

ঢাকা
শিক্ষা বোর্ডের এক বিজ্ঞপ্তিতে প্রকাশিত ফল পুনঃনিরীক্ষণের এইচএসসি প্রক্রিয়ার বিস্তারিত
জানানো হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, শুধুমাত্র টেলিটকের প্রিপেইড নম্বর থেকে ফল পুনঃনিরীক্ষণের
আবেদন করা যাবে।
আবেদন করার জন্য প্রথমে মোবাইলের মেসেজ অপশনে গিয়ে RSC লিখে স্পেস দিয়ে বোর্ডের নামের প্রথম তিনটি অক্ষর লিখতে হবে। তারপর স্পেস দিয়ে রোল নম্বর লিখে আবার স্পেস দিয়ে বিষয় কোড লিখে ১৬২২২ নম্বরে এসএমএস করতে হবে। উদাহারণ: RSC COM123456 174 লিখে 16222 নম্বরে পাঠাতে হবে। একাধিক বিষয়ের উত্তরপত্র পুনঃনিরীক্ষণের জন্য কমা দিয়ে সাবজেক্ট কোড এসএমএস করতে হবে।
এসএমএস সেন্ড হয়ে গেলে টেলিটক থেকে পিন নম্বরসহ কত টাকা কেটে নেওয়া হবে, সেটা জানিয়ে একটি ফিরতি টেলিটকের আসবে। পিন নম্বরটি সংগ্রহ করে রাখতে হবে। তারপর এতে সম্মত হলে আবারও মেসেজ অপশনে RSC লিখে স্পেস দিয়ে YES লিখে স্পেস দিয়ে ‘পিন নম্বর’ লিখে স্পেস দিয়ে নিজস্ব মোবাইল নম্বর (যেকোনো অপারেটর) লিখে ১৬২২২ নম্বরে সেন্ড করতে হবে।
বোর্ডের বিজ্ঞপ্তি তথ্যানুযায়ী- প্রতিটি পত্রের ফল পুনঃনিরীক্ষার ফি ১৫০ টাকা। সেই হিসেবে এইচএসসির প্রতি বিষয়ের (১ম এবং ২য় পত্র) পুনঃনিরীক্ষণের আবেদনের জন্য ফি ৩০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। কারণ ২ পত্রের বিষয়ের ক্ষেত্রে দুটির জন্যই একসঙ্গে আবেদন করতে হবে।
মন্তব্য করুন


তীব্র তাপপ্রবাহে শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য
সুরক্ষায় আগামীকাল শনিবার (৪ মে) ঢাকা, রাজশাহী, খুলনাসহ মোট ২৫ জেলায় সব মাধ্যমিক স্কুল, কলেজ, মাদরাসা ও কারিগরি
শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকবে।
শুক্রবার দুপুরে শিক্ষা মন্ত্রণালয়
থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
এতে বলা হয়, দেশে চলমান তাপদাহের কারণে
আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়া পূর্বাভাসের ভিত্তিতে খুলনা ও রাজশাহী বিভাগের সব জেলার,
ঢাকা বিভাগের ঢাকা ও টাঙ্গাইল জেলার, চট্টগ্রাম বিভাগের চাঁদপুর জেলার এবং রংপুর বিভাগের
রংপুর, কুড়িগ্রাম, নীলফামারী ও দিনাজপুর জেলার সকল মাধ্যমিক স্কুল, কলেজ, মাদরাসা ও
কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আগামীকাল শনিবার ৪ মে বন্ধ থাকবে।
মন্তব্য করুন


ভারতে
বাংলাদেশের কূটনৈতিক ও কনস্যুলার কার্যালয়ে সাম্প্রতিক নিরাপত্তা ঘটনার বিষয়ে গভীর
উদ্বেগ জানাতে আজ ভারতীয় হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মাকে তলব করেছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
মন্ত্রণালয়
জানায়, গত ২০ ডিসেম্বর নয়াদিল্লিতে বাংলাদেশ হাইকমিশন ও হাইকমিশনারের বাসভবনের বাইরে
ঘটে যাওয়া অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এবং ২২ ডিসেম্বর শিলিগুড়িতে বাংলাদেশ ভিসা সেন্টারে উগ্রবাদীদের
ভাঙচুরের বিষয়টি আলোচনায় তোলা হয়।
এক
বিবৃতিতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, ‘ভারতে বাংলাদেশের বিভিন্ন কূটনৈতিক মিশনের সামনে
সহিংস বিক্ষোভের ঘটনায় বাংলাদেশ গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।’
বিবৃতিতে
আরও বলা হয়, দূতাবাসে পূর্বপরিকল্পিত সহিংসতা ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের মতো কর্মকাণ্ড বাংলাদেশ
দৃঢ়ভাবে নিন্দা জানায়। এসব ঘটনা কেবল কূটনৈতিক কর্মকর্তাদের নিরাপত্তাকে বিঘ্নিত করে
না, বরং পারস্পরিক শ্রদ্ধা, শান্তি ও সহনশীলতার নীতিকেও ক্ষুণ্ন করে।
বাংলাদেশ
সরকার ভারতকে এসব ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করার আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এ ধরনের
ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ভারতে বাংলাদেশের কূটনৈতিক মিশন
ও সংশ্লিষ্ট স্থাপনার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে।
বাংলাদেশ
আশা প্রকাশ করেছে, ভারত সরকার আন্তর্জাতিক ও কূটনৈতিক বাধ্যবাধকতা অনুযায়ী অবিলম্বে
যথাযথ পদক্ষেপ নেবে। এতে কূটনৈতিক কর্মকর্তা ও স্থাপনার মর্যাদা ও নিরাপত্তা সুরক্ষিত
হবে।
মন্তব্য করুন


নরসিংদীতে একটি ওয়ার্কশপের ভিতরে ঘুমন্ত অবস্থায় এক যুবককে পুড়িয়ে হত্যা করার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, কয়েকজন ব্যক্তি দোকানের শাটারে আগুন ধরিয়েছে।
শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) গভীর রাতে জেলা শহরের পুলিশ লাইন এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।
নিহত যুবকের নাম চঞ্চল চন্দ্র ভৌমিক (২৩)। তিনি কুমিল্লার বরুড়া উপজেলার লক্ষ্মীপুর গ্রামের খোকন চন্দ্র ভৌমিকের ছেলে। চঞ্চল স্থানীয় পুলিশ লাইন এলাকায় খাঁবাড়ী মসজিদ মার্কেটের একটি গাড়ি ওয়ার্কশপে কাজ করতেন।
স্থানীয়রা জানান, রাতের খাবারের পর মেসে খেয়ে দোকানের ভিতরে ঘুমিয়ে পড়েন চঞ্চল। গভীর রাতে দুর্বৃত্তরা দোকানের শাটারের নিচে আগুন ধরিয়ে দেয়। ওয়ার্কশপে পেট্রোল ও মবিল থাকার কারণে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং চঞ্চল পুড়ে অঙ্গার হয়ে মারা যান।
দোকানের মালিক মো. রুবেল মিয়ার সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
নরসিংদী সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার ডা. গুলশানা কবির জানান, একজনকে অঙ্গার অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়েছিল। ময়নাতদন্তের পর মরদেহ পরিবারকে হস্তান্তর করা হয়েছে।
নরসিংদী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ এআরএম আল মামুন বলেন, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে এবং পুলিশের একাধিক টিম তদন্তে কাজ করছে, যাতে দোষীদের শনাক্ত করা যায়।
মন্তব্য করুন


বগুড়া–নওগাঁ মহাসড়কে ঘন কুয়াশার কারণে সড়ক দুর্ঘটনায় দুইজন নিহত এবং একজন আহত হয়েছেন। শনিবার (৩ জানুয়ারি) সকাল আনুমানিক সোয়া আটটার দিকে আদমদীঘি উপজেলার পূর্ব ঢাকা রোডের বড় আখিড়া মোড় এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।নিহতরা হলেন বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার আরজিপাড়া আচলাই গ্রামের বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম (৪২) ও তার ভাতিজা রাসেল মোল্লা (৩৫)। তারা দুজনই একই গ্রামের বাসিন্দা। দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন ফজলুল প্রামাণিকের ছেলে মিজু আহমেদ (২৪)।পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, সকালে শিবগঞ্জ এলাকা থেকে সিএনজিচালিত একটি অটোরিকশায় তিনজন যাত্রী নওগাঁর মান্দা উপজেলার দেলুয়াবাড়ি হাটে কচু বীজ কেনার উদ্দেশ্যে রওনা হন। পথে কুয়াশার কারণে দৃষ্টিসীমা অত্যন্ত কম ছিল। অটোরিকশাটি বড় আখিড়া মোড়ে পৌঁছালে পেছন দিক থেকে দ্রুতগতিতে আসা নওগাঁগামী একটি বাস অটোরিকশাটিকে ধাক্কা দেয়। সংঘর্ষের ফলে অটোরিকশাটি উল্টে গিয়ে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।ঘটনাস্থলেই রফিকুল ইসলাম ও রাসেল মোল্লার মৃত্যু হয়। খবর পেয়ে স্থানীয়রা ও আদমদীঘি ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা আহত মিজু আহমেদকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠান। দুর্ঘটনার পর অটোরিকশাচালক পালিয়ে যান।আদমদীঘি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আতাউর রহমান জানান, নিহতদের পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা না করায় মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যু (ইউডি) মামলা দায়ের করা হয়েছে।
মন্তব্য করুন


প্রধান
উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন প্রধান নির্বাচন
কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দীন।
আজ
বৃহস্পতিবার (২৬ জুন) বিকেলে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে তিনি
সাক্ষাৎ করেন।
প্রধান
উপদেষ্টার প্রেস উইং এ কথা জানিয়েছে।
মন্তব্য করুন


বাড়িতে বৃদ্ধ মা থাকা সত্ত্বেও নতুন বউ রান্না করতে অস্বীকৃতি জানান—এই সমস্যা সমাধানের অজুহাতে তিন বছরে একে একে তিনটি বিয়ে করেন এক যুবক। তবে শেষ পর্যন্ত রান্নার সমাধান নয়, আইনি জটিলতায় কারাগারে যেতে হয়েছে তাকে।
চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটেছে ভারতের বিহার রাজ্যের গোপালগঞ্জ জেলায়। অভিযুক্ত যুবকের নাম পিন্টু বার্নওয়াল।
পুলিশ জানায়, পিন্টুর প্রথম ও দ্বিতীয় স্ত্রী তার বিরুদ্ধে যৌতুক দাবি, শারীরিক নির্যাতন এবং বৈধ বিচ্ছেদ ছাড়াই একাধিক বিয়ের অভিযোগে মামলা করেছেন।
তদন্তে জানা গেছে, ২০২২ সালে খুশবু কুমারীর সঙ্গে বিয়ের পর থেকেই দাম্পত্য কলহ শুরু হয়। খুশবুর অভিযোগ, তিন লাখ টাকা ও বিপুল পরিমাণ স্বর্ণালঙ্কার দেওয়ার পরও পিন্টু তাকে নির্যাতন করে বাড়ি থেকে বের করে দেন এবং কোনো তালাক না দিয়েই দ্বিতীয় ও তৃতীয় বিয়ে করেন।
দ্বিতীয় স্ত্রী গুড়িয়া কুমারীর অভিযোগও একই। তিনি জানান, তার কাছ থেকেও পাঁচ লাখ টাকা ও একটি গাড়ি দাবি করা হয়েছিল।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে পিন্টু বার্নওয়ালের দাবি, তার স্ত্রীরা রান্না করতেন না এবং তাকে ও তার বৃদ্ধ মাকে না খাইয়ে রাখতেন। এমনকি তাকে হত্যার চেষ্টাও করা হয়েছিল বলে পাল্টা অভিযোগ করেন তিনি।
বর্তমানে পিন্টুর দ্বিতীয় স্ত্রীর ঘরে ১০ মাস এবং তৃতীয় স্ত্রীর ঘরে এক মাসের সন্তান রয়েছে। পুলিশ জানায়, প্রাথমিক তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় আদালত পিন্টুকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন।
মন্তব্য করুন


তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা মো. নাহিদ
ইসলাম বলেছেন, তরুণ প্রজন্ম মেধাভিত্তিক ও পেশাদার আমলাতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে চায়।
রোববার সাভারে বাংলাদেশ লোক-প্রশাসন
প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে বিসিএস ক্যাডার কর্মকর্তাদের ৭৭তম বুনিয়াদি প্রশিক্ষণে এ কথা বলেন
তিনি।
আমলাতন্ত্রের সংস্কারের ওপর গুরুত্বারোপ
করে তিনি বলেন, বাংলাদেশে বিভিন্ন সময় আমলাতন্ত্রকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা
হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে সরকারি কর্মকর্তাদের রাজনৈতিক বিবেচনায় পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে।
যা খুবই দুঃখজনক। এ অবস্থা থেকে বের হয়ে আসার সময় এসেছে। এ জন্য আমলাতন্ত্রের প্রাতিষ্ঠানিকীকরণ
প্রয়োজন।
উপদেষ্টা নাহিদ ইসলাম বলেন, সরকারি
চাকরিতে যোগ্যতা অনুযায়ী পদোন্নতি হওয়া উচিত। এর পাশাপাশি সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের
কর্মমূল্যায়ন পদ্ধতিরও সংস্কারের প্রয়োজন।
রাষ্ট্রীয় সংস্কার প্রসঙ্গে উপদেষ্টা
নাহিদ ইসলাম বলেন, সরকার রাষ্ট্রীয় সংস্কারের ভিত্তি তৈরি করতে চায়। এজন্য বিভিন্ন
সংস্কার কমিশন গঠন করেছে। কমিশনসমূহের প্রতিবেদন অনুযায়ী রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনার
ভিত্তিতে সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, সংস্কার ছাড়া
নির্বাচন হলে রাষ্ট্রের গুণগত পরিবর্তন হবে না।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপট বর্ণনা
করে তিনি বলেন, এই আন্দোলনে শিক্ষার্থীরা নেতৃত্ব দিয়েছেন। শিক্ষার্থীদের ওপর আস্থা
রেখেই জনগণ ফ্যাসিবাদের বিপক্ষে মাঠে নেমেছে। তিনি বৈষম্যহীন নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণে
নবীন কর্মকর্তাদের আন্তরিকভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।
তথ্য উপদেষ্টার সেশন পরিচালনার সময় বাংলাদেশ লোক-প্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের রেক্টর সাঈদ মাহবুব খানসহ লোক-প্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এই সেশনে ৭৭তম বুনিয়াদি প্রশিক্ষণের ২২টি ক্যাডারের ৬০৫ জন কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন।
মন্তব্য করুন


ছাত্র-জনতার আন্দোলন চলাকালে মানবাধিকার লঙ্ঘনের
তদন্তে জাতিসংঘকে আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা
ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
এ বিষয়ে প্রধান উপদেষ্টার কাছ থেকে একটি আনুষ্ঠানিক
আমন্ত্রণপত্র পেয়েছেন জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার ফলকার তার্ক।
সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় স্থানীয় সময় আজ শুক্রবার
(৩০ আগস্ট) এক ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনারের মুখপাত্র
রাভিনা শামদাসানি।
জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনারের এই মুখপাত্র
জানান, নিরপেক্ষ ও স্বাধীন সত্য অনুসন্ধান পরিচালনার জন্য প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ
ইউনুসের কাছ থেকে একটি আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ পেয়েছেন ফলকার তার্ক। গত ১ জুলাই থেকে
১৫ আগস্টের ঘটনাগুলোর তদন্তে জাতিসংঘকে অনুরোধ জানানো হয়েছে।
ন্যায়বিচার, জবাবদিহি ও দীর্ঘমেয়াদি সংস্কারের জন্য আগামী সপ্তাহের কোনো একসময় বাংলাদেশে জাতিসংঘের একটি ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং দল আসার কথা রয়েছে। দলটিকে পূর্ণ সহযোগিতার জন্য অন্তর্বর্তী সরকার এবং নিরাপত্তা বাহিনীর কাছ থেকে প্রতিশ্রুতি পেয়েছেন তারা।
মন্তব্য করুন


প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস সামরিক
বাহিনী, পুলিশ ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহায়তা চেয়ে বলেছেন, আগামী
ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় নির্বাচন শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখরভাবে আয়োজন
করতে হবে।
আজ বুধবার (১৯ নভেম্বর) মিরপুর সেনানিবাসে ডিএসসিএসসি কমপ্লেক্সে সামরিক বাহিনী কমান্ড ও স্টাফ কলেজ (ডিএসসিএসসি) কোর্স ২০২৫-এর সনদ বিতরণ অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন তিনি।
প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, এখন নির্বাচনের
সময়। আমরা প্রস্তুত, ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে ভোটের তারিখ ঘোষণা করা হয়েছে। আমাদের সামরিক
বাহিনী, পুলিশ ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সহায়তা প্রয়োজন। এটি একটি বড় প্রয়াস। অভ্যুত্থান
থেকে নির্বাচনের পথে যাত্রা। এটি হবে শান্তিপূর্ণ, উৎসবমুখর, আনন্দ ও মিলনের সময়। মানুষ
তাদের আশা ও আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করতে পারবে।
মন্তব্য করুন


বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘‘পুরোনো ব্যবস্থার রাজনীতি ছুঁড়ে ফেলে দিয়ে নতুন ব্যবস্থার রাজনীতিতে আগামীর বাংলাদেশ পরিচালিত হবে”। যেই রাজনীতি হবে সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে, চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে, খুনের বিরুদ্ধে, ধর্ষণের বিরুদ্ধে, মামলাবাজদের বিরুদ্ধে, দুর্নীতি-অন্যায়-অনাচারের বিরুদ্ধে। ১৬ ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবস উদযাপনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর যুব বিভাগের উদ্যোগে আয়োজিত যুব ম্যারাথন কর্মসূচির উদ্বোধনে তিনি এসব কথা বলেন। এসময় তিনি আরও বলেন, তারুণ্যের নতুন বাংলাদেশ বিনির্মান না হওয়া পর্যন্ত ম্যারাথন চলবেই। যত বাঁধা, ভয়ভীতি আসুক আমরা থেমে যাবো না। আমরা জাতির স্বপ্নের নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণ করব, ইনশাআল্লাহ।
তিনি বলেন, আগামীর নির্বাচনে কোনো ধরনের কারিগরি ষড়যন্ত্র জনগণ হতে দেবে না। আমরা নির্বাচন কমিশনের কাছে কোনো আনুকূল্য চাই না কিন্তু কমিশন যদি কারো প্রতি আনুকূল্য দেখায় তবে সেটি বরদাস্ত করা হবে না। কালো টাকায় কেউ মানুষকে কেনার চেষ্টা করলে মানুষ মুখে ছাঁই মেরে দেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, মানুষ এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি সচেতন। দেশপ্রেমে উজ্জীবিত জাতিকে কেউ কালো টাকায় কিনতে পারবে না।
আমীরে জামায়াত বলেন, পাকিস্তানের শাসক গোষ্ঠী পূর্ব পাকিস্তানের ওপর অবিচার করার কারণে, বৈষম্যের সৃষ্টি করায় মানুষ ফুঁসে উঠেছিল। যারা ৭০ এর নির্বাচনে নির্বাচিত হয়েছিল তারা জনগণকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল বৈষম্যহীন শাসন ব্যবস্থা গড়ে তুলবেন। কিন্তু দেশ স্বাধীনের পর তারা ক্ষমতায় বসে তাদের দেওয়া প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করেছিল। তারা বহুদলীয় গণতান্ত্রিক অধিকার কেড়ে নিয়েছিল, সংবাদপত্র বন্ধ করে দিয়েছিল, মানুষের ভোটের অধিকার কেড়ে নিয়েছিল। রক্ষী বাহিনী গঠন করে যখন যাকে ইচ্ছে তাকে খুন করা হয়েছিল, মা-বোনদের ইজ্জত লুন্ঠন করা হয়েছিল। বাকশাল কায়েমের মাধ্যমে পরিবারতন্ত্রের শাসন ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছিল।
প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রীদের ছেলেরা ব্যাংক ডাকাতি করেছিল। বিদেশী দাতা সংস্থাদের দান করা খাদ্য সামগ্রী ও অর্থ লুট করা হয়েছিল। তাদের সাড়ে চার বছরের দুঃশাসন মানুষকে বিদ্রোহী করে তুলেছিল। কে তাদেরকে হত্যা করেছিল?- একাত্তরের রণাঙ্গনে নেতৃত্ব দেওয়া জাতীয় বীরদের হাতেই তারা হত্যার শিকার হয়েছিল। কেন হত্যার শিকার হয়েছে সেই উত্তর আওয়ামী লীগকেই খুঁজতে হবে। ৭২ এর ১০ জানুয়ারী, ৯৬ এর ১০ জানুয়ারী, ২০০৯ সালের ৭ জানুয়ারী তারা তিনবার ক্ষমতায় এসেছে। ৯৬ সালে তারা ক্ষমতায় আসার আগে অতীতে তাদের দল যেই খুন করেছে, জুলুম করেছে তা স্বীকার করে জাতির কাছে ক্ষমা চেয়েছিল। জনগণ সরল বিশ্বাসে তাদেরকে ক্ষমতায় বসানোর পর তারা আবার নিজের রূপে ফিরে আসে। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী চট্রগ্রামে গিয়ে ঘোষণা দিয়েছিল তার দলের একজন মারা গেলে ১০ জনকে হত্যা করা হবে। একজন প্রধানমন্ত্রী কতটা দায়িত্ব জ্ঞানহীন হলে এমনটা বলতে পারে। সেই সময় তারা মানুষকে হত্যা করে খালে-বিলে লাশ ফেলেছে।
পরবর্তীতে তারা ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর পল্টন মোড়ে মানুষকে সাপের মতো পিটিয়ে পিটিয়ে হত্যা করেছে। শুধু তাই নয় হত্যার পর তারা লাশের উপর নৃত্য করেছিল। যেই দৃশ্য দেখে পুরো বিশ্ব ব্যথিত হয়েছে। ২০০৯ সালে আবার ক্ষমতায় এসে তারা প্রথমেই পিলখানা হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছিল। একে একে তারা জামায়াতে ইসলামীর শীর্ষ নেতৃবৃন্দকে হত্যা করেছিল। শাপলা চত্বরে হত্যাকাণ্ড চালিয়ে এদেশের আলেম-ওলামাদের হত্যা করেছিল। তাদের শাসনামলের ১৫ বছরে এমন কোনো জনপদ নেই যেখানে আওয়ামী লীগের জুলুম থেকে মানুষ রক্ষা পেয়েছে। যার কারণে জুলাই আন্দোলনে তাদের বিরুদ্ধে পুরো দেশবাসী ফুঁসে উঠেছিল। তারা জনরোষের মুখে ক্ষমতা ছেড়ে দেশ থেকে পালিয়ে গিয়েছিল। এখন তারা পলাতক থেকেই চোরাগোপ্তা হামলা চালাচ্ছে। তাদের টার্গেট এখন এদেশের তরুণ ও বিপ্লবীরা। সেই টার্গেটের অংশ হিসেবে তারা জুলাইয়ের অন্যতম শীর্ষ নেতা ওসমান হাদীকে হত্যা চেষ্টা করেছে। ওসমান হাদীর কিছু হলে বিপ্লবীরা বসে থাকবে না। আওয়ামী লীগ ভেবেছে ওসমান হাদীকে শেষ করতে পারলে কিংবা কয়েকজন বিপ্লবীকে শেষ করতে পারলে তারা সফল হবে কিন্তু না! বিপ্লবীর সংখ্যা তারা কমাতে পারবে না। বরং ক্রমেই বিপ্লবী তরুণদের সংখ্যা বাড়বে। তরুণরা আওয়ামী লীগের সকল অপশক্তি রুখে দিতে প্রস্তুত রয়েছে। আমীরে জামায়াত, উপস্থিত যুব সমাজকে নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণ না হওয়া পর্যন্ত ম্যারাথন চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান।
উদ্বোধনী সভায় কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমীর নূরুল ইসলাম বুলবুল বলেন, ‘‘রাজপথে বিজয়ে, চলো এক সাথে বাংলাদেশ গড়ি’’- স্লোগানে জামায়াতে ইসলামী সকলকে সঙ্গে নিয়ে আগামীর নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণ করতে প্রস্তুত। আজকের এই যুব ম্যারাথন অতীতের বস্তা পঁচা রাজনীতি থেকে বেরিয়ে এসে নতুন ধারার রাজনীতির বার্তা দেয়। তিনি বলেন, ১৯৭১ সালে দীর্ঘ ৯ মাস লড়াই-সংগ্রামের মাধ্যমে আমরা যেই স্বাধীন বাংলাদেশ পেয়েছিলাম সেই বাংলাদেশে মানুষের স্বাধীনতা নিশ্চিত হয়নি। ৭১ এর চেতনা বাস্তবায়ন না হওয়ার কারণেই চব্বিশে নতুন চেতনায় নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণের লক্ষ্যে জুলাই বিপ্লব অর্জিত হয়েছে। জুলাই চেতনার নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণ হবেই, হবে। বুলেট-বোমাকে ভয় না করে নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণে তরুণ যুব সমাজকে দৃঢ় শপথ নিতে হবে।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়েরের সভাপতিত্বে এবং কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি মোহাম্মদ কামাল হোসেনের পরিচালনায় যুব ম্যারাথন কর্মসূচির উদ্বোধনী সভায় আরও বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের নায়েবে আমীর এডভোকেট ড. হেলাল উদ্দিন, কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের সহকারী সেক্রেটারি ডা. ফখরুদ্দিন মানিক প্রমুখ। এসময় কেন্দ্রীয় এবং ঢাকা মহানগরী উত্তর ও দক্ষিণের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
উদ্বোধনী সভা শেষে, আমীরে জামায়াত ডা. শফিকুর রহমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান থেকে যুব ম্যারাথন উদ্বোধন করেন। যুব ম্যারাথনে অর্ধ লাখ তরুণ যুবক অংশগ্রহন করেন। ম্যারাথনটি সোহরাওয়ার্দী উদ্যান থেকে শুরু করে শাহবাগ-সাইন্সল্যাব হয়ে মানিক মিয়া এভিনিউতে গিয়ে শেষ হয়।
মন্তব্য করুন