

বগুড়ায়
অজ্ঞাত এক যানবাহনের ধাক্কায় মোটরসাইকেল আরোহী বাবা ও মেয়ে নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় গুরুতর
আহত হয়েছেন আরও একজন।
সোমবার
(২৫ মে) সকাল সাড়ে ৬টার দিকে শাজাহানপুর উপজেলার বনানী এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতরা
হলেন আনিছুর রহমান (৩৫) ও তার মেয়ে আয়শা খাতুন (৪)। আহত পুষ্পা আক্তার (২৮) নিহত আনিছুরের
স্ত্রী। তারা পাবনা জেলার সুজানগর থানার গোপালপুর গ্রামের বাসিন্দা।
বগুড়া
ফায়ার স্টেশনের কর্মকর্তা শহীদুল ইসলাম জানান, রংপুরে বেসরকারি সংস্থা ব্র্যাকে কর্মরত
আনিছুর রহমান তার স্ত্রী আয়েশা বেগম এবং মেয়ে পুষ্পকে নিয়ে ঈদের ছুটিতে মোটরসাইকেলে
গ্রামের বাড়ি পাবনায় যাচ্ছিলেন। সকাল সাড়ে ৬টার দিকে বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলার বনানী
এলাকায় পৌঁছালে অজ্ঞাত এক যানবাহনের ধাক্কায় তারা মোটরসাইকেল থেকে মহাসড়কের ওপর ছিটকে
পড়েন। এতে ঘটনাস্থলেই বাবা ও মেয়ের মৃত্যু হয় এবং আয়েশা বেগম আহত হন।
খবর
পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা সকাল ৭টার দিকে ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ দুটি উদ্ধার
করেন এবং আহত পুষ্পা আক্তারকে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি
করেন।
শাজাহানপুর
থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশিক ইকবাল বলেন, দুর্ঘটনাস্থলের আশপাশের সিসিটিভি
ফুটেজ দেখে অজ্ঞাত যানবাহনটি শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে।
মন্তব্য করুন


নিজস্ব প্রতিবেদক , কুমিল্লা
তরুণদের সামাজিক, মানবিক ও জাতীয় উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করার লক্ষ্যে কাজ করা সংগঠন ‘আমরা জুলাই যোদ্ধা’র কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা শাখার ৩২ সদস্যবিশিষ্ট আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। একই সঙ্গে সংগঠনটির কার্যক্রমকে আরও গতিশীল ও সুসংগঠিত করতে একটি উপদেষ্টা মণ্ডলীও গঠন করা হয়েছে।
কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি মো. আমিনুর ইসলাম ইমন ও সাধারণ সম্পাদক মো. আল মিরাজ , তাদের স্বাক্ষরিত তে এই কমিটি গঠন করা হয়েছে।
সংগঠনের উপদেষ্টা মণ্ডলীতে রয়েছেন কুমিল্লা-৮ আসনের সংসদ সদস্য ও কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির সভাপতি জাকারিয়া তাহের সুমন, কুমিল্লা-৬ আসনের সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী, ড. চৌধুরী সায়মা ফেরদৌস, কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আশিকুর রহমান মাহমুদ ওয়াসিম, আদর্শ সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি রেজাউল কাইয়ুম এবং সাংগঠনিক সম্পাদক নজরুল হক ভূঁইয়া স্বপন।
ঘোষিত কমিটিতে আব্দুল্লাহ আল বাকীকে আহ্বায়ক, মো. আব্দুস সালামকে সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক এবং মো. শিপন আলীকে সদস্য সচিব করা হয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের সমন্বয়ে পূর্ণাঙ্গ আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়েছে।
সংগঠনের নেতারা জানান, তরুণদের সামাজিক, মানবিক ও জাতীয় উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করার লক্ষ্যে ‘আমরা জুলাই যোদ্ধা’ কাজ করে যাচ্ছে। নবগঠিত কমিটি জেলার বিভিন্ন উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে সাংগঠনিক কার্যক্রম সম্প্রসারণ, স্বেচ্ছাসেবামূলক উদ্যোগ গ্রহণ এবং তরুণদের নেতৃত্ব বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
তারা আরও বলেন, নতুন কমিটির মাধ্যমে সংগঠনের কার্যক্রম আরও বেগবান হবে এবং সমাজ উন্নয়নে তরুণদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি পাবে। কুমিল্লা দক্ষিণ জেলার প্রতিটি ইউনিটকে সক্রিয় করে সংগঠনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান নেতৃবৃন্দ।
নবগঠিত আহ্বায়ক কমিটির সদস্যরা সংগঠনের আদর্শ ও লক্ষ্য বাস্তবায়নে নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন।
মন্তব্য করুন


রাজধানীর
পল্লবীতে শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর গলাকেটে হত্যা ঘটনায় করা মামলায় প্রধান আসামি সোহেল
রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্নার বিরুদ্ধে চার্জ
(অভিযোগ) গঠন করে আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে স্বাক্ষ্যগ্রহণের
জন্য আগামীকাল মঙ্গলবার দিন ধার্য করেন আদালত।
আসামিদের
বিরুদ্ধে চার্জ পড়ে শোনানোর সময় আসামি সোহেল রানা আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন,
‘আমার স্ত্রীর কোনো দোষ নেই। এ সময় স্বপ্না সোহেল রানাকে বলেন, বলো, বলো আমার কোনো
দোষ ছিল?’ কিন্তু আদালত তাদের কথা আমলে না নিয়ে চার্জ পড়ে শোনান। এ সময় আসামিদের বিরুদ্ধে
অভিযোগ গঠনের পর তারা ঘটনার বিষয়ে দোষী না নির্দোষ জানতে চাইলে তারা আদালতে নির্দোষ
দাবি করেন।
আজ
সোমবার (১ জুন) সকালে শুনানি শেষে ঢাকার মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক
মাসরুর সালেকীনের আদালত এ আদেশ দেন। একই সঙ্গে সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য আগামী ২ জুন দিন
নির্ধারণ করেন আদালত। সকাল সাড়ে ৭টার দিকে কারাগার থেকে তাদের আদালতে আনা হয়। এরপর
তাদের ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের হাজতখানায় রাখা হয়। এরপর সকাল ১১টা ১০ মিনিটে তাদের
এজলাসে নেওয়া হয়।
আসামিপক্ষে
কোনো আইনজীবী না থাকায় রাষ্ট্রীয় খরচে আসামিপক্ষের আইনজীবী হিসেবে ঢাকা বারের সদস্য
অ্যাডভোকেট মুসা কালিমুল্যাহকে নিয়োগ দেয় আইন মন্ত্রণালয়। তিনি আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
রাষ্ট্রপক্ষে পাবলিক প্রসিকিউটর শুনানি করছেন। গত ২৪ মে আসামি সোহেল রানা এবং তার স্ত্রী
স্বপ্না আক্তারকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন মামলাটির তদন্ত কর্মকর্তা
পল্লবী থানার এসআই অহিদুজ্জামান।
এরপর
ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আশরাফুল হকের আদালতে অভিযোগপত্রটি উপস্থাপন করা হয়।
চার্জশিটটি আমলে গ্রহণ করে বিচারের জন্য ঢাকার শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে বদলির
আদেশ দেওয়া হয়। একই দিন ঢাকার শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন
অভিযোগপত্র আমলে নিয়ে অভিযোগ গঠন শুনানির জন্য ১ জুন দিন ধার্য করেন।
মামলার
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী শিশু রামিসা আক্তার (৮) পপুলার মডেল হাই স্কুলের
দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী ছিল। গত ১৯ মে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ঘর থেকে বের হলে আসামি স্বপ্না
আক্তার তাকে কৌশলে তার ফ্ল্যাটের রুমের ভেতরে নিয়ে যায়। ওইদিন সকাল সাড়ে ১০টার দিকে
রামিসাকে স্কুলে যাওয়ার জন্য খোঁজাখুঁজি করতে থাকলে একপর্যায়ে আসামির রুমের সামনে তার
জুতা দেখতে পান।
ডাকাডাকির
পর কোনো সাড়া-শব্দ না পেয়ে রামিসার বাবা-মা ও অন্যান্য ফ্ল্যাটের লোকজন দরজা ভেঙে ভেতরে
প্রবেশ করে আসামির শয়নকক্ষের মেঝেতে রামিসা আক্তারের (৮) মস্তকবিহীন মরদেহ এবং মাথা
বাথরুমের ভেতরে একটি বড় বালতির মধ্যে দেখতে পান।
আসামি
স্বপ্না আক্তারকে সেখানে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় দেখতে পেয়ে তাকে জিজ্ঞাসা করলে তিনি
জানান, তার স্বামী আসামি মো. সোহেল রানা (৩০) হীনকামনা চরিতার্থ করার জন্য রামিসাকে
বাথরুমের ভেতরে আটকে রেখে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে গলা কেটে হত্যা করেছে। এ ঘটনায় ১৯ মে
শিশুটির বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা দুজনকে আসামি করে পল্লবী থানায় মামলা করেন। মামলার
পর প্রথমে স্বপ্না আক্তারকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে সোহেল রানাকে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা
থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরদিন ২০ মে
প্রধান
অভিযুক্ত সোহেল রানা আদালতে দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দেন। একই দিন আসামি সোহেলের
স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে কারাগারে পাঠানো হয়।
মন্তব্য করুন


অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, জুলাই-আগস্ট বিপ্লবের মাধ্যমে ছাত্র-শিক্ষক সমাজ আবার তাঁদের চিন্তার স্বাধীনতা ও মুক্তবুদ্ধির চর্চা ফিরে পেয়েছেন। এর সঙ্গে এখন যোগ করতে হবে বিশ্ব-বিজ্ঞানে অবদান রাখার সক্ষমতা। আকাক্সক্ষাকে উচ্চে রেখে দৈনন্দিন পঠন-পাঠন গবেষণার মাধ্যমেই সেটি অর্জিত হবে।
আজ বৃহস্পতিবার
(৭ নভেম্বর) ঢাকায় ‘বোস-আইনস্টাইন পরিসংখ্যানের শতবর্ষ উদযাপন : ঢাকার উত্তরাধিকার’ শীর্ষক সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য প্রদানকালে এ কথা বলেন
তিনি।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিদ্যা বিভাগ এবং সেন্টার ফর অ্যাডভান্সড স্টাডি অ্যান্ড রিসার্চ ইন ন্যাচারাল সায়েন্সেস, ঢাবি যৌথভাবে দুই দিনব্যাপী এ উৎসবের আয়োজন করেছে।
প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, আমাদের অন্তর্বর্তী সরকার বিপ্লবের ফসল। তাই আমরা বিশ্ব-বিজ্ঞানে অবদান রাখতে প্রয়োজনীয় সব সংস্কার এবং উপযুক্ত পরিবেশ সৃষ্টির সকল প্রয়াস নিতে প্রস্তুত রয়েছি। এই কাজে নিবেদিত সবার কাছ থেকে চাহিদা, পরামর্শ আসতে হবে। নিজের ওপর আস্থা থাকলে এটি আমরা পারবো- যেমন আস্থা সত্যেন্দ্রনাথ বসুর ছিল বলে তিনি সম্পূর্ণ অপরিচিত হয়েও আইনস্টাইনকে লিখতে পেরেছিলেন। ১৯২৪ সালে সত্যেন্দ্রনাথ বসুর আবিষ্কারের পরিবেশ যেভাবে গড়ে ওঠেছিলো, আজও সেভাবেই গড়ে উঠবে। এর কোন বিকল্প নেই। আমাদের তরুণদের মনে বিশ্বাস সৃষ্টি করতে হবে যে আমরাই বিশ্ব। আজ আমরা সেই আকাঙ্খারই শতবার্ষিকী পালন করছি। বিজ্ঞানী সত্যেন্দ্রনাথ বসুকে বাংলাদেশের ইতিহাসের উজ্জ্বলতম নক্ষত্র উল্লেখ করে অধ্যাপক ইউনূস বলেন, আজ আমরা আমাদের দেশের এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসের একজন উজ্জ্বলতম তারকার মহত্তম অবদানের শতবার্ষিকী উদযাপন করতে এসেছি। যিনি ১৯২৪ সালের এমন একটি সময়ে তাঁর আবিষ্কার বোস-আইনস্টাইন কোয়ান্টাম স্ট্যাটিসটিক্সের জন্য বিজ্ঞান ইতিহাসের অংশ হয়ে গিয়েছিলেন। আর তিনি এটি করেছিলেন আমাদের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন নবীন অধ্যাপক হিসেবে কার্জন হলের একটি কামরায় বসে, আজো যেটি পদার্থবিদ্যার ছাত্র-শিক্ষকদের প্রাণচাঞ্চল্যে মুখরিত। তাঁর আবিষ্কারের গুরুত্বের কারণে পৃথিবীর নানা দেশের পদার্থবিদগণ এই শতবার্ষিকী উদযাপন করছেন। কিন্তু আমাদের জন্য এই আবিষ্কারের মর্মটাই আলাদা। পদার্থবিদরা বলেন, বিংশ শতাব্দীর ওই পর্যায়ে পদার্থবিদ্যায় যে বৈপ্লবিক পরিবর্তন এসেছিলো কোয়ান্টাম থিওরির মাধ্যমে, এটি ছিল তার মধ্যে একটি বড় সংযোজন। এর মাধ্যমে বসু বিশ্ব-বিজ্ঞানের মানচিত্রে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়, আমাদের ঢাকা নগরীকে উজ্জ্বলভাবে চিহ্নিত করে দিয়েছিলেন। আজ আমরা যখন ছাত্র-জনতার একটি সর্বাত্মক বিপ্লবের মাধ্যমে দেশকে নতুন ভাবে গড়ার প্রয়াস নিয়েছি, বিশ্ববিদ্যালয়কে তার যথাযথ চর্চার জায়গায় পুনঃপ্রতিষ্ঠিত করতে চাচ্ছি, তখন পরিবর্তনের দিগদর্শিকা হিসেবে উদযাপনের জন্য বসুর আবিষ্কারের এই শতবার্ষিকীর থেকে যথাযথ বিষয় আর কী হতে পারে? আমাদের বিপ্লবের নায়ক ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য প্রেরণা হিসেবেও বা এর থেকে বড় গৌরবের স্মরণও আর কী হতে পারে? ১৯২৪ সাল অনেক পেছনে রেখে এসেছি। কালের পরিক্রমায় বসুর আবিষ্কারটি কি এতটুকু ম্লান হয়েছে? পদার্থবিদরা বলছেন মোটেই না। যার প্রমাণ এই আবিষ্কারের ভবিষ্যদ্বাণীকে সত্য প্রমাণ করে সৃষ্ট বোস-আইনস্টাইন কনডেনসেট পদার্থবিদ্যায় নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হয়েছে ২০০১ সালে। এ নিয়ে গবেষণা চলছেই।
তিনি উল্লেখ করেন, সারা দুনিয়ার পদার্থবিদ্যার ছাত্ররা জানে যাবতীয় পদার্থ-শক্তি সব কিছুর একেবারে মূলে যে মৌলিক কণিকাগুলো এদের শ্রেণী বিভাজনে একটি বড় ভূমিকা রেখেছে বসুর থিওরির দ্বারা ঠিক করে দেয়া নির্দেশিকা।
প্রধান উপদেষ্টা
আরও বলেন, সত্যেন্দ্রনাথ বসু শিক্ষার সর্বস্তরে, বিশেষ করে উচ্চতর বিজ্ঞান শিক্ষায় বাংলা ভাষা প্রচলনের জন্য তর্ক বিতর্ক করছেন, বাংলায় বই লিখছেন, পত্রিকা বের করছেন, নিজের পাঠদানে বাংলা ব্যবহার করছেন। শহরের সাহিত্যানুরাগী সংস্কৃতিসেবীদের কয়েকজনকে নিয়ে নিয়মিত বৈঠকি আড্ডা গড়ে তুলেছেন। পঞ্চাশের দশকের শেষের দিকে আমি যখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র তখনকার ঢাকার সঙ্গে বসুর ঢাকারই মিল বেশি ছিল। কাজেই পরিবেশটি বেশ কল্পনা করতে পারি, ঢাকার এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের। সেই শান্ত ছোট শহরকে, সেই সবুজ রমনাকে আর ফেরত আনা যাবে না, কিন্তু সেই গৌরবের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে আমরা অবশ্যই ফেরত আনতে পারি, আজকের স্বাধীন বাংলাদেশে। বোস- আইনস্টাইন তত্ত্বের শতবার্ষিকীতে একথা আমরা জোর দিয়ে বলতে চাই।
মন্তব্য করুন


অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে শুভেচ্ছা জানিয়ে চিঠি দিয়েছেন জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস।
চিঠিতে অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে কাজ করাসহ বাংলাদেশের জনগণের স্বার্থে সমর্থন অব্যাহত রাখার ব্যাপারেও জাতিসংঘের অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন তিনি।
গত ৮ আগস্ট ড. ইউনূসকে প্রধান উপদেষ্টা করে গঠিত হয় অন্তর্বর্তী সরকার। ১৬ আগস্ট ড. ইউনূসকে চিঠি দিয়ে শুভেচ্ছা জানান জাতিসংঘ মহাসচিব।
চিঠিতে জাতিসংঘ মহাসচিব বলেন, বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের জন্য আপনাকে আমার পক্ষ থেকে জানাই শুভেচ্ছা। আমি বাংলাদেশে শান্তি ফিরিয়ে আনা ও জাতীয় সংসদ নির্বাচন আয়োজনের প্রচেষ্টাকে স্বাগত জানাই। এই ক্রান্তিকালে সহিংসতার অবসান ঘটাতে, জবাবদিহি নিশ্চিত করতে, আইনশৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে ও গণতান্ত্রিক নির্বাচনের পথে এগিয়ে যেতে আপনার নেতৃত্ব গুরুত্বপূর্ণ হবে। আমি আশা করি- আপনার সরকার একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক পন্থা অবলম্বন করবে, যার মধ্যে তরুণ ও নারীদের পাশাপাশি সংখ্যালঘু, ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর সম্প্রদায়ের কণ্ঠস্বর অন্তর্ভুক্ত করা হবে। আমি সব নাগরিক ও বিশেষ করে সংখ্যালঘুদের পূর্ণ সুরক্ষা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের ওপর আস্থা রাখছি। আমি আপনাকে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের কল্যাণ নিশ্চিত করার জোরালোভাবে অনুরোধ জানাচ্ছি, বিশেষ করে মিয়ানমারে অবনতিশীল পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে। বাংলাদেশ তার ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে। জাতিসংঘ একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও সমৃদ্ধ গণতন্ত্রের প্রতি বাংলাদেশের প্রচেষ্টাকে পূর্ণ সমর্থন করে। অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে কাজ করতে, বাংলাদেশের জনগণের স্বার্থে সমর্থনের হাত বাড়িয়ে দিতে জাতিসংঘ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
মন্তব্য করুন


কুড়িগ্রামে তাপমাত্রা সামান্য বৃদ্ধি পেলেও কমেনি শীতের দাপট। বইছে মৃদু শৈত্য প্রবাহ। হিমেল হাওয়ায় কাবু হয়ে পড়েছে কুড়িগ্রাম জেলা। কনকনে ঠান্ডা ও ঘন কুয়াশায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা।
বুধবার (২৪ জানুয়ারি) সকাল ৯টায় জেলার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৯ ডিগ্রী সেলসিয়াস। গতকাল ছিল ৭ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
অপর দিকে ঠান্ডায় সবচেয়ে বিপাকে পড়েছে শ্রমজীবি ও নিম্ন আয়ের মানুষজন। শীত উপেক্ষা করে বাড়ী থেকে বের হলেও কাজ পাচ্ছে না অনেকে। সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত সুর্যের দেখা মিলছে না। দিনের অধিকাংশ সময় থাকছে মেঘাচ্ছন্ন। এ সময় উওরীয় হিমেল হাওয়ায় ঠাণ্ডার তীব্রতা বেশি অনুভূত হচ্ছে। শীত ও কনকনে ঠান্ডায় হাসপাতালগুলোতে বাড়ছে ডায়রিয়া, নিউমোনিয়া, শ্বাসকষ্ট, সর্দি কাশিসহ - শীতজনিত রোগীর সংখ্যা।
সদরের যাত্রাপুর ইউনিয়নের মিরাজুল বলেন, এই ঠান্ডায় বাইরে কাজ করতে যাচ্ছি। খুবই সমস্যা হচ্ছে,দুদিন ধরে সর্দি-কাশিতে ভুগছি। শীতকালে ঠিকমতো কাজ করতে না পারায় সংসার চালানোয় মুসকিল হয়েছে। অভাবের সংসার, ছেলেদের গরমের কাপড় কিনবো তাও পারছি না।
কুড়িগ্রাম সদরের ভোগডাঙ্গা ইউনিয়ন চেয়ারম্যান আলহাজ্ব সাইদুর রহমান বলেন, ধরলা নদী বেষ্টিত এই ইউনিয়ন। এখানকার মানুষ বেশীরভাগ দিনমজুর। এখানে এ যাবত সরকারিভাবে ৩১০ টি কম্বল বরাদ্দ পেয়েছি। যা চাহিদার তুলনায় অপ্রতুল।
কুড়িগ্রামের রাজারহাট কৃষি আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুবল চন্দ্র সরকার বলেন, জানুয়ারি মাস জুড়েই তাপমাত্রা এরকম থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এ মাসের ২৫ তারিখের পর তাপমাত্রা কিছুটা বৃদ্ধি পেতে পারে।
মন্তব্য করুন


বগুড়া
শহরে এক তরুণীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। ১৭ মে রোববার দিবাগত রাতে শহরের
ফুলবাড়ী দক্ষিণপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পরে ১৯ বছর বয়সী ভুক্তভোগী তরুণী বগুড়া সদর
থানায় মামলা দায়ের করেন।
মামলার
পরিপ্রেক্ষিতে তিনজনকে গ্রেফতার করেছে বগুড়া সদর থানা-পুলিশ। গ্রেফতাররা হলেন কাওছার
(১৯), বাধন (১৯) ও রকি। তারা সবাই বগুড়া সদরের বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দা।
ঢাকা
পোস্টের প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ভুক্তভোগী তরুণীর সঙ্গে অভিযুক্তদের পূর্ব পরিচয়
ছিল। রোববার রাত ৮টার দিকে তিনি শহরের পুলিশ প্লাজার একটি দোকানে যান। পরে অভিযুক্তদের
সঙ্গে তারা বিভিন্ন স্থানে অবস্থান করেন।
এরপর
রাতের দিকে তারা ফুলবাড়ী দক্ষিণপাড়া এলাকার একটি নির্মাণাধীন ভবনে যান। সেখানে একপর্যায়ে
তরুণীকে সংঘবদ্ধভাবে ধর্ষণ করা হয়।
পরে
আরেক অভিযুক্ত তাকে নিয়ে বের হওয়ার সময় তিনি স্থানীয়দের কাছে সাহায্য চান। স্থানীয়রা
এগিয়ে এসে পুলিশকে খবর দেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করে চিকিৎসার
জন্য পাঠায়।
বগুড়া
সদর থানার পুলিশ জানিয়েছে, ভুক্তভোগীর অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা গ্রহণ করা হয়েছে। তিনজনকে
গ্রেফতার করা হয়েছে এবং ঘটনায় জড়িত অন্যদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে।
মন্তব্য করুন


তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা নাহিদ ইসলাম বলেছেন, আমাকে স্যার ভাবার দরকার নেই। আমাকে স্যার বলারও দরকার নেই। আপনাদের প্রতি আমার অনুরোধ থাকবে আমার ছবি যত কম প্রচার করা যায় তো ভালো।
রবিবার (১৮ আগস্ট) তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পাওয়ার পর সচিবালয়ে প্রথম অফিসে এসে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে
তিনি এসব কথা বলেন।
উপদেষ্টা নাহিদ
বলেন, নিরপেক্ষ সংবাদ এবং স্বাধীন গণমাধ্যম নিয়ে আমাদের খুব গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা উচিত। কারণ, গণমাধ্যমের স্বাধীনতাকে গণতন্ত্রের অন্যতম একটি পিলার বলা যায়। কাজেই আমরা যদি গণতন্ত্র চাই, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা, মানুষের বাকস্বাধীনতা নিশ্চিত করতে হবে। গণমাধ্যমে কী ধরনের বাধা রয়েছে কিংবা এর সমাধান নিয়ে গণমাধ্যমের মানুষদের সঙ্গে কথা বলেই মূলত আমরা কার্যক্রম বাস্তবায়ন করব। যেসব অভিযোগ রয়েছে, সেগুলোকে বিবেচনায় নিয়ে প্রয়োজনে আমরা সেন্সর বোর্ডকে পুনর্গঠন করার উদ্যোগ গ্রহণ করব।
এ সময় ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে গণহত্যার প্রকৃত চিত্র প্রকাশ করে তদন্তে সহায়তা করতে গণমাধ্যমের প্রতি আহ্বান জানান নাহিদ ইসলাম।
সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ড নিয়ে প্রহসন করা হয়েছে। এটা নিয়ে মন্ত্রণালয় কাজ করবে বলেও জানান তথ্য উপদেষ্টা।
মন্তব্য করুন


প্রধানমন্ত্রী
তারেক রহমান সাবেক স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী মিজানুর রহমান সিনহার জানাজায় অংশ নিয়েছেন।
আজ রোববার (১৭ মে) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় সাবেক এই
প্রতিমন্ত্রীর জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। প্রধানমন্ত্রীর ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি জাহিদুল
ইসলাম এ কথা জানান।
দেশের
ওষুধ প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান ‘একমি ল্যাবরেটরিজ লিমিটেড অ্যান্ড গ্রুপ’–এর
ব্যবস্থাপনা পরিচালক ছিলেন মিজানুর রহমান সিনহা।
তাঁর
জানাজায় ইমামতি করেন জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের জ্যেষ্ঠ পেশ ইমাম আবু রায়হান। এতে আরও অংশ
নেন জাতীয় সংসদের স্পিকার অবসরপ্রাপ্ত মেজর হাফিজ উদ্দিন আহমদ (বীর বিক্রম), ডেপুটি
স্পিকার কায়সার কামাল, স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ মন্ত্রিপরিষদ
বিভাগের অন্যান্য সদস্য।
জানাজা
শেষে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে মিজানুর রহমানের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন প্রধানমন্ত্রী
তারেক রহমান। এরপর একে একে জাতীয় সংসদের স্পিকার, স্থানীয় সরকার মন্ত্রীসহ অন্যরাও
সাবেক এই প্রতিমন্ত্রীর প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। শ্রদ্ধা শেষে মিজানুর রহমানের রুহের
মাগফিরাত কামনা করে দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।
গত
শুক্রবার রাতে সিঙ্গাপুরের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান সাবেক স্বাস্থ্য
প্রতিমন্ত্রী মিজানুর রহমান সিনহা। তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৩ বছর।
মিজানুর
রহমান সিনহা মুন্সিগঞ্জ-২ (লৌহজং-টঙ্গিবাড়ী) আসন থেকে বিএনপির মনোনয়নে ১৯৯৬ সালের সপ্তম
ও ২০০১ সালের অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নির্বাচিত হন।
সংসদ
সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট
সরকারের স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন মিজানুর রহমান সিনহা।
এ ছাড়া কেন্দ্রীয় বিএনপির কোষাধ্যক্ষ হিসেবেও দীর্ঘদিন দায়িত্ব সামলেছেন তিনি। সর্বশেষ
ঘোষিত মুন্সিগঞ্জ জেলা বিএনপির কমিটিতে তাঁকে আহ্বায়কের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল।
মন্তব্য করুন


তিমুর-লেস্তের প্রেসিডেন্ট জোসে রামোস-হোর্তা বাংলাদেশের ব্যবসায়ীদের তাঁর দেশে বিনিয়োগের আহবান জানিয়েছেন।
আজ রোববার (১৫ ডিসেম্বর) ঢাকায় প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে বৈঠক এবং প্রতিনিধিদলের আলোচনার পর যৌথ সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ আহ্বান জানান।
অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক জোরদারের ওপর গুরুত্ব আরোপ করে রামোস-হোর্তা বলেন, আমি মনে করি আমরা বাংলাদেশ থেকে আরও পণ্য আমদানি করতে পারি এবং বাংলাদেশি কোম্পানিগুলোকে তিমুর-লেস্তে আসার জন্য আমন্ত্রণ জানাই। আগামী বছর আমরা আসিয়ানের সদস্য হব এবং সেইসাথে ৭০০ মিলিয়ন জনগোষ্টির অঞ্চলের অংশ হয়ে উঠব। আগামী বছর তিমুর-লেস্তে ৪ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি জিডিপি অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত হবে। তিমুর-লেস্তের প্রেসিডেন্ট আশা প্রকাশ করেন যে বাংলাদেশ তাঁর দেশের উন্নয়নে অংশীদার হবে।
রামোস-হোর্তা বলেন, নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী অধ্যাপক ইউনূস বিশ্বের অন্যতম সম্মানিত নেতা, যিনি এখনও সক্রিয়ভাবে অফিসে কাজ করছেন। তিনি বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টাকে নেলসন ম্যান্ডেলা, জন এফ কেনেডি, মহাত্মা গান্ধী, ফিদেল কাস্ত্রো এবং চে গুয়েভারের মতো বিশ্ব নেতাদের সাথে তুলনা করেন।
তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ অত্যন্ত সৌভাগ্যবান, খুবই ভাগ্যবান যে এমন একজন নিরহঙ্কার ও বিনয়ী মানুষ দেশের নেতৃত্বে রয়েছেন। তিনি আপনাদের তরুণদের সাথে কাজ করছেন দেশের পরিববর্তনের জন্য।'
বাংলাদেশ ও তিমুর-লেস্তের জনগণের ভোগান্তির ইতিহাস প্রায় একই রকম উল্লেখ করে তিমোর-লেস্তের প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘বাংলাদেশের মানুষ দৃঢ়চেতা, পরিশ্রমী, সৃজনশীল ও সফল।
অধ্যাপক ইউনূসকে তার ভাই, বন্ধু ও পরামর্শক উল্লেখ করে তিনি বাংলাদেশ সরকারকে তাকে আতিথেয়তা দেওয়ার জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, এখানে এসে তিনি সম্মানিত বোধ করছেন।
সিঙ্গাপুর এয়ারলাইনসের একটি বিশেষ ফ্লাইটে তিমুর-লেস্তের প্রেসিডেন্ট এবং তার সফরসঙ্গীরা গতকাল রাত ১০টা ৪০ মিনিটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে (এইচএসআইএ) অবতরণ করেন।
প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. ইউনূস তাকে গার্ড অব অনার এবং গান স্যালুটের মাধ্যমে অভ্যর্থনা জানান।
আজ রোববার (১৫ ডিসেম্বর) ঢাকায় প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে বৈঠক এবং প্রতিনিধিদলের আলোচনার পর যৌথ সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ আহ্বান জানান।
অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক জোরদারের ওপর গুরুত্ব আরোপ করে রামোস-হোর্তা বলেন, আমি মনে করি আমরা বাংলাদেশ থেকে আরও পণ্য আমদানি করতে পারি এবং বাংলাদেশি কোম্পানিগুলোকে তিমুর-লেস্তে আসার জন্য আমন্ত্রণ জানাই। আগামী বছর আমরা আসিয়ানের সদস্য হব এবং সেইসাথে ৭০০ মিলিয়ন জনগোষ্টির অঞ্চলের অংশ হয়ে উঠব। আগামী বছর তিমুর-লেস্তে ৪ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি জিডিপি অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত হবে। তিমুর-লেস্তের প্রেসিডেন্ট আশা প্রকাশ করেন যে বাংলাদেশ তাঁর দেশের উন্নয়নে অংশীদার হবে।
রামোস-হোর্তা বলেন, নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী অধ্যাপক ইউনূস বিশ্বের অন্যতম সম্মানিত নেতা, যিনি এখনও সক্রিয়ভাবে অফিসে কাজ করছেন। তিনি বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টাকে নেলসন ম্যান্ডেলা, জন এফ কেনেডি, মহাত্মা গান্ধী, ফিদেল কাস্ত্রো এবং চে গুয়েভারের মতো বিশ্ব নেতাদের সাথে তুলনা করেন।
তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ অত্যন্ত সৌভাগ্যবান, খুবই ভাগ্যবান যে এমন একজন নিরহঙ্কার ও বিনয়ী মানুষ দেশের নেতৃত্বে রয়েছেন। তিনি আপনাদের তরুণদের সাথে কাজ করছেন দেশের পরিববর্তনের জন্য।'
বাংলাদেশ ও তিমুর-লেস্তের জনগণের ভোগান্তির ইতিহাস প্রায় একই রকম উল্লেখ করে তিমোর-লেস্তের প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘বাংলাদেশের মানুষ দৃঢ়চেতা, পরিশ্রমী, সৃজনশীল ও সফল।
অধ্যাপক ইউনূসকে তার ভাই, বন্ধু ও পরামর্শক উল্লেখ করে তিনি বাংলাদেশ সরকারকে তাকে আতিথেয়তা দেওয়ার জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, এখানে এসে তিনি সম্মানিত বোধ করছেন।
সিঙ্গাপুর এয়ারলাইনসের একটি বিশেষ ফ্লাইটে তিমুর-লেস্তের প্রেসিডেন্ট এবং তার সফরসঙ্গীরা গতকাল রাত ১০টা ৪০ মিনিটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে (এইচএসআইএ) অবতরণ করেন।
প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. ইউনূস তাকে গার্ড অব অনার এবং গান স্যালুটের মাধ্যমে অভ্যর্থনা জানান।
মন্তব্য করুন


নেকবর হোসেন , কুমিল্লা প্রতিনিধি:
কুমিল্লার সদর দক্ষিণে জাইতুন রেস্টুরেন্টে নাস্তা খাওয়ার পর ভুলবশত ফেলে যাওয়া বিদেশি শিশুকে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। শনিবার (২৭ জুন) বিকেল পৌনে ৩টার দিকে সদর দক্ষিণ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুজন চন্দ্র রায় শিশুটিকে হস্তান্তর করেন। এ সময় উপজেলা সমাজসেবা অফিসের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
শিশুটির নাম নাফিসা বলে জানিয়েছে প্রশাসন। তারা সপরিবারে পাকিস্তান থেকে বাংলাদেশে ঘুরতে এসেছেন।
পুলিশ জানায়, পাকিস্তানের কাশ্মীরের নাগরিক সালমান পরিবার নিয়ে শনিবার কক্সবাজার ঘুরতে যাচ্ছিলেন। সপরিবারে সকালে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার পদুয়ার বাজার বিশ্বরোড মোস্তফাপুর এলাকার জাইতুন রেস্তোরাঁয় নাশতা করেন। নাশতা শেষে ভুলে শিশু নাফিসাকে হোটেল জাইতুনে রেখে চলে যায় তারা।
রেস্টুরেন্টের সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, বিদেশি পরিবারটি প্রায় ১৫ জন সদস্য নিয়ে দুটি গাড়িতে করে এসে জাইতুন রেস্তোরাঁয় বসে নাশতা করছেন। এ সময় তারা গল্প-আড্ডায় মেতে ছিলেন।
জাইতুন রেস্তোরাঁর স্বত্বাধিকারী লুৎফুর রহমান রিপন বলেন, পাকিস্তানের কাশ্মীরের একটি পরিবার শনিবার সকালে দুটি গাড়িতে করে এসে প্রায় ১৫ জন সদস্য রেস্টুরেন্টে নাস্তা করেন। তারা চলে যাওয়ার সময় ভুলবশত শিশুটিকে রেখে চলে যান। বাচ্চাকে হেফাজতে নিয়ে সদর দক্ষিণ থানায় জানালে পুলিশ উদ্ধার করে। পরে প্রশাসন শিশুটিকে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেছে। সদর দক্ষিণ থানার ওসি রকিকুল ইসলাম বলেন, রেস্টুরেন্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে খবর পেয়ে সেখানে পুলিশ পাঠানো হয়। পরে সমাজসেবা অফিসারের মাধ্যমে পরিবারটির সঙ্গে যোগাযোগ করলে তারা আসেন। আইন অনুযায়ী শিশুটিকে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
সদর দক্ষিণ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুজন চন্দ্র রায় বলেন, আমরা প্রথমে শুনেছিলাম শিশুটির পরিবার কাশ্মিরের। কিন্তু পরিবারের লোকজন শিশুটিকে নিতে এলে জানতে পারলাম তারা পাকিস্তানি। পাকিস্তান থেকে পরিবারের সদস্যরা এসেছেন বাংলাদেশে ঘুরতে। শনিবার দুটি গাড়িতে করে কক্সবাজার যাচ্ছিলেন সবাই। সকালে তারা কুমিল্লার জাইতুন রেস্টুরেন্টে নাস্তা করেন। নাস্তা শেষ করে পাকিস্তানি পরিবারটি দুটি গাড়িযোগে যাচ্ছিলেন। একটিতে শিশুর বাবা-মা এবং অপরটিতে শিশুর দাদা-দাদি ছিলেন। বাবা-মায়ের ধারণা ছিল দাদা-দাদির গাড়িতে শিশু নাফিসা এবং দাদা-দাদির ধারণা ছিল শিশু নাফিসা তার বাবা-মায়ের গাড়িতে উঠেছে। উভয়ের ভুলে পাকিস্তানি শিশু নাফিসা হোটেল জাইতুনে রয়ে যায়।
তিনি আরও বলেন, পরবর্তীতে চট্টগ্রামের কর্ণফুলী টানেল এলাকায় গিয়ে শিশু নাফিসাকে দেখতে না পেয়ে কুমিল্লার দিকে রওয়ানা দেয় পাকিস্তানি পরিবারটি। পরে উপজেলা সমাজসেবা অফিস সেই পরিবারটির সঙ্গে যোগাযোগ করে শিশুটির অবস্থান নিশ্চিত করলে তারা জাইতুন রেস্টুরেন্টে এসে শিশুটিকে নিয়ে পুনরায় কক্সবাজারের দিকে রওনা দেন।
মন্তব্য করুন