

আইনের শাসন নিশ্চিত করতে হলে নির্বাহী
বিভাগ থেকে বিচার বিভাগ আলাদা করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ
রেফাত আহমেদ।
আজ শনিবার (৩০ নভেম্বর) সকালে সুপ্রিম
কোর্ট বার আয়োজিত নবীন আইনজীবীদের কর্মশালায় এ কথা বলেন প্রধান বিচারপতি।
প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদ
বলেন, বিচারপতি অপসারণে সুপ্রিম জুডিসিয়াল কাউন্সিল গঠন হয়েছে; যা আগে পার্লামেন্টের
কাছে ছিল। বিচার বিভাগ আলাদা করার জন্য সরকারকে আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। প্রাতিষ্ঠানিক
স্বশাসন বিচার বিভাগের স্বাধীনতার অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ। নবীন আইনজীবীরা বিচারবিভাগের মর্যাদা
সমুন্নত রাখতে সচেষ্ট হতে হবে। সাম্প্রতিক আদালত অঙ্গনে ঘটে যাওয়া ঘটনায় আইনজীবীদের
আরও দায়বদ্ধ থেকে কাজ করতে হবে। সার্বিকভাবে বিচারবিভাগ বার ও বেঞ্চের সমন্বয়ে এগিয়ে
যাবে।
এ সময় চট্টগ্রামে আইনজীবী আলিফ হত্যার
ঘটনায় এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। পরে ৫ আগস্ট ঘিরে আন্দোলনে নিহত আহতদের নিয়ে বিশেষ
দোয়া হয়। উল্লেখ্য, আজকের কর্মশালায় চট্টগ্রামের আইনজীবী আলিফেরও থাকার কথা ছিলো।
এসময় আপিল বিভাগের জ্যেষ্ঠ বিচারপতি
জুবায়ের রহমান চৌধুরী, হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি ফারাহ মাহবুব। অ্যাটর্নি জেনারেল
মো. আসাদুজ্জামান , সুপ্রিম কোর্ট বারের সভাপতি মাহবুব উদ্দিন খোকন, জাতীয়তাবাদী আইনজীবী
ফোরামের সভাপতি অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন উপস্থিত ছিলেন। এ সময় সারা দেশ থেকে প্রায়
এক হাজার ৫০০ নবীন আইনজীবী যারা বারে নতুন সদস্য হয়েছেন তারা উপস্থিত ছিলেন।
মন্তব্য করুন


বাংলাদেশের
বার্ষিক বাজেটের চার গুণ টাকা বিদেশে পাচার করা হয়েছে দাবি করে জামায়াত আমির ডা. শফিকুর
রহমান বলেছেন, অনেক টাকা আছে আমাদের। চোরেরা চুরি করে বাংলাদেশ থেকে ২৮ লক্ষ কোটি
টাকা বিদেশে পাচার করেছে। আল্লাহ যেন তৌফিক দেন ওদের পেটের ভেতরে হাত ঢুকিয়ে সেই টাকা
যেন নিয়ে আসতে পারি।
গতকাল
মঙ্গলবার ( ০৩ ফেব্রুয়ারি ) দুপুরে ময়মনসিংহ সার্কিট হাউস মাঠে নির্বাচনী জনসভায় প্রধান
অতিথির বক্তব্যে জামায়াত আমির এসব কথা বলেন।
তিনি
আরো বলেন, এটা (পাচার হওয়া টাকা) বাংলাদেশের বার্ষিক বাজেটের চার গুণ। দেশের টাকা বিদেশে
নিয়ে রাজার আদলে বসবাস করবে, আমরা তাদের ঘুম হারাম করে দেব। তাদের দেশে ফিরিয়ে এনে
শাস্তি নিশ্চিত করা হবে। দেশে মুরগি-গরু চুরির জন্য মানুষকে পিটিয়ে মারা হয়, কিন্তু
বড় চোরদের কিছু হয় না।
শফিকুর
রহমান বলেন, মানুষ বাংলাদেশের পরিবর্তন চায়। এবারের নির্বাচন কোনো সাধারণ নির্বাচন
না। এবার দুটি ভোট— একটি ‘হ্যাঁ’,
‘হ্যাঁ’ মানে আজাদি, ‘না’ মানে গোলামি।
‘হ্যাঁ’
ভোট মা-বোনদের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটাবে। আপনারা প্রথম ভোটটা ‘হ্যাঁ’তে
দেবেন, দ্বিতীয়টা ১১ দলীয় জোটের প্রার্থীকে দিয়ে ইনসাফ কায়েম করবেন।
মন্তব্য করুন


আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি দেশের ভবিষ্যৎ কোন পথে যাবে, সেই সিদ্ধান্ত জনগণের হাতেই রয়েছে—এমন মন্তব্য করেছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি অভিযোগ করেন, একটি চক্র আসন্ন নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে নানা কৌশলে বাধা সৃষ্টি করতে চাইছে। এ ধরনের অপচেষ্টা প্রতিহত করতে তিনি দেশবাসীর প্রতি সজাগ থাকার আহ্বান জানান।
বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) দুপুরে রাজশাহীর ঐতিহাসিক মাদ্রাসা ময়দানে আয়োজিত এক বৃহৎ নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
সভায় উত্তরাঞ্চলের কৃষি উন্নয়নের কথা তুলে ধরে তারেক রহমান জানান, বরেন্দ্র অঞ্চলের কৃষি ব্যবস্থাকে দীর্ঘমেয়াদে শক্ত ভিত্তির ওপর দাঁড় করাতে প্রায় এক হাজার কোটি টাকার পদ্মা সেচ প্রকল্প পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে। তিনি বলেন, বিএনপি রাষ্ট্রক্ষমতায় গেলে এই প্রকল্পের সুফল রাজশাহী থেকে শুরু করে পঞ্চগড় পর্যন্ত বিস্তৃত এলাকার কৃষকদের ঘরে ঘরে পৌঁছে দেওয়া হবে।
তার বক্তব্যে তিনি স্মরণ করেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সময় শুরু হওয়া খাল খনন কর্মসূচি এবং দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আমলে বাস্তবায়িত বড় সেচ প্রকল্পগুলোর কথা, যা একসময় উত্তরবঙ্গের কৃষিতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিয়েছিল। তিনি অভিযোগ করেন, পদ্মা নদীকেন্দ্রিক যে সেচ প্রকল্পের জন্য আলাদা করে প্রায় হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ ছিল, তা গত দেড় দশকের বেশি সময় ধরে পরিকল্পিতভাবে অচল করে রাখা হয়েছে। বিএনপির লক্ষ্য হবে এই ঐতিহ্যবাহী প্রকল্পকে আবার পূর্ণ সক্ষমতায় ফিরিয়ে আনা।
উত্তরাঞ্চলের কৃষকদের উদ্দেশে তিনি আশ্বাস দিয়ে বলেন, সেচ সুবিধা শুধু রাজশাহীতে সীমাবদ্ধ থাকবে না; রাজশাহী থেকে শুরু করে পঞ্চগড় পর্যন্ত বিস্তীর্ণ অঞ্চলের কৃষকেরা এর আওতায় আসবেন। উৎপাদন বাড়লে কৃষকের আয় বাড়বে, আর কৃষকের মুখে হাসি ফুটলে দেশের অর্থনীতিও এগিয়ে যাবে—এমন মন্তব্য করেন তিনি।
রাজশাহী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ অঞ্চলের আমচাষিদের সমস্যার কথাও তুলে ধরেন তারেক রহমান। তিনি বলেন, এই এলাকায় ফল সংরক্ষণের আধুনিক ব্যবস্থা না থাকায় প্রতিবছর চাষিরা বড় ক্ষতির মুখে পড়েন। বিএনপি সরকার গঠন করলে আম সংরক্ষণের জন্য বিশেষায়িত কোল্ড স্টোরেজ ও আধুনিক গুদাম নির্মাণ করা হবে, যাতে ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত হয় এবং নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা কমে।
যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি পদ্মা নদীর ওপর নতুন একটি সেতু নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দেন, যা উত্তরবঙ্গের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে নতুন গতি আনবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। পাশাপাশি নারীদের ক্ষমতায়নে প্রতিটি পরিবারের জন্য ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালুর ঘোষণা দিয়ে তিনি বলেন, এর মাধ্যমে নারীরা সরাসরি রাষ্ট্রীয় সহায়তা পাবে এবং আত্মনির্ভরশীল হয়ে উঠবে।
দীর্ঘ ২২ বছর পর রাজশাহীর জনসভায় তারেক রহমানের অংশগ্রহণ (সরাসরি বা ভার্চুয়াল উপস্থিতি) দলীয় নেতা-কর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ সৃষ্টি করে। তিনি উপস্থিত কর্মীদের নির্দেশ দেন উন্নয়ন ও পরিবর্তনের এই বার্তা সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে। তার ভাষায়, ধানের শীষ কেবল একটি নির্বাচনী প্রতীক নয়, এটি উত্তরাঞ্চলের কৃষকের ভবিষ্যৎ বদলের প্রতীক।
এই সমাবেশে রাজশাহী বিভাগের আট জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে বিপুলসংখ্যক মানুষের উপস্থিতি দেখা যায়, যার ফলে পুরো মহানগরীতে দীর্ঘ সময় যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটে।
মন্তব্য করুন


ত্রয়োদশ
সংসদ নির্বাচন ও জুলাই জাতীয়
সনদের বিষয়ে গণভোটের বিষয়ে সারাদেশে প্রচারণার লক্ষ্যে যাত্রা শুরু করেছে দশটি
ভোটের গাড়ি— সুপার ক্যারাভান।
আজ সোমবার
জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ
প্লাজায় আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে যাত্রা
শুরু করেছে সুপার ক্যারাভান।
অনুষ্ঠানে
উপস্থিত থেকে ফিতা কেটে
ভোটের গাড়ির উদ্বোধন করেন তথ্য ও
সম্প্রচার উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান, সংস্কৃতি উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী, নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ
এবং প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম।
উদ্বোধনী
অনুষ্ঠানে ভিডিও বার্তায় প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, বাংলাদেশ একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়
অতিক্রম করছে। সামনে আমাদের জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং
জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের ওপর
গণভোট।
তিনি বলেন, এই লক্ষ্যকে সামনে
রেখে যাত্রা শুরু করেছে ১০টি
ভোটের গাড়ি—সুপার ক্যারাভান।
এসব গাড়ি দেশের ৬৪টি
জেলা ও ৩০০টি উপজেলায়
ঘুরে বেড়াবে। তারা মানুষের দুয়ারে
দুয়ারে গিয়ে নির্বাচন ও
গণভোট সম্পর্কে তথ্য পৌঁছে দেবে,
ভোটাধিকার সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি করবে এবং
গণতন্ত্রের বার্তা ছড়িয়ে দেবে।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “ভোটাধিকার কারো দয়া নয়—এটি আমাদের সাংবিধানিক
অধিকার। এই অধিকার প্রয়োগের
মাধ্যমেই আমরা ঠিক করি,
আমাদের ভবিষ্যৎ কোনপথে যাবে। একটি অবাধ, সুষ্ঠ
ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন নিশ্চিত করা শুধু সরকারের
দায়িত্ব নয়; এটি রাষ্ট্রের
প্রতিটি নাগরিকের দায়িত্ব।”
তিন বলেন, “আমি বিশেষভাবে অনুরোধ
জানাচ্ছি তরুণ সমাজ, নারী
ভোটার এবং প্রথমবারের ভোটারদের
প্রতি—আপনারা এগিয়ে আসুন। প্রশ্ন করুন, জানুন, বুঝুন এবং ভোট দিন।
আপনার সিদ্ধান্তই গড়ে উঠবে আগামী
দিনের বাংলাদেশ—নতুন বাংলাদেশ।”
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, "আমরা এমন একটি
নির্বাচন চাই, যেখানে থাকবে
না ভয়, থাকবে না
বাধা—থাকবে কেবল জনগণের মুক্তও
নির্ভীক মতপ্রকাশ। সরকার সেই পরিবেশ নিশ্চিতকরতে
তিনি বলেন, “আপনি দেশের মালিক।
এদেশ আগামী পাঁচ বছর আপনার
পক্ষে কে চালাবে সেটা
আপনি ঠিক করে দিবেন।
আপনার পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিন। সৎ
ও সমর্থ প্রার্থী বেছে ভোট দিন।
চিন্তা ভাবনা করে ভোটদিন।”
তিনি বলেন, "এবারের নির্বাচনে আপনি আরো একটি
ভোট দিবেন। জুলাই সনদে ভোট দিবেন।
দীর্ঘ ৯ মাস ধরে
সকল রাজনৈতিক দলের সঙ্গে দিনের
পর দিন বৈঠককরে এই
সনদ তৈরি হয়েছে। এই
সনদ দেশের মানুষ পছন্দ করলে দেশ আগামী
বহুবছরের জন্য নিরাপদে চলবে
বলে আমার দৃঢ় বিশ্বাস।
আপনি যদি এই সনদ
সমর্থন করেন তবে গণভোটে
অবশ্যই হ্যাঁ ভোট দিন।"
তিনি বলেন, “চলুন, আমরা সবাই মিলে
এই গণতান্ত্রিক যাত্রাকে সফল করি। চলুন,
ভোট দিই—নিজের জন্য,
দেশের জন্য, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য, নতুন পৃথিবীর জন্য।”
মন্তব্য করুন


তথ্য
ও সম্প্রচার উপদেষ্টা মো. মাহফুজ আলম বলেছেন, নতুন কুঁড়ি প্রতিযোগিতায় বিজয়ী শিশুশিল্পীরা পরিশ্রমের মাধ্যমে বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে খ্যাতি অর্জন করবে।
আজ
শনিবার ঢাকার রামপুরায় বাংলাদেশ টেলিভিশনের (বিটিভি) অডিটোরিয়ামে ‘নতুন কুঁড়ি ২০২৫’ প্রতিযোগিতায় বিজয়ী শিশু-কিশোরদের পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি একথা বলেন।
নতুন
কুঁড়ি প্রতিযোগিতায় বিজয়ী শিশু-কিশোরদের অভিনন্দন জানিয়ে উপদেষ্টা বলেন, দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম হিসেবে নতুন কুঁড়ির শিশুশিল্পীদের সংস্কৃতিচর্চা চালিয়ে যেতে হবে। একইসঙ্গে অন্যান্য বিষয়েও শিশুশিল্পীদের প্রতিভা বিকশিত করতে হবে। শিশু-কিশোরদের প্রতিভা বিকাশে অভিভাবক ও শিক্ষকগণের ভূমিকা
তুলে ধরে তিনি বলেন, নতুন কুঁড়ি প্রতিযোগিতায় শিশুশিল্পীরা যে সাফল্য দেখিয়েছে,
তার মূলে রয়েছে অভিভাবক ও শিক্ষকগণের অবদান।
তিনি প্রতিযোগিতায় বিজয়ী শিশুশিল্পীদের অভিভাবক ও শিক্ষকগণকে অভিনন্দন
জানান।
শিশু-কিশোরদের উদ্দেশে উপদেষ্টা বলেন, ‘তোমরা অনেকেই জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সাক্ষী হয়েছ। গণঅভ্যুত্থানে শহীদ অনেকেই হয়তো তোমাদের পরিচিত। গণঅভ্যুত্থানে শহীদ ও আহতরা যে
বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেছিলেন, সেই স্বপ্নের পথে হাঁটার জন্য আমরা এই আয়োজনটা (নতুন
কুঁড়ি) করেছি।
২০
বছর পর নতুন কুঁড়ি
প্রতিযোগিতা শুরুর প্রেক্ষাপট তুলে ধরে তিনি বলেন, গত জুলাই মাসে
এই প্রতিযোগিতা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়। দীর্ঘ প্রক্রিয়া শেষে বিজয়ী শিশুশিল্পীদের পুরস্কার প্রদানের মাধ্যমে এই প্রতিযোগিতা আনুষ্ঠানিকভাবে
শেষ হলো। নতুন কুঁড়ি প্রতিযোগিতা সফলভাবে আয়োজনের জন্য তিনি বিটিভির মহাপরিচালক-সহ সংশ্লিষ্ট সকলকে
ধন্যবাদ জানান।
মাহফুজ
আলম বলেন, নতুন কুঁড়ি প্রতিযোগিতার মাধ্যমে একটা আশার সঞ্চার হয়েছে যে, বাংলাদেশের সংস্কৃতি টিকে থাকবে এবং সারা দুনিয়ায় মাথা উঁচু করে দাঁড়াবে। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, আগামী সরকারও নতুন কুঁড়ি প্রতিযোগিতার ধারাবাহিকতা বজায় রাখবে।
অনুষ্ঠানে
বিশেষ অতিথির বক্তৃতায় তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের
সচিব মাহবুবা ফারজানা বলেন, নতুন কুঁড়ি প্রতিযোগিতায় বিজয়ী শিশুশিল্পীরা শিল্প-সাহিত্য অঙ্গনে নেতৃত্ব দেবে। এই শিশুশিল্পীরা বাংলাদেশের
শিল্প-সাহিত্যকে অনেক দূর এগিয়ে নিয়ে যাবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।
অনুষ্ঠানে
সভাপতির বক্তৃতায় বিটিভির মহাপরিচালক মো. মাহবুবুল আলম বলেন, তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টার
প্রত্যক্ষ নির্দেশনা ও আন্তরিক পদক্ষেপের
কারণে মাত্র দেড় মাসের মধ্যে নতুন কুঁড়ি প্রতিযোগিতা সম্পন্ন হয়েছে।
প্রতিযোগিতায়
বিজয়ী শিশুশিল্পীদের নিয়ে বিটিভির পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, নতুন কুঁড়ি প্রতিযোগিতার সকল শাখার সেরা দশ জন সরাসরি
বিটিভির শিল্পী তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হবে। এছাড়া বিটিভি আয়োজিত শিশুপ্রহর অনুষ্ঠানে শুধু নতুন কুঁড়ির সেরা দশের শিল্পীরা অংশগ্রহণ করবে। অনুষ্ঠানটি প্রতি শুক্রবার প্রচারিত হবে।
বাংলাদেশ
টেলিভিশন আয়োজিত পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে নতুন কুঁড়ি ২০২৫ প্রতিযোগিতায় ক ও খ
বিভাগের প্রতি বিষয়ে ১ম, ২য় ও ৩য়
স্থান অর্জনকারী মোট ৭৩ জন শিশুশিল্পী
পুরস্কৃত হয়। পুরস্কারপ্রাপ্ত শিশুশিল্পীরা হলো :
ক
বিভাগ : অভিনয়ে ১ম আরহাম হাসান
আরিয়ান; ২য় রুফাইদা আফরা;
৩য় মুগ্ধতা মল্লিক। আধুনিক গানে ১ম প্রিয়সী চক্রবর্তী;
২য় স্মিতা বাড়ই; ৩য় শেখ রোদসী
রায়ান। আবৃত্তিতে ১ম আরিশা দানীন
মাহা; ২য় মোঃ ইছা
আল মাহিম; ৩য় নাভীদ হাসান।
উচ্চাঙ্গ নৃত্যে ১ম মোছাঃ আদৃতা
তাসনিম লাবণ্য; ২য় শৌনক কুন্ডু;
৩য় আর্যশ্রী বিশ্বাস পৃথা। কৌতুকে ১ম সাবিক সাদত;
২য় জেরাল্ড বিশ্বাস; ৩য় মাহিরা। গল্প
বলায় ১ম রোহিনী হাসান
হৃদ্ধি; ২য় আয়েশা সিদ্দিকা;
৩য় নুসরাত তাসনিম। দেশাত্মবোধক গানে ১ম অংকিতা সরকার;
২য় মো. ইহানুর রহমান; ৩য় তোজো মণ্ডল।
নজরুল সংগীতে ১ম অরিত্রা বসাক;
২য় শ্রেয়া রায়; ৩য় অংকিতা সরকার।
রবীন্দ্রসংগীতে ১ম প্রিয়সী চক্রবর্তী;
২য় আরিশা দানীন মাহা; ৩য় শুভশ্রী সরকার।
লোকসংগীতে ১ম চিশতি রহমতুল্লাহ
সাফীন মন্ডল; ২য় আইয়ান রেজা;
৩য় মো. ইহানুর রহমান। সাধারণ নৃত্যে ১ম ঐশ্বর্য্য জিতা
স্পর্শ; ২য় নাজিফা হোসেন
(স্বাধিকা); ৩য় দীপশিখা দে।
হামদ-নাতে ১ম সুরাইয়া আক্তার;
২য় তাসবিহা আয়ান তানহা; ৩য় শুহাদা।
খ
বিভাগ : অভিনয়ে ১ম হুমায়রা আসিফা;
২য় মাহিমা জামান কথা; ৩য় মুরাদুস সালিহীন।
আধুনিক গানে ১ম রোদসী নূর
সিদ্দিকী; ২য় তুষ্মি দাস;
৩য় শ্রীতমা রায়। আবৃত্তিতে ১ম সাবিলা সুলতান
বাণী; ২য় আফিয়া সাইয়ারা
ত্বাহা; ৩য় নাহিনা বিনতে
জামান। উচ্চাঙ্গ নৃত্যে ১ম মৃনময়া পাল
ও তুলি মল্লিক (যৌথভাবে); ২য় তনুশ্রী মন্ডল;
৩য় কায়নাত বিনতে মোর্শেদ রাই। কৌতুকে ১ম দিশান রায়
দুর্জয়; ২য় এহসানুল হক;
৩য় তাসফিয়া মুনতাহা। গল্প বলায় ১ম ফাইরুজ বারী
মালিহা; ২য় সমহৃদ্ধি সূচনা
স্বর্গ; ৩য় মাহিমা জামান
কথা। দেশাত্মবোধক গানে ১ম শ্রেয়া সাহা;
২য় শ্রদ্ধা কর্মকার; ৩য় অন্বেষা বর্মন।
নজরুলসংগীতে
১ম আজমাইন আরহাম; ২য় শুভমিতা তালুকদার;
৩য় অন্বেষা বর্মন। রবীন্দ্রসংগীতে ১ম শুভমিতা তালুকদার;
২য় শ্রীতমা রায়; ৩য় অন্বেষা বর্মন।
লোকসংগীতে ১ম কুমারী রিয়া
ব্যাধ; ২য় মোঃ বাইজিদ
আহমেদ; ৩য় তানিশা ইসলাম
হিয়া। সাধারণ নৃত্যে ১ম রাওজা করিম
রোজা; ২য় রাধিকা তাছাল্লুম
রিয়ন্তি; ৩য় ইউশা শাহিরা
আনুভা। হামদ-নাতে ১ম আহনাফ আদিল;
২য় তাসনিম জাহান; ৩য় রোদসী নূর
সিদ্দিকী।
অনুষ্ঠানে
১ম স্থান অর্জনকারীকে ২ লক্ষ টাকা,
২য় স্থান অর্জনকারীকে ১ লক্ষ টাকা
এবং ৩য় স্থান অর্জনকারীকে
৫০ হাজার টাকার চেক-সহ ট্রফি ও
সনদ প্রদান করা হয়। উল্লেখ্য, নতুন কুঁড়ি প্রতিযোগিতার ক বিভাগের চ্যাম্পিয়ন
প্রিয়সী চক্রবর্তী এবং ‘খ’ বিভাগের চ্যাম্পিয়ন
শুভমিতা তালুকদার গত ১৩ নভেম্বর
প্রধান উপদেষ্টার কাছ থেকে ৩ লক্ষ টাকার
চেক ও ট্রফি গ্রহণ
করে।
মন্তব্য করুন


পদোন্নতি বঞ্চিত অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তাগণের
আবেদন পর্যালোচনা কমিটি আজ মঙ্গলবার (১০ ডিসেম্বর) তাদের প্রতিবেদন প্রধান উপদেষ্টা
প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে পেশ করেছেন।
কমিটি প্রধান জাকির আহমেদ খান কমিটির
অন্যান্য সদস্যদের উপস্থিতিতে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায়
প্রয়োজনীয় সুপারিশসহ প্রতিবেদনটি পেশ করেন।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের আওতায় ২০০৯
সাল থেকে ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট পর্যন্ত সময়কালে চাকরিতে নানাভাবে বঞ্চনার শিকার এবং উল্লেখিত
সময়কালের মধ্যে অবসরে যাওয়া কর্মকর্তাগণের আবেদন পর্যালোচনাপূর্বক সুপারিশ প্রণয়নের
জন্য সরকার গত ১৬ সেপ্টেম্বর সাবেক অর্থ সচিব এবং বিশ্বব্যাংকে বাংলাদেশের সাবেক বিকল্প
নির্বাহী পরিচালক জাকির আহমেদ খানকে আহ্বায়ক করে পাঁচ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করে।
কমিটি নির্ধারিত ৯০ দিনের পূর্বেই প্রতিবেদন
পেশ করায় কমিটির সদস্যদের প্রধান উপদেষ্টা ধন্যবাদ জানান।
প্রতিবেদনটি পেশ করার সময় প্রধান উপদেষ্টার মুখ্য সচিব এম সিরাজ উদ্দিন মিয়া উপস্থিত ছিলেন।
মন্তব্য করুন


দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের
ব্যালটপেপারে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের নাম থাকবে বাংলা বর্ণমালার ক্রমানুসারে। আর
সেই অনুযায়ী নামে পাশে থাকবে দল এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীর প্রতীক।
৫ডিসেম্বর প্রার্থীতা প্রত্যাহারের
পরের দিন এভাবেই প্রার্থীদের নামের তালিকা করে প্রতীক বরাদ্দের জন্য রিটার্নিং কর্মকর্তাদের
নির্দেশনা দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
সংস্থাটির নির্বাচন ব্যবস্থাপনা শাখার উপসচিব মো. আতিয়ার রহমান ইতিমধ্যে নির্দেশনাটি পাঠিয়েছেন বলে জানা যায়।
নির্দেশনায় বলা হয়, গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২-এর অনুচ্ছেদ ১৬ এর দফা (৫) ও নির্বাচন পরিচালনা বিধিমালা, ২০০৮ এর বিধি ৭ অনুসারে প্রার্থিতা প্রত্যাহারের পরের দিন বিধিমালায় বর্ণিত ‘ফরম-৫’ এ নির্ধারিত তালিকার ২ নম্বর কলামে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের নাম বাংলা বর্ণমালার ক্রমানুসারে সাজিয়ে লিপিবদ্ধ করবেন এবং প্রত্যেকের নামের বিপরীতে ৩ নম্বর কলামে মনোনয়ন প্রদানকারী রাজনৈতিক দলের নাম বা স্বতন্ত্র উল্লেখপূর্বক ৪ নম্বর কলামে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর পিতা/স্বামীর নাম, ৫ নম্বর কলামে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর ঠিকানা এবং ৬ নম্বর কলামে বরাদ্দকৃত প্রতীক উল্লেখ করতে হবে। প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের তালিকার নির্দিষ্ট স্থানে ভোটগ্রহণের দিন এবং সময় উল্লেখ করতে হবে। কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ভোটগ্রহণের জন্য নির্ধারিত দিনে সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে ভোটগ্রহণের কাজ চলবে।
নির্দেশনায় আরো বলা হয়েছে, নির্বাচন পরিচালনা বিধিমালা, ২০০৮ এর বিধি ৭অনুযায়ী প্রস্তুতকৃত প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের তালিকার ভিত্তিতে বিধি ১০ অনুসারে নির্বাচন কমিশন কর্তৃক ব্যালট পেপার মুদ্রণ করতে হবে এবং ব্যালট পেপারে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর নাম, প্রতীক ও ক্রম প্রদর্শনের উপযোগীকরণ লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণ করবে। তাছাড়া প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের তালিকা প্রণয়নের পর তার এক কপি রিটার্নিং অফিসারের অফিসের দৃষ্টি আকর্ষণীয় স্থানে টানিয়ে দিতে এবং প্রত্যেক প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী বা তার নির্বাচনী এজেন্টকে এক কপি প্রদান করার জন্যও রিটার্নিং কর্মকর্তাদের বলা হয়েছে।
নির্দেশনায় আরো বলা হয়, প্রতীক
বরাদ্দের কাজ শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী তালিকার দুই কপি প্রস্তুত
করে বিশেষ বার্তাবাহক মারফত নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে পৌঁছানোর ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে
হবে। এক্ষেত্রে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের তালিকা পাঠাতে যাতে কোনো বিলম্ব না হয়
বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে।
প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের তালিকা
নির্ভুল হতে হবে। কারণ তালিকায় ভুল তথ্য পরিবেশিত হলে মুদ্রিত ব্যালট পেপারে তার প্রতিফলন
ঘটবে, যার পরিণতি মারাত্মক হবে। সুতরাং প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের তালিকা প্রণয়নের
সময় সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। ব্যালট পেপার মুদ্রণের সুবিধার্থে প্রতিদ্বন্দ্বী
প্রার্থীদের তালিকার উপরিভাগে সংশ্লিষ্ট নির্বাচনী এলাকার প্রকৃত ভোটার সংখ্যা লিপিবদ্ধ
করতে হবে।
দলীয় প্রার্থীরা দলের প্রতীক পাবেন।
স্বতন্ত্র প্রার্থীরা বিধিমালায় সংরক্ষিত প্রতীকের তালিকা থেকে পছন্দমতো প্রতীক পাবেন।
স্বতন্ত্র প্রার্থীদের একাধিক প্রার্থী একই প্রতীক পছন্দ করলে আলোচনার মাধ্যমে না হলে
লটারি করে বিষয়টি নিষ্পত্তি করবেন।
ইসির অতিরিক্ত সচিব অশোক কুমার
দেবনাথ জানান, ৩০০ আসনে মনোনয়নপত্র দাখিল হয়েছিল দুই হাজার ৭১৬টি। এর মধ্যে বাছাইয়ের
সময় রিটার্নিং কর্মকর্তারা বাতিল করেছেন ৭৩১টি, যা মোট দাখিলকৃত মনোনয়নপত্রের ২৬ দশমিক
৯২ শতাংশ বা ২৭ শতাংশ। আর বৈধ হয়েছে এক হাজার ৯৮৫টি মনোনয়নপত্র, যা দাখিলকৃত মনোনয়নপত্রের
৭৩ দশমিক ০৮ শতাংশ বা ৭৩ শতাংশ।
আগামী ৯ ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রার্থীরা
রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করতে পারবেন। আর ১০ থেকে ১৫ ডিসেম্বর
আপিল নিষ্পত্তি করবে নির্বাচন কমিশন। প্রার্থিতা
প্রত্যাহারের শেষ সময় ১৭ ডিসেম্বর। রিটার্নিং কর্মকর্তারা প্রতীক বরাদ্দ করবেন ১৮ ডিসেম্বর।
নির্বাচনী প্রচার চলবে ৫ জানুয়ারি সকাল ৮টা পর্যন্ত।
ভোটগ্রহণ হবে ৭ জানুয়ারি (রোববার)।
মন্তব্য করুন


পতিত
ফ্যাসিবাদের আমলে অনুষ্ঠিত ২০১৪, ২০১৮ এবং ২০২৪ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দায়িত্ব
পালনকারী ব্যক্তিদের কেউ আসন্ন নির্বাচনে যথাসম্ভব দায়িত্ব প্রদান করা থেকে বিরত রাখার
সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।
আজ
রোববার (১২ অক্টোবর) সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আইন-শৃঙ্খলা
সংক্রান্ত কোর কমিটির সভা শেষে সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট
জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী৷
স্বরাষ্ট্র
উপদেষ্টা বলেন, আজকের সভায় মূলতঃ আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ
ও শান্তিপূর্ণ করার লক্ষ্যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের করণীয় বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।
মন্তব্য করুন


বাংলাদেশ
টেলিকমিউনিকেশন অধ্যাদেশ (সংশোধনী) চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে উপদেষ্টা পরিষদ। এতে ভবিষ্যতে
বাংলাদেশে যেন এক মিনিটের জন্যও ইন্টারনেট বন্ধ না থাকে তার বিধান রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছেন
প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম।
বুধবার
(২৪ ডিসেম্বর) উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠক শেষে এই কথা জানান তিনি।
প্রেস
সচিব বলেন, অধ্যাদেশে আগের আইনগুলো আধুনিক ও যুগোপযোগী করা হয়েছে। ইন্টারনেট বন্ধের
বিষয়ে জোর দেয়া হয়েছে। এই আইনের মাধ্যমে বিটিআরসির ক্ষমতা, কার্যকারিতা ও জবাবদিহিতা
সুসংহত করা হয়ছে। গ্রাহকের তথ্যের গোপনীয়তা ও সেবার মান নিশ্চিত করা হয়েছে। পাশাপাশি
প্রতারণা ও অবৈধ কার্যক্রম প্রতিহত করা হয়ছে।
তিনি
আরও বলেন, ব্যক্তিগত তথ্যের সুরক্ষা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন মনিটরিং
সেন্টার (এনটিএমসি) বিলুপ্ত হবে কি না সে বিষয়ে একটি কমিটি কাজ করবে।
বাজেট
প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সংশোধনী বাজেটে রাজস্ব আয়ের মাত্রা ৫ লাখ ৮৮ হাজার কোটি টাকা করা
হয়েছে। চলতি অর্থবছরে খাদ্য মূল্যস্ফীতি ৭ শতাংশে নেমে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে। পাশয়াশি
জিডিপি প্রবৃদ্ধি হার ৫ শতাংশ হবে।
ওসমান
হাদি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ওসমান হাদীর বিষয়ে সরকার সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করছে।
মূল অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা না গেলেও তার আশপাশের অনেককে গ্রেফতার করা হয়েছে। দীপু
চন্দ্র দাসের পরিবারের সঙ্গে সরকার রয়েছে। দ্রুত বিচার আইনে এর বিচার হবে। এর জন্য
প্রয়োজনীয় সবকিছু করবে সরকার।
প্রেস
সচিব আরও বলেন, তারেক রহমানের নিরাপত্তা নিয়ে বিএনপির সঙ্গে আলাপ হচ্ছে। সরকারের তরফ
থেকে তারেক রহমানকে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা দেব।
আওয়ামী
লীগ প্রসঙ্গে শফিকুল আলম বলেন, আওয়ামী লীগের বিষয়ে আমাদের অবস্থান স্পষ্ট। দলটির কার্যক্রম
নিষিদ্ধ। তাই আওয়ামী লীগ নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে না। এ সময় ভারতের বাংলাদেশ চলমান
উত্তেজনার বিষয়ে উপদেষ্টা পরিষদে আলোচনা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
মন্তব্য করুন


কুষ্টিয়া-৩
আসনের জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী আলোচিত ইসলামিক বক্তা মুফতি আমির হামজাকে হত্যার
হুমকি দেওয়া হয়েছে।
রোববার
(১৮ জানুয়ারি) বিকেল ৫টায় বিভিন্ন মাধ্যম থেকে তাকে হত্যার হুমকি দেওয়া হচ্ছে উল্লেখ
করে নিজ ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে একটি পোস্ট করেন আমির হামজা।
পোস্টে
তিনি উল্লেখ করেন, ‘একটু জানিয়ে রাখি— গতকাল থেকে বিভিন্ন মাধ্যমে আমাকে
হত্যার হুমকি দেওয়া হচ্ছে। আমি মৃত্যুর জন্য সব সময় প্রস্তুত ইনশাআল্লাহ।’
তার
ফেসবুক পোস্টে তিনি আরও উল্লেখ করেন, ‘আপনাদের কাছে অনুরোধ রইল—
কুষ্টিয়াতে যে ইনসাফ কায়েমের লড়াই আমরা শুরু করেছি আমার অনুপস্থিতিতে সেটা প্রতিষ্ঠিত
কইরেন এবং আমার ৩ শিশু কন্যা সন্তানকে একটু দেখে রাইখেন।’
নিজের
ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে করা পোস্ট প্রসঙ্গে জানতে চেইলে মুফতি আমির হামজা কালবেলাকে
জানান, পাবনা-৪ আসনের বিএনপির এমপি প্রার্থী হাবিবুর রহমান হাবিব তো সরাসরি টেলিভিশন
টকশোতে হুমকি দিয়েছে। আমি আগামীকাল নিরাপত্তার জন্য থানায় জিডি করব। সংবাদ সম্মেলনের
মাধ্যমে সবাইকে জানাব।
নির্দিষ্ট
কোনো রাজনৈতিক দলের কাছ থেকে হুমকি পাচ্ছেন কিনা জানতে চাইলে তিনি কালবেলাকে জানান,
নির্দিষ্ট কোনো জায়গা না, সব মাধ্যম থেকেই হুমকি আসছে। নির্দিষ্ট করে নাম বলতে পারছি
না। আগামীকাল পর্যন্ত বিষয়টা দেখব কী হয়। আগামীকাল জিডি করে আপনাদের জানাব।
নিরাপত্তা
ঝুঁকি আছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, না, সেরকম মনে করছি না। বিষয়টি দল থেকে দেখছে।
এ
সময় তিনি পরিবারের নিরাপত্তার বিষয়ে বলেন, আমার মেয়েগুলো ছোট, চিন্তাতো হয় সবার।
মানুষ তো সব এক রকম না। দেখলেন না হাদি সাহেবের কী হয়ে গেল।
মন্তব্য করুন


পৃথিবীকে জলবায়ু বিপর্যয় থেকে রক্ষা করার জন্য ‘শূন্য বর্জ্য ও শূন্য কার্বন’-এর ওপর ভিত্তি করে একটি নতুন জীবনধারা গড়ে তোলার পরামর্শ দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
আজ
বুধবার (১৩
নভেম্বর) আজারবাইজানের রাজধানী বাকুতে কপ২৯-এর ওয়ার্ল্ড লিডারস ক্লাইমেট অ্যাকশন সামিটের উদ্বোধনী অধিবেশনে তিনি আহ্বান করেন।
একটি নতুন পৃথিবী গড়ার লক্ষে তিনটি শূন্যভিত্তিক তার দীর্ঘ দিনের স্বপ্নের কথাও উপস্থাপন করেন প্রধান উপদেষ্টা।
প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস
বলেন, বেঁচে থাকার জন্য, আমাদের আরেকটি সংস্কৃতি গঠন করতে হবে। একটি ভিন্ন জীবনধারার ওপর ভিত্তি করে আরেকটি পাল্টা সংস্কৃতি গড়তে হবে। এটি হবে শূন্য বর্জ্যের ওপর ভিত্তি করে। এ সংস্কৃতি নিত্য পণ্যের ব্যবহারকে সীমিত করবে, কোন বর্জ্য অবশিষ্ট রাখবে না। এ জীবনযাত্রাও হবে শূন্য কার্বনের ওপর ভিত্তি করে যেখানে কোনো জীবাশ্ম জ্বালানি থাকবে না, শুধুমাত্র পুনঃনবায়নযোগ্য শক্তি থাকবে। এতে এমন একটি অর্থনীতি হবে যা প্রাথমিকভাবে সামাজিক ব্যবসার মতো ব্যক্তিগত পর্যায়ে শূন্য মুনাফার ওপর ভিত্তি করে তৈরি হবে। সামাজিক ব্যবসার একটি বিশাল অংশ পরিবেশ ও মানবজাতির সুরক্ষায় মনোযোগ দেবে। সাশ্রয়ী স্বাস্থ্যসেবা ও শিক্ষার মাধ্যমে মানুষের জীবন কেবল সুরক্ষিতই হবে না, গুণগতভাবে উন্নত হবে। এটি যুবকদের জন্য উদ্যোক্তা হওয়ার পথ সহজতর করবে। উদ্যোক্তা হওয়ার নতুন শিক্ষার মাধ্যমে তরুণরা প্রস্তুত হবে। চাকরিপ্রার্থী তৈরির শিক্ষা উদ্যোক্তা-কেন্দ্রিক শিক্ষা দ্বারা প্রতিস্থাপিত হবে।
পরিবেশের সুরক্ষার জন্য একটি নতুন জীবনধারার প্রয়োজন উল্লেখ করে ড. ইউনূস বলেন, নতুন জীবনধারা চাপিয়ে দেয়া হবে না, এটি হবে পছন্দ বেছে নেওয়া। তরুণরা সে জীবনধারাকে পছন্দ হিসেবে বেছে নেবে। প্রতিটি যুবক তিন শূন্য ভিত্তিক ব্যক্তি হিসেবে বেড়ে উঠবে। এগুলো হচ্ছে- শূন্য নেট কার্বন নির্গমন, শুধুমাত্র সামাজিক ব্যবসা গড়ে তোলার মাধ্যমে শূন্য সম্পদ কেন্দ্রীকরণ ও নিজেদের উদ্যোক্তা হিসেবে পরিণত করার মাধ্যমে শূন্য বেকারত্ব। প্রত্যেক মানুষ তিন শূন্য ভিত্তিক ব্যক্তি হিসেবে বেড়ে উঠবে এবং সারাজীবন তিন শূন্য ভিত্তিক ব্যক্তি হিসেবে থাকবে। এটি নতুন সভ্যতা গড়ে তুলবে। এটা করা যেতে পারে আমাদের যা করতে হবে তা হল এ গ্রহের নিরাপত্তার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ একটি নতুন জীবনধারা গ্রহণ করা যেখানে সবাই বসবাস করে। আজকের তরুণ প্রজন্ম বাকিটা করবে। তারা তাদের আমাদের গ্রহকে ভালোবাসে। আমি আশা করি আপনারা এ স্বপ্ন দেখায় আমার সাথে যোগ দেবেন। আমরা যদি একসাথে স্বপ্ন দেখি তবে তা সম্ভব হবে। জলবায়ু সংকট তীব্রতর হচ্ছে এবং সে কারণে মানব সভ্যতা মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। মানুষ আত্ম-বিধ্বংসী মূল্যবোধের প্রচার চালিয়ে যাচ্ছে। আত্ম-রক্ষাত্মক ও আত্ম-শক্তিবর্ধক একটি নতুন সভ্যতার ভিত্তি স্থাপনের জন্য আমাদের বুদ্ধিবৃত্তিক, আর্থিক ও যুব শক্তিকে কাজে লাগাতে হবে। আমরা, এই গ্রহের মানব বাসিন্দারা এই গ্রহের ধ্বংসের কারণ। মানুষ ইচ্ছাকৃতভাবে এটি করছে এবং তারা এমন একটি জীবনধারা বেছে নিয়েছে যা পরিবেশের বিরুদ্ধে কাজ করে। তারা এটিকে একটি অর্থনৈতিক কাঠামো দিয়ে ন্যায্যতা দেয়, যা এ গ্রহ ব্যবস্থার মতো প্রাকৃতিক হিসেবে বিবেচিত হয়। এ অর্থনৈতিক কাঠামো সীমাহীন খরচের ওপর ভিত্তি করে চলছে। আপনি যত বেশি ব্যবহার করবেন তত বেশি প্রবৃদ্ধি পাবেন। যত বেশি প্রবৃদ্ধি অর্জন করবেন, তত বেশি অর্থ উপার্জন করবেন। সর্বাধিক মুনাফা অর্জনকে সিস্টেমের সবকিছুকে আমাদের ইচ্ছা অনুযায়ী ভূমিকা পালনের শক্তি হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
মন্তব্য করুন