

লালমনিহাট জেলার পাটগ্রাম উপজেলায় স্বামী হাসান আলীর মৃত্যুর ৭ ঘণ্টা পরই স্বামীর শোকে স্ত্রী মঞ্জু আরা বেগম মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন।
শনিবার (১৫ জুন) ভোর ৪টায় পাটগ্রাম উপজেলার বাউড়া ইউনিয়রের রসুলপুর গ্রামে মৃত্যুবরণ করেন স্বামী হাসান আলী (৫৫)। এরপর স্বামীর মৃত্যুর শোকে বেলা ১১ টায় মৃত্যুবরণ করেন স্ত্রী মঞ্জু আরা বেগম (৪৫)।
হাসান আলী ও মঞ্জু আরা বেগম দম্পতির তিন মেয়ে। দুই মেয়ের বিয়ে দিয়েছেন আরেক মেয়ে স্থানীয় সরকারি আলিমুদ্দিন ডিগ্রি কলেজে অনার্স প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী।
স্বামীর শোকে মঞ্জু আরা বেগম ভোর থেকে কান্নায় ভেঙে পড়েন। এরপর বেলা ১১ টায় অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে স্থানীয় বাউড়া বাজারে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর হাতীবান্ধা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এ নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
হাসান আলী একজন সুস্থ-সবল মুদি ব্যবসায়ী ছিলেন। প্রতিদিনের ন্যায় বাজার থেকে রাতে বাড়ি ফিরেন তিনি। এরপর ভোর ৪টার দিকে ঝড়ে পড়া আম খেয়ে কিছুক্ষণ পর স্ত্রীর সামনেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে হাসান আলী।
স্থানীয়রা বলেন, স্বামী স্ত্রীর মধ্যে ভালবাসার বন্ধন ছিল দৃঢ়। একজন আরেকজনকে খুবই ভালোবাসতেন। স্বামী-স্ত্রীর মৃত্যুতে তাদের বাড়িতে শত শত মানুষ ভিড় জমাচ্ছেন।
স্থানীয় সাহেব হোসেন জানান, হাসান আলী একজন সাদামনের মানুষ ছিলেন। আমরা জীবনে এমন মৃত্যু দেখি নাই। স্বামীর মৃত্যুর কয়েক ঘণ্টা পর স্ত্রীর মৃত্যু।
পাটগ্রাম উপজেলার বাউরা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান রাবিউল ইসলাম মিরন জানান, স্বামী স্ত্রীর মৃত্যু খবর পেয়ে তাদের বাড়িতে গিয়ে পরিবারকে সান্ত্বনা দিয়েছি।
মন্তব্য করুন


কুমিল্লায় দুর্ধর্ষ অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী আল আমিন ও তার সহযোগীকে পিস্তলসহ গ্রেফতার করেছে র্যাব-১১,
সিপিসি-২।
২২ নভেম্বর রাতে র্যাব-১১,
সিপিসি-২ একটি বিশেষ আভিযানিক দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কুমিল্লা জেলার কোতয়ালী মডেল
থানাধীন সংরাইশ এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে আসামী ১। মোঃ আল আমিন এবং ২। আবুল
কাশেম নামের দুইজন সন্ত্রাসীকে গ্রেফতার করেন। এ সময় আসামীদ্বয়ের কাছ থেকে ১ টি পিস্তল,
১টি ম্যাগাজিন ও ৪ রাউন্ড কার্তুজ উদ্ধার করা হয়।
গ্রেফতারকৃত আসামীরা
হলো: ১। মোঃ আল আমিন (৩৩) কুমিল্লা জেলার কোতয়ালী মডেল থানার সংরাইশ মধ্যপাড়া গ্রামের
মৃত ইদ্রিস মিয়া এর ছেলে এবং ২। আবুল কাশেম (৩৪) একই গ্রামের বাবুল মিয়া এর ছেলে।
র্যাব-১১, সিপিসি-২, কুমিল্লার উপ-পরিচালক লেঃ কমান্ডার মাহমুদুল হাসান জানান, তারা দীর্ঘদিন যাবৎ কুমিল্লার বিভিন্ন স্থানে অবৈধভাবে অস্ত্র প্রদর্শন করে সন্ত্রাসী কার্যক্রম সহ বিভিন্ন ধর্তব্য অপরাধ সংগঠিত করে আসছিল। এছাড়াও গ্রেফতারকৃত আসামী আল আমিন এর বিরুদ্ধে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনে নিরীহ ছাত্রদের উপর গুলিবর্ষণেরও তথ্য পাওয়া যায়। উক্ত বিষয়ে গ্রেফতারকৃত আসামীদ্বয়ের বিরুদ্ধে কুমিল্লা জেলার কোতয়ালী মডেল থানায় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন। অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে র্যাবের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
মন্তব্য করুন


কুমিল্লায় পৃথক অভিযানে ৬৮ কেজি গাঁজাসহ
২ জন মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করেছে র্যাব-১১, সিপিসি-২। মাদক পরিবহণ কাজে ব্যবহৃত
একটি কাভার্ড ভ্যান ও একটি প্রাইভেটকার জব্দ।
সোমবার ১৮ মার্চ রাতে র্যাব-১১, সিপিসি-২
একটি বিশেষ আভিযানিক দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কুমিল্লা জেলার চৌদ্দগ্রাম থানাধীন চিওড়া
সুজাতপুর এলাকায় মাদক বিরোধী অভিযান পরিচালনা সুপন বড়ুয়া (৩০) নামক ০১ জন মাদক ব্যবসায়ীকে
গ্রেফতার করে। এ সময় আসামীর কাছ থেকে ২৮ কেজি গাঁজা ও ১ টি কাভার্ড ভ্যান উদ্ধার করা
হয়।
পৃথক অন্য একটি অভিযানে ১৮ মার্চ রাতে
গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কুমিল্লা জেলার চৌদ্দগ্রাম থানাধীন নবগ্রাম এলাকায় মাদক বিরোধী
অভিযান পরিচালনা করে আসামী মোঃ মনির হোসেন (৪৩) নামক ১ জন মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার
করে। এ সময় আসামীর কাছ থেকে ৪০ কেজি গাঁজা ও ১ টি প্রাইভেটকার উদ্ধার করা হয়।
গ্রেফতারকৃত আসামী ১। সুপন বড়ুয়া (৩০)
চট্টগ্রাম জেলার ফটিকছড়ি থানার ফতেহপুর গ্রামের মৃত দুলাল বড়ুয়া এর ছেলে এবং আসামী
২। মোঃ মনির হোসেন (৪৩) কুমিল্লা জেলার তিতাস থানার কলাকান্দি গ্রামের মৃত জাফর মোল্লা
এর ছেলে।
র্যাব জানান, তারা দীর্ঘদিন ধরে কুমিল্লার
সীমান্তবর্তী এলাকা হতে মাদক দ্রব্য গাঁজা সংগ্রহ করে কুমিল্লা জেলায় মাদক ব্যবসায়ী
ও মাদক সেবীদের নিকট পাইকারি ও খুচরা মূল্যে বিক্রয় করে আসছে। র্যাব-১১ এর মাদক বিরোধী
ধারাবাহিক অভিযানের অংশ হিসেবে উক্ত অভিযান পরিচালনা করা হয়। মাদকের মতো সামাজিক ব্যাধির
বিরুদ্ধে র্যাব-১১ এর অভিযান অব্যাহত থাকবে। গ্রেফতারকৃত আসামীদ্বয়ের বিরুদ্ধে আইনানুগ
ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন।
মন্তব্য করুন


সিলেট মহানগরের ৩৫নং ওয়ার্ডের মেজরটিলার
চামেলীবাগ আবাসিক এলাকায় টিলার মাটি ধসে একই পরিবারের ৩ জন মাটি চাপা পড়ে মারা গেছেন।
মাটি চাপা পড়ার ৬ ঘণ্টা পর তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হলো।
সোমবার ভোর ৬টায় চামেলীবাগ এলাকার ২
নম্বর রোডের ৮৯ নম্বর বাসাটি মাটির নিচে চাপা পড়ে।
নিহতরা হলেন, আগা করিম উদ্দিন (৩১),
তার স্ত্রী শাম্মী আক্তার রুজি (২৫) ও ছেলে নাফজি তানিম (২)।
আগা করিম ওই এলাকার মৃত আলাউদ্দিনের
ছেলে। দুর্ঘটনায় মাটিচাপা পড়েছিলেন একই পরিবারের মোট ৯ জন। ৩ জন ছাড়া বাকিদের উদ্ধার
করা হয় ঘটনার পরপর। তাদের মধ্যে ৩ জন আহত হন। আহতদের সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ
হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
তাদের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন
সিসিকের জনসংযোগ কর্মকর্তা সাজলু লস্কর।
মন্তব্য করুন


বাংলাদেশের অন্যান্য জেলার মতো কুমিল্লা
জেলাতেও চলছে শিক্ষার্থীদের বাজার মনিটরিং।
শনিবার ১১ই আগস্ট কুমিল্লা জেলা ভোক্তা
অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর শিক্ষার্থীদের নিয়ে করেছে বাজার মনিটরিং।
এদিন সকালে কুমিল্লার নিউমার্কেট এলাকায়
শিক্ষার্থীদের কে নিয়ে বিভিন্ন বাজার মনিটরিং করেন কুমিল্লা জেলা ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ
অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক আছাদুল ইসলাম।
মন্তব্য করুন


মো: মাসুদ রানা, কচুয়া:
চাঁদপুরের কচুয়ার মাসনীগাছা উচ্চ বিদ্যালয়ের ২০২৪ সালের এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ প্রাপ্ত ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা দেয়া হয়েছে। মঙ্গলবার বিকেলে বিদ্যালয় মিলনায়তনে বিদ্যালয়ের সভাপতি ও বিশিষ্ট দানবীর আলহাজ্ব মো. মোশাররফ হোসেন তার নিজস্ব অর্থায়নে ওই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ায় উৎসাহিত করতে জিপিএ-৫ প্রাপ্তসহ এসএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ১৮ জন শিক্ষার্থীকে নগদ ১ লক্ষ টাকা অনুদান প্রদান করেন।
এসময় বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আমান উল্লাহ’র সভাপতিত্বে ও সহকারি প্রধান শিক্ষক অরুন চন্দ্র দাসের পরিচালনায় এসময় বক্তব্য রাখেন, শিক্ষানূরাগী সাইফুল আলম চৌধুরী, সদস্য আবুল কাশেম, স্থানীয় অধিবাসী মো. মিজানুর রহমান, মাও. মো. আবু সাঈদ মজুমদার প্রমুখ।
মন্তব্য করুন


কুমিল্লা নগরীতে র্যাব পরিচয়ে প্রবাসীর কাছ
থেকে চাঁদা নিতে এসে দুজন আটক হয়েছে।
শনিবার (৮ মার্চ) বিকেলে নগরীর পিপলস হাসপাতাল
থেকে তাদের আটক করা হয়।
কুমিল্লা ইপিজেড পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মো.
সাইফুল ইসলাম রাত ১০টায় এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
আটককৃতরা হলো— নগরীর চর্থা এলাকার জয় আহমেদ
রুবেল (৩৫) প্রকাশ চশমা রুবেল ও একই এলাকার বাসিন্দা নিরব আহমেদ রুবেল (৩৫)।
তাদের বিরুদ্ধে ডাকাতি, অস্ত্র, মাদকসহ
কুমিল্লার বিভিন্ন থানায় অন্তত ১০টি মামলা রয়েছে।
ভুক্তভোগী কাতারপ্রবাসী মো. ফারুক জেলার
চৌদ্দগ্রাম উপজেলার কাশিনগর ইউনিয়নের অলীপুর গ্রামের বাসিন্দা। তিনি জানান, গত ৫
মার্চ সকাল ৯টার দিকে আমার ছেলের শরীরে গরম ডাল পড়ে ঝলসে যায়। পরে তাকে কুমিল্লা
মেডিক্যাল কলেজ হাসাপাতালে ভর্তি করা হয়।
বিষয়টি জেনে রাতেই তিনি কাতার থেকে বাংলাদেশে
আসেন। ৬ মার্চ উন্নত চিকিৎসার জন্য দুপুর ১২টার দিকে তার ছেলেকে কুমিল্লা নগরীর
টমছমব্রিজ পিপলস হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। দুপুর ২টার দিকে তার স্ত্রী শিমুল
আক্তারের কাছে অপরিচিত একটি নাম্বার থেকে ফোন আসে। আহত আরাফাতকে দেখতে এক অভিভাবক
আসবেন বলে জানানো হয় ফোনে রাত ৯টার দিকে ওই ব্যক্তি হাসপাতালে আসেন দেখা করতে। এ
সময় তিনি জানান, তার এক ছেলে আরাফাতের সঙ্গে মাদরাসায় পড়ে। সেই জন্য তাকে দেখতে
এসেছেন। এরপর রাত ১১টার দিকে ওই ব্যক্তিসহ মোট চারজন হঠাৎ রুমে ঢুকে পড়ে।
একপর্যায়ে প্রবাসী ফারুককে পাশের একটি খালি রুমে নিয়ে র্যাব পরিচয়ে অস্ত্র ঠেকিয়ে
পাঁচ লাখ টাকা দাবি করে তারা। দাবীকৃত টাকা না দিলে ক্রসফায়ারে দেওয়ারও হুমকি
দেওয়া হয়।
জীবন বাঁচাতে তাদের প্রস্তাবে রাজি হয়ে
তাৎক্ষণিক ২০ হাজার টাকা এবং বাড়িতে ফোন করে আরো ৫০ হাজার টাকা এনে তাদের দেন
ফারুক। শনিবার (৮ মার্চ) আবার হাসপাতালে ঢুকে বাকি চার লাখ ৩০ হাজার টাকা দাবি করা
হয় কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের নজরে আসে বিষয়টি। পর দুজনকে আটক
করে ৯৯৯-এ ফোন করলে ইপিজেড ফাঁড়ি পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে বিকেল ৫টায় তাদের আটক করে
নিয়ে যায়।
এ বিষয়ে কুমিল্লা ইপিজেড পুলিশ ফাঁড়ির ইনর্চাজ
মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, ৯৯৯-এ সংবাদ পেয়ে দুজনকে আটক করা হয়। আটক জয় আহমেদ রুবেল
প্রকাশ চশমা রুবেলের বিরুদ্ধে মাদক, অস্ত্রসহ চারটি মামলা এবং নিরব আহমেদ রুবেলের
বিরুদ্ধে ডাকাতি, অস্ত্র ও মাদকসহ সাতটি মামলা রয়েছে। চাঁদাবাজির ঘটনায় দুজনের
বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলেও জানান তিনি।
মন্তব্য করুন


নোয়াখালী টু ফেনী আঞ্চলিক মহাসড়কের সেতু ভাঙ্গা পশ্চিম বাজার দানবাক্স এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় এক আয়ুবের্দিক চিকিৎসকের মৃত্যু ঘটে।
নিহত চিকিৎসক আবু নুর মোহাম্মদ মাসুম (৩৮) লক্ষীপুর সদর উপজেলার পশ্চিম সৈয়দপুর গ্রামের কামাল উদ্দিনের ছেলে। এ দুর্ঘটনায় নিহতের ভাই মাসুদ রানা (৫০) আহত হয়।
আজ সকালে নোয়াখালী টু ফেনী আঞ্চলিক মহাসড়কের সেতু ভাঙ্গা পশ্চিম বাজার দানবাক্স এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নিহত মাসুমের অনেক জায়গায় আয়ুবের্দিক চিকিৎসার চেম্বার ছিল। সকালে তারা দু'ভাই অ্যাম্বুলেন্সযোগে ফেনীর উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেয়। যাত্রা পথে অ্যাম্বুলেন্সটি নোয়াখালী টু ফেনী আঞ্চলিক মহাসড়কের সেতু ভাঙ্গা পশ্চিম বাজার দানবাক্স এলাকায় পৌঁছলে অ্যাম্বুলেন্সের সামনে থাকা ব্যানারটি তাদের গাড়ির চাকায় পেঁচিয়ে পুরো রাস্তাজুড়ে মাঝামাঝি ভাবে দাঁড়িয়ে যায়। ওই সময় পিছনে থাকা ক্যাভার্ড ভ্যানটি তাদের অ্যাম্বুলেন্সে সজোরে ধাক্কা মারে। ধাক্কা মারার তীব্রতা এত বেশি ছিল যে অ্যাম্বুলেন্সটি উড়ে গিয়ে রাস্তার উল্টো পাশে পড়ে নোয়াখালী মুখি হয়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলে চিকিৎসকের মৃত্যু হয়।
উক্ত ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন চন্দ্র হাইওয়ে পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) নুর মোহাম্মদ।
তিনি বলেন ঘটনার পরপরই ঘাতক কাভ্যার্ড ভ্যানটি পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় একটি অপমৃত্যু মামলা নেওয়া হবে।
মন্তব্য করুন


কেউ গাড়ির হেলপার-ড্রাইভার, কেউ দোকানের কর্মচারী, নির্মাণ শ্রমিক, কেউবা পুরাতন মালামাল ক্রেতা কিংবা রাজমিস্ত্রী। আছে সবজি বিক্রেতাও। কিন্তু ভিন্ন পেশা হলেও সন্ধ্যা নামতেই বদলে যায় তাদের পেশা-পরিচয়। বেরিয়ে আসে ভয়ঙ্কর রূপ।
এসব ভিন্ন ভিন্ন পেশার আড়ালে রাজধানীর মোহাম্মদপুর ও তার আশপাশের এলাকায় তারা ডাকাতি, ছিনতাই ও চাঁদাবাজিতে জড়িত। প্রত্যেকের নামে রয়েছে একাধিক মামলা। প্রত্যেকেই জেল খেটেছেন। বেরিয়ে আবারো জড়িয়েছেন গ্যাং কালচারে।
পুলিশের এলিট ফোর্স র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) রাজধানীর মোহাম্মাদপুর, আদাবর, হাজারীবাগ এলাকায় কিশোর গ্যাং এর বিভিন্ন গ্রুপের ছিনতাই, চাঁদাবাজি, বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত অভিযোগে ৩৬ জনকে গ্রেফতারের পর এসব তথ্য জানিয়েছে ।
গ্রেফতারকৃত কিশোর গ্যাং পাটালি গ্রুপের অন্যতম মূলহোতা সুজন মিয়া ওরফে ফর্মা সজীব এবং লেভেল হাই এর অন্যতম মূলহোতা মো. শরিফ ওরফে মোহন ও চাঁন গ্রুপ,মাউরা ইমরান গ্রুপসহ বিভিন্ন গ্রুপের সদস্য। গ্রেফতারের সময় তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয় বিপুল পরিমাণ দেশীয় অস্ত্র। গ্রেফতারকৃতরা জিজ্ঞাসাবাদে জানায়, গ্রেফতারদের মধ্যে ৫ জন পাটালি গ্রুপের, ৬ জন লেভেল হাই, ৬ জন চাঁন গ্রুপ, ৫ জন লও ঠ্যালা গ্রুপ, এবং ৭ জন মাউরা ইমরান গ্রুপের সদস্য। বাকি ৭ জন অন্য গ্রুপের সদস্য। এদের গ্রুপে প্রায় ২০-২৫ জন সদস্য থাকে।
র্যাব-২ অধিনায়ক বলেন, সম্প্রতি রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকায় বেশ কয়েকটি কিশোর গ্যাং গ্রুপের সদস্য ছিনতাই, চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন ধরনের সন্ত্রাসী কার্যক্রম লক্ষ্য করা যায়। এসব সন্ত্রাসীদের হামলা ও ছিনতাইয়ের অভিযোগে রাজধানীর বিভিন্ন থানায় একাধিক সাধারণ ডায়েরি ও মামলা হয়েছে। সম্প্রতি মোহাম্মদপুর, আদাবর, হাজারীবাগ ও তার আশপাশের এলাকায় বেশ কয়েকটি ছিনতাই, চাঁদাবাজি ও অন্যান্য সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড সম্পর্কে তথ্য পেয়ে র্যাব টহল ও গোয়েন্দা কার্যক্রম বৃদ্ধি করে।
র্যাব-২ অধিনায়ক আরও বলেন, পাটালি গ্রুপটি সুজন মিয়া ওরফে ফর্মা সজীবের নেতৃত্বে দীর্ঘদিন ধরে পরিচালিত হয়ে আসছে। নিজেদের মধ্যে অন্তঃকোন্দলের কারণে তারা ২/৩টি গ্রুপে বিভক্ত হয়। লেভেল হাই গ্রুপটি গ্রেফতার শরিফ ওরফে মোহনের নেতৃত্বে দীর্ঘদিন ধরে পরিচালিত হয়ে আসছে। গ্রেফতাররা মোহাম্মদপুর, আদাবর, বেড়িবাঁধ ও ঢাকা উদ্যান এলাকায় চাঁদাবাজি, ছিনতাই, ডাকাতিসহ অন্যান্য সন্ত্রাসী কার্যক্রম পরিচালনা করতো। এসব গ্রুপের গ্রেফতাররা একাকী পথচারীদের আকস্মিকভাবে ঘিরে ধরে চাপাতিসহ ধারালো অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে জোর করে অর্থ ও মূল্যবান সামগ্রী ছিনতাই করে দ্রুত পালিয়ে যায়। তারা বিভিন্ন সময় চাঁদাবাজিসহ আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ঢাকা উদ্যান, আদাবর, শ্যামলী, মোহাম্মদপুরসহ পার্শ্ববর্তী এলাকায় দেশীয় ধারালো অস্ত্র দিয়ে মারামারিসহ বিভিন্ন ধরনের সন্ত্রাসী কার্যক্রম পরিচালনা করতো। মাদক সেবনসহ এলাকায় মাদক ব্যবসার সঙ্গেও জড়িত তারা। মূলত তারা মোহাম্মদপুর এলাকায় আধিপত্য বিস্তারের জন্য বিভিন্ন অপরাধমূলক কার্যক্রমে জড়িত।
গ্রেফতারদের পেশা সম্পর্কে র্যাব-২ এর অধিনায়ক বলেন, বিভিন্ন গাড়ির হেলপার ও ড্রাইভার, দোকানের কর্মচারী, নির্মাণ শ্রমিক, পুরাতন মালামাল ক্রেতা, সবজি বিক্রেতা ইত্যাদি পেশার আড়ালে তারা মূলত মোহাম্মদপুর ও তার আশপাশের এলাকায় ডাকাতি, ছিনতাই ও চাঁদাবাজি করতো।
অতিরিক্ত ডিআইজি আনোয়ার হোসেন আরও বলেন, গ্রেফতার সুজন মিয়া ওরফে ফর্মা সজীব পাটালি গ্রুপ এর মূলহোতা। এলাকায় আধিপত্য বিস্তার, ডিস ব্যবসা, চাঁদাবাজি, ছিনতাই, মাদক ব্যবসাসহ বিভিন্ন ধরনের সন্ত্রাসী কার্যক্রম পরিচালনা করার জন্য ১৫-২০ জনের একটি গ্রুপ তৈরি করে। সে এই সন্ত্রাসী গ্যাং এর মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় মাদক কারবারি, ডাকাতি, চাঁদাবাজি, ছিনতাইসহ বিভিন্ন ধরণের সন্ত্রাসী কার্যক্রম করছিল।
গ্রেফতার রানা শিকদার, জুয়েল মিয়া ও সাগর গ্রেফতার ফর্মা সজীবের সহযোগী। তারা গ্রেফতার পাটালি গ্রুপ এর ফর্মা সজীবের নেতৃত্বে ছিনতাই, চাঁদাবাজি, ডাকাতি, মাদক ব্যবসাসহ বিভিন্ন এলাকায় টাকার বিনিময়ে ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসী হিসেবে বিভিন্ন ধরনের সন্ত্রাসী কার্যক্রম করতো। সুজন মিয়া ওরফে ফর্মা সজীবের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় মাদক, ছিনতাই ও মারামারি সংক্রান্ত ১১টির বেশি মামলা রয়েছে এবং এ সকল মামলায় কারাভোগ করেছে।
র্যাব-২ এর সিও আরও বলেন, গ্রেফতার শরিফ ওরফে মোহন লেভেল হাই গ্রুপের মূলহোতা ও সন্ত্রাসী হায়াত ওরফে টাকলা হায়াত অন্যতম প্রধান সহযোগী। আগে সে মোহাম্মদপুর এলাকায় মাদকের ব্যবসা করতো। সে টাকলা হায়াতের অন্যতম সহযোগী হিসেবে মোহাম্মদপুর ও তার আশপাশের এলাকায় চাঁদাবাজি, ছিনতাই, ডাকাতি ও অপহরণসহ বিভিন্ন ধরনের সন্ত্রাসী কার্যকলাপ করে আসছিল।
টাকলা হায়াতের অবর্তমানে সে গ্যাংটি পরিচালনা করে আসছিল। গ্রেফতার দুলাল, সোহাগ ও তারেক তারা লেভেল হাই গ্রুপের সদস্য। তারা গ্রেফতার শরিফ ওরফে মোহনের নেতৃত্বে ছিনতাই, চাঁদাবাজি, ডাকাতি, মাদক ব্যবসাসহ বিভিন্ন ধরনের সন্ত্রাসী কার্যক্রম করতো। শরিফের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় মাদক, ছিনতাই ও মারামারি সংক্রান্ত ৮টির বেশি মামলা রয়েছে। এসব মামলায় কারাভোগ করেছে।
গ্রেফতার সাকিব ওরফে প্রকাশ রিয়াম চাঁন গ্রুপের অন্যতম সহযোগী সদস্য। সে ২০১৮ সালে বরিশাল হতে ঢাকায় এসে ঢাকা উদ্যান এলাকায় বসবাস শুরু করে। সে বিভিন্ন সময়ে গার্মেন্টসে চাকরি করেছে।
২০২১ সালে একটি রিয়েল এস্টেট কোম্পানিতে চাকরির সময়ে চাঁন গ্রুপ নামে একটি কিশোর গ্যাংয়ের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ে। পরে মাদক, ছিনতাই ও মারামারি সংক্রান্ত অপরাধে জড়িয়ে পড়ে। বর্তমানে সে চাঁন গ্রুপের অন্যতম সহযোগী। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় মাদক, ছিনতাই ও মারামারি সংক্রান্ত ৩টির বেশি মামলা রয়েছে এবং এসব মামলায় কারাভোগ করেছে।
ডিস ব্যবসা, চাঁদাবাজি, ছিনতাই, মাদকের কারবারে গ্রেফতার ইমরান ওরফে মাউরা ইমরান মাউরা ইমরান গ্রুপের সদস্য। এলাকায় আধিপত্য বিস্তার, ডিস ব্যবসা, চাঁদাবাজি, ছিনতাই, মাদক ব্যবসাসহ বিভিন্ন ধরনের সন্ত্রাসী কার্যক্রম পরিচালনা করার জন্য ১৫-২০ জনের একটি গ্রুপ তৈরি করে। আগে সে মোহাম্মদপুর এলাকায় রাজমিস্ত্রীর কাজ করতো।
২০২১ সালে একটি প্রতিষ্ঠানে চাকরির সময়ে নিজেই একটি কিশোর গ্যাং মাউরা ইমরান গ্রুপ গঠন করে। মাউরা ইমরান মোহাম্মদপুর এলাকায় চাঁদাবাজি, ডাকাতি ও অপহরণের সঙ্গে জড়িত। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় মাদক, ছিনতাই ও মারামারি সংক্রান্ত ৪টির বেশি মামলা রয়েছে এবং এসব মামলায় কারাভোগ করেছে।
মুরগী রাকিব লও ঠ্যালা গ্রুপের সদস্য । র্যাব-২ এর সিও অতিরিক্ত ডিআইজি আনোয়ার হোসেন খান আরও বলেন, রাকিব ওরফে মুরগী রাকিবের জন্ম বরিশাল এলাকায়। সে বিভিন্ন সময়ে গার্মেন্টসে চাকরি ও ডিসের লাইনে চাকরি করতো। ২০২০ সালে একটি প্রতিষ্ঠানে পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে চাকরির সময় লও ঠ্যালা গ্রুপে যোগ দেয়। সে বিভিন্ন স্থান থেকে মাদক সংগ্রহ ও মাদক পৌঁছে দেয়ার কাজ করতো। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় মাদক, ছিনতাই ও মারামারি সংক্রান্ত দুটির অধিক মামলায় কারাভোগ করেছে।
গ্রেফতারদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।
মন্তব্য করুন


আশা রহমান :
চলতি বছরে অনুষ্ঠিত এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার পুনঃনিরীক্ষণের ফল প্রকাশে এসএসসি পরীক্ষায় কুমিল্লা শিক্ষাবোর্ডের আওতাধীন ৭৮১ জনের ফলাফল পরিবর্তন হয়েছে। এর মধ্যে ২০৪ জনও ফেল থেকে পাস করেছেন।
মঙ্গলবার (১১ জুন) সকাল ১০টায় কুমিল্লা শিক্ষাবোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক ড. মো: আসাদুজ্জামান স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে পুনর্নিরীক্ষণের এ ফলাফল প্রকাশ করা হয়।
কুমিল্লা শিক্ষাবোর্ডের উপ-পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক (মাধ্যমিক) মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম জানান, চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষার বিভিন্ন বিষয়ে ৩০ হাজার ৮৯৮ জন শিক্ষার্থী ৭৫০৮৫টি উত্তরপত্র পুনর্নিরীক্ষণের জন্য অনলাইনে আবেদন করে। এরমধ্যে ৭৮১ জনের ফল পরিবর্তন হয়। এরমধ্যে ৭৭ জন নতুন করে জিপিএ-৫ পেয়েছেন। আর ২০৪ জন ফেল থেকে পাস করেন এবং ৫০০ জনের গ্রেড পরিবর্তন হয়েছে।
কুমিল্লা শিক্ষাবোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মো: নিজামুল করিম বলেন, আবেদনের উত্তরপত্রগুলো পুনর্নিরীক্ষণের নীতিমালা অনুযায়ী যথাযথভাবে যাচাই-বাছাই শেষে ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছে। ফলাফল পরিবর্তন হওয়া শিক্ষার্থীরা ১২ ও ১৩ জুন কলেজে ভর্তির জন্য অনলাইনে আবেদন করতে পারবে।
উল্লেখ্য, গত ১২ মে এসএসসি পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশিত হয়। আর ১৩ থেকে ১৯ মে পর্যন্ত অনলাইনে পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন গ্রহণ করা হয়। এ বছর কুমিল্লা শিক্ষাবোর্ডের পাসের হার ছিল ৭৯.২৩।
মন্তব্য করুন


নেকবর হোসেন , কুমিল্লা প্রতিনিধি:
কুমিল্লার দাউদকান্দিতে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি বিআরটিসি বাস উল্টে অন্তত ১০ যাত্রী আহত হয়েছেন।
বুধবার (১৭ জুন) দুপুর ১২টা ৫০ মিনিটের দিকে উপজেলার ইলিয়টগঞ্জ বাজার এলাকায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ইলিয়টগঞ্জ হাইওয়ে থানার ইনচার্জ জাকির সিকদার।
হাইওয়ে পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ঢাকাগামী বিআরটিসি বাসটি হঠাৎ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মহাসড়কের মাঝখানের আইল্যান্ডের ওপর উঠে যায়। একপর্যায়ে বাসটি উল্টে গেলে যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং অন্তত ১০ জন আহত হন।
বাসের এক যাত্রী জানান, হঠাৎ করেই বাসটি দুলতে শুরু করে। কিছু বুঝে ওঠার আগেই বাসটি আইল্যান্ডের ওপর উঠে উল্টে যায়। এ সময় যাত্রীরা চিৎকার করতে থাকেন। পরে স্থানীয় লোকজন এসে তাদের উদ্ধার করেন।
পরে আহতদের প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য স্থানীয় বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠানো হয়। আহতদের মধ্যে দুজনের অবস্থা গুরুতর বলে জানা গেছে।
এ বিষয়ে ইলিয়টগঞ্জ হাইওয়ে থানার ইনচার্জ জাকির সিকদার জানান, দুর্ঘটনাকবলিত বাসটি উদ্ধারের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। পাশাপাশি দুর্ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে এ ঘটনায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে এবং কোনো ধরনের যানজটের সৃষ্টি হয়নি।
মন্তব্য করুন