

সিলেট মহানগরের ৩৫নং ওয়ার্ডের মেজরটিলার
চামেলীবাগ আবাসিক এলাকায় টিলার মাটি ধসে একই পরিবারের ৩ জন মাটি চাপা পড়ে মারা গেছেন।
মাটি চাপা পড়ার ৬ ঘণ্টা পর তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হলো।
সোমবার ভোর ৬টায় চামেলীবাগ এলাকার ২
নম্বর রোডের ৮৯ নম্বর বাসাটি মাটির নিচে চাপা পড়ে।
নিহতরা হলেন, আগা করিম উদ্দিন (৩১),
তার স্ত্রী শাম্মী আক্তার রুজি (২৫) ও ছেলে নাফজি তানিম (২)।
আগা করিম ওই এলাকার মৃত আলাউদ্দিনের
ছেলে। দুর্ঘটনায় মাটিচাপা পড়েছিলেন একই পরিবারের মোট ৯ জন। ৩ জন ছাড়া বাকিদের উদ্ধার
করা হয় ঘটনার পরপর। তাদের মধ্যে ৩ জন আহত হন। আহতদের সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ
হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
তাদের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন
সিসিকের জনসংযোগ কর্মকর্তা সাজলু লস্কর।
মন্তব্য করুন


মো: মাসুদ রানা, কচুয়া:
চাঁদপুরের কচুয়ায় তিন দোকানদারকে নিষিদ্ধ পলিথিন রাখার অপরাধে জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।
মঙ্গলবার দুপুরের দিকে কচুয়া পৌর বাজারের কাঁচাবাজার ও বিশ্বরোড এলাকায় অভিযান চালিয়ে মুদি ব্যবসায়ী মফিজ হোসেন, সেলিম ও আলাউদ্দিনকে মোট ১২ হাজার টাকা জরিমানা করেন সহকারী কমিশনার ভূমি বাপ্পি দত্ত রনি।
পরে নিষিদ্ধ পলিথিন না রাখা, বিকল্প উপায়ে পণ্য বিক্রি এবং দোকানে দৃশ্যমান স্থানে মূল্য তালিকা রাখার পরামর্শ দেন এসিল্যান্ড বাপ্পি দত্ত রনি। এসময় ওই তিন ব্যবসায়ীর কাছ থেকে ৬০০ কেজি পলিথিন জব্দ করা হয়।
এবিষয়ে কচুয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি বাপ্পি দত্ত রনি বলেন, সারা দেশে পলিথিন কারখানায় অভিযান চালিয়েছে পরিবেশ অধিদপ্তর। পাশাপাশি কচুয়া উপজেলায় নিষিদ্ধ পলিথিন বন্ধে অভিযান চলবে এবং নিয়মিত বাজার মনিটরিংসহ এইরকম অভিযান অব্যাহত থাকবে।
এসময় চাঁদপুরের পরিবেশ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা ও পুলিশ প্রশাসনের অন্যান্য কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
মন্তব্য করুন


মজিবুর
রহমান পাবেল,
প্রতিবেদক:
হাইওয়ে
পুলিশ কুমিল্লা রিজিয়নের কুমিল্লা হাইওয়ে থানা ১টি যাত্রীবাহী বাসসহ ১ জন বাস চোর আটক
করেছে।
আটককৃত
চোর হলেন- চট্টগ্রামের বোয়ালখালী থানাধীন কানুনগো পাড়া এলাকার মৃত রশিদ আলির ছেলে বাস
গাড়ির চালক শহিদুল ইসলাম (৩২)।
মঙ্গলবার
(৭ জুলাই) ভোর অনুমান ৪টা ৩০ মিনিটে জাতীয় জরুরী সেবা ৯৯৯ এর মাধ্যমে একজন মিনি বাসের
জনৈক শরীফ হোসেন নামক যাত্রী মোবাইল ফোনের
মাধ্যমে অফিসার ইনচার্জ কুমিল্লা হাইওয়ে থানার সরকারি মোবাইল ফোনে ফোন করে জানান যে,
মিনি বাসের চালক বেসামাল হয়ে বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালিয়ে যাত্রীদের জীবন বিপন্ন করার
হুমকি হয়ে দাড়িয়েছে। উক্ত যাত্রীর মাধ্যমে গাড়ির অবস্থান জানার পর অফিসার ইনচার্জ তাৎক্ষণিক
ভাবে রাত্রীকালীন মোবাইল পার্টিকে গাড়িটিকে আটক করার জন্য নির্দেশ প্রদান করি। ইনচার্জ
এসআই (নিঃ) মোঃ ফারুক আজম সংঙ্গীয় ফোর্স সহ সীতাকুন্ড থানাধীন উত্তর ইদুলপুর সাকিনস্ত
হোটেল কিছুক্ষন এর সামনে ঢাকা চট্টগ্রাম মহাসড়কের ঢাকাগামী রাস্তার পাশে ভোর অনুমান
৫টা ৫ মিনিটে অবস্থান নিয়ে বাসটিকে আটক করে। বাসের চালককে গাড়ির কাগজ পত্র প্রদান করার
জন্য বললে দেখাইতে ব্যর্থ হয়।
জিজ্ঞাসাবাদে
ড্রাইভার একেক সময় একেক ধরনের কথাবার্তা বলতে থাকে। তখন পার্টি ইনচার্জ এর মনে সন্দেহ
হয় যে, এই ধরনের গাড়ি সাধারণত চট্টগ্রাম সিটির মধ্যে চলাচল করে। নিশ্চয় চালক চুরি করে
গাড়িটি ঢাকার দিকে নিয়ে যাচ্ছে। তখন গাড়িসহ চালক শহিদুল ইসলামকে আটক করে।
উক্ত
বাসের যাত্রীদের জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায় যে যাত্রীরা একেখান, চট্টগ্রাম সহ বিভিন্ন স্থান
হইতে বাসে উঠেন এবং তাদের গন্তব্যস্থল মীরসরাই, মহিপাল, ফেনীসহ বিভিন্ন স্থানে বলে
জানান। আটককৃত চালককে আরো জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করে যে সে উক্ত গাড়িটি চুরি করে ঢাকায়
নিয়ে যাচ্ছিল।পরবর্তীতে কুমিল্লা হাইওয়ে থানা চট্টগ্রামের বাস মালিক সমিতির মাধ্যমে
বাসের প্রকৃত মালিককে খোজ করে তার নাম ঠিকানা সংগ্রহ করে যোগাযোগ করে। উক্ত বাসের মালিক
ভানুদে জানান যে, সে তার মিনি বাসটি প্রতিদিনের
ন্যায় যাত্রী পরিবহন শেষে ৬ জুলাই ২০২৫ইং তারিখ রাত্রি অনুমান ১১টায় তার বাড়ির পাশে
রাস্তায় রেখে বাড়িতে অবস্থান করেন। ভোর অনুমান ৬.০০ ঘটিকার সময় রাস্তায় এসে দেখেন তার
গাড়িটি নাই। তখন উক্ত এলাকার নাইট গার্ডকে জিজ্ঞাসা করলে রাত অনুমান ১টা ৩০ মিনিটে
অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি বাসটি চালিয়ে নিয়ে যায় বলে মালিককে জানায়। তিনি সকালে বোয়ালখালী
থানায় গিয়ে বাস চুরির বিষয়টি থানাকে অবহিত করেন এবং বাসটি খুজতে থাকেন। পরবর্তীতে অত্র
কুমিল্লা হাইওয়ে থানার ফোন পেয়ে নিশ্চিত হন যে, গাড়িটি তার। আটককৃত চালক রাতের বেলায়
চুরি করে তার বাসটি চট্টগ্রাম হতে ঢাকার দিকে নিয়ে যাচ্ছিলো। এই সংক্রান্তে চট্রগ্রাম
জেলার বোয়ালখালী থানায় ১টি নিয়মিত মামলা রুজু করে আসামিকে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়।
মন্তব্য করুন


প্রায়
দেড়মাস সংসার করার পর স্ত্রী পুরুষ বলে জানা যায়।
রাজবাড়ীর
গোয়ালন্দে শুক্রবার (২৫ জুলাই) সন্ধ্যায় বিষয়টি জানাজানি হলে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি
হয়।
কথিত
নববধূর নাম সামিয়া। তার প্রকৃত নাম মো. শাহিনুর রহমান। তিনি চট্টগ্রামের আমতলা ঈদগাহ
বৌবাজার এলাকার আবুল কাশেমের ছেলে।
স্থানীয়
ও পারিবারিক সূত্র জানায়, উপজেলার ছোট ভাকলা ইউনিয়নের হাউলি কেউটিল গ্রামের মো. বাদল
খানের ছেলে মাহমুদুল হাসান শান্তর সঙ্গে ফেসবুকে পরিচয় হয় সামিয়ার। দীর্ঘদিন প্রেম
করার পর গত ৭ জুন শান্তর বাড়িতে চলে আসেন সামিয়া। এরপর পরিবারের সম্মতিতে তাদের বিয়ে
হয়। তখন থেকে নববধূ হিসেবে শান্তর পরিবারে বসবাস করতে থাকেন তিনি।
সম্প্রতি
নানান কারণে শান্ত ও সামিয়ার আচরণে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে সন্দেহ তৈরি হয়। শুক্রবার
বিকেলে পরিবারের লোকজন ও স্থানীয়রা নিশ্চিত হন নববধূ সামিয়া একজন পুরুষ। বিষয়টি জানাজানি
হলে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
এ
বিষয়ে মাহমুদুল হাসান শান্ত বলেন, ফেসবুকে তার সঙ্গে পরিচয় হয়। একপর্যায়ে প্রেমের সম্পর্ক
গড়ে ওঠে। ৭ জুন বাড়িতে চলে এলে মৌলভি এনে আমাদের বিয়ে দেওয়া হয়। সে সময় সামিয়ার
জাতীয় পরিচয়পত্র না থাকায় কাবিন রেজিস্ট্রি হয়নি। বিয়ের পর থেকে তার আচরণ রহস্যজনক
ছিল। তার কাছে গেলে বলতো, আমি এখন অসুস্থ। ডাক্তার আপাতত কাছে আসতে নিষেধ করেছেন। গতকাল
(শুক্রবার) তার আসল পরিচয় উন্মোচিত হয়। আজ সকালে তাকে বাবার বাড়ি পাঠিয়ে দেওয়া
হয়েছে।
এলাকার
স্থানীয়রা জানান যে, নববধূর আচরণ দেখে মনে হচ্ছিল না যে সে একজন ছেলে। ধীরে ধীরে এক
থেকে দেড় মাস পর বোঝা গেল সে ছেলে। সে প্রতারণা করে শান্তকে বিয়ে করেছে, তার শাস্তি
হওয়া উচিত।
শান্তর
মা মোছা. সোহাগী বেগম বলেন, একজন পুরুষ পরিবারে বউ হয়ে এতদিন থাকলেও কেউ টের পাইনি।
তার অভিনয়ে কেউ বুঝতে পারিনি সে ছেলে ছিল। সকালে তার বাড়িতে পাঠিয়ে দিয়েছি। এ বিষয়ে
শাহিনুর রহমান ওরফে সামিয়া বলেন, শান্তর সঙ্গে যা করেছি, সেটা আমার অন্যায়। আমার শারিরীক
সমস্যা আছে। তাই নিজেকে মেয়ে ভাবতেই ভালো লাগে। তাই আমি এমনটা করেছি।
এ
বিষয়ে গোয়ালন্দ ঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম বলেন,
বিষয়টি আমার জানা নেই। বিষয়টি নিয়ে এখন পর্যন্ত কেউ কোনো অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে
তদন্তসাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মন্তব্য করুন


কুমিল্লায় ১৮৬ বোতল ফেন্সিডিল ও এক
বোতল বিদেশী মদ’সহ দুইজন মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করেছে র্যাব-১১, সিপিসি-২।
গত ৩১ অক্টোবর রাতে র্যাব-১১, সিপিসি-২
এর একটি বিশেষ আভিযানিক দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কুমিল্লা জেলার কোতয়ালী মডেল থানাধীন
আমতলী এলাকায় মাদক বিরোধী অভিযান পরিচালনা করে আসামী ১। মোঃ বাবু এবং ২। তাইজুল ইসলাম
নামের দুইজন মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করে। এ সময় আসামীদ্বয়ের কাছ থেকে ১৮৬ বোতল ফেন্সিডিল, এক বোতল বিদেশী মদ ও মাদক পরিবহণের
কাজে ব্যবহৃত একটি মিনি ট্রাক উদ্ধার করা হয়।
গ্রেফতারকৃত আসামীরা হলেঅ: ১। মোঃ বাবু (২৪) গাজীপুর জেলার কালীগঞ্জ থানার তালিয়া
গ্রামের মৃত হযরত আলী এর ছেলে এবং ২। তাইজুল ইসলাম (৩৮) একই গ্রামের মৃত হোসেন মিয়া
এর ছেলে।
র্যাব জানান, তারা দীর্ঘদিন ধরে কুমিল্লার সীমান্তবর্তী এলাকা হতে মাদকদ্রব্য ফেন্সিডিল ও বিদেশী মদ সংগ্রহ করে মিনি ট্রাক যোগে দেশের বিভিন্ন জেলায় মাদক ব্যবসায়ী ও মাদক সেবীদের নিকট পাইকারি ও খুচরা মূল্যে বিক্রয় করে আসছে। র্যাব-১১ এর মাদক বিরোধী ধারাবাহিক অভিযানের অংশ হিসেবে উক্ত অভিযান পরিচালনা করা হয়। মাদকের মতো সামাজিক ব্যাধির বিরুদ্ধে র্যাব-১১ এর অভিযান অব্যাহত থাকবে। গ্রেফতারকৃত আসামীদ্বয়ের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন।
মন্তব্য করুন


নেকবর হোসেন, কুমিল্লা প্রতিনিধি :
কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা মেজর (অব.) মোহাম্মদ আলী সুমনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। রোববার রাতে ঢাকার গুলশান এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে করা একাধিক হত্যা মামলার আসামি তিনি। অভিযানে নেতৃত্ব দেন দাউদকান্দি মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সামছুল আলম।আজ সোমবার সকালে তাকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দাউদকান্দি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জুনায়েত চৌধুরী।তিনি বলেন, গ্রেপ্তার মোহাম্মদ আলী সুমনের বিরুদ্ধে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে রিফাত ও বাবু হত্যাসহ একাধিক মামলা রয়েছে। গ্রেপ্তারের পর আজ সকালে তাকে কুমিল্লার আদালতে পাঠানো হয়েছে।স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর আত্মগোপনে ছিলেন সুমন। অনেকেই আশঙ্কা করেছিলেন তিনি দেশ ত্যাগ করেছেন। সুমন কুমিল্লা-১ ( দাউদকান্দি-মেঘনা) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মেজর জেনারেল (অব.) সুবিদ আলী ভূঁইয়ার ছেলে।
মন্তব্য করুন


মাদক সেবন করে পরিবারে অশান্তি সৃষ্টি ও মা–বাবাকে মারধরের অভিযোগে মো. শাকিল (২২) নামে এক যুবককে ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।
আজ মঙ্গলবার দুপুরে কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়ার মাধবপুর ইউনিয়নের মকিমপুর আশ্রয়ন প্রকল্প এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁকে দণ্ড দেওয়া হয়।
অভিযানে নেতৃত্ব দেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তারেক রহমান। এ সময় ব্রাহ্মণপাড়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সুজন কুমারের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল উপস্থিত ছিল।
স্থানীয়রা জানান, শাকিল দীর্ঘদিন ধরে ইয়াবা ও গাঁজা সেবন করে মাতলামি ও আশ্রয়ন প্রকল্পের বাসিন্দাদের শান্তি বিনষ্ট করে আসছিলেন। মাদক কেনার টাকার জন্য তিনি প্রায়ই মা ও বাবাকে মারধর করতেন। এতে অতিষ্ঠ হয়ে কয়েক দিন আগে তাঁর বাবা শাহাদাত হোসেন বাড়ি ছেড়ে চলে যান।
গত সোমবার (৬ অক্টোবর) রাতে মাদক সেবনের পর মা শাহনাজ বেগমকে মারধর করেন শাকিল। পরদিন দুপুরে আবারও মাদক কেনার টাকার জন্য তাঁর ওপর হামলার চেষ্টা করলে স্থানীয় লোকজন শাকিলকে আটক করে উপজেলা প্রশাসনকে খবর দেন। পরে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ঘটনাস্থলে গিয়ে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তিনি মাদক সেবনের কথা স্বীকার করেন।
এ সময় শাকিলের ঘরে তল্লাশি চালিয়ে বিছানার নিচ থেকে দুই পুরিয়া গাঁজা ও ইয়াবা সেবনের সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালত তাঁকে ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ১০০ টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত করে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
শাকিলের মা শাহনাজ বেগম বলেন, আমার ছেলে মাদক সেবন করে আমাদের মারধর করত। তার বাবাও রাগ করে কয়েক দিন আগে বাড়ি ছেড়ে চলে গেছেন। অবশেষে প্রশাসন ব্যবস্থা নেওয়ায় আমরা কিছুটা স্বস্তি পেয়েছি।
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তারেক রহমান জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে শাকিলকে আটক করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে সে মাদক সেবনের কথা স্বীকার করে। ঘর তল্লাশি করে গাঁজা ও ইয়াবা সেবনের সরঞ্জামও উদ্ধার করা হয়। তাঁকে ছয় মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। মাদকের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
মন্তব্য করুন


নেকবর হোসেন, কুমিল্লা প্রতিনিধি:
কুমিল্লায় কোনো ঘুষ, তদবির বা হয়রানি ছাড়াই ট্রেইনি পুলিশ কনস্টেবল পদে ৪৭ জনের নিয়োগ সম্পন্ন হয়েছে। রবিবার (৩১ আগস্ট ) কুমিল্লার পুলিশ সুপার মো. নাজির আহমেদ খাঁন এ ফলাফল ঘোষণা করেন।
নিয়োগপ্রাপ্তদের মধ্যে ৪৭ জন সবাই এ পুরুষ । এদের মধ্যে ৪৫ জন সাধারণ কোটায় ও ১ জন মুক্তিযোদ্ধা কোটা এবং ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্টী কোটায় নির্বাচিত হয়েছেন। বিকেলে কুমিল্লা পুলিশ লাইন্সের শহীদ আরআই এবিএম আবদুল হালিম মিনায়তনে এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে উত্তীর্ণদের বরণ করে নেয় জেলা পুলিশ।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন কুমিল্লার পুলিশ সুপার মো. নাজির আহমেদ খাঁন। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রাশেদুল ইসলাম, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবু সাইদ মো.গাউছাল আজম এবং চাঁদপুর হাজীগঞ্জ অতিরিক্ত পুলিশ সুপার(সার্কেল) মুকুল চাকমা সহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
পুলিশ সুপার বলেন, ‘প্রত্যেক মানুষ যদি নিজ নিজ অবস্থান থেকে সৎভাবে দায়িত্ব পালন করেন, তাহলে দেশ অনেক দূর এগিয়ে যাবে। ঘুষ ছাড়া নিয়োগ দেওয়া সম্ভব, আমরা সেটিই প্রমাণ করেছি। এখানে যারা নিয়োগ পেয়েছেন, তারা সবাই মেধাবী। আমি বিশ্বাস করি, তারা সততার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করবেন।
চলতি বছরের জুন মাসে কুমিল্লা পুলিশ লাইন্স মাঠে নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হয়। মোট আবেদন পড়ে ১ হাজার ৮৯১টি। শারীরিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে লিখিত পরীক্ষায় অংশ নেন ৬৩৭ জন। লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন ৪৭ জন। এর মধ্যে মৌখিক পরীক্ষায় চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত হন ৭৫ জন।
এ বিষয়ে চাকরি পাওয়া কুমিল্লা সদর দক্ষিণের এমরান হোসেন নামে এক তরুণ বলেন, ‘কোনো টাকা লাগে নাই, কেউ চায়ও নাই।দালালের খপ্পরে ও পড়ি নাই।আমার বাবা একজন সিএনজি চালক।বাবা-মায়ের দোয়ায় আমার স্বপ্ন ছিলো দেশের সেবা করার জন্য আল্লাহ আমার ডাক কবুল করেছে।
মনে হচ্ছিল, বাংলাদেশ বদলাচ্ছে।’
নিয়োগপ্রাপ্ত ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার সজিব বলেন, ‘এখন বিশ্বাস হচ্ছে, যোগ্যতা থাকলে সরকারি চাকরি পাওয়া যায়। আমাদের গ্রামে সবাই অবাক!’
চাকুরি পাওয়া এমরান হোসেনের পিতা সদর দক্ষিণ রামপুর গ্রামের সিএনজিচালক মো.এরশাদ মিয়া বলেন, ‘ছেলের চাকরির জন্য বাড়ি বিক্রি করার কথা ভাবছিলাম। আল্লাহর রহমতে কিছুই লাগেনি, শুধু পরিশ্রম আর প্রার্থনা।
মন্তব্য করুন


নেকবর হোসেন , কুমিল্লা প্রতিনিধি;
কুমিল্লার ১১টি আসনের মধ্যে বিএনপির তিনজন বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে দলীয় নির্দেশনা অমান্য করে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছেন। কুমিল্লা জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয় থেকে তারা পছন্দের প্রতীক পেয়ে উচ্ছ্বসিত।
২১ জানুয়ারি বুধবার সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে থেকে প্রার্থীদের প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হয়।
কুমিল্লা-২ আসনে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী বেগম খালেদা জিয়ার এপিএস এম এ মতিন খান পেয়েছেন তালা প্রতীক। এই আসনে বিএনপির প্রার্থী বিএনপির কুমিল্লা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যক্ষ সেলিম ভূঁইয়া।
কুমিল্লা ৭ চান্দিনা আসনের বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী চান্দিনা উপজেলা বিএনপি'র সভাপতি আতিকুল আলম পেয়েছেন কলস মার্কা। এই আসনে বিএনপির প্রার্থী এলডিপির সাবেক মহাসচিব ড. রেদওয়ান আহমেদ।
কুমিল্লা ৯ (লাকসাম ও মনোহরগঞ্জ) আসনে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী সাবেক সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজিমের মেয়ে সামিরা আজিম দোলা পেয়েছেন ফুটবল প্রতীক। এই আসনে বিএনপির প্রার্থী দলের কেন্দ্রীয় কমিটির শিল্পবিষয়ক সম্পাদক আবুল কালাম।
কুমিল্লার ১১টি আসনে নির্বাচনে প্রতিযোগিতা করছেন ৮০ জন প্রার্থী। ৮০ জন প্রার্থীর মধ্যে ৭৬ জন তাদের নিজস্ব দলীয় প্রতীকে নির্বাচন করছেন। এর মধ্যে তিনজন বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী এবং একজন হাঁস প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে।
কুমিল্লা জেলা প্রশাসক মু. রেজা হাসান প্রতীক বরাদ্দ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে বলেন, কুমিল্লার ১১টি আসনে ২৫টি দলের ৭৬ জন প্রার্থী এবং চারজন স্বতন্ত্র প্রার্থীকে প্রতীক দেওয়া হয়েছে। একজন প্রার্থী হাইকোর্টের রায় নিয়ে এসেছেন, এটা যাচাই-বাছাই করছি।
মন্তব্য করুন


কুমিল্লায় অভিনব কৌশলে পিকআপে করে মাদক পরিবহনকালে ৮৯ কেজি গাঁজাসহ দুইজন মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করেছে র্যাব-১১ সিপিসি-২।
আজ (৩ সেপ্টেম্বর) সকালে র্যাব-১১,
সিপিসি-২ একটি বিশেষ আভিযানিক দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কুমিল্লা জেলার কোতয়ালী মডেল
থানাধীন ক্যান্টনমেন্ট বোর্ড এলাকায় মাদক বিরোধী অভিযান পরিচালনা করে অভিনব কৌশলে পিকআপের
পিছনে মালামাল পরিবহণের ক্যারেটের মধ্যে লুকিয়ে গাঁজা পরিবহণের সময় আসামী ১। জুয়েল
রানা এবং ২। মোঃ আকাশ নামক দুইজন মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করে। এ সময় আসামী’দ্বয়ের
কাছ থেকে ৮৯ কেজি গাঁজা ও মাদক পরিবহণ কাজে ব্যবহৃত একটি পিকআপ উদ্ধার করা হয়।
গ্রেফতারকৃত আসামী ১। জুয়েল রানা (৩১) দিনাজপুর জেলার হাকিমপুর থানার চন্ডীপুর গ্রামের জাহাঙ্গীর আলম এর ছেলে এবং ২। মোঃ আকাশ (৩২) একই থানার উত্তর বাসুদেরপুর গ্রামের মোঃ খোকন এর ছেলে।
র্যাব জানান, তারা দীর্ঘদিন ধরে কুমিল্লার
সীমান্তবর্তী এলাকা হতে মাদক দ্রব্য গাঁজা সংগ্রহ করে দিনাজপুর সহ অন্যান্য জেলায় মাদক
ব্যবসায়ী ও মাদক সেবীদের নিকট পাইকারি ও খুচরা মূল্যে বিক্রয় করে আসছে। এছাড়াও আইন-শৃঙ্খলা
বাহিনীর চোখ এড়াতে তারা বিভিন্ন সময় বিভিন্ন অভিনব কৌশল অবলম্বন করে মাদকদ্রব্য পরিবহণ
করতো। র্যাব-১১ এর মাদক বিরোধী ধারাবাহিক অভিযানের অংশ হিসেবে উক্ত অভিযান পরিচালনা
করা হয়। মাদকের মতো সামাজিক ব্যাধির বিরুদ্ধে র্যাব-১১ এর অভিযান অব্যাহত থাকবে। গ্রেফতারকৃত
আসামীদ্বয়ের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন।
মন্তব্য করুন


রফিকুল ইসলাম বাবু, চাঁদপুর:
চাঁদপুর মাদ্রাসা রোড লঞ্চ টার্মিনাল থেকে তিনটি যাত্রীবাহী লঞ্চ সিডিউল অমান্য করে দেরিতে ছাড়ার অভিযোগ উঠেছে। আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতা থাকাকালীন সময়ে দীর্ঘ এক বছর যাবত ঢাকার লঞ্চ মালিকরা এই অনিয়ম করে আসছে।
বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অমান্য করে সঠিক সময়ে লঞ্চ না ছাড়ার কারণে এতে করে ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেছে অন্যান্য লঞ্চ মালিকরা।
চাঁদপুর বিআইডব্লিউটি এর বন্দর কর্মকর্ত বশির আলী খানের নির্দেশে টি আই মাহাতাব যাত্রীবাহী লঞ্চ রায়হান ,রহমত ও জামাল ৮ প্রতিদিন চাঁদপুর থেকে ১১টা ৫ মিনিটে ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাওয়ার নির্দেশ দেয়।
এ সময় যাত্রীবাহী লঞ্চ রায়হানের কর্তৃপক্ষ সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে সঠিক সময়ে না ছেড়ে দেরিতে লঞ্চ ছাড়ার চেষ্টা করে। টার্মিনালে অন্যান্য লঞ্চের সুপারভাইজার ও কর্তৃপক্ষের সাথে রায়হান লঞ্চের লোকজনের হট্টগোলের সৃষ্টি হয়।
বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষের চিঠির আলোকে দেখা যায় ঢাকা থেকে যে সকল লঞ্চ রাত সাড়ে বারোটায় ছাড়বে সেই লঞ্চগুলো চাঁদপুর থেকে সকাল ১১ টা ৫ মিনিটে ছাড়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়।
কিন্তু ঢাকার মালিকানা রায়হান ,রহমত ও জামাল ৮ লঞ্চের কর্তৃপক্ষ আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতা থাকাকালীন সময় পেশি শক্তির ব্যবহার করে দীর্ঘ এক বছর যাবত অনিয়মের মধ্য দিয়ে আধা ঘন্টা দেরিতে টার্মিনাল থেকে তাদের লঞ্চ ছেড়েছে।
এই অনিয়ম ও দুর্নীতি সম্পূর্ণরূপে বন্ধ করে দেওয়ার উদ্যোগ নেয় চাঁদপুর বন্দর কর্মকর্তা বসির আলী খান। অবশেষে তার নির্দেশনা অনুযায়ী সঠিক সময় লঞ্চগুলো ছেড়ে যাওয়ার অনুরোধ করেন বিআইডব্লিউটি এর টি আই মাহাতাব।
এই বিষয়ে বন্দর কর্মকর্তা বসির আলী খান জানায়, পূর্বের যত অনিয়ম হয়েছে তা বর্তমান সময়ে হতে দেওয়া হবে না। সিডিউল অনুযায়ী লঞ্চ ছাড়তে হবে যারা সরকারের নিয়ম-নীতি উপেক্ষা করে দেরিতে লঞ্চ ছাড়বে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানায়।
এদিকে চাঁদপুরের অন্যান্য লঞ্চ কর্তৃপক্ষরা জানায়, দীর্ঘ এক বছর যাবত ঢাকার মালিকানাধীন রায়হান বরকত ও জামাল লঞ্চ ছাড়ার আধাঘন্টা দেরি করে চাঁদপুর থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়। এ সকল লঞ্চ কর্তৃপক্ষ বহিরাগত সন্ত্রাসী বাহিনীদের ব্যবহার করে দীর্ঘদিন অনিয়ম করেছে।তাদের বিরুদ্ধে মুখ খুললেও তাদের সন্ত্রাসী বাহিনীরা হামলা ও হুমকি দিত। তাই এ সকল অনিয়ম ঠেকাতে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া কর্তৃপক্ষ।
মন্তব্য করুন