

চলতি
বছর (২০২৩) এর এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়েছে। এ বছর দেশের ১১টি শিক্ষাবোর্ডে
গড় পাসের হার ৭৮.৬৪ শতাংশ।
রোববার
(২৬ নভেম্বর) সকাল ১১টায় ওয়েবসাইট ও স্ব-স্ব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ফল প্রকাশ করা হয়।
এর
আগে সকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাতে ফলাফলের সারসংক্ষেপ তুলে দেন শিক্ষামন্ত্রী
ডা. দীপু মনি, শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল ও বোর্ড চেয়ারম্যানরা।
ফলাফলে
দেখা যায়, সব শিক্ষাবোর্ড মিলিয়ে পরীক্ষায় মোট পাস করেছেন ১০ লাখ ৬৭ হাজার ৮৫২ জন পরীক্ষার্থ।
শুধু ৯টি সাধারণ শিক্ষাবোর্ডে এইচএসসি পরীক্ষায় পাসের হার ৭৫.৯ শতাংশ।
দুপুর
২টার দিকে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে
ফলাফলের বিস্তারিত তুলে ধরবেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি।
এ
বছর ৯টি সাধারণ, মাদরাসা ও কারিগরি শিক্ষাবোর্ড মিলিয়ে ১১টি বোর্ডের অধীনে পরীক্ষায়
অংশ নিতে ফরম পূরণ করেছিলেন ১৩ লাখ ৫৯ হাজার ৩৪২ পরীক্ষার্থী। তাদের মধ্যে ছাত্র ৬
লাখ ৮৮ হাজার ৮৮৭ জন এবং ছাত্রী ৬ লাখ ৭০ হাজার ৪৫৫ জন।
মন্তব্য করুন


ময়মনসিংহে বিশেষ অভিযানে আন্ত:জেলা চোরচক্রের ৪ সদস্যকে গ্রেফতা করেছে পুলিশ। এ সময় ৫টি মোবাইল ও ৪টি মোটরসাইকেল জব্দ করা হয় তাদের কাছ থেকে।
রোববার (১১ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে কোতোয়ালি মডেল থানায় মামলা করা হয়েছে। পরে ময়মনসিংহ চিফ জুডিসিয়াল আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয় তাদের।
এর আগে শনিবার (১০ ফেব্রুয়ারি) দিনভর গাজীপুর মেট্রোপলিটন এলাকার জয়দেবপুর সিঁড়ির চালা কাইয়াপাড়া এলাকায় এবং ব্রাহ্মনবাড়ীয়া জেলার কসবা থানাধীন গোপীনাথপুর বংশীপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে এই চোরদের গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারকৃত চোরচক্রের সদস্যরা হলো- ময়মনসিংহ নগরীর বলাশপুর বাঘমারা এলাকার মো. পিয়াল হাসান (২৫), বড়বাড়ী এলাকার মো. আরিফুল ইসলাম আরিফ (৩০), বলাশপুর পাওয়ার হাউজ কলোনি এলাকার মো. আসাদুল ইসলাম (৩০) এবং ব্রাহ্মনবাড়ীয়া সদর উপজেলার মূছা মিয়া (৩৫)।
এসব তথ্য নিশ্চিত করে কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাঈন উদ্দিন বলেন, এই চোরচক্রের সন্ধান পাওয়া যায় চুরি হওয়া মোটরসাইকেল উদ্ধার অভিযানে নেমে। তারা আন্ত:জেলা চোরচক্রের সদস্য। দীর্ঘদিন যাবত বিভিন্ন নাম ঠিকানা ব্যবহার করে ভাসমান অবস্থায় বিভিন্ন এলাকায় বসবাস করে মোটরসাইকেল চুরিসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড করে আসছেন এ চক্রটি। এই চক্রের অন্য সদস্যদের গ্রেফতারের অভিযান চলমান রয়েছে।
গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে ময়মনসিংহ, জামালপুর ও ব্রাহ্মনবাড়ীয়া জেলায় অসংখ্য মামলা চলমান আছে বলেও জানান কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাঈন উদ্দিন।
মন্তব্য করুন


আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল বলেছেন, বেগম খালেদা জিয়াকে কারাগারে যেভাবে বারবার নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে, তা না হলে হয়তো তাকে এত অল্প সময়ের মধ্যেই হারাতে হতো না। তার মতে, এই মৃত্যুর পেছনে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার নেতৃত্বাধীন সরকারের দায় রয়েছে।মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) দুপুরে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনার সামনে উপদেষ্টা পরিষদের বিশেষ বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।ড. আসিফ নজরুল বলেন, একটি প্রহসনমূলক রায়ের মাধ্যমে বেগম খালেদা জিয়াকে কারাগারে পাঠানো হয় এবং সেখানে তাকে অমানবিক আচরণের শিকার হতে হয়। তিনি দাবি করেন, যে মামলায় তাকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছিল, সেটি যে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও সাজানো ছিল, তা সর্বোচ্চ আদালতের আপিল ও রিভিউ প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে প্রমাণিত হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের রায়েও একাধিকবার উল্লেখ করা হয়েছে যে, ওই সাজা ছিল রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থেকে দেওয়া।তিনি আরও বলেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে যতটুকু করার সুযোগ ছিল, তা করা হয়েছে। প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনুস ব্যক্তিগতভাবে সব সময় খোঁজখবর রেখেছেন এবং প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিয়েছেন। বেগম খালেদা জিয়াকে আবার বিদেশে পাঠানোর মতো শারীরিক অবস্থা তৈরি হলে সরকার সর্বোচ্চ সহযোগিতা করত বলেও তিনি উল্লেখ করেন।আইন উপদেষ্টা আক্ষেপ করে বলেন, যদি সরকার আরও এক বা দুই বছর আগে দায়িত্ব নেওয়ার সুযোগ পেত, তাহলে হয়তো পরিস্থিতি ভিন্ন হতে পারত। তবে তিনি বলেন, আল্লাহর ইচ্ছায় বেগম খালেদা জিয়া ইন্তেকাল করেছেন, কিন্তু দেশের মানুষের ভালোবাসা, সম্মান ও শ্রদ্ধা নিয়ে তিনি বিদায় নিয়েছেন—এটাই সবচেয়ে বড় সান্ত্বনার বিষয়।এ সময় তিনি জানান, বেগম খালেদা জিয়ার জানাজা ও দাফন যেন শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন হয়, সে লক্ষ্যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে নিরাপত্তা বিষয়ক বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। তিনি গণমাধ্যমসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে সহযোগিতার আহ্বান জানান এবং বলেন, বর্তমান সরকারের কার্যক্রমে গণমাধ্যমের সহযোগিতার জন্য তারা কৃতজ্ঞ।
মন্তব্য করুন


ইনকিলাব
মঞ্চের মুখপাত্র ও ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী শরিফ ওসমান হাদির ওপর
হামলাকে জুলাই অভ্যুত্থান নস্যাৎ করার ষড়যন্ত্রের অংশ উল্লেখ করে রাজনৈতিক দলের নেতারা
বলেছেন, এই অভ্যুত্থানকে নস্যাৎ করার সকল প্রচেষ্টা রুখে দিতে রাজনৈতিক দলগুলো ঐক্যবদ্ধ
অবস্থানে রয়েছে।
আজ
শনিবার ( ১৩ ডিসেম্বর )রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ
ইউনূসের নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে এই প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী
দল বিএনপি, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)’র নেতৃবৃন্দ।
বৈঠকে
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ ও মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীর
বিক্রম, জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার ও সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল
অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম ও দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য
সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ, ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আবদুল্লাহ আল জাবের এবং আইন উপদেষ্টা
আসিফ নজরুল অংশগ্রহণ করেন। বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ওসমান হাদির ওপর হামলা পূর্ব-পরিকল্পিত
ও গভীর ষড়যন্ত্রের অংশ। এর পেছনে বিরাট শক্তি কাজ করছে।
তিনি
বলেন, ষড়যন্ত্রকারীদের উদ্দেশ্য হচ্ছে নির্বাচনটি না হতে দেওয়া। এই আক্রমণটি খুবই সিম্বলিক।
তারা তাদের শক্তি প্রদর্শন করতে চায়, নির্বাচনের সব আয়োজন ভেস্তে দিতে চায়। এগুলোকে
ঐক্যবদ্ধভাবে মোকাবিলা করতে হবে। তিনি বলেন, ‘এখন পর্যন্ত যে তথ্য পাওয়া গেছে, তাতে
মনে হচ্ছে ষড়যন্ত্রকারীরা তাদের নেটওয়ার্ক বিস্তৃত করেছে। তারা প্রশিক্ষিত শুটার নিয়ে
মাঠে নেমেছে।’
বিএনপি
নেতা সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, এই পরিস্থিতিতে আমাদের অবশ্যই ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। পরস্পরের
দোষারোপ থেকে বিরত থাকতে হবে। তিনি বলেন, ‘ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে আমাদের ঐক্যবদ্ধভাবে
আওয়াজ তুলতে হবে। কোনো ধরনের অপশক্তিকে আমরা বরদাস্ত করব না।’তিনি
আরও বলেন, আমাদের মধ্যে যতই রাজনৈতিক বক্তব্যের বিরোধিতা থাকুক না কেন, জাতির স্বার্থে
এবং জুলাইয়ের স্বার্থে আমাদের ঐক্যবদ্ধ থাকতেই হবে। এ সময়ে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার এবং
ষড়যন্ত্রকারীদের বিরুদ্ধে অভিযান জোরদার করার পরামর্শ দেন তিনি।
জামায়াত
নেতা গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘সাম্প্রতিক সময়ে আমাদের নানা বক্তব্য একে অন্যকে দোষারোপ
করার প্রবণতা বাড়িয়েছে, যার ফলে আমাদের বিরোধীরা সুযোগ পেয়েছে। আমাদের পূর্বের ন্যায়
ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।’তিনি বলেন, ‘ক্ষুদ্র দলীয় স্বার্থে
আমরা একে অন্যকে প্রতিপক্ষ বানিয়ে ফেলেছি। জাতিকে বিভক্ত করে এমন কথা আমরা কেন বলব?
সব দলকে তাদের কমিটমেন্ট ঠিক করতে হবে।’
এনসিপি
প্রধান নাহিদ ইসলাম বলেন, জুলাই অভ্যুত্থানের পর থেকেই কিছু লোক এই অভ্যুত্থানকে খাটো
করার জন্য নানা অপতৎপরতা চালিয়ে আসছে। তিনি বলেন, ‘সুসংগঠিতভাবে জুলাইয়ের বিরুদ্ধে
ক্যাম্পেইন চলছে। মিডিয়া ও প্রশাসনের নানা স্তরে এই কাজ হচ্ছে। নির্বাচনের পর যারা
ক্ষমতায় আসবে, তারাও এর ভুক্তভোগী হবে। কেউই একা সরকার চালাতে পারবে না। তিনি বলেন, ‘জুলাই অভ্যুত্থান নিয়ে মিডিয়া ও সামাজিক
যোগাযোগ মাধ্যমে এমন ন্যারেটিভ তৈরি করা হচ্ছে যাতে মনে হয় যারা অভ্যুত্থান করেছে তারা
অপরাধ করেছে। আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টিকে নরমালাইজ করতে নানা চেষ্টা চলছে। টিভি টকশোতে
তারা নিয়মিত অংশ নিচ্ছে। প্রশাসনের বিভিন্ন জায়গায় বৈঠক করছে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে
মিলিত হচ্ছে এবং আদালত প্রাঙ্গণে স্লোগান দিচ্ছে। আমাদের বিশেষ কোনো নিরাপত্তার প্রয়োজন
নেই। আমরা এটা নেব না। জুলাইকে সবাই মিলে ওউন করতে হবে। জুলাইকে কে কী বলবে—এই
টানাপোড়েনে আমরা জুলাইকে শেষ করে দিচ্ছি। ষড়যন্ত্রকারীরা আমাদের অনৈক্যকে আমাদের পরাজয়
হিসেবে দেখছে। তারা ভারতে বসে যা ইচ্ছা তা-ই করছে, আর আমরা কিছুই করতে পারছি না,’ বলেন
তিনি। নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, ‘বুদ্ধিজীবী বেশে, সাংস্কৃতিক কর্মী বেশে আওয়ামী লীগের
উদ্দেশ্য বাস্তবায়নকারীদের থামাতে হবে। এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে হবে।’
হাসনাত
আবদুল্লাহ বলেন, ‘আমরা নিজেরা ঐক্যবদ্ধ থাকতে না পারলে কোনো নিরাপত্তাই আমাদের কাজে
আসবে না। রাজনৈতিক স্বার্থে দলগুলো আওয়ামী লীগকে নানা রকম সুযোগ তৈরি করে দিচ্ছে।’
প্রধান
উপদেষ্টা বলেন, আমাদের চিন্তা করতে হবে—ভবিষ্যতের জন্য আমরা কী করতে পারি।
তিনি
বলেন, শুধু সরকার নয়, সবাইকে শক্ত থাকতে হবে। নিজেদের মধ্যে যেন দ্বন্দ্ব ছড়িয়ে না
পড়ে, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। রাজনৈতিক বক্তব্য থাকবে, কিন্তু কাউকে শত্রু ভাবা বা
আক্রমণ করার সংস্কৃতি থেকে সরে আসতে হবে। নির্বাচনের সময় উত্তেজনা সৃষ্টি হয়, তবে মাথায়
রাখতে হবে—এটি যেন একটি নির্দিষ্ট মাত্রার মধ্যে নিয়ন্ত্রণে থাকে,’
বলেন তিনি।
আসিফ
নজরুল বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে হানাহানি শুরু হওয়ার পর থেকেই আওয়ামী লীগ শক্তিশালী
হয়েছে। রাজনৈতিক দলগুলোকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আপনাদের শুধু দলীয়
স্বার্থ নয়, জাতীয় স্বার্থের বিষয়েও সজাগ থাকতে হবে।’
মন্তব্য করুন


জুলাই
গণ-অভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে জেলা প্রশাসনের উদ্দেশ্যে এক ভিডিও বার্তায় প্রধান উপদেষ্টা
অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, আজ আমরা পুরো জাতি একসঙ্গে স্মরণ করছি এমন একটি
দিন, যা এদেশের ইতিহাসে গভীর ছাপ রেখে গেছে। ৫ আগস্ট শুধু একটি বিশেষ দিবস নয়, এটি
একটি প্রতিজ্ঞা, গণজাগরণের উপাখ্যান এবং ফ্যাসিবাদী শাসন থেকে জাতির পুনর্জন্মের দিন।২০২৪
সালের উত্তাল জুলাই ছিল বাংলাদেশের ইতিহাসে এক সংকটময় অধ্যায়, ষোল বছরের পুঞ্জিভূত
ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ। বুকে গুলি চালিয়ে শেষ পর্যন্ত ক্ষমতা আঁকড়ে রাখতে চেয়েছিল ফ্যাসিবাদি
সরকার। তারা নির্বিচারে গুলি করেছে, গ্রেপ্তার করেছে, ইন্টারনেট বন্ধ করে হত্যাকাণ্ডের
তথ্য লুকাতে চেয়েছে, রাতের অন্ধকারে এলাকায় এলাকায় অভিযান চালিয়ে ছাত্রদের আটক করেছে।
তিনি
দেশবাসীকে কোন ধরনের নিপীড়নের কাছে মাথা না নোয়াতে এবং গণতান্ত্রিক, বৈষম্যহীন ও জনকল্যাণকর
রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানান।
জুলাই
গণ-অভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে আজ মঙ্গলবার (৫ আগস্ট) দেশজুড়ে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে এক
অনুষ্ঠানে ভিডিও বার্তায় এসব কথা বলেন তিনি।
প্রধান
উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, জুলাই-আগস্টে গুলিবিদ্ধ আহতদের তারা হাসপাতালে চিকিৎসা
নিতে দেয়নি। হাসপাতালগুলোকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল যেন আহতদের ভর্তি না করা হয়। এ কারণে
বহু মানুষ চিকিৎসা না পেয়ে চিরতরে দৃষ্টি হারিয়েছে, পঙ্গু হয়েছে। ২০২৪ সালের উত্তাল
জুলাই ছিল বাংলাদেশের ইতিহাসে এক সংকটময় অধ্যায়, ষোল বছরের পুঞ্জিভূত ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ।
দেশের বিপুল সংখ্যক তরুণ ১৬ বছর ধরে ক্রমাগত হতাশায় নিমজ্জিত হয়েছে। ভালো ফলাফল করেও
চাকরির জন্য ক্ষমতাসীনদের দুয়ারে দুয়ারে ঘুরেছে। চাকরিকে ঘিরে তৈরি হয়েছিল দুর্নীতি-স্বজনপ্রীতি,
তদবির বাণিজ্য। যে তরুণ ঘুষ দিতে পারেনি, এলাকার মাফিয়াদের সঙ্গে সখ্য গড়ে তুলতে পারেনি
তার চাকরি হয়নি। সরকারি চাকরিতে বৈষম্যমূলক
কোটা পদ্ধতি, যেটা মূলত ছিল দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতির আরেকটা হাতিয়ার, এর বিরুদ্ধে তরুণ
সমাজ দীর্ঘদিন ধরে প্রতিবাদ-বিক্ষোভ করলেও ফ্যাসিবাদী শাসকের টনক নড়েনি। দীর্ঘ এই সময়
প্রতিটি সেক্টরে মাফিয়াতন্ত্র কায়েম করে একটি সুবিধাভোগী শ্রেণি তৈরি করা হয়েছিল, যারা
আর্থিক ও অন্যান্য সুবিধার বিনিময়ে স্বৈরাচারের পক্ষে কথা বলবে, কাজ করবে। স্বৈরাচারের
পক্ষের সঙ্গী হলেই তার চাকরি হবে, কাজ মিলবে। সরকারি প্রতিষ্ঠান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান,
অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠান এমনকি বিচার ব্যবস্থা, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী, গণমাধ্যম ও সাংস্কৃতিক
মণ্ডলেও এই ধরনের সুবিধাভোগী শ্রেণি তৈরি হয়েছিল। এদেশের গরীব-মেহনতি মানুষের পয়সা
লুট করে পতিত ফ্যাসিবাদ ও তাদের সহযোগীরা একেকজন টাকার পাহাড় গড়ে তোলে। সীমাহীন দুর্নীতির
কবলে পড়ে অর্থনীতি ভেঙে পড়ে।
বিগত
১৬ বছরের নিপীড়নের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, এই দেড় যুগে প্রতিটি নায্য
দাবি, প্রতিবাদ, বিক্ষোভ চলাকালে পুলিশের পাশাপাশি দলীয় সন্ত্রাসীরা অস্ত্র হাতে আন্দোলনকারীদের
পিটিয়েছে। গত ১৬ বছরে যারাই সরকারের সমালোচনা করেছে, নাগরিকদের অধিকারের পক্ষে কথা
বলেছে তাদেরকে গ্রেপ্তার অথবা গুম করা হয়েছে। লাখ লাখ বিরোধী দলীয় রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের
নির্বিচারে আটক-গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ভয়াবহ এই পরিস্থিতিতে চব্বিশের জুলাইয়ে দেশের
ছাত্রসমাজ, তরুণ প্রজন্ম, সাধারণ মানুষ—সবাই একত্রিত হয়েছে এক নতুন দিনের প্রত্যাশায়।
সমস্বরে তারা বলে ওঠে, এবার ফ্যাসিবাদকে যেতে হবে। তবু দেশের মানুষের বুকে গুলি চালিয়ে
শেষ পর্যন্ত ক্ষমতা আঁকড়ে ধরে রাখতে চেয়েছিল ফ্যাসিবাদী সরকার।
জুলাই
গণ-অভ্যুত্থান দিবসে জাতির সূর্য সন্তান জুলাই শহীদদের গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করে অধ্যাপক ড. ইউনূস বলেন, তাঁদের আত্মার মাগফেরাত
কামনা করছি। জুলাইয়ে যারা আহত হয়েছেন, চিরতরে পঙ্গু হয়েছেন, দৃষ্টি হারিয়েছেন জাতির
পক্ষ থেকে আমি তাঁদের প্রতি শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। এ জাতি আপনাদের কাছে চিরকৃতজ্ঞ
থাকবে। গত বছর ডিসেম্বর মাসে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ পরিবার ও আহতদের কল্যাণ এবং
যাবতীয় বিষয়াদির প্রশাসনিক দায়িত্ব মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ওপর ন্যস্ত করা
হয়েছিল। এখন পর্যন্ত ৮৩৬টি শহীদ পরিবারের মধ্যে ৭৭৫টি শহীদ পরিবারকে মোট ৯৮ কোটি ৪০
লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র ও মাসিক ভাতা বাবদ ব্যাংক চেক দেওয়া হয়েছে। অবশিষ্ট যাঁরা আছেন,
তাঁদেরও কয়েকটি বিষয় নিষ্পত্তি সাপেক্ষে সঞ্চয়পত্র দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।
এর
পাশাপাশি আহত ১৩ হাজার ৮০০ জন জুলাই যোদ্ধাকে তিনটি ক্যাটাগরিতে নগদ টাকা ও চেক বাবদ
মোট ১৫৩ কোটি ৪ লাখ ২৫ হাজার টাকা প্রদান করা হয়েছে।
প্রধান
উপদেষ্টা আরও জানান, এর মধ্যে ৭৮ জন অতি গুরুতর আহত জুলাইযোদ্ধাকে সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড,
তুরস্ক এবং রাশিয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়েছে এবং চিকিৎসা ব্যয় বাবদ এ পর্যন্ত
৯৭ কোটি ৫০ লাখ টাকা খরচ হয়েছে।
জুলাইযোদ্ধাদের
চিকিৎসার বিষয়ে সরকারের সিদ্ধান্তের কথা উল্লেখ করে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, জেলা ও উপজেলা
পর্যায়ের সকল সরকারি হাসপাতাল বা ক্লিনিক বা স্বাস্থ্য কেন্দ্র, মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল
এবং সরকার কর্তৃক নির্ধারিত বিশেষায়িত হাসপাতালগুলোতে সকল শ্রেণির আহত জুলাই যোদ্ধাদের
অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। সরকারের পক্ষ
থেকে জুলাই শহীদ ও আহতদের জন্য আরও নানা উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। তবে জুলাইয়ের মহানায়কদের
আত্মত্যাগ তখনই সার্থক হবে যখন এই দেশকে আমরা একটি সত্যিকারের জনকল্যাণকর দেশ হিসেবে
গড়ে তুলতে পারব। আজ আমি গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধের
সকল বীর মুক্তিযোদ্ধাদের, যাদের আত্মত্যাগে আমরা পেয়েছি স্বাধীন, সার্বভৌম বাংলাদেশ।
১৯৭১ সালে সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে এদেশের জনগণ
সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিল। লাখো প্রাণের বিনিময়ে একটি স্বাধীন রাষ্ট্র
প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। কিন্তু স্বাধীনতার অর্ধশতাব্দী পরেও এদেশের মানুষ সুবিচার ও গণতন্ত্র
থেকে বঞ্চিত রয়েছে।
বৈষম্যহীন
ও জনকল্যাণকর রাষ্ট্র গঠনের আহ্বান জানিয়ে অধ্যাপক ড. ইউনূস বলেন, আজ আমরা কেবল অতীত
স্মরণ করতে আসিনি,আমরা একটি শপথ গ্রহণ করতে এসেছি। শপথ এই যে—আমরা কোনো ধরনের নিপীড়নের
কাছে মাথা নোয়াব না, আমরা প্রতিষ্ঠা করব একটি জবাবদিহিমূলক, মানবিক, গণতান্ত্রিক এবং
বৈষম্যহীন রাষ্ট্র। এমন রাষ্ট্র, যা সবসময় জনকল্যাণে কাজ করবে। জুলাই শহীদদের আত্মত্যাগ
আমরা বৃথা যেতে দেব না। তাঁদের আত্মত্যাগই হবে আমাদের পথচলার প্রেরণা। তাঁদের স্বপ্নই
হবে আমাদের আগামী বাংলাদেশের নির্মাণরেখা, আজকের দিনে এটাই হোক আমাদের শপথ।
মন্তব্য করুন


সিরাজগঞ্জে চাল, কাঠ ও ইটের গুঁড়া দিয়ে মশলা তৈরির অপরাধে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, রায় মশলা নামে ১টি কারখানাকে সিলগালা করেছে।
এছাড়াও ওই রায় মশলা নামের কারখানার মালিককে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর।
সোমবার (১১ ডিসেম্বর) দুপুরে এ অভিযান চালানো হয় সিরাজগঞ্জ পৌর এলাকার কাঠেরপুল শহীদগঞ্জ মহল্লায়।
জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর সিরাজগঞ্জ জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. হাসান আল মারুফ বলেন, সোমবার সকাল থেকে কাঠেরপুল ও বাহিরগোলা বাজারে অভিযান চালানো হয়।
অভিযান চলাকালে শহীদগঞ্জ এলাকায় রায় মশলা কারখানায় কাঠের গুঁড়া, চালের কুড়া ও ইটের গুঁড়া মিশ্রিত বিভিন্ন গুঁড়া মশলা তৈরি করতে দেখা যায়।
এ সময় তাৎক্ষণিক সিলগালা করা হয় ওই কারখানাটি এবং ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয় কারখানার মালিককে।
মন্তব্য করুন


স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল
(অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেছেন, যারা পরিস্থিতি অবনতি করার চেষ্টা করবে তাদের কোনো
অবস্থাতেই ছাড় দেওয়া হবে না।
শনিবার (২১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে রাঙ্গামাটি
রিজিয়নের প্রান্তিক হলে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের
তিনি এ কথা বলেন। উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাঙামাটি জেলার বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের
প্রতিনিধি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সঙ্গে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার নেতৃত্বে সরকারের উচ্চপর্যায়ের
প্রতিনিধি দলের সঙ্গে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম
চৌধুরী বলেন, একটি উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন তদন্ত কমিটি গঠন এবং এর সুষ্ঠু তদন্ত করা হবে।
কোনো অবস্থায় পরিস্থিতি অবনতি করা যাবে না। যারা পরিস্থিতি অবনতি করার চেষ্টা করবে
তাদের হাত ভেঙে দেওয়া হবে।
অন্তর্বর্তী সরকারের স্থানীয় সরকার,
পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় উপদেষ্টা এএফ হাসান আরিফ বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম নিয়ে বাহির
থেকে ষড়যন্ত্র হচ্ছে। আমাদের কোথাও যেন ছন্দপতন ঘটছে। এর পেছনের ষড়যন্ত্রকারীদের চিহ্নিত
করা হবে।
সভায় পার্বত্য উপদেষ্টা সুপ্রদীপ চাকমা,
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় উপদেষ্টা এএফ হাসান আরিফ, পুলিশের
আইজিপি মইনুল ইসলাম, সেনাবাহিনীর চট্টগ্রামের জিওসি মেজর জেনারেল মোহাম্মদ মাইনুর রহমান,
চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার তোফায়েল ইসলামসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও স্থানীয় বিভিন্ন নেতারা
উপস্থিত ছিলেন।
সভায় স্থানীয়দের মধ্যে বিএনপি, জনসংহতি
সমিতি, জাতীয় পার্টি, পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি, জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলন,
পার্বত্য নাগরিক পরিষদ, পরিবহন মালিক শ্রমিক, সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা বিভিন্ন পরামর্শ
তুলে ধরেন।
মন্তব্য করুন


সোমবার ইসির মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে কমিশনের সচিব মো. জাহাংগীর আলম সাংবাদিকদের জানান, ভোট শেষে যেসব এলাকা থেকে ভোট গণনার তথ্য পেতে সমস্যা হবে সেগুলোতে ভেরিফাইড হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহ করে বেসরকারি ফলাফল ঘোষণার পরিকল্পনা করছে নির্বাচন কমিশন। একই সঙ্গে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) তৈরি অ্যাপের মাধ্যমে আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের কেন্দ্রভিত্তিক ভোট পড়ার হার দুই ঘণ্টা পরপর নির্বাচনি অ্যাপে জানাবে নির্বাচন কমিশন।
৭ জানুয়ারির ভোটের দিনের আবহাওয়ার পূর্বাভাস তুলে ধরে তিনি জানান, সেসময় মাঝারি শৈত্য প্রবাহের সম্ভাবনা রয়েছে৷ ফলে চরাঞ্চল থেকে কুয়াশার কারণে ফলাফলের লিখিত তথ্যের কাগজ আসতে দেরি হতে পারে। এজন্য ফল সংগ্রহে বিকল্প ব্যবস্থার কথা ভাবা হচ্ছে জানিয়ে ইসি সচিব বলেন, তবে ভেরিফাইড হোয়াটসঅ্যাপে যেন তথ্য নিয়ে বেসরকারি ফলাফল ঘোষণা করা যায় সে চিন্তাভাবনা চলছে।
সংবাদ সম্মেলনে দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ইসির তৈরি স্মার্ট ইলেকশন ম্যানেজমেন্ট বিডি অ্যাপের মাধ্যমে ভোটের বিভিন্ন তথ্য পাওয়া যাবে বলে জানান সচিব।অ্যাপটির হালনাগাদ করার তথ্য তুলে ধরে তিনি বলেন, ভোটকন্দ্রের তথ্য এখনই জানা যাচ্ছে, কার ভোটকেন্দ্র কোনটি এবং লোকেশন কোথায়।
নির্বাচনের দিন দেশের মোবাইল ফোন নেটওয়ার্কের গতিও কমবে না বলে জানান তিনি বলেন, আমাদের যতগুলো মোবাইল নেটওয়ার্কিং সিস্টেম আছে সবগুলোই ফুল স্পিডে চালু থাকবে।
তবে অ্যাপটিতে কেন্দ্রভিত্তিক ফলাফল পাওয়া গেলেও পার্বত্য অঞ্চলগুলোর মত ২০ শতাংশ এলাকা নেটওয়ার্কের বাইরে থাকায় কেন্দ্রীভূত ফলাফল পাওয়া যাবে না বলে জানান তিনি।তিনি বলেন, কোনো কারণে ফলাফল পাঠাতে না পারলে ভোটের পারসেন্টেজে গরমিল হয়ে যেতে পারে। তবে সম্ভব হলে আমরা জানাব। আমরা সেখানে বিজিবি, পুলিশের ওয়ারলেস নেটওয়ার্ক ব্যবহার করব।
এক প্রশ্নের জবাবে নির্বাচন কমিশন সচিব জানান, নির্বাচনি অ্যাপে প্রায় ৩৯০টি মনোনয়নপত্র জমা পড়েছিল; বাছাইয়ে টিকেছে ২৬টি।
এ অ্যাপ ব্যবহার করে ভোটার নম্বর, ভোটকেন্দ্রের নাম, প্রার্থী, দল ও আসনভিত্তিক তথ্য যেমন পাওয়া যাবে, তেমনি আইনবিধি, ভোট পড়ার হার, ফলসহ নানা ধরনের তথ্যও জেনে নিতে পারবেন নাগরিকরা।
এতে একজন ভোটার সহজেই ভোট দিতে কেন্দ্রে যাওয়ার আগেই প্রয়োজনীয় তথ্য জেনে নিতে পারবেন। আগের বছরগুলোর মতো কোথায় কোন কেন্দ্রে ভোট দিতে যাবেন তা নিয়ে যেমন জটিলতায় পড়তে হবে না, তেমনি ভোটকেন্দ্রে গিয়ে নম্বর খোঁজার বিড়ম্বনার মধ্যেও পড়বেন না।
মন্তব্য করুন


রাজশাহী-ভাঙ্গা রুটে চলাচলকারী আন্তঃনগর ট্রেন মধুমতী এক্সপ্রেস রুট পরিবর্তন করছে। ১ ডিসেম্বর থেকে ট্রেনটি রুট পরিবর্তন করে নতুনভাবে ঢাকা-রাজশাহী রুটে চলবে।
রেল কর্তৃপক্ষ জানায়, সাপ্তাহিক ছুটির দিন বৃহস্পতিবার অপরিবর্তিত থাকবে।
গত ১৫ নভেম্বর বুধবার বাংলাদেশ রেলওয়ের জেনারেল ম্যানেজারের (পশ্চিম) পক্ষে সহকারী অপারেটিং সুপারিন্টেনডেন্ট আব্দুল আওয়ালের সই এক বিজ্ঞপ্তি থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
যাত্রী উঠা-নামার সুবিধা না থাকায় আপাতত ভাঙ্গা জংশন স্টেশনে যাত্রাবিরতি থাকবে না বলে জানায় রেল কর্তৃপক্ষ।
মন্তব্য করুন


চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের
মধ্যে নির্বিঘ্ন নিরবিচ্ছিন্ন যোগাযোগ ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের
নির্বাহী কমিটি (একনেক) আজ (৭ অক্টোবর) কালুরঘাটে কর্ণফুলী নদীর উপর বিদ্যমান পুরাতন
সেতুর পাশে ১১,৫৬০.৭৭ কোটি টাকার নতুন রেল-কাম-সড়ক সেতু প্রকল্প অনুমোদন করেছে।
প্রধান উপদেষ্টা
অধ্যাপক ডক্টর মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে রাজধানীতে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত
চলতি অর্থবছরের (অর্থবছর ২৫) তৃতীয় ও অন্তর্বর্তী সরকারের দ্বিতীয় একনেক বৈঠকে এ অনুমোদন
দেওয়া হয়।
বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের
ব্রিফিংকালে পরিকল্পনা ও শিক্ষা উপদেষ্টা ড. ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ জানান, দিনের বৈঠকে
মোট আনুমানিক ২৪ হাজার ৪১২ কোটি ৯৪ লাখ টাকা ব্যয়ে মোট চারটি প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া
হয়েছে। মোট প্রকল্প ব্যয়ের মধ্যে বাংলাদেশ সরকারের অংশ থেকে ৭,৭৪৬.৬৬ কোটি টাকা, প্রকল্প
সহায়তা থেকে ১৬,০১২.৩৩ কোটি টাকা ও সংশ্লিষ্ট সংস্থার নিজস্ব তহবিল থেকে ৬৫৩.৯৫ কোটি
টাকা আসবে।
অনুমোদিত চারটি
প্রকল্পের মধ্যে দু’টি নতুন ও দু’টি সংশোধিত প্রকল্প। এছাড়া বৈঠকে ব্যয় না বাড়িয়ে সাতটি
প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানোর অনুমোদন দেওয়া হয়।
রেলপথ মন্ত্রণালয়
২০৩০ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে রেল-কাম-সড়ক সেতু প্রকল্প বাস্তবায়ন করবে ।
মোট ১১,৫৬০.৭৭
কোটি টাকার প্রকল্প ব্যয়ের মধ্যে ৪,৪৩৫.৬২ কোটি টাকা আসবে বাংলাদেশ সরকারের কাছ থেকে
এবং বাকি ৭,১২৫.১৫ কোটি টাকা আসবে অর্থনৈতিক উন্নয়ন সহযোগিতা তহবিল (ইডিসিএফ) এবং ইকোনমিক
ডেভেলপমেন্ট প্রমোশন ফ্যাসিলিটিজ (ইডিপিএফ), কোরিয়া থেকে। পরিকল্পনা উপদেষ্টা জানান,
কালুরঘাটে বিদ্যমান সেতুটি পুরনো ও জরাজীর্ণ হওয়ায় এ ব্যাপারে নতুন প্রকল্পের কথা বিবেচনা
করা হয়েছে।তিনি বলেন, সরকার কক্সবাজারকে আরও উন্নত পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে রূপান্তর
করতে চায়। এছাড়াও মাতারবাড়ী কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সংলগ্ন অর্থনৈতিক অঞ্চলের
জন্যও উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা প্রয়োজন। এ জন্য সরকার মনে করেছে, এ ক্ষেত্রে একটি নতুন
প্রকল্প গ্রহণ করা উচিত।
পরিকল্পনা কমিশনের
একজন কর্মকর্তা বলেন, প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য হলো চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের মধ্যে নির্বিঘ্ন
ও নিরবচ্ছিন্ন রেল যোগাযোগ নিশ্চিত করা এবং ট্রান্স এশিয়ান রেলওয়ের সঙ্গে সংযোগের সুযোগ
তৈরি করা। রেলপথ মন্ত্রনালয়ের কর্মকর্তারা জানান, বর্তমানে পুরানো ও জরাজীর্ণ কালুরঘাট
সেতু দিয়ে ঘণ্টায় ১০ কিলোমিটারের বেশি গতিতে ট্রেন চলাচল করতে পারে না। এছাড়া মাতারবাড়ী
গভীর সমুদ্র বন্দর চালু হলে, এ অঞ্চলে ব্যবসা-বাণিজ্য যেমন চাঙ্গা হবে, তেমনি এ রুটের
গুরুত্বও বাড়বে। ইতোমধ্যেই দোহাজারী-কক্সবাজার রেললাইন চালুর মাধ্যমে ঢাকা ও কক্সবাজারের
মধ্যে সরাসরি রেল যোগাযোগ স্থাপিত হয়েছে। ফলে পর্যটন নগরীর সঙ্গে নির্বিঘ্নে যোগাযোগ
নিশ্চিত করতে বিদ্যমান পুরাতন সেতুর পাশে কালুরঘাটে কর্ণফুলী নদীর ওপর নতুন রেল-কাম-সড়ক
সেতু নির্মাণ অপরিহার্য হয়ে পড়েছে। এমন একটি পরিস্থিতিতে প্রকল্পটি তৈরি করা হয়েছে
এবং এইভাবে কোরিয়ান সরকারের অর্থায়নে অনুমোদিত হয়েছে।
বর্তমানে দেশের
আমদানি ও রপ্তানি কার্যক্রমের ৭০ শতাংশ হয়ে থাকে চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে। প্রস্তাবিত
প্রকল্পটি চট্টগ্রাম বন্দরের সাথে নির্বিঘ্ন
রেল যোগাযোগ এবং পণ্য পরিবহন নিশ্চিত করতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
নতুন সেতুটি নির্মিত হলে, এই অঞ্চলের বিভিন্ন রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল ও বিশেষ অর্থনৈতিক
অঞ্চলে অবস্থিত কল-কারখানার পাশাপাশি শিল্প প্রতিষ্ঠান তাদের পণ্য পরিবহন করতে সক্ষম
হবে। মূল প্রকল্পের কার্যক্রমের মধ্যে রয়েছে ৭০০ মিটার রেল-কাম-রোড ব্রিজ নির্মাণ,
৬.২০ কিলোমিটার ভায়াডাক্ট নির্মাণ, ২.৪০ কিলোমিটার সড়ক ভায়াডাক্ট, ৪.৫৪ কিলোমিটার বাঁধ,
১১.৪৪ কিলোমিটার রেলপথ নির্মাণ এবং আনুষঙ্গিক কাজ।
অতিরিক্ত ৬,৫৭৩.৯৬
কোটি টাকা ব্যয়ে দ্বিতীয় সংশোধিত মাতারবাড়ী বন্দর উন্নয়নের অনুমোদন প্রসঙ্গে উপদেষ্টা
বলেন, এটি একটি বড় প্রকল্প। প্রকল্পটির ভূ-রাজনৈতিক দিকও রয়েছে। তিনি বলেন, এই বন্দরের
অর্থায়ন নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে চীন ও ভারতের মধ্যে বিরোধ রয়েছে। পরিকল্পনা উপদেষ্টা বলেন,
মাতারবাড়ী বন্দরে প্রয়োজনীয় কাজ এখনো শুরু হয়নি এবং বন্দরের উন্নয়নে রাস্তা নির্মাণ
করা হবে।
সভায় অনুমোদিত
অন্য দুটি প্রকল্প হল- সাজেক রোড কানেক্টিভিটি, প্রকল্প-২: এলেঙ্গা-হাটিকামরুল-রংপুর
মহাসড়ক চার লেনে উন্নীতকরণ, ৩৭৬.৯৯ কোটি টাকা অতিরিক্ত ব্যয়ে দ্বিতীয় সংশোধিত ও ৫,৯০১.২২২
টাকা দিয়ে রেসিলিয়েন্ট আরবান অ্যান্ড টেরিটোরিয়াল ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট (আরইইউটিডিপি)।
মন্তব্য করুন


তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা মো. নাহিদ ইসলাম প্রবীণ সাংবাদিক এরশাদ মজুমদারের মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন ।
এক শোক বার্তায় তিনি মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করেন ও শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।
তথ্য উপদেষ্টা নাহিদ ইসলাম বলেন, সাংবাদিক এরশাদ মজুমদার এদেশের সাংবাদিকতার অন্যতম পথিকৃৎ। সাংবাদিকতার পাশাপাশি তিনি বেশ কয়েকটি গ্রন্থও লিখেছেন। তাঁর মৃত্যু সাংবাদিক জগতের অপূরণীয় ক্ষতি।
প্রবীণ সাংবাদিক এরশাদ মজুমদার শনিবার দিবাগত রাত পৌনে ১১ টায় রাজধানীর একটি হাসপাতালে ইন্তেকাল করেন। তিনি ডায়াবেটিস ও হার্টের সমস্যাসহ বার্ধক্যজনিত রোগে ভুগছিলেন। মৃত্যুকালে তার ৮৪ বছর বয়স হয়েছিল ।
মন্তব্য করুন