

ঢাকা
শিক্ষা বোর্ডের এক বিজ্ঞপ্তিতে প্রকাশিত ফল পুনঃনিরীক্ষণের এইচএসসি প্রক্রিয়ার বিস্তারিত
জানানো হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, শুধুমাত্র টেলিটকের প্রিপেইড নম্বর থেকে ফল পুনঃনিরীক্ষণের
আবেদন করা যাবে।
আবেদন করার জন্য প্রথমে মোবাইলের মেসেজ অপশনে গিয়ে RSC লিখে স্পেস দিয়ে বোর্ডের নামের প্রথম তিনটি অক্ষর লিখতে হবে। তারপর স্পেস দিয়ে রোল নম্বর লিখে আবার স্পেস দিয়ে বিষয় কোড লিখে ১৬২২২ নম্বরে এসএমএস করতে হবে। উদাহারণ: RSC COM123456 174 লিখে 16222 নম্বরে পাঠাতে হবে। একাধিক বিষয়ের উত্তরপত্র পুনঃনিরীক্ষণের জন্য কমা দিয়ে সাবজেক্ট কোড এসএমএস করতে হবে।
এসএমএস সেন্ড হয়ে গেলে টেলিটক থেকে পিন নম্বরসহ কত টাকা কেটে নেওয়া হবে, সেটা জানিয়ে একটি ফিরতি টেলিটকের আসবে। পিন নম্বরটি সংগ্রহ করে রাখতে হবে। তারপর এতে সম্মত হলে আবারও মেসেজ অপশনে RSC লিখে স্পেস দিয়ে YES লিখে স্পেস দিয়ে ‘পিন নম্বর’ লিখে স্পেস দিয়ে নিজস্ব মোবাইল নম্বর (যেকোনো অপারেটর) লিখে ১৬২২২ নম্বরে সেন্ড করতে হবে।
বোর্ডের বিজ্ঞপ্তি তথ্যানুযায়ী- প্রতিটি পত্রের ফল পুনঃনিরীক্ষার ফি ১৫০ টাকা। সেই হিসেবে এইচএসসির প্রতি বিষয়ের (১ম এবং ২য় পত্র) পুনঃনিরীক্ষণের আবেদনের জন্য ফি ৩০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। কারণ ২ পত্রের বিষয়ের ক্ষেত্রে দুটির জন্যই একসঙ্গে আবেদন করতে হবে।
মন্তব্য করুন


নতুন শিক্ষাক্রমে ষষ্ঠ ও সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের মূল্যায়নের তথ্য সংরক্ষণ ও রিপোর্ট কার্ড তৈরির অ্যাপ ‘নৈপুন্য’ আগামী শনিবার (৪ নভেম্বর) উন্মুক্ত করা হবে।আর এ অ্যাপটি রেজিস্ট্রেশন করতে সব স্কুলকে নির্দেশ দিয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর।একইসঙ্গে ষষ্ঠ ও সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের মূল্যায়নের তথ্য সংগ্রহের অ্যাপটি ব্যবহারের গাইডলাইন প্রকাশ করা হয়েছে। আদেশ ও গাইডলাইনটি মাঠ পর্যায়ের শিক্ষা কর্মকর্তা ও সরকারি-বেসরকারি স্কুলের প্রধান শিক্ষকদের কাছে পাঠানো হয়েছে।
বৃহস্পতিবার মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর থেকে এ নির্দেশনা দিয়ে আদেশ জারি করা হয়েছে।
আগামী শনিবার থেকে ৮ নভেম্বর পর্যন্ত এ অ্যাপে রেজিস্ট্রেশন করতে পারবেন প্রধান শিক্ষকরা।
অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক এস এম জিয়াউল হায়দার হেনরী স্বাক্ষরিত আদেশে বলা হয়েছে, জাতীয় শিক্ষাক্রম অনুযায়ী ২০২৩ শিক্ষাবর্ষ থেকে ষষ্ঠ ও সপ্তম শ্রেণিতে চালুকৃত মূল্যায়ন পদ্ধতিতে শিখনকালীন ও সামষ্টিক মূল্যায়নের তথ্য সংরক্ষণ ও স্বয়ংক্রিয়ভাবে রিপোর্ট কার্ড প্রস্তুতের সুবিধার্থে এটুআইয়ের কারিগরি সহায়তায় জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) ‘নৈপুণ্য’ নামে একটি অ্যাপ উন্নয়ন করা হয়েছে। অ্যাপটি আগামী ৪ নভেম্বর সকাল ১০ টা থেকে উন্মুক্ত করা হবে।
'নৈপুণ্য' অ্যাপটির ওয়েব ভার্সন ব্যবহার সংক্রান্ত একটি গাইডলাইন বা নির্দেশনা তৈরি করা হয়েছে। সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে আগামী ৪ থেকে ৮ নভেম্বরের মধ্যে ‘নৈপুণ্য’ অ্যাপে রেজিস্ট্রেশন করতে হবে। নির্ধারিত সময়ে অ্যাপটিতে রেজিস্ট্রেশন করতে প্রতিষ্ঠান প্রধানদের নির্দেশ দিয়েছে অধিদপ্তর।
মন্তব্য করুন


আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে অংশ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন জনপ্রিয় কন্টেন্ট ক্রিয়েটর আশরাফুল আলম, যিনি হিরো আলম নামে বেশি পরিচিত। নির্বাচন করার ঘোষণা দেওয়ার পর থেকেই তিনি হত্যার হুমকি পাচ্ছেন বলে দাবি করেছেন।
হিরো আলম জানান, গণমাধ্যমে তার প্রার্থিতার বিষয়টি প্রকাশের পর বিভিন্ন মাধ্যমে তাকে ভয়ভীতি প্রদর্শন ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এতে তিনি ও তার পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে জানান তিনি।
বর্তমান পরিস্থিতিতে নিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে শিগগিরই প্রধান উপদেষ্টার কাছে আবেদন করার কথা জানিয়েছেন হিরো আলম। আবেদনে তার জন্য একজন ব্যক্তিগত গানম্যান বরাদ্দ দেওয়ার অনুরোধ জানানো হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে বিষয়টি সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের নজরে এনে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান তিনি।
হিরো আলম আরও জানান, গণঅধিকার পরিষদ, আমজনতার দল, বাংলাদেশ লেবার পার্টি ও বাংলাদেশ শ্রমজীবী পার্টিসহ চারটি রাজনৈতিক দল তার সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। তবে তিনি এখনো কোনো দল থেকে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেননি।
তিনি বলেন, দলীয় পরিচয় যাই হোক না কেন, তার মূল লক্ষ্য জনগণের জন্য কাজ করা এবং সাধারণ মানুষের পাশে থাকা। তিনি ঢাকা ও বগুড়া—এই দুটি আসন থেকে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলেও জানান।
রাজনৈতিক অঙ্গনে হিরো আলমের ক্রমবর্ধমান সক্রিয়তা ও নির্বাচনী প্রস্তুতি ইতোমধ্যে আলোচনার সৃষ্টি করেছে। দলীয় প্রতীকে নির্বাচনে অংশ নিলে তার রাজনৈতিক যাত্রায় এটি একটি নতুন অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
মন্তব্য করুন


মাথায়
টুপি, গলায় মেডেল পরে আনুষ্ঠানিকভাবে জাপানের একটি রেলস্টেশনের স্টেশনমাস্টারের দায়িত্ব
গ্রহণ করেছে ইয়োনতামা। প্রতিটি রেলস্টেশনেই একজন স্টেশনমাস্টার থাকেন, যিনি ওই স্টেশনের
তত্ত্বাবধান করেন। ইয়োনতামার স্টেশনমাস্টার হওয়ার খবর তবে কেন বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে,
এটাই ভাবছেন তো! এর কারণ আছে এবং কারণটি হলো, ইয়োনতামা কোনো মানুষ নয়, একটি বিড়াল।
গত
বুধবার বিড়ালটিকে জাপানের পশ্চিমাঞ্চলের কিশি স্টেশনের স্টেশনমাস্টার করা হয়। ইয়োনতামার
নিয়োগ অনুষ্ঠানে বহু ভক্ত, আলোকচিত্রী ও স্থানীয় কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। ওয়াকায়ামা
ইলেকট্রিক রেলওয়ের প্রেসিডেন্ট মিতসুনোবু কোজিমা অনুষ্ঠানে ইয়োনতামার গলায় মেডেল পরিয়ে
দেন।
ইয়োনতামার
এই দায়িত্ব মজার এবং আনুষ্ঠানিক হলেও জাপানে গ্রামীণ একটি রেলস্টেশনকে বাঁচিয়ে রাখতে
গুরুত্বপূর্ণও বটে।
ইয়োনতামা
কিশিগাওয়া লাইনের তৃতীয় বিড়াল স্টেশনমাস্টার। এটির আগে ছিল নিতামা। নিতামা প্রায় ১০
বছর দায়িত্ব পালন করেছে। গত বছরের নভেম্বরে নিতামা মারা গেলে ইয়োনতামাকে স্টেশনমাস্টার
হিসেবে মনোনীত করা হয়।
বুধবারের
ওই অনুষ্ঠানে রোকুতামা নামে একটি বিড়ালকেও সবার সামনে আনা হয়। সেটিকে শিক্ষানবিশ না
বলে স্টেশনমাস্টার পদপ্রার্থী বলে উল্লেখ করা হয়। এ কথায় উপস্থিত লোকজন হাততালি দিয়ে
ওঠেন।
মন্তব্য করুন


আজ মঙ্গলবার (১৯ নভেম্বর) সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, ওএসপি, এসজিপি, পিএসসি ৭ পদাতিক ডিভিশন ও বরিশাল এরিয়া পরিদর্শন করেন। পরিদর্শনকালে সেনাবাহিনী প্রধান ৭ পদাতিক ডিভিশন ও বরিশাল এরিয়ায় কর্মরত সকল পদবির সেনাসদস্যদের উদ্দেশ্যে 'দরবার' এবং সেনা কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে 'অফিসার্স অ্যাড্রেস' গ্রহণ করেন। এসময় তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নয়নে অর্পিত দায়িত্ব আন্তরিকতার সাথে পালন করায় অবস্থার উন্নতি হচ্ছে। তিনি সকল সেনাসদস্যকে দেশের সার্বিক অবস্থা বিবেচনায় ধৈর্য্য ও পেশাদারিত্বের সাথে অসামরিক প্রশাসন এবং দেশের জনসাধারণকে সর্বাত্মক সহযোগিতা অব্যাহত রাখার নির্দেশ প্রদান করেন। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন, জনগণের আস্থার প্রতীক হিসেবে রাষ্ট্র প্রদত্ত ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা বিচক্ষণতার সাথে প্রয়োগ করে দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রতিটি সেনা সদস্য অত্যন্ত নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করবেন। একই সাথে তিনি আধুনিক ও যুগোপযোগী প্রশিক্ষণের মাধ্যমে একবিংশ শতাব্দীর কঠিন চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় সকলকে প্রস্তুত থাকতে বলেন। এছাড়াও, নবনির্মিত সেনানিবাসের অবকাঠামোগত উন্নয়নের লক্ষ্যে সেনাপ্রধান ৭ পদাতিক ডিভিশনে চলমান বিভিন্ন প্রকল্প পরিদর্শন ও অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করেন ।
পরিদর্শনকালে সেনাসদর ও বরিশাল এরিয়ার ঊর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তাগণ ছাড়াও জুনিয়র কমিশন্ড অফিসার, অন্যান্য পদবির সৈনিকবৃন্দ, অসামরিক কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
মন্তব্য করুন


প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিষ্ঠা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে ‘ঐতিহাসিক দায়িত্ব’ পালনে পুলিশ কর্মকর্তাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
আসন্ন নির্বাচনকে দেশের জন্য ‘শত বছরের ভিত্তি নির্মাণের’ সুযোগ উল্লেখ করে তিনি এ দায়িত্বকে ‘ঐতিহাসিক’ বলে বর্ণনা করেন।
তিনি বলেন, ‘ভূমিকম্প হলে আমরা বিল্ডিং কোড মানা হয়েছে কি না তার কথা বলি। এই নির্বাচন আমাদের সমাজের জন্য সেই বিল্ডিং কোড তৈরি করার সুযোগ। এমন একটি কোড তৈরি করতে হবে, যা যত বড় ঝাঁকুনিই আসুক, নড়বে না।’
পুলিশ কর্মকর্তাদের উদ্দেশে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘আপনাদের ওপর যে ঐতিহাসিক দায়িত্ব অর্পিত হয়েছে, তার জন্য আল্লাহর কাছে কৃতজ্ঞ হোন। জীবনের শেষে যখন আমরা ভাবব, কী করেছি—তখন এটিই প্রথমে আসা উচিত যে, আমরা এই বিল্ডিং কোড তৈরিতে অংশ নিতে পেরেছি।’
আজ সকালে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে দেশের ৬৪ জেলার পুলিশ সুপার (এসপি) এবং পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান উপদেষ্টা এ কথা বলেন।
প্রফেসর ইউনূস বলেন, ‘আসন্ন নির্বাচন শুধু পাঁচ বছরের একটি প্রচলিত নির্বাচন নয়, জাতীয় নির্বাচনের পাশাপাশি এবার একটি গণভোটও অনুষ্ঠিত হবে।’
তিনি বলেন, ‘গণভোট আরও বড় বিষয়—এটা সেই ‘বিল্ডিং কোড’। আমরা যে বিল্ডিং কোড স্থাপন করব, সেটাই আগামী একশ বছর জাতিকে পথ দেখাবে।’
তিনি বলেন, নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এসপিদের পদায়নে দৈবচয়ন পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়েছে। দেশের বৃহত্তর স্বার্থে এটি সহজভাবে নেওয়ারও আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব:) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব নাসিমুল গনি বক্তব্য রাখেন।
প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মো. খোদা বখস চৌধুরী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন পুলিশের আইজিপি বাহারুল আলম।
আসন্ন নির্বাচনের মধ্য দিয়ে ‘একটি নতুন বাংলাদেশ’ জন্ম নেবে উল্লেখ করে প্রফেসর ইউনূস বলেছেন, ‘আমাদের কাজ হবে ধাত্রীদের মতো—একটি নতুন জাতির জন্ম দিতে সহায়তা করা।’
তিনি বলেন, এই নির্বাচন বিশ্বে একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে। ‘পর্যবেক্ষকরা বাইরে থেকে এসে আমাদের মধ্যে ত্রুটি খুঁজতে চাইবে... কিন্তু আমরা এমন একটি (স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ, শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর) নির্বাচন উপহার দেব, যা তারা উদাহরণ হিসেবে বহন করে বহু দেশে আলোচনা করবে।’
এই নির্বাচন তাদের জন্য একটি স্মরণীয় পরিদর্শন ও অভিজ্ঞতা হয়ে থাকবে,’ যোগ করেন তিনি।
তিনি বলেন, ‘এটি গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী নির্বাচন। জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থানে যারা অংশ নিয়েছিল এবং আমরা যারা সেই আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত—এই নির্বাচন তাদের আদর্শ ও স্বপ্ন পূরণের মাধ্যম।’
‘যে স্বপ্নের জন্য তারা জীবন দিয়েছে, সে স্বপ্ন আমরা এই নির্বাচনের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করব,’ বলেন প্রধান উপদেষ্টা।
ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের আগ পর্যন্ত প্রতিদিন দায়িত্ব পালন করার আহ্বান জানিয়ে প্রফেসর ইউনূস বলেন, ‘একটি সুন্দর, স্বচ্ছ ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করতে প্রতিদিন ভাবতে হবে—আজ আমার করণীয় কী—এবং সেটি সম্পন্ন করতে হবে।’
সেবার মান বাড়াতে ও কর্মসম্পাদনে সৃজনশীলতা দেখাতে পুলিশ কর্মকর্তাদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সেরা কর্মসম্পাদনকারী কর্মকর্তাকে বিশেষ পুরস্কার দেওয়া হবে।
২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ হওয়া দশম শ্রেণির ছাত্র শাহরিয়ার খান আনাস (১৭)-কে স্মরণ করতে গিয়ে প্রধান উপদেষ্টা আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। আনাস মিছিলে যোগ দেওয়ার আগে তার মায়ের কাছে যে চিঠি লিখেছিল, তার একটি অংশ উদ্ধৃত করার সময় প্রফেসর ইউনূসের চোখ বেয়ে অশ্রু গড়িয়ে পড়ে।
তিনি আনাসের চিঠি উদ্ধৃত করে বলেন, ‘আমি স্বার্থপরের মতো বসে থাকতে পারি না। আমি যদি ফিরতে না পারি, তাহলে আমাকে ক্ষমা করে দিও।’
কিছুক্ষণ নীরব থাকার পর তিনি বলেন, ‘তার (আনাসের) কথাই আমাদের দায়িত্ব নির্ধারণ করে। আমরা নিষ্ক্রিয় থাকতে পারি না।’
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘আনাস যেভাবে বলেছিল কাপুরুষের মতো বসে থাকতে চায় না—আমরাও বসে থাকতে চাই না। তার স্বপ্ন আমরা বাস্তবায়ন করতে চাই। সেটিই আমাদের দায়িত্ব।’
তিনি পুলিশ কর্মকর্তাদের আগামী তিন মাস নিরলসভাবে কাজ করে আনাসের স্বপ্ন বাস্তবায়নের আহ্বান জানান।
তিনি কর্মকর্তাদের প্রতি আহ্বান জানান, মিছিলে যোগ দেওয়ার আগে আনাস তার মায়ের কাছে যে চিঠি লিখেছিল, সেটি সঙ্গে রাখার জন্য।
সভায় চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ কমিশনার হাসিব আজিজ, হবিগঞ্জের পুলিশ সুপার ইয়াসমিন খাতুন এবং জামালপুরের পুলিশ সুপার ড. চৌধুরী মোহাম্মদ জাবের সাদেক বক্তব্য দেন।
এ সময়ে অন্তর্বর্তী সরকারের বিভিন্ন উপদেষ্টাও সভায় উপস্থিত ছিলেন।
মন্তব্য করুন


গায়ের
রং ‘অতি ফর্সা’ হওয়ায় যে বাবাও স্বীকার করে নেয়নি নিজের সন্তান ছোট্ট
আফিয়াকে। সেই আফিয়ার জীবন যেন বদলে গেল। অ্যালবেনিজম রোগে আক্রান্ত অতি ফর্সা রঙের
কারণে অধিকার বঞ্চিত যশোরের সেই শিশু আফিয়াকে প্রতিশ্রুত নতুন ঘর উপহার দিয়েছেন বিএনপির
চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
সোমবার
(১৯ জানুয়ারি) ছোট্ট আফিয়া ও তার মায়ের জন্য নতুন ঘর হস্তান্তর অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি
যুক্ত ছিলেন তারেক রহমান।
এসময়
তিনি বলেন, দেশ গড়তে সংস্কারের পাশাপাশি মানুষের জন্য কাজ করতে চায় বিএনপি। রাজনীতিকে
শুধু স্লোগান, মিছিল মিটিং আর দোষারোপের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতে চায় না। এজন্য আগামীর
রাজনীতি হবে মানুষের কল্যাণে।
অনুষ্ঠানে
তারেক রহমান আরো বলেন, ফ্যামিলি, কৃষক কার্ডের মাধ্যমে গ্রামীন মানুষকে শক্তিশালী করা
হবে। আগামীতে ফের খাল কাটা কর্মসূচি চালু হবে, পানির কষ্ট দূর করা হবে।
তিনি
বলেন, গ্রামীণ পর্যায়ে স্বাস্থ্য সুবিধা নিশ্চিত করতে কাজ করবে বিএনপি। মানষ যাতে
ঘরে বসে মৌলিক চিকিৎসা সেবা নিতে পারে সেজন্য তৃণমূলে এক লাখ স্বাস্থ্য কর্মী নিয়োগ
করা হবে।
তারেক
রহমান বলেন, বিএনপি জনগনের রায় নিয়ে সরকার গঠন করতে পারলে, দেশকে এগিয়ে নিতে শিক্ষিত
নারী সমাজকে অর্থনৈতিকভাবে সাবলম্বী হিসেবে গড়ে তুলতে কাজ করবে। পাশাপাশি একেবারে
অবহেলিত মসজিদের ইমাম খতিব সহ ধর্মীয় গুরুদের সম্মানী ভাতার আওতায় আনা হবে।
যশোর
সদর উপজেলার রামনগর ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক ডা. আব্দুল আজিজের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে
বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক নার্গিস বেগম, খুলনা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অনিন্দ্য
ইসলাম অমিত, জেলা বিএনপি সভাপতি অ্যাডভোকেট সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু, সাধারণ সম্পাদক
দেলোয়ার হোসেন খোকনসহ বিএনপি নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে
নতুন ঘর পেয়ে আবেগ আপ্লুত হয়ে পড়েন শিশু আফিয়ার মা মনিরা খাতুন। তিনি বিএনপির চেয়ারপার্সনসহ
সকলকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। একইভাবে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও তৃণমূল
বিএনপি নেতৃবৃন্দ।
মন্তব্য করুন


ঢাকার
দক্ষিণ বনশ্রীতে স্কুলপড়ুয়া কিশোরীর গলাকাটা লাশ উদ্ধারের ঘটনায় সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তারের
পর র্যাব বলছে, ‘অনৈতিক প্রস্তাবে’ রাজি না হওয়ায় ওই ছাত্রীকে হত্যা করা
হয়েছে।
সন্দেহভাজন
২৮ বছর বয়সি মিলন মল্লিক নিহতের বাবার খাবার হোটেলের কর্মী ছিলেন। ঘটনার পর থেকে পলাতক
থাকা মিলনকে রোববার রাতে বাগেরহাট সদর থানার বড় সিংগা এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে র্যাব।
এ বিষয়ে জানাতে সোমবার বিকেলে কারওয়ান বাজার র্যাব মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলন
আয়োজন করা হয়।
সেখানে
র্যাব-৩ এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল ফায়েজুল আরেফীন বলেন, হোটেল কর্মচারী হিসেবে
বিভিন্ন সময়ে হোটেলের কাজে ভিকটিমের বাসায় আসা যাওয়া ছিল মিলনের। বেশ কিছুদিন ধরে মিলন
ওই কিশোরীকে ‘অনৈতিক প্রস্তাব’ দিয়ে আসছিল। তিনি বলেন, ঘটনার আগের
রাতে আবারো অনৈতিক প্রস্তাব দিলে মিলনকে গালাগালি করে ওই কিশোরী। এর জেরে পরদিন মিলন
ওই কিশোরীকে বটি দিয়ে গলা কেটে হত্যা করে পালিয়ে যায়।
শনিবার
বিকালে দক্ষিণ বনশ্রীর এল ব্লকের ‘প্রীতম ভিলা’ থেকে ওই ছাত্রীর লাশ উদ্ধার করা হয়।
১৭ ব্ছরের এ কিশোরী রেডিয়েন্ট স্কুল অ্যান্ড কলেজের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।
ঘটনার
সময় তার বাবা-মা ও ভাই গ্রামের বাড়ি হবিগঞ্জে ছিলেন। বড় বোন শোভা আক্তার দুপুরে ব্যায়াম
করতে করতে জিমে গিয়েছিলেন। বড় বোন শোভা ফিরে এসে বোনের গলাকাটা মরদেহ দেখে পুলিশে খবর
দেন। এ ঘটনায় শনিবার রাতেই খিলগাঁও থানায় হত্যা মামলা করেন নিহতের বাবা মো. সজিব। অজ্ঞাতনামা
এক বা একাধিক ব্যক্তির জড়িত থাকার কথা বলা হলেও মামলায় সন্দেহভাজন কারো নাম নেই।
বাসার
সামনে শাহজালাল হোটেল নামে একটি খাবারের হোটেল আছে সজিবের। তিনি তার ছেলে শাকিল ও কর্মচারী
দিয়ে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছিলেন। দুই মেয়েকে বাসায় রেখে স্ত্রী-ছেলেকে নিয়ে গত ৭
জানুয়ারি জমি সংক্রান্ত কাজের জন্য হবিগঞ্জে গিয়েছিলেন সজিব। হোটেল মালিক গ্রামের বাড়ি
গেলে হোটেলের ৩ কর্মচারীও ছুটিতে যান, কেবল মিলন থেকে যান। সেজন্য মিলন সজিবের বাসা
থেকে খাবার আনতেন।
র্যাব
কর্মকর্তা ফায়েজুল আরেফীন বলেন, “মিলন ঘটনার দিন ১টা ৩৬ মিনিটে ওই বাসায় প্রবেশ করে
এবং খাবার নিয়ে ১টা ৪১ মিনিটে ভিকটিমের বোন শোভার সাথে বেরিয়ে যায়।“শোভা
জিমে থাকাকালীন সময়ে মিলন আবারো ২টা ২৫ মিনিটে ভিকটিমের বাসায় যায় এবং পৌনে ৩টায় বেরিয়ে
যায়।”
প্রাথমিক
জিজ্ঞাসাবাদে মিলন হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করেছে জানিয়ে তিনি বলেন, “আগের রাতে ভিকটিমের
গালিগালাজে ক্ষিপ্ত হয়ে পরদিন প্রতিশোধ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় মিলন। ঘটনার দিন সে নাইলনের
দড়িসহ ভিকটিমের বাসায় যায় এবং ভিকটিমকে পুনরায় অনৈতিক প্রস্তাব দেয়।“প্রস্তাবে
রাজি না হওয়ায় ভিকটিমের গলায় রশি দিয়ে পেচিয়ে ধরলে সে মাটিতে পরে যায়। ভিকটিম চিৎকার
করলে আশপাশের লোকজন জড়ো হওয়ার আশঙ্কায় মিলন রান্না ঘরের বটি দিয়ে তাকে গলাকেটে হত্যা
করে।”
হত্যার
পর মিলন বাসার আসবাবপত্র তল্লাশি করে কিছু নগদ অর্থ নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার কথা স্বীকার
করেছে বলেও জানান র্যাব কর্মকর্তা ফায়েজুল আরেফীন। মিলনের কাছ থেকে হত্যাকাণ্ডের সময়
পরিহিত কালো প্যান্ট ও নীল গেঞ্জি উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত বটি
ও নাইলনের দড়ি উদ্ধার করে পুলিশ।
র্যাব-৩
অধিনায়ক ফায়েজুল আরেফীন বলেন, “হত্যাকাণ্ডের পিছনে অন্য কোনো উদ্দেশ্য আছে কি না, তা
তদন্তকারী কর্মকর্তার তদন্তে বেরিয়ে আসবে।”
মন্তব্য করুন


রাজধানীর শেরেবাংলা নগর এলাকার সোহরাওয়ার্দী
মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে হামলার ঘটনা ঘটেছে। এক রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে একাধিক চিকিৎসকের
ওপর হামলা করে দুষ্কৃতকারীরা। এ সময় হামলাকারীদের সেনাবাহিনীর হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে।
রোববার (১ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টার
দিকে এমন দুর্ঘটনা ঘটেছে। সোহরাওয়ার্দী মেডিকেলের একাধিক চিকিৎসক ও ইন্টার্ন চিকিৎসক
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
প্রত্যক্ষদর্শী ইন্টার্ন চিকিৎসকরা
জানান, মাল্টি অর্গাম ফেইলিউর একজন রোগী আইসিইউতে ভর্তি ছিল। তার অ্যাজমার সমস্যা ছিল।
সেখানে তাকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। যা ক্লিনিক্যালি আমাদের চিকিৎসকরা প্রুভ
করেছেন। মারা যাওয়ার পর কয়েকজন ব্যক্তি চিকিৎসকদের ওপর হামলা করে। আমাদের মনে হয় উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে
কোনো একটি গোষ্ঠী এ ধরনের হামলা চালাচ্ছে।
জানা যায়, পরে পুলিশ এবং চিকিৎসকদের
উপস্থিতিতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। হামলাকারীদের সেনাবাহিনীর হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে।
মন্তব্য করুন


আজ বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ৬০তম জন্মদিন। তিনি ১৯৬৫ সালের এই দিনে জন্মগ্রহণ করেন।
তারেক রহমানের জন্মদিন উপলক্ষ্যে দেশব্যাপী দলের নেতাকর্মীরা জাঁকালো অনুষ্ঠান উদযাপনের পরিকল্পনা করলেও এবার দলের পক্ষ থেকে তা না করার জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
১১ নভেম্বর এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দিয়ে দলের পক্ষ থেকে নেতাকর্মীদের জন্মদিন উদযাপন না করার জন্য বলা হয়েছে। দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর সই করা ওই বিবৃতিতে সংগঠনের সব ইউনিটের নেতাকর্মীদের জানানো হয়, তারেক রহমানের জন্মদিন নিয়ে কোনো অনুষ্ঠান হবে না। এর ব্যত্যয় হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও সতর্ক করা হয়।
সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার বড় ছেলে তারেক রহমান।
মন্তব্য করুন


রাজশাহীতে
ট্রায়াল দেওয়ার নামে গ্যারেজ থেকে গাড়ি নিয়ে যুবদলের এক নেতা লাপাত্তা হয়ে গেছেন বলে
অভিযোগ উঠেছে। এ অভিযোগ তুলে রোববার দুপুর ১২টায় গ্যারেজ মালিক নূর আহমেদ রাজশাহী নগরের
একটি রেস্তোরাঁয় সংবাদ সম্মেলন করেছেন। এরপর বিকেলে যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটি এক সংবাদ
বিজ্ঞপ্তিতে এই নেতাকে বহিষ্কারের কথা জানিয়েছে।
অভিযুক্ত
নেতার নাম এসএম সফিক মাহমুদ তন্ময়। তিনি রাজশাহী মহানগর যুবদলের আহবায়ক কমিটির সদস্য
ছিলেন। এছাড়া দপ্তর সম্পাদকের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতাও ছিলেন। যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটির
সহদপ্তর সম্পাদক মিনহাজুল ইসলাম ভুইয়া স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দলীয় শৃঙ্খলা
পরিপন্থী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার সুস্পষ্ট অভিযোগে তন্ময়কে প্রাথমিক সদস্য পদসহ সকল
পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। যুবদলের সভাপতি আবদুল মোনায়েম মুন্না ও সাধারণ সম্পাদক
মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম নয়ন এ সিদ্ধান্ত কার্যকর করেছেন। এতে আরও বলা হয়, বহিষ্কৃত নেতার
কোন অপকর্মের দায়-দায়িত্ব দল নেবে না। তার সঙ্গে সাংগঠনিক সম্পর্ক না রাখার জন্য যুবদলের
সকল পর্যায়ের নেতাকর্মীকে নির্দেশনাও দেওয়া হয় এতে।
এর
আগে সংবাদ সম্মেলনে গ্যারেজ মালিক নূর আহমেদের ভাই মোহাম্মদ আলী অভিযোগ করেন, নগরের
বন্ধগেট এলাকায় তার ভাই নূর আহমদের একটি গাড়ির গ্যারেজ রয়েছে। সেখানে তিনি গাড়ি মেরামতের
কাজ করেন। পাশাপাশি পুরনো গাড়ি কেনাবেচার ব্যবসা করেন। গত ১৮ নভেম্বর বিকেলে গ্যারেজে
গাড়ি কেনার জন্য যান যুবদল নেতা তন্ময়। এ সময় তিনি গ্যারেজে থাকা একটি জিপ (ঢাকা মেট্রো
গ-০২-০৮৭০) পছন্দ করেন। ছয় লাখ টাকা দাম হয়। এরপর তন্ময় গাড়িটি ট্রায়াল দেওয়ার কথা
বলে নিয়ে যান। তারপর আর তিনি ফেরেননি। কয়েকদিন পর ফোন ধরলেও গাড়ি দিতে চাননি। মোহাম্মদ
আলী অভিযোগ করেন, তন্ময় বলেছিলেন যে তিনি যুবদল নেতা। তার কিছু করা যাবে না।
গ্যারেজ
মালিক নূর আহমেদ বলেন, ‘আমি গত ১৪ ডিসেম্বর মহানগরীর রাজপাড়া থানায় মামলা করতে যাই।
কিন্তু ওসি মামলা নেননি। আসামি প্রভাবশালী হবার কারণে আমাকে তিনি আদালতে মামলা করার
পরামর্শ দেন। পরে গত ২২ ডিসেম্বর আদালতে মামলা করি। বিষয়টি মহানগর বিএনপি এবং যুবদলের
শীর্ষ নেতাদের অবহিত করা হয়েছে। কিন্তু তারা কোনো ব্যবস্থা নেননি।’
নূর
আহমেদ দাবি করেন, শহরের লক্ষ্মীপুর এলাকার বাসিন্দা মো. মিজানুর রহমানের কাছ থেকে তিনি
গাড়িটি কিনে বিক্রির জন্য গ্যারেজে রেখেছিলেন। এ সংক্রান্ত চুক্তিনামা এবং বিআরটিএ’র
সমস্ত কাগজপত্রসহ প্রয়োজনীয় প্রমাণাদিও তার কাছে আছে। সেই গাড়ি তন্ময় নিয়ে গেছেন। অভিযোগের
বিষয়ে জানতে চাইলে সদ্য বহিষ্কৃত যুবদল নেতা তন্ময় বলেন, ‘গাড়িটা আমার কেনা। গ্যারেজ
থেকে ট্রায়াল দেওয়ার নামে গাড়ি আনার অভিযোগ একেবারেই সত্য নয়।’
গাড়ি কেনার এফিডেফিট আছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এটা এখনও করা হয়নি।’
দল
থেকে বহিষ্কারের বিষয়টি জেনেছেন জানিয়ে তন্ময় বলেন, ‘দল তো আমাকে শোকজও করেনি। হঠাৎ
এটা দেখছি। সমস্যা নাই। আমি সঠিক আছি। সবকিছুই প্রমাণ হয়ে যাবে।’
রাজশাহী
মহানগর যুবদলের ভারপ্রাপ্ত আহবায়ক শরিফুল ইসলাম জনি বলেন, ‘যারা অপকর্মের সঙ্গে যুক্ত
হবে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তন্ময়ের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ
সেটি জেনেছি। ইতোমধ্যে যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটি তাকে বহিষ্কার করেছে।’
মন্তব্য করুন