক সময় সরকারি তথ্যের ওপর ভরসা করে লাভ নেই। কর্তা যা চায়, সেভাবে বলে। আসলটা মন খুলে বলতে চাই না। আমরা আসল খবরটা জানতে চাই। সেই প্রক্রিয়াটা প্রতিষ্ঠিত করতে চাই। এত বড় দেশে যেকোন ঘটনা ঘটতে পারে, কিন্তু প্রকৃত তথ্য জানতে চাই। তাৎক্ষণিক খবর পেলে যাতে সমাধান করা যায়। যেদিক থেকেই দোষী দোষীই। তাকে বিচারের আওতায় আনা সরকারের দায়িত্ব।
প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস বলেন, প্রথম কথাটা হলো না হওয়ার পরিবেশ সৃষ্টি করা। আর হয়ে গেলে তাৎক্ষণিক প্রতিকারের ব্যবস্থা করা। আমি যা বলছি, তা দেশের বেশির ভাগ মানুষ মনে করে। আমরা এক পরিবারের মানুষ হিসেবে সামগ্রিকভাবে দায়িত্ব পালন করতে পারি। সেখানে তথ্য ও প্রতিকার হলো বড় বিষয়।
তিনি বলেন, আমি পেলাম তথ্য কিন্তু প্রতিকার পেলাম না। সমস্যা হয়ে গেলে সমাধান করতে হবে। আজকের আলোচনা খোলাখুলি, আমরা সবাই আলোচনা করব। আমাদের লক্ষ্যে কোনো গোলমাল নেই। তথ্য প্রবাহ কীভাবে পাব, দোষীকে কীভাবে ধরব, যাতে সবাই সঠিক তথ্যটা পেয়ে যায়।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, এমন বাংলাদেশ আমরা গড়ে তুলতে চাই, যার নাম দিয়েছি নতুন বাংলাদেশ। এটা আমাদের করতে হবে। আপনাদের কথা বলে সন্তুষ্ট করে আজকের মতো বিদায় দিলাম তা নয়। এটা দ্রুত করতে হবে। ভবিষ্যতের দিকে তাকিয়ে দেখলে হবে না, আমাদের বর্তমানেই করতে যেতে হবে।
সংখ্যালঘু সমস্যার বিষয়ে অবাধ, সত্য তথ্য কীভাবে সংগ্রহ করা যায়, সে বিষয়ে ধর্মীয় নেতাদের পরামর্শ চান প্রধান উপদেষ্টা। তিনি বলেন, কীভাবে নিরাপদে সংগ্রহ করব, যে তথ্য দিচ্ছে সে যেন বিব্রত না করে তাও নিশ্চিত হতে হবে।
মন্তব্য করুন


জাতীয়
নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠনক (দক্ষিণ) হাসনাত আব্দুল্লাহ এমপি সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে উদ্দেশ্য করে বলেছেন, পালিয়ে যাব না বলে যে
পালিয়ে যায়, সে আসি আসি
বলে কখনও আসবে না। ওখান থেকে আসার কথা বলে নেতাকর্মীদেরকে বের করবে আর তারা গণপিটুনি
খাবে।
সোমবার
(২৭ জুলাই) রাতে মেহেরপুরের গাংনী বাস স্ট্যান্ডে এনসিপির জুলাই পদযাত্রা সমাবেশে বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
শিক্ষামন্ত্রীকে
‘সাইকো’ উপাধি দিয়ে তিনি বলেন, সংসদে ক্ষমা চাইবেন আবার শিক্ষকদের বদলি করে প্রতিশোধও নেবেন। মন্ত্রনালয় ও প্রশাসনের ব্যর্থতা
কলেজের নিরীহ শিক্ষকদের উপর চাপিয়ে দিয়েছেন। বদলি করেছেন অন্যত্র।
তিনি
আরও বলেন, মিলন সাহেব আমরা আপনার অতীত জানি, আপনার পরিবারের দুর্নীতি সম্পর্কে জানি। আবার নিজেদের ছেলেকে বিদেশে পাড়লেখা করান, আর আমাদের উপদেশ
দেন নেতাদের পেছনে রাজনীতি করার।
সালাহউদ্দীন
আহমদকে উদ্দেশ্য করে বলেন, তার সম্পদ কমেনি। আগের চেয়ে ২৫ গুণ বৃদ্ধি
পেয়েছে। আসলে বিএনপি কোনো নিরপেক্ষতা চায় না। বরং তারা আওয়ামী লীগের মতো দখলদার রাজনীতি করতে চায়।
প্রধান
অতিথির বক্তব্যে আখতার হোসেন এমপি বলেন, আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে অতিষ্ঠ হয়ে দেশের মানুষ সংস্কার চেয়েছিল। অথচ ভোট হওয়ার পর বিএনপি ও
তার শরিক দল আর সংস্কার
চায় না। ঐক্যমত্য কমিশনের আলোচনায় বিএনপি কিছু কিছু বিষয়ে নোট অব ডিসেন্ট দিয়েছিল।
আর গণঅধিকার পরিষদ, গণসংহতি আন্দোলন নোট অব ডিসেন্ট দেয়নি।
এখন বিএনপির সঙ্গে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে দায়িত্ব নিয়ে বিএনপির সুরেই কথা বলে।
তিনি
আরও বলেন, বাংলাদেশর ৭০ শতাংশ মানুষ
গণভোটের পক্ষে অবস্থান নিলেও এখন তারা তা মানে না।
জনগণের সিদ্ধান্ত অমান্য করে কেউ ক্ষমতায় থাকতে পারেনি। তাই ক্ষমতায় থাকতে হলে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করতে হবে। কোনো ধরনের দখলের রাজনীতি কেউ মেনে নেবে না।
সমাবেশে
আরও বক্তব্য রাখেন মুখ্য সংগঠক (দক্ষিণ) ডা. মাহমুদা মিতু এমপি, যুগ্ম আহবায়ক নুসরাত তাবাসুম এমপি, আলী আহসান জুনায়েদ, সরওয়ার তুষার এবং কেন্দ্রীয় যুগ্ম মুখ্য সংগঠক অ্যাড. শাকিল আহমাদ।
সন্ধ্যা
সাড়ে ৭টায় চুয়াডাঙ্গার পদযাত্রা শেষে মেহেরপুরের গাংনীতে পৌঁছায় এনসিপির গাড়িবহর। পুলিশের কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান শেষ করে কুষ্টিয়ার উদ্দেশে রওনা দেন তারা।
এর
আগে সকালে এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতাদের পোস্টার সম্বলিত কুশপুত্তলিকা এবং দুপুরে মঞ্চের ১০ মিটারের মধ্য
থেকে বোমা সদৃশ বস্তু উদ্ধারের পর নানা শঙ্কা
সৃষ্টি হয়। তবে শেষ পর্যন্ত শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়।
মন্তব্য করুন


লক্ষ্মীপুরের
রায়পুরে ভাড়া বাসায় ঢুকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী, তার মা ও ছোট বোনকে কুপিয়ে
হত্যা করা হয়েছে। একই ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন পরিবারের আরেক সদস্য। বৃহস্পতিবার (২৫
জুন) সকালে রায়পুর পৌরসভার গোডাউন রোড এলাকায় ঘটে যাওয়া এই নৃশংস ঘটনায় এলাকায় চরম
উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরে সন্দেহভাজন হামলাকারীকে স্থানীয়রা ধরে গণপিটুনি দিলে তারও
মৃত্যু হয়।
নিহতরা
হলেন শাহিনুর বেগম (৩৮), তার বড় মেয়ে সায়মা আক্তার (২১) এবং ছোট মেয়ে শিফা আক্তার
(৯)। গুরুতর আহত মেজো মেয়ে ইকরা আক্তারকে (১৭) আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।
নিহত সায়মা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছিলেন এবং ইকরা রায়পুর কাজী ফারুকী কলেজের
দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্রী।
পুলিশ
ও স্থানীয় সূত্র জানায়, কয়েক বছর আগে পরিবারের কর্তা মো. কামাল বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে
মারা যান। এরপর শাহিনুর বেগম তিন মেয়ে ও এক ছেলেকে নিয়ে রায়পুরের ওই ভাড়া বাসায় বসবাস
করছিলেন। তাদের গ্রামের বাড়ি কুমিল্লা জেলায় হলেও দীর্ঘদিন ধরে তারা লক্ষ্মীপুরে থাকতেন।
ঘটনার
সময় ধারালো অস্ত্র নিয়ে এক যুবক বাসায় প্রবেশ করে মা ও তিন মেয়ের ওপর এলোপাতাড়ি হামলা
চালায় বলে জানিয়েছে পুলিশ। পরিবারের সদস্যদের চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন ছুটে এলে হামলাকারী
পালানোর চেষ্টা করেন। পরে স্থানীয়রা তাকে ধাওয়া করে আটক করে গণপিটুনি দেয়। হাসপাতালে
নেওয়ার পর তার মৃত্যু হয়। নিহত যুবকের নাম অন্তর মজুমদার (৩৫) বলে জানিয়েছে পুলিশ।
তার বাড়ি নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলায়।
নিহতদের
প্রতিবেশী এবং রায়পুর স্টেশন মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মারিয়া
মুন্নী জানান, সায়মা সম্প্রতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছিলেন। তবে তিনি কোন বিভাগে
অধ্যয়ন করছিলেন, তা নিশ্চিত করতে পারেননি।
রায়পুর
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা বাহারুল আলম বলেন, “হাসপাতালে মোট পাঁচজনকে
আহত অবস্থায় আনা হয়েছিল। এর মধ্যে দুই মেয়ে ও তাদের মা মারা গেছেন। এক মেয়েকে আশঙ্কাজনক
অবস্থায় উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। তাদের সবার শরীরের বিভিন্ন অংশে ধারালো
অস্ত্রের আঘাত রয়েছে।”
রায়পুর
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা মামুনুর রশিদ জানান, হাসপাতালে
আনার আগেই দুই মেয়ের মৃত্যু হয়েছিল। চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তাদের মা। নিহতদের
শরীরে ধারালো অস্ত্রের গভীর ক্ষতচিহ্ন পাওয়া গেছে। ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে
পড়লে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশকে হস্তক্ষেপ করতে হয়। এ সময় বিক্ষুব্ধ জনতার
ছোড়া ইটপাটকেলে কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হন।
লক্ষ্মীপুরের
পুলিশ সুপার মো. আবু তারেক বলেন, “পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছে।
স্থানীয়দের হামলায় আমাদের ছয় থেকে সাতজন সদস্য আহত হয়েছেন।”
তিনি জানান, হত্যাকাণ্ডের কারণ এবং এর সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা
হচ্ছে। সহকারী পুলিশ সুপার (রায়পুর সার্কেল) মো. আব্দুর রাশেদ বলেন, নিহত তিনজনের মরদেহ
হাসপাতালে রাখা হয়েছে। আহত এক কিশোরীকে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। পুরো ঘটনার তদন্ত চলছে।
চাঞ্চল্যকর
এ হত্যাকাণ্ডে পুরো রায়পুরজুড়ে শোক ও উদ্বেগের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের
এক শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক মৃত্যু স্থানীয়দের মধ্যে গভীর বেদনার জন্ম দিয়েছে। হত্যার
পেছনের কারণ উদ্ঘাটনে তদন্ত শুরু করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
মন্তব্য করুন


ভারতের
বেঙ্গালুরুতে পাঁচ বছর বয়সী এক শিশুকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তার মা ও মায়ের পরকীয়া প্রেমিকের
বিরুদ্ধে। ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয় এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।
ভারতীয়
সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি জানায়, গত ২৪ মার্চ শিশুটি ভেন্নিলার মৃত্যু হয়। প্রায় তিন মাস
পর বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে, যখন শিশুটির বাবা পুলিশের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
অভিযোগে বলা হয়, শিশুটির বাবা প্রবীণ দাবি করেন, তার স্ত্রী প্রিয়াঙ্কা এবং তার প্রেমিক
মোহন ভেন্নিলার মৃত্যুর জন্য দায়ী।
পুলিশ
সূত্রে জানা যায়, দাভানাগেরের বাসিন্দা প্রবীণ ২০০৭ সালে প্রিয়াঙ্কাকে বিয়ে করেন। দম্পতির
১৭ ও ৫ বছর বয়সী দুই মেয়ে রয়েছে। তদন্তে উঠে এসেছে, কয়েক বছর আগে প্রিয়াঙ্কা তার কলেজের
বন্ধু মোহনের সঙ্গে পুনরায় যোগাযোগ শুরু করেন। এরপর তাদের মধ্যে সম্পর্ক গড়ে ওঠে এবং
একপর্যায়ে তারা একসঙ্গে বসবাস শুরু করেন।
দাম্পত্য
কলহের জেরে প্রিয়াঙ্কা একাধিকবার বিবাহবিচ্ছেদের দাবি তোলেন এবং পরে ছোট মেয়ে ভেন্নিলাকে
নিয়ে মোহনের সঙ্গে বসবাস করতে শুরু করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। অভিযোগ অনুযায়ী,
শিশুটিকে শারীরিক নির্যাতনের পর শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় পুলিশ মোহনকে গ্রেপ্তার
করেছে। তবে শিশুটির মা প্রিয়াঙ্কা এখনও পলাতক রয়েছেন। তাকে গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান
চলছে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত চলছে এবং সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
মন্তব্য করুন


প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস আজ বুধবার (১৬ অক্টোবর) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস পরিদর্শন করেছেন এবং সেখানে তিনি জুলাই ও আগস্ট মাসে ছাত্র নেতৃত্বাধীন গণঅভ্যুত্থানের সময় তরুণ বিপ্লবীদের আঁকা বর্ণিল ও বিচিত্র গ্রাফিতি ঘুরে দেখেছেন।
এসময় আইন উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. আসিফ
নজরুল, যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া এবং প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ
সহকারী মাহফুজ আলমসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, ড. ইউনূস অন্তর্বর্তী সরকারের
প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে শপথ নেওয়ার পরপরই জুলাই-অগাস্ট মাসে ছাত্রদের নেতৃত্বে বৈষম্য
বিরোধী আন্দোলন চলাকালে ঢাকাসহ দেশের অন্যান্য শহর ও নগরের দেয়ালে তরুণ শিক্ষার্থীদের
আঁকা সেরা গ্রাফিতি নিয়ে একটি আর্টবুক প্রকাশের জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেন।
সে অনুযায়ী ‘দি আর্ট অব ট্রায়াম্ফ’ নামে একটি আর্টবুক প্রকাশ করা হয়।
মন্তব্য করুন


প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে সোমবার (২৯ জানুয়ারি) মন্ত্রিসভার দ্বিতীয় বৈঠকে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে অপরাধীদের শাস্তি নিশ্চিতে সুফল পাওয়ায় ‘আইন-শৃঙ্খলা বিঘ্নকারী অপরাধ (দ্রুত বিচার) (সংশোধন) আইন, ২০২৪’ এর খসড়ার নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সকালে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয় আর বৈঠক শেষে সচিবালয়ে ব্রিফিংয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মো. মাহবুব হোসেন এ তথ্য জানিয়েছেন।
তিনি আরো জানান, প্রথম যখন আইনটি প্রণয়ন করা হয়, তখন একটির মেয়াদ ছিল দুই বছর। পরবর্তীতে কয়েক ধাপে সেটার মেয়াদ বাড়ানো হয়েছিল। সেই মেয়াদ ২০২৪ সালের ৯ এপ্রিল শেষ হওয়ার জন্য নির্ধারিত ছিল। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ এ আইনটি মন্ত্রিসভায় তুলেছিল। আজকের মন্ত্রিসভার বৈঠকে ধাপে ধাপে মেয়াদ বাড়ানোর পরিবর্তে স্থায়ী আইন হিসেবে নীতিগত সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়েছে। এটিকে আর নতুন করে মেয়াদ বাড়াতে হবে না।
আইনটিতে কোনো পরিবর্তন আছে কিনা জানতে চাইলে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, আইনটি পুরোনো। আগে যা ছিল, তা-ই থাকবে। কেবল মেয়াদ দুই বা তিন বছর না বাড়িয়ে স্থায়ী করা হয়েছে।
আগে ছিল দুই বছর পর পর মেয়াদ বাড়ানো হবে, তাহলে কেন স্থায়ী করা হচ্ছে এমন প্রশ্নে মাহবুব হোসেন বলেন, জননিরাপত্তা বিভাগ থেকে বলা হয়েছে, এ আইনটির অনেক সুফল আছে, এ আইনটির কারণে এই ক্ষেত্রে তাদের তরফ থেকে অপরাধ নিয়ন্ত্রণ করার জন্য খুব কাজে লেগেছে, এজন্য তারা আইনটি কন্টিনিউ করতে চাচ্ছেন।
মন্তব্য করুন


স্থানীয়
সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, এখন যে ভাষায় বিরোধীদলীয়
নেতারা কথা বলছেন, ‘৫ বছর ক্ষমতায়
থাকতে দেবো না।’ ঠিক এমনই কথা বলতেন শেখ হাসিনাও।
সোমবার
(৩ আগস্ট) জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দুই বছর পূর্তি উপলক্ষে জাতীয় প্রেসক্লাবে আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন।
স্থানীয়
সরকারমন্ত্রী বলেন, ১৯৯১ সালে আওয়ামী লীগ বলেছিল, সরকারকে একটি মুহূর্তের জন্য শান্তিতে থাকতে দেবো না। ঠিক সেই একই ভাষায় কথা বলতে শুরু করেছে বর্তমান বিরোধীদলের নেতারা।
তিনি
আরও বলেন, বিএনপি জুলাই সনদের বাস্তবায়ন চায় না, এমনটা বলে ভুল বোঝানো হচ্ছে। গণভোটের একটি প্রশ্ন ঐকমত্য কমিশন চাপিয়ে দিয়েছে। জাতির সঙ্গে প্রতারণা করা হয়েছে। বিএনপি যেখানে একমত নয়, সেটা বলেছে। স্বাক্ষরিত জুলাই সনদের প্রতিটি অংশ পালন করবে বিএনপি।
স্থানীয়
সরকারমন্ত্রী বলেন, রাজপথে বিরোধীদলের নেতারা যে ভাষায় কথা
বলছেন, সেটা ঠিক নয়। রাজপথে আন্দোলন তাদের অধিকার। কিন্তু, সেটা যেন সংঘাতের দিকে না যায়। সংশোধন
কমিটি হবে নাকি সংস্কার পরিষদ, সংসদে আলোচনার মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নিতে বিরোধীদলকে আহ্বান জানান তিনি।
এছাড়াও
যেসব জায়গায় হামলার মতো ঘটনা ঘটেছে, সেটার নিন্দা জানিয়ে তিনি আরও বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ব্যবস্থা নেবে।
এসময়
তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, রাজনীতিকে কৃত্রিমভাবে সংসদের বাইরে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা চলছে। গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির ধারা বজায় রাখতে দলগুলোর সহযোগিতা চায় বিএনপি।
তিনি
আরও বলেন, কার্যকর সংসদ আর গণতান্ত্রিক পন্থায়
রাজনৈতিক বিতর্ক হলে শহীদদের আত্মত্যাগ সফল হবে।
মন্তব্য করুন


টাঙ্গাইলের
সখীপুরে সাপের কামড়ে মারা যাওয়া এক নারীকে দাফনের
দুই দিন পর ঝাড়ফুঁকের মাধ্যমে
জীবিত করার দাবি করেছেন এক ওঝা। এ
ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় চাঞ্চল্য ও কৌতূহলের সৃষ্টি
হয়েছে। ওই ওঝার ঝাড়ফুঁকের
একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ছড়িয়ে পড়েছে।
শনিবার
(১৬ আগস্ট) সখীপুর উপজেলার চতলবাইদ গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
মৃত ওই নারীর নাম
হাসনা বেগম (৫৮)। তাঁর
বাড়ি উপজেলার হতেয়া-ভাতকুড়াচালা এলাকায়।
পরিবার
সূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার বিষধর
সাপের কামড়ের পর হাসনা বেগমকে
সখীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে চতলবাইদ গ্রামে তাঁর মেয়ে খালেদা বেগমের বাড়ির পাশে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।
স্থানীয়দের
ভাষ্য, সাপে কাটার খবর পেয়ে গাজী মিয়া নামের এক ওঝা সেখানে
আসেন। তিনি দাবি করেন, হাসনা বেগম মারা যাননি এবং বিশেষ পদ্ধতিতে তাঁকে জীবিত করা সম্ভব। পরে তিনি কবরের এক পাশে সামান্য
মাটি খুঁড়ে গন্ধ শোঁকেন। এরপর দাবি করেন, তিনি তেলের গন্ধ পেয়েছেন। তাঁর এমন দাবিতে কবরের পাশে উৎসুক মানুষের ভিড় জমে যায়।
ওঝা
নিহত নারীর মেয়ে খালেদা বেগমকে জানান, আগামী মঙ্গলবার তিনি আবার কবরের কাছে এসে গন্ধ পরীক্ষা করবেন। দুর্গন্ধ না পাওয়া গেলে
মরদেহ উত্তোলন করে ঝাড়ফুঁকের মাধ্যমে সাপের বিষ নামিয়ে তাঁকে জীবিত করা সম্ভব বলে দাবি করেন তিনি। তবে মরদেহে পচন ধরে গেলে আর তা সম্ভব
হবে না বলেও জানান
ওই ওঝা।
খালেদা
বেগম জানান, মাকে আবার জীবিত পাওয়ার আশায় তিনি কিছুটা আশাবাদী হয়ে উঠেছিলেন। তবে পরে ওঝা ফোন করে জানান, রাতে ধ্যানে বসে তিনি বুঝতে পেরেছেন যে হাসনা বেগম
আর বেঁচে নেই।
ওঝা
গাজী মিয়াও ফোনে বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, আগের দিন তিনি হাসনা বেগমকে জীবিত মনে করলেও বর্তমানে তাঁকে বাঁচানো সম্ভব নয়। তবে এর বেশি কিছু
বলতে রাজি হননি তিনি।
এ
বিষয়ে সখীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা
কর্মকর্তা রেহেনা পারভীন বলেন, চিকিৎসক পরীক্ষা করে একজনকে মৃত ঘোষণা করার পর কবর দেওয়ার
দুই দিন পর ঝাড়ফুঁকের মাধ্যমে
তাঁকে জীবিত করার দাবি সম্পূর্ণ অবৈজ্ঞানিক। সাপের কামড়ে মৃত ব্যক্তিকে দাফনের পর ঝাড়ফুঁক করে
জীবিত করার কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই বলেও জানান তিনি।
মন্তব্য করুন


স্টাফ রিপোর্টার।।
কুমিল্লাস্থ মনোহরগঞ্জ উপজেলা জনকল্যাণ সমিতির দ্বি-বার্ষিক সাধারণ সভা ও নতুন কমিটি গঠন করা হয়েছে।
গত শনিবার (১৬ মে) রাতে কুমিল্লা টাউন হলের মুক্তিযোদ্ধা কর্নারে নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত সাধারণ সভায় ২০২৬-২০২৮ মেয়াদের জন্য ৩৩ সদস্যবিশিষ্ট নতুন কার্যনির্বাহী কমিটি গঠন করা হয়।
নতুন কমিটিতে মো. আবুল কালাম আজাদকে (নঈম আজাদ) সভাপতি, অধ্যাপক সরওয়ার জাহান ভূঁইয়া দোলনকে সিনিয়র সহ-সভাপতি, মো. জসীম উদ্দিন পাটোয়ারীকে সাধারণ সম্পাদক এবং প্রথম আলোর কুমিল্লা প্রতিনিধি মো. আবদুর রহমানকে সাংগঠনিক সম্পাদক করা হয়েছে।
সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা-৯ (লাকসাম-মনোহরগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য মো. আবুল কালাম। তিনি তাঁর বক্তব্যে বলেন, "কুমিল্লাস্থ মনোহরগঞ্জ উপজেলা জনকল্যাণ সমিতির আজকের অনুষ্ঠান দেখে আমি অভিভূত। মনোহরগঞ্জের এত মানুষ কুমিল্লায় কর্মরত ও বসবাস করেন তা আজ জানতে পারলাম।"
তিনি আরও বলেন, মনোহরগঞ্জ উপজেলা উন্নয়নের দিক থেকে অনেকটাই পিছিয়ে রয়েছে। কুমিল্লায় যারা প্রতিষ্ঠিত, তারা সুযোগ পেলেই যেন নিজ এলাকায় ছুটে যান এবং সবাই মিলে উপজেলাকে এগিয়ে নেন। এছাড়া মাদক, সন্ত্রাস ও নৈরাজ্যের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি এবং বাল্যবিয়ে রোধে সকলকে অগ্রণী ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তিনি।
সংগঠনের বিদায়ী সভাপতি এ. কে. এম মাসুদুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন কুমিল্লা-৫ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব মো. জসীম উদ্দিন, বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সচিব ব্যারিস্টার মো. গোলাম সরওয়ার ভূঁইয়া, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. আবদুল হাকিম, সোনালী ব্যাংক পিএলসি-এর উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক শাহজাহান ভূঁইয়া, মনোহরগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি ইলিয়াস পাটোয়ারী ও সিনিয়র সহ-সভাপতি শাহ সুলতান খোকন।
অনুষ্ঠানটি যৌথভাবে সঞ্চালনা করেন সংগঠনের সহ-সভাপতি অধ্যাপক সরওয়ার জাহান ভূঁইয়া দোলন ও সাধারণ সম্পাদক মো. আবদুস সালাম। সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সমিতির সাবেক সভাপতি মো. গোলাম ছরওয়ার মজুমদার, বর্তমান সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট দেওয়ান সামসুল হক, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক জাহাঙ্গীর আলম, কুমিল্লা এভারকেয়ার স্পেশালাইজড হসপিটালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. বোরহান উদ্দিন প্রমুখ।
সভা শেষে নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আগামী দুই বছরের জন্য অনুমোদিত পূর্ণাঙ্গ কার্যনির্বাহী কমিটি ঘোষণা করা হয়।
কমিটির অন্যান্য পদের দায়িত্বে আছেন— সহ-সভাপতি: অ্যাডভোকেট দেওয়ান সামসুল হক, মো. বদিউল আলম নাছির, মো. আবদুস ছালাম এবং মো. হারুনুর রশীদ ভূঁঞা। যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক: অধ্যাপক মো. জাহাঙ্গীর আলম, ধীরেন্দ্র কিশোর মজুমদার এবং মো. মোখতার হোসেন। এছাড়া দপ্তর সম্পাদক মো. সেলিম রাজা, অর্থ সম্পাদক মো. ওমর ফারুক, আইন বিষয়ক সম্পাদক মো. জামাল উদ্দিন, সাহিত্য ও প্রকাশনা সম্পাদক মো. আশিকুর রহমান রব্বানী, শিক্ষা সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়া সম্পাদক ইঞ্জি. আবুল কালাম আজাদ, সমাজ ও ছাত্র কল্যাণ সম্পাদক সাফায়েত হোসেন সজল, ত্রাণ ও পুনর্বাসন সম্পাদক আবদুল বাশার, তথ্য ও প্রচার সম্পাদক মো. বেলায়েত হোসেন এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক সম্পাদক পদে বেগম গুলশান বেগম নির্বাচিত হয়েছেন।
কমিটির কার্যনির্বাহী সদস্যরা হলেন— মো. গোলাম ছরওয়ার মজুমদার, আব্দুল খালেক মোল্লা, সিরাজুল ইসলাম, এ. কে. এম মাসুদুর রহমান, অ্যাডভোকেট আবদুল বাতেন মজুমদার, আমির হোসেন মন্টু, বিল্লাল হোসেন, বেগম তাহমিনা আক্তার ঝর্ণা, মো. নজরুল ইসলাম, বিধান কুমার মজুমদার, মো. ফারুক, মো. তোফায়েল হোসেন এবং মো. আমির হোসেন।
সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির আহ্বায়ক মো. গোলাম ছরওয়ার মজুমদারের স্বাক্ষরে এই পূর্ণাঙ্গ কমিটি চূড়ান্ত করা হয়।
মন্তব্য করুন


ঈদযাত্রা স্বস্তি ও আরামদায়ক করতে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটে প্রথমবারের মতো ঈদ স্পেশাল ট্রেন চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। ২টি বিশেষ ট্রেনই আসা-যাওয়ার পথে দক্ষিণ চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের ৭টি স্টেশনে থামবে।
ঈদুল ফিতরের আগে ও পরে ৫ দিন এই রুটে অন্তত ২টি স্পেশাল ট্রেন চলবে। এই প্রথম এই অঞ্চলের মানুষ ট্রেনে চড়ে ঈদে বাড়ি যাওয়ার সুযোগ পাবেন। সড়ক পথের উপর বাড়ি ফেরা মানুষের চাপ কিছুটা কমবে। স্বস্তিতে বাড়ি ফেরার আশা এ অঞ্চলের মানুষের।
তারা জানিয়েূছেন, দক্ষিণ চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের মানুষজনের পরিবার-পরিজন নিয়ে ঈদে বাড়ি যেতে কি পরিমাণ দুর্ভোগ পোহাতে হয় সেটা বুঝানো মুশকিল। এবার সে ঝামেলা ও দুর্ভোগ অনেকটাই কমবে। ট্রেনে করে স্বাচ্ছন্দ্যে বাড়ি যাওয়া যাবে।
যে সকল স্টেশনে ট্রেন থামবে:
চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটের ট্রেনটি চট্টগ্রাম রেলওয়ে স্টেশন থেকে সকাল ৭টায় কক্সবাজারের উদ্দোশ্যে রওনা হয়ে পৌঁছাবে সকাল ১০টা ২০ মিনিটে। আবার কক্সবাজার থেকে সন্ধ্যা সাতটায় ছেড়ে চট্টগ্রাম পৌঁছাবে রাত ১০টা ৫ মিনিটে।
পথে ট্রেনটি ষোলোশহর, জানালীহাট, পটিয়া, দোহাজারী, সাতকানিয়া, চকরিয়া, ডুলাহাজারা ও রামু স্টেশনে থামবে।
কক্সবাজার রুটে বাণিজ্যিক ট্রেন চলাচল শুরু হয়েছে গত ১ ডিসেম্বর থেকে। বিপুল যাত্রী চাহিদা থাকলেও গত ৩ মাস ধরে এই রুটে চলাচল করছে মাত্র দুটি ট্রেন। তাও চলছে কেবল ঢাকা-চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটে।
ঢাকা-চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটে চলাচল করা কক্সবাজার এক্সপ্রেস ও পর্যটক এক্সপ্রেস বিরতিহীন হওয়ায় দক্ষিণ চট্টগ্রামের লোকজন দোহাজারী-কক্সবাজার রেললাইনের সুফল পাচ্ছেন না। এনিয়ে ক্ষোভ রয়েছে স্থানীয়দের মধ্যে। চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটে নতুন ট্রেন চালুর বিষয়ে দীর্ঘদিন ধরে দাবি জানিয়ে আসছেন তারা।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, দোহাজারী-কক্সবাজার রেললাইন এটি আমাদের কাছে স্বপ্নের মতো ছিল। সে স্বপ্ন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাস্তবতায় রূপ দিয়েছেন। কিন্তু এখনো ট্রেনে চড়ে কক্সবাজার যাওয়ার স্বপ্ন অধরাই থেকে গেছে। চট্টগ্রাম অল্পকিছু যাত্রী পরিবহনের সুযোগ রয়েছে। সেখানের টিকিট পাওয়াও দুর্লভ।
বিপুল চাহিদা থাকা সত্ত্বেও কক্সবাজার এক্সপ্রেস ও পর্যটক এক্সপ্রেসে চড়ে প্রতিদিন চট্টগ্রাম থেকে সরাসরি কক্সবাজার যাওয়ার সুযোগ পান মাত্র ১১৫ জন করে যাত্রী। ঈদ যাত্রায় সেটি আরও কয়েকগুণ বেড়ে যাবে।
ঈদে বিপুল এ যাত্রী চাহিদার কথা মাথায় রেখেই এবারের ঈদযাত্রায় চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটে বিশেষ ট্রেন চালাবে রেলওয়ে। এতে ঈদযাত্রায় দক্ষিণ চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের মানুষের দুর্ভোগ লাঘব হবে।
রেলওয়ের বিভাগীয় বাণিজ্যিক কর্মকর্তা তারেক মুহাম্মদ ইমরান বাংলানিউজকে বলেন, এবার প্রথমবারের মতো চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটে ঈদযাত্রায় বিশেষ ট্রেন পরিচালনা করা হবে। ট্রেনটি চট্টগ্রাম রেলওয়ে স্টেশন থেকে সকাল সাতটায় কক্সবাজারের উদ্দোশ্যে রওনা হয়ে পৌঁছাবে সকাল ১০টা ২০ মিনিটে। আবার কক্সবাজার থেকে সন্ধ্যা সাতটায় ছেড়ে চট্টগ্রাম পৌঁছাবে রাত ১০টা ৫ মিনিটে। ট্রেনটি থামবে ৭ টি স্টেশনে ।
ট্রেনে ঈদযাত্রা শুরু হবে আগামী ৩ এপ্রিল। অগ্রিম টিকিট মিলবে ২৪ মার্চ থেকে। গতবারের মতো এবারও ঈদযাত্রার কোনো টিকেট কাউন্টারে বিক্রি করা হবে না। অনলাইনেই টিকিট মিলবে শতভাগ ।
মন্তব্য করুন