

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি’র চেয়ারম্যান ও ‘আমরা বিএনপি পরিবার’-এর প্রধান পৃষ্ঠপোষক তারেক রহমান-এর নির্দেশনায় গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের গণআন্দোলনে নিহত শহীদ জাকির হোসেনের কন্যা ও চকরিয়া পৌর ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম-আহবায়ক সোহাইলা জান্নাত রিসতার বিয়ের আনুষ্ঠানিকতায় উপহার হস্তান্তর করেছে ‘আমরা বিএনপি পরিবার‘।
শুক্রবার (২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) বাদ জুম্মা কক্সবাজার জেলা শহবের অনুষ্ঠানে সংগঠনটির একটি প্রতিনিধি দল এই উপহার সংশ্লিষ্টদের হাতে তুলে দেন।
‘আমরা বিএনপি পরিবার‘-এর উপদেষ্টা মোঃ আবুল কাশেম ও বিএনপি’র রংপুর বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল খালেক এই যৌথভাবের সংগঠনটির প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন।
এসময় উপস্থিত ছিলেন, 'আমরা বিএনপি পরিবার'- এর সদস্য শাকিল আহমেদ, কক্সবাজার জেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট শামীম আরা স্বপ্না, দপ্তর সম্পাদক ইউসুফ বদরী, চকরিয়া পৌর বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহিম, কক্সবাজার জেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি শাহাদাত হোসেন রিপন, সাবেক সাধারণ সম্পাদক ফাহিমুর রহমান।
মন্তব্য করুন


মো: মাসুদ রানা,কচুয়া:
মুখে আধা পাকা দাড়ি ও চুলের ধরনও প্রায় একই। মৃদু হাসিতে অপলক দৃষ্টিতে তাকানো ৬৫ উর্ধ্ব ব্যক্তিটির নাম খোকন চন্দ্র ঘোষ। খালি পায়ে বসে কাঁদের ভার মাটিতে রেখে বাঁশের তৈরি চরকী হাতে বিশেষ এক ধরনের নাড়ানি পরনে ঢিলেঢালা একটি শার্ট ও মাজায় গামছা পেচাঁনো লুঙ্গি পরিধান করে ডেসকিতে করে (মাঠা বহনের জন্য বিশেষ পাত্র) বিভিন্ন স্থানে গাওয়াল করে গ্রামে গ্রামে ঘুরে বিক্রি করছেন টক-মিষ্টি মাঠা। বলছিলাম, চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলার সাচার গ্রামের ঘোষ বাড়ির মৃত. স্ত্রী শীতল ঘোষের ছেলে খোকন চন্দ্র ঘোষের কথা। ছয় ভাই বোনের মধ্যে অভাবের তাড়নায় বেশি লেখাপড়া করতে পারেননি খোকন চন্দ্র।
খোকন ১৬ কিংবা ১৭ বছর বয়স থেকে বাবার কাছ থেকে শেখা মাঠা; আবার কখনো জিলাপি বিক্রি করেন সে। প্রতিদিন মাঠা বিক্রির জন্য সকাল ৮টা থেকে ১০টার মধ্যে বের হয়ে কখনো ফিরেন দুপুর ১টায় আগে আবার কখনো ফিরতে ফিরতে দুপুর গড়িয়ে বিকেল হয়। গরুর দুধ দিয়ে তৈরি হয় দই আর বিশেষ প্রক্রিয়ায় দই থেকে তৈরি হয় মাঠা।
শিশু থেকে আরম্ভ করে সব বয়সী মানুষের প্রিয় পুষ্টিগুণসমৃদ্ধ খাদ্য হজমে সহায়তা করা এই মাঠা বিক্রিও হয় বেশ। প্রতিদিন ৬০০ টাকা বিক্রি করতে পারলে ৪০০ টাকা আয় হয় খোকনের। কখনো কখনো তার বেশিও আয় হয় তবে তার বিক্রির উপর নির্ভর করে পরিবারের জীবিকা নির্বাহ হয় বলে জানান তিনি।
তবে বৃষ্টি বাদল হলেই আর বিক্রি হয় না মাঠা। গ্লাসের উচ্চতা বেঁধে পরিপূর্ণ এক গ্লাস মাঠা বিক্রি হয় ১০ থেকে ২০ টাকা করে। বেশি বিক্রি হয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, বাজার এবং জনসভায়। কেউ কেউ আবার পরিবারের জন্য বোতলে করে কিনে নিয়ে যান এই সুস্বাদু পানীয় খাবার।
পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি খোকন দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলেন, আগের মত শরীরটা আর দেয় না, যেদিন অসুস্থ থাকি সেদিন আর গাওয়াল করতে বের হতে পারি না। তিন সন্তানের জনক এই খোকন বলেন, এই পেশায় নতুন প্রজন্মের কেউ আসতে চায় না। এই ক্ষুদ্র পেশার সাথে জড়িত আমরা কোনরকম খেয়ে পড়ে বেঁচে আছি। এই ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীর দাবি, সরকারি কোন আর্থিক সহযোগিতা পান না তিনি। সরকারের সহযোগিতা কামনা করে তিনি বলেন, আমাদের মত খেটে খাওয়া মানুষ গুলোর দিকে সরকার দৃষ্টি দিলে আর্থিকভাবে ভালো থাকতে পারবেন বলে অভিমত তার।
মন্তব্য করুন


জাহাঙ্গীর আলম, কুড়িগ্রাম উত্তর প্রতিনিধি:
উপজেলার গুনাইগাছ ইউনিয়নের নেফরা গ্রামে হৃদয়বিদারক ও আনন্দঘন এক ঘটনা ঘটেছে। প্রায় ২৮ বছর আগে নিখোঁজ হওয়া শিশু সাইফুল ইসলাম অবশেষে ফিরে এসেছে তার বাবা-মায়ের কোলে। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর সন্তানকে ফিরে পেয়ে পরিবার ও আত্মীয়স্বজন আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েছেন।
সাইফুল দরিদ্র কৃষক পরিবার আব্দুল লতিফ ও আমেনা বেগম দম্পতির চতুর্থ সন্তান। নয় বছর বয়সে পরিবারের অভাব অনটনের কারণে প্রতিবেশী এক নারীর সঙ্গে চট্টগ্রামে কাজের উদ্দেশ্যে রওনা হয় সে। কিন্তু পথে ট্রেন থামলে শৌচকর্ম সারতে নেমে যায় সাইফুল। মুহূর্তেই ট্রেন ছেড়ে গেলে নিখোঁজ হয়ে যায় সে। এরপর থেকে আর খোঁজ মেলেনি ছোট্ট সাইফুলের।
ভাগ্যের খেলায় সাইফুল আশ্রয় পায় চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার ভাটিয়ারি রেলস্টেশনের এক চায়ের দোকানে। সেখানেই কাটে তার দীর্ঘ ২৮ বছর। সম্প্রতি নেফরা গ্রামের এক ব্যক্তির সঙ্গে আলাপচারিতায় নিজের বাবা-মায়ের নাম ও গ্রামের নাম বলতে পারায় ধীরে ধীরে সাইফুলের খোঁজ মেলে।
পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর তার বড় ভাই মাহফুজার রহমান ভাটিয়ারি গিয়ে সাইফুলকে বাড়ি নিয়ে আসেন। শনিবার সকালে বাড়ি ফেরার পর শতশত মানুষ ভিড় জমায় তাদের বাড়িতে।
অশ্রুসিক্ত বাবা আব্দুল লতিফ বলেন, “ছেলেকে পেয়ে আমি আল্লাহর দরবারে সেজদায় পড়েছি। বহু বছর দোয়া করেছি, আজ আল্লাহ তা কবুল করেছেন।”
মা আমেনা বেগম বলেন, “সংসারের অভাবে ছেলেকে কাজে পাঠিয়েছিলাম। পথে হারিয়ে যায়। খুঁজেছি বহু জায়গায়। আজ আল্লাহর রহমতে সন্তানকে ফেরত পেলাম।”
এলাকাবাসী জানান, সন্তান হারিয়ে পরিবারটি দিশেহারা হয়ে পড়েছিল। দাদী আল্লাহর কাছে কেঁদে কেঁদে নাতির ফেরার প্রার্থনা করলেও তা আর দেখে যেতে পারেননি।
চায়ের দোকানের মালিক মোস্তাকিন জানান, সাইফুল দীর্ঘদিন তার দোকানে কাজ করেছে। পরবর্তীতে পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর লিখিতভাবে পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হয়।
স্থানীয় সাবেক ইউপি সদস্য আবুল কাশেম বলেন, “পরিবারটি অসহায়। সরকারি-বেসরকারি সহায়তা খুবই প্রয়োজন।”
উলিপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নয়ন কুমার সাহা বলেন, “২৮ বছর পর সন্তানকে ফিরে পাওয়া সত্যিই আনন্দের বিষয়। জাতীয় পরিচয়পত্রসহ সার্বিক সহযোগিতা করা হবে।
মন্তব্য করুন


জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) এর কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ন মূখ্য সমন্বয়ক, কুমিল্লা অঞ্চলের অঞ্চল তত্ত্বাবধায়ক নাভিদ নওরোজ শাহ ও কেন্দ্রীয় সদস্য হাফসা জাহান কুমিল্লার এক সনাতন ধর্মাবলম্বীর মেয়ের বিয়েতে আর্শীবাদ করেন।
শনিবার (৯ আগস্ট) রাতে কুমিল্লার আদর্শ সদর উপজেলার শুভপুর নামক স্থানে লতা সরকার নামে এক সনাতন ধর্মাবলম্বী মেয়ের বিয়েতে উপস্থিত হয়ে তাকে আর্শীবাদ করেন এবং তার পরিবার ও বরের পরিবারের সাথে তারা সৌজন্য সাক্ষাত করেন।
এ সময় নাভিদ নওরোজ শাহ বলেন, এই দেশটা কোনো নির্দিষ্ট ধর্মের মানুষের না।এ দেশে আমরা যারা বাস করি তাদের সবার এ দেশ,আমরা সবাই এ দেশের নাগরিক। এ দেশে সব ধর্মের মানুষ মিলেমিশে বসবাস করি। কেউ যেন মনে না করে সনাতন ধর্মাবলম্বীর পাশে এনসিপি নেই, আমরা আপনাদের পাশে আছি থাকবো। সবাই কে নিয়ে সুন্দর একটা বাংলাদেশ গড়বো।
এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন, এনসিপি কুমিল্লা জেলার যুগ্ম সমন্বয়কারী সৈয়দ আহসান টিটু,কুমিল্লা মহানগরের যুগ্ম সমন্বয়কারী মাসুমুল বারী কাওছার,ইব্রাহিম খালেদ হাসান, ইঞ্জিনিয়ার জায়েদ, নোমান, সামাদ হোসেন সহ আরো অনেকে।
মন্তব্য করুন


নেকবর হোসেন, কুমিল্লা প্রতিনিধি:
কুমিল্লার বুড়িচং এলাকায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের ঝটিকা মিছিলের ঘটনায় ছয় নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে বুড়িচং থানা পুলিশ। মঙ্গলবার (২৪ জুন) রাতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বুড়িচং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আজিজুল হক।
জানা গেছে, গত রোববার (২২ জুন) বিকেলে কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার মোকাম ইউনিয়নের কোরপাই এলাকায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ, কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা শাখার ব্যানারে একটি বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। সংগঠনটি সরকার কর্তৃক নিষিদ্ধ ঘোষিত হওয়ায় বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
মিছিলের ভিডিও ভাইরাল হলে পুলিশ রাতভর অভিযান চালিয়ে বিভিন্ন স্থান থেকে ছয়জনকে গ্রেপ্তার করে।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, বুড়িচং উপজেলার আবিদপুর গ্রামের মৃত কবির হোসেনের ছেলে মো. সোহেল রানা, কাকিয়ারচর গ্রামের সেলিম মুন্সীর ছেলে মো. কামরুল হাসান, আবিদপুর গ্রামের মৃত আবুল হোসেনের ছেলে মো. সজিব, আবিদপুর গ্রামের হুমায়ুন কবিরের ছেলে সাইদুল ইসলাম, কুমিল্লার বল্লভপুর গ্রামের মৃত ইব্রাহীম ঠিকাদারের ছেলে মেহেদী হাসান রিমন এবং কুমিল্লার তৈতয়ারা গ্রামের খোরশেদ আলমের ছেলে মোহাম্মদ আহমেদ।
বুড়িচং থানার ওসি মোহাম্মদ আজিজুল হক জানান, মহাসড়ক অবরোধ ও জনদুর্ভোগ সৃষ্টির অভিযোগে থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতদের আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। মামলার অন্যান্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
মন্তব্য করুন


মো: মাসুদ রানা, কচুয়া:
চাঁদপুরের কচুয়ায় বাকি বিল্লাহ (৩৫) উপজেলার বিভিন্ন স্থানে ফেরী করে বিক্রি করেন নানান জিনিসপত্র। খেলনা থেকে শুরু করে নারীদের বিভিন্ন প্রসাধনীসহ নানান বাহারী রকমের সামগ্রী বিক্রি করেন তিনি। বাকী বিল্লাহ জীবন সংগ্রামে জীবিকা নির্বাহের যুদ্ধে এখনো ঠিকে আছেন তিনি। প্রতিদিন ৪শ থেকে ৫শ টাকা বিক্রি করেন। যা আয় হয়,তাই দিয়ে সংসার চলে তার। সে হবিগঞ্জের বানিয়াচোং উপজেলার সুজাতপুর গ্রামের অধিবাসী মৃত. সফিক মিয়ার ছেলে।
জানা যায়, কচুয়া উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলে গ্রামীন জনপদে ফেরিওয়ালাদের আনাগোনা খুবই কম। এক সময় উপজেলার প্রতিটা গ্রামেই ফেরিওয়ালাদের বিচরন ছিলো চোখে পড়ার মতো। ফেরি ওয়ালারা বিক্রি করত জিনিসপত্র। তবে ফেরিওয়ালারা বিভিন্ন জিনিসপত্রের বিনিময়ে ক্রেতাদের নিকট থেকে পুরাতন পরিত্যক্ত মালামাল নিয়ে যেতো। গ্রামের শিশু থেকে শুরু করে বয়বৃদ্ধরাও ফেরি ওয়ালাদের হাক ডাক শোনার সাথে সাথে পরিত্যক্ত প্লাষ্টিক এবং লৌহজাত পন্য নিয়ে ছুটে যেতো ফেরিওয়ালাদের নিকট। কালের বিবর্তনে গ্রামীন জনপদ থেকে সেই ফেরিওয়ালাদের উপস্থিতি নেই বললেই চলে। আধুনিক জীবন ব্যবস্থার সবকিছুর পরিবর্তন হলেও প্রত্যান্ত অঞ্চলের গ্রামগুলোতে আজও ফেরিওয়ালাদের দেখা যায়। যুবক বাকী বিল্লাহ ছুটে চলেছেন গ্রামের মেঠো পথ ধরে। কচুয়ার প্রতিটি গ্রামে প্রতিদিন এভাবেই তাকে ছুটে চলতে হয়। অকালে পিতাকে হারানোর পর তিনি ছোট বেলা থেকেই ফেরি করে সংসার চালান। বিবাহিত জীবনে তার স্ত্রী ও একটি পুত্র সন্তান রয়েছে ।
ফেরিওয়ালা বাকী বিল্লাহ জানান, গৌরিপুর থাকেন তিনি। প্রতিদিন গৌরিপুর থেকে কাধেঁ করে ফেরির মাধ্যমে বিভিন্ন এলাকায় যান। তার বাশির ডাকে শিশু থেকে শুরু করে নানা বয়সী মানুষেরা ভিড় করেন। পরে কথার ধরনের ক্রেতারা মালামাল ক্রয় করেন। প্রতিদিন ৪শ থেকে ৫শ টাকা বিক্রি করলে তার ৩শ টাকা আয় হয়। সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলে ফেরিওয়ালারা আরো ব্যাপক আকারে সুবিধা পাবেন বলে জানান তিনি।
মন্তব্য করুন


নেকবর হোসেন,কুমিল্লা প্রতিনিধি:
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আবদুল হালিম বলেছেন, দেশে প্রপোরশনাল রিপ্রেজেন্টেশন (পিআর) পদ্ধতি চালু হলে ফ্যাসিবাদ ও কর্তৃত্ববাদী রাজনীতির অবসান ঘটবে। এতে জনগণের প্রকৃত মতামত ও ভোটাধিকার প্রতিফলিত হবে এবং স্বৈরাচার তৈরির পথ বন্ধ হয়ে যাবে।
তিনি বলেন, “বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী রাজনীতিতে গুণগত পরিবর্তন আনতে চায়। আমরা প্রতিযোগিতা চাই, প্রতিহিংসা নয়। কারও অধিকার বা মর্যাদা সে কোন দলের সেটা বিবেচ্য নয়—সব নাগরিকের মর্যাদা ও অধিকার নিশ্চিত করাই জামায়াতের লক্ষ্য।”
বুধবার (৮ অক্টোবর) রাতে কুমিল্লা নগরীর একটি অভিজাত হোটেলে “জুলাই জাতীয় সনদ ও পিআর পদ্ধতির ভিত্তিতে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন” শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
মাওলানা আবদুল হালিম বলেন, “বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার বহু ত্যাগ ও রক্তের বিনিময়ে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। জনগণের স্বার্থে ফেব্রুয়ারির মধ্যেই নির্বাচন আদায় করতে হবে।
জামায়াত নেতা বলেন, “পিআর পদ্ধতি হলে জনগণের প্রতিনিধিত্ব আরও সুষম হবে। এটি গণতন্ত্রের ভিত মজবুত করবে।”
তিনি জানান, ৩১টি রাজনৈতিক দলের মধ্যে ২৬টি দল ইতোমধ্যে পিআর পদ্ধতির পক্ষে ঐকমত্যে পৌঁছেছে। কেউ উচ্চকক্ষ, কেউ নিম্নকক্ষ—ভিন্ন প্রস্তাব দিলেও সবাই মূলত পিআর ব্যবস্থাকে সমর্থন করেছে।
মাওলানা হালিম জানান, জামায়াতে ইসলামী ৫ দফা দাবি উত্থাপন করেছে, যার একটি হলো ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী ও মানবাধিকার লঙ্ঘনে জড়িতো রাজনৈতিক দল ও ব্যক্তিদের নিষিদ্ধ করা। তিনি বলেন, “তারা ভোট দিতে পারবে, কিন্তু যারা গুম-খুন ও নির্যাতনের সহযোগী ছিল তাদের রাজনীতিতে অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া গণতন্ত্রের পরিপন্থী।”
‘কুমিল্লা মহানগর জামায়াতে ইসলামীর’ উদ্যোগে আয়োজিত বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন মহানগর আমীর কাজী দ্বীন মোহাম্মদ। বিশেষ অতিথি ছিলেন কুমিল্লা জেলা দক্ষিণ জামায়াতের আমীর অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শাহজাহান ও কুমিল্লা উত্তর জেলা আমীর অধ্যাপক আবদুল মতিন।বৈঠক পরিচালনা করেন মহানগর সেক্রেটারি মু. মাহবুবুর রহমান।এসময় আরও বক্তব্য রাখেন—অধ্যাপক এ কে এম এমদাদুল হক মামুন, অধ্যাপক মু. শফিকুল আলম হেলাল, ব্যবসায়ী হাজী নুর উদ্দিন, কুমিল্লা আইনজীবী সমিতির সভাপতি শহিদ উল্লাহ, কুমিল্লা প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি লুৎফুর রহমান, বার্ডের সাবেক মহাপরিচালক ড. মাসুদুল হক চৌধুরী, কুমিল্লা সেন্ট্রাল মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ডা. সফিকুর রহমান পাটোয়ারী।ওলামা প্রতিনিধিদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন মাওলানা জালাল উদ্দীন।ছাত্র সংগঠনের পক্ষ থেকে বক্তব্য রাখেন ছাত্রশিবির কুমিল্লা মহানগর সভাপতি হাসান আহমেদ, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা সভাপতি হাফেজ মাজারুল ইসলাম, দক্ষিণ জেলা সভাপতি মহিউদ্দিন রনি।
এছাড়া উপস্থিত ছিলেন এনডিএফ কুমিল্লা জেলা সভাপতি ডা. জহিরুল হক বাবর, কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ এনডিএফ সেক্রেটারি ডা. গিয়াস উদ্দিন, ব্যবসায়ী কাউন্সিলর মোশারফ হোসাইন, মিজানুর রহমান, হাসান মজুমদারসহ গণমাধ্যমকর্মী ও স্থানীয় বিশিষ্টজনেরা।
বৈঠকে সাংবাদিকরা পিআর পদ্ধতি বিষয়ে বিভিন্ন প্রশ্ন উত্থাপন করলে জামায়াতের দায়িত্বশীল নেতৃবৃন্দ সেগুলোর গঠনমূলক উত্তর প্রদান করেন।
মন্তব্য করুন


মুকুল বসু, বোয়ালমারী (ফরিদপুর) প্রতিনিধি:
ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার সাতৈর বাজার সংলগ্ন শেলাহাটি গ্রামে নকল শিশু খাদ্য কারখানায় অভিযান চালিয়েছে যৌথবাহিনী। বোয়ালমারী সেনা ক্যাম্প ও থানা পুলিশের সমন্বয়ে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় কারখানার মালিক আশরাফ মল্লিকে (২৭) ভ্রাম্যমান আদালত বসিয়ে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা ও এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাত ১০টার দিকে স্থানীয় সেনা ক্যাম্প ও থানা পুলিশের সমন্বয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তানভীর হাসান চৌধুরী।
আদালত সূত্রে জানা যায়, জেলার বোয়ালমারী উপজেলার সাতৈর বাজার সংলগ্ন শেলাহাটি গ্রামে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে নকল শিশু খাদ্য তৈরির কারখানা চালাচ্ছিলেন মো. আশরাফ মল্লিক নামে এক ব্যক্তি। তিনি ওই কারখানায় নকল শিশু খাদ্য উৎপাদন করে বিভিন্ন বাজারে দীর্ঘদিন ধরে বিক্রি করছিলেন। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে স্থানীয় সেনা ক্যাম্প ও থানা পুলিশের সমন্বয়ে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ নকল শিশু খাদ্য উদ্ধার করে ধ্বংস করা হয়।
এ সময় কারখানার মালিক আশরাফ মল্লিকে (২৭) ভ্রাম্যমান আদালত বসিয়ে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা ও এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করে বোয়ালমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তানভীর হাসান চৌধুরী বলেন, আশরাফ মল্লিক নকল শিশু খাদ্য তৈরি করে বাজারজাত করে আসছিল। তাকে ভ্রাম্যমান আদালত বসিয়ে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন ২০০৯ এর ১৩ ধারাই ৫০ হাজার টাকা জরিমানা ও এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
মন্তব্য করুন


কুমিল্লা,
২০ জুলাই ২০২৫:
বাংলাদেশ
রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি (বিআরটিএ) চেয়ারম্যানের নির্দেশনা এবং বিভাগের পরিচালক (ইঞ্জিনিয়ারিং)
মহোদয়ের মনিটরিংয়ের আওতায় কুমিল্লা সার্কেলে এক বিশেষ মোবাইল কোর্ট পরিচালিত হয়েছে।
জেলা প্রশাসনের নেতৃত্বে পরিচালিত এই ভ্রাম্যমাণ আদালত কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করেন বিআরটিএ, সেনাবাহিনী, জেলা পুলিশ, পরিবহন মালিক ও শ্রমিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা।
উক্ত
অভিযানে:
মোট
মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়: ১টি
১৪টি
মামলা দায়ের করা হয়
আদায়কৃত
জরিমানার পরিমাণ: ৬২ হাজার টাকা
কোনো
কারাদণ্ড প্রদান করা হয়নি
অভিযানে
ইকোনমিক লাইফ অতিক্রান্ত কোনো গাড়ি পাওয়া যায়নি। তবে কিছু ফিটনেসবিহীন গাড়িকে অর্থদণ্ড
প্রদানসহ মালিকদের সচেতন করা হয়।
বিআরটিএ
কুমিল্লা সার্কেলের পক্ষ থেকে জানানো হয়, জনসাধারণের নিরাপদ যাত্রা ও সড়ক নিরাপত্তা
নিশ্চিত করতে এ ধরণের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
মন্তব্য করুন


কুমিল্লার বিশেষ অভিযানে কুমিল্লা জেলার সদর দক্ষিণ মডেল থানাধীন নামা শ্রীপুর দক্ষিণ রামপুর এলাকা হতে ২৫,০০০ পিস ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট সহ ২ জন মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করেছে র্যাব-১১, সিপিসি-২।
গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র্যাব-১১, সিপিসি-২ এর একটি আভিযানিক দল গত বুধবার (৮ নভেম্বর) রাতে কুমিল্লা জেলার সদর দক্ষিণ মডেল থানাধীন নামা শ্রীপুর দক্ষিণ রামপুর এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে ২৫,০০০ পিস ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেটসহ দুইজন মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতারকৃত মাদক ব্যবসায়ীদ্বয় হলোঃ ১। কুমিল্লা জেলার সদর দক্ষিণ মডেল থানার দক্ষিণ বাগালপুর গ্রামের মৃত আবু তাহের এর ছেলে মোঃ নুর ইসলাম (৪২) এবং ২। একই থানার টংগীর পাড় গ্রামের মৃত ছফি আলী এর ছেলে মোঃ ফারুক হোসেন (২৬)।
র্যাব জানান,তারা দীর্ঘদিন যাবৎ কুমিল্লাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেটসহ অন্যান্য মাদকদ্রব্য সরবরাহ করে আসছিল বলে স্বীকার করে।গ্রেফতারকৃত আসামীদ্বয়ের বিরুদ্ধে কুমিল্লা জেলার সদর দক্ষিণ মডেল থানায় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। মাদকের মতো সামাজিক ব্যাধির বিরুদ্ধে র্যাবের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
মন্তব্য করুন


নোয়াখালী জেলা প্রতিনিধিঃ
উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত ঘূর্ণিঝড় ‘মিধিলি’ এর প্রভাবে নোয়াখালীর উপকূলীয় অঞ্চল হাতিয়া, কোম্পানীগঞ্জ ও সুবর্ণচর সহ বিভিন্ন স্থানে বৃহস্পতিবার রাত থেকে হালাকা থেকে মাঝারি ধরনের বর্ষন হচ্ছে। এদিকে ঘূর্ণিঝড়ের ফলে সৃষ্ট বৈরি আবহাওয়ার কারণে হাতিয়ার সাথে সারাদেশের নৌযান চলাচল বন্ধ রয়েছে।
শুক্রবার ভোর থেকে হাতিয়ার মেঘনা নদীতে স্বাভাবিকের তুলনায় কয়েক ফুট জোয়ার বেড়েছে। গতকাল বিকেল থেকে মেঘনা নদী ও বঙ্গোপসাগরে থাকা মাছ ধরা ট্রলারগুলো তীরে ফিরে এসেছে।
ঘূর্ণিঝড় মোকাবেলায় গতকাল বৃহস্পতিবার রাত ৯টার দিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্যদের সাথে ভার্চুয়ালি মিটিং করেছেন জেলা প্রশাসক দেওয়ান মাহবুবুর রহমান।
জেলা প্রশাসক দেওয়ান মাহবুবুর রহমান জানান, দূর্যোগ মোকাবেলার জন্য জেলায় ৪৮৫টি আশ্রয়ন কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছিলো। যেখানে ৩ লাখ ৪৮ হাজার উপকূলীয় এলাকার লোকজন আশ্রয় নিতে পারতেন। এছাড়া স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন সিপিপি ৮৩৮০ জন, দুই শতাধিক রেড ক্রিসেন্টের স্বেচ্ছাসেবী, ১০১টি মেডিকেল টিম ও দূর্যোগ পরবর্তী সময়ের জন্য ৪৭৯ মেট্রিকটন চাল ও নগদ ২৪লাখ টাকা প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
মন্তব্য করুন